আল্লাহ কি সত্যিই আছেন !!!??


বিসমিল্লাহির রাহমানি রাহিম আস সালামু ‘আলাইকুম! যে কোন অনুশীলনরত মুসলিমের কাছে তো বটেই, এমন কি নামমাত্র মুসলিম বলে আখ্যায়িত করা যায় এমন কারো কাছেও “আল্লাহ্ কি সত্যিই আছেন?” এমন একটা প্রশ্ন, প্রাথমিক পর্যায়ে অবান্তর মনে হতে পারে। অনেকেই বলবেন যে, “মাদার ন্যাচার”, প্রকৃতি বা নিয়তি – এমন শব্দাবলীর আড়ালে বহু বস্তুবাদী বা মানবতাবাদীও আসলে আল্লাহর অস্তিত্বই স্বীকার করে থাকেন। তা সত্ত্বেও প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্যই তা সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আমরা ভেবে দেখি কেন? কুর’আনে একটি আয়াত রয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে: ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺣَﻖَّ ﺗُﻘَﺎﺗِﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻤُﻮﺗُﻦَّ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻣُﺴْﻠِﻤُﻮﻥَ “হে ঈমানদারগণ। আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাকো।……” (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২) এখানে বিশ্বাসীদেরই বলা হচ্ছে, আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত তেমন ভয় করতে – বিশ্বাসীরা তো আল্লাহর অস্তিত্ব সম্বন্ধে জানেই, তবে এই অতিরিক্ত সতর্কবাণী কেন? আমাদের ভয় দুই ধরনের হতে পারে: ১)অজ্ঞতা থেকে । ২)সঠিক জ্ঞান থেকে। অনেক শহুরে মানুষ রাতে গ্রামের অন্ধকার মাঠ/প্রান্তরকে ভয় পান – এই ধরনের ভয় আসে অজ্ঞতা থেকে। গ্রামের ঐসব মাঠ/ প্রান্তর যেহেতু তাদের কাছে অজানা ও অপরিচিত এবং তারা যেহেতু অন্ধকারে বসবাস করতে অভ্যস্ত নন, সেহেতু অকারণেই কোন শহুরে মানুষ হয়তো সেদিকে তাকাতে ভয় পান – হয়তো মনে করেন জ্বীন-ভূত বা আরো কত কি অজানা “জুজু” সেই অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে বসে আছে! এই ভয় হচ্ছে অজ্ঞতাবশত মানুষ অজানাকে যে ভয় করে, সেই ধরনের ভয়। এধরনের ভয়ের কথা মাথায় রেখেই, কার্ল মার্ক্স বা অন্যান্য বস্তুবাদী নাস্তিকরা ধর্মকে এধরনের ভয় থেকে উদ্ভূত বলে দেখাতে চেষ্টা করেছেন। একথা ঠিক যে, কোন কোন মানুষের কোন কোন ধর্ম এই ধরনের ভয় বা “সমীহ” থেকে জন্মগ্রহণ করে থাকতে পারে। যে কারণে মানুষ সাপ, নদী বা বৃহৎ কোন বৃক্ষ থেকে শুরু করে সিনেমার নায়কসহ আরো কত কিছুর পূজা-অর্চনা করে থাকে। আবার ধরুন একজন সাক্ষর মানুষ যখন কোন একটা বৈদ্যুতিক স্থাপনার কাছ দিয়ে যেতে যেতে দেখেন যে, সেখানে একটা সতর্কবাণী রয়েছে: সাবধান ৩৩০০০ ভোল্ট! তখন তিনি ঐ স্থাপনার ভিতরের “আপাত নিরীহ” স্তম্ভগুলোর কাছে যেতে ভয় পান। এই ভয় আসে জ্ঞান থেকে। তিনি জানেন ৩৩০০০ ভোল্টের সংস্পর্শ কত ভয়াবহ ব্যাপার। ইসলামে আল্লাহকে ভয় করার যে concept তা হচ্ছে এই ধরনের ভয়। যে জন্য রাসূল (সা.) একটা সহীহ্ হাদীসে বলেছেন: “ ….তোমাদের মাঝে আমিই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় পাই….।” (বুখারী)। যে আল্লাহ্ সম্বন্ধে যত বেশী জ্ঞানী বা যে আল্লাহকে যত বেশী জানে, সেই আল্লাহকে তত বেশী ভয় করবে। বস্তুবাদী নাস্তিক, এগনস্টিক বা তাদের “ধর্ম-গুরু” মার্ক্স- ইঙ্গেলস – এই ধরনের ভয়ের ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ ছিলেন [অথবা হতে পারে তারা ইচ্ছে করেই এদিকটা এড়িয়ে গেছেন] – জ্ঞান ও প্রজ্ঞাভিত্তিক এই শ্রেণীর ভয় থেকে মানুষ যে আল্লাহকে মানতে পারে বা ধার্মিক হতে পারে তা তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। আমরা এর উল্টো প্রস্তাবনাও ভেবে দেখতে পারি – মানুষের মনে সাহস বা ভয়শূন্যতাও দু’টো কারণে আসতে পারে: ক)অজ্ঞতা থেকে। খ)সঠিক জ্ঞান থেকে। আমরা প্রায়ই কোন দুর্ঘটনার বৃত্তান্তে এমন শুনি যে, কোন একটি শিশু গরম একটা ইস্ত্রি ধরে হাত পুড়িয়ে ফেলেছে অথবা কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে হাত দিয়ে “শক্” খেয়েছে। বলা বাহুল্য, এক্ষেত্রে শিশুটির ভয়শূন্যতার কারণ হচ্ছে তার অজ্ঞতা। তেমনি যারা দিনের পর দিন আল্লাহ্ সম্বন্ধে কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই জৈবিক সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে গা ভাসিয়ে দিয়ে সুখে শান্তিতে কালাতিপাত করেন, তাদের সেই নির্ভয় জীবন-যাপনের মূলে রয়েছে অজ্ঞতা। ঠিক একইভাবে একজন জ্ঞানী মানুষকে যখন কোন কবর বা মাজারের ভয় দেখানো হয়, তিনি তাতে মোটেই বিচলিত হন না – কারণ তিনি জানেন যে, মৃত মানুষের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে তার ভয়শূন্যতার ভিত্তিও হচ্ছে তার জ্ঞান। মোটকথা ইসলাম মানুষের কাছে দাবী রাখে যে, তার ভয় এবং ভয়শূন্যতা দু’টো ব্যাপারই যেন তার জ্ঞান উদ্ভূত হয় – অর্থাৎ, মানুষের ভয় এবং ভয়শূন্যতা দু’টোই “শুদ্ধ” হতে হবে। ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তৌহিদ বা আল্লাহর একত্ব নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছেন, তারা দেখে থাকবেন যে, আল্লাহকে তাঁর নাম, গুণাগুণ এবং সত্তার নিরিখে সব কিছুর থেকে আলাদা জ্ঞান [বা single out] করে তবে তাঁর “ইবাদত” বা উপাসনা করতে হবে। ঠিক একইভাবে, নিরঙ্কুশ অর্থে, মানুষ কেবল আল্লাহকেই ভয় করবে – শুদ্ধভাবে আল্লাহকে ভয় করবে, যেমনটা তাঁকে ভয় করা উচিত। সেজন্য প্রাথমিকভাবে তার তৌহিদের জ্ঞান থাকতে হবে এবং তাকে, বিশেষত, আল্লাহর নাম ও গুণাবলী নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করতে হবে। পবিত্র কুর’আনে আমরা দেখি যে, আল্লাহ্ মানুষকে এধরনের চিন্তা-ভাবনা করার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ্ আছেন, এ ব্যাপারে একেবারে ১০০% নিশ্চিত হওয়া যেমন অত্যন্ত জরুরী, তেমনি সেই আল্লাহর সঠিক পরিচয় – যতটুকু তিনি আমাদের জানিয়েছেন – তা জানাটাও একান্ত জরুরী। আপনি নিশ্চিত যে আল্লাহ্ আছেন, কিন্তু আপনি মনে করেন যে, সেই আল্লাহ্ অক্ষম – একটা কাঠ বা পাথরের মূর্তি – যাঁর কিছুই করার ক্ষমতা নেই। এটা কি কিছু হলো? হলোনা! কারণ আপনি আপনার সৃষ্টিকর্তা প্রভুর ন্যূনতম পরিচয়টুকুই জানলেন না – আর তাই আপনার জীবনযাত্রার উপর তাঁর অস্তিত্বের সেই প্রভাব থাকবে না, যা থাকার কথা। আল্লাহ্, অংক দিয়ে প্রমাণ করার কোন “বস্তু” নন বরং সকল অংকের নিয়ম, বস্তুর নিয়ম [বা পদার্থ বিদ্যার নিয়ম] এবং বস্তুর তিনি সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ্ space ও time-এর variable নন বরং space ও time- কে অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্বদানকারী সর্বশক্তিমান সত্তা। তিনি কার্যকারণের সূত্রে বাঁধা পড়া আমাদের মত কোন নশ্বর বা “সাময়িক” সত্তা নন বরং তিনি হচ্ছেন আদি অন্তের সকল ধারণা ছাড়িয়ে চিরস্থায়ী ও চিরঞ্জীব সেই সত্তা, যিনি সকল কার্যের কারণ। আমরা বলতে পারি তিনি হচ্ছেন: uncaused cause of all reality or all that exist । সুতরাং, আমরা যখন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে কথা বলবো বা নিশ্চিত হতে চাইবো, তখন ২+২ = ৪ ধরনের প্রমাণ আশা করবো না। ২+২ = ৪ ধরনের অত্যন্ত হাতুড়ে একটা প্রমাণ (বা হিসাব) আল্লাহকে ধারণ করবে, এটা আশা করা এক ধরনের অজ্ঞতা ও এক ধরনের ধৃষ্টতাও বটে। ২+২ ধারণ করবে এমন “বস্তু”- কে যা আমাদের জানা – যা আমাদেরই মত ত্রি-মাত্রিক অথবা আরো সঠিকভাবে বললে ৪-মাত্রার space-time-এর মাঝে অবস্থিত। যেমন ধরুন ২টা আম আর ২টা আম মিলে ৪টা আম হয়। আম আমরা হাতে নিতে পারি, চোখের দৃষ্টিতে ধারণ করতে পারি। এখানে খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে, তর্কের খাতিরে আমরা যদি ধরে নেই যে, জ্বীন জাতীয় একটা ৫-মাত্রার প্রাণী, আমাদের পরিবেশ প্রতিবেশে রয়েছে, তবে তাকে আমরা “মস্তিষ্কের” ইন্দ্রিয় দিয়ে সম্পূর্ণ ধারণ করতে পারবো না। তাহলে এই মহাবিশ্ব বা তা ছাড়িয়েও যে বহু বহু মাত্রিক ব্যাপার-স্যাপার থেকে থাকতে পারে বলে আমরা চিন্তা- ভাবনা করি, সে সবের সূচনাকারী, নিয়ন্ত্রণকারী ও অধিকারী যিনি, তাঁকে আমরা ২+২ = ৪ ধরনের একটা ছকে ফেলে প্রমাণ করে ফেলবো – এমন ভাবাটা একধরনের মূর্খতা বৈকি। সুতরাং আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে গিয়ে যে সব বিষয় নিয়ে আমরা ভেবে দেখবো – তার প্রায় সবই হবে inferential বা অনুসিদ্ধান্তমূলক। আল্লাহ্ নিজেও কুর’আনে মানুষকে এধরনের যুক্তির মাধ্যমেই আহ্বান করেছেন। যেমন ধরুন: ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳَﺘَﺪَﺑَّﺮُﻭﻥَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁَﻥَ ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِ ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻮَﺟَﺪُﻭﺍ ﻓِﻴﻪِ ﺍﺧْﺘِﻠَﺎﻓًﺎ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ Do they not consider the Qur-an (with care)? Had it been from other than Allah, they would surely have found therein much discrepancy.(Qur’an, 4:82) “তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেতো।” এখানে আল্লাহ্ বলছেন যে, যদি কুর’আন আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো কাছ থেকে আসতো বা আর কারো দ্বারা রচিত হতো – তাহলে তোমরা তাতে অনেক অসঙ্গতি পেতে। যেহেতু কুর’আনে অসঙ্গতি নেই, সেহেতু তা আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছে। আল্লাহ্ এখানে inferential প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া অবিশ্বাসীদের বা বিশ্বাসীদের কাছে যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করতে গিয়ে আল্লাহ্ সাধারণভাবে খুব সহজ যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যা তখনকার বেদুঈনরা যেমন সহজে বুঝেছেন, তেমনি আজকের অর্ধ- শিক্ষিত বা অশিক্ষিত ব্যক্তিরাও বুঝবেন। আমাদের মনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর অস্তিত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে Quantum Mechanics বা Modern Physics জানাটা অপরিহার্য নয় – যদি তাই হতো, তবে ইসলামের সর্ব-শ্রেষ্ঠ তিনটি প্রজন্ম [অর্থাৎ প্রথম তিনটি প্রজন্ম] তখন অস্তিত্ব লাভ করতে পারতো না। তাহলে আসুন, আমাদের পরিবেশ বা প্রতিবেশে ছড়িয়ে থাকা খুব সহজ নিদর্শনসমূহের আলোকে আমরা ভেবে দেখতে চেষ্টা করি আল্লাহ্ সত্যিই আছেন কি না: একজন ধর্মান্তরিত পশ্চিমা ‘আলেমের একটা বক্তৃতায় একবার একটা ঘটনার কথা শুনেছিলাম, যেখানে মরুবাসী কোন বালক বেদুঈন, তার চেয়ে বয়সে বড় কোন ব্যক্তিকে, “আল্লাহ্ যে আছেন” তার প্রমাণ জানতে চেয়ে বলেছিল যে, আল্লাহকে তো আমরা দেখি না! বয়োজ্যেষ্ঠ অপর মেষপালক বেদুঈন ব্যক্তিটি, তার হাতের ছড়ি দিয়ে বালকটিকে মৃদু ভর্ৎসনা করে বলেছিল যে, কোন কিছু যে আছে, তা জানতে বা বুঝতে সেটা দেখতে হবে কেন? আমরা কোন স্থানে উটের গোবর দেখেই বুঝতে পারি যে, [এখন না থাকলেও] এখানে একটা উট ছিল। তেমনি আল্লাহর সৃষ্টির দিকে তাকিয়েই আমরা বুঝি যে, আল্লাহ্ আছেন। মহাকাশে মহাবিশ্বের নক্ষত্ররাজির মাঝে এমন অনেক নক্ষত্র রয়েছে, যেগুলোকে বিজ্ঞানীরা [দূরবীনের সাহায্যে বা] চোখে না দেখেই, সেগুলোর অস্তিত্ব সম্বন্ধে জেনেছেন – নিশ্চিত হয়েছেন। অন্য নক্ষত্রের উপর সেগুলোর প্রভাব দেখেই তারা বুঝেছেন যে, ঐ নক্ষত্রগুলোর পরিবেশ/প্রতিবেশে অবশ্যই অন্য কোন মহাজাগতিক “বস্তু” রয়েছে – যেটাকে তারা তখনো দেখতে পাচ্ছেন না। একইভাবে তারা “ব্ল্যাকহোল” নামক বিশাল ভরের মহাজাগতিক “বস্তু”সমূহ সম্বন্ধে জেনেছেন – সেগুলোকে না দেখেই। এমনকি আমাদের সৌরজগতে এমন গ্রহ রয়েছে, যার অস্তিত্ব সম্বন্ধে তারা প্রথম জেনেছেন অন্য গ্রহসমূহের উপর সেটার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে – এবং না দেখেই। এসবই হচ্ছে অনুসিদ্ধান্তমূলক প্রমাণের উদাহরণ। আমাদের হাতের কাছে, শুধু effect দেখে cause সম্বন্ধে জানার একটা সহজ উদাহরণ হচ্ছে আমাদের ঘরের বিদ্যুৎ শক্তির আনাগোনার ব্যাপারটা। কখনো “লোড শেডিং”-এর সময় যখন একটা বৈদ্যুতিক পাখা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তখন আমরা বলি “বিদ্যুৎ চলে গেল”। আবার সেই অবস্থায় থাকতে থাকতে হঠাৎ যখন সেই বৈদ্যুতিক পাখা আবার ঘুরতে শুরু করে – আমরা তখন বলি যে, “বিদ্যুৎ এসেছে”। স্পষ্টতই বিদ্যুতের এই “চলে যাওয়া” বা “আসা” আমরা দেখতে পাই না – কিন্তু তার effect দেখে আমরা সে সম্বন্ধে নিশ্চিত হই। আল্লাহ্ যে আছেন, সে ব্যাপারে আমরা এভাবেই নিশ্চিত হবো ইনশা’আল্লাহ্! আল্লাহর সৃষ্টির সমন্বিত কর্মকান্ড দেখেই আমাদের বোঝা উচিত যে, আল্লাহ্ আছেন – সেজন্য তাঁকে দেখার প্রয়োজন নেই। আগে যেমন বলেছি, এখানে আমাদের জানাটা হবে inferential । আল্লাহ্ নিজেও তাঁর নিদর্শনের দিকে তাকিয়ে দেখতে বলেছেন, কুর’আন মজিদের বহু আয়াতে। যেমন একটি আয়াতে আল্লাহ্ বলেন: ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺧَﻠْﻖِ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﺍﺧْﺘِﻠَﺎﻑِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻟَﺂَﻳَﺎﺕٍ ﻟِﺄُﻭﻟِﻲ ﺍﻟْﺄَﻟْﺒَﺎﺏِ “Behold! in the creation of the heavens and the earth, and the alternation of Night and Day, there are indeed Signs for men of understanding.” (Qur’an, 3:190) “নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে বিবেকসম্পন্নদের জন্য রয়েছে বহু নির্দশন।” (কুর’আন, ৩:১৯০) উপরের আয়াতে আল্লাহ্ প্রথমে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দেখতে বলেছেন – ভেবে দেখতে বলেছেন। আমরা যখন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে জানতে গিয়ে গবেষণা করি বা পড়াশোনা করি, তখন এতদিনের প্রচেষ্টায় এপর্যন্ত যতটুকুই আমরা জানতে পেরেছি, তা সম্বন্ধে ভাবতে গেলেও বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে যেতে হয়। মহাবিশ্বের সূচনালগ্নে বা বিগব্যাঙ্গ-এর পর পর ছড়াতে থাকা “টুকরোগুলোর” ভর, গতি বা শক্তির হিসাব এতই চুলচেরা হওয়া আবশ্যক ছিল যে, সামান্য হের ফের হলেই আর প্রক্রিয়াটা সফল হতো না বরং সবকিছু “গুবলেট” হয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতো। অথচ নাস্তিকদের বিশ্বাস: মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়া থেকে আপনার আমার মত জটিল প্রাণীর উদ্ভব, সবই নাকি কাকতালীয়ভাবে ঘটেছে – দুর্ঘটনার মত করে। আমার মনে আছে, বেশ ক’বছর আগে একজন একটা সমস্যার কথা বলে পরামর্শ চাচ্ছিলেন। একটা বাসায় কেবল এক চাকুরীজীবী দম্পতি থাকতেন – তৃতীয় কোন প্রাণীর উপস্থিতি ছাড়া। একদিন তাদের একজন ঘরে ঢুকে সদর দরজা আটকে ভিতরে এসে ডাইনিং টেবিলের উপর চাবীর গোছা রেখে বাথরুমে যান। বাথরুম থেকে এসে দেখেন, টেবিলের উপর চাবীর গোছাটা নেই। অজানা ভয়ে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। তবু তিনি, ভুলে আর কোথাও চাবী রেখেছেন কিনা, সেই সন্দেহে বাকী ঘরগুলো দেখে হতাশ হয়ে ফিরে এসে দেখেন যে, চাবীর গোছাটা টেবিলের উপরে পড়ে আছে। এধরনের ঘটনা ঐ দম্পতির দুজনের বেলায় আলাদা আলাদা ও একত্রে আরো কয়েকবার ঘটার পর, তারা যখন ঐ বাসায় “মিলাদ” দেবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিলেন, তখন আমি ঘটনাটা শুনি। ঐ অবাক করা উদ্ভট ঘটনাবলীর একটা ব্যাখ্যা দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি বরং বলতে চাচ্ছি এই যে, ঐ “আধুনিক” দম্পতি যখন তাদের “আধুনিক” যুক্তি দিয়ে একটা ব্যাখ্যা বের করতে ব্যর্থ হলেন, তখন কিন্তু অশরীরী কিছুর উপস্থিতি ধরে নিয়ে “সেকেলে” ধর্মীয় তদবীরের শরণাপন্ন হলেন – তবু তারা ভাবেন নি যে, চাবীর গোছাটা এমনি এমনি বা নিজে নিজেই কোথাও চলে যাচ্ছিল। তাদের মস্তিষ্কের অতি সাধারণ যুক্তিই তাদের বলে দিচ্ছিল যে, [অদৃশ্য হলেও,] ঐ ঘটনার পিছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। অথচ, মহাবিশ্বের মত শত শত কোটি সমন্বয় সাধনকারী সৃষ্টিকেও যারা “কাকতালীয়” মনে করতে পারেন তাদের কি বলবো? জেগে ঘুমানো কিছু মানুষ? একজন ধর্মান্তরিত পশ্চিমা ‘আলেম তার একটা বক্তৃতায় বলছিলেন যে, অধিকাংশ মানুষই আসলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে – তারা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটছে, কাজ করছে, সংসার করছে, পড়াশোনা করছে, খেলাধূলা করছে। তারপর একসময় মৃত্যু এসে সত্যিকার অর্থে তাদের জাগিয়ে তুলছে। somnambulism বলে বাস্তবে একটা রোগ আছে – সোজা বা “non-technical” ভাষায় যেটাকে বলা হয় “sleepwalking” বা “ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটা” । এসব রোগীরা হয়তো হঠাৎই ঘুমন্ত অবস্থায়ই বিছানা থেকে উঠে বাইরে গিয়ে খানিকটা হেঁটে এসে বা অন্য কোন কাজ করে এসে আবার শুয়ে পড়বে – অথচ তারা জানবেও না বা তাদের মনেও থাকবে না যে, তারা ঘুমন্ত অবস্থায় এমন কিছু কাজ করে এসেছে, যা কেবল জাগ্রত মানুষেরই করা মানায়। অন্য কথায়, তাদের ঐ সব কর্মকান্ড দেখে, কেউ যদি তাদের জাগ্রত মনে করেও থাকেন, তবু প্রকৃত পক্ষে তারা ঘুমিয়েই ছিলেন বা ঘুমন্তই ছিলেন। আমাদের উপরোল্লিখিত ‘আলেম “অধিকাংশ মানুষ আসলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে” বলতে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, জীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য[ *] সম্বন্ধে অজ্ঞ, অসচেতন ও অজ্ঞাত অধিকাংশ মানুষই একধরনের অন্ধ মোহে – নেশা বা পেশার পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবন অতিবাহিত করে দিচ্ছে। এই পৃথিবী বা মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হলো? এগুলো কেন সৃষ্টি করা হলো? আমরা এখানে কি করছি? আমাদের কেন সৃষ্টি করা হয়েছে? আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য বা পরিণতি কি? – এসব নিয়ে ভাবার তাদের অবকাশই হয় না। যদি একটু অবকাশ নিয়ে তারা ভাবতে পারতো, তাহলে এই রচনায় আমরা অতি সরল যেসব সমীকরণ বোঝানোর চেষ্টা করছি, সেগুলো হয়তো তারা সহজেই বুঝতে পারতো এবং একটা নিষ্ফল জীবন অতিবাহিত না করে, বরং যে জন্য তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য সফল করার চেষ্টা করতে পারতো। কিন্তু সেরকম অবকাশ না থাকাতে, হঠাৎ যখন মৃত্যু- ঘন্টা বেজে ওঠে, তখন তারা জেগে ওঠেন (ঐ ‘আলেম যেমনটা বলতে চেয়েছেন) বা সচেতন হন – কেউ হয়তো এটুকু ভেবে আফসোস করার সুযোগ পান যে, জীবনটা একেবারেই বাজে খরচ হয়ে গেল, আবার কারো হয়তো সে সুযোগটুকুও হয় না। উন্নত বিশ্বে, অথবা, আজকাল আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক লোক দেখা যাবে, যারা একটা অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে ভীষণ ব্যস্ত থেকে জীবন পার করে দেন। উদাহরণ স্বরূপ “পাখি দেখা” অনেকের শখ – যাদেরকে “বার্ড-ওয়াচার” বলা হয়। এজন্য অনেক সাজ সরঞ্জাম রয়েছে – দূরবীন, টেলিফটো লেন্স সমেত ক্যামেরা, আরো কত কি? এমনিতে পাখি দেখা দোষের কিছু নয় – তবে পাখি দেখার জন্য বেঁচে থাকা এবং পাখি দেখতে দেখতেই বনে-জঙ্গলে বা দূর- দূরান্তে ঘুরতে ঘুরতে একদিন মরে যাওয়া, এটা জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য হতে পারে? বোধকরি না! যিনি তা করতে করতে মরে গেলেন, তিনিও যদি তার নেশা থেকে একটু অবকাশ ও অবসর নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখতেন, তবে সম্ভবত জানতেন ও বুঝতেন যে, তাকে কেবল পাখি দেখে জীবন কাটিয়ে দেয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। একই কথা ঐ সব মানুষের বেলায় প্রযোজ্য, যারা সম্পদের পাহাড় গড়তে গড়তে একদিন হঠাৎই মরে যান। আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে – এমনকি বস্তুবাদী ভোগ-সুখের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলেও – জীবনের জন্য উপার্জন, উপার্জনের জন্য জীবন নয়। আজকাল সংখ্যার বিন্যাস নিয়ে কত ধরনের খেলা বেরিয়েছে – খবরের কাগজে বা ম্যাগাজিনে অনেক সময়ই দেখা যায়, কতগুলো সংখ্যা লিখে দিয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে যে, এই সংখ্যাগুলো কোনভাবে সম্পৃক্ত কিনা। তা দিয়ে আবার উত্তরদাতার বুদ্ধিবৃত্তির বা মেধারও বিচার করা হয়। এসব ক্ষেত্রে যে ব্যাপারটি সন্তর্পণে আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, তা হচ্ছে এই যে, কুইজ বানাবার জন্য “কেউ একজন” সংখ্যাগুলোকে ওভাবে বেছে নিয়েছেন। উদাহরণ স্বরূপ ১, ৩, ৫, ৭, ৯, ১১ এই সংখ্যাগুলো লিখে কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন যে এই সংখ্যাগুলোর কোন সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে কিনা? তাহলে, যে কেউ দেখেই বলে দিতে পারবেন যে, ওগুলো হচ্ছে স্বাভাবিক সংখ্যার সেট থেকে, ছোট থেকে বড় ক্রমবিন্যাসে বেছে নেয়া কয়েকটি বিজোড় সংখ্যা। আবার ঘুরিয়ে বললে কেউ বলতে পারতেন যে, এগুলো হচ্ছে ১ দিয়ে শুরু হওয়া একটি ধারা, [প্রথমটি ছাড়া] যার প্রত্যেকটি সংখ্যা পূর্ববর্তী সংখ্যা থেকে ২ বেশী (যেমন: ৩, ১ থেকে ২ বেশী)। এখানেও নেপথ্য বা লুকানো ব্যাপার হচ্ছে “কেউ একজন” সংখ্যাগুলোকে এভাবে বেছে নিয়েছেন আমাদের জন্য একটা “কুইজ” তৈরী করার উদ্দেশ্যে। স্বভাবতই বদ্ধ পাগলও ভাববে না যে, সংখ্যাগুলো নিজেরাই নিজেদের বেছে নিয়ে সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিনের [বা আমাদের এই লেখার] পাতায় উঠে এসেছে। কোন একটা সমন্বয় বা “ব্যবস্থার” আরেকটা সহজ উদাহরণ হচ্ছে রাস্তার ট্রাফিক বাতি। “সবুজ-হলুদ-লাল-হলুদ-সবুজ” – এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে বাতিগুলো জ্বলতে থাকে। আমরা হয়তো সবসময় ওভাবে ভেবে দেখি না, কিন্তু যদি দেখতাম তবে সহজেই জানতাম যে, ঐ বাতিগুলো এভাবে একটা নিয়ম মেনে যে একটা নির্দিষ্ট সময়কাল পর পর জ্বলছে বা নিভছে, তা কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয়, বরং “কেউ একজন” এই “ব্যবস্থা” সুচিন্তিতভাবে উদ্ভাবন করেছেন। আমরা তাকে কখনো দেখিনি – সেই “কেউ একজন” ঠিক কে আমরা তা জানিনা – তবু বদ্ধ পাগল বা অবুঝ শিশু ছাড়া সবাই অবশ্যই স্বীকার করবে যে, এই “বাতি-ব্যবস্থার” পিছনে “একজন হোতা” অবশ্যই আছেন। আলোচিত “বাতি-ব্যবস্থার” অস্তিত্বই এর উদ্ভাবক বা প্রস্তুতকারক থাকার অকাট্য প্রমাণ। অথচ লক্ষ-কোটি ব্যবস্থা বা সমন্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে আমাদের নিশ্চয়তার অভাব পরিলতি হয় – কি হাস্যকর ব্যাপার তাই না? এখন আসুন পৃথিবী, সৌরজগত বা মহাবিশ্বের সমন্বয়গুলোর কয়েকটি নিয়ে আমরা একটু ভেবে দেখি। সবচেয়ে সাদামাটা হচ্ছে “রাত-দিন-রাত” এই “ব্যবস্থাটি” । উদাহরণস্বরূপ মনে করুন কোন দেশে ১২ ঘন্টার একটি রাত রয়েছে। এর পর দেখা যাবে ১২ ঘন্টার একটি দিন আসছে (২/১ মিনিট কমবেশী হতে পারে, যদি সে দেশের ঋতু পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে – এমন হয়। মোট কথা রাত এবং দিন মিলে ২৪ ঘন্টা হবে)। ব্যাপারটা আমাদের কাছে আজ আর ভাবনা উদ্রেককারী কোন বিষয় নয়। তবু, একটু অবকাশ নিয়ে ভাবলে আপনিই বুঝবেন যে, এই পর্যায়ক্রমিক “রাত-দিন-রাত” -এর জন্য মহাজাগতিক কর্মকান্ডের কি বিশাল সমন্বয়ের “আয়োজন” করতে হয়েছে। এজন্যই আল্লাহ্ কুর’আনে বহু জায়গায় এই আপাত অতি সাধারণ প্রাকৃতিক বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখতে বলেছেন। এই অতি সাধারণ ব্যবস্থা বা সমন্বয় থেকে শুরু করে আমাদের অতি পরিচিত “গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত-শীত-বসন্ত- গ্রীষ্ম” – ঋতু পরিবর্তনের এই পর্যায়ক্রমিক “সমন্বিত ব্যবস্থা” -অথবা- আপনার প্রতিটি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সময় যেভাবে অক্সিজেন, রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে আপনার অগণিত কোষে পৌঁছে যাচ্ছে এবং মুহূর্তে অগণিত কোষ প্রাচীরের ওপার থেকে বয়ে নিয়ে আসা কার্বন-ডাই- অক্সাইড যেভাবে আপনি অনেকটা নিজের অজান্তেই বায়ুমন্ডলে ত্যাগ করছেন – একটা সমন্বিত ব্যবস্থা, যার “স্বয়ংক্রিয়” সমন্বয়, পৃথিবীর সবচেয়ে sophisticated automated plant-এর চেয়েও বিস্ময়কর – এই সবই কেবল একটি নিশ্চিত অনুসিদ্ধান্তের দিকে দৃষ্টিপাত করতে আপনাকে বাধ্য করে, যা হচ্ছে : এসবের পেছনে নিশ্চয়ই একজন পরিকল্পনাকারী, সমন্বয়কারী ও নিয়ন্তা সৃষ্টিকর্তা আছেন [যাকে আমরা মুসলিমরা আল্লাহ্ বলে থাকি]! অবশ্য যদি আপনি বদ্ধ পাগল হয়ে থাকেন বা উপরে বর্ণিত somnambulism রোগের রোগী হয়ে থাকেন তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে জেগে থাকার