মুসলিমরা জান্নাতে যাবে আর হিন্দুরা বা অন্য ধর্মের লোকেরা জাহান্নামে যাবে,এতে কি আল্লাহ সুবিচার করেছেন?


মুসলিমরা জান্নাতে যাবে আর হিন্দুরা বা
অন্য ধর্মের লোকেরা জাহান্নামে যাবে,
এতে কি আল্লাহ্ সবার জন্য সুবিচার
করেছেন?
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্র জন্য,
আমাদের মুসলিমদের মধ্যে অনেক নাম ধারি
মুসলিম আছে যারা চিরকালের জন্য
জাহান্নামে থাকবে। তাই মুসলিম পরিবারে
জন্ম গ্রহণ করা সত্ত্বেও অনেক মানুষ চির
কালের জন্য জাহান্নামে যাবে। তাই যারা
আল্লাহ্র বিধানের উপর চলে না তাদের জন্য
অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি।
আল্লাহ্ তাঁর বিধান পাঠিয়ে দিয়েছেন, তাই
মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে তা গ্রহণ করা। কিন্তু
অনেকেই আল্লাহ্র বিধান গ্রহণ করে না। আর
এর জন্য আল্লাহ্ নয়, মানুষই দায়ী থাকবে।
তাই হিন্দু যদি দাবি করে আল্লাহ্ তার জন্য
অবিচার করেছে, তবে সে ভুল বলছে। কেননা
হিন্দু কুরআন কোন দিন পড়ার চেষ্টা করেনি
বা বুঝার চেষ্টা করেনি। যেই বিদ্যা পড়লে
গাড়ি-ঘোড়া চরা যায়, তা যদি আমরা
আগ্রহের সাথে পড়তে পারি তবে, যেই বিদ্যা
পড়লে চিরকাল জান্নাতে থাকা যায় তাতে
এতো অনীহা কেন এবং তা না পড়লে
অন্যকেই বা দোষ দেই কেন। এই কারণে মানুষ
কিয়ামতের দিন আফসোস করে বলবে যদি
আমরা, বিবেক দিয়ে চিন্তা করতাম। কেননা
যে নিজের বিবেক দিয়ে চিন্তা করবে সে
অমুসলিম থাকতে পারবে না।
তাই আল্লাহ্ কুরআনে বলছেন (অনুবাদ),
ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই
তাতে (জাহান্নামে) কোন সম্প্রদায়
নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার
সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে। তোমাদের
কাছে কি কোন সতর্ককারী আগমন করেনি?
তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে
সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা
মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ
আল্লাহ তা’আলা কোন কিছু নাজিল
করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে
রয়েছ। তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম
অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা
জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না…
[সূরা: মূলক, আয়াত: ৮-১০]
কিন্তু যাদের কাছে প্রকৃতপক্ষে কোন নবী
আসেনি, তাদের আল্লাহ্ কিয়ামতের মাঠে
পরীক্ষা করবেন। এরূপ একটি প্রশ্ন শায়েখ
আব্দুল আজিয ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ্) -কে
জিজ্ঞাসা করা হয়ে ছিল।
প্রশ্ন: যারা পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস
করে তাদের শেষ পরিণতি কী হবে? জান্নাত;
না জাহান্নাম? যেমন যারা বনে জঙ্গলে বা
দক্ষিণ গোলার্ধে বসবাস করে, তারা কোন
নবীর দেখা পায়নি, কেউ তাদেরকে আল্লাহ
সম্পর্কে অথবা ইসলাম সম্পর্কে অবহিত
করেনি।
উত্তর: কেয়ামতের দিন তাদেরকে পরীক্ষা
করা হবে। যে ব্যক্তি নির্দেশ মান্য করবে
সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি
অমান্য করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
দলিল হচ্ছে- আল্লাহ তাআলার বানী
(অনুবাদ) : “আমরা রাসূল প্রেরণ ব্যতিরেকে
কাউকে শাস্তি দিই না।”[সূরা বনী ইসরাইল,
আয়াত: ১৫]
শাইখ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ্) এর ফতোয়া
সংকলন, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৫৬
…………………………ফতোয়া সমাপ্ত……………………………
আল্লাহ্ যেন আমাদের সফলতা দান করেন এই
দুনিয়াতে এবং আখেরাতে, সালাম ও দরূদ
বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদের
উপর, তাঁর পরিবার এবং সাথীদের উপর।