এইডস প্রতিরোধে ইসলামে


এইডস প্রতিরোধে ইসলাম মুহাম্মাদ আতীকুল ইসলাম রোগ-ব্যাধি আল্লাহ তা‘আলা দিয়ে থাকেন। কিন্তু কোন কোন রোগ মানুষের পাপের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে গযব হিসাবে আসে। ‘এইডস’ তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ‘এইডস’ হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাধি। পৃথিবীর কোন কোন অঞ্চলে এটি এক নম্বর ঘাতক ব্যাধি। সাহারা মরুভূমির আশে পাশে ৪৮টি দেশের মৃত্যুর প্রধান কারণ এইডস। এইডস (AIDS)-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Aequired Immune Deficiency Syndrome. এটি এইচ.আই.ভি. (HIV) Human Immuno Deficiency Virus দ্বারা সংক্রমিত হয়। এইডস-এর ফলে সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায়। ফলে ঐ ব্যক্তি যে কোন সময় যে কোন রোগে আক্রান্ত হ’তে পারে। এখন পর্যন্ত এইডস এর কোন প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এইডস হ’লে মৃত্যু অবধারিত। একুশ শতকে বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এইডস-এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করা। ১৯৮১ সালের ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত করা হয়। এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৯৮৪ সালে, ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯৮৬ সালে এবং বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে এইডস শনাক্ত করা হয়। এইডস-এর কারণ : এইডস-এর কারণ হচ্ছে ধর্মীয় অনুশাসন না মেনে চলা। এইডস ভাইরাস প্রধানত ৩টি মাধ্যমে ছড়ায়। (ক) রক্ত (খ) অবৈধ যৌনমিলন (গ) বুকের দুধ। সর্বপ্রথম অবৈধ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এইডস ছড়ায়। যেসব কারণে এইডস হ’তে পারে সেগুলো হচ্ছে- অবাধ যৌন মিলন, পতিতালয়ে গমন, কোন প্রাণীর সাথে যৌন মিলন, সমকামিতা ইত্যাদি। কারা বেশী এইডস আক্রান্ত হচ্ছে : উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এইডস-এ বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের মধ্যে ধর্মীয় অনুশাসন কম। পৃথিবীতে যত মানুষ এইডস-এ আক্রান্ত হচ্ছে তার ৫০% হচ্ছে ১৫-২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুনী লোকেরা। মাদকাসক্ত, মহিলা ও পুরুষ যৌনকর্মী ও তাদের খদ্দের, অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনকারীরা এইডসে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। এইডস-এর লক্ষণ : এইডস-এর কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষণীয়- (i) শরীরে ওযন অতি দ্রুত কমে যাওয়া (ii) বার বার জ্বর হওয়া এবং ভাল না হওয়া (iii) দু’মাসেরও বেশী সময় ধরে পাতলা পায়খানা (iv) শুকনা কাশি হওয়া (v) খুব বেশী অবসাদ অনুভব করা। উপরোক্ত উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিতে হবে, সে এইডসে আক্রান্ত হয়েছে কি-না? বিশ্ব এইডস পরিস্থিতি : জাতিসংঘের এইডস সংস্থা UNAIDS-এর মতে, সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ, পূর্ব ইউরোপ এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এইডসের বিস্তার বেশী হচ্ছে। UNAIDS-এর ২০১০-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৩ কোটি ৪০ লক্ষ (উইকিপিডিয়া) । ২০০৭ সালে নতুন করে এইডস-এ আক্রান্ত হয়েছে ২৫ লক্ষ লোক। আর ঐ বছর এইডস-এ মৃত্যুবরণ করেছে ২১ লক্ষ লোক। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রতিদিন ১৪ হাযারেরও বেশী লোক নতুন করে এইডস-এ আক্রান্ত হচ্ছে। এইডস আক্রান্ত শীর্ষ ৫টি দেশ হচ্ছে- সোয়াজিল্যান্ড (২৬.১%), বতসোয়ানা (২৩.৯%), লেসোথো (২৩.২%), দক্ষিণ আফ্রিকা (১৮.১%), নামিবিয়া (১৫.৩%)। উপরের ৫টি দেশের সবক’টি হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের। বাংলাদেশের এইডস পরিস্থিতি : বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে এইডস শনাক্ত করা হয় এবং সর্বপ্রথম এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি ইন্দোনেশিয়ায় কাজ করত। বর্তমানে বাংলাদেশে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১% এরও নীচে। সরকারী তথ্য মতে, বর্তমানে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১২০৩ জন, আর এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২৮৭১ জন। ২০০৭ সালে এইডসের কারণে মৃত্যুবরণ করেছে ১২৩ জন লোক এবং এ পর্যন্ত সর্বমোট মৃতের সংখ্যা ৩৯০জন। সতর্কতা : (১) কারো রক্তের প্রয়োজন হ’লে পরীক্ষা করে বিশুদ্ধ রক্ত নিতে হবে। যাতে রক্তে কোন প্রকার ক্ষতিকর উপাদান না থাকে। কেননা এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী থাকে। (২) একটি সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এতে করে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে। (৩) এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে যে সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন করা হয়েছে সে সিরিঞ্জ দিয়ে কোন সুস্থ মানুষকে ইনজেকশন করলে তারও এইডস হওয়ার সম্ভবনা থাকে। সেজন্য ঐ সিরিঞ্জ দিয়ে কাউকে ইনজেকশন দেয়া যাবে না। (৪) আত্মসংযমী হ’তে হবে ও অবাধ মেলামেশা বন্ধ করতে হবে। প্রতিরোধ : এইডসের মত এলাহী গযব সদৃশ রোগ-ব্যাধির ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। সাথে সাথে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই মরণব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।- ১. গণসচেতনতা সৃষ্টি করা : এইডস কি, এর পরিণতি কি এবং কিভাবে ও কেন সৃষ্টি হয়? কিভাবে তা ছড়ায়? কোন ভাইরাস এইডসের কারণ এবং কিভাবে সংক্রমিত হয়? এসব মানুষকে অবহিত করে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে ইনশাআল্লাহ। ২. ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা : যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে তারা এইডসে কম আক্রান্ত হয়। বর্তমানে অনেক বাবা-মা জানে না তাদের সন্তানেরা কি করছে, কোথায় যাচ্ছে? একটি শিশু প্রথম বাবা-মায়ের কাছে শিক্ষা লাভ করে। এজন্য সব বাবা-মায়ের উচিত সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখা। তারা যেন খারাপ বন্ধুর সাথে ওঠাবসা না করে সেদিকে নযর রাখা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে বাধ্য করা। আল্লাহ বলেন, ﻱﺍَ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮْﺍ ﻗُﻮْﺍ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻫْﻠِﻴْﻜُﻢْ ﻧَﺎﺭﺍً ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর’ (তাহরীম ৬) । যেহেতু উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এইডসে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে, তাই প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানকে এইডস বিষয়ে সচেতন করা। তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখা এবং তারা যেন কোন অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নযর রাখ। ৩. পর্দাপ্রথা মেনে চলা : ইসলামে নারী-পুরষ সবার জন্য পর্দা ফরয। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাযত করে, এটা তাদের জন্য পবিত্রতম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে, তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান তা ব্যতীত তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তারা যেন তাদের মাথার ওড়না দ্বারা স্বীয় বক্ষ আবৃত করে রাখে, আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র, বোনের পুত্র অথবা তাদের আপন নারীগণ, তাদের অধীনস্ত দাসী অথবা যেŠন কামনা রহিত পুরুষ অথবা এমন বালক যারা নারীদের আবরণীয় বিষয়ে অনভিজ্ঞ তাদের ব্যতীত কারো নিকটে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন এমনভাবে পা না ফেলে যাতে তাদের আভরণ- সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর সমীপে তওবা কর, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে’ (নূর ৩০-৩১) । মুসলমানদের পোষাক পরিধানের উদ্দেশ্য হবে দেহকে আবৃত করা এবং পোষাক পরার পরে লজ্জাস্থান সমূহ যেন অন্যের সম্মুখে প্রকাশ না পায় (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২৪) । পোষাক ঢিলাঢালা ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন হ’তে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮) । মূলতঃ নারী-পুরুষের পোশাকের কারণে কেউ যেন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট না হয়। বর্তমানে অনেক মেয়ে হিজাব ছাড়াই একাকী বাইরে ঘোরাফেরা করছে, চাকরি করছে, স্কুল-কলেজে পড়া-লেখা করছে। এর কারণে অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৪. মদ্যপান বন্ধ করা : ইসলামে মদ্যপান হারাম। মদ পান করলে মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান লোপ পায়। মদ খেয়ে তারা মাতলামী শুরু করে। অনেক সময় এই মাতাল অবস্থায় অশ্লীল কাজ ও অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়। আল্লাহ বলেন, ﻱﺍَ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﺨَﻤْﺮُ ﻭَﺍﻟْﻤَﻴْﺴِﺮُ ﻭَﺍﻷَﻧﺼَﺎﺏُ ﻭَﺍﻷَﺯْﻻَﻡُ ﺭِﺟْﺲٌ ﻣِّﻦْ ﻋَﻤَﻞِ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ ﻓَﺎﺟْﺘَﻨِﺒُﻮْﻩُ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﻔْﻠِﺤُﻮْﻥَ ‘হে ঈমানদার! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ণয়ের তীর এসব নোংরা ও অপবিত্র শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’ (মায়েদা ৯০) । আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদের সাথে জড়িত ১০ প্রকার ব্যক্তিকে লানত করেছেন (১) মদ প্রস্ত্ততকারী (২) মদের ফরমায়েশ দানকারী (৩) মদপানকারী (৪) মদ বহনকারী (৫) যার জন্য মদ বহন করা হয় (৬) যে মদ পান করায় (৭) মদ বিক্রেতা (৮) মদের মূল্য ভোগকারী (৯) মদ ক্রয়কারী (১০) যার জন্য মদ ক্রয় করা হয় (মিশকাত, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হা/২৭৭৬) । উল্লেখ্য, পশ্চিমারা শরীরকে গরম রাখার জন্য মদ পান করে। অথচ এতে অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এ দিক বিবেচনা করেই ১৯২০ সালের জানুয়ারী মাসে আমেরিকার সিনেটে মদ নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করে। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৩৩ সালে তা বাতিল করা হয়। ফলে সে বছর আমেরিকাতে ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানি, যেনা-ব্যভিচার বেড়ে যায়। ১৯৩৩ সালের সরকারী রিপোর্ট অনুযায়ী আমেরিকার প্রতি তিনজনের একজন পেশাদার অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত। ১৯২৬ সালে আমেরিকায় মদ্যপানের ফলে ১১ হাযার মানুষ রোগাক্রান্ত হয় এবং সাড়ে সাত হাযার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ৫. নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করা : নারী-পুরুষ উভয়কে তাদের দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে (নূর ৩০-৩১) । বর্তমানে আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বে ছাত্র- ছাত্রী একই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে। এতে তাদের পরস্পরের মধ্যে যখন সম্পর্ক গভীর হয় তখন তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। যা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ-হারাম। আল্লাহ বলেন, ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮْﺍ ﺍﻟﺰِّﻧَﻰ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﻭَﺳَﺎﺀَ ﺳَﺒِﻴْﻼً ‘তোমরা যেনার নিকটবর্তীও হয়ো না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পন্থা’ (ইসরা ৩২) । এজন্য নারী-পুরুসের অবাধ মেলামেশা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘অবশ্যই কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হ’লে তৃতীয়জন হবে শয়তান’ (মিশকাত, তিরমিযী হা/১৩১৮) । শয়তান চায় মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করতে। সে চায়, মানুষ যেন আল্লাহর পথ ছেড়ে তার পথে চলে জাহান্নামে যায়। এজন্য আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (আ‘রাফ ২২)। ২০১০ সালে ‘চাইল্ড পার্লামেন্ট’ বাংলাদেশের ৬৪টি যেলার ৫১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরিপ চালিয়ে দেখেছে যে, যেসব স্কুল বা কলেজে ছেলে-মেয়ে একই সাথে পড়া-লেখা করে সেসব স্কুল বা কলেজের ৬২% মেয়ে শিক্ষার্থী ঐ স্কুল বা কলেজের ছাত্র দ্বারা ইভটিজিংয়ের শিকার হয়। এই জরিপে আরো বলা হয় যে, মেয়ে শিক্ষর্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া, বাল্য বিবাহ ও আত্মহত্যার অন্যতম কারণ এই ইভটিজিং। যেসব স্থানে নারী-পুরুষ একই সাথে হিজাব ছাড়া চাকরি করে সেসব ক্ষেত্রে নারীরা বেশী ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়। আমেরিকার পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে দেশের সেনাবাহিনীতে যেসব মহিলা পুরুষের সাথে কাজ করে সেসব মহিলা সেনাদের প্রতি তিনজনের একজন তাদের মধ্যেকার পুরুষ সেনা দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। আর ধর্ষণকারীদের কোন বিচার হয় না। ৬. পতিতালয় বন্ধ করা : বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পতিতালয় রয়েছে। পতিতালয়ে গিয়ে মানুষ যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা এসব থেকে বিরত থাকতে মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮْﺍ ﺍﻟﺰِّﻧَﻰ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﻭَﺳَﺎﺀ ﺳَﺒِﻴْﻼً ‘তোমরা যেনার নিকটবর্তী হয়ো না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পন্থা’ (বনী ইসরাঈল ৩২)। আবার কেউ এই ব্যবসা করে জীবন যাপন করছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যেনার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে হারাম করেছেন। কোন কোন মহিলা বলে, তারা কোন কাজ না পেয়ে এ পেশা গ্রহণ করেছে। অথচ এটা হারাম। তাদের উচিত এ পেশা ছেড়ে অন্য হালাল পেশা গ্রহণ করা। সমাজের বিত্তবান লোকদের কর্তব্য হচ্ছে এদেরকে ঐ পেশা থেকে ফিরে আসার জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে যাকাতের অর্থ থেকে তাদরকে সহযোগিতা করা যেতে পারে। ৭. বহুগামিতা ও পরকীয়া সম্পর্ক পরিহার করা : একজন নারীকে যদি একাধিক পুরুষ ব্যবহার করে তাহ’লে তাদের সবার এইডস হবার সম্ভাবনা থাকে। পশ্চিমা দেশগুলোতে পুরুষ তার স্ত্রীকে অন্যের সাথে মেলামেশার সুযোগ দেয়। এটাকে তারা কিছু মনে করে না। এতে বিভিন্ন ধরনের রোগ বিশেষত এইডস হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। ইসলামে পরনারী ব্যবহার করা হারাম। কারো সামর্থ্য থাকলে সে একাধিক বিয়ে করতে পারে। কিন্তু একজন নারীকে একাধিক পুরুষ ব্যবহার করতে পারে না। উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারীদের সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে বেশী। ঐসব দেশের পুরুষরা একাধিক বিয়ে করলে নারীরা অবিবাহিত থাকবে না। পুরুষরা একাধিক বিয়ে করলে যে সকল মহিলার বিয়ে হয়নি তারা স্বামী পাবে এবং যেসব পুরুষ একাধিক নারী পেতে আগ্রহী তারা একাধিক স্ত্রী পাবে। ফলে শুধু এইডস নয়, বহু সমস্যার সমাধান হবে। এতে নারী-পুরুষ উভয়ে উপকৃত হবে। জানা যায়, আমেরিকায় পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ৫৮ লক্ষ বেশী। জার্মানিতে ৫০ লক্ষ এবং রাশিয়ায় ৯০ লক্ষ বেশী। (ইসলামের উপরে ৪০টি অভিযোগ ও তার প্রমাণ ভিত্তিক জবাব ডাঃ জাকির নায়েক পৃষ্ঠা ২৪) । এসব দেশের লোকেরা অবাধ যৌনাচারের নোংরামীর পরিবর্তে একাধিক বিবাহ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ৮. সমকামিতা বন্ধ করা : সমকামিতা হচ্ছে পুরুষে-পুরুষে এবং নারীতে- নারীতে জৈবিক চাহিদা মেটানো। এর ফলে অনেক রোগ সৃষ্টি হয়। ইসলামে এর কোন স্থান নেই। ইসলাম এসব অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ করেছে এবং মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য বিবাহ করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে’ (নিসা ৩) । রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ﻳَﺎ ﻣَﻌْﺸَﺮَ ﺍﻟﺸَّﺒَﺎﺏِ ﻣَﻦِ ﺍﺳْﺘَﻄَﺎﻉَ ﻣِﻨْﻜُﻢُ ﺍﻟْﺒَﺎﺀَﺓَ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺰَﻭَّﺝْ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺃَﻏَﺾُّ ﻟِﻠْﺒَﺼَﺮِ ﻭَﺃَﺣْﺼَﻦُ ﻟِﻠْﻔَﺮْﺝِ ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে তারা বিবাহ কর। কেননা তা চোখকে অবনমিত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে’ (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৮০) । আর সমকামিতার ফলে যৌবন দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং নানা রকম রোগ-ব্যাধি হয়। কিন্তু বিয়ের ফলে যৌবন দীর্ঘ স্থায়ী হয় এবং অনেক রোগ থেকে মুক্ত ও নিরাপদ থাকা যায়। ১৯৮১ সালে আমেরিকার নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোনিয়ায় সর্বপ্রথম সমকামীদের মধ্যে এইডস ধরা পড়ে (উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সংকলন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পৃঃ ১২৪) । পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী সমকামী রয়েছে আমেরিকায়। এইডস আক্রান্তদের প্রতি করণীয় : যারা এইডসে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সাথে আমাদের উত্তম ব্যবহার করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮْﻥَ ﺇِﺧْﻮَﺓٌ ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই’ (হুজুরাত ১০)। এইডসে আক্রান্তদের উপহাস করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোন পুরুষ যেন অন্য পুরুষকে উপহাস না করে, হ’তে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। কোন নারী যেন অন্য নারীকে উপহাস না করে, কেননা তারা হ’তে পারে তাদের চেয়ে উত্তম। একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না, মন্দ নামে ডেকো না। ঈমান আনার পরে মন্দ নামে ডাকা অত্যন্ত খারাপ। আর যারা এরূপ কাজ হ’তে নিবৃত্ত থাকে না তারাই প্রকৃত যালিম’ (হুজুরাত ১১)। পরিশেষে বলব, আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের চলার জন্য জীবন বিধান দিয়েছেন। এতে যেমন তাদের কল্যাণের পথ নির্দেশ করেছেন, তেমনি তাদের জন্য অকল্যাণের পথও বলে দিয়েছেন। সুতরাং এ জীবনবিধান মেনে চললে ইহকালে শান্তি পাবে এবং পরকালে পাবে মুক্তি। পক্ষান্তরে এ বিধান না মেনে নিজেদের মতানুযায়ী চললে পার্থিব জীবন হবে অশান্তিতে ভরপুর এবং পরকালে যেতে হবে জাহান্নামে। অতএব এ বিধান মেনে চলার মাঝেই রয়েছে এইডসের মরণ ছোবল থেকে বাঁচার উপায়, যা উপরে আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন। -আমীন!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s