জালিম শাষকদের শেষ পরিণতি!!


মাম ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) অনুবাদঃ ইউসুফইয়াসীন Printঅত্যাচারী শাসকের শেষ পরিণতিঅত্যাচারী শাসকের শেষ পরিণতিযালিমদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহর নিদর্শনপর্যায়ক্রমিকভাবে আসছে এবং অত্যাচারীদেরউপর তাদের শাস্তি বিরতিহীনভাবে এসে পড়ছে।বেন আলী এবং মোবারকের ঘটনা এখনো বিশ্বদৃষ্টির অন্তরাল হয়নি। সুতরাং প্রত্যেক শুরুরই শেষআছে এবং প্রত্যেক শাসনকালের একটি নির্দিষ্টমেয়াদ আছে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা‘য়ালা বলেন,﴾ এবং তোমার রব তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কেমোটেই উদাসীন নন।﴿ [৬: ১৩২]মহান আল্লাহ যালিমদের শেষ পরিণতির জন্য কারণ তৈরিকরেছেন এবং তাদের যুলুমের জন্য মর্মন্তুদশাস্তির বিধানও রেখেছেন, তিনি তাঁর ঐশ্বরিক ক্ষমতাদ্বারা তা নির্ধারণ করেছেন অথবা তাঁর পবিত্র আদেশদ্বারা আর তাঁর ফয়সালা আসতে খুব বেশি দিন বাকীনেই। সুতরাং যালিমদের তাদের সুসময়ের জন্যছেড়ে দাও এবং তাদের অপেক্ষা করতে দাও। মহানআল্লাহ বলেন, ﴾ আমাদের (ব্যাপারে) তোমরা কি(বিজয় ও শাহাদাৎ) এ দুটো কল্যাণের যেকোনো একটির অপেক্ষা করছো? কিন্তুতোমাদের জন্য আমরা যা কিছুর প্রতিক্ষা করছি তাহচ্ছে, আল্লাহ তা‘য়ালা নিজে থেকে তোমাদেরআযাব দিবেন কিংবা আমাদের হাত দিয়ে (তোমাদেরতিনি তোমাদের শাস্তি পৌঁছাবেন), অতএব তোমরাঅপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথেঅপেক্ষা করছি। ﴿ [৯: ৫২]মুমিনদের পরিণতির ব্যাপারে শত্রুদের চিন্তা-ভাবনা কি?যে কোন পরিণতিই তাদের জন্য উত্তম- হয়তোবাবিজয় যা আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত রাখবে নতুবাআল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শাহাদাহ্ যা হলোসর্বোচ্চ প্রাপ্তি।আর যারা শরী‘য়াহ থেকে বিমুখ হয়ে বহু দূরেসরে গিয়েছে; তাদের ব্যাপারে মুমিনদেরদৃষ্টিভঙ্গি কি? হয়তোবা আল্লাহ্ শাস্তি দিবেন-যেভাবে তিনি পূর্ববর্তী অস্বীকৃতিকারীদেরধ্বংস করেছিলেন নতুবা মুমিনরাই স্বীয় হস্তেতাদের উদ্ধত ও হঠকারী আচরণের জন্য শাস্তিদিবে। আল্লাহ্ বলেন, ﴾ অতএব তোমরা অপেক্ষাকরো, আমরা ও তোমাদের সাথে অপেক্ষাকরছি। ﴿ [৯: ৫২] সর্বোত্তম ফলাফল সবারই জানা ….চূড়ান্ত সফলকাম মু‘মিনরাই হবে।নিশ্চয়ই, আল্লাহ বহু যালিমকে ধ্বংস করেছেন,একক কিংবা গোষ্ঠী নির্বিশেষে এবং তিনি উত্তমমর্যাদাসম্পন্ন, আমাদেরকে তাদের ধ্বংস ও পরিণতিদেখিয়েছেন, যাতে আমরা নিজ চোখে তাদেখতে পারি। তাঁর পবিত্র কিতাবে তিনি তাদের শেষপরিণতি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন আরআমাদের চোখে দেখার চেয়েও আমাদেররবের বাণীর উপর রয়েছে অনেক বেশীআস্থা।স্রষ্টা, সুমহান মর্যাদাসম্পন্ন, তিনি বলেন, ﴾ আ‘দ ওসামুদকেও (আমি ধ্বংস করে দিয়েছি) এবং তাদের(ধ্বংসপ্রাপ্ত) বসতি থেকেই তা তোমাদের কাছে(আযাবের সত্যতা) প্রমাণিত হয়ে গেছে। শয়তানতাদের কাজ তাদের কাছে শোভন করেরেখেছিলো এবং (এ কৌশলে) সে তাদেরকে(সঠিক ) পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছে অথচ তারাতাদের (অন্য সব ব্যাপারে) ছিলো দারুন বিচক্ষণ।কারুন, ফিরাউন ও হামানকে ও (আমি ধ্বংস করেছি)। মুসাতাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত নিয়েএসেছিলো, কিন্তু তারা তাকে (মানার চেয়ে) ওযমীনে বড় বেশি অহংকার করেছিলো এবং তারাকোনো অবস্থাতেই (আমার আযাব থেকে)পালিয়ে আগে যেতে পারতো না। অতঃপর এদেরসবাইকে আমি নিজ নিজ গুনাহের কারণে পাকড়াওকরেছি, এদের কারো উপর আমি প্রচন্ড ঝড়পাঠিয়েছি, কারো উপর মহা গর্জন এসে আঘাতহেনেছে, কাউকে আমি যমীনের নিচেগেড়ে দিয়েছি, কাউকে (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি,(মুলতঃ) আল্লাহ তাআলা এমন ছিলেন না যে, তিনিতাদের কারো উপর কোনো যুলুমকরেছেন,যুলুমতো তারা নিজেরাই নিজেদেরউপর করেছে।﴿ [২৯: ৩৮-৪০]সেইসব যালিমরা যাদের আল্লাহ সমন্বিতভাবে ধ্বংসকরেছেন তাদের মধ্যে ছিলো আ‘দ ও সামুদজাতির লোকজন, ছিলো কারুন, ফিরাউন ও হামান।নিশ্চয়ই তাদের পরিণতি এবং ধ্বংসের কারণ সম্পর্কেআল্লাহ আমাদের আগেই অবহিত করেছেন। মহানআল্লাহ বলেন, ﴾ আ‘দ (জাতির ঘটনা ছিলো), তারা(আল্লাহ তা‘য়ালার) যমীনে অন্যায়ভাবে দম্ভভরেঘুরে বেড়াতো এবং বলতো আমাদের চাইতেশক্তিশালী আর কে আছে? অথচ ওরা কি চিন্তাকরে দেখেনি, যে আল্লাহ তাআলা তাদের সৃষ্টিকরলেন, তিনি শক্তিতে তাদের চেয়ে অনেকবেশী প্রবল, (আসলে) ওরা আমারআয়াতসমূহকেই অস্বীকার করতো।﴿ [৪১: ১৫]সুতরাং আল্লাহর উপর অবিশ্বাস, তাঁর আয়াতসমুহপ্রত্যাখ্যান এবং তাঁর নবীদের অবমাননা সত্বেও তারাপৃথিবীতে উদ্ধত ছিলো, আশেপাশেরলোকদের উপর যুলুম করতো, দমন নিপীড়ণচালাতো এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ ছিলো। এবং﴾ তারা বলতো আমাদের চাইতে শক্তিশালী আরকে আছে?﴿ সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাদের গর্বেরজবাব দিচ্ছেন বিস্ময়ভাবে, ﴾ অথচ ওরা কি চিন্তা করেদেখেনি, যে আল্লাহ তাআলা তাদের সৃষ্টিকরলেন, তিনি শক্তিতে তাদের চেয়ে অনেকবেশী প্রবল। ﴿তারা তাদের অহমিকতা, আত্নম্ভরিতা ও দুনিয়ার আরামআয়েশ, যা আল্লাহ তাদের ওপর স্থাপন করেদিয়েছিলেন, তা দ্বারা প্ররোচিত হতো। আর এটাইহচ্ছে যালিম ও অন্যায়কারীদের পথ।বস্তুত, তাদের নবী হুদ (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিতহোক) তাদেরকে তাদের পাপাচার, অন্যায়, দাম্ভিকতাও অসৎকাজের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ﴾তোমরা প্রতিটি উচুঁস্থানে স্মৃতি সৌধ হিসেবে বড় বড় ঘর বানিয়েনিচ্ছো, যা তোমরা একান্ত অপচয় (হিসেবেইকরছো)। এমন (নিপুণ শিল্পকর্ম) দিয়ে প্রাসাদবানাচ্ছো যা (দেখে) মনে হয় তোমরা বুঝি এপৃথিবীতে চিরদিন থাকবে। (অপরদিকে) তোমরাযখন কারো উপর আঘাত হানো, সে আঘাত হানোঅত্যন্ত নিষ্ঠুর স্বেচ্ছাচারী হিসেবে, অতএবতোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো এবং আমারআনুগত্য করো। তোমরা ভয় করো তাঁকে যিনিতোমাদের এমন সবকিছু দিয়ে সাহায্য করেছেন যাতোমরা ভালো করেই জানো। তিনি চতুষ্পদ জন্তুজানোয়ার,সন্তান সন্ততি দিয়ে তোমাদের সাহায্যকরেছেন, (সাহায্য করেছেন) সুরম্য উদ্যানমালা ওঝর্ণাধারা দিয়ে। সত্যিই আমি (এসব অকৃতজ্ঞআচরণের কারণে) তোমাদের জন্য একটি কঠিনদিনের শাস্তির ভয় করছি। ﴿ [২৬: ১২৮-১৩৫]কিন্তু যালিমরা আল্লাহর আদেশ থেকে বিরতথাকলো এবং রসূলদের মিথ্যেবাদী হিসেবেসাব্যস্থ করলো। মহান আল্লাহ বলেন, ﴾ তারাবললো, (হে নবী) তুমি আমাদের কোনোউপদেশ দাও আর না দাও উভয়টাই আমাদের জন্যসমান। (তোমার) এসব কথা আগের লোকদেরনিয়মনীতি ছাড়া আর কিছূই নয়। (আসলে) আমরাকখনো আযাবপ্রাপ্ত হবো না। অতঃপর তারা তাঁকেমিথ্যে সাব্যস্থ করলো আর আমিও তাদেরকেসম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলাম । (মূলতঃ) এ (ঘটনার)মাঝে ওরয়েছে (শিক্ষণীয়) নিদর্শন, (তা সত্বেও)তাদের অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না। ﴿ [২৬: ১৩৬-১৩৯]এটাই হচ্ছে আল্লাহর সুন্নাহ্। তিনি বলেন, ﴾( হেনবী), অবশ্যই তাদের ব্যাপারে তোমার মালিকেরকথা (সত্য) প্রমাণিত হয়ে গেছে, তারা কখনোইঈমান আনবে না। এমনকি তাদের কাছে আল্লাহরসুস্পষ্ট নিদর্শন এসে পৌছঁলেও (তারা ঈমান আনবেএমন) নয়, যতক্ষণ না তারা কঠিন আযাব নিজেদেরচোখে দেখতে পাবে। ﴿ [১০: ৯৬-৯৭]মানবজাতির ঘটনাসমূহের মধ্যে আরেকটি ঘটনা, যাইতিহাসের সমুদ্রে বার বার ঢেউ তোলে, সেইদৃশ্যে দেখা যায় সত্য ও মিথ্যের মুখোমুখিসংঘর্ষের ফলে তার অনিবার্য পরিণতি। মহান আল্লাহবলেন, ﴾ আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে (আমিপাঠিয়েছিলাম) তাদের ভাই শোয়াবকে, সেবললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহরবন্দেগী করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আরকোনো ইলাহ্ নেই, তোমাদের মালিকের পক্ষথেকে তোমাদের কাছে তাঁর সুস্পষ্ট নিদর্শনপৌছে গেছে, অতএব তোমরা (সে মোতাবেক)ঠিক ঠিক মতো পরিমাপ ও ওজন করো, মানুষদেরদেবার সময় কখনো কম দিয়ে তাদের ক্ষতিগ্রস্থকরো না, আল্লাহ তাআলার এ যমীনে (শান্তি) ওসংস্কার স্থাপিত হওয়ার পর তাতে তোমরা পুনরায়বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তোমরা যদি আল্লাহ তাআলারউপর ঈমান আনো,তাহলে এটাই (হবে) তোমাদেরজন্য কল্যানকর। প্রতিটি রাস্তায় তোমরা এজন্য বসেথেকো না যে তোমরা লোকদের ধমক(দেবে ভীত সন্ত্রস্থ করবে) এবং যারা আল্লাহরপথে ঈমান এনেছে তাদের আল্লাহর পথ থেকেবিরত রাখবে, আর সবসময় (অহেতুক) বক্রতা (ওদোষ ত্রুটি) খুঁজতে থাকবে, স্মরণ করেদেখো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে নিতান্তই কম,তখন আল্লাহ তোমাদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলেন এবংতোমরা পুনরায় চেয়ে দেখো বিপর্যয়সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিলো। ﴿ [৭:৮৫-৮৬]মাদইয়ান ছিলো একটি শহর যেখান অধিবাসীরা তাদেরঅর্থনীতিতে সীমা অতিক্রম করেছিলো,আর্থিক লেনদেনে সীমালঙ্ঘন করেছিলো এবংঅবৈধভাবে মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করতো। তারাআল্লাহর রাস্তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো এবংসত্যানুসন্ধানীদে হুমকি দিত। সত্য পথ থেকেবিচ্যুত হবার পথ তারা খুঁজতো এবং আল্লাহর নবীশোয়াইব( আঃ) যে পথে তাদের ডাকতো ওসতর্ক করতো যদি তারা অবিশ্বাসও করে তবুও যেনতারা ধৈর্য্য ধারণ করে, যেহেতু দুপক্ষই অপেক্ষাকরছে আল্লাহর পবিত্র হুকুমের যা দিয়ে তিনি বিচারকরবেন, ﴾ আমাকে যে বাণী দিয়ে পাঠানোহয়েছে তার উপর কোনো এক গোষ্ঠী যদিঈমান আনে আর একটি দল যদি তার উপর কোনোঈমান না আনে, তারপরও ধৈর্য্য ধারণ করো যতক্ষণনা আল্লাহ তা‘য়ালা নিজেই আমাদের মাঝে ফয়সালা নাকরে দেন, আর তিনিই হচ্ছেন উত্তম ফয়সালাকারী।﴿ [৭: ৮৭]অর্থাৎ কোন ক্ষতি সাধন না করেই অপেক্ষা করা,যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মাঝে বিচার করেন আরআল্লাহই উত্তম বিচারক।ঈমান পৃথিবীতে বিরাজ করুক এবং এমন কিছু লোকপ্রতিনিধিত্ব করুক যারা তাগুতদের প্রতি নিবেদিত নয়;এটা তাগুতদের কাছে কখনোই আকাঙ্খিত না। একটামুসলিম দল যারা আল্লাহ ব্যতীত কারো প্রতিআনুগত্যশীল নয়, যারা আল্লাহর ক্ষমতাকেইস্বীকার করে, তাঁর আইন ব্যতীত অন্য কারোফয়সালা মানে না, তাঁর নির্দেশিত পথ ছাড়া অন্য কোনপথ অনুসরণ করে না- এই দল অবশ্যই তাগুতদেরকর্তৃত্বের জন্য হুমকির কারণ। এমনকি, সেই দল যদিনিজেদের বিচ্ছিন্নও করে রাখে, তাগুতদেরথেকে দূরে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত নাযথোপযুক্ত সময়ে আল্লাহর সাহায্য নেমেআসে।সত্যই, মুসলিম দলগুলোর অনাগ্রহ সত্ত্বেও এইতাগুতরা মুসলিমদের মাঝে বিদ্রোহ ছড়িয়ে দিচ্ছেসেই মাত্রায় যেখানে সত্যের অসিত্মত্বইমিথ্যেকে উত্তেজিত করে এবং সত্যের এইঅস্তিত্বের কারণে মিথ্যের উপর এইআন্দোলনের আর্বিভাব ঘটে এবং এটাই আল্লাহরসুন্নাহ্ যা যে কোন ভাবেই এসে পড়ে – ﴾তারসম্প্রদায়ের কিছু নেতৃত্বস্থানীয় লোক যারা বড়াইঅহংকার করেছিলো, তারা বললো, হে শোয়ায়েব,আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে যারাঈমান এনেছে তাদের আমাদের জনপদ থেকেবের করে দিবো অথবা তোমাদের অবশ্যইআমাদের জাতিতে ফিরে আসতে হবে। সেবললো, যদি আমরা ইচ্ছুক না হই তাহলেও (কি তাইহবে)? সেখান থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের(একবার) মুক্তির দেবার পর যদি আমরা আবারতোমাদের জীবনাদর্শে ফিরে আসি, তাহলেআমরা (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তাআলার উপর মিথ্যেআরোপ করবো, আমাদের পক্ষক্ষ এটাকখনোই সম্ভব নয় যে আমরা সেখানে ফিরেযাবো, হাঁ আমাদের মালিক যদি আমাদের ব্যাপারেঅন্য কিছু চান, (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা), অবশ্যইআমাদের মালিকের জ্ঞান সবকিছুর উপর ছেয়েআসে, আমরা একান্তভাবেই আল্লাহর উপর নির্ভরকরি এবং বলি, হে আমাদের মালিক, আমাদের এবংআমাদের জাতির মাঝে তুমি একটা সঠিক ফয়সালা করেদাও, কারণ তুমিই হচ্ছো শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী। ﴿ [৭:৮৮-৮৯]আল্লাহর কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার পরও যারাকুফরীর দিকে ফিরে যায়, সত্য পথ দেখানেরারপরও, দাসত্ব থেকে মুক্ত করার পরও তারা এমনএকটা মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিচ্ছে যে, তারা আল্লাহরদ্বীনের মধ্যে ভালো কোন কিছু খুঁজে পায়নি।সুতরাং তারা আল্লাহর নিন্দা করে এবং তাগুতদের সাথেমিলিত হয়। অথবা ইঙ্গিত দেয় যে, তাগুতের ধর্মেটিকে থাকার কারণ আছে, সেটার আইনপ্রনয়ণ বৈধএবং সেটা আল্লাহর উপর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করে না। পরিশেষে এটাই বলা যায় যে, তারাতাগুতের কাছে ফিরে যায় এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাসস্থাপন করার পরও তাদেরকে সমর্থন দেয়। এটাএকটা ভয়ংকর স্বাক্ষ্য, এমন ভয়ংকর যে, যেপথনির্দেশ পায়নি কিংবা ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশকরেনি, তার স্বাক্ষক্ষ্যর চেয়ে মারাত্বক, কারণতাদের স্বাক্ষ্য হচ্ছে তাগুতদের স্বীকৃতি দেয়া।তাগুতের দাসত্বকে পরিহার করা ও শুধু আল্লাহরদাসত্বকে মেনে নেয়া অনেক বেশী সহজ ওস্বল্পব্যয় যত বেশী ব্যয় তাগুতের দাস হওয়া-যেখানে ব্যয় হয় নীতিবহির্ভূতভাবে,বিবেচনাহীন সুস্পষ্ট নিরাপত্তা, ব্যক্তি, আবাসিকসর্বোপরি অধিকৃত সম্পদের নিরাপত্তাহীনতা। এইব্যয় হয় বোঝা ও দীর্ঘসময়ব্যাপী এবংসবচেয়ে খারাপ হচ্ছে যে, মানুষ হয়ে একজনমানুষের দাসত্ব মেনে নেয়া। যে দাসত্বসবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো মানুষ হয়ে অন্যমানুষের খেয়াল খুশির অনুসরণ করা, একজনের ভাগ্যঅন্য মানুষের আকাঙ্খার উপর নির্ভর করা, একজনেরজীবনের নিয়ন্ত্রণ অন্যজনের খামখেয়ালীরউপর নির্ভর করা।তাগুতের শাসনে মানুষের সম্পদ ব্যয় হয় – যা আইনদ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত না, এতে ব্যয় হয় তাদেরসন্তান-সন্ততি, কারণ তাগুতেরা তাদেরকে তাদেরশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলে, তাদের কল্পনা,চিন্তাচেতনা, রীতিনীতি, বৈশিষ্ট্য বদলে দেয়।এমনকি, তা এতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয় যে, তাগুতদেরএকটা কর্তৃত্বময় ক্ষমতা তাদের জীবনেপ্রতিষ্ঠিত হয়, তাদের লক্ষ্যস্থল বুঝে তাগুতেরাতাদের পরিত্যাগ করে, তাদের মাথার খুলি ও অবশিষ্টাংশদ্বারা নিজের ও সহযোগীদের জন্য গৌরবেরপতাকা স্থাপন করে।ভবিষ্যতে এটা তাদের শ্রদ্ধা হারানোর কারণ হয়,কারণ সত্য এই যে, অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদেরঅবৈধ যৌনাচার থেকে বিরত রাখার কোন ক্ষমতা রাখেনা। তাগুতেরা সবসময় খুশি থাকে তা হোক সরাসরিধর্ষন যা সবসময় হয়েই চলেছে অথবা তাদের সেধরনের চিন্তাধারায় গড়ে তোলা যাতে তাদের যৌনকামনা অনুমোদনযোগ্য হয়- স্বাধীনতা,মেয়েলিপনা, সমঅধিকার ও আরও নানা স্লোগানেরমাধ্যমে এবং সহজ করে দেয়া হয় তাদের জন্যবেশ্যাবৃত্তি ও পাপাচারের জন্য সহজ পথ।যে কেউ ভাবে যে তার সম্পদ, সম্মান, জীবনএবং তার সন্তান-সন্ততির জীবনের বিনিময়েআল্লাহর আইন বাদ দিয়ে তাগুতের আইনে থেকেবিপদ থেকে পালাতে পারবে, নিশ্চয়ই সে একঅন্ধ মোহে লিপ্ত অথবা বাস্থবতার সাথে তারকোন সম্পর্ক নেই।তাগুতের আনুগত্যের মূল্য মান, সম্মান ও সম্পদেরদিক থেকে অনেক বেশী এবং আল্লাহর এবংআল্লাহর দাসত্ব যে মূল্যই হোক না কেন, এমনকি,তা দুনিয়ার মাপকাঠিতে বেশী যথাযথ ও লাভজনক, যদিআমরা আল্লাহর কাছে সেটার যে ওজন হবে তাউপেক্ষাও করি । ﴾ তার জাতির নেতৃত্বস্থানীয়লোক যারা (আল্লাহ তাআলার নবীকে) অস্বীকারকরেছে, তারা (সে জাতির সাধারণ মানুষদের)বললো, তোমরা যদি শোয়ায়েবের অনুসরণকরো তাহলে তোমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।﴿ [৭:৯০]এটা সম্পূর্ণ বিস্মরণ প্রবণতা, পরিপূর্ণঅমনোযোগিতা এবং অতি মাত্রায় পুনঃপতন হওয়া যখনসত্যকে ক্ষতি ও পথনির্দেশক হিসেবে দেখা হয়।তাই দেখো, তাদের শেষ পরিণতি কিভাবেহয়েছিলো এবং এটাই আসল ক্ষতি। ﴾(নবীর কথাঅমান্য করার কারণে) একটা প্রচন্ড ভূকম্পন তাদের(এমনভাবে) আঘাত করলো যে, অতঃপর দেখতেদেখতে তারা সবাই তাদের নিজ নিজ ঘরে মুখথুবড়ে পড়ে থাকলো। যারা শোয়াবকে অমান্যকরলো,তারা (এমনভাবে) ধ্বংস হয়ে গেলো,(দেখে মনে হয়েছে), এখানে কেউ কখনোকোনদিন বসবাস করেনি, (বস্ত্তত) তারাই সেদিনক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যারা শোয়ায়েবকেঅস্বীকার করেছে। এরপর সে (শোয়ায়েব)তাদের কাছ থেকে চলে গেলো, (যাবার সময়)সে বললো, হে আমার জাতি, আমি তোমাদেরকাছে আমার মালিকের বাণীসমূহ পৌঁছে দিয়েছিলামএবং আমি (আন্তরিকভাবেই) তোমাদের কল্যাণ কামনাকরেছিলাম, আমি কেন এমনসব মানুষের জন্য (আজ)আফসোস করবো যারা আল্লাহকেই অস্বীকারকরে !﴿[৭: ৯১-৯২]যেভাবে আল্লাহ যালিমগোষ্ঠিদেরকে ধ্বংসকরেছিলেন, সেভাবে একক সৈরশ্বাসকদেরওধ্বংস করেছিলেন। যমীনে যে নিজেরউচ্চপ্রশংসা করতো সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ফেরাউনসম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ﴾(ঘটনাটা ছিলোএই), ফেরাউন (আল্লাহর) যমীনে অনেকশক্তিশালী হয়ে উঠেছিলো, সে তার (দেশের)অধিবাসীদের বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেরেখেছিলো, সে তাদের একটি দলকে হীনবলকরে রেখেছিলো, সে তাদের পুত্রদের হত্যাকরতো এবং নারীদের জীবিত রেখে দিতো,অবশ্যই সে ছিলো (যমীনে) বিপর্যয় সৃষ্টিকারীব্যক্তিদের একজন। (ফেরাউনের এসবনিপীড়ণের মোকাবেলায়) আমি সে যমীনেযাদের হীনবল করে রাখা হয়েছিলো তাদেরউপর (কিছুটা) অনুগ্রহ করতে এবং আমি তাদের(ফেরাউনের সেবাদাস থেকে উঠিয়ে দেশের)নেতা বানিয়ে দিতে এবং তাদের (এ যমীনে)উত্তরাধিকার বানিয়ে দিতে ইরাদা করলাম। আমি (ইচ্ছাকরলাম) সে দেশে তাদের ক্ষমতার আসনেবসিয়ে দেবো এবং তাদের মাধ্যমে ফেরাউন,হামান ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের সে ব্যাপারটাদেখিয়ে দেবো, যে ব্যাপারে তারা আশংকাকরতো। ﴿ [২৮: ৪-৬]এটাই হচ্ছে শাসকের যুলুম, কতৃত্ব এবং হিংস্রতা, তাহচ্ছে দাম্ভিকতা ও ঔদ্ধত্বের যুলুম। এটা হচ্ছেযুলুমের চৈতন্য এবং তার নিয়ম হচ্ছে দূর্নীতি, খুন-খারাপি, মানুষকে দূর্বল হিসেবে দেখা, এমনকিতাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা। যালিমরা শ্রেষ্ঠত্ব চায়এবং মু‘মিনদের ইচ্ছেকে দমিয়ে দিতে চায় কিন্তুফেরাউনরা যা চায় আল্লাহ তা চান না এবং তাদেরইচ্ছের বিরুদ্ধেই আল্লাহর রায় কার্যকর হয়।সেইসব সীমালঙ্ঘনকারী যালিম শাসকরা তাদেরসশস্ত্র বাহিনী, কর্তৃত্ব ও প্রতারণাময় কুট-কৌশল দ্বারাপ্রতারিত হতে থাকে। তারা যা ভালবাসে তা তাদেরনিজেদের জন্য পছন্দ করে, আর তাদেরঅন্তরে যে নিকৃষ্টতা রয়েছে তা তাদেরশত্রুদের জন্য বেছে রাখে। এবং মনে করেযে, তাদের সবকিছু করারই ক্ষমতা রয়েছে।কিন্তু আল্লাহ তাদের চাওয়াকে অপছন্দ করেছেন,তাই তিনি ফেরাউন, হামানদের চ্যালেজ্ঞ করেছেনএবং বলেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে তাদের প্রস্তুতি ওসতর্কতা কোন কাজেই আসবে না। সেই যালিমরাঅসহায় মানুষদের উপর অনবরত নির্যাতন চালাতো এবংতাদের নবজাতক ছেলেদের হত্যা করেমেয়েদের জীবিত রাখতো। তারপরেও তারাতাদের অধিকারভূক্ত নির্যাতিত দাসদেরকে ভয় পেতএবং তাদের থেকে সতর্ক থাকতো। তাই তারাতাদের খোঁজার জন্য গোয়েন্দা লাগিয়েরাখতো এবং তাদের উপর নজরদারী করতো।এতো কিছুর পরেও আল্লাহ তাদের উপর তাঁর রহমতবর্ষণ করতে চেয়েছিলেন এবং তাদেরকে দাস নাবানিয়ে নেতা বা শাসক বানাতে চেয়েছিলেন এবংআল্লাহ সেই সীমালঙ্ঘনকারী যালিম শাসকদেরওধ্বংস করতে চেয়েছিলেন যারা সঠিক পথ পরিত্যাগকরে বিপথে চলে গিয়েছিলো ﴾ অতঃপর আমিতাকে ও তার গোটা বাহিনীকে ধরে সমুদ্রেনিক্ষক্ষপ করলাম, অতঃএব (হে নবী), তুমিদেখো (বিদ্রোহ) করলে যালিমদের পরিণাম কিভয়াবহ হয়ে থাকে। আমি ওদের এমন সবলোকদের নেতা বানিয়েছি যারা (জাহান্নামের)আগুনের দিকেই ডাকবে,(এ কারণেই) কিয়ামতেরদিন তাদের (কোন রকম) সাহায্য করা হবে না। দুনিয়ায়(যেমন) আমি তাদের পেছনে আমার লা‘নত লাগিয়েরেখেছি, (তেমনি) কেয়ামতের দিনও তারা নিতান্তঘৃনিত লোকদের মধ্যে শামিল হবে।﴿ [২৮ ৪০-৪২]আল্লাহর কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন, আল্লাহরসাথেই তাদের হিসাব এবং তারা দুনিয়াতে যে সুখ শান্তিভোগ করেছিলো তা তাদের কোন উপকারেইআসবে না। ﴾(যাবার সময়) ওরা নিজেদের পেছনেকত উদ্যান, কত ঝর্ণা ফেলে গেছে, কতক্ষক্ষতের ফসল, কত সুরম্য প্রাসাদ, কত (বিলাস)সামগ্রী যাতে ওরা নিমগ্ন থাকতো, এভাবেই আমিআরেক জাতিকে এসব কিছুর উত্তরাধিকারী বানিয়েদিলাম। (এ ঘটনার ফলে) ওদের জন্য না আসমানকোন অশ্রুপাত করলো না (যমীন তাদের এপরিণতির জন্য) একটু কাঁদলো, (আযাব আসার পর)তাদের আর কোন অবকাশই দেয়া হলো না। ﴿ [৪৪:২৫-২৯]স্বৈরশাসকের ইতিহাস উল্টে গেছে এবং সে(ফেরাউন) হয়ে গেছে পুরনো স্মৃতি, কিন্তু তারপাপ, অপকর্ম তাকে ঘিরে রেখেছে একটি অসৎফলাফল ও লানত হিসেবে। ﴾(আজ সত্যি সত্যিই)তোমরা আমার সামনে নিঃসঙ্গ অবস্থায় এলে, যেমনিনিঃসঙ্গয় অবস্থায় আমি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টিকরেছি, অতঃপর আমি তোমাদের যা কিছু দিয়েছি তারসবকিছুই ফেলে এসেছো, তোমাদের সাথেতোমাদের সুপারিশকারী ব্যক্তিদের – যাদেরতোমরা মনে করতে তারা তোমাদের(কাজকর্মের) মাঝে অংশীদার, তাদের তো আজতোমাদের মাঝে দেখতে পাচ্ছি না। বস্তুততাদের এবং তোমাদের মধ্যেকার সেই (মিথ্যে)সম্পর্ক আজ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে এবং তাদেরব্যাপারে তোমরা যে ধারনা করতে তাও আজ নিস্ফল(প্রমাণিত) হয়ে গেছে।﴿ [৬: ৯৪]আরেকজন অত্যাচারী ছিলো, এক উদ্ধত শাসকযে আল্লাহর রহমতের প্রতি অকৃতজ্ঞ ছিলো।সে ছিলো কারুন যার ছিলো বিশাল ভাগ্য ও অনেকসম্পদ, তবে তা সত্ত্বেও তার সম্পদ তার কোনউপকারে আসেনি কারণ সে আল্লাহকে অবিশ্বাসকরেছে এবং শুধু তার নিজের ক্ষমতায় সন্তুষ্টথেকেছে ও আল্লাহ তাকে বিশ্বাস করে যেসম্পদ দিয়েছিলেন তা তাকে প্ররোচিতকরেছিলো﴾ অতঃপর (একদিন) সে তার লোকদেরসামনে (নিজের শান শওকত প্রদর্শনীর জন্য)জাঁকজমকের সাথে বের হলো, (মানুষের মাঝে)যারা পার্থিব জীবনের (ভোগবিলাস) কামনা করতোতখন তারা বললো, আহা! (কত ভালো হতো) যদিকারুনকে যা দেয়া হয়েছে আমাদেরকে তা দেয়াহতো, আসলেই সে মহাভাগ্যবান ব্যক্তি।(অপরদিকে) যাদের (আল্লাহ তাআলার পক্ষথেকে) জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা বললো, ধিকতোমাদের (সম্পদের) উপর, বস্ত্তত যারা আল্লাহতাআলার উপর ঈমান আনে ও নেক কাজকরে,তাদের জন্য ও আল্লাহ তাআলার দেয়াপুরস্কারই শ্রেষ্ঠ , আর ধৈর্যশীলরাই শুধু তাপেতে পারে। পরিশেষে আমি তাকে ও তার(ঐশ্বর্যভরা) প্রাসাদকে যমীনে গেড়ে দিলাম।তখন (যারা এ সম্পদের জন্য একটু আগেইআক্ষক্ষপ করেছিলো তাদের) এমন কোন দলই(সেখানে মজুদ) ছিলো না, যারা আল্লাহ তাআলার(গজবের) মোকাবেলায় তাকে একটু সাহায্যকরতে পারলো, না সে নিজেকে নিজে রক্ষাকরতে পারলো। ﴿ [২৮: ৭৯-৮১]এবং এই হচ্ছে যালিম ও অত্যাচারীদের শেষ পরিণতিএবং তোমাদের রব তাদের ধ্বংস করতে সক্ষম,তবে সব শাসনকালেরই একটা শেষ আছে।আল্লাহর সুন্নাহ্ অগ্রসর হয়ে চলেছে এবংবর্তমানের তাগুতদের জন্যও একটা নির্দিষ্ট সময়আছে যেখানে তাদের পৌঁছতে হবে। ﴾ আমাদের(ব্যাপারে) তোমরা কি (বিজয় ও শাহাদাৎ) এ দুটোকল্যাণের যে কোনো একটির অপেক্ষাকরছো? কিন্তু তোমাদের জন্য আমরা যা কিছুরপ্রতিক্ষা করছি তা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা নিজেথেকে তোমাদের আযাব দিবেন, কিংবা আমাদেরহাত দিয়ে (তোমাদের তিনি তোমাদের শাস্তি)পৌঁছাবেন, অতএব তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি। ﴿ [৯: ৫২]আল্লাহর সুন্নাহ্ এই তাগুতদের উপর খুব শিগগিরইআসছে এবং আমাদের হাতের মাধ্যমেই তাদেরধ্বংস ও শাস্তি বৃদ্ধি পাবে । এটা হচ্ছে আল্লাহর তরফথেকে শাস্তি তাদের উপর যারা আল্লাহর আদেশথেকে নিবৃত্ত থাকে এবং তার পথ থেকে সরেআসে। ﴾ তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো,আল্লাহ তাআলা তোমাদের হাত দিয়েই তাদের শাস্তিদিবেন, তিনি তাদের অপমানিত করবেন, তাদের উপরবিজয় দিয়ে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবংএভাবে তিনি মুমিন সম্প্রদায়ের মনগুলোকেওনিরাময় করে দিবেন। তিনি এর দ্বারা তাদের মনেরক্ষোভ দূরীভূত করবেন, তিনি যাকে চাইবেন তারপ্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন, আল্লাহ তাআলা সবকিছুইজানেন এবং তিনি হচ্ছেন সুবিজ্ঞকুশলী।﴿ [৯:১৪-১৫]এটাই আল্লাহর আদেশ ও তাঁর প্রতিশ্রুতি এবং আল্লাহতাঁর কাজকর্মে প্রভাবশালী । আমার রব বলেন,﴾ যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছে, তোমরা তাদেরকাউকে হত্যা করনি বরং আল্লাহ তাআলা তাদের হত্যাকরেছেন, আর তুমি যখন তীর নিক্ষেপকরেছিলে, আসলে আল্লাহ তাআলাই নিক্ষেপকরেছিলেন, তিনি নিজের থেকে মুমিনদেরউত্তম পুরস্কার দান করে বিজয় দিতেচেয়েছিলেন,নিঃসন্দেহে সবকিছু শোনেন ওজানেন। এটা হচ্ছে তোমাদের ব্যাপারে তাঁরনীতি, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কাফিরদের ষড়যন্ত্রদূর্বল করে দেন। ﴿ [৮: ১৭-১৮]শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দ আল-কাদির আল-মুরশেদী

Advertisements