ধূমপান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ফাতাওয়া


ধূমপান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ফাতাওয়া

 

ধূমপান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ফাতাওয়া
তামাক এবং এর বিভিন্ন উৎপাদনসহ তা ব্যবহারের পদ্ধতির সমালোচনায় বলা যায় যে, এটি এমন একটি উপকরণ যা প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। কারণ তামাক ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধিত হয় বিধায় ইহা প্রতিরোধ করা ঐ সকল লোকদের কর্তব্য যারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করে। শুধু তাই নয় বরং এটি সমাজের প্রতিটি স্তরেই বিস্তার লাভ করেছে। কাজেই শিক্ষকমণ্ডলী, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবি, মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং সাধারণ লোকসহ সকলেই এ বিধ্বংসী জিনিসের প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যার দ্বারা গোটা বিশ্বে দৈনিক প্রায় ১৩০০ (তেরশত) লোক মৃত্যুবরণ করে থাকে; যার জন্য দেশ এবং জাতিসহ নিখিল বিশ্ব এ সকল ব্যাধির চিকিৎসায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করে চলেছে। আর এ জন্যই আলেমগণ এ মহা ব্যাধি এবং এর ভয়াবহতা হতে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করতে বিভিন্ন বক্তব্যে অংশ নিচ্ছেন যেন তারা নিজেদেরকে এ থেকে বিরত রেখে সৎকর্মের প্রতি উৎসাহ দান করতে পারে। কয়েক যুগ হতে আমাদের নিকট বহু ফাতাওয়া ও ইসলামী প্রবন্ধ জমা হয়েছে; যার দ্বারা শর‘য়ী হুকুম বর্ণনা করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে যারা তামাক উৎপাদন করে, এর ব্যবসা করে, সেল ও সাপ্লাই দেয়, সংরক্ষণ এবং তা ব্যবহার করে।
মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ কল্যাণ পরিষদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় তা প্রতিরোধের প্রোগ্রাম তৈরী করেছে, তারা সমাজ এবং এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রকাশনার গুরুত্বদানকারীর জন্য এর বিভিন্ন দিক নিয়ে শর‘য়ী হুকুম তুলে ধরেছেন, তারা মনে করছেন যে, এটি বিশেষজ্ঞদের জন্য এবং যারা মাদকদ্রব্য প্রতিরোধের সঠিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে তাদের জন্য একটি প্রত্যাবর্তনস্থল দিক হতে পারে। বিশেষ করে দ্বীনি দিকের খেয়াল করে এ ভয়াবহ ব্যাধির সমালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ইচ্ছা পোষণ করে যে, তামাক ব্যবহারে পাঁচটি প্রয়োজনীয় জিনিসের সবগুলোই কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত হয় যদিও তামাক ত্যাগ করে থাকে। আর তা প্রতিরোধ করলে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা হবে। এটি তামাক প্রতিরোধের একটি পদ্ধতি, কাজেই ‘আমের ইবন সালেহ নাজী’ এর প্রশংসা করি এ জন্যে যে, তিনি তার সার্বিক প্রচেষ্টা ব্যয় করে এগুলোকে একত্রিত করেছেন।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাকে উত্তম বদলা দান করেন, তারপর বিজ্ঞ আলেমগণেরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তারা এ ব্যাপারে যে খেদমত করেছেন তা যেন আল্লাহ তাদের মিজানে হাসানায় জমা করে দেন। আমীন
ড. আব্দুল্লাহ ইবন মোহাম্মদ আল বাদাহ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তামাক বিরোধী কর্মসূচীর পরিচালক
মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ কল্যাণ পরিষদের কার্যকরী কমিটির সদস্য

ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিকুলের রব, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর প্রেরিত সেই বান্দার উপর, যাঁকে তিনি রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন।
অতঃপর সকলেরই তা জানা যে, ব্যক্তি এবং সমাজে ধূমপানের কুপ্রভাব এবং শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি রয়েছে। ধূমপান এবং ধূমপায়ীদের ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি? বহু মানুষ তা জানতে চায়। এ বিষয়ে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে এর হুকুম বর্ণনার ব্যাপারে ধূমপান প্রতিরোধ কল্যাণ পরিষদের ইচ্ছায় এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রকাশনা (ধূমপান সম্পর্কে সাধারণ ফাতাওয়া) পাঠক সমাজে তুলে ধরা ভাল মনে করছে।
এতে ধূমপান এবং ধূমপায়ীদের জন্য কিছু শর‘য়ী হুকুমের ফাতাওয়া স্থান পেয়েছে, আল্লাহর নিকট আশা যে, তিনি এর দ্বারা সকলকে উপকার দান করবেন এবং যারা ধূমপান থেকে বিরত থাকার আগ্রহী তাদের জন্য ইহা সহায়ক হবে।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সম্মানিত আলেমদেরকে এর পুণ্য ও সাওয়াব দান করেন, যারা এ মহা ভয়ংকর ক্ষতির ব্যাপারে শর‘য়ী হুকুম আহকাম বর্ণনা করেছেন এবং এ আমল যেন তাদের পুণ্যের পাল্লায় যোগ করে দেন, নিশ্চয় তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
এমনিভাবে গুরুত্বপূর্ণ, মূল্যবান ও ব্যতিক্রমধর্মী ফাতাওয়াসমূহ একত্রিত করার কারণে সমিতির সদস্য ‘আমের ইবন সালেহ নাজী’ এর প্রশংসা করি, তদ্রুপ এ প্রবন্ধটি আদায়ের ক্ষেত্রে এবং এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার, এ থেকে বিরত রাখতে এবং তা ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ দানে সমিতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ইহা সকল মহলের সর্বাঙ্গিন সহযোগিতা, পৃষ্টপোষকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আশা করে।
ধূমপান প্রতিরোধ কল্যাণ পরিষদ
১. ধূমপান, হুক্কা এবং এ জাতীয় জিনিসের হুকুম
প্রশ্ন/ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় ধূমপান হারামের কোনো প্রমাণ আছে কি?
উত্তর: বিশেষভাবে এ নামে কোনো প্রমাণ আসে নাই, কিন্তু তা অপবিত্র জিনিস বিধায় আল্লাহর বাণী:
﴿ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ﴾ [الاعراف: ١٥٧]
অর্থাৎ: “আল্লাহ তাদের উপর অপবিত্র জিনিসকে হারাম করেছেন” এর অন্তর্ভুক্ত। [সুরা আরাফ: ১৫৭]  এবং তা ক্ষতিকর বিধায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস
«لا ضرر ولا ضرار»
অর্থাৎ: “নিজের কোনো অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং অন্য কারো ক্ষতি করা যাবে না” এর অন্তর্ভুক্ত।[1]
আর যে সকল জিনিস খারাপ ও ক্ষতিকর তাতে টাকা পয়সা ব্যয় করা হারাম। যা অপব্যয় হওয়ার কারণে আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী:
﴿إِنَّ ٱلۡمُبَذِّرِينَ كَانُوٓاْ إِخۡوَٰنَ ٱلشَّيَٰطِينِۖ وَكَانَ ٱلشَّيۡطَٰنُ لِرَبِّهِۦ كَفُورٗا٢٧﴾ [الاسراء: ٢٧]
অর্থাৎ: “নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীগণ শয়তানের ভাই, আর শয়তান তার প্রভুর নাফরমান” এর অন্তর্ভুক্ত। [সুরা ইসরা: ২৭], তাছাড়া তা অযথা সম্পদ নষ্ট করার শামিল, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযথা মাল নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন।[2]
আল্লাহ সকলকে তাওফীক দিন, আর আল্লাহ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাথীর উপর সালাত পেশ করুন।[3]
প্রশ্ন: এ প্রশ্নটি আল্লামা ইবনে উসাইমীন রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে করা হয়েছিল যে, যখন আমরা কোনো দোকানে গিয়ে বলি যে, সিগারেট বিক্রি নিষেধ বা তা বিক্রি করা হারাম, যেমন আপনি ফাতাওয়া দিয়েছেন, তখন তারা বলে: যদি তা হারাম হতো তবে অবশ্যই নিষেধ করা হতো! তাদেরকে আমরা কি বলবো?
উত্তর: এর উত্তর অত্যন্ত সহজ, তাদেরকে বলব: শরীয়তের মূল কি? মানুষের আমল? নাকি কুরআন ও হাদীস? অবশ্যই শরীয়তের উৎস হচ্ছে কুরআন ও হাদীস। যদি কুরআন ও হাদীস কোনো জিনিস হারামের উপর প্রমাণ করে তবে মানুষের কোনো আমল গ্রহণযোগ্য হবে না এবং মানুষের কোনো আমল দলীল হতে পারে না। কিয়ামতের দিন কোনো মানুষ এ রকম কথা বলে আল্লাহর দলীলকে কোনোভাবেই প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না, কারণ তিনি বলেছেন:
﴿ وَيَوۡمَ يُنَادِيهِمۡ فَيَقُولُ مَاذَآ أَجَبۡتُمُ ٱلۡمُرۡسَلِينَ ٦٥ ﴾ [القصص: ٦٥]
 “যেদিন তাদেরকে ডেকে বলবেন: রাসূলদেরকে কি জবাব দিয়েছিলে?” [সূরা কাসাস: ৬৫] এখানে বলা হয় নি যে, সমাজে কিসের ব্যাপারে তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলে?
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ فَعَمِيَتۡ عَلَيۡهِمُ ٱلۡأَنۢبَآءُ يَوۡمَئِذٖ فَهُمۡ لَا يَتَسَآءَلُونَ ٦٦ ﴾ [القصص: ٦٦]
“সেদিন তাদের উপর সকল খবর বন্ধ হয়ে যাবে, অতঃপর তারা কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারবে না” [সূরা কাসাস: ৬৬], তাদের উপর তাদের যাবতীয় খবরাখবর বন্ধ হয়ে যাবে কেউ কোনো কথার উত্তর দিতে পারবে না এবং অন্যকেও জিজ্ঞাসা করতে পারবে না। আর যদি মানুষের আমল দলীল হতো তাহলে কাফেরদের কথা-
﴿إِنَّا وَجَدۡنَآ ءَابَآءَنَا عَلَىٰٓ أُمَّةٖ﴾ [الزخرف: ٢٢]
‘আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে একটি অবস্থায় পেয়েছি’ দলীল হতো এবং তারা এ কথার দ্বারা ওযর পেশ করতে পারতো। কাজেই আপনি ধূমপায়ীকে এ প্রমাণ দিয়ে যান, যদি সে হেদায়েত পায় তাহলে সে নিজের জন্যই পাবে, আর যদি পথভ্রষ্ট হয় তাহলে সে নিজেই পথভ্রষ্ট হবে।
আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলকে বলেছেন:
﴿ فَذَكِّرۡ إِنَّمَآ أَنتَ مُذَكِّرٞ ٢١ لَّسۡتَ عَلَيۡهِم بِمُصَيۡطِرٍ ٢٢ إِلَّا مَن تَوَلَّىٰ وَكَفَرَ ٢٣ فَيُعَذِّبُهُ ٱللَّهُ ٱلۡعَذَابَ ٱلۡأَكۡبَرَ ٢٤ ﴾ [الغاشية: ٢١،  ٢٤]
“অতএব আপনি উপদেশ দিন; আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা, আপনি তাদের উপর শক্তি প্রয়োগকারী নন। তবে কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে ও কুফরী করলে, আল্লাহ্ তাদেরকে দেবেন মহাশাস্তি।” [সূরা গাশিয়াহ: ২১-২৪][4]
প্রশ্ন: সৌদী আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ধূমপানের হুকুম কি?
উত্তর: ধূমপান হারাম, কেননা তা অপবিত্র এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি বহন করে, আর আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের জন্য ভাল পবিত্র খাবার ও পানীয় হালাল করেছেন, পক্ষান্তরে অপবিত্র জিনিস তাদের উপর হারাম করেছেন। তিনি বলেন :
﴿ يَسۡ‍َٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمۡۖ قُلۡ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُ ﴾ [المائ‍دة: ٤]
‘‘তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কি হালাল করা হয়েছে? বলুন: সকল প্রকার ভাল পবিত্র জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।’’ [সূরা মায়েদা: ৪]
তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গুণাগুণের ব্যাপারে বলেন:
﴿يَأۡمُرُهُم بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَىٰهُمۡ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ﴾ [الاعراف: ١٥٧]
“তিনি তাদেরকে ভাল কাজের নির্দেশ দেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র জিনিস হালাল করেছেন এবং অপবিত্র জিনিস তাদের উপর হারাম করেছেন।” [সূরা আ‘রাফ : ১৫৭]
আর সকল প্রকার ধূমপান অপবিত্র, এর মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। এমনিভাবে সকল প্রকার নেশা জাতীয় জিনিস অপবিত্র, কাজেই সিগারেট পান করা, তা বিক্রি করা এবং এর ব্যবসা করা কোনো ক্রমেই জায়েয নেই, যেমন মদ। ধূমপায়ী এবং এর ব্যবসাকারীর উপর ওয়াজিব হলো তাওবা করে বিনীত হয়ে আল্লাহর নিকট ফিরে আসা এবং অতীত কর্মের উপর লজ্জিত হওয়ার সাথে সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে ফিরে না আসার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট খাঁটি তাওবা করবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করে থাকেন।
তিনি বলেন:
﴿ وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٣١ ﴾ [النور: ٣١]
“হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, হয়তো তোমরা সফলকাম হতে পারবে।” [সূরা নূর: ৩১]
অন্যত্র তিনি বলেন:
﴿ وَإِنِّي لَغَفَّارٞ لِّمَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا ثُمَّ ٱهۡتَدَىٰ ٨٢ ﴾ [طه: ٨٢]
“আমি ক্ষমাশীল সেই ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তি তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, অতঃপর হেদায়েত প্রাপ্ত হয়।” [সূরা তাহা : ৮২][5]
প্রশ্ন: তাকে এ প্রশ্নটিও করা হয়েছিল যে, হুক্কা পান করার হুকুম কি? এটি কি ধূমপানের হুকুমের মতই? ধূমপান এবং হুক্কা কি মাদকদ্রব্যের ন্যায় হারাম?
উত্তর: সকল প্রকার হুক্কা এবং ধূমপান হারামের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে বহু ক্ষতিকর দিক রয়েছে, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ উভয়টির বহু ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের উপর ক্ষতিকর জিনিস গ্রহণ করাকে হারাম করেছেন, কাজেই এগুলো গ্রহণকারীর উপর ওয়াজিব হলো: এ গুলো ত্যাগ করে তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা।
আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বলেন:
﴿ يَسۡ‍َٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمۡۖ قُلۡ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُ ﴾ [المائ‍دة: ٤]
“তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তাদের জন্য কি হালাল করা হয়েছে, আপনি বলুন: ভাল পবিত্র জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।” [সূরা মায়েদা: ৪] তাছাড়া তাঁর গুণাগুণের ব্যাপারে আল্লাহ আরো বলেন:
﴿يُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ﴾ [الاعراف: ١٥٧]
“তিনি তাদের জন্য পবিত্র জিনিস হালাল করেছেন এবং অপবিত্র জিনিস তাদের উপর হারাম করেছেন।” [সূরা আ‘রাফ : ১৫৭]
সকল প্রকার ধূমপান এবং হুক্কা মানুষের ক্ষতিকর ও অপবিত্র, কাজেই এগুলোর যাবতীয় প্রকারাভেদ উপরোল্লেখিত আয়াতদ্বয় এবং এ অর্থে আরো যা রয়েছে তা দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন সকল মুসলিমকে সঠিক পথের পথিক করেন যার মধ্যে তাদের কল্যাণ ও মুক্তি রয়েছে এবং যাবতীয় ক্ষতি থেকে যেন ইহকাল ও পরকালে তাদেরকে রক্ষা করেন, নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম দায়িত্বশীল।[6]
প্রশ্ন: এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল ফাতাওয়ার স্থায়ী কমিটিকে: প্রশ্নকারী বলেন: আমার বাবা একটি দোকানের মালিক, তিনি তাতে সিগারেট বিক্রি করেন। আমি তাকে বহু নসিহত করেছি এ ব্যাপারে, তিনি স্বীকার করেন যে ধূমপান হারাম কিন্তু সিগারেট বিক্রি করা হারাম তা স্বীকার করেন না, কাজেই অনুগ্রহ করে ধূমপানের উপকরণ বিক্রি করা সম্পর্কে আমার জন্য লিখিত একটি ফাতাওয়া পাঠানো যদি সম্ভব হয় তবে পাঠাবেন?
উত্তর: হুক্কা ও তা পান করতে যে সকল উপকরণ ব্যবহার করা হয় তা বিক্রি করা একেবারেই হারাম; কেননা তাতে রয়েছে সমূহ ক্ষতি ও বড় ধরণের ফাসাদ।[7]
প্রশ্ন/ আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন রহমাতুল্লাহ আলাইহি (সৌদী আরবের সর্বোচ্চ উলামা কমিটির সাবেক সদস্য) কে এভাবে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, মহামান্য শাইখের নিকট নিবেদন এই, ধূমপান ও হুক্কা পান করার হুকুম কি? এর দলীলসহ বিস্তারিত বর্ণনা করে বাধিত করবেন।
উত্তর : ধূমপান এবং হুক্কা পান করা হারাম।
দলীল: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمٗا ﴾ [النساء: ٢٩]
অর্থাৎ: “তোমরা তোমাদের নাফসকে হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহশীল।” [সূরা নিসা: ২৯]
তিনি আরও বলেন:
﴿ وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ ﴾ [البقرة: ١٩٥]
“তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিওনা।” [সূরা বাকারা : ১৯৫]
ডাক্তারি শাস্ত্রে রয়েছে যে, এগুলো গ্রহণ করা ক্ষতিকর, আর যদি তা ক্ষতিকর হয় তবে অবশ্যই হারাম।
দলীল: আল্লাহ বলেন:
﴿ وَلَا تُؤۡتُواْ ٱلسُّفَهَآءَ أَمۡوَٰلَكُمُ ٱلَّتِي جَعَلَ ٱللَّهُ لَكُمۡ قِيَٰمٗا ﴾ [النساء: ٥]
“আর যে সম্পদকে আল্লাহ তোমাদের জীবন যাত্রার অবলম্বন করেছেন, তা অর্বাচীনদের হাতে তুলে দিও না।” [সূরা নিসা: ৫] আমাদের সম্পদকে নির্বোধদের হাতে দিতে নিষেধ করেছেন, কেননা তারা তা অপব্যয় করে বিনাস করে ফেলবে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ধূমপান এবং হুক্কা ক্রয়ে টাকা ব্যয় করা অপব্যয় ও ধ্বংসেরই শামীল। কাজেই এ আয়াতের দলীল দ্বারাও তা নিষেধ করা হয়েছে।
হাদীসের দলীল হলো:
«نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ إِضَاعَةِ المَالِ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদ নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন।”[8] আর হুক্কা ও সিগারেট পানে তা ব্যয় করা মাল নষ্ট করার শামিল। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لا ضرر ولا ضرار»
“নিজের কোনো অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং অন্য কারো ক্ষতি করা যাবে না”। এগুলো গ্রহণ করায় ক্ষতি আবশ্যকীয় এবং তা গ্রহণ করা মানুষকে এর সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি যখন তা পানের জন্য খোঁজে না পায় তখন তার মন এবং গোটা দুনিয়া তার উপর সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, তখন সে অপ্রয়োজনীয় জিনিস তার শরীরে প্রবেশ করায়।[9]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল আল্লামা ডক্টর আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আল জিবরীনকে যে, তামাক এবং হুক্কার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি? এগুলো পান করা বা গ্রহণ করার বিধান কি? কারো প্রতিবেশী এতে আশক্ত হলে তার সাথে সে কি ভাবে লেনদেন করবে?
উত্তর: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তামাক, হুক্কা এবং শাম্মাহ (তামাক জাতীয় জিনিস নাক দিয়ে যার ঘ্রাণ নেয়া হয়) ইত্যাদি সবই হারাম, কেননা এসব কিছুই অপবিত্র।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ﴾ [الاعراف: ١٥٧]
“এবং তাদের জন্য পবিত্র জিনিস হালাল করেছেন এবং অপবিত্র জিনিস তাদের উপর হারাম করেছেন।” [সূরা আরাফ: ১৫৭] তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ইহা এমন কিছু জটিল রোগ সৃষ্টি করে যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় বা এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে থাকে। অথচ আল্লাহ বলেছেন:
﴿ وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمٗا ﴾ [النساء: ٢٩]
“তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না” [সূরা নিসা: ২৯]
তিনি আরও বলেন:
﴿ وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ ﴾ [البقرة: ١٩٥]
“তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিওনা।” [সূরা বাকারা: ১৯৫]
এবং এতে বিনা উপকারে মূল্যবান সম্পদ নষ্ট ও অপব্যয় করা হয়, আর অপব্যয়কারীগণ শয়তানের ভাই।[10]
এতে যারা আক্রান্ত তাদেরকে বলব: কালবিলম্ব না করে তাড়াতাড়ি এগুলো থেকে ফিরে এসে আল্লাহর নিকট তাওবা করুন এবং ভবিষ্যতে কখনো তা গ্রহণ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাঁর নিকট প্রার্থনা করুন এবং তা থেকে মুক্ত ও এর ব্যথা থেকে নিরাময় হওয়া পর্যন্ত কিছু দিন ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ আরোগ্য দানকারী।[11]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল ফাতাওয়ার স্থায়ী কমিটিকে: সিগারেট ও হুক্কার হুকুম কি? তা হারাম না মাকরুহ? যদি হারাম হয় তবে কুরআন ও হাদীস থেকে এর দলীল কি? অতঃপর হজ্জ এবং উমরায় মুহরিম অবস্থায় সিগারেট ও হুক্কা পান করার হুকুম কি?
উত্তর: সিগারেট ও হুক্কা পান করা হারাম, কারণ এতে ক্ষতি রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لا ضرر ولا ضرار»
নিজের কোনো অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং অন্য কারো ক্ষতি করা যাবে না) এবং তা অপবিত্র।
আল্লাহ বলেন:
﴿ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ﴾ [الاعراف: ١٥٧]
“এবং তাদের জন্য পবিত্র জিনিস হালাল করেছেন এবং অপবিত্র জিনিস তাদের উপর হারাম করেছেন।” [সূরা আরাফ:  ১৫৭।] এবং এতে টাকা ব্যয় করা অপব্যয়ের শামিল, অথচ আল্লাহ এ থেকে নিষেধ করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَلَا تُسۡرِفُوٓاْۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُسۡرِفِينَ﴾ [الانعام: ١٤١، الأعراف: 31]
“তোমরা অপব্যয় করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না।” [সূরা আন‘আম: ১৪১, আরাফ: ৩১]
শয়তান যখন মানুষকে নিয়ে খেলা করে তখন সে এগুলো পান করে থাকে ফলে সে অন্যায় করে, কাজেই তার উপর ওয়াজিব হলো তাওবা করা এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা, হয়তো আল্লাহ তার তাওবা কবুল করে ক্ষমা করতে পারেন। হজ্জ বা উমরাহ অবস্থায় যদি কেউ তা পান করে তবে তার হজ্জ এবং উমরাহ বাতিল হবে না।
হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ও তাঁর পরিবার পরিজন এবং সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম পেশ করুন।[12]
প্রশ্ন/ আমরা জীযান শহরের অদূরে একটি গ্রামের বাসিন্দা, আমাদের এলাকায় শাম্মাহ পাওয়া যায় এবং এতে বহু লোক আসক্ত, কেউ কেউ তা পান করে নামাযও পড়াচ্ছেন, দ্বীনদার লোক তাতে সন্তুষ্ট নন, কিন্তু এ শাম্মাহ কেউ ছাড়তে পারছে না অথচ চেষ্টা চলছে তা ছাড়ানোর জন্য, শত চেষ্টা সত্যেও সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ ছেড়ে দিলেও বাকী লোক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত যেমন: মুখ ও পেট ফুলে যাওয়া, দাঁত দিয়ে রক্ত ঝরা, অত্যাধিক রাগান্বিত হওয়া, কাজে অপরগতা এবং মনে অশান্তি ভাব ইত্যাদি। কাউকে কাউকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন, আবার কেউ কেউ এতে আবার ফিরে এসেছে, তবে অধিকাংশ লোক তা ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় আপনি আমাদেরকে বলবেন কি? যারা চেষ্টা করেও তা ত্যাগ করতে পারছে না তাদের দ্বীন পালনে কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি? তার নামায, রোজা এবং হজ্জ হবে কি? যারা তা ত্যাগ করতে পারছে না তাদের কাফফারার পরিমাণ কি? কারণ বহু লোক তা পরিত্যাগ করতে পারছে না এবং এর কাফফারা কি?
উত্তর: শাম্মাহ গ্রহণ করা হারাম, তা গ্রহণকারীকে অবশ্যই তা ত্যাগ করতে হবে এবং তা ত্যাগ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। সেই সাথে আল্লাহর যিকির করা এবং তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। তার নামায, রোজা এবং হজ্জ যদি সঠিক নিয়মে করে থাকে তবে সহীহ হবে, শাম্মাহ গ্রহণে এর কোনো ক্ষতি হবে না।
আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক চাচ্ছি, হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মদ এর উপর ও তাঁর পরিবার পরিজন এবং সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষন করুন।[13]
প্রশ্ন/ শাম্মাহ গ্রহণ করার হুকুম কি? বিশেষ করে রমাযানে দিনের বেলায় তা পান করার হুকুম কি? তা রোজা ভঙ্গকারী বিষয় কি? উল্লেখ্য যে, কাহতান উপত্যকার লোকজন রমাযানে দিনের বেলায় তা পান করে থাকে এবং তারা বলে যে, তাতে রোজা নষ্ট হবে না।
উত্তর: শাম্মাহ একটি অপবিত্র জিনিস, কারণ তা অপবিত্র হারাম জিনিস দ্বারা তৈরী করা হয়। তাই রোজাদার দিনের বেলায় তা গ্রহণ করলে গুনাহগার হওয়ার সাথে সাথে তার রোজাও নষ্ট হয়ে যাবে, যেমন রোজা ভঙ্গকারী যে কোনো জিনিস ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে থাকে।[14]
প্রশ্ন/ ধূমপান নাক দিয়ে টানা হারাম না হালাল?
উত্তর: ধূমপান নাক দিয়ে টানা, তা পান করা ও তা চিবানো জায়েয নেই, কারণ পান কিংবা চিবানো কিংবা নাক যেভাবেই গ্রহণ করা হোক তাতে ক্ষতি রয়েছে। আর যে জিনিসে ক্ষতির পরিমাণ বেশী হয় অথবা উপকার ও অপকার উভয়ই সমান হয় তাও হারাম।
আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক চাচ্ছি, হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মদ এর উপর ও তাঁর পরিবার পরিজন এবং সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।[15]
২. তামাক চাষ করা
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল ফাতাওয়ার স্থায়ী কমিটিকে: তামাক চাষ করা এবং চাষীগণ তামাক বিক্রির যে টাকা পয়সা জমা করেছে ইসলামে এর হুকুম কি?
উত্তর: তামাক চাষ, তা বিক্রি করা এবং ব্যবহার করা জায়েয নেই, কারণ তা বিভিন্ন দিক দিয়ে হারাম। এতে শারীরিক ক্ষতি রয়েছে, তা অপবিত্র এবং এতে কোনো উপকার নেই। কাজেই মুসলিমের উচিত হলো তা পরিত্যাগ করে এ থেকে দূরে থাকা এবং তা চাষ ও এর ব্যবসা না করা। কেননা আল্লাহ কোনো জিনিসকে হারাম করলে এর মূল্যকেও হারাম করেন।[16]
৩. তামাক দ্বারা চিকিৎসা করা
প্রশ্ন/ আমার মা’র বয়স প্রায় ৭৫ বছর, তার গলায় একটি রোগ আছে প্রায় পনের বছর যাবৎ, চিকিৎসার জন্য আরবীয় সকল ডাক্তারসহ সরকারী ডাক্তার দেখানো শেষ, কিন্তু কোনো ফল পাইনি, শুধু তামাক জাতীয় একটি জিনিস ব্যবহার ব্যতীত, তা অঙ্গুলির অগ্রভাগ দিয়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে দিলে কিছুটা ব্যথা কম হয় এবং কিছুক্ষণ ভাল থাকে। সর্বপ্রথম আল্লাহর নিকট অতঃপর আপনার নিকট আশা করে জানতে চাচ্ছি যে, তার রোজার ক্ষতি হবে কি? ক্ষতি হলে তা পূরণে কি করা উচিত?
উত্তর: প্রথমত: তামাক দ্বারা চিকিৎসা করা বা ব্যথা দূর করা আপনার মা’র জন্য জায়েয নেই; কেননা তামাক ব্যবহার করা হারাম, কারণ এতে বহু ক্ষতি রয়েছে। আর আল্লাহ কোনো হারাম জিনিসের মধ্যে এ উম্মতের কোনো চিকিৎসা রাখেন নি।
দ্বিতীয়ত: তামাকের কোনো অংশ পেটের ভিতরে গেলে সে দিনগুলোর রোজা কাযা করা ফরয, অন্যথায় কিছু লাগবে না।[17]
৪. তামাক বিক্রি করা ও তামাক কোম্পানীতে কাজ করার হুকুম কী?
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল আল্লামা শাইখ ইবনে উসাইমীন রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে: আমি কঠোর পরিশ্রমের একটি কাজ করতাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকতে পারিনি, অতঃপর হালকা একটি কাজের সন্ধান করে সিগারেট তৈরীর কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ পাইনি, আমি কয়েক মাস যাবৎ এতে কাজ করে যাচ্ছি। উল্লেখ্য যে, আমি সিগারেট বা এ জাতীয় কোনো কিছু পান করি না। প্রশ্ন হলো: আমার এ কাজের পারিশ্রমিক হালাল না হারাম? আলহামদু লিল্লাহ আমি কিন্তু মনোযোগ সহকারে আমার কাজ করে যাচ্ছি।
উত্তর: সিগারেট তৈরীর কারখানায় আপনার কাজ করা জায়েয হবে না; কারণ সিগারেট তৈরী এবং তা ক্রয় বিক্রির লেনদেন করা হারাম, আর এ কোম্পানীতে কাজ করা হারামের উপর সহযোগিতার শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ ﴾ [المائ‍دة: ٢]
“তোমরা পরস্পরে ভাল এবং তাকওয়াপূর্ণ কাজে সহযোগিতা কর পক্ষান্তরে পাপ এবং আল্লাহদ্রোহী কাজে সহযোগিতা করো না।” [সূরা মায়েদা: ২] কাজেই এ কোম্পানীতে আপনার কাজ চালিয়ে যাওয়া হারাম এবং আপনার পারিশ্রমিকও হারাম। আপনার উচিত হলো এ কোম্পানীর কাজ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করা। হালাল কর্ম করে হালাল কম উপার্জন করা হারাম অধিক উপার্জনের চেয়ে উত্তম। কেননা কোনো ব্যক্তি যখন হারাম উপার্জন করে আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন না, তা সদকা করে দিলে আল্লাহ তা কবুল করেন না আর তা ছেড়ে গেলে সেটা তার জন্য গোনাহের কাজ হবে যদিও ওয়ারিসদের জন্য প্রাপ্ত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। জেনে রাখুন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্রকেই গ্রহণ করেন এবং আল্লাহ মুমিনগণকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন; যে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাসূলগণকে’। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُواْ مِنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَٱعۡمَلُواْ صَٰلِحًاۖ إِنِّي بِمَا تَعۡمَلُونَ عَلِيمٞ ٥١﴾ [المؤمنون: ٥١]
“হে রাসূলগণ! আপনারা ভাল পবিত্র জিনিস ভক্ষণ করুন এবং সৎকর্ম সম্পাদন করুন, নিশ্চয়ই আমি আপনাদের কর্ম সম্পর্কে অবগত আছি।” [সূরা মুমিনূন: ৫১]। তিনি আরও বলেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱ