পরীক্ষায় নকল করার হুকুম বা বিধান কি?


প্রশ্ন: পরীক্ষায় নকল করার হুকুম (বিধান)
কী?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক
আল্লাহর জন্য; আর সালাত ও সালাম
আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের উপর; আর সালাম (শান্তি)
বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল
সঙ্গী-সাথীর উপর।
পরীক্ষায় নকল করাটা এক ধরনের প্রতারণা;
আর প্রতারণার বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং তার
বিধানও স্পষ্ট; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“যে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”
– (তিরমিযী, হাদিস নং- ১৩১৫); অতঃপর
পরীক্ষায় নকল (প্রতারণা) করা অত্যন্ত
বিপজ্জনক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; কারণ, তার
ক্ষতির দিকটি সম্পদের ক্ষতি বা ঝুঁকির মত
নয়, যার কারণে হাদিস বর্ণিত হয়েছে; বরং
তার ভয়াবহতা আরও প্রকট, কেননা
-তা হচ্ছে গোটা জাতির সাথে
বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা; কারণ, যে
ছাত্র নকল করে পাশ করেছে, তার মানে হল:
সে যে সার্টিফিকেট (সনদ) অর্জন করেছে,
তার মান অনুযায়ী সে একটি বড় ধরণের বলয়
তৈরি করবে, অথচ বাস্তবে সে তার উপযুক্ত
নয়; আর তখন এই বৃত্ত বা বলয়ের মধ্যে তার
অবস্থান এমন হবে, যেই অবস্থানটি এই
সার্টিফিকেট অর্জন করা ব্যতীত কোনো
ব্যক্তির পক্ষে দখল করা সম্ভব নয়, ফলে
সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হল;
-এই নকল প্রবণতার আরও একটি ক্ষতিকর দিক
আছে, আর তা হল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক
দৃষ্টিকোণ থেকে; কারণ, যখন জাতির
শিক্ষিত সমাজ পরীক্ষায় নকল বা প্রতারণার
আশ্রয় নিয়ে পাশ করে বের হয়ে আসবে, তখন
তাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অবস্থান হবে
নড়বড়ে, শিক্ষা বিমুখ;
-অতঃপর (শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে) অন্যের উপর
তাদের অবস্থান হবে রিক্তহস্ত; কারণ, এটা
জানা কথা যে, যে ব্যক্তি পরীক্ষায় নকল
করে পাশ করে, তার পক্ষে শিক্ষা দানের
সময় ছাত্রদের প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব
হয়ে উঠে না;
সুতরাং রাষ্ট্রের সাথে এই ধরনের প্রতারণা
করা থেকে বিরত থাক, যা তুমি নিজেও
কখনও পছন্দ করবে না; অতএব পরিদর্শক,
পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে
এই নকল প্রবণতা প্রতিরোধে নিরন্তর
সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে; কারণ, কোনো
একজন যদি প্রতারণা করে, তবে সেই প্রতারক
রাষ্ট্র বা সরকারের লক্ষ্যমাত্রা বিনষ্ট
করবে এবং তার (রাষ্ট্রের) সাথে
বিশ্বাসঘাতকতা করবে; অথচ আল্লাহ
তা‘আলা বলেন:
“হে ঈমানদারগণ! জেনে-বুঝে আল্লাহ ও তাঁর
রাসূলের খেয়ানত করো না এবং তোমাদের
পরস্পরের আমানতেরও খেয়ানত করো না; আর
জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-
সন্ততি তো এক পরীক্ষা। আর নিশ্চয় আল্লাহ,
তাঁরই কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার। – (সূরা
আল-আনাফাল: ২৭ ও ২৮)।
আর এই ব্যাপারে কোন এক বিষয় থেকে অপর
কোন বিষয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই;
সুতরাং উদাহরণস্বরূপ তাফসীর বিষয় ও
ইংরেজি ভাষা বিষয়ে আমাদের নকল করার
মধ্যে বিধানগত কোন পার্থক্য নেই; কারণ,
এক স্তর থেকে অন্য স্তরে ছাত্রের অগ্রগতি
হওয়ার বিষয়টি বিন্যস্ত হয় সকল বিষয়ের উপর
এবং তার উপরই নির্ভর করে ছাত্রকে
সার্টিফিকেটের মত প্রমাণপত্র দেয়ার
বিষয়টি; সুতরাং সবই প্রতারণা, আর সবই
হারাম।
আর আমি যুবকদেরকে তাদের এই পর্যায়ের
অধঃপতন হওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ
করছি এবং তাদেরকে আহ্বান করছি, তারা
যাতে যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে মর্যাদা
লাভের ব্যাপারে প্রচণ্ড আগ্রহী হয়; ফলে
এটা তাদের দীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে তাদের
জন্য মঙ্গলজনক হবে।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
ফতোয়া ইসলামীয়া ( ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺇﺳﻼﻣﻴﺔ ): ৪ / ৩৩১