যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে থাকে!! পার্ট – দুই।


৮৩১. সুদ খাওয়া
আল্লাহ তা‘আলা সূদখোর ব্যতীত আর কারো
বিরুদ্ধে স্বয়ং যুদ্ধের ঘোষণা দেননি। তিনি বলেন,
﴿ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍْ ﻣَﺎ ﺑَﻘِﻲَ ﻣِﻦَ ﭐﻟﺮِّﺑَﻮٰٓﺍْ
ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُّﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ٢٧٨ ﻓَﺈِﻥ ﻟَّﻢۡ ﺗَﻔۡﻌَﻠُﻮﺍْ ﻓَﺄۡﺫَﻧُﻮﺍْ ﺑِﺤَﺮۡﺏٖ ﻣِّﻦَ
ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِۦۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗُﺒۡﺘُﻢۡ ﻓَﻠَﻜُﻢۡ ﺭُﺀُﻭﺱُ ﺃَﻣۡﻮَٰﻟِﻜُﻢۡ ﻟَﺎ ﺗَﻈۡﻠِﻤُﻮﻥَ
ﻭَﻟَﺎ ﺗُﻈۡﻠَﻤُﻮﻥَ ٢٧٩﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٧٨، ٢٧٩ ‏]
“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর তাকাওয়া
অবলম্বন কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা
পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যদি
তোমরা তা না কর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শোন” [সূরা আল-
বাকারা, আয়াত: ২৭৮-২৭৯]
আল্লাহর নিকট সূদ খাওয়া যে কত মারাত্মক অপরাধ তা
অনুধাবনের জন্য উক্ত আয়াতদ্বয়ই যথেষ্ট।
সূদবৃত্তি দারিদ্র্য, মন্দা ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা,
অর্থনৈতিক স্থবিরতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, বহু কোম্পানী
ও প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়াত্ব ইত্যাদির ন্যায় কত যে
জঘন্য ক্ষতি ও ধ্বংসের দিকে ব্যক্তি, সমাজ ও
রাষ্ট্রকে ঠেলে দিচ্ছে তা পর্যবেক্ষক মাত্রই
অনুধাবন করতে সক্ষম। প্রতিদিনের ঘাম ঝরানো
শ্রমের বিনিময়ে যা অর্জিত হয়, সূদের অতলগহ্বর
পূরণেই তা নিঃশেষ হয়ে যায়। সূদের ফলে সমাজে
একটি বিশেষ শ্রেণির উদ্ভব হয়। মুষ্টিমেয় কিছু
লোকের হাতে ব্যাপক সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়ে
পড়ে। সম্ভবতঃ এসব কারণেই আল্লাহ তা‘আলা
সূদীকারবারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
করেছেন।
সূদী কারবারে মূল দু’পক্ষ, মধ্যস্থতাকারী,
সহযোগিতাকারী ইত্যাকার যারাই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট,
তারা সবাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
যবানীতে অভিশপ্ত। জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,
‏« ﻟَﻌَﻦَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺁﻛِﻞَ ﺍﻟﺮِّﺑَﺎ،
ﻭَﻣُﻮﻛِﻠَﻪ ،ُ ﻭَﺷَﺎﻫِﺪَﻳْﻪِ، ﻭَﻛَﺎﺗِﺒَﻪُ، ﻭﻗﺎﻝ : ﻫﻢ ﺳﻮﺍﺀ‏»
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূদ গ্রহীতা,
সূদ দাতা, সূদের লেখক এবং তার সাক্ষীদ্বয়কে
অভিসম্পাত করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা সবাই
সমান অপরাধী’’।[72]
এ কারণেই সূদ লিপিবদ্ধ করা, এর আদান-প্রদানে
সহায়তা করা, সূদী দ্রব্য গচ্ছিত রাখা ও এর
পাহারাদারীর কাজে নিযুক্ত হওয়া জায়েয নেই।
মোটকথা, সূদের সূদের কাজে অংশগ্রহণ ও যে
কোনোভাবে এর সাহায্য-সহযোগিতা করা হারাম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মহাঅপরাধের
কদর্যতা ফুটিয়ে তুলতে বড়ই আগ্রহী ছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে
বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺍﻟﺮِّﺑَﺎ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔٌ ﻭَﺳَﺒْﻌُﻮﻥَ ﺑَﺎﺑًﺎ، ﺃَﻳْﺴَﺮُﻫَﺎ ﻣِﺜْﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻜِﺢَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ
ﺃُﻣَّﻪ ،ُ ﻭَﺇِﻥَّ ﺃَﺭْﺑَﻰ ﺍﻟﺮِّﺑَﺎ ﻋِﺮْﺽُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ‏»
“সূদের ৭৩টি দ্বার বা স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে
সহজতর স্তর হলো, নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচারের
সমতুল্য। আর সবচেয়ে কঠিনতম স্তর হলো,
মুসলিম ব্যক্তির মানহানি”। [73]
আব্দুল্লাহ ইবন হানযালা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে
বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺩﺭﻫﻢ ﺭﺑﺎ ﻳﺄﻛﻠﻪ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﻫﻮ ﻳﻌﻠﻢ ﺃﺷﺪ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺳﺘﺔ
ﻭﺛﻼﺛﻴﻦ ﺯﻧﻴﺔ ‏»
“জেনেশুনে কোনো লোকের সূদের এক
টাকা ভক্ষণ করা ৩৬ বার ব্যভিচার করা থেকেও কঠিন”।
[74]
সূদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সর্বদা হারাম।
সবাইকে তা পরিহার করতে হবে। কত ধনিক-বণিক যে
এ সূদের কারণে দেউলিয়া হয়ে গেছে তার
কোনো ইয়ত্তা নেই। সূদের সর্বনিম্ন ক্ষতি
হলো, মালের বরকত উঠে যাবে, পরিমাণে তা যতই
স্ফীত হউক না কেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﺍﻟﺮِّﺑَﺎ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺜُﺮَ ﻓَﺈِﻥَّ ﻋَﺎﻗِﺒَﺘَﻪُ ﺗَﺼِﻴﺮُ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﻞّ ‏»
“সূদের দ্বারা সম্পদ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন তার
শেষ পরিণতি হলো নিঃস্বতা”। [75]
সূদের হার কমই হোক আর চড়াই হোক সবই হারাম।
যেমন করে শয়তান দুনিয়াতে তার স্পর্শে কাউকে
পাগল করে দেয়, তেমনি সূদখোর পাগল হয়ে
হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে [সূরা আল-বাকারা,
আয়াত: ২৭৫] যদিও সূদের লেনদেন গুরুতর অন্যায়
তবুও মহান রাব্বুল আলামীন দয়াপরবশ হয়ে বান্দাকে
তা থেকে তওবার উপায় বলে দিয়েছেন। তিনি
বলেন,
﴿ﻭَﺇِﻥ ﺗُﺒۡﺘُﻢۡ ﻓَﻠَﻜُﻢۡ ﺭُﺀُﻭﺱُ ﺃَﻣۡﻮَٰﻟِﻜُﻢۡ ﻟَﺎ ﺗَﻈۡﻠِﻤُﻮﻥَ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﻈۡﻠَﻤُﻮﻥَ
٢٧٩﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٧٩ ‏]
“যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা তোমাদের
মূলধন ফিরে পাবে। তোমরা না অত্যাচার করবে,
আর না অত্যাচারিত হবে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৯]
মুমিনের অন্তরে সূদের প্রতি ঘৃণা এবং তার খারাপ
দিকগুলো সম্পর্কে তীব্র অনুভূতি থাকা একান্ত
আবশ্যক। এমনকি যারা টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সম্পদ চুরি
হয়ে যাওয়া কিংবা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সূদী
ব্যাংকে জমা রাখে, তাদের মধ্যেও নিতান্ত দায়েপড়া
ব্যক্তির ন্যায় অনুভূতি থাকতে হবে, যেন তারা মৃত
জীব ভক্ষণ কিংবা তার থেকেও কঠিন পরিস্থিতির
সম্মুখীন হয়েছে। তাই তারা সব সময় আল্লাহর নিকট
ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং সূদী ব্যাংকের বিকল্প
সূদহীন ভালো কোনো উপায় অবলম্বনের
চেষ্টা করবে। তাদের আমানতের বিপরীতে
সূদী ব্যাংকের নিকট সূদ দাবী করা জায়েয নেই।
বরং যে কোনো উপায়ে তার থেকে নিষ্কৃতি
লাভের চেষ্টা করবে, তা (ছওয়াবের নিয়তে] দান
করবে না। কেননা আল্লাহ পবিত্র। পবিত্র বস্তু ছাড়া
তিনি দানের স্বীকৃতি দেন না। নিজের কোনো
কাজে সূদের অর্থ ব্যয় করা যাবে না। না পানাহারে, না
পরিধেয়ে, না সওয়ারীতে, না বাড়ী-ঘর তৈরীতে,
না পুত্র-পরিজন, স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতার ভরণ-
পোষণে, না যাকাত আদায়ে, না ট্যাক্স পরিশোধে,
না নিজের ওপর অন্যায়ভাবে আরোপিত অর্থ
পরিশোধে। সূদের অর্থ কেবল আল্লাহর শাস্তির
ভয়ে দায় মুক্তির জন্য এমনিতেই কাউকে দিয়ে
দিতে হবে।
৩২. বিক্রিত পণ্যের দোষ গোপন করা
একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বাজারের মধ্যে এক খাদ্যস্তূপের পাশ দিয়ে
যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলে
আঙ্গুলে আর্দ্রতা ধরা পড়ল। তিনি বিক্রেতাকে
বললেন, ‘হে খাদ্য বিক্রেতা! ব্যাপার কি? সে বলল,
‘হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে’। তিনি বললেন,
‏« ﺃَﻓَﻠَﺎ ﺟَﻌَﻠْﺘَﻪُ ﻓَﻮْﻕَ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ ﻛَﻲْ ﻳَﺮَﺍﻩُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ، ﻣَﻦْ ﻏَﺶَّ
ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻣِﻨِّﻲ ‏»
“তুমি এগুলো স্তূপের উপরিভাগে রাখলে না কেন?
তাহলে লোকে দেখতে পেত। মনে
রেখো যে প্রতারণা করে, সে আমাদের
অন্তর্ভুক্ত নয়”। [76]
আজকাল আল্লাহর প্রতি ভয়ভীতি শূণ্য অনেক
বিক্রেতাই ভালো পণ্যের সঙ্গে ত্রুটিযুক্ত কিংবা
নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে বিক্রয় করে থাকে। কেউ
কেউ ত্রুটিযুক্ত পণ্যগুলোতে আঠা লাগিয়ে
ঢেকে দেয়, কেউ কেউ গাইট কিংবা
কন্টেইনারের নিচে রাখে। অনেকে রাসায়নিক
দ্রব্য ব্যবহার করে নিম্নমানের দ্রব্যকে
বাহ্যদৃষ্টিতে উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় করে
তোলে। কেউ কেউ গাড়ীর ইঞ্জীনের
শব্দ গোপন করে বিক্রি করে পরে যখন সেটা
নিয়ে যায় তখন তা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। আবার কেউ
কেউ পণ্য ব্যবহারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে
যাওয়ার পর তা পরিবর্তন করে নতুন মেয়াদকালের
ছাপ মেরে দেয়। কোনো কোনো বিক্রেতা
ক্রেতাকে পণ্য নিরীক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করতে
দেয় না। মোটরগাড়ী, মেশিনারী যন্ত্রপাতি
বিক্রেতাদেরও অনেকে রয়েছে, যারা
ক্রেতাদের সামনে সেগুলোর ত্রুটি ও অসুবিধা
তুলে ধরে না।
উল্লিখিত পদ্ধতির সকল কেনা-বেচাই হারাম। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢُ ﺃَﺧُﻮ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢ ،ِ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﻟِﻤُﺴْﻠِﻢٍ ﺑَﺎﻉَ ﻣِﻦْ ﺃَﺧِﻴﻪِ ﺑَﻴْﻌًﺎ
ﻓِﻴﻪِ ﻋَﻴْﺐٌ ﺇِﻟَّﺎ ﺑَﻴَّﻨَﻪُ ﻟَﻪُ ‏»
“এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। একজন মুসলিমের
জন্য তার ভাইয়ের নিকট কোনো ত্রুটিপূর্ণ পণ্য
বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করা পর্যন্ত
তা বিক্রয় করা বৈধ নয়”। [77]
অনেকে প্রকাশ্য নিলামে দ্রব্য বিক্রয়কালে ‘এটা
অমুক জিনিস’ এটা অমুক জিনিস’ এতটুকু বলেই অব্যাহতি
পেতে চায়! দৃষ্টান্তস্বরূপ লোহার রড বিক্রেতা
বলে ‘এটা লোহার গাদা’….‘এটা লোহার গাদা’ ইত্যাদি।
কিন্তু গাদার মধ্যে যে ত্রুটি আছে তা বলে না। তার
এ বিক্রয় বরকতশূণ্য হয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺍﻟﺒَﻴِّﻌَﺎﻥِ ﺑِﺎﻟﺨِﻴَﺎﺭِ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﺘَﻔَﺮَّﻗَﺎ، – ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺘَﻔَﺮَّﻗَﺎ
ﻓَﺈِﻥْ ﺻَﺪَﻗَﺎ ﻭَﺑَﻴَّﻨَﺎ ﺑُﻮﺭِﻙَ ﻟَﻬُﻤَﺎ ﻓِﻲ ﺑَﻴْﻌِﻬِﻤَﺎ، ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺘَﻤَﺎ ﻭَﻛَﺬَﺑَﺎ
ﻣُﺤِﻘَﺖْ ﺑَﺮَﻛَﺔُ ﺑَﻴْﻌِﻬِﻤَﺎ ‏»
“দৈহিকভাবে পৃথক হওয়া কিংবা বিক্রয় প্রস্তাবও গ্রহণে
মতান্তর না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা ও বিক্রেতা
উভয়েরই বিক্রয় কর্যকর করার কিংবা বাতিল করার
অধিকার থাকে। যদি তারা সত্য বলে ও দোষ-ত্রুটি
বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত
হয়। আর যদি দু’জনে মিথ্যা বলে ও পণ্য বা মুদ্রার
দোষ গোপন করে, তবে তাদের কেনা-বেচার
বরকত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়”। [78]
৩৩. দালালী করা
এমন অনেক লোক আছে যাদের পণ্য কেনার
মোটেও ইচ্ছা নেই। কিন্তু অন্য লোকে যাতে
ঐ পণ্য বেশি দামে কিনতে উদ্বুদ্ধ হয় সেজন্য
পণ্যের পাশে ঘুরাঘুরি করে ও বাড়িয়ে বাড়িয়ে দাম
বলতে থাকে। এটাই প্রতারণামূলক দালালী।
রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻻَ ﺗَﻨَﺎﺟَﺸُﻮﺍ‏»
“ক্রেতার ভান করে তোমরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে
দিও না”। [79]
এটা নিঃসন্দেহে এক শ্রেণির প্রতারণা। রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
‏« ﺍﻟْﻤَﻜْﺮُ ﻭَﺍﻟْﺨَﺪِﻳﻌَﺔُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ‏»
‘চালবাজী ও ধোঁকাবাজী জাহান্নামে নিয়ে যায়”।
[80]
পশু বিক্রয়, নিলামে বিক্রয় ও গাড়ী প্রদর্শনীতে
অনেক দালালকে দেখতে পাওয়া যায় যাদের আয়-
রোযগার সবই হারাম। কেননা এ উপার্জনের সাথে
নানা রকম অবৈধ উপায় জড়িয়ে আছে। যেমন,
প্রতারণামূলক দাম বৃদ্ধি বা মিথ্যা দালালী, ক্রেতার
সাথে প্রতারণা, বিক্রেতাকে ধোঁকায় ফেলে
পথিমধ্যেই তার পণ্য অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে খরিদ
করা ইত্যাদি।
আর যদি পণ্যটি তার বা তাদের কারও হয়, তখন ঠিক
উল্টোটি তারা করে থাকে, বিক্রেতারা একে
অপরের জন্য দালাল সাজে কিংবা দালাল নিয়োগ
করে। তার ক্রেতার বেশে খরিদ্দারদের মধ্যে
ঢুকে পড়ে এবং পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়িয়ে
দেয়। এভাবে তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে ধোঁকা
দেয় ও তাদেরকে কষ্টের মধ্যে নিক্ষেপ
করে।
৩৪. জুমু‘আর সালাতের আযানের পরে কেনা-
বেচা করা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮٓﺍْ ﺇِﺫَﺍ ﻧُﻮﺩِﻱَ ﻟِﻠﺼَّﻠَﻮٰﺓِ ﻣِﻦ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟۡﺠُﻤُﻌَﺔِ
ﻓَﭑﺳۡﻌَﻮۡﺍْ ﺇِﻟَﻰٰ ﺫِﻛۡﺮِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍْ ﭐﻟۡﺒَﻴۡﻊَۚ ﺫَٰﻟِﻜُﻢۡ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻟَّﻜُﻢۡ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢۡ
ﺗَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ ٩﴾ ‏[ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ : ٩‏]
“হে ঈমানদারগণ! জুমু‘আ দিবসে যখন সালাতের জন্য
আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের
দিকে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটা
তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জ্ঞান
রাখ”। [সূরা আল-জুমু‘আ, আয়াত ৯]
অত্র আয়াতদৃষ্টে আলিমগণ আযান থেকে শুরু
করে ফরয সালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনা বেচা
ও অন্যান্য সকল কাজকর্ম হারাম বলে উল্লেখ
করেছেন। অনেক দোকানদারকে দেখা যায় তারা
আযানের সময়ও নিজেদের দোকানে কিংবা
মসজিদের সামনে কেনা বেচা চালিয়ে যেতে
থাকে। যারা এ সময় কেনা-কাটায় অংশ নেয়, তারাও
তাদের সাথে পাপে শরীক হয়। এমনকি তুচ্ছ একটি
মিসওয়াক কেনা-বেচা করলেও ক্রেতা-বিক্রেতা
উভয়ই তাতে গোনাহগার হবে। আলেমগণের
জোরালো মতানুসারে এ সময়ের কেনা-বেচা
বাতিল বলে গণ্য হবে। অনেক হোটেল,
বেকারী, ফ্যাক্টরী, কলকারখানা ইত্যাদির
লোকেরা জুমু‘আর সালাতের সময় তাদের
শ্রমিকদের কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করে। তাতে
বাহ্যত: তাদের কিছু লাভ দেখা গেলেও প্রকৃত
প্রস্তাবে ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে
শ্রমিকদের রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-
এর নিম্নোক্ত উক্তি মোতাবেক আমল করা
কর্তব্য-
‏« ﻻَ ﻃَﺎﻋَﺔَ ﻟِﺒَﺸَﺮٍ ﻓِﻲ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺔِ ﺍﻟﻠّﻪ‏»
“আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো মানুষের আনুগত্য
করা যাবে না”। [81]
৩৫. জুয়া
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮٓﺍْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﭐﻟۡﺨَﻤۡﺮُ ﻭَﭐﻟۡﻤَﻴۡﺴِﺮُ ﻭَﭐﻟۡﺄَﻧﺼَﺎﺏُ
ﻭَﭐﻟۡﺄَﺯۡﻟَٰﻢُ ﺭِﺟۡﺲٞ ﻣِّﻦۡ ﻋَﻤَﻞِ ﭐﻟﺸَّﻴۡﻄَٰﻦِ ﻓَﭑﺟۡﺘَﻨِﺒُﻮﻩُ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗُﻔۡﻠِﺤُﻮﻥَ
٩٠﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٩٠‏]
“নিশ্চয় মদ, জুয়া, বেদী, ভাগ্য নির্ণয়ক তীর
অপবিত্র শয়তানী কাজ। সুতরাং তোমরা তা থেকে
বিরত থাক। তাতে তোমরা সফলকাম হবে”। [সূরা আল-
মায়েদাহ, আয়াত: ৯০]
জাহেলী যুগের লোকেরা জুয়া খেলায় ভীষণ
অভ্যস্ত ছিল। জুয়ার যে পদ্ধতি তাদের মধ্যে
প্রসিদ্ধ ছিল তা হল, তারা দশ জনে সমান অংক দিয়ে
একটা উট ক্রয় করত, সেই উটের গোশত ভাগ-
বাঁটোয়ারার জন্য জুয়ার তীর ব্যবহার করা হতো।
এটা এক প্রকার লটারী। ১০টি তীরের ৭টিতে কম-
বেশী করে বিভিন্ন অংশ লেখা থাকত এবং অন্য সাত
জন তাদের প্রচলিত নিয়মে কম-বেশি অংশ পেত।
এভাবে তারা দশ জনের টাকায় কেনা উট সাত জনে
ভাগ করে নিত।
বর্তমানে জুয়ার নানা পদ্ধতি বের হয়েছে।
তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:
লটারী: লটারী খুবই প্রসিদ্ধ জুয়া। লটারী নানা রকম
আছে। তন্মধ্যে ব্যাপকতর হচ্ছে, নির্দিষ্ট
অংকের টাকা কিংবা দ্রব্য পুরস্করের নামে প্রদানের
বিনিময়ে নির্দিষ্ট নম্বরের কুপন ক্রয়-বিক্রয়।
নির্দিষ্ট তারিখে বিক্রিত কুপনগুলোর ড্র অনুষ্ঠিত
হয়। প্রথম যে নম্বরের কুপনটি ওঠে সে প্রথম
পুরস্কার পায়। এভাবে ক্রমানুযায়ী উদ্দিষ্ট সংখ্যক
পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারের অংকগুলোতে
প্রায়শ তারতম্য থাকে। এ লটারী হারাম, যদিও
আয়োজকরা একে ‘কল্যাণকর’ মনে করে।
পণ্যের মধ্যে অজ্ঞাত সংকেত: কোনো
কোনো পণ্যের মধ্যে অজ্ঞাত নম্বর কিংবা
সংকেত দেওয়া থাকে। ক্রেতারা ঐসব পণ্য
খরিদের পর সেই বস্তু বা নম্বরের লটারী করে
থাকে। অনেক সময় কোনো কোনো উৎপাদক
কোম্পানী তাদের উৎপাদিত পণ্যের বহুল
প্রসারের জন্য হাজার হাজার পণ্যের কোনো
একটিতে পুরস্কারের সংকেত রেখে দেয়।
সেই সংকেতটি পাওয়ার আশায় বহু মানুষ তা কেনায়
মেতে উঠে। পরে দেখা যায় দু’একজনের বেশি
কেউ পায় না। এরূপ বিক্রয়ে ক্রেতারা প্রতারিত হয়
এবং সেই সাথে প্রতিযোগী
কোম্পানীসমূহের ব্যবসায়ে ক্ষতি করা হয়।
বীমা: বর্তমানে বাজারে নানারকম বীমা বা
ইনস্যুরেন্স চালু আছে। যেমন, জীবন বীমা,
যানবাহন বীমা, পণ্য বীমা, অগ্নি বীমা ইত্যাদি।
এমনকি অনেক গায়ক তাদের কণ্ঠস্বর পর্যন্ত
বীমা করে থাকে। নানান ঝুঁকি হতে নিরাপত্তা জন্য এ
ব্যবসা এখন জমজমাটভাবে চলছে।
উল্লিখিত জুয়া ছাড়াও যত প্রকার জুয়া আছে সবই
কুরআনে বর্ণিত ‘মাইসির’-এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
বর্তমানে জুয়ার মত বড় গুনাহের জন্য বিশেষভাবে
অনেক আসর বসে, যা কোথাও ‘হাউজি’ কোথাও
‘সবুজ টেবিল’ নামে পরিচিত। অনুরূপভাবে ঘোড়-দৌড়,
ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধূলার প্রতিযোগিতায় যে
বাজী ধরা হয় তাও জুয়ার অন্তর্গত। আবার খেলাধূলার
এমন অনেক দোকান ও বিনোদন কেন্দ্র আছে
যেখানে জুয়ার চিন্তাধারায় গড়ে উঠে নানারকম
খেলনা সামগ্রী রয়েছে। যেমন, ফ্লাস, পাশা
ইত্যাদি।
আর মানুষ যেসব প্রতিযোগিতা করে থাকে তাতেও
কিছু জুয়া রয়েছে। যেমন সেসব প্রতিযোগিতা
যেখানে পুরষ্কার প্রতিযোগীদের কোনো
এক বা একাধিক পক্ষ থেকে প্রদান করতে হয়।
আলেমগণ সেটা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
[82]
৩৬. চুরি করা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻭَﭐﻟﺴَّﺎﺭِﻕُ ﻭَﭐﻟﺴَّﺎﺭِﻗَﺔُ ﻓَﭑﻗۡﻄَﻌُﻮٓﺍْ ﺃَﻳۡﺪِﻳَﻬُﻤَﺎ ﺟَﺰَﺍٓﺀَۢ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺴَﺒَﺎ
ﻧَﻜَٰﻠٗﺎ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻠَّﻪِۗ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰِﻳﺰٌ ﺣَﻜِﻴﻢٞ ٣٨﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٣٨‏]
“পুরুষ ও নারী চোর চুরি করলে তোমরা তাদের
উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তাদের কৃতকর্মের
ফল এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত আদর্শদণ্ড। আল্লাহ
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত:
৩৮]
চুরির মধ্যে মহাচুরি হলো, হজ ও ওমরার
উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফে
আগমনকারীদের দ্রব্যাদি চুরি করা। পৃথিবীর
সর্বোত্তম স্থানে চুরি করা আল্লাহর বিধানের প্রতি
চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শণ। এতে আল্লাহর
বিধানকে থোড়াই কেয়ার করা হয়। এজন্য মহানবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাতের
ঘটনায় বলেছিলেন,
‏« ﻟَﻘَﺪْ ﺟِﻲﺀَ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻭَﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺣِﻴﻦَ ﺭَﺃَﻳْﺘُﻤُﻮﻧِﻲ ﺗَﺄَﺧَّﺮْﺕُ، ﻣَﺨَﺎﻓَﺔَ
ﺃَﻥْ ﻳُﺼِﻴﺒَﻨِﻲ ﻣِﻦْ ﻟَﻔْﺤِﻬَﺎ، ﻭَﺣَﺘَّﻰ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺻَﺎﺣِﺐَ
ﺍﻟْﻤِﺤْﺠَﻦِ ﻳَﺠُﺮُّ ﻗُﺼْﺒَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺴْﺮِﻕُ ﺍﻟْﺤَﺎﺝَّ
ﺑِﻤِﺤْﺠَﻨِﻪِ، ﻓَﺈِﻥْ ﻓُﻄِﻦَ ﻟَﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﺑِﻤِﺤْﺠَﻨِﻲ، ﻭَﺇِﻥْ
ﻏُﻔِﻞَ ﻋَﻨْﻪُ ﺫَﻫَﺐَ ﺑِﻪِ ‏»
“আমার সামনে জাহান্নামকে হাযির করা হয়। এটা সেই
সময়ে হয়েছিল যখন তোমরা আমাকে পিছু হটতে
দেখছিলে, আমি সেটার লেলিহান শিখায় আক্রান্ত
হওয়ার ভয়ে পিছিয়ে আসছিলাম। এমনি সময় আমি
সেটার মধ্যে একজন বাঁকা মাথা বিশিষ্ট লাঠিওয়ালাকে
দেখতে পেলাম, যে আগুনের মধ্যে তার পেট
ধরে টানছে। সে বাঁকা মাথাবিশিষ্ট লাঠি দিয়ে
হাজীদের জিনিসপত্র চুরি করত। ধরা পড়লে বলত,
আমার লাঠির সাথে চলে এসেছিল বলে এমন
হয়েছে। আর না ধরা পড়লে তা নিয়ে কেটে
পড়ত”। [83]
সরকারী সম্পদ চুরি করাও বড় আকারের চুরির
অন্তর্ভুক্ত। কিছু লোক এ জাতীয় চুরিতে
অভ্যস্ত। তারা বলে থাকে, অন্যরা চুরি করে তাই
আমরাও করি। অথচ তারা জানে না, এতে সকল মুসলিম
বা জনগণের সম্পদ চুরি করা হচ্ছে। আর যারা
আল্লাহকে ভয় করে না তাদের কাজ কোনো
দলীল হতে পারে না; তাদের অনুকরণও করা যাবে
না।
কেউ কেউ কাফিরদের সম্পদ এ যুক্তিতে চুরি
করে যে, লোকটা কাফির, তার সম্পদ মুসলিমের
জন্য মুবাহ, অথচ তাদের ধারণা ভ্রান্তিপূর্ণ। কেননা
যে সকল কাফির মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত
কেবল তাদের সম্পদ মুসলিমদের জন্য বৈধ।
কাফিরদের সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এর অন্তর্ভুক্ত
নয়।
অন্য লোকের পকেট থেকে কিছু তুলে
নেওয়া বা পকেটমারাও চুরি। অনেকেই কারো
সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়ীতে যায় এবং চুরি
করে আসে। অনেকে মেহমানদের ব্যাগ
হাতড়িয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। আবার অনেক
চোর বিপণীবিতানগুলোতে প্রবেশ করে
পকেট কিংবা থলিতে দু’একটা দ্রব্য তুলে নেয়।
অনেক মহিলা আছে, যারা তাদের পরিধেয়ের
মধ্যে অনেক কিছুই লুকিয়ে নিয়ে যায়। কেউ
কেউ সামান্য কিংবা সস্তা কোনো কিছু চুরি করাকে
অপরাধ মনে করেন না। অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻟَﻌَﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺴَّﺎﺭِﻕَ، ﻳَﺴْﺮِﻕُ ﺍﻟﺒَﻴْﻀَﺔَ ﻓَﺘُﻘْﻄَﻊُ ﻳَﺪُﻩُ، ﻭَﻳَﺴْﺮِﻕُ
ﺍﻟﺤَﺒْﻞَ ﻓَﺘُﻘْﻄَﻊُ ﻳَﺪُﻩُ ‏»
“সে চোরের ওপর আল্লাহর লা‘নত, যে একটি ডিম
চুরি করার ফলে তার হাত কাটা হয় এবং যে এক গাছি রশি
চুরি করার ফলে তার হাত কাটা যায়”। [84]
যে যাই চুরি করুক না কেন আল্লাহর নিকটে তওবা
করার সাথে সাথে তাকে ঐ চুরির দ্রব্য মালিকের
নিকটে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। চাই প্রকাশ্যে হউক
কিংবা গোপনে হউক, সরাসরি হউক কিংবা কারো
মাধ্যমে হউক। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও যদি
মালিক কিংবা তার ওয়ারিসদের খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে
চুরির মাল মালিকের নামে দান করে দিতে হবে।
৩৭. ঘুষ আদান-প্রদান
কারো হক বিনষ্ট করা কিংবা কোনো অন্যায়কে
কার্যকর করার জন্য বিচারক কিংবা শাসককে ঘুষ দেওয়া
মারাত্মক অপরাধ। কেননা ঘুষের ফলে বিচারক
প্রভাবিত হয়, হকদারের প্রতি অবিচার করা হয়, বিচার ও
প্রশাসন ব্যবস্থায় ধস নেমে আসে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄۡﻛُﻠُﻮٓﺍْ ﺃَﻣۡﻮَٰﻟَﻜُﻢ ﺑَﻴۡﻨَﻜُﻢ ﺑِﭑﻟۡﺒَٰﻄِﻞِ ﻭَﺗُﺪۡﻟُﻮﺍْ ﺑِﻬَﺎٓ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟۡﺤُﻜَّﺎﻡِ
ﻟِﺘَﺄۡﻛُﻠُﻮﺍْ ﻓَﺮِﻳﻘٗﺎ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻣۡﻮَٰﻝِ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﺑِﭑﻟۡﺈِﺛۡﻢِ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢۡ ﺗَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ
١٨٨﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١٨٨ ‏]
“তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ ভক্ষণ
করো না এবং জেনে-বুঝে মানুষের সম্পদ
থেকে ভক্ষণের জন্য বিচারকদের দরবারে উহার
আরযী পেশ করো না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত:
১৮৮]
অনুরূপভাবে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
‏« ﻟَﻌَﻦَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﻲَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺮْﺗَﺸِﻲَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤُﻜْﻢِ‏»
“বিচার-ফায়সালায় ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ের
উপরে আল্লাহ তা‘আলা লা‘নত করেছেন”। [85]
তবে যদি ঘুষ প্রদান ব্যতীত নিজের পাওনা বা
অধিকার আদায় সম্ভব না হয় কিংবা ঘুষ না দিলে যুলুম-
অত্যাচারের শিকার হতে হয় তবে ঐ অধিকার আদায় ও
যুলুম নিরোধ কল্পে ঘুষ দিলে ঘুষদাতা উক্ত শাস্তির
আওতায় পড়বে না।
বর্তমানে ঘুষের বিস্তার রীতিমত উদ্বেগজনক
পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমনকি অনেক চাকুরের
নিকট মূল বেতনের চেয়ে তা রীতিমত আয়ের
এক বড় উৎস। অনেক অফিস ও কোম্পানী নানা
নামে-উপনামের ছদ্মাবরণে ঘুষকে আয়ের বাহানা
বানিয়ে নিয়েছে। অনেক কাজই এখন ঘুষ ছাড়া শুরু ও
শেষ হয় না। এতে গরীব ও অসহায়রা চরমভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ঘুষের
কারণে ভঙ্গ হয়ে যায়। ঘুষ না দিলে ভালো
সার্ভিসের আশা করা বাতুলতা মাত্র। যে ঘুষ দিতে
পারে না তার জন্য নিকৃষ্ট মানের সার্ভিস অপেক্ষা
করে। হয়ত তাকে বারবার ঘুরানো হয়, নয়ত তার
দরখাস্ত বা ফাইল একেবারে গায়েব করে দেওয়া
হয়। আর যে ঘুষ দিতে পারে সে পরে এসেও
ঘুষ দিতে অক্ষম ব্যক্তির নাকের ডগার উপর দিয়ে
বহু আগেই কাজ সমাধা করে চলে যায়। অথচ ঘুষের
কারণে যে অর্থ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার কথা ছিল তা তাদের হাতে না
পৌঁছে বরং ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর
পকেটস্থ হয়।
এসব নানাবিধ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ঘুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও
পরোক্ষভাবে জড়িত সবার বিরুদ্ধে বদ দো‘আ
করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা
করেন,
‏« ﻟَﻌْﻨَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﻲ ﻭَﺍﻟْﻤُﺮْﺗَﺸِﻲ ‏»
“ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের ওপর আল্লাহর লা‘নত”।
[86]
৩৮. জমি আত্মসাৎ করা
যখন মানুষের মন থেকে আল্লাহভীতি উঠে যায়
তখন তার শক্তি, বুদ্ধি সবই তার জন্য অভিশাপ হয়ে
দাঁড়ায়। সে এগুলোকে নির্বিচারে যুলুম-নিপীড়নে
ব্যবহার করে। যেমন শক্তির বলে অন্যের সম্পদ
কুক্ষিগত করা। ভূমি জবরদখল এরই একটি অংশ। এর
পরিণাম খুবই মারাত্মক। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﻣَﻦْ ﺃَﺧَﺬَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣَﻘِّﻪِ ﺧُﺴِﻒَ ﺑِﻪِ ﻳَﻮْﻡَ
ﺍﻟﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺇِﻟَﻰ ﺳَﺒْﻊِ ﺃَﺭَﺿِﻴﻦَ ‏»
‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো জমির কিয়দংশ
জবরদখল করবে, কিয়ামত দিবসে এজন্য তাকে
সপ্ত যমীন পর্যন্ত পূঁতে দেওয়া হবে”। [87]
ইয়া‘লা ইবন মুররাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﺃَﻳُّﻤَﺎ ﺭَﺟُﻞٍ ﻇَﻠَﻢَ ﺷِﺒْﺮًﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ،ﻛَﻠَّﻔَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻥْ ﻳَﺤْﻔِﺮَﻩُ
‏( ﻭﻓﻲ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ : ﻳﺤﻀﺮﻩ ‏) ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﻠُﻎَ ﺳَﺒْﻊَ ﺃَﺭَﺿِﻴﻦَ، ﺛُﻢَّ
ﻳُﻄَﻮَّﻗُﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻔْﺼِﻞَ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻨﺎﺱ ‏»
‘যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি জবরদখল করবে
আল্লাহ তাকে যমীনের সপ্ত স্তর পর্যন্ত তা খনন
করতে বাধ্য করবেন। (ত্বাবরানীর বর্ণনায়, ‘তা
উপস্থিত করতে বাধ্য করবেন’ বলা হয়েছে)
অতঃপর কিয়ামত দিবসে তা তার গলায় বেড়ী করে
রাখা হবে, যে পর্যন্ত না মানুষের মাঝে বিচারকার্য
শেষ হয়”। [88]
জমির সীমানা বা আইল পরিবর্তন করাও এ হুকুমের
অন্তর্ভুক্ত হবে। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻟَﻌَﻦَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻣَﻦْ ﻏَﻴَّﺮَ ﻣَﻨَﺎﺭَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ‏»
‘যে ব্যক্তি জমির নিশানা বা আইল পরিবর্তন করে
আল্লাহ তার ওপর অভিসম্পাত করন”। [89]. জমি আত্মসাৎ করা
যখন মানুষের মন থেকে আল্লাহভীতি উঠে যায়
তখন তার শক্তি, বুদ্ধি সবই তার জন্য অভিশাপ হয়ে
দাঁড়ায়। সে এগুলোকে নির্বিচারে যুলুম-নিপীড়নে
ব্যবহার করে। যেমন শক্তির বলে অন্যের সম্পদ
কুক্ষিগত করা। ভূমি জবরদখল এরই একটি অংশ। এর
পরিণাম খুবই মারাত্মক। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﻣَﻦْ ﺃَﺧَﺬَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣَﻘِّﻪِ ﺧُﺴِﻒَ ﺑِﻪِ ﻳَﻮْﻡَ
ﺍﻟﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺇِﻟَﻰ ﺳَﺒْﻊِ ﺃَﺭَﺿِﻴﻦَ ‏»
‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো জমির কিয়দংশ
জবরদখল করবে, কিয়ামত দিবসে এজন্য তাকে
সপ্ত যমীন পর্যন্ত পূঁতে দেওয়া হবে”। [87]
ইয়া‘লা ইবন মুররাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﺃَﻳُّﻤَﺎ ﺭَﺟُﻞٍ ﻇَﻠَﻢَ ﺷِﺒْﺮًﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ،ﻛَﻠَّﻔَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻥْ ﻳَﺤْﻔِﺮَﻩُ
‏( ﻭﻓﻲ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ : ﻳﺤﻀﺮﻩ ‏) ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﻠُﻎَ ﺳَﺒْﻊَ ﺃَﺭَﺿِﻴﻦَ، ﺛُﻢَّ
ﻳُﻄَﻮَّﻗُﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻔْﺼِﻞَ ﺑَﻴ