কিয়ামতের বড় আলামত। পর্ব -1:


১. ইমাম মাহদীর আগমন  সহীহ হাদীছের বিবরণ থেকে অবগত  হওয়া যায় যে, আখেরী যামানায় ইমাম  মাহদীর আত্মপ্রকাশ কিয়ামতের সর্বপ্রথম  বড় আলামত। তিনি আগমণ করে এই  উম্মাতের নের্তৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ  করবেন। ইসলাম ধর্মকে সংস্কার করবেন  এবং ইসলামী শরীয়তের মাধ্যমে বিচার-  ফয়সালা করবেন। পৃথিবী হতে জুলুম-  নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ  দ্বারা তা ভরে দিবেন।  উম্মাতে মুহাম্মাদী তাঁর আমলে বিরাট  কল্যাণের ভিতর থাকবে।  ইমাম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ তখন ফল-  ফলাদীতে প্রচুর বরকত হবে, মানুষের সম্পদ  বৃদ্ধি পাবে, ইসলাম বিজয়ী হবে,  ইসলামের শত্রুরা পরাজিত হবে এবং সকল  প্রকার কল্যাণ বিরাজ করবে।[1]  ইমাম মাহদীর পরিচয়ঃ  তাঁর নাম হবে আমাদের  নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামের মতই  এবং তাঁর পিতার নাম হবে আমাদের  নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর পিতার নামের  মতই। তিনি হবেন হাসান বিন  আলী (রাঃ)এর বংশ থেকে।  ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ “তিনি হলেন  মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-  ফাতেমী আল-হাসানী’’।[2]  তাঁর আগমণের স্থানঃ  তিনি পূর্বের কোন একটি অঞ্চল  থেকে প্রকাশিত হবেন। তবে পূর্ব দিক  বলতে মদীনা মুনাওয়ারা হতে পূর্বের দিক  বুঝানো হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ “তোমাদের গুপ্তধনের নিকট  তিনজন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই  হবে খলীফার পুত্র। কেউ তা দখল  করতে পারবেনা। অতঃপর পূর্বের দিক  থেকে কালো পতাকাধারী একদল  সৈনিক আসবে। তারা ব্যাপক হত্যাকান্ড  চালাবে। হাদীছের  বর্ণনাকারী বলেনঃ “এরপর  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এমন কিছু বিষয়ের কথা বর্ণনা করলেন  যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি।  তোমরা যখন  তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের  নেতার হাতে বায়আত করবে। যদিও  বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে উপস্থিত  হতে হয়। কেননা তিনি হলেন আল্লাহর  খলীফা মাহদী’’।[3]  ইমাম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ  “উল্লেখিত হাদীছে যে ধন-ভান্ডারের  কথা বলা হয়েছে তা হল কা’বা ঘরের ধন-  ভান্ডার। তিনজন খলীফার পুত্র তা দখল  করার জন্য ঝগড়া করবে। কেউ তা দখল  করতে পারবেনা।  সর্বশেষে আখেরী যামানায় পূর্বের  কোন একটি দেশ হতে মাহদী আগমণ  করবেন। মূর্খ শিয়ারা সামেরার গর্ত  হতে ইমাম মাহদী বের হওয়ার  যে দাবী করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।  তারা আরো দাবী করে যে তিনি গর্তের  মাঝে লুকায়িত আছেন। শিয়াদের  একটি দল প্রতিদিন সে গর্তের  কাছে দাঁড়িয়ে আপেক্ষা করে। এ ধরণের  আরো অনেক হাস্যকর কাল্পনিক  ঘটনা বর্ণিত আছে। এসমস্ত কথার  পক্ষে কোন দলীল নেই; বরং কুরআন,  হাদীছ এবং বিবেক বহির্ভূত কথা।  তিনি আরো বলেনঃ পূর্বাঞ্চলের  লোকেরা তাঁকে সাহায্য করবে এবং তাঁর  শাসনকে সমর্থন করবে।  তাঁরা কালো পতাকাধারী হবেন।  মোটকথা আখেরী যামানায় পূর্বদেশ  হতে তাঁর বের হওয়া সত্য। কা’বা ঘরের  পাশে তাঁর জন্যে বায়আত করা হবে’’।[4]  মাহদী আগমণের দলীলসমূহঃ  ইমাম মাহদীর আগমণের ব্যাপারে অনেক  সহীহ হাদীছ রয়েছে। কোন কোন  হাদীছে প্রকাশ্যভাবে তাঁর নাম উল্লেখ  আছে। আবার কোন কোন হাদীছে তাঁর  গুণাগুণ উল্লেখিত হয়েছে। তাঁর আগমণ সত্য  হওয়ার জন্য এ সমস্ত হাদীছই যথেষ্ট।  ১) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  হতে বর্ণনা করেন, “আখেরী যামানায়  আমার উম্মাতের ভিতরে মাহদীর আগমণ  ঘটবে। তাঁর শাসনকালে আকাশ  থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, যমিন প্রচুর ফসল  উৎপন্ন করবে, তিনি মানুষের  মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ  করবেন, গৃহপালিত পশুর  সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং উম্মাতে মুহাম্মাদীর  সম্মান বৃদ্ধি পাবে। তিনি সাত বছর  কিংবা আট বছর জীবিত থাকবেন’’।[5]  ২) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত  আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ “আমি তোমাদেরকে মাহদীর  আগমণ সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি।  মানুষেরা যখন মতবিরোধে লিপ্ত  হবে তখন তিনি প্রেরিত হবেন।  পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-  ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। আকাশ-  যমিনের সকল অধিবাসী তার উপর সন্তুষ্ট  হবেন। তিনি মানুষের  মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ  করবেন’’।[6]  ৩) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﺍﻟْﻤَﻬْﺪِﻱُّ ﻣِﻨِّﻲ ﺃَﺟْﻠَﻰ ﺍﻟْﺠَﺒْﻬَﺔِ ﺃَﻗْﻨَﻰ ﺍﻟْﺄَﻧْﻒِ ﻳَﻤْﻠَﺄُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻗِﺴْﻄًﺎ  ﻭَﻋَﺪْﻟًﺎ ﻛَﻤَﺎ ﻣُﻠِﺌَﺖْ ﺟَﻮْﺭًﺍ ﻭَﻇُﻠْﻤًﺎ ﻳَﻤْﻠِﻚُ ﺳَﺒْﻊَ ﺳِﻨِﻴﻦَ  “মাহদী আসবেন আমার বংশধর হতে। তাঁর  কপাল হবে উজ্জল এবং নাক হবে উঁচু।  পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর  করে দিয়ে ন্যায়-ইনসাফ  দ্বারা তা ভরে দিবেন। সাত বছর পর্যন্ত  তিনি রাজত্ব করবেন’’।[7]  ৪) উম্মে সালামা (রাঃ)  বলেনঃ “আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছিঃ মাহদীর  আগমণ হবে আমার পরিবারের ফাতেমার  বংশধর হতে’’।[8]  ৫) জাবের (রাঃ) বলেনঃ রাসূল  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেছেনঃ ঈসা (আঃ) যখন অবতরণ করবেন  তখন মুসলমানদের আমীর  তাঁকে বলবেনঃ আসুন! আমাদের নামাযের  ইমামতি করুন। ঈসা (আঃ)  বলবেনঃ বরং তোমাদের আমীর  তোমাদের মধ্যে হতেই। এই উম্মাতের  সম্মানের কারণেই তিনি এ মন্তব্য  করবেন’’।[9]  ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম আল-মানারুল মুনীফ  গ্রন্থে উক্ত হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।  যেই আমীরের ইমামতিতে মুসলমানগণ  নামায পড়বেন, তিন তাঁর নামও উল্লেখ  করেছেন। আর তিনি হলেন মাহদী। এই  হাদীছ সম্পর্কে ইবনুল কায়্যেম  বলেনঃ হাদীছের সনদ খুব ভাল।[10]  ৬) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) রাসূল  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  হতে বর্ণনা করেনঃ “ঈসা ইবনে মারইয়াম  যেই ইমামের পিছনে নামায পড়বেন  তিনি হবেন আমাদের মধ্যে হতে’’।[11]  ৭) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “ততদিন  দুনিয়া ধ্বংস হবেনা যতদিন না আমার  পরিবারের একজন লোক আরবদের  বাদশা হবেন। তাঁর নাম হবে আমার  নামে এবং তাঁর পিতার নাম হবে আমার  পিতার নামের অনুরূপ’’।[12] অর্থাৎ তাঁর নাম  হবে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ।  ৮) উম্মে সালামা (রাঃ)  বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেছেনঃ “কা’বা ঘরের পাশে একজন  লোক আশ্রয় নিবে। তাঁর বিরুদ্ধে একদল  সৈনিক প্রেরণ করা হবে। সৈন্যরা যখন  ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন যমিন  তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে।  উম্মে সালামা বলেনঃ আমি রাসূল  (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞেস  করলাম অপছন্দ সত্ত্বেও যারা তাদের  সাথে যাবে তাদের অবস্থা কি হবে?  উত্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বললেনঃ তাকে সহ যমিন ধসে যাবে।  তবে কিয়ামতের দিন সে আপন নিয়তের  উপরে পুনরুত্থিত হবে’’।[13]  ৯) হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ “অচিরেই এই ঘরের অর্থাৎ  কা’বা ঘরের পাশে একদল লোক আশ্রয় গ্রহণ  করবে। শত্রুর সাথে মোকাবেলা করার মত  তাদের কোন উল্লেখযোগ্য সৈনিক  কিংবা অস্ত্র-শস্ত্র বা প্রস্তুতি থাকবেনা।  তাদেরকে হত্যা করার জন্য একদল সৈনিক  প্রেরণ করা হবে। সৈন্যরা যখন ‘বায়দা’  নামক স্থানে পৌঁছবে তখন যমিন  তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে’’।[14]  ১০) আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “একদা রাসূল  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  ঘুমের ঘোরে এলোমেলো কিছু কাজ  করলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ জাগ্রত  হলে আমরা তাঁকে বললামঃ ঘুমের  মধ্যে আপনি আজ এমন কিছু কাজ করেছেন  যা অতীতে কখনও করেন নি।  তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের একদল  লোক কাবার পাশে আশ্রয়  গ্রহণকারী কুরাইশ বংশের একজন লোকের  বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে।  তারা যখন বায়দা নামক  স্থানে পৌঁছবে তখন  তাদেরকে নিয়ে যমিন ধসে যাবে।  আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তখন  তো রাস্তায় বিভিন্ন ধরণের লোক  থাকবে। নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাদের  ভিতর এমন লোক  থাকবে যারা নিজেদেরকে গোমরাহ  জেনেও বের হবে, কাউকে বল প্রয়োগ  করে আনা হবে এবং তাদের  মধ্যে মুসাফিরও থাকবে। তারা সকলেই  ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে সকলকেই আল্লাহ  তা’আলা নিয়তের উপর পুনরুত্থিত করবেন।  [15]  তাদেরকে নিয়তের উপর পুনরুত্থিত করার  অর্থ তাদের কেউ জান্নাতে যাবে আবার  কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে।  যারা নিজেদের ভ্রান্ত জেনেও উক্ত  ইমামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বের  হবে তারা জাহান্নামী হবে। আর  যাদেরকে বাধ্য করে আনা হবে তাদের  কোন অপরাধ হবেনা। এমনিভাবে পথিক ও  পার্শ্ববর্তী স্থানের লোকেরাও উক্ত  ভূমিধস থেকে রেহাই পাবেনা। কিন্তু  সকল শ্রেণীর লোক নিজ নিজ আমল  নিয়ে পুনরুত্থিত হবে।  উপরের তিনটি হাদীছ  থেকে জানা গেল যেই লোকটি কা’বার  প্রান্তে আশ্রয় গ্রহণ করবেন তিনি হবেন  কুরাইশ বংশের অন্তর্ভূক্ত। তিনি আল্লাহর  সাহায্য প্রাপ্ত হবেন এবং তাঁর  শত্রুদেরকে ভূমিধসের মাধ্যমে ধ্বংস  করবেন।  বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইমাম  মাহদী সম্পর্কিত কিছু হাদীছঃ  ১) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﻛَﻴْﻒَ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺇِﺫَﺍ ﻧَﺰَﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻭَﺇِﻣَﺎﻣُﻜُﻢْ ﻣِﻨْﻜُﻢْ  “সেদিন কেমন হবে তোমাদের  অবস্থা যেদিন তোমাদের  মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম নেমে আসবেন  এবং তোমাদের মধ্যে হতেই একজন ইমাম  হবেন’’।[16]  অর্থাৎ তোমাদের  সাথে জামা’তে শরীক হয়ে ঈসা (আঃ)  তোমাদের ইমামের পিছনে নামায আদায়  করবেন।  ২) জাবের (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূল  (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছি,  “আমার উম্মাতের একটি দল হকের উপর  বিজয়ী থেকে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই  করতে থাকবে। অতঃপর  ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন।  তাকে দেখে মুসলমানদের আমীর  বলবেনঃ আসুন!  আমাদেরকে নিয়ে নামাযের  ইমামতি করুন। ঈসা (আঃ) বলবেনঃ না;  বরং তোমাদের আমীর তোমাদের  মধ্যে হতেই। এই উম্মাতের সম্মানের  কারণেই তিনি এ মন্তব্য করবেন’’।[17]  ৩) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ “আখেরী যামানায় আমার  উম্মাতের মধ্যে একজন খলীফা হবেন  যিনি মানুষের মধ্যে মুক্ত  হস্তে অগণিতভাবে ধন-সম্পদ বিতরণ  করবেন’’।[18]  মাহদী আগমণের ব্যাপারে কতিপয় বিজ্ঞ  আলেমের বক্তব্যঃ  ক) হাফেজ আবুল হাসান আল-আবেরী (রঃ)  বলেনঃ “মাহদী সম্পর্কিত  হাদীছগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  থেকে মুতাওয়াতির হিসেবে বর্ণিত  হয়েছে। তিনি আহলে বায়ত  তথা নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর বংশধরের  অন্তর্ভূক্ত হবেন। সাত বছর রাজত্ব করবেন।  তাঁর রাজত্বকালে পৃথিবী ন্যায়-  ইনসাফে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর  রাজত্বকালে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)  আগমণ করে দাজ্জালকে হত্যা করবেন।  ঈসা (আঃ) তাঁর পিছনে নামায পড়বেন’’।  [19]  খ) ইমাম শাওকানী (রঃ) বলেনঃ “যতদূর  জানা যায় মাহদীর  ব্যাপারে ৫০টি মুতাওয়াতির হাদীছ  বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সহীহ,  হাসান ও সামান্য ত্রুটি বিশিষ্ট হাদীছ,  যা অন্য সূত্রে বর্ণিত হওয়ার  কারণে ত্রুটিমুক্ত হয়ে গেছে।  সুতরাং বিনা সন্দেহে হাদীছগুলো মুতাওয়াতির’’।  [20]  গ) শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (রঃ)  বলেনঃ মাহদীর বিষয়টি অতি সুস্পষ্ট। এ  ব্যাপারে হাদীছগুলো মুতাওয়াতির[21]  সূত্রে বর্ণিত। তাঁর আগমণ সত্য। তিনি হলেন  মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাসানী আল-  ফাতেমী। আখেরী যামানায়  তিনি আগমণ করে সত্য ও ন্যায়  প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্যায়-অবিচার প্রতিহত  করবেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ সত্য ও  কল্যাণের ঝান্ডা বলুন্দ করবেন।  যে ব্যক্তি আখেরী যামানায় ইমাম  মাহদীর আগমণকে অস্বীকার করবে তার  কথায় কর্ণপাত করা যাবেনা।[22]  ঘ) শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ  বলেনঃ “২৬জন সাহাবী থেকে মাহদীর  আগমণ সম্পর্কিত হাদীছগুলো বর্ণিত  হয়েছে। ৩৬টি হাদীছ গ্রন্থে এ সমস্ত  হাদীছ বর্ণিত হয়েছে’’।[23]  উপরের  আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম,  ইমাম মাহদীর আগমণে বিশ্বাস স্থাপন  করা ওয়াজিব। কারণ তাঁর আগমণের  ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীছ বর্ণিত  হয়েছে। ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) যখন  আকাশ থেকে অবতরণ করবেন তখন ইমাম  মাহদীর নের্তৃত্বে মুসলমানগণ স্বসম্মান ও  সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে থাকবেন।  ইমাম  মাহদী মুসলমানদেরকে নিয়ে নামাযের  ইমামতি করার জন্য  প্রস্তুতি নিতে থাকবেন। এমন সময়  ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) আকাশ  থেকে আগমণ করবেন। ইমাম  মাহদী ঈসা (আঃ)কে দেখে বলবেনঃ সামনে অগ্রসর  হোন এবং আমাদের ইমামতি করুন।  হাদীছের ভাষ্য  অনুযায়ী আরো জানা যায় যে, ইমাম  মাহদীর সময় মুসলমানদের ঈমান ও  শক্তি ধ্বংস করার জন্য দাজ্জালের আগমণ  ঘটবে। দাজ্জালের মোকাবেলা করার  জন্য আল্লাহ  তা’আলা ঈসা (আঃ)কে পাঠাবেন। ইমাম  মাহদীও তাঁর সাথে মিলিত  হয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত  হয়ে তাকে এবং তার বাহিনীকে খতম  করে মুসলমানদেরকে দাজ্জালের  ফিতনা হতে মুক্ত করবেন।  ঙ) সিদ্দিক হাসান খান ভূপালী (রঃ)  বলেনঃ “মাহদীর ব্যাপারে অনেক হাদীছ  বিভিন্ন গ্রন্থে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত  হয়েছে’’।[24]  চ) সুনানে আবু দাউদ শরীফের ভাষ্যকার  আল্লামা শামছুল হক আযীমাবাদী (রঃ)  বলেনঃ “সর্ব যুগের সকল মুসলমানদের  মাঝে একথা অতি প্রসিদ্ধ যে,  আখেরী যামানায় নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর বংশধর  হতে একজন সৎলোকের আগমণ ঘটবে।  তিনি এই দ্বীনকে শক্তিশালী করবেন।  ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। মুসলমানগণ  তাঁর অনুসরণ করবে। সমস্ত ইসলামী রাজ্যের  উপর তাঁর আধিপত্য বিস্তার হবে। তাঁর নাম  হবে মাহদী। তাঁর আগমণের পরেই সহীহ  হাদীছে বর্ণিত কিয়ামতের অন্যান্য বড়  আলামতগুলো প্রকাশিত হবে। তাঁর  যামানাতেই ঈসা (আঃ) আগমণ করবেন  এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এ  ব্যাপারে মাহদীও  তাঁকে সহযোগিতা করবেন।  উপরের বিস্তারিত  আলোচনা থেকে ইমাম  মাহদী সম্পর্কে আমরা যা অবগত হলাম তার  সংক্ষিপ্ত কথা হল আখেরী যামানায় এই  উম্মাতের মধ্যে একজন সৎ লোক আগমণ  করবেন। মাকামে ইবরাহীম  এবং রুকনে ইয়ামানীর  মধ্যবর্তী স্থানে মুসলমানগণ তাঁর  হাতে বায়আত করবে। তাঁকে হত্যা করার  জন্য সিরিয়া থেকে একদল সৈন্য প্রেরণ  করা হবে। সৈন্যদলটি যখন মক্কার  পথে ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন  ভূমিধসে সকল সৈন্য হালাক হয়ে যাবে।  আল্লাহ তা’আলা ইমাম  মাহদীকে এভাবে তাঁর শত্রুদেরর হাত  থেকে হেফাযত করবেন।  তিনি মুসলমানদের খলীফা হয়ে ইসলামের  মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবেন। তাঁর  যামানায় মুসলমানদের মাঝে চরম সুখ-  শান্তি ও নেয়া’মত বিরাজ করবে। অতঃপর  তিনি দামেস্কের মসজিদে ফজরের  নামাযের সময় ঈসা (আঃ)এর  সাথে সাক্ষাৎ করবেন।  প্রথমে তিনি ঈসা (আঃ)কে নামাযের  ইমামতি করার অনুরোধ জানাবেন। কিন্তু  তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে ¯^qs ইমাম  মাহদী ইমামতি করবেন।  ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) ইমাম মাহদীর  পিছনে মুক্তাদী হয়ে নামায আদায়  করবেন। অতঃপর তিনি ঈসা (আঃ)এর  সাথে যোগ দিয়ে দাজ্জালের  বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হবেন  এবং দাজ্জাল হত্যার  কাজে ঈসা (আঃ)কে সহায়তা করবেন।  তারপর তিনি সাত বছর মতান্তরে নয় বছর  পৃথিবীতে বসবাস করে মৃত্যু বরণ করবেন।  মুসলমানগণ তাঁর জানাযা নামায পড়বে।  ২. দাজ্জালের আগমণ  আখেরী যামানায় কিয়ামতের  নিকটবর্তী সময়ে মিথ্যুক দাজ্জালের  আবির্ভাব ঘটবে। দাজ্জালের আগমণ  কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সবচেয়ে বড়  আলামত। মানব জাতির জন্যে দাজ্জালের  চেয়ে অধিক বড় বিপদ আর নেই। বিশেষ  করে সে সময় যে সমস্ত মুমিন জীবিত  থাকবে তাদের জন্য ঈমান  নিয়ে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন  হয়ে পড়বে। সমস্ত নবীই আপন  উম্মাতকে দাজ্জালের ভয় দেখিয়েছেন।  আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও দাজ্জালের  ফিতনা থেকে সতর্ক করেছেন এবং তার  অনিষ্ট থেকে বাঁচার উপায়ও  বলে দিয়েছেন। ইবনে উমার (রাঃ)  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  হতে বর্ণনা করেনঃ  ﻗَﺎﻡَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻓَﺄَﺛْﻨَﻰ ﻋَﻠَﻰ  ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﺃَﻫْﻠُﻪُ ﺛُﻢَّ ﺫَﻛَﺮَ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﺄُﻧْﺬِﺭُﻛُﻤُﻮﻩُ ﻭَﻣَﺎ  ﻣِﻦْ ﻧَﺒِﻲٍّ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻗَﺪْ ﺃَﻧْﺬَﺭَﻩُ ﻗَﻮْﻣَﻪُ ﻭَﻟَﻜِﻨِّﻲ ﺳَﺄَﻗُﻮﻝُ ﻟَﻜُﻢْ ﻓِﻴﻪِ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻟَﻢْ  ﻳَﻘُﻠْﻪُ ﻧَﺒِﻲٌّ ﻟِﻘَﻮْﻣِﻪِ ﺇِﻧَّﻪُ ﺃَﻋْﻮَﺭُ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﺄَﻋْﻮَﺭَ  “একদা নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িয়ে আল্লাহর  যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। অতঃপর  দাজ্জালের  আলোচনা করতে গিয়ে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে তার  ফিতনা থেকে সাবধান করছি। সকল নবীই  তাদের উম্মাতকে দাজ্জালের ভয়  দেখিয়েছেন। কিন্তু আমি তোমাদের  কাছে দাজ্জালের একটি পরিচয়ের  কথা বলব যা কোন নবীই তাঁর  উম্মাতকে বলেন নাই। তা হলো দাজ্জাল  অন্ধ হবে। আর আমাদের মহান আল্লাহ অন্ধ  নন’’।  নাওয়াস বিন সামআন (রাঃ) বলেনঃ  ﺫَﻛَﺮَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﺫَﺍﺕَ ﻏَﺪَﺍﺓٍ  ﻓَﺨَﻔَّﺾَ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺭَﻓَّﻊَ ﺣَﺘَّﻰ ﻇَﻨَﻨَّﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔِ ﺍﻟﻨَّﺨْﻞِ ﻗَﺎﻝَ  ﻓَﺎﻧْﺼَﺮَﻓْﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺛُﻢَّ  ﺭَﺟَﻌْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻓَﻌَﺮَﻑَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻴﻨَﺎ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻣَﺎ ﺷَﺄْﻧُﻜُﻢْ ﻗَﺎﻝَ ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻳَﺎ  ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺫَﻛَﺮْﺕَ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﺍﻟْﻐَﺪَﺍﺓَ ﻓَﺨَﻔَّﻀْﺖَ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺭَﻓَّﻌْﺖَ  ﺣَﺘَّﻰ ﻇَﻨَﻨَّﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔِ ﺍﻟﻨَّﺨْﻞِ ﻗَﺎﻝَ ﻏَﻴْﺮُ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝِ ﺃَﺧْﻮَﻑُ ﻟِﻲ  ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺇِﻥْ ﻳَﺨْﺮُﺝْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﺄَﻧَﺎ ﺣَﺠِﻴﺠُﻪُ ﺩُﻭﻧَﻜُﻢْ ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﺨْﺮُﺝْ  ﻭَﻟَﺴْﺖُ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﺎﻣْﺮُﺅٌ ﺣَﺠِﻴﺞُ ﻧَﻔْﺴِﻪِ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠِﻴﻔَﺘِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ  ﻣُﺴْﻠِﻢٍ  “একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকাল  বেলা আমাদের কাছে দাজ্জালের  বর্ণনা করলেন। তিনি তার ফিতনাকে খুব  বড় করে তুলে ধরলেন।  বর্ণনা শুনে আমরা মনে করলাম নিকটস্থ  খেজুরের বাগানের পাশেই সে হয়ত  অবস্থান করছে। আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট  থেকে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর  আমরা আবার তাঁর কাছে গেলাম। এবার  তিনি আমাদের অবস্থা বুঝে জিজ্ঞেস  করলেনঃ তোমাদের কি হলো?  আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল!  আপনি যেভাবে দাজ্জালের  আলোচনা করেছেন  তা শুনে আমরা ভাবলাম  হতে পারে সে খেজুরের বাগানের  ভিতরেই রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ দাজ্জাল  ছাড়া তোমাদের উপর আমার আরো ভয়  রয়েছে। আমি তোমাদের মাঝে জীবিত  থাকতেই যদি দাজ্জাল আগমণ  করে তাহলে তোমাদেরকে ছাড়া আমি একাই  তার বিরুদ্ধে ঝগড়া করবো। আর  আমি চলে যাওয়ার পর যদি সে আগমণ  করে তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তিই  নিজেকে হেফাযত করবে। আর  আমি চলে গেলে আল্লাহই  প্রতিটি মুসলিমকে হেফাযতকারী হিসেবে যথেষ্ট’’।  [25]  দাজ্জালের আগমণের সময় মুসলমানদের  অবস্থাঃ  দাজ্জালের আগমণের পূর্ব  মুহূর্তে মুসলমানদের অবস্থা খুব ভাল  থাকবে।  তারা পৃথিবীতে শক্তিশালী এবং বিজয়ী থাকবে।  সম্ভবতঃ এই শক্তির পতন ঘটানোর জন্যই  দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে।  দাজ্জালের পরিচয়ঃ  দাজ্জাল মানব জাতিরই একজন হবে।  মুসলমানদের কাছে তার পরিচয় তুলে ধরার  জন্যে এবং তার  ফিতনা থেকে তাদেরকে সতর্ক করার  জন্যে নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পরিচয়  বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। মুমিন  বান্দাগণ তাকে দেখে সহজেই  চিনতে পারবে এবং তার  ফিতনা থেকে নিরাপদে থাকবে।  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  তার যে সমস্ত পরিচয় উল্লেখ করেছেন  মুমিনগণ তা পূর্ণ অবগত থাকবে। দাজ্জাল  অন্যান্য মানুষের  তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের  অধিকারী হবে। জাহেল-মূর্খ ও হতভাগ্য  ব্যতীত কেউ দাজ্জালের ধোকায়  পড়বেনা।  নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  দাজ্জালকে স্বপ্নে দেখে তার  শারীরিক গঠনের বর্ণনাও প্রদান  করেছেন। তিনি বলেনঃ দাজ্জাল  হবে বৃহদাকার একজন যুবক পুরুষ, শরীরের  রং হবে লাল, বেঁটে, মাথার চুল  হবে কোঁকড়া, কপাল হবে উঁচু, বক্ষ  হবে প্রশস্ত, চক্ষু হবে টেরা এবং আঙ্গুর  ফলের মত উঁচু।[26] দাজ্জাল নির্বংশ হবে।  তার কোন সন্তান থাকবেনা’’।[27]  দাজ্জালের কোন্ চোখ কানা থাকবে?  বিভিন্ন হাদীছে দাজ্জালের চোখ অন্ধ  হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন  হাদীছে বলা হয়েছে দাজ্জাল অন্ধ হবে।  কোন হাদীছে আছে তার ডান চোখ অন্ধ  হবে। আবার কোন হাদীছে আছে তার  বাম চোখ হবে অন্ধ। মোটকথা তার  একটি চোখ দোষিত হবে। তবে ডান চোখ  অন্ধ হওয়ার হাদীছগুলো বুখারী ও মুসলিম  শরীফে বর্ণিত হয়েছে।[28]  মোটকথা দাজ্জালের অন্যান্য  লক্ষণগুলো কারো কাছে অস্পষ্ট  থেকে গেলেও অন্ধ হওয়ার  বিষয়টি কারো কাছে অস্পষ্ট হবেনা।  দাজ্জালের দু’চোখের মাঝখানে কাফের  লেখা থাকবেঃ  তাছাড়া দাজ্জালকে চেনার  সবচেয়ে বড় আলামত হলো তার  কপালে কাফের ﻛﺎﻓﺮ)) লেখা থাকবে।[29]  অপর বর্ণনায় আছে তার কপালে ( ﻙ ﻑ ﺭ ) এই  তিনটি বর্ণ লেখা থাকবে। প্রতিটি মুসলিম  ব্যক্তিই তা পড়তে পারবে।[30] অপর বর্ণনায়  আছে শিক্ষিত-অশিক্ষত সকল মুসলিম  ব্যক্তিই তা পড়তে পারবে।[31]  মোটকথা আল্লাহ মু’মিনের  জন্যে অন্তদৃষ্টি খোলে দিবেন।  ফলে সে দাজ্জালকে দেখে সহজেই  চিনতে পারবে। যদিও ইতিপূর্বে সে ছিল  অশিক্ষিত। কাফের ও মুনাফেক লোক  তা দেখেও পড়তে পারবেনা। যদিও  সে ছিল শিক্ষিত ও  পড়ালেখা জানা লোক। কারণ কাফের ও  মুনাফেক আল্লাহর অসংখ্য সুস্পষ্ট দলীল-  প্রমাণ দেখেও ঈমান আনয়ন করেনি।[32]  দাজ্জালের ফিতনাসমূহ ও তার অসারতাঃ  আদম সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানব  জাতির জন্য দাজ্জালের চেয়ে বড়  ফিতনা আর নেই। সে এমন অলৌকিক বিষয়  দেখাবে যা দেখে মানুষ  দিশেহারা হয়ে পড়বে। দাজ্জাল  নিজেকে প্রভু ও আল্লাহ  হিসেবে দাবী করবে। তার দাবীর  পক্ষে এমন কিছু প্রমাণও উপস্থাপন  করবে যে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগেই সতর্ক  করেছেন। মুমিন বান্দাগণ  এগুলো দেখে মিথ্যুক দাজ্জালকে সহজেই  চিনতে পারবে এবং আল্লাহর  প্রতি তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পাবে।  কিন্তু দুর্বল ঈমানদার  লোকেরা বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান  হারা হবে।  দাজ্জাল নিজেকে রাব্ব বা প্রভু  হিসেবেও দাবী করবে। ঈমানদারের  কাছে এ দাবীটি সুস্পষ্ট দিবালোকের মত  মিথ্যা বলে প্রকাশিত হবে। দাজ্জাল তার  দাবীর পক্ষে যত বড় অলৌকিক ঘটনাই পেশ  করুক না কেন মুমিন ব্যক্তির  কাছে এটি সুস্পষ্ট হবে যে সে একজন  অক্ষম মানুষ, পানাহার করে, নিদ্রা যায়,  পেশাব-পায়খান করে।  সর্বোপরি সে হবে অন্ধ। যার  ভিতরে মানবীয় সব দোষ-গুণ বিদ্যমান  সে কিভাবে রব্ব ও আল্লাহ হতে পারে!!  একজন সত্যিকার মুমিনের মুমিনের বিশ্বাস  হলোঃ মহান আল্লাহ সর্বপ্রকার মানবীয়  দোষ-ত্রুটি হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। কোন  সৃষ্টজীবই তার মত নয়। আল্লাহকে দুনিয়ার  জগতে কোন মানুষের পক্ষে দেখাও সম্ভব  নয়।  দাজ্জাল বর্তমানে কোথায় আছে?  ফাতেমা বিনতে কায়স (রাঃ)  হতে বর্ণিত,  তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে গমণ  করে নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে নামায  আদায় করলাম। আমি ছিলাম মহিলাদের  কাতারে। তিনি নামায  শেষে হাসতে হাসতে মিম্বারে উঠে বসলেন।  প্রথমেই তিনি বললেনঃ প্রত্যেকেই যেন  আপন আপন জায়গায় বসে থাকে। অতঃপর  তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান  আমি কেন তোমাদেরকে একত্রিত  করেছি? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর  রাসূলই ভাল জানেন। অতঃপর  তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে এ  সংবাদ দেয়ার জন্যে একত্রিত  করেছি যে তামীম দারী ছিল একজন  খৃষ্টান লোক। সে আমার কাছে আগমণ  করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতঃপর  সে মিথ্যুক দাজ্জাল সম্পর্কে এমন  ঘটনা বলেছে যা আমি তোমাদের  কাছে বর্ণনা করতাম। লাখ্ম ও জুযাাম  গোত্রের ত্রিশ জন লোকের  সাথে সে সাগর পথে ভ্রমণে গিয়েছিল।  দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শিকার হয়ে এক মাস  পর্যন্ত তারা সাগরেই ছিল।  অবশেষে তারা সাগরের  মাঝখানে একটি দ্বীপে অবতরণ করলো।  দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ  করে তারা মোটা মোটা এবং প্রচুর চুল  বিশিষ্ট একটি অদ্ভুত প্রাণীর সন্ধান পেল।  চুল দ্বারা সমস্ত শরীর আবৃত থাকার  কারণে প্রাণীটির অগ্রপশ্চাৎ নির্ধারণ  করতে সক্ষম হলোনা। তারা বললঃ অকল্যাণ  হোক তোমার! কে তুমি?  সে বললোঃ আমি সংবাদ  সংগ্রহকারী গোয়েন্দা।  তারা বললোঃ কিসের সংবাদ  সংগ্রহকারী? অতঃপর প্রাণীটি দ্বীপের  মধ্যে একটি ঘরের দিকে ইঙ্গিত  করে বললোঃ হে লোক সকল! তোমরা এই  ঘরের ভিতরে অবস্থানরত লোকটির  কাছে যাও। সে তোমাদের কাছ  থেকে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্যে অধীর  আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তামীম  দারী বলেনঃ প্রাণীটি যখন একজন  লোকের কথা বললোঃ তখন আমাদের ভয়  হলো যে হতে পারে সে একটি শয়তান।  তথাপিও আমরা ভীত হয়ে দ্রুত অগ্রসর  হয়ে ঘরটির ভিতরে প্রবেশ করলাম।  সেখানে প্রবেশ করে আমরা বৃহদাকার  একটি মানুষ দেখতে পেলাম। এত বড়  আকৃতির মানুষ আমরা ইতিপূর্বে আর কখনও  দেখিনি। তার হাত দু’টিকে ঘাড়ের  সাথে একত্রিত করে হাঁটু এবং গোড়ালীর  মধ্যবর্তী স্থানে লোহার শিকল  দ্বারা বেঁধে রাখা হয়েছে।  আমরা বললামঃ মরণ হোক তোমার!  কে তুমি? সে বললোঃ তোমরা আমার  কাছে আসতে সক্ষম হয়েছ। তাই  আগে তোমাদের পরিচয় দাও।  আমরা বললামঃ আমরা একদল আরব মানুষ  নৌকায় আরোহন করলাম। সাগরের প্রচন্ড  ঢেউ আমাদেরকে নিয়ে একমাস পর্যন্ত  খেলা করলো। অবশেষে তোমার  দ্বীপে উঠতে বাধ্য হলাম। দ্বীপে প্রবেশ  করেই প্রচুর পশম বিশিষ্ট এম