কিয়ামতের বড় আলামত। পর্ব -2:


দাজ্জাল মক্কা ও মদীনায় প্রবেশ  করতে পারবেনাঃ  সহীহ হাদীছের বিবরণ  অনুযায়ী দাজ্জালের জন্যে মক্কা ও  মদীনাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।  মক্কা ও মদীনা ব্যতীত পৃথিবীর সকল  স্থানেই সে প্রবেশ করবে।  ফাতেমা বিনতে কায়েস (রাঃ) কর্তৃক  বর্ণিত দাজ্জালের  হাদীছে এসেছে অতঃপর দাজ্জাল  বললোঃ আমি হলাম দাজ্জাল। অচিরেই  আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে।  আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনের  ভিতরে পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভ্রমণ করবো।  তবে মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করা আমার জন্য  নিষিদ্ধ থাকবে। যখনই  আমি মক্কা বা মদীনায় প্রবেশ  করতে চাইবো তখনই কোষমুক্ত তলোয়ার  হাতে নিয়ে ফেরেশতাগণ  আমাকে তাড়া করবে। মক্কা-মদীনার  প্রতিটি প্রবেশ পথে ফেরেশতাগণ  পাহারা দিবে’’।[41] সে সময় মদীনা শরীফ  তিনবার কেঁপে উঠবে এবং প্রত্যেক  মুনাফেক এবং কাফেরকে বের  করে দিবে। যারা দাজ্জালের নিকট  যাবে এবং তার ফিতনায় পড়বে তাদের  অধিকাংশই হবে মহিলা। দাজ্জালের  ফিতনা থেকে বাঁচানোর জন্য  পুরুষেরা তাদের স্ত্রী, মা, বোন, কন্যা,  ফুফু  এবং অন্যান্য স্বজন মহিলাদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখবে।  দাজ্জাল পৃথিবীতে কত দিন থাকবে?  সাহাবীগণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞেস  করেছেন দাজ্জাল পৃথিবীতে কত দিন  অবস্থান করবে?  উত্তরে তিনি বলেছেনঃ সে চল্লিশ দিন  অবস্থান করবে। প্রথম দিনটি হবে এক  বছরের মত লম্বা। দ্বিতীয়  দিনটি হবে এক মাসের মত। তৃতীয়  দিনটি হবে এক সপ্তাহের মত। আর  বাকী দিনগুলো দুনিয়ার স্বাভাবিক দিনের  মতই হবে। আমরা বললামঃ যে দিনটি এক  বছরের মত দীর্ঘ হবে সে দিন কি এক  দিনের নামাযই যথেষ্ট হবে?  উত্তরে তিনি বললেনঃ না;  বরং তোমরা অনুমান করে সময় নির্ধারণ  করে নামায পড়বে।[42]  কারা দাজ্জালের অনুসরণ করবে?  দাজ্জালের অধিকাংশ  অনুসারী হবে ইহুদী, তুর্কী এবং অনারব  লোক। তাদের অধিকাংশই হবে গ্রাম্য মূর্খ  এবং মহিলা। ইহুদীরা মিথ্যুক  কানা দাজ্জালের অপেক্ষায় রয়েছে।  তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী দাজ্জাল  হবে তাদের বাদশা। তার  নেতৃত্বে তারা বিশ্ব পরিচালনা করবে।  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ দাজ্জালের অধিকাংশ  অনুসারী হবে ইহুদী এবং মহিলা।[43]  তিনি আরো বলেনঃ “ইস্পাহানের সত্তর  হাজার ইহুদী দাজ্জালের অনুসরণ করবে।  তাদের সবার পরনে থাকবে সেলাই  বিহীন চাদর’’।[44]  গ্রাম্য অশিক্ষিত লোকেরা মূর্খতার  কারণে এবং দাজ্জালের পরিচয়  সম্পর্কে তাদের জ্ঞান না থাকার  কারণে দাজ্জালের অলৌকিক  ক্ষমতা দেখে তারা ফিতনায় পড়বে।  মহিলাদের ব্যাপারটিও অনুরূপ।  তারা সহজেই যে কোন জিনিষ  দেখে প্রভাবিত হয়ে থাকে।  • দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার  উপায়ঃ  নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাজ্জালের  ফিতনা হতে রেহাই পাওয়ার উপায়ও  বলে দিয়েছেন।  তিনি উম্মাতকে একটি সুস্পষ্ট দ্বীনের  উপর রেখে গেছেন। সকল প্রকার  কল্যাণের পথ প্রদর্শন করেছেন এবং সকল  অকল্যাণের পথ হতে সতর্ক করেছেন।  উম্মাতের উপরে যেহেতু দাজ্জালের  ফিতনা সবচেয়ে বড় তাই  তিনি দাজ্জালের  ফিতনা থেকে কঠোরভাবে সাবধান  করেছেন এবং দাজ্জালের  লক্ষণগুলো সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন।  যাতে মুমিন বান্দাদের জন্য এই প্রতারক,  ধোকাবাজ ও মিথ্যুক  দাজ্জালকে চিনতে কোনরূপ  অসুবিধা না হয়।  ইমাম সাফারায়েনী (রঃ) বলেনঃ  প্রতিটি বিজ্ঞ মুসলিমের উচিৎ তার  ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী-পরিবার এবং সকল  নারী-পুরুষদের জন্য দাজ্জালের  হাদীছগুলো বর্ণনা করা। বিশেষ  করে ফিতনায় পরিপূর্ণ আমাদের বর্তমান  যামানায়। দাজ্জালের  ফিতনা থেকে বাঁচার  উপায়গুলো নিম্নরূপঃ-  ১) ইসলামকে সঠিকভাবে আঁকড়িয়ে ধরাঃ  ইসলামকে সঠিকভাবে আঁকড়িয়ে ধরা এবং ঈমানের  উপর অটল থাকাই দাজ্জালের  ফিতনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।  যে মুমিন আল্লাহর নাম ও তাঁর অতুলনীয়  সুমহান গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন  করবে সে অতি সহজেই  দাজ্জালকে চিনতে পারবে।  সে দেখতে পাবে দাজ্জাল খায় পান  করে। মু’মিনের আকীদা এই যে, আল্লাহ  তা’আলা পানাহার ও অন্যান্য মানবীয়  দোষ-গুণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।  যে পানাহারের  প্রতি মুখাপেক্ষী সে কখনও আল্লাহ  বা রব্ব হতে পারেনা। দাজ্জাল হবে অন্ধ।  আল্লাহ এরূপ দোষ-ত্রুটির অনেক উর্ধে।  আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার  অধিকারী মুমিনগণের মনে প্রশ্ন  জাগবে যে নিজের দোষ থেকে মুক্ত  হতে পারেনা সে কিভাবে প্রভু  হতে পারে? মু’মিনের আকীদা এই যে,  আল্লাহকে দুনীয়ার জীবনে দেখা সম্ভব  নয়। অথচ মিথ্যুক দাজ্জালকে মুমিন-কাফের  সবাই দুনিয়াতে দেখতে পাবে।  ২) দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয়  প্রার্থনা করাঃ  আয়েশা (রাঃ)  বলেনঃ “আমি নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে নামাযের  ভিতরে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয়  চাইতে শুনেছি’’।[45] তিনি নামাযের  শেষ তাশাহুদে বলতেনঃ  ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ ﻭَﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَﻣِﻦْ  ﻓِﺘْﻨَﺔِ ﺍﻟْﻤَﺤْﻴَﺎ ﻭَﺍﻟْﻤَﻤَﺎﺕِ ﻭَﻣِﻦْ ﻓِﺘْﻨَﺔِ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢِ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝِ  “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের  আযাব, জাহান্নামের আযাব, জীবন-মরণের  ফিতনা এবং মিথ্যুক দাজ্জালের  ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই’’।[46]  ৩) দাজ্জাল থেকে দূরে থাকাঃ  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  দাজ্জালের নিকট যেতে নিষেধ  করেছেন। কারণ সে এমন একজন লোকের  কাছে আসবে, যে নিজেকে ঈমানদার  মনে করবে। দাজ্জালের কাজ-কর্ম  দেখে সে বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান  হারা হয়ে যাবে। মুমিনের জন্য উত্তম  হলো সম্ভব  হলে সে সময়ে মদীনা অথবা মক্কায়  বসবাস করার চেষ্টা করা। কারণ দাজ্জাল  তথায় প্রবেশ করতে পারবেনা।  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ যে ব্যক্তি দাজ্জাল বের হওয়ার  কথা শুনবে সে যেন তার কাছে না যায়।  আল্লাহর শপথ! এমন একজন লোক  দাজ্জালের  নিকটে যাবে যে নিজেকে ঈমানদার  মনে করবে। অতঃপর সে দাজ্জালের  সাথে প্রেরিত সন্দেহময় জিনিষগুলো ও  তার কাজ-কর্ম  দেখে বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান  হারা হয়ে তার অনুসারী হয়ে যাবে।  হে আল্লাহ! আমরা আপনার  কাছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয়  চাই।  ৪) সূরা কাহাফ পাঠ করাঃ  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  দাজ্জালের ফিতনার সম্মুখিন  হলে মুমিনদেরকে সূরা কাহাফ মুখস্থ  করতে এবং তা পাঠ করতে আদেশ  করেছেন।  তিনি বলেনঃ “যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের  প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ  করবে সে দাজ্জালের  ফিতনা হতে হেফাযতে থাকবে’’।[47]  সূরা কাহাফ পাঠের নির্দেশ  সম্ভবতঃ এজন্য হতে পারে যে, এই সূরায়  আল্লাহ তা’আলা বিস্ময়কর বড় বড়  কয়েকটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। মুমিন  ব্যক্তি এগুলো গভীরভাবে পাঠ  করলে দাজ্জালের বিস্ময়কর  ঘটনা দেখে কিছুতেই বিচলিত হবেনা।  এতে সে হতাশ হয়ে বিভ্রান্তিতেও  পড়বেনা।  দাজ্জালের শেষ পরিণতিঃ  সহীহ হাদীছের বিবরণ  অনুযায়ী ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)এর  হাতে দাজ্জাল নিহত হবে। বিস্তারিত  বিবরণ এই যে, মক্কা-মদীনা ব্যতীত  পৃথিবীর সকল দেশেই সে প্রবেশ করবে।  তার অনুসারীর সংখ্যা হবে প্রচুর। সমগ্র  দুনিয়ায় তার ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে।  সামান্য সংখ্যক মুমিনই তার  ফিতনা থেকে রেহাই পাবে। ঠিক  সে সময় দামেস্ক শহরের পূর্ব  প্রান্তে অবস্থিত এক মসজিদের  সাদা মিনারের উপর ঈসা (আঃ) আকাশ  থেকে অবতরণ করবেন। মুসলমানগণ তার  পার্শ্বে একত্রিত হবে।  তাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি দাজ্জালের  দিকে রওনা দিবেন। দাজ্জাল সে সময়  বায়তুল মাকদিসের দিকে অগ্রসর  হতে থাকবে। অতঃপর ঈসা (আঃ)  ফিলিস্তীনের লুদ্দ শহরের  গেইটে দাজ্জালকে পাকড়াও করবেন।  ঈসা (আঃ)কে দেখে সে পানিতে লবন  গলার ন্যায় গলতে শুরু করবে। ঈসা (আঃ)  তাকে লক্ষ্য  করে বলবেনঃ “তোমাকে আমি একটি আঘাত  করবো যা থেকে তুমি কখনও রেহাই  পাবেনা।মুমিন ঈসা (আঃ)  তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করবেন। অতঃপর  মুসলমানেরা তাঁর নেতৃত্বে ইহুদীদের  বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। মুসলমানদের  হাতে দাজ্জালের বাহিনী ইহুদীর দল  পরাজিত হবে। তারা কোথাও পালাবার  স্থান পাবেনা। গাছের  আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ  বলবেঃ হে মুসলিম! আসো, আমার  পিছনে একজন ইহুদী লকিয়ে আছে।  আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর  বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর  বা দেয়াল বলবেঃ হে মুসলিম! আমার  পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে, আসো!  তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ  ইহুদীদেরকে গোপন করার চেষ্টা করবে।  কেননা সেটি ইহুদীদের বৃক্ষ  বলে পরিচিত।[48]  সহীহ মুসলিম শরীফে আবু হুরায়রা (রাঃ)  হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ( ﻟَﺎ ﺗَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﻘَﺎﺗِﻞَ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤُﻮﻥَ ﺍﻟْﻴَﻬُﻮﺩَ ﻓَﻴَﻘْﺘُﻠُﻬُﻢُ  ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤُﻮﻥَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺨْﺘَﺒِﺊَ ﺍﻟْﻴَﻬُﻮﺩِﻱُّ ﻣِﻦْ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﺍﻟْﺤَﺠَﺮِ ﻭَﺍﻟﺸَّﺠَﺮِ  ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﺤَﺠَﺮُ ﺃَﻭِ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮُ ﻳَﺎ ﻣُﺴْﻠِﻢُ ﻳَﺎ ﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﻬُﻮﺩِﻱٌّ  ﺧَﻠْﻔِﻲ ﻓَﺘَﻌَﺎﻝَ ﻓَﺎﻗْﺘُﻠْﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻐَﺮْﻗَﺪَ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺷَﺠَﺮِ ﺍﻟْﻴَﻬُﻮﺩِ )  “ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবেনা যতক্ষণ  না মুসলমানেরা ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ  করবে। অতঃপর মুসলমানগণ  ইহুদীরকে হত্যা করবে। ইহুদীরা গাছ ও  পাথরের  আড়ালে পালাতে চেষ্টা করবে। কিন্তু  কেউ তাদেরকে আশ্রয় দিবেনা। গাছ  বা পাথর বলবেঃ হে মুসলমান!  হে আল্লাহর বান্দা! আমার পিছনে একজন  ইহুদী লুকিয়ে আছে।  আসো এবং তাকে হত্যা করো।  তবে ‘গারকাদ’ নামক গাছের  পিছনে লুকালে গারকাদ গাছ কোন  কথা বলবেনা। এটি ইহুদীদের গাছ  বলে পরিচিত’’।[49]  ৩. ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) এর আগমণ  আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’তের বিশ্বাস  এই যে, ঈসা (আঃ) কে আল্লাহ  তা’আলা জীবিত অবস্থায়  আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।  ইহুদীরা তাকে হত্যা করতে পারেনি।  কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে তিনি আমাদের  নবীর উম্মাত হয়ে আবার দুনিয়াতে আগমণ  করবেন। দাজ্জালকে হত্যা করবেন, খৃষ্টান  ধর্মের পতন ঘটাবেন, ন্যায় বিচার  প্রতিষ্ঠা করবেন, আমাদের নবীর শরীয়ত  দ্বারা বিচার-ফয়সালা করবেন  এবং ইসলামের বিলুপ্ত  হওয়া আদর্শগুলো পুনর্জীবিত করবেন।  পৃথিবীতে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করার পর  মৃত্যু বরণ করবেন। মুসলমানগণ তার  জানাযা নামায পড়ে দাফন করবেন। তাঁর  আগমণের পক্ষে কুরআন ও সহীহ  হাদীছে অনেক দলীল রয়েছে।  নিম্নে কতিপয় দলীল বর্ণনা করা হলোঃ  কুরআন থেকে দলীলঃ  ১) আল্লাহ তাআলা বলেনঃ  ) ﻭَﻗَﻮْﻟِﻬِﻢْ ﺇِﻧَّﺎ ﻗَﺘَﻠْﻨَﺎ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ  ﻗَﺘَﻠُﻮﻩُ ﻭَﻣَﺎ ﺻَﻠَﺒُﻮﻩُ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﺷُﺒِّﻪَ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺧْﺘَﻠَﻔُﻮﺍ ﻓِﻴﻪِ  ﻟَﻔِﻲ ﺷَﻚٍّ ﻣِﻨْﻪُ ﻣَﺎ ﻟَﻬُﻢْ ﺑِﻪِ ﻣِﻦْ ﻋِﻠْﻢٍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﺗِّﺒَﺎﻉَ ﺍﻟﻈَّﻦِّ ﻭَﻣَﺎ ﻗَﺘَﻠُﻮﻩُ  ﻳَﻘِﻴﻨًﺎ ‏(157 ‏) ﺑَﻞْ ﺭَﻓَﻌَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰِﻳﺰًﺍ ﺣَﻜِﻴﻤًﺎ  ‏( 158 ‏) ﻭَﺇِﻥْ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺇِﻟَّﺎ ﻟَﻴُﺆْﻣِﻨَﻦَّ ﺑِﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﻣَﻮْﺗِﻪِ ﻭَﻳَﻮْﻡَ  ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ (  “এবং তারা বলে আমরা মারইয়ামের পুত্র  আল্লাহর রাসূল ঈসাকে হত্যা করেছি।  মূলতঃ তারা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও  করতে পারেনি;  বরং তাদেরকে সন্দেহে ফেলা হয়েছে।  নিশ্চয়ই যারা তাতে মতবিরোধ করেছিল  তারাই সে বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে।  কল্পনার অনুসরণ ব্যতীত এ বিষয়ে তাদের  কোন জ্ঞান নেই।  প্রকৃতপক্ষে তারা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি।  পরন্তু আল্লাহ তাঁকে নিজের  দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ  পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী।  আহলে কিতাবদের প্রত্যেকেই তাঁর মৃত্যুর  পূর্বে তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন  করবে এবং উত্থান দিবসে তিনি তাদের  উপর সাক্ষ্য প্রদান করবেন’’।  (সূরা নিসাঃ ১৫৭-১৫৯)  এই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় মুফাস্িসরগণ  বলেনঃ আখেরী যামানায় যখন ঈসা (আঃ)  দুনিয়ায় অবতরণ করবেন তখন সকল  আহলে কিতাব তাঁর প্রতি বিশ্বাস করবে।  ইহুদীদের দাবী তখন মিথ্যা বলে প্রমাণিত  হবে।  ২) আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ  ) ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻌِﻠْﻢٌ ﻟِﻠﺴَّﺎﻋَﺔِ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻤْﺘَﺮُﻥَّ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺍﺗَّﺒِﻌُﻮﻧِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺻِﺮَﺍﻁٌ  ﻣُﺴْﺘَﻘِﻴﻢٌ(  অর্থঃ “নিশ্চয়ই ঈসা (আঃ) কিয়ামতের  নিদর্শন। সুতরাং তোমরা কিয়ামতের  ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ  করোনা। আমার অনুসরণ করো। এটাই সরল  পথ’’। (সূরা যুখরুফঃ ৬১)  অত্র আয়াতে কিয়ামতের  পূর্বে ঈসা (আঃ) এর আগমণের  কথা বলা হয়েছে। এটি হবে কিয়ামতের  একটি বড় আলামত। তাঁর আগমণ কিয়ামত  নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ বহন করবে’’।[50]  হাদীছ থেকে দলীলঃ  ঈসা (আঃ)এর আগমণের  ব্যাপারে অস্যংখ্য সহীহ হাদীছ বিদ্যমান  রয়েছে। নিম্নে আমরা কয়েকটি হাদীছ  উল্লেখ করবোঃ  ১) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﻭَﺍﻟَّﺬِﻱ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻟَﻴُﻮﺷِﻜَﻦَّ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﺰِﻝَ ﻓِﻴﻜُﻢُ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺣَﻜَﻤًﺎ  ﻋَﺪْﻟًﺎ ﻓَﻴَﻜْﺴِﺮَ ﺍﻟﺼَّﻠِﻴﺐَ ﻭَﻳَﻘْﺘُﻞَ ﺍﻟْﺨِﻨْﺰِﻳﺮَ ﻭَﻳَﻀَﻊَ ﺍﻟْﺠِﺰْﻳَﺔَ ﻭَﻳَﻔِﻴﺾَ  ﺍﻟْﻤَﺎﻝُ ﺣَﺘَّﻰ ﻟَﺎ ﻳَﻘْﺒَﻠَﻪُ ﺃَﺣَﺪٌ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟﺴَّﺠْﺪَﺓُ ﺍﻟْﻮَﺍﺣِﺪَﺓُ ﺧَﻴْﺮًﺍ  ﻣِﻦَ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺃَﺑُﻮ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﺍﻗْﺮَﺀُﻭﺍ ﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺘُﻢْ  ‏( ﻭَﺇِﻥْ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺇِﻟَّﺎ ﻟَﻴُﺆْﻣِﻨَﻦَّ ﺑِﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﻣَﻮْﺗِﻪِ ﻭَﻳَﻮْﻡَ  ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ )  “ঐ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ  রয়েছে। অচিরেই ন্যায় বিচারক শাসক  হিসেবে ঈসা (আঃ) তোমাদের  মাঝে আগমণ করবেন। তিনি ক্রুশচিহ্ন  ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন  এবং জিযইয়া প্রত্যাখ্যান করবেন। ধন-সম্পদ  প্রচুর হবে এবং তা নেয়ার মত কোন লোক  পাওয়া যাবেনা। এমনকি মানুষের  কাছে একটি সেজদা দুনিয়া এবং তার  মধ্যকার সমস্ত বস্তু হতে শ্রেষ্ঠ হবে। আবু  হুরায়রা (রাঃ)  বলেনঃ তোমরা চাইলে আল্লাহর এই  বাণীটি পাঠ কর,  ) ﻭَﺇِﻥْ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺇِﻟَّﺎ ﻟَﻴُﺆْﻣِﻨَﻦَّ ﺑِﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﻣَﻮْﺗِﻪِ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ  ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ (  “আহলে কিতাবদের প্রত্যেকেই তাঁর মৃত্যুর  পূর্বে তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন  করবে এবং উত্থান দিবসে তিনি তাদের  উপর সাক্ষ্য প্রদান করবেন’’।[51]  এখানে আবু হুরায়রা (রাঃ)  বুঝাতে চাচ্ছেন যে, আহলে কিতাবের  লোকেরা অচিরেই ঈসা (আঃ)এর মৃত্যুর  পূর্বেই তাঁর উপর ঈমান আনবে। আর  সেটি হবে আখেরী যামানায় তাঁর  অবতরণের পর।  ২) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ( ﻟَﺎ ﺗَﺰَﺍﻝُ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔٌ ﻣِﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻳُﻘَﺎﺗِﻠُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺤَﻖِّ ﻇَﺎﻫِﺮِﻳﻦَ ﺇِﻟَﻰ  ﻳَﻮْﻡِ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻴَﻨْﺰِﻝُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ  ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺃَﻣِﻴﺮُﻫُﻢْ ﺗَﻌَﺎﻝَ ﺻَﻞِّ ﻟَﻨَﺎ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﺎ ﺇِﻥَّ ﺑَﻌْﻀَﻜُﻢْ  ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻌْﺾٍ ﺃُﻣَﺮَﺍﺀُ ﺗَﻜْﺮِﻣَﺔَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺄُﻣَّﺔَ )  “আমার উম্মাতের একটি দল হকের উপর  প্রতিষ্ঠিত থেকে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই  করে বিজয়ী থাকবে। অতঃপর ঈসা (আঃ)  আগমণ করবেন। সেদিন মুসলমানদের আমীর  তাঁকে লক্ষ্য করে বলবেনঃ আসুন!  আমাদের ইমামতি করুন। তিনি বলবেনঃ না;  বরং তোমাদের একজন অন্যজনের আমীর।  একারণে যে, আল্লাহ এই  উম্মাতকে সম্মানিত করেছেন’’।[52]  ৩) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﺑَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫْ ﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻓَﻴَﻨْﺰِﻝُ ﻋِﻨْﺪَ  ﺍﻟْﻤَﻨَﺎﺭَﺓِ ﺍﻟْﺒَﻴْﻀَﺎﺀِ ﺷَﺮْﻗِﻲَّ ﺩِﻣَﺸْﻖَ ﺑَﻴْﻦَ ﻣَﻬْﺮُﻭﺩَﺗَﻴْﻦِ ﻭَﺍﺿِﻌًﺎ ﻛَﻔَّﻴْﻪِ  ﻋَﻠَﻰ ﺃَﺟْﻨِﺤَﺔِ ﻣَﻠَﻜَﻴْﻦِ ﺇِﺫَﺍ ﻃَﺄْﻃَﺄَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻗَﻄَﺮَ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﻓَﻌَﻪُ ﺗَﺤَﺪَّﺭَ  ﻣِﻨْﻪُ ﺟُﻤَﺎﻥٌ ﻛَﺎﻟﻠُّﺆْﻟُﺆِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﻟِﻜَﺎﻓِﺮٍ ﻳَﺠِﺪُ ﺭِﻳﺢَ ﻧَﻔَﺴِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎﺕَ  ﻭَﻧَﻔَﺴُﻪُ ﻳَﻨْﺘَﻬِﻲ ﺣَﻴْﺚُ ﻳَﻨْﺘَﻬِﻲ ﻃَﺮْﻓُﻪُ ﻓَﻴَﻄْﻠُﺒُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﺪْﺭِﻛَﻪُ  ﺑِﺒَﺎﺏِ ﻟُﺪٍّ ﻓَﻴَﻘْﺘُﻠُﻪُ ﺛُﻢَّ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻗَﻮْﻡٌ ﻗَﺪْ ﻋَﺼَﻤَﻬُﻢُ  ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ ﻓَﻴَﻤْﺴَﺢُ ﻋَﻦْ ﻭُﺟُﻮﻫِﻬِﻢْ ﻭَﻳُﺤَﺪِّﺛُﻬُﻢْ ﺑِﺪَﺭَﺟَﺎﺗِﻬِﻢْ ﻓِﻲ  ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ  “সে (দাজ্জাল) যখন মুসলমানদের ঈমান  ধ্বংসের কাজে লিপ্ত থাকবে আল্লাহ  তা’আলা তখন ঈসা ইবনে মারিয়াম  (আঃ)কে পাঠাবেন। জাফরানের  রঙ্গে রঙ্গিত দু’টি পোষক পরিহিত  হয়ে এবং দু’জন ফেরেশতার পাখার উপর  হাত রেখে দামেস্ক শহরের  পূর্বে অবস্থিত সাদা মিনারের  উপরে তিনি অবতরণ করবেন। তিনি যখন  মাথা নিচু করবেন তখন সদ্য  গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসা ব্যক্তির  মাথা থেকে যেভাবে পানি ঝরতে থাকে সেভাবে তাঁর  মাথা থেকে পানির  ফোটা ঝরতে থাকবে এবং যখন মাথা উঁচু  করবেন তখন অনুরূপভাবে তাঁর  মাথা হতে মণি-মুক্তার মত চকচকে পানির  ফোটা ঝরতে থাকবে। কাফেরের  শরীরে তাঁর নিঃশ্বাস পড়ার  সাথে সাথেই কাফের মৃত্যু বরণ করবে।  চোখের দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত গিয়ে তাঁর  নিঃশ্বাস শেষ হবে।  তিনি দাজ্জালকে ফিলিস্তীনের লুদ্দ  শহরের গেইটে পাকড়াও  করে হত্যা করবেন। অতঃপর তাঁর নিকট এমন  কিছু লোক আসবেন যাদেরকে আল্লাহ  তা’আলা দাজ্জালের  ফিতনা হতে হেফাযত করেছেন।  তিনি তাদের চেহারায় হাত বুলাবেন  এবং বেহেশতের মধ্যে তাদের উচ্চ  মর্যাদা সম্পর্কে সংবাদ দিবেন।[53]  ৪) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﺇِﻣَﺎﻣُﻬُﻢْ ﻗَﺪْ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺑِﻬِﻢُ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢَ ﺇِﺫْ ﻧَﺰَﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ  ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢَ ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻳَﻨْﻜُﺺُ ﻳَﻤْﺸِﻲ  ﺍﻟْﻘَﻬْﻘَﺮَﻯ ﻟِﻴَﺘَﻘَﺪَّﻡَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺱِ ﻓَﻴَﻀَﻊُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻳَﺪَﻩُ  ﺑَﻴْﻦَ ﻛَﺘِﻔَﻴْﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻪُ ﺗَﻘَﺪَّﻡْ ﻓَﺼَﻞِّ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﻚَ ﺃُﻗِﻴﻤَﺖْ ﻓَﻴُﺼَﻠِّﻲ  ﺑِﻬِﻢْ ﺇِﻣَﺎﻣُﻬُﻢْ  “মুসলমানদের ইমাম যখন  তাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়ার  জন্য সামনে চলে যাবেন তখন  ঈসা ইবনে মারইয়াম আগমণ করবেন। ইমাম  যখন ঈসা (আঃ)এর আগমণ অনুভব করবেন তখন  পিছিয়ে আসতে চেষ্টা করবেন  যাতে ঈসা (আঃ) সামনে গিয়ে মানুষের  ইমামতি করেন। ঈসা (আঃ) ইমামের  কাধে হাত রেখে বলবেনঃ তুমিই  সামনে যাও এবং তাদের নামায পড়াও।  কারণ তোমার জন্যই এ নামাযের ইকামত  দেয়া হয়েছে। অতঃপর  তিনি ইমামতি করবেন’’।[54]  এখানে যে ইমামের  কথা বলা হয়েছে আলেমদের বিশুদ্ধ  মতে তিনি হলেন ইমাম মাহদী।  ঈসা (আঃ)এর আগমণ  সম্পর্কে আরো অনেক হাদীছ রয়েছে। এ  সমস্ত সহীহ হাদীছে নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভবিষ্যৎ  বাণী করেছেন যে, কিয়ামতের  পূর্বে ঈসা (আঃ) শেষ নবীর উম্মাত  হয়ে দুনিয়াতে আগমণ করবেন।  এতে বিশ্বাস করা প্রতিটি মুসলিমের  ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।  ঈসা (আঃ) কোথায় এবং কখন অবতরণ  করবেন?  ঈসা (আঃ)এর আগমণ কিয়ামত  নিকটবর্তী হওয়ার একটি বড় আলামত।  পূর্বে আলোচনা করেছি যে, দাজ্জালের  ফিতনা থেকে মুসলমানদেরকে মুক্ত করার  জন্য তিনি আগমণ করবেন। এটিই হবে তাঁর  প্রথম ও প্রধান কাজ।  সে হিসেবে আখেরী যামানায়  দাজ্জাল আগমণ করে যখন মুসলমানদের ঈমান  নষ্ট করার কাজে আত্মনিয়োগ  করবে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয়  সৃষ্টি করবে তখন ঈসা (আঃ) আগমণ  করে দাজ্জালকে হত্যা করবেন।  জাফরানী রঙ্গের দু’টি পোষাক পরিহিত  অবস্থায় দুইজন ফেরেশতার পাখার উপর হাত  রেখে দামেস্ক শহরের পূর্বে অবস্থিত  সাদা মিনারের উপরে তিনি অবতরণ  করবেন।[55]  ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) আকাশ  থেকে অবতরনের পূর্ব মুহূর্তে মুসলমানগণ  দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য  প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকবে। এমতাবস্থায়  ফজরের নামাযের ইকামত হয়ে যাবে। তখন  মুসলমানদের ইমাম নামাযের ইমামতির জন্য  সামনে চলে যাবেন।  ঈসা (আঃ)কে দেখে মুসলমানদের ইমাম  পিছনে চলে আসতে চাইবেন  এবং ঈসা (আঃ)কে ইমামতি করতে বলবেন।  কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান  করে মুক্তাদী হয়ে নামায পড়বেন।  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ  ( ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻢْ ﻳُﻌِﺪُّﻭﻥَ ﻟِﻠْﻘِﺘَﺎﻝِ ﻳُﺴَﻮُّﻭﻥَ ﺍﻟﺼُّﻔُﻮﻑَ ﺇِﺫْ ﺃُﻗِﻴﻤَﺖِ  ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓُ ﻓَﻴَﻨْﺰِﻝُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺭَﺁﻩُ ﻋَﺪُﻭُّ  ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺫَﺍﺏَ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﺬُﻭﺏُ ﺍﻟْﻤِﻠْﺢُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺎﺀِ ﻓَﻠَﻮْ ﺗَﺮَﻛَﻪُ ﻟَﺎﻧْﺬَﺍﺏَ ﺣَﺘَّﻰ  ﻳَﻬْﻠِﻚَ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻳَﻘْﺘُﻠُﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻓَﻴُﺮِﻳﻬِﻢْ ﺩَﻣَﻪُ ﻓِﻲ ﺣَﺮْﺑَﺘِﻪِ )  “মুসলমানগণ দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার  জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ  করতে থাকবে এবং কাতারবন্দী হতে থাকবে।  ইতিমধ্যেই যখন নামাযের ইকামত  হয়ে যাবে তখন ঈসা (আঃ) অবতরন করবেন।  আল্লাহর শত্রু দাজ্জাল  ঈসা (আঃ)কে দেখেই পানিতে লবন  গলার ন্যায় গলতে থাকবে। ঈসা (আঃ)  যদি তাকে ছেড়েও দেন তথাপিও  সে মৃত্যু পর্যন্ত গলতে থাকবে। কিন্তু  তিনি তাকে নিজ হাতে হত্যা করবেন  এবং মুসলমানদেরকে তাঁর  লৌহাস্ত্রে দাজ্জাল হত্যার আলামত  হিসেবে রক্ত দেখাবেন’’।[56]  ঈসা (আঃ) এসে যে সমস্ত দায়িত্ব পালন  করবেনঃ  ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) নবী হয়ে নতুন  কোন শরীয়ত নিয়ে দুনিয়াতে আসবেন  না; বরং তিনি আমাদের নবীর একজন  উম্মাত হয়ে আগমণ করবেন এবং আমাদের  শরীয়তের মাধ্যমে বিচার-  ফয়সালা করবেন। তিনি নিম্নের বড় বড়  কয়েকটি কাজে আঞ্জাম দিবেন।  ১) দাজ্জালকে হত্যা করবেনঃ  পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে মুসলমানগণ  যখন দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার  জন্যে প্রস্ততি গ্রহণ করতে থাকবেন তখন  আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) আগমণ করবেন।  তখন নামাযের ইকামত হয়ে যাবে।  তিনি তখনকার ইমামের  পিছনে মুক্তাদী হয়ে নামায আদায়  করবেন। দাজ্জাল ঈসা (আঃ)এর আগমণ  সম্পর্কে জানতে পেরে বায়তুল  মাকদিসের দিকে চলে যাবে।  সেখানে গিয়ে দেখবেন দাজ্জাল একদল  মুসলমানকে অবরোধ করে রেখেছে।  ঈসা (আঃ)  সেখানে গিয়ে দরজা খুলতে বলবেন।  দরজা খুলে দেয়া হলে তিনি পিছনে দাজ্জালকে দেখতে পাবেন।  তার পিছু ধাওয়া করে তাকে পাকড়াও  করবেন এবং ফিলিস্তীনের লুদ্দ শহরের  গেইটে তাকে এবং তার  বাহিনী তথা ইহুদীদেরকে হত্যা করবেন।  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ  ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﺇِﻣَﺎﻣُﻬُﻢْ ﻗَﺪْ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺑِﻬِﻢُ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢَ ﺇِﺫْ ﻧَﺰَﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ  ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢَ ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻳَﻨْﻜُﺺُ ﻳَﻤْﺸِﻲ  ﺍﻟْﻘَﻬْﻘَﺮَﻯ ﻟِﻴَﺘَﻘَﺪَّﻡَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺱِ ﻓَﻴَﻀَﻊُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻳَﺪَﻩُ  ﺑَﻴْﻦَ ﻛَﺘِﻔَﻴْﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻪُ ﺗَﻘَﺪَّﻡْ ﻓَﺼَﻞِّ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﻚَ ﺃُﻗِﻴﻤَﺖْ ﻓَﻴُﺼَﻠِّﻲ  ﺑِﻬِﻢْ ﺇِﻣَﺎﻣُﻬُﻢْ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺍﻧْﺼَﺮَﻑَ ﻗَﺎﻝَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ ﺍﻓْﺘَﺤُﻮﺍ  ﺍﻟْﺒَﺎﺏَ ﻓَﻴُﻔْﺘَﺢُ ﻭَﻭَﺭَﺍﺀَﻩُ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝُ ﻣَﻌَﻪُ ﺳَﺒْﻌُﻮﻥَ ﺃَﻟْﻒَ ﻳَﻬُﻮﺩِﻱٍّ ﻛُﻠُّﻬُﻢْ  ﺫُﻭ ﺳَﻴْﻒٍ ﻣُﺤَﻠًّﻰ ﻭَﺳَﺎﺝٍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻧَﻈَﺮَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝُ ﺫَﺍﺏَ ﻛَﻤَﺎ  ﻳَﺬُﻭﺏُ ﺍﻟْﻤِﻠْﺢُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺎﺀِ ﻭَﻳَﻨْﻄَﻠِﻖُ ﻫَﺎﺭِﺑًﺎ ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ  ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ ﺇِﻥَّ ﻟِﻲ ﻓِﻴﻚَ ﺿَﺮْﺑَﺔً ﻟَﻦْ ﺗَﺴْﺒِﻘَﻨِﻲ ﺑِﻬَﺎ ﻓَﻴُﺪْﺭِﻛُﻪُ ﻋِﻨْﺪَ ﺑَﺎﺏِ  ﺍﻟﻠُّﺪِّ ﺍﻟﺸَّﺮْﻗِﻲِّ ﻓَﻴَﻘْﺘُﻠُﻪُ ﻓَﻴَﻬْﺰِﻡُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻴَﻬُﻮﺩَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺒْﻘَﻰ ﺷَﻲْﺀٌ ﻣِﻤَّﺎ  ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺘَﻮَﺍﺭَﻯ ﺑِﻪِ ﻳَﻬُﻮﺩِﻱٌّ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﻄَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺸَّﻲْﺀَ ﻟَﺎ  ﺣَﺠَﺮَ ﻭَﻟَﺎ ﺷَﺠَﺮَ ﻭَﻟَﺎ ﺣَﺎﺋِﻂَ ﻭَﻟَﺎ ﺩَﺍﺑَّﺔَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻐَﺮْﻗَﺪَﺓَ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﻣِﻦْ  ﺷَﺠَﺮِﻫِﻢْ ﻟَﺎ ﺗَﻨْﻄِﻖُ  “মুসলমানদের ইমাম যখন  তাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়ার  জন্য সামনে চলে যাবেন তখন  ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন। ইমাম  যখন ঈসা (আঃ)এর আগমণ অনুভব করবেন তখন  পিছিয়ে আসতে চেষ্টা করবেন  যাতে ঈসা (আঃ) সামনে গিয়ে মানুষের  ইমামতি করেন। ঈসা (আঃ) ইমামের  কাঁধে হাত রেখে বলবেনঃ তুমিই  সামনে যাও এবং তাদের নামায পড়াও।  কারণ তোমার জন্যেই এ নামাযের ইকামত  দেয়া হয়েছে। অতঃপর  তিনি ইমামতি করবেন।[57] নামায  শেষে তিনি দরজা খুলতে বলবেন।  তারা দরজা খুলে দিবেন।[58]  পিছনে তিনি দাজ্জালকে দেখতে পাবেন।  তার সাথে থাকবে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত  সত্তুর হাজার ইহুদী। দাজ্জাল  ঈসা (আঃ)কে দেখেই পানিতে লবন  গলার ন্যায়  গলতে থাকবে এবং পালাতে চেষ্টা করবে।  ঈসা (আঃ) তাকে লক্ষ্য  করে বলবেনঃ “তোমাকে আমি একটি আঘাত  করব যা থেকে তুমি কখনও রেহাই  পাবেনা।মুমিন ঈসা (আঃ) লুদ্দ শহরের পূর্ব  গেইটে তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত  করে হত্যা করবেন। অতঃপর আল্লাহ  তা’আলা ঈসা (আঃ)এর  মাধ্যমে ইহুদীদেরকে পরাজিত করবেন।  আল্লাহর কোন সৃষ্টজীবের  অন্তরালে ইহুদীরা পালাতে চাইলে আল্লাহ  সে সৃষ্টজীবকে কথা বলার শক্তি দিবেন।  পাথর, গাছ, দেয়াল কিংবা চতুষ্পদ জন্তুর  আড়ালে পলায়ন করলে সকলেই  বলবেঃ হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দা!  আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে।  আসো এবং তাকে হত্যা করো।  তবে গারকাদ নামক গাছের  পিছনে লুকালে গারকাদ গাছ কোন  কথা বলবেনা। এটি ইহুদীদের গাছ  বলে পরিচিত।[59]  ২) ইয়াজুয-মা’জুযকে ধ্বংস করবেনঃ  ইয়াজুয-মাজুযের আগমণ কিয়ামতের  একটি অন্যতম বড় আলামত। এব্যাপারে একটু  পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।  এখানে যা বলা প্রয়োজন  তা হলো দাজ্জালের ফিতনা খতম করার পর  ইয়াজুয-মাজুযের দলেরা পৃথিবীতে নতুন  করে মহা বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। এই বাহিনীর  মোকাবেলা করা মুসলমানদের  জন্যে অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই ঈসা (আঃ)  আল্লাহর কাছে এই বাহিনীকে ধ্বংস  করার জন্য প্রাণ খুলে দু’আ করবেন। আল্লাহ  তাঁর দু’আ কবূল করবেন এবং ইয়াজুয-মাজুযের  বাহিনীকে সমূলে খতম করে দিবেন।  ৩) সমস্ত মতবাদ ধ্বংস করে ইসলামী শাসন  কায়েম করবেনঃ  ঈসা (আঃ) আগমণ  করে ইসলামী শরীয়তের অনুসরণ করবেন।  আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবীর  সুন্নাত দিয়ে বিচার-ফয়সালা করবেন।  সেই সময়ে ইসলাম ছাড়া বাকী সমস্ত  মতবাদ মিটিয়ে দিবেন। এজন্যই  তিনি খৃষ্টান ধর্মের প্রতিক  হিসেবে ব্যবহৃত ক্রুশচিহ্ন  ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর  হত্যা করে ফেলবেন, ইহুদী-খৃষ