কিয়ামতের বড় আলামত। পর্ব -3:


৫. তিনটি বড় ধরণের ভূমিধসন  ভূমিধসন অর্থ হচ্ছে যমিনের কোন অংশ  নিচে চলে গিয়ে বিলীন হয়ে যাওয়া।  যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ  ) ﻓَﺨَﺴَﻔْﻨَﺎ ﺑِﻪِ ﻭَﺑِﺪَﺍﺭِﻩِ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ (  “অতঃপর আমি কারূনকে ও তার  প্রাসাদকে ভূগর্ভে প্রোথিত করলাম’’।  (সূরা কাসাসঃ ৮১)  কিয়ামতের পূর্বে তিনটি স্থানে বিশাল  আকারের ভূমিধস হবে।  এগুলো হবে কিয়ামতের বড় আলামতের  অন্তর্ভূক্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﻟَﻦْ ﺗَﻘُﻮﻡَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺮَﻭْﻥَ ﻗَﺒْﻠَﻬَﺎ ﻋَﺸْﺮَ ﺁﻳَﺎﺕٍ ﻓَﺬَﻛَﺮَﻣِﻨْﻬَﺎ ﻭَﺛَﻠَﺎﺛَﺔَ  ﺧُﺴُﻮﻑٍ : ﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﺸْﺮِﻕِ ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺠَﺰِﻳﺮَﺓِ  ﺍﻟْﻌَﺮَﺏِ  “দশটি আলামত প্রকাশ হওয়ার পূর্বে কিয়ামত  সংঘটিত হবেনা। তার  মধ্যে থেকে তিনটি ভূমি ধসের  কথা উল্লেখ করলেন।  একটি হবে পূর্বাঞ্চলে,  একটি হবে পশ্চিমাঞ্চলে এবং আরেকটি হবে আরব  উপদ্বীপে’’।[71]  উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত,  তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছিঃ  ﺳَﻴَﻜُﻮْﻥُ ﺑَﻌْﺪِﻯْ ﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﺸْﺮِﻕ ﻭَ ﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَ ﺧَﺴْﻒٌ  ﺑِﺠَﺰِﻳْﺮَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺮَﺏِ ﻗُﻠْﺖُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳٌﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ! ﺃَ ﻳُﺨْﺴَﻒُ ﺑِﺎﻟْﺎَﺭْﺽُ ﻭَ  ﻓِﻴْﻬَﺎ ﺍﻟﺼَﺎﻟِﺤِﻴْﻦَ؟ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻬﺎَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ  ﺃَﻛْﺜَﺮَ ﺃَﻫْﻠُﻬَﺎ ﺍﻟﺨَﺒَﺚُ  “আমি চলে যাওয়ার পর অচিরেই  তিনটি স্থানে ভূমিধস হবে।  একটি হবে পূর্বাঞ্চলে,  একটি হবে পশ্চিমাঞ্চলে এবং আরেকটি হবে আরব  উপদ্বীপে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর  রাসূল! সৎ লোক বর্তমান থাকতেই  কি উহাতে ভূমিধস হবে? রাসূল  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপকাজ বেশী হবে’’।  [72]  এই ভূমিধসগুলো কি হয়ে গেছে?  কিয়ামতের অন্যান্য বড় আলামতের মতই  এই ভূমিধসগুলো এখনও সংঘটিত হয়নি। এক  শ্রেণীর আলেম  মনে করেন ভূমিধসন তিনটি হয়ে গেছে।  কিন্তু বিশুদ্ধ মতে এই আলামতগুলোর কোন  একটিও এখনও প্রকাশিত হয়নি।  এখানে সেখানে প্রায়ই আমরা যে সমস্ত  ভূমিধসের সংবাদ  পেয়ে থাকি সেগুলো কিয়ামতের ছোট  আলামতের অন্তর্ভূক্ত। আর যে সমস্ত  ভূমিধসন কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আলামত  হিসেবে প্রকাশিত হবে তা হবে অত্যন্ত  বড় আকারে। পূর্ব, পশ্চিম এবং আরব  উপদ্বীপের বিশাল  এলাকা জুড়ে তা প্রকাশ হবে।  মোটকথা নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে তিনটি ভূমিধসের  খবর দিয়েছেন তা আখেরী যামানায়  অবশ্যই সংঘটিত হবে। প্রতিটি মুসলিমের  উপর তাতে বিশ্বাস করা ওয়াজিব।  ৬. বিশাল একটি ধোঁয়ার আগমণ  কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত  হচ্ছে আখেরী যামানায় কিয়ামতের  সন্নিকটবর্তী সময়ে বিশাল আকারের  একটি ধোঁয়া বের হয়ে আকাশ  এবং যমিনের মধ্যবর্তী খালি জায়গা পূর্ণ  করে ফেলবে। মুমিন  ব্যক্তিদেরকে সামান্য একটু সর্দি-কাশি ও  জ্বরে আক্রান্ত করে দিবে। কাফেরদের  শরীরের ভিতরে প্রচন্ডভাবে প্রবেশ  করবে। ফলে তাদের শরীর  ফুলে যাবে এবং শরীরের প্রতিটি ছিদ্র  দিয়ে ধোঁয়া বের হবে। এটি তাদের জন্য  একটি যন্ত্রনাদায়ক আযাবে পরিণত হবে।  আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ  ) ﻓَﺎﺭْﺗَﻘِﺐْ ﻳَﻮْﻡَ ﺗَﺄْﺗِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀُ ﺑِﺪُﺧَﺎﻥٍ ﻣُﺒِﻴﻦٍ ‏(10 ‏) ﻳَﻐْﺸَﻰ  ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻫَﺬَﺍ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﺃَﻟِﻴﻢٌ ‏( 11 ‏) ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻛْﺸِﻒْ ﻋَﻨَّﺎ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏَ ﺇِﻧَّﺎ  ﻣُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ‏( 12 ‏) ﺃَﻧَّﻰ ﻟَﻬُﻢْ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮَﻯ ﻭَﻗَﺪْ ﺟَﺎﺀَﻫُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝٌ ﻣُﺒِﻴﻦٌ  ‏(13 ‏) ﺛُﻢَّ ﺗَﻮَﻟَّﻮْﺍ ﻋَﻨْﻪُ ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻣُﻌَﻠَّﻢٌ ﻣَﺠْﻨُﻮﻥٌ ‏( 14 ‏) ﺇِﻧَّﺎ ﻛَﺎﺷِﻔُﻮْﺍ  ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏِ ﻗَﻠِﻴْﻠًﺎ ﺇِﻧّﻜُﻢْ ﻋَﺎﺋِﺪُﻭْﻥَ ‏( 15 )(  “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের  যেদিন আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে।  এবং তা আচ্ছন্ন করে ফেলবে মানব  জাতিকে। এটা হবে এক যন্ত্রনাদায়ক  শাস্তি। তখন তারা বলবেঃ হে আমাদের  প্রতিপালক! আমাদেরকে এই  শাস্তি হতে মুক্তি দিন আমরা ঈমান আনয়ন  করবো। তারা কি করে উপদেশ গ্রহণ করবে?  তাদের কাছে তো এসেছে সুস্পষ্ট একজন  রাসূল। অতঃপর তারা তাঁকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন  করে বলেছেঃ সে তো শেখানো কথা বলছে,  সে তো একজন পাগল’’। আমি আযাব  একটখানি সরিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু এরপরও  তোমরা পূর্বের ন্যায় আচরণ করবে।  (সূরা দুখানঃ 10-15)  মুসলিম শরীফে হুজায়ফা ইবনে উসায়েদ  (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ  ﺍﻃَّﻠَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﻧَﺘَﺬَﺍﻛَﺮُ ﻓَﻘَﺎﻝَ  ﻣَﺎ ﺗَﺬَﺍﻛَﺮُﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻧَﺬْﻛُﺮُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﻦْ ﺗَﻘُﻮﻡَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺮَﻭْﻥَ  ﻗَﺒْﻠَﻬَﺎ ﻋَﺸْﺮَ ﺁﻳَﺎﺕٍ ﻓَﺬَﻛَﺮَ ﺍﻟﺪُّﺧَﺎﻥَ ﻭَﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﻭَﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔَ ﻭَﻃُﻠُﻮﻉَ  ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻣِﻦْ ﻣَﻐْﺮِﺑِﻬَﺎ ﻭَﻧُﺰُﻭﻝَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ  ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻳَﺄَﺟُﻮﺝَ ﻭَﻣَﺄْﺟُﻮﺝَ ﻭَﺛَﻠَﺎﺛَﺔَ ﺧُﺴُﻮﻑٍ ﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﺸْﺮِﻕِ  ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺠَﺰِﻳﺮَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺮَﺏِ ﻭَﺁﺧِﺮُ ﺫَﻟِﻚَ ﻧَﺎﺭٌ  ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻴَﻤَﻦِ ﺗَﻄْﺮُﺩُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺤْﺸَﺮِﻫِﻢْ  “একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের  কাছে আগমণ করলেন। আমরা তখন কিয়ামত  সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম।  তিনি বললেনঃ যতদিন  তোমরা দশটি আলামত না দেখ ততদিন  কিয়ামত হবেনা।  (১) ধোঁয়া  (২) দাজ্জালের আগমণ  (৩) দাব্বা (ভূগর্ভ থেকে নির্গত অদ্ভুত এক  জানোয়ারের আগমণ)  (৪) পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়  (৫) ঈসা ইবনে মারিয়ামের আগমণ  (৬) ইয়াজুয-মা’জুযের আবির্ভাব  (৭) পূর্বে ভূমিধসন  (৮) পশ্চিমে ভূমিধসন  (৯) আরব উপদ্বীপে ভূমিধসন  (১০) সর্বশেষে ইয়ামান থেকে একটি আগুন  বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার  দিকে হাঁকিয়ে নিবে’’।[73]  তিনি আরো বলেনঃ  ﺇِﻥَّ ﺭََّﺑﻜُﻢْ ﺃَﻧْﺬَﺭَﻛُﻢْ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ : ﺍﻟﺪُّﺧَﺎﻥَ ﻳَﺄْﺧُﺬُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻛَﺎﻟﺰَّﻛَﻤَﺔِ ﻭَﻳَﺄْﺧُﺬُ  ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮَ ﻓَﻴَﻨْﺘَﻔِﺦُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﻣَﺴْﻤَﻊٍ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﺍﻟﺜَّﺎﻧِﻴَﺔَ  ﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔَ ﻭَﺍﻟﺜَّﺎﻟِﺜَﺔَ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ  “নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক  তোমাদেরকে তিনটি বিষয়ে সতর্ক  করছেন।  (১) ধোঁয়া, যা মুমিনকে কেবল এক প্রকার  সর্দিতে আক্রান্ত  করে দেবে এবং কাফেরের শরীরের  প্রতিটি ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ  করে প্রতিটি ছিদ্র দিয়ে বের  হতে থাকবে।  (২) ভূগর্ভ থেকে নির্গত অদ্ভুত এক  জানোয়ারের আগমণ।  (৩) দাজ্জালের আগমণ।[74]  মোটকথা কিয়ামতের  নিকটবর্তী সময়ে ধোঁয়ার আলামতটি বের  হয়ে সমগ্র পৃথিবী ছেয়ে ফেলবে।  কুরআনের আয়াত ও বিশুদ্ধ হাদীছের  মাধ্যমে প্রমাণিত বিধায় তাতে বিশ্বাস  করা প্রত্যেক মু’মিনের উপর ওয়াজিব।  ৭. পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয় হবে  বর্তমানে প্রতিদিন পূর্ব দিক থেকে সূর্য  উদিত হচ্ছে। আখেরী যামানায়  কিয়ামতের সন্নিকটবর্তী সময়ে এ অবস্থার  পরিবর্তন হয়ে পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয়  ঘটবে। এটি হবে কিয়ামতের অত্যন্ত  নিকটবর্তী সময়ে। পশ্চিমাকাশে সূর্য উঠার  পর তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। কুরআন ও  সহীহ হাদীছের মাধ্যমে এ  বিষয়টি প্রমাণিত। আল্লাহ  তা’আলা বলেনঃ  ) ﻫَﻞْ ﻳَﻨﻈُﺮُﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ ﺗَﺄْﺗِﻴَﻬُﻢْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﺃَﻭْ ﻳَﺄْﺗِﻲَ ﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﻭْ ﻳَﺄْﺗِﻲَ  ﺑَﻌْﺾُ ﺁﻳَﺎﺕِ ﺭَﺑِّﻚَ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﺑَﻌْﺾُ ﺁﻳَﺎﺕِ ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﺎ ﻳَﻨﻔَﻊُ ﻧَﻔْﺴًﺎ  ﺇِﻳﻤَﺎﻧُﻬَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﻜُﻦْ ﺁﻣَﻨَﺖْ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻞُ ﺃَﻭْ ﻛَﺴَﺒَﺖْ ﻓِﻲ ﺇِﻳﻤَﺎﻧِﻬَﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ  ﻗُﻞْ ﺍﻧﺘَﻈِﺮُﻭﺍ ﺇِﻧَّﺎ ﻣُﻨﺘَﻈِﺮُﻭﻥَ (  “তারা শুধু এ বিষয়ের  দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের  কাছে ফেরেশতা আগমণ  করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমণ  করবেন। অথবা আপনার পালনকর্তার কোন  নিদর্শন আসবে। যে দিন আপনার  পালনকর্তার কোন নিদর্শন এসে যাবে তখন  এমন ব্যক্তির ঈমান কোন  উপকারে আসবেনা যে পূর্ব থেকে ঈমান  আনয়ন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস  অনুযায়ী কোন সৎকাজ করেনি। হে নবী!  আপনি বলুনঃ তোমরা অপেক্ষা করতে থাক।  আমরাও অপেক্ষা করতে থাকলাম’’।  (সূরা আন’আমঃ ১৫৮)  অধিকাংশ মুফাস্সিরে কুরআনের  মতে অত্র আয়াতে “কোন  নিদর্শন’’ বলতে পশ্চিম দিক  থেকে সূর্যোদয়কে বুঝানো হয়েছে।  ইবনে জারীর আত্-তাবারী বলেনঃ  আয়াতে বর্ণিত নিদর্শনটি পশ্চিমাকাশ  থেকে সূর্য উদিত হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ।  কারণ এ ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীছ  বর্ণিত হয়েছে।[75]  ১) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﻟَﺎ ﺗَﻘُﻮْﻡُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻄْﻠُﻊَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﻣِﻦْ ﻣَﻐْﺮِﺑِﻬَﺎ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻃَﻠَﻌَﺖْ  ﻭَﺭَﺁﻫَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻳَﻌْﻨِﻲ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﺟْﻤَﻌُﻮﻥَ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺣِﻴﻦَ ‏( ﻟَﺎ ﻳَﻨْﻔَﻊُ  ﻧَﻔْﺴًﺎ ﺇِﻳﻤَﺎﻧُﻬَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﻜُﻦْ ﺁﻣَﻨَﺖْ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻞُ ﺃَﻭْ ﻛَﺴَﺒَﺖْ ﻓِﻲ ﺇِﻳﻤَﺎﻧِﻬَﺎ  ﺧَﻴْﺮًﺍ )  “যতদিন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত  হবেনা ততদিন কিয়ামত হবেনা। যখন পশ্চিম  দিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং মানুষ  তা দেখতে পাবে তখন সকলেই ঈমান  আনবে। তখন এমন ব্যক্তির ঈমান কোন  উপকারে আসবেনা যে পূর্ব  থেকে বিশ্বাস স্থাপন  করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস  অনুযায়ী কোন সৎকাজ করেনি’’।[76]  ২) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ  ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﻳَﺒْﺴُﻂُ ﻳَﺪَﻩُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻟِﻴَﺘُﻮﺏَ ﻣُﺴِﻲﺀُ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ  ﻭَﻳَﺒْﺴُﻂُ ﻳَﺪَﻩُ ﺑِﺎﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻟِﻴَﺘُﻮﺏَ ﻣُﺴِﻲﺀُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻄْﻠُﻊَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ  ﻣِﻦْ ﻣَﻐْﺮِﺑِﻬَﺎ  “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা দিনের বেলায়  অপরাধকারীদের তাওবা কবূল করার জন্য  সারা রাত স্বীয় হাত প্রসারিত  করে রাখেন এবং রাতের বেলায়  অপরাধকারীদের তাওবা কবূল করার জন্য  সারা দিন তাঁর হাত প্রসারিত  করে রাখেন। পশ্চিম আকাশ দিয়ে সূর্য উদয়  হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এভাবে তাওবার  দরজা খোলা থাকবে’’।[77]  পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার পর তাওবার  দরজা বন্ধ হয়ে যাবেঃ  আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত পরম দয়াময় ও  ক্ষমাশীল। বান্দা গুনাহ করে যখন তাঁর  কাছে ক্ষমা চায় তখন তিনি খুশী হন  এবং বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। পশ্চিম  আকাশে সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত  তিনি বান্দার তাওবা কবূল করতে থাকবেন।  কিন্তু যখন পশ্চিম আকাশে সূর্য  উঠে যাবে তখন কারো ঈমান গ্রহণযোগ্য  হবেনা এবং ফাসেক ও গুনাহগারের  তাওবাও কবূল হবেনা। কারণ পশ্চিম  আকাশে সূর্য উদিত হওয়া একটি বিরাট  নিদর্শন যা সে সময়কার প্রতিটি জীবিত  ব্যক্তিই দেখতে পাবে এবং প্রত্যেক  কাফেরই কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস  স্থাপন করবে। অথচ  ইতিপূর্বে তারা অস্বীকার করতো। মরণ  উপস্থিত হওয়ার পর পাপী মুমিন ব্যক্তির মতই  হবে তাদের অবস্থা। মরণ উপস্থিত হওয়ার  পর গুনাহগার বান্দার তাওবা যেমন কবূল  হয়না পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার পর  তেমনি কাফেরের ঈমান ও গুনাহগারের  তাওবা কবূল হবেনা। আল্লাহ  তা’আলা বলেনঃ  ) ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺭَﺃَﻭْﺍ ﺑَﺄْﺳَﻨَﺎ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺁﻣَﻨَّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻭَﻛَﻔَﺮْﻧَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﺑِﻪِ  ﻣُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ‏( 84 ‏) ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﻚُ ﻳَﻨْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﺇِﻳﻤَﺎﻧُﻬُﻢْ ﻟَﻤَّﺎ ﺭَﺃَﻭْﺍ ﺑَﺄْﺳَﻨَﺎ ﺳُﻨَّﺔَ  ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻗَﺪْ ﺧَﻠَﺖْ ﻓِﻲ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻭَﺧَﺴِﺮَ ﻫُﻨَﺎﻟِﻚَ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُﻭﻥَ (  “তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ  করলো তখন বললোঃ আমরা এক আল্লাহর  প্রতি বিশ্বাস করলাম  এবং যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক  করতাম তাদেরকে পরিহার করলাম। অতঃপর  তাদের এ ঈমান কোন  উপকারে আসলোনা যখন  তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ  নীতি পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের  মধ্যে প্রচলিত রয়েছে।  সেখানে কাফেরেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়’’।  (সূরা গাফেরঃ ৮৪-৮৫)  ইমাম কুরতুবী পূর্ববর্তী যামানার  আলেমদের থেকে বর্ণনা করে বলেনঃ  পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার পর ঈমান ও  তাওবা কবূল না হওয়ার করণ এই যে, তখন  অন্তরে ভয় ঢুকে যাবে, পাপ কাজ করার  আশা-  আকাঙ্খা মিটে যাবে এবং শরীরের  শক্তি শেষ হয়ে যাবে। কিয়ামত  নিকটবর্তী হওয়ার সময় সকল মানুষ মৃত্যুর দ্বার  প্রান্তে উপস্থিত ব্যক্তির ন্যায়  হয়ে যাবে। তাই পশ্চিম আকাশে সূর্য  দেখে কেউ তাওবা করলে তার  তাওবা কবূল হবেনা। যেমনভাবে মালকুল  মাওতকে দেখে তাওবা করলে কারও  তাওবা কবূল হয়না। (তাফসীরে কুরতুবী, ৭/  ১৪৬)  ইমাম ইবনে কাছীর বলেনঃ “সে দিন  যদি কোন কাফের ঈমান এনে মুসলমান  হয়ে যায় তার ঈমান গ্রহণ করা হবেনা।  সে দিনের পূর্বে যে ব্যক্তি মুমিন  থাকবে সে যদি ঈমানদার হওয়ার  সাথে সাথে সৎকর্ম পরায়ন  হয়ে থাকে তাহলে সে মহান কল্যাণের  উপর থাকবে। আর যদি সে গুনাহগার  বান্দা হয়ে থাকে এবং পশ্চিম  আকাশে সূর্য  উঠতে দেখে তাওবা করে তার  তাওবা কবূল হবেনা’’।[78]  ৮. দাব্বাতুল আরদ্  আখেরী যামানায় কিয়ামতের  সন্নিকটবর্তী সময়ে যমিন থেকে দাব্বাতুল  আরদ্ নামক এক অদ্ভুত জানোয়ার বের হবে।  জন্তুটি মানুষের সাথে কথা বলবে।  এটি হবে কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম  সর্বশেষ ভয়াবহ আলামত। পশ্চিম  আকাশে সূর্য উদিত হওয়ার পর তাওবার  দরজা বন্ধ হয়ে গেলে এটি বের হবে।  সহীহ হাদীছ থেকে জানা যায়, পশ্চিম  আকাশে সূর্য উঠার কিছুক্ষণ পরই যমিন  থেকে এই অদ্ভুত জানোয়ারটি বের হবে।  তাওবার দরজা যে একেবারেই বন্ধ  হয়ে গেছে- এ  কথাটিকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করার জন্য  সে মুমিনদেরকে কাফের  থেকে নির্দিষ্ট চিহ্নের  মাধ্যমে আলাদা করে ফেলবে। মু’মিনের  কপালে লিখে দিবে ‘মুমিন’  এবং কাফেরের  কপালে লিখে দিবে ‘কাফের’।  এ ব্যাপারে কুরআন  থেকে যা জানা যায়ঃ  কুরআন মাযীদের সূরা নামলের ৮২  নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ  ) ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻭَﻗَﻊَ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺃَﺧْﺮَﺟْﻨَﺎ ﻟَﻬُﻢْ ﺩَﺍﺑَّﺔً ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺗُﻜَﻠِّﻤُﻬُﻢْ  ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻟَﺎ ﻳُﻮﻗِﻨُﻮﻥَ (  “যখন প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত)  নিকটবর্তী হবে তখন আমি তাদের  সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী নির্গত  করবো। সে মানুষের  সাথে কথা বলবেঃ এ বিষয়ে যে, মানুষ  আমার নিদর্শন সমূহে বিশ্বাস করতোনা’’।  ইবনে কাছীর বলেনঃ  আখেরী যামানায় মানুষ যখন নানা পাপ  কাজে লিপ্ত হবে, আল্লাহর আদেশ পালন  বর্জন করবে এবং দ্বীনকে পরিবর্তন  করবে তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের  সামনে এই জন্তুটি বের করবেন’’।[79]  ইবনে আব্বাস (রাঃ)  বলেনঃ “জন্তুটি মানুষের মতই  কথা বলবেমুমিন।[80] প্রাণীটির কাজ  কি হবে এবং কি বিষয়ে মানুষের  সাথে কথা বলবে- এ  ব্যাপারে আল্লামা আলূসী বলেনঃ আয়াতে উল্লেখিত  কুরআনের বাণীটিই হবে তার কথা। অর্থাৎ  ( ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻟَﺎ ﻳُﻮﻗِﻨُﻮﻥَ ) এই  বাক্যটি সে আল্লাহর পক্ষ  থেকে মানুষকে শুনাবে। মর্ম এই যে,  আজকের পূর্বে অনেক মানুষই আল্লাহর  আয়াত ও নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করেনি।  বিশেষ করে কিয়ামতের আলামত ও  তা সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে। এমনকি আমার  আগমণের বিষয়েও অনেক মানুষ বিশ্বাস  করতোনা। এখন সে সময়  এসে গেছে এবং আমিও বের  হয়ে এসেছি।  দাব্বাতুল আরদ্ সম্পর্কে হাদীছ  থেকে যা অবগত হওয়া যায়ঃ  ১) মুসলিম শরীফে হুযায়ফা (রাঃ)  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ  ﺍﻃَّﻠَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﻧَﺘَﺬَﺍﻛَﺮُ ﻓَﻘَﺎﻝَ  ﻣَﺎ ﺗَﺬَﺍﻛَﺮُﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻧَﺬْﻛُﺮُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﻦْ ﺗَﻘُﻮﻡَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺮَﻭْﻥَ  ﻗَﺒْﻠَﻬَﺎ ﻋَﺸْﺮَ ﺁﻳَﺎﺕٍ ﻓَﺬَﻛَﺮَ ﺍﻟﺪُّﺧَﺎﻥَ ﻭَﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﻭَﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔَ ﻭَﻃُﻠُﻮﻉَ  ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻣِﻦْ ﻣَﻐْﺮِﺑِﻬَﺎ ﻭَﻧُﺰُﻭﻝَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ  ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻳَﺄَﺟُﻮﺝَ ﻭَﻣَﺄْﺟُﻮﺝَ ﻭَﺛَﻠَﺎﺛَﺔَ ﺧُﺴُﻮﻑٍ ﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﺸْﺮِﻕِ  ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺠَﺰِﻳﺮَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺮَﺏِ ﻭَﺁﺧِﺮُ ﺫَﻟِﻚَ ﻧَﺎﺭٌ  ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻴَﻤَﻦِ ﺗَﻄْﺮُﺩُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺤْﺸَﺮِﻫِﻢْ  “একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট  আগমণ করলেন। আমরা তখন কিয়ামতের  আলামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম।  তিনি বললেনঃ যতদিন  তোমরা দশটি আলামত না দেখ ততদিন  কিয়ামত হবেনা। (১) ধোঁয়া (২)  দাজ্জালের আগমণ (৩) ভূগর্ভ থেকে নির্গত  দাব্বাতুল আরদ্ নামক অদ্ভুত এক  জানোয়ারের আগমণ ৪) পশ্চিম দিক  থেকে সূর্যোদয় (৫)  ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমণ (৬) ইয়াজুয-  মা’জুযের আবির্ভাব (৭) পূর্বে ভূমিধসন (৮)  পশ্চিমে ভূমিধসন (৯) আরব  উপদ্বীপে ভূমিধসন (১০) সর্বশেষে ইয়ামান  থেকে একটি আগুন বের  হয়ে মানুষকে সিরিয়ার  দিকে হাঁকিয়ে নিবে’’।  ২) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔُ ﻓَﺘَﺴِﻢُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻋَﻠَﻰ ﺧَﺮَﺍﻃِﻴﻤِﻬِﻢْ ﺛُﻢَّ ﻳَﻐْﻤُﺮُﻭﻥَ  ﻓِﻴﻜُﻢْ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺸْﺘَﺮِﻱَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺍﻟْﺒَﻌِﻴﺮَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﺷْﺘَﺮَﻳْﺘَﻪُ  ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﺷْﺘَﺮَﻳْﺘُﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﺣَﺪِ ﺍﻟْﻤُﺨَﻄَّﻤِﻴﻦَ  অর্থঃ “দাব্বাতুল আরদ্ নামক  একটি প্রাণী বের হবে এবং মানুষের  নাকে চিহ্ন দিবে। অতঃপর  মানুষেরা পৃথিবীতে জীবন যাপন করবে।  প্রাণীটি সকল মানুষের নাকেই দাগ  লাগিয়ে দিবে। এমনকি উট  ক্রয়কারীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়  তুমি এটি কার কাছ থেকে ক্রয় করেছো?  সে বলবেঃ আমি এটি নাকে দাগ  ওয়ালা একজন ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রয়  করেছি’’।[81]  ৩) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ  ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔُ ﻣَﻌَﻬَﺎ ﻋَﺼَﺎ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻭَﺧَﺎﺗَﻢُ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻓَﺘَﺠْﻠُﻮ ﻭَﺟْﻪَ  ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﺑِﺎﻟْﻌَﺼَﺎ ﻭَﺗَﺨْﺘِﻢُ ﺃَﻧْﻒَ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِ ﺑِﺎﻟْﺨَﺎﺗَﻢِ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﻥَّ ﺃَﻫْﻞَ  ﺍﻟْﺨِﻮَﺍﻥِ ﻟَﻴَﺠْﺘَﻤِﻌُﻮﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﺎ ﻣُﺆْﻣِﻦُ ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﺎ ﻛَﺎﻓِﺮُ  “দাব্বাতুল আরদ্ বের হবে। তার  সাথে থাকবে মূসা (আঃ)এর  লাঠি এবং সুলায়মান (আঃ)এর আংটি।  কাফেরের নাকে সুলায়মান (আঃ)এর  আংটি দিয়ে দাগ  লাগাবে এবং মূসা (আঃ)এর  লাঠি দিয়ে মু’মিনের চেহারাকে উজ্জল  করে দিবে। লোকেরা খানার টেবিল ও  দস্তরখানায় বসেও  একে অপরকে বলবেঃ হে মুমিন!  হে কাফের![82]  প্রাণীটির ধরণ কেমন হবে?  প্রাণীটি হবে মানব জাতির  কাছে পরিচিত চতুষ্পদ জন্তুসমূহের  চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।  সেটি মানুষের সাথে কথা বলবে।  প্রাণীটি কোন শ্রেণীর হবে-  এনিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন।  ১) ইমাম কুরতুবী বলেনঃ এটি হবে সালেহ  (আঃ)এর উটনীর বাছুর। যখন  কাফেরেরা উটনীকে হত্যা করে দিল  তখন বাছুরটি পাথরের  মাঝে ঢুকে পড়েছিল। সেটি আল্লাহর  অনুমতিক্রমে কিয়ামতের পূর্বে বের  হয়ে আসবে। ইমাম কুরতুবী বলেনঃ এটিই  বিশুদ্ধ মত।  তাঁর এ কথা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ  তিনি যে হাদীছ দিয়ে দলীল গ্রহণ  করেছেন তার সনদে এমন একজন  রাবী (বর্ণনাকারী) আছেন যার  বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।  ২) কেউ কেউ বলেছেন  এটি হবে দাজ্জালের হাদীছে বর্ণিত  জাস্সাসা।  এ মতটিও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ  দাজ্জালের হাদীছে যে প্রাণীটির  কথা এসেছে তার নাম জাস্সাসা। আর  কিয়ামতের পূর্বে যে প্রাণীটি বের  হবে তার নাম দাব্বাতুল আরদ্  যা কুরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ  করা হয়েছে।  ৩) কেউ কেউ বলেছেনঃ এটি হলো সেই  সাপ যা কা’বার দেয়ালে ছিল।  কুরাইশরা যখন কা’বা ঘর নির্মাণ করার  ইচ্ছা পোষাণ করল তখন সাপটিই তাদের  নির্মাণ কাজ শুরু করতে মূল  বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।  একটি পাখি এসে সাপটিকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলে নির্মাণ  কাজের বাধা দূর হয়ে যায়। কিন্তু এ কথার  পক্ষেও কোন দলীল নেই।  এমনি আরো অনেক কথা বর্ণিত আছে।  এগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কোন প্রয়োজন  নেই। কারণ কোন  একটি মতের স্বপক্ষে সহীহ কোন দলীল  পাওয়া যায়না।  শায়খ আহমাদ শাকের মুসনাদে আহমাদের  ব্যাখ্যায় বলেনঃ “কুরআনের  আয়াতে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়  বলা আছে এটি হলো দাব্বাতুল আরদ্।  দাব্বা অর্থ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কোন প্রকার  ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই;  বরং আমরা বিশ্বাস  করি আখেরী যামানায় একটি অদ্ভুত  ধরণের জন্তু বের হবে।  সে মানুষের সাথে কথা বলবে। কুরআন ও  সহীহ হাদীছে তাঁর গুণাগুণও বর্ণিত  হয়েছে। আমরা তাতে বিশ্বাস করিমুমিন।  পৃথিবীর কোন্  জায়গা থেকে প্রাণীটি বের হবে?  ১) এটি বের হবে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও  সবচেয়ে সম্মানিত মসজিদ থেকে।  ইবনে উমার (রাঃ) বলেনঃ “সাফা পাহাড়  ফেটে প্রাণীটি বের হবে।  তিনি বলেনঃ আমি যদি চাইতাম  তাহলে যে স্থানটি থেকে বের  হবে তাতে পা রেখে দেখাতে পারতাম’’।  [83]  ২) জন্তুটি তিনবার বের হবে। প্রথমে বের  হবে কা’বা শরীফ  হতে দূরবর্তী একটি গ্রাম থেকে। অতঃপর  কিছু দিন লুকিয়ে থাকার পর আবার বের  হবে। পরিশেষে কাবা ঘর থেকে বের  হবে।  এ ব্যাপারে আরো কথা বর্ণিত আছে। সব  মিলিয়ে আমরা বলবঃ মক্কা শরীফ  থেকে দাব্বাতুল আরদ্ বের হবে। অতঃপর  সমগ্র পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে।  প্রাণীটির কাজ কি হবে?  ১) প্রাণীটি মানুষের সাথে কথা বলবে।  প্রাণীটি কি বিষয়ে মানুষের  সাথে কথা বলবে- এ  ব্যাপারে আল্লামা আলূসী বলেনঃ আয়াতে উল্লেখিত  কুরআনের বাণীটিই হবে তার কথা। অর্থাৎ  ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻟَﺎ ﻳُﻮﻗِﻨُﻮﻥَ  এই বাক্যটি সে আল্লাহর পক্ষ  থেকে মানুষকে শুনাবে। মর্ম এই যে,  আজকের পূর্বে অনেক মানুষই আল্লাহর  আয়াত ও নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করেনি।  বিশেষ করে কিয়ামতের আলামত ও  তা আগমণের বিষয়ে। এমনকি আমার  আগমণের বিষয়েও অনেক মানুষ বিশ্বাস  করতোনা। এখন সে সময়  এসে গেছে এবং আমিও বের  হয়ে এসেছি।  ২) সে মুমিনদেরকে কাফের  থেকে নির্দিষ্ট চিহ্নের  মাধ্যমে আলাদা করে ফেলবে। মু’মিনের  কপালে লিখে দিবে ‘মুমিন’এবং কাফেরের  কপালে লিখে দিবে ‘কাফের’।  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ  ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔُ ﻓَﺘَﺴِﻢُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻋَﻠَﻰ ﺧَﺮَﺍﻃِﻴﻤِﻬِﻢْ ﺛُﻢَّ ﻳَﻐْﻤُﺮُﻭﻥَ  ﻓِﻴﻜُﻢْ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺸْﺘَﺮِﻱَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺍﻟْﺒَﻌِﻴﺮَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﺷْﺘَﺮَﻳْﺘَﻪُ  ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﺷْﺘَﺮَﻳْﺘُﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﺣَﺪِ ﺍﻟْﻤُﺨَﻄَّﻤِﻴﻦَ  “দাব্বাতুল আরদ্ নামক একটি প্রাণী বের  হবে এবং মানুষের নাকে চিহ্ন দিবে।  অতঃপর মানুষেরা পৃথিবীতে জীবন যাপন  করবে। প্রাণীটি সকল মানুষের নাকেই  দাগ লাগিয়ে দিবে। এমনকি উট  ক্রয়কারীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়  তুমি এটি কার কাছ থেকে ক্রয় করেছো?  সে বলবেঃ আমি এটি নাকে দাগ  ওয়ালা একজন ব্যক্তির নিকট  থেকে কিনেছি’’।[84] নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ  ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔُ ﻣَﻌَﻬَﺎ ﻋَﺼَﺎ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻭَﺧَﺎﺗَﻢُ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻓَﺘَﺠْﻠُﻮ ﻭَﺟْﻪَ  ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﺑِﺎﻟْﻌَﺼَﺎ ﻭَﺗَﺨْﺘِﻢُ ﺃَﻧْﻒَ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِ ﺑِﺎﻟْﺨَﺎﺗَﻢِ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﻥَّ ﺃَﻫْﻞَ  ﺍﻟْﺨِﻮَﺍﻥِ ﻟَﻴَﺠْﺘَﻤِﻌُﻮﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﺎ ﻣُﺆْﻣِﻦُ ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﺎ ﻛَﺎﻓِﺮُ  “দাব্বাতুল আরদ্ বের হবে। তার  সাথে থাকবে মূসা (আঃ)এর  লাঠি এবং সুলায়মান (আঃ)এর আংটি।  কাফেরের নাকে সুলায়মান (আঃ)এর  আংটি দিয়ে দাগ  লাগিয়ে দিবে এবং মূসা (আঃ)এর  লাঠি দিয়ে মু’মিনের চেহারাকে উজ্জল  করে দিবে। এমনকি লোকেরা খানার  টেবিলে (দস্তরখানায়) বসেও  একে অপরকে বলবেঃ হে মুমিন!  হে কাফের!’’[85]  ৯. কিয়ামতের সর্বশেষ আলামত  কিয়ামতের পূর্বে ইয়ামানের আদন নামক  স্থানের গর্ত থেকে একটি ভয়াবহ  আকারের আগুন বের  হয়ে মানুষকে হাশরের দিকে একত্রিত  করবে। এ ব্যাপারে কতিপয় সহীহ হাদীছ  নিম্নে বর্ণিত হলোঃ  ১) মুসলিম শরীফে হুযায়ফা (রাঃ)  হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ  ﺍﻃَّﻠَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﻧَﺘَﺬَﺍﻛَﺮُ ﻓَﻘَﺎﻝَ  ﻣَﺎ ﺗَﺬَﺍﻛَﺮُﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻧَﺬْﻛُﺮُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﻦْ ﺗَﻘُﻮﻡَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺮَﻭْﻥَ  ﻗَﺒْﻠَﻬَﺎ ﻋَﺸْﺮَ ﺁﻳَﺎﺕٍ ﻓَﺬَﻛَﺮَ ﺍﻟﺪُّﺧَﺎﻥَ ﻭَﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﻭَﺍﻟﺪَّﺍﺑَّﺔَ ﻭَﻃُﻠُﻮﻉَ  ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻣِﻦْ ﻣَﻐْﺮِﺑِﻬَﺎ ﻭَﻧُﺰُﻭﻝَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ  ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻳَﺄَﺟُﻮﺝَ ﻭَﻣَﺄْﺟُﻮﺝَ ﻭَﺛَﻠَﺎﺛَﺔَ ﺧُﺴُﻮﻑٍ ﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﺸْﺮِﻕِ  ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺎﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَﺧَﺴْﻒٌ ﺑِﺠَﺰِﻳﺮَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺮَﺏِ ﻭَﺁﺧِﺮُ ﺫَﻟِﻚَ ﻧَﺎﺭٌ  ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻴَﻤَﻦِ ﺗَﻄْﺮُﺩُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺤْﺸَﺮِﻫِﻢْ  “একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের  কাছে আগমণ করলেন। আমরা তখন কিয়ামত  সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম।  তিনি বললেনঃ যত দিন  তোমরা দশটি আলামত না দেখ তত দিন  কিয়ামত হবেনা।  (১) ধোঁয়া  (২) দাজ্জালের আগমণ  (৩) ভূগর্ভ থেকে নির্গত দাব্বাতুল আরদ্  নামক অদ্ভুদ এক জানোয়ারের আগমণ  (৪) পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়  (৫) ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমণ  (৬) ইয়াজুজ-মা’জুজের আবির্ভাব  (৭) পূর্বে ভূমি ধসন  (৮) পশ্চিমে ভূমি ধসন  (৯) আরব উপদ্বীপে ভূমি ধসন  (১০) সর্বশেষে ইয়ামান থেকে একটি আগুন  বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার  দিকে হাঁকিয়ে নিবে’’।[86]  (২) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﻭَﻧَﺎﺭٌ ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦْ ﻗُﻌْﺮَﺓِ ﻋَﺪَﻥٍ ﺗَﺮْﺣَﻞُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ  “আদনের গর্ত থেকে ভয়াবহ একটি আগুন  বের হবে যা মানুষকে হাঁকিয়ে নিবে’’।  [87]  ৩) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ  ﺳَﺘَﺨْﺮُﺝُ ﻧَﺎﺭٌ ﻣِﻦْ ﺣَﻀْﺮَﻣَﻮْﺕَ ﺃَﻭْ ﻣِﻦْ ﺑَﺤْﺮِ ﺣَﻀْﺮَﻣَﻮْﺕَ ﻗَﺒْﻞَ ﻳَﻮْﻡِ  ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺗَﺤْﺸُﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ  “কিয়ামতের পূর্বে ইয়ামানের  ‘হাযরামাওত’ অথবা ‘হাযরামাওত’ এর সাগর  থেকে একটি আগুন বের  হয়ে মানুষদেরকে একত্রিত করবে’’।[88]  মানুষকে কোথায় একত্রিত করা হবে?  আখেরী যামানায় ইয়ামানের আদন  নামক গর্ত থেকে আগুনটি বের হয়ে সকল  মানুষকে হাশরের দিকে হাঁকিয়ে নিবে।  হাশরের স্থান হবে শাম দেশ।  তৎকালে সিরিয়া, ফিলিস্তীন, লেবানন  এবং জর্ডান অঞ্চল শাম দেশ  হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। এমর্মে অনেক  সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।  ১) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﻫَﺎﻫُﻨَﺎ ﺗُﺤْﺸَﺮُﻭﻥَ ﻫَﺎﻫُﻨَﺎ ﺗُﺤْﺸَﺮُﻭﻥَ ﻫَﺎﻫُﻨَﺎ ﺗُﺤْﺸَﺮُﻭﻥَ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ ﺭُﻛْﺒَﺎﻧًﺎ  ﻭَﻣُﺸَﺎﺓً ﻭَﻋَﻠَﻰ ﻭُﺟُﻮﻫِﻜُﻢْ ﻓَﺄَﺷَﺎﺭَ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺸَّﺎﻡ  “তোমাদেরকে এখানে একত্রিত  করা হবে, তোমাদেরকে এখানে একত্রিত  করা হবে, তোমাদেরকে এখানে একত্রিত  করা হবে, কথাটি তিনবার বললেন।  আরোহিত অবস্থায়, পদব্রজে এবং মুখের  উপর টেনে-হিচঁড়ে একত্রিত করা হবে।  অতঃপর তিনি শামের দিকে ইঙ্গিত  করলেন’’।[89]  ২) নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  ﺍﻟﺸَّﺎﻡِ ﺃَﺭْﺽُ ﺍﻟﻤَﺤْﺸَﺮِ ﻭَ ﺍﻟْﻤَﻨْﺸَﺮِ  “শাম হলো হাশর ও পুনরুত্থানের স্থান’’।[90]  ৩) ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ)  বলেনঃ শামের যমিন হাশরের মাঠ হওয়ার  ব্যাপারে যে ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ  করবে সে যেন সূরা হাশরের প্রথম  কয়েকটি আয়াত পাঠ করে। বনী নযীরের  ইহুদীরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে বিশ্বাস  ঘাতকতা করল তখন  তিনি তাদেরকে বললেন