কেয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর (২য় পর্ব)


কেয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর (২য় পর্ব)

চতুর্থ অধ্যায়
জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের বিবরণ
কাফের ও মুশরিকদের যখন জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে তখন তারা জাহান্নামে বসে তাদের এ দুর্গতির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করবে। একদল তাদের পূর্বসূরীদের দুষবে। আরেক দল তাদের নেতাদের দোষ দেবে। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক কথা বলেছেন তার কিছু এখানে তুলে ধরলাম।
তিনি বলবেন, আগুনে প্রবেশ কর জিন ও মানুষের দলগুলোর সাথে, যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে। যখনই একটি দল প্রবেশ করবে, তখন পূর্বের দলকে তারা লানত করবে। অবশেষে যখন তারা সবাই তাতে একত্রিত হবে তখন তাদের পরবর্তী দলটি পূর্বের দল সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের রব, এরা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। তাই আপনি তাদেরকে আগুনের দ্বিগুণ আযাব দিন। তিনি বলবেন, সবার জন্য দ্বিগুণ, কিন্তু তোমরা জান না। আর তাদের পূর্ববর্তী দল পরবর্তী দলকে বলবে, তাহলে আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। অতএব তোমরা যা অর্জন করেছিলে, তার কারণে তোমরা আযাব আস্বাদন কর। (সূরা আল আরাফ, আয়াত ৩৮-৩৯)
আর জাহান্নামে তারা যখন বানানুবাদে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলরা, যারা অহঙ্কার করেছিল, তাদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, অতএব তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিয়দংশ বহন করবে? অহঙ্কারীরা বলবে, আমরা সবাই এতে আছি; নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে ফেলেছেন। আর যারা আগুনে থাকবে তারা আগুনের দারোয়ানদেরকে বলবে, তোমাদের রবকে একটু ডাকো না! তিনি যেন একটি দিন আমাদের আযাব লাঘব করে দেন। তারা বলবে, তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেনি? জাহান্নামীরা বলবে, হ্যাঁ অবশ্যই। দারোয়ানরা বলবে, তবে তোমরাই দুআ কর। আর কাফিরদের দুআ কেবল নিষ্ফলই হয়।’(সূরা আল মুমিন ৪৭-৫০)
আর তারা সবাই আল্লাহর সামনে হাজির হবে, অতঃপর যারা অহঙ্কার করেছে দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, নিশ্চয় আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। সুতরাং তোমরা কি আল্লাহর আযাবের মোকাবেলায় আমাদের কোন উপকারে আসবে? তারা বলবে, যদি আল্লাহ আমাদের হেদায়েত করতেন, তাহলে আমরাও তোমাদের হেদায়েত করতাম। এখন আমরা অস্থির হই কিংবা ধৈর্য ধারন করি, উভয় অবস্থাই আমাদের জন্য সমান। আমাদের পালানোর কোন জায়গা নেই। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ২১)
নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে লানত করেছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। তারা না পাবে কোন অভিভাবক এবং না কোন সাহায্যকারী। যেদিন তাদের চেহারাগুলো আগুনে উপুড় করে দেয়া হবে, তারা বলবে, হায়, আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম, তারা আরো বলবে, হে আমাদের রব, আমরা আমাদের নেতৃবর্গ ও বিশিষ্ট লোকদের আনুগত্য করেছিলাম, তখন তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের রব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ আযাব দিন এবং তাদেরকে বেশী করে লানত করুন। (সূরা আল আহযাব, ৬৪-৬৮)
এবং পথভ্রষ্টকারীদের জন্য জাহান্নাম উন্মোচিত করা হবে। আর তাদেরকে বলা হবে, তারা কোথায় যাদের তোমরা ইবাদাত করতে আল্লাহ ছাড়া? তারা কি তোমাদেরকে সাহায্য করছে, না নিজেদের সাহায্য করতে পারছে; অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে,  আর ইবলিসের সকল সৈন্যবাহিনীকেও। সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে, আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায়  নিমজ্জিত ছিলাম। যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম। আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। অতএব, আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই এবং কোন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই। হায়, আমাদের যদি আরেকটি সুযোগ হত, তবে আমরা মুমিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম। (সূরা আশ শুআরা, আয়াত ৯১-১০২)
অনুসারীদের থেকে শয়তানের দায়মুক্তির চেষ্টা
যখন শয়তানের অনুগত কাফের মুশরিকদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তখন শয়তানকে ডাকা হবে। শয়তান বলবে এদের কূফরী ও শিরকে আমিও মোটেও যুক্ত ছিলাম না। সে আরো বলবে আমি যে এদের কুফরী ও শিরক করতে উদ্বুদ্ধ করেছি এমন কোন প্রমাণ তাদের কাছে নেই।
এ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
আর যখন যাবতীয় বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা। আর তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না, তবে আমিও তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম। তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং তোমরা আমাকে তিরস্কার করো না, বরং নিজদেরকেই তিরস্কার কর। আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই, আর তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও। ইতঃপূর্বে তোমরা আমাকে যার সাথে শরীক করেছ, নিশ্চয় আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।  (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ২২)
জাহান্নামবাসীদের আফসোস ও অনুতাপ
জাহান্নাবাসীরা জাহান্নামে গিয়ে যে আফসোস ও অনুতাপ করবে তার কিছু আলোচনা আল – কুরআনে এভাবে এসেছে
وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ وَجَعَلْنَا الْأَغْلَالَ فِي أَعْنَاقِ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ. (سورة سبأ : 33)
আর তারা যখন আযাব দেখবে তখন তারা অনুতাপ গোপন করবে। আর আমি কাফিরদের গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দেব। তারা যা করত কেবল তারই প্রতিফল তাদেরকে দেয়া হবে। (সূরা সাবা আয়াত ৩৩)
وَلَوْ أَنَّ لِكُلِّ نَفْسٍ ظَلَمَتْ مَا فِي الْأَرْضِ لَافْتَدَتْ بِهِ وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ. (سورة يونس : 54)
আর যমীনে যা রয়েছে, তা যদি যুলম করেছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির হয়ে যায়, তবে তা সে মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দেবে এবং তারা লজ্জা গোপন করবে, যখন তারা আযাব দেখবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করা হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না। (সূরা ইউনূস, আয়াত ৫৪)
আর সেদিন যালিম (অনুতাপে) নিজের হাত দুটো কামড়িয়ে বলবে, হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোন পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দুর্ভোগ, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। অবশ্যই সে তো আমাকে উপদেশবাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে তা আসার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক। (সূরা আল ফোরকান, আয়াত ২৭-২৯)
হাদীসে এসেছে-
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক জান্নাতীকে, যদি তার কর্ম খারাপ হতো তাহলে জাহান্নামে তার অবস্থান কোথায় হত তা দেখানো হবে। তখন সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। আর প্রত্যেক জাহান্নামীকে, যদি তার কর্ম ভালো হতো তাহলে জান্নাতে তার অবস্থান কোথায় হতো তা দেখানো হবে। তখন সে অনুতাপ করবে। (বর্ণনায়: বুখারী)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন জান্নাতীরা জান্নাতে যাবে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাবে তখন মুত্যুকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থানে জবেহ করে দেয়া হবে। অত:পর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবে, হে জান্নাতবাসীরা! আর কোন মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামবাসীরা! আর কোন মৃত্যু নেই। এ ঘোষণা শুনে জান্নাতীদের আনন্দ-ফুর্তি আরো বেড়ে যাবে। আর জাহান্নামীদের দু:খ- অনুতাপ আরো বেড়ে যাবে। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম) আবু সায়ীদ আল খুদরী বর্ণিত মুসলিমের বর্ণনায় একটি বাক্য বেশী আছে। তা হল: একথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করেছেন যে,
وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ. سورة مريم: 39
আর তাদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপ দিবস সম্পর্কে যখন সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, অথচ তারা রয়েছে উদাসীনতায় বিভোর এবং তারা ঈমান আনছে না। (সূরা মারইয়াম, আয়াত ৩৯) উদাসীনতায় বিভোর কথাটি বলার সময় তিনি দুনিয়ার দিকে হাত দ্বারা ইশারা করেছেন। (বর্ণনায় : মুসলিম)
জাহান্নামের শাস্তি হবে চিরস্থায়ী
আল্লাহ তাআলা বলেন:নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে স্থায়ী হবে; তাদের থেকে আযাব কমানো হবে না এবং তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়বে।  আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি; কিন্তু তারাই ছিল যালিম। তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালিক, তোমার রব যেন আমাদেরকে শেষ করে দেন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা অবস্থানকারী। অবশ্যই তোমাদের কাছে আমি সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী। (সূরা যুখরুফ, আয়াত ৭৪-৭৮)
তিনি আরো বলেন:
আর যারা কুফরী করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের প্রতি এমন কোন ফয়সালা দেয়া হবে না যে, তারা মারা যাবে, এবং তাদের থেকে জাহান্নামের আযাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিফল দিয়ে থাকি। আর সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে বের করে দিন, আমরা পূর্বে যে আমল করতাম, তার পরিবর্তে আমরা নেক আমল করব। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি যে, তখন কেউ শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত? আর তোমাদের কাছে তো সতর্ককারী এসেছিল। কাজেই তোমরা আযাব আস্বাদন কর, আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা আল ফাতির, আয়াত ৩৬-৩৭)
জাহান্নামের শিকল ও আলকাতরা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَتَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ ﴿49﴾ سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ ﴿50﴾ (سورة إبراهيم)
আর সে দিন তুমি অপরাধীদের দেখবে তারা শিকলে বাঁধা। তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের চেহারাসমূহকে ঢেকে ফেলবে। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৪৯-৫০)
আর যদি তুমি আশ্চর্য বোধ কর, তাহলে আশ্চর্যজনক হল তাদের  বক্তব্য, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পরিণত হব? এরাই তারা, যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে,আর ওদের গলায় থাকবে শিকল এবং ওরা অগ্নিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। (সূরা আর রাদ, আয়াত ৫)
জাহান্নামের যাক্কুম বৃক্ষ
আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে বলেন:
নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ পাপীর খাদ্য ; গলিত তামার মত, উদরসমূহে ফুটতে থাকবে। ফুটন্ত পানির মত (বলা হবে) ওকে ধর, অতঃপর তাকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে টেনে নিয়ে যাও। তারপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও। (বলা হবে) তুমি আস্বাদন কর, নিশ্চয় তুমিই সম্মানিত, অভিজাত। নিশ্চয় এটা তা-ই যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে। (সূরা আদ দুখান, আয়াত ৪৩-৫০)
আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কুম বৃক্ষ, নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা। নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা, নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনে। নিশ্চয় এরা নিজদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল, ফলে তারাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটেছে। (সূরা আস সাফফাত, আয়াত ৬২-৭০)
এ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন: তোমরা আল্লাহ-কে যথাযথ ভয় করো আর মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। এরপর তিনি বললেন: যদি যাক্কুম বৃক্ষ থেকে একটি ফোটা পৃথিবীতে পতিত হয়, তাহলে তা পৃথিবীবাসীর সব জীবনোপকরণ নষ্ট করে দেবে। অতএব যে তা খাবে তার অবস্থা কী হবে? (বর্ণনায়: তিরমিজী। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)
গলিত পুঁজ হবে জাহান্নামীদের খাদ্য
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
আর তারা বিজয় কামনা করল, আর ব্যর্থ হল সকল স্বৈরাচারী হঠকারী। এর সামনে রয়েছে জাহান্নাম, আর তাদের পান করানো হবে গলিত পুঁজ থেকে। সে তা গিলতে চাইবে এবং প্রায় সহজে সে তা গিলতে পারবে না। আর তার কাছে সকল স্থান থেকে  মৃত্যু ধেঁয়ে আসবে, অথচ সে মরবে না। আর  এর পরেও রয়েছে কঠিন আযাব । (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ১৫-১৭)
এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, যারা তাদের রব সম্পর্কে বিতর্ক করে। তবে যারা কুফরী করে তাদের জন্য আগুনের পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর থেকে ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি। যার দ্বারা তাদের পেটের অভ্যন্তরে যা কিছু রয়েছে তা ও তাদের চামড়াসমূহ বিগলিত করা হবে। আর তাদের জন্য থাকবে লোহার হাতুড়ী। যখনই তারা যন্ত্রণাকাতর হয়ে তা থেকে বের হয়ে আসতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং বলা হবে, দহন-যন্ত্রণা আস্বাদন কর। (সূরা আল হজ, আয়াত ১৯-২২)
সৎকাজে আদেশ করে ও অন্যায় থেকে নিষেধ করে অথচ নিজে তা থেকে দূরে থাকে না এমন ব্যক্তির শাস্তি
আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা অন্যকে ভাল কাজের আদেশ দেয় কিন্তু নিজে করে না। আবার অন্যকে অন্যায় ও পাপাচার থেকে ফিরে থাকতে বলে অথচ সে নিজে তাতে লিপ্ত হয়। এমন ব্যক্তি জাহান্নামে এক বিশেষ ধরনের শাস্তি ভোগ করবে।
হাদীসে এসেছে
উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, তার পেটের নাড়িভুরিগুলো ঘুরপাক খেতে থাকবে। ফলে সে গাধার মত ঘুরতে থাকবে। গাধা যেমন চরকার পাশে ঘুরে থাকে। জাহান্নামের অধিবাসীরা তাকে দেখার জন্য জড়ো হবে। তারা তাকে বলবে, এই! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি কি সৎ কাজের আদেশ করতে না আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে: হ্যা, আমি সৎ কাজের আদেশ করতাম কিন্তু তা নিজে করতাম না। আর অন্যায় ও অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত থাকতে বলতাম কিন্তু নিজে তাতে লিপ্ত হতাম। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)
জাহান্নামে সবচেয়ে নিম্নমানের শাস্তির ধরন
হাদীসে এসেছে
সাহাবী নুমান ইবনে বশীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জাহান্নামীদের মধ্যে যার সবচেয়ে হাল্কা শাস্তি হবে তার শাস্তির ধরনটা এমন হবে যে, তার পায়ে আগুনের দুটো জুতা থাকবে ও আগুনের দুটো ফিতা থাকবে। এর আগুনের তাপে তার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে যেমন ডেগের মধ্যে পানি ফুটতে থাকে। লোকেরা তার অবস্থা দেখে মনে করবে এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছু নেই। অথচ এ শাস্তিটা হল সবচেয়ে হাল্কা শাস্তি। (বর্ণনায় : মুসলিম)
জাহান্নামে শাস্তির বিভিন্ন স্তর
হাদীসে এসেছে-
সামুরা ইবনে জুনদাব রা. থেকে বর্ণিত যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জাহান্নামীদের কারো পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত আগুনে স্পর্ষ করবে। করো হাটু পর্যন্ত আগুনে স্পর্ষ করবে। কারো কোমর পর্যন্ত আবার কারো কণ্ঠ পর্যন্ত আগুন স্পর্ষ করবে। (বর্ণনায় : মুসলিম)
নারীরা অধিকহারে জাহান্নামে যাবে
হাদীসে এসেছে-
উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি জান্নাতের গেটে দাড়ালাম, দেখলাম যারা তাতে প্রবেশ করেছে তারা অধিকাংশ ছিল দুনিয়াতে দরিদ্র অসহায়। আর ধনী ও প্রভাবশালীদের আটকে দেয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে যাদের জাহান্নামে যাওয়ার ফয়সালা হয়ে গেছে তাদের কথা আলাদা। আর আমি জাহান্নামের প্রবেশ পথে দাড়ালাম। দেখলাম, যারা প্রবেশ করছে তাদের অধিকাংশ নারী। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
কেন নারীরা পুরুষদের তুলনায় অধিকহারে জাহান্নামে যাবে?
অন্য একটি হাদীসে এ সম্পর্কে এসেছে.
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : হে নারীগণ! তোমরা দান-সদাক করো। বেশী বেশী করে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। কেননা আমি জাহান্নামে তোমাদের অধিকহারে দেখেছি। এ কথা শোনার পর উপস্থিত মহিলাদের মধ্য থেকে একজন -যার নাম ছিল জাযলা-  প্রশ্ন করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেন এ অবস্থা? কেন জাহান্নামে আমরা বেশী সংখ্যায় যাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমরা স্বামীর প্রতি বেশী অকৃতজ্ঞ ও অভিশাপ দাও বেশী। (বর্ণনায় : মুসলিম)
বলতে খারাপ শুনালেও আসলে আমাদের সমাজের নারীদের বাস্তব চিত্র এ রকমই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। আমি দাম্পত্য জীবনে অনেক সুখী নারীকে দেখেছি তারা স্বামীর প্রতি অনেক সময় চরম অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে। অনেক সময় সামান্য বিরক্ত হলে নিজ সন্তানদেরও অভিশাপ দেয়। নারীদের জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য এ দুটো স্বভাব পরিহার করতে হবে অবশ্যই। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বলার উদ্দেশ্য এটাই। তিনি নারীদের স্বভাব সংশোধন করার জন্যই এ কথা বলেছেন। নারীদের খাটো করা বা তাদের ভূমিকা অবমুল্যায়নের জন্য বলেননি।
 
পঞ্চম অধ্যায়
জান্নাত ও তার অধিবাসীদের বিবরণ
যারা জান্নাতে যাবেন তারা হলেন, নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও ঈমানদার সৎকর্মশীল মানুষ।
জান্নাত এমন একটি স্থান যার পাশ দিয়ে বয়ে যায় নদী। যার প্রাসাদসমূহ তৈরী হয়েছে স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দিয়ে। এ প্রাসাদের অন্যান্য উপকরণসমূহের মধ্যে আছে মনি-মুক্তা, মৃগনাভী, হিরা-মানিক্য ইত্যাদি। সেখানে আছে নারী-পুরুষ সকলের জন্য পবিত্র সঙ্গী-সাথী। আছে সব ধরনের ফল-মুল। সেখানের অধিবাসীরা খাওয়া-দাওয়া আর আমোদ-ফুর্তিতে মত্ত থাকবে। থাকবে না কোন ধরনের দু:চিন্তা ও ভয়-ভীতি। সেখানে থাকে হাসি ও আনন্দ। থাকবে না কোন কান্না। মৃত্যু থাকবে না। থাকবে না মৃত্যুর দু:চিন্তা। সবচেয়ে বড় নেআমাত হল আমাদের মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাক্ষাত লাভ ও তার সন্তুষ্টি।
মোট কথা হল, সেখানের সুখ শান্তি, আনন্দ-ফুর্তির কোন দৃষ্টান্ত কোন চোখ এখনো দেখেনি। কোন কান কখনো শুনেনি। তার সত্যিকার ধরণ সম্পর্কে কোন হৃদয় কখনো কল্পনা করেনি।
সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হাদীসে এসেছে-
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: آتي باب الجنة يوم القيامة . فأستفتح . فيقول الخازن : من أنت ؟ فأقول : محمد . فيقول : بك أمرت لا أفتح لأحد قبلك. رواه مسلم.
আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি কেয়ামতের দিন জান্নাতের গেটে এসে জান্নাত খুলে দিতে বলবো। তখন দারোয়ান প্রশ্ন করবে, আপনি কে? আমি বলবো, আমি মুহাম্মদ। তখন সে বলবে, আমাকে নির্দেশ দেয়া আছে যে, আপনার পূর্বে আমি যেন কারো জন্য জান্নাতের দরজা খুলে না দেই।
(বর্ণনায়: মুসলিম)
প্রথম যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে
হাদীসে এসেছে.
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম সা বলেছেন: কেয়ামতের দিন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির মানুষদের কিভাবে হাজির করা হবে তার একটি চিত্র আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম একজন নবী আসলেন তার সাথে দশ জনের কম সংখ্যক অনুসারী। আরেকজন নবী আসেলন, তার সাথে একজন বা দুজন অনুসারী। আবার আরেকজন নবী আসলেন তার সাথে কোন অনুসারী নেই। এরপর দেখলাম বড় একদল মানুষকে আনা হল। আমি ধারনা করলাম এরা আমার অনুসারী হবে। কিন্তু আমাকে বলা হল, এরা মূছা আলাইহিস সালাম ও তার অনুসারী। আমাকে বলা হল, আপনি অন্য প্রান্তে তাকান। আমি তাকালাম। দেখলাম বিশাল একদল মানুষ। আমাকে বলা হল, এবার অন্য প্রান্তে তাকান। আমি তাকালাম। দেখলাম, সেখানেও বিশাল একদল মানুষ। আমাকে বলা হল, এরা সকলে আপনার অনুসারী। এবং তাদের মধ্যে সত্তর হাজার মানুষ এমন আছে, যারা কোন হিসাব-নিকাশ ও শাস্তি ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ কথাগুলো বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে তাঁর ঘরে গেলেন। উপস্থিত লোকজন এ সকল লোক কারা হবে এ নিয়ে বিতর্ক জুড়ে দিল। কেহ কেহ বললো, তারা হবে ঐ সকল মানুষ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছে। কেহ বললো, তারা হবে ঐ সকল মানুষ যারা ইসলাম নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছে আর কখনো শিরক করেনি। আবার অনেকে অন্য অনেক কথা বললো। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে আসলেন। বললেন, তোমরা কি নিয়ে বিতর্ক করছিলে? তখন তারা বলল, ঐ সকল লোক হবে কারা এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ঐ সকল লোক হলো তারা. যারা ঝাড়-ফূঁক করে না। ঝাড়-ফূঁক করতে যায় না। যারা কুলক্ষণ সুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে না। আর শুধু তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর (তাওয়াক্কুল) করে।
এ কথা শুনে উকাশা ইবনে মিহসান দাড়িয়ে গেলেন আর বললেন, হে রাসূল! আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এ সকল লোকদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেলে। এরপর আরেকজন দাড়িয়ে বললেন, হে রাসূল! আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকেও এ সকল লোকদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,  উকাশা তোমাকে ছাড়িয়ে গেছে। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)
হাদীসটি থেকে আমরা যা জানতে পারি:
এক. অন্যান্য নবীদের অনুসারীদের তুলনায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারীদের সংখ্যা হবে অনেক বেশী।
দুই. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারীদের মধ্যে সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাব ও কোন শাস্তি ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তিন. শরীয়ত অনুমোদিত ঝাড়-ফুঁক বৈধ। আর যে সকল ঝাড়-ফুঁক শরীয়ত অনুমোদন করে না তা নিষিদ্ধ। বৈধ ঝাড়-ফুঁক করা বা করানো তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। তবে এগুলো পরিহার করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার উপর নির্ভর করা হলো তাওয়াক্কুলের একটি শীর্ষ স্থান। যারা এ শীর্ষ স্থানের অধিকারী হতে পারবে তারা বিনা হিসাবে জান্নাত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করবে।
চার. কোন কিছু দেখে বা কোন কিছু করে তার মাধ্যমে শুভ অশুভ নির্ণয় করা জায়েয নয়।
পাঁচ. কুরআন বা হাদীসের কোন বিষয় নিয়ে বিতর্ক বা আলোচনা করা দোষের কিছু নয়। সাহাবীগন যখন এ ভাগ্যবান মানুষগুলো কারা হবেন এ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিষেধ করেননি। বা বিতর্ক করা ঠিক নয় বলে কোন মন্তব্য করেননি।
ছয়. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ব্যাপারে মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রবর্তন করেছেন। তার সমকালে কোন রাজা-বাদশা বা ধর্মীয় নেতারা তাদের লোকদের এভাবে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেননি। কারো মতামত ভুল হলেও তিনি তা প্রকাশ করার জন্য উৎসাহ দিতেন। কাউকে মতামত প্রকাশে বাধা প্রদান করেননি।
সাত. কোন বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুআ করতে বলা শরীয়ত অনুমোদিত কাজ বলে স্বীকৃত ছিল যতদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত ছিলেন। যেমন; আমরা এ হাদীসে দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উক্কাশা রা. দুআ চেয়েছেন। এমনিভাবে জীবিত কোন আলেম বা বুযুর্গ ব্যক্তির কাছে যে কোন ব্যাপারে দুআ চাওয়া যায়। কিন্তু কোন মৃত নবী বা অলীর কাছে কোন ব্যাপারে দুআ চাওয়া যায় না।
আট. এ হাদীসটি আমাদের সকলকে যথাযথভাবে আল্লাহ তাআলার উপর তাওয়াক্কুল করা ও তাওয়াক্কুলের শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে।
জান্নাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মর্যাদা
হাদীসে এসেছে-
মুগীরা ইবনে শোবা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মুসা আলাইহিস সালাম তার প্রতিপালককে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতবাসীদের মধ্যে  সর্বনিম্ন মর্যাদার লোকটি মর্যাদা কি রকম হবে? আল্লাহ তাআলা বললেন: সে হল এমন এক ব্যক্তি, জান্নাতের অধিবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ করানোর পর আমি তাকে বলবো, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, হে প্রভূ! কিভাবে আমি জান্নাতে প্রবেশ করবো যখন সকলকে নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী স্থান নিয়ে গেছে এবং তাদের পাওনাগুলো গ্রহণ করেছে?
তখন তাকে বলা হবে, দুনিয়ার সম্রাটদের মত একজন সম্রাটের যা থাকে তোমাকে সে পরিমাণ দেয়া হলে তুমি কি সন্তুষ্ট হবে? সে উত্তরে বলবে হে প্রভূ, আমি সন্তুষ্ট হবো। আল্লাহ তাআলা বলবেন: তোমাকে সে পরিমাণ দেয়া হবে, তারপরও সে পরিমাণ আবার দেয়া হবে, তারপরও সে পরিমাণ আবার দেয়া হবে তারপর আবার সে