কোন বেক্তি কি জান্নাত অথবা জাহান্নামে ঢোকার পর বের হয়ে আসবে? অমুসলিমদের ভাল কাজের পুরুস্কার কি হবে?


6dd3f-merun414314copy_new9কোন ব্যক্তি কি জান্নাত অথবা জাহান্নামে
ঢোকার পর আবার বের হয়ে আসবে ?
অবিশ্বাসীদের ভাল কাজের পুরস্কার কি
হবে ?
EMAN (14)
যিনি (২১৩৬৫) নং প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তার প্রতি
যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করছি । সূরা হুদ এর দু’টি আয়াত
(১০৬ এবং ১০৭) সম্বদ্ধে আপনি বলেছেন যে ,
জাহান্নামী লোকেরা সেখানে চিরদিন থাকবে এবং
কখনও এর থেকে বাইরে আসতে পারবে না । কিন্তু ,
আমি স্বাহীহুল বুখারীতে পড়েছি (Book 2, 12, 72)
যে , আল্লাহ তায়ালা কিছু জাহান্নামী লোকের উপর দয়া
করবেন এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন
কারণ তাদের অন্তরে তাঁর প্রতি ঈমান ছিল । দুটির
মধ্যে মধ্যে কোনটি সঠিক ? যদি দু’টিই সঠিক হয় ,
আমরা কিভাবে দু’টির মধ্যে সামঞ্জস্যবিধান করবো ?
যার ভিত্তিতে , সূরা হুদের আয়াত কী নির্দেশ করে
যে , তাদের মধ্যে যারা ভাল কাজ করেছে তারা সেই
সমপরিমাণ সময় জান্নাতে থাকবে কিন্তু সবশেষে তারা
জাহান্নামে প্রবেশ করবে ? যদি তা না হয় , তাহলে যারা
মানবতার সেবায় তাদের জীবন ব্যয় করেছে অতঃপর
অমুসলিম দেশেই মৃত্যুবরণ করেছে – যেমন মাদার
তেরেসা – সেই সমস্ত অবিশ্বাসী কাফিররা কিভাবে
পুরস্কৃত হবে ?
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য ।
প্রথমত :
আমরা প্রশ্নকারীদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ,
যিনি আমাদের উত্তরে মনোযোগী হয়েছেন
যা আমরা প্রকাশ করেছি আমাদের ওয়েব সাইটে এবং
তা তাদের উপর ‍প্রয়োগ করছেন । আমরা আরও
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বাহ্যিক বৈপরীত্য বিষয়ে তার
প্রশ্নকে , যা ইঙ্গিত করে শিক্ষার প্রতি তার ভালবাসা
এবং সে যা পড়ছে তা থেকে উপকৃত হওয়ার
চেষ্টাকে , ইনশা-আল্লাহ ।
দ্বিতীয়ত :
উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তরে যা বলা হয়েছে এবং
যে সমস্ত হাদীসের কথা প্রশ্নে উল্লেখ করা
হয়েছে তার ভিতরে কোন বৈপরীত্য নেই ।
আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা হচ্ছে , জাহান্নামী
লোকেরা দুই ধরণের :
এক.
প্রথম প্রকার হচ্ছে একেশ্বরবাদী (যে সমস্ত
লোকেরা আল্লাহর এককত্বে বিশ্বাস করে) যারা
নেক আমালের সাথে বদ আমাল মিলিয়ে
ফেলেছিল । মহান আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে
প্রবেশ করাবেন তাদের পাপের জন্য , এবং তিনি
চাইতেন যে তাদেরকে সেখানে শাস্তি হওয়া উচিত

এই শ্রেনীর লোকেদের জাহান্নামে শাস্তি
হবে কিছুদিনের জন্য , এবং মহিমান্বিত আল্লাহ তায়ালা ,
তাদের জন্য উহার সময়সীমা নির্ধারণ করবেন ।
অতঃপর তিনি তাদের সেই আগুন থেকে বের
করে আনবেন এবং আদেশ জারী করবেন যে ,
এরপর তারা অনন্তকাল জান্নাতে বসবাস করবে ।
এগুলি হচ্ছে তার প্রশ্নে উল্লেখ করা হাদীস
সমূহ , যার ভিতরে বর্ণনা করা হয়েছে যে , তাদের
কিছু ব্যক্তিকে আগুন থেকে বের করে আনা
হবে কারণ তারা তাওহীদে (আল্লাহর এককত্বে)
বিশ্বাস করতো । তারা মুসলিম জাহান্নামী ।
দুই.
দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে অবিশ্বাসী সম্প্রদায় এবং
মুনাফিক সম্প্রদায় , যাদের তাওহীদে কোন বিশ্বাস
ছিল না এবং যে অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ
করেছে , শিরক (বহুইশ্বরবাদ) , নাস্তিক অথবা
মুনাফিকরা ।
এই প্রকারের লোকদেরকে চিরদিনের জন্য
জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে । তাদের পালনকর্তা
(আল্লাহ) তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন
যে , তারা চিরদিনের জন্য জাহান্নামে বসবাস করবে
যদি তারা মহিমান্বিত আল্লাহ তাদেরকে যে আদেশ
দিয়েছিলেন তা না করে , তার এককত্বে (তাওহীদ)
বিশ্বাস না করে এবং তাদের উপাশনার (ইবাদাতের)
সমস্ত কার্যাবলী একমাত্র তাঁর (আল্লাহর) জন্য
উৎসর্গ না করে । তারা নিজেদের জন্য কুফরী
(অবিশ্বাস) কে বেছে নিয়েছে এবং তারা চিরদিনের
জন্য জাহান্নামের আগুনে বসবাস করাকে বেছে
নিয়েছে ।
এই হচ্ছে সূরা হুদের উল্লেখিত আয়াতগুলির ব্যাখ্যা
যা আপনার প্রশ্নের শুরুতে উল্লেখ করেছেন ।
তৃতীয়ত :
আমরা যা কিছু উপরে উল্লেখ করেছি তা থেকে
আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে , জাহান্নামে
প্রবেশ করা শুধুমাত্র একটি দলের (শ্রেনী)
জন্য নয় ; বরং এটা দুইটি দলের (শ্রেনী) জন্য ,
যাদের ভিতরে একটি দলকে তার থেকে বের
করে আনা হবে । আর তারা হলো একত্ববাদী
(তাওহীদে বিশ্বাসী – আল্লাহর এককত্বে
বিশ্বাসী) , যে অন্যায়ের (গুণাহের কাজে) সাথে
আপোষ করেছে তাকে এটা বোঝানো যে
জাহান্নামে যাওয়া তার প্রাপ্য ছিল । আর অন্য দলটিকে
(শ্রেনী) জাহান্নাম থেকে বের করে আনা
হবে না ; তারা ছিল অবিশ্বাসী কাফির সম্প্রদায় এবং
অবিশ্বাসী কাফির অবস্থায়ই তারা মৃত্যুবরণ করেছে ।
জান্নাতের ক্ষেত্রে , একটি দল ব্যতীত আর
কেহই জান্নাতে প্রবেশ করবে না , তাদের নাম
একত্ববাদী (তাওহীদে বিশ্বাসী) । যখন কোন
ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে , সে কখনই এখান
থেকে বের হবে না ; বরঞ্চ এখানে যাকিছু
আছে সেগুলি সে উপভোগ করবে , এবং সে
কখনই দুঃখিত এবং হতাশাগ্রস্থ হবে না , সে এখানে
কখনও অসুস্থ্য হবে না এবং মৃত্যুবরণও করবে না ,
সে কখন বৃদ্ধ হবে না , এবং একবার উপভোগ করার
পর সে এই পরমানন্দ থেকে কখনও বঞ্চিতও
হবে না ।
যদি এটা আপনি বুঝে থাকেন যে সেখানে দুই
শ্রেনীর লোক থাকবে , বিশ্বাসী এবং
অবিশ্বাসী সম্প্রদায় , যারা সৌভাগ্যশালী (তাদের ঠিকানা
হবে জান্নাত) এবং যারা দন্ডপ্রাপ্ত (তাদের ঠিকানা হবে
জাহান্নাম) , তাহলে আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন যে
, মহিমান্বিত আল্লাহর কিতাবে কী বলা হয়েছে ,
অবিশ্বাসী সম্প্রদায় যারা এই বিষয়ের সাথে
সম্পর্কযুক্ত তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এই যে , তারা
কখনও জাহান্নাম থেকে বের হবে না এবং তারা
জাহান্নামে চিরদিন অবস্থান করবে । যেমন মহিমান্বিত
আল্লাহ তায়াল বলেছেন (অর্থের ব্যাখ্যা):
“এভাবেই দুনিয়ায় এরা যে সমস্ত কাজ করছে
সেগুলো আল্লাহ তাদের সামনে এমনভাবে
উপস্থিত করবেন যাতে তারা কেবল দুঃখ ও
আক্ষেপই করতে থাকবে কিন্তু জাহান্নামের আগুন
থেকে বের হবার কোন পথই খুঁজে পাবে না।”
[সূরা আল-বাক্বারাহ ২/১৬৭]
“তারা জাহান্নামের আগুন থেকে বের হয়ে
আসতে চাইবে। কিন্তু তা তারা পারবে না। তাদেরকে
স্থায়ী শাস্তি দেয়া হবে।”
[সূরা আল-মা’ঈদাহ ৫:৩৭]
যে ব্যক্তি সৌভাগ্যশালী (জান্নাতে বসবাসকারী) এবং
বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে মহিমান্বিত আল্লাহ
তায়ালা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে , তারা কখনও জান্নাত
থেকে বের হবে না । যেমন মহিমান্বিত আল্লাহ
তায়ালা বলেছেন (অর্থের ব্যাখ্যা):
“ সেখানে তাদের না কোন পরিশ্রম করতে হবে
আর না তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃত হবে।”
[সূরা আল-হিজর ১৫:৪৮]
আরও বিস্তারিত জানার জন্য , ৩১১৭৪ , ২৬৭৯২ এবং
৪৫৮০৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন ।
চতুর্থতঃ
একবার যদি এটা পরিস্কারভাবে বুঝে থাকেন , তাহলে
এটা মনে রাখবেন যে , যদি কোন অবিশ্বাসী
পুরস্কার পাবার যোগ্য কোন কাজ করে থাকে ,
তাহলে তাকে এই পৃথিবীতেই তাকে তার প্রতিদান
দিয়ে দেয়া হবে , পরকালে নয় । তার অবিশ্বাস তার
কাজকে গ্রহণযোগ্য হতে বাধা প্রদান করবে
এইভাবে যে , সে পরকালে এর থেকে উপকৃত
হতে পারতো , কারণ ভাল কাজ গ্রহণযোগ্য হবার
জন্য একটা শর্ত যে , তাকে মুসলিম হতে হবে ।
আত-তাবারী (রাহিঃ) বলেছেন:
আল্লাহকে ভয় করা ছাড়া যদি কোন ব্যক্তি কোন
সঠিক কাজ করে থাকে – যেমন, সে মুশরিক অথবা
বহুঈশ্বরবাদী – তাকে এই পৃথিবীতেই তার
প্রতিদান দিয়ে দেয়া হবে , যেমন সে যদি
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে , যারা অভাবী
তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তাদেরকে
দান করে , এবং অন্যান্য ভাল কাজ । মহান আল্লাহ
তাকে এই সমস্ত ভাল কাজের জন্য এই
পৃথিবীতেই তাকে পুরস্কৃত করবেন , যেমন তার
জীবনযাত্রার মান এবং জীবিকা বৃদ্ধি করে দেবেন
, তাকে সুখ সাচ্ছন্দ এবং যা সে ভালবাসে তা তাকে
দান করবেন , এই পৃথিবীতে যা তার জন্য ক্ষতিকর
তা তার থেকে হটিয়ে দিবেন , এবং এরকম আরো
অনেক প্রতিদান তাকে দিবেন । কিন্তু আখিরাতে এই
সমস্ত প্রতিদানের কোন ভাগ তার জন্য থাকবে না ।
তাফসীর আত-তাবারী, ১৫/২৬৫ ।
হাফিয ইবনু হাজার (রাহিঃ) বলেছেন:
আল-কাযী আইয়্যাদ বলেছেন : অধিকাংশ
বিশেষজ্ঞ আলিমরা ঐক্যমত্য করেছেন যে ,
অবিশ্বাসীদের কর্মকান্ড পরকালে তাদের কোন
উপকার দিবে না ; আনন্দময় কিছু দিয়ে তাদেরকে
তার প্রতিদান দেয়া হবে না এবং কোন শাস্তিও
তাদের থেকে কমানো হবে না , যদিও তাদের
কিছু সংখ্যককে অন্যদের থেকে আরো গুরুতর
শাস্তি প্রদান করা হবে ।
আল-ফাতহ, ৯/৪৮
এটা বোঝা উচিত যে মহান আল্লাহ , তাদের ভাল
কাজের (যা লোকদেরকে উপকৃত করেছে)
পুরস্কার নষ্ট করে দিবেন না ; কিন্তু তাদের
কাজের পুরস্কার এই পৃথিবীতের আসবে ,
পরকালে নয় । বিশ্বাসীদের জন্য , তাদের ভাল
কাজের প্রতিদান এই পৃথিবীতে এবং পরকালেও
দেয়া হবে ।
আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিঃ) হতে বর্ণিত , তিনি
বলেছেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) বলেছেন : “যদি কোন কাফির কোন ভাল
কাজ করে , এর জন্য তাকে এই পৃথিবীতেই তার
জীবিকার ভাল উপকরণ দেয়া হবে । আর
ঈমানদারদের জন্য , আল্লাহ তাদের সৎকর্মগুলিকে
পরকালে তাদের জন্য সংরক্ষণ করবেন এবং এই
পৃথিবীতে তাদের আনুগত্যের পরিমাণ অনুপাতে
তাদের প্রতিদানের ব্যবস্তা করে দিবেন ।
বর্ণনা করেছেন মুসলিম (২৮০৮).
অন্য একটি বর্ণনা অনুযায়ী : : “আল্লাহ তায়ালা
ঈমানদারদের সাথে তাদের ভাল কাজের প্রতিদান
দেয়ার ব্যাপারে অন্যায় আচরণ করবেন না । তিনি এই
পৃথিবীতে ভাল কাজের কারণে তাদের পুরস্কৃত
করবেন এবং আখিরাতেও তাদের ভাল কাজের জন্য
তাদের প্রতিদান দেবেন । আর কাফিরদের জন্য ,
তাদের ভাল কাজের জন্য (যা তারা আল্লাহর ওয়াস্তে
করেছিল) এই পৃথিবীতেই তাদের জীবন
জীবিকার ভাল উপকরণ দেয়া হবে , অতঃপর যখন
সে পরকালে যাবে , তখন তাকে প্রতিদান দেয়ার
জন্য কোন ভাল কাজ অবশিষ্ট থাকবে না ।”
আপনার এটা বোঝা উচিত যে , দুনিয়াতে এই প্রতিদান
নির্দিষ্ট নয় ; বরং এটা আল্লাহর ইচ্ছার উপর
নির্ভরশীল । মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন (অর্থের
ব্যাখ্যা):
“ যে কেউ দ্রুত লাভের আকাঙ্ক্ষা করে, তাকে
আমি এখানেই যা কিছু দিতে চাই দিয়ে দেই, তারপর
তার ভাগে জাহান্নাম লিখে দেই, যার উত্তাপ সে
ভুগবে নিন্দিত ও ধিকৃত হয়ে।” [সূরা আল-ইসরা’
১৮:১৮]
আশ-শানক্বেতী (রাহিঃ) বলেছেন:
এই ব্যাপারে এটা বোঝা উচিত যে , আমরা কিসের
জন্য কুর’আন এবং সুন্নাহ থেকে প্রমাণ উপস্থাপন
করছি , যে অবিশ্বাসিরা এই পৃথিবীতেই তাদের
সৎকর্মের জন্য পুরস্কৃত হতে পারে , যেমন তার
পিতা-মাতাকে সম্মান করা , আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা
করা , মেহমান এবং প্রতিবেশীদের হক্ক আদায় করা
, দুস্থ মানুষদের সাহায্য করা এবং এরকম আরো
অনেক – এই সমস্ত বিষয় মহিমান্বিত আল্লাহর
ইচ্ছধীন , যেমন তিনি একটি আয়াতে বলেছেন
(অর্থের ব্যাখ্যা):
“ যে কেউ আশু লাভের আকাঙ্ক্ষা করে, তাকে
আমি এখানেই যা কিছু দিতে চাই দিয়ে দেই, তারপর
তার ভাগে জাহান্নাম লিখে দেই, যার উত্তাপ সে
ভুগবে নিন্দিত ও ধিকৃত হয়ে।” [সূরা আল-ইসরা’
১৭:১৮]
এই আয়াতটি সাধারণ শর্তাবলী নির্দিষ্ট এবং নির্ধারণ
করে দেয় যা অন্যান্য আয়াত এবং হাদীস সমূহেও
বর্ণিত হয়েছে ।
আদওয়া’ আল-বায়ান, ৩/৪৫০ ।
আমরা মহিমান্বিত আল্লাহ সম্পর্কে কি বর্ণনা করছি
যে , অবিশ্বাসীদের মধ্যে তিনি যাকে ইচ্ছা
করেন তার ক্ষেত্রেই এটা ফলপ্রসু হবে ,
শুধুমাত্র মাদার তেরেসার জন্য পযোজ্য নয় , যার
মূল নাম “Anjezë Gonxhe Bojaxhiu” । তিনি মূলত
ম্যাসেডোনিয়া থেকে এসেছেন এবং ১৯৯৭
খ্রীস্টিয় বর্ষে মৃত্যুবরণ করেছেন । তিনি
একজন ধর্মপ্রচারক নান ছিলেন , যার কাজ দরিদ্র ,
নিঃস্ব এবং অসুস্থ , লোকদেরকে সাহায্য করার
মধ্যে নিবদ্ধ হয় , সে তার কাজের দ্বারা
তাদেরকে খ্রীস্টান ধর্মে দীক্ষিত করার
চেষ্টা করতো । কোন ব্যক্তির এই ধরণের
কাজকে কোনভাবেই “ভাল” বলা যায় না এবং সে এই
পৃথিবীতে যা-ই (সুযোগ-সুবিধা) পাক না কেন সেটা
তার ভাল কাজের পুরস্কার নয় ; বরং এটা আল্লাহর-ই
দেয়া বিধান তার জন্য যে তাকে অবিশ্বাস করে এবং
সে শাস্তিযোগ্য হবে । যেমন , মহান আল্লাহ তায়ালা
বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা):
“আর যখন ইব্রাহীম (আঃ) বলেছিলেন : হে আমার
প্রতিপালক ! এ শহরকে আপনি নিরাপদ করুন এবং এর
অধিবাসীদেরকে রিযিক দান করুন ফলমূল দিয়ে
তাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর
প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি । তিনি (আল্লাহ)
বললেন : যে কুফরী করবে আমি তাকেও
কিছুকাল জীবনোপকরন দান করবো ; অতঃপর
তাকে ঠেলে দেবো জাহান্নামের আযাবের
দিকে ; আর তা কতোইনা নিকৃষ্ট বাসস্থান ।” [সূরা
আল-বাক্বারাহ ২ :১২৬]
সর্বশেষে বলা যায় , এই পৃথিবীতে
অবিশ্বাসীদের কর্মকান্ড দুই ধরণের :
এক.
যাদের পার্থিব কর্মকান্ড যেমন উদারতা , যার মাধ্যমে
এটা নির্ধারিত হয় না যে , তার আল্লাহ তায়ালার
নিকটবর্তী হতে হবে এই উদ্দেশ্য থাকা উচিত ।
যেমন , আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা ,
মেহমানদেন সম্মান করা (হক্ক আদায় করা) , এবং
এরকম আরও অনেক । এই সমস্ত কারণগুলিই
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে , যার কারণে অবিশ্বাসীরা
এই পৃথিবীতে পুরস্কৃত হবে , যদি আল্লাহ তায়ালা
তাদেরকে পুরস্কৃত করতে চান ।
ইমাম নববী (রাহিঃ) বলেছেন:
এটা হাদীসে পরিস্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে যে ,
(অবিশ্বাসীরা) তাদের ভাল কাজ করার কারণে এই
পৃথিবীতেই প্রতিপালিত হবে , যেমন , তিনি কি
চাইছেন না যে তাদের কর্মের মাধ্যমে
তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে যার ফলে
তাদের বৈধতা তাদের উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর
করে না । যেমন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা ,
দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা , দাস মুক্ত করা ,
মেহমানদের সম্মান (হক্ক আদায়) করা , এবং এরকম
আরও ভাল কাজগুলি ।
শারহু মুসলিম (১৭/১৫০)
দুই.
যারা বিভিন্ন ধরনের পার্থিব ক্রিয়াকলাপ করে , যার
ভিতরে সেই কর্মকারীর উদ্দেশ্য থাকে যে
সে তার ধর্ম প্রচার করবে এবং মুসলিমদেরকে
তাদের ধর্ম থেকে ভিন্নপথে পরিচালিত করবে ।
এই ধরনের কাজ হাদীস সমূহের ভাল কাজের
অন্তর্ভুক্ত নয় ; বরং যারা এই ধরণের কার করে
তাদের প্রতি কঠোর সতর্কবানী দেয়া হয়েছে ,
কারণ তারা আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষদেরকে
ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্য
সাধনের জন্য মানুষের অভাব , দারিদ্রতা এবং
অসুস্থতাকে কাজে লাগাচ্ছে । এটাই মাদার তেরেসা
এবং অন্যান্য ধর্মপ্রচারকরা এবং এর প্রবক্তাদের
কাজকে বাতিল কাজের অন্তর্ভুক্ত ।
ধর্মীয় কার্যাবলীর ক্ষেত্রে এটা নির্ধারিত যে ,
তাদের এই উদ্দেশ্য থাকা উচিত যে তা তাদেরকে
আল্লাহর নিকটবর্তী করবে । যেমন হাজ্জ ,
‘উমরাহ এবং দু’আ’ (প্রার্থনা) , অবিশ্বাসীরা এই
ধরনের কাজের জন্য এই পৃথিবীতে অথবা
পরকালে কোন প্রতিদান পাবে না , কারণ এটা তাদের
জন্য বৈধ নয় , কেননা যে সমস্ত কারণে তা
গ্রহণযোগ্য হবে তা এখানে অনুপস্থিত , যেমন ,
মুসলিম হওয়া , একাকি আল্লাহর প্রতি ধাবিত হওয়ার জন্য
আন্তরিক হওয়া , এবং সুন্নাহের অনুসারী হওয়া ।
উপরন্তু, অবিশ্বাস (কুফর) ভাল কাজের প্রতিদানকে
বাতিল করে দেয় , সুতরাং যে এই ধরণের কাজ
করে সে কেয়ামতের দিন তার থেকে কোন
প্রকার উপকার পাবে না ।
এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন ।