আল্লাহ তাআলার হক বা প্রাপ্য পর্ব -2


আল্লাহ তাআলার হক বা প্রাপ্য (পর্ব ২)তৃতীয় অধিকার :আল্লাহ তাআলার আদেশসমূহ পালন করা ওনিষোধাবলী পরিহার করা :—বান্দার উপর আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড় হক হল,তার আদেশ বাস্তবায়ন ও নিষেধ পরিহার করার মাধ্যমেআল্লাহ তাআলার অর্থবহ আনুগত্য করা। আল্লাহ তাআলাবলেন—‘হে মোমিনগণ ! তোমরা আল্লাহ তাআলার আনুগত্যকর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্মবিনষ্ট কর না।’ (মোহাম্মদ:৩৩)আরো বলেন—‘এবং তোমরা সে আগুন থেকে বেঁচে থাক, যাকাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আরতোমরা আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল সা.-এর আনুগত্যকর, যাতে তোমাদের উপর রহমত নাজিল করা হয়।[১]আরো এরশাদ হচ্ছে—‘বলুন, আল্লাহ তাআলা ও রাসূলের আনুগত্য কর।বস্তুত যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলেআল্লাহ তাআলা কাফেরদেরকে ভালোবাসেননা।’ [২]আরো বলেন—‘তোমরা আল্লাহ তাআলার অনুগত হও এবং রাসূল সা.-এরঅনুগত হও এবং আত্মরক্ষা কর। কিন্তু যদি তোমরাবিমুখ হও তবে জেনে রাখ, আমার রাসূলের দায়িত্বপ্রকাশ্য প্রচার বৈ নয়।’ [৩]আরো বলেন—‘যে আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূলের আনুগত্য করবেতাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশেনদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে পৃষ্ঠপ্রদর্শনকরবে তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।’ [৪]আরো বলেন—‘আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল কোন কাজের আদেশকরলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সেবিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই। যে আল্লাহ তাআলা ও তাররাসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্যপথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।’ [৫]হে মুসলিম সম্প্রদায়, আমাদের সকলের জন্যএকান্ত জরুরি আগ্রহভরে ও যত্ন সহকারে আল্লাহতাআলার এ সমস্ত হক আদায় করা। যাতে আমাদেরভিতর প্রকৃত মোমিনের গুনাবলী বদ্ধমূল হয়।যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন—‘তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরাতোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকার্তা।তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’[৬]চতুর্থ অধিকার :আল্লাহ তাআলাকে সম্মান প্রদর্শন ও তার প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করা :—বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহ তাআলার অন্যতম প্রাপ্যঅধিকার সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদা। যা কয়েক ভাবেপ্রদান করা যায়।১. আল্লাহ তাআলাকে দোষ-ত্রুটিমুক্ত বলে বিশ্বাসকরা। মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ গুণে গুণান্বিত মনে করা।যেভাবে তিনি নিজেকে কুরআনে গুণান্বিতকরেছেন অথবা যেভাবে তার রাসূল সা. হাদিসেসম্বোধন করেছেন।২. তার আদেশ ও নিষেধাবলীর প্রতি সম্মানপ্রদর্শন করা। তার বর্ণিত সীমারেখার ভিতর স্বীয়জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন—‘আর কেউ আল্লাহ তাআলার সম্মানযোগ্যবিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করল, পালনকর্তারনিকট তা তার জন্যে উত্তম।’ [৭]আরো বলেন—‘আর যে আল্লাহ তাআলার নামযুক্ত বস্তুসমূহের প্রতিসম্মান প্রদর্শন করল, তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতি প্রসূত।’ [৮]আল্লাহ তাআলাকে সম্মান প্রদর্শন করা, তারনিদর্শনাবলীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং তার বর্ণিতসীমারেখার ভিতর জীবন পরিচালনা করাইঅনুসরণীয় অগ্র-পথিক সাহাবায়ে কেরাম,তাবেঈন,তাবে তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তী নেককারলোকদের আদর্শ ছিল।পঞ্চম অধিকার :আল্লাহ তাআলাকে মহব্বত করা, তার নিকট আশা করাএবং তাকে ভয় করা:আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের এবাদতের জন্য সৃষ্টিকরেছেন। এরশাদ হচ্ছে—‘আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এও চাই না যেতারা আমাকে আহার্য জোগাবে। আল্লাহ তাআলাইতো জীবিকা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।’ [৯]বর্ণিত তিনটি মূল ভিত্তির উপর আল্লাহ তাআলার এবাদতনির্ভরশীল। অর্থাৎ১. মহব্বত।২. আশা।৩. ভয়।ষষ্ঠ অধিকার :নেয়ামতের মোকাবিলায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকরা :—আল্লাহ তাআলার অগণিত ও অসংখ্য নেয়ামতনিরবচ্ছিন্নভাবে তার বান্দার উপর বর্ষিত হচ্ছে,যেমন—সৃষ্টির নেয়ামত, ধন-সম্পদের নেয়ামত,ইসলামের নেয়ামত, পানির নেয়ামত,বাতাসেরনেয়ামত, বিবেক, শরীর, স্ত্রী ও সন্তানদেরসুস্থতার নেয়ামত। তাই বান্দাদের উচিত এনেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। যা তিনটি পদ্ধতিঅনুসরণ করলে সুচারুরূপে আদায় করা যায়।১. নেয়ামতের স্বীকারোক্তি প্রদানমূলককৃতজ্ঞতাসহ তা গ্রহণ করা। অর্থাৎ বান্দা একনিষ্ঠ ওআন্তরিক ভাবে স্বীকার করবে যে আল্লাহ তাআলাস্বীয় দয়া ও মেহেরবাণীতে এ নেয়ামত দানকরেছেন। এরশাদ হচ্ছে—‘তোমাদের কাছে যে সমস্ত নেয়ামত আছে তাআল্লাহরই পক্ষ থেকে।’[১০]সুতরাং স্বীয় প্রয়োজন, চাহিদা ও অভাববোধসহআগ্রহভরে আল্লাহর নেয়ামত গ্রহণ করা এবং এরথেকে উপকৃত হওয়া।২. দান-সদকা পোশাক-আশাক ও বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নেয়ামতেরবহি:প্রকাশ করা এবং তার প্রশংসা।অর্থাৎ বান্দা আল্লাহ তাআলার নিয়ামতের আলোচনাকরবে। তার দয়ার প্রতিফলন এ নেয়ামতরাজি—সর্বদামনে করবে। এরশাদ হচ্ছে—‘আর আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা প্রকাশকরুন।’ [১১]আরো মনে প্রাণে বিশ্বাস রাখবে আল্লাহ তাআলাদানশীল, অনুগ্রহকারী, রহমশীল ও দয়ালু।৩. আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় জায়গায় নেয়ামতব্যবহার করবে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার নির্দেশিতজায়গায় নেয়ামতের ব্যবহার সুবর্ণ সুযোগ মনেকরবে। শরিয়ত-নিষিদ্ধ জায়গায় অপচয় করা হতে বিরতথাকবে। কারণ, এটা নাফরমানি, অকৃতজ্ঞা। যা শরিয়ত কিংবাবিবেক দ্বারা কোনভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।সপ্তম অধিকার :তাকদীর মেনে নেয়া এবং তার উপর সন্তুষ্ট থাকা :—আল্লাহ তাআলা কতিপয় বান্দাদের মুসিবতের মাধ্যমেঅথবা নেয়ামতের মাধ্যমে কিংবা উভয়ের মাধ্যমেপরীক্ষা করেন—এরশাদ হচ্ছে—‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যেপর্যন্ত না ফুটিয়ে তুলি তোমাদেরজেহাদকারীদের এবং সবরকারীদের এবং যতক্ষণনা আমি তোমাদের অবস্থানসমূহ যাচাই করি।’ [১২]এরশাদ হচ্ছে—‘এবং আমি অবশ্যই তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটাভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসলেরবিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্য্যঅবলম্বনকারীদের।’ [১৩]পরীক্ষামূলক এ সমস্ত মুসিবতের মোকাবিলায়বান্দার উচিত ধৈর্যধারণ করা ও তাকদীরকে মেনেনেয়া। যেহেতু আল্লাহ তাআলা এ নির্দেশ-ই প্রদানকরেছেন। এরশাদ হচ্ছে—‘হে ইমানদারগণ ! ধৈর্যধারণ কর এবং মোকাবিলায় দৃঢ়তাঅবলম্বন কর।’ [১৪]সমাপ্তলেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদসম্পাদনাঃ কাউসার বিন খালেদ[১ ]আলে ইমরান : ১৩১-১৩২[২] সূরা আলে ইমরান-৩২[৩] সূরা আল মায়েদা : ৯২[৪] সূরা আল ফতাহ : ১৭[৫] সূরা আল আহযাব : ৩৬[৬] সূরা আল বাক্বারা : ২৮৫[৭] সূরা হজ : ৩০[৮] সূরা আল হাজ্ব : ৩২[৯] সূরা আয যারিয়াত : ৫৬-৫৮[১০] সূরা আন নাহল-৫৩[১১] সূরা দোহা : ১১[১২] সূরা মোহাম্মদ : ৩১[১৩] সূরা আল বাক্বারা : ১৫৫[১৪] সূরা আলে ইমরান-২০০

Advertisements