আল ক্বুরআনে তাওহীদের বিষয়ে 9 নবীন ভাষণ!!


লেখক: ইমাম ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) অনুবাদঃইউসুফ ইয়াসীন Printআল কুর’আনে তাওহীদের বিষয়ে ৯ নবীরভাষণশুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়,অতি দয়ালুহযরত নুহ আলাইহি সালাম“নিশ্চয় আমি নুহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতিপাঠিয়েছি। সে বলল: হে আমার সম্প্রদায়,তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীততোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমিতোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তিরআশঙ্কা করি”। [সুরা আরাফ,৭:৫৯]জবাবে তার সম্প্রদায় বললঃ“তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বলল: আমরাতোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝেদেখতে পাচ্ছি”। [সুরা আরাফ, ৭:৬০]হযরত হুদ আলাইহি সালাম“আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিতাদের ভাই হুদকে। সে বলল: হে আমারসম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনিব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই”। [সুরাআরাফ, ৭:৬৫]জবাবে তার সম্প্রদায় বললঃতারা সম্প্রদায়ের সর্দররা বলল: “আমরাতোমাকে নির্বোধ দেখতে পাচ্ছি এবংআমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি”।[সুরা আরাফ, ৭:৬৬]“তারা বলল: তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যেএসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করিএবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত,তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আসআমাদের কাছে যা দ্বারা আমাদেরকে ভয়দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও”। [সুরাআরাফ, ৭:৭০]হযরত সালেহ আলাইহি সালাম“সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিতাদের ভাই সালেহকে। সে বলল: হে আমারসম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনিব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই।তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকেরপক্ষ থেকে একটি প্রমাণ এসে গেছে। এটিআল্লাহর উষ্টী তোমাদের জন্যে প্রমাণ।অতএব একে ছেড়ে দাও, আল্লাহর ভুমিতেচড়ে বেড়াবে। একে অসৎভাবে স্পর্শ করবেনা। অন্যথায় তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়কশাস্তি পাকড়াও করবে”। [সুরা আরাফ, ৭:৭৩]জবাবে তার সম্প্রদায় বললঃ“দাম্ভিকরা বলল, তোমরা যে বিষয়ে বিশ্বাসস্থাপন করেছ, আমরা তাতে অবিশ্বাসী”।[সুরা আরাফ, :৭৬]হযরত ইব্রাহীম আলাইহি সালাম“আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা বর্ণনাকরুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী”।[সুরা মারইয়াম, ১৯:৪১]জবাবে তার সম্প্রদায় বললঃ“পিতা বলল: যে ইব্রাহীম, তুমি কি আমারউপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদিতুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতেতোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমারকাছ থেকে দূর হয়ে যাও”। [সুরা মারইয়াম,১৯:৪৬]হযরত শুয়াইব আলাইহি সালাম“আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাইশোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বলল: হেআমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদতকর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্যনেই। তোমাদের কাছে তোমাদেরপ্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসেগেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন করএবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম দিয়ো নাএবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতেঅনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যেকল্যাণকর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও”। [সুরাআরাফ: ৮৫]জবাবে তার সম্প্রদায় বললঃঅর্থ: “তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররাবলল: হে শোয়ায়েব, আমরা অবশ্যই তোমাকেএবং তোমার সাথে বিশ্বাসস্থাপনকারীদেরকে শহর থেকে বের করেদেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মেপ্রত্যাবর্তন করবে। শোয়ায়েব বলল: আমরাঅপছন্দ করলেও কি?” [সুরা আরাফ, ৭:৮৮]হযরত ইয়াকুব আলাইহি সালামঅর্থ: “তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখনইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সেসন্তানদের বলল: আমার পর তোমরা কারএবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমারপিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকেরউপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য”।[সুরা বাক্বারা, ২:১৩৩]হযরত ইউসুফ আলাইহি সালাম“হে কারাগারের সঙ্গীদ্বয়! পৃথক পৃথক অনেকউপাস্য ভাল, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ”?[সুরা ইউসুফ, ১২:৩৯]হযরত ঈসা আলাইহি সালামঅর্থ: “তিনি (ঈসা আঃ) আরও বললেন: নিশ্চয়আল্লাহ আমার পালনকর্তা ও তোমাদেরপালনকর্তা। অতএব, তোমরা তার এবাদত কর।এটা সরল পথ”। [সুরা মারইয়াম, ১৯:৩৬]হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও এ তাওহীদেরদাওয়াত দিয়েছেন, বরং মেরাজের পূর্বপর্যন্ত শুধু তাওহীদের দাওয়াতই দিয়েছেন।কারণ মেরাজের পূর্ব পর্যন্ত সালাত, সওম,হজ্জ, যাকাত এর বিধান নাযিল হয়নি। অপরদিকে আল্লাহ আছেন, তিনিসৃষ্টিকর্তা,রিজিকদাতা, বৃষ্টিদাতা, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, এর পরিচালক এ সকল বিষয়গুলোকেমক্কারকাফেরগণ পূর্ব থেকেই বিশ্বাসকরতো, সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এসে তাদেরকে তাওহীদেরদাওয়াত দিতে লাগলেন, তিনি ঘোষণাকরলেন :অর্থ: “আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্রউপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউনেই”। [সুরা বাক্বারা, ২:১৬৩]অর্থ: “বলুন: আমাকে তো এ আদেশই দেয়াহয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্রউপাস্য। সুতরাং তোমরা কি আজ্ঞাবহ হবে”?[সুরা আম্বিয়া, ২১:১০৮]অর্থ: “আল্লাহ বললেন: তোমরা দুই উপাস্যগ্রহণ করো না উপাস্য তো মাত্র একজনই।অতএব আমাকেই ভয় কর”। [সুরা নাহল, ১৬:৫১]জবাবে তার সম্প্রদায় বললঃরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন বলেই মক্কারকাফেরগণ উত্তর দিয়েছিলো:অর্থ: “সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে একউপাস্যের উপাসনা সাব্যস্ত করে দিয়েছে।নিশ্চয় এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার”। [সূরা সাদ,৩৮;৫]