তাওহীদ ও ঈমান (২য় পর্ব)


তাওহীদ ও ঈমান (২য় পর্ব)

কিয়ামতের আলামত

• কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান:
কিয়ামত কখন সঙ্ঘঠিত হবে এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জানা নেই। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا ﴿৬৩﴾ (الأحزاب: ৬৩)
লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে, আর তোমার কি জানা আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে।[১]

কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ:
নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে সংঘঠিতব্য কতিপয় আলামত ও নিদর্শনাবলী সম্পর্কে আমাদের বলেছেন, যেগুলো কিয়ামত অতি নিকটে মর্মে প্রমাণ করে। বর্ণিত নিদর্শনাবলী দু’ ধরণের ; আলামতে সুগরা তথা ছোট ছোট নিদর্শন, আলামতে কুবরা বা বড় বড় নিদর্শন।

১- কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী
• কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী তিন ধরণের:

১- এমন এমন নিদর্শনাবলী যা সঙ্ঘঠিত হয়েছে এবং শেষও হয়ে গিয়েছে :
যেমন, নবীজীর আগমণ এবং প্রস্থান, তাঁর সত্যতার নিদর্শন স্বরূপ চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া, বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয় সূচিত হওয়া এবং হিজাযে অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটা।
عن عوف بن مالك رضي الله عنه قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: اعدد ستا بين يدي الساعة, موتي, ثم فتح بيت المقدس … أخرجه البخاري (১)
সাহাবী আউফ বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তুমি কিয়ামতের পূর্বে সঙ্ঘঠিতব্য ছয়টি বিষয় গননা কর; আমার মৃত্যু, অত:পর বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয়…।
বোখারী: ৩১৭৬
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( لا تقوم الساعة حتى تخرج نار من أرض الحجاز تضيء أعناق الإبل ببصرى )) متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: হেজায থেকে একটি অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটবে, ঐ আগুন বসরায় থাকা উঁটের গ্রীবা আলোকিত করে দেবে। অগ্নোৎপাতের উল্লেখিত ঘটনা ঘটার পূর্বে কিয়ামত সঙ্ঘঠিত হবে না।
বর্ণনায়: বোখারী:৭১১৮ ও মুসলিম : ২৯০২।

২-এমন আলামত যা প্রকাশ পেয়ে এখনও বিদ্যমান আছে :
যেমন: বিভিন্ন ফেতনার আবির্ভাব.. নবওয়্যতের মিথ্যা দাবিদারের আত্মপ্রকাশ ..
শরয়ী ইলম উঠিয়ে নেয়া.. অজ্ঞতার ব্যাপক উপস্থিতি.. নিরাপত্তা কর্মী ও অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া.. বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র প্রকাশ পাওয়া ও একে হালাল মনে করা.. যিনা-ব্যভিচার ব্যাপক হয়ে যাওয়া..ব্যাপকহারে মদ্য পান ও একে হালাল মনে করা.. নাঙ্গা পা, নাঙ্গা বদন ও বকরীর রাখালদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ অর্থাৎ সমাজের নিম্ন শ্রেণীর লোকদের সম্পদের দিক থেকে ব্যাপক উত্থান.. মসজিদ ও তার কারুকার্য নিয়ে লোকদের গর্ববোধ ও প্রতিযোগিতা..হত্যাকান্ড বৃদ্ধি পাওয়া .. সময় খাটো ও সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া.. অনুপযুক্ত লোকের নিকট দায়িত্ব অর্পণ করা.. মন্দ লোকদের ক্ষমতায়ন ও সম্মান দান.. ভাল লোকদের অপসারণ ও অপদস্ত করণ.. চাকচিক্যময় বালখিল্যতার আধিক্য.. কর্মের ঘাটতি ও অনুপস্থিতি.. অতি কাছাকাছি বাজার-ঘাটের উপস্থিতি..
এ উম্মতের মাঝে শিরকের আবির্ভাব..লোভ-লালসা ও কৃপণতার আধিক্য.. মিথ্যার আধিক্য.. সম্পদের আধিক্য.. ব্যবসা-বানিজ্যের ব্যাপক প্রসারতা লাভ.. অধিক পরিমাণে ভূমি কম্পণ.. আমানতদার-বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের খিয়ানত তথা বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করণ এবং বিশ্বাসঘাতক-গাদ্দারদের আমানতদার জ্ঞানকরণ.. অশ্লীলতার ব্যাপক উপস্থিতি.. আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করণ, নিকৃষ্টশ্রেণীর লোকদের ব্যাপক উত্থান ও উন্নতি সাধন, বিচারের রায় বেচা-কেনা, ছোট ও নিম্নতর লোকদের নিকট ইলম অন্বেষণ করণ..ব্যাপক হারে কলমের আবির্ভাব, বসনাবৃত উলঙ্গ নারীর আবির্ভাব, মিথ্যা সাক্ষ্যদানের আধিক্য, আকস্মিক মৃত্যুর প্রাদুর্ভাব, হালাল রিযিক অন্বেষনে অনীহা, আরব ভূমি নদী-নালায় পরিণত হওয়া।
হিংস্র জন্তুর মানুষের সাথে কথা বলা, লাঠি ও জুতার ফিতা কর্তৃক মালিকের সাথে কথা বলা, স্বীয় স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কি কি বলেছে সে বিষয়ে তার নিকট বলে দেয়া, ইরাক অবরুদ্ধ হওয়া এবং তাতে টাকা-পয়সা ও খাদ্য-খাবার পৌছতে বাধা দেয়া, অত:পর সিরিয়া-কে অবরোধ করা, এবং খানা-খাদ্য ও টাকা-পয়সার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, অত:পর মুসলমান ও রোমানদের সাথে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি হবে এরপর রোমানরা মুসলমানদের সাথে গাদ্দারি করবে ইত্যাদি।
عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم و هو مستقبل المشرق يقول : ألا إن الفتنة ها هنا, ألا إن الفتنة ها هنا, من حيث يطلع قرن الشيطان . متفق عليه (১)
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পূর্বদিক তাকিয়ে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল সা. বলেন: মনযোগ দিয়ে শোন, নিশ্চয়ই ফিতনার উৎপত্তি ঐ স্থান থেকে, ফিতনার উৎপত্তি ঐ স্থান থেকে যেখান থেকে শয়তানের সিং উদিত হয়। ( বুখারী, মুসলিম ) বুখারী-৭০৯৩ মুসলিম-২৯০৫

৩-এমন সব নিদর্শন যা এখনো প্রকাশ পায়নি তবে নি:সন্দেহে রাসূলুল্লাহর বর্ণনানুযায়ী অচিরেই প্রকাশ পাবে :
যেমন ফোরাত নদী থেকে স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ পাওয়া, যুদ্ধ ও অস্ত্র ব্যতীতই কন্‌স্টানটিনোপ্‌ল (ইস্তাম্বুল) জয় করা, তুরস্কের সাথে যুদ্ধ, ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সাহায্য প্রাপ্ত হওয়া, কাহতান নামক স্থান থেকে এক ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে যে লোকদের নিজ লাঠি দ্বারা তাড়িয়ে বেড়াবে এবং লোকেরা আনুগত্যের মাধ্যমে তার কাছে নতি স্বীকার করবে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এমনকি পঞ্চাশ জন নারীর জন্য মাত্র একজন নিয়ন্ত্রক হবে। আরোও একটি নিদর্শন হচ্ছে, মাহদীর আগমন – তিনি নবী পরিবার থেকে আগত একজন বিশেষ ব্যক্তি – আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের সাহায্য করবেন। তাঁর আবির্ভাবের পর পৃথিবী ন্যায় ও ইনসাফে ভরে যাবে যেমনিভাবে অন্যায় ও জুলুমে ভরে গিয়েছিল। তিনি সাত বৎসর রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্বকালে উম্মত এত সুখ ও সাচ্ছন্দে জীবন যাপন করবে যা তারা ইতিপূর্বে আর কখনও করতে পারেনি। তিনি পূর্ব হতে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং বায়তুল্লাহর নিকট বাইআত গ্রহণ করবেন।
কিয়ামতের পূর্বে সঙ্ঘটিতব্য আরো একটি আলামত হচ্ছে, যুস সুওয়াইক্বাতাইন নামক জনৈক হাবশীর হাতে পবিত্র কাবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া এরপর কাবা শরীফ আর নির্মিত হবে না। এটি একেবারে সর্বশেষ যুগের ঘটনা। আল্লাহ তাআলা ভাল জানেন।
উপরিউক্ত নিদর্শনাবলী যা আমরা বর্ণনা করেছি সবগুলোই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

২- কিয়ামতের বড় বড় নিদর্শনাবলী
عن حذيفة بن أسيد الغفاري رضي الله عنه قال: اطلع النبي صلى الله عليه وسلم علينا و نحن نتذاكر فقال: ما تذكرون؟ قالوا : نذكر الساعة . قال: إنها لن تقوم حتى ترون قبلها عشر آيات فذكر الدخان, والدجال, والدابة, وطلوع الشمس من مغربها, ونزول عيسى بن مريم عليه السلام, ويأجوج ومأجوج, وثلاثة خسوف, خسف بالمشرق وخسف بالمغرب و خسف بجزيرة العرب, وآخر ذلك نار تخرج من اليمن تطرد الناس إلى محشرهم . أخرجه مسلم (১)
সাহাবী হুযায়ফা বিন উসায়দ আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন: তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছ? লোকেরা বলল: কিয়ামত নিয়ে। রাসূলুল্লাহ বললেন : দশটি আলামত প্রত্যক্ষ করার পূর্বে কিয়ামত কখনো সাঙ্ঘটিত হবে না। এর পর তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করলেন: ধুঁয়া, দাজ্জাল, বিশেষ ধরণের জন্তু, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, ঈসা বিন মারয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব, তিনটি ভূমিধস, একটি প্রাচ্যে, একটি পাশ্চাত্যে এবং তৃতীয়টি আরব ভূ-খন্ডে,এবং সবার শেষে এক প্রকারের আগুন যা ইয়েমেন থেকে বের হয়ে লোকদের হাশরের ময়দানে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।[২]

১- দাজ্জালের আবির্ভাব:
দাজ্জাল – একজন আদম সন্তান- একজন মানুষ। শেষ যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে প্রভূত্বের দাবি করবে। প্রাচ্যের খোরাসান নগরী থেকে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। অত:পর পৃথিবী ব্যাপী ভ্রমন করবে এবং মক্কা, মদিনা, তুর এবং বাইতুল মুকাদ্দাস ব্যতীত পৃথিবীর প্রত্যেক শহরেই প্রবেশ করবে। ফেরেশতাদের বিশেষ পাহারার কারণে উল্লেখিত চার শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। নিম্ন ও জলাভূমি দিয়ে শহরে প্রবেশ করবে। তার অবতরনের ফলে শহর তিন বার ঝাঁকুনি দিয়ে প্রকম্পিত হবে তখন ঐ শহরে থাকা সকল মুনাফিক ও কাফের এসে তার কাছে জড় হবে।
দাজ্জালের ফেতনা:
দাজ্জালের আবির্ভাব একটি বড় ফেতনা। এর কারণ হচ্ছে আল্লাহ তাআলা তার সাথে অতিপ্রাকৃত-অলৌকিক এমন কিছু জিনিষ দেবেন যা অতি সচেতন – বুদ্ধিদীপ্ত মানুষদেরও হতবুদ্ধি করে দেবে। হাদীসে এসেছে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তার জান্নাত প্রকৃত অর্থে জাহান্নাম এবং তার জাহান্নাম মূলত জান্নাত। এবং তার সাথে রুটির পাহাড় ও পানির নহর থাকবে। আকাশকে নির্দেশ দিলে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে হুকুম করলে ভূমি শষ্য-উদ্ভিদ উৎপন্ন করবে। ভূমি অভ্যন্তরের যাবতীয় ধনভাণ্ডার তার পিছনে পিছনে চলবে। প্রবল বাতাস যেভাবে মেঘমালা কে খুব দ্রুততার সাথে তাড়িয়ে নিয়ে যায় অনুরূপ দ্রুততার সাথে সে রাস্তা অতিক্রম করবে।
পৃথিবীতে মোট চল্লিশ দিন অবস্থান করবে, প্রথম দিন হবে এক বৎসর সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান, তৃতীয় দিন এক সাপ্তাহের সমান, অবশিষ্ট দিনগুলো আমাদের দিনের মতই। অত:পর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ফিলিস্তীনের ‘বাবে লুদ্দ’ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।

দাজ্জালের বিবরণ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করে তার অনুসরণ ও তাকে সত্য বলে স্বীকৃতি দিতে নিষেধ করেছেন। তার অবস্থা ও ধরণ-প্রকৃতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যাতে আমরা তার থেকে সতর্ক থাকতে পারি। তিনি বলেছেন: সে বয়সে হবে যুবক, গায়ের রং রক্তিমবর্ণ, এক চক্ষু বিশিষ্ট-কানা, তার কোন সন্তানাদি হবে না, দু’চোখের মাঝে লেখা থাকবে “কাফের” প্রত্যেক মুসলমান তা পড়তে পারবে।
عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:(( إن مسيح الدجال رجل قصير,أفحج,جعد,أعور, مطموس العين, ليس بناتئة ولا جحراء, فإن ألبس عليكم فاعلموا أن ربكم تبارك وتعالى ليس بأعور)). أخرجه أحمد و أبو داود.
সাহাবী উবাদা বিন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দাজ্জাল হচ্ছে খাটোকায়-বেটে, দু’পায়ের নলা ঈসৎ ফাঁকা, কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট, এক চক্ষুহীন-কানা, চক্ষু লেপ্টানো, একেবারে উপরে উঠানো-ভাসা ভাসাও নয় আবার একেবারে গর্তের ভিতর ঢুকানোও নয়। তার বিষয়টি যদি তোমাদের নিকট অস্পষ্ট মনে হয় এবং তোমরা ধাঁধাঁয় পড়ে যাও তাহলে জেনে নাও তোমাদের পালনকর্তা কানা নন।
বর্ণনায় আহমদ (২৩১৪৪) ও আবু দাউদ(৪৩২০), হাদীসের সনদ সহীহ।
দাজ্জালের আবির্ভাবের স্থান:
عن النواس بن سمعان رضي الله عنه قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال و فيه : ((… إنه خارج خلة بين الشام و العراق فعاث يمينا و عاث شمالا )) أخرجه مسلم
সাহাবী নাওয়াস বিন সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের আলোচনা করেছেন, তাতে আছে ((… সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তীস্থান ” খিল্লাহ ” নামক স্থানে আবির্ভূত হবে অত:পর ডানে ও বামে খুব দ্রুত বি:শৃংখলা সৃষ্টি করবে।
বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং২৯৩৭
যে সব স্থানে দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না:
(১) عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( ليس من بلد إلا سيطؤه الدجال إلا مكة و المدينة )). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: মক্কা ও মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর সকল শহরেই দাজ্জাল প্রবেশ করবে। বুখারী (১৮৮১) ও মুসলিম(২৯৪৩)
(১) وعن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر الدجال ুوفيه- قال: (( ولا يقرب أربعة مساجد, مسجد الحرام, و مسجد المدينة, و مسجد الطور, و مسجد الأقصى))أخرجه أحمد
নবীজীর একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন -তাতে আছে- নবীজী বলেন:সে চারটি মসজিদের কাছেযেতেপারবেনা,মসজিদুল হারাম, মসজিদুন নববী, মসজিদুত তূর এবং মসজিদুল আকসা।
হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং২৪০৮৫, দেখুন: আসসিলসিলাতুস সহীহা ক্রমিক:২৯৩৪

দাজ্জালের অনুসারী:
দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারীদের মধ্যে থাকবে ইহুদী, ইস্পাহানের অনেক লোক।
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( يتبع الدجال من يهود أصبهان سبعون ألفا عليهم الطيالسة)). أخرجه مسلم
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দাজ্জালেন অনুসরন করবে ইস্পাহানের কতিপয় ইহুদী, এদের সত্তর হাজার হবে এমন, যাদের গায়ে এক রকমের বিশেষ চাদর থাকবে।
বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং:(২৯৪৪)

দাজ্জালের ফেৎনা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়:
নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফেৎনা থেকে বাঁচার অনেকগুলো উপায় বাতলেছেন যেগুলো হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। আমরা এখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তুলে ধরছি।
আল্লাহ তাআলার উপর পরিপূর্ণ ঈমান, সর্বদা বিশেষ করে সালাতে আল্লাহ তাআলার নিকট দাজ্জালের ফেৎনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং তার থেকে ভেগে থাকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
((من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من الدجال )) وفي لفظ ((فمن أدركه منكم فليقرأ عليه فواتتح سورة الكهف)) أخرجه مسلم .
যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত সংরক্ষণ করবে তাকে দাজ্জালের ফেৎনা থেকে নিরাপদ রাখা হবে। অন্য রেওয়াতে এসেছে: তোমাদের কাউকে যদি সে পেয়ে বসে তাহলে সে যেন তার উপর সূরা কাহফের প্রথম কয়েকটি আয়াত পড়ে।
(বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং ৮০৯ এবং ২৯৩৭)

২- ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ:
দাজ্জালের আবির্ভাব ও পৃথিবীতে তার বিশৃংখলা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করবেন। তিনি পূর্ব দামেস্কের সাদা মিনারের নিকট দু’জন ফেরেশতার পাখায় ভর করে পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর পৃথিবীতে ইসলামী হুকুমত কায়েম করে পবিত্র কুরআন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক-ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া-কর মওকূফ করে দেবেন, ধন-সম্পদ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাবে, পারস্পরিক শত্রুতা-বিদ্বেষ উঠে যাবে, পৃথিবীতে সাত বছর অবস্থান করবেন এমনভাবে যে দু’জন ব্যক্তির মাঝে পারস্পরিক কোন শত্রুতা নেই। অত:পর মৃত্যুবরণ করবেন এবং মুসলমানেরা তার জানাযা পড়বেন।
অত:পর আল্লাহ তাআলা সিরিয়ার দিক থেকে এক প্রকার পবিত্র (সুরভিত) ঠান্ডা বায়ূ প্রেরণ করবেন। ফলে পৃথিবীর বুকে জীবনধারণকারী – যার হৃদয়ে অনু পরিমাণ কল্যাণ বা ঈমানও অবশিষ্ট আছে- সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। বেচে থাকবে শুধু পাখির চঞ্চলতা ও হিংস্র জন্তুর চতুরতা নিয়ে নিকৃষ্টতর মানুষ সকল, তারা গাধার ন্যায় অস্থির ও ভারসাম্যহীন আচরণ করবে। অত:পর শয়তান তাদেরকে মুতির্ পূজার নির্দেশ দেবে আর তাদের উপরই কায়েম হবে কেয়ামত।
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : والذي نفسي بيده ليوشكن أن ينزل فيكم ابن مريم حكما و عدلا, فيكسر الصليب, ويقتل الخنزير ويضع الجزية, و يفيض المال حتى لا يقبله أحد, حتى تكون السجدة الواحدة خيرا من الدنيا و ما فيها . ثم يقول أبو هريرة رضي الله عنه : واقرؤا إن شئتم : ( وإن من أهل الكتاب إلا ليؤمنن به قبل موته و يوم القيامة يكون عليهم شهيدا { النساء : ১৫৯} متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বণির্ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কসম সে সত্ত্বার যার হাতে আমার জীবন, অচিরেই তোমাদের নিকট ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালাম ন্যায়পরায়ণ শাসক হয়ে আবির্ভূত হবেন। তিনি এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া-কর মওকূফ করে দেবেন। ধন-সম্পদ প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে এক পর্যায়ে গ্রহণ করার মত কাউকে পাওয়া যাবে না। এমন কি মানুষের নিকট তখন একটি মাত্র সেজদা দুনিয়া এবং দুনিয়াস্থিত সকল কিছুর থেকে উত্তম মনে হবে। অত:পর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: যদি তোমাদের মনে চায় তাহলে পড়:
: ( وإن من أهل الكتاب إلا ليؤمنن به قبل موته و يوم القيامة يكون عليهم شهيدا { النساء : ১৫৯}
আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সকলেই ঈসার উপর ঈমান আনবে তার মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে। (সূরা নিসা:১৫৯)
বর্ণনায় বুখারী (৩৪৪৮) ও মুসলিম (১৫৫)

ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাব:
ইয়াজুজ মাজুজ বনী আদমের দু’টি বিশাল জাতি। তারা খুবই শক্তিধর মানুষ, তাদের মোকাবেলা ও তাদেন সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই। তাদের আবির্ভাব কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্যতম। পৃথিবীতে এসে তারা অনর্থ ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে। অত:পর নবী ‍ঈসা আলাইহিস সালাম তাদের বিরুদ্ধে বদ্‌ দোআ করবেন ফলে সকলেই মরে যাবে।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
حتى إذا فتحت يأجوج و مأجوج و هم من كل حدب ينسلون (الأنبياء: ৯৬)
এমন কি যখন ইয়াজুজ ও মা’জুজকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। ( সূরা আম্বিয়া:৯৬)
(২)
وعن النواس بن سمعان رضي الله عنه قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجّال و أن عيسى يقتله بباب لدّ… ু فيه ু (( إذ أوحى الله إلى عيسى : إني قد أخرجت عبادا لي لا يدان لأحد بقتالهم, فحرّز عبادي إلى الطور, و يبعث الله يأجوج و مأجوج و هم من كل حدب ينسلون, فيمرّ أوائلهم على بحيرة طبرية فيشربون ما فيها, و يمر آخرهم فيقولون : لقد كان بهذه مرة ماء, و يحصر نبي الله عيسى و أصحابه حتى يكون رأس الثور لأحدهم خيرا من مائة دينار لأحدكم اليوم, فيرغب نبي الله عيسى و أصحابه فيرسل الله عليهم النغف في رقابهم فيصبحون فرسى كموت نفس واحدة, ثم يهبط نبي الله عيسى و أصحابه إلى الأرض…)) أخرجه مسلم
সাহাবী নাওয়্যাস বিন সাম’আন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আলোচনা করছিলেন যে, দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে এবং নবী ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে বাবে লুদ্দ নামক স্থানে হত্যা করবেন…-এবং তাতে আছে- (তখন আল্লাহ তাআলা ঈসার নিকট প্রত্যাদেশ প্রেরণ করবেন যে, আমি আমার এক বিশেষ বান্দাদের বের করেছি যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কারো নেই। আপনি আমার বান্দাদের তুর পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুন তাদের সেখানে যেতে বলুন। এরপর আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ মা’জুজ পাঠাবেন, তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। তাদের প্রথম দল তাবারী হ্রদ অতিক্রম করবে এবং তাতে যা আছে সব পান করে ফেলবে। এর পর শেষ দল এসে বলবে,এতে কোন এক সময় পানি ছিল। এক সময় আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সঙ্গীরা অবরুদ্ধ হয়ে যাবেন। এক পর্যায়ে তাদের নিকট একটি গুরুর মাথা আজকে তোমাদের কাছে একশত দীনারের চেয়েও উত্তম মনে হবে।অত:পর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সহচরবৃন্দ আল্লাহর নিকট দোআ করবেন, আল্লাহ তাআলা তাদের গ্রীবাদেশে “নাগাফ” নামক এক প্রকার বিষাক্ত পোকা (যা মূলত উট ও বকরীর নাকে থাকে) পাঠাবেন। ফলে তারা এক ব্যক্তির মৃত্যুর ন্যায় সকলে এক সাথে মরে যাবে। পরে আল্লাহর নবী ঈসা ও তাঁর সাথীবৃন্দ যমীনে নেমে আসবেন…). বর্ণনায় মুসলিম:(২৯৩৭)
নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সহচরবৃন্দের ভূমিতে অবতরনের পর তাঁরা আল্লাহ তাআলার নিকট দোআ করবেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের দোআ কবুল করে এক প্রকার বিশেষ পাখি প্রেরণ করবেন তারা ইয়াজুজ মাজুজকে তুলে নিয়ে আল্লাহ যেখানে নিক্ষেপ করতে বলবেন সেখানে নিক্ষেপ করবে।অত:পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বৃষ্টি বর্ষণ করে ভূমিকে ধুয়ে দেবেন।এরপর পৃথিবীতে অধিক পরিমানে বরকত নাযিল হবে,তরি-তরকারি, শাক-সবজি, ফল-মূল প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হবে। উদ্ভিদ-তৃণ ও পশুর ক্ষেত্রেও উক্ত বরকত পরিলক্ষিত হবে।

৪-৫-৬-তিনটি ভুমিধস:
কেয়ামতের পূর্বক্ষণে তিনটি ভূমিধস ঘটবে। ঐ ভূমিধস কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্যতম। তিনটির একটি ঘটবে প্রাচ্যে দ্বিতীয়টি পাশ্চাত্যে এবং তৃতীয়টি আরব ভূ-খন্ডে। এগুলো এখনো সংঘটিত হয়নি।

৭-ধুম্র:
শেষ যুগে ধোঁয়ার আবির্ভাব কেয়ামতের একটি বড় আলামত।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
فارتقب يوم تأتي السماء بدخان مبين, يغشى الناس هذا عذاب أليم. { الدخان: ১০-১১)
অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের যে দিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ, এবং তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এটি হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ( সূরা দোখান:১০-১১)
(২)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: بادروا بالأعمال ستا: طلوع الشمس من مغربها أو الدخان أوالدجال أو الدابة أو خاصة أحدكم أو أمر العامة. أخرجه مسلم .
(২) বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: ব্যক্তিগতভাবে হোক অথবা সাধারনভাবে হোক, তোমরা ছয়টি বস্তুর অভ্যূদয়ের পূর্বেই নেক আমল বেশি পরিমাণে সম্পাদন কর। বস্তু ছয়টি হচ্ছে, পশ্চিম থেকে সূর্যোদয়, ধুম্র, দাজ্জাল, জন্তু।

৮-অস্তাচল থেকে সূর্যোদয়:
পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের ঘটনা কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্তর্ভূক্ত। এটিই হচ্ছে উর্দ্ধজগতের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে অবহিতকারী সর্ব প্রথম বড় নিদর্শন। এ ব্যাপারে কোরআন ও হাদীসে অনেক তথ-প্রমাণ বিদ্যমান। আমরা এখানে অল্পকিছু তুলে ধরছি:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
يوم يأتي بعض آيات ربك لا ينفع نفسا إيمانها لم …{ الأنعام: ১৫৮)
যেদিন আপনার প্রতিপালকের কতক নিদর্শন প্রকাশ হয়ে পড়বে, (পশ্চিম দিক থেকে যেদিন সূযোদয় ঘটবে) সেই দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান তখন কোন উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি (তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না)। (সূরা আল আন’আম: ১৫৮)
(২)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها, فإذا طلعت من مغربها آمن الناس كلهم أجمعون, فيومئذ: ( لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيرا ) متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে কেয়ামত সংঘটিত হবে না। যখন সেদিক থেকে উদিত হবে তখন পৃথিবীস্থিত সকল মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে। তবে সেদিন, এ দিনের দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি (তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না (( বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। বুখারী হাদীস নং (৪৬৩৫) আর মুসলিম হাদীস নং (১৫৭)
(৩)
وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سقول : (( إن أول الآيات خروجا طلوع الشمس من مغربها, وخروج الدابة على الناس ضحى, وأيهما ما كانت قبل صاحبتها فالأخرى على إثرها قريبا )) أخرجه مسلم
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইরশাদ করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ বলেন: কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনাবলির মধ্যে সর্ব প্রথম যেটির আবির্ভাব ঘটবে তা হচ্ছে, পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় এবং পূর্বা‎েহ্নর সময় বিশেষ জন্তুর অভ্যূদয়। এদের যেটিই প্রথমে আবির্ভূত হোক দ্বিতীয়টি এর পরপরই আবির্ভূত হবে। বর্ণনায় মুসলিম: (২৯৪১)

৯-বিশেষ জন্তুর আত্মপ্রকাশ:
শেষ যুগে একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্তুর আত্মপ্রকাশ ঘটবে আর এটির প্রকাশ পাওয়াই হচ্ছে কেয়ামত অতি নিকটে এসে যাওয়ার আলামত। তারা বের হওয়ার পর লোকেরা তাদের শুঁড়ে বিষ ঢেলে দেবে, কাফেরদের নাকে লাগাম লাগানো হবে আর মুমিনবান্দাদের চেহারা আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
উক্ত জন্তুর প্রকাশ প্রসঙ্গে আমরা কিছু দলীল পেশ করছি :
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
وإذا وقع القول عليهم أخرجنا لهم دابة من الأرض تكلمهم أن الناس كانوا بآياتنا لا يوقنون .{النمل : ৮২}
যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। তারা মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না। ( সূরা আন্‌ নামল: ৮২ )
(২)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( ثلاث إذا خرجن لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيرا : طلوع الشمس من مغربها, والدجال, ودابة الأرض)). أخرجه مسلم
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: (কেয়ামতের পূর্বে) যখন তিনটি নিদর্শন প্রকাশ পাবে তখন আর সেই দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না) নদর্শন তিনটি হচ্ছে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, দাজ্জাল এবং ভূ-নির্গত জন্তু। বর্ণনায় সহীহ মুসলিম: (১৫৮)

১০-মানুষদের সমবেত কারী আগুনের আবির্ভাব:
এটি একটি বড় ধরণের আগুন যা প্রাচ্যের ইয়েমেনের এডেনের ভূগর্ভ থেকে বের হবে। এটি কেয়ামতের বড় নিদর্শনাবলির সর্বশেষ নিদর্শন। এবং কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ঘোষণা কারী সর্ব প্রথম আলামত। ইয়েমেন থেকে বের হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানুষদের সিরিয়ার সমবেত হওয়ার স্থলে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
আগুন লোকদের কি ভাবে সমবেত করবে:
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:(( يحشر الناس على ثلاث طرائق: راغبين, وراهبين, واثنان على بعير, ثلاثة على بعير,أربعة على بعير, عشرة على بعير, يحشر بقيتهم النار, ت