তাওহীদ ও ঈমান (২য় পর্ব)


তাওহীদ ও ঈমান (২য় পর্ব)

কিয়ামতের আলামত

• কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান:
কিয়ামত কখন সঙ্ঘঠিত হবে এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জানা নেই। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا ﴿৬৩﴾ (الأحزاب: ৬৩)
লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে, আর তোমার কি জানা আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে।[১]

কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ:
নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে সংঘঠিতব্য কতিপয় আলামত ও নিদর্শনাবলী সম্পর্কে আমাদের বলেছেন, যেগুলো কিয়ামত অতি নিকটে মর্মে প্রমাণ করে। বর্ণিত নিদর্শনাবলী দু’ ধরণের ; আলামতে সুগরা তথা ছোট ছোট নিদর্শন, আলামতে কুবরা বা বড় বড় নিদর্শন।

১- কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী
• কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী তিন ধরণের:

১- এমন এমন নিদর্শনাবলী যা সঙ্ঘঠিত হয়েছে এবং শেষও হয়ে গিয়েছে :
যেমন, নবীজীর আগমণ এবং প্রস্থান, তাঁর সত্যতার নিদর্শন স্বরূপ চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া, বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয় সূচিত হওয়া এবং হিজাযে অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটা।
عن عوف بن مالك رضي الله عنه قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: اعدد ستا بين يدي الساعة, موتي, ثم فتح بيت المقدس … أخرجه البخاري (১)
সাহাবী আউফ বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তুমি কিয়ামতের পূর্বে সঙ্ঘঠিতব্য ছয়টি বিষয় গননা কর; আমার মৃত্যু, অত:পর বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয়…।
বোখারী: ৩১৭৬
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( لا تقوم الساعة حتى تخرج نار من أرض الحجاز تضيء أعناق الإبل ببصرى )) متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: হেজায থেকে একটি অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটবে, ঐ আগুন বসরায় থাকা উঁটের গ্রীবা আলোকিত করে দেবে। অগ্নোৎপাতের উল্লেখিত ঘটনা ঘটার পূর্বে কিয়ামত সঙ্ঘঠিত হবে না।
বর্ণনায়: বোখারী:৭১১৮ ও মুসলিম : ২৯০২।

২-এমন আলামত যা প্রকাশ পেয়ে এখনও বিদ্যমান আছে :
যেমন: বিভিন্ন ফেতনার আবির্ভাব.. নবওয়্যতের মিথ্যা দাবিদারের আত্মপ্রকাশ ..
শরয়ী ইলম উঠিয়ে নেয়া.. অজ্ঞতার ব্যাপক উপস্থিতি.. নিরাপত্তা কর্মী ও অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া.. বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র প্রকাশ পাওয়া ও একে হালাল মনে করা.. যিনা-ব্যভিচার ব্যাপক হয়ে যাওয়া..ব্যাপকহারে মদ্য পান ও একে হালাল মনে করা.. নাঙ্গা পা, নাঙ্গা বদন ও বকরীর রাখালদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ অর্থাৎ সমাজের নিম্ন শ্রেণীর লোকদের সম্পদের দিক থেকে ব্যাপক উত্থান.. মসজিদ ও তার কারুকার্য নিয়ে লোকদের গর্ববোধ ও প্রতিযোগিতা..হত্যাকান্ড বৃদ্ধি পাওয়া .. সময় খাটো ও সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া.. অনুপযুক্ত লোকের নিকট দায়িত্ব অর্পণ করা.. মন্দ লোকদের ক্ষমতায়ন ও সম্মান দান.. ভাল লোকদের অপসারণ ও অপদস্ত করণ.. চাকচিক্যময় বালখিল্যতার আধিক্য.. কর্মের ঘাটতি ও অনুপস্থিতি.. অতি কাছাকাছি বাজার-ঘাটের উপস্থিতি..
এ উম্মতের মাঝে শিরকের আবির্ভাব..লোভ-লালসা ও কৃপণতার আধিক্য.. মিথ্যার আধিক্য.. সম্পদের আধিক্য.. ব্যবসা-বানিজ্যের ব্যাপক প্রসারতা লাভ.. অধিক পরিমাণে ভূমি কম্পণ.. আমানতদার-বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের খিয়ানত তথা বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করণ এবং বিশ্বাসঘাতক-গাদ্দারদের আমানতদার জ্ঞানকরণ.. অশ্লীলতার ব্যাপক উপস্থিতি.. আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করণ, নিকৃষ্টশ্রেণীর লোকদের ব্যাপক উত্থান ও উন্নতি সাধন, বিচারের রায় বেচা-কেনা, ছোট ও নিম্নতর লোকদের নিকট ইলম অন্বেষণ করণ..ব্যাপক হারে কলমের আবির্ভাব, বসনাবৃত উলঙ্গ নারীর আবির্ভাব, মিথ্যা সাক্ষ্যদানের আধিক্য, আকস্মিক মৃত্যুর প্রাদুর্ভাব, হালাল রিযিক অন্বেষনে অনীহা, আরব ভূমি নদী-নালায় পরিণত হওয়া।
হিংস্র জন্তুর মানুষের সাথে কথা বলা, লাঠি ও জুতার ফিতা কর্তৃক মালিকের সাথে কথা বলা, স্বীয় স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কি কি বলেছে সে বিষয়ে তার নিকট বলে দেয়া, ইরাক অবরুদ্ধ হওয়া এবং তাতে টাকা-পয়সা ও খাদ্য-খাবার পৌছতে বাধা দেয়া, অত:পর সিরিয়া-কে অবরোধ করা, এবং খানা-খাদ্য ও টাকা-পয়সার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, অত:পর মুসলমান ও রোমানদের সাথে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি হবে এরপর রোমানরা মুসলমানদের সাথে গাদ্দারি করবে ইত্যাদি।
عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم و هو مستقبل المشرق يقول : ألا إن الفتنة ها هنا, ألا إن الفتنة ها هنا, من حيث يطلع قرن الشيطان . متفق عليه (১)
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পূর্বদিক তাকিয়ে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল সা. বলেন: মনযোগ দিয়ে শোন, নিশ্চয়ই ফিতনার উৎপত্তি ঐ স্থান থেকে, ফিতনার উৎপত্তি ঐ স্থান থেকে যেখান থেকে শয়তানের সিং উদিত হয়। ( বুখারী, মুসলিম ) বুখারী-৭০৯৩ মুসলিম-২৯০৫

৩-এমন সব নিদর্শন যা এখনো প্রকাশ পায়নি তবে নি:সন্দেহে রাসূলুল্লাহর বর্ণনানুযায়ী অচিরেই প্রকাশ পাবে :
যেমন ফোরাত নদী থেকে স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ পাওয়া, যুদ্ধ ও অস্ত্র ব্যতীতই কন্‌স্টানটিনোপ্‌ল (ইস্তাম্বুল) জয় করা, তুরস্কের সাথে যুদ্ধ, ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সাহায্য প্রাপ্ত হওয়া, কাহতান নামক স্থান থেকে এক ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে যে লোকদের নিজ লাঠি দ্বারা তাড়িয়ে বেড়াবে এবং লোকেরা আনুগত্যের মাধ্যমে তার কাছে নতি স্বীকার করবে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এমনকি পঞ্চাশ জন নারীর জন্য মাত্র একজন নিয়ন্ত্রক হবে। আরোও একটি নিদর্শন হচ্ছে, মাহদীর আগমন – তিনি নবী পরিবার থেকে আগত একজন বিশেষ ব্যক্তি – আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের সাহায্য করবেন। তাঁর আবির্ভাবের পর পৃথিবী ন্যায় ও ইনসাফে ভরে যাবে যেমনিভাবে অন্যায় ও জুলুমে ভরে গিয়েছিল। তিনি সাত বৎসর রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্বকালে উম্মত এত সুখ ও সাচ্ছন্দে জীবন যাপন করবে যা তারা ইতিপূর্বে আর কখনও করতে পারেনি। তিনি পূর্ব হতে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং বায়তুল্লাহর নিকট বাইআত গ্রহণ করবেন।
কিয়ামতের পূর্বে সঙ্ঘটিতব্য আরো একটি আলামত হচ্ছে, যুস সুওয়াইক্বাতাইন নামক জনৈক হাবশীর হাতে পবিত্র কাবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া এরপর কাবা শরীফ আর নির্মিত হবে না। এটি একেবারে সর্বশেষ যুগের ঘটনা। আল্লাহ তাআলা ভাল জানেন।
উপরিউক্ত নিদর্শনাবলী যা আমরা বর্ণনা করেছি সবগুলোই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

২- কিয়ামতের বড় বড় নিদর্শনাবলী
عن حذيفة بن أسيد الغفاري رضي الله عنه قال: اطلع النبي صلى الله عليه وسلم علينا و نحن نتذاكر فقال: ما تذكرون؟ قالوا : نذكر الساعة . قال: إنها لن تقوم حتى ترون قبلها عشر آيات فذكر الدخان, والدجال, والدابة, وطلوع الشمس من مغربها, ونزول عيسى بن مريم عليه السلام, ويأجوج ومأجوج, وثلاثة خسوف, خسف بالمشرق وخسف بالمغرب و خسف بجزيرة العرب, وآخر ذلك نار تخرج من اليمن تطرد الناس إلى محشرهم . أخرجه مسلم (১)
সাহাবী হুযায়ফা বিন উসায়দ আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন: তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছ? লোকেরা বলল: কিয়ামত নিয়ে। রাসূলুল্লাহ বললেন : দশটি আলামত প্রত্যক্ষ করার পূর্বে কিয়ামত কখনো সাঙ্ঘটিত হবে না। এর পর তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করলেন: ধুঁয়া, দাজ্জাল, বিশেষ ধরণের জন্তু, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, ঈসা বিন মারয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব, তিনটি ভূমিধস, একটি প্রাচ্যে, একটি পাশ্চাত্যে এবং তৃতীয়টি আরব ভূ-খন্ডে,এবং সবার শেষে এক প্রকারের আগুন যা ইয়েমেন থেকে বের হয়ে লোকদের হাশরের ময়দানে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।[২]

১- দাজ্জালের আবির্ভাব:
দাজ্জাল – একজন আদম সন্তান- একজন মানুষ। শেষ যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে প্রভূত্বের দাবি করবে। প্রাচ্যের খোরাসান নগরী থেকে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। অত:পর পৃথিবী ব্যাপী ভ্রমন করবে এবং মক্কা, মদিনা, তুর এবং বাইতুল মুকাদ্দাস ব্যতীত পৃথিবীর প্রত্যেক শহরেই প্রবেশ করবে। ফেরেশতাদের বিশেষ পাহারার কারণে উল্লেখিত চার শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। নিম্ন ও জলাভূমি দিয়ে শহরে প্রবেশ করবে। তার অবতরনের ফলে শহর তিন বার ঝাঁকুনি দিয়ে প্রকম্পিত হবে তখন ঐ শহরে থাকা সকল মুনাফিক ও কাফের এসে তার কাছে জড় হবে।
দাজ্জালের ফেতনা:
দাজ্জালের আবির্ভাব একটি বড় ফেতনা। এর কারণ হচ্ছে আল্লাহ তাআলা তার সাথে অতিপ্রাকৃত-অলৌকিক এমন কিছু জিনিষ দেবেন যা অতি সচেতন – বুদ্ধিদীপ্ত মানুষদেরও হতবুদ্ধি করে দেবে। হাদীসে এসেছে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তার জান্নাত প্রকৃত অর্থে জাহান্নাম এবং তার জাহান্নাম মূলত জান্নাত। এবং তার সাথে রুটির পাহাড় ও পানির নহর থাকবে। আকাশকে নির্দেশ দিলে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে হুকুম করলে ভূমি শষ্য-উদ্ভিদ উৎপন্ন করবে। ভূমি অভ্যন্তরের যাবতীয় ধনভাণ্ডার তার পিছনে পিছনে চলবে। প্রবল বাতাস যেভাবে মেঘমালা কে খুব দ্রুততার সাথে তাড়িয়ে নিয়ে যায় অনুরূপ দ্রুততার সাথে সে রাস্তা অতিক্রম করবে।
পৃথিবীতে মোট চল্লিশ দিন অবস্থান করবে, প্রথম দিন হবে এক বৎসর সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান, তৃতীয় দিন এক সাপ্তাহের সমান, অবশিষ্ট দিনগুলো আমাদের দিনের মতই। অত:পর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ফিলিস্তীনের ‘বাবে লুদ্দ’ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।

দাজ্জালের বিবরণ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করে তার অনুসরণ ও তাকে সত্য বলে স্বীকৃতি দিতে নিষেধ করেছেন। তার অবস্থা ও ধরণ-প্রকৃতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যাতে আমরা তার থেকে সতর্ক থাকতে পারি। তিনি বলেছেন: সে বয়সে হবে যুবক, গায়ের রং রক্তিমবর্ণ, এক চক্ষু বিশিষ্ট-কানা, তার কোন সন্তানাদি হবে না, দু’চোখের মাঝে লেখা থাকবে “কাফের” প্রত্যেক মুসলমান তা পড়তে পারবে।
عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:(( إن مسيح الدجال رجل قصير,أفحج,جعد,أعور, مطموس العين, ليس بناتئة ولا جحراء, فإن ألبس عليكم فاعلموا أن ربكم تبارك وتعالى ليس بأعور)). أخرجه أحمد و أبو داود.
সাহাবী উবাদা বিন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দাজ্জাল হচ্ছে খাটোকায়-বেটে, দু’পায়ের নলা ঈসৎ ফাঁকা, কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট, এক চক্ষুহীন-কানা, চক্ষু লেপ্টানো, একেবারে উপরে উঠানো-ভাসা ভাসাও নয় আবার একেবারে গর্তের ভিতর ঢুকানোও নয়। তার বিষয়টি যদি তোমাদের নিকট অস্পষ্ট মনে হয় এবং তোমরা ধাঁধাঁয় পড়ে যাও তাহলে জেনে নাও তোমাদের পালনকর্তা কানা নন।
বর্ণনায় আহমদ (২৩১৪৪) ও আবু দাউদ(৪৩২০), হাদীসের সনদ সহীহ।
দাজ্জালের আবির্ভাবের স্থান:
عن النواس بن سمعان رضي الله عنه قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال و فيه : ((… إنه خارج خلة بين الشام و العراق فعاث يمينا و عاث شمالا )) أخرجه مسلم
সাহাবী নাওয়াস বিন সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের আলোচনা করেছেন, তাতে আছে ((… সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তীস্থান ” খিল্লাহ ” নামক স্থানে আবির্ভূত হবে অত:পর ডানে ও বামে খুব দ্রুত বি:শৃংখলা সৃষ্টি করবে।
বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং২৯৩৭
যে সব স্থানে দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না:
(১) عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( ليس من بلد إلا سيطؤه الدجال إلا مكة و المدينة )). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: মক্কা ও মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর সকল শহরেই দাজ্জাল প্রবেশ করবে। বুখারী (১৮৮১) ও মুসলিম(২৯৪৩)
(১) وعن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر الدجال ুوفيه- قال: (( ولا يقرب أربعة مساجد, مسجد الحرام, و مسجد المدينة, و مسجد الطور, و مسجد الأقصى))أخرجه أحمد
নবীজীর একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন -তাতে আছে- নবীজী বলেন:সে চারটি মসজিদের কাছেযেতেপারবেনা,মসজিদুল হারাম, মসজিদুন নববী, মসজিদুত তূর এবং মসজিদুল আকসা।
হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং২৪০৮৫, দেখুন: আসসিলসিলাতুস সহীহা ক্রমিক:২৯৩৪

দাজ্জালের অনুসারী:
দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারীদের মধ্যে থাকবে ইহুদী, ইস্পাহানের অনেক লোক।
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( يتبع الدجال من يهود أصبهان سبعون ألفا عليهم الطيالسة)). أخرجه مسلم
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দাজ্জালেন অনুসরন করবে ইস্পাহানের কতিপয় ইহুদী, এদের সত্তর হাজার হবে এমন, যাদের গায়ে এক রকমের বিশেষ চাদর থাকবে।
বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং:(২৯৪৪)

দাজ্জালের ফেৎনা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়:
নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফেৎনা থেকে বাঁচার অনেকগুলো উপায় বাতলেছেন যেগুলো হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। আমরা এখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তুলে ধরছি।
আল্লাহ তাআলার উপর পরিপূর্ণ ঈমান, সর্বদা বিশেষ করে সালাতে আল্লাহ তাআলার নিকট দাজ্জালের ফেৎনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং তার থেকে ভেগে থাকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
((من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من الدجال )) وفي لفظ ((فمن أدركه منكم فليقرأ عليه فواتتح سورة الكهف)) أخرجه مسلم .
যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত সংরক্ষণ করবে তাকে দাজ্জালের ফেৎনা থেকে নিরাপদ রাখা হবে। অন্য রেওয়াতে এসেছে: তোমাদের কাউকে যদি সে পেয়ে বসে তাহলে সে যেন তার উপর সূরা কাহফের প্রথম কয়েকটি আয়াত পড়ে।
(বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং ৮০৯ এবং ২৯৩৭)

২- ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ:
দাজ্জালের আবির্ভাব ও পৃথিবীতে তার বিশৃংখলা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করবেন। তিনি পূর্ব দামেস্কের সাদা মিনারের নিকট দু’জন ফেরেশতার পাখায় ভর করে পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর পৃথিবীতে ইসলামী হুকুমত কায়েম করে পবিত্র কুরআন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক-ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া-কর মওকূফ করে দেবেন, ধন-সম্পদ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাবে, পারস্পরিক শত্রুতা-বিদ্বেষ উঠে যাবে, পৃথিবীতে সাত বছর অবস্থান করবেন এমনভাবে যে দু’জন ব্যক্তির মাঝে পারস্পরিক কোন শত্রুতা নেই। অত:পর মৃত্যুবরণ করবেন এবং মুসলমানেরা তার জানাযা পড়বেন।
অত:পর আল্লাহ তাআলা সিরিয়ার দিক থেকে এক প্রকার পবিত্র (সুরভিত) ঠান্ডা বায়ূ প্রেরণ করবেন। ফলে পৃথিবীর বুকে জীবনধারণকারী – যার হৃদয়ে অনু পরিমাণ কল্যাণ বা ঈমানও অবশিষ্ট আছে- সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। বেচে থাকবে শুধু পাখির চঞ্চলতা ও হিংস্র জন্তুর চতুরতা নিয়ে নিকৃষ্টতর মানুষ সকল, তারা গাধার ন্যায় অস্থির ও ভারসাম্যহীন আচরণ করবে। অত:পর শয়তান তাদেরকে মুতির্ পূজার নির্দেশ দেবে আর তাদের উপরই কায়েম হবে কেয়ামত।
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : والذي نفسي بيده ليوشكن أن ينزل فيكم ابن مريم حكما و عدلا, فيكسر الصليب, ويقتل الخنزير ويضع الجزية, و يفيض المال حتى لا يقبله أحد, حتى تكون السجدة الواحدة خيرا من الدنيا و ما فيها . ثم يقول أبو هريرة رضي الله عنه : واقرؤا إن شئتم : ( وإن من أهل الكتاب إلا ليؤمنن به قبل موته و يوم القيامة يكون عليهم شهيدا { النساء : ১৫৯} متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বণির্ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কসম সে সত্ত্বার যার হাতে আমার জীবন, অচিরেই তোমাদের নিকট ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালাম ন্যায়পরায়ণ শাসক হয়ে আবির্ভূত হবেন। তিনি এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া-কর মওকূফ করে দেবেন। ধন-সম্পদ প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে এক পর্যায়ে গ্রহণ করার মত কাউকে পাওয়া যাবে না। এমন কি মানুষের নিকট তখন একটি মাত্র সেজদা দুনিয়া এবং দুনিয়াস্থিত সকল কিছুর থেকে উত্তম মনে হবে। অত:পর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: যদি তোমাদের মনে চায় তাহলে পড়:
: ( وإن من أهل الكتاب إلا ليؤمنن به قبل موته و يوم القيامة يكون عليهم شهيدا { النساء : ১৫৯}
আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সকলেই ঈসার উপর ঈমান আনবে তার মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে। (সূরা নিসা:১৫৯)
বর্ণনায় বুখারী (৩৪৪৮) ও মুসলিম (১৫৫)

ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাব:
ইয়াজুজ মাজুজ বনী আদমের দু’টি বিশাল জাতি। তারা খুবই শক্তিধর মানুষ, তাদের মোকাবেলা ও তাদেন সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই। তাদের আবির্ভাব কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্যতম। পৃথিবীতে এসে তারা অনর্থ ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে। অত:পর নবী ‍ঈসা আলাইহিস সালাম তাদের বিরুদ্ধে বদ্‌ দোআ করবেন ফলে সকলেই মরে যাবে।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
حتى إذا فتحت يأجوج و مأجوج و هم من كل حدب ينسلون (الأنبياء: ৯৬)
এমন কি যখন ইয়াজুজ ও মা’জুজকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। ( সূরা আম্বিয়া:৯৬)
(২)
وعن النواس بن سمعان رضي الله عنه قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجّال و أن عيسى يقتله بباب لدّ… ু فيه ু (( إذ أوحى الله إلى عيسى : إني قد أخرجت عبادا لي لا يدان لأحد بقتالهم, فحرّز عبادي إلى الطور, و يبعث الله يأجوج و مأجوج و هم من كل حدب ينسلون, فيمرّ أوائلهم على بحيرة طبرية فيشربون ما فيها, و يمر آخرهم فيقولون : لقد كان بهذه مرة ماء, و يحصر نبي الله عيسى و أصحابه حتى يكون رأس الثور لأحدهم خيرا من مائة دينار لأحدكم اليوم, فيرغب نبي الله عيسى و أصحابه فيرسل الله عليهم النغف في رقابهم فيصبحون فرسى كموت نفس واحدة, ثم يهبط نبي الله عيسى و أصحابه إلى الأرض…)) أخرجه مسلم
সাহাবী নাওয়্যাস বিন সাম’আন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আলোচনা করছিলেন যে, দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে এবং নবী ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে বাবে লুদ্দ নামক স্থানে হত্যা করবেন…-এবং তাতে আছে- (তখন আল্লাহ তাআলা ঈসার নিকট প্রত্যাদেশ প্রেরণ করবেন যে, আমি আমার এক বিশেষ বান্দাদের বের করেছি যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কারো নেই। আপনি আমার বান্দাদের তুর পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুন তাদের সেখানে যেতে বলুন। এরপর আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ মা’জুজ পাঠাবেন, তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। তাদের প্রথম দল তাবারী হ্রদ অতিক্রম করবে এবং তাতে যা আছে সব পান করে ফেলবে। এর পর শেষ দল এসে বলবে,এতে কোন এক সময় পানি ছিল। এক সময় আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সঙ্গীরা অবরুদ্ধ হয়ে যাবেন। এক পর্যায়ে তাদের নিকট একটি গুরুর মাথা আজকে তোমাদের কাছে একশত দীনারের চেয়েও উত্তম মনে হবে।অত:পর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সহচরবৃন্দ আল্লাহর নিকট দোআ করবেন, আল্লাহ তাআলা তাদের গ্রীবাদেশে “নাগাফ” নামক এক প্রকার বিষাক্ত পোকা (যা মূলত উট ও বকরীর নাকে থাকে) পাঠাবেন। ফলে তারা এক ব্যক্তির মৃত্যুর ন্যায় সকলে এক সাথে মরে যাবে। পরে আল্লাহর নবী ঈসা ও তাঁর সাথীবৃন্দ যমীনে নেমে আসবেন…). বর্ণনায় মুসলিম:(২৯৩৭)
নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সহচরবৃন্দের ভূমিতে অবতরনের পর তাঁরা আল্লাহ তাআলার নিকট দোআ করবেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের দোআ কবুল করে এক প্রকার বিশেষ পাখি প্রেরণ করবেন তারা ইয়াজুজ মাজুজকে তুলে নিয়ে আল্লাহ যেখানে নিক্ষেপ করতে বলবেন সেখানে নিক্ষেপ করবে।অত:পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বৃষ্টি বর্ষণ করে ভূমিকে ধুয়ে দেবেন।এরপর পৃথিবীতে অধিক পরিমানে বরকত নাযিল হবে,তরি-তরকারি, শাক-সবজি, ফল-মূল প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হবে। উদ্ভিদ-তৃণ ও পশুর ক্ষেত্রেও উক্ত বরকত পরিলক্ষিত হবে।

৪-৫-৬-তিনটি ভুমিধস:
কেয়ামতের পূর্বক্ষণে তিনটি ভূমিধস ঘটবে। ঐ ভূমিধস কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্যতম। তিনটির একটি ঘটবে প্রাচ্যে দ্বিতীয়টি পাশ্চাত্যে এবং তৃতীয়টি আরব ভূ-খন্ডে। এগুলো এখনো সংঘটিত হয়নি।

৭-ধুম্র:
শেষ যুগে ধোঁয়ার আবির্ভাব কেয়ামতের একটি বড় আলামত।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
فارتقب يوم تأتي السماء بدخان مبين, يغشى الناس هذا عذاب أليم. { الدخان: ১০-১১)
অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের যে দিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ, এবং তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এটি হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ( সূরা দোখান:১০-১১)
(২)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: بادروا بالأعمال ستا: طلوع الشمس من مغربها أو الدخان أوالدجال أو الدابة أو خاصة أحدكم أو أمر العامة. أخرجه مسلم .
(২) বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: ব্যক্তিগতভাবে হোক অথবা সাধারনভাবে হোক, তোমরা ছয়টি বস্তুর অভ্যূদয়ের পূর্বেই নেক আমল বেশি পরিমাণে সম্পাদন কর। বস্তু ছয়টি হচ্ছে, পশ্চিম থেকে সূর্যোদয়, ধুম্র, দাজ্জাল, জন্তু।

৮-অস্তাচল থেকে সূর্যোদয়:
পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের ঘটনা কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্তর্ভূক্ত। এটিই হচ্ছে উর্দ্ধজগতের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে অবহিতকারী সর্ব প্রথম বড় নিদর্শন। এ ব্যাপারে কোরআন ও হাদীসে অনেক তথ-প্রমাণ বিদ্যমান। আমরা এখানে অল্পকিছু তুলে ধরছি:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
يوم يأتي بعض آيات ربك لا ينفع نفسا إيمانها لم …{ الأنعام: ১৫৮)
যেদিন আপনার প্রতিপালকের কতক নিদর্শন প্রকাশ হয়ে পড়বে, (পশ্চিম দিক থেকে যেদিন সূযোদয় ঘটবে) সেই দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান তখন কোন উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি (তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না)। (সূরা আল আন’আম: ১৫৮)
(২)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها, فإذا طلعت من مغربها آمن الناس كلهم أجمعون, فيومئذ: ( لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيرا ) متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে কেয়ামত সংঘটিত হবে না। যখন সেদিক থেকে উদিত হবে তখন পৃথিবীস্থিত সকল মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে। তবে সেদিন, এ দিনের দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি (তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না (( বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। বুখারী হাদীস নং (৪৬৩৫) আর মুসলিম হাদীস নং (১৫৭)
(৩)
وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سقول : (( إن أول الآيات خروجا طلوع الشمس من مغربها, وخروج الدابة على الناس ضحى, وأيهما ما كانت قبل صاحبتها فالأخرى على إثرها قريبا )) أخرجه مسلم
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইরশাদ করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ বলেন: কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনাবলির মধ্যে সর্ব প্রথম যেটির আবির্ভাব ঘটবে তা হচ্ছে, পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় এবং পূর্বা‎েহ্নর সময় বিশেষ জন্তুর অভ্যূদয়। এদের যেটিই প্রথমে আবির্ভূত হোক দ্বিতীয়টি এর পরপরই আবির্ভূত হবে। বর্ণনায় মুসলিম: (২৯৪১)

৯-বিশেষ জন্তুর আত্মপ্রকাশ:
শেষ যুগে একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্তুর আত্মপ্রকাশ ঘটবে আর এটির প্রকাশ পাওয়াই হচ্ছে কেয়ামত অতি নিকটে এসে যাওয়ার আলামত। তারা বের হওয়ার পর লোকেরা তাদের শুঁড়ে বিষ ঢেলে দেবে, কাফেরদের নাকে লাগাম লাগানো হবে আর মুমিনবান্দাদের চেহারা আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
উক্ত জন্তুর প্রকাশ প্রসঙ্গে আমরা কিছু দলীল পেশ করছি :
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
وإذا وقع القول عليهم أخرجنا لهم دابة من الأرض تكلمهم أن الناس كانوا بآياتنا لا يوقنون .{النمل : ৮২}
যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। তারা মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না। ( সূরা আন্‌ নামল: ৮২ )
(২)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( ثلاث إذا خرجن لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيرا : طلوع الشمس من مغربها, والدجال, ودابة الأرض)). أخرجه مسلم
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: (কেয়ামতের পূর্বে) যখন তিনটি নিদর্শন প্রকাশ পাবে তখন আর সেই দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না) নদর্শন তিনটি হচ্ছে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, দাজ্জাল এবং ভূ-নির্গত জন্তু। বর্ণনায় সহীহ মুসলিম: (১৫৮)

১০-মানুষদের সমবেত কারী আগুনের আবির্ভাব:
এটি একটি বড় ধরণের আগুন যা প্রাচ্যের ইয়েমেনের এডেনের ভূগর্ভ থেকে বের হবে। এটি কেয়ামতের বড় নিদর্শনাবলির সর্বশেষ নিদর্শন। এবং কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ঘোষণা কারী সর্ব প্রথম আলামত। ইয়েমেন থেকে বের হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানুষদের সিরিয়ার সমবেত হওয়ার স্থলে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
আগুন লোকদের কি ভাবে সমবেত করবে:
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:(( يحشر الناس على ثلاث طرائق: راغبين, وراهبين, واثنان على بعير, ثلاثة على بعير,أربعة على بعير, عشرة على بعير, يحشر بقيتهم النار, تقيل معهم حيث قالوا, وتبيت معهم حيث باتوا, وتصبح معهم حيث أصبحوا, وتمسي معهم حيث أمسوا )). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: লোকদের সমবেত করা হবে তিন পদ্ধতিতে: ভীত ও আগ্রহী অবস্থায়, দু’জন এক উটে সাওয়ার হয়ে, তিনজন এক উটে সাওয়ার হয়ে, চারজন এক উটে সাওয়ার হয়ে, দশজন এক উটে সাওয়ার হয়ে এবং অবশিষ্টদের আগুন সমবেত করবে। তারা যেখানে দ্বি-প্রহরে বিশ্রাম নেবে আগুনও তাদের সাথে সেখানে বিশ্রাম নেবে, তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে আগুনও সেখানে রাত্রি যাপন করবে, তারা সকালে যেখানে থাকবে আগুনও সেখানে তাদের সাথে থাকবে, তারা সন্ধ্যা বেলায় যেখানে অবস্থান করবে আগুনও তাদের সাথে সেখানে অবস্থান করবে। (অর্থাৎ আগুন সর্বাবস্থায় তাদের পেছনে লেগেই থাকবে).
বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম, বুখারী হাদীস নং ৬৫২২ এবং মুসলিম হাদীস নং ২৮৬১

কেয়ামতের সর্ব প্রথম আলামত

عن أنس رضي الله عنه أن عبد الله بن سلام لما أسلم سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن مسائل,ومنها : ما أول أشراط الساعة ؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم : (( أما أول أشراط الساعة فنار تحشر الناس من المشرق إلى المغرب )). أخرجه البخاري
প্রখ্যাত সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ করে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কয়েকটি বিষয়ে জানতে চাইলেন, তন্মধ্যে একটি বিষয় ছিল : কেয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত কি? নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: কেয়ামতের সর্ব প্রথম আলামত হচ্ছে, এক প্রকার আগুন, যা মানুষদের মাশরিক (প্রাচ্য) থেকে তাড়িয়ে মাগরিবে (পাশ্চাত্যে) জড় করবে। বর্ণনায় বুখারী, হাদীস নং ৩৩২৭

নিদর্শনাবলীর পর্যায়ক্রমিক আত্মপ্রকাশ ও অবস্থার পরিবর্তন:
১- কেয়ামতের বড় নিদর্শনাবলির প্রথমটি প্রকাশ পাওয়ার পর একের পর এক নিদর্শনাবলির আত্মপ্রকাশ ঘটতে থাকবে। যেমন নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
(( الأمارات خرزات منظومات بسلك, فإذا انقطع السلك تبع بعضه بعضا )). أخرجه الحاكم
কেয়ামত প্‌ূর্ব সংঘটিতব্য নিদর্শনগুলো পুঁতির দানার (মালার) মত এক সূতায় আবদ্ধ, যখন সূতাটি ছিঁড়ে যাবে তখন নিদর্শনাবলী একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকবে।
বর্ণনায় হাকেম, হাদীস নং(৮৬৩৯) দেখুন আসসিলসিলাতুস সহীহা (১৭৬২)
২-হাদীসে এসেছে
وعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( لا تقوم الساعة حتى لا يقال في الأرض الله الله )). أخرجه مسلم
সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন:
পৃথিবীতে “আল্লাহ আল্লাহ” শব্দের উচ্চারণ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কেয়ামত সংঘটিত হবে না।
বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং(১৪৮)
৩-হাদীসে
وعن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى عليه وسلم :(( لا تقوم الساعة حتى يكون أسعد الناس بالدنيا لكع بن لكع )). أخرجه الترمذي
বিশিষ্ট সাহাবী হুযাইফা ইবনুল য়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: লুকা’ বিন লুকা’ (তথা বংশীয়ভাবে নিকৃষ্ট মানুষেরা) পৃথিবীর সর্বপেক্ষা ভাগ্যবান ব্যক্তি না হওয়া অবধি কেয়ামত সংঘটিত হবে না।
হাদীসটি সহীহ বর্ণনায় তিরমিযী হাদীস নং(২২০৯)

শিঙ্গায় ফুৎকার

শিঙ্গা হচ্ছে হর্ন বা বিউগল সদৃশ এক প্রকার শিং। কেয়ামতের পূর্বক্ষণে মহান আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা ইসরাফীল আলাইহিস সালামকে শিঙ্গায় ‘প্রথম ফুৎকার’ দেয়ার নির্দেশ দেবেন। আর এটি হচ্ছে “নফখাতুস সা’ইক” বা বেহুঁশ করার ফুৎকার। ফলে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে অবস্থিত সকল প্রাণী বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাবে তবে আল্লাহ যদি কাউকে সুস্থ রাখতে চান তার কথা ভিন্ন। অত:পর আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় ফুৎকার দেয়ার নির্দেশ দেবেন আর এটি হচ্ছে “নফখাতুল বা’ছ” তথা উত্থিত করণের ফুৎকার।

শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার সময় সৃষ্টজীবের অবস্থা:
১- আল্লাহ তাআলা বলেন:
فتول عنهم يوم يدع الداع إلى شيئ نكر… { القمر:৬-৮}
অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে, তারা তখন অবনত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল সদৃশ। তারা আহ্বানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে। কাফেররা বলবে: এটা কঠিন দিন।
(সূরা আল-ক্বামার:৬-৮)
২- আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ونفخ في الصور فصعق من في السماوات ومن في الأرض إلا من شاء الله, ثم نفخ فيه أخرى فإذا هم قيام ينظرون . {الزمر : ৬৮}
শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে। অত:পর আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে। (সূরা যুমার: ৬৮)
৩- আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ويوم ينفخ في الصور ففزع من في السماوات ومن في الأرض إلا من شاء الله وكل أتوه داخرين.{ النمل: ৮৭}
যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, অত:পর আল্লাহ যাদের-কে ইচ্ছা করবেন, তারা ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভ-ূমন্ডলে যারা আছে, তারা সবাই ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে এবং সকলেই তাঁর কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়। (সূরা আন-নমল:৮৭)
দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবদান:
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( ما بين النفختين أربعون)) قالوا : يا أبا هريرة أربعون يوما؟ قال: أبيت, قالوا : أربعون شهرا ؟ قال: أبيت, قالوا: أربعون سنة ؟ قال: أبيت . متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবদান হচ্ছে চল্লিশ। লোকেরা জিজ্ঞেস করল: হে আবু হুরায়রা চল্লিশ দিন? তিনি বললেন: আমি (জবাব দিতে) অস্বীকার করলাম. তারা বলল: তাহলে কি চল্লিশ মাস? তিনি বললেন : আমি অস্বীকার করেছি. লোকেরা আবারো জিজ্ঞেস করল : তাহলে কি চল্লিশ বছর? তিনি বললেন : আমি অস্বীকার করলাম।[৩]
কেয়ামত কখন সঙ্ঘটিত হবে:
১-হাদীসে আসার
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( إن طرف صاحب الصور منذ وكّل به مستعد ينظر نحو العرش, مخافة أن يؤمر قبل أن يرتد إليه طرفه, كأن عينيه كوكبان دريان )). أخرجه الحاكم
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: (( নিশ্চয় শিঙ্গায় ফুৎকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত ফেরেশ্‌তা ইসরাফীল আলাইহিস সালামের চক্ষু দায়িত্ব প্রাপ্তির পর থেকেই প্রস্তুত হয়ে আরশের পানে অপলক তাকিয়ে আছে এ আশংকায় যে পলক ফেলার পূর্বেই যদি ফুৎকার দেয়ার নির্দেশ এসে যায়। তার চক্ষুদ্বয় যেন দুটি আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র।[৪]
২- হাদীসে এসেছে
وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : خير يوم طلعت عليه الشمس يوم الجمعة, فيه خلق آدم, وفيه أدخل الجنة, وفيه أخرج منها, ولا تقوم الساعة إلا في يوم الجمعة )). أخرجه مسلم
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মাঝে সর্বাপেক্ষা উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন, এদিন নবী আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এবং এদিনই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে আবার এদিনই সেখান থেকে বের করা হয়েছে, আর কেয়ামতও জুমুআর দিনেই সঙ্ঘটিত হবে। [৫]

বা’ছ (পুনরুত্থান) এবং হাশর (সমবেত করণ)

একজন মানুষকে যে পর্বগুলো অতিক্রম করতে হবে:
মানুষের জীবনের মোট তিনটি পর্ব আছে। দুনিয়ার জীবন, বরযখ তথা কবর জীবন, অত:পর জান্নাত বা জাহান্নামের স্থায়ী জীবন। মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জীবনের জন্য উপযোগী করে আলাদা আলাদা জীবন ব্যবস্থা ও বিধি-বিধান প্রদান করেছেন। তিনি এ মানুষকে শরীর ও আত্মার সমন্বয়ে গঠন করেছেন। দুনিয়ার জীবনের বিধি-ব্যবস্থা শরীরকে কেন্দ্র করে প্রদান করেছেন, আত্মা এখানে শরীরের অধীন। বরযখের বিধি-বিধান দিয়েছেন আত্মাকে কেন্দ্র করে শরীর এখানে আত্মার অধীন। আর কেয়ামত দিবসের বিধান -নেয়ামত ও আযাব- দিয়েছেন শরীর ও আত্মা উভয়টিকে কেন্দ্র করে।

আল বা’ছ (পুনরুত্থান):
বা’ছ হচ্ছে: শিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুৎকার দেয়ার পর সকল মৃতদেরকে জীবিত করা, তখন সকল মানুষ খালী পা, বিবস্ত্র ও খতনা-বিহীন অবস্থায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিমিত্তে দন্ডায়মান হবে। এবং প্রত্যেক বাক্তি যে আক্বীদা ও বিশ্বাসের উপর মৃত্যু বরণ করেছে তার উপর উত্থিত হবে।
১- আল্লাহ তাআলা বলেন:
ونفخ في الصور فإذا هم من الأجداث إلى ربهم ينسلون … {يس: ৫১-৫২}
শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে। তারা বলবে হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উত্থিত করল? রহমান আল্লাহতো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। (সূরা ইয়াসীন: ৫১-৫২)
২- আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ثم إنكم بعد ذلك لميتون, ثم إنكم يوم القيامة تبعثون . { المؤمنون : ১৫-১৬)
এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে। অত:পর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে। ( সূরা আল- মুমিনূন:১৫-১৬)

পুনরুত্থানের বিবরণ:
আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। অত:পর শষ্য-সবজি যে ভাবে উৎপন্ন হয় মানুষ সে ভাবে মাটির নিচ থেকে বের হয়ে আসবে।
১- আল্লাহ তাআলা বলছেন:
وهو الذي يرسل الرياح بشرا بين يدي رحمته … { الأعراف: ৫৭}
তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ূ পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ূরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দেই। অত:পর এ মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করি। অত:পর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনিভাবে মৃতদেরকে বের করব যাতে তোমরা চিন্তা কর। ( সূরা আল আ’রাফ: ৫৭)
২- হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( ما بين النفختين أربعون )) قالوا : يا أبا هريرة أربعون يوما؟ قال: أبيت, قالوا : أربعون شهرا ؟ قال: أبيت, قالوا : أربعون سنة ؟ قال: أبيت (( ثم ينزل الله من السماء ماء, فينبتون كما ينبت البقل, و ليس من الإنسان شيئ إلا يبلى إلا عظما واحدا وهو عجب الذنب, ومنه يركب الخلق يوم القيامة)). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন: দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান হচ্ছে চল্লিশ। লোকেরা জিজ্ঞেস করল: হে আবু হুরায়রা চল্লিশ কি, দিন? তিনি বলেন: আমি (জবাব দিতে) অস্বীকার করলাম। লোকেরা বলল: তাহলে কি, চল্লিশ মাস? তিনি বলেন: আমি অস্বীকার করলাম। এরপর লোকেরা আবারো জিজ্ঞেস করল? তাহলে কি চল্লিশ বছর? তিনি বলেন: আমি অস্বীকার করলাম। অত:পর আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে তারা (মানুষ) শষ্য- সবজি উৎপন্ন হওয়ার ন্যায় ভূমি অভ্যন্তর থেকে এমতাবস্থায় বের হয়ে আসবে যে, শুধুমাত্র একটি হাড় ব্যতীত মানুষের সবকিছু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাবে। অক্ষত থাকা হাড়কে বলা হয় “আজবুয যানাব” কেয়ামত দিবসে তার থেকেই মানুষকে গঠন করা হবে।[৬]
কবর থেকে সর্ব প্রথম কাকে বের করা হবে:
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( أنا سيّد ولد آدم يوم القيامة, وأول من ينشق عنه القبر, وأول شافع وأول مشفع)). أخرجه مسلم
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আমি কেয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা, আমাকেই সর্ব প্রথম কবর থেকে বের করা হবে, আমিই সর্ব প্রথম সুপারিশকারী এবং আমার সুপারিশই সর্ব প্রথম গ্রহণ করা হবে।[৭]

কেয়ামত দিবসে কাদের সমবেত করা হবে:
১-মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
قل إن الأولين والآخرين, لمجموعون إلى ميقات يوم معلوم.{ الواقعة: ৪৯-৫০}
বলুন:পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ। সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে। (সূরা ওয়াকিয়া: ৪৯-৫০)
২-আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
إن كل من في السماوات و الأرض إلا ءاتي الرحمن عبدا… {مريم : ৯৩-৯৫}
নভোমন্ডল ও ভূ- মন্ডলে কেউ নেই যে, দয়াময় আল্লাহর কাছে দাস হয়ে উপস্থিত হবে না। তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে এবং তিনি তাদের গণনা করে রেখেছেন। কেয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে। (সূরা মারইয়াম: ৯৩-৯৫)
৩-মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন:
ويوم نسير الجبال و ترى الأرض بارزة وتحشرناهم … { الكهف: ৪৭)
যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উন্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অত:পর তাদের কাউকে ছাড়ব না। {সূরা কাহফ:৪৭}

হাশরের ময়দানের বিবরণ

১-মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
يوم تبدل الأرض غير الأرض و السماوات, وبرزوا لله الواحد القهار. { إبراهيم : ৪৮}
যে দিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশসমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে পেশ হবে।{ইবরাহীম: ৪৮}
২- হাদীসে এসেছে
وعن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( يحشر الناس يوم القيامة على أرض بيضاء عفراء, كقرصة النقي, ليس فيها علم لأحد)). متفق عليه
সাহাবী সাহল বিন সা’আদ রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন সকল মানুষকে একটি চেপটা গোলাকার স্বচ্ছ রুটির ন্যায় (লালাভ) শুভ্র ভূমিতে একত্রিত করা হবে, সে ভূমি হবে সম্পূর্ণ সমতল, কারো জন্য কোন নিদর্শন থাকবে না।[৮]
কেয়ামত দিবসে সৃষ্টজীবদের সমবেত করণের বিবরণ:
১- হাদীসে এসেছে
عن عائشة رضي الله عنها قالت : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (( يحشر الناس يوم القيامة حفاة عراة غرلا )) قلت : يا رسول الله النساء و الرجال جميعا, ينظر بعضهم إلى بعض؟ قال صلى الله عليه وسلم: (( يا عائشة الأمر أشد من أن ينظر بعضهم إلى بعض)) متفق عليه
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ বলেন: কেয়ামত দিবসে লোকদের নগ্নপদ, বিবস্ত্র ও খৎনা বিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে। আমি বললাম : ইয়া রাসূলাল্লাহ ! নারী পুরুষ সকলে একসাথে-একে অপরের দিকে তাকাবে? বললেন: আয়েশা… বিষয়টি তাকা-তাকির চেয়েও ভয়াবহ। [৯]
২- মুমিনবান্দাদের সমবেত করা হবে সম্মানিত অতিথি রূপে। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
يوم نحشر المتقين إلى الرحمن وفدا. { مريم : ৮৫}
সেদিন আল্লাহভীরুদের দয়াময়-রহমানের কাছে সমবেত করব অতিথিরূপে।{সূরা মারইয়াম:৮৫}
৩-আর কাফেরদের সমবেত করা হবে অন্ধ, মুক,বধির, পপাসার্ত, নীল চক্ষু ও মুখে ভরদিয়ে চলা অবস্থায়। তাদের প্রথম দলকে শেষ দল আসা পর্যন্ত আটকে রাখা হবে অত:পর সকলকে একসাথে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেয়া হবে।
১-আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا ﴿৯৭﴾ ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِآَيَاتِنَا
আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ, মুক ও বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্য অগ্নি আরো বৃদ্ধি করে দেব। এটাই তাদের শাস্তি। কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে।{সূরা ইসরা: ৯৭-৯৮}
২-আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন:
ونسوق المجرمين إلى جهنم وردا. { مريم: ৮৬}
এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।{মারইয়াম:৮৬}
৩-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
يوم ينفخ في الصور و نحشر المجرمين يومئذ زرقا. {طه: ১০২}
যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সে দিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব নীল চক্ষু অবস্থায়।
{সূরা ত্বাহা: ৮৬}
৪-মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ويوم يحشر أعداء الله إلى النار فهم يوزعون . { فصلت: ১৯}
যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেয়া হবে। এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। {সূরা ফুসসিলাত : ১৯}
৫- অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
احشروا الذين ظلموا و أزواجهم و ما كانوا يعبدون . من دون الله فاهدوهم إلى صراط الجحيم . {الصافات: ২২-২৩}
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) একত্রিত কর যালেম ও তাদের দোসরদেরকে এবং তাদেরকে, যাদের তারা ইবাদত করত। আল্লাহর পরিবর্তে এবং তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের পথে। {সূরা সাফফাত: ২২-২৩}
৬- হাদীসে এসেছে
وعن أنس رضي الله عنه أن رجلا قال: يا رسول الله ! كيف يحشر الكافر على وجهه يوم القيامة ؟ قال: (( أليس الذّي أمشاه على رجليه في الدنيا قادر على أن يمشيه على وجهه يوم القيامة؟)) متفق عليه .
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! কেয়ামতের দিন কাফেরদেরকে চেহারার উপর ভর করে চলা অবস্থায় কি ভাবে সমবেত করা হবে? নবীজী বললেন: যিনি তাকে পৃথিবীতে দু’পায়ের উপর ভর করে চালিয়েছেন তিনি কি কেয়ামতের দিন চেহারার উপর ভর করে চালাতে সক্ষম নন? [১০]
৪- কেয়ামত দিবসে মহান আল্লাহ তাআলা হিংস্র, গৃহপালিত, জংলী, ভারবাহী মোটকথা সকল প্রকার জন্তু এবং সর্ব প্রকার পাখীদের একত্রিত করবেন। অত:পর পশুদের মাঝে কিসাস ভিত্তিক বিচার সঙ্ঘটিত হবে। শিংযুক্ত যে বকরী শিংবিহীন বকরীকে গুঁতো মেরেছিল তার থেকে কিসাস নেয়া হবে। আল্লাহ তাআলা জন্তুদের মাঝে কেসাস বাস্তবায়ন করে তাদের বলবেন: তোমরা মাটি হয়ে যাও।
আল্লাহ বলছেন:
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ الأنعام:৩৮
আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে আর যত প্রকার পাখী দ’ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছুই লিখতে ছাড়িনি।অত:পর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের নিকট সমবেত হবে।(সূরা আনআম: ৩৮)

কেয়ামত দিবসের ভয়াবহতা

কেয়ামত দিবস: খুবই ভয়াবহ ও বিরাট গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন মানুষ মারাত্মক ভাবে আতংক গ্রস্থ ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। চক্ষুসমূহ হবে বিস্ফোরিত। মহান আল্লাহ তাআলা সেদিনটি মুমিনদের জন্য করেছেন যোহর ও আসর নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের সমান। আর অবিশ্বাসী-কাফেরদের জন্য করেছেন পঞ্চাশ হাজার বছেরের সমান।
আমরা এখানে সেদিনের কিছু ভয়াবহতার দৃশ্য তুলে ধরছি।
১- কোরআন হাকীমে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন।
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ ﴿১৩﴾ وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً ﴿১৪﴾ فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ﴿১৫﴾ وَانْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ ﴿১৬﴾
যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুৎকার। আর যমীন ও পর্বত মালাকে উত্তোলন করা হবে এবং একই ধাক্কায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে। সেদিন যা সঙ্ঘটিত হওয়ার (কেয়ামত) সঙ্ঘটিত হয়ে যাবে। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে শক্তিহীন ও বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে।{সূরা আল-হাক্কাহ:১৩-১৬}
২-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা অন্যত্র বলছেন:
إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ ﴿১﴾ وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ ﴿২﴾ وَإِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ ﴿৩﴾ وَإِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ ﴿৪﴾ وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ ﴿৫﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ ﴿৬﴾ التكوير: ১-৬
সূর্যকে যখন দীপ্তিহীন করা হবে, যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়ে মলিন হয়ে যাবে, পর্বতমালা যখন অপসারিত হবে, যখন পূর্ণ-গর্ভা (দশ মাসের গর্ভবতী) উষ্ট্রী উপেক্ষিত হবে, যখন বন্য পশুগুলিকে একত্রিত করা হবে এবং সমুদ্রগুলিকে যখন উত্তাল-উদ্বেলিত করা হবে। {সূরা আত্‌ তাকভীর:১-৬}
৩-আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ ﴿১﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ ﴿২﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿৩﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿৪﴾ { الانفطار:১-৪}
যখন আকাশ ফেটে যাবে,যখন তারকারাজি বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে,যখন সমুদ্রগুলিকে উত্তাল-উদ্বেলিত করে তোলা হবে।যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে। {সূরা ইনফিতার:১-৪}
৪- আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন:
إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ﴿১﴾ وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿২﴾ وَإِذَا الْأَرْضُ مُدَّتْ ﴿৩﴾ وَأَلْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ ﴿৪﴾ وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿৫﴾ {الانشقاق: ১-৫}
যখন আকাশ ফেটে যাবে এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ পালন করবে এবং এটিই তার উপযুক্ত করণীয়। এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে। এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও গর্ভশূন্য হয়ে যাবে। এবং সে তার প্রতিপালকের আদেশ পালন করবে এবং এটিই তার উপযুক্ত করণীয়। {সূরা আল-ইনশিকাক:১-৫}
৫-মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করছেন:
إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ﴿১﴾ لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ ﴿২﴾ خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ ﴿৩﴾ إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا ﴿৪﴾ وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا ﴿৫﴾ فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا ﴿৬﴾ { الواقعة: ১-৬}
যখন কেয়ামত সঙ্ঘটিত হবে, যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই, এটা কাউকে করবে নীচ, কাউকেও করবে সমুন্নত, যখন প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী এবং পর্বতমাল ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে তখন সেটি পরিণত হবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকনায়।{সূরা আল-ওয়াকিয়া: ১-৬}
৬- হাদীসে এসেছে
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( من سره أن ينظر إلى يوم القيامة كأنه رأي عين فليقرأ: ( إذا الشمس كورت) و ( إذا السماء انفطرت) و ( إذا السماء انشقت). أخرجه أحمد و الترمذي
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কেয়ামত দিবসের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যে ব্যক্তি নিজ চোখে দেখার মত করে জানতে চায় সে যেন এ সূরা তিনটি পড়ে নেয়। সূরাগুলো হচ্ছে: তাকভীর, ইনফিতার এবং ইনশিকাক।[১১]

কেয়ামত দিবসে আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবর্তন করণ:
১-মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
يوم تبدل الأرض غير الأرض و السماوات, وبرزوا لله الواحد القهار. { إبراهيم : ৪৮}
যে দিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশসমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে বের হয়ে আসবে।{ইবরাহীম: ৪৮}
২- আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
يوم نطوي السماء كطي السجل للكتب كما بدأنا أول خلق نعيده وعدا علينا إنا كنا فاعلين. {الأنبياء: ১০৪}
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে। {সূরা আম্বিয়া: ১০৪}
আকাশ ও পৃথিবীর পরিবর্তনের দিন লোকদের অবস্থান হবে কোথায়:
عن ثوبان رضي الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: كنت عند رسول الله صلى الله عليه و سلم فجاء حبر من أحبار اليهود… ـــ فيه ـــ فقال اليهودي: أين يكون الناس يوم تبدل الأرض غير الأرض و السماوات ؟فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هم في الظلمة دون الجسر)), وفي رواية: (( على الصراط)). أخرجه مسلم .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাওলা ( মুক্ত দাস) ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, এরই মধ্যে তাঁর কাছে একজন ইহুদী পন্ডিত আসল… – তাতে আছে – ইহুদী বলল : যে দিন এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং আকাশসমূহকে পরিবর্তন করা হবে সে দিন লোকেরা কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:তারা পুলসিরাতের নিচে একটি অন্ধকারে থাকবে, অন্য রেওয়ায়াতে আছে: পুলসিরাতের উপরে থাকবে। [১২]

অবস্থানস্থলে গরমের তীব্রতা ও ভয়াবহতা:
আল্লাহ তাআলা লোকদের উত্থিত করার পর কেয়ামতের প্রাঙ্গনসমূহের একটিতে বিচারকার্য সমাপ্ত করণার্থে নগ্ন পদ, বিবস্ত্র ও খৎনা বিহীন অবস্থায় একত্রিত করবেন। সেদিন সূর্য মানুষের অতি নিকটে এসে যাবে। মানুষের শরীর নি:সৃত ঘাম সত্তর হাত পর্যন্ত পৌছে যাবে।তারা নিজ নিজ আমল অনুপাতে ঘর্মাক্ত হবে।
১- হাদীসে এসেছে
عن المقداد بن الأسود رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (( تدنى الشمس يوم القيامة من الخلق,حتى تكون منهم كمقدار ميل, فيكون الناس على قدر أعمالهم في العرق فمنهم من يكون إلى كعبيه, ومنهم من يكون إلى ركبتيه, و منهم من يكون إلى حقويه, ومنهم من يلجمه العرق إلجاما)) قال :وأشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده إلى فيه . أخرجه مسلم.
বিশিষ্ট সাহাবী মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদিয়ল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, কেয়ামত দিবসে সূর্য মানুষের অতি নিকটে করে দেয়া হবে। এমনকি সূর্য আর তাদের মাঝে দূরত্ব হবে মাত্র এক মাইল। লোকেরা স্বীয় আমল অনুপাতে নিজ শরীর নি:সৃত ঘামের মাঝে অবস্থান করবে। তাদের কারো কারো ঘাম টাখনু পর্যন্ত পৌছবে, কারো ঘাম হাটু পর্যন্ত পৌছবে, কারো কারো কোমর পর্যন্ত, আবার ঘাম কাউকে কাউকে লাগাম পড়াবে। বর্ণনাকারী বলেন: এটি বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম নিজ মুখের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।[১৩]
২- হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:(( يقبض الله الأرض يوم القيامة, ويطوي السماء بيمينه ثم يقول: أنا الملك, أين ملوك الأرض.؟)) متفق عليه
প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লম থেকে বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ বলেন: কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা যমীনকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন, এবং আকাশকে ডানহাত দ্বারা গুটিয়ে নেবেন. অত:পর স্বগর্বে বলবেন: আমিই বাদশা, পৃথিবীর বাদশারা সব কোথায় ? [১৪]

অবস্থানস্থলে আল্লাহ কাদের ছায়া দান করবেন:
১- হাদীসে এসেছে
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (( سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله : الإمام العادل, وشاب نشأ في عبادة ربه, ورجل قلبه معلق في المساجد, ورجلان تحابا في الله اجتمعا عليه و تفرقا عليه, ورجل طلبته امرأة ذات منصب و جمال, فقال : إني أخاف الله, ورجل تصدق أخفى حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه, ورجل ذكر الله خاليا ففاضت عيناه )). متفق عليه .
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, নবীজী বলেন: সাত শ্রেণীর লোকদের মহান আল্লাহ তাআলা স্বীয় ছায়াতে ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আরা কোন ছায়া থাকবে না, ন্যায় পরায়ণ বাদশা, এমন যুবক যে স্বীয় পালনকর্তার ইবাদতের ভিতর দিয়ে বেড়ে উঠেছে, এমন ব্যক্তি যার হৃদয় মসজিদের মধ্যে ঝুলে থাকে, এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর কারণে পারস্পরিক ভালবাসায় আবদ্ধ হয়, আল্লার জন্যই একত্রিত হয় আবার আল্লাহর জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়, এমন ব্যক্তি যাকে মর্যাদা সম্পন্ন সুন্দরী রমণী পেতে আগ্রহ প্রকাশ করল আর সে প্রত্যাখ্যান করে বলল, আমি আল্লাহকে ভয় করে, এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান-সদকা করে যে ডান হাত হাত কি সদকা করে বাম হাত তা জানে না, এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণকরে অত:পর তার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়।[১৫]
২- হাদীসে এসেছে
وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : ((كل امرئ في ظل صدقته حتى يفصل بين الناس)) أخرجه أحمد و ابن خزيمة
সাহাবী উকবা বিন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, লোকদের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন করা অবধি প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ দান-সদকার ছায়াতলে অবস্থান করবে।[১৬]
বিচার কার্য সম্পন্ন করার নিমিত্তে মহান আল্লাহ তাআলার আগমন:
কেয়ামত দিবসে মহান আল্লাহ তাআলা বিচার কার্য পরিচালনা করার নিমিত্তে আগমন করবেন। ফলে পৃথিবী তাঁর নূরে আলোকোজ্জ্বল হয়ে যাবে এবং সমস্ত সৃষ্টি তার বড়ত্ব ও মহত্বের কারণে ভয়ে বেহুঁশ হয়ে যাবে।
১- মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
كلا إذا دكت الأرض دكا دكا و جاء ربك و الملك صفا صفا. { الفجر: ২১-২২}
না, এটা সঙ্গত নয়। যখন পৃথিবীকে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে। এবং যখন আপনার প্রতিপালক আগমন করবেন, আর ফেরেশতাগন সারিবদ্ধভাবে (থাকবে)। { সূরা আল- ফাজর: ২১-২২}
২- হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (( لا تخيروني على موسى, فإن الناس يصعقون يوم القيامة فأصعق معهم, فأكون أول من يفيق فإذا موسى باطش جانب العرش, فلا أدري أكان فيمن صعق فأفاق قبلي, أو كان ممن استثنى الله )). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমরা আমাকে নবী মূসার চেয়ে উত্তম বলোনা, কারণ কেয়ামত দিবসে সকল মানুষ বেহুঁশ হয়ে যাবে আমিও তাদের সাথে বেহুঁশ হব। তবে আমিই সর্বপ্রথন চৈতন্য ফিরে পাব। হঠাৎ দেখব নবী মূসা আরশের পার্শ্বদেশ ধরে আছেন, আমি জানি না তিনিও অচেতনদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন যে আমার পূর্বেই চেতনা ফিরে পেয়েছেন, না আল্লাহ তাআলা যাদের বাদ রেখেছেন তাদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন? )) [১৭]

বিচার কার্য পরিচালনা

কেয়ামত দিবসে লোকেরা স্বীয় পালনকর্তার নিকট জড় হবে এবং তীব্র ভয় ও অবস্থানগত কষ্টের কারণে ক্লান্তি ও পেরেশানী যখন সহ্যসীমার শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছবে, আপন প্রতিপালকের নিকট হিসাব ও বিচার কার্য শুরু করার প্রত্যাশা করবে। এক পর্যায়ে অপেক্ষা ও অবস্থান যখন অতিদীর্ঘ হবে আর পেরেশানী সহ্যসীমা অতিক্রম করবে তখন তারা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের নিকট আল্লাহ তাআলার কাছে হিসাব ও বিচারকার্য শুরু করার সুপারিশ করার নিমিত্তে একত্রিত হবে।
১- মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
هَذَا يَوْمُ لَا يَنْطِقُونَ ﴿৩৫﴾ وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُونَ ﴿৩৬﴾ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ ﴿৩৭﴾ هَذَا يَوْمُ الْفَصْلِ جَمَعْنَاكُمْ وَالْأَوَّلِينَ ﴿৩৮﴾ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ كَيْدٌ فَكِيدُونِ ﴿৩৯﴾ {المرسلات: ৩৫-৩৯}
এটা এমন দিন যেদিন কেউ কথা বলবে না। এবং কাউকে ওজর পেশ (তাওবা) করার অনুমতি দেয়া হবে না। সেদিন মিথ্যা আরোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। এটা চুড়ান্ত বিচারের দিন, আমি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে একত্রিত করেছি। অতএব. তোমাদের কোন অপকৌশল থাকলে প্রয়োগ কর আমার বিরুদ্ধে। {সূরা আল-মুরসালাত: ৩৫-৩৯}
২- হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (( أنا سيّد الناس يوم القيامة و هل تدرون بم ذاك؟ يجمع الله يوم القيامة الأولين و الآخرين في صعيد واحد, فيسمعهم الداعي, وينفذهم البصر, وتدنو الشمس, فيبلغ الناس من الغم و الكرب ما لا يطيقون, وما لا يحتملون, فيقول بعض الناس لبعض: ألا ترون ما أنتم فيه؟ ألا ترون ما قد بلغكم ؟ ألا تنظرون من يشفع لكم إلى ربكم ؟
فيقول بعض الناس لبعض: ائتوا آدم, فيأتون آدم, فيقولون : يا آدم أنت أبو البشر, خلقك الله بيده, ونفخ فيك من روحه, وأمر الملائكة فسجدوا لك, اشفع لنا إلى ربك,ألا ترى إلى ما نحن فيه, ألا ترى إلى ما قد بلغنا ؟
فيقول آدم: إن ربي غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله, ولن يغضب بعده مثله, وإنه نهاني عن الشجرة فعصيته, نفسي نفسي, اذهبوا إلى غيري, فيأتون نوحا, فإبراهيم, فموسى, فعيسى, فيعتذر كل واتحد, وكلهم يقولون: إن ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله, ولن يغضب بعده مثله… نفسي نفسي.
ثم يقول عيسى: اذهبوا إلى غيري, إدهبوا إلى محمد صلى الله عليه وسلم فيأتوني فيقولون : يا محمد أنت رسول الله, وخاتم الأنبياء, وغفر الله لك ما تقدم من ذنبك و ما تأخر,اشفع لنا إلى ربك, ألا ترى ما نحن فيه ؟ ألا تري ما قد بلغنا ؟
فأنطلق فآتي تحت العرش, فأقع ساجدا لربي, ثم يفتح الله عليّ ويلهمني من محامده, وحسن الثناء عليه شيئا لم يفتحه لأحد قبلي, ثم يقال: يا محمد ارفع رأسك, سل تعطه, اشفع تشفّع, فأرفع رأسي, فأقول: يا ربّ أمتي أمتي.
فيقال: يا محمد أدخل الجنة من أمتك من لا حساب عليه من الباب الأيمن من أبواب الجنة, وهم شركاء الناس فيما سوى ذلك من الأبواب, والذي نفس محمد بيده إن ما بين المصراعين من مصاريع الجنة لكما بين مكة و هجر, أو كما بين مكة وبصرى. متفق عليه
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন আমি সকল মানুষের নেতা। তোমরা কি জান সেটি কিভাবে হবে? আল্লাহ তাআলা সেদিন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলকে এক ময়দানে সমবেত করবেন। এমন ভাবে যে তাদেরকে একজন আহ্বানকারীই শুনাতে পারবে এবং একটি চক্ষুই পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। আকাশের সূর্য খুব নিকটবর্তী হবে। মানুষের চিন্তা ও পেরেশানী সহ্যেরসীমা ছাড়িয়ে যাবে। তখন একজন অপরজনকে বলবে। তোমরা কি দেখছনা তোমরা কি অবস্থায় আছ? তোমরা কি অনুধাবন করতে পারছনা কি কঠিন পরিস্থিতি তোমাদের উপর এসে পড়েছে? তোমরা কেন খুজে বের করছ না, যে তোমাদের জন্য তোমাদের পালনকর্তার নিকট সুপারিশ করবে?
তখন একে অপরকে বলবে: তোমরা আদমের নিকট যাও। অত:পর সকলে আদম আলাইহিসসালামের নিকট যাবে এবং বলবে : হে আদম আপনি মানবজাতির পিতা, মহান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে আপনাকে বানিয়েছেন। তারঁ রূহ থেকে আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন, এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা সকলে আপনার তরে সেজদায় লুটিয়ে পড়েছিল। আপনি আমাদের জন্য স্বীয় পালনকর্তার নিকট সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না কি কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়েছি আমরা। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না কি বিপদ এসে পড়েছে আমাদের উপর?
আদম আলাইহিস সালাম বলবেন: আমার প্রতিপালক আজ ক্রোধান্বিত হয়েছেন, এমন রাগান্বিত ইতিপূর্বে আর কখনো হননি, ভবিষ্যতে আর কখনো হবেনও না। তিনি আমাকে একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, আমি সে নিষেধাজ্ঞা রক্ষা করতে পারিনি। নফসী নফসী; হায় আমার কি হবে, হায় আমার কি হবে। তোমরা অন্য কারো কাছে যাও। এরপর লোকেরা নবী নূহ আত:পর ইবরাহীম তারপর মূসা এরপর ঈসা আলাইহিমুস সালামের নিকট আসবে, তাঁরা প্রত্যেকেই অপারগতা প্রকাশ করবেন। প্রত্যেকেই বলবেন: আমার প্রতিপালক আজ খুবই ক্রুদ্ধ হয়েছেন, এমন রাগান্বিত অতীতে তিনি আর কখনো হননি এবং ভবিষ্যতেও হবেন না… নফসী নফসী ; হায় আমার কি হবে, হায় আমার কি হবে।
অত:পর ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন: তোমরা আমি ভিন্ন অন্য কারো কাছে যাও, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাও। তারা তাই করবে, সকলে আমার নিকট আসবে এবং বলবে: হে মুহাম্মাদ ! আপনি আল্লাহর রাসূল, নবীদের পরম্পরা সমাপ্তকারী-সর্বশেন নবী। আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বাপর সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের তরে স্বীয় প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না কি পরিস্থিতির মধ্যে আছি আমরা? কি কঠিন বিপদ আমাদের স্পর্শ করেছে তা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না?
এরপর আমি আরশের নিচে এসে পৌঁছব এবং আমার রব সমীপে সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। অত:পর আল্লাহ তাআলা তাঁর এমন কিছু সুন্দর ও প্রশংসা যোগ্য গুণ আমার কাছে এলহামের মাধ্যমে উন্মোক্ত করবেন যা ইতোপূর্বে আর কারো কাছে করেননি। অত:পর বলা হবে: হে মুহাম্মাদ ! মাথা উত্তলন করুন, প্রার্থনা করুন আপনাকে প্রার্থিত বস্তু দেয়া হবে, সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আমি মাথা উঠিয়ে বলব: উম্মাতী উম্মাতী ! হায় আমার উম্মতের কি হবে ! আমার উম্মতের কি হবে।
বলা হবে: হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতের যাদের কোন হিসাব নেই তাদেরকে আপনি জান্নাতের দারসমূহের ডান পার্শ্বস্থ দরজা দিয়ে প্রবেশ করান। অবশ্য তারা অন্যান্য মানুষের সঙ্গে জান্নাতের অপরাপর দরজা দিয়ে প্রবেশ করার অধিকারও রাখে। মুহাম্মাদের জীবন যার হাতে সে সত্ত্বার শপথ করে বলছি: জান্নাতের দরজার দুই কপাটের মাঝের দূরত্ব মক্কা ও হাজার অথবা মক্কা ও বুসরার মধ্যবর্তী স্থানের দূরত্বের সমান।[১৮]
অত:পর আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে হিসাব কার্য শুরু করবেন। কিতাব তথা আমল নামা প্রদান করা হবে, মীযান তথা দাড়িপাল্লা রাখা হবে এবং লোকদের হিসাব নেয়া হবে। স্বীয় কিতাব ডান হাতে গ্রহণকারী জান্নাতে যাবে আর বাম হাতে গ্রহণকারী যাবে জাহান্নামে।
১- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وترى الملائكة حافين من حول العرش يسبحون بحمد ربهم وقضي بينهم بالحق وقيل الحمد لله رب العالمين {الزمر:৭৫}
এবং আপনি ফেরেশতাদের দেখতে পাবেন যে তারা আরশের চার পাশ ঘিরে তাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। তাদের সবার মাঝে ন্যায় বিচার করা হবে। বলা হবে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার।{সূরা যুমার: ৭৫}
২-হাদীসে এসেছে
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قلنا : يا رسول الله,, هل نرى ربنا يوم القيامة؟ قال: (( هل تضارون في رؤية الشمس و القمر إذا كانت صحوا)). قلنا : لا. قال: (( فإنكم لا تضارون في رؤية ربكم يومئذ إلا كما تضارون في رؤيتهما )). ثم قال: (( ينادي مناد: ليذهب كل قوم إلى ما كانوا يعبدون, فيذهب أصحاب الصليب مع صليبهم, وأصحاب الأوثان مع أوثانهم, وأصحاب كل آلهة مع آلهتهم, حتى يبقى من كان يعبد الله, من برّ أو فاجر, وغبرات من أهل الكتاب,
ثم يؤتى بجهنم تعرض كأنها سراب,فيقال لليهود: ما كنتم تعبدون ؟ قالوا: كنا نعبد عزير بن الله,,فيقال: كذبتم, لم يكن صاحبة و لا ولد, فما تريدون؟ قالوا: نريد أن تسقينا, فيقال: اشربوا, فيتساقطون في جهنم . ثم يقال للنصارى : ما كنتم تعبدون ؟ فيقولون : كنا نعبد المسيح بن الله,, فيقال: كذبتم, لم يكن, صاحبة و لا ولد, فما تريدون؟ فيقولون : نريد أن تسقينا, فيقال: اشربوا, فيتساقطون.
حتى يبقى من كان يعبد الله, من بر أو فاجر, فيقال لهم : ما يحبسكم وقد ذهب الناس؟ فيقولون: فارقناهم ونحن أحوج منا إليه اليوم,وإنا سمعنا مناديا ينادي: ليلحق كل قوم بما كانوا يعبدون, و إنا ننتظر ربنا . قال: فيأتيهم الجبار في صورة غير صورته التي رأوه فيها أول مرة. فيقول : أنا ربكم, فيقولون : أنت ربنا, فلا يكلمه إلا الأنبياء .
فيقول : هل بينكم و بينه آية تعرفونه, فيقولون : الساق, فيكشف عن ساقه, فيسجد كل مؤمن, ويبقى من كان يسجد رياء و سمعة, فيذهب كيما يسجد فيعود ظهره طبقا واحدا. ثم يؤتى بالجسر فيجعل بين ظهري جهنم )) . قلنا : يا رسول الله,, وما الجسر؟
قال: (( مدحضة مزلة, عليه خطاطيف و كلاليب,وحسكة مفلطحة لها شوكة عقيفة, تكون بنجد, يقال لها: السعدان, المؤمن عليها كالطرف و كالبرق وكالريح, وكأجاويد الخيل و الركاب, فناج مسلم و ناج مخدوش, ومكدوس في نار جهنم, حتى يمر آخرهم يسحب سحبا, فما أنتم بأشدّ لي مناشدة في الحق, قد تبين لكم من المؤمن يومئذ للجبار.
وإذا رأوا أنهم قد نجوا في إخوانهم, يقولون : ربنا إخواننا, كانوا يصلون معنا, ويصومون معنا, ويعملون معنا, فيقول الله تعالى: اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال دينار من إيمان فأخرجوه, ويحرم الله صورهم على النار.
فياتونهم وبعضهم قد غاب في النار إلى قدمه, وإلى أنصاف ساقيه, فيخرجون من عرفوا.
ثم يعودون, فيقول: اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال نصف دينار فأخرجوه, فيخرجون من عرفوا .
ثم يعودون, فيقول: اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال ذرة من إيمان فأخرجوه, فيخرجون من عرفوا)).
قال أبو سعيد: فإن لم تصدقوني فاقرؤوا : {{ إن الله لا يظلم مثقال ذرة وإن تك حسنة يضاعفها}}
(( فيشفع النبيون و الملائكة و المؤمنون, فيقول الجبار: بقيت شفاعتي, فيقبض قبضة من النار, فيخرج أقواما قد امتحشوا, فيلقون في نهر بأفواه الجنة يقال له : ماء الحياة, فينبتون في حافتيه كما تنبت الحبة في حميل السيل, قد رأيتموها إلى جانب الصخرة, وإلى جانب الشجرة, فما كان إلى الشمس منها كان أخضر, و ما كان منها إلى الظل كان أبيض. فيخرجون كأنهم اللؤلؤ, فيجعل في رقابهم الخواتيم, فيدخلون الجنة, فيقول أهل الجنة : هؤلاء عتقاء الرحمن, أدخلهم الجنة بغير عمل عملوه, ولا خير قدموه, فيقال لهم : لكم ما رأيتم و مثله معه)). متفق عليه .
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানতে চেয়ে বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ : কেয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রভূ আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাব? নবীজী বললেন: মেঘশূন্য আকাশে সূর্য ও চন্দ্রকে দেখতে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? আমরা বললাম : না। রাসূলুল্লাহ বললেন: সে দিন তোমাদেরও স্বীয় পালনকর্তাকে দেখতে কোন অসুবিধা হবে না তবে চন্দ্র – সূর্য দেখতে যতটুকু হয় হলে ততটুকু হবে। অত:পর বললেন: একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে: প্রত্যেক জাতিকে নিজ নিজ উপাস্যদের নিকট যেতে বলা হচ্ছে। ঘোষণার পর সলীব তথা ক্রুশপন্থীরা ক্রুশের সাথে যেয়ে একত্রিত হবে। আর মূর্তি পূজাকরা মূর্তির সাথে গিয়ে মিশবে। এবং ভিন্ন ভিন্ন উপাস্যের উপাসকরা নিজ নিজ উপাস্যের সাথে গিয়ে জড় হবে। শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে আল্লাহর ইবাদতকারী পুন্যবান ও পাপী বান্দারা। এবং আহলে কিতাব (ইহুদী ও খৃষ্ট ধর্মানুসারী) দের অবশিষ্টাংশ।
অত:পর জাহান্নামকে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসা হবে সেটি যেন মরিচিকা। অত:পর ইহুদীদের জিজ্ঞেস করা হবে যে তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা উত্তরে বলবে: আল্লাহর পুত্র উযায়েরের। বলা হবে তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান ও সঙ্গিনী নেই। এখন তোমরা কি চাও? বলবে: আমাদের আশা আপনি আমাদের পান করিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করাবেন। বলা হবে : পান কর। এবং তারা জাহান্নামে ঝরে পড়বে। অত:পর খৃষ্টানদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে: আল্লাহর পুত্র ঈসার। বলা হবে: তোমরা মিথ্যা বলছ, আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান ও সঙ্গিনী নেই। এখন তোমরা কি চাও? বলবে: আমাদের কামনা যে আপনি আমাদের পানি পান করিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করাবেন। বলা হবে: পান কর। এবং তারা জাহান্নামে পড়ে যাবে।
এক পর্যায়ে এসে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার ইবাদতকারী পুন্যবান ও পাপীবান্দারা অবশিষ্ট থাকবে। তখন তাদের বলা হবে: সকল মানুষ চলে গেল তোমাদের কিসে আটকে রেখেছে? তারা বলবে : আমরা তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি এমতাবস্থায় যে আজ আমরা তার নিকট অতি মুখাপেক্ষী। আর আমরা একজন ঘোষকের ঘোষণা শুনতে পেয়েছি যে, প্রত্যেক ইবাদতকারী যেন নিজ নিজ মা’বুদের নিকট গিয়ে মিলিত হয়। তাই আমরা আমাদের পালনকর্তার অপেক্ষা করছি। রাসূলুল্লাহ বলেন: অত:পর মহান প্রতাপশালী তাদের ইতোপূর্বে দেখা আকৃতি ভিন্ন এক পরিবর্তিত আকৃতিতে আভির্ভূত হবেন। বলবেন: আমি তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে: আপনি আমাদের পালনকর্তা। এরপর শুধুমাত্র নবীরাই তাঁর সাথে কথা বলতে পারবেন।
বলবেন: তোমাদের ও তার মাঝে কোন বিশেষ নিদর্শন আছে কি যার মাধ্যমে তোমরা তাঁকে চিনতে পারবে? তারা বলবে: হ্যাঁ আর তা হচ্ছে পায়ের গোছা। অত:পর তিনি স্বীয় গোছা উন্মোক্ত করবেন। প্রত্যেক মুমিন সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যারা (পৃথিবীতে) সুনাম কুড়ানোর উদ্দেশ্যে ও লোক দেখানো সেজদা করত তারা বাকী থাকবে। সেজদা করার চেষ্টা করবে কিন্তু যখনই সেজদায় যাবে পিঠ সাথে সাথে সস্থানে ফিরে আসবে।
অত:পর পুলসিরাত উপস্থিত করা হবে এবং জাহান্নামের উপর স্থাপন করা হবে। আমরা জানতে চাইলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ পুলসিরাত কি?
নবীজী বললেন: একটি অতি পিচ্ছিল জায়গা যার উপর রয়েছে বক্র হুক ও বড়শী এবং নজদে উৎপন্ন সা’দান নামক বাঁকা কাঁটার মত চওড়া চেপটা কাঁটা। মুমিন বান্দা তার উপর দিয়ে চোখের পলক, বিজলী, বাতাস এবং দ্রুতগামী উন্নত জাতের অশ্ব ও অন্যান্য দ্রুতগামী জন্তুর ন্যায় পার হয়ে যাবে। কেউ সহীহ সালামতে মুক্তি পাবে কেউ কাটার আঘাত খেয়ে আবার কেউ জাহান্নামের আগুনের ছোঁয়া পেয়ে। এক পর্যায়ে তাদের সর্বশেষজন অতিক্রম করবে তাকে টেনে নেয়া হবে। হক প্রার্থনা করার ব্যাপারে তোমরা আমার চেয়ে বেশি মিনতিকারী নও। অবশ্য তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, সেদিন মহা প্রতাপশালী আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিন কারা।
যখন তারা লক্ষ্য করবে যে, তারা তাদের অন্যান্য ভাইদের মাঝে মুক্তি পেয়েছে, তখন বলবে : হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ভাইদের কি সমাচার, তারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত এবং আমাদের সাথে অন্যান্য আমল করত। আল্লাহ তাআলা বলবেন: তোমরা যাও, যার অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমানও বিদ্যমান পাবে তাকে বের করে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাআলা তাদের আকৃতি-প্রতিকৃতি কে জাহান্নামের উপর হারাম করেছেন।
তারা তাদের নিকট আসবে। এসে দেখতে পাবে কারো কারো পায়ের পাতা পর্যন্ত জাহান্নামে দেবে গেছে, কারো কারো অর্ধ গোছা পর্যন্ত। তারা যাদের চিনতে পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে।
অত:পর তারা ফিরে আসবে, আল্লাহ তাআলা বলবেন: যাও, যার অন্তরে অর্ধ দিনার পরিমাণ ঈমান বিদ্যমান পাবে তাকে বের করে নিয়ে আসবে। তখন তারা যাদের চিনতে পারবে তাদের বের করে নিয়ে আসবে।
এরপর তারা আবারো ফিরে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন: যাও, যার অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমানও বিদ্যমান পাবে তাকে বের করে নিয়ে আসবে। তখন তারা যাদের চিনতে পাবে তাদের বের করে নিয়ে আসবে।
হাদীসের বর্ণনাকারী আবু সাঈদ বলেন: তোমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হলে আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী পড়:
((إن الله لا يظلم مثقال ذرة وإن تك حسنة يضاعفها))
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বিন্দুমাত্র অন্যায় করেন না আর যদি কোন সৎকর্ম থাকে তাহলে তা দ্বিগুন করে দেন।
এভাবে নবীগন সুপারিশ করবেন, সুপারিশ করবেন ফেরেশতাবৃন্দ ও মুমিনগন। এরপর মহামহিম প্রতাপশালী আল্লাহ তাআলা বলবেন : বাকি রইল আমার সুপারিশ, অত:পর আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে ঝলসে যাওয়া এক সম্প্রদায়কে মুষ্ঠিবদ্ধ করে একমুষ্ঠি বের করে আনবেন। অত:পর জান্নাতের মুখে অবস্থিত এক নহরে যাকে আবে হায়াত বলা হয়, সেখানে তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে। তারা ঐ নহরের দুই তীরে উৎপন্ন হবে যেমনি করে স্রোতের সাথে ভেসে আসা খড়কুটুর উপর তৃণবীজ উৎপন্ন হয়। তোমরা সেগুলো প্রকান্ড পাথরের কিনারে অনুরূপ ভাবে বড় বড় গাছের পাশ্বে দেখেছ। এরমধ্যে যেগুলো সূর্যের দিকে থাকে সেগুলো হয় সবুজ আর যেগুলো ছায়ার দিকে থাকে সেগুলো হয় সাদা।
তারা ঐ নহর থেকে ঝকঝকে তকতকে হয়ে বের হবে যেমন মুক্তোদানা। তাদের গ্রীবাদেশে সীলমোহর এঁটে দেয়া হবে। অত:পর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতবাসীরা বলবে: তারা হচ্ছে মহা দয়ালু আল্লাহ তাআলার মুক্তকৃত। আল্লাহ তাদেরকে কোন আমল ও নেক কাজ করা ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। তখন তাদের বলা হবে: তোমাদের জন্য যা দেখছ এবং তার সাথে এর সমপরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে।[১৯]

হিসাব ও মিযান

হিসাব:
মহান আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদেরকে তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন এবং তাদের কৃত আমল সম্পর্কে অবহিত করবেন। অত:পর তাদের আমল অনুপাতে প্রতিদান দান করবেন। নেক কাজের বিনিময়ে দশ থেকে সাতশত গুণ বরং আরোও বর্ধিত করে, আর বদকাজের বিনিময়ে সমপরিমাণ প্রতিদান দেবেন।

কিতাব তথা আমলনামা গ্রহণ:
প্রত্যেক অবস্থানকারীকে তার আমলনামা প্রদান করা হবে। সে জীবনে ভাল-মন্দ যা কিছুই করেছে তাতে সব লেখা আছে। তাদের কতেককে আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তারা হচ্ছে নেককার ভাগ্যবান আর কতেককে দেয়া হবে বাম হাতে তারা হচ্ছে বদকার-দুর্ভাগা।
১- আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَى رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلَاقِيهِ ﴿৬﴾ فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ ﴿৭﴾ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا ﴿৮﴾ وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا ﴿৯﴾ وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ ﴿১০﴾ فَسَوْفَ يَدْعُو ثُبُورًا ﴿১১﴾ وَيَصْلَى سَعِيرًا ﴿১২﴾ { الإنشقاق:৬-১২}
হে মানুষ, তোমাকে তোমার পালনকর্তা পর্যন্ত পৌঁছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে। অত:পর তার সাক্ষাৎ ঘটবে। যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের নিকট হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে। এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া হবে, সে মৃত্যুকে আহ্বান করবে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
{সূরা ইনশিকাক: ৬-১২}
২-মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ ﴿২৫﴾ وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ ﴿২৬﴾ يَا ‎لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ ﴿২৭﴾ الحاقة:২৫-২৭}
আর যার আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে হায়! আমায় যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব। হায়! আমার মৃত্যুই যদি শেষ হতো।
{ সূরা আল-হা-ক্কাহ: ২৫-২৭}

দাড়ি পাল্লা স্থাপন:
সৃষ্টিকুলের হিসাব নেয়ার উদ্দেশ্যে দাড়িপাল্লা স্থাপন করা হবে। মানুষ হিসাব প্রদানের জন্য একজন একজন করে সামনে অগ্রসর হবে, তাদের প্রতিপালক হিসাব নেবেন এবং আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। হিসাব শেষ হওয়ার পর আমল ওজন করা হবে। সেটি আসল দাড়িপাল্লাই হবে যার দু’টি পাল্লা থাকবে।
১- মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ { الأنبياء: ৪৭}
আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব।সুতরাং কারও প্রতি যুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্য আমিই যথেষ্ট। {সূরা আম্বিয়া: ৪৭}
২- আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
فَأَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ ﴿৬﴾ فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ ﴿৭﴾ وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ﴿৮﴾ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ﴿৯﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ ﴿১০﴾ نَارٌ حَامِيَةٌ ﴿১১﴾ { القارعة: ৬-১১}
অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, সে সুখীজীবন যাপন করবে, আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া, আপনি জানেন তা কি? প্রজ্জ্বলিতঅগ্নি। {সূরা কারেয়া: ৬-১১}
৩-হাদীসে এসেছে
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (( يدنى المؤمن يوم القيامة من ربه عز وجلّ حتى يضع عليه كنفه, فيقرره بذنوبه, فيقول: هل تعرف؟ فيقول: أي رب أعرف قال: فإني قد سترتها عليك في الدنيا, وإني أغفرها لك اليوم, فيعطى صحيفة حسناته,وأما الكفار و المنافقون فينادي بهم على رؤوس الخلائق هؤلاء الذين كذبوا على الله,)) متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি : কেয়ামত দিবসে মুমিন বান্দাকে স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী করা হবে, এমনকি আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতের পর্দা সে বান্দার উপর রাখবেন। অত:পর তার থেকে তার কৃতপাপ ও অন্যায়ের স্বীকারোক্তি আদায় করবেন। বলবেন: তুমি কি জান? তখন সে বলবে: হ্যাঁ প্রভু, আমার জানা আছে। আল্লাহ বলবেন: আমি সেসব গুনাহ পৃথিবীতে গোপন করে রেখেছিলাম আজ সব ক্ষমা করে দিলাম। অত:পর তার নেককাজের আমলনামা প্রদান করা হবে। আর মুনাফিক ও কাফের সম্প্রদায়কে সকল মানুষের সম্মুখে ডেকে বলা হবে। এরাই সেসব লোক যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করেছিল।[২০]

কেয়ামতের দিন কি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে:
১-আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا {الإسراء:৩৬)
যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার পিছনে পড়োনা। নিশ্চয়ই কান, চক্ষু ও অন্ত:করণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞেসিত হবে।{সূরা ইসরা:৩৬}
২-আল্লাহ তাআলা আরোও বলেন:
ويوم يناديهم فيقول أين شركاءي الذين كنتم تزعمون. { القصص:৬২}
যেদিন আল্লাহ তাদের ডাক দিয়ে বলবেন: তোমরা যাদের কে আমার শরীক দাবী করতে তারা কোথায় ?। {সূরা কাসাস:৬২}
৩-আল্লাহ অন্যত্র বলছেন:
ويوم يناديهم فيقول ماذا أجبتم المرسلين. {القصص:৬৫}
যে আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রাসূলগনকে কি জবাব দিয়েছিলে।{সূরা কাসাস:৬৫}
৪-আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
فوربك لنسئلنهم أجمعين عما كانوا يعملون .{الحجر:৯২-৯৩}
অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। ওদের কাজকর্ম সম্পর্কে।{সূরা হিজর:৯২-৯৩}
৫-আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করছেন:
وأوفوا بالعهد إن العهد كان مسئولا . {الإسراء: ৩৪}
আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।{সূরা ইসরা :৩৪}
৬-আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ثم لتسئلن يومئذ عن النعيم . { التكاثر:৮}
এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। { সূরা তাকাসুর:৮}
৭-মহান আল্লাহ তাআলা অন্যস্থানে বলছেন:
فَلَنَسْأَلَنَّ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْأَلَنَّ الْمُرْسَلِينَ ﴿৬﴾ فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ ﴿৭﴾ وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿৮﴾ { الأعراف:৬-৭}
অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রাসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই জিজ্ঞেস করব রাসূলগণকে। অত:পর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব বস্তুত: আমিতো অনুপস্থিত ছিলাম না। {সূরা আরাফ:৬-৭}
৮- হাদীসে এসেছে
وعن أبي برزة الأسلمي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( لا تزول قدما عبد يوم القيامة حتى يسأل عن عمره فيما أفناه, وعن علمه فيما فعل,وعن ماله من أين اكتسبه و فيما أنفقه, وعن جسمه فيما أبلاه)). أخرجه الترمذي و الدارمي.
সাহাবী আবু বারযাহ আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির দু’পা নিম্নোক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেসিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নিজ জায়গায় স্থির থাকবে। তার বয়স সম্পর্কে কি কাজে সে সেটি নিঃশেষ করেছে, জ্ঞান সম্পর্কে এর মাধ্যমে সে কি করেছে, সম্পদ সম্পর্কে কোথায় হতে উপার্জন করেছে আর কোন কাজে ব্যয় করেছে আর তার শরীর সম্পর্কে কি কাজে সেটি জীর্ণ ও ক্ষয় করেছে। [২১]

হিসাবের ধরন:
কেয়ামতের দিন যাদের হিসাব নেয়া হবে তারা মূলত দুইশ্রেণীতে বিভক্ত:
১- যাদের হিসাব খুব সহজ হবে আর সেটি হচ্ছে শুধু আমল নামা প্রদর্শন করা
عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (( ليس أحد يحاسب يوم القيامة إلا هلك )) فقلت: يا رسول الله أ ليس قد قال الله تعالى :فأما من أوتي كتابه بيمينه, فسوف يحاسب حسابا يسيرا, فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( إنما ذلك العرض, وليس أحد يناقش الحساب يوم القيامة إلا عذب)). متفق عليه
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:কেয়ামতের দিন যারই হিসাব নেয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি জানতে চাইলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তার হিসাব সহজ করে নেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ বললেন: এটি হচ্ছে শুধু দেখানোর জন্য। আর কেয়ামতের দিন যার হিসাব জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নেয়া হবে তাকে অবশ্যই শাস্তি দেয়া হবে।[২২]
২-যাদের হিসাব খুব কঠিন করে নেয়া হবে। ছোট বড় প্রত্যেক বিষয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদি সত্যি বলে তাহলে খুবই ভাল। আর যদি মিথ্যা বলে অথবা গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে মুখে সীলমোহর এঁটে দেয়া হবে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কথা বলবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
اليوم نختم على أفواههم وتكلمنا أيديهم وتشهد أرجلهم بما كانوا يكسبون { يس:৬৫}
অর্থাৎ: আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। {সূরা ইয়াসীন:৬৫}

উম্মতের মাঝে যাদের হিসাব নেয়া হবে:
১- কেয়ামত দিবসের হিসাব ব্যাপক হারে সকলের জন্য প্রযোজ্য। তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের বাদ দিয়েছেন তাদের কথা ভিন্ন। তাঁরা হচ্ছেন এ উম্মতের সত্তর হাজার লোক যারা বিনা হিসাব ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
২-কাফেরদেরকে হিসাবের আওতায় আনা হবে। এবং তিরস্কার ও হেয় করার উদ্দেশ্যে তাদের সামনে তাদের কৃত আমল পেশকরা হবে। শাস্তি ও আযাব ভোগ করার দিক থেকে তারা বিভিন্ন শ্রেণীভূক্ত হবে। যাদের পাপ ও কুকর্ম তুলনামূলক বেশি তাদের শাস্তি যাদের পাপ কম তাদের থেকে কঠিন হবে। আর যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদের শাস্তিও তুলনা মূলক লঘু হবে তবে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৩-কেয়ামতের দিন উম্মতদের মধ্যে সর্ব প্রথম উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার হিসাব নেয়া হবে। আর মুসলমানদের আমলের মধ্যে সর্ব প্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে। সালাত যদি সব সঠিক প্রমাণিত হয় তাহলে তার সব আমলই সঠিক বের হয়ে আসবে। আর সালাতের মধ্যে অসুবিধা পরিলক্ষিত হলে সব আমলেই অসুবিধা দেখা দেবে। আর মানুষের হকের মধ্যে সর্ব প্রথম রক্তপাতের হিসাব নেয়া হবে।

আমল পরিমাপ করার পদ্ধতি:
কেয়ামতের দিন বান্দার নেক-বদ সব আমলই পরিমাপ করা হবে। যার নেক আমল বেশি হবে সে কৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে। আর যার বদ আমল বেশি হবে সে নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবে। সকল বান্দাদের মাঝে আল্লাহ তাআলার ইনসাফ প্রকাশার্থে কর্মসম্পাদন কারী, কৃত আমল এবং আমলনামা সব পরিমাপ করা হবে। কেয়ামতের দিন বান্দার দাড়িপাল্লাতে সর্বাধিক ওজনদার আমল হবে উত্তম চরিত্র।
১-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ইরশাদ করেন:
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿৮﴾ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِآَيَاتِنَا يَظْلِمُونَ ﴿৯﴾ { الأعراف: ৮-৯}
আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অত:পর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারা হবে সেসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছে। কেননা তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করতো। {সূরা আ’রাফ:৮-৯}
২- হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( إنه يأتي الرجل العظيم السمين يوم القيامة لا يزن عند الله جناح بعوضة, وقال: اقرؤوا إن شئتم (( فلا نقيم لهم يوم القيامة وزنا)). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, নবীজী বলেন: কেয়ামতের দিন বিশাল আকৃতির-স্থুলদেহ বিশিষ্ট এমন এমন কিছু লোক উপস্থিত হবে আল্লাহ তাআলার নিকট যাদের ওজন মশার ডানা পরিমাণও নেই। নবীজী আরো বলেন: তোমাদের মন চাইলে পড়ে দেখতে পার (সুতরাং কেয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোন ওজন স্থির করব না। অর্থাৎ তাদের কোন প্রকার মূল্য ও গুরুত্ব থাকবে না।[২৩]

কাফেরদের নেক আমলের বিধান:
কাফের ও মুনাফিকদের কোন প্রকার ইবাদত ও নেক আমল কবুল করা হয় না। কারণ ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত ঈমান এদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। তাদের নেকআমলসমূহ ছাইভষ্ম সদৃশ যার উপর দিয়ে প্রবল বাতাস বয়ে যায় ধুলিঝড়ের দিন। কেয়ামতের দিন সকল মানুষের সামনে তাদের সম্পর্কে ঘোষণা দেয়া হবে যে, এরাই সেসব লোক যারা স্বীয় প্রতিপালকের উপর মিথ্যা আরোপ করেছিল।
১-আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أُولَئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ {هود:১৮}
আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে? যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মুখীন করা হবে আর সাক্ষীগন বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা স্বীয় পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ! যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে। {সূরা হুদ:১৮)
২-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
مَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ أَعْمَالُهُمْ كَرَمَادٍ اشْتَدَّتْ بِهِ الرِّيحُ فِي يَوْمٍ عَاصِفٍ لَا يَقْدِرُونَ مِمَّا كَسَبُوا عَلَى شَيْءٍ ذَلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيدُ {إبراهيم:১৮}
যারা স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী, তাদের অবস্থা এইযে, তাদের নেকআমলসমূহ ছাইভষ্মের মত যার উপর দিয়ে প্রবল বাতাস বয়ে যায় ধুলিঝড়ের দিন। তাদের উপার্জনের কোন অংশই তাদের করতলগত হবে না। এটাই দূরবর্তী পথভ্রষ্টতা। {সূরা ইবরাহীম:১৮}
৩-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা আরও বলেন:
يَوْمَ يَرَوْنَ الْمَلَائِكَةَ لَا بُشْرَى يَوْمَئِذٍ لِلْمُجْرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجْرًا مَحْجُورًا ﴿২২﴾ وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا ﴿২৩﴾ { الفرقان:২২-২৩}
যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোন সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে, কোন বাধা যদি তা আটকে রাখতো। আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব অত:পর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকনারূপ করে দেব। {সূরা ফুরকান:২২-২৩}

আমল দর্শন:
কেয়ামতের দিন বান্দাদের সম্মুখে তাদের কৃত সমূদয় আমল তুলে ধরা হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ সম্পাদিত আমল- ছোট কিংবা বড় নেক কিংবা বদ- স্ব চোক্ষে দেখতে পাবে। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
يومئذ يصدر الناس أشتاتا ليروا أعمالهم, فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره. { الزلزلة:৬-৮}
সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে। আবার কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
{সূরা যিলযাল:৬-৮}

দুনিয় ও আখেরাতে আমলের প্রতিদান:
عن أنس رضي الله عنه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم :(( إن الله لا يظلم مؤمنا حسنة, يعطى بها في الدنيا, و يجزى بها في الآخرة, وأما الكافر فيطعم بحسنات ما عمل بها في الدنيا, حتى إذا أفضى إلى الآخرة لم يكن له حسنة يجزى بها)). أخرجه مسلم
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মহান আল্লাহ তাআলা কোন মুমিন বান্দার উপরই একটি নেক আমলের ক্ষেত্রেও কোনরূপ অন্যায় করেন না। ঐ নেক আমলের বিনিময়ে দুনিয়াতে (রিযিক) দান করেন আর পরকালে উপযুক্ত প্রতিদান দান করবেন। আর কাফেরগণ কৃত নেকআমলের বিনিময়ে দুনিয়াতে জীবনোপকরণ লাভ করে। এক পর্যায়ে যখন সে আখেরাত পানে যাত্রা করে, আমলনামায় কোন আমলই আর অবশিষ্ট থাকে না যে প্রতিদান দেয়া হবে। [২৪]

কেয়ামত দিবসে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের হুকুম:
মুমিনদের শিশু সন্তানরা বয়স্কদের ন্যায় স্বীয় পিতা আদম আলাইহিস সালামের আকৃতিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অনুরূপভাবে মুশরিকদের শিশু সন্তানরাও। এবং তারা বয়স্কদের ন্যায় বিবাহ শাদীও করবে। যে সকল নারী-পুরুষ অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তারা আখেরাতে বিবাহ করবে। জান্নাতে কোন অবিবাহিত নারী-পুরুষ থাকবে না।

হাউজ

মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবীর জন্য একটিকরে হাউজ সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে আমাদের নবীজীর হাউজটি হলো আয়তনের দিক থেকে সর্ববৃহৎ, স্বাদের দিক থেকে সবচেয়ে মিষ্টি এবং কেয়ামতের দিন তাতেই সর্বাধিক সংখ্যক আগমনকারীর আগমন ঘটবে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজের বিবরণ:
১-হাদীস
عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم :((حوضي مسيرة شهر, ماؤه أبيض من اللبن, وريحه أطيب من المسك,وكيزانه كنجوم السماء, من شرب منها فلا يظمأ أبدا)). متفق عليه
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আমার হাউজের আয়তন হচ্ছে এক মাসের দূরত্ব, তার পানি দুধের চেয়েও সাদা, ঘ্রাণ মিশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়, পানপাত্র আকাশের নক্ষত্র সদৃশ, যে ব্যক্তি তার থেকে পান করবে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না।[২৫]
অন্য এক রেওয়াতে আছে:
(( عرضه مثل طوله ما بين عمان إلى أيلة ، ماؤه أشد بياضا من اللبن و أحلى من العسل)). أخرجه مسلم.
তার প্রস্থ আম্মান থেকে আইলা নামক স্থানের দৈর্ঘের সমান। পানি দুধের থেকেও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও বেশি মিষ্টি।[২৬]
২- হাদীস
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (( إن قدر حوضي كما بين أيلة و صنعاء من اليمن, وإن فيه من الأباريق كعدد نجوم السماء)). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছন: আমার হাউজের আয়তন হচ্ছে আইলা (জর্দানের একটি এলাকার নাম) থেকে ইয়েমেনের সানআ নামক স্থানের দূরত্বের সমান। তাতে আকাশের নক্ষত্ররাজি সমসংখ্যক পানপাত্র ও কুঁজা রয়েছে।[২৭]
হাউজ থেকে কাদের তাড়িয়ে দেয়া হবে:
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:(( يرد علي يوم القيامة رهط من أصحابي, فيجلون عن الحوض, فأقول : يا رب أصحابي,فيقول : إنك لا علم لك بما أحدثوا بعدك, إنهم ارتدوا على أدبارهم القهقرى)). متفق عليه .
প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:কেয়ামতের দিন আমাদের উম্মতের একটি ছোট দল আমার নিকট আসবে, তাদেরকে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। আমি বলব: হে রব, এরা আমার সাহাবী! আল্লাহ বলবেন: আপনার জানা নেই আপনার পর এরা কি কি বেদআতের জন্ম দিয়েছে। তারা তাদের পিছন পানে হেঁটে পূর্বাবস্থায় ফিরে গিয়েছে।[২৮]

পুলসিরাত

পুলসিরাত বলতে সেই ব্রীজকে বুঝানো হচ্ছে, যেটি জাহান্নামের উপরে স্থাপন করা হয়েছে যার উপরদিয়ে মুসলমানরা জান্নাতে যাবে।
পুলসিরাত অতিক্রম করবে কারা:
একমাত্র মুসলমানরাই পুলসিরাত অতিক্রম করবে। আর কাফের ও মুশরিকদের প্রত্যেক উপদল তারা পৃথিবীতে যে সকল প্রতিমা, শয়তান ও এ জাতীয় বাতিল উপাস্যদের উপাসনা করত তাদের পিছনে পিছনে চলবে অত:পর স্বীয় মা’বূদসহ প্রথমে জাহান্নামে পতিত হবে।
এরপর অবশিষ্ট থাকবে যারা বাহ্যত: আল্লাহ তাআলার ইবাদত করত। খাঁটি মনে হোক কিংবা কপটতা তথা নেফাকীর সাথে। তাদের জন্য পুলসিরাত স্থির করা হবে। এরপর বিশেষ নূর যা শুধুমাত্র মুমিনদেরকে শামিল করবে এবং সেজদা দেয়া অসম্ভব হওয়ার মাধ্যমে মুনাফিকরা মুমিনদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে। পরে তারা পিছনে জাহান্নামের দিকে ফিরে আসবে। আর মুমিনবৃন্দ পুলসিরাত অতিক্রম করে জান্নাতে পৌঁছে যাবে।
পুলসিরাত অতিক্রম কর্মটি শুরুহবে হিসাব ও আমল পরিমাপকর্ম শেষ হওয়ার পর। অত:পর মানুষ পুলসিরাত অতিক্রম করার জন্য বাধ্য হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
وإن منكم إلا واردها, كان على ربك حتما مقضيا. ثم ننجي الذين اتقوا ونذر الظالمين فيها جثيا.{مريم: ৭১-৭২}
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তথায় পৌঁছবে না। এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফয়সালা। অত:পর আমি মুত্তাকীদের উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব। {সূরা মারইয়াম:৭১-৭২}
পুলসিরাত ও সেটি অতিক্রম করার বিবরণ:
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه في حديث الرؤية و صفة الصراط … ــ فيه ــ قيل يا رسول الله : وما الجسر؟ قال:(( دحض مزلة, فيه خطاطيف, وكلاليب, و حسك تكون بنجد, فيها شويكة يقال لها السعدان, فيمر المؤمنون كطرف العين, و كالبرق, و كالريح, وكالطير, و كأجاويد الخيل والركاب, فناج مسلم, ومخدوش مرسل,ومكدوس في نار جهنم )). متفق عليه
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে পুলসিরাতের বিবরণ সম্বলিত বর্ণিত হাদীস। -যাতে আছে- বলা হল : ইয়া রাসূলাল্লাহ : পুলসিরাত কি? বললেন: অত্যন্ত পিচ্ছিল একটি জায়গা, যেখানে আছে বড়শী ও বাঁকা হুক এবং নজদে উৎপন্ন ছোট ছোট কাঁটা বিশিষ্ট সা’দান নামক এক প্রকার কাঁটা। ঈমানদাররা চোখের পলক, বিজলী, বাতাস, পাখী ও উন্নত জাতের দ্রুতগামী অশ্ব এবং অন্যান্য জন্তুর ন্যায় দ্রুতবেগে পার হয়ে যাবে। কতেক সহী-সালামতে পার হবে, কাঁটার আঘাত প্রাপ্ত থাকবে ঝুলন্ত আর কেউ কেউ জাহান্নামের আগুনে জ্বলসে যাবে। [২৯]
পুলসিরাত সর্বপ্রথম কে অতিক্রম করবে
পুলসিরাত সর্ব প্রথম অতিক্রম করবেন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মতবৃন্দ। পুলসিরাত একমাত্র মুমিনরাই অতিক্রম করতে পারবে। তাদেরকে তাদের ঈমান ও আমল অনুপাতে তাদের নূর প্রদান করা হবে। অত:পর তার ভিত্তিতে তারা পুলসিরাত অতিক্রম করবে। আমানত ও রেহেমকে ছেড়ে দেয়া হবে তারা এসে পুলসিরাতের ডান ও বাম পাশে দাড়িয়ে যাবে। সেদিন রাসূলগনের দোআ হবে : হে আল্লাহ শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন।
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في حديث الرؤية: (( ويضرب الصراط بين ظهري جهنم, فأكون أنا و أمتي أول من يجيز, ولا يتكلم يومئذ إلا الرسل, و دعوى الرسل يومئذ : اللهم سلم سلم )). متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণেত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নের বর্ণনা সম্বলিত হাদীসে বলেছেন: এবং জাহান্নামের উপর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে, আমি ও আমারা উম্মত সর্বপ্রথম তা অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগন ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না, রাসূলগনের দোআ হবে : হে আল্লাহ শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন।[৩০]

পুলসিরাত পার হওয়ার পর ঈমানদারদের অবস্থা কি হবে:
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( يخلص المؤمنون من النار فيحبسون على قنطرة بين الجنة و النار, فيقتص لبعضهم من بعض مظالم كانت بينهم في الدنيا, حتى إذا هذبوا و نقوا أذن لهم في دخول الجنة, فوالذي نفس محمد بيده لأحدهم أهدى بمنزله في الجنة منه بمنزله كان في الدنيا )). أخرجه البخاري
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মুমিনগন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে অত:পর তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি পুলের নিকট আটক করা হবে এবং পৃথিবীতে যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছিল তাদের পক্ষ থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) নেয়া হবে। অত:পর তাদেরকে পরিস্কার ও নিষ্কলুস করার পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। কসম সে সত্ত্বার যার হাতে আমার জীবন তাদের প্রত্যেকেই জান্নাতে তার আবাসস্থল পৃথিবীর আবাসস্থল থেকেও ভাল করে চিনতে পারবে।[৩১]

শাফা’আত

শাফাআতের অর্থ হচ্ছে : অপরের জন্য কল্যাণের প্রার্থনা করা। শাফাআত এর বাংলা প্রতিশব্দ হল শুপারিশ।
শাফাআতের প্রকার: কেয়ামত দিবসে শাফাআত দুই প্রকার।

১- একমাত্র নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট শাফাআত:
এটি আবার কয়েক প্রকার
(ক) এর মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হাশরের ময়দানে উপস্থিত সকল মানুষের তরে বিচারকার্য শুরু করার জন্য তাঁর শাফাআতে উযমা। তিনি তাদের তরে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে বিচারকার্য শুরু করবেন। আর এটিই হচ্ছে তাঁর মাকামে মাহমূদ।
(খ)তাঁর উম্মতের বিশেষ শ্রেণীর কিছু লোকের ক্ষেত্রে তাঁর শাফাআত। যার ফলে তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তারা হচ্ছে সেই সত্তর হাজার লোক। যখন আল্লাহ তাআলা বলবেন: আপনি আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব নেই তাদেরকে জান্নাতের ডান দরজা দিয়ে প্রবেশ করান।
(গ) যাদের নেক আমল ও বদ আমল এক সমান হয়ে যাবে তাদের ক্ষেত্রে তাঁর শাফাআত। তিনি তাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার সুপারিশ করবেন।
(ঘ)জান্নাতে প্রবেশকারী লোকদের জন্য তাদের সম্পাদিত আমলের দাবী ও চাহিদার থেকে আরো উচ্চ মাকাম দানের জন্য তাঁর শাফাআত।
(ঙ) স্বীয় চাচা আবু তালেবের আযাব লঘূ করার জন্য তাঁর শাফাআত।
(চ)সকল মুমিনদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করার জন্য তাঁর শাফাআত।

২-নবীসহ অন্য সকল নবী, ফেরেশতা ও মুমিন- সকলের জন্য উন্মোক্ত শাফাআত:
আর এ শাফাআতটি প্রযোজ্য হবে সেসব লোকদের ক্ষেত্রে যারা জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যাবে তাদের প্রবেশ না করানোর জন্য এবং যারা প্রবেশ করবে তাদের বের করে আনার জন্য।
১-হাদীস
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (( لكل نبي دعوة مستجابة, فتعجل كل نبي دعوته, وأني اختبأت دعوتي شفاعة لأمتي يوم القيامة فهي نائلة إن شاء الله من مات من أمتي لا يشرك بالله شيئا)). متفق عليه
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক নবীকেই একটি গ্রহণযোগ্য দোআর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের সেই দোআ পৃথিবীতেই সম্পন্ন করে ফেলেছেন। তবে আমি আমার দোআটি কেয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য ধরে রেখেছি। আমার উম্মতের যারা আল্লাহর সাথে কোন শরীক-সমকক্ষ স্থির না করে মারা যা,ে আল্লাহ চাহেতো সে দোআ তাদের সকলকে স্পর্শ করবে। অর্থাৎ সে দোআর ভাগ তারা সকলেই পাবে।[৩২]
২- আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা সম্পর্কে বলছেন:
وكم من ملك في السماوات لا تغني شفاعتهم شيئا إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى. {النجم:২৬}
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন। {সূরা নাজম:২৬}
৩- হাদীসে এসেছে
وعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (( يشفع الشهيد في سبعين من أهل بيته )). أخرجه أبو داود .
সাহাবী আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর রাস্তায় শাহাদত বরণকারী শহীদদের নিজ পরিবারস্থ সত্তর লোকের পক্ষে করা সুপারিশ কবুল করা হবে।[৩৩]
এ শাফাআতের জন্য দু’টি শর্ত আবশ্যক করা হয়েছে:
(১)আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফাআত করার অনুমতি। যেমন আল্লাহ বলেন:
من ذا الذي يشفع عنده إلا بإذنه . {البقرة:২৫৫}
কে আছ এমন, যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে।{সূরা বাকারা:২৫৫}
(২) শাফাআতকারী এবং যার জন্য শাফাআত করা হবে উভয়ের প্রতি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
وكم من ملك في السماوات لا تغني شفاعتهم شيئا إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى. {النجم:২৬}
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন। {সূরা নাজম:২৬}
কাফেরের পক্ষে কোন সুপারিশ হবে না। সে চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তার পক্ষে কেউ সুপারিশ করলেও সেটি ফলপ্রসূ হবে না। এসব অপরাধী সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
فما تنفعهم شفاعة الشافعين.{ المدثر:৪৮}
অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না।
{সূরা মুদ্দাস্‌সির:৪৮}

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআত প্রার্থনা করার বিধান:
নবীজীর শাফাআত কামনাকারী ব্যক্তির জন্য নিম্নোক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা জরুরী। আল্লাহ তাআলার নিকট নবীজীর শাফাআত প্রার্থনা করা। যেমন এভাবে বলতে পারে: হে আল্লাহ তুমি আমাকে তোমার নবীর শাফাআত নসীব কর। পাশাপাশি শাফাআত আবশ্যককারী নেক কাজ অধিক পরিমাণে সম্পাদন করে যাওয়া। যেমন একমাত্র আল্লাহ তাআলর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদত করতে থাকা, নবীজীর উপর বেশি বেশি দরূদ পড়া এবং তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট ওসীলা প্রার্থনা করা।
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((أسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال لا إله إلا الله خالصا من قلبه أو نفسه )). أخرجه البخاري
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশ পেয়ে সবচে ভাগ্যবান ব্যক্তি হচ্ছে, যারা খাঁটি মনে এ স্বীকৃতি প্রদান করেছে যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোন সত্যিকার উপাস্য নেই))। [৩৪]

প্রতিদান স্থান:
দুনিয়া হচ্ছে আমল তথা কর্মশালা আর আখেরাত হচ্ছে প্রতিদান (প্রদান ও প্রাপ্তির) আবাস। তবে স্থায়ী আবাস তথা জান্নাত কিংবা জাহান্নামে প্রবেশের পূর্বে আমল ও প্রশ্নের সমাপ্তি হবে না। বরং চলতে থাকবে। সেটি কবরের বরযখী জীবনে হোক বা কেয়ামতের ময়দানে। যেমন কবরে মাইয়্যেতকে মুনকার নকীর-ফেরেশতাদ্বয়ের প্রশ্ন, কেয়ামত দিবসে সকল মানুষকে সেজদা করার নির্দেশ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও যারা নবী আগমনের পূর্বে মারা গেছে তাদের পরীক্ষা ইত্যাদি। অত:পর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের মাঝে তাদের ঈমান ও আমল অনুপাতে ফায়সালা করবেন। একদল যাবে জান্নাতে অপরটি জাহান্নামে।
১-মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآَنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ الشورى:৭}
এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল যাবে জান্নাতে এবং অপর একদল জাহান্নামে। {সূরা শূরা:৭}
২-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿৫৬﴾ وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا فَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿৫৭﴾ {الحج:৫৬-৫৭}
রাজত্ব সেদিন আল্লাহরই, তিনিই তাদের বিচার করবেন। অতএব যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তারা নেয়ামতপূর্ন জান্নাতে থাকবে। আর যারা কুফরী করে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
{সূরা হজ্ব:৫৬-৫৭}
৩-আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَتَفَرَّقُونَ ﴿১৪﴾ فَأَمَّا الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ ﴿১৫﴾ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآَخِرَةِ فَأُولَئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُونَ ﴿১৬﴾ {الروم:১৪-১৬}
যেদিন কেয়ামত সঙ্ঘটিত হবে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তারা জান্নাতে সমাদৃত হবে। আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।{সূরা রূম:১৪-১৬}

জান্নাতের বিবরণ

জান্নাত হচ্ছে শান্তির আবাস, সুখের ঠিকানা যা মহান আল্লাহ পরকালীন জীবনে মুমিন নর-নারীদের থাকার জন্য প্রস্তুত করেছেন।
জান্নাত সম্পর্কিত আমাদের এ আলোচনায় মূলত: এ বিষয়ে বর্ণিত কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীসের আলোকে একটু বিন্যস্ত করে বলার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। যেমন, এ জান্নাত ও তার নেয়ামতসমূহের সৃষ্টি কর্তা কে? আর তিনি হচ্ছেন সেই মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ, যার রহমতের উপর ভিত্তি করে টিকে আছে এ বিশ্ব। আরো আলোচনা করা হয়েছে: সর্ব প্রথম জান্নাতে কে প্রবেশ করবেন? কার পায়ের পবিত্র স্পর্শে জান্নাত ধন্য হয়েছে? আর তিনি হচ্ছে সৃষ্টি সেরা মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

জান্নাতের কতিপয় প্রসিদ্ধ নাম:
মৌলিকত্বের দিক থেকে জান্নাত একটিই তবে বৈশিষ্ট ও গুণাগুণের দিক থেকে সেটি একাধিক। আর এ বিভিন্নতার কারণে তার নামও হয়েছে একাধিক। এ পর্যায়ে আমরা জান্নাতের কিছু প্রসিদ্ধ নাম উল্লেখ করব।
১- জান্নাত:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ { النساء: ১৩}
যারা আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ মত চলবে, তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতাস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। সেটি বিরাট সাফল্য। {সূরা নিসা:১৩}
২- জান্নাতুল ফেরদাউস:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات كانت لهم جنات الفردوس نزلا. {الكهف:১০৭}
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদের অভ্যর্থনার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। {সূরা কাহফ:১০৭}
৩- জান্নাতু আদন:
ইরশাদ হচ্ছে:
هَذَا ذِكْرٌ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَآَبٍ ﴿৪৯﴾ جَنَّاتِ عَدْنٍ مُفَتَّحَةً لَهُمُ الْأَبْوَابُ ﴿৫০﴾ {ص: ৪৯-৫}
এ এক মহা আলোচনা। তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য রয়েছে উত্তম ঠিকানা-জান্নাতু আদন তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত; তাদের জন্য তার দরজাসমূহ রয়েছে উন্মুক্ত। {সূরা স্বদ:৪৯-৫০}
৪- জান্নাতুল খুলদ:
ইরশাদ হচ্ছে:
قُلْ أَذَلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ كَانَتْ لَهُمْ جَزَاءً وَمَصِيرًا { الفرقان:১৫}
বল, এটা উত্তম না জান্নাতুল খুলদ-চিরকাল বসবাসের জান্নাত। যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদের? সেটা হবে তাদের প্রতিদান ও প্রত্যাবর্তন স্থল। {সূরা ফুরকান:১৫}
৫- জান্নাতুন না’য়ীম:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إن الذين آمنوا و عملوا الصالحات لهم جنت النعيم. { لقمان:৮}
যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল সম্পাদন করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুন না’য়ীম তথা নিয়ামতপূর্ণ জান্নাত। { সূরা লোকমান:৮}
৬- জান্নাতুল মাওয়া:
ইরশাদ হচ্ছে:
أما الذين آمنوا و عملوا الصالحات فلهم جنات المأوى نزلا بما كانوا يعملون.{السجدة:১৯}
যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদের জন্য রয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ জান্নাতুল মাওয়া।এটি আতিথীয়তার আঙ্গিকে তাদের প্রদান করা হবে।
{সূরা সাজদাহ: ১৯}
৭- দারুস সালাম:
আল্লাহ বলেন:
لَهُمْ دَارُ السَّلَامِ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَهُوَ وَلِيُّهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ {الأنعام:১২৭}
তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট দারুস সালাম তথা শান্তি নিকেতন। আর তাদের কর্মের কারণে তিনিই হচ্ছেণ তাদের অভিভাবক। {সূরা আনআম:১২৭}

জান্নাতের অবস্থান

(১)আল্লাহ তাআলা বলেন:
و في السماء رزفكم و ما توعدون. {الذاريات:২২}
আর আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং যা কিছুর প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হয়েছে। { সূরা যারিয়াত:২২}
(২) আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ولقد رآه نزلة أخرى عند سدرة المنتهى عندها جنة المأوى. { النجم:১৩-১৫}
নিশ্চয় তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন, সিদরাতুল মুনতাহার নিকট, যার নিকট অবস্থিত জান্নাতুল মা’ওয়া। { সূরা নাজম:১৩-১৫}
(৩) হাদীসে এসেছে
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من آمن بالله و رسوله و أقام الصلاة وصام رمضان, كان حقا على الله أن يدخله الجنة هاجر في سبيل الله أو جلس في أرضه التي ولد فيها, قالوا يا رسول الله :أفلا ننبئ الناس بذلك؟ قال: إن في الجنة مائة درجة, أعدها الله للمجاهدين في سبيله, كل درجتين ما بينهما كما بين السماء و الأرض,فإذا سألتم الله فسلوه الفردوس, فإنه أوسط الجنة, و أعلى الجنة, وفوقه عرش الرحمن, ومنه تفجر أنهار الجنة. أخرجه البخاري
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে, সালাত কায়েম করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যাবে। সে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করুক বা নিজ জন্মভূমিতে অবস্থান করুক। লোকেরা বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি এ বিষয়ে অন্যান্য লোকদের সংবাদ দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: নিশ্চয় জান্নাতে একশত স্তর রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তাআলা তাঁর রাস্তায় জিহাদকারী -মুজাহিদদের জন্য তৈরী করেছেন। দুই স্তরের মাঝে দূরত্ব হচ্ছে আকাশ-যমীনের মাঝের দূরত্বের সমান। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর নিকট জান্নাত প্রার্থনা করবে তখন ফিরদাউস প্রার্থনা করবে। কেননা এটি সর্বোচ্চ স্তরের জান্নাত যা জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তার উপর রয়েছে দয়াময় মহান আল্লাহর আরশ। এবং জান্নাতের স্রোতস্বিনীসমূহ তার থেকেই প্রবাহিত হয়েছে।[৩৫]
(৪)হাদীসে আরো এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:إن المؤمن إذا حضره الموت حضرته ملائكة الرحمة, فإذا قبضت نفسه جعلت في حريرة بيضاء فينطلق بها إلى باب السماء فيقولون ما وجدنا ريحا أطيب من هذه… أخرجه الحاكم و ابن حبان.
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:মুমিনের মৃত্যু সময় উপস্থিত হলে রহমতের ফেরেশতাবৃন্দ উপস্থিত হয়। অত:পর তার জান কবজ করা হলে তাকে শুভ্র রেশমী কাপড়ে রাখা হয় এবং আকাশের দরজাপানে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তারা বলাবলি করে, আমরা এর চেয়ে উন্নত সুঘ্রাণ আর কখনো পাইনি…।[৩৬]

জান্নাতের প্রবেশদারসমূহের নাম:
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من أنفق زوجين في سبيل الله, نودي من أبواب الجنة . يا عبد الله,هذا خير, فمن كان من أهل الصلاة دعي من باب الصلاة و من كان من أهل الجهاد ععي من باب الجهاد, ومن كان من أهل الصيام دعي من باب الريان ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة. فقال أبو بكر رضي الله عنه: بأبي أنت و أمي يا رسول الله, ما على من دعي من تلك الأبواب من ضرورة, فهل يدعى أحد من تلك الأبواب كلها؟ قال : نعم, وأرجو أن تكون منهم. متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি দুটি প্রিয় বস্তু আল্লাহর রাস্তায় খরচ করবে, জান্নাতের প্রবেশদার সমূহ থেকে আহ্বান করা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! এটি উত্তম-কল্যাণকর। সুতরাং যে নামাযী হবে, তাকে নামাযের দরজা থেকে আহ্বান করা হবে। জিহাদে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদ কে ডাকা হবে জিহাদের দরজা দিয়ে। সিয়াম পালনকারীকে রাইয়ান নামক দরজা থেকে আহ্বান করা হবে। দান-সদকাকারী দানবীরকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা মাতা আপনার তরে উৎসর্গ হোক। উপরোক্ত সকল দরজা দিয়ে একজনকে ডাকা আবশ্যক নয়। তবুও এমন কেউকি আছে? যাকে প্রত্যেক দরজা দিয়ে ডাকা হবে? নবীজী বললেন: হ্যাঁ, আর আমি আশা করছি তুমিও হবে তাদের একজন।[৩৭]

জান্নাতের দরজাসমূহের প্রশস্ততা:
(১) হাদীসে এসেছে
عن عتبة بن غزوان رضي الله عنه قال: ذكر لنا أن ما بين مصراعين من مصاريع الجنة مسيرة أربعين سنة, وليأتين عليها يوم و هو كظيظ من الزحام. أخرجه مسلم
উতবা বিন গযওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের বলা হল যে, জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মাঝের দূরত্ব চল্লিশ বছর ভ্রমনপথের দূরত্বের সমান। আর এমন একদিন আসবে যে, ভিড়ের কারণে (মনে হবে)সেটি অতিভোজন করা পেট।[৩৮]
(২) হাদীসে আরো এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: أتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بلحم… و في آخره قال: والذي نفس محمد بيده إن ما بين المصراعين من مصاريع الجنة لكما بين مكة و هجر أو كما بين مكة و بصرى. متفق عليه
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গোশত হাদিয়া আসল… হাদীসের শেষাংশে আছে। রাসূলুল্লাহ বলেন: সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয় জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মাঝের দূরত্ব মক্কা ও হাজার অথবা মক্কা ও বসরার মাঝের দূরত্বের সমান।[৩৯]

জান্নাতের প্রবেশদারের সংখ্যা
১- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ ﴿৭৩﴾ { الزمر:৭৩}
আর যারা স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে চলত, তাদেরক দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে ও এব দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে: তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অত:পর সদা সর্বদা বসবাসের জন্য জান্নাতে প্রবেশ কর। {সূরা যুমার :৭৩}
(২) হাদীসে এসেছে
وعن سهل بن سعد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: في الجنة ثمانية أبواب, فيها باب يسمى الريان لا يدخله إلا الصائمون. متفق عليه
সাহাবী সাহল বিন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাতে আটটি দরজা রয়েছে, এর একটির নাম হচ্ছে রাইয়ান। রোযাদাররা ব্যতীত অন্য কেউ এটি দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।[৪০]

জান্নাতের দরজাসমূহ জান্নাতবাসীদের জন্য উন্মুক্ত

আল্লাহ তাআলা বলেন:
هَذَا ذِكْرٌ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَآَبٍ ﴿৪৯﴾ جَنَّاتِ عَدْنٍ مُفَتَّحَةً لَهُمُ الْأَبْوَابُ ﴿৫০﴾ { ص:৪৯-৫০}
এ এক মহৎ আলোচনা। আর নিশ্চয় আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে উত্তম ঠিকানা-স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, তাদের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। {সূরা সাদ:৪৯-৫০}

পৃথিবীতে যে সময়গুলোয় জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয় তার বিবরণ:
পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় নানা উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়।এ প্রসঙ্গে আমরা কিছু হাদীস তুলে ধরছি।
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: تفتح أبواب الجنة يوم الإثينين و يوم الخميس فيغفر لكل عبد لا يشرك بالله شيئا إلا رجلا كانت بينه و بين أخيه شحناء, فيقال أنظروا هذين حتى يصطلحا ু ثلاثا- أخرجه مسلم.
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: প্রত্যেক সোম ও বৃহ:পতিবার দিন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং শিরকমুক্ত সকল বান্দাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যার মাঝে ও তার মুসলিম ভাইয়ের মাঝে হিংসা ও শত্রুতা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়, এদের আপোস হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। এদের আপোস হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। এদের আপোস হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও।[৪১]
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا دخل رمضان فتحت أبواب الجنة, وغلقت أبواب جهنم, وسلسلت الشياطين. متفق عليه
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমযান মাস উপস্থিত হলে জান্নাতের সব কটি প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের সবকটি দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।[৪২]
(৩)
وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما منكم من أحد يتوضأ فيبلغ ( أو فيسبغ) الوضوء, ثم يقول أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمد عبد الله و رسوله إلا فتحت له أبواب الجنة الثمانية يدخل من أيها شاء. أخرجه مسلم
আমীরুল মুমিনীন উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমাদের যে কেউ খুব ভালভাবে ওযু করে এ দুআটি পড়বে যে, أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمد عبد الله و رسوله জান্নাতের আটটি দরজাই তার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। যে দরজা দিয়েই সে চাইবে প্রবেশ করতে পারবে।[৪৩]
জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তি:
عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:آتي باب الجنة يوم القيامة فأستفتح,فيقول الخازن: من أنت؟ فأقول: محمد, فيقول: بك أمرت لا أفتح لأحد قبلك. أخرجه مسلم
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের প্রবেশদ্বারে এসে দরজা খুলতে বলব। রক্ষী বলবেন: কে আপনি? আমি বলব: মুহাম্মাদ। তখন তিনি বলবেন: আপনার ব্যাপারেই আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, আপনার পূর্বে কারো জন্য খুলব না।[৪৪]

জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম উম্মত:
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: نحن الآخرون الأولون يوم القيامة, ونحن أول من يدخل الجنة. متفق عليه
প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আমরা সর্বশেষ আগমনকারী কিয়ামতের দিন সর্বাগ্রে উত্থিত হব। এবং আমরাই সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করব।[৪৫]

জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম দল:
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن أول زمرة يدخلون الجنة على صورة القمر ليلة البدر, ثم الذين يلونهم على أشد كوكب دري في السماء إضاءة, لا يبولون, ولا يتغوطون, ولا يتفلون, ولا يمتخطون, أمشاطهم الذهب,ورشحهم المسك, ومجامرهم الألوة,وأزواجهم الحور العين, على خلق رجل واحد, على صورة أبيهم آدم ستون ذراعا في السماء. متفق عليه
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সর্বপ্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের আকৃতি হবে পূর্ণিমা রাতের আলোকোজ্জ্বল চাঁদ সদৃশ। তাদের পরপরই যারা প্রবেশ করবে তাদের অবস্থা হবে আকাশস্থ আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিকতর আলোকময়। তারা সেথায় মল-মূত্র ত্যাগ করবে না। থুথু-নাকের শ্লেষা ফেলবে না।(চুল বিন্যস্ত করার) চিরুনী হবে স্বর্ণের। শরীর নির্গত ঘাম হবে মেশক সদৃশ। শরীর নি:সৃত ঘ্রাণ হবে উলুওয়াহ তথা সুতীব্র ঘ্রাণ বিশিষ্ট কাঠ বিশেষ। সঙ্গী হবে কৃষ্ণ ও শুভ্র বর্ণের-ডাগর নয়নাধিকারী হুরবৃন্দ। এক ব্যক্তির আকৃতিতে- তাদের পিতা আদমের আকৃতিতে- আকাশ পানে ষাট গজ।[৪৬]
(অর্থাৎ তারা আদম আলাইহিস সালামের মত ষাট গজ বিশিষ্ট লম্বাকৃতির হবে)
وعن سهل بن سعد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ليدخلن الجنة من أمتي سبعون ألفا أو سبعمائة ألف متماسكون آخذ بعضهم بعضا, لا يدخل أولهم حتى يدخل آخرهم, وجوههم على صورة القمر ليلة البدر. متفق عليه
সাহাবী সাহল বিন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার উম্মতের সত্তর হাজার বা সাত লক্ষ একে অপরকে ধরাধরি করে সমান্তরালভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সর্বশেষ জন প্রবেশ করার পূর্বে প্রথমজন প্রবেশ করবে না। এদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের ভরা চন্দ্র সদৃশ।[৪৭]
وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال:سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:إن فقراء المهاجرين يسبقون الأغنياء يوم القيامة إلى الجنة بأربعين خريفا. أخرجه مسلم.
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, আল্লাহর রাসূল বলেন: নিশ্চয় দরিদ্র মুহাজিরবৃন্দ কিয়ামতের দিন ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।[৪৮]

জান্নাতিদের বয়স:
عن معاذ بن جبل رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يدخل أهل الجنة الجنة جردا مردا مكحلين أبناء ثلاثين,أو ثلاث و ثلاثين سنة. أخرجه أحمد و الترمذي.
সাহাবী মুআয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে শ্মশ্রুবিহীন, সুরমাবিশিষ্ট নেত্র, ত্রিশ বা তেত্রিশ বছর বয়সের যৌবন অবস্থায়।[৪৯]

জান্নাতবাসীদের মুখাবয়বের বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ ﴿২২﴾ عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ ﴿২৩﴾ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيمِ ﴿২৪﴾ { المطففين:২২-২৪}
নিশ্চয় সৎকর্মশীল নেকবান্দাগন থাকবে পরম আরামে। সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে। তুমি তাদের মুখাবয়বে স্বাচ্ছন্দের সজীবতা দেখতে পাবে। {সূরা আল মুতাফফিফীন:২২-২৪}
(২) আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ ﴿২২﴾ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴿২৩﴾ { القيامة:২২-২৩}
সে দিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।{সূরা কিয়ামাহ:২২-২৩}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ ﴿৮﴾ لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ ﴿৯﴾ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ﴿১০﴾ { الغاشية:৮-১০}
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে সজীব, তাদের কর্মের কারণে সন্তুষ্ট। তারা থাকবে সুউচ্চ জান্নাতে। {সূরা গাশিয়াহ:৮-১০}
(৪) অনত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُسْفِرَةٌ ﴿৩৮﴾ ضَاحِكَةٌ مُسْتَبْشِرَةٌ ﴿৩৯﴾ { عبس:৩৮-৩৯}
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল। {সূরা আবাসা:৩৮-৩৯}
(৫) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
وَأَمَّا الَّذِينَ ابْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ فَفِي رَحْمَةِ اللَّهِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿১০৭﴾ { آل عمران:১০৭}
আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা থাকবে রহমতের মাঝে, তাতে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।{সূরা আলে ইমরান:১০৭}
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم:أول زمرة تدخل الجنة على صورة القمر ليلة البدر, والذين على آثارهم كأحسن كوكب دري في السماء إضاءة قلوبهم على قلب رجل واحد,لا تباغض بينهم و لا تحاسد. متفق عليه
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমা রাতের আলোকদ্ভাসিত চাঁদের আকৃতি নিয়ে প্রবেশ করবে। এর পরপরই যারা প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশস্থ আলোকজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিক আলোকময়।( হৃদ্যতা ও ভালবাসায়) তারা হবে অভিন্ন হৃদয় সম্পন্ন। তাদের মাঝে কোন বিদ্বেষ ও শত্রুতা থাকবে না।[৫০]

জান্নাতীদের অভ্যর্থনার বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ ﴿৭৩﴾ { الزمر:৭৩}
যারা স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে চলত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অত:পর সর্বদা বসবাসের জন্য জান্নাতে প্রবেশ কর। {সূরা যুমার:৭৩}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ ﴿২৩﴾ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ ﴿২৪﴾ { الرعد:২৩-২৪}
ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। বলবে: তোমাদের ধৈর্যের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এ পরিণাম গৃহ কতইনা চমৎকার। {সূরা রা’দ:২৩-২৪}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ﴿১০৩﴾{ الأنبياء:১০৩}
মহাত্রাস তাদেরকে চিন্তান্বিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে। বলবে: আজ তোমাদের দিন, যে দিনের প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হয়েছিল। {সূরা আম্বিয়া:১০৩}

যারা কোনরূপ হিসাব ও শাস্তি ব্যতীতই জান্নাতে প্রবেশ করবে:
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال:قال النبي صلى الله عليه وسلم: عرضت على الأمم, فأجد النبي يمر معه الأمة, والنبي يمر معه النفر, والنبي يمر معه العشرة, والنبي يمر معه الخمسة, والنبي يمر وحده, فنظرت فإذا سواد كثير, قلت: يا جبريل, هؤلاء أمتي؟ قال: لا, ولكن انظر إلى الأفق, فنظرت فإذا سواد كثير, قال: هؤلاء أمتك,و هؤلاء سبعون ألفا قدامهم لا حساب عليهم و لا عذاب,قلت: ولم؟ قال:كانوا لا يكتون, ولا يسترقون,ولا يتطيرون, وعلى ربهم يتوكلون. متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: সকল উম্মতকে আমার সামনে পেশ করা হল, আমি একজন নবীকে (দেখতে) পেলাম তাঁর সাথে সাথে একটি দল চলছে। অন্য একজনকে দেখলাম তাঁর সাথে একটি ছোট দল। আরেকজনকে দেখলাম তাঁর সাথে দশজনের একটি দল। অন্য একজনকে দেখলাম তাঁর সাথে পাঁচ জনের একটি দল। একজনকে দেখলাম তাঁর সাথে কেউ নেই তিনি একাকী চলেছেন। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি বিপুল সংখ্যক লোকের একটি দল। আমি বললাম: জিবরীল! এরা কি আমার উম্মত? তিনি বললেন: না। তবে উপরে তাকিয়ে দেখুন। দেখলাম, তার চেয়ে বহু লোকের একটি বিশাল জামাত। জিবরীল বললেন: এরাই আপনার উম্মত। আর তাদের সামনে যে সত্তর হাজারের দলটি; তাদের কোন হিসাব হবে না এবং কোনরূপ শাস্তি ও না। আমি জানতে চাইলাম: কেন? এর কারণ কি? উত্তরে বললেন: তারা সেঁকের মাধ্যমে শরীর দগ্ধ করত না। ঝাঁড়-ফুকের দ্বারস্থ হতো না। তিয়ারা তথা পাখির মাধ্যমে শুভাশুভ নির্ধারণ করত না এবং একমাত্র স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহর উপরই ভরসা করত।[৫১]
وعن أبي أمامة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: وعدني ربي سبحانه أن يدخل الجنة من أمتي سبعون ألفا لا حساب عليهم, ولا عذاب, مع كل ألف سبعون ألفا, وثلاث حثيات من حثيات ربي عز وجل. أخرجه الترمذي و ابن ماجة.
আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আমার পালনকর্তা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোককে হিসাব ও আযাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এদের প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো সত্তর হাজার থাকবে। এবং আমার পালনকর্তার নিজ আঁজলার তিন আঁজলা।[৫২]

জান্নাতের ভূমি ও প্রাসাদের বিবরণ:
عن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم لما عرج به إلى السماء قال: (( … ثم انطلق حتى أتى بي السدرة المنتهى, فغشيها ألوان لا أدري ما هي, ثم أدخلت الجنة, فإذا فيها جنابد الؤلؤ, وإذا ترابها المسك)). متفق عليه
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন মি’রাজের সময় আকাশে উঠিয়ে নেয়া হল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: … অত:পর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন। এক পর্যায়ে আমাকে সিদরাতুল মুনতাহাতে নিয়ে আসা হল। আসামাত্র তাকে কিছু রং আচ্ছাদিত করে নিল। সেগুলো কি জিনিস সে সম্পর্কে মূলত: আমার জানা নেই। এর পর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল, জান্নাতে এসে আমি মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত অনেক গম্বুজ দেখতে পেলাম। আর জান্নাতের মাটিকে দেখলাম যে, সেটি মিশক।[৫৩]
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قلنا يا رسول الله …الجنة ما بناؤها؟ قال: لبنة من فضة, ولبنة من ذهب, وملاطها المسك الأذفر, وحصباؤها اللؤلؤ و الياقوت, وتربتها الزعفران, من دخلها ينعم ولا يبأس, ويخلد ولا يموت, لا تبلى ثيابهم ولا يفنى شبابهم. أخرجه الترمذي و الدارمي.
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ … জান্নাতের অট্টালিকা ও প্রাসাদ কেমন? রাসূলুল্লাহ বললেন: একটি ইট রূপার, অপরটি স্বর্ণের, সিমেন্ট ও প্লাষ্টার হচ্ছে মেশক, কঙ্কর হচ্ছে মণি-মুক্তা ও ইয়াকুত এবং মাটি হচ্ছে জাফরান। যে তাতে প্রবেশ করবে সুখী জীবন যাপন করবে কখনো দূর্দশাগ্রস্ত হবে না। চিরঞ্জীব ও শ্বাশত জীবন লাভ করবে কখনো মৃত্যু হবে না। তাদের পোশাক কখনো পুরাতন হবে না এবং যৌবন শেষ হবে না।[৫৪]
وعن أبي سعيد رضي الله عنه أن ابن صياد سأل النبي صلى الله عليه عن تربة الجنة؟ فقال: درمكة بيضاء, مسك خالص. أخرجه مسلم.
সাহাবী আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন: ইবনে সাইয়াদ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল: তিনি বললেন: অতি শুভ্র নিখুত মেশক।[৫৫]

জান্নাতবাসীদের তাঁবুর বিবরণ:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ ﴿৭২﴾ { الرحمن:৭২}
তাঁবুতে অবস্থানকারী হুরবৃন্দ। {সূরা আর রাহমান:৭২}
হাদীসে এসেছে
وعن عبد الله بن قيس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن للمؤمن في الجنة لخيمة من لؤلؤ واحدة مجوفة, طولها ستون ميلا, للمؤمن فيها أهلون,يطوف عليهم المؤمن, فلا يرى بعضهم بعضا. متفق عليه
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয় জান্নাতে মুমিনের জন্য খালী ও প্রশস্ত পেট বিশিষ্ট একটি মুক্তা দ্বারা নির্মিত তাঁবু হবে, তার দৈর্ঘ হবে ষাট মাইল। সেখানে মুমিনের পরিজনরা থাকবে, মুমিনরা তাদের কাছে আসা-যাওয়া করবে, তাদের একে অপরকে দেখবে না।[৫৬]

জান্নাতের মেলা ও বাজার:
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن في الجنة لسوقا يأتونها كل جمعة,فتهب ريح الشمال,فتحثو في وجوههم وثيابهم فيزدادون حسنا وجمالا,فيرجعون إلى أهليهم وقد ازدادوا حسنا وجمالا, فيقولون لهم أهلوهم: والله, لقد ازددتم بعدنا حسنا وجمالا, فيقولون: وأنتم والله, لقد ازددتم بعدنا حسنا وجمالا. أخرجه مسلم.
আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে, প্রত্যেক জুমুআর দিন জান্নাতবাসীরা তাতে সমবেত হবেন। তখন এক প্রকার উত্তরে বায়ূ প্রবাহিত হয়ে তাদের চেহারা ও পোশাকে ছড়িয়ে পড়বে। এতে তাদের রূপ-সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এরপর উক্ত সৌন্দর্য নিয়ে স্বীয় স্ত্রী ও পরিজনদের নিকট ফিরে গেলে তারা বলবে: আল্লাহর শপথ: তোমরা আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর তোমাদের রূপ-সৌন্দর্য অনেকগুণে বেড়ে গিয়েছে। তখন তারা বলবে: তোমাদের -আল্লাহর কসম- রূপ-সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। [৫৭]

জান্নাতের অট্টালিকা:
মহান আল্লাহ তাআলা জান্নাতাভ্যন্তরে চিত্তাকর্ষক ও দৃষ্টি নন্দন অনেক প্রাসাদ ও বালাখানা প্রস্তুত করে রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿৭২﴾ { التوبة:৭২}
আল্লাহ তাআলা ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের যার তলদেশে প্রবাহিত হবে প্রসবন। তারা সেগুলোর মাঝে থাকবে চিরকাল। আর এসব জান্নাতে থাকবে উত্তম-পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুত এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা। {সূরা তাওবা:৭২}

অট্টালিকার দিক থেকে জান্নাতবাসীদের মর্যাদাগত তারতম্য:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا { الإنسان: ২০}
তুমি যখন সেখানে দেখবে, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবে। {সূরা ইনসান:২০}
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن أهل الجنة ليتراءون أهل الغرف من فوقهم, كما تتراءون الكوكب الدري الغابر من الأفق من المشرق أو المغرب لتفاضل ما بينهم, قالوا يا رسول الله: تلك منازل الأنبياء لا يبلغها غيرهم قال: بلى, والذي نفسي بيده, رجال آمنوا بالله وصدقوا المرسلين. متفق عليه
সহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: নিশ্চয় জান্নাত বাসীরা তাদের উপরে কিছু বিশেষ কামরা বাসীদের দেখতে পাবে যেমন তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তে অস্তগামী উজ্জ্বল নক্ষত্রকে দেখতে পাও। এরূপ ব্যবধান তাদের মাঝে মর্যাদাগত তারতম্যের কারণে হবে। উপস্থিত সাহাবারা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলোতো নবীদের ঘর যাতে অন্যরা পৌছতে পারবে না। নবীজী বললেন: হ্যাঁ, কসম সে সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁরা হচ্ছেন সে সকল লোক যারা মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান এনেছে এবং নবী-রাসূলদের সত্যবলে স্বীকৃতি দিয়েছে।[৫৮]

জান্নাতবাসীদের ঘরের বিবরণ:
মহান আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের জন্য বিশেষ নির্মাণ শৈলীতে নির্মিত বিভিন্ন ধরণের ঘর তৈরী করে রেখেছেন। মর্যাদার উচ্চ শিখরে উন্নীত মুমিনবান্দাদের পুরস্কার স্বরূপ তা বরাদ্দ দেবেন। সে সব ঘর সম্বন্ধে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ ﴿৫৮﴾ { العنكبوت:৫৮}
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদে স্থান দেব। যার তলদেশে প্রস্রবনসমূহ প্রবাহিত।সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কতইনা উত্তম পুরস্কার সৎকর্মশীলদের।{ সূরা আল আনকাবূত: ৫৮}
لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَبْنِيَّةٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ ﴿২০﴾ { الزمر:২০}
কিন্তু যারা স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে চলে তাদের জন্য নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ, এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত।এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। {সূরা যুমার:২০}
وعن علي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:إن في الجنة غرفا ترى ظهورها من بطونها, و بطونها من ظهورها, فقام أعرابي فقال:لمن هي يا رسول الله ؟ قال: لمن أطاب الكلام, وأطعم الطعام,وأدام الصيام,وصلى بالليل والناس نيام. أخرجه أحمد و الترمذي.
আমীরুল মুমিনীন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই জান্নাতে এমনকিছু ঘর আছে যেগুলোর বাহির থেকে ভেতর এবং ভেতর থেকে বাহির দেখা যাবে। সেখানে উপস্থিত জনৈক বেদুঈন সাহাবী দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! ঐ ঘরগুলো কাদের জন্য নির্মিত? নবীজী বললেন: যারা ভাল ভাল কথা বলে, অপরকে অন্নদান করে, সব সময় রোযা রাখে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করে।[৫৯]

জান্নাত বাসীদের বিছানার বিবরণ:
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ ﴿৫৪﴾ { الرحمن:৫৪}
তারা সেখানে রেশমের আস্তর বিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।{সূরা আর রাহমান:৫৪}

গালিচা ও তাকিয়ার বিবরণ:
(১)মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ ﴿১৫﴾ وَزَرَابِيُّ مَبْثُوثَةٌ ﴿১৬﴾ { الغاشية:১৫-১৬}
এবং সারিসারি তাকিয়া। আর বিস্তৃত বিছানো মখমলের গালিচা।{সূরা গাশিয়া:১৫-১৬}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِيٍّ حِسَانٍ ﴿৭৬﴾ { الرحمن:৭৬}
তারা সবুজ মসনদে এবং মূল্যবান উৎকৃষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।{সূরা আর রাহমান:৭৬}
জান্নাতের সিংহাসন:
أرائك (আরাইক) অর্থ: তাকিয়া বিশিষ্ট সিংহাসন।
(১)মহান তাআলা বলেন:
إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ ﴿২২﴾ عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ ﴿২৩﴾ { المطففين:২২-২৩}
নিশ্চয় সৎ লোকগন থাকবে পরম আরামে। সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে। (সূরা তাতফীফ:২২-২৩)
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا ﴿১৩﴾ {الإنسان:১৩}
তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে তারা রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। {সূরা ইনসান:১৩}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ ﴿৫৫﴾ هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ ﴿৫৬﴾ { يس:৫৫-৫৬}
নিশ্চয় জান্নাতে অধিবাসীরা এদিন আনন্দে মশগুল থাকবে। তারা এবং তাদের সঙ্গীরা ছায়াময় পরিবেশে সিংহাসনে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট থাকবে। { সূরা ইয়াসীন:৫৫-৫৬}

জান্নাতবাসীদের খাট ও সিংহাসনের বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ ﴿৪৭﴾ { الحجر:৪৭}
তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ও বিদ্বেষ ছিল, আমি তা দূর করে দেব।তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে। {সূরা হিজর:৪৭}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
مُتَّكِئِينَ عَلَى سُرُرٍ مَصْفُوفَةٍ وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُورٍ عِينٍ ﴿২০﴾ { الطور:২০}
তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তনেত্র বিশিষ্ট হুরদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দেব। {সূরা আত তূর: ২০}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ ﴿১৫﴾ مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ ﴿১৬﴾ { الواقعة:১৫-১৬}
স্বর্ণ খচিত সিংহাসনে। তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:১৫-১৬}
(৪) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
فِيهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ ﴿১৩﴾ { الغاشية:১৩}
তথায় থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন। {সূরা গাশিয়া:১৩}

জান্নাতীদের বাসন-পত্রের বিবরণ:
(১)আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ ﴿১৭﴾ بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ ﴿১৮﴾ { الواقعة:১৭-১৮}
তাদের কাছে ঘুরাফেরা করবে চির কিশোররা। পান পাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:১৭-১৮}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ { الزخرف:৭১}
তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা সেথায় চিরকাল থাকবে। {সূরা যুখরুফ:৭১}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآَنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَ ﴿১৫﴾ قَوَارِيرَ مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا ﴿১৬﴾ {الإنسان:১৫-১৬}
তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে। রূপালী স্ফটিকের পাত্রে পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। {সূরা ইনসান:১৫-১৬}
(৪) হাদীসে এসেছে
وعن عبد الله بن قيس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: جنتان من فضة آنيتهما و ما فيهما, وجنتان من ذهب آنيتهما و ما فيهما, وما بين القوم و بين أن ينظروا إلى ربهم إلا رداء الكبرياء على وجهه في جنة عدن. متفق عليه
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দু’টি জান্নাত এমন যে, তাদের বাসন-পাত্র এবং উভয়ের মাঝে যাকিছু আছে সবই রূপার। আবার অন্য দু’টি জান্নাত আছে, যাদের বাসন- পাত্র এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে সবই স্বর্ণের। জান্নাতে আদন তথা চিরস্থায়ী জান্নাতে বসবাসকারী ও তাদের পালনকর্তাকে দেখার মাঝে পর্দা শুধুমাত্র কিবরিয়া বা বড়ত্বের চাদর যা তাঁর চেহারায় বিদ্যমান।[৬০]

জান্নাতবাসীদের অলঙ্কার ও পোশাকের বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ ﴿২৩﴾ { الحج:২৩}
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আল্লাহ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যার পাদদেশে প্রবাহিত নির্ঝরিণীসমূহ। তথায় তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণ-কংকন ও মুক্তা দ্বারা। এবং সেথায় তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। {সূরা আল হজ্জ:২৩}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا ﴿৩১﴾ { الكهف:৩১}
তাদের তথায় স্বর্ণ-কঙ্কনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ বস্ত্র পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সুসজ্জিত সিংহাসনে সমাসীন হবে হেলান দিয়ে। কতইনা চমৎকার প্রতিদান এবং কতইনা উত্তম আশ্রয়স্থল। (সূরা কাহফ:৩১}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا ﴿২১﴾ { الإنسان:২১}
তাদের পরিধানে থাকবে চিকন মিহি রেশমের সবুজ পোশাক এবং মোটা সবুজ রেশমের পোশাক আরা তারা রৌপ্য নির্মিত কংকন দ্বারা অলংকৃত হবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন -শরাবান তহুরা- পবিত্র বিশুদ্ধ পানীয়। {সূরা ইনসান:২১}
যাকে জান্নাতে সর্বপ্রথম পোশাক পরানো হবে
عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:(… وإن أول الخلائق يكسى يوم القيامة إبراهيم الخليل). أخرجه البخاري.
প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: … কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম যাকে পোশাক পরিধান করানো হবে তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম খলীল আলাইহিস সালাম।[৬১]

জান্নাত অধিবাসীদের পরিচারকবৃন্দের বিবরণ:
(১)মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ ﴿১৭﴾ بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ ﴿১৮﴾ {الواقعة:১৭-১৮ }
তাদের কাছে ঘুরাফেরা করবে চির কিশোররা। পানপাত্র কুঁজা ও খাটি সুরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:১৭-১৮}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَنْثُورًا ﴿১৯﴾ { الإنسان:১৯}
তাদের কাছে ঘুরাফেরা করবে চির কিশোরবৃন্দ। তুমি তাদেরকে দেখে মনে করবে যেন বিক্ষিপ্ত মণি- মুক্তা। {সূরা ইনসান:১৯}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَكْنُونٌ ﴿২৪﴾ {الطور:২৪}
সুরক্ষিত মোতি সদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরা ফেরা করবে। {সূরা তূর:২৪}
জান্নাতবাসীদের সর্বপ্রথম খাবার:
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن عبد الله بن سلام رضي الله عنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم ما أول طعام يأكله أهل الجنة؟ فقال: زيادة كبد حوت. أخرجه البخاري.
সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন: আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানতে চাইলেন: জান্নাত বাসীরা সর্ব প্রথম যে খাবার খাবে সেটি কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। [৬২]
وعن ثوبان رضي الله عنه قال: كنت قائما عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء حبر من أحبار اليهود… ــ وفيه ــ : فقال اليهودي: فمن أول الناس إجازة؟ قال: فقراء المهاجرين. قال اليهودي: فما تحفتهم حين يدخلون الجنة؟ قال: زيادة كبد النون. فقال فما غذاؤهم على إثرها؟ قال: ينحر لهم ثور الجنة الذي كان يأكل من أطرافها, قال: فما شرابهم عليه قال: من عين فيها تسمى سلسبيلا. أخرجه مسلم .
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দাড়ানো ছিলাম, এরই মাঝে জনৈক ইয়াহুদী পন্ডিত তার নিকট আসল… – তাতে আছে- এরপর ইয়াহুদী জানতে চাইল: জান্নাতে প্রবেশের সর্বপ্রথম অনুমতি প্রাপ্ত লোক কারা? রাসূলুল্লাহ বললেন: দরিদ্র মুহাজিরবৃন্দ। ইয়াহুদী জিজ্ঞেস করল: জান্নাতে প্রবেশের পর তাদের তোহফা কি? নবীজী বললেন: মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। সে বলল: এরপর তাদের খাবার কি হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন: তাদের জন্য জান্নাতের ষাঢ় জবাই করা হবে যে ষাঢ় জান্নাতের পার্শ্বদেশে চরে বেড়াত। ইয়াহুদী জিজ্ঞেস করল: খাবারের পর তাদের পানীয় কি হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন: জান্নাতে অবস্থিত “সালসাবীল” নামক ঝর্ণা থেকে।[৬৩]

জান্নাতবাসীদের খাদ্য-খাবারের বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ ﴿৭০﴾ يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿৭১﴾{ الزخرف:৭০-৭১}
জান্নাতে প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগন সানন্দে। তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র। আর তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা সেথায় চিরকাল থাকবে।{সূরা যুখরুফ:৭০-৭১}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا ﴿৩৫﴾ { الرعد:৩৫}
মুত্তাকীনদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এইযে, তার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়, তার ফল-ফলাদি চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। { সূরা রা’দ:৩৫}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ ﴿২০﴾ وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ ﴿২১﴾{ الواقعة:২০-২১}
এবং তাদের পছন্দমত ফল-মূল নিয়ে। রুচিমত পাখির গোশত নিয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:২০-২১}
(৪) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ ﴿২৪﴾{ الحاقة:২৪}
বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর পরিতৃপ্তি সহকারে। {সূরা আল হাক্কাহ:২৪}
(৫) হাদীসে এসেছে
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: تكون الأرض يوم القيامة خبزة واحدة, يتكفؤها الجبار بيده, كما يكفؤ أحدكم خبزته في السفر نزلا لأهل الجنة.ـ و فيه ـ فأتى رجل من اليهود… فقال: ألا أخبرك بإدامهم؟ قال: إدامهم بالام و نون, قالوا: وما هذا؟ قال: ثور و نون يأكل من زائدة كبدهما سبعون ألفا. متفق عليه
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কিয়ামতের দিন পৃথিবী একটি রুটিতে পরিণত হবে। মহা প্রতাপন্বিত আল্লাহ জান্নাত বাসীদের মেহমানদারীর নিমিত্তে নিজ হাতে তাকে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে উপযোগী করবেন। যেমন তোমাদের কেউ সফরে স্বীয় রুটিকে হাতে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে উপযোগী করে। – আর তাতে আছে – অত:পর জনৈক ইয়াহুদী এসে বলল: আমি কি তোমাকে তাদের তরকারী সম্বন্ধে বলব না? তাদের তরকারী হচ্ছে বালাম ও নূন। লোকেরা জিজ্ঞেস করল: সেটি কি? বলল: ষাঁঢ় ও মাছ, যাদের কলিজার অতিরিক্ত অংশ থেকে খাবে সত্তর হাজার লোক।[৬৪]
(৬) হাদীসে আরো এসেছে
وعن جابر رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: إن أهل الجنة يأكلون فيها, ويشربون, ولا يتفلون, ولا يبولون, ولا يتغوطون, ولايمتخطون, قالوا: فما بال الطعام؟ قال: جشاء و رشح كرشح المسك يلهمون التسبيح و التحميد كما يلهمون النفس. أخرجه مسلم.
বিশিষ্ট সাহাবী জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ বলেন: নিশ্চয় জান্নাত বাসীরা (জান্নাতে) খাবে ও পান করবে। তবে তারা থুথু ফেলবে না, প্রস্রাব ও পায়খানা করবে না এবং নাকের শ্লেষ্মা ফেলবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল? তাহলে খানা খাদ্য যা খাবে তার কি হবে? বললেন: ঢেকুর ও মেশক ফোটার ন্যায় ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস বের হওয়ার ন্যায় তাদের ভেতর হতে (স্বত:স্ফুর্ত ভাবে) সুবহানাল্লাহ ও আল্‌ হামদুলিল্লাহ বের হতে থাকবে।[৬৫]
(৭) হাদীসে আরো এসেছে
وعن عتبة بن عبد السلمي رضي الله عنه قال: كنت جالسا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء أعرابي فقال: يا رسول الله أسمعك تذكر شجرة في الجنة لا أعلم في الدنيا أكثر شوكا منها ـ يعني الطلح ـ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:فإن الله يجعل مكان كل شوكة مثل خصية التيس الملبود ـ يعني المخصي ـ فيها سبعون لونا من الطعام لا يشبه لونه لون الآخر. أخرجه الطبراني في الكبير و في مسند الشاميين
উতবা বিন আব্দুস ছুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। এর মাঝে একজন বেদুঈন সাহাবী এসে জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে জান্নাতের একটি গাছ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি, আমি পৃথিবীতে এরচেয়ে অধিক কাঁটা বিশিষ্ট গাছ আছে বলে জানিনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক কাঁটার স্থলে খাসী কৃত ছাগলের লেপ্টানো অন্ডকোষ সদৃশ করে দেব। তাতে সত্তর রং এর খাবার থাকবে এক রং অন্য রং এর সাথে মেশবে না।[৬৬]

জান্নাতবাসীদের পানীয় এর বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا ﴿৫﴾( الإنسان:৫)
নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফূর মিশ্রিত পানপাত্র। (সূরা ইনসান:৫)
(২) আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا ﴿১৭﴾ ( الإنسان:১৭)
সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে “যানজাবীল” মিশ্রিত পানপাত্র। (সূরা ইনসান:১৭)
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
يُسْقَوْنَ مِنْ رَحِيقٍ مَخْتُومٍ ﴿২৫﴾ خِتَامُهُ مِسْكٌ وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ ﴿২৬﴾ وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ ﴿২৭﴾ عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ ﴿২৮﴾ { الإنسان:২৫-২৮}
তাদেরকে পান করানো হবে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয়। তার মোহর হবে কস্তরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত। তার মিশ্রণ হবে তাসনীমের পানি। এটি একটি ঝর্ণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগন।{সূরা তাতফীফ:২৫-২৮}
(৪) হাদীসে এসেছে
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : الكوثر نهر في الجنة, حافتاه من ذهب,و مجراه على الدر و الياقوت,تربته أطيب من المسك, و ماؤه أحلى من العسل, و أبيض من الثلج. أخرجه الترمذي وابن ماجة.
প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: “কাউসার” জান্নাতের একটি নহর। তার দুই তীর স্বর্ণদ্বারা নির্মিত। তার গতিপথ ও প্রবাহ হচ্ছে মূল্যবান মণিমুক্তা ও ইয়াকূতের উপর দিয়ে। এর মাঠি মেশক অপেক্ষা উত্তম, পানি মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক সাদা।[৬৭]

জান্নাতের বৃক্ষরাজি ও ফল-ফলাদির বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا ﴿১৪﴾ { الإنسان:১৪}
তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আওতাধীন রাখা হবে। {সূরা ইনসান:১৪}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ ﴿৪১﴾ وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ ﴿৪২﴾ { المرسلات:৪১-৪২}
নিশ্চয় আল্লাহভীরুরা থাকবে বৃক্ষ ছায়া ও প্রস্রবণসমূহে এবং তাদের বাঞ্ছিত ফল-মূলের মধ্যে। {সূরা আল মুরসালাত:৪১-৪২}
(৩)আল্লাহ তাআরা অন্যত্র বলছেন:
مُتَّكِئِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ ﴿৫১﴾ {ص:৫১}
সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়। {সূরা স্বদ:৫১}
(৪)অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ { محمد:১৫}
তথায় তাদের জন্য রয়েছে রকমারী ফল-মূল। {সূরা মুহাম্মাদ:১৫}
(৫) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ﴿৩১﴾ حَدَائِقَ وَأَعْنَابًا ﴿৩২﴾ { النبا:৩১-৩২}
আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে সাফল্য। উদ্যান ও আঙ্গুর। {সূরা নাবা:৩১-৩২}
(৬) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
فِيهِمَا مِنْ كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ ﴿৫২﴾ {الرحمن :৫২}
উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল বিভিন্ন রকমের হবে। {সূরা আর রহমান:৫২}
فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ ﴿৬৮﴾ {الرحمن :৬৮}
সেখানে আছে ফল-মূল, খেজুর ও আনার। { সূরা আর রহমান:৬৮}
(৭) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آَمِنِينَ ﴿৫৫﴾ { الدخان:৫৫}
তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফল-মূল আনতে বলবে। { সূরা দোখান:৫৫}
(৮)আরো ইরশাদ হচ্ছে:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ ﴿২৭﴾ فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ ﴿২৮﴾ وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ﴿২৯﴾ وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ﴿৩০﴾ وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ﴿৩১﴾ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ ﴿৩২﴾ لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ ﴿৩৩﴾ { الواقعة:২৭-৩৩}
যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কতইনা ভাগ্যবান। তারা থাকবে কাঁটা বিহীন বদরিকা বৃক্ষে। এবং কাঁদি কাঁদি কলায়। দীর্ঘ ছায়ায় এবং প্রবাহিত পানিতে ও প্রচুর ফল-মূলে। যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধও নয়। (সূরা ওয়াকিয়া:২৭-৩৩)
(৯) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ﴿২২﴾ قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ ﴿২৩﴾ كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ ﴿২৪﴾ { الحاقة: ২২-২৪}
সুউচ্চ জান্নাতে, তার ফল-মূলসমূহ অবনমিত থাকবে। বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে। {সূরা আল হাক্কাহ:২২-২৪}
(১০) হাদীসে এসেছে
وعن مالك بن صعصعة رضي الله عنهما في قصة المعراج ـ وفيه ـ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ورفعت لي سدرة المنتهى فإذا نبقها كأنه قلال هجر,وورقها كأنه آذان الفيول, في أصلها أربعة أنهار: نهران باطنان, ونهران ظاهران, فسألت جبريل, فقال: أما الباطنان ففي الجنة, وأما الظاهران النيل و الفرات. متفق عليه
সাহাবী মালেক বিন সা’সা’আহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মে’রাজের ঘটনা সম্বলিত হাদীসে বর্ণিত, – তাতে আছে – নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমারা সামনে সিদরাতুল মুন্তাহাকে তুলে ধরা হল, দেখলাম তার ফলগুলো যেন হাজারের বিশাল বিশাল মটকা। এবং তার পাতাগুলো যেন হাতির কান। তার গোড়া থেকে চারটি নদী প্রবাহমান। দু’টো অপ্রকাশ্য অপর দু’টো প্রকাশ্য। আমি জিবরীলকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: অপ্রকাশ্য নদীদ্বয় জান্নাতে আর প্রকাশ্য দু’টো হচ্ছে: নীল ও ফোরাত[৬৮]
(১১) হাদীসে আরো এসেছে
وعن أبي سعيد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن في الجنة لشجرة يسير الراكب الجواد أو المضمر السريع مائة عام ما يقطعها. متفق عليه.
আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন একটি বিশাল বৃক্ষ আছে একজন দক্ষ সওয়ারী খুব দ্রুতগামী অশ্ব বা ঘোড়দৌড়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দ্রুতগামী অশ্বকে একশত বছর পর্যন্ত ছুটালেও ঐ বৃক্ষকে অতিক্রম করতে পারবে না।[৬৯]
(১২) হাদীসে আরো এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ما في الجنة شجرة إلا وساقها من ذهب. أخرجه الترمذي
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: জান্নাতে অবস্থিত প্রত্যেক বৃক্ষের কান্ডই হবে স্বর্ণের।[৭০]

জান্নাতের নহরসমূহের বিবরণ:
(১)মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
إِنَّ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْكَبِيرُ ﴿১১﴾ { البروج:১১}
অর্থাৎ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহা সাফল্য। {সূরা বুরূজ:১১}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آَسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِنْ لَبَنٍ لَمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ ﴿১৫﴾ { محمد:১৫}
আল্লাহ ভীরু মুত্তাকীদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার অবস্থা নিম্নরূপ, তাতে আছে নির্মল পানির নহর, দুধের নহর যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। আরো আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। {সূরা মুহাম্মাদ:১৫}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ ﴿৫৪﴾ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ ﴿৫৫﴾ { القمر:৫৪-৫৫}
আল্লাহভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে। যোগ্য আসনে সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে। {সূরা কামার:৫৪-৫৫}
(৪) হাদীসে এসেছে
وعن أنس بي مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : بينما أنا أسير في الجنة إذا أنا بنهر حافتاه قباب الدر المجوف, قلت ما هذا يا جبريل؟ قال : هذا الكوثر الذي أعطاك ربك, فإذا طيبه أو طينه مسك أذفر. أخرجه البخاري.
সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আমি জান্নাতে বিচরণ করছিলাম, হঠাৎ নিজেকে একটি নহরের কাছে আবিষ্কার করলাম। ঐ নহরের দুই তীর মধ্যখান ফাঁকা বিশিষ্ট মণি-মুক্তা বিশেষের গম্বুজ। আমি বললাম: জিবরীল! এইটি কি? বললেন: এইটি কাউসার, যা আপনার প্রতিপালক আপনাকে দান করেছেন। দেখলাম, এর সৌরভ বা মাটি মেশক সদৃশ।[৭১]
(৫) হাদীসে আরো এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سيحان و جيحان والفرات والنيل كل من أنهار الجنة. أخرجه مسلم.
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সাইহান, জাইহান, ফোরাত ও নীল প্রত্যেকটিই জান্নাতের নহর।[৭২]

জান্নাতের ঝর্ণার বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ﴿৪৫﴾
নিশ্চয় আল্লাহ ভীরু – মুত্তাকীরা থাকবে বাগান ও নির্ঝরিণী সমূহে। {সূরা হিজর:৪৫}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا ﴿৫﴾ عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا ﴿৬﴾ {الإنسان:৫-৬}
নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানপাত্র। এটি একটি ঝরণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগন পান করবে-তারা একে প্রবাহিত করবে। {সূরা ইনসান:৫-৬}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ ﴿২৭﴾ عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ ﴿২৮﴾ { المطففين:২৭-২৮}
তার মিশ্রণ হবে তাসনীমের পানি। এটি একটি ঝরণা যার পানি পান করবে নৈকট্যশীল গন। {সূরা আল মুতাফফি ফীন:২৭-২৮}
(৪) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ ﴿৫০﴾ / فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ ﴿৬৬﴾ { الرحمن:৫০/৬৬}
উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবণ। / তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ। {সূরা আর রাহমান:৫০/৬৬}
(৫) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا ﴿১৭﴾ عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا ﴿১৮﴾ { الإنسان:১৭-১৮}
তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে ” যনজাবীল” মিশ্রিত পান পাত্র। এটি জান্নাতস্থিত “সালসাবীল” নামক একটি ঝরণা। {সূরা ইনসান:১৭-১৮}

জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ ﴿১৫﴾ { آل عمران:১৫}
যারা তাকওয়া অবলম্বনকারী, আল্লাহর নিকট তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিগন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন। { সূরা আলে ইমরান:১৫}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً ﴿৩৫﴾ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا ﴿৩৬﴾ عُرُبًا أَتْرَابًا ﴿৩৭﴾ لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ ﴿৩৮﴾ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ﴿৩৯﴾ وَثُلَّةٌ مِنَ الْآَخِرِينَ ﴿৪০﴾ { الواقعة:৩৫-৪০}
আমি জান্নাতি রমণীগনকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অত:পর তাদেরকে করেছি চির কুমারী। কামিনী, সমবয়স্কা। ডানদিকের লোকদের জন্য। তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে। এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য হতে। {সূরা ওয়াকিয়া:৩৫-৪০}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ ﴿৪৮﴾ كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ ﴿৪৯﴾ { الصافات:৪৮-৪৯}
তাদের সঙ্গে থাকবে আনত নয়না, আয়তলোচনা তরুণীকূল। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। {সূরা সাফফাত:৪৮-৪৯}
(৪) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
وَحُورٌ عِينٌ ﴿২২﴾ كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ ﴿২৩﴾ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿২৪﴾ { الواقعة:২২-২৪}
আর সেখানে থাকবে আনত নয়না হুরগন, আবরণে রক্ষিত মুক্তা সদৃশ। তাদের কৃত আমলের পুরস্কার স্বরূপ। {সূরা ওয়াকিয়া:২২-২৪}
(৫) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ ﴿৫৬﴾ فَبِأَيِّ آَلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ﴿৫৭﴾ كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ ﴿৫৮﴾ { الرحمن: ৫৬-৫৮}
সে সকলের মাঝে থাকবে বহু আয়তনয়না রমণীকূল। যাদেরকে পূর্বে কোন মানুষ ও জিন স্পর্শ করেনি। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন অনুগ্রহ-অবদানকে অস্বীকার করবে? তারা যেন পদ্মরাগ ও প্রবাল।{সূরা আর রহমান:৫৬-৫৮}
(৬) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ ﴿৭০﴾ فَبِأَيِّ آَلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ﴿৭১﴾ حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ ﴿৭২﴾ { الرحمن:৭০-৭২}
সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা-সুশীলা, সুন্দরী রমণীকুল। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ – অবদান অস্বীকার করবে? তার তাঁবুতে অবস্থান কারিনী-সুরক্ষিতা হুর। {সূরা আর রহমান:৭০-৭২}
(৭) হাদীসে এসেছে
وعن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:لروحة في سبيل الله أو غدوة خير من الدنيا و ما فيها, ولقاب قوس أحدكم من الجنة أو موضع قيد ـ يعني سوطه ـ خير من الدنيا و ما فيها, ولو أن امرأة من أهل الجنة اطلعت إلى أهل الأرض لأضاءت ما بينهما, ولملأته ريحا, ولنصيفها على رأسها خير من الدنيا و ما فيها. متفق عليه
সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: এক সন্ধ্যা অথবা এক বিকাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা পৃথিবী ও পৃথিবীস্থিত সকলকিছু অপেক্ষা উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো ধনুকের দূরত্ব সমান জায়গা অথবা ছড়ি রাখার স্থান পরিমাণ জায়গা পৃথিবী ও পৃথিবীস্থিত সকল কিছু অপেক্ষা উত্তম। জান্নাতের কোন নারী যদি জগতবাসীর দিকে একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করত তাহলে এতদ্ভোয়ের {জান্নাত ও পৃথিবী} মধ্যবর্তীস্থান আলোয় ও সুগন্ধিতে ভরে দিত। আর জান্নাতবাসী রমণীর মাথার উড়নাটুকু পৃথিবী ও পৃথিবীস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম।[৭৩]
(৮) হাদীসে আরো এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:إن أول زمرة تدخل الجنة على صورة القمر ليلة البدر, والتي تليها على أضوأ كوكب دري في السماء, لكل امرئ منهم زوجتان اثنتان, يرى مخ سوقهما من وراء اللحم وما في الجنة أعزب. متفق عليه
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমা রাতের আলোকোদ্ভাসিত চাঁদের আকৃতি নিয়ে প্রবেশ করবে। এর পরেই যারা প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশস্থ আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিক আলোকময়। তাদের প্রত্যেকের জন্য দু’জন করে স্ত্রী থাকবে যাদের পায়ের গোছার মগজ গোশত ভেদ করে দেখা যাবে। জান্নাতে কোন অবিবাহিত থাকবে না।[৭৪]

জান্নাতের সৌরভ ও সুঘ্রাণ:
জান্নাতে বিভিন্ন রকমের মনমুগ্ধকর আতর (সুগন্ধিদ্রব্য) ও সৌরভ আছে। জান্নাতীদের মর্যদাগত তারতম্যের কারণে সে সৌরভ ও দ্রব্যাদিতেও তারতম্য রয়েছে।
(১) হাদীসে এসেছে
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن أول زمرة يدخلون الجنة على صورة القمر ليلة البدر, ثم الذين يلونهم على أشد كوكب دري في السماء إضاءة, لا يبولون, ولا يتغوطون, ولا يتفلون, ولا يمتخطون, أمشاطهم الذهب,ورشحهم المسك, ومجامرهم الألوة,وأزواجهم الحور العين, على خلق رجل واحد, على صورة أبيهم آدم ستون ذراعا في السماء. متفق عليه
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সর্ব প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের আকৃতি হবে পূর্ণিমা রাতের আলোকোজ্জ্বল চাঁদ সদৃশ। তাদের পরপরই যারা প্রবেশ করবে তাদের অবস্থা হবে আকাশস্থ আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিকতর আলোকময়। তারা সেথায় মল-মূত্র ত্যাগ করবে না। থুথু-নাকের শ্লেষা ফেলবে না।(চুল বিন্যস্ত করার) চিরুনী হবে স্বর্ণের। শরীর নির্গত ঘাম হবে মেশক সদৃশ। শরীর নি:সৃত ঘ্রাণ হবে উলুওয়াহ তথা সুতীব্র ঘ্রাণ বিশিষ্ট কাঠ বিশেষ। স্ত্রী হবে কালো ও শুভ্র বর্ণের-ডাগর নয়না হুরবৃন্দ। এক ব্যক্তির আকৃতিতে- তাদের পিতা আদমের আকৃতিতে- আকাশপানে ষাট গজ।[৭৫]
(অর্থাৎ তারা আদম আলাইহিস সালামের মত ষাট গজ বিশিষ্ট লম্বাকৃতির হবে)
(২) হাদীসে আরো এসেছে
وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من قتل معاهدا لم يرح رائحة الجنة, وإن ريحها يوجد من مسيرة أربعين عاما. أخرجه البخاري.
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সন্ধিভুক্ত অমুসলিম লোককে হত্যা করবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না, অথচ তার সুঘ্রাণ চল্লিশ বছর সফরের দূরত্ব হতেও অনুভব করা যায়।[৭৬]
(৩) হাদীসে আরো এসেছে
وفي لفظ : وإن ريحها ليوجد من مسيرة سبعين خريفا. أخرجه الترمذي و ابن ماجة.
অন্য রেওয়ায়াতে আছে: অথচ জান্নাতের সুরভী সত্তর বছর সফরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।[৭৭]

জান্নাতঅধিবাসীদের স্ত্রীদের গীত-সঙ্গীত:
عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن أزواج أهل الجنة ليغنين أزواجهن بأحسن أصوات سمعها أحد قط,إن مما يغنين به: نحن خير الحسان,أزواج قوم كرام, ينظرن بقرة أعيان.
وإن مما يغنين به: نحن الخالدات فلا يمتنه, نحن الآمنات فلا يخفنه, نحن المقيمات فلا يظعنه. أخرجه الطبراني في الأوسط.
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাতীদের জন্য তাদের স্ত্রীরা এত সুন্দর আওয়াজে সঙ্গীত পরিবেশন করবে যা ইতিপূর্বে আর কেউ শুনেনি।
তাদের সঙ্গীতের মধ্যে যেমন: আমরা সচ্চরিত্রা-সুশীলা, সুন্দরী রমণীকুল, মহানুভব-সম্মানিত লোকদের স্ত্রী, যারা (তাদের প্রতি) তাকিয়ে থাকবে নয়নের প্রশান্তি নিয়ে।
তাদের সঙ্গীতের আরো কিছু নমূনা:
আমরা অমর যারা কখনো মরবে না, আমরা চির নিরাপদ যারা শঙ্কিত হয় না, আমরা অবস্থান কারিনী যারা সফর করবে না।[৭৮]

জান্নাতীদের যৌন-মিলন:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ ﴿৫৫﴾ هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ ﴿৫৬﴾ {يس:৫৫-৫৬}
এ দিন জান্নাতবাসীরা আনন্দে মশগুল থাকবে। তারা এবং তাদের সঙ্গিগণ উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে। {সূরা ইয়াসীন:৫৫-৫৬}
(২) হাদীসে এসেছে
عن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن الرجل من أهل الجنة ليعطى قوة مائة رجل في الأكل و الشرب و الشهوة و الجماع, فقال رجل من اليهود : فإن الذي يأكل و يشرب تكون له الحاجة, فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: حاجة أحدهم عرق يفيض من جلده, فإذا بطنه ضمر. أخرجه الطبراني و الدارمي.
সাহাবী যায়দ বিন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাতী প্রতিটি ব্যক্তিকে পানাহার, প্রবৃত্তিগত চাহিদা ও যৌন মিলনে একশত পুরুষের শক্তি প্রদান করা হবে। এটি শুনে জনৈক ইয়াহুদী প্রশ্ন করল: যে ব্যক্তি পানাহার করে তার প্রাকৃতিক কর্ম-প্রস্রাব পায়খানা-সম্পাদনের প্রয়োজন হয়। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাদের এ প্রয়োজনের পরিবর্তে শরীর থেকে ঘাম বের হবে আর এরই কারণে পেট খালী হয়ে যাবে।[৭৯]
(৩) হাদীসে আরো এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قيل يا رسول الله : هل نصل إلى نسائنا في الجنة؟ فقال: إن الرجل ليصل في اليوم إلى مائة عذراء. أخرجه الطبراني في الأوسط و أبو نعيم في صفة الجنة.
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল: ইয়া রাসূলাল্লাহ: আমরা কি জান্নাতে আমাদের স্ত্রীদের কাছে পৌঁছাতে পারব? উত্তরে রাসূলুল্লাহ বললেন: একজন ব্যক্তি একদিনে একশত কুমারীর কাছে যাবে (অর্থাৎ মিলিত হবে)।[৮০]

জান্নাতে সন্তান লাভ:
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: المؤمن إذا اشتهى الولد في الجنة كان حمله و وضعه و سنه في ساعة كما يشتهي. أخرجه أحمد و الترمذي.
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: মুমিন যখন জান্নাতে সন্তান কামনা করবে, তখনই সামান্য সময়ের মধ্যে তার চাহিদামতে তার গর্ভ, প্রসব ও বয়স্ক হয়ে যাওয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।[৮১]

জান্নাতবাসীদের নিয়ামতের চলমানতা:
জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের পর ফেরেশ্‌তারা এসে তাদের সাথে সাক্ষাত করে এ সুসংবাদ প্রদান করবে যে, তোমরা এখানে চিরস্থায়ী ভাবে থাকবে এবং এমন নিয়ামতের সুসংবাদ শুনাবে যা তারা ইতিপূর্বে আর শুনেনি।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوْا وَعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ ﴿৩৫﴾ {الرعد:৩৫}
মুত্তাকীদিগকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তার উপমা এরূপ: এর পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তার ফলসমূহ ও ছায়া চিরস্থায়ী। যারা মুত্তাকী এটি তাদের কর্মফল আর কাফেরদের কর্মফল অগ্নি। {সূরা রা’দ:৩৫}
(২) হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ينادي مناد: إن لكم أن تصحوا فلا تسقموا أبدا, وإن لكم أن تحيوا فلا تموتوا أبدا, وإن لكم أن تشبوا فلا تهرموا أبدا, وإن لكم أن تنعموا فلا تبأسوا أبدا. فذلك قوله عز وجل:{ وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} أخرجه مسلم.
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাতীগন জান্নাতে প্রবেশ করার পর এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, তোমাদের জন্য এ সিদ্ধান্ত স্থির করা হয়েছে যে, তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে কখনো অসুস্থ হবে না, সর্বদা জীবিত থাকবে কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সর্বদা যুবক থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না। সর্বদা সচ্ছন্দ ও সুখে থাকবে কখনো অনটনক্লিষ্ট ও দূ:খিত হবে না। তাইতো মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ” এবং তাদের সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যা করতে তারই জন্য তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে”।[৮২]
(৩) হাদীসে এসেছে
وعن جابر رضي الله عنه قال: قيل يا رسول الله: هل ينام أهل الجنة؟ قال :لا, النوم أخو الموت. أخرجه البزار
সাহাবী জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাতবাসীরা কি নিদ্রা যাবে? নবীজী উত্তরে বললেন: না, নিদ্রা মৃত্যু সদৃশ।[৮৩]

জান্নাতবাসীদের স্তর বিন্যাস:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
انْظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَلَلْآَخِرَةُ أَكْبَرُ دَرَجَاتٍ وَأَكْبَرُ تَفْضِيلًا ﴿২১﴾ { الإسراء:২১}
লক্ষ্য কর, আমি কি ভাবে তাদের এক দলকে অপর দলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, আখিরাততো নিশ্চয়ই মর্যাদায় মহত্তর ও গুণে শ্রেষ্ঠতর। {সূরা ইসরা: ২১}
(২) আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا ﴿৭৫﴾ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى ﴿৭৬﴾ { طه:৭৫-৭৬}
এবং যারা তাঁর নিকট উপস্থিত হবে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা- স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং এ পুরস্কার তাদেরই যারা পবিত্র। {সূরা ত্ব-হা : ৭৫-৭৬}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ﴿১০﴾ أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ ﴿১১﴾ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿১২﴾ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ﴿১৩﴾ وَقَلِيلٌ مِنَ الْآَخِرِينَ ﴿১৪﴾ { الواقعة : ১০ر১৪}
আর অগ্রবর্তিগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত- নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে, বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্যহতে। এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। { ওয়াকিয়া:১০-১৪}
(৪) হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: من آمن بالله وبرسوله, وأقام الصلاة, وصام رمضان, كان حقا على الله, أن يدخله الجنة, جاهد في سبيل الله, أو جلس في أرضه التي ولد فيها, فقالوا يا رسول الله : أفلا نبشر الناس؟ قال: إن في الجنة مائة درجة أعدها الله للمجاهدين في سبيل الله, ما بين الدرجتين كما بين السماء و الأرض فإذا سألتم الله فاسألوه الفردوس فإنه أوسط الجنة, و أعلى الجنة, أراه قال: و فوقه عرش الرحمن, ومنه تفجر أنهار الجنة. أخرج البخاري.
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল, আরো ঈমান আনল তাঁর রাসূলের প্রতি, সালাত কায়েম করল, রমযানের সিয়াম পালন করল, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করুক বা নিজ জন্মভূমিতে বসে থাকুক। লোকেরা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা লোকদের সুসংবাদ দেব না? নবীজী বললেন: জান্নাতে একশত স্তর রয়েছে, আল্লাহ তাআলা সেগুলো তাঁর রাস্তায় জিহাদকারী মুজাহিদদের জন্য তৈরি করেছেন। দুই স্তরের মাঝে দূরত্ব হচ্ছে আকাশ ও যমীনের মাঝের দূরত্বের সমান। তোমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে, ফেরদাউস প্রার্থন করবে। কেননা সেটি জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে- সর্বোচ্চ মানের জান্নাত। বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন: তার উপর রয়েছে মহামহীম আল্লাহর আরশ।এেবং তার থেকেই জান্নাতের নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হবে।[৮৪]
আমলের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও মুমিনদের সন্তান-সন্ততিদের তাদের স্তরে উঠিয়ে দেয়া:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِنْ عَمَلِهِمْ مِنْ شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ ﴿২১﴾ { الطور:২১}
এবং যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্র হ্রাস করবনা, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী। ( সূরা তুর:২১)

জান্নাতের ছায়ানীড়ের বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا ﴿৫৭﴾ { النساء:৫৭}
যারা ঈমান আনে ও নেক কাজ করে তাদেরকে দাখিল করব জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গি থাকবে এবং তাদেরকে চির স্নিগ্ধ ছায়ায় দাখিল করব। {সূরা নিসা :৫৭}
(২) মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ ﴿২৭﴾ فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ ﴿২৮﴾ وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ﴿২৯﴾ وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ﴿৩০﴾ { الواقعة: ২৭ــ৩০}
আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কূলবৃক্ষ, কাঁদি ভরা কদলী বৃক্ষ, সম্প্রসারিত ছায়া।{সূরা ওয়াকিয়া:২৭-৩০}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا ﴿১৩﴾ وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا ﴿১৪﴾ { الإنسان:১৩ــ১৪}
সেখানে তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে, তারা সেখানে অতিশয় গরম অথবা অতিশয় শীত বোধ করবে না। সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। { সূরা ইনসান:১৩-১৪}
(৪) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوْا وَعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ ﴿৩৫﴾ { الرعد: ৩৫}
মুত্তাকীগণকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার উপমা এরূপ: তার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তার ফলসমূহ ও ছায়া চিরস্থায়ী। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এটি তাদের কর্মফল এবং কাফেরদের কর্মফল অগ্নি। {সূরা রা’দ:৩৫}

জান্নাতের উচ্চতা ও প্রশস্ততা:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করা:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ ﴿৮﴾ لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ ﴿৯﴾ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ﴿১০﴾ لَا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً ﴿১১﴾
{ الغاشية: ৮ ـ ১১}
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে আনন্দোজ্জ্বোল, নিজেদের কর্ম-সাফল্যে পরিতৃপ্ত, সুমহান জান্নাতে- সেখানে তারা অসার বাক্য শুনবে না। { সূরা গাশিয়া:৮ – ১১}
(২) আরও ইরশাদ হয়েছে:
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ ﴿১৩৩﴾ { آل عمران:১৩৩}
তোমরা ধাবমান হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য।
{সূরা আলে ইমরান:১৩৩}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آَمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿২১﴾ { الحديد : ২১}
তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে যা প্রশস্ততায় আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায়, যা প্রস্তুত করা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনে। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন; আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। {সূরা আল হাদীদ:২১}

জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান:
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول, ثم صلوا علي, فإنه من صلى علي صلاة صلى الله عليه بها عشرا, ثم سلوا الله لي الوسيلة, فإنها منزلة في الجنة لا تنبغي إلا لعبد من عباد الله, و أرجو أن أكون أنا هو, فمن سأل لي الوسيلة حلت له الشفاعة. أخرجه مسلم.
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছেন: মুয়াযযিনের আযান শুনলে সে যা বলে তোমরা তার অনুরূপ বলবে, অত:পর আমার উপর দরূদ পড়বে, কেননা যে আমার উপর একবার দরূদ পড়ে মহান আল্লাহ এর পরিবর্তে তার উপর দশটি রহমত নাযিল করে। অত:পর আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা করবে, এটি জান্নাতের (বিশেষ) একটি স্থান যা আল্লাহর (বিশেষ) বান্দা ভিন্ন অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। আর আমার বাসনা সে বিশেষ ব্যক্তিটি আমিই হই। সুতরাং যে আমার জন্য ওসীলার প্রার্থনা করবে তার জন্য (আমার) শাফাআত বৈধ হয়ে যাবে[৮৫]।
জান্নাতের সর্বোচ্চস্তর ও সর্বনিম্নস্তরের অধিকারীগণ:
عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: سأل موسى ربه : ما أدنى أهل الجنة منزلة؟ قال: هو رجل يجيء بعد ما أدخل أهل الجنة الجنة فيقال له : ادخل الجنة, فيقول: أي رب كيف وقد نزل الناس منازلهم و أخذوا أخذاتهم؟
فيقال له: أ ترضى أن يكون لك مثل ملك ملك من ملوك الدنيا؟ فيقول: رضيت رب, فيقول: لك ذلك ومثله, ومثله,ومثله,ومثله, فقال في الخامسة رضيت رب,فيقول: هذا لك و عشرة أمثاله, ولك ما اشتهت نفسك, ولذت عينك, فيقول : رضيت رب.
قال: رب فأعلاهم منزلة؟ قال: أولئك الذين أردت, غرست كرامتهم بيدي, وختمت عليها, فلم تر عين, ولم تسمع أذن, ولم يخطر على قلب بشر, قال: ومصداقه في كتاب الله عز وجل: ﴿ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ ﴾. أخرجه مسلم .
وفي لفظ في بيان أدنى أهل الجنة : فإن لك مثل الدنيا و عشرة أمثالها. متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী মুগীরা বিন শো’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: মূসা (আলাইহিস সালাম) স্বীয় রবকে জিজ্ঞেস করলেন: অবস্থানের দিক থেকে সর্ব নিম্নস্তরের জান্নাতী কে? বললেন: সে এমন এক ব্যক্তি যে জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ করার সময় এসে উপস্থিত হবে, তখন তাকে বলা হবে: তুমিও জান্নাতে প্রবেশ কর, সে বলবে: হে রব! কি ভাবে প্রবেশ করব। অথচ লোকেরা তাদের নিজ নিজ স্থানে অবতরণ করেছ এবং যা নেয়ার নিয়ে নিয়েছে ?
তখন তাকে বলা হবে: তোমাকে যদি পৃথিবীর একজন রাজার রাজত্বের সমপরিমাণ দেয়া হয় তুমি কি তাতে সন্তুষ্ট? সে বলবে: আমি সন্তুষ্ট প্রভু। বলা হবে: তোমাকে সেটি দেয়া হল এবং তার সাথে এর সমপরিমাণ, এবং এর সমপরিমাণ এবং এর সমপরিমাণ, এবং এর সমপরিমাণ পঞ্চমবারে সে বলবে: আমি সন্তুষ্ট প্রভু। তখন বলবে: তোমাকে সেগুলো দেয়া হল এবং তার সাথে আরো দশগুন। সেথায় তোমার জন্য রয়েছে যা তোমার মন চাইবে এবং যাতে দৃষ্টি তৃপ্ত ও শীতল হবে। সে বলবে: আমি সন্তুষ্ট হে প্রভু।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: তাহলে তাদের সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী কে? ওরা হচ্ছে, যাদের আমি নিজেই কামনা করেছি, নিজের হাতে তাদের সম্মান-মর্যাদা বপন করেছি, এবং তার উপর মহর এঁটে দিয়েছি। সুতরাং কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন হৃদয় কল্পনা করতে পারেনি। বলেন: এর সত্যায়ন কুরআনুল কারীমে এভাবে হয়েছে: কেউই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে।[৮৬]
অন্য এক বর্ণনায় জান্নাতের সর্ব নিম্নস্তরের বিবরণ এভাবে বিবৃত হয়েছে যে,
فإن لك مثل الدنيا و عشرة أمثالها. متفق عليه.
তোমার জন্য রয়েছে দুনিয়া সমপরিমাণ ও তার দশগুন।[৮৭]

জান্নাতবাসীদের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত:
(১) মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿৭২﴾ { التوبة: ৭২}
আল্লাহ তাআলা মুমিন নর ও মুমিন নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের- যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, যেথায় তার স্থায়ী হবে এবং স্থায়ী জান্নাতে উত্তম বাসস্থানের। আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সেটিই মহাসাফল্য।
(২) মহান আল্লাহ আরো বলেন:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ ﴿২২﴾ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴿২৩﴾ { القيامة:২২ـ ২৩}
সেদিন কোন কোন মুখমন্ডল হবে উজ্জ্বল। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। { কিয়ামাহ:২২-২৩}
(৩) হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن ناسا قالوا لرسول الله صلى الله عليه وسلم : يا رسول الله هل نرى ربنا يوم القيامة؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هل تضارون في رؤية القمر ليلة البدر؟ قالوا : لا يا رسول الله, قال : هل تضارون في الشمس ليس دونها سحاب؟ قالوا : لا يا رسول الله, قال: فإنكم ترونه كذلك. متفق عليه.
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, কতিপয় ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি কিয়ামত দিবসে আমাদের রব-আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাব? রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: পূর্ণিমা রাত্রিতে চাঁদ দেখতে তোমরাকি কোন অসুবিধা বোধ কর? তারা বলল: না, হে আল্লাহর রাসূল। বললেন: মেঘহীন আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয়? তারা বলল: না, হে আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ বললেন: তোমরা অবশ্যই তাঁকে এভাবে দেখতে পাবে।[৮৮]
(৪) হাদীসে আরো এসেছে
وعن صهيب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذا دخل أهل الجنة الجنة, قال : يقول الله تبارك وتعالى, تريدون شيئا أزيدكم؟ فيقولون : ألم تبيض وجوهنا؟ ألم تدخلنا الجنة, وتنجنا من النار؟ قال: فيكشف الحجاب,فما أعطوا شيئا أحب إليهم من النظر إلى ربهم عز وجل. أخرجه مسلم.
সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলবেন: তোমরা কি কিছু চাও আমি বাড়িয়ে দেব? তারা বলবে: আপনি কি আমাদের চেহারা শুভ্র উজ্জ্বল করেননি ? আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? তিনি বলেন: এরপর আল্লাহ পর্দা উন্মোচন করবেন। স্বীয় প্রতিপালক পানে দৃষ্টিপাত অপেক্ষা অধিক প্রিয় কোন নিয়ামত তাদের ইত:পূর্বে আর দেয়া হয়নি।[৮৯]

জান্নাতের নিয়ামতরাজির বিবরণ

জান্নাত ও তার বহুবিধ নিয়ামতের কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ আমি-আপনি সহ বিশ্বের বিগত-আগত সকল মুসলিমদের উক্ত জান্নাতের অধিকারী হওয়ার াতওফিক দিন। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা পরম দয়ালু।
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
الَّذِينَ آَمَنُوا بِآَيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ ﴿৬৯﴾ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ ﴿৭০﴾ يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿৭১﴾ وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿৭২﴾ لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ ﴿৭৩﴾ {الزخرف: ৬৯ـ ৭৩}
যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং তারা ছিল (আত্মসমর্পণকারী) মুসলমান। (তাদের বলা হবে) জান্নাতে প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণিগণ সানন্দে। স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাহাদিগকে প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে রয়েছে সমস্ত কিছু, যা অন্তর চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে। এটিই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, যা হতে তোমরা আহার করবে।
{সূরা যুখরুফ:৬৯-৭৩}
(২) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ ﴿৫১﴾ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ﴿৫২﴾ يَلْبَسُونَ مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ ﴿৫৩﴾ كَذَلِكَ وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُورٍ عِينٍ ﴿৫৪﴾ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آَمِنِينَ ﴿৫৫﴾ لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ ﴿৫৬﴾ {الدخان:৫১ــ৫৬}
মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে- উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে, তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং মুখামুখি হয়ে বসবে। এরূপই ঘটবে; আমি তাদেরকে সঙ্গি দান করবে আয়তলোচনা হূর, সেখানে তারা প্রশান্ত চিত্তে বিবিধ ফলমূল আনতে বলবে। প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন। {সূরা দুখান:৫১-৫৬}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا ﴿১২﴾ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا ﴿১৩﴾ وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا ﴿১৪﴾ وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآَنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَ ﴿১৫﴾ قَوَارِيرَ مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا ﴿১৬﴾ وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا ﴿১৭﴾ عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا ﴿১৮﴾ وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَنْثُورًا ﴿১৯﴾ وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا ﴿২০﴾ عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا ﴿২১﴾ إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاءً وَكَانَ سَعْيُكُمْ مَشْكُورًا ﴿২২﴾{ الإنسان:১২ــ২২}
আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কারস্বরূপ তাদেরকে দেবেন উদ্যান ও রেশমী বস্ত্র। সেখানে তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে, তারা সেখানে অতিশয় গরম অথবা অতিশয় শীত অনুভব করবে না। সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ পানপাত্রে- রজতশুভ্র স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশন কারীরা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে। সেথায় তাদেরকে পান করতে দেয়া হবে যানজাবীল (আদ্রক) মিশ্রিত পানীয়, জান্নাতের এমন এক প্রস্রবণের যার নাম সালসাবীল। তাদেরকে পরিবেশন করবে চিরকিশোরগণ, যখন তুমি তাদেরকে দেখবে তখন মনে করবে তারা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তা। তুমি যখন সেখানে দেখবে, দেখতে পাবে ভোগ-বিলাসের উপকরণ এবং বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ণ সবুজ রেশম ও স্থুল রেশম, তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন বিশুদ্ধ পানীয়। অবশ্য, ইটিই তোমাদের পুরস্কার এবং তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা স্বীকৃত। {সূরা ইনসান:১২-২২}
(৪) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ﴿১০﴾ أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ ﴿১১﴾ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿১২﴾ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ﴿১৩﴾ وَقَلِيلٌ مِنَ الْآَخِرِينَ ﴿১৪﴾ عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ ﴿১৫﴾ مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ ﴿১৬﴾ يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ ﴿১৭﴾ بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ ﴿১৮﴾ لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ ﴿১৯﴾ وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ ﴿২০﴾ وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ ﴿২১﴾ وَحُورٌ عِينٌ ﴿২২﴾ كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ ﴿২৩﴾ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿২৪﴾ لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا ﴿২৫﴾ إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا ﴿২৬﴾ { الواقعة:১০ــ ২৬}
আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত-নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে; বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে; এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। স্বর্ণ-খচিত আসনে। তারা হেলান দিয়ে বসবে, পরস্পর মুখামুখি হয়ে। তাদের সেবায় ঘোরাফিরা করবে চির-কিশোরেরা। পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে। সে সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং তারা জ্ঞানহারাও হবে না। এবং তাদের পছন্দমত ফলমূল, আর তাদের ঈপ্সিত পাখীর গোশত নিয়ে, আর (তাদের জন্য থাকবে) আয়তলোচনা হূর, সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ, তাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ। সেখানে তারা শুনবে না কোন অসার ও পাপবাক্য, সালাম আর সালাম বাণী ব্যতীত।
{সূরা ওয়াকিয়া :১০-২৬}
(৫) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ ﴿২৭﴾ فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ ﴿২৮﴾ وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ﴿২৯﴾ وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ﴿৩০﴾ وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ﴿৩১﴾ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ ﴿৩২﴾ لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ ﴿৩৩﴾ وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ ﴿৩৪﴾ إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً ﴿৩৫﴾ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا ﴿৩৬﴾ عُرُبًا أَتْرَابًا ﴿৩৭﴾ لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ ﴿৩৮﴾ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ﴿৩৯﴾ وَثُلَّةٌ مِنَ الْآَخِرِينَ ﴿৪০﴾ { الواقعة:২৭ــ৪০}
আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল। তারা থাকবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ। কাঁদি ভরা কদলী বৃক্ষ, সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবহমান পানি, ও প্রচুর ফলমূল। যা শেষ হবে না এবং যা নিষিদ্ধও হবে না। আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ; ওদেরকে (হূর) আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে। তাদেরকে করেছি কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়স্কা, ডানদিকের লোকদের জন্য। তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে। এবং অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। {সূরা ওয়াকিয়া: ২৭-৪০}
(৬) হাদীসে এসেছে
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال الله عز و جل: أعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رأت, ولا أذن سمعت, ولا خطر على قلب بشر. مصداق في كتاب الله﴿ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿১৭﴾ متفق عليه
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন (সুন্দর নেয়ামতরাজি) তৈরী করে রেখেছি, যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন মানুষের হৃদয় কল্পনাও করেনি। আল-কুরআনে এর সত্যায়ন হয়েছে এভাবে: ‘কেউই জানেনা তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ[৯০]।

জান্নাতবাসীদের কথাবার্তা ও যিকির:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ ﴿৭৪﴾ {الزمر:৭৪}
তারা প্রবেশ করে বলবে, প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করেছেন এ ভূমির ; আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম। { যুমার :৭৪}
(২) আল্লাহ আরও বলেন:
دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآَخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿১০﴾ { يونس:১০}
সেখানে তাদের ধ্বনি হবে: হে আল্লাহ তুমি মহান পবিত্র! এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে, সালাম এবং তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই : সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর প্রাপ্য। {সূরা ইউনুস:১০}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا ﴿২৫﴾ إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا ﴿২৬﴾ { الواقعة:২৫ــ২৬}
সেখানে তারা কোন অসার ও পাপবাক্য শুনবে না। সালাম আর সালাম বাণী ব্যতীত। {সূরা ওয়াকিয়া:২৫-২৬}
জান্নাতবাসীদের প্রতি মহান রবের সালাম:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
تَحِيَّتُهُمْ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ سَلَامٌ وَأَعَدَّ لَهُمْ أَجْرًا كَرِيمًا ﴿৪৪﴾ { الأحزاب:৪৪}
যেদিন তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, সেদিন তাদের প্রতি অভিবাদন হবে ‘সালাম’। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন উত্তম প্রতিদান। {সূরা আহযাব:৪৪}
(২) আরও ইরশাদ হয়েছে:
سَلَامٌ قَوْلًا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ ﴿৫৮﴾ {يس:৫৮}
‘সালাম’ পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ হতে সম্ভাষণ। {সূরা ইয়াসীন:৫৮}
মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি প্রকাশ:
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:إن الله يقول لأهل الجنة, يا أهل الجنة, فيقولون: لبيك ربنا و سعديك, و الخير في يديك, فيقول: هل رضيتم؟ فيقولون: وما لنا لا نرضى يا رب وقد أعطيتنا ما لم تعط أحدا من خلقك, فيقول: ألا أعطيك أفضل من ذلك؟ فيقولون:يا رب و أي شيء أفضل من ذلك؟ فيقول:أحل عليكم رضواني, فلا أسخط عليكم بعده أبدا. متفق عليه
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদের ডেকে বলবেন: হে জান্নাতবাসীরা, তারা বলে উঠবে: হে আমাদের প্রতিপালক আমরা উপস্থিত, সকল সৌভাগ্য আপনার পক্ষ হতেই, সকল কল্যাণের উৎসও আপনিই। তখন আল্লাহ বলবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট? উত্তরে তারা বলবে: কেন নয়; হে প্রতিপালক, আমাদের সন্তুষ্ট না হওয়ার কি আছে? অথচ আপনি আমাদের এমন সব জিনিস দিয়েছেন যা আপনার অন্য কোন সৃষ্টি দান করেননি। আল্লাহ বলবেন: আমি কি তোমাদের এরচেয়েও উত্তম জিনিস দেব? তারা বলবে: এর চেয়েও উত্তম জিনিস আর কি হতে পারে? আল্লাহ বলবেন: আমার সন্তুষ্টি তোমাদের জন্য অবধারিত করে নিলাম। আজকের পর থেকে আমি আর কোখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হব না[৯১]।
হে আল্লাহ তুমি আমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাও আরো সন্তুষ্ট হও আমাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পরিজন, ও সকল মুসলমানদের প্রতি। এবং তোমার অনুগ্রহে আমাদেরকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে নাও।
জান্নাতে উম্মতে মুহাম্মাদীর পরিমাণ:
মহান আল্লাহ তাআলা এ উম্মতকে বিশাল সম্মানে সম্মানিত করেছেন। তিনি জান্নাতের মোট অধিবাসীদের মধ্যে অর্ধেক এ উম্মত থেকে নির্বাচিত করেছেন। অত:পর এ সম্মান আরো বৃদ্ধি করে এ সংখ্যা দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত উন্নীত করেছেন।
হাদীসে এসেছে
عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في قبة فقال: أترضون أن تكونوا ربع أهل الجنة؟ قلنا نعم, قال: أترضون أن تكونوا ثلث أهل الجنة؟ قلنا نعم, قال: أترضون أن تكونوا شطر أهل الجنة؟ قلنا:نعم,قال: إني لأرجو أن تكونوا شطر أهل الجنة, و ذلك أن الجنة لا يدخلها إلا نفس مسلمة,وما أنتم في أهل الشرك إلا كالشعرة البيضاء في جلد الثور الأسود,أو كالشعرة السوداء في جلد الثور الأحمر. متفق عليه
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা একটি তাঁবুতে নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অবস্থান করছিলাম, এক সময় নবীজী আমাদের লক্ষ্য করে বললেন: “তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের এক চতুর্থাংশ হবে, এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের এক তৃতীয়াংশ হবে, এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের অর্ধেক হবে এতে কি তোমরা রাজি? আমরা বললাম:হ্যাঁ। [এরপর নবীজী ] বললেন: আমি চাই তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের অর্ধেক হবে। আর এটি এ কারণে যে, জান্নাতে শুধুমাত্র মুসলিম সত্ত্বাই প্রবেশ করতে পারবে। আর শিরক কারীদের মধ্যে তোমাদের অবস্থান হচ্ছে, কালো [রং বিশিষ্ট] বলদের চামড়ায় সাদা পশম সদৃশ। অথবা লাল বলদের চামড়ায় কালো পশম সদৃশ।[৯২]

জান্নাতবাসীদের কাতার:
عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أهل الجنة عشرون و مائة صف, ثمانون منها من هذة الأمة, و أربعون من سائر الأمم. أخرجه الترمذي و ابن ماجة.
সাহাবী বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাত অধিবাসীরা মোট একশত বিশ কাতার হবে, তার মাঝে আশি কাতার হবে এ উম্মত থেকে, আর অবশিষ্ট চল্লিশ কাতার হবে অন্য সকল উম্মত থেকে। [৯৩]

জান্নাত অধিবাসী:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿৮২﴾ { البقرة:৮২}
আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারাই হচ্ছে জান্নাত অধিবাসী, সেথায় তারা চিরদিন থাকবে। [সূরা বাকারা:৮২]
(২) হাদীসে এসেছে
وعن عياض بن حمار رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:… وأهل الجنة ثلاثة: ذو سلطان مقسط متصدق موفق, ورجل رحيم رقيق القلب لكل ذي قربى و مسلم, وعفيف متعفف ذو عيال… . أخرجه مسلم.
সাহাবী ইয়ায বিন হিমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: … আর জান্নাত অধিবাসী হচ্ছে তিন শ্রেণীর লোক: রাজত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী ন্যায় পরায়ণ দানশীল তাওফীক প্রাপ্ত, দয়ালু ব্যক্তি-সকল আত্মীয় পরিজন ও মুসলমানের জন্য যার অন্তর সদা সদয় এবং সচ্চরিত্র সংযমশীল (অনেক) সন্তান-সন্ততির মালিক…।[৯৪]
(৩) হাদীসে এসেছে
وعن حارثة بن وهب رضي الله عنه أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم قال: ألا أخبركم بأهل الجنة؟ قالوا :بلى, قال صلى الله عليه وسلم: كل ضعيف متضعف لو أقسم على الله لأبره… متفق عليه
হারিসা বিন ওহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছেন, আল্লাহর রাসূল বলেন: আমি কি তোমাদের জান্নাতবাসী সম্মর্কে সংবাদ দেব না? লোকরা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: প্রত্যেক নিরিহ-নিরহঙ্কার দুর্বল ব্যক্তি, যদি আল্লাহর নামে শপথ করে আল্লাহ তার শপথ পূর্ণ করার ব্যবস্থা করে দেন।[৯৫]

অধিকাংশ জান্নাতবাসী:
عن عمران بن حصين رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: اطلعت في الجنة فرأيت أكثر أهلها الفقراء, واطلعت في النار فرأيت أكثر أهلها النساء. متفق عليه
সাহাবী ইমরান বিন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, নবীজী বলেন: আমি জান্নাতে দৃষ্টি দিয়েছি, দেখেছি তার অধিকাংশ অধিবাসী হচ্ছে দরিদ্র ব্যক্তিবর্গ, এবং জাহান্নামে দৃষ্টি দিয়েছে, সেখানে দেখেছি তার অধিকাংশ অধিবাসী হচ্ছে নারী।[৯৬]
সর্বশেষ যিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন:
عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن آخر أهل الجنة دخولا الجنة, وآخر أهل النار خروجا من النار: رجل يخرج حبوا, فيقول له ربه:ادخل الجنة, فيقول:رب, الجنة ملأى, فيقول له ذلك ثلاث مرات, فكل ذلك يعيد عليه: الجنة ملأى, فيقول: إن لك مثل الدنيا عشر مرار. متفق عليه
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: “জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি, যে (জাহান্নাম থেকে) হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসবে। তখন তার রব তাকে বলবেন: তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবে: প্রভু, জান্নাততো পরিপূর্ণ। (তার রব) তাকে এভাবে তিন বার বলবেন: প্রতিবারই সে বলবে: জান্নাততো পরিপূর্ণ। অত:পর মহান রব বলবেন: তোমার জন্য দুনিয়াসম দশগুন বরাদ্দ দেয়া হল”।[৯৭]

_________________________________________________________________________________

[১] সূরা আহযাব: ৬৩।
[২]মুসলিম(২৯০১)
[৩] বুখারী ও মুসলিম : হাদীস নং বুখারী (৪৯৩৫) এবং মুসলিম (২৯৫৫)
[৪] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম হাকেম তার মুসতাদরাকে বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং (৮৬৭৬) দেখুন আসসিলসিলাতুস সহীহা। ক্রমিক :(১০৭৮)
[৫] বর্ণনায় মুসলিম: হাদীস নং (৮৫৪)
[৬] বর্ণনায় বুখারী মুসলিম। বুখারী হাদীস নং (৪৯৩৫) আর মুসলিম (২৯৫৫)
[৭] সহীহ মুসলিম: হাদীস নং(২২৭৮)
[৮] সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৬৫২১) ও (২৭৯০)
[৯] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৬৫২৭) ও (২৮৫৯)
[১০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম: হাদীস নং যথাক্রমে (৪৭৬০) ও (২৮০৬)
[১১] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযী স্বীয় কিতাবে কর্ণনা করেছেন। হাদীসের ক্রমিক নং যথাক্রমে( ৪৮০৬) ও (৩৩৩৩)
[১২] বর্ণনায় মুসলিম।হাদীস নং (৩১৫) ও (২৭৯১)
[১৩] বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং:(২৮৬৪)
[১৪] বুখারী ও মুসলিম: হাদীস নং যথাক্রমে: (৭৩৮২) ও (২৭৮৭)
[১৫] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে: (৬৬০) ও (১০৩১)
[১৬] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইবনে খোযাইমা বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং যথা ক্রমে (১৭৩৩৩) ও (২৪৩১)
[১৭] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথা ক্রমে (২৪১১) ও (২৩৭৩)
[১৮] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৪৭১২) ও (১৯৪)।
[১৯] বর্ণনায় বুখারী ও মুষলিম। হাদীস নং বুখারী (৭৪৩৯) এবং মুসলিম (১৮৩)
[২০] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (২৪৪১) (২৭৬৮)
[২১] হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে তিরমিযী ও দারামীতে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস নং তিরমিযী (২৪১৭) আর দারামী (৫৪৩)। দেখুন আস্‌সিলসিলাতুস সহীহা (৯৪৬)
[২২] মুত্তাফাক আলাইহ। হাদীস নং বুখারী (৬৫৩৭) আর মুসলিম (২৮৭৬)
[২৩] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৪৭২৯) ও (২৭৮৫)।
[২৪] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং:(২৮০৮)
[২৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৭৯) এবং মুসলিম (২২৯২)।
[২৬] মুসলিম (২৩০০)।
[২৭] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৮০) এবং মুসলিম (২৩০৩)।
[২৮] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৮৫) এবং মুসলিম (২২৯১)।
[২৯] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৭৪৩৯) ও (১৮৩)
[৩০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৮০৬) ও (১৮২)
[৩১] বর্ণনায় বুখারী। হাদীস নং (৬৫৩৫)
[৩২] বর্ণনায় বুখারী (৬৩০৪) ও মুসলিম (১৯৯)।
[৩৩] হাদীসটি সহীহ সনদে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস নং (২৫২২)
[৩৪] বুখারী (৯৯)।
[৩৫] বর্ণনায় সহীহ বুখারী হদেীস নং (৭৪২৩)
[৩৬] হাদীসটি সহীহ, বর্ণনায় হাকেম (১৩০৪) এবং ইবনে হিব্বান (৩০১৩)।মুহাদ্দিস আরনাউত বলেন: এ হাদীসের সনদ সহীহ।
[৩৭] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (১৮৯৭) ও (১০২৭)।
[৩৮] সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (২৯৬৭)।
[৩৯] বর্ণনায় কুখারী (৪৭১২) ও মুসলিম (১৯৪)।
[৪০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২৫৭) ও (১১৫২)।
[৪১] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং (২৫৬৫)।
[৪২] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৩২৭৭) ও মুসলিম (১০৭৯)।
[৪৩] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (২৩৪)।
[৪৪] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (১৯৭)।
[৪৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৮৭৬) ও (৮৫৫)।
[৪৬] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।হাদীস নং বুখারী (৩৩২৭) ও মুসলিম (২৮৩৪)।
[৪৭] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।হাদীস নং বুখারী (৬৫৪৩) ও মুসলিম (২১৯)।
[৪৮] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং (২৯৭৯)।
[৪৯] হাদীসটি হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় আহমাদ (৭৯২০) ও তিরমিযী (২৫৪৫)।
[৫০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২৫৪) ও (২৮৩৪)।
[৫১] বর্ণনায় বৃখারী হাদীস নং (৬৫৪১) ও মুসলিম হাদীস নং (২২০)।
[৫২] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং তিরমিযী (২৪৩৭) ও ইবনে মাজাহ (৪২৮৬)।
[৫৩] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। বুখারী হাদীস নং (৩৩৪২) ও মুসলিম (১৬৩)।
[৫৪] বর্ণনায় তিরমিযী (২৫২৬)ও দারামী (২৭১৭)। হাদীসের সনদ সহীহ।
[৫৫] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং ( ২৯২৮)।
[৫৬] বর্ণনায় বুখারী (৪৮৭৯) ও মুসলিম (২৮৩৮)।
[৫৭] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং (২৮৩৩)।
[৫৮] বর্ণনায় বুখারী (৩২৫৬) ও মুসলিম (২৮৩১)।
[৫৯] হাদীসটি হাসান সূত্রে ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং আহমাদ (১৩৩৮) ও তিরমিযী (১৯৮৪)।
[৬০] বর্ণনায় বুখারী ( ৭৪৪৪) ও মুসলিম (১৮০)।
[৬১] বর্ণনায় সহীহ বুখারী, হাদীস নং (৬৫২৬)।
[৬২] বর্ণনায় সহীহ বূখারী। হাদীস নং (৩৩২৯)
[৬৩] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (৩১৫)
[৬৪] বর্ণনায় সহীহ বুখারী (৬৫২০) ও সহীহ মুসলিম (২৭৯২)।
[৬৫] সহীহ মুসলিম। হাদীস নং ( ২৮৩৫)।
[৬৬] হাদীসের সনদ সহীহ। বর্ণনায় তবরাণী আল কাবীর (৭/১৩০) ও মুসনাদ শামীইয়াইন (১/২৮২)। দেখুন আল সিলসিলাতুস সহীহাহ (২৭৩৪)।
[৬৭] হাদীসের সনদ সহীহ, বর্ণনায় তিরমিযী (৩৩৬১) ও ইবনে মাজাহ (৪৩৩৪)।
[৬৮] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২০৭) ও (১৬২)।
[৬৯] বর্ণনায় বুখারী (৬৫৫৩) এবং মুসলিম (২৮২৮)।
[৭০] হাদীসের সনদ সহীহ, বর্ণনায় তিরমিযী। হাদীস নং (২৫২৫) দেখুন সহীহ জামে ( ৫৬৪৭)
[৭১] বর্ণনায় বুখারী, হাদীস নং ( ৬৫৮১)।
[৭২] বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং (২৮৩৯)।
[৭৩] বর্ণনায় কুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (২৭৯৬) ও মুসলিম (১৮৮০)।
[৭৪] বর্ণনায় কুখারী ও মুসলিম, হাদীস নং বুখারী (৩২৪৬) ও মুসলিম (২৮৩৪)।
[৭৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।হাদীস নং বুখারী (৩৩২৭) ও মুসলিম (২৮৩৪)।
[৭৬] বর্ণনায় কুখারী হাদীস নং (৩১৬৬)।
[৭৭] বর্ণনায় তিরমিযী হাদীস নং (১৪০৩) ও ইবনে মাজাহ হাদীস নং (২৬৮৭)।
[৭৮] বর্ননায় তবরাণী আল মু’জামুল আওসাত, হাদীসের সনদ সহীহ, হাদীস নং (৪৯১৭) দেখুন সহীহ আল জামে (১৫৬১)।
[৭৯] হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় তবরাণী, আল মু’জামুল কাবীর (৫/১৭৮) ও দারামী (২৭২১) দেখুন: সহীহ আল জামে (১৬২৭)
[৮০] হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় তবরাণী,আল মু’জামুল আওসাত এবং আবু নাঈম, সিফাতুল জান্নাহ।
[৮১] হাদীসের সনদ বিশুদ্ধ। বর্ণনায় আহমদ (১১০৭৯) ও তিরমিযী ( ২৫৬৩)।
[৮২] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম (২৮৩৭)
[৮৩] মুসনাদ আল বায্‌যার। হাদীসের সনদ সহীহ। কাশফুল আসতার (৩৫১৭) আলা সিলসিলাতুস সহীহা (১০৮৭)
[৮৪] বর্ণনায় বুখারী, হাদীস নং (২৭৯০)
[৮৫] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (৩৮৪)
[৮৬] সহীহ মুসলিম। (১৮৯)
[৮৭] বর্ণনায় বুখারী (৬৫৭১) ও মুসলিম (১৮৬)।
[৮৮] বর্ণনায় বুখারী (৮০৬) ও মুসলিম (১৮২)।
[৮৯] সহীহ মুসলিম (১৮১)
[৯০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৩২৪৪) মুসলিম ( ২৮২৪)।
[৯১] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৪৯) ও মুসলিম (২৮২৯)।
[৯২] বর্ণনায় বৃখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৬৫২৮) ও (২২১)
[৯৩] হাদীসের সনদ সহীহ। বর্ণনায় তিরমিযী (২৫৪৬) ও ইবনে মাজাহ (৪২৮৯)।
[৯৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (২৮৬৫)।
[৯৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৪৯১৮) ও (২৮৫৩)।
[৯৬] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২৪১) ও (২৭৩৭)।
[৯৭] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৭৫১১) ও (১৮৬)।
_________________________________________________________________________________

সংকলন: মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্‌ তুয়াইজিরী
অনুবাদক: ইকবাল হোসাইন মাসূম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s