তাক্বদীরঃ আল্লাহ্‌র এক গোপন রহস্য (২য় পর্ব)


তাক্বদীরঃ আল্লাহ্‌র এক গোপন রহস্য (২য় পর্ব)

তাক্বদীর কেন্দ্রিক প্রচলিত কিছু ভুল-ভ্রান্তি
আমাদের সমাজে কতিপয় ভুল-ভ্রান্তি প্রচলিত আছে, যেগুলি তাক্বদীরে বিশ্বাসের পরিপন্থী। এসব ভুল-ভ্রান্তি মানুষ কখনও কথায়, কখনও কাজে আবার কখনও বিশ্বাসে করে থাকে। তাক্বদীর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলাতে আমরা এ জাতীয় ২/১টি ভুল-ভ্রান্তির কথা উল্লেখ করেছি। নীচে প্রচলিত আরো এরূপ কতিপয় ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরা হলঃ
১. তাক্বদীর বিরোধী কথাবার্তা বলাঃ যেমন: বিপদাপদ এলে কেউ কেউ তাক্বদীরকে মেনে না নিতে পেরে বলে, হে আল্লাহ! আমি কি করেছি? অথবা বলে, আমি এমন ফলাফলের যোগ্য নই! অনুরূপভাবে কেউ কেউ কারো বিপদ এলে তার উদ্দেশ্যে বলে, বেচারার এমন বিপদ হল, অথচ সে এমন মুছীবতের যোগ্য নয়; তাক্বদীর তার প্রতি অবিচার করেছে!
এসব তাক্বদীর বিরোধী কথাবার্তা। সবকিছুতে যে আল্লাহ্‌র হিকমত রয়েছে, সে সম্পর্কে তার অজ্ঞতা থাকার কারণেই সে এমন কথাবার্তা বলে। কেননা আল্লাহ বান্দার কাছ থেকে যা নিয়েছেন বা তাকে যা দিয়েছেন, সবইতো একমাত্র তাঁরই। তাঁর প্রত্যেকটি কর্মে রয়েছে হিকমত এবং রহস্য, যা বান্দা জানে না। অতএব, এ জাতীয় বাক্য ব্যবহার বর্জন করতে হবে।[161]
২. মুছীবত এলে ‘যদি’ শব্দ ব্যবহার করাঃ সম্পদ নষ্ট, শস্য-ফসলের ক্ষতি, সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত হলে অথবা অন্য যে কোন বিপদাপদ এলে চিন্তিত, রাগান্বিত ও বিরক্ত হয়ে অনেকেই বলে, যদি আমি এমন করতাম, তাহলে এমনটি হত না অথবা, আমি যদি এমন করতাম, তাহলে এমন হত! আমি যদি সফর না করতাম, তাহলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতাম!
এ ধরনের বাক্য ব্যবহার মারাত্মক ভুল এবং ব্যক্তির অজ্ঞতার পরিচায়ক। কারণ মুছীবতে বান্দাকে ধৈর্য্যধারণ এবং তওবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এসব ক্ষেত্রে ‘যদি’ শব্দটি ব্যবহার করলে বান্দার আফসোস এবং দুশ্চিন্তা বাড়া ছাড়া কমে না। তাছাড়া এতে তাক্বদীরের বিরোধিতার ভয়তো থেকেই যায়।[162]
সেকারণেই আল্লাহ মুনাফিক্বদেরকে ভর্ৎসনা করে তাদের এ ধরণের বাক্য তুলে ধরে বলেন,
 ﴿لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَّا قُتِلْنَا هَاهُنَا﴾ [سورة آل عمران: 154]
‘আমাদের যদি কিছু করার থাকত, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না’ (আলে ইমরান ১৫৪)
﴿الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا﴾ [سورة آل عمران: 168]
‘তারা হলো ঐসব লোক, যারা (যুদ্ধে না যেয়ে) বসে থাকে এবং তাদের ভাইদের সম্বদ্ধে বলে, যদি তারা আমাদের কথা শুনত, তবে নিহত হত না’ (আলে ইমরান ১৬৮)। আল্লাহ তাদের এ জাতীয় কথার জবাব দিয়েছেন এভাবে,
﴿قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ﴾ [سورة آل عمران: 168]
‘তাদেরকে বলে দিন, এবার তোমরা তোমাদের নিজেদের উপর থেকে মৃত্যুকে সরিয়ে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক’ (আলে ইমরান ১৬৮)
আমরা কোন কিছু অর্জনের যথারীতি প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও যদি তা অর্জন করতে না পারি, তাহলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদর্শিত নীতিমালা মেনে চলতে হবে। তিনি বলেছেন, এমতাবস্থায় তোমাদের কেউ যেন না বলে, ‘আমি যদি এমন এমন করতাম’। বরং সে যেন বলে,
 «فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ قَدَرُ اللهُِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ»
‘এটিই আল্লাহ নির্ধারিত তাক্বদীর এবং তিনি যা চেয়েছেন, তা-ই হয়েছে। কেননা ‘যদি’ শয়তানের কাজের পথ খুলে দেয়’।[163]
হাদীছটিতে স্পষ্ট ঘোষণা করা হল যে, কোন কিছু ঘটে যাওয়ার পরে ‘যদি’ কোন ফায়দা দেয় না। সুতরাং তাক্বদীরের উপর খুশী থাকতে হবে এবং আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে এর প্রতিদানের প্রত্যাশী হতে হবে। সাথে সাথে ভবিষ্যতে আরো ভাল কিছু অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।[164]
তবে বিপদাপদ ছাড়াই কল্যাণকর কোন কিছুর আশা করে ‘যদি’ শব্দটি ব্যবহার করা যায়। যেমনঃ আল্লাহ যদি আমাকে ধন-সম্পদ দিতেন, তাহলে তাঁর পথে অনেক ব্যয় করতাম। গতকাল যদি আমি ক্লাসে যেতাম, তাহলে অনেক উপকৃত হতাম।[165]
৩. তাক্বদীর বিরোধী কার্যকলাপ করাঃ যেমন: বিপদাপদ এলে সহ্য করতে না পেরে কাপড় ছেড়া, চুল ছেড়া, বুক চাপড়ানো, গালে আঘাত করা, বিলাপ করা, বদ দো‘আ করা, ধ্বংস কামনা করা ইত্যাদি। এগুলি সবই জাহেলী এবং তাক্বদীর বিরোধী কর্মকাণ্ড।[166]
৪. মৃত্যু কামনা করাঃ অনেকেই বালা-মুছীবতে ধৈর্য্যধারণ না করতে পেরে নিজের মৃত্যু কামনা করে। কিন্তু এটি মস্ত বড় ভুল, কোন মুমিনের জন্য মৃত্যু কামনা করা বৈধ নয়। তবে কেউ যদি মৃত্যু কামনা করেই, তাহলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশিত নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে কামনা করতে হবে[167]:
 «اللَّهُمَّ أَحْيِنِى مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِى وَتَوَفَّنِى إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِى»
‘হে আল্লাহ! আমাকে আপনি ঐসময় পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখুন, যে পর্যন্ত আমার জন্য আমার যিন্দেগী কল্যাণকর হয়। আর আপনি আমাকে ঐ সময়ে মৃত্যু দান করুন, যখন মারা গেলে মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়’।[168]
আল্লামা আব্দুর রহমান সা‘দী[169] (রহেমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেন, অসুস্থতা, দরিদ্রতা, ভয়-ভীতি ইত্যাদি বিপদাপদে মৃত্যু কামনা করতে হাদীছটিতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা এরূপ মৃত্যু কামনার মধ্যে অনেকগুলি ক্ষতি রয়েছে। তন্মধ্যে: ক. বিপদাপদে বান্দাকে ধৈর্য্য ধরতে বলা হয়েছে; কিন্তু মৃত্যু কামনা করে সে এই নির্দেশের খেলাফ করে। খ. এমন মৃত্যু কামনা মানুষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলে। তাকে অলস ও নিস্তেজ করে ফেলে এবং তার হৃদয়ে হতাশার অনুপ্রবেশ ঘটায়। গ. মৃত্যু কামনা করা চরম বোকামী এবং অজ্ঞতা। কারণ সে জানে না যে, মৃত্যুর পরে তার কি হবে। হতে পারে, যে সমস্যা থেকে সে মুক্তি পেতে চাইছে, মৃত্যুর পরে তাকে তার চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে ইত্যাদি।[170]
৫. আত্মহত্যা করাঃ কেউ কেউ বিপদাপদ, দুঃখ-দুর্দশা ইত্যাদিতে জর্জরিত হয়ে জীবনের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য আত্মহত্যার মত জঘন্য পথ বেছে নেয়। কিন্তু এটি তাক্বদীর এবং আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্তে আত্মসমর্পণের সম্পূর্ণ বিরোধী। মহান আল্লাহ এমন জঘন্য কর্মকে হারাম করেছেন এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তির জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে,
﴿وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا, وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا﴾ [سورة النساء: 29-30]
‘আর তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু। যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন এবং যুলমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে অচিরেই আমরা জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব। আর ইহা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজসাধ্য’ (নিসা ২৯-৩০)।  ভেবে দেখুন, দুনিয়ার বালা-মুছীবত থেকে নিষ্কৃতির আশায় কোন মর্মন্তুদ শাস্তির দিকে সে পা বাড়ায়![171]
৬. কন্যা সন্তান জন্ম নিলে নারায হওয়াঃ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও কতিপয় মানুষ জাহেলী যুগের অজ্ঞ মানুষদের মত আচরণ করে। কন্যা সন্তান জন্ম নিলে মুখ কালো করে ফেলে। মেডিকেল-ক্লিনিকে গেলে আপনি এমন ভূরি ভূরি দৃশ্য দেখতে পাবেন। ছেলে হলে ডাক্তার-নার্সরাও খুব খুশী হয়ে খবরটি পরিবেশন করেন; কিন্তু মেয়ে হলে ব্যাপারটি ঘটে সম্পূর্ণ উল্টা। এটি সম্পূর্ণ তাক্বদীর বিরোধী এবং জাহেলী আচরণ। মহান আল্লাহ জাহেলী যুগের এহেন আচরণের নিন্দা করে বলেন,
‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে সে (বাঁচিয়ে) রাখবে নাকি তাকে মাটির নীচে পুতে ফেলবে। জেনে রেখো, তাদের সিদ্ধান্ত খুবই নিকৃষ্ট’ (নাহ্‌ল ৫৮-৫৯)[172] এর আরো কিছু ক্ষতির দিক রয়েছে। যেমন: ক. এমন আচরণের অর্থ হল, আল্লাহ্‌র উপঢৌকন ফেরৎ দেওয়া; অথচ উচিৎ ছিল সাদরে এই উপহার গ্রহণ করা এবং আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহ্‌র ক্রোধের মুখোমুখি হওয়ার জন্য এই একটি পয়েন্টই যথেষ্ট। খ. এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারী জাতির মান-সম্মানে আঘাত করা হয়। গ. এমন আচরণের মাধ্যমে ব্যক্তি তার নিজের অজ্ঞতা, মূর্খতা, বোকামি এবং স্বল্প বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়। ঘ. এতে জাহেলী যুগের মানুষদের আচরণের সাথে সাদৃশ্যের বিষয়টিতো রয়েছেই।[173]
মানুষ জানে না, কিসে তার জন্য অধিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাছাড়া মেয়েরাই হচ্ছে মা, বোন, স্ত্রী এবং তারাই সমাজের অর্ধেক। আর বাকী অর্ধেক হচ্ছে পুরুষ, কিন্তু তাদেরকে গর্ভে ধারণ করে মেয়েরাই। ফলে পুরো সমাজটাই যেন মেয়েদের সমাজ।
তাদের মর্যাদা বর্ণনায় কুরআন এবং হাদীছে অনেক বক্তব্য এসেছে। আল্লাহ বলেন,
﴿يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ﴾ [سورة الشورى: 49]
‘তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র উপহার দেন’ (শূরা ৪৯)। এখানে আল্লাহ মেয়েদেরকে পুরুষদের আগে উল্লেখ করেছেন এবং উভয়কে উপহার হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
 «مَنِ ابْتُلِىَ مِنَ الْبَنَاتِ بِشَىْءٍ فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ»
‘যাকে কয়েকটি কন্যা সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, অতঃপর সে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করে, ঐ ব্যক্তির জন্য তার কন্যারা জাহান্নাম থেকে প্রতিবন্ধক হয়’।[174]
৭. হিংসা করাঃ হিংসা একটি দূরারোগ্য ব্যাধি। খুব কম মানুষই এথেকে বেঁচে থাকতে পারে। সেজন্য বলা হয়,
 لاَ يَخْلُوْ جَسَدٌ مِنْ حَسَدٍ؛ وَلَكِنَّ اللَّئِيْمَ يُبْدِيْهِ، وَالْكَرِيْمَ يُخْفِيْهِ
‘কেউই হিংসা মুক্ত নয়। তবে হীন মনের মানুষ তা প্রকাশ করে; কিন্তু মহৎ ব্যক্তি তা গোপন রাখে।[175] হিংসুক কর্তৃক হিংসিত ব্যক্তির কল্যাণকর কোন কিছুর পতন কামনা অথবা হিংসুক কর্তৃক হিংসিত ব্যক্তির কল্যাণকর কোন কিছু প্রাপ্তিকে অপছন্দ করার নাম হিংসা।
হিংসা তাক্বদীর বিরোধী জঘণ্য আচরণ। কেননা হিংসুক আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয়। সে যেন বলতে চায়, অমুক যোগ্য নয়, তদুপরি তাকে দেওয়া হল! অমুক পাবার যোগ্য, অথচ তাকে মাহরূম করা হল! ভাবখানা এরূপ যে, হিংসুক তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করে আল্লাহকে পরামর্শ দিচ্ছে! সে এমন আচরণের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র ফায়ছালার দুর্নাম করে!
অতএব সর্বপ্রকার হিংসা বর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ্‌র সবকিছুতে প্রভূত কল্যাণ এবং হিকমত রয়েছে।[176]
৮. আল্লাহ্‌র উপর কসম করাঃ যেমন: কেউ কারো সম্পর্কে বলল, আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। আমাদের সমাজে এমনটি অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ভাল মানুষ কর্তৃকও কখনও কখনও এমন ঘটনা ঘটে। ধরা যাক, কেউ কাউকে ভাল কাজের দা‘ওয়াত দিল, কিন্তু সে তার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পাপকাজে নিমজ্জিত থাকল। এমতাবস্থায় এই দাঈ নিরাশ হয়ে তাকে উপদেশ দেওয়া ছেড়ে দেয়; বরং হয়তোবা তার উদ্দেশ্যে বলে, আল্লাহ্‌র কসম! কস্মিনকালেও আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবে না।
মনে রাখতে হবে, এ ধরণের বাক্যের ব্যবহার খুবই ভয়াবহ। ইহা একদিকে যেমন আমল বিনষ্ট হওয়ার কারণ, অন্যদিকে তেমনি তাক্বদীর বিরোধী। কেননা হেদায়াত আল্লাহ্‌র হাতে। তাছাড়া মানুষের শেষ ভাল হবে কি মন্দ হবে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না। এমন বাক্য ব্যবহারকারীকে কে বলেছে যে, আল্লাহ ঐ পাপীকে ক্ষমা করবেন না? আল্লাহ্‌র রহমত আটকানোর অপচেষ্টা করার অধিকার তাকে কে দিয়েছে?!
হাদীছে এসেছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
 «أَنَّ رَجُلاً قَالَ وَاللَّهِ لاَ يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلاَنٍ وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ مَنْ ذَا الَّذِى يَتَأَلَّى عَلَىَّ أَنْ لاَ أَغْفِرَ لِفُلاَنٍ فَإِنِّى قَدْ غَفَرْتُ لِفُلاَنٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ»
‘এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ বললেন, আমার উপর কসম করে কে বলে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করব না? (সে জেনে রাখুক!) আমি অমুককে ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু তোমার আমল নষ্ট করে দিয়েছি’।[177]
 
তাক্বদীর বিষয়ে একজন মুমিনের করণীয়ঃ
বান্দাকে তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং শরী‘আতের আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে হবে। বান্দা সৎকর্ম করলে আল্লাহ্‌র প্রশংসা করবে। আর অন্যায় কিছু করে ফেললে আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। কারণ আমাদের আদি পিতা আদম (‘আলাইহিস্‌সালাম) পাপ করে আল্লাহ্‌র নিকট তওবা করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর তওবা কবূল করেছিলেন এবং তাঁকে নবী হিসাবে মনোনীত করেছিলেন। পক্ষান্তরে ইবলীস পাপকে আঁকড়ে ধরে ছিল। ফলে আল্লাহ তাকে অভিশাপ করেছেন এবং তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। অতএব যে পাপ করে তওবা করবে, সে প্রকৃত মানুষ হিসাবে পরিগণিত হবে। কিন্তু যে পাপ করে তাক্বদীরের দোহাই দিবে, সে ইবলীসী কর্মকাণ্ডের ধ্বজাধারী হবে। সৌভাগ্যবান সে-ই, যে তার পিতার অনুসরণ করবে। আর দুর্ভাগা সে-ই, যে তার শত্রু ইবলীসের অনুসরণ করবে।[178]
একজন মুমিনকে তাক্বদীরের চারটি স্তরের উপর বিশ্বাস করতে হবে। সে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবে, আল্লাহ্‌র জ্ঞান, লিখন, ইচ্ছা এবং সৃষ্টির বাইরে কোন কিছুই ঘটে না। সে আরো বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তাকে তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। ফলে সে সৎকাজ করে যাবে এবং পাপাচার বর্জন করে চলবে। আল্লাহ তাকে সৎকাজ করার এবং অসৎকাজ বর্জন করার তওফীক্ব দিলে সে আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করবে। পক্ষান্তরে সৎকাজ সম্পাদন এবং অসৎকাজ বর্জনের তওফীক্বপ্রাপ্ত না হলে আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা এবং তওবা করবে।
ইহলৌকিক সুযোগ-সুবিধা অর্জনেও বান্দাকে প্রচেষ্টা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সঠিক এবং বৈধ পন্থা অবলম্বন করতে হবে। সে তার কাঙ্খিত বস্তুটি অর্জন করতে পারলে আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করবে। আর না পারলে তাক্বদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। সাথে সাথে তাকে বিশ্বাস করতে হবে, তাক্বদীরে যদি লেখা থাকে, সে সঠিক কিছু করবে, তাহলে তা কখনই ভুল হওয়ার নয়। পক্ষান্তরে তাক্বদীরে যদি লেখা থাকে, সে ভুল করবে, তাহলে তা কখনই সঠিক হওয়ার নয়।
মনে রাখতে হবে, তাক্বদীরের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞান রাখা সবার জন্য যরূরী নয়। সংক্ষিপ্তাকারে মৌলিক বিষয়গুলি জেনে নিলেই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।[179]
 
তাক্বদীর সম্পর্কে সালাফে ছালেহীনের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বাণীঃ
* আলী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, একদিন তাঁর সামনে তাক্বদীরের কথা বলা হলে তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় তাঁর মুখের মধ্যে প্রবেশ করালেন। অতঃপর ঐ আঙ্গুলদ্বয় দ্বারা হাতের তালুতে দু’টি দাগ দিলেন এবং বললেন,
«أَشْهَدُ أَنَّ هَاتَيْنِ الرَّقْمَتَيْنِ كَانَتَا فِي أُمِّ الْكِتَابِ»
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই দাগ দু’টিও আল্লাহ্‌র তাক্বদীরের মূল কিতাব তথা লাওহে মাহফূযে লেখা ছিল’।[180]
* আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন,
«لاَ واَللهِ لاَ يَطْعَمُ رَجُلٌ طَعْمَ الْاِيْمَانِ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ»
‘আল্লাহ্‌র কসম! তাক্বদীরের প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত কেউ ঈমানের স্বাদ পাবে না’।[181]
* আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেন,
«الْعَجْزُ وَالْكَيْسُ مِنَ الْقَدَرِ»
‘অপারগতা এবং বিচক্ষণতা তাক্বদীরেরই অংশ’।[182]
* ত্বাঊস (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তিনশ’ ছাহাবীকে পেয়েছি, তাঁরা সকলেই বলেন,
 «كُلُّ شَيْءٍ بِقَدَرٍ»
‘সবকিছু তাক্বদীর অনুযায়ীই হয়’।[183]
* ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন,
«مَا غَلاَ أَحَدٌ فِي الْقَدَرِ إِلاَّ خَرَجَ مِنَ الإِسْلَامِ»
‘তাক্বদীর নিয়ে যে-ই বাড়াবাড়ি করেছে, সে-ই ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে’।[184]
* তিনি আরো বলেন,
«لَيْسَ قَوْمٌ أَبْغَضَ إَلَى اللهِ مِنَ الْقَدَرِيَّةِ»
‘আল্লাহ্‌র নিকট ক্বাদারিইয়াদের চেয়ে ঘৃণিত আর কোন সম্প্রদায় নেই’।[185]
* একদা ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) কে বলা হয়েছিল, একদল লোক বলে যে, তাক্বদীর বলতে কিছু নেই। তখন তিনি বলেছিলেন,
«أُولَئِكَ الْقَدَرِيُّونَ. أُولَئِكَ مَجُوسُ هَذِهِ الْأُمَّةِ»
ওরাই হল ক্বাদারিইয়াহ সম্প্রদায়, ওরাই এই উম্মতের মাজূসী বা অগ্নিউপাসক’।[186]
* হাসান বাছরী (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাক্বদীরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, সে কাফের হয়ে যাবে’।[187]
* ইমামু আহলিস্‌ সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ ইমাম আহমাদ (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ক্বাদারিইয়াহ, মু‘তাযিলাহ এবং জাহ্‌মিইয়াদের পেছনে ছালাত আদায় করা যাবে না’।[188]
 
তাক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপনের কতিপয় উপকারিতাঃ
১. তাক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপন করলে ঈমান পূর্ণতা পায়।
২. তাক্বদীরের প্রতি ঈমান না আনলে ‘রুবূবিইয়াত’ বা প্রতিপালনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করার বিষয়টি পূর্ণতা পায় না। কেননা তাক্বদীর আল্লাহ্‌র কর্মসমূহের অন্যতম।
৩. তাক্বদীরে বিশ্বাস করলে বান্দা তার বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্টে আল্লাহ্‌র শরণাপন্ন হতে পারবে। পক্ষান্তরে কল্যাণকর কিছু ঘটলে সে তা আল্লাহ্‌র দিকে সম্বন্ধিত করতে শিখবে এবং সে জানবে যে, তার প্রতি আল্লাহ্‌র অশেষ অনুগ্রহেই এটি সম্ভব হয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
«عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ»
‘মুমিনের বিষয়টি অনেক মজার, তার সবকিছুই কল্যাণকর; মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। কারণ খুশীর কিছু ঘটলে সে আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করে। ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। পক্ষান্তরে কষ্টের কিছু ঘটলে সে ধৈর্য্যধারণ করে। ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়’।[189]
৪. তাক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপন করলে বান্দা যে কোন বিপদাপদকে হালকা মনে করতে শিখবে। কারণ যখন সে জানবে যে, তার বিপদাপদ আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকেই আসে, তখন তা তার কাছে কিছুই মনে হবে না। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ﴾ [سورة التغابن: 11]
‘যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন’ (তাগাবুন ১১)। আলক্বামা (রহেমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে ঐ ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যার বিপদাপদ আসলে সে বিশ্বাস করে যে, তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকেই হয়েছে। ফলে সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে এবং তাকে অকপটে গ্রহণ করে নেয়।[190]
৫. তাক্বদীরের মাধ্যমে মানুষ তাকে প্রদত্ত নে‘মতসমূহকে সেগুলির প্রকৃত দাতার দিকে সম্বন্ধিত করতে পারবে। কেননা আপনি তাক্বদীরের প্রতি ঈমান না আনলে উক্ত নে‘মতের সাথে প্রকাশ্যে জড়িত কোন ব্যক্তির দিকে সেগুলির সম্বন্ধ করবেন। সেজন্য অনেক মানুষকে রাজা-বাদশা, মন্ত্রী-এমপিদের তোষামোদ করতে দেখা যায়। অতঃপর তাঁদের কাছ থেকে কিছু অর্জন করতে পারলে উহাকে তাঁদের দিকেই সম্বন্ধিত করে এবং সৃষ্টি কর্তার অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়। অবশ্য একথা ঠিক যে, মানুষের কৃতজ্ঞতাও আদায় করতে হবে।[191]
৬. তাক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপন করলে সুখে-দুঃখে সর্বদা সঠিক পথের উপরে টিকে থাকা সম্ভব হবে। ভাল কিছু পেলে সে আনন্দে আত্মহারা হবে না। পক্ষান্তরে বালা-মুছীবত তাকে আশাহত করতে পারবে না। সে জানবে, তার জীবনে কল্যাণকর যা কিছুই অর্জিত হয়, সবই আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকেই হয়; তার বিচক্ষণতা এবং কর্মের পারদর্শিতার বিনিময়ে নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
 ﴿وَمَا بِكُم مِّن نِّعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ﴾ [سورة النحل: 53]
‘তোমাদের নিকট যে সমস্ত নে‘মত আসে, তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকেই আসে’ (নাহ্‌ল ৫৩)
পক্ষান্তরে বিপদাপদ এলে সে জানবে, এটিই তার তাক্বদীরে লিপিবদ্ধ ছিল এবং তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে পরীক্ষা। ফলে সে ধৈর্য্যহারা হবে না, আশাহত হবে না; বরং সে ধৈর্য্যধারণ করবে এবং আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে ছওয়াবের প্রত্যাশী হবে।[192]
বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ, ‘রাসূল’ নামক গ্রন্থের লেখক বোডলি (BODLEY) বলেন, ‘আমি মরুর আরবদের কাছ থেকে দুশ্চিন্তাকে পরাজিত করতে শিখেছি। কারণ মুসলিম হিসাবে তাক্বদীরের প্রতি তাদের ঈমান অটুট। আর এই ঈমান তাদেরকে যেমন নিরাপদে জীবন যাপন করতে সহযোগিতা করেছে, তেমনি তা তাদেরকে সহজ এবং সাবলীল জীবন যাপন করতে শিখিয়েছে। সেজন্য কোন বিষয়ে তারা তাড়াহুড়াও করে না; দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হয় না। কেননা তারা বিশ্বাস করে, তাক্বদীরে যা লেখা আছে, তা হবেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকে।…আমার আরব মরুভূমি ছেড়ে আসা ১৭ বছর হয়ে গেল, কিন্তু আজও আল্লাহ নির্ধারিত তাক্বদীরের ক্ষেত্রে আমি আরবদের সেই পরিচিত অবস্থান গ্রহণ করি। ফলে যেকোন বিপদাপদকে আমি ঠাণ্ডা মাথায় বরণ করে নিতে পারি। আরবদের কাছ থেকে শেখা এই স্বভাব আমার স্নায়ুবিক চাপ নিয়ন্ত্রণে উপশমকারী নানা ট্যাবলেট-ক্যাপসুলের চেয়ে বহুগুণ বেশী সফল হয়েছে।[193]
৭. তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনলে পরকালের সুখ-শান্তির জন্য বান্দা সর্বাত্মক চেষ্টা করতে সক্ষম হবে; ব্যর্থতা আর হতাশা তাকে গ্রাস করতে পারবে না।[194]
৮. তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনয়ন হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, জালিয়াতি প্রবণতাসহ অনেক মনের ব্যাধির চিকিৎসা হিসাবে কাজ করে। কেননা সে তার কোন ভাইকে নে‘মতের মধ্যে দেখলে, নিশ্চিত জানবে যে, আল্লাহই তাকে এই নে‘মত দান করেছেন। ফলে হিংসার পরিবর্তে সে তার মুসলিম ভাইয়ের নে‘মতে খুশী হবে এবং আল্লাহ্‌র কাছে নিজের জন্য অনুরূপ নে‘মত প্রাপ্তির প্রার্থনা করবে। আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান না আনলে মনের এজাতীয় ব্যাধির চিকিৎসা সম্ভব নয়।[195]
মহান আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং তদনুযায়ী সার্বিক জীবন পরিচালনার তাওফীক্ব দিন। আমীন!

[177]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬২১, ‘সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং শিষ্টাচার’ অধ্যায়, ‘মানুষকে আল্লাহ্‌র রহমত থেকে নিরাশ করা নিষেধ’ অনুচ্ছেদ।
[178]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিইয়াহ, ৮/৬৪।
[179]. আল-ঈমান বিল ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার/৭১-৭২।
[180]. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ, আস-সুন্নাহ, ২/৪৩২, আছার/৯৫৫, তাহক্বীক্ব: মুহাম্মাদ সাঈদ ক্বাহত্বানী, (দাম্মাম: দারু ইবনিল ক্বাইয়িম, প্রথম প্রকাশ: ১৪০৬ হি:); আজুর্‌রী, আশ-শারী‘আহ, ২/৮৪৪, আছার/৪২১; ইমাম লালকাঈ, শারহু উছূলিল ই‘তিক্বাদ, ৪/৭৩৭-৭৩৮, নং ১২১৩)। বর্ণনাটি যঈফ।
[181]. শারহু উছূলিল ই‘তিক্বাদ, ৪/৭৩৯, আছার/১২১৮; আব্দুর রাযযাক্ব, আল-মুছান্নাফ, ১১/১১৮, আছার/২০০৮১, তাহক্বীক্ব: হাবীবুর রহমান আ‘যমী, (বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, দ্বিতীয় প্রকাশ: ১৯৮৩ ইং)।
[182]. বুখারী, খালক্বু আফ‘আলিল ইবাদ/২৫; শারহু উছূলিল ই‘তিক্বাদ, ৩/৬০৭-৬০৮, আছার/৯৭০।
[183]. শারহু উছূলিল ই‘তিক্বাদ, ৪/৬৪০, আছার/১০২৭।
[184]. প্রাগুক্ত, ৪/৬৯৯, আছার/১১৩১।
[185]. আস-সুন্নাহ, ২/৪১৭, আছার/৯১২।
[186]. প্রাগুক্ত, ২/৪৩৩, আছার/৯৫৮।
[187]. হাফেয যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন্নুবালা, তাহক্বীক্ব: শু‘আইব আরনাঊত্ব এবং অন্যান্য, (বৈরূত: মুওয়াস্‌সাসাতুর রিসালাহ, নবম প্রকাশ: ১৯৯৩ ইং), ৪/৫৮১।
[188]. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ, আস-সুন্নাহ, ২/৮০৮, আছার/১৩৫৪।
[189]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯৯, ‘যুহ্‌দ এবং রিক্বাক্ব’ অধ্যায়, ‘মুমিনের সবকিছুই কল্যাণকর’ অনুচ্ছেদ।
[190]. তাফসীরে ত্ববারী, ২৩/১১।
[191]. মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ উছায়মীন, শারহুল আক্বীদাতিল ওয়াসেত্বিইয়াহ, ২/১৮৯-১৯০।
[192]. ড. ওমর সুলায়মান আল-আশক্বার, আল-ক্বাযা ওয়াল-ক্বাদার/১১০।
[193]. ডেল কার্নেগী, দা‘ইল ক্বালাক্ব ওয়াব্‌দাইল হায়াত, আরবী অনুবাদ: আব্দুল মুন‘ইম, (কায়রো: মাকতাবাতুল খানজী, তা. বি.), পৃ: ৩০৩-৩০৫।
[194]. ‘আল-ইনতেছার ফির-রদ্দি আলাল-মু‘তাযিলাতিল ক্বাদারিইয়াতিল আশরার’ নামক গ্রন্থের ভূমিকা, ১/৬১।
[195]. মুহাম্মাদ হাস্‌সান, আল-ঈমান বিল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার, (মানছূরাহ: মাকতাবাতু ফাইয়্যায, দ্বিতীয় প্রকাশ: ২০০৬ইং), পৃ: ২৬৮)।
 
 
সংকলন: আব্দুল আলীম ইব্‌ন কাওসার
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s