যখন চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে


যখন চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে

 

সমুদ্র ভ্রমণে বন্ধুর আমন্ত্রণ, না করতে পারেনি সাজিদ। অল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়ে পড়ল। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাহনে চেপে বসল। সী-ট্রাকের ছাদে দাঁড়িয়ে চারিদিকের মোহনীয় সব দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারাবার পালা। প্রকৃতি এত সুন্দর? এত অপরূপ মহান স্রষ্টার সৃষ্টি? এ যে কল্পনাকেও হার মানায়। উপরের নীল আকাশ সাগরের রূপালী জলরাশিতে নীল চাদর বিছিয়েছে যেন, কি অপরূপ নীলাভ করে তুলেছে তাকে। বহুদূর থেকে ছুটে আসা দক্ষিণা সমীরণ তরঙ্গ তুলে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। সমুদ্র গভীর থেকে জেগে উঠা তরঙ্গরাজি মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের সাক্ষ্য দিচ্ছে যেন। সী-ট্রাকের প্রাচীরে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির হিল্লোল দেখছে আর বিস্ময়াভিভূত হচ্ছে সাজিদ। কেবল মহান আল্লাহর দ্বারাই এই সৃষ্টি সম্ভব। যিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশ, জমিন, পাহাড়, সমুদ্র… সবকিছু। সাজিদ ভাবছে আর আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুরাগ গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। পরিস্থিতির সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়ে চারিদিক দেখছে আর উদ্বেলিত হচ্ছে। দেখছে সমুদ্র বুক চিরে সী-ট্রাক অপূর্ব ভঙ্গিমায় এগিয়ে যাচ্ছে সম্মুখ পানে। সেই সৌন্দর্য্য আরোও উপভোগ করার জন্য নিচের দিকে তাকাল সাজিদ। বিশাল এক ঢেউ আছড়ে পড়ল সী-ট্রাকের গায়। প্রচন্ডভাবে কেঁপে উঠল সী-ট্রাক। সাজিদ শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারল না, আর অমনি বিপদ আপতীত হল। সিটকে গিয়ে পানিতে পড়ল সাজিদ। বিপদ আরো তীব্রতা লাভ করল। কারণ সে ভাল সাতার জানে না। বাঁচাও! বাঁচাও! করে সাজিদ স্বজোরে চিৎকার জুড়ে দিল। এ দিকে বিশাল বিশাল ঢেউও যেন তাকে পরাভূত করতে একের পর এক আঘাত হানতে লাগল। বজ্রধ্বনির ন্যায় গর্জন করে ডাকতে লাগল ইয়া জিলানি! ইয়া দাসুকি! ইয়া গাউসুল আজম! ইয়া খাজাবাবা… তার ধারণায় এরা তাকে উদ্ধার করতে পারবে। সে ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করছে আর বিকট আওয়াজে চিৎকার করছে। এরই মাঝে নাফিসের দৃষ্টি তার উপর পড়ল। নাফিস, পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই বয়সের শক্ত-সমর্থ এক পৌঢ় বীর। চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। সফরের সহযাত্রী। সী-ট্রাকের ছাদে বসে ছিলেন। দেরি না করে লাইফ জ্যাকেট পরে সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন।

 

মুহূর্তের মাঝে পুরো সী-ট্রাকে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। যাত্রীরা সকলেই সী-ট্রাকের ছাদে উঠে আসল। এবং যার যার সামর্থ‌ মত উদ্ধার কাজে সহযোগিতায় প্রবৃত্ত হল। ডিঙ্গি নৌকা পানিতে ফেলা হল। উদ্ধার কর্মীরা বীর নাফিসের সাথে যোগ দিল এবং সাজিদকে সী-ট্রাকে উঠাতে সাহায্য করল। আল্লাহর মেহেরবানীতে এক সময় উদ্ধার কর্ম সমাপ্ত হল। আল্লাহর ইচ্ছায় সাজিদ নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বেঁচে গেল। বন্ধু নাবিল তাকে জড়িয়ে ধরে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করল। এরপর উভয়ে মিলে সাজিদের মৃত্যু হতে মুক্তির উপকরণ বানিয়ে আল্লাহ তাআলা যাকে পাঠিয়েছেন সেই বীর-বিক্রম মহান ব্যক্তিত্বকে খুঁজতে লাগল। খুঁজতে খুঁজতে সী-ট্রাকের এক কোনায় তাকে তাকে তার আবিষ্কার করল। তোয়ালে দিয়ে শরীর মুচছেন। সাজিদ দৌড়ে গিয়ে তার সাথে মুআনাকা করে বলল, জানি না আমার দ্বারা আপনার ঋণ পরিশোধ সম্ভব হবে কিনা। আমার জীবন বাঁচিয়েছেন আপনি।
সাজিদের কথা শোনে সুন্দর করে হাসলেন। এবং উপরের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবলেন। অত:পর আড়চোখে তাকিয়ে বললেন, [বৎস! তোমার জীবন রক্ষার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আর আমার প্রত্যাশা, তোমার জীবন রক্ষা পেয়েছে সে মূল্য তুমি পরিশোধ করবে।]
নাফিস সাহেবের কথাগুলো শুনে সাজিদ আশ্চর্য্যবোধ করল, ব্যাখ্যা পাওয়ার আশায় তাঁর দিকে তাকালো।
নাফিস সাহেব কথা চালিয়ে গেলেন, তুমি সমুদ্রে পড়ে ঢেউয়ের সাথে সংগ্রাম করছিলে আর জিলানি, দাসুকি, খাজাবাবা ও গাউসুল আজমকে উদ্ধার করার জন্য চিৎকার করে ডাকছিলে। তোমার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আমি বুঝতে পেরেছিলাম তোমার সাহায্যের প্রয়োজন।
সাজিদ: তাদের কাছে ফরিয়াদ করায় দোষের কি হয়েছে? তারা কি আল্লাহ তাআলার ওলি নন? বিপদ, মুসিবত ও সংকটের মুহূর্তে ডাকলে সাহায্যে এগিয়ে আসেন? তারাইতো আমার ডাকে সাড়া দিয়ে উদ্ধারের জন্য আপনাকে পাঠিয়েছেন। এ কথা বলা সাজিদ হাসল।
এত বড় বিপদে পড়ে আহত হওয়া সত্তেও সাজিদের মনে আলোচনা চালিয়ে যাবার তীব্র আকাঙ্খা জাগলো।
নাফিস বললেন: এই আলোচনাতো তুমি পরেও করতে পারবে। তোমার এখন বিশ্রামের প্রয়োজন। আমরাতো অনেক সময় পাচ্ছি। আর যদি চাও আলোচনা চলতে পারে।
সাজিদ নাফিস সাহেবের কথায় সায় দিল। কারণ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা অনুভূত হচ্ছিল।
সেদিনই সন্ধ্যার দিকে সী-ট্রাকের ছাদে সাজিদের সাথে নাফিস সাহেবের দেখা হল। সাজিদ কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছে।
নাফিস সাহেব কথা শুরু করলেন: সম্ভবত তুমি বিশ্রাম নিয়েছ। সাজিদ মাথা নাড়িয়ে জবাব দিয়ে বলল, আল-হামদু লিল্লাহ, আল-হামদু লিল্লাহ…।
সাজিদ বলল, আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছিলাম, সে সম্বন্ধে একটি হাদিস আপনার স্মরণে আছে নিশ্চয়ই।
নাফিস সাহেব: কি সেটি?
সাজিদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী,
إذا تحيرتم في الأمور فاستعينوا بأصحاب القبور.
অর্থাৎ, কোনো বিষয়ে পেরেশান হলে, কবর বাসীদের সাহায্য প্রার্থনা কর।’ আপনি কি এই হাদিস অস্বীকার করতে পারবেন?
নাফিস: কোনো মুসলমানের পক্ষেই রাসূলুল্লাহর একটিমাত্র হাদিসকেও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে, হাদিসটি সহিহ হতে হবে।
আর তুমি যদি বর্ণিত হাদিসে গিভীরভাবে চিন্তা কর তাহলে দেখবে এটি প্রাজ্ঞ হাদিস বিষারদবর্গের সর্বসম্মতি মতে জাল ও বানোয়াট। অনুরূপভাবে কোরআনের মর্মেরও পরিপন্থী। কেননা ইস্তেআনার অর্থ হচ্ছে, সাহায্য প্রার্থনা করা। আর সূরা ফাতেহাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের শেখাচ্ছেন। [وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ] আরবি সাহিত্যের ধারা অনুযায়ী বাক্যটি আমাদেরকে হসর তথা সীমিতকরণের ধারণা দিচ্ছে। অর্থাৎ, আমরা কেবল তোমারই [আল্লাহর] সাহায্য চাই। সুতরাং সাহায্য কেবল আল্লাহর কাছেই চাওয়া যাবে। অন্য কারে কাছে নয়। এখন তুমি বল, তোমার উদ্ধৃত হাদিস কি কোরআনের মর্মের বিপক্ষে যাচ্ছে না? কোরআন যা বলছে তার বিপরীত ধারণা দিচ্ছে না?
আমরা কি প্রতিদিনই প্রতিটি সালাতে সূরা ফাতেহা পড়ছি না এবং যে কোনো ভাবেই হোক এ ধারণা বার বার পাচ্ছি না?
হে বন্ধু! এই হাদিস একজন মাত্র সাহাবিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনেছেন বলে প্রমাণিত হয়নি। এ ধরনের বক্তব্য না কোনো সাহাবি দিয়েছেন কখনো, না কোনো তাবেয়ি। হাদিস সংকলকদের কেউ, নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে এটি উদ্ধৃত করেছেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাজিদ: এটি হাদিস শাস্ত্রের বিখ্যাত পন্ডিত আল্লামা আজলুনি কর্তৃক রচিত ‘কাশফুল খাফা’ গ্রন্থে আছে।
নাফিস: তোমার কথা ঠিক। তবে আল্লামা আজলুনি রহ. কাশফুল খাফা রচনা করেছেন, ‘জয়িফ’ ও মানুষের কাছে প্রশিদ্ধ হয়ে যাওয়া ‘মওজু’ হাদিস থেকে সহিহ হাদিসকে আলাদা করবার জন্য। তাই তাতে অনেক মওজু হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। জাল হাদিস রচনাকারীদের আল্লাহর কাছে তওবা করা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই।
সাজিদ: তাহলে হাদিসটি মওজু! কথাটি সাজিদ এমনভাবে বলল যেন কিছুতে সে ডুবে যাচ্ছে। হঠাৎ নাফিস সাহেবকে প্রশ্ন করে বসল। তাহলে আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণী সম্বন্ধে আপনি কি বলবেন? আল্লাহ বলছেন,
فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِنْ شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ
তখন তার নিজের দলের লোকটি তার শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তার কাছে সাহায্য চাইল।[সূরা কাসাস:১৫]
এই আয়াত স্পষ্টরূপে প্রমাণ করে যে, মুসিবতে আক্রান্ত হলে মৃত ও অনুপস্থিতদের নিকট সাহায্য চাওয়া জায়েয।
নাফিস: বুঝতে পারছি। তুমি আসলে জায়েয সাহায্য প্রার্থনা ও নিষিদ্ধ সাহায্য প্রার্থনার মাঝে পার্থক্যটি ধরতে পারনি।
সাজিদ: উভয়ের মাঝে পার্থক্য আছে তাহলে?
নাফিস: পার্থক্য স্পষ্ট, আপাত দৃষ্টিতেই বুঝা যায়। প্রাজ্ঞ আলেমবৃন্দ সেটি উল্লেখ করেছেন। অনিষ্টি প্রতিরোধ ও লড়াই জাতীয় অনুধাবনযোগ্য বিষয়াদির ক্ষেত্রে ক্ষমতাবান, জীবিত ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ থেকে সাহায্য কামনা করা জায়েয।
আর কঠিন বিপদাপদ যেমন অসুস্থতা, পানিতে ডুবে যাওয়া -যা ক্ষাণিক আগে তোমার বেলায় ঘটেছিল- ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ। অনুরূপভাবে যেসব বিষয়ের উপর মানুষের ক্ষমতা নেই সেসব ক্ষমতা বহির্ভূত বিষয়ে মানুষের সাহায্য প্রার্থনা করাও নিষিদ্ধ।
নাফিস সাহেব ও সাজিদ সী-ট্রাকের একটি কোনায় গিয়ে মুখোমুখি দুটি আসনে বসল।
সাজিদ: তাহলে, আমরা কি জীবত মানুষের নিকট সাহায্য চাই না? মৃত ওলী-আউলিয়াদের রূহও এমনই। এগুলো (অক্কাপ্রাপ্ত অলীদের রূহ) কোষমুক্ত তরবারির মত। সাহায্য-সহযোগিতার ক্ষেত্রে এরা ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী। কতৃত্বের ক্ষেত্রে আল্লাহর ওলীরা বিশাল ক্ষমতাশালী।
নাফিস: আগে তুমি আমাকে বল, তোমাকে এসব তথ্য কে দিয়েছে? কে বলেছে ওলীদের আত্মা কোষমুক্ত তরবারির মত? আল-কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে এসব কথার সনদ কি?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে নেই। যতবার আমরা তাঁর আলোচনা করি অথবা কবর যিয়ারত করি তাঁর প্রতি দরূদ পড়ি, তাঁকে সালাম দেই। তবে তাঁকে যদি ডাকাডাকি করি তাহবে শরয়ি বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তখন আমাদের ও সাহায্যের জন্য ঈসা আলাইহিসসালামকে ডাকাডাকিকারী নাসারাদের মাঝে পার্থক্য থাকবে কোথায়? সুতরাং রাসূলুল্লাহকে ডাকার অর্থই হবে একাজে তাদের অনুসরণ করা। তাদের মত ও পথ অবলম্বন করা।
আর তুমি যে বললে, আল্লাহর ওলীরা মারা যাবার পর কর্তৃত্ব, পরিচালনা ও সাহায্যের ক্ষেত্রে অধিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যান। এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। কোরআন সুন্নাহর কোথাও এ ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি। দৃশ্য-অদৃশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এসব ধারণার বাতুলতা ও অসারতা সম্বন্ধে আমাদেরকে সুস্পষ্ট করে বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴿42﴾  (الزمر:42)
আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। [সূরা যুমার:৪২]
এ আয়াত প্রমাণ করছে, রূহসমূহকে মহান আল্লাহ বরযখের কোনো এক জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখেন।
আর মৃত সম্বন্ধে মহান আল্লাহ বলছেন,
وَمَا يَسْتَوِي الْأَحْيَاءُ وَلَا الْأَمْوَاتُ إِنَّ اللَّهَ يُسْمِعُ مَنْ يَشَاءُ وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ ﴿22﴾ (فاطر:22)
আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়; নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না। [সূরা ফাতির:২২]
ঈসা বিন মারয়াম আ. পরকালে বলবেন, (যেমন আল্লাহ বলছেন,)
وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ﴿117﴾(المائدة:117)
আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনি ছিলেন তাদের পর্যবেক্ষণকারী। আর আপনি সব কিছুর উপর সাক্ষী। [সূরা মায়েদা:১১৭]
এখন তুমিই বল, মসিহ ঈসা এর মত আল্লাহর একজন জলিলুল কদর রাসূলই যখন তাঁর বিদায়ের পর উম্মতের মাধ্যমে সঙ্ঘটিতব্য কার্যাদি বিষয়ে ওয়াকিবহাল নন। তাহলে ‘ওলী আল্লাহদের রূহ কোষমুক্ত তরবারির মত’ বক্তব্য কিভাবে গ্রহণ করা যায়?
এসব ধারণার অসারতা সম্বন্ধে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট করে বর্ণনা দিয়েছেন, ইরশাদ হচ্ছে,
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ ﴿5﴾ (الأحقاف:5)
তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে উদাসীন। [সূরা আহকাফ:৫]
আয়াতগুলো সাজিদ তন্ময় হয়ে শুনতে লাগল। একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেল সে। কতই না চমৎকার, তৃপ্তিদায়ক ও সন্তোষজনক বক্তব্য। তার নীরবতা দীর্ঘ হল। আয়াতের মর্ম উপলব্ধি করার চেষ্টা করছে আর গভীর মনোযোগ দিয়ে ভাবছে। সাজিদ বরাবরই কোরআন তেলাওয়াত শোনার প্রতি  দুর্বল।
নাফিস সাহেব নিজ আসন নিয়ে সামান্য পেছনে সরে গেলেন। নরম গলায় সাজিদকে লক্ষ্য করে বললেন, দেখি চা পাওয়া যায় কিনা। আলাপ চারিতায় চাঞ্চল্য ফিরে আসবে।
নাফিস সাহেব চলে গেলেন। সাজিদের চক্ষুদ্বয় তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছে আর সে মনে মনে বলছে, তিনি যা বলছেন সেগুলো কি হক না বাতিল? বাতিলই বা হয় কি করে তিনিতো অনেকগুলো মুহকাম আয়াতের উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেছেন… তবে।
তার মস্তিষ্কে নানা চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল। মনে হল পৃথিবী তাকে নিয়ে ঘুরছে। চেতনায় ফিরে দেখতে পেল, নাফিস সাহেব দাড়ানো। মুখে মিষ্টি হাসি লেগে আছে আর দু’হাতে দু’টো চায়ের পেয়ালা।
সাজিদ চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে কিছু বলার জন্য নাফিস সাহেবের দিকে তাকালো। বলল, আমার ফুফুর বিয়ে হয়েছে অ-নে-ক দিন আগে। সন্তানাদি হচ্ছিল না। ডাক্তার কবিরাজসহ চেষ্টা-তদবিরের কোনো দিক তিনি বাকি রাখেননি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। যখন যে যা বলেছে সে দিকে দৌড়িয়েছেন। ফলাফল শূন্য। উপায়ান্ত না পেয়ে সর্বশেষ জিলানির মাজারে গেলেন। আর একটি সুন্দর ছেলে জন্ম নিল। আচ্ছা এ ঘটনাটা কি প্রমাণ করে না যে, মৃতদের কতৃত্ব অবশিষ্ট থাকে?
নাফিস সাহেব তড়িৎ জবাব দিলেন, আগে তুমি বল আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পর মানুষের আমল সম্বন্ধে কি বলেছেন? তিনিতো আমাদের বলেছেন,
إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة: إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له .
মানুষ যখন মারা যায় তিনটি ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়, (সেই আমলত্রয়ী হচ্ছে) সদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। [সহিহ মুসলিম:৩০৮৪]
রাসূলুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী জিলানির মৃত্যুর পর তাঁর আমল বন্ধ হয়ে গিয়েছে । আর তোমার ফুফুর সন্তান লাভ করা হচ্ছে, মহান আল্লাহর দান। তিনিই তাকে তা দান করেছেন। তোমার উচিত এ নিয়ামতের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। তাঁর স্বীকৃতি প্রদান করা। দুনিয়া ছেড়ে যাওয়া জিলানির নয়। হাদিসে বর্ণিত আমলগুলোর সাওয়াব মৃত্যুর পরও চলমান থাকে। এগুলোছাড়া মৃত্যুর পর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
একটু চিন্তা করে দেখোতো,
যেসব বিষয়ে জীবিতদের ক্ষমতা নেই সেসব বিষয়ে বুঝি মৃতরা ক্ষমতাবান? অথচ আল্লাহ তাআলা বলছেন,
وَمَا يَسْتَوِي الْأَحْيَاءُ وَلَا الْأَمْوَاتُ إِنَّ اللَّهَ يُسْمِعُ مَنْ يَشَاءُ وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ ﴿22﴾ (فاطر:22)
আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়; নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না। [সূরা ফাতির:২২]
খুবই মন্দ ও পরিতাপের বিষয়, লোকেরা অনেক সময় এমনসব কাজের বর্ণনা মানুষকে শোনায়, বাস্তবতার নিরিখে যার কোনো ভিত্তিই নেই। সম্পাদনকারীরা এসব কাজকে নিজেদের চোখে সুন্দর দেখে তাই যারা এগুলোকে তাদের নিকট সুন্দর বলে উপস্থাপন করে তাদের মর্যাদা রক্ষার্থে বড় মনে করে।
কাউকে কবরে নেওয়া হল আর সে আরগ্য লাভ করল। হতে পারে বাস্তবিক পক্ষেই সে আরগ্য লাভ করেছে। কিন্তু সেই আরগ্য লাভে মৃত ব্যক্তি মাধ্যম হিসাবে কাজ করেছে এ কথা কোনোভাবেই মানা যায় না। আচ্ছা! আমরা হর হামেশা দেখি যে, কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা নিজেদের শরীরে ধারালো ছুরি বিদ্ধ করে আর কিছু লোক এই কাজকে তাদের বৈশিষ্ট্য ও কারামত বলে বিশ্বাস করে। এদিকে শরীরে তরবারি বিদ্ধ করার ব্যাপারে হিন্দুদের খ্যাতি বিশ্বব্যাপি। তারা বাঁশের ধারালো কুঞ্ছি দ্বারা গন্ডদেশ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত করে এমনকি সেসব কুঞ্ছি শরীরের একদিক দিয়ে প্রবেশ করিয়ে অন্য দিক দিয়ে বের করে আনে। এখন কাদেরিয়াদের সেই কাজ যদি কারামত হয় তাহলে হিন্দুদের এইসব কাজকেতো মু’জেজা বলতে হবে।
সাজিদ! বাস্তবতা হচ্ছে দুই দলের কারো কাজের সাথে দ্বীনে ইসলামের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এইসব কাজ হতে দ্বীনকে পবিত্র ও মুক্ত করা অতীব জরুরি।
সাজিদ: তবে শায়খ আব্দুল কাদের জিলানি তাঁর এক কবিতায় বলেছেন,
مريدي إذا ما كان شرقا و مغربا                           أغيثه إذا ما صار في أي بلدة
আমার মুরিদ, প্রাচ্যে অবস্থান করুক কিংবা পাশ্চাত্যে, যে দেশেই সে অবস্থান করুক না কেন আমি তাকে সাহায্য করে থাকি।
আমি নিজে উপস্থিত থেকে দেখেছি কতিপয় মুরিদ দুর্দশায় আক্রান্ত হয়ে নিজ শায়খের কাছে ফরিয়াদ করেছে, আর শায়খ ফরিয়াদ শুনে বিপদ দূর করে দিয়েছেন এবং তাকে উদ্ধার করেছেন।
নাফিস: কোরআনের অনেকগুলো আয়াত তোমার এই কথাটির বিরোধী । তোমার বক্তব্য গ্রহণ করলে সেই আয়াতগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আল্লাহ বলেন,
أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ أَئِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ ﴿62﴾
বরং তিনি, যিনি নিরুপায়ের আহবানে সাড়া দেন এবং বিপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি বানান। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে?  তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। [সূরা নামল:৬২]
প্রয়োজন দেখা দিলে তা পুরণের জন্য যদি সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট ধর্না দেয় তাহলে আল্লাহর ধারস্থ হওয়ার অনিবার্যতার অনুভূতি তার কোত্থেকে হবে?
তাছাড়া এসব মাশায়েখ সম্বন্ধে যা বর্ণনা করা হয় তার অধিকাংশই মিথ্যা । খানিক আগে তুমি যে কবিতাটি শুনিয়েছ সেটিও সেই অশুদ্ধ ও মিথ্যা বিষয়গুলোরই একটি। যখন হাজার হাজার জাল হাদিস রচনা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়েছে তখন শায়খ আব্দুল কাদের জিলানি, জুনায়েদ বোগদাদি, রেফায়ি সম্বন্ধে মিথ্যা প্রচারনা চালালে আশ্চর্য্য হবার কি আছে? তোমার কথা অনুযায়ী আব্দুল কাদের জিলানি যদি আমাদের নিকট আসেনও এবং এই কবিতা আবৃত্তি করেন, আমরা তা মেনে নেব না এবং তাঁর জ্ঞানের পরিধি সম্বন্ধে আমাদের ধারণার স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে ওজর পেশ করব। বরং নি:সংশয়ে তাঁর দাবী প্রত্যাখ্যান করে ফিরিয়ে দেব। কারণ কেয়ামতের দিন আমাদের হিসাব নেয়া হবে কোরআন সম্বন্ধে আব্দুল কাদের জিলানি সম্বন্ধে নয়।
সাজিদ: এক মানুষ কি অপর মানুষের নিকট সাহায্য চায় না? তাহলে গায়রুল্লাহর সাহায্য চাওয়া হয় না কোথায়?
নাফিস: পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা করার উৎসাহ দিয়ে অসখ্য আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি মানুষই জানে মৃতদের কাছে সাহায্য প্রার্থনার বিষয়টি আর হাদিস কোরআনে বর্ণিত সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ কোনো বিষয়ে নিজেকে যখন অক্ষম দেখতে পায় তখন তাদের কাছ থেকে সাহায্য চায়। অনিষ্ট দূর কিংবা কল্যাণ সাধনের জন্য চিরাচরিত অভ্যাস বহির্ভূত পন্থায় তাদেরকে ডাকে।
একটা উদাহরণ দিচ্ছি শোন,
একদল লোক গাড়ীতে চলমান অবস্থায় প্রবল ঝড়ে আক্রান্ত হল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে তাদের একজন শায়খ রেফায়িকে ডাকাডাকি শরু করল: ইয়া সাইয়্যেদানা, ইয়া রেফায়ি। বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করতে লাগল। এই প্রার্থনাকারী যদি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা, সম্যক জ্ঞাত আল্লাহকে ডাকত যার নিকট কোনো কিছুই গোপন নয় তাহলে ভাল কাজ করত। কিন্তু সে তা না করে সাইয়্যেদ রেফায়িকে ডাকল, যিনি নিজ কবরে শুয়ে ঘুমুচ্ছেন। তার এই কাজের অর্থই হচ্ছে, সে বিশ্বাস করে যে রেফয়ি তার ডাক শুনতে পাবেন এবং সাথে সাথে এখানে এসে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম। সুতরাং এই আহ্বানকারী রেফায়ির এমন যোগ্যতা ও গুণের বিশ্বাস মনে স্থান দিল যা মূলত মানুষের গুণাগুণের উর্ধ্বে। যেমন, জীবন, জ্ঞান, শ্রবন, দর্শন, ইচ্ছা, রহমত ও কুদরত। আর জীবন হচ্ছে মৃত্যুর বিপরীত। সে যদি রেফায়িকে জীবিত মনে না করত তাহলে তাকে ডাকত না এবং সাহায্যও প্রার্থনা করত না। তার এই কাজটি যদি সঠিক ও শরিয়ত সম্মত হত তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিরাও সঙ্কট-মুসিবতের সময় এমনটি করতেন। কিন্তু ইসলামের ইতিহাস ঘাটলে এমন একজন সাহাবিকেও পাওয়া যাবে না যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর মৃত্যুর পর ফরিয়াদ করেছেন।
এসব কথা শুনে সাজিদ ভ্রূকুঞ্চিত করে নাফিস সাহেবের বিরোধিতা করে বলল, এই কথাতো সকলেরই জানা যে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ উম্মতকে সাহায্য করেন, তাদের নেককারদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়।
নাফিস: ভাইসাব! এই ধারণার প্রচলন ঘটালো কে? কে জানালো এই বিষয়ে? আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেসালতের দায়িত্ব পালন করেছেন- উম্মতের নিকট সেটি পূর্নাঙ্গরূপে পৌঁছিয়েছেন। আমানত আদায় করেছেন। উম্মতের হিতাকাংক্ষীতা করেছেন-তাদেরকে হিতোপদেশ দিয়েছেন। আর সেই রাসূল বলছেন, (আল্লাহ নিজ ভাষায় বলছেন)
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿188﴾
বল আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমি তো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে। [সূরা আ’রাফ:১৮৮]
তাঁর পবিত্র শরীর তাঁর কবরে বিদ্যমান। কিয়ামত পর্যন্ত সেটি সেখান থেকে বের হবে না।
সাজিদ: আপনার এই কথার প্রমাণ কি? বরং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের সাহায্যার্থে কবর থেকে বের হয়ে আসেন।
নাফিস: প্রমাণ, মহান পবিত্র আল্লাহর বাণী,
ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ ﴿15﴾ ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ ﴿16﴾
এরপর অবশ্যই তোমরা মরবে।তারপর কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমরা পুনরুত্থিত হবে। [সূরা মুমিনূন:১৫-১৬]
আয়াতে লক্ষ্য করেছ নিশ্চয়, আল্লাহ তাআলা এখানে ثُمَّ ব্যবহার করেছেনে। আর ثُمَّ পশ্চাদ্বর্তী করনের জন্য ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ আমরা মরে যাব এবং এর পর আমাদেরকে উত্থিত করা হবে এতদুভয়ের মাঝে আর কিছু নেই। সম্বোধনটি ব্যাপক, সব মানুষের মত নবী-রাসূলগণও এর ভেতর শামিল।
হাদিসে এসেছে,
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أنه كان يقول: لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لي: ما لي أراك منكسرا؟ فقلت يا رسول الله! استشهد أبي وترك عيالا ودينا، قال: أفلا أبشرك بما لقي الله به أباك؟ قلت: بلى يا رسول الله!  قال: ما كلم الله أحدا قط إلا من وراء الحجاب، وأحيا أباك كفاحا، فقال: يا عبدي تمن عليّ أعطك، فقال: يا رب! تحييني فأقتل فيك ثانية، فقال الرب: إنه سبق مني: أنهم إليها لا يرجعون. أخرجه الترمذي وابن ماجة
সাহাবি জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, আমার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বাক্ষাত করলেন। আমাকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, কি ব্যাপার, তোমাকে মনভাঙ্গা দেখাচ্ছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার বাবা শহিদ হয়েছেন। তিনি পরিজন ও কিছু ঋণ রেখে গেছেন। বললেন, আল্লাহ তাআলা যা নিয়ে তোমার পিতার সাথে স্বাক্ষাত করেছেন আমি কি সেই বিষয়ে তোমাকে সুসংবাদ দেব? আমি বললাম, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ। বললেন, আল্লাহ তাআলা কারো সাথে কেবল পর্দার পেছন থেকেই কথা বলেন। তিনি তোমার পিতাকে জীবিত করে বলেছেন, হে আমার বান্দা আমার কাছে আশা কর, (কিছু চাও) আমি তোমাকে দেব। তিনি বললেন, হে রব, আমাকে জীবিত করে দিন, যাতে আপনার নামে আবারো নিহত হতে পারি। আল্লাহ বললেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে যে, তারা তাতে প্রত্যাবর্তিত হবে না। [তিরমিজি, ইবন মাজাহ]
وعن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذا مات أحدكم عرض عليه مقعده بالغداة والعشي، إن كان من أهل الجنة فمن إهل الجنة، وإن كان من أهل النار فمن أهل النار، فيقال: هذا مقعدك حتى يبعثك الله يوم القيامة. أخرجه مسلم
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ মারা গেলে প্রত্যহ সকাল-বিকাল তার ঠিকানা তার সম্মুখে উপস্থাপন করা হয়। ব্যক্তি যদি জান্নাতবাসী হয