রাসুলুল্লাহ সঃ এর জীবনী পার্ট -দুইদুই


হযরত মুহাম্মদ স :নবী জীবনীমুর্তি পূজাই ছিল আরব দেশে প্রচলিত ধর্ম। সত্যধর্মের পরিপন্থী এ ধরনের মূর্তিপূজাবাদঅবলম্বন করার কারণে তাদরে এ যুগকেআইয়্যামে জাহেলিয়াত তথা মুর্খতার যুগ বলা হয়। লাত,উযযা, মানাত ও হুবল ছিল তাদের প্রসিদ্ধউপাস্যগুলোর অন্যতম। আরবের কিছু লোকইয়াহূদী বা খৃষ্টান ধর্ম বা অগ্নি পুজকদের ধর্মগ্রহণ করেছিল। আবার স্বল্প সংখ্যক লোক ছিল যারাইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর প্রদর্শিত পথে ছিলঅবিচল, আঁকড়ে ধরেছিল তাঁর আদর্শ। অর্থনৈতিক দিকদিয়ে বেদুঈনরা সম্পূর্ণভাবে পশু সম্পদের উপরনির্ভর করত। আর নগরবাসীদের নিকট অর্থনৈতিকজীবনেরও ভিত্তি ছিল কৃষি কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য।ইসলাম আবির্ভাবের পূর্বে আরব দেশে মক্কাইছিল বৃহত্তর বাণিজ্য নগরী। অন্যান্য বিভিন্নঅঞ্চলে উন্নয়ন ও নাগরিক সভ্যতা ছিল। সামাজিক দিকদিয়ে যুলুম সবর্ত্র বিরাজমান ছিল, সেখানেদুর্বলের ছিলনা কোন অধিকার। কন্যা সন্তানকেজীবদ্দশায় দাফন করা হতো। মান-ইজ্জত ওসম্মানকে করা হতো পদদলিত। সবল দুর্বলেরঅধিকার হরণ করতো। বহুবিবাহ প্রথার কোন সীমাছিল না। ব্যভিচার অবাধে চলতো। নগন্য ও তুচ্চকারণে যুদ্ধের অগ্নিশিখা জ্বলে উঠতো।সংক্ষেপে বলতে গেলে-ইসলামেরআবির্ভাবের পূর্বে আরব দ্বীপের সার্বিকপরিস্থিতি এ ধরনের ভয়াবহই ছিল।ইবনুয্যাবিহাঈনরাসূলের দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সাথে কুরাইশরাছেলে-সন্তান ও সম্পদের গৌরব ও অহংকারপ্রদর্শন করতো। তাই তিনি মানত করলেন যে,আল্লাহ যদি তাকে দশ জন ছেলে দান করেনতাহলে তিনি এক জনকে কথিত ইলাহের নৈকট্যপ্রাপ্তির লক্ষ্যে যবেহ করবেন। তাঁর সাধ বাস্তবরূপ পেল। দশ জন ছেলে জুটলো তাঁর ভাগ্যে।তাদের একজন ছিলেন নবীর পিতা আব্দুল্লাহ।আব্দুল মুত্তালিব মানব পুরোন করতে চাইলেলোকজন তাকে বাধা দেয়, যাতে এটা মানুষেরমধ্যে প্রথা না হয়ে যায়। অতঃপর সবাই আব্দুল্লাহ এবংদশটি উটের মধ্যে লটারীর তীর নিক্ষেপকরতে সম্মত হয়। যদি লটারীতে আব্দুল্লাহ নামআসে তাহলে প্রতিবার ১০টি করে উট সংখ্যায় বৃদ্ধিকরা হবে। লটারী বারংবার আব্দুল্লাহর নামে আসতেথাকে। দশমবারে লটারী উটের নামে আসে যখনতার সংখ্যা ১০০ তে দাড়ায়। ফলে তাঁরা উট যবেহ করলএবং রক্ষা পেল আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ তাঁর পিতাআব্দুল মুত্তালিবের সব চাইতে প্রিয় ছেলে ছিল।আব্দুল্লাহ তরুণ্যের সীমায় পা রাখলে তাঁর পিতাবনী যোহরা গোত্রের আমেনা বিনতে ওয়াহাবনামক এক তরুণীর সাথে তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করে।বিয়ের পর আমেনা অন্তঃসত্বা হবার তিন মাস পরআব্দুল্লাহ এক বানিজ্যিক কাফেলার সাথে সিরিয়ারউদ্দেশ্যে রাওয়ানা হয়। কিন্তু প্রত্যাবর্তনেরপথে রোগাক্রান্ত হয়ে মদিনায় বনী নাজ্জারগোত্রে তাঁর মামাদের কাছে অবস্থান করে এবংসেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়সেখানে। এদিকে গর্ভের মাসগুলো পুরোহয়ে প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসলো। আমেনাঅবশেষে সন্তান প্রসব করলো। আর এ ঐতিহাসিকঘটনা সংঘটিত হয় ৫৭১ ইং এর ১২ই রবিউল আওয়ালসোমবার ভোরবেলায়। উল্লেখ্য যে সেবছরেই হস্তী বাহিনীর ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।হস্তী বাহিনীর ঘটনাহস্তী বাহিনীর সংক্ষিপ্ত ঘটনা হলো:আবরাহা ছিল ইথিওপিয়ার শাসক কর্তৃক নিযুক্ত ইয়ামানেরগভর্নর। সে আরবদেরকে কাবা শরিফে হজ্জকরতে দেখে সানআতে (বর্তমানে ইয়ামানেররাজধানী) এক বিরাট গির্জা নির্মাণ করলো যেনআরবরা এ নব নির্মিত গির্জায় হজ্জ করে। কেননাগোত্রের এক লোক (আরবের একটা গোত্র)তা শুনার পর রাতে প্রবেশ করে, গির্জারদেয়ালগুলোকে পায়খানা ও মলদ্বারা পঙ্কিল করেদেয়। আবরাহা এ কথা শুনার পর রাগে ক্ষেপেউঠলো। ৬০ হাজারের এক বিরাট সেনা বাহিনী নিয়েকাবা শরিফ ধ্বংস করার জন্য রওয়ানা হলো। নিজেরজন্য সে সব চেয়ে বড় হাতিটা পছন্দ করলো।সেনাবাহিনীর মধ্যে নয়টি হাতি ছিল। মক্কারনিকটবর্তী হওয়া পর্যন্ত তাঁরা যাত্রা অব্যাহতরাখলো। তাঁর পর সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করেমক্কা প্রবেশ করায় উদ্ধত হলো কিন্তু হাতি বসেগেল কোনক্রমেই কাবার দিকে অগ্রসর করানোগেলনা। যখন তারা হাতীকে কাবার বিপরীত দিকেঅগ্রসর করাতো দ্রুত সে দিকে অগ্রসর হতোকিন্তু কাবার দিকে অগ্রসর করাতে চাইলে বসেপড়তো। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাদের প্রতি প্রেরণকরেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি যা তাদের উপর পাথরেরটুকরা নিক্ষেপকরা শুরু করে দিয়েছিল। অতঃপরতাদরেকে ভক্ষিত ভৃণ সদৃশ করে দেয়া হয়।প্রত্যেক পাখি তিনটি করে পাথর বহন করছিল। ১টিপাথর ঠোঁটে আর দুটি পায়ে। পাথর দেহেপড়ামাত্র দেহের সব অঙ্গ-প্রতঙ্গ টুকরোটুকরো হয়ে যেতো। যারা পলায়ন করে তাঁরাওপথে মৃত্যুর ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি।আবরাহা এমনি একটি রোগে আক্রান্ত হয় যার ফলেতাঁর সব আঙ্গুল পড়ে যায় এবং সে সানআয় পাখির ছানারমত পৌছলো এবং সেখানে মৃত্যু হলো। কুরাইশরাগিরিপথে বিক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং সেনাবাহিনীরভয়ে পর্বতে আশ্রয় নিয়েছিল। আবরাহারসেনাবাহিনীর এ অশুভ পরিণামের পর তাঁরা নিরাপদেঘরে ফিরে আসে। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের ৫০ দিন পূর্বে এঘটনা সংঘটিত হয়।দুগ্ধ পানআরবদের প্রথা ছিল যে তাঁরা তাদের শিশুদেরকেবেদুঈন অধ্যুষিত মরু অঞ্চলে লালন-পালন করারউদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিত। সেখানে তাদের দৈহিকসুস্থতার অনুকুল পরিবেশ ছিল। রাসূলের পবিত্র জন্মলাভের পর বনী সা‘দ গোত্রের কিছু বেদুঈনলোক মক্কায় আসে। তাদের মহিলারা মক্কার ঘরেঘরে শিশুর অনুসন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তুরাসূলের পিতৃহীনতা ও দারিদ্রের কারণে কেউতাকে নেয়নি। হালিমা সা‘দিয়াও ছিল তাদের মধ্যেএকজন। সবার মত সেও ছিল বিমুখ। শিশু পালনেরপারিশ্রমিক দিয়ে জীবনের অভাব অনটন বিমোচনকরার লক্ষ্যে মক্কার অধিকাংশ ঘরে শিশুর অনুসন্ধানকরেও সফল হয়নি সে। অধিকন্তু সে বছরে ছিলঅনাবৃষ্টি ও খরা। তাই স্বল্প পরিশ্রমিকে এতিমসন্তানকে নেয়ার উদ্দেশ্যে আমেনার ঘরেআবার ফিরে আসে সে। হালিমা আপন স্বামীরসাথে মক্কায় মন্থর গতিতে চলে এমন একটি দূর্বলগাধিনী নিয়ে এসেছিল। কিন্তু প্রত্যাবর্তনেরপথে রাসূলকে কুলে নেয়ার পর গাধিনী অত্যন্তদ্রুত গতিতে চলতেছিল এবং অন্যান্য সবজানোয়ারকে পিছনে ফেলে আসছিল। ফলেসফর সঙ্গীরা অত্যন্ত আশ্চর্যাম্বিত হয়। হালিমাআরো বর্ণনা করেন যে, তাঁর স্তনে কোন দুধছিল না, তাঁর ছেলে ক্ষুধায় সর্বদা কাঁদতো। রাসূলেকরীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র মুখস্তনে রাখার পর প্রচুর পরিমাণে দুধ তাঁর স্তনেআসতে লাগলো। বনী সা‘দ গোত্রের অধ্যুষিতঅঞ্চলের অনাবৃষ্টি সম্পর্কে বলে যে, এ শিশু(মহাম্মদ) দুধ পান করার বদৌলতে জামিতে উৎপন্নহতে লাগলো ফল মুল এবং ছাগল ও অন্যান্য পশুদিতে লাগলো বাচ্চা। অবস্থা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়।দারিদ্র ও অভাব-অনটনের পরিবর্তে সুখ ও সমৃদ্ধিসর্বত্র রিাজমান। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামহালিমার পরিচর্যায় দুবছর পালিত হয়।হালিমা তাঁকে দারুণ ভাবে চাইতো। হালিমা নিজেইহৃদয়ের গভীরে এ শিশুকে ঘিরে রাখা অস্বাভাবিককিছু জিনিস পুরো অনুভব করতো। দু’বছর শেষহবার পর হালিমা তাকে মক্কায় মাতা ও দাদার কাছে নিয়েআসলো। কিন্তু হালিমা রাসূলের বরকত অবলোকনকরে যে, বরকত তাঁর অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায়আমেনার কাছে রাসূলকে দ্বিতীয় বার দেয়ারজন্য আবেদন করলো। আমেনা তাতে সম্মত হয়।হালিমা এতিম শিশুকে নিয়ে নিজ এলাকায় আনন্দ ওসন্তোষ সহকারে ফিরে আসে।বক্ষ বিদারণএক দিন শিশু মুহাম্মাদ হালিমার ছেলেরে সাথে তাবুথেকে দূরে খেলা-ধুলা করতেছিল। এ সময় তাঁরবয়স ছিল চার বছরের কাছাকাছি, এমতাবস্থায় হালিমারছেলে ভীত সন্ত্রস্ত ও আতংকগ্রস্ত হয়েমায়ের কাছে দৌড়ে এসে তাকে কুরাইশী ভায়েরসাহায্যে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালো। ঘটনা কিজিজ্ঞেস করা হলে সে উত্তর দেয় যে, দু’জনসাদা পোষাক পরিহিত লোককে আমাদরে কাছথেকে মুহাম্মাদকে নিয়ে মাটিতে চিৎকরে তাঁরবক্ষ বিদীর্ণ করতে দেখেছি। তাঁর বর্ণনা শেষনা করতেই হালিমা ঘটনা স্থলের দিকে দৌড়ে যান।গিয়ে দেখেন মুহাম্মদ নিজ স্থানে স্থিরভাবেদাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর মুখমন্ডল হলুদ বর্ণ, দেহফ্যাকাশে। তাঁকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেঅত্যন্ত শান্ত ভাবে জবাব দেন যে তিনি ভালআছেন। তিনি আরো বলেন: সাদা পোষাক পরিহিতদু’ব্যিক্তি এসে তাঁর বক্ষবিদীর্ণ করে হৃদয় বেরকরে কাল জমাট বাধা রক্ত বের করে ফেলেদেয়, এবং হৃদয়কে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে আবারযথাস্থানে রেখে দেয়। বক্ষ মুছিয়ে দৃষ্টিরঅন্তরালে চলে যায়। হালিমা বক্ষের সে স্থানটিস্থির করার চেষ্টা করেও কোন চিহ্ন দেখতেপেলেন না। এরপর মুহাম্মদকে নিয়ে তাবুতেফিরে আসেন। পরের দিন ভোর হতেই হালিমামুহাম্মাদকে তাঁর মায়ের কাছে মক্কায় নিয়ে আসে।আমেনা অনির্ধারিত সময়ে হালিমাকে ছেলে নিয়েআসতে দেখে আশ্চর্যাম্বিত হন, অথচ তিনিছেলেকে অন্তর থেকে দেখতে চাচ্ছিলেন।কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে হালিমা বক্ষ বিদারণের ঘটনারপুরো বিবরণ দেন।আমেনার মৃত্যুআমেনা নিজের এতিম শিশু মুহা্ম্মাদকে নিয়েইয়াসরাবে বনী নাজ্জার গোত্রে মামাদের সাথেমিলিত হওয়ার জন্য যাত্রা করে। সেখনে কিছু দিনঅবস্থান করে ফেরার পথে “আবওয়া” নামক স্থানেমৃত্যু বরণ করে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।ফলে মুহাম্মাদ চার বছর বয়সে মাতৃ-স্নেহ ওআদরের ছায়া থেকে বঞ্চিত হন। দাদা আব্দুলমুত্তালিবকে এ অপূরণীয় ক্ষতির কিছু লাঘব করতেহবে। তাই তিনি তাঁর দেখা-শুনা ও পরিচর্যার দায়িত্বনেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ছয়বছর বয়সে পা রাখেন তখন তাঁর দাদা ইহকাল ত্যাগকরেন। অতঃপর চাচা আবু তালিব আর্থিক অভাব-অনটন ওপরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশী থাকা সত্বেও তাঁরদেখা-শুনার দায়িত্ব নেন। রাসূলের চাচা আবূ তালেবও তাঁর স্ত্রী রাসূলের সাথে আপন ছেলের ন্যায়আচরণ করেন। এতিম ছেলের সম্পর্কে আপনচাচার সাথে অনকটা গভীর হয়ে যায়। এ পরিবেশেতিনি বড় হয়ে উঠেন। সততা ও সত্যবাদিতার মত গুণেগুণাম্বিত হয়ে যৌবন কাল অতিবাহিত করেন। এমন কিকেউ যদি বলে আল-আমিন উপস্থিত হয়েছেন বুঝাহতো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমনকরেছেন। রাসূল যখন কিছুটা বড় হয়ে যৌবনেপদার্পন করেন, তখন স্বনির্ভরতা অর্জনেরলক্ষ্যে জীবিকার্জনের চেষ্টা শুরু করেন। শ্রমব্যয় ও উপার্জনের পালা আরম্ভ হলো। তিনিপারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরাইশের কিছু লোকেরছাগলের রাখাল হিসেবে কাজ করেন। খাদিজাবিনতে খোয়াইলিদ কর্তৃক আয়োজিত এক বানিজ্যিকভ্রমনে সিরিয়া গমন করেন। খাদিজা ছিলেনবিত্তশালীনী মহিলা। সে ভ্রমণে সম্পদ ওব্যবসায়িক সামগ্রির তত্বাবধায়ক ছিল তাঁরই দাস“মাইসেরাহ”। রাসূলের বরকত ও সততার কারণেখাদিজার এ ব্যবসায়ে নজীরবিহীন লাভ হয়। তিনিস্বীয় দাস মাইসেরাহর কাছে এর কারণ জানতেচাইলে বল হয় মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ নিজেই বেচা-কেনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ক্রেতার ঢল নামে।ফলে কোন যুলম করা ব্যতিরেকেই আয় হয়প্রচুর। খাদিজা তাঁর দাসের বর্ণনা মনোযোগ দিয়েশুনেন। এমনিতেও তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতেন। তিনিমুহাম্মদের প্রতি হয়ে পড়েন মুগ্ধ ও অভিভূত।ইতিপূর্বে তিনি একবার বিয়ে করেছিলেন। স্বামীমারা যাওয়ার পরে বিধবাই রইলেন। এখন পুনরায় তাঁরমধ্যে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর সাথে নতুনঅভীজ্ঞতায় প্রবেশ করার তীব্র আকাঙ্খাজাগে। তাই এ ব্যাপারে মুহাম্মদের মনোভাব জানারউদ্দেশ্যে নিজের এক আত্মীয়কে পাঠান।রাসূলের নিকট খাদীজার আত্মীয় বিয়ের প্রস্তাবরাখলে তিনি তা গ্রহণ করেন। বিয়ে সম্পাদিত হলো।একে অপরের দ্বারা সুখী হন। তিনি খাদিজার অর্থসম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচারনায় যোগ্যতা ওদক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। খাদিজার ঔরসে জন্ম লাভকরেন যয়নাব, রুকাইয়্যাহ, উম্মেকুলসুম ও ফাতিমা। এবংকাসিম ও আব্দুল্লাহ নামক দু’ছেলে যারা শৈশবেই মারাযান।তাঁর বয়স চল্লিশের নিকটবর্তী হওয়ার সাথে সাথেমক্কার আদূরে অবস্থিত হেরা নামক এক গুহায় তিনিনিরিবিলি ও নির্জন অবস্থায় কয়েক দিন করে কাটিয়েদিতেন। পবিত্র রমযানের ২১ তারিখের রাতে হেরাগুহায় তাঁর কাছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আসেন।তখন তাঁর বয়স ছিল ৪০। জিবরাঈল বলেন, পড়ুন। তিনিবললেন, আমি পড়তে জানি না। জিবরাঈল দ্বিতীয় বারও তৃতীয়বারের মত পুনরায় বললেন। তৃতীয়বারজিবরাঈল বলেন,﴿ ﭐﻗۡﺮَﺃۡ ﺑِﭑﺳۡﻢِ ﺭَﺑِّﻚَ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ١ ﺧَﻠَﻖَ ﭐﻟۡﺈِﻧﺴَٰﻦَ ﻣِﻦۡ ﻋَﻠَﻖٍ ٢ﭐﻗۡﺮَﺃۡ ﻭَﺭَﺑُّﻚَ ﭐﻟۡﺄَﻛۡﺮَﻡُ ٣ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻋَﻠَّﻢَ ﺑِﭑﻟۡﻘَﻠَﻢِ ٤ ﻋَﻠَّﻢَ ﭐﻟۡﺈِﻧﺴَٰﻦَ ﻣَﺎ ﻟَﻢۡﻳَﻌۡﻠَﻢۡ ٥﴾ ‏[ ﺍﻟﻌﻠﻖ 5-1: ]অর্থ: পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টিকরেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তথেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহাদয়ালু, যিনিকলমেন সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষাদিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না। [সূরা আল-আলাক: ১-৫] অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম চলেগেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরহেরা গুহায় অবস্থান করতে পারলেন না। তিনি ঘরেএসে খাদিজাকে হ্নদয় স্পন্দিত অবস্থায় বললেন,আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করে. আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিতকর। অতঃপর তিনি বস্ত্রাচ্ছাদিত হয়ে শুয়ে পড়লেন।ভীত ও আতংক দূর হয়ে গেলে তিনি সব কিছুখাদিজাকে খুলে বললেন। এরপর তিনি বললেন-আমিনিজের ব্যাপারে আশংকা বোধ করছি। খাদীজাদৃঢ়তার সাথে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “কখনো নয়,আল্লাহর শপথ! আল্রাহ আপনাকে অপমানিত করবেননা। নিশ্চয় আপনি আত্মীয় স্বজনের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখেন, গরীব ও নিঃস্ব ব্যক্তিকেসাহায্য করেন। অতিথিকে সমাদর করেন। এবংবিপদগ্রস্থদের সহায়তা করেন”। কিছু দিন পরে তিনিআল্লাহর ইবাদত অব্যাহত রাখার জন্য আবার হেরা গুহায়ফিরে আসেন।রমযানের অবশিষ্ট দিনগুলো কাটান।রমযান শেষে হেরা গুহা থেকে অবতরণ করেমক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন। উপত্যকায় পৌঁছালেজিবরাঈলকে আকাশ ও যমিনের মধ্যবর্তী স্থানেএকটি চেয়ারে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখেন। অতঃপরনিম্নোক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। “হেচাদরাবৃত্ত ! উঠুন, সর্তক করুন, আপনার পালন কর্তারমাহাত্ম্য ঘোষণা করুন। আপনার পোষাক পবিত্র করুনএবং অপবিত্রতা দূর করুন।” (মুদ্দাস্সির -১-৫)পরবর্তী সময়ে ওহী অব্যাহত থাকে। রাসূলসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র দাওয়াতী ব্রতশুরু করলে সর্ব প্রথম তাঁর গুণাবর্তী স্ত্রীখাদীজা (রা) ঈমানের ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহরএকত্ববাদ ও তাঁর স্বামীর নবুওয়াতের সাক্ষ্য দেন।তাই তিনি ছিলেন সর্ব প্রথম মুসলমান। রাসূল সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন চাচা আবুতালিবের স্নেহে,পরিচর্যা ও অবদানের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ, যেরাসূলের মাতা ও দাদার পর দেখা-শুনার দায়িত্ব বহনকরেন, তাঁর ছেলে আলির লালন-পালন ও দেখা-শুনারদায়িত্ব নিয়েছিলেন। এ সুন্দর পরিবেশে আলিরঅন্তর ও বিবেক খুলে। তিনিও ঈমান গ্রহণ করেন।অত:পর খাদিজার দাস যাইদ বিন হারেসাহ ইসলামেরসুশীতল ছায়াতলে সমবেত হন। অতঃপর রাসূল তাঁরঅন্তরঙ্গ বন্ধু আবু বাকারের সাথে ইসলামেরব্যাপারে আলাপ করলে দ্বিদাহীন চিত্তে তিনিইসলামে গ্রহণ করেন এবং সত্যতার সাক্ষ্য দেন।রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপন ভাবেদাওয়াতী মিশন চালিয়ে যেতে থাকলেন। আরগোপন বলতে এখানে বোঝানো হয়েছেগোপনীয় স্থান যেখানে তাঁর সাহাবী, শিষ্য ওআরোঅনেক লোক সমবেত হতেন তিনিতাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করতেন অতঃপরতাঁরা ইসলাম গ্রহণ করতেন। এ ভাবে অনেক লোকইসলামের পতাকাতলে একত্রিত হয়েছিলেন কিন্তুসবাই ইসলামকে গোপনে রাখতেন। কারো ইসলামগ্রহণের বিষয়টা প্রকাশ হয়ে গেলে কুরাইশেরকাফেরদের কঠিন নির্যাতনের শিকার হতেন।এসময়ে ব্যক্তিগত ভাবে টার্গেট ভিত্তিক দাওয়াতীকাজ করা হতো।এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩ বছরপর্যন্ত ব্যক্তিগত দাওয়াতের গোপন ব্রতে ব্রস্তথাকেন। অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশআসে আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দেন যা আপনাকেআদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরোয়া করবেননা। (হিজর: ৯৪) এ আদেশ পেয়ে এক দিন তিনি সাফাপর্বতে আরোহন কের কুরাইশদেরকে ডাকদেন। তাঁর ডাক শুনে অনেক লোকের সমাগমঘটে। তন্মধ্যে তাঁর চাচা আবূ লাহাবও এক জন ছিল।সে কুরাইশদের মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সবচাইতে কট্রর শক্র ছিল। মানুষ সমবেত হবার পর রাসূলসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যদিআপনাদেরকে একথার সংবাদ দিই যে পাহাড়েরপেছনে এক শক্রদল আপনাদের উপর আক্রমণকরার জন্য অপেক্ষা করছে। আপনারা আমার কথাবিশ্বাস করবেন? সবাই এক স্বরে বললো আমরাআপনার মধ্যে সততা ও সত্যবাদিতা ছাড়া কিছুই দেখিনি।তিনি বললেন, আমি আপনাদেরকে কঠিন শাস্তিরব্যাপারে সতর্ক করছি। অতঃপর তিনি তাদেরকেআল্লাহর পথে আহ্বান করলেন এবং মুর্তিপূজা বর্জনকরতে বরলেন। একথা শুনে আবু লাহাব রাগেক্ষেপে উঠে বলে, তোমার ধ্বংস হোক। এজন্যেই কি আমাদেরকে একত্রিত করেছ। এঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ পাক সূরা লাহাবঅবতীর্ণ করেন। “ আবূ লাহাবের হস্তদয় ধ্বংসহোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে। কোন কাজেআসেনি তাঁর ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।সত্বর সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে এবংতাঁর স্ত্রীও যে ইন্ধন বহন করে। তাঁর গলদেশেখর্জুরের রশি নিয়ে।” (লাহাব-১-৫)রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতী কাজপুরো দমে অব্যাহত রাখলেন। জন সমাবেশস্থলে তিনি প্রকাশ্য ভাবে ইসলামের প্রতি আহ্বানজানাতেন। তিনি কা’বা শরিফের নিকটে নামায আদায়করতেন। মুসলমানদের উপরে কাফেরদেরঅত্যাচার ও নিপীড়নের মাত্রা বেড়ে গেলো।ইয়াসের, সুমাইয়্যা ও তাদের সন্তান আম্মারেরবেলায় তাই ঘটেছে। খোদাদ্রোহীদেরনির্যাতনে পিতা-মাতা শহীদ হন। নির্যাতনের কারণেইতাঁর মৃত্যু হয়। বিলাল বিন রাবাহ আবুজেহেলের ওউমায়্যা বিন খালাফের অকথ্য নির্যাতনের শিকার হন।অবশ্যই বিলাল আবূ বাকারের (রা) মাধ্যমে ইসলামগ্রহণ করেন। এ খবর শুনে তাঁর মালিক অত্যাচারেরশিকার হন। অবশ্যই বিলাল হযরত আবু বাকারের (রাঃ)মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। এ খবর শুনে তাঁরমালিক অত্যাচারের সব পন্থা অবলম্বন করে যাতেবিলাল ইসলাম ত্যাগ করে। কিন্তু তিনি আকঁড়ে ধরেনইসলামকে এবং অস্বীকার করেন ইসলাম ত্যাগকরতে। উমায়্যা তাঁকে শিকলাবন্ধ করে মক্কারবাইরে নিয়ে গিয়ে বুকের উপর বিরাট পাথর রেখেউত্তপ্ত বালিতে হেঁচড়িয়ে টানতো। অতঃপর সে ওতাঁর সঙ্গীরা বেত্রাঘাত করতো আর বিলাল শুধুআহাদ, আহাদ, এক, এক, বলতে থাকতেন। এহেনঅবস্থায় একবার আবূ বকর তাকে দেখেন। তিনিবিলালকে উমায়্যার কাছ থেকে ক্রয় করে নিয়েআল্লাহর নিমিত্তে স্বাধীন করে দেন। এ সবপৈশাচিক ও বর্বর অত্যাচারের কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে ইসলাম প্রকাশকরতে নিষেধ করেন। তাদের সাথে মিলিত হতেনঅত্যন্ত সংগোপনে। কেননা প্রকাশ্যভাবে মিলিতহলে মুশরিকরা রাসূলের শিক্ষা প্রদানের পথেঅন্তরায়ের সৃষ্টি করবে কখনো দুদলেরসংঘর্ষের আশংকাও ছিল। এ কথা সুবিদিত যে এহেননাজুক পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ মুসলমানদের ধ্বংস ওসমূলে বিনাশই ডেকে আনবে। কারণ মুসলমানদেরসংখ্যা ও শক্তি সামর্থ্য ছিল খুবই স্বল্প। তাই তাদেরইসলাম গোপন রাখাটাই ছিল দূরদর্শিতা। অবশ্য রাসূলসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফেরদের অত্যাচারসত্ত্বেও প্রকাশ্যভাবে দাওয়াত ও ইবাদতের কাজকরতেন।হাবশার দিকে হিজরতযার ইসলামের কথা ফাঁস হয়ে যেত তিনি মুশরিকদেরনিপীড়নের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতেন।বিশেষত দুর্বল মুসলিমরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাসূলসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবীদেরকেদ্বীন নিয়ে হাবশায় (ইথিওপিয়া) হিজরত করার নির্দেশদেন। তিনি সেখানকার শাসক নাজাসীর নিকট নিরাপত্তাপাওয়ার আশ্বাস দেন। অনেক মুসলমান নিজের জানও পরিবার বর্গের ব্যাপারে নিরাপত্তাহীনতায়ভূগতো। তাই নবুওয়াতের ৫ম বছরে প্রায় ৭০ জনমুসলিম সপরিবারে হিজরত করেন। তাঁদের মধ্যেউসমান বিন আফফান ও তাঁর স্ত্রী রুকাইয়্যাও ছিলেন।এ দিকে কুরাইশরা ইথিওপিয়ায় হিজরত কারীদেরঅবস্থান ব্যাহত করার চেষ্টা করে। সে দেশেররাজার জন্য পাঠায় উৎকোচ। পলায়নকারীদের(মুহাজির) বহিস্কারের অনুরোধ জানায়। তারা আরোবলে যে, মুসলিমরা ঈসা আলাইহিস সালাম ও মরিয়ামসম্পর্কে অপমানকর ও অশিষ্ট বাক্য ব্যবহার করে।নাজাসী তাদেরকে ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কেজিজ্ঞেস করলে তাঁরা সত্যটি সুস্পষ্ট ভাবে বলেদেন, শাসক মুসলিমদের আশ্রয় দেন এবং বহিস্কারঅনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এ বছরের রমযানমাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারামশরীফে যান। সেখানে ছিল কুরাইশেরএক দললোক। তিনি দাঁড়িয়ে হঠাৎ করে তাদের সামনেসুরায়ে নাজম তেলাওয়াত করতে লাগলেন। এ সবকাফেররা ইতিপূর্বে কখনো আল্লাহর বাণীশুনেনি। কেননা তাঁরা রাসূলের কিছুই না শুনার পদ্ধতিঅনুসরণ করে আসতেছিলো। আকস্মাৎতেলাওয়াতের মধুর ধ্বনি তাদের কর্ণে গেলেতাঁরা আল্লাহর হৃদয়গ্রাহী চিত্তাকর্ষক বাণী ওসাবলীল ভাষা একাগ্রচিত্তে শুনে। অন্তরে তা ছাড়াঅন্য কিছুই নেই। এক পর্যায়ে রাসূল—﴿ ﻓَﭑﺳۡﺠُﺪُﻭﺍْۤ ﻟِﻠَّﻪِۤ ﻭَﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﺍْ۩ ٦٢﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺠﻢ 62: ]আয়াতটি পড়ে সেজদায় চলে যান। উপস্থিতব্যাক্তিদের মধ্যে কেউ নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রনকরতে পারেনি। তাঁরাও সেজদায় চলে যায়।অনুপস্থিত মুশরিকরা তাদেরকে তিরস্কার করে, ভৎসনাকরে। অন্য কোন উপায় না দেখে এরা রাসূলেরবিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে যে, তিনি তাদের মূর্তিরপ্রশংসা করেন এবং বলেন, “তাদের (মুর্তিসমূহের)সুপারিশের আশা করা যায়” সেজদা করার অজুহাত স্বরুপএ ভিত্তিহীন, নিরেট মিথ্যার বেসাতী করে তারা।ওমরের ইসলাম গ্রহণওমরের রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদেরজন্য বড় বিজয় ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়াসাল্লাম তাঁকে ফারুক বলে আখ্যায়িত করেছেন।কারণ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মাধ্যমে সত্য ও বাতিলেরমধ্যে পার্থক্য সূচিত করেছেন। ইসলাম গ্রহনেরকয়েক দিন পরে ওমার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়াসাল্লাম কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরাকি সত্যের উপরে নই? তদুত্তোরে তিনি বললেনকেন নয়, নিশ্চয় আমরা সত্যের মধ্যে। ওমরবললেন তাহলে এত গোপনীয়তা কি জন্যে।তখন আরকামের বাড়ীতে সমাবেতমুসলিমদেরকে নিয়ে বের হয়ে পড়েন এবংতাদেরকে দুদলে বিভক্ত করে দেন। হামযা বিনআব্দুল মুত্তালিবের নেতৃত্বে একদল এবং ওমার বিনখাত্তাবের নেতৃত্বে আর একদলের নব সঞ্চারিতশক্তির ঈঙ্গিত দেয়ার জন্যে মক্কার বিভিন্ন অলি-গলিপ্রদক্ষিণ করে। কুরাইশরা দাওয়াত দমন করার জন্যবিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। শাস্তি, নির্যাতন,নিপীড়ন, প্রলোভন ও হুমকি প্রদর্শনের মতোসর্ব প্রকার পন্থা গ্রহণ করে। কিন্তু এসবকুপরিকল্পিত ব্যবস্থাসমূহ মুসলমানদের ঈমান বৃদ্ধি ওদ্বীন ইসলামকে অধিকতর আঁকড়ে ধরা ছাড়া আরকোন ভুমিকা রাখতে পারেনি।এক নতুন দুরভিসন্ধি ও মন্দ অভিপ্রায় তাদের অন্তরেজন্ম নিল। আর তা হচ্ছে মুসলমান ও বনীহাশেমকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন ও একঘরে করেরাখার এক চুক্তিনামা লিখে, যাতে সবাই সাক্ষর করবে,কাবা শরিফের অভ্যন্তরে ঝুলিয়ে দেবে। চুক্তিঅনুসারে তাদের সাথে বেচা- কেনা, বিয়ে শাদি,সাহায্য সহযোগিতা, ও লেন-দেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধথাকবে। এ চুক্তির ফলে মুসলিমরা বাধ্য হয়ে মক্কাথেকে বের হয়ে (শো’বে আবি তালেব নামক)এক উপত্যাকায় গিয়ে আশ্রয় নেন। তাঁরা অবর্ণনীয়ক্লেশ ও দুঃখের শিকার হন সেখানে। ক্ষুধা ওঅর্ধাহারের বিষাক্ত ছবোল থেকে কেউ রক্ষাপায়নি। স্বচ্ছল ও সামর্থবান ব্যক্তিরা নিজেদেরসমস্ত ধন-সম্পদ ব্যয় করে ফেলেন। খাদীজা তাঁরসম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় করেন। বিভিন্ন রোগ ছাড়িয়েপড়লো। অধিকাংশ লোকই মৃত্যূর প্রায়-দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়ালেন। কিন্ত তাঁরা ধৈর্য অবিচলতারপরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। তাঁদের মধ্যে একজনওপশ্চাদপদ হননি। অবরোধ একাধারে তিন বছর স্থায়ীরইল। অতঃপর বনী হাশেমের সাথে আত্মীয়তাআছে এমন কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিজনসমাবেশে চুক্তি ভঙ্গ করার কথা ঘোষনা করে।চুক্তির কাগজ বের করা হলে দেখা যায় যে সেটাখেয়ে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র কাগজের এককোণ যেখানে “বিসমিকা আল্লাহুম্মা” লেখাছিলসেটাই অক্ষত রয়েছে। সংকটের অবসান হল। আরমুসলিম ও বনী হাশেম মক্কায় ফিরে আসেন। কিন্তুকুরাইশরা মুসলিমদের দমন ও মুকাবিলায় সেই রকম রুঢ়তাও কঠোরতা ক্ষনিকের তরেও পরিহার করেনি।দুঃখের বছরকঠিন রোগ ব্যধি আবু তালেবের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে যায়। মৃত্যু শয্যায় শায়িত হয়েজীবনের অবশিষ্ট মুহুর্তগুলো গুনতে লাগলেন।মুমূর্ষাবস্থায় যখন সে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর তখন রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথার পার্শ্বে বসেতাকে কালেমায়ে তাওহীদ ( ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ) পড়ারঅনুরোধ জানান। কিন্তু আবু জেহেল সহ অসৎসঙ্গীরা যারা তাঁর পার্শ্বে ছিল তাকে বললো-শেষমূহুর্তে পূর্ব পুরুষের ধর্ম ত্যাগ করো না।মুসলমান হওয়া ব্যতিরেকে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় রাসূলেরদুঃখ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আবু তালেবের মৃত্যুর দু’মাসপরে খাদীজা (রা) ওফাত বরণ কর