হযরত আদম আঃ এর জীবনের কাহিনী


হযরত আদম (আ:) জীবনের কাহিনি১. হযরত আদম(আলাইহিস সালাম)1.হযরত আদম(আলাইহিস সালাম)2.শয়তানের সৃষ্টি ছিল মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ3.আদম সৃষ্টির কাহিনী4.খলীফা অর্থ5.সিজদার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য6.আদমের পাঁচটি শ্রেষ্ঠত্ব7.নারী জাতি পুরুষেরই অংশ এবং তার অনুগত8.নগ্নতা শয়তানের প্রথম কাজ9.মানব সৃষ্টির রহস্য10.জান্নাত থেকে পতিত হবার পর11.আদমের অবতরণ স্থল1.‘আহদে আলাস্ত্ত-র বিবরণ2.‘আহদে আলাস্ত্ত-র উদ্দেশ্য3.অন্যান্য অঙ্গীকার গ্রহণ4.আদমের মর্যাদা ওশ্রেষ্ঠত্ব5.দুনিয়াবী ব্যবস্থাপনায় আদম(আঃ)6.আদম পুত্রদ্বয়ের কাহিনী7.হত্যাকান্ডেরকারণ8.শিক্ষণীয় বিষয়9.মৃত্যু ও বয়স10.আদম (আঃ)-এর জীবনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ১. হযরত আদম(আলাইহিস সালাম)বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমমানুষ ও প্রথম নবী হিসাবে আল্লাহ পাক আদম(আলাইহিস সালাম)-কে নিজ দু’হাত দ্বারা সরাসরি সৃষ্টিকরেন(ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। মাটির সকল উপাদানের সার-নির্যাস একত্রিত করে আঠালো ও পোড়ামাটির ন্যায়শুষ্ক মাটির তৈরী সুন্দরতম অবয়বে রূহ ফুঁকে দিয়েআল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন।[1]অতঃপরআদমের পাঁজর থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টিকরেন।[2]আর এ কারণেই স্ত্রী জাতি স্বভাবগতভাবেই পুরুষ জাতির অনুগামী ও পরস্পরের প্রতিআকৃষ্ট। অতঃপর স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে যুগ যুগধরে একই নিয়মে মানববংশ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহতরয়েছে। কুরআন-এর বর্ণনা অনুযায়ীপ্রথম দিনথেকেই মানুষ পূর্ণ চেতনা ও জ্ঞান সম্পন্ন সভ্যমানুষ হিসাবেই যাত্রারম্ভ করেছে এবং আজওসেভাবেই তা অব্যাহত রয়েছে। অতএব গুহামানব,বন্যমানব, আদিম মানব ইত্যাদি বলে অসভ্য যুগথেকে সভ্য যুগে মানুষের উত্তরণ ঘটেছেবলে কিছু কিছু ঐতিহাসিক যেসব কথা শুনিয়ে থাকেন,তা অলীক কল্পনা ব্যতীত কিছুই নয়। সূচনাথেকে এযাবত এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মানুষকখনোইমানুষ ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না। মানুষ বানরবা উল্লুকের উদ্বর্তিত রূপ বলে ঊনবিংশশতাব্দীতে এসে চার্লস ডারউইন (১৮০৯-১৮৮২)যে ‘বিবর্তনবাদ’ (Theory of Evolution) পেশকরেছেন, তা বর্তমানে একটি মৃত মতবাদ মাত্র এবংতা প্রায় সকল বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রত্যাখ্যাতহয়েছে।প্রথম মানুষ আদি পিতা আদম (আঃ)-কেআল্লাহ সর্ব বিষয়ের জ্ঞান ও যোগ্যতা দানকরেন এবং বিশ্বে আল্লাহর খেলাফত পরিচালনারমর্যাদায় অভিষিক্ত করেন। সাথে সাথে সকল সৃষ্টবস্ত্তকে করে দেন মানুষের অনুগত(লোকমান৩১/২০)ও সবকিছুর উপরে দেন মানুষেরশ্রেষ্ঠত্ব(ইসরা ১৭/৭০)। আর সেকারণেই জিন-ফিরিশতা সবাইকে মানুষের মর্যাদার প্রতি সম্মানপ্রদর্শনের জন্য আদমকে সিজদা করার আদেশদেন। সবাই সে নির্দেশ মেনে নিয়েছিল। কিন্তুইবলীস অহংকার বশে সে নির্দেশ অমান্য করায়চিরকালের মত অভিশপ্ত হয়ে যায়(বাক্বারাহ ২/৩৪)।অথচ সে ছিল বড় আলেম ও ইবাদতগুযার। সেকারণজিন জাতির হওয়া সত্ত্বেও সে ফিরিশতাদের সঙ্গেবসবাস করার অনুমতি পেয়েছিল ও তাদের নেতাহয়েছিল।[3]কিন্তু আদমের উচ্চ মর্যাদা দেখেসে ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে। ফলে অহংকার বশেআদমকে সিজদা না করায় এবং আল্লাহ ভীতি না থাকায়সে আল্লাহর গযবে পতিত হয়। এজন্য জনৈকআরবী কবি বলেন, ﻟﻮﻛﺎﻥ ﻟﻠﻌﻠﻢ ﺷﺮﻑ ﻣﻦ ﺩﻭﻥﺍﻟﺘﻘﻯﻠﻜﺎﻥ ﺃﺷﺮﻑ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﺑﻠﻴﺲُ ‘যদি তাক্বওয়া বিহীনইলমের কোন মর্যাদা থাকত,তবে ইবলীসআল্লাহর সৃষ্টিকুলের সেরা বলে গণ্য হ’ত’।শয়তানের সৃষ্টি ছিল মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ:ইবলীসকে আল্লাহ মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ সৃষ্টি করেন এবংক্বিয়ামত পর্যন্ত তার হায়াতদীর্ঘ করে দেন। মানুষকে আল্লাহরপথ থেকেবিচ্যুৎ করার জন্য ও তাকে ধোঁকা দেওয়াইশয়তানের একমাত্র কাজ। ‘সে মানুষকে বলেকুফরী কর’। কিন্তু যখন সে কুফরী করে, তখনশয়তান বলে ‘আমি তোমার থেকে মুক্ত। আমিবিশ্বপ্রভু আল্লাহ্কে ভয় করি’(হাশর ৫৯/১৬)।অন্যদিকে যুগে যুগে নবী-রাসূল ও কিতাব পাঠিয়েআল্লাহ মানুষকে সত্য পথ প্রদর্শনের ব্যবস্থাঅব্যাহত রাখেন(বাক্বারাহ ২/২১৩)। আদম থেকে শুরুকরে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত একলক্ষচবিবশ হাযার পয়গাম্বর দুনিয়াতে এসেছেন[4]এবংবর্তমানে সর্বশেষ এলাহীগ্রন্থ পবিত্রকুরআনের ধারক ও বাহক মুসলিম ওলামায়ে কেরামশেষনবীর ‘ওয়ারিছ’ হিসাবে[5]আল্লাহ প্রেরিতঅহীর বিধান সমূহ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেবার দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন(মায়েদাহ ৫/৬৭)। পৃথিবীরচূড়ান্ত ধ্বংস তথা ক্বিয়ামতের অব্যবহিত কাল পূর্বপর্যন্ত এই নিয়ম জারি থাকবে। শেষনবীরভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী পৃথিবীর এমন কোন বস্তিও ঝুপড়ি ঘরও থাকবেনা, যেখানে আল্লাহ ইসলামেরবাণী পৌঁছে দেবেন না।[6]এতদসত্ত্বেওঅবশেষে পৃথিবীতে যখন ‘আল্লাহ’ বলার মতকোন লোক থাকবে না, অর্থাৎ প্রকৃততাওহীদের অনুসারী কোন মুমিন বাকী থাকবেনা, তখন আল্লাহর হুকুমে প্রলয় ঘনিয়ে আসবে এবংক্বিয়ামত সংঘটিতহবে।[7]মানুষের দেহগুলি সব মৃত্যুরপরে মাটিতে মিশে যাবে। কিন্তু রূহগুলি স্ব স্ব ভালবা মন্দ আমল অনুযায়ী ‘ইল্লীন’ অথবা‘সিজ্জীনে’ অবস্থান করবে(মুত্বাফফেফীন৮৩/৭, ১৮)। যা ক্বিয়ামতের পরপরই আল্লাহর হুকুমেস্ব স্ব দেহে পুনঃপ্রবেশকরবে (ফজর ৮৯/২৯)এবং চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের জন্য সকল মানুষসশরীরে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দরবারে নীত হবে(মুত্বাফফেফীন ৮৩/৪-৬)।মানুষের ঠিকানা হ’ল তিনটি :১- দারুদ দুনিয়া। অর্থাৎ যেখানে আমরা এখন বসবাসকরছি ২- দারুল বরযখ। অর্থাৎ মৃত্যুর পরেকবরেরজগত। ৩- দারুল ক্বারার। অর্থাৎ ক্বিয়ামতেরদিন শেষ বিচার শেষে জান্নাত বা জাহান্নামেরচিরস্থায়ী ঠিকানা।অতএব পৃথিবী হ’ল মানুষের জন্যসাময়িক পরীক্ষাগার মাত্র। জান্নাত থেকে নেমেআসা মানুষ এই পরীক্ষাস্থলে পরীক্ষা শেষেসুন্দর ফল লাভে পুনরায় জান্নাতেফিরে যাবে, অথবাব্যর্থকাম হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপরসেখানেই হবে তাদের সর্বশেষ যাত্রাবিরতি এবংসেটাই হবে তাদের চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী ঠিকানা।আল্লাহ বলেন, ‘মাটি থেকেই আমরা তোমাদেরসৃষ্টি করেছি। ঐ মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়েনেব। অতঃপর ঐ মাটি থেকেই আমরাতোমাদেরকে পুনরায় বের করেআনব’(ত্বোয়াহা ২০/৫৫)। অতঃপর বিচার শেষেকাফেরদেরকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামেরদিকে এবংমুত্তাক্বীদের নেওয়া হবে জান্নাতে(যুমার ৩৯/৬৯-৭৩)। এভাবেই সেদিন যালেম তারপ্রাপ্যশাস্তি ভোগ করবে এবং মযলূম তার যথাযথপ্রতিদান পেয়ে ধন্য হবে। সেদিন কারু প্রতিকোনরূপ অবিচারকরা হবে না(বাক্বারাহ ২/২৮১)।উল্লেখ্য যে, হযরত আদম (আঃ) সম্পর্কে পবিত্রকুরআনের ১০টি সূরায় ৫০টি আয়াতে বর্ণিতহয়েছে।[8]এক্ষণে আদম সৃষ্টির ঘটনাবলীকুরআনে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, তারআলোকে সার-সংক্ষেপ আমরা তুলে ধরার প্রয়াসপাব ইনশাআল্লাহ।আদম সৃষ্টির কাহিনী :আল্লাহ একদাফেরেশতাদের ডেকে বললেন, আমিপৃথিবীতে ‘খলীফা’ অর্থাৎ প্রতিনিধি সৃষ্টি করতেচাই। বল, এ বিষয়ে তোমাদের বক্তব্য কি? তারা(সম্ভবতঃ ইতিপূর্বে সৃষ্ট জিন জাতির তিক্ত অভিজ্ঞতারআলোকে) বলল, হে আল্লাহ! আপনি কিপৃথিবীতে এমন কাউকে আবাদ করতে চান, যারাগিয়ে সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবে ও রক্তপাতঘটাবে? অথচ আমরা সর্বদাআপনার হুকুম পালনে এবংআপনার গুণগান ও পবিত্রতা বর্ণনায় রত আছি। এখানেফেরেশতাদের উক্ত বক্তব্য আপত্তির জন্য ছিলনা, বরং জানার জন্য ছিল। আল্লাহ বললেন, আমি যা জানি,তোমরা তা জানো না(বাক্বারাহ ২/৩০)। অর্থাৎ আল্লাহচান এ পৃথিবীতে এমন একটা সৃষ্টির আবাদ করতে,যারা হবে জ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন এবং নিজস্ববিচার-বুদ্ধি ও চিন্তা-গবেষণা সহকারে স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে আল্লাহর বিধান সমূহের আনুগত্য করবেও তাঁর ইবাদত করবে। ফেরেশতাদের মতকেবলহুকুম তামিলকারী জাতি নয়।খলীফা অর্থ :এখানে‘খলীফা’ বা প্রতিনিধি বলে জিনদের পরবর্তীপ্রতিনিধি হিসাবে বনু আদমকে বুঝানো হয়েছে,যারা পৃথিবীতে একে অপরের প্রতিনিধি হবে(ইবনুকাছীর)। অথবা এর দ্বারা আদম ও পরবর্তীন্যায়নিষ্ঠ শাসকদের বুঝানো হয়েছে, যারাজনগণের মধ্যে আল্লাহর আনুগত্য ও ইনছাফপূর্ণশাসক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বকরবে। কেননা ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও অন্যায়রক্তপাতকারী ব্যক্তিরা আল্লাহর প্রতিনিধি নয় (ইবনুজারীর)। তবে প্রথম ব্যাখ্যাই অগ্রগণ্য, যাফেরেশতাদের জবাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমনপ্রতিনিধি আপনি সৃষ্টি করবেন, যারা পূর্ববর্তী জিনজাতির মত পৃথিবীতে গিয়ে ফাসাদ ও রক্তপাতঘটাবে। বস্ত্ততঃ ‘জিন জাতির উপর ক্বিয়াস করেই তারাএরূপ কথা বলে থাকতে পারে’ (ইবনু কাছীর)।অতঃপর আল্লাহ আদমকে সবকিছুর নামশিক্ষা দিলেন।‘সবকিছুর নাম’ বলতে পৃথিবীর সূচনা থেকে লয়পর্যন্ত ছোট-বড় সকল সৃষ্টবস্ত্তর ইল্ম ও তাব্যবহারের যোগ্যতা তাকে দিয়ে দেওয়া হ’ল।[9]যাদিয়ে সৃষ্টবস্ত্ত সমূহকে আদম ও বনু আদমনিজেদের অনুগত করতে পারে এবং তা থেকেফায়েদা হাছিল করতে পারে। যদিও আল্লাহর অসীমজ্ঞানরাশির সাথে মানবজাতির সম্মিলিত জ্ঞানের তুলনামহাসাগরের অথৈ জলরাশির বুক থেকেপাখির ছোঁ মারাএক ফোঁটা পানির সমতুল্য মাত্র।[10]বলা চলে যে,আদমকে দেওয়া সেই যোগ্যতা ও জ্ঞান ভান্ডারযুগে যুগে তাঁর জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী সন্তানদেরমাধ্যমে বিতরিত হচ্ছে ও তার দ্বারা জগত সংসারউপকৃত হচ্ছে। আদমকে সবকিছুর নাম শিক্ষাদেওয়ার পর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য আল্লাহতাকে ফেরেশতাদের সম্মুখে পেশ করলেন।কুরআনে কেবলফেরেশতাদের কথা উল্লেখিতহ’লেও সেখানে জিনদের সদস্য ইবলীসওউপস্থিত ছিল(কাহফ ১৮/৫০)। অর্থাৎ আল্লাহচেয়েছিলেন, জিন ও ফেরেশতা উভয়সম্প্রদায়ের উপরে আদম-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিতহৌকএবং বাস্তবে সেটাই হ’ল। তবে যেহেতুফেরেশতাগণ জিনদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন, সেজন্য কেবল তাদের নাম নেওয়াহয়েছে। আর দুনিয়াতে জিনদের ইতিপূর্বেকারউৎপাত ও অনাচার সম্বন্ধে ফেরেশতারা আগেথেকেই অবহিত ছিল, সেকারণ তারা মানুষ সম্বন্ধেওএকইরূপ ধারণা পোষণ করেছিল এবং প্রশ্নেরজবাবেনেতিবাচক উত্তর দিয়েছিল। উল্লেখ্য যে,‘আল্লাহ জিন জাতিকেআগেই সৃষ্টি করেন গনগনেআগুন থেকে’(হিজর ১৫/২৭)। কিন্তু তারা অবাধ্যতারচূড়ান্ত করে।আদমকে ফেরেশতাদের সম্মুখেপেশ করার পর আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে ঐসববস্ত্তর নাম জিজ্ঞেস করলেন।কিন্তু সঙ্গতকারণেই তারা তা বলতে পারল না। তখন আল্লাহআদমকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি সবকিছুরনাম বলেদিলেন। ফলে ফেরেশতারা অকপটে তাদেরপরাজয় মেনে নিল এবং আল্লাহর মহত্ত্ব ও পবিত্রতাঘোষণা করে বলল, হে আল্লাহ! আপনিআমাদেরকে যতটুকু শিখিয়েছেন, তারবাইরেআমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনিসর্বজ্ঞ ও দূরদৃষ্টিময়’(বাক্বারাহ ২/৩২)। অতঃপরআল্লাহ তাদের সবাইকে আদমের সম্মুখেসম্মানের সিজদা করতে বললেন। সবাই সিজদা করল,ইবলীস ব্যতীত। সে অস্বীকার করল ওঅহংকারে স্ফীত হয়ে প্রত্যাখ্যান করল। ফলেসে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হ’ল(বাক্বারাহ ২/৩৪)।ইবলীস ঐ সময় নিজের পক্ষে যুক্তি পেশ করেবলল,‘আমি ওর চাইতে উত্তম। কেননা আপনিআমাকেআগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আর ওকে সৃষ্টিকরেছেন মাটি দিয়ে’। আল্লাহ বললেন, তুই বেরহয়ে যা। তুই অভিশপ্ত, তোর উপরে আমার অভিশাপরইল পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত’(ছোয়াদ৩৮/৭৬-৭৮;আ‘রাফ ৭/১২)।সিজদার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য :আদমকেসৃষ্টি করার আগেই আল্লাহ ফেরেশতাদেরকেআদমের প্রতি সিজদা করার কথা বলে দিয়েছিলেন(হা-মীম সাজদাহ/ফুছছিলাত ৪১/১১)।তাছাড়া কুরআনেরবর্ণনা সমূহ থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, আদমকেসিজদা করার জন্য আল্লাহর নির্দেশ ব্যক্তি আদমহিসাবে ছিলনা, বরং ভবিষ্যৎ মানব জাতির প্রতিনিধিত্বকারীহিসাবে তাঁর প্রতি সম্মান জানানোর জন্য জিন ওফিরিশতাদের সিজদা করতে বলা হয়েছিল। এই সিজদাকখনোই আদমের প্রতি ইবাদত পর্যায়ের ছিল না।বরং তা ছিল মানবজাতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ওতাদেরকে সকলকাজে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিদানের প্রতীকী ও সম্মান সূচক সিজদা মাত্র।ওদিকে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হ’লেও ইবলীসকিন্তু আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হিসাবেঅস্বীকার করেনি। বরং আল্লাহ যখন তাকে‘অভিসম্পাৎ’ করে জান্নাত থেকে চিরদিনের মতবিতাড়িত করলেন, তখন সে আল্লাহ্কে ‘রব’হিসাবেই সম্বোধন করে প্রার্থনা করল, ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺏِّﻓَﺄَﻧﻈِﺮْﻧِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﻳَﻮْﻡِ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮﻥَ -‘হে আমার প্রভু! আমাকেআপনি ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন’(হিজর ১৫/৩৬,ছোয়াদ ৩৮/৭৯)। আল্লাহ তার প্রার্থনা মঞ্জুরকরলেন। অতঃপর সে বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা!আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিওতেমনি তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানারূপসৌন্দর্যে প্রলুব্ধ করব এবং তাদেরকে পথভ্রষ্টকরে দেব। তবে যারা আপনার একনিষ্ঠ বান্দা,তাদের ব্যতীত’(হিজর ১৫/৩৪-৪০; ছোয়াদ৩৮/৭৯-৮৩)। আল্লাহ তাকে বললেন, তুমি নেমেযাও এবং এখান থেকে বেরিয়ে যাও। তুমিনীচুতমদের অন্তর্ভুক্ত। এখানে তোমার অহংকারকরার অধিকারনেই’(আ‘রাফ ৭/১৩)। উল্লেখ্য যে,ইবলীস জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হ’লেও মানুষেররগ-রেশায় ঢুকে ধোঁকা দেওয়ার ও বিভ্রান্ত করারক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়েছিলেন।[11]আর এটা ছিলমানুষের পরীক্ষারজন্য। শয়তানের ধোঁকারবিরুদ্ধে জিততে পারলেই মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বেরমর্যাদা অক্ষুণ্ণরাখতে পারবে এবং আখেরাতেজান্নাত লাভে ধন্য হবে। নইলে ইহকাল ও পরকালেব্যর্থকাম হবে। মানুষের প্রতি ফেরেশতাদেরসিজদা করা ও ইবলীসের সিজদা না করার মধ্যেইঙ্গিত রয়েছে এ বিষয়ে যে, মানুষ যেন প্রতিপদে পদে শয়তানের ব্যাপারে সতর্ক থাকে এবংআল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেরশ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ণরাখে।আদমের পাঁচটিশ্রেষ্ঠত্ব :(১) আল্লাহ তাকে নিজ দু’হাতে সৃষ্টিকরেছেন(ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। (২) আল্লাহ নিজেতার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন(ছোয়াদ ৩৮/৭২)।(৩) আল্লাহ তাকে সকল বস্ত্তর নাম শিক্ষাদিয়েছেন(বাক্বারাহ ২/৩১)। (৪) তাকে সিজদা করারজন্য আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন(বাক্বারাহ ২/৩৪)। (৫) আদম একাই মাত্র মাটি থেকেসৃষ্ট। বাকী সবাই পিতা-মাতার মাধ্যমে সৃষ্ট(সাজদাহ৩২/৭-৯)।ইবলীসের অভিশপ্ত হওয়ার কারণ ছিলতারক্বিয়াস। সে আল্লাহর আদেশেরবিরুদ্ধে যুক্তিপেশ করে বলেছিল, ‘আমি আদমের চাইতেউত্তম।কেননা আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টিকরেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটিদয়ে’(হিজর ২৯)। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেন, ﺍﻭﻝﻣﻦ ﻗﺎﺱ ﺍﺑﻠﻴﺲ ‘প্রথম ক্বিয়াস করেছিল ইবলীস’।হাসান বছরীও অনুরূপ বলেছেন।[12]নারী জাতিপুরুষেরই অংশ এবং তার অনুগত :সিজদা অনুষ্ঠানের পরআল্লাহ আদমের জুড়ি হিসাবে তার অবয়ব হ’তেএকাংশনিয়ে অর্থাৎ তার পাঁজর হ’তে তার স্ত্রী হাওয়াকেসৃষ্টি করলেন[13]মাটি থেকে সৃষ্ট হওয়া আদমেরনাম হ’ল ‘আদম’ এবং জীবন্ত আদমের পাঁজর হ’তেসৃষ্ট হওয়ায় তাঁর স্ত্রীর নাম হ’ল ‘হাওয়া’(কুরতুবী)।অতঃপর তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বললেন,‘তোমরা দু’জন জান্নাতে বসবাস কর ওসেখানথেকে যা খুশী খেয়ে বেড়াও। তবেসাবধান! এই গাছটির নিকটে যেয়ো না। তাহ’লেতোমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েযাবে’(বাক্বারাহ ২/৩৫)। এতে বুঝা যায় যে,ফেরেশতাগণের সিজদা কেবল আদমের জন্যছিল, হাওয়ার জন্য নয়। দ্বিতীয়তঃ সিজদা অনুষ্ঠানেরপরে আদমের অবয়ব থেকেহাওয়াকে সৃষ্টি করাহয়, পূর্বে নয়। তিনি পৃথক কোন সৃষ্টি ছিলেন না।এতে পুরুষের প্রতি নারীর অনুগামী হওয়া প্রমাণিতহয়। আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষেরা নারীদের উপরকর্তৃত্বশীল’(নিসা ৪/৩৪)। অতঃপর বহিষ্কৃত ইবলীসতার প্রথমটার্গেট হিসাবে আদম ও হাওয়ার বিরুদ্ধেপ্রতারণার জাল নিক্ষেপ করল। সেমতে সেপ্রথমে তাদের খুব আপনজন বনে গেল এবং নানাকথায় তাদের ভুলাতে লাগল। এক পর্যায়ে সে বলল,‘আল্লাহ যে তোমাদেরকে ঐ গাছটির নিকটেযেতে নিষেধ করেছেন, তার কারণ হ’ল এইযে,তোমরা তাহ’লে ফেরেশতা হয়ে যাবে কিংবাতোমরা এখানে চিরস্থায়ী বাসিন্দা হয়েযাবে’(আ‘রাফ ৭/২০)। সে অতঃপর কসম খেয়েবলল যে, আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাংখী’(ঐ,২১)। ‘এভাবেই সে আদম ও হাওয়াকে সম্মত করেফেলল এবং তার প্রতারণার জালে আটকে গিয়ে তারাউক্ত নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল আস্বাদন করল। ফলেসাথে সাথে তাদের গুপ্তাঙ্গ প্রকাশিত হয়ে পড়লএবং তারা তড়িঘড়ি গাছের পাতা সমূহ দিয়ে তা ঢাকতেলাগল। আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বললেন, আমিকি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনিএবং বলিনি যে, শয়তানতোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?(ঐ,২২)তখন তারা অনুতপ্ত হ’য়ে বলল, ﻗَﺎﻻَ ﺭَﺑَّﻨَﺎﻇَﻠَﻤْﻨَﺎﺃَﻧﻔُﺴَﻨَﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻟَّﻢْ ﺗَﻐْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﺗَﺮْﺣَﻤْﻨَﺎ ﻟَﻨَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ-‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরানিজেদের উপর যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরক্ষমা না করেন, তবে অবশ্যই আমরাক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’(২৩)। ‘আল্লাহতখন বললেন, তোমরা (জান্নাত থেকে) নেমেযাও। তোমরা একে অপরের শত্রু।তোমাদেরঅবস্থান হবে পৃথিবীতে এবংসেখানেই তোমরা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্তসম্পদরাজি ভোগ করবে’(২৪)। তিনি আরও বললেনযে, ‘তোমরা পৃথিবীতেই জীবনযাপন করবে,সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে এবং সেখান থেকেইতোমরা পুনরুত্থিত হবে’(আ‘রাফ ৭/২০-২৫)।এখানেএকটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে,ইবলীসের কথায় সর্বপ্রথম হাওয়া প্রতারিত হন।অতঃপর তার মাধ্যমে আদম প্রতারিতহন বলে যে কথাচালু আছে কুরআনে এর কোন সমর্থন নেই।ছহীহ হাদীছেও স্পষ্ট কিছু নেই। এ বিষয়েতাফসীরে ইবনু জারীরে ইবনুআববাস (রাঃ)থেকে যে বর্ণনা এসেছে, তা যঈফ।[14]দ্বিতীয়তঃ জান্নাত থেকে অবতরণের নির্দেশতাদের অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ছিলনা। কেননা এটাছিল তওবা কবুলের পরের ঘটনা। অতএব এটা ছিলহয়তবা তাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দানের জন্য। বরং সঠিককথা এই যে, এটা ছিল আল্লাহর পূর্ব নির্ধারিত ওদূরদর্শী পরিকল্পনারই অংশ। কেননা জান্নাত হ’লকর্মফল লাভের স্থান,কর্মের স্থান নয়। তাছাড়াজান্নাতে মানুষের বংশ বৃদ্ধির সুযোগ নেই। এজন্যদুনিয়ায় নামিয়ে দেওয়া যরূরী ছিল।প্রথম বার আদেশদানের পরে পুনরায় স্নেহ ও অনুগ্রহমিশ্রিতআদেশ দিয়ে বললেন, ‘তোমরা সবাইনেমে যাও’। অতঃপর পৃথিবীতে আল্লাহর খলীফাহওয়ার(বাক্বারাহ২/৩০; ফাত্বির ৩৫/৩৯)মহান মর্যাদা প্রদানকরে বললেন, ‘তোমাদের নিকটে আমার পক্ষথেকে হেদায়াত অবতীর্ণ হবে। যারা তার অনুসরণকরবে, তাদের জন্য কোন ভয় বা চিন্তার কারণথাকবে না। কিন্তু যারা তা প্রত্যাখ্যান করবে ও মিথ্যাপ্রতিপন্ন করবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসীএবং সেখানে তারা অনন্তকাল ধরে অবস্থানকরবে’(বাক্বারাহ ২/৩৮-৩৯)।উল্লেখ্য যে, নবীগণছিলেন নিষ্পাপ এবং হযরত আদম (আঃ) ছিলেননিঃসন্দেহে নিষ্পাপ। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ভুলকরেননি। বরং শয়তানের প্ররোচনায় প্রতারিত হয়েতিনি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বৃক্ষের নিকটবর্তী হওয়ারনিষেধাজ্ঞার কথাটি ভুলে গিয়েছিলেন। যেমন অন্যআয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ﻓَﻨَﺴِﻲَ ﻭَﻟَﻢْ ﻧَﺠِﺪْ ﻟَﻪُﻋَﺰْﻣًﺎ-‘অতঃপর আদম ভুলে গেল এবং আমিতার মধ্যে(সংকল্পের) দৃঢ়তা পাইনি’(ত্বোয়াহা ২০/১১৫)। তাছাড়াউক্ত ঘটনার সময় তিনি নবী হননি বরং পদস্খলনেরঘটনার পরে আল্লাহ তাকে নবী মনোনীতকরে দুনিয়ায় পাঠান ও হেদায়াত প্রদানকরেন’(আ‘রাফ৭/১২২)।এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে,ইবলীসের ক্ষেত্রে আল্লাহ বললেন, ﻗَﺎﻝَﻓَﺎﺧْﺮُﺝْ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺭَﺟِﻴﻢٌ -‘তুমি জান্নাত থেকেবেরিয়ে যাও। নিশ্চয়ই তুমি অভিশপ্ত’(হিজর ১৫/৩৪;আ‘রাফ ৭/১৮)। অন্যদিকে আদমও হাওয়ারক্ষেত্রে বললেন, ﻗُﻠْﻨَﺎ ﺍﻫْﺒِﻄُﻮﺍْ ﻣِﻨْﻬَﺎ -‘ তোমরানেমে যাও’(বাক্বারাহ ২/৩৬, ৩৮; আ‘রাফ ৭/২৪)।এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইবলীস কখনোইআর জান্নাতে ফিরে আসতে পারবে না। কিন্তু বনুআদমের ঈমানদারগণ পুনরায় ফিরে আসতে পারবেইনশাআল্লাহ।নগ্নতা শয়তানের প্রথম কাজ :মানুষেরউপরে শয়তানের প্রথম হামলা ছিল তার দেহথেকে কাপড় খসিয়ে তাকে উলঙ্গ করে দেওয়া।আজও পৃথিবীতে শয়তানের পদাংক অনুসারী ওইবলীসের শিখন্ডীদের প্রথম কাজ হ’ল তথাকথিতক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতার নামে নারীকে উলঙ্গকরে ঘরের বাইরে আনা ও তার সৌন্দর্য উপভোগকরা। অথচ পৃথিবীর বিগত সভ্যতাগুলি ধ্বংস হয়েছেমূলতঃ নারী ও মদের সহজলভ্যতার কারণেই। অতএবসভ্য-ভদ্র ও আল্লাহভীরু বান্দাদের নিকটেঈমানের পর সর্বপ্রথম ফরয হ’ল স্ব স্ব লজ্জাস্থানআবৃত রাখা ও ইযযত-আবরূর হেফাযত করা। অন্যান্যফরয সবই এর পরে। নারীর পর্দা কেবলপোষাকে হবে না, বরং তা হবে তার ভিতরে, তারকথা-বার্তায়, আচার-আচরণে ও চাল-চলনে সর্ববিষয়ে। পরনারীর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি ও মিষ্টকণ্ঠস্বর পরপুরুষের হৃদয়ে অন্যায় প্রভাব বিস্তারকরে। অতএব লজ্জাশীলতাই মুমিন নর-নারীরঅঙ্গভূষণ ও পারস্পরিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি। নারী ওপুরুষ প্রত্যেকে একে অপরের থেকেস্ব স্বদৃষ্টিকে অবনত রাখবে(নূর ২৪/৩০-৩১)এবংপরস্পরে সার্বিক পর্দা বজায় রেখে কেবলমাত্রপ্রয়োজনীয় কথাটুকু স্বাভাবিকভাবে সংক্ষেপেবলবে। নারী ও পুরুষ প্রত্যেকে নিজ নিজস্বাতন্ত্র্য ও পর্দা বজায় রেখেস্ব স্ব কর্মস্থলেও কর্মপরিধিরমধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করবেএবংসংসার ও সমাজের কল্যাণে সাধ্যমতঅবদানরাখবে। নেগেটিভ ও পজেটিভ পাশাপাশি বিদ্যুৎবাহীদু’টি ক্যাবলের মাঝে প্লাষ্টিকের আবরণ যেমনপর্দার কাজ করে এবং অপরিহার্য এক্সিডেন্ট ওঅগ্নিকান্ড থেকে রক্ষা করে, অনুরূপভাবেপরনারী ও পরপুরুষের মধ্যকার পর্দা উভয়েরমাঝে ঘটিতব্য যেকোন অনাকাংখিত বিষয় থেকেপরস্পরকে হেফাযত করে। অতএবশয়তানেরপ্ররোচনায় জান্নাতের পবিত্র পরিবেশে আদি পিতা-মাতার জীবনে ঘটিত উক্ত অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনাথেকে দুনিয়ার এই পঙ্কিল পরিবেশে বসবাসরতমানব জাতিকে আরও বেশী সতর্ক ও সাবধান থাকাউচিত। কুরআন ও হাদীছ আমাদেরকে সেদিকেইহুঁশিয়ার করেছে।মানব সৃষ্টির রহস্য :আল্লাহবলেন, ﻭَﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻼَﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻴْﺨَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِّﻦﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮْﻥٍ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﻮَّﻳْﺘُﻪُ ﻭَﻧَﻔَﺨْﺖُ ﻓِﻴْﻪِ ﻣِﻦﺭُّﻭﺣِﻲْ ﻓَﻘَﻌُﻮْﺍ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪِﻳْﻦَ -‘স্মরণ কর সেই সময়েরকথা, যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বললেন,আমি মিশ্রিত পচা কাদার শুকনো মাটি দিয়ে ‘মানুষ’ সৃষ্টিকরব। অতঃপর যখন আমি তার অবয়ব পূর্ণভাবে তৈরীকরে ফেলব ও তাতে আমি আমার রূহ ফুঁকে দেব,তখন তোমরা তার প্রতি সিজদায় পড়ে যাবে’(হিজর১৫/২৮-২৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻳُﺼَﻮِّﺭُﻛُﻢْﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺣَﺎﻡِ ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﺸَﺂﺀُ ﻵ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰُ ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ- ‏) ﺁﻝﻋﻤﺮﺍﻥ ৬(-‘তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকেমাতৃগর্ভে আকার-আকৃতি দান করেছেন যেমন তিনিচেয়েছেন। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।তিনি মহা পরাক্রান্ত ও মহা বিজ্ঞানী’(আলে ইমরান৩/৬)। তিনি আরও বলেন, ﻳَﺨْﻠُﻘُﻜُﻢْ ﻓِﻲْ ﺑُﻄُﻮْﻥِ ﺃُﻣَّﻬَﺎﺗِﻜُﻢْﺧَﻠْﻘًﺎ ﻣِّﻦ ﺑَﻌْﺪِﺧَﻠْﻖٍ ﻓِﻲ ﻇُﻠُﻤَﺎﺕٍ ﺛَﻼَﺙٍ- ‏) ﺯﻣﺮ ৬(-‘তিনিতোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভে সৃষ্টিকরেন একের পর এক স্তরে তিনটি অন্ধকারাচ্ছন্নআবরণের মধ্যে’(যুমার ৩৯/৬)। তিনটি আবরণ হ’ল-পেট, রেহেম বা জরায়ু এবং জরায়ুর ফুল বা গর্ভাধার।উপরোক্ত আয়াতগুলিতে আদম সৃষ্টির তিনটি পর্যায়বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমে মাটি দ্বারা অবয়ব নির্মাণ,অতঃপর তার আকার-আকৃতি গঠন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহে শক্তির আনুপতিক হার নির্ধারণ ও পরস্পরেরমধ্যে সামঞ্জস্য বিধান এবং সবশেষে তাতে রূহসঞ্চার করে আদমকে অস্তিত্ব দান। অতঃপরআদমের অবয়ব (পাঁজর) থেকে কিছু অংশ নিয়ে তারজোড়া বা স্ত্রী সৃষ্টি করা। সৃষ্টির সূচনা পর্বের এইকাজগুলি আল্লাহসরাসরি নিজ হাতে করেছেন(ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। অতঃপর এই পুরুষ ও নারী স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস করেপ্রথম যে যমজ সন্তানজন্ম দেয়, তারাই হ’ল মানুষের মাধ্যমে সৃষ্টপৃথিবীর প্রথম মানব যুগল।তারপর থেকে এযাবতস্বামী-স্ত্রীর মিলনে মানুষের বংশ বৃদ্ধি অব্যাহতরয়েছে।শুধু মানুষ নয়, উদ্ভিদরাজি, জীবজন্তু ওপ্রাণীকুলের সৃষ্টি হয়েছে মাটি থেকে। আর মাটিসৃষ্টি হয়েছে পানি থেকে। পানিই হ’ল সকলজীবন্ত বস্ত্তর মূল(ফুরক্বান ২৫/৫৪)।মৃত্তিকাজাতসকল প্রাণীর জীবনের প্রথম ও মূল একক(Unit) হচ্ছে ‘প্রোটোপ্লাজম’ (Protoplasm)।যাকে বলা হয় ‘আদি প্রাণসত্তা’। এ থেকেই সকলপ্রাণী সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য বিজ্ঞানী মরিসবুকাইলী একে Bomb shell বলে অভিহিতকরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাটির সকলপ্রকারের রাসায়নিক উপাদান। মানুষের জীবনবীজে প্রচুর পরিমাণে চারটি উপাদান পাওয়া যায়।অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ওহাইড্রোজেন। আর আটটি পাওয়া যায় সাধারণভাবেসমপরিমাণে। সেগুলি হ’ল- ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম,পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ক্লোরিন, সালফার ওআয়রণ। আরও আটটি পদার্থ পাওয়া যায় স্বল্পপরিমাণে। তাহ’ল: সিলিকন, মোলিবডেনাম, ফ্লুরাইন,কোবাল্ট, ম্যাঙ্গানিজ, আয়োডিন, কপার ও যিংক। কিন্তুএই সব উপাদান সংমিশ্রিত করে জীবনের কণা তথা‘প্রোটোপ্লাজম’ তৈরী করা সম্ভব নয়। জনৈকবিজ্ঞানী দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এসব মৌল উপাদানসংমিশ্রিত করতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থহয়েছেন এবং তাতে কোন জীবনের ‘কণা’পরিলক্ষিত হয়নি। এই সংমিশ্রণ ও তাতে জীবন সঞ্চারআল্লাহ ব্যতীত কারু পক্ষে সম্ভবনয়। বিজ্ঞানএক্ষেত্রে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে।প্রথমপর্যায়ে মাটি থেকে সরাসরিআদমকে অতঃপর আদমথেকে তার স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করার পরবর্তীপর্যায়ে আল্লাহ আদম সন্তানদের মাধ্যমে বনুআদমের বংশ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছেন। এখানেওরয়েছে সাতটি স্তর। যেমন: মৃত্তিকার সারাংশ তথাপ্রোটোপ্লাজম, বীর্য বা শুক্রকীট, জমাটরক্ত, মাংসপিন্ড,অস্থিমজ্জা, অস্থি পরিবেষ্টনকারীমাংস এবং সবশেষে রূহ সঞ্চারণ(মুমিনূন ২৩/১২-১৪;মুমিন ৪০/৬৭; ফুরক্বান ২৫/৪৪; তারেক্ব ৮৬/৫-৭)।স্বামীর শুক্রকীট স্ত্রীর জরায়ুতে রক্ষিতডিম্বকোষে প্রবেশ করার পর উভয়ের সংমিশ্রিতবীর্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে(দাহর ৭৬/২)।উল্লেখ্য যে, পুরুষের একবার নির্গত লম্ফমানবীর্যে লক্ষ-কোটি শুক্রাণু থাকে। আল্লাহরহুকুমে তন্মধ্যকার একটি মাত্র শুক্রকীট স্ত্রীরজরায়ুতে প্রবেশ করে। এই শুক্রকীট পুরুষক্রোমোজম Y অথবাস্ত্রী ক্রোমোজম Xহয়ে থাকে। এর মধ্যে যেটি স্ত্রীর ডিম্বের Xক্রোমোজমের সাথে মিলিত হয়, সেভাবেইপুত্র বা কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে আল্লাহরহুকুমে।মাতৃগর্ভের তিন তিনটি গাঢ় অন্ধকার পর্দারঅন্তরালে এইভাবে দীর্ঘ নয় মাস ধরে বেড়েওঠা প্রথমত: একটি পূর্ণ জীবন সত্তার সৃষ্টি, অতঃপরএকটি জীবন্ত প্রাণবন্ত ও প্রতিভাবান শিশু হিসাবেদুনিয়াতে ভূমিষ্ট হওয়া কতই না বিষ্ময়কর ব্যাপার।কোন মানুষের পক্ষে এই অনন্য-অকল্পনীয়সৃষ্টিকর্ম আদৌ সম্ভব কী? মাতৃগর্ভের ঐ অন্ধকারগৃহে মানবশিশু সৃষ্টির সেই মহান কারিগর কে? কেসেই মহান আর্কিটেক্ট, যিনি ঐ গোপন কুঠরীতেপিতার ২৩টি ক্রোমোজম ও মাতার ২৩টিক্রোমোজম একত্রিত করে সংমিশ্রিত বীর্যপ্রস্ত্তত করেন? কে সেই মহান শিল্পী, যিনিরক্তপিন্ড আকারের জীবন টুকরাটিকে মাতৃগর্ভেপুষ্ট করেন? অতঃপর ১২০ দিন পরে তাতে রূহসঞ্চার করে তাকে জীবন্ত মানব শিশুতে পরিণতকরেন এবং পূর্ণ-পরিণত হওয়ার পরে সেখানথেকে বাইরে ঠেলে দেন (আবাসা ৮০/১৮-২০)।বাপ-মায়ের স্বপ্নের ফসল হিসাবে নয়নের পুত্তলিহিসাবে? মায়ের গর্ভে মানুষ তৈরীর সেইবিষ্ময়কর যন্ত্রের দক্ষ কারিগর ও সেই মহানশিল্পী আর কেউ নন, তিনি আল্লাহ!সুবহানাল্লাহি ওয়াবেহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযীম!!পুরুষ ও নারীরসংমিশ্রিত বীর্যেসন্তান জন্ম লাভের তথ্য কুরআনইসর্বপ্রথম উপস্থাপন করেছে (দাহর ৭৬/২)। আধুনিকবিজ্ঞান এ তথ্য জনতে পেরেছে মাত্র গতশতাব্দীতে ১৮৭৫ সালে ও ১৯১২ সালে। তারপূর্বে এরিষ্টটল সহ সকল বিজ্ঞানীর ধারণা ছিল যে,পুরুষের বীর্যের কোন কার্যকারিতা নেই।রাসূলের হাদীছ বিজ্ঞানীদের এই মতকেসম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে।[15]কেননাসেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে সন্তানপ্রজননে পুরুষও নারী উভয়ের বীর্য সমানভাবেকার্যকর।উল্লেখ্য যে, মাতৃগর্ভে বীর্য প্রথম ৬দিন কেবল বুদ্বুদ আকারে থাকে। তারপর জরায়ুতেসম্পর্কিত হয়। তিন মাসের আগে ছেলে বামেয়ে সন্তান চিহ্নিত হয় না। চার মাস পর রূহ সঞ্চারিতহয়ে বাচ্চা নড়েচড়ে ওঠে ও আঙ্গুল চুষতেথাকে। যাতে ভূমিষ্ট হওয়ার পরে মায়ের স্তনচুষতে অসুবিধা না হয়। এ সময় তার কপালে চারটিবস্ত্ত লিখে দেওয়া হয়। তার আজাল (হায়াত), আমল,রিযিক এবং সে ভাগ্যবান না দুর্ভাগা।[16]এভাবেই জগতসংসারে মানববংশ বৃদ্ধির ধারা এগিয়ে চলেছে। এনিয়মের ব্যতিক্রম নেই কেবল আল্লাহর হুকুমব্যতীত। একারণেই আল্লাহ অহংকারী মানুষকেউদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মানুষ কি দেখে না যে,আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে?অতঃপর সে হয়ে গেল প্রকাশ্যে বিতন্ডাকারী’।‘সে আমাদের সম্পর্কে নানারূপ দৃষ্টান্ত বর্ণনাকরে। অথচ সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে ভুলেযায়, আর বলে যে, কে জীবিত করবে এসবহাড়গোড় সমূহকে, যখন সেগুলো পচে গলেযাবে?(ইয়াসীন ৩৬/৭৭-৭৮)।জান্নাত থেকে পতিতহবার পর :হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ)থেকে ছহীহ সনদে ইমাম আহমাদ,নাসাঈ ও হাকেম(রহঃ) বর্ণনা করেন যে, ﺃﻟﺴﺖ ﺑﺮﺑﻜﻢ ‘আমি কিতোমাদের প্রভু নই? বনু আদমের কাছ থেকেএই বহুল প্রসিদ্ধ ‘আহদে আলাস্ত্ত’ বা প্রতিজ্ঞা-প্রতিশ্রুতিটি তখনই নেওয়া হয়, যখন আদম (আঃ)-কেজান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়।আর এ প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল না‘মান) ﻭﺍﺩﻯ ﻧَﻌْﻤَﺎﻥَ(নামক উপত্যকায়, যা পরবর্তীকালে ‘আরাফাত’-এরময়দান নামে পরিচিত হয়েছে।[17]এর দ্বারা একটিবিষয় প্রমাণিত হয় যে, জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থানপৃথিবীর বাইরে অন্যত্র এবং তা সৃষ্ট অবস্থায় তখনওছিল এখনও আছে। আধুনিক বিজ্ঞান এ পৃথিবী ওসৌরলোকের বাইরে দূরে বহুদূরে অগণিতসৌরলোকের সন্ধান দিয়ে কুরআন ও হাদীছেরতথ্যকেই সপ্রমাণ করে দিচ্ছে।আদমের অবতরণস্থল :আদম ও হাওয়াকে আসমানে অবস্থিত জান্নাতথেকে নামিয়ে দুনিয়ায় কোথায় রাখা হয়েছিল, সেবিষয়ে মতভেদ রয়েছে। যেমন বলা হয়েছেআদমকে সরনদীপে (শ্রীলংকা) ও হাওয়াকেজেদ্দায় (সঊদী আরব) এবং ইবলীসকে বছরায়(ইরাক) ও ইবলাসের জান্নাতে ঢোকার কথিত বাহনসাপকেইস্ফাহানে (ইরান) নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।কেউ বলেছেন, আদমকে মক্কার ছাফা পাহাড়েএবং হাওয়াকেমারওয়া পাহাড়ে নামানো হয়েছিল। এছাড়াআরও বক্তব্য এসেছে। তবে যেহেতু কুরআনও ছহীহ হাদীছে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি,সেকারণ এ বিষয়ে আমাদের চুপ থাকাইশ্রেয়।‘আহ্দে আলাস্ত্ত-র বিবরণ :মুসলিম ইবনেইয়াসার (রাঃ) বলেন, কিছু লোক হযরত ওমর ফারূক(রাঃ)-এরনিকটে সূরা আ‘রাফ ১৭২ আয়াতের মর্মজানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ(ছাঃ)-কে প্রশ্ন করা হ’লে তাঁকে আমি বলতেশুনেছি যে, ‘আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টিকরেন।[18]অতঃপর নিজের ডান হাত তার পিঠেবুলিয়ে দিলেন। তখন তার ঔরসে যত সৎমানুষজন্মাবার ছিল, তারা সব বেরিয়ে এল। আল্লাহবললেন, এদেরকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টিকরেছি এবং এরা দুনিয়াতে জান্নাতেরই কাজ করবে।অতঃপর তিনি পুনরায় তার পিঠে হাত বুলালেন, তখনসেখানথেকে একদল সন্তান বের করেআনলেন এবং বললেন, এদেরকে আমিজাহান্নামের জন্যে সৃষ্টি করেছি। এরা দুনিয়াতেজাহান্নামের কাজই করবে। একথা শুনে জনৈকছাহাবী প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল!তাহ’লে আর আমল করানোর উদ্দেশ্য কি?রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, যখন আল্লাহ কাউকেজান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তাকেদিয়েজান্নাতের কাজই করিয়ে নেন, এমনকি তারমৃত্যুও অনুরূপ কাজেরমধ্যে হয়ে থাকে। অতঃপরআল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। পক্ষান্তরেযখন তিনি কাউকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন,তখন তাকে দিয়ে জাহান্নামের কাজইকরিয়ে নেন।এমনকি তার মৃত্যুও অনুরূপ কাজের মধ্যে হয়েথাকে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশকরান।[19]আবুদ্দারদা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হয়েছে যে,রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ডান মুষ্টির লোকগুলো ছিলসুন্দর চকচকে ক্ষুদ্র পিপীলিকা দলের ন্যায়। আরবাম মুষ্টির ক্ষুদ্র লোকগুলো ছিল কালো কয়লারন্যায়’।[20]উল্লেখ্য যে, কুরআনে বলা হয়েছে,‘বনু আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে’(আ‘রাফ ১৭২)।অন্যদিকে হাদীছে বলা হয়েছে, ‘আদমেরপৃষ্ঠদেশ’ থেকে- মূলতঃ উভয়ের মধ্যে কোনবৈপরিত্যনেই। আদম যেহেতু বনু আদমের মূল এবংআদি পিতা, সেহেতু তাঁর পৃষ্ঠদেশ বলা আর বনুআদমের পৃষ্ঠদেশ বলা একই কথা। তাছাড়া আদমেরদেহের প্রতিটি লোমকূপ থেকে অসংখ্য বনুআদমকে বের করে এনে উপস্থিত করানোআল্লাহর জন্যবিচিত্র কিছুই নয়।মানুষ যেহেতু তারভাগ্য সম্পর্কে জানে না, সেহেতু তাকে সর্বদাজান্নাত লাভের আশায় উক্তপথেই কাজ করেযেতে হবে। সাধ্যমত চেষ্টা সত্ত্বেও ব্যর্থহ’লে বুঝতে হবে যে, ওটাই তারতাকদীরেরলিখন ছিল। বান্দাকে ভাল ও মন্দ দু’টিকরারই স্বাধীন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। আর এইইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের স্বাধীনতার কারণেই বনুআদম আল্লাহর সেরা সৃষ্টির মর্যাদায় অভিষিক্তহয়েছে। আর একারণেই তাকে তার ভাল ও মন্দকাজের পরিণতি ভোগ করতে হয়।এখানেআদমের ঔরস বলতে আদম ও তার ভবিষ্যৎসন্তানদের ঔরস বুঝানো হয়েছে। এখানে‘বংশধর’ বলতে তাদের অশরীরী আত্মাকেবুঝানো হয়নি, বরং আত্মা ও দেহের সমন্বয়েজ্ঞান ও চেতনা সম্পন্ন ক্ষুদ্র অবয়ব সমূহকেবুঝানো হয়েছে, যাদের কাছ থেকে সেদিনসজ্ঞানে তাদের প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি নেওয়াহয়েছিল। আর এটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।আজকের বিজ্ঞান একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুর ভিতরেগোটা সৌরমন্ডলীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। ফিল্মের মাধ্যমে একটি বিরাটকায়বস্ত্তকে একটি ছোট্ট বিন্দুর আয়তনেদেখানো হচ্ছে। কাজেই আল্লাহ তা‘আলা যদি উক্তঅঙ্গীকার অনুষ্ঠানে সকল আদম সন্তানকেজ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রদেহেঅণু-বিন্দুতে অস্তিত্ব দানকরে থাকেন, তবেতাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। তাছাড়া জ্ঞানসম্পন্ন নাহ’লে এবং বিষয়টি তাদের অনুধাবনে ও উপলব্ধিতেনা আসলে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি গ্রহণের ওঅঙ্গীকার ঘোষণার কোন গুরুত্ব থাকে না।প্রশ্নহ’তে পারে যে, সৃষ্টির সূচনায় গৃহীত এই প্রতিজ্ঞাও প্রতিশ্রুতির কথা পরবর্তীতে মানুষের ভুলেযাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাহ’লে এ ধরনের প্রতিশ্রুতিগ্রহণের ফলাফলটা কি? এর জবাব এই যে, আদি পিতা-মাতা আদম-হাওয়ার রক্ত ও মানসিকতার প্রভাব যেমনযুগে-যুগে দেশে-দেশে সকল ভাষা ও বর্ণেরমানুষের মধ্যে সমভাবে পরিদৃষ্ট হয়, তেমনিভাবেসেদিনে গৃহীত তাওহীদের স্বীকৃতি ওপ্রতিশ্রুতির প্রভাব সকল মানুষের মধ্যেইকমবেশী বিদ্যমান রয়েছে। মানুষের অস্তিত্বইমানুষকে তার সৃষ্টিকর্তার সন্ধান দেয় ও বিপন্নঅবস্থায় তার কাছে আশ্রয় গ্রহণের জন্য তার হৃদয়ব্যাকুল হয়ে ওঠে।তাই তো দেখা গেছে, বিশ্বইতিহাসের নিষ্ঠুরতম শাসক ও আল্লাহদ্রোহীফেরাঊন ডুবে মরার সময় চীৎকার দিয়ে আল্লাহরউপরে তার বিশ্বাস ঘোষণা করেছিল’(ইউনুস১০/৯০-৯১)। মক্কা-মদীনার কাফের-মুশরিকরাশেষনবীর সাথে শত্রুতা পোষণ করলেওকখনো আল্লাহকে অস্বীকার করেনি। আধুনিকবিশ্বের নাস্তিকসেরা স্ট্যালিনকে পর্যন্ত শেষনিঃশ্বাস ত্যাগের পূর্ব মুহূর্তে ‘ওহ মাই গড’ বলেচীৎকার করে উঠতে শোনা গেছে।প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টির সূচনালগ্নে গৃহীত উক্তস্বীকারোক্তি প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়েআল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসের বীজ বপনকরে দিয়েছে। চাই তার বিকাশ কোন শিরকী ওভ্রান্ত পদ্ধতিতে হৌক বা নবীদের দেখানো সঠিকতাওহীদী পদ্ধতিতে হৌক।এ কথাটাই হাদীছেএসেছে এভাবে যে, ﻣَﺎﻣِﻦْ ﻣَﻮْﻟُﻮْﺩٍ ﺇﻻَّ ﻳُﻮْﻟَﺪُ ﻋَﻠَﻰﺍﻟْﻔِﻄْﺮَﺓِ ﻓَﺄَﺑْﻮَﺍﻩُ ﻳُﻬَﻮِّﺩَﺍﻧِﻪِ ﺍَﻭْ ﻳُﻨَﺼِّﺮَﺍﻧِﻪِ ﺃَﻭْﻳُﻤَﺠِّﺴَﺎﻧِﻪِ…‘প্রত্যেক মানবশিশুই ফিৎরাতের উপরেজন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদী-নাছারা বা মজূসী (অগ্নিউপাসক) বানায়’।[21]এখানে‘ফিৎরাত’ অর্থ স্বভাবধর্ম ইসলাম।[22]অর্থাৎ মানব শিশুকোন শিরকী ও কুফরী চেতনা নিয়ে জন্মগ্রহণকরে না। বরং আল্লাহকে চেনা ও তার প্রতি আনুগত্যও আত্মসমর্পণের চেতনা ওযোগ্যতা নিয়েজন্মগ্রহণ করে। এরফলে নবীদের প্রদত্ততাওহীদের শিক্ষাকে সে অত্যন্ত সহজে ওসাগ্রহে বরণ করে নেয়। কেননা শুধু জন্মগতচেতনার কারণেই কেউ মুসলমান হ’তে পারে না।যতক্ষণ নাসে নবীর মাধ্যমে প্রেরিত দ্বীনসজ্ঞানে স্বেচ্ছায় কবুল করে।ছহীহ মুসলিমেরঅপর বর্ণনায় এসেছে, ﻭَﺇِﻧِّﻰْ ﺧَﻠَﻘْﺖُ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱْ ﺣُﻨَﻔَﺎﺀَﻛُﻠَّﻬُﻢْ ﻭَﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺃَﺗَﺘْﻬُﻢْ ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴْﻦُ ﻓَﺎﺟْﺘَﺎﻟَﺘْﻬُﻢْ ﻋَﻦْﺩِﻳْﻨِﻬِﻢْ…‘আল্লাহ বলেছেন, যে আমি আমারবান্দাদের ‘হানীফ’ অর্থাৎ ‘আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ’রূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তান তার পিছেলেগে তাকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে নিয়েগেছে।[23]আল্লাহ বলেন, ﻓِﻄْﺮَﺓَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺘِﻲْ ﻓَﻄَﺮَﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻻَﺗَﺒْﺪِﻳْﻞَ ﻟِﺨَﻠْﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ‘আল্লাহর ফিৎরত,যারউপরে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহরএই সৃষ্টির কোনপরিবর্তন নেই’(রূম ৩০/৩০)।মোটকথা প্রত্যেক মানবশিশু স্বভাবধর্ম ইসলামের উপরেজন্মগ্রহণ করে এবং নিজ সৃষ্টিকর্তাকে চেনার ওতাকে মেনে চলার অনুভূতি ও যোগ্যতা নিয়ে সৃষ্টিহয়। যদিও পিতা-মাতাও পরিবেশের কারণে কিংবাশয়তানেরওয়াসওয়াসায় পরবর্তীতে অনেকেবিভ্রান্ত হয়। অতএব কাফির-মুমিন-মুশরিক সবার মধ্যেআল্লাহকে চেনার ও তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যেরচেতনা ও যোগ্যতা বিদ্যমান রয়েছে। এই সৃষ্টিগতচেতনা ও অনুভূতিকে কেউ পরিবর্তনকরতে পারেনা। অর্থাৎ কুশিক্ষা, কুসঙ্গ ও শয়তানী সাহিত্য পাঠকরে বা নষ্ট ব্লু ফিল্মের নীল দংশনে উক্তচেতনাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করা আল্লাহর সৃষ্টিরবিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার শামিল। অতএব উক্ত সৃষ্টিগতচেতনাকে সমুন্নত রাখাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রেরকর্তব্য।একথা ব্যক্ত করে আল্লাহ বলেন, ﻭَﻣَﺎﺧَﻠَﻘْﺖُ ﺍﻟْﺠِﻦَّ ﻭَﺍﻟْﺈِﻧْﺲَ ﺇِﻻَّ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭْﻥِ -‘আমি জিন ওইনসানকে আমার ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনকাজের জন্য সৃষ্টি করিনি’(যারিয়াত ৫১/৫৬)। অর্থাৎ আমিতার প্রকৃতিতে আমার প্রতি ইবাদত ও দাসত্বেরআগ্রহ ও যোগ্যতা সৃষ্টি করে দিয়েছি। এটাকেসঠিক অর্থে কাজে লাগালে আমার অবাধ্যতামূলককোন কাজ বান্দার দ্বারা সংঘটিত হবে না এবংজগতসংসারেও কোন অশান্তি ঘটবে না।যেমনভাবে কোন মুসলিম শিশু জন্মগ্রহণেরসাথে সাথে তারকানে আযান শোনানো হয়।[24]অথচ ঐ শিশু আযানের মর্ম বুঝে না বা বড়হয়েও তার সেকথা মনে থাকে না। অথচঐআযানের মাধ্যমে তার হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে যায়তাওহীদ, রিসালাত ও ইবাদতের বীজ। যার প্রভাবসে আজীবন অনুভব করে। সে বে-আমলহ’লেও ‘ইসলাম’-এর গন্ডী থেকে খারিজ হয়েযেতে তার অন্তর কখনোই সায় দেয় না। তারঅবচেতন মনে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি আনুগত্যবোধ অক্ষুণ্ণ থাকে। বিশেষ করে হতাশা ও বিপন্নঅবস্থায় সে তার প্রভুর সাহায্য ও সান্নিধ্য লাভেরজন্য ব্যাকুলহয়ে ওঠে।অর্থ না বুঝলেও কুরআনপাঠ ও আযানের ধ্বনি মানুষের মনকে যেভাবেআকৃষ্ট করে এবং হৃদয়ে যে স্থায়ী প্রভাবফেলে তার কোন তুলনা নেই। একারণেই কাফিরআরব নেতারা মানুষকে কুরআন শুনতে দিতনা। অথচনিজেরা রাতের অন্ধকারে তা গোপনে আড়িপেতে শুনত এবং একে জাদু বলত। শ্রেষ্ঠ আরবকবিগণ কুরআনের অলৌকিকত্বের কাছেআত্মসমর্পণ করেন এমনকি অন্যতম শ্রেষ্ঠআরবী কবি লাবীদ বিন রাবী‘আহ কুরআন শোনারপর কাব্যচর্চা পরিত্যাগ করেন। গত শতাব্দীর শুরুতেতুরষ্কে ওছমানীয় খেলাফত উৎখাত করেকামালপাশা ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠাকরেন এবং মসজিদসমূহে আরবী আযান বন্ধ করে তুর্কী ভাষায়আযান দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন। কিন্তু তাতেআরবী আযানের প্রতি মানুষের হৃদয়াবেগ আরওবৃদ্ধি পায়। ফলে গণবিদ্রোহ দেখা দিলে তিনি উক্তআদেশ বাতিল করতে বাধ্য হন।আধুনিক বিজ্ঞানওপ্রমাণ করে দিয়েছে যে, শব্দ মানব মনেব্যাপকপ্রভাব বিস্তার করে। তাই আল্লাহপ্রেরিতআযানের ধ্বনি সদ্যপ্রসূত শিশুর কচি মনেআজীবনের জন্য সুদূরপ্রসারী স্থায়ী প্রভাববিস্তার করবে- এটাই স্বাভাবিক। অতএব সৃষ্টিরসূচনাকালের গৃহীত ‘আহ্দে আলাস্ত্ত’ বা আল্লাহরপ্রতি ইবাদত ও আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতিমানব মনে জীবনব্যাপী স্থায়ী প্রভাব বিস্তারকরে থাকে। যার কথা বারবার বান্দাকে স্মরণ করিয়েদিতে হয় এবং যার বিরোধিতা করা আত্মপ্রবঞ্চনা করারশামিল।‘আহ্দে আলাস্ত্ত-র উদ্দেশ্য :আল্লাহবলেন, ﺃَﻥْ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮْﺍ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻋَﻦْ ﻫَﺬَﺍ ﻏَﺎﻓِﻠِﻴﻦَ،ﺃَﻭْ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮْﺍ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﺷْﺮَﻙَ ﺁﺑَﺎﺅُﻧَﺎ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻞُ ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﺫُﺭِّﻳَّﺔً ﻣِّﻦﺑَﻌْﺪِﻫِﻢْ ﺃَﻓَﺘُﻬْﻠِﻜُﻨَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﻓَﻌَﻞَ ﺍﻟْﻤُﺒْﻄِﻠُﻮﻥَ، ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧُﻔَﺼِّﻞُ ﺍﻵﻳَﺎﺕِﻭَﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ – ‏)ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ ১৭২-১৭৪)-‘(আমিপৃথিবীতে আবাদ করার আগেভাগে তোমাদেরঅঙ্গীকার এজন্যেই নিয়েছি) যাতে তোমরাক্বিয়ামতের দিন একথা বলতে না পার যে, (তাওহীদও ইবাদতের) এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না’। ‘অথবাএকথা বলতে না পার যে, শিরকের গপ্রথা তোআমাদের পূর্বে আমাদের বাপ-দাদারা চালু করেছিল।আমরা হ’লাম তাদের পরবর্তী বংশধর। তাহ’লেসেই বাতিলপন্থীরাযে কাজ করেছে, তার জন্য কিআপনি আমাদের ধ্বংস করবেন’? আল্লাহ বলেন,‘বস্ত্ততঃ এভাবে আমরা (আদিকালে ঘটিত) বিষয়সমূহসবিস্তারে বর্ণনা করলাম, যাতে তারা (অর্থাৎঅবিশ্বাসীরা আমার পথে) ফিরে আসে’(আ‘রাফ১৭২-১৭৪)।উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বুঝাযায়যে, উক্ত প্রতিজ্ঞা ছিল দু’ধরনের। এক-আদিকালে ঘটিত প্রতিজ্ঞা ( ﺍﻟﻤﻴﺜﺎﻕ ﺍﻷﺯﻟﻰ ) এবং দুই-অহীর বিধানের আনুগত্য করার জাগতিক প্রতিজ্ঞা( ﻭﺍﻟﻤﻴﺜﺎﻕ ﺍﻹﻧﺰﺍﻟﻲ ﺍﻟﺤﺎﻟﻲ ) যা প্রত্যেক নবীরআমলে তার উম্মতগণের উপরে ছিল অপরিহার্য।অন্যান্য অঙ্গীকার গ্রহণ :(১) নবী-রাসূলদেরপ্রতিশ্রুতি :‘আহ্দে আলাস্ত্তর মাধ্যমে সাধারণভাবেসকল আদম সন্তানের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিগ্রহণের পর আল্লাহ নবী-রাসূলদের কাছ থেকেবিশেষভাবে প্রতিশ্রুতি নেন; তারা যেন আল্লাহরপক্ষ থেকেপ্রাপ্তব্য রেসালাতের বাণীসমূহস্বস্ব উম্মতের নিকটে যথাযথভাবে পৌঁছে দেন এবংএতে কারো ভয়-ভীতি ও অপবাদ-ভৎর্সনারপরোয়া না করেন।(২) উম্মতগণের প্রতিশ্রুতি:অনুরূপভাবে বিভিন্ন নবীর উম্মতগণের কাছথেকেও প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়, তারা যেন নিজ নিজনবী-রাসূলদের আনুগত্য করে ও কোন অবস্থায়তাদের নাফরমানী না করে।যেমন ছাহাবী উবাইইবনু কা‘ব (রাঃ) সূরা আ‘রাফ ১৭২ আয়াত (অনুবাদঃ ‘যখনতোমার প্রভু বনু আদমের পিঠ সমূহ থেকেতাদের সন্তানদের বের করে আনলেন’)-এরব্যাখ্যায় বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাদের একত্রিতকরলেন এবং নারী-পুরুষে বিভক্ত করলেন। অতঃপরতাদেরকে ভবিষ্যতের আকৃতি দান করলেন ও কথাবলার ক্ষমতা দিলেন। তখন তারা কথা বলল। অতঃপরআল্লাহ তাদের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতিগ্রহণ করলেন এবং তাদেরকে নিজেদের উপরেসাক্ষী করে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কিতোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, হ্যাঁ। আল্লাহবললেন, আমি তোমাদের একথার উপর সাত আসমানও সাত যমীনকে সাক্ষী করছি এবং তোমাদেরউপর তোমাদের পিতা আদমকেসাক্ষী রাখছি, যাতেতোমরা ক্বিয়ামতের দিন একথা বলতে না পার যে, এপ্রতিশ্রুতির কথা আমরাজানতাম না।তোমরা জেনে রাখযে, আমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই ও আমিব্যতীত কোন প্রতিপালক নেই। আর তোমরাআমার সাথে কাউকে শরীক করো না। সত্বর আমিতোমাদের নিকট আমার রাসূলগণকে পাঠাব। তাঁরাতোমাদেরকে আমার সাথে কৃত এই প্রতিজ্ঞা ওপ্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। আর আমিতোমাদের প্রতি আমার কিতাব সমূহ নাযিল করব। তখনতারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনিআমাদের প্রভু এবং উপাস্য। আপনি ব্যতীতআমাদের কোন প্রতিপালক নেই এবং আপনিব্যতীত আমাদের কোন উপাস্য নেই। এভাবেতারা স্বীকৃতি দিল। অতঃপর আদমকেতাদের উপরউঠিয়ে ধরা হ’ল। তিনি তাদের দিকে দেখতেলাগলেন। তিনি দেখলেন তাদের মধ্যকার ধনী-গরীব, সুন্দর-অসুন্দর সবাইকে। তখন তিনি বললেন,হে প্রভু! আপনি কেন আপনার বান্দাদের সমানকরলেন না?আল্লাহ বললেন, আমি চাই যে, এরফলেআমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাহউক।তিনিতাদের মধ্যে নবীগণকে দেখলেন প্রদীপসদৃশ। তাঁদের নিকট থেকে পৃথকভাবে রিসালাত ওনবুঅতের দায়িত্ব পালনের বিশেষ অঙ্গীকারনেওয়া হয়। যে সম্পর্কেআল্লাহ বলেন, ‘যখনআমরা নবীগণের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণকরলামএবং আপনার নিকট থেকেও এবং নূহ, ইবরাহীম,মূসা ও মারিয়াম-পুত্র ঈসার নিকট থেকে’(আহযাব৩৩/৭)। ঐ রূহগুলির মধ্যে ঈসার রূহ ছিল, যামারিয়ামেরকাছে পাঠানো হয়। উবাইথেকে বর্ণিত হয়েছেযে, উক্ত রূহ মারিয়ামের মুখ দিয়ে প্রবেশ করে’।[25](৪) শেষনবীর জন্য প্রতিশ্রুতি :এরপর সকলনবীর কাছ থেকে বিশেষ প্রতিশ্রুতি নেওয়াহয়েছে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব ওমর্যাদাকে মেনে নেওয়ার জন্য, তাঁর অনুসরণেরজন্য এবং তাঁর যুগ পেলে তাঁকে সাহায্য করার জন্য।যেমন- আল্লাহ বলেন, ﻭَﺇِﺫْ ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻣِﻴْﺜَﺎﻕَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴْﻦَﻟَﻤَﺎ ﺁﺗَﻴْﺘُﻜُﻢ ﻣِّﻦْ ﻛِﺘَﺎﺏٍ ﻭَّﺣِﻜْﻤَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺟَﺎﺀَﻛُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝٌ ﻣُّﺼَﺪِّﻕٌﻟِّﻤَﺎ ﻣَﻌَﻜُﻢْ ﻟَﺘُﺆْﻣِﻨُﻦَّ ﺑِﻪِ ﻭَﻟَﺘَﻨْﺼُﺮُﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺃَﻗْﺮَﺭْﺗُﻢْ ﻭَﺃَﺧَﺬْﺗُﻢْﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺇِﺻْﺮِﻱْ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﺃَﻗْﺮَﺭْﻧَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺎﺷْﻬَﺪُﻭْﺍ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻣَﻌَﻜُﻢﻣِّﻦَ ﺍﻟﺸَّﺎﻫِﺪِﻳْﻦَ- ‏) ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ ৮১(-‘আর আল্লাহ যখননবীগণের কাছ থেকেঅঙ্গীকার নিলেন যে,আমি যা কিছু তোমাদেরকে দান করেছি কিতাব ওহিকমত, অতঃপর তোমাদের নিকটে (যখন) রাসূল(শেষনবী) আসেন তোমাদের নিকট যা আছে(তাওরাত-ইঞ্জীল) তার সত্যয়নকারী হিসাবে, তখনসেই রাসূলের (শেষনবীর) প্রতি তোমরা ঈমানআনবে ও তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন,তোমরা কি অঙ্গীকার করছ? এবং উপরোক্তশর্তে তোমরা আমার ওয়াদাকবুল করে নিচ্ছ? তারা(নবীগণ) বলল, আমরা অঙ্গীকার করছি। তিনি(আল্লাহ) বললেন, তাহ’লে তোমরা সাক্ষী থাক।আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীরইলাম’(আলে ইমরান ৩/৮১)।অন্যত্র আল্লাহবলেন, ﻭَﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻳَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﺇِﻧِّﻲﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢ ﻣُّﺼَﺪِّﻗﺎً ﻟِّﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻱَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِﻭَﻣُﺒَﺸِّﺮﺍً ﺑِﺮَﺳُﻮﻝٍ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِﻱ ﺍﺳْﻤُﻪُ ﺃَﺣْﻤَﺪُ … ، ‘স্মরণকর, যখন মারিয়াম-তনয় ঈসা বলল, হেইস্রাঈলসন্তানগণ! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহরপ্রেরিত রাসূল এবং আমারপূর্ববর্তী তাওরাত কিতাবেরসত্যয়নকারী। আর আমি একজন রাসূলের সুসংবাদদানকারী, যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম হবে‘আহমাদ’…(ছফ ৬১/৬)।উপরোক্ত আয়াত দ্বয়ে বুঝাযায় যে,বিগত সকল নবী যেমন তাঁর পূর্ববর্তীনবীর সত্যয়নকারী ছিলেন, তেমনি সকল নবীস্ব স্ব উম্মতের নিকটে শেষনবী মুহাম্মাদছাল্লাল্লাহু আলাইহেওয়া সাল্লামের আগমনবার্তাশুনিয়ে গেছেন ও তাঁর প্রতি ঈমান,আনুগত্য ওতাঁকে সার্বিকভাবে সাহায্য করার জন্য অছিয়ত করেগেছেন। এদিক দিয়ে শেষনবী যে বিশ্বনবীছিলেন এবং তাঁর আনীত শরী‘আতের মধ্যেবিগত সকল শরী‘আত যে পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়েছে,তা পরিষ্কার হয়ে যায়।(৫) ইহুদী পন্ডিতদেরপ্রতিশ্রুতি :উপরোক্ত ওয়াদা ছাড়াও ইহুদী-নাছারাপন্ডিতদের কাছ থেকে বিশেষ প্রতিশ্রুতি নেওয়াহয়, যাতে তারা সত্য গোপন না করে। যেমনআল্লাহ বলেন, ﻭَﺇِﺫْ ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻣِﻴْﺜَﺎﻕَ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺃُﻭﺗُﻮْﺍ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَﻟَﺘُﺒَﻴِّﻨُﻨَّﻪُ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻭَﻻَ ﺗَﻜْﺘُﻤُﻮﻧَﻪُ ﻓَﻨَﺒَﺬُﻭْﻩُ ﻭَﺭَﺍﺀَ ﻇُﻬُﻮﺭِﻫِﻢْﻭَﺍﺷْﺘَﺮَﻭْﺍ ﺑِﻪِ ﺛَﻤَﻨﺎً ﻗَﻠِﻴْﻼً ﻓَﺒِﺌْﺲَ ﻣَﺎ ﻳَﺸْﺘَﺮُﻭْﻥَ- ‏) ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ১৮৭(-‘আর আল্লাহ যখন আহলে কিতাবদের(পন্ডিতদের) নিকট থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণকরলেন যে, তারা তা লোকদের নিকটে বর্ণনাকরবে ও তা গোপন করবে না। তখন তারা সেপ্রতিজ্ঞাকে পিছনে রেখে দিল, আর তা বেচা-কেনা করল সামান্য পয়সার বিনিময়ে। কতই না মন্দতাদের এ বেচা-কেনা’(আলে ইমরান ৩/১৮৭)।(৬)সাধারণ বনু ইস্রাঈলগণের প্রতিশ্রুতি :অতঃপর বনুইস্রাঈলের সাধারণ লোকদের কাছ থেকেওপ্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়। যেমন আল্লাহ বলেন, ﻭَﺇِﺫْﺃَﺧَﺬْﻧَﺎ ﻣِﻴﺜَﺎﻕَ ﺑَﻨِﻲْ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴْﻞَ ﻻَ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﺇِﻻَّﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺑِﺎﻟْﻮَﺍﻟِﺪَﻳْﻦِﺇِﺣْﺴَﺎﻧًﺎ ﻭَﺫِﻱ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﻰ ﻭَﺍﻟْﻴَﺘَﺎﻣَﻰ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴْﻦِ ﻭَﻗُﻮﻟُﻮْﺍ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِﺣُﺴْﻨًﺎ ﻭَﺃَﻗِﻴْﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻭَﺁﺗُﻮﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﺛُﻢَّ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺘُﻢْ ﺇِﻻَّ ﻗَﻠِﻴﻼًﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻣُﻌْﺮِﺿُﻮْﻥَ – ‏)ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ৮৩(-‘যখন আমরা বনুইস্রাঈলগণের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এইমর্মে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারুইবাদত করবে না। আর তোমরা পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ওইয়াতীম-মিসকীনদের সাথে সদ্ব্যবহারকরবে এবং মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলবে, ছালাতকায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে। কিন্তু কিছুলোক ব্যতীত তোমরা সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলেএবং তোমরা তা অগ্রাহ্য করলে’(বাক্বারাহ ২/৮৩)।বলাবাহুল্য যে, অধিকাংশ নবী বনুইস্রাঈল থেকেইহয়েছেন। কিন্তু বনু ইস্রাঈলরাই অধিকাংশ নবীকেহত্যা করেছে, তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নকরেছে, তাদের ঐশী কিতাবসমূহকে পরিবর্তন ওবিকৃত করেছে, তাদের নবীদের চরিত্র হননকরেছে, তাদের নামে কলংক লেপন করেছেএবং অবশেষে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কেচিনতে পেরেও(বাক্বারাহ ২/১৪৬; আন‘আম ৬/২০)নাচেনার ভান করেছে ও তাঁর সঙ্গে চূড়ান্ত গাদ্দারীকরেছে। অবশ্য তাদের মধ্যেঅনেকে) ﻗِﺴِّﻴْﺴِﻴْﻦَ ﻭَﺭُﻫْﺒَﺎﻧًﺎ (ঈমান এনে ধন্যহয়েছিলেন এবং আল্লাহর নিকটে কৃত ওয়াদা পূর্ণকরেছিলেন।[26]যেমন খ্যাতনামা ছাহাবী আব্দুল্লাহইবনে সালাম, আদী ইবনে হাতেম প্রমুখনেতৃবৃন্দ। এতদ্ব্যতীত হাবশার খৃষ্টান বাদশাহনাজ্জাশী নিজে তো শেষনবীর উপরেবিশ্বাসী ছিলেন। অধিকন্তু তিনি আবিসিনিয়ার ৬২ জন ওসিরিয়ার ৮ জনমোট ৭০ জনের একটিশীর্ষস্থানীয় খৃষ্টান ধর্মীয় প্রতিনিধিদলকেমদীনায় প্রেরণ করেন। তাঁরা রাসূলের মুখে সূরাইয়াসীন শুনে অবিরল ধারায় অশ্রু বিসর্জন দেন।অতঃপর সবাই ইসলাম গ্রহণ করেন’। তাদেরপ্রত্যাবর্তনের পর নাজ্জাশী নিজের ইসলামকবুলের কথা ঘোষণা করেন এবং একখানা পত্রলিখে স্বীয় পুত্রের নেতৃত্বে আরেকটিপ্রতিনিধিদল মদীনায় প্রেরণ করেন। কিন্তুদুর্ভাগ্যক্রমে জাহায ডুবির কারণে তারা সবাইপথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।[27]আদমের মর্যাদা ওশ্রেষ্ঠত্ব :‘আশরাফুল মাখলূক্বাত’ বা সেরা সৃষ্টিহিসাবে আল্লাহ আদম ও বনু আদমকে সৃষ্টি করেন।এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻲْ ﺁﺩَﻡَﻭَﺣَﻤَﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟْﺒَﺤْﺮِ ﻭَﺭَﺯَﻗْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒَﺎﺕِﻭَﻓَﻀَّﻠْﻨَﺎﻫُﻤْﻌَﻠَﻰ ﻛَﺜِﻴﺮٍ ﻣِّﻤَّﻦْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺗَﻔْﻀِﻴْﻼً- ‏) ﺍﻹﺳﺮﺍﺀ৭০(-‘আমরা বনু আদমকে উচ্চ সম্মানিত করেছি,তাদেরকে স্থল ও জলপথে বহনকরে নিয়েছি,তাদেরকে পবিত্র বস্ত্ত সমূহ হ’তে খাদ্য দানকরেছি এবং আমাদের বহু সৃষ্টির উপরে তাদেরকেউচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছি’(ইসরা ১৭/৭০)।এখানেপ্রথমে ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎশব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকেএমন কিছু বিষয়ে একচ্ছত্র সম্মান দানের কথা বলাহয়েছে, যা অন্য কোন সৃষ্টিকে দেওয়া হয়নি।যেমন জ্ঞান-বিবেক, চিন্তাশক্তি, ভাল-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যবোধ, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিপ্রয়োগের ক্ষমতা ইত্যাদি। অতঃপরﻓَﻀَّﻠْﻨَﺎ শব্দব্যবহারের মাধ্যমে অন্যের তুলনায় মানুষকে উচ্চমর্যাদা দানের কথা বলা হয়েছে। যেমন মানুষেরউন্নত হ’তে উন্নততর জীবন যাপন প্রণালী, গৃহনির্মাণ পদ্ধতি, খাদ্য গ্রহণ, পোষাক-পরিচ্ছদইত্যাদিতে উন্নততর রুচিশীলতা, আইনানুগ ওসমাজবদ্ধ জীবনযাপন প্রভৃতি বিষয়গুলি অন্যান্যপ্রাণী হ’তে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত এবং নানা বৈচিত্র্যেভরপুর। তাতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বিবর্তনও উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। অথচ বাবুই পাখির নীড়রচনা কিংবা বনে-জঙ্গলে বাঘ-শৃগালের বসবাস পদ্ধতিলক্ষ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। না তাতেঅতীতে কোন পরিবর্তন এসেছে, নাভবিষ্যতে কোন পরিবর্তন আসার সম্ভাবনারয়েছে।মানুষ জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষেউন্নত হ’তে উন্নততর পরিবহনে চলাফেরা ওব্যবসা-বাণিজ্য করছে।তারা পৃথিবীর সর্বোত্তমখাদ্যসমূহ গ্রহণ করছে, উন্নত পাক-প্রণালীরমাধ্যমে সুস্বাদু খাবার গ্রহণ ও সর্বোত্তম পানীয়পান করছে, যা অন্য প্রাণীর পক্ষেআদৌ সম্ভব নয়।মানব মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিষয় হচ্ছে তাকেকথা বলার শক্তি দান করা, যা অন্য কোন সৃষ্টিকেদেওয়া হয়নি। তাকে দেওয়া হয়েছে ভাষা ও রঙেরবৈচিত্র্য, দেওয়া হয়েছে লিখনক্ষমতা এবং উন্নতসাহিত্য জ্ঞান ও অলংকার সমৃদ্ধ বাক্য গঠন ও কাব্যরচনার যোগ্যতা, যা অন্য কোন সৃষ্টিকে দেওয়াহয়নি।মানব মর্যাদার অন্যতম বিষয় হ’ল, বিশ্বেরপ্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল সৃষ্টিকে মানুষের অনুগতকরেদেওয়া হয়েছে(লোকমান ৩১/২০)।যেনআল্লাহর যাবতীয় সৃষ্টিকর্মের মূল লক্ষ্যহচ্ছে মানুষ। মানুষের জন্যই যেন সবকিছু। সূর্যেরকিরণ, চন্দ্রের জ্যোতি,গ্রহ-নক্ষত্রের মিটিমিটিআলো, বাতাসের মৃদুমন্দ প্রবাহ,পানিরজীবনদায়িনী ক্ষমতা, মাটির উর্বরা শক্তি,আগুনের দাহিকা শক্তি, বিদ্যুতের বহু মাত্রিককল্যাণকারিতা, মাঠভরা সবুজ শস্যভান্ডার, গাছ ভরা ফল-ফলাদি, বাগিচায় রং-বেরংয়ের ফুলের বাহার, পুকুর-নদী-সাগর ভরা নানা জাতের মাছ ও মণি-মুক্তারসমাহার,ভূগর্ভে সঞ্চিত স্বর্ণ-রৌপ্য ও খনিজসম্পদরাজি ও তৈল-গ্যাসের আকর, গোয়াল ওজঙ্গলভরা পশু-পক্ষীর আবাস কাদের জন্য? এককথায় জবাব: এসবই কেবল মানুষের জন্য। আল্লাহবলেন, ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﻟَﻜُﻢ ﻣَّﺎ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺟَﻤِﻴﻌﺎً ‘তিনিইসেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীরসবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন’(বাক্বারাহ ২/২৯)।প্রশ্নহ’ল: সবই যখন মানুষের জন্য, তাহ’লে মানুষ কারজন্য? তারও জবাব একটাই: ‘আমরা আল্লাহর জন্য, এবংআমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব’(বাক্বারাহ ২/১৫৬)। ‘আমরাএসেছি তাঁর ইবাদতের জন্য, সর্বক্ষেত্রে তাঁরদাসত্বের জন্য(যারিয়াত ৫১/৫৬)এবং দুনিয়ায় তাঁরখেলাফত পরিচালনার জন্য’(বাক্বারাহ ২/৩০)।।বিশ্বলোকে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর ইবাদতেরত। সবই একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য(লোকমান৩১/২৯)নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পরিচালিত(ফাতির৩৫/৪৩)। সবই আল্লাহর অনুগত ও তাঁর প্রতি সিজদায়অবনত এবং কেবল তাঁরই গুণগানে রত। জগত সংসারপরিচালনার এই সুনির্দিষ্ট নিয়মটাই হ’ল ‘দ্বীন’ এবং এইদ্বীনের প্রতি নিখাদ আনুগত্য ওআত্মসমর্পণকেই বলা হয় ‘ইসলাম’। এজন্যেই বলাহয়েছে ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻹِﺳْﻼَﻡُ ‘আল্লাহর নিকটে‘দ্বীন’ হ’ল কেবল ‘ইসলাম’(আলে ইমরান ৩/১৯)।ইসলামের দু’টি দিক রয়েছে, প্রাকৃতিক ও মানবিক।প্রথমটি সমস্ত বিশ্ব প্রকৃতিতে পরিব্যপ্ত। যেখানেসবকিছু সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক প্রাকৃতিক নিয়মেপরিচালিত। যে নিয়মের কোন ব্যত্যয় নেই কোনব্যতিক্রম নেই (আল্লাহর বিশেষ হুকুম ব্যতীত)(ইউসুফ ১২/৪০; আহযাব ৩৩/৬২; ইসরা ১৭/৭৭)।দ্বিতীয়টি অর্থাৎ মানবিক জীবন পরিচালনার ব্যবহারিকনীতি-নিয়ম যা আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসূলদেরমাধ্যমে পাঠিয়েছেন। একেই বলে ইসলামীশরী‘আত। যা আদমআলাইহিস সালামেরমাধ্যমে শুরুহয়ে শেষনবী মুহাম্মাদছাল্লাল্লাহু আলাইহেওয়াসাল্লামেরমাধ্যমে শেষ হয়েছে ও পূর্ণতা লাভকরেছে(মায়েদাহ ৫/৩)। উল্লেখ্য যে, আভিধানিকঅর্থে বিগত সকল নবীর দ্বীনকে ইসলাম বলাগেলেও পারিভাষিকভাবে শেষনবীর নিকটেপ্রেরিত সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকেই কেবল‘ইসলাম’ বলা হয়ে থাকে। আল্লাহ বলেন, ﻓَﺄَﻗِﻢْ ﻭَﺟْﻬَﻚَﻟِﻠﺪِّﻳْﻦِ ﺣَﻨِﻴﻔًﺎ ﻓِﻄْﺮَﺓَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻓَﻄَﺮَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻻَ ﺗَﺒْﺪِﻳﻞَﻟِﺨَﻠْﻖِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺪِّﻳﻦُ ﺍﻟْﻘَﻴِّﻢُ ﻭَﻟَﻜِﻦَّ ﺃَﻛْﺜَﺮَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻻَﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ – ‏) ﺍﻟﺮﻭﻡ ৩০(-‘তুমি তোমার চেহারাকেদ্বীনের জন্য একনিষ্ঠ কর। এটিই আল্লাহর ফিৎরাত,যার উপরে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহরসৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাইহ’ল সরল ধর্ম।কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না’(রূম ৩০/৩০)।উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা অপরিবর্তনীয়দ্বীনের প্রতি মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেবলেছেন, সেটি হ’ল সেই দ্বীন, যাবিশ্বলোকে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। মানুষেরদেহসত্তায়ও জীবন প্রবাহে উক্ত দ্বীনপ্রতিবিম্বিত। উক্ত দ্বীনের প্রতি আনুগত্যেরকারণেই পিতার সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম শুক্রাণু থেকেমাতৃগর্ভে ভ্রুণ সৃষ্টি হয়। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে তাসুন্দর ফুটফুটে মানবশিশু রূপে দুনিয়াতে ভূমিষ্ট হয়।অতঃপর শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও প্রৌঢ়ত্ব পেরিয়েসে বার্ধক্যে উপনীত হয় ও এক সময় তার মৃত্যুহয়। দেহের এই জন্ম-মৃত্যুর নিয়মের কোনপরিবর্তন নেই। এক্ষেত্রে মানুষ সহ সকলসৃষ্টজীব ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় আল্লাহর অলংঘনীয়বিধানের প্রতি আনুগত্যশীল ও আত্মসমর্পিত‘মুসলিম’(আলে ইমরান ৩/৮৩; রা‘দ ১৩/১৫)। এটা হ’ল‘ইসলাম’-এর প্রাকৃতিক দিক, যা মানতে প্রত্যেক মানুষবাধ্য। মানুষের দেহ তাই প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন।কিন্তু জ্ঞানের দিক দিয়ে সে স্বাধীন। সে তারজ্ঞানকে স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারে।মানুষের বাহ্যিক আকৃতির শ্রেষ্ঠত্বের সাথে তারআধ্যাত্মিক দিকের সংযোগ এক অসাধারণ ব্যাপার।অথচ বিশ্বলোকের অন্যান্য সৃষ্টির বাইরের দিক ওভিতরের দিকের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।চন্দ্র-সূর্যের সবটাই আলো, পশুর সবটাই পশুত্বেভরা। কিন্তু মানুষের বাইরের দিকের সাথে ভিতরেরদিকের কোন মিল নেই। বরং তা আরও জটিল ওদুর্বোধ্য। মানুষের দৈহিক অবয়বের মধ্যেওটাএকটা আলাদা জগত। যা দেখা যায় না, কেবলউপলব্ধি করা যায়। মানুষ যেমন ষড় রিপু সমৃদ্ধ একটিজৈবিক সত্তা, তেমনি সে একটি বিবেকবান নৈতিক ওআধ্যাত্মিক সত্তা। মানুষের দেহ জগতের চিকিৎসা ওআরাম-আয়েশের উপকরণ তাই কমবেশী সর্বত্রপ্রায় সমান হ’লেও তার মনোজগতের চিকিৎসা ও সুখ-দুঃখের অনুভূতি সবার জন্য সমান নয়। মনোজগতেশয়তানের তাবেদার হয়ে সেঅনেক সময় তারবাহ্যিক দেহ জগতকে ধ্বংস করে দেয়। মূলত:মনোজগতে লালিত ধারণা ও বিশ্বাসইমানুষেরকর্মজগতে প্রতিফলিত হয়। তাই দয়ালু আল্লাহতাঁর প্রিয় সৃষ্টিমানুষের সার্বিক জীবন সঠিক পথেপরিচালনার জন্য যুগে যুগে নবীগণের মাধ্যমেএলাহী হেদায়াত সমূহ পাঠিয়েছেন। প্রাকৃতিকদ্বীন-এর মত এই দ্বীনও অপরিবর্তনীয় ওচিরকল্যাণময়। আর সেটাই হ’ল ইসলামের বাহ্যিকমানবিক দিক। উক্ত মানবিক দিক পরিচালনার উদ্দেশ্যেযে দ্বীন নবীদের মাধ্যমে প্রেরিতহয়েছে, তা গ্রহণ ও পালনের স্বাধীন এখতিয়ারমানুষকে দেওয়া হয়েছে(কাহফ ১৮/২৯; দাহর৭৬/৪)।এ দ্বীন বা শরী‘আতের পূর্ণাঙ্গঅনুসরণে মানুষ দুনিয়ায় শান্তি পাবে ও আখেরাতেজান্নাত লাভে ধন্য হবে। আর তা অমান্য করলেদুনিয়ায় অশান্তি ভোগ করবে ও পরকালেজাহান্নামের আগুনে দগ্ধীভূত হবে(বাক্বারাহ২/৩৮-৩৯; তাগাবুন ৬৪/ ৯-১০)।বলা বাহুল্য, এ স্বাধীনইচ্ছাশক্তিই মানুষের ‘সৃষ্টির সেরা’ হওয়ার মূল কারণ।এতেই তার পরীক্ষা এবং এতেই তার জান্নাত বাজাহান্নাম। মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড়দিক হ’ল এ পৃথিবীতে আল্লাহর খেলাফত প্রতিষ্ঠাকরা। কেননা তাকে ‘আল্লাহর খলীফা’ হিসাবেইদুনিয়ায়পাঠানো হয়েছে।[28]এ দুনিয়াকে আল্লাহরইচ্ছা অনুযায়ী সুন্দরভাবে আবাদ করা এবং অহীরবিধান অনুযায়ী সার্বিক জীবন পরিচালনার মাধ্যমেআল্লাহর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করাই তার প্রধানকাজ। খেলাফতের এ দায়িত্ব সে ব্যক্তি জীবনেযেমন পালন করবে, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়জীবনেও তেমনি পালন করবে। সর্বত্র সেআল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যশীল বান্দা হিসাবেনিজেকে প্রমাণ করবে। এই গুরু দায়িত্ব আসমান-যমীন, পাহাড়-পর্বত কেউ গ্রহণ করতে সাহসীহয়নি। মানুষ স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল(আহযাব ৩৩/৮২)। কিন্তু দুনিয়ায় এসে এর চাকচিক্যদেখে মানুষ মোহগ্রস্ত হয়ে গেছে ওআল্লাহর খেলাফতের দায়িত্ব পালনের কথা ভুলেগেছে। কেউবা তাতে অলসতা দেখাচ্ছে,কেউবা অস্বীকার করছে। তবুও ক্বিয়ামত-প্রাক্কালঅবধি একদল লোক চিরদিনথাকবে, যারা এ দায়িত্ব পালনকরে যাবে।[29]আল্লাহ বলেন, ﻭَﻣِﻤَّﻦْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺃُﻣَّﺔٌﻳَﻬْﺪُﻭﻥَ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﻭَﺑِﻪِ ﻳَﻌْﺪِﻟُﻮﻥَ -‘আমরা যাদের সৃষ্টি করেছিতাদের মধ্যেএকটি দল রয়েছে, যারা সত্য পথদেখায় ও সেমতে ন্যায়বিচার করে’(আ‘রাফ৭/১৮১)। অতঃপর তিনি বলেন, ﺳَﻨَﻔْﺮُﻍُ ﻟَﻜُﻢْ ﺃَﻳُّﻬَﺎﺍﻟﺜَّﻘَﻼَﻥِ‘হে জিন ও ইনসান! অতিসত্বর আমরাতোমাদের ব্যাপারে মনোনিবেশ করব’(রহমান৫৫/৩১)। অর্থাৎ একটি বিশেষ মুহূর্তে দুনিয়াতেতোমাদের পরীক্ষা গ্রহণের এই ধারা সহসাই বন্ধহয়ে যাবে এবং তোমাদেরকে পুনর্জীবিতকরে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে। সেদিনআমার সুক্ষ্ম বিচারের হাত থেকে তোমরাকেউইরেহাই পাবে না।জিনদের আল্লাহ আগেই সৃষ্টিকরেনআগুন থেকে। তারাও ছিল স্বাধীন এখতিয়ারসম্পন্ন। কিন্তু তারা অবাধ্যতা করেছিল। অনেকেজিনকে চর্ম চক্ষুতে দেখতে পায় না বলেতাদেরকে অস্বীকার করে। অথচ বহু জিনিষরয়েছে যা মানুষ বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখতে পায় না।তাই বলে তাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যায়না। যেমন বিদ্যুৎ, বায়ু প্রবাহ, বস্ত্তর স্বাদ ও গন্ধইত্যাদি। মানুষের নবীই জিনদের নবী। তাদেরমধ্যে মুমিন, কাফির, ফাসিক সবই রয়েছে। জিনেরাযে এলাকায় বাস করে সে এলাকার মানুষের ভাষা তারাবুঝে। নবুঅতের দশম বছরে ত্বায়েফ থেকেফেরার পথে ‘নাখলা’ উপত্যকায় জিনেরা রাসূলেরকণ্ঠে সূরা রহমান শুনেছিল ও যতবারই আল্লাহ ﻓَﺒِﺄَﻯِّﺁﻻَﺀِ ﺭَﺑِّﻜُﻤَﺎ ﺗُﻜَﺬِّﺑَﺎﻥِ বলেছেন, ততবারই তারা জবাবেবলেছিল,লা বেশাইয়িন মিন নি‘আমিকা রববানা নুকাযযিবুফালাকাল হাম্দ।[30]তারা মানুষের কথা শোনে, বুঝেও উপলব্ধি করে। আল্লাহর কিতাব জিনও ইনসান সবারজন্য। অতএব তাদের পরিণতি ও মানুষের পরিণতিএকই।বস্ত্ততঃ আদম ও বনু আদম হ’ল আল্লাহরসর্বাধিক প্রিয় ও সেরা সৃষ্টি। মৃত্যুকাল অবধি তাকে এদুনিয়ার পরীক্ষাগারে অবস্থান করতে হবে একজনসজাগ ও সক্রিয় পরীক্ষার্থী হিসাবে। মৃত্যুরপরেই তার ক্বিয়ামত শুরু হয়ে যাবে। ভাল-মন্দকর্মের সুযোগ আর থাকবে না। তাই আল্লাহপ্রেরিত অহীর বিধান মেনে চলে কল্যাণময়জীবন পরিচালনার মাধ্যমে আল্লাহর সেরা সৃষ্টিরমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় হওয়াইবুদ্ধিমান মানুষের কর্তব্য।মনে রাখতে হবে যে,‘আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁর দিকেইফিরে যাব’(বাক্বারাহ ২/১৫৬)। ‘আমাদের ছালাত,আমাদের কুরবানী, আমাদের জীবন, আমাদেরমরণ সবকিছুই কেবলমাত্র বিশ্বপ্রভু আল্লাহরজন্য’(আন‘আম ৬/১৬৩)। জান্নাত থেকে নিক্ষিপ্তবনুআদম আমরা যেন পুনরায় জান্নাতে ফিরে যেতেপারি, করুণাময় আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক দানকরুন- আমীন!!দুনিয়াবী ব্যবস্থাপনায় আদম(আঃ):হাফেয শামসুদ্দীন যাহাবী (রহঃ) ﺍﻟﻄﺐﺍﻟﻨﺒﻮﻯ কেতাবে বলেন, মানুষের দুনিয়াবীজীবনে প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার শিল্পকর্মঅহীর মাধ্যমে কোন না কোন নবীর হাতে শুরুহয়েছে। অতঃপর যুগে যুগে তার উন্নতি ও উৎকর্ষসাধিত হয়েছে। সর্বপ্রথম আদম (আঃ)-এর উপরেযে সব অহী নাযিল করা হয়েছিল, তার অধিকাংশ ছিলভূমি আবাদ করা, কৃষিকার্য ও শিল্প সংক্রান্ত। যাতায়াত ওপরিবহনের জন্য চাকা চালিত গাড়ী সর্বপ্রথমআদম(আঃ) আবিষ্কার করেন। কালের বিবর্তনে নানাবিধমডেলের গাড়ী এখন চালু হয়েছে। কিন্তু সবগাড়ীর ভিত্তি হ’ল চাকার উপরে। বলা চলে যে,সভ্যতা এগিয়ে চলেছে চাকার উপরে ভিত্তি করে।অতএব যিনি প্রথম এটা চালু করেন, তিনিইবড়আবিষ্কারক। আর তিনি ছিলেন আমাদের আদি পিতাপ্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হযরত আদম(আলাইহিসসালাম)। যা তিনি অহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছিলেন।[31]আদমের যুগে পৃথিবীর প্রথম কৃষিপণ্য ছিল‘তীন’ ফল। ফিলিস্তীন ভূখন্ড থেকে সম্প্রতিপ্রাপ্ত সে যুগেরএকটি আস্ত তীন ফলের শুষ্কফসিল পরীক্ষা করে একথা প্রমাণিত হয়েছে।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ‘তীন’ ফলের শপথকরেছেন। আল্লাহ আমাদের আদি পিতার উপরেশান্তি বর্ষণ করুন- আমীন!আদম পুত্রদ্বয়েরকাহিনী :আল্লাহ বলেন, ﻭَﺍﺗْﻞُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻧَﺒَﺄَ ﺍﺑْﻨَﻲْ ﺁﺩَﻡَﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ.‘আপনি ওদেরকে (আহলে কিতাবদেরকে)আদম পুত্রদ্বয়ের যথার্থ কাহিনী শুনিয়ে দিন। যখনতারা উভয়ে কুরবানী পেশ করল। অতঃপর তাদেরএকজনের কুরবানী কবুল হ’ল। কিন্তু অপরজনেরকুরবানী কবুল হ’ল না। তখন একজন বলল, আমিঅবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। জবাবে অপরজনবলল, আল্লাহ কেবলমাত্র আল্লাহভীরুদেরথেকেইকবুল করেন’(মায়েদাহ ২৭)। ‘যদি তুমিআমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াও, আমিতোমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াবো না। আমিবিশ্বপ্রভু আল্লাহকে ভয় করি’(২৮)। ‘আমি মনে করিএর ফলে তুমি আমাকে হত্যার পাপ ও তোমারঅন্যান্য পাপসমূহের বোঝা নিয়ে জাহান্নামবাসীহবে। আর সেটাই হ’ল অত্যাচারীদেরকর্মফল’(২৯)। ‘অতঃপর তার মন তাকে ভ্রাতৃহত্যায়প্ররোচিত করল এবং সে তাকে হত্যা করল। ফলেসে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হ’ল’(৩০)। ‘অতঃপরআল্লাহ একটি কাক পাঠালেন। যে মাটি খনন করতেলাগল এটা দেখানোর জন্য যে কিভাবে সেতারভাইয়ের মৃতদেহ দাফন করবে। সে বলল, হায়! আমিকি এই কাকটির মতোও হ’তে পারলাম না, যাতে আমিআমার ভাইয়ের মৃতদেহ দাফন করতে পারি। অতঃপরসে অনুতপ্ত হ’ল’(মায়েদাহ ৫/২৭-৩১)।কুরআনেরউক্ত বর্ণনা ছাড়াও ‘জাইয়িদ’ (উত্তম) সনদ সহআব্দুল্লাহ ইবনে আমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস(রাঃ) থেকে ‘মওকূফ’ সূত্রে যা যা বর্ণিতহয়েছেএবং হাফেয ইবনু কাছীর যাকে পূর্ববর্তী ওপরবর্তী একাধিক বিদ্বানগণের ‘মশহূর’ বক্তব্যবলে স্বীয় তাফসীরে ও তারীখে উল্লেখকরেছেন, সে অনুযায়ী আদম পুত্রদ্বয়ের নামছিল ক্বাবীল ও হাবীল ( ﻗﺎﺑﻴﻞ ﻭﻫﺎﺑﻴﻞ ) এবংক্বাবীল ছিল আদমের প্রথম সন্তান ও সবার বড় এবংহাবীল ছিল তার ছোট।হত্যাকান্ডের কারণ :এবিষয়ে কুরআন যা বলেছে তা এই যে,দু’ভাইআল্লাহর নামে কুরবানী করেছিল। কিন্তু আল্লাহএকজনের কুরবানী কবুল করেন, অন্যজনেরটাকরেননি। তাতে ক্ষেপে গিয়ে একজনঅন্যজনকে হত্যা করে, যার কুরবানী কবুলহয়েছিল।উল্লেখ্য যে, সে যুগে কুরবানী কবুলহওয়ার নিদর্শন ছিল এই যে, আসমান থেকে একটিআগুন এসে কুরবানী নিয়ে অন্তর্হিত হয়ে যেত।যে কুরবানীকে উক্ত অগ্নি গ্রহণ করত না, সেকুরবানীকে প্রত্যাখ্যাত মনে করা হ’ত। ক্বাবীলকৃষিকাজ করত। সে কার্পণ্য বশে কিছু নিকৃষ্টপ্রকারের শস্য, গম ইত্যাদি কুরবানীর জন্য পেশকরল। হাবীল পশু পালন করত। সে আল্লাহরমহববতে তার উৎকৃষ্ট দুম্বাটি কুরবানী করল। অতঃপরআসমান থেকে আগুন এসে হাবীলের কুরবানীটিনিয়ে গেল। কিন্তু কাবীলের কুরবানী যেমনছিল, তেমনি পড়ে রইল। এতে ক্বাবীল ক্ষুব্ধ হ’লএবং হাবীলকে বলল, ﻟَﺄﻗْﺘُﻠَﻨَّﻚَ ‘আমি অবশ্যইতোমাকে হত্যা করব’। হাবীল তখন তাকেউপদেশ দিয়ে মার্জিত ভাষায় বলল, ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﺘَﻘَﺒَّﻞُ ﺍﻟﻠﻪ ُﻣِﻦَﺍﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ، ﻟَﺌِﻦ ﺑَﺴَﻄْﺖَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻳَﺪَﻙَ ﻟِﺘَﻘْﺘُﻠَﻨِﻲ ﻣَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑِﺒَﺎﺳِﻂٍﻳَﺪِﻱَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻟَﺄَﻗْﺘُﻠَﻚَ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺧَﺎﻑُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺭَﺏَّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ -‘নিশ্চয়ইআল্লাহ তাক্বওয়াশীল বান্দাদের থেকে(কুরবানী) কবুল করে থাকেন। এক্ষণে যদি তুমিআমাকে হত্যা করতে উদ্যত হও, তবে আমিতোমাকে পাল্টা হত্যা করতে উদ্যত হব না। কেননাআমি বিশ্বচরাচরের পালনকর্তা আল্লাহ্কে ভয়করি’(মায়েদাহ ৫/২৭-২৮)।ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন,হাবীলের কুরবানী দেওয়া দুম্বাটিই পরবর্তীতেইবরাহীম (আঃ) কর্তৃক ইসমাঈলকে কুরবানীর বিনিময়হিসাবে জান্নাত থেকে পাঠানো হয়।[32]আহলেকিতাব-এর মধ্যে যুগ যুগ ধরেপ্রসিদ্ধি আছে যে,হত্যাকান্ডেরস্থলটি ছিল উত্তর দামেষ্কে‘ক্বাসিয়ূন’ ( ﻗﺎﺳﻴﻮﻥ ) পাহাড়ের একটি গুহায়। যা আজও‘রক্তগুহা’ ( ﻣﻐﺎﺭﺓ ﺍﻟﺪﻡ ) নামে খ্যাত। যদিও এর কোননিশ্চিত ভিত্তি নেই।[33]কুরতুবী বলেন, ক্বাবীলস্রেফ হিংসা বশে হাবীলকে হত্যা করেছিল। সেচায়নি যে, ছোট ভাই হাবীল তার চাইতে উত্তমব্যক্তি হিসাবে সমাজে প্রশংসিত হৌক(তাফসীরকুরতুবী)ইবনু কাছীর বলেন, ইতিপূর্বে মায়েদাহ২০ হ’তে২৬ আয়াত পর্যন্ত ৭টি আয়াতে মূসার প্রতিবনু ইস্রাঈলের অবাধ্যতা এবং তার শাস্তি স্বরূপতীহপ্রান্তরে তাদের দীর্ঘ ৪০ বছরের বন্দীত্ববরণের লাঞ্ছনাকর ইতিহাস শুনানোর পর মদীনারইহুদীদেরকে আদম পুত্রদ্বয়ের পারস্পরিক হিংসারমর্মান্তিক পরিণামের কথা শুনানো হয়েছেএকারণে যে, তারা যেন স্রেফ হিংসা বশেশেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অবাধ্যতা না করে এবংকুরআনকে অস্বীকার না করে’(তাফসীর ইবনুকাছীর)। কেননা তারা শেষনবীকে চিনলেওতাকে মানেনি স্রেফ এই হিংসার কারণে যে, ইস্রাঈলবংশে তাঁর জন্ম না হয়ে ইসমাঈল বংশে জন্মহয়েছিল। এই জ্ঞাতি হিংসা ইহুদীদেরকেমুসলমানদের চিরশত্রুতে পরিণত করেছে।একইভাবে কেবল মাত্র হিংসার কারণেই কাবীল তারসহোদর ছোট ভাই হাবীলকে খুন করেছিল এবংপৃথিবীতে প্রথম হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল।কেবল ইহুদী-নাছারা নয়, যুগে যুগে ইসলাম-বিদ্বেষী সকলের অবস্থা প্রায় একইরূপ।আজকের বিশ্বের অশুভ শক্তি বলয় সর্বত্রইসলামের ও ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে যেভাবেবিষোদ্গার করে যাচ্ছে, তা কেবলি সত্যেরবিরুদ্ধে মিথ্যার চিরন্তন হিংসার আধুনিক রূপ মাত্র।উল্লেখ্য যে, আদম (আঃ)-এর শরী‘আতেরবিরোধিতা করে নিজের যমজ সুশ্রী বোনকেজোর করে বিয়ে করার জন্য এবং উক্ত বিয়েরদাবীদার হাবীলকে পথের কাঁটা মনেকরে তাকেচিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কাবীল হাবীলকেহত্যা করে ছিল বলে যে ‘আছার’ সমূহ ইবনু জারীর,কুরতুবী, ইবনু কাছীর প্রভৃতি তাফসীরের কিতাবেবর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলিই ‘মুরসাল’, যঈফ ও মওযূ।ইবনু কাছীর বলেন, এগুলি স্রেফ ইস্রাঈলীউপকথা মাত্র এবং পরবর্তীতে মুসলমান হওয়া সাবেকইহুদী পন্ডিত কা‘ব আল-আহবার থেকে নকলকৃত।[34]আইয়ূব সাখতিয়ানী বলেন, উম্মতে মুহাম্মাদীরমধ্যে এই আয়াতের উপর আমলকারী প্রথম ব্যক্তিহ’লেন তৃতীয় খলীফা হযরত ওছমান ইবনু আফফান(ইবনু কাছীর)। যিনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এবংনিজেরজীবনের বিনিময়ে হ’লেওবিদ্রোহীদের দমনে মদীনাবাসীকেঅস্ত্রধারণের অনুমতি দেননি। ‘ফিৎনার সময় বসেথাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম’ রাসূল(ছাঃ)-এর এরূপ নির্দেশনা প্রসঙ্গে হযরত সা‘দ ইবনুআবী ওয়াকক্বাছ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল!যখন আমাকে হত্যার জন্য আমার ঘরে ঢুকে কেউআমার দিকে হাত বাড়াবে, তখন আমি কি করব?রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ﻛُﻨْﻜَﺨَﻴْﺮِ ﺍﺑْﻨَﻰْ ﺁﺩَﻡَ ‘তুমিআদমের দুই পুত্রের মধ্যে উত্তমটির মতহও’ (অর্থাৎ হাবীলের মত মৃত্যুকে বরণ কর)।অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) মায়েদাহ ২৮ আয়াতটি পাঠকরে শুনালেন’।[35]ইবনু কাছীর বলেন যে, এইসব ‘আছার’ একথা দাবী করে যে, আদমপুত্রদ্বয়ের কুরবানী বিশেষ কোন কারণ বশেছিল না বা কোন নারীঘটিতবিষয় এর মধ্যে জড়িতছিল না। কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ উক্ত কথাসমর্থনকরে, যা মায়েদাহ ২৭ আয়াতেবর্ণিত হয়েছে।অতএব পূর্বাপর বিষয় সমূহ দ্বারা একথাই স্পষ্ট হয়যে, ভ্রাতৃ হত্যার কারণ ছিল স্রেফ এই হিংসা বশতঃ যে,হাবীলেরকুরবানী কবুল হয়েছিল, কিন্তুক্বাবীলের কুরবানী কবুল হয়নি(তাফসীর ইবনুকাছীর)। যদিও এতে হাবীলের কোন হাত ছিল না।ভালোর প্রতি এই হিংসা ও আক্রোশ মন্দলোকদের মজ্জাগত স্বভাব। যা পৃথিবীতে সর্বযুগে বিদ্যমান রয়েছে। এর ফলে ভালোলোকেরা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হ’লেও চূড়ান্তবিচারে তারাই লাভবান হয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে মন্দলোকেরা সাময়িকভাবে লাভবান হ’লেওচূড়ান্তবিচারে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। নির্দোষহাবীলকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে ক্বাবীল তারআক্রোশ মিটিয়ে সাময়িকভাবে তৃপ্তিবোধকরলেও চূড়ান্ত বিচারে সে অনন্ত ক্ষতিরমধ্যেপতিত হয়েছে। সেদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহবলেন, ﻓَﺄَﺻْﺒَﺢَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳْﻦَ -‘অতঃপর সেক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হ’ল’(মায়েদাহ ৫/৩০)।রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ﻻَ ﺗُﻘْﺘَﻞُ ﻧَﻔْﺲٌ ﻇُﻠْﻤًﺎ ﺇﻻَّﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﺍﻷﻭَّﻝِ ﻛِﻔْﻞٌ ﻣِﻦْ ﺩَﻣِﻬَﺎ ﻟِﺄَﻧَّﻪُ ﺃَﻭَّﻝُ ﻣَﻦْ ﺳَﻦَّﺍﻟْﻘَﺘْﻞَ، ﺭﻭﺍﻫﺎﻟﺒﺨﺎﺭﻱُّ -‘অন্যায়ভাবে কোন মানুষ নিহতহ’লে তাকে খুন করার পাপের একটা অংশ আদমেরপ্রথম পুত্রের আমলনামায় যুক্ত হয়। কেননা সেই-ইপ্রথম হত্যাকান্ডের সূচনা করে’।[36]তিনি আরওবলেন, ‘যে ব্যক্তির উপর তার ভাইয়ের সম্মানহানি বাঅন্য কোন প্রকারের যুলুম রয়েছে, সে যেনতার থেকে আজই তা মুক্ত করে নেয়, সেইদিনআসার আগে, যেদিন তার নিকটে দীনার ও দিরহাম(স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা) কিছুই থাকবে না (অর্থাৎ মৃত্যুরপূর্বে)। যদি তার নিকট কোন সৎকর্ম থাকে, তবেতার যুলুম পরিমাণ নেকী সেখান থেকে নিয়েনেওয়া হবে। আর যদি তার কোন নেকী নাথাকে, তাহ’লে মযলূমের পাপ সমূহ নিয়েযালেমের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে’।[37]উক্তমর্মে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে ﻭَﻟَﻴَﺤْﻤِﻠُﻦَّ ﺍَﺗْْﻘَﺎَﻟَﻬُﻢْﻭَﺃَﺛْﻘَﺎَﻻً ﻣَّﻊَ ﺃَﺛْﻘَﺎﻟِﻬِﻢْ ﻭَﻟَﻴُﺴْﺌَﻠُﻦَّ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻋَﻤَّﺎ ﻛَﺎﻧُﻮْﺍﻳَﻔْﺘَﺮُﻭْﻥَ -‘আর তারা অবশ্যই নিজেদের পাপভার বহনকরবে ও তার সাথে অন্যদের পাপভার এবং তারাযেসব মিথ্যারোপ করে, সে সম্পর্কেক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে’(আনকাবূত২৯/১৩)।শিক্ষণীয় বিষয় :(১) ক্বাবীল ওহাবীলের উক্ত কাহিনীর মধ্যে মানুষের সহজাতপ্রবৃত্তির তাড়নায় প্ররোচিত হওয়ার ও তার স্বাধীনইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ নিহিত রয়েছে।(২)অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা যে সর্বাপেক্ষা জঘন্য পাপএবং তওবাব্যতীত হত্যাকারীর কোন নেক আমলআল্লাহ কবুল করেন না, তার প্রমাণ রয়েছে।(৩)আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ অন্যায়ের পাল্টা অন্যায়করেন না, বরং আল্লাহর উপরে ভরসা করেন ও তাঁরনিকটেই তার বদ্লা কামনা করেন।(৪) অন্যায়েরফলে অন্যায়কারী এক সময় অনুতপ্ত হয় ওদুনিয়াতে সে অন্তর্জ্বালায় দগ্ধীভূত হয় এবংআখেরাতে জাহান্নামের খোরাক হয়।(৫) নেককারব্যক্তিগণ দুনিয়ার দুঃখ-কষ্টকে আল্লাহর পরীক্ষামনে করেন এবং এতে ধৈর্য ধারণ করেন।(৬)মযলূম যদি ধৈর্য ধারণ করে, তবে তার গোনাহ সমূহযালেমের ঘাড়ে চাপে এবং দুই জনের পাপেরশাস্তি যালেমকে একাই ভোগ করতে হয়।(৭) মানুষমারা গেলে কবর দেওয়াই আল্লাহ প্রদত্ত চিরন্তনবিধান। ইসলামী শরী‘আতে এই বিধান রয়েছে(আবাসা ৮০/২১)। অতএব মৃত মানুষকেপুড়িয়ে ভস্মকরা উক্ত আবহমান কালব্যাপী এলাহী সুন্নাতেরস্পষ্ট লংঘন।(৮) অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যার এই সিলসিলাক্বাবীলের মাধ্যমে শুর হয় বিধায় ক্বিয়ামত পর্যন্তযত মানুষ অন্যায়ভাবে খুন হবে, সকল হত্যাকারীরপাপের বোঝা ক্বাবীলের আমলনামায় চাপানোহবে। অতএব অন্যায়ের সূচনাকারীগণ সাবধান!মৃত্যুও বয়স :রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদেরদিনগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম দিন হ’লজুম‘আর দিন। এ দিনেই আদমকে সৃষ্টি করাহয়েছে, এ দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং এদিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে…’।[38]আদম (আঃ)-কেএক হাযার বছর বয়স দেওয়া হয়েছিল। রূহেরজগতে দাঊদ (আঃ)-এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনিনিজেরবয়স থেকে ৪০ বছর তাকে দান করেন।ফলে অবশিষ্ট ৯৬০ বছর তিনি জীবিত ছিলেন।[39]আদম (আঃ)-এর জীবনী থেকে শিক্ষণীয়বিষয় সমূহ :১. তিনি সরাসরি আল্লাহর দু’হাতে গড়া এবং মাটিহ’তে সৃষ্ট। তিনি জ্ঞানসম্পন্ন ও পূর্ণাঙ্গ মানুষহিসাবে জীবন লাভ করেছিলেন।২. তিনি ছিলেনমানব জাতির আদি পিতা ও প্রথম নবী।৩. তিনি জিন জাতিরপরবর্তী প্রতিনিধি হিসাবে এবং দুনিয়া পরিচালনারদায়িত্বশীল খলিফা হিসাবে প্রেরিত হয়েছিলেন।৪.দুনিয়ার সকল সৃষ্ট বস্ত্তর নাম অর্থাৎ সেসবেরজ্ঞান ও তা ব্যবহারের যোগ্যতা তাকে দানকরাহয়েছিল।৫. জিন ও ফিরিশতা সহ সকল প্রকাশ্য ওঅপ্রকাশ্য সৃষ্টির উপরে মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্বপ্রমাণিত। সকলে তাদের অনুগত ও তাদের সেবায়নিয়োজিত।৬. আদমকে জান্নাতে সৃষ্টি করা হয়। যাপৃথিবীর বাইরে আসমানে সৃষ্ট অবস্থায় তখনও ছিল,এখনও আছে।৭. জান্নাতে আদমের পাঁজরের হাড়থেকে তার জোড়া হিসাবে স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টিকরা হয়। সেকারণ স্ত্রী জাতি সর্বদা পুরুষজাতিরঅনুগামী এবং উভয়ে পরস্পরের প্রতিআকৃষ্ট।৮. আদম ও হাওয়াকে আসমানীজান্নাতথেকে দুনিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হয় এবংপৃথিবীর নাভিস্থল মক্কার সন্নিকটে না‘মান উপত্যকায়অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে ক্বিয়ামত পর্যন্তজন্মগ্রহণকারী সকল মানুষের ক্ষুদ্রদেহীঅবয়ব সৃষ্টি করে তাদের নিকট থেকে ‘আহদেআলাস্ত্ত’ অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি দাসত্বের স্বীকৃতিও প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়।৯. মানুষ হ’ল পৃথিবীরএকমাত্র জ্ঞান সম্পন্ন প্রাণী। তাকে ভালও মন্দদু’টিই করার ইচ্ছাশক্তি ওস্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।১০. আদমের মধ্যে মানবত্ব ও নবুওয়াতেরনিষ্পাপত্ব উভয় গুণ ছিল। তিনি শয়তানের প্ররোচনায়আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার কথা সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েনিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খেয়ে অনুতপ্ত হন ও তওবাকরেন। তওবা কবুল হবার পরে তিনি নবুঅত প্রাপ্তহন। অতএব নিঃসন্দেহে তিনি নিষ্পাপ ছিলেন।একইভাবে আদমের আওলাদগণ পাপ করে তওবাকরলে আল্লাহ তা মাফকরে থাকেন।১১. আদমকেসিজদা না করার পিছনে ইবলীসের অহংকার ও তারপরিণতিতে তার অভিশপ্ত হওয়ার ঘটনার মধ্যেমানুষকে অহংকারী না হওয়ার শিক্ষা প্রদান করাহয়েছে।১২. জৈবিক ও আধ্যাত্মিক দিকের সমন্বয়েমানুষ একটি অসাধারণ সত্তা, যা অন্য কোন সৃষ্টিরসাথেতুলনীয় নয়।১৩. ঈমানদার বান্দাগণ ক্বিয়ামতেরদিন বিচার শেষে পুনরায় জান্নাতে ফিরে যাবে।১৪.দুনিয়াবী ব্যবস্থাপনার সকল জ্ঞান আদমকে দেওয়াহয়েছিল এবং তার মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রথম ভূমিআবাদ ও চাকা চালিত পরিবহনের সূচনা হয়।১৫. সবকিছুইসৃষ্টি হয়েছে মানুষের সেবার জন্য। আর মানুষসৃষ্টি হয়েছে আল্লাহর দাসত্বের জন্য।[1]. মুমিনূন ২৩/১২; ছাফফাত ৩৭/১১; রহমান ৫৫/১৪;তীন ৯৫/৪ ইত্যাদি।[2]. নিসা ৪/১; মুত্তাফাক্ব আলাইহ,মিশকাত হা/৩২৩৮ ‘বিবাহ’ অধ্যায় ‘নারীদের সাথেসদ্ব্যবহার’ অনুচ্ছেদ। আদম এর মূল উপাদান হ’ল মাটি,তাই তাকে ‘আদম’ বলা হয়। পক্ষান্তরে হাওয়ার মূলহ’লেন আদম, যিনি তখন জীবন্ত ব্যক্তি। তাই তাকে‘হাওয়া’ বলা হয়, যা ‘হাই’ (জীবন্ত) থেকে উৎপন্ন(কুরতুবী), বাক্বারাহ ৩৫; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/৬২পৃঃ।[3]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ(বৈরুত:দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, তাবি) ১/৬৭।[4]. আহমাদ,ত্বাবারাণী, মিশকাত হা/৫৭৩৭ ‘ক্বিয়ামতের অবস্থা’অধ্যায়‘সৃষ্টির সূচনা ও নবীগণের আলোচনা’অনুচ্ছেদ।[5]. তিরমিযী, আহমাদ, আবুদাঊদ মিশকাতহা/২১২ ‘ইল্ম’ অধ্যায়।[6]. আহমাদ, মিশকাত হা/৪২ ‘ঈমান’অধ্যায়।[7]. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫১৬ ‘ফিতান’ অধ্যায়।[8].যথাক্রমে সূরা বাক্বারাহ ২/৩১-৩৭= ৭; আলে ইমরান৩/৩৩,৫৯; মায়েদাহ ৫/২৭-৩২= ৬; আ‘রাফ ৭/১১, ১৯,২৬, ২৭, ৩১, ৩৫, ১৭২-৭৩= ৮; হিজর ১৫/২৬-৪২= ১৭;ইসরা ১৭/৬১, ৭০; ইয়াসীন ৩৬/৬০।সর্বমোট = ৫০টি।[9]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/৬৫।[10].বুখারী হা/৪৭২৭ ‘তাফসীর’ অধ্যায়,সূরা কাহফ।[11].মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬৮ ‘ঈমান’ অধ্যায়‘ওয়াসওয়াসা’ অনুচ্ছেদ।[12]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ১/৬৬।[13]. নিসা ৪/১; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাতহা/৩২৩৮ ‘বিবাহ’ অধ্যায় ১০ম অনুচ্ছেদ।[14]. তাফসীরইবনে জারীর (বৈরুত: ১৪০৬/১৯৮৬) ৮/১০৯ পৃঃ, সূরাআ‘রাফ ৭/ ২২।[15]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাতহা/৪৩৩-৪৩৪ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায় ‘গোসল’ অনুচ্ছেদ।[16]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৮২ ‘ঈমান’ অধ্যায়‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ।[17]. আহমাদ,মিশকাত হা/১২১ ‘ঈমান’ অধ্যায় ‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’অনুচ্ছেদ।[18]. আয়াতটি হ’লঃ ﻭَﺇِﺫْ ﺃَﺧَﺬَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣِﻦ ﺑَﻨِﻲﺁﺩَﻡَ ﻣِﻦْ ﻇُﻬُﻮْﺭِﻫِﻢْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢْ ﻭَﺃَﺷْﻬَﺪَﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢْ ﺃَﻟَﺴْﺖُﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢْ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺑَﻠَﻰ ﺷَﻬِﺪْﻧَﺎ ﺃَﻥ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻋَﻦْﻫَﺬَﺍ ﻏَﺎﻓِﻠِﻴْﻦَ . ‘আর যখন তোমার পালনকর্তা বনুআদমের পৃষ্ঠদেশ থেকেতাদের সন্তানদেরবের করে আনলেন এবং নিজের উপর তাদেরপ্রতিজ্ঞা করালেন ‘আমি কি তোমাদের পালনকর্তানই’? তারা বলল, অবশ্যই। ‘আমরা এ বিষয়েঅঙ্গীকারকরছি’ আর এটা এজন্য, যাতে তোমরাক্বিয়ামতের দিন একথা বলতে না পারো যে, বিষয়টিআমাদের জানা ছিল না’ (আ‘রাফ ৭/১১২)।[19]. মালেক,আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাঊদ,মিশকাত হা/৯৫ ‘ঈমান’ অধ্যায়‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ।[20]. আহমাদ,মিশকাত হা/১১৯ ‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ।[21].মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৯০ ‘ঈমান’ অধ্যায়,‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ।[22]. যেমনরাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ﻋﻠﻰ ﻓﻄﺮﺓ ﺍﻻﺳﻼﻡ ‘ইসলামেরউপর’ ছহীহইবনু হিববান হা/১৩২; শু‘আয়েবআরনাঊত্ব বলেন, রাবীগণ সকলে বিশ্বস্ত।[23].মুসলিম হা/২৮৬৫ ‘জান্নাতের বিবরণ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ১৬; আহমাদ হা/১৬৮৩৭।[24]. আলবানী, ছহীহতিরমিযী হা/১২২৪; মিশকাত হা/৪১৫৭ ‘আক্বীক্বা’অনুচ্ছেদ।[25]. আহমাদ, মওকূফ ছহীহ, মারফূহুকমী,মিশকাত হা/১২২ ‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’অনুচ্ছেদ।[26]. মায়েদাহ ৫/৮২; ক্বাছাছ২৮/৫২-৫৪;ঐ, তাফসীর ত্বাবারী ২০/৫৬ পৃ: ;তাফসীর ইবনু কাছীর; ত্বাবারী ৩২+৮=৪০ জন এবংইবনু কাছীর ৭০ জন বলেছেন।[27]. মুফতীমুহাম্মাদ শফী, তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআন(বঙ্গানুবাদ সংক্ষেপায়িত : মদীনা ত্বাইয়েবা১৪১৩/১৯৯৩), পৃঃ ৩৪০।[28]. বাক্বারাহ ২/৩০; আন‘আম৬/১৬৫; ফাত্বির ৩৫/৩৯।[29]. মুসলিম, হা/১৯২০‘নেতৃত্ব’ অধ্যায়।[30]. তিরমিযী হা/৩৫২২ ‘তাফসীর’অধ্যায় সূরা রহমান; সনদ হাসান, সিলসিলা ছহীহাহহা/২১৫০।[31]. তাসফীর মা‘আরেফুল কুরআন পৃঃ ৬২৯।[32]. তাফসীর ইবনু কাছীর, মায়েদাহ ২৭-৩১ আয়াত;গৃহীত। তাফসীর ইবনু জারীর, আব্দুল্লাহ ইবনুআমর (রাঃ) হ’তে, সনদ জাইয়িদ।[33]. ইবনু কাছীর,আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ,তাবি) ১/৮৭ পৃঃ।[34]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/৮৭ পৃঃ।[35]. আবুদাঊদ হা/৪২৫৭, ৫৯৬২ ‘ফিতান’ অধ্যায়;তিরমিযী হা/২২০৪, ইবনু মাজাহ হা/৩৯৬১ সনদ ছহীহ।[36]. বুখারী হা/৩৩৩৫; মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ;মিশকাত হা/২১১ ‘ইল্ম’ অধ্যায়।[37]. বুখারী হা/২৪৪৯;মিশকাত হা/৫১২৬‘শিষ্টাচার’ অধ্যায় ‘যুলুম’ অনুচ্ছেদ২১।[38]. মুওয়াত্ত্বা, আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাতহা/১৩৫৯; সনদছহীহ, ‘ছালাত’ অধ্যায় ‘জুম‘আ’অনুচ্ছেদ।[39]. তিরমিযী, মিশকাত হা/১১৮‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ; সনদ ছহীহ,তিরমিযী হা/৩০৭৬ ‘তাফসীর সূরা আ‘রাফ’। একইহাদীছ মিশকাত হা/৪৬৬২ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায় ‘সালাম’অনুচ্ছেদে এসেছে। যেখানে ‘আদম তার বয়সথেকে ৬০ বছর দান করেন’ বলা হয়েছে।তিরমিযী হাদীছটিকে ‘হাসান গরীব’ বলেছেনছাহেবে মিরক্বাত ও ছাহেবে তোহফা উভয়েবলেন যে, ‘৪০ বছর দান করার হাদীছ অগ্রগণ্য( ﺍﻷﺭﺟﺢ)। দ্রঃ তুহফাতুল আহওয়াযী হা/৫০৭২-এরব্যাখ্যা।

Advertisements