হযরত আদম আঃ এর জীবনের কাহিনী


হযরত আদম (আ:) জীবনের কাহিনি১. হযরত আদম(আলাইহিস সালাম)1.হযরত আদম(আলাইহিস সালাম)2.শয়তানের সৃষ্টি ছিল মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ3.আদম সৃষ্টির কাহিনী4.খলীফা অর্থ5.সিজদার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য6.আদমের পাঁচটি শ্রেষ্ঠত্ব7.নারী জাতি পুরুষেরই অংশ এবং তার অনুগত8.নগ্নতা শয়তানের প্রথম কাজ9.মানব সৃষ্টির রহস্য10.জান্নাত থেকে পতিত হবার পর11.আদমের অবতরণ স্থল1.‘আহদে আলাস্ত্ত-র বিবরণ2.‘আহদে আলাস্ত্ত-র উদ্দেশ্য3.অন্যান্য অঙ্গীকার গ্রহণ4.আদমের মর্যাদা ওশ্রেষ্ঠত্ব5.দুনিয়াবী ব্যবস্থাপনায় আদম(আঃ)6.আদম পুত্রদ্বয়ের কাহিনী7.হত্যাকান্ডেরকারণ8.শিক্ষণীয় বিষয়9.মৃত্যু ও বয়স10.আদম (আঃ)-এর জীবনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ১. হযরত আদম(আলাইহিস সালাম)বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমমানুষ ও প্রথম নবী হিসাবে আল্লাহ পাক আদম(আলাইহিস সালাম)-কে নিজ দু’হাত দ্বারা সরাসরি সৃষ্টিকরেন(ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। মাটির সকল উপাদানের সার-নির্যাস একত্রিত করে আঠালো ও পোড়ামাটির ন্যায়শুষ্ক মাটির তৈরী সুন্দরতম অবয়বে রূহ ফুঁকে দিয়েআল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন।[1]অতঃপরআদমের পাঁজর থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টিকরেন।[2]আর এ কারণেই স্ত্রী জাতি স্বভাবগতভাবেই পুরুষ জাতির অনুগামী ও পরস্পরের প্রতিআকৃষ্ট। অতঃপর স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে যুগ যুগধরে একই নিয়মে মানববংশ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহতরয়েছে। কুরআন-এর বর্ণনা অনুযায়ীপ্রথম দিনথেকেই মানুষ পূর্ণ চেতনা ও জ্ঞান সম্পন্ন সভ্যমানুষ হিসাবেই যাত্রারম্ভ করেছে এবং আজওসেভাবেই তা অব্যাহত রয়েছে। অতএব গুহামানব,বন্যমানব, আদিম মানব ইত্যাদি বলে অসভ্য যুগথেকে সভ্য যুগে মানুষের উত্তরণ ঘটেছেবলে কিছু কিছু ঐতিহাসিক যেসব কথা শুনিয়ে থাকেন,তা অলীক কল্পনা ব্যতীত কিছুই নয়। সূচনাথেকে এযাবত এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মানুষকখনোইমানুষ ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না। মানুষ বানরবা উল্লুকের উদ্বর্তিত রূপ বলে ঊনবিংশশতাব্দীতে এসে চার্লস ডারউইন (১৮০৯-১৮৮২)যে ‘বিবর্তনবাদ’ (Theory of Evolution) পেশকরেছেন, তা বর্তমানে একটি মৃত মতবাদ মাত্র এবংতা প্রায় সকল বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রত্যাখ্যাতহয়েছে।প্রথম মানুষ আদি পিতা আদম (আঃ)-কেআল্লাহ সর্ব বিষয়ের জ্ঞান ও যোগ্যতা দানকরেন এবং বিশ্বে আল্লাহর খেলাফত পরিচালনারমর্যাদায় অভিষিক্ত করেন। সাথে সাথে সকল সৃষ্টবস্ত্তকে করে দেন মানুষের অনুগত(লোকমান৩১/২০)ও সবকিছুর উপরে দেন মানুষেরশ্রেষ্ঠত্ব(ইসরা ১৭/৭০)। আর সেকারণেই জিন-ফিরিশতা সবাইকে মানুষের মর্যাদার প্রতি সম্মানপ্রদর্শনের জন্য আদমকে সিজদা করার আদেশদেন। সবাই সে নির্দেশ মেনে নিয়েছিল। কিন্তুইবলীস অহংকার বশে সে নির্দেশ অমান্য করায়চিরকালের মত অভিশপ্ত হয়ে যায়(বাক্বারাহ ২/৩৪)।অথচ সে ছিল বড় আলেম ও ইবাদতগুযার। সেকারণজিন জাতির হওয়া সত্ত্বেও সে ফিরিশতাদের সঙ্গেবসবাস করার অনুমতি পেয়েছিল ও তাদের নেতাহয়েছিল।[3]কিন্তু আদমের উচ্চ মর্যাদা দেখেসে ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে। ফলে অহংকার বশেআদমকে সিজদা না করায় এবং আল্লাহ ভীতি না থাকায়সে আল্লাহর গযবে পতিত হয়। এজন্য জনৈকআরবী কবি বলেন, ﻟﻮﻛﺎﻥ ﻟﻠﻌﻠﻢ ﺷﺮﻑ ﻣﻦ ﺩﻭﻥﺍﻟﺘﻘﻯﻠﻜﺎﻥ ﺃﺷﺮﻑ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﺑﻠﻴﺲُ ‘যদি তাক্বওয়া বিহীনইলমের কোন মর্যাদা থাকত,তবে ইবলীসআল্লাহর সৃষ্টিকুলের সেরা বলে গণ্য হ’ত’।শয়তানের সৃষ্টি ছিল মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ:ইবলীসকে আল্লাহ মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ সৃষ্টি করেন এবংক্বিয়ামত পর্যন্ত তার হায়াতদীর্ঘ করে দেন। মানুষকে আল্লাহরপথ থেকেবিচ্যুৎ করার জন্য ও তাকে ধোঁকা দেওয়াইশয়তানের একমাত্র কাজ। ‘সে মানুষকে বলেকুফরী কর’। কিন্তু যখন সে কুফরী করে, তখনশয়তান বলে ‘আমি তোমার থেকে মুক্ত। আমিবিশ্বপ্রভু আল্লাহ্কে ভয় করি’(হাশর ৫৯/১৬)।অন্যদিকে যুগে যুগে নবী-রাসূল ও কিতাব পাঠিয়েআল্লাহ মানুষকে সত্য পথ প্রদর্শনের ব্যবস্থাঅব্যাহত রাখেন(বাক্বারাহ ২/২১৩)। আদম থেকে শুরুকরে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত একলক্ষচবিবশ হাযার পয়গাম্বর দুনিয়াতে এসেছেন[4]এবংবর্তমানে সর্বশেষ এলাহীগ্রন্থ পবিত্রকুরআনের ধারক ও বাহক মুসলিম ওলামায়ে কেরামশেষনবীর ‘ওয়ারিছ’ হিসাবে[5]আল্লাহ প্রেরিতঅহীর বিধান সমূহ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেবার দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন(মায়েদাহ ৫/৬৭)। পৃথিবীরচূড়ান্ত ধ্বংস তথা ক্বিয়ামতের অব্যবহিত কাল পূর্বপর্যন্ত এই নিয়ম জারি থাকবে। শেষনবীরভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী পৃথিবীর এমন কোন বস্তিও ঝুপড়ি ঘরও থাকবেনা, যেখানে আল্লাহ ইসলামেরবাণী পৌঁছে দেবেন না।[6]এতদসত্ত্বেওঅবশেষে পৃথিবীতে যখন ‘আল্লাহ’ বলার মতকোন লোক থাকবে না, অর্থাৎ প্রকৃততাওহীদের অনুসারী কোন মুমিন বাকী থাকবেনা, তখন আল্লাহর হুকুমে প্রলয় ঘনিয়ে আসবে এবংক্বিয়ামত সংঘটিতহবে।[7]মানুষের দেহগুলি সব মৃত্যুরপরে মাটিতে মিশে যাবে। কিন্তু রূহগুলি স্ব স্ব ভালবা মন্দ আমল অনুযায়ী ‘ইল্লীন’ অথবা‘সিজ্জীনে’ অবস্থান করবে(মুত্বাফফেফীন৮৩/৭, ১৮)। যা ক্বিয়ামতের পরপরই আল্লাহর হুকুমেস্ব স্ব দেহে পুনঃপ্রবেশকরবে (ফজর ৮৯/২৯)এবং চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের জন্য সকল মানুষসশরীরে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দরবারে নীত হবে(মুত্বাফফেফীন ৮৩/৪-৬)।মানুষের ঠিকানা হ’ল তিনটি :১- দারুদ দুনিয়া। অর্থাৎ যেখানে আমরা এখন বসবাসকরছি ২- দারুল বরযখ। অর্থাৎ মৃত্যুর পরেকবরেরজগত। ৩- দারুল ক্বারার। অর্থাৎ ক্বিয়ামতেরদিন শেষ বিচার শেষে জান্নাত বা জাহান্নামেরচিরস্থায়ী ঠিকানা।অতএব পৃথিবী হ’ল মানুষের জন্যসাময়িক পরীক্ষাগার মাত্র। জান্নাত থেকে নেমেআসা মানুষ এই পরীক্ষাস্থলে পরীক্ষা শেষেসুন্দর ফল লাভে পুনরায় জান্নাতেফিরে যাবে, অথবাব্যর্থকাম হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপরসেখানেই হবে তাদের সর্বশেষ যাত্রাবিরতি এবংসেটাই হবে তাদের চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী ঠিকানা।আল্লাহ বলেন, ‘মাটি থেকেই আমরা তোমাদেরসৃষ্টি করেছি। ঐ মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়েনেব। অতঃপর ঐ মাটি থেকেই আমরাতোমাদেরকে পুনরায় বের করেআনব’(ত্বোয়াহা ২০/৫৫)। অতঃপর বিচার শেষেকাফেরদেরকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামেরদিকে এবংমুত্তাক্বীদের নেওয়া হবে জান্নাতে(যুমার ৩৯/৬৯-৭৩)। এভাবেই সেদিন যালেম তারপ্রাপ্যশাস্তি ভোগ করবে এবং মযলূম তার যথাযথপ্রতিদান পেয়ে ধন্য হবে। সেদিন কারু প্রতিকোনরূপ অবিচারকরা হবে না(বাক্বারাহ ২/২৮১)।উল্লেখ্য যে, হযরত আদম (আঃ) সম্পর্কে পবিত্রকুরআনের ১০টি সূরায় ৫০টি আয়াতে বর্ণিতহয়েছে।[8]এক্ষণে আদম সৃষ্টির ঘটনাবলীকুরআনে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, তারআলোকে সার-সংক্ষেপ আমরা তুলে ধরার প্রয়াসপাব ইনশাআল্লাহ।আদম সৃষ্টির কাহিনী :আল্লাহ একদাফেরেশতাদের ডেকে বললেন, আমিপৃথিবীতে ‘খলীফা’ অর্থাৎ প্রতিনিধি সৃষ্টি করতেচাই। বল, এ বিষয়ে তোমাদের বক্তব্য কি? তারা(সম্ভবতঃ ইতিপূর্বে সৃষ্ট জিন জাতির তিক্ত অভিজ্ঞতারআলোকে) বলল, হে আল্লাহ! আপনি কিপৃথিবীতে এমন কাউকে আবাদ করতে চান, যারাগিয়ে সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবে ও রক্তপাতঘটাবে? অথচ আমরা সর্বদাআপনার হুকুম পালনে এবংআপনার গুণগান ও পবিত্রতা বর্ণনায় রত আছি। এখানেফেরেশতাদের উক্ত বক্তব্য আপত্তির জন্য ছিলনা, বরং জানার জন্য ছিল। আল্লাহ বললেন, আমি যা জানি,তোমরা তা জানো না(বাক্বারাহ ২/৩০)। অর্থাৎ আল্লাহচান এ পৃথিবীতে এমন একটা সৃষ্টির আবাদ করতে,যারা হবে জ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন এবং নিজস্ববিচার-বুদ্ধি ও চিন্তা-গবেষণা সহকারে স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে আল্লাহর বিধান সমূহের আনুগত্য করবেও তাঁর ইবাদত করবে। ফেরেশতাদের মতকেবলহুকুম তামিলকারী জাতি নয়।খলীফা অর্থ :এখানে‘খলীফা’ বা প্রতিনিধি বলে জিনদের পরবর্তীপ্রতিনিধি হিসাবে বনু আদমকে বুঝানো হয়েছে,যারা পৃথিবীতে একে অপরের প্রতিনিধি হবে(ইবনুকাছীর)। অথবা এর দ্বারা আদম ও পরবর্তীন্যায়নিষ্ঠ শাসকদের বুঝানো হয়েছে, যারাজনগণের মধ্যে আল্লাহর আনুগত্য ও ইনছাফপূর্ণশাসক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বকরবে। কেননা ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও অন্যায়রক্তপাতকারী ব্যক্তিরা আল্লাহর প্রতিনিধি নয় (ইবনুজারীর)। তবে প্রথম ব্যাখ্যাই অগ্রগণ্য, যাফেরেশতাদের জবাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমনপ্রতিনিধি আপনি সৃষ্টি করবেন, যারা পূর্ববর্তী জিনজাতির মত পৃথিবীতে গিয়ে ফাসাদ ও রক্তপাতঘটাবে। বস্ত্ততঃ ‘জিন জাতির উপর ক্বিয়াস করেই তারাএরূপ কথা বলে থাকতে পারে’ (ইবনু কাছীর)।অতঃপর আল্লাহ আদমকে সবকিছুর নামশিক্ষা দিলেন।‘সবকিছুর নাম’ বলতে পৃথিবীর সূচনা থেকে লয়পর্যন্ত ছোট-বড় সকল সৃষ্টবস্ত্তর ইল্ম ও তাব্যবহারের যোগ্যতা তাকে দিয়ে দেওয়া হ’ল।[9]যাদিয়ে সৃষ্টবস্ত্ত সমূহকে আদম ও বনু আদমনিজেদের অনুগত করতে পারে এবং তা থেকেফায়েদা হাছিল করতে পারে। যদিও আল্লাহর অসীমজ্ঞানরাশির সাথে মানবজাতির সম্মিলিত জ্ঞানের তুলনামহাসাগরের অথৈ জলরাশির বুক থেকেপাখির ছোঁ মারাএক ফোঁটা পানির সমতুল্য মাত্র।[10]বলা চলে যে,আদমকে দেওয়া সেই যোগ্যতা ও জ্ঞান ভান্ডারযুগে যুগে তাঁর জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী সন্তানদেরমাধ্যমে বিতরিত হচ্ছে ও তার দ্বারা জগত সংসারউপকৃত হচ্ছে। আদমকে সবকিছুর নাম শিক্ষাদেওয়ার পর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য আল্লাহতাকে ফেরেশতাদের সম্মুখে পেশ করলেন।কুরআনে কেবলফেরেশতাদের কথা উল্লেখিতহ’লেও সেখানে জিনদের সদস্য ইবলীসওউপস্থিত ছিল(কাহফ ১৮/৫০)। অর্থাৎ আল্লাহচেয়েছিলেন, জিন ও ফেরেশতা উভয়সম্প্রদায়ের উপরে আদম-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিতহৌকএবং বাস্তবে সেটাই হ’ল। তবে যেহেতুফেরেশতাগণ জিনদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন, সেজন্য কেবল তাদের নাম নেওয়াহয়েছে। আর দুনিয়াতে জিনদের ইতিপূর্বেকারউৎপাত ও অনাচার সম্বন্ধে ফেরেশতারা আগেথেকেই অবহিত ছিল, সেকারণ তারা মানুষ সম্বন্ধেওএকইরূপ ধারণা পোষণ করেছিল এবং প্রশ্নেরজবাবেনেতিবাচক উত্তর দিয়েছিল। উল্লেখ্য যে,‘আল্লাহ জিন জাতিকেআগেই সৃষ্টি করেন গনগনেআগুন থেকে’(হিজর ১৫/২৭)। কিন্তু তারা অবাধ্যতারচূড়ান্ত করে।আদমকে ফেরেশতাদের সম্মুখেপেশ করার পর আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে ঐসববস্ত্তর নাম জিজ্ঞেস করলেন।কিন্তু সঙ্গতকারণেই তারা তা বলতে পারল না। তখন আল্লাহআদমকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি সবকিছুরনাম বলেদিলেন। ফলে ফেরেশতারা অকপটে তাদেরপরাজয় মেনে নিল এবং আল্লাহর মহত্ত্ব ও পবিত্রতাঘোষণা করে বলল, হে আল্লাহ! আপনিআমাদেরকে যতটুকু শিখিয়েছেন, তারবাইরেআমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনিসর্বজ্ঞ ও দূরদৃষ্টিময়’(বাক্বারাহ ২/৩২)। অতঃপরআল্লাহ তাদের সবাইকে আদমের সম্মুখেসম্মানের সিজদা করতে বললেন। সবাই সিজদা করল,ইবলীস ব্যতীত। সে অস্বীকার করল ওঅহংকারে স্ফীত হয়ে প্রত্যাখ্যান করল। ফলেসে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হ’ল(বাক্বারাহ ২/৩৪)।ইবলীস ঐ সময় নিজের পক্ষে যুক্তি পেশ করেবলল,‘আমি ওর চাইতে উত্তম। কেননা আপনিআমাকেআগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আর ওকে সৃষ্টিকরেছেন মাটি দিয়ে’। আল্লাহ বললেন, তুই বেরহয়ে যা। তুই অভিশপ্ত, তোর উপরে আমার অভিশাপরইল পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত’(ছোয়াদ৩৮/৭৬-৭৮;আ‘রাফ ৭/১২)।সিজদার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য :আদমকেসৃষ্টি করার আগেই আল্লাহ ফেরেশতাদেরকেআদমের প্রতি সিজদা করার কথা বলে দিয়েছিলেন(হা-মীম সাজদাহ/ফুছছিলাত ৪১/১১)।তাছাড়া কুরআনেরবর্ণনা সমূহ থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, আদমকেসিজদা করার জন্য আল্লাহর নির্দেশ ব্যক্তি আদমহিসাবে ছিলনা, বরং ভবিষ্যৎ মানব জাতির প্রতিনিধিত্বকারীহিসাবে তাঁর প্রতি সম্মান জানানোর জন্য জিন ওফিরিশতাদের সিজদা করতে বলা হয়েছিল। এই সিজদাকখনোই আদমের প্রতি ইবাদত পর্যায়ের ছিল না।বরং তা ছিল মানবজাতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ওতাদেরকে সকলকাজে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিদানের প্রতীকী ও সম্মান সূচক সিজদা মাত্র।ওদিকে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হ’লেও ইবলীসকিন্তু আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হিসাবেঅস্বীকার করেনি। বরং আল্লাহ যখন তাকে‘অভিসম্পাৎ’ করে জান্নাত থেকে চিরদিনের মতবিতাড়িত করলেন, তখন সে আল্লাহ্কে ‘রব’হিসাবেই সম্বোধন করে প্রার্থনা করল, ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺏِّﻓَﺄَﻧﻈِﺮْﻧِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﻳَﻮْﻡِ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮﻥَ -‘হে আমার প্রভু! আমাকেআপনি ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন’(হিজর ১৫/৩৬,ছোয়াদ ৩৮/৭৯)। আল্লাহ তার প্রার্থনা মঞ্জুরকরলেন। অতঃপর সে বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা!আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিওতেমনি তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানারূপসৌন্দর্যে প্রলুব্ধ করব এবং তাদেরকে পথভ্রষ্টকরে দেব। তবে যারা আপনার একনিষ্ঠ বান্দা,তাদের ব্যতীত’(হিজর ১৫/৩৪-৪০; ছোয়াদ৩৮/৭৯-৮৩)। আল্লাহ তাকে বললেন, তুমি নেমেযাও এবং এখান থেকে বেরিয়ে যাও। তুমিনীচুতমদের অন্তর্ভুক্ত। এখানে তোমার অহংকারকরার অধিকারনেই’(আ‘রাফ ৭/১৩)। উল্লেখ্য যে,ইবলীস জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হ’লেও মানুষেররগ-রেশায় ঢুকে ধোঁকা দেওয়ার ও বিভ্রান্ত করারক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়েছিলেন।[11]আর এটা ছিলমানুষের পরীক্ষারজন্য। শয়তানের ধোঁকারবিরুদ্ধে জিততে পারলেই মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বেরমর্যাদা অক্ষুণ্ণরাখতে পারবে এবং আখেরাতেজান্নাত লাভে ধন্য হবে। নইলে ইহকাল ও পরকালেব্যর্থকাম হবে। মানুষের প্রতি ফেরেশতাদেরসিজদা করা ও ইবলীসের সিজদা না করার মধ্যেইঙ্গিত রয়েছে এ বিষয়ে যে, মানুষ যেন প্রতিপদে পদে শয়তানের ব্যাপারে সতর্ক থাকে এবংআল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেরশ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ণরাখে।আদমের পাঁচটিশ্রেষ্ঠত্ব :(১) আল্লাহ তাকে নিজ দু’হাতে সৃষ্টিকরেছেন(ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। (২) আল্লাহ নিজেতার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন(ছোয়াদ ৩৮/৭২)।(৩) আল্লাহ তাকে সকল বস্ত্তর নাম শিক্ষাদিয়েছেন(বাক্বারাহ ২/৩১)। (৪) তাকে সিজদা করারজন্য আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন(বাক্বারাহ ২/৩৪)। (৫) আদম একাই মাত্র মাটি থেকেসৃষ্ট। বাকী সবাই পিতা-মাতার মাধ্যমে সৃষ্ট(সাজদাহ৩২/৭-৯)।ইবলীসের অভিশপ্ত হওয়ার কারণ ছিলতারক্বিয়াস। সে আল্লাহর আদেশেরবিরুদ্ধে যুক্তিপেশ করে বলেছিল, ‘আমি আদমের চাইতেউত্তম।কেননা আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টিকরেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটিদয়ে’(হিজর ২৯)। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেন, ﺍﻭﻝﻣﻦ ﻗﺎﺱ ﺍﺑﻠﻴﺲ ‘প্রথম ক্বিয়াস করেছিল ইবলীস’।হাসান বছরীও অনুরূপ বলেছেন।[12]নারী জাতিপুরুষেরই অংশ এবং তার অনুগত :সিজদা অনুষ্ঠানের পরআল্লাহ আদমের জুড়ি হিসাবে তার অবয়ব হ’তেএকাংশনিয়ে অর্থাৎ তার পাঁজর হ’তে তার স্ত্রী হাওয়াকেসৃষ্টি করলেন[13]মাটি থেকে সৃষ্ট হওয়া আদমেরনাম হ’ল ‘আদম’ এবং জীবন্ত আদমের পাঁজর হ’তেসৃষ্ট হওয়ায় তাঁর স্ত্রীর নাম হ’ল ‘হাওয়া’(কুরতুবী)।অতঃপর তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বললেন,‘তোমরা দু’জন জান্নাতে বসবাস কর ওসেখানথেকে যা খুশী খেয়ে বেড়াও। তবেসাবধান! এই গাছটির নিকটে যেয়ো না। তাহ’লেতোমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েযাবে’(বাক্বারাহ ২/৩৫)। এতে বুঝা যায় যে,ফেরেশতাগণের সিজদা কেবল আদমের জন্যছিল, হাওয়ার জন্য নয়। দ্বিতীয়তঃ সিজদা অনুষ্ঠানেরপরে আদমের অবয়ব থেকেহাওয়াকে সৃষ্টি করাহয়, পূর্বে নয়। তিনি পৃথক কোন সৃষ্টি ছিলেন না।এতে পুরুষের প্রতি নারীর অনুগামী হওয়া প্রমাণিতহয়। আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষেরা নারীদের উপরকর্তৃত্বশীল’(নিসা ৪/৩৪)। অতঃপর বহিষ্কৃত ইবলীসতার প্রথমটার্গেট হিসাবে আদম ও হাওয়ার বিরুদ্ধেপ্রতারণার জাল নিক্ষেপ করল। সেমতে সেপ্রথমে তাদের খুব আপনজন বনে গেল এবং নানাকথায় তাদের ভুলাতে লাগল। এক পর্যায়ে সে বলল,‘আল্লাহ যে তোমাদেরকে ঐ গাছটির নিকটেযেতে নিষেধ করেছেন, তার কারণ হ’ল এইযে,তোমরা তাহ’লে ফেরেশতা হয়ে যাবে কিংবাতোমরা এখানে চিরস্থায়ী বাসিন্দা হয়েযাবে’(আ‘রাফ ৭/২০)। সে অতঃপর কসম খেয়েবলল যে, আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাংখী’(ঐ,২১)। ‘এভাবেই সে আদম ও হাওয়াকে সম্মত করেফেলল এবং তার প্রতারণার জালে আটকে গিয়ে তারাউক্ত নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল আস্বাদন করল। ফলেসাথে সাথে তাদের গুপ্তাঙ্গ প্রকাশিত হয়ে পড়লএবং তারা তড়িঘড়ি গাছের পাতা সমূহ দিয়ে তা ঢাকতেলাগল। আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বললেন, আমিকি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনিএবং বলিনি যে, শয়তানতোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?(ঐ,২২)তখন তারা অনুতপ্ত হ’য়ে বলল, ﻗَﺎﻻَ ﺭَﺑَّﻨَﺎﻇَﻠَﻤْﻨَﺎﺃَﻧﻔُﺴَﻨَﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻟَّﻢْ ﺗَﻐْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﺗَﺮْﺣَﻤْﻨَﺎ ﻟَﻨَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ-‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরানিজেদের উপর যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরক্ষমা না করেন, তবে অবশ্যই আমরাক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’(২৩)। ‘আল্লাহতখন বললেন, তোমরা (জান্নাত থেকে) নেমেযাও। তোমরা একে অপরের শত্রু।তোমাদেরঅবস্থান হবে পৃথিবীতে এবংসেখানেই তোমরা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্তসম্পদরাজি ভোগ করবে’(২৪)। তিনি আরও বললেনযে, ‘তোমরা পৃথিবীতেই জীবনযাপন করবে,সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে এবং সেখান থেকেইতোমরা পুনরুত্থিত হবে’(আ‘রাফ ৭/২০-২৫)।এখানেএকটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে,ইবলীসের কথায় সর্বপ্রথম হাওয়া প্রতারিত হন।অতঃপর তার মাধ্যমে আদম প্রতারিতহন বলে যে কথাচালু আছে কুরআনে এর কোন সমর্থন নেই।ছহীহ হাদীছেও স্পষ্ট কিছু নেই। এ বিষয়েতাফসীরে ইবনু জারীরে ইবনুআববাস (রাঃ)থেকে যে বর্ণনা এসেছে, তা যঈফ।[14]দ্বিতীয়তঃ জান্নাত থেকে অবতরণের নির্দেশতাদের অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ছিলনা। কেননা এটাছিল তওবা কবুলের পরের ঘটনা। অতএব এটা ছিলহয়তবা তাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দানের জন্য। বরং সঠিককথা এই যে, এটা ছিল আল্লাহর পূর্ব নির্ধারিত ওদূরদর্শী পরিকল্পনারই অংশ। কেননা জান্নাত হ’লকর্মফল লাভের স্থান,কর্মের স্থান নয়। তাছাড়াজান্নাতে মানুষের বংশ বৃদ্ধির সুযোগ নেই। এজন্যদুনিয়ায় নামিয়ে দেওয়া যরূরী ছিল।প্রথম বার আদেশদানের পরে পুনরায় স্নেহ ও অনুগ্রহমিশ্রিতআদেশ দিয়ে বললেন, ‘তোমরা সবাইনেমে যাও’। অতঃপর পৃথিবীতে আল্লাহর খলীফাহওয়ার(বাক্বারাহ২/৩০; ফাত্বির ৩৫/৩৯)মহান মর্যাদা প্রদানকরে বললেন, ‘তোমাদের নিকটে আমার পক্ষথেকে হেদায়াত অবতীর্ণ হবে। যারা তার অনুসরণকরবে, তাদের জন্য কোন ভয় বা চিন্তার কারণথাকবে না। কিন্তু যারা তা প্রত্যাখ্যান করবে ও মিথ্যাপ্রতিপন্ন করবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসীএবং সেখানে তারা অনন্তকাল ধরে অবস্থানকরবে’(বাক্বারাহ ২/৩৮-৩৯)।উল্লেখ্য যে, নবীগণছিলেন নিষ্পাপ এবং হযরত আদম (আঃ) ছিলেননিঃসন্দেহে নিষ্পাপ। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ভুলকরেননি। বরং শয়তানের প্ররোচনায় প্রতারিত হয়েতিনি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বৃক্ষের নিকটবর্তী হওয়ারনিষেধাজ্ঞার কথাটি ভুলে গিয়েছিলেন। যেমন অন্যআয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ﻓَﻨَﺴِﻲَ ﻭَﻟَﻢْ ﻧَﺠِﺪْ ﻟَﻪُﻋَﺰْﻣًﺎ-‘অতঃপর আদম ভুলে গেল এবং আমিতার মধ্যে(সংকল্পের) দৃঢ়তা পাইনি’(ত্বোয়াহা ২০/১১৫)। তাছাড়াউক্ত ঘটনার সময় তিনি নবী হননি বরং পদস্খলনেরঘটনার পরে আল্লাহ তাকে নবী মনোনীতকরে দুনিয়ায় পাঠান ও হেদায়াত প্রদানকরেন’(আ‘রাফ৭/১২২)।এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে,ইবলীসের ক্ষেত্রে আল্লাহ বললেন, ﻗَﺎﻝَﻓَﺎﺧْﺮُﺝْ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺭَﺟِﻴﻢٌ -‘তুমি জান্নাত থেকেবেরিয়ে যাও। নিশ্চয়ই তুমি অভিশপ্ত’(হিজর ১৫/৩৪;আ‘রাফ ৭/১৮)। অন্যদিকে আদমও হাওয়ারক্ষেত্রে বললেন, ﻗُﻠْﻨَﺎ ﺍﻫْﺒِﻄُﻮﺍْ ﻣِﻨْﻬَﺎ -‘ তোমরানেমে যাও’(বাক্বারাহ ২/৩৬, ৩৮; আ‘রাফ ৭/২৪)।এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইবলীস কখনোইআর জান্নাতে ফিরে আসতে পারবে না। কিন্তু বনুআদমের ঈমানদারগণ পুনরায় ফিরে আসতে পারবেইনশাআল্লাহ।নগ্নতা শয়তানের প্রথম কাজ :মানুষেরউপরে শয়তানের প্রথম হামলা ছিল তার দেহথেকে কাপড় খসিয়ে তাকে উলঙ্গ করে দেওয়া।আজও পৃথিবীতে শয়তানের পদাংক অনুসারী ওইবলীসের শিখন্ডীদের প্রথম কাজ হ’ল তথাকথিতক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতার নামে নারীকে উলঙ্গকরে ঘরের বাইরে আনা ও তার সৌন্দর্য উপভোগকরা। অথচ পৃথিবীর বিগত সভ্যতাগুলি ধ্বংস হয়েছেমূলতঃ নারী ও মদের সহজলভ্যতার কারণেই। অতএবসভ্য-ভদ্র ও আল্লাহভীরু বান্দাদের নিকটেঈমানের পর সর্বপ্রথম ফরয হ’ল স্ব স্ব লজ্জাস্থানআবৃত রাখা ও ইযযত-আবরূর হেফাযত করা। অন্যান্যফরয সবই এর পরে। নারীর পর্দা কেবলপোষাকে হবে না, বরং তা হবে তার ভিতরে, তারকথা-বার্তায়, আচার-আচরণে ও চাল-চলনে সর্ববিষয়ে। পরনারীর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি ও মিষ্টকণ্ঠস্বর পরপুরুষের হৃদয়ে অন্যায় প্রভাব বিস্তারকরে। অতএব লজ্জাশীলতাই মুমিন নর-নারীরঅঙ্গভূষণ ও পারস্পরিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি। নারী ওপুরুষ প্রত্যেকে একে অপরের থেকেস্ব স্বদৃষ্টিকে অবনত রাখবে(নূর ২৪/৩০-৩১)এবংপরস্পরে সার্বিক পর্দা বজায় রেখে কেবলমাত্রপ্রয়োজনীয় কথাটুকু স্বাভাবিকভাবে সংক্ষেপেবলবে। নারী ও পুরুষ প্রত্যেকে নিজ নিজস্বাতন্ত্র্য ও পর্দা বজায় রেখেস্ব স্ব কর্মস্থলেও কর্মপরিধিরমধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করবেএবংসংসার ও সমাজের কল্যাণে সাধ্যমতঅবদানরাখবে। নেগেটিভ ও পজেটিভ পাশাপাশি বিদ্যুৎবাহীদু’টি ক্যাবলের মাঝে প্লাষ্টিকের আবরণ যেমনপর্দার কাজ করে এবং অপরিহার্য এক্সিডেন্ট ওঅগ্নিকান্ড থেকে রক্ষা করে, অনুরূপভাবেপরনারী ও পরপুরুষের মধ্যকার পর্দা উভয়েরমাঝে ঘটিতব্য যেকোন অনাকাংখিত বিষয় থেকেপরস্পরকে হেফাযত করে। অতএবশয়তানেরপ্ররোচনায় জান্নাতের পবিত্র পরিবেশে আদি পিতা-মাতার জীবনে ঘটিত উক্ত অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনাথেকে দুনিয়ার এই পঙ্কিল পরিবেশে বসবাসরতমানব জাতিকে আরও বেশী সতর্ক ও সাবধান থাকাউচিত। কুরআন ও হাদীছ আমাদেরকে সেদিকেইহুঁশিয়ার করেছে।মানব সৃষ্টির রহস্য :আল্লাহবলেন, ﻭَﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻼَﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻴْﺨَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِّﻦﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮْﻥٍ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﻮَّﻳْﺘُﻪُ ﻭَﻧَﻔَﺨْﺖُ ﻓِﻴْﻪِ ﻣِﻦﺭُّﻭﺣِﻲْ ﻓَﻘَﻌُﻮْﺍ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪِﻳْﻦَ -‘স্মরণ কর সেই সময়েরকথা, যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বললেন,আমি মিশ্রিত পচা কাদার শুকনো মাটি দিয়ে ‘মানুষ’ সৃষ্টিকরব। অতঃপর যখন আমি তার অবয়ব পূর্ণভাবে তৈরীকরে ফেলব ও তাতে আমি আমার রূহ ফুঁকে দেব,তখন তোমরা তার প্রতি সিজদায় পড়ে যাবে’(হিজর১৫/২৮-২৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻳُﺼَﻮِّﺭُﻛُﻢْﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺣَﺎﻡِ ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﺸَﺂﺀُ ﻵ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰُ ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ- ‏) ﺁﻝﻋﻤﺮﺍﻥ ৬(-‘তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকেমাতৃগর্ভে আকার-আকৃতি দান করেছেন যেমন তিনিচেয়েছেন। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।তিনি মহা পরাক্রান্ত ও মহা বিজ্ঞানী’(আলে ইমরান৩/৬)। তিনি আরও বলেন, ﻳَﺨْﻠُﻘُﻜُﻢْ ﻓِﻲْ ﺑُﻄُﻮْﻥِ ﺃُﻣَّﻬَﺎﺗِﻜُﻢْﺧَﻠْﻘًﺎ ﻣِّﻦ ﺑَﻌْﺪِﺧَﻠْﻖٍ ﻓِﻲ ﻇُﻠُﻤَﺎﺕٍ ﺛَﻼَﺙٍ- ‏) ﺯﻣﺮ ৬(-‘তিনিতোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভে সৃষ্টিকরেন একের পর এক স্তরে তিনটি অন্ধকারাচ্ছন্নআবরণের মধ্যে’(যুমার ৩৯/৬)। তিনটি আবরণ হ’ল-পেট, রেহেম বা জরায়ু এবং জরায়ুর ফুল বা গর্ভাধার।উপরোক্ত আয়াতগুলিতে আদম সৃষ্টির তিনটি পর্যায়বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমে মাটি দ্বারা অবয়ব নির্মাণ,অতঃপর তার আকার-আকৃতি গঠন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহে শক্তির আনুপতিক হার নির্ধারণ ও পরস্পরেরমধ্যে সামঞ্জস্য বিধান এবং সবশেষে তাতে রূহসঞ্চার করে আদমকে অস্তিত্ব দান। অতঃপরআদমের অবয়ব (পাঁজর) থেকে কিছু অংশ নিয়ে তারজোড়া বা স্ত্রী সৃষ্টি করা। সৃষ্টির সূচনা পর্বের এইকাজগুলি আল্লাহসরাসরি নিজ হাতে করেছেন(ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। অতঃপর এই পুরুষ ও নারী স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস করেপ্রথম যে যমজ সন্তানজন্ম দেয়, তারাই হ’ল মানুষের মাধ্যমে সৃষ্টপৃথিবীর প্রথম মানব যুগল।তারপর থেকে এযাবতস্বামী-স্ত্রীর মিলনে মানুষের বংশ বৃদ্ধি অব্যাহতরয়েছে।শুধু মানুষ নয়, উদ্ভিদরাজি, জীবজন্তু ওপ্রাণীকুলের সৃষ্টি হয়েছে মাটি থেকে। আর মাটিসৃষ্টি হয়েছে পানি থেকে। পানিই হ’ল সকলজীবন্ত বস্ত্তর মূল(ফুরক্বান ২৫/৫৪)।মৃত্তিকাজাতসকল প্রাণীর জীবনের প্রথম ও মূল একক(Unit) হচ্ছে ‘প্রোটোপ্লাজম’ (Protoplasm)।যাকে বলা হয় ‘আদি প্রাণসত্তা’। এ থেকেই সকলপ্রাণী সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য বিজ্ঞানী মরিসবুকাইলী একে Bomb shell বলে অভিহিতকরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাটির সকলপ্রকারের রাসায়নিক উপাদান। মানুষের জীবনবীজে প্রচুর পরিমাণে চারটি উপাদান পাওয়া যায়।অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ওহাইড্রোজেন। আর আটটি পাওয়া যায় সাধারণভাবেসমপরিমাণে। সেগুলি হ’ল- ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম,পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ক্লোরিন, সালফার ওআয়রণ। আরও আটটি পদার্থ পাওয়া যায় স্বল্পপরিমাণে। তাহ’ল: সিলিকন, মোলিবডেনাম, ফ্লুরাইন,কোবাল্ট, ম্যাঙ্গানিজ, আয়োডিন, কপার ও যিংক। কিন্তুএই সব উপাদান সংমিশ্রিত করে জীবনের কণা তথা‘প্রোটোপ্লাজম’ তৈরী করা সম্ভব নয়। জনৈকবিজ্ঞানী দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এসব মৌল উপাদানসংমিশ্রিত করতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থহয়েছেন এবং তাতে কোন জীবনের ‘কণা’পরিলক্ষিত হয়নি। এই সংমিশ্রণ ও তাতে জীবন সঞ্চারআল্লাহ ব্যতীত কারু পক্ষে সম্ভবনয়। বিজ্ঞানএক্ষেত্রে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে।প্রথমপর্যায়ে মাটি থেকে সরাসরিআদমকে অতঃপর আদমথেকে তার স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করার পরবর্তীপর্যায়ে আল্লাহ আদম সন্তানদের মাধ্যমে বনুআদমের বংশ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছেন। এখানেওরয়েছে সাতটি স্তর। যেমন: মৃত্তিকার সারাংশ তথাপ্রোটোপ্লাজম, বীর্য বা শুক্রকীট, জমাটরক্ত, মাংসপিন্ড,অস্থিমজ্জা, অস্থি পরিবেষ্টনকারীমাংস এবং সবশেষে রূহ সঞ্চারণ(মুমিনূন ২৩/১২-১৪;মুমিন ৪০/৬৭; ফুরক্বান ২৫/৪৪; তারেক্ব ৮৬/৫-৭)।স্বামীর শুক্রকীট স্ত্রীর জরায়ুতে রক্ষিতডিম্বকোষে প্রবেশ করার পর উভয়ের সংমিশ্রিতবীর্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে(দাহর ৭৬/২)।উল্লেখ্য যে, পুরুষের একবার নির্গত লম্ফমানবীর্যে লক্ষ-কোটি শুক্রাণু থাকে। আল্লাহরহুকুমে তন্মধ্যকার একটি মাত্র শুক্রকীট স্ত্রীরজরায়ুতে প্রবেশ করে। এই শুক্রকীট পুরুষক্রোমোজম Y