হযরত ইবরাহীম আঃ এর জীবনী


হযরত ইবরাহীম (আ:) জীবনিহযরত ইবরাহীম(আলাইহিস সালাম)1.আবুল আম্বিয়া ও সাইয়েদুল আম্বিয়া2.নবীইবরাহীম3.সামাজিক অবস্থা4.ইবরাহীম (আঃ)-এর দাওয়াত : মূর্তিপূজারী কওমের প্রতি5.পিতারপ্রতি6.পিতার জবাব7.ইবরাহীমের জবাব8.পিতাকে ও নিজ সম্প্রদায়কে একত্রেদাওয়াত9.দাওয়াতের সারকথা ও ফলশ্রুতি10.তারকা পূজারীদের সাথে বিতর্ক11.একটি সংশয় ও তারজওয়াব12.ইবরাহীম মূর্তি ভাঙ্গলেন13.নমরূদের সঙ্গে বিতর্ক ওঅগ্নিপরীক্ষা14.হিজরতের পালা15.ইবরাহীমের হিজরত-পূর্ব বিদায়ী ভাষণ16.কেন‘আনেরজীবন17.মিসর সফর1.শিক্ষণীয় বিষয়2.ইবরাহীমের কথিত তিনটি মিথ্যারব্যাখ্যা3.তাওরিয়া ওতাক্বিয়াহ4.কেন‘আনে প্রত্যাবর্তন5.ইবরাহীমী জীবনের পরীক্ষা সমূহ6.বাবেলজীবনের পরীক্ষা সমূহ7.কেন‘আনী জীবনের পরীক্ষা সমূহ8.শিক্ষণীয়বিষয়9.খাৎনা করণ10.পুত্র কুরবানী11.শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ12.অন্যান্য উল্লেখযোগ্যঘটনাবলী13.(১) ইসহাক জন্মের সুসংবাদ14.(২) মৃতকে জীবিত করার দৃশ্য প্রত্যক্ষকরণ15.(৩) বায়তুল্লাহ নির্মাণ16.পরীক্ষা সমূহের মূল্যায়ন17.শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ18.উপসংহারইবরাহীম(আলাইহিস সালাম)ছিলেন হযরত নূহ (আঃ)-এর সম্ভবত: এগারোতমঅধঃস্তন পুরুষ। নূহথেকে ইবরাহীম পর্যন্ত প্রায় ২০০০ বছরের ব্যবধান ছিল। হযরত ছালেহ (আঃ)-এর প্রায়২০০ বছর পরে ইবরাহীমের আগমন ঘটে। ঈসা থেকে ব্যবধান ছিল ১৭০০ বছর অথবা প্রায়২০০০ বছরের। তিনি ছিলেন ‘আবুল আম্বিয়া’ বা নবীগণের পিতা এবং তাঁর স্ত্রী ‘সারা’ ছিলেন‘উম্মুল আম্বিয়া’ বা নবীগণের মাতা। তাঁর স্ত্রী সারার পুত্র হযরত ইসহাক্ব-এর পুত্র ইয়াকূব(আঃ)-এর বংশধর ‘বনু ইসরাঈল’ নামে পরিচিত এবং অপর স্ত্রী হাজেরার পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশে জন্ম নেন বিশ্বনবী ও শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ(ছাল্লাল্লা-হু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)। যাঁর অনুসারীগণ ‘উম্মতে মুহাম্মাদী’ বা ‘মুসলিম উম্মাহ’ বলে পরিচিত।বাবেল হ’তেতিনি কেন‘আনে (ফিলিস্তীন) হিজরত করেন। সেখান থেকে বিবি সারা-র বংশজাতনবীগণের মাধ্যমে আশপাশে সর্বত্র তাওহীদের দাওয়াত বিস্তার লাভ করে। অপর স্ত্রীহাজেরার পুত্র ইসমাঈলের মাধ্যমে বায়তুল্লাহ ও তার আশপাশএলাকায় তাওহীদের প্রচার ওপ্রসার হয় এবং অবশেষে এখানেই সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আগমনঘটে। এভাবে ইবরাহীমের দুই স্ত্রীর বংশজাত নবীগণ বিশ্বকে তাওহীদের আলোয়আলোকিত করেন। শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর দেহসৌষ্ঠব ও চেহারা মুবারক পিতা ইবরাহীম(আঃ)-এর ন্যায় ছিল। যা তিনি মে‘রাজ থেকে ফিরে এসে উম্মতকে খবর দেন।[1]আবুলআম্বিয়া ও সাইয়েদুল আম্বিয়া :ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন ইহুদী-খৃষ্টান-মুসলমান সকল ধর্মীয়সম্প্রদায়ের পিতা। কেননা আদম (আঃ) হ’তে ইবরাহীম (আঃ) পর্যন্ত ১০/১২ জন নবী বাদেশেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাযার পয়গম্বরের প্রায় সকলেইছিলেন ইবরাহীম(আঃ)-এর বংশধর। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ﺇﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﺍﺻْﻄَﻔَﻰ ﺁﺩَﻡَ ﻭَﻧُﻮْﺣﺎً ﻭَﺁﻝَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَﻭَﺁﻟَﻌِﻤْﺮَﺍﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ- ‏) ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ ৩৩(-‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, আলে ইবরাহীম ও আলেইমরানকে বিশ্ববাসীর উপরে নির্বাচিত করেছেন’(আলে ইমরান ৩/৩৩)। এই নির্বাচন ছিল বিশ্বসমাজে আল্লাহর তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ীকরার জন্য। ইবরাহীম ছিলেন নবীগণের পিতা এবংপুত্র মুহাম্মাদ ছিলেন নবীগণের নেতা,এ বিষয়টি সর্বদা মুমিনের মানসপটে জাগরুক রাখার জন্য দৈনিক ছালাতের শেষ বৈঠকে পঠিতদরূদের মধ্যে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদের উপরে এবং উভয়ের পরিবার বর্গের উপরেআল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষণের জন্য দো‘আ করার বিধান রাখা হয়েছে। ইবরাহীমের বংশেবরকত হ’ল নবুঅত ও ঐশী কিতাবের বরকত এবং মুহাম্মাদের ওতাঁর বংশে বরকত হ’ল বিজ্ঞানময়কুরআন ও হাদীছ এবং তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থার বরকত।ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরসম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ﻭَﻭَﻫَﺒْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ ﻭَﻳَﻌْﻘُﻮْﺏَ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻲْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻪِ ﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓَ ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻭَﺁﺗَﻴْﻨَﺎﻩُﺃَﺟْﺮَﻩُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴْﻦَ- ‏) ﺍﻟﻌﻨﻜﺒﻮﺕ ২৭(-‘আমরা তাকে দান করলাম ইসহাক্বও ইয়াকূবকে এবং তার বংশধরগণের মধ্যে প্রদান করলাম নবুঅত ও কিতাব। তাকে আমরাদুনিয়াতে পুরষ্কৃত করলাম। নিশ্চয়ই পরকালে সে সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে’(আনকাবূত২৯/২৭)।অতঃপর শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﻓِﻲ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِﺃُﺳْﻮَﺓٌ ﺣَﺴَﻨَﺔٌ ﻟِّﻤَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﺟُﻮ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَ ﻭَﺫَﻛَﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻛَﺜِﻴﺮﺍً – ‏) ﺍﻷﺣﺰﺍﺏ ২১(-‘যারা আল্লাহ ওশেষদিবসের (অর্থাৎ আখেরাতে মুক্তির) আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণকরে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের (মুহাম্মাদের) মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে’(আহযাব৩৩/২১)। অতঃপর তাঁর পরিবার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳْﺪُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟِﻴُﺬْﻫِﺐَ ﻋَﻨْﻜُﻢُ ﺍﻟﺮِّﺟْﺲَ ﺃَﻫْﻞَﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻭَﻳُﻄَﻬِّﺮَﻛُﻢْ ﺗَﻄْﻬِﻴْﺮﺍً- ‏) ﺍﻷﺣﺰﺍﺏ ৩৩(-‘হে নবী পরিবারের সদস্যগণ! আল্লাহ কেবল চানতোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্ররাখতে’(আহযাব ৩৩/৩৩)।শেষ যামানায় ইমাম মাহদী আসবেন হযরত ফাতেমা (রাঃ)-এরবংশধরগণের মধ্য হ’তে এ বিষয়ে বহু ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।[2]এইভাবেইবরাহীম ও মুহাম্মাদের নাম পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত দিকে দিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিতহ’তে থাকবে।ফালিল্লাহিল হাম্দ।নবী ইবরাহীম :আদম, ইয়াহ্ইয়া, ঈসা প্রমুখ দু’তিন জনেরব্যতিক্রম বাদে নূহ (আঃ) সহ অন্যান্য সকল নবীর ন্যায় ইবরাহীমকেও আমরা ধরে নিতেপারি যে, তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুঅত লাভ করেন। উম্মতে মুসলিমার পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)পশ্চিম ইরাকেরবছরার নিকটবর্তী ‘বাবেল’ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। এই শহরটিপরবর্তীতে সুলায়মান (আঃ)-এর সময়েজাদুর জন্য বিখ্যাত হয়(বাক্বারাহ ২/১০২)।এখানে তখনকালেডীয় ( ﻛﻠﺪﺍﻧﻰ) জাতি বসবাস করত। তাদের একচ্ছত্র সম্রাট ছিলেন নমরূদ। যিনি তৎকালীনপৃথিবীতে অত্যন্ত উদ্ধত ও অহংকারী সম্রাট ছিলেন। তিনি প্রায় চারশো বছর রাজত্বকরেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজে ‘উপাস্য’ হবার দাবী করেন।[3]আল্লাহ তারই মন্ত্রী ওপ্রধান পুরোহিত ‘আযর’-এর ঘরে বিশ্বনেতা ওবিশ্ব সংস্কারক নবী ইবরাহীমকে মুখ্যত:কালেডীয়দের প্রতি প্রেরণ করেন। ইবরাহীমের নিজ পরিবারের মধ্যে কেবলসহধর্মিনী ‘সারা’ ও ভ্রাতুষ্পুত্র ‘লূত’ মুসলমান হন।স্ত্রী ‘সারা’ ছিলেন আদি মাতা বিবি হাওয়ার পরেপৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী মহিলা। তিনি ১২৭ বছর বয়সে ‘হেবরনে’ মৃত্যু ববণকরেন ওসেখানেই কবরস্থ হন।[4]সারার মৃত্যুর পরে ইবরাহীম ক্বানতূরা বিনতে ইয়াক্বতিন ও হাজূনবিনতে আমীন নামে পরপর দুজন নারীকে বিয়ে করেন এবং ৬+৫=১১টি সন্তান লাভকরেন।[5]তিনি প্রায় দু’শো বছর জীবন পান বলে কথিত আছে।উল্লেখ্য যে, হযরতইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ২৫টি সূরায় ২০৪টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।[6]নিম্নে আমরা আয়াত সমূহথেকে নিয়ে সাধ্যতম সাজিয়ে কাহিনী আকারে পেশ করারচেষ্টা পাব ইনশাআল্লাহ।-সামাজিক অবস্থা:ইবরাহীমের আবির্ভাবকালীন সময়ে কালেডীয়সমাজ শিক্ষা ও সভ্যতায় শীর্ষস্থানীয় ছিল। এমনকি তারা সৌরজগত নিয়েও গবেষণা করত। কিন্তুঅসীলা পূজার রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা আল্লাহকে পাবার জন্য বিভিন্ন মূর্তি ও তারকাসমূহের পূজা করত। হযরত ইবরাহীম উভয় ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তাওহীদের দাওয়াতনিয়ে প্রেরিত হন।ইবরাহীম (আঃ)-এর দাওয়াত : মূর্তিপূজারী কওমের প্রতি-সকল নবীর ন্যায়ইবরাহীম (আঃ) স্বীয় কওমকে প্রথমে তাওহীদের দাওয়াত দেন। যেমন আল্লাহবলেন, ﻭََﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻘَﻮْﻣِﻪِ ﺍﻋْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﻩُ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَّﻜُﻢْ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ،ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭْﺛَﺎﻧﺎً ﻭَﺗَﺨْﻠُﻘُﻮﻥَ ﺇِﻓْﻜﺎً ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﻳَﻤْﻠِﻜُﻮﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﺭِﺯْﻗﺎً ﻓَﺎﺑْﺘَﻐُﻮﺍ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِﺍﻟﺮِّﺯْﻕَ ﻭَﺍﻋْﺒُﺪُﻭﻩُ ﻭَﺍﺷْﻜُﺮُﻭﺍ ﻟَﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮْﺟَﻌُﻮﻥَ- ‏( ﺍﻟﻌﻨﻜﺒﻮﺕ ১৬-১৭)-‘স্মরণ কর ইবরাহীমকে, যখন তিনিতার সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁকে ভয় কর। এটাইতোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ’। ‘তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবলপ্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করছ,তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর নিকটে রিযিক তালাশ কর। তাঁর ইবাদত করএবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।তাঁরই নিকটে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে’(আনকাবূত৩৩/১৬-১৭)।ইবরাহীম (আঃ) উক্ত দাওয়াতের মধ্যে কেবল আল্লাহর স্বীকৃতি কামনাকরেননি। বরং স্বীকৃতির ফলাফল) ﺛﻤﺮﺓ ﺍﻹﻗﺮﺍﺭ (আশা করেছিলেন। অর্থাৎ তারা যেন আল্লাহরআদেশ-নিষেধকে মান্য করে এবং কোন অবস্থায় তা লংঘন না করে। কেননা স্বীকৃতিরবিপরীত কাজ করা তা লংঘন করার শামিল।পিতার প্রতি : ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﺻِﺪِّﻳْﻘﺎًﻧَّﺒِﻴًّﺎ،ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﺄَﺑِﻴْﻪِ ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺖِ ﻟِﻢَ ﺗَﻌْﺒُﺪُ ﻣَﺎ ﻻَﻳَﺴْﻤَﻊُ ﻭَﻻَ ﻳُﺒْﺼِﺮُ ﻭَﻻَ ﻳُﻐْﻨِﻲ ﻋَﻨﻚَ ﺷَﻴْﺌﺎً، ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺖِ ﺇِﻧِّﻲ ﻗَﺪْ ﺟَﺎﺀﻧِﻲْ ﻣِﻦَﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﺄْﺗِﻚَ ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌْﻨِﻲْ ﺃَﻫْﺪِﻙَ ﺻِﺮَﺍﻃﺎً ﺳَﻮِﻳّﺎً، ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺖِ ﻻَ ﺗَﻌْﺒُﺪِ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻛَﺎﻥَ ﻟِﻠﺮَّﺣْﻤَﻦِﻋَﺼِﻴّﺎً، ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺖِ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﺧَﺎﻑُ ﺃَﻥ ﻳَﻤَﺴَّﻚَ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦ ﻓَﺘَﻜُﻮْﻥَ ﻟِﻠﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ ﻭَﻟِﻴّﺎً- ‏)ﻣﺮﻳﻢ ৪১-৪৫(-‘তুমিএই কিতাবে ইবরাহীমের কথা বর্ণনা কর। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী’(১৯/৪১)।‘যখন তিনি তার পিতাকে বললেন, হে আমার পিতা! তুমি তার পূজা কেন কর, যে শোনে না,দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না?(৪২)। ‘হে আমার পিতা! আমার কাছে এমনজ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে আসেনি। অতএব তুমি আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাকেসরল পথ দেখাব’(৪৩)। ‘হে আমার পিতা! শয়তানের পূজা করো না।নিশ্চয়ই শয়তান দয়াময়েরঅবাধ্য’(৪৪)। ‘হে আমার পিতা! আমি আশংকা করছি যে, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শকরবে, অতঃপর তুমি শয়তানের বন্ধু হয়ে যাবে’(মারিয়াম ১৯/৪১-৪৫)।অন্যত্র আল্লাহবলেন, ﻭَﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢُ ﻷَﺑِﻴْﻪِ ﺁﺯَﺭَ ﺃَﺗَﺘَّﺨِﺬُ ﺃَﺻْﻨَﺎﻣﺎً ﺁﻟِﻬَﺔً ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﺭَﺍﻙَ ﻭَﻗَﻮْﻣَﻚَ ﻓِﻲْ ﺿَﻼَﻝٍ ﻣُّﺒِﻴْﻦٍ – ‏( ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ৭৪)-‘স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বললেন, তুমি কি প্রতিমা সমূহকে উপাস্যমনে কর? আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায় স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যেরয়েছ’(আন‘আম ৬/৭৪)।কিন্তু ইবরাহীমের এই প্রাণভরা আবেদন পিতা আযরের হৃদয় স্পর্শকরল না। রাষ্ট্রের প্রধান পুরোহিত এবং সম্রাটের মন্ত্রী ওপ্রিয়পাত্র হওয়ায় সম্ভবত: বিষয়টিতার প্রেস্টিজ ইস্যু হয়।যেমন আল্লাহ বলেন, ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗِﻴﻞَ ﻟَﻪُ ﺍﺗَّﻖِ ﺍﻟﻠّﻪَ ﺃَﺧَﺬَﺗْﻪُ ﺍﻟْﻌِﺰَّﺓُ ﺑِﺎﻹِﺛْﻢِ ﻓَﺤَﺴْﺒُﻪُﺟَﻬَﻨَّﻢُ ﻭَﻟَﺒِﺌْﺲَ ﺍﻟْﻤِﻬَﺎﺩُ ، ‘যখন তাকে বলা হয়, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার সম্মান তাকে পাপেস্ফীত করে। অতএব তার জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট। আর নিঃসন্দেহে তা হ’ল নিকৃষ্টতমঠিকানা’(বাক্বারাহ ২/২০৬)। বস্ত্ততঃ অহংকারীদের চরিত্র সর্বত্র ও সর্বযুগে প্রায় একই হয়েথাকে।পিতার জবাব :পুত্রের আকুতিপূর্ণ দাওয়াতের উত্তরে পিতা বলল, ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺭَﺍﻏِﺐٌ ﺃَﻧْﺖَ ﻋَﻦْﺁﻟِﻬَﺘِﻲْ ﻳَﺎ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢُ ﻟَﺌِﻦ ﻟَّﻢْ ﺗَﻨْﺘَﻪِ ﻟَﺄَﺭْﺟُﻤَﻨَّﻚَ ﻭَﺍﻫْﺠُﺮْﻧِﻲْ ﻣَﻠِﻴًّﺎ – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ৪৬(-‘হে ইবরাহীম!তুমি কি আমারউপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে আমি অবশ্যই পাথর মেরেতোমার মাথা চূর্ণ করে দেব। তুমি আমার সম্মুখ হ’তে চিরতরের জন্য দূর হয়ে যাও’(মারিয়াম১৯/৪৬)।ইবরাহীমের জবাব:পিতার এই কঠোর ধমকি শুনে পুত্র ইবরাহীম বললেন, ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻼَﻡٌﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺳَﺄَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﻟَﻚَ ﺭَﺑِّﻲ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻲ ﺣَﻔِﻴّﺎً، ﻭَﺃَﻋْﺘَﺰِﻟُﻜُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺪْﻋُﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺃَﺩْﻋُﻮ ﺭَﺑِّﻲ ﻋَﺴَﻰ ﺃَﻻَّﺃَﻛُﻮﻥَ ﺑِﺪُﻋَﺎﺀ ﺭَﺑِّﻲ ﺷَﻘِﻴّﺎً – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ৪৭-৪৮(-‘তোমার উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক! আমি আমার পালনকর্তারনিকটে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি মেহেরবান’। ‘আমি পরিত্যাগকরছি তোমাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত যাদের তোমরা পূজা কর তাদেরকে। আমি আমারপালনকর্তাকে আহবান করব। আশা করি আমার পালনকর্তাকে আহবান করে আমি বঞ্চিত হবনা’(মারিয়াম ১৯/৪৭-৪৮)।পিতাকে ও নিজ সম্প্রদায়কে একত্রে দাওয়াত:আল্লাহ বলেন, ﻭَﺍﺗْﻞُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْﻧَﺒَﺄَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ، ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﺄَﺑِﻴْﻪِ ﻭَﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻣَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭْﻥَ، ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﺃَﺻْﻨَﺎﻣﺎً ﻓَﻨَﻈَﻞُّ ﻟَﻬَﺎ ﻋَﺎﻛِﻔِﻴْﻦَ، ﻗَﺎﻝَ ﻫَﻞْﻳَﺴْﻤَﻌُﻮﻧَﻜُﻢْ ﺇِﺫْ ﺗَﺪْﻋُﻮْﻥَ، ﺃَﻭْ ﻳَﻨْﻔَﻌُﻮْﻧَﻜُﻢْ ﺃَﻭْ ﻳَﻀُﺮُّﻭْﻥَ، ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﺑَﻞْ ﻭَﺟَﺪْﻧَﺎ ﺁﺑَﺎﺀﻧَﺎ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻳَﻔْﻌَﻠُﻮْﻥَ، ﻗَﺎﻝَ ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺘُﻢ ﻣَّﺎﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭْﻥَ، ﺃَﻧﺘُﻢْ ﻭَﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢُ ﺍﻟْﺄَﻗْﺪَﻣُﻮْﻥَ، ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢْ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻟِّﻲ ﺇِﻻَّ ﺭَﺏَّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ، ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﺧَﻠَﻘَﻨِﻲْ ﻓَﻬُﻮَ ﻳَﻬْﺪِﻳْﻦِ،ﻭَﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻫُﻮَ ﻳُﻄْﻌِﻤُﻨِﻲْ ﻭَﻳَﺴْﻘِﻴْﻦِ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮِﺿْﺖُ ﻓَﻬُﻮَ ﻳَﺸْﻔِﻴْﻦِ، ﻭَﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻳُﻤِﻴْﺘُﻨِﻲْ ﺛُﻢَّ ﻳُﺤْﻴِﻴْﻦِ، ﻭَﺍﻟَّﺬِﻱْ ﺃَﻃْﻤَﻊُ ﺃَﻥﻳَّﻐْﻔِﺮَ ﻟِﻴْﺨَﻄِﻴﺌَﺘِﻲْ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟﺪِّﻳْﻦِ، ﺭَﺏِّ ﻫَﺐْ ﻟِﻲْ ﺣُﻜْﻤﺎً ﻭَﺃَﻟْﺤِﻘْﻨِﻲْ ﺑِﺎﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴْﻦَ، ﻭَﺍﺟْﻌَﻞ ﻟِّﻲْ ﻟِﺴَﺎﻥَ ﺻِﺪْﻕٍ ﻓِﻲﺍﻟْﺂﺧِﺮِﻳْﻦَ، َﺍﺟْﻌَﻠْﻨِﻲْ ﻣِﻦ ﻭَّﺭَﺛَﺔِ ﺟَﻨَّﺔِ ﺍﻟﻨَّﻌِﻴْﻢِ، ﻭَﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﺄَﺑِﻲْ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴْﻦَ، ﻭَﻻَ ﺗُﺨْﺰِﻧِﻲْ ﻳَﻮْﻡَ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮْﻥَ،ﻳَﻮْﻡَ ﻻَ ﻳَﻨﻔَﻊُ ﻣَﺎﻝٌ ﻭَّﻻَ ﺑَﻨُﻮْﻥَ، ﺇِﻻَّ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﺍﻟﻠﻪَ ﺑِﻘَﻠْﺐٍ ﺳَﻠِﻴْﻢٍ، ﻭَﺃُﺯْﻟِﻔَﺖِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴْﻦَ، ﻭَﺑُﺮِّﺯَﺕِ ﺍﻟْﺠَﺤِﻴْﻢُﻟِﻠْﻐَﺎﻭِﻳْﻦَ، ﻭَﻗِﻴْﻞَ ﻟَﻬُﻢْ ﺃَﻳْﻦَ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻤْﺘَﻌْﺒُﺪُﻭْﻥَ، ﻣِﻦْ ﺩُﻭْﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻫَﻞْ ﻳَﻨْﺼُﺮُﻭْﻧَﻜُﻢْ ﺃَﻭْ ﻳَﻨْﺘَﺼِﺮُﻭْﻥَ، ﻓَﻜُﺒْﻜِﺒُﻮْﺍ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﻫُﻢْﻭَﺍﻟْﻐَﺎﻭُﻭْﻥَ، ﻭَﺟُﻨُﻮْﺩُ ﺇِﺑْﻠِﻴْﺲَ ﺃَﺟْﻤَﻌُﻮْﻥَ، ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻭَﻫُﻢْ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﻳَﺨْﺘَﺼِﻤُﻮْﻥَ، ﺗَﺎﻟﻠﻪِ ﺇِﻥْ ﻛُﻨَّﺎ ﻟَﻔِﻲْ ﺿَﻼَﻝٍ ﻣُّﺒِﻴْﻦٍ، ﺇِﺫْﻧُﺴَﻮِّﻳْﻜُﻢ ﺑِﺮَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ، ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺿَﻠَّﻨَﺎ ﺇِﻻَّ ﺍﻟْﻤُﺠْﺮِﻣُﻮْﻥَ، َﻣَﺎ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﺎﻓِﻌِﻴْﻦَ، ﻭَﻻَ ﺻَﺪِﻳْﻖٍ ﺣَﻤِﻴْﻢٍ، ﻓَﻠَﻮْ ﺃَﻥَّ ﻟَﻨَﺎﻛَﺮَّﺓً ﻓَﻨَﻜُﻮْﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ، ﺇِﻥَّ ﻓِﻲْ ﺫَﻟِﻜَﻠَﺂﻳَﺔً ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻛْﺜَﺮُﻫُﻢ ﻣُّﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ – ‏( ﺍﻟﺸﻌﺮﺍﺀ ৬৯-১০৪)-‘আরতাদেরকে ইবরাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন’(শো‘আরা ২৬/৬৯)। ‘যখন সে স্বীয় পিতা ওসম্প্রদায়কে ডেকে বলল, তোমরা কিসের পূজা কর’?(৭০)। তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজাকরি এবং সর্বদা এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি’(৭১)। ‘সে বলল, তোমরা যখন আহবানকর, তখন তারা শোনে কি’?(৭২)। ‘অথবা তারা তোমাদের উপকার বা ক্ষতি করতে পারে কি’?(৭৩)। ‘তারা বলল, না। তবে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’(৭৪)।ইবরাহীম বলল, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের তোমরা পূজাকরে আসছ’?(৭৫)। ‘তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা’(৭৬)। ‘তারা সবাই আমারশত্রু, বিশ্ব পালনকর্তা ব্যতীত’(৭৭)। ‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আমাকে পথপ্রদর্শন করেছেন’(৭৮)। ‘যিনি আমাকে আহার দেশ ও পানীয় দান করেন’(৭৯)। ‘যখন আমিপীড়িত হই, তখনতিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন’(৮০)। ‘যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপরপুনর্জীবন দান করবেন’(৮১)। ‘আশা করি শেষ বিচারের দিন তিনি আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমাকরেদিবেন’(৮২)। ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকেসৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর’(৮৩)। ‘এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষীকর’(৮৪)। ‘তুমি আমাকে নে‘মতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর’(৮৫)।(হে প্রভু) ‘তুমি আমার পিতাকে ক্ষমা কর। তিনি তো পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত’(৮৬)(হেআল্লাহ) ‘পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে লাঞ্ছিত কর না’(৮৭)। ‘যে দিনে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না’(৮৮)‘কিন্তু যে ব্যক্তি সরল হৃদয় নিয়ে আল্লাহর কাছেআসবে’(৮৯)। ‘(ঐ দিন) জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে’(৯০)। ‘এবং জাহান্নামবিপথগামীদের সামনে উন্মোচিত করা হবে’(৯১)। ‘(ঐ দিন) তাদেরকে বলা হবে, তারাকোথায় যাদেরকে তোমরা পূজা করতে’?(৯২)‘আল্লাহর পরিবর্তে। তারা কি (আজ)তোমাদের সাহায্য করতে পারে কিংবা তারা কি কোনরূপ প্রতিশোধ নিতে পারে’?(৯৩)।‘অতঃপর তাদেরকে এবং (তাদের মাধ্যমে) পথভ্রষ্টদেরকে অধোমুখী করে নিক্ষেপকরা হবে জাহান্নামে’(৯৪)‘এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে’(৯৫)। ‘তারা সেখানে ঝগড়ায় লিপ্তহয়ে বলবে’(৯৬)‘আল্লাহর কসম! আমরা প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম’(৯৭), ‘যখন আমরাতোমাদেরকে (অর্থাৎ কথিত উপাস্যদেরকে) বিশ্বপালকের সমতুল্য গণ্যকরতাম’(৯৮)।‘আসলে আমাদেরকে পাপাচারীরাই পথভ্রষ্টকরেছিল’(৯৯)। ‘ফলে (আজ)আমাদের কোনসুফারিশকারী নেই’(১০০)‘এবং কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই’(১০১)। ‘হায়! যদিকোনরূপে আমরা পৃথিবীতে ফিরেযাবার সুযোগ পেতাম, তাহ’লে আমরা ঈমানদারগণেরঅন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম’(১০২)। ‘নিশ্চয়ই এ ঘটনার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে। বস্ত্ততঃ তাদেরঅধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না’(১০৩)। ‘নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা পরাক্রান্ত ও দয়ালু’(শো‘আরা২৬/৬৯-১০৪)।স্বীয় পিতা ও সম্প্রদায়ের নিকটেইবরাহীমের দাওয়াত ও তাদের জবাবকেআল্লাহ অন্যত্র নিম্নরূপে বর্ণনা করেন। যেমন- ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﺄَﺑِﻴْﻪِ ﻭَﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻣَﺎ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺘَّﻤَﺎﺛِﻴْﻞُ ﺍﻟَّﺘِﻲْﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻟَﻬَﺎ ﻋَﺎﻛِﻔُﻮْﻥَ، ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻭَﺟَﺪْﻧَﺎ ﺁﺑَﺎﺀﻧَﺎ ﻟَﻬَﺎ ﻋَﺎﺑِﺪِﻳْﻦَ، ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻘَﺪْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻓِﻲْ ﺿَﻼَﻝٍ ﻣُّﺒِﻴْﻦٍ، ﻗَﺎﻟُﻮْﺍﺃَﺟِﺌْﺘَﻨَﺎ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﺃَﻡْ ﺃَﻧْﺘَﻤِﻦَ ﺍﻟﻼَّﻋِﺒِﻴْﻦَ، ﻗَﺎﻝَ ﺑَﻞ ﺭَّﺑُّﻜُﻢْ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻓَﻄَﺮَﻫُﻦَّ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻜُﻢﻣِّﻦَ ﺍﻟﺸَّﺎﻫِﺪِﻳْﻦَ، ﻭَﺗَﺎﻟﻠﻪِ ﻟَﺄَﻛِﻴْﺪَﻥَّ ﺃَﺻْﻨَﺎﻣَﻜُﻢ ﺑَﻌْﺪَ ﺃَﻥ ﺗُﻮَﻟُّﻮْﺍ ﻣُﺪْﺑِﺮِﻳْﻦَ – ‏)ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ৫২-৫৭(-ইবরাহীম স্বীয়পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, ‘এই মূর্তিগুলি কী যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ’?(আম্বিয়া ২১/৫২)। ‘তারা বলল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এরূপ পূজা করতেদেখেছি’(৫৩)। ‘সে বলল, তোমরা প্রকাশ্য গুমরাহীতে লিপ্ত আছ এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও’(৫৪)। ‘তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে সত্যসহ এসেছ, না কেবল কৌতুক করছ’?(৫৫)।‘সে বলল, না। তিনিই তোমাদের পালনকর্তা, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, যিনিএগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং আমি এ বিষয়ে তোমাদের উপর অন্যতম সাক্ষ্যদাতা’(৫৬)।‘আল্লাহর কসম! যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারেএকটা কিছু করে ফেলব’(আম্বিয়া ২১/৫২-৫৭)।দাওয়াতের সারকথা ও ফলশ্রুতি :মূর্তিপূজারী পিতাও সম্প্রদায়ের নেতাদের নিকটে ইবরাহীমের দাওয়াত ও তাদের প্রদত্ত জবাবের সারকথাগুলি নিম্নরূপ:১. ইবরাহীম তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দেন। তিনিমূর্তি পূজার অসারতার বিষয়টি তাদের সামনে বলে দেন। কেননা এটি ছিল সকলেরসহজবোধ্য। কিন্তু তারা মূর্তিপূজার অসীলা ছাড়তে রাযী হয়নি। কারণ শিরকী প্রথার মধ্যেনেতাদের লাভ ছিল মাল-সম্পদ ও দুনিয়াবী সম্মানের নগদ প্রাপ্তি। পক্ষান্তরে আল্লাহরইবাদতের মধ্যে এসবের প্রাপ্তি যোগ নেই। শিরকী পূজা-পার্বনের মধ্যে গরীবদেরলাভ ছিল এই যে, এর ফলে তারা নেতাদের কাছ থেকে দুনিয়াবী সহযোগিতা পেত। এছাড়াও বিভিন্ন কাল্পনিক ও ভ্রান্ত বিশ্বাস তাদেরকে মূর্তিপূজায় প্ররোচিত করত। পক্ষান্তরেএকনিষ্ঠ তাওহীদ বিশ্বাস তাদেরকে এসব থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। যেখানেএক আল্লাহর গোলামীর অধীনে বড়-ছোট সবার জন্য সামাজিক সমানাধিকার নিশ্চিত হয়েযায়।২. মূর্তিপূজারীদের কোন সঙ্গত জবাব ছিল না। তারা কেবল একটা কথাই বলেছিল যে,এটা আমাদের বাপ-দাদাদের আমল থেকে চলে আসা প্রথা।৩. ইবরাহীমের এত কিছুবক্তব্যের পরেও এই অন্ধপূজারীরা বলল, আসলেই তুমি কোন সত্য এনেছ, না আমাদেরসাথে কৌতুক করছ? কারণ অদৃশ্য অহীর বিষয়টি তাদের বাস্তব জ্ঞানে আসেনি। কিন্তুমূর্তিকে তারা সামনে দেখতে পায়।সেখানে সেবা ও পূজা করে তারা তৃপ্তি পায়।৪. পিতাতাঁকে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার হুমকি দিল এবং বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিল। কিন্তু তিনি পিতার জন্যআল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনার ওয়াদা করলেন। এর মধ্যে পিতার প্রতি সন্তানের কর্তব্যবোধ ফুটে উঠেছে, যদিও তিনি মুশরিক হন। পরে পিতার কুফরী পরিষ্কার হয়ে গেলে তিনিবিরত হন(তওবাহ ৯/১১৪)।৫. পিতা বহিষ্কার করলেও সম্প্রদায় তখনও বহিষ্কার করেনি। তাই তিনিপুনরায় দাওয়াতেমনোনিবেশ করলেন। যদিও তার ফলশ্রুতি ছিল পূর্বের ন্যায় শূন্য।তারকাপূজারীদের সাথে বিতর্ক :মূর্তি পূজারীদের সাথে বিতর্কের পরে তিনি তারকাপূজারীনেতাদের প্রতি তাওহীদের দাওয়াত দেন। কিন্তু তারাও মূর্তি পূজারীদের ন্যায় নিজ নিজবিশ্বাসে অটল রইল। অবশেষে তাঁর সাথে তাদের নেতাদের তর্কযুদ্ধ আবশ্যিক হয়েপড়ে। কেউ কেউ বলেছেন, ইবরাহীমের কওমের লোকেরাএকই সাথে মূর্তি ওতারকার পূজা করত। সেটাও অসম্ভব কিছু নয়।পবিত্র কুরআনে এই তর্কযুদ্ধ একটি অভিনব ওনাটকীয় ভঙ্গিতে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সহজে আরবীয় পাঠক হৃদয়ে রেখাপাতকরে। কেননা হযরত ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন সমগ্র আরবের লোকদের পিতামহ। তাঁর প্রতিগোটা আরব জাতি সম্মান প্রদর্শন করত। অথচ তাদেরপিতামহ যার বিরুদ্ধে জীবনভর লড়াইকরলেন জাহিল আরবরা সেই সব শিরকে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল। যে কা‘বা গৃহকেইবরাহীম (আঃ) নির্মাণ করেন এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য। তারা সেখানেই মূর্তিপূজা শুরুকরে দিয়েছিল। অথচ মুখে আল্লাহকে স্বীকার করত এবং ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এরপ্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করত। আজকের মুসলমানদের জন্য এর মধ্যেশিক্ষণীয় বিষয়রয়েছে। কেননা তারাও মুখে আল্লাহকে স্বীকার করে এবং শেষনবীর প্রতি গভীরশ্রদ্ধা পোষণ করে। অথচ নিজেরা কবর পূজা ও স্থানপূজার শিরকে লিপ্ত রয়েছে। আল্লাহরবিধানের অবাধ্যতা ও তার পরিবর্তে নিজেদের মনগড়া বিধান সমূহের আনুগত্য তোরয়েছেই। এক্ষণে আমরাকুরআনে বর্ণিত ইবরাহীমের অপর বিতর্ক যুদ্ধটির বিবরণ পেশকরব।-আল্লাহ বলেন, ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧُﺮِﻱْ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﻣَﻠَﻜُﻮْﺕَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽِ ﻭَﻟِﻴَﻜُﻮْﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﻮْﻗِﻨِﻴْﻦَ، ﻓَﻠَﻤَّﺎﺟَﻦَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞُ ﺭَﺃَﻯ ﻛَﻮْﻛَﺒﺎً ﻗَﺎﻝَ ﻫَـﺬَﺍ ﺭَﺑِّﻲ ﻓَﻠَﻤَّﺎﺃَﻓَﻞَ ﻗَﺎﻝَ ﻻ ﺃُﺣِﺐُّ ﺍﻵﻓِﻠِﻴْﻦَ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺭَﺃَﻯ ﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﺑَﺎﺯِﻏﺎً ﻗَﺎﻝَﻫَـﺬَﺍ ﺭَﺑِّﻲْ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺃَﻓَﻞَ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﺌِﻦ ﻟَّﻤْﻴَﻬْﺪِﻧِﻲْ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺄَﻛُﻮْﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﺍﻟﻀَّﺂﻟِّﻴْﻦَ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺭَﺃَﻯ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲَ ﺑَﺎﺯِﻏَﺔً ﻗَﺎﻝَﻫَـﺬَﺍ ﺭَﺑِّﻲْ ﻫَـﺬَﺍ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺃَﻓَﻠَﺖْ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺇِﻧِّﻲْ ﺑَﺮِﻱﺀٌ ﻣِّﻤَّﺎ ﺗُﺸْﺮِﻛُﻮْﻥَ، ﺇِﻧِّﻲ ﻭَﺟَّﻬْﺖُ ﻭَﺟْﻬِﻲَ ﻟِﻠَّﺬِﻱْ ﻓَﻄَﺮَﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽَ ﺣَﻨِﻴْﻔﺎً ﻭَّﻣَﺎ ﺃَﻧَﺎْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴْﻦَ، ﻭَﺣَﺂﺟَّﻪُ ﻗَﻮْﻣُﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺗُﺤَﺎﺟُّﻮﻧِّﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﻗَﺪْ ﻫَﺪَﺍﻥِﻭَﻻَ ﺃَﺧَﺎﻑُ ﻣَﺎ ﺗُﺸْﺮِﻛُﻮْﻥَ ﺑِﻪِ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﻳَّﺸَﺂﺀَ ﺭَﺑِّﻲْ ﺷَﻴْﺌﺎً ﻭَﺳِﻊَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻋِﻠْﻤﺎً ﺃَﻓَﻼَ ﺗَﺘَﺬَﻛَّﺮُﻭْﻥَ، ﻭَﻛَﻴْﻒَﺃَﺧَﺎﻑُ ﻣَﺎ ﺃَﺷْﺮَﻛْﺘُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﺨَﺎﻓُﻮْﻥَ ﺃَﻧَّﻜُﻢْ ﺃَﺷْﺮَﻛْﺘُﻢْ ﺑِﺎﻟﻠّﻪِ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳُﻨَﺰِّﻝْ ﺑِﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺳُﻠْﻄَﺎﻧﺎً ﻓَﺄَﻱُّ ﺍﻟْﻔَﺮِﻳْﻘَﻴْﻦِ ﺃَﺣَﻖُّﺑِﺎﻷَﻣْﻦِ ﺇِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ، ﺍﻟَّﺬِﻳْﻨَﺂﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻠْﺒِﺴُﻮْﺍ ﺇِﻳﻤَﺎﻧَﻬُﻢْ ﺑِﻈُﻠْﻢٍ ﺃُﻭﻟَـﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻷَﻣْﻦُ ﻭَﻫُﻢﻣُّﻬْﺘَﺪُﻭْﻥَ- ‏) ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ ৭৫-৮২(-‘আমি এরূপভাবেই ইবরাহীমকে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলেরঅত্যাশ্চর্য বস্ত্তসমূহ দেখাতেলাগলাম, যাতে সে দৃঢ়বিশ্বাসীদেরঅন্তর্ভুক্ত হয়েযায়’(আন‘আম ৬/৭৫)। ‘অনন্তর যখন রাত্রির অন্ধকার তার উপরে সমাচ্ছন্ন হ’ল, তখন সে তারকাদেখে বলল যে, এটি আমার পালনকর্তা। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হ’ল, তখন বলল, আমিঅস্তগামীদের ভালবাসি না’(৭৬)। ‘অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল, তখন সেবলল, এটি আমার পালনকর্তা। কিন্তু পরে যখন তা অস্তমিত হ’ল, তখন বলল, যদি আমার প্রতিপালকআমাকে পথ প্রদর্শন নাকরেন, তাহ’লে অবশ্যই আমি পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তহয়ে যাব’(৭৭)। ‘অতঃপর যখন উদীয়মান সূর্যকে ডগমগে দেখতে পেল, তখন বলল, এটিইআমার পালনকর্তা এবং এটিই সবচেয়েবড়। কিন্তু পরে যখন তা ডুবে গেল,তখন বলল, হেআমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত’(৭৮)। ‘আমিআমার চেহারাকে ঐ সত্তার দিকে একনিষ্ঠকরছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেনএবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই’(৭৯)। ‘(তখন) তার সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্ক করল।সে বলল, তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করছ? অথচ তিনি আমাকে সরলপথ দেখিয়েছেন। আর আমি ভয় করিনা তাদের, যাদেরকে তোমরা তাঁর সাথে শরীক কর,তবে আমার পালনকর্তা যদিকিছু (কষ্ট দিতে) চান। আমার প্রভুর জ্ঞান সবকিছুতেই পরিব্যপ্ত।তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না’?(৮০)। ‘কিভাবে আমিঐসব বস্ত্তকে ভয় করব,যাদেরকে তোমরা তাঁর সাথে শরীক করেছ? অথচ তোমরা এ বিষয়ে ভয় পাওনা যে,তোমরা আল্লাহর সাথে এমন সব বস্ত্তকে শরীক করেছ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহতোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। এক্ষণে উভয় দলের মধ্যে কেবেশী নিরাপত্তা লাভের অধিকারী? যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক’(৮১)। ‘যারাঈমান আনেএবং স্বীয় ঈমানকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবংতারাই হ’ল সুপথপ্রাপ্ত’(আন‘আম৬/৭৫-৮২)।উপরের বর্ণনা ভঙ্গিতে মনে হয় যেন ইবরাহীমঐ দিনই প্রথম নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্য দেখলেন এবং ‘এটি আমার পালনকর্তা’ বলে সাময়িকভাবেমুশরিক হয়েছিলেন। পরে শিরক পরিত্যাগ করে মুসলিম হ’লেন। অথচ ঘটনা মোটেই তা নয়।কেননা ঐ সময় ইবরাহীম (আঃ) অন্যূন সত্তরোর্ধ্ব বয়সের নবী। আর নবীগণ জন্মথেকেই নিষ্পাপ ও শিরকমুক্ত থাকেন। আসল ক