হযরত ইলিয়াস আঃ এর জীবনী


হযরত ইলিয়াস (আ:) জীবনিহযরত ইলিয়াস(আলাইহিস সালাম)1.ইলিয়াসের জন্মস্থান2.ফিলিস্তীনের ধর্মীয় ওসামাজিকঅবস্থা3.ইলিয়াসের দাওয়াত4.দাওয়াতের ফলশ্রুতি5.বাদশাহর দরবারে ইলিয়াসেরউপস্থিতি1.আল্লাহ ও বা‘ল দেবতার নামে কুরবানীর ঘটনা2.ইলিয়াস (আঃ)-কে পুনরায় হত্যারষড়যন্ত্র3.ইলিয়াস (আঃ) জীবিত আছেন কি?4.বা‘ল দেবতার পরিচয়5.শিক্ষণীয় বিষয়সমূহপবিত্র কুরআনে মাত্র দু’জায়গায় হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর আলোচনা দেখা যায়। সূরা আন‘আম৮৫ আয়াতে ও সূরা ছাফফাত ১২৩-১৩২ আয়াতে। সূরা আন‘আমে ৮৩-৮৫ আয়াতে ১৮ জন নবীরতালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। সেখানেকোন আলোচনা স্থান পায়নি। তবে সূরা ছাফফাতেসংক্ষেপে হ’লেও তাঁর দাওয়াতের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এবিষয়ে প্রায় সবাই একমত যে, তিনি হযরত হিয্ক্বীল (আঃ)-এর পর এবং হযরত আল-ইয়াসা‘ (আঃ)-এর পূর্বে দামেষ্কের পশ্চিমে বা‘লা বাক্কা) ﺑﻌﻠﺒﻚ (অঞ্চলের বনু ইস্রাঈলগণের প্রতিপ্রেরিত হয়েছিলেন। এই সময়হযরত সুলায়মান (আঃ)-এর উত্তরসুরীদের অপকর্মের দরুণবনু ইস্রাঈলের সাম্রাজ্য দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এক ভাগকে ‘ইয়াহূদিয়াহ’ বলা হ’ত এবংতাদের রাজধানী ছিল বায়তুল মুক্বাদ্দাসে। অপর ভাগের নাম ছিল ‘ইস্রাঈল’ এবং তাদের রাজধানীছিল তৎকালীন সামেরাহ এবং বর্তমান নাবলুসে।ইলিয়াসের জন্মস্থান :হযরত ইলিয়াস (আঃ)ফিলিস্তীনের পার্শ্ববর্তী জর্ডানের আল‘আদ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহপাক তাঁকে নবী হিসাবে মনোনীত করেন এবং ফিলিস্তীন অঞ্চলে তাওহীদের প্রচারও প্রসারের নির্দেশ দান করেন।ফিলিস্তীনের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা :এই সময়ফিলিস্তীনের বায়তুল মুক্বাদ্দাস ও নাবলুস অঞ্চলে বনু ইস্রাঈলদের দুই গ্রুপের দু’টিরাজধানী ছিল। তারা আপোষে পরস্পরে মারমুখী ছিল। ফেলে আসা নবুঅতী সমাজব্যবস্থা থেকে তারাঅনেক দূরে একটি পতিত সমাজে পরিণত হয়েছিল। কিতাবধারী ওকিতাবহীন জাহেলী সমাজের মধ্যে পার্থক্য করার কোন উপায় ছিল না।তখনকার ‘ইস্রাঈল’-এর শাসনকর্তার নাম ছিল ‘আখিয়াব’ বা ‘আখীব’। তার স্ত্রী ছিল ‘ইযবীল’। যে বা‘ল) ﺑﻌﻞ (নামকএক দেবমূর্তির পূজা করত। সে বা‘ল মূর্তির নামে এক বিশাল উপাসনালয় তৈরী করে এবংসেখানে সকল বনু ইস্রাঈলকে মূর্তিপূজায় আহবান করে। দলে দলে লোক সেদিকেআকৃষ্ট হচ্ছিল। মূসা-হারূণ, দাঊদ ও সুলায়মান নবীর উম্মতেরা বিনা দ্বিধায় শিরকের মহাপাতকেআত্মাহুতি দিচ্ছিল। এমন এক মর্মান্তিক অবস্থায় আল্লাহ পাক তাদের নিকটে তাওহীদের বাণীপ্রচারের জন্য ইলিয়াসকে নবী হিসাবে প্রেরণ করেন।ইলিয়াসের দাওয়াত :শিরকেআচ্ছন্ন ফিলিস্তীনবাসীকেহযরত ইলিয়াস (আঃ) তাওহীদের দাওয়াত দেন এবং শিরক পরিত্যাগকরার আহবান জানান। কেননা শিরক ও তাওহীদের একত্র সহাবস্থান কখনোই সম্ভব নয়।ইলিয়াস ও তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ﻭَﺇِﻥَّ ﺇِﻟْﻴَﺎﺱَ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴْﻦَ- ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻘَﻮْﻣِﻪِ ﺃَﻻَﺗَﺘَّﻘُﻮْﻥَ- ﺃَﺗَﺪْﻋُﻮْﻥَ ﺑَﻌْﻼً ﻭَﺗَﺬَﺭُﻭْﻥَ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﻟِﻘِﻴْﻦَ – ﺍﻟﻠﻪَ ﺭَﺑَّﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺏَّ ﺁﺑَﺎﺋِﻜُﻢُ ﺍﻟْﺄَﻭَّﻟِﻴْﻦَ – ﻓَﻜَﺬَّﺑُﻮْﻩُ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢْﻟَﻤُﺤْﻀَﺮُﻭْﻥَ- ﺇِﻻَّ ﻋِﺒَﺎﺩَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟْﻤُﺨْﻠَﺼِﻴْﻦَ- ﻭَﺗَﺮَﻛْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂﺧِﺮِﻳْﻦَ -ﺳَﻼَﻡٌ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﻝْ ﻳَﺎﺳِﻴْﻦَ- ﺇِﻧَّﺎ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧَﺠْﺰِﻱﺍﻟْﻤُﺤْﺴِﻨِﻴْﻦَ – ﺇِﻧَّﻪُ ﻣِﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻧَﺎ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ – ‏)ﺍﻟﺼﺎﻓﺎﺕ ১২৩-১৩২(-‘নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল প্রেরিতরাসূলগণের অন্যতম’(ছাফফাত ১২৩)।‘যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কি ভয় কর না’?(১২৪)‘তোমরা কি বা‘ল দেবতার পূজা করবে আর সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে’?(১২৫)‘যিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা’(১২৬)।‘অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে’(১২৭)।‘কিন্তু আল্লাহর খাঁটি বান্দাগণ ব্যতীত’(১২৮)। আমরা এই নিয়মের উপরে পরবর্তীদেরকেওরেখে দিয়েছি’(১২৯)। ‘ইলিয়াস-এর উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক’(১৩০)। ‘এভাবেই আমরাসৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি’(১৩১)। ‘নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল আমাদের বিশ্বাসী বান্দাদেরঅন্তর্ভুক্ত’(ছাফফাত ৩৭/১২৩-১৩২)।দাওয়াতের ফলশ্রুতি :বিগত নবীগণের যে দুরবস্থাহয়েছিল, ইলিয়াস (আঃ)-এর ভাগ্যে তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি ইস্রাঈলের শাসক আখিয়াব ও তারপ্রজাবৃন্দকে বা‘ল দেবমূর্তির পূজা করতে নিষেধ করলেন এবং এক আল্লাহর প্রতিইবাদতের আহবান জানালেন। কিন্তু দু’একজন হকপন্থী ব্যক্তি ছাড়া কেউ তাঁর কথায় কর্ণপাতকরল না। তারা ইলিয়াস (আঃ)-এর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হ’ল। তাকে যত্রতত্র অপমান-অপদস্থ করা শুরুকরল। এমনকি দৈহিক নির্যাতনও শুরু হয়ে গেল। কিন্তু ইলিয়াস (আঃ) তাঁর দাওয়াতচালিয়ে যেতে থাকেন। অবশেষে রাজা ও রাণী তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলেতিনি রাজধানী ছেড়ে অনেক দূরে এক পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন করলেন এবং দুর্ভিক্ষনাযিলের জন্য আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করলেন। ফলে সারা দেশেব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখাদিল। ইলিয়াস (আঃ) মনে করলেন দুর্ভিক্ষদূর করার জন্য তিনি যদি তাদেরকে মো‘জেযাপ্রদর্শন করেন, তাহ’লে হয়ত তারা শিরক বর্জন করে তাওহীদ কবুল করবে এবং একআল্লাহর ইবাদতে ফিরে আসবে।বাদশাহর দরবারে ইলিয়াসের উপস্থিতি :আল্লাহর হুকুমেহযরত ইলিয়াস (আঃ)তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে সরাসরি ইস্রাঈলের বাদশাহ আখিয়াবের দরবারেহাযির হ’লেন। তিনি বললেন,দেশব্যাপী এই দুর্ভিক্ষের কারণ হ’ল আল্লাহর নাফরমানী।তোমরা নাফরমানী থেকে বিরত হ’লে এ আযাব দূর হ’তে পারে। তোমরা বলে থাক যে,তোমাদের বা‘ল দেবতার নাকি সাড়ে চারশ’ নবী (!) আছে। তাই যদি হয়, তাহ’লে তুমি তাদেরসবাইকে একত্রিত কর। তারা এই দুর্ভিক্ষ দূর করার জন্য বা‘ল দেবতার নামে কুরবানী করুক।আর আমি একই উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে কুরবানী পেশ করি। যার কুরবানী আসমানথেকে আগুন এসে ভস্ম করে দেবে, তার ধর্মই সত্য বলে গণ্য হবে। ইলিয়াস (আঃ)-এরএ প্রস্তাব সবাই সানন্দে মেনে নিল।আল্লাহ ও বা‘ল দেবতার নামে কুরবানীর ঘটনা :পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘কোহে কারমাল’ নামক পাহাড়ী উপত্যকায় সকলে সমবেত হ’ল। বা‘লদেবতার নামেতার মিথ্যা নবীরা কুরবানী পেশ করল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বা‘লদেবতার উদ্দেশ্যে আকুতি-মিনতি ও কান্নাকাটি করে প্রার্থনা করা হ’ল। কিন্তু দেবতার কোনসাড়া পাওয়া গেল না। আসমান থেকে কোন আগুন নাযিল হ’ল না।অতঃপর হযরত ইলিয়াস (আঃ)আল্লাহর নামে কুরবানী করলেন এবং যথাসময়েআসমান থেকে আগুন এসে তা খেয়েগেল। বস্ত্ততঃ এটাই ছিল কুরবানীকবুল হওয়ার নিদর্শন। এভাবেই কবুল হয়েছিল আদমপুত্রহাবীলের কুরবানী। তখনকার সময় মুশরিকদের মধ্যেও এ রীতি গ্রহণযোগ্য ছিল, যাইলিয়াসের বর্তমান ঘটনায় প্রমাণিত হয়।আসমান থেকে আগুন এসে কুরবানী কবুলের এইঅভাবনীয় দৃশ্য দেখে অনেকে সাথে সাথে সিজদায় পড়ে গেল এবং ইলিয়াসের দ্বীনকবুল করে নিল। সকলের নিকটে ইলিয়াস (আঃ)-এর সত্যতা স্পষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু বা‘লপূজারী কথিত ধর্মনেতারা তাদের যিদের উপরে অটল রইল। এইসব মিথ্যা নবীরা ও তাদেরস্বার্থান্ধ অনুসারীরা ঈমান আনল না।ইলিয়াস (আঃ)-কে পুনরায় হত্যার ষড়যন্ত্র :ওদিকেআখিয়াবের স্ত্রী ইখবীল হযরত ইলিয়াস (আঃ)-কে পুনরায় হত্যার চক্রান্ত শুরু করে দিল।ফলে তিনি রাজধানী সামেরাহ (নাবলুস) ছেড়ে চলে গেলেন এবং কিছুদিন পর বনুইস্রাঈলের অপর রাজ্য পার্শ্ববর্তী ইয়াহূদিয়াহতে উপস্থিত হ’লেন। ঐসময় বা‘ল পূজার ঢেউএখানেও লেগেছিল। হযরত ইলিয়াস (আঃ) সেখানে পৌঁছে তাওহীদের দাওয়াত শুরু করলেন।সেখানকার সম্রাট ‘ইহুরাম’-এর কাছেও তিনি দাওয়াত দিলেন। কিন্তু নিরাশ হ’লেন। অবশেষে তাঁরভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হ’ল।কয়েক বছর পর ইলিয়াস (আঃ) পুনরায় ‘ইস্রাঈলে’ফিরে এলেন এবং ‘আখিয়াব’ও তার পুত্র ‘আখযিয়া’-কে সত্য পথে আনার চেষ্টা করলেন।কিন্তু তারাতাদের শিরকী ধ্যান-ধারণায় অটল রইল। অবশেষে তাদের উপরেবৈদেশিকআক্রমণ ও মারাত্মক রোগ-ব্যধির গযব নাযিল হ’ল। অতঃপর আল্লাহ পাকতাঁর নবীকেউঠিয়ে নিলেন।হযরত ইলিয়াস (আঃ) জীবিত আছেন কি?সুয়ূত্বী, ইবনে আসাকির, হাকেমপ্রমুখের বিভিন্ন বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে, চারজন নবী জীবিত আছেন। তন্মধ্যেখিযির ও ইলিয়াস দুনিয়াতে এবং ইদরীস ও ঈসা আসমানে রয়েছেন। কিন্তু হাকেম ও ইবনুকাছীর এসব বর্ণনাকে বিশুদ্ধ বলেননি। সারকথা, হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর জীবিত থাকার বিষয়টিকোন ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। অতএবএসব বর্ণনার প্রতি কর্ণপাত করারকোনপ্রয়োজন নেই। ইলিয়াস (আঃ) স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলেই আমরা বিশ্বাসকরব।বা‘ল দেবতার পরিচয় :সূরা ছাফফাত ১২৫ আয়াতে যে বা‘ল) ﺑﻌﻞ (দেবতার কথা বলা হয়েছে,আরবীভাষায় এর অর্থ স্বামী বা মালিক। কিন্তু সম্ভবতঃ এটি হিব্রু শব্দ। কেননা তখনকার সময়ফিলিস্তীন অঞ্চলের ভাষা ইবরানী বা হিব্রু ছিল। এটি ইস্রাঈলীদেরপূজিত দেবমূর্তির নাম।হযরত মূসা (আঃ)-এর সময়ে শাম অঞ্চলে এর পূজা হ’ত এবং এটাই ছিল তাদের সর্বাধিক জনপ্রিয়দেবতা। বা‘ল বাক্কা) ﺑﻌﻠﺒﻚ (শব্দটি ﻣﺮﻛﺐ ﺑﻨﺎﺋﻰ বা অপরিবর্তনীয় যৌগিক শব্দের উদাহরণ হিসাবেআরবী ব্যাকরণের একটি অতি পরিচিত শব্দ। এটি লেবাননের একটি প্রসিদ্ধ শহরের নাম, যাউক্ত বা‘ল দেবতার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। কারু কারু মতে জাহেলী আরবদেরপ্রসিদ্ধ দেবমূর্তি ‘হোবল’) ﻫﺒﻞ (এই বা‘লেরই অপর নাম। মক্কার খুযা‘আহ গোত্রের নেতাআমর বিন লুহাই সর্বপ্রথম সিরিয়া থেকে বহু মূল্যের বিনিময়ে এই মূর্তি নিয়েএসে কা‘বা গৃহেস্থাপন করেন এবং জনগণকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, সিরিয়রা এই মূর্তির অসীলায়পানিপ্রার্থনা করে। আমরাও এর অসীলায়পানি প্রার্থনা করব। তাতে সিরিয়ার ন্যায় মক্কা অঞ্চলেওপ্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং এলাকাশস্য-শ্যামল হয়ে উঠবে। এটাই ছিল কা‘বা গৃহে স্থাপিত প্রথমদেবমূর্তি। পরে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে আরও মূর্তি এনে স্থাপন করে। এভাবেরাসূলের আবির্ভাবকালে তার সংখ্যা ৩৬০-য়ে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে তারা এর দ্বারা তাদের দাবীমতে ইবরাহীমী ধর্মের তাওহীদ বিশ্বাসে কোন ত্রুটি হচ্ছে বলে মনে করত না। তারাএটাকে শিরক ভাবত না; বরং আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের অসীলা মনে করত(যুমার ৩৯/৩)।[1]শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ :(১) আহলে কিতাব হওয়া সত্ত্বেও এবং নিজেদের গোত্রে হাযারহাযারনবীর আগমন সত্ত্বেও বনু ইস্রাঈলগণ মূর্তিপূজায় অভ্যস্তহয়েছিল প্রয়োজনীয়শিক্ষা ও প্রচারের অভাবে। একইভাবে যদি ইসলামের বিশুদ্ধ আক্বাদী ও আমলের প্রচার ওপ্রসার না থাকে, তবে একদিন মুসলিমদের হাতেই ইসলামের চূড়ান্ত ক্ষতি হবে। ইতিমধ্যেমুসলিম দেশ সমূহের অভ্যন্তরে দুনিয়াপূজারী ধর্মনেতাদের হাত দিয়ে পীরপূজা, কবর পূজাইত্যাদির মাধ্যমে উক্তশিরকের রমরমা বাজার চলছে।(২) শিরকের প্রবর্তন রাষ্ট্র ওসমাজনেতাদের মাধ্যমে হ’লে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থায়িত্ব লাভ করে। যেমনইস্রাঈলের রাণী ইযবীলের মাধ্যমে বা‘ল মূর্তির পূজা শুরু হয়েছিল। পরে সারা দেশে তাচালু হয়ে যায়।(৩) সমাজ সংস্কারক ব্যক্তিকে আপোষহীনভাবে স্রেফ আল্লাহর উপরেভরসা করে তাওহীদ বিরোধী কাজের সংস্কারে নামতে হয়। যেভাবে ইলিয়াস (আঃ)একাকী উক্ত কাজে নেমেছিলেন।(৪) মৃত ব্যক্তি বা তার কবরের কোনপ্রভাব জীবিতব্যক্তিদের উপরে পড়ে না। যেমন বায়তুল মুক্বাদ্দাসের আশপাশে হযরত ইবরাহীম,ইসহাক্ব, ইয়াকূব, মূসা, হারূণ, দাঊদ, সুলায়মান সহ বিগত যুগের শত শত জলীলুল ক্বদর নবীরকবর থাকা সত্ত্বেও তাদের বুকের উপরে সংঘটিত বা‘ল দেবমূর্তি পূজার ব্যাপারে তাদেরকোন প্রভাব তাদের স্বগোত্রীয় বনু ইস্রাঈলদের উপরে পড়েনি।(৫) সর্বদা সমাজেরকিছু ন্যায়নিষ্ঠ মানুষকে তাওহীদের প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করতে হয়। সবাইকেদিয়ে একাজ সম্ভব নয়। যেমন ইসরাঈলে যোগ্য লোক না থাকায় আল্লাহ পাক জর্ডানথেকে ইলিয়াসকে পাঠান তাদের হেদায়াতের জন্য।[1]. পুরা আলোচনার জন্য দ্রষ্টব্য: দ্র:তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআন পৃঃ ১১৫৩-৫৫; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/৩১৪। তবে বর্ণিতআলোচনার সবটাকেই অকাট্য সত্য বলা যাবে না। কেননা এগুলি ঐতিহাসিক বর্ণনা। যাতে ভুলতথ্য থাকতে পারে। কেবল কুরআনী বর্ণনাটুকুই আমাদের নিকট নিশ্চিতভাবে গ্রহণীয়। -লেখক।

Advertisements