হযরত ইসমাইল আঃ এর জীবনী


হযরত ইসমাঈল (আ:) জীবনি. হযরত ইসমাঈল(আলাইহিস সালাম)1.পিতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের দৃষ্টান্ত2.প্রথম বিশুদ্ধ আরবীভাষী1.যবীহুল্লাহ কে?আল্লাহ বলেন, ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﺻَﺎﺩِﻕَ ﺍﻟْﻮَﻋْﺪِ ﻭَﻛَﺎﻥَﺭَﺳُﻮﻻً ﻧَّﺒِﻴﺎًّ – ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳَﺄْﻣُﺮُ ﺃَﻫْﻠَﻪُ ﺑِﺎﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻭَﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻪِ ﻣَﺮْﺿِﻴًّﺎ -‘এই কিতাবে আপনি ইসমাঈলেরকথা বর্ণনা করুন। তিনি ছিলেন ওয়াদা রক্ষায় সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রাসূল ও নবী’। ‘তিনি তাঁরপরিবারবর্গকে ছালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি স্বীয় পালনকর্তার নিকটপসন্দনীয় ছিলেন’(মারিয়াম ১৯/৫৪-৫৫)।হযরত ইসমাঈল (আঃ) ছিলেন পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এরজ্যেষ্ঠ পুত্র এবং মা হাজেরার গর্ভজাত একমাত্রসন্তান। ঐ সময়ে ইবরাহীমের বয়স ছিল ৮৬বছর।[1]শিশু বয়সে তাঁকে ওতাঁর মাকে পিতা ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে মক্কার বিজনভূমিতে রেখে আসেন। সেখানে ইবরাহীমের দো‘আর বরকতে আল্লাহর বিশেষঅনুগ্রহে যমযম কূপের সৃষ্টি হয়। অতঃপর ইয়ামনের ব্যবসায়ী কাফেলা বনু জুরহুম গোত্রকর্তৃক মা হাজেরার আবেদনক্রমে সেখানে আবাদী শুরু হয়। ১৪ বছর বয়সে আল্লাহরহুকুমে মক্কার অনতিদূরে মিনা প্রান্তরে সংঘটিত হয় বিশ্ব ইতিহাসের বিস্ময়কর ত্যাগ ওকুরবানীর ঘটনা। পিতা ইবরাহীম কর্তৃক পুত্র ইসমাঈলকে স্বহস্তে কুরবানীর উক্ত ঘটনায়শতবর্ষীয় পিতা ইবরাহীমের ভূমিকা যাই-ই থাকুক না কেন চৌদ্দবছরের তরুণ ইসমাঈলের ঈমানও আত্মত্যাগের একমাত্র নমুনা ছিলেন তিনি নিজেই। তিনি স্বেচ্ছায় নিজেকে সমর্পণ নাকরলে পিতার পক্ষে পুত্র কুরবানীর ঘটনা সম্ভব হ’ত কি-না সন্দেহ। তাই ঐ সময় নবী নাহ’লেও নবীপুত্র ইসমাঈলের আল্লাহভক্তিও দৃঢ় ঈমানের পরিচয় ফুটে উঠেছিল তাঁর কথায় ওকর্মে। এরপর পিতার সহযোগী হিসাবে তিনি কা‘বা গৃহ নির্মাণে শরীক হন এবং কা‘বা নির্মাণশেষে পিতা-পুত্র মিলে যে প্রার্থনা করেন, আল্লাহ পাক তা নিজ যবানীতে পবিত্রকুরআনে বর্ণনা করে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন(বাক্বারাহ ২/১২৭-১২৯)।এভাবেইসমাঈল স্বীয় পিতার ন্যায়বিশ্বের তাবৎ মুমিন হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। আল্লাহতাঁর প্রশংসায় সূরা মারিয়াম ৫৪ আয়াতে বলেন, তিনি ছিলেন ওয়াদা রক্ষায় সত্যাশ্রয়ী’ যা তিনিযবহের পূর্বে পিতাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺖِ ﺍﻓْﻌَﻞْ ﻣَﺎ ﺗُﺆْﻣَﺮُ ﺳَﺘَﺠِﺪُﻧِﻲ ﺇِﻥْ ﺷَﺂﺀﺍﻟﻠﻬُﻤِﻦَ ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ ، ‘হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা কার্যকর করুন। আল্লাহচাহেন তো আপনি আমাকে ছবরকারীদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন’(ছাফফাত ৩৭/১০২)।অতঃপরকা‘বা নির্মাণকালে পিতা-পুত্রের দো‘আর(বাক্বারাহ ১২৭-২৯)বরকতে প্রথমতঃ কা‘বা গৃহেযেমনহাযার হাযার বছর ধরে চলছে তাওয়াফ ও ছালাত এবং হজ্জ ও ওমরাহর ইবাদত, তেমনি চলছেঈমানদার মানুষের ঢল। দ্বিতীয়তঃ সেখানে সারা পৃথিবী থেকে সর্বদাআমদানী হচ্ছে ফল-ফলাদীর বিপুল সম্ভার। তাঁদের দো‘আর তৃতীয় অংশ মক্কার জনপদে নবী প্রেরণেরবিষয়টি বাস্তবায়িত হয় তাঁদের মৃত্যুর প্রায় আড়াই হাযার বছর পরে ইসমাঈলের বংশে শেষনবীমুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আবির্ভাবের মাধ্যমে। ইসমাঈল (আঃ) মক্কায় আবাদকারী ইয়ামনের বনু জুরহুমগোত্রে বিবাহ করেন। তাদেরই একটিশাখা গোত্র কুরায়েশ বংশ কা‘বা গৃহ তত্ত্বাবধানেরমর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিতহয়। এই মহান বংশেই শেষনবীর আগমন ঘটে।উল্লেখ্যযে, হযরত ইসমাঈল (আঃ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ৯টি সূরায় ২৫টি আয়াতে বর্ণিতহয়েছে।[2]পিতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের দৃষ্টান্ত :তিনি পিতার প্রতি কেমন শ্রদ্ধাশীল ওঅনুগত ছিলেন, তা নিম্নোক্ত ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়। হাজেরার মৃত্যুর পর ইবরাহীম (আঃ) যখনইসমাঈলকে দেখতেযান, তখন তার স্ত্রীকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,‘আমরা খুব অভাবে ও কষ্টের মধ্যে আছি’। জবাবে তিনি বলেন, তোমার স্বামী এলেতাকে আমার সালাম দিয়ে বলো যে, তিনি যেন দরজার চৌকাঠ পাল্টেফেলেন’। পরে ইসমাঈলবাড়ী ফিরলে ঘটনা শুনে বলেন, উনি আমার আববা এবং তিনি তোমাকে তালাক দিতেবলেছেন। ফলে ইসমাঈল স্ত্রীকে তালাক দেন ও অন্য স্ত্রী গ্রহণ করেন। পরেএকদিন পিতা এসে একই প্রশ্ন করলে স্ত্রী বলেন, আমরা ভাল ও সচ্ছলতার মধ্যে আছি এবংতিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন। ইবরাহীম তাদের সংসারে বরকতের জন্য আল্লাহর নিকটপ্রার্থনা করলেন। অতঃপর তাকে বলেন, তোমার স্বামী ফিরলে তাকে বলো যেনদরজার চৌকাঠ ঠিক রাখেন ও মযবূত করেন’। ইসমাঈল ফিরে এলে ঘটনা শুনে তার ব্যাখ্যা দেনও বলেন, উনি আমার পিতা। তোমাকে স্ত্রীত্বে বহাল রাখার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এইঘটনার কিছু দিন পর ইবরাহীম পুনরায় আসেন। অতঃপর পিতা-পুত্র মিলে কা‘বা গৃহ নির্মাণ করেন।[3]প্রথম বিশুদ্ধ আরবী ভাষী :ইসমাঈল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ﺃَﻭَّﻝُ ﻣَﻦْ ﻓَﺘَﻖَ ﻟِﺴَﺎﻧَﻪُﺑِﺎْﻟﻌَﺮَﺑِﻴَّﺔِ ﺍﻟْﺒَﻴِّﻨَﺔِ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴْﻠُﻮَﻫُﻮَ ﺍﺑْﻦُ ﺍَﺭْﺑَﻊَ ﻋَﺸَﺮَﺓَ ﺳَﻨَﺔٍ -‘সর্বপ্রথম ‘স্পষ্ট আরবী’ ভাষা ব্যক্ত করেনইসমাঈল। যখন তিনি ছিলেন মাত্র ১৪ বছর বয়সের তরুণ’।[4]এখানে ‘স্পষ্ট আরবী’ অর্থ‘বিশুদ্ধ আরবী ভাষা’) ﺍﻟﻌﺮﺑﻴﺔ ﺍﻟﻔﺼﻴﺤﺔ ﺍﻟﺒﻠﻴﻐﺔ (এটাই ছিল কুরায়শী ভাষা ( ﻟﻐﺔ ﻗﺮﻳﺶ ), যে ভাষায়পরে কুরআন নাযিল হয়। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সকল ভাষাই আল্লাহ কর্তৃক ইলহামেরমাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। ইসমাঈল ছিলেন বিশুদ্ধ কুরায়শী আরবী ভাষার প্রথম ইলহাম প্রাপ্তমনীষী। এটিইসমাঈলের জন্য একটি গৌরবময় বৈশিষ্ট্য। এজন্য তিনি ছিলেন ‘আবুলআরব’)ﺃﺑﻮﺍﻟﻌﺮﺏ(বা আরবদের পিতা।অন্যান্য নবীগণের ন্যায় যদি ইসমাঈল ৪০ বছর বয়সেনবুঅত পেয়ে থাকেন, তাহ’লে বলা চলে যে, ইসমাঈলের নবুঅতী মিশন আমৃত্যু মক্কাকেন্দ্রিক ছিল। তিনি বনু জুরহুম গোত্রে তাওহীদের দাওয়াত দেন। ইস্রাঈলীবর্ণনানুসারে তিনি ১৩৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ও মা হাজেরার পাশে কবরস্থ হন’।[5]কা‘বাচত্বরে রুকনে ইয়ামানীর মধ্যে তাঁর কবর হয়েছিলবলে জনশ্রুতি আছে। তবেমক্কাতেইযে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, এটা নিশ্চিতভাবে ধারণা করা যায়।ইসমাঈলের বড় মহত্ত্ব এইযে, তিনিছিলেন ‘যবীহুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর রাহে স্বেচ্ছায় জীবন উৎসর্গকারী এবং তিনিহ’লেন শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মহান পূর্বপুরুষ। আল্লাহ তাঁর উপরে শান্তি বর্ষণ করুন। তাঁরসম্পর্কে ইবরাহীমের জীবনীতে আলোচিত হয়েছে।যবীহুল্লাহ কে?উক্তবিষয়ে মূলত: কোন মতভেদ নেই।কেননা মুসলিম ও আহলে কিতাব প্রায় সকল বিদ্বান এবিষয়ে একমত যে, তিনি ছিলেন হযরত ইসমাঈল (আঃ)।কেননা তিনিই ইবরাহীমের প্রথম পুত্রএবং হাজেরার গর্ভে জন্ম। তিনি মক্কাতেই বড় হন। সেখানেই বসবাস করেন এবং সেখানেইমৃত্যুবরণ করেন। কুরবানীর মহান ঘটনা মক্কাতেই ঘটে। তিনি কখনোই কেন‘আনেআসেননি। পিতা ইবরাহীম তাকে নিয়ে মক্কায় কা‘বা গৃহ নির্মাণ করেন।পক্ষান্তরে ইসহাকেরজন্ম হয় কেন‘আনে বিবি সারাহর গর্ভে ইসমাঈলের প্রায় চৌদ্দ বছর পরে। শৈশবে তিনিমক্কায় এসেছেন বলে জানা যায় না। পবিত্র কুরআনের সূরা বাক্বারায় ১৩৩,৩৬, ৪০; সূরা আলেইমরান ৮৪, নিসা ১৬৩, ইবরাহীম ৩৯, ছাফফাত ১০০-১১৩ আয়াতগুলিতে সর্বত্র ইসমাঈলের পরেইইসহাক ও ইয়াকূবের আলোচনা এসেছে। এব্যাপারে সকল ইস্রাঈলী বর্ণনা একমত যে,ইসমাঈলের জন্মের সময় ইবরাহীমের বয়স ছিল ৮৬ বছর। পক্ষান্তরে ইসহাক জন্মেরসময় ইবরাহীমের বয়স ছিল অন্যূন ১০০ বছর এবং সারাহর বয়স ছিল অন্যূন ৯০ বছর।নিঃসন্তানইবরাহীম বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর নিকট একটি ‘নেককার সন্তান’ প্রার্থনা করেছিলেন।যেমন ﺭَﺏِّ ﻫَﺐْ ﻟِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ، ﻓَﺒَﺸَّﺮْﻧَﺎﻩُ ﺑِﻐُﻠَﺎﻡٍ ﺣَﻠِﻴﻢٍ ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটিসৎকর্মশীল সন্তান দান কর।’ ‘অতঃপর আমরা তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদদিলাম।’(ছাফফাত ৩৭/১০০-০১)। আর তিনিই ছিলেন প্রথম সন্তান ইসমাঈল। অতঃপর ইসমাঈলেরকুরবানীর ঘটনা শেষে যখন ইবরাহীমকেন‘আনে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন সেখানেফেরেশতাদের আগমন ঘটে। যারা লূত-এর কওমকে ধ্বংস করতে যাওয়ার পথে তাঁরবাড়ীতে যাত্রা বিরতি করেন এবং সারাহর গর্ভে ইসহাক জন্মের ও তার ঔরসে পরবর্তীতেইয়াকূব জন্মের সুসংবাদ প্রদান করেন(হূদ ১১/৭১)। সূরা ছাফফাত ১০১ আয়াতে ইবরাহীমকেএকটি ধৈর্য্যশীল সন্তানের সুসংবাদ শুনানোর পরে কুরবানীর ঘটনা বর্ণনা শেষে ১১২আয়াতে বলা হয়েছে ﻭَﺑَﺸَّﺮْﻧَﺎﻩُ ﺑِﺈِﺳْﺤَﺎﻕَ ﻧَﺒِﻴّﺎً ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ ‘অতঃপর আমরা তাকে ইসহাক জন্মেরসুসংবাদ দিলাম যিনি নবী হবেন ও সৎকর্মশীলগণের অন্তর্ভুক্ত হবেন’(ছাফফাত ৩৭/১১২)।উক্ত আয়াতগুলির বর্ণনাপরম্পরায় স্পষ্ট বুঝা যায় যে, প্রথম সুসংবাদ প্রাপ্ত সন্তানটি ছিলেনইসমাঈল, যাকে কুরবানী করা হয়। অতঃপর সুসংবাদ প্রাপ্ত সন্তান ছিলেন ইসহাক। যেমনইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর প্রতিকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দো‘আ করেন ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّﻪِ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻭَﻫَﺐَ ﻟِﻲْﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻜِﺒَﺮِ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴْﻞَ ﻭَﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑِّﻲْ ﻟَﺴَﻤِﻴْﻊُ ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀ -‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকেবৃদ্ধ বয়সে দান করেছেন ইসমাঈল ও ইসহাককে। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অবশ্যই দো‘আকবুলকারী’(ইবরাহীম ১৪/৩৯)। এখানে তিনি ইসমাঈলের পরে ইসহাকের নাম উল্লেখকরেছেন। উপরোক্ত আলোচনায় একথা স্পষ্ট হয়যে, যবীহুল্লাহ ছিলেনইবরাহীমেরপ্রথম সন্তান ইসমাঈল।এক্ষণে পূর্বের ও পরের যে সকল বিদ্বান ইসহাককেযবীহুল্লাহ বলেছেন, তারা মূলতঃ ইসরাঈলী বর্ণনাসমূহের উপর নির্ভর করেছেন। যার প্রায়সবগুলিই কা‘ব আল-আহবারের বর্ণনা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই ইহুদী পন্ডিত হযরত ওমর(রাঃ)-এর খেলাফতকালে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাওরাত বিশেষজ্ঞহিসাবে খ্যাত এই ব্যক্তিনানা বিকৃত বর্ণনা পরিবেশন করেন। এটাছিল আরবদের প্রতি ইহুদীদের চিরন্তন বিদ্বেষেরবহিঃপ্রকাশ মাত্র। কেননা ইসমাঈল ছিলেন আরব জাতির পিতা। যিনি হেজাযে বসবাস করতেন। আরতার বংশেই এসেছিলেন শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)। পক্ষান্তরে ইসহাক ছিলেন ইয়াকূবের পিতা।যিনি কেন‘আনে বসাবস করতেন। আর ইয়াকূবের অপর নাম ছিল ইস্রাঈল। যার দিকেই বনুইস্রাঈলকে সম্বন্ধ করা হয়। ফলে হিংসুক ইস্রাঈলীরা আরবদের সম্মান ছিনিয়ে নেয়ার জন্যআল্লাহর বাণীকে পরিবর্তন করতে চেয়েছে এবং ইসমাঈলের বদলে ইসহাকের নামযবীহুল্লাহ বলে প্রচার করেছে। যা স্রেফ মিথ্যা ও অপবাদ মাত্র।[6][1]. আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ ১/১৭৯ পৃঃ।[2]. যথাক্রমে সূরা বাক্বারাহ ২/১২৫, ১২৭-১২৯, ১৩২, ১৩৩, ১৩৬, ১৪০=৮; আলেইমরান ৩/৮৪; নিসা ৪/১৬৩; আন‘আম ৬/৮৬; ইবরাহীম ১৪/৩৯; মারিয়াম ১৯/৫৪-৫৫; আম্বিয়া২১/৮৫-৮৬; ছাফফাত ৩৭/১০১-১০৮=৮; ছোয়াদ ৩৮/৪৮। সর্বমোট =২৫ টি\[3]. বুখারী ইবনুআববাস হ’তে হা/৩৩৬৪ ‘নবীগণের কাহিনী’ অধ্যায়।[4]. ত্বাবারানী, আওয়ায়েল; ছহীহুলজামে‘ হা/৪৩৪৬; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/১৮০।[5]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/১৮০।[6]. বিস্তারিতদ্রষ্টব্য : তাফসীর ইবনে কাছীর, সূরা ছাফফাত ১০০-১১৩।

Advertisements