হযরত ঈসা আঃ এর জীবনী


হযরত ঈসা (আ:) জীবনিহযরত ঈসা(আলাইহিস সালাম)1.ঈসার মা ও নানী2.মারিয়ামের জন্ম ও লালন-পালন3.ঈসার জন্ম ওলালন-পালন4.মারিয়ামের সতীত্ব সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষ্য5.মারিয়ামের বৈশিষ্ট্যসমূহ6.শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ7.ঈসা (আঃ)-এর বৈশিষ্ট্য সমূহ8.ঈসা (আঃ)-এর কাহিনী9.ঈসা (আঃ)-এরদাওয়াত10.ঈসা (আঃ)-এর পেশকৃত পাঁচটি নিদর্শন1.দাওয়াতের ফলশ্রুতি2.ইহুদীদের উপরপ্রেরিত গযব ও তার কারণ সমূহ3.ইহুদীদের অভিশপ্ত হওয়ার ১০টি কারণ4.ঈসা (আঃ)-কে হত্যারষড়যন্ত্র ও তাঁর ঊর্ধ্বারোহন5.আল্লাহর পাঁচটি অঙ্গীকার6.‘হাওয়ারী’ কারা?7.আসমান থেকেখাঞ্চা ভর্তি খাদ্য অবতরণ8.ঈসা (আঃ)-এর অনুসারীদের কুফরী এবং ক্বিয়ামতের দিনআল্লাহরসঙ্গে ঈসা (আঃ)-এর কথোপকথন9.শিক্ষণীয় বিষয় সমূহহযরত ঈসা (আঃ) ছিলেন বনু ইস্রাঈলবংশের সর্বশেষ নবী ও কিতাবধারী রাসূল। তিনি ‘ইনজীল’ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁরপরথেকে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আবির্ভাব পর্যন্ত আর কোন নবী আগমন করেননি।এই সময়টাকে ﻓﺘﺮﺓ ﺍﻟﺮﺳﻞ বা ‘রাসূল আগমনের বিরতিকাল’ বলা হয়। ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অব্যবহিতকাল পূর্বে হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর হুকুমে পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবংমুহাম্মাদী শরী‘আত অনুসরণে ইমামমাহদীর নেতৃত্বে সারা পৃথিবীতে শান্তির রাজ্যকায়েম করবেন। তিনি উম্মতে মুহাম্মাদীর সাথে বিশ্ব সংস্কারে ব্রতী হবেন। তাইতাঁরসম্পর্কে সঠিক ও বিস্তৃত ধারণা দেওয়া অত্যন্ত যরূরী বিবেচনা করে আল্লাহ পাকশেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, মূসা(আঃ)-এর অনুসারী হওয়ার দাবীদার ইহুদীরা তাঁকে নবী বলেই স্বীকার করেনি। অত্যন্তলজ্জাষ্করভাবে তারা তাঁকে জনৈক ইউসুফ মিস্ত্রীর জারজ সন্তান বলে আখ্যায়িত করেছে(নাঊযুবিল্লাহ)। অন্যদিকে ঈসা (আঃ)-এর ভক্ত ও অনুসারী হবার দাবীদার খৃষ্টানরা বাড়াবাড়ি করেতাঁকে ‘আল্লাহর পুত্র’(তওবাহ৯/৩০)বানিয়েছে’। বরং ত্রিত্ববাদী খৃষ্টানরা তাঁকে সরাসরি‘আল্লাহ’ সাব্যস্ত করেছে এবং বলেছে যে, তিনি হ’লেন তিন আল্লাহর একজন ( ﺛَﺎﻟِﺚُﺛَﻠَﺜَﺔٍ=মায়েদাহ ৭৩)। অর্থাৎ ঈসা, মারিয়াম ও আল্লাহ প্রত্যেকেই আল্লাহ এবং তারা এটাকে ‘বুদ্ধিবহির্ভূত সত্য’ বলে ক্ষান্ত হয়। অথচ এরূপ ধারণা পোষণকারীদের আল্লাহদ্ব্যর্থহীনভাবে ‘কাফের’ বলে ঘোষণা করেছেন(মায়েদাহ ৫/৭২-৭৩)।কুরআন তাঁরসম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেছে। আমরা এখন সেদিকে মনোনিবেশ করব।উল্লেখ্য যে, হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের মোট ১৫টি সূরায় ৯৮টি আয়াতে[1]বর্ণিতহয়েছে।ঈসার মা ও নানী :ঈসা (আঃ)-এর আলোচনা করতে গেলে তাঁর মা ওনানীর আলোচনা আগেই করেনিতে হয়। কারণ তাঁদের ঘটনাবলীর সাথে ঈসারজীবনের গভীর যোগসূত্ররয়েছে। পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণেরশরী‘আতে প্রচলিতইবাদত-পদ্ধতির মধ্যে আল্লাহর নামে সন্তান উৎসর্গ করার রেওয়াজও চালু ছিল। এসবউৎসর্গীত সন্তানদের পার্থিব কোন কাজকর্মে নিযুক্ত করা হ’ত না। এ পদ্ধতি অনুযায়ী ঈসারনানী অর্থাৎ ইমরানের স্ত্রী নিজের গর্ভস্থ সন্তান সম্পর্কে মানত করলেন যে, তাকেবিশেষভাবে আল্লাহর ঘর বায়তুল মুক্বাদ্দাসের খিদমতে নিয়োজিত করা হবে। তিনিভেবেছিলেন যে পুত্র সন্তান হবে। কিন্তু যখন তিনি কন্যা সন্তান প্রসব করলেন, তখনআক্ষেপ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি কন্যা প্রসব করেছি’?(আলে ইমরান ৩৬)।অর্থাৎ একে দিয়ে তো আমার মানত পূর্ণ হবে না। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্যরূপ। তিনিউক্ত কন্যাকেই কবুল করে নেন। বস্ত্ততঃ ইনিই ছিলেন মারিয়াম বিনতে ইমরান, যিনি ঈসা (আঃ)-এর কুমারী মাতা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাকে জান্নাতের শ্রেষ্ঠ চারজন মহিলার অন্যতমহিসাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেন, ﺃﻓﻀﻞُ ﻧﺴﺎﺀِ ﺃﻫﻞِ ﺍﻟﺠﻨﺖِ ﺧﺪﻳﺠﺖُ ﺑﻨﺖِ ﺧُﻮَﻳْﻠﺪِﻭﻓﺎﻃﻤﺔُ ﺑﻨﺖِ ﻣﺤﻤﺪٍ ﻭﻣﺮﻳﻤُــــــــــــ ‘জান্নাতবাসী মহিলাগণের মধ্যে সেরা হ’লেন চারজন: খাদীজাবিনতে খুওয়ালিদ, ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ, মারিয়াম বিনতে ইমরানএবং আসিয়া বিনতে মুযাহিম, যিনিফেরাঊনের স্ত্রী’।[2]মারিয়ামের জন্ম ও লালন-পালন :মারিয়ামের জন্ম ও লালন-পালনসম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻟَﺖِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓُ ﻋِﻤْﺮَﺍﻥَ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻧَﺬَﺭْﺕُ ﻟَﻚَ ﻣَﺎ ﻓِﻲْ ﺑَﻄْﻨِﻲْ ﻣُﺤَﺮَّﺭﺍً ﻓَﺘَﻘَﺒَّﻞْﻣِﻨِّﻲ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ – ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻭَﺿَﻌَﺘْﻬَﺎ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻭَﺿَﻌْﺘُﻬَﺎ ﺃُﻧﺜَﻰ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﻤَﺎ ﻭَﺿَﻌَﺖْﻭَﻟَﻴْﺲَ ﺍﻟﺬَّﻛَﺮُ ﻛَﺎﻷُﻧﺜَﻰ ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﺳَﻤَّﻴْﺘُﻬَﺎ ﻣَﺮْﻳَﻤَﻮِﺇِﻧِّﻲ ﺃُﻋِﻴْﺬُﻫَﺎ ﺑِﻚَ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬَﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ ﺍﻟﺮَّﺟِﻴﻢِ- ﻓَﺘَﻘَﺒَّﻠَﻬَﺎ ﺭَﺑُّﻬَﺎﺑِﻘَﺒُﻮﻝٍ ﺣَﺴَﻦٍ ﻭَﺃَﻧﺒَﺘَﻬَﺎ ﻧَﺒَﺎﺗﺎً ﺣَﺴَﻨﺎً ﻭَﻛَﻔَّﻠَﻬَﺎ ﺯَﻛَﺮِﻳَّﺎ، ﻛُﻠَّﻤَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺯَﻛَﺮِﻳَّﺎ ﺍﻟْﻤِﺤْﺮَﺍﺏَ ﻭَﺟَﺪَ ﻋِﻨﺪَﻫَﺎ ﺭِﺯْﻗﺎً ﻗَﺎﻝَﻳَﺎ ﻣَﺮْﻳَﻢُ ﺃَﻧَّﻰ ﻟَﻚِ ﻫَـﺬَﺍ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻫُﻮَ ﻣِﻦْ ﻋِﻨﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺇﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻳَﺮْﺯُﻕُ ﻣَﻦْ ﻳََّﺸَﺂﺀُ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٍ- ‏) ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ৩৫-৩৭(-‘যখন ইমরানের স্ত্রী বলল, হে আমার প্রভু! আমার গর্ভে যা রয়েছেতাকে আমিতোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত হিসাবে। অতএব আমার পক্ষ থেকেতুমি তাকে কবুল করে নাও। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’(আলে ইমরান ৩৫)। ‘অতঃপরসে যখন তাকে প্রসব করল, তখন বলল, হে প্রভু! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি!অথচ আল্লাহ ভাল করেই জানেন, সে কি প্রসব করেছে। (আল্লাহ সান্ত্বনা দিয়েবললেন,) এই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই।আর আমি তার নাম রাখলাম ‘মারিয়াম’।(মারিয়ামের মা দো‘আ করে বলল, হেআল্লাহ!) আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকেতোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি, অভিশপ্ত শয়তানের কবল হ’তে’(৩৬)। আল্লাহ বলেন,‘অতঃপর তার প্রভু তাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাকে প্রবৃদ্ধি দান করলেনসুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তিনি তাকেযাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পণকরলেন। (অতঃপর ঘটনা হ’ল এইযে,) যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কাছে আসতেন, তখনই কিছু খাদ্যদেখতেপেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, মারিয়াম! এসব কোথা থেকে তোমার কাছে এল?মারিয়াম বলত, ‘এসবআল্লাহর নিকট থেকে আসে। নিশ্চয়ইআল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দানকরে থাকেন’(আলে ইমরান ৩/৩৫-৩৭)।উল্লেখ্য যে, আল্লাহর নামে উৎসর্গীত সন্তানপালন করাকে তখনকার সময়ে খুবই পুণ্যের কাজ মনে করা হ’ত। আর সেকারণে মারিয়ামকেপ্রতিপালনের দায়িত্বনেওয়ার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। ফলে লটারীরব্যবস্থা করা হয় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর বয়োবৃদ্ধ নবী হযরত যাকারিয়া (আঃ) মারিয়ামেরদায়িত্বপ্রাপ্ত হন(আলে ইমরান ৩/৪৪)।ঈসার জন্ম ও লালন-পালন :এভাবে মেহরাবে অবস্থানকরে মারিয়াম বায়তুল মুক্বাদ্দাসের খিদমত করতে থাকেন। সম্মানিত নবীও মারিয়ামেরবয়োবৃদ্ধ খালু যাকারিয়া (আঃ) সর্বদা তাকে দেখাশুনা করতেন। মেহরাবের উত্তর-পূর্বদিকেসম্ভবতঃ খেজুর বাগান ও ঝর্ণাধারা ছিল। যেখানে মারিয়াম পর্দা টাঙিয়ে মাঝে-মধ্যে পায়চারিকরতেন। অভ্যাসমত তিনি উক্ত নির্জন স্থানে একদিন পায়চারি করছিলেন। এমন সময় হঠাৎমানুষের বেশে সেখানে জিবরাঈল উপস্থিত হন। স্বাভাবিকভাবেই তাতে মারিয়াম ভীত হয়েপড়েন। এ বিষয়ে কুরআনী বর্ণনা নিম্নরূপ: ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺇِﺫِ ﺍﻧﺘَﺒَﺬَﺕْ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻬَﺎﻣَﻜَﺎﻧﺎًﺷَﺮْﻗِﻴًّﺎ – ﻓَﺎﺗَّﺨَﺬَﺕْ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻧِﻬِﻢْ ﺣِﺠَﺎﺑﺎً ﻓَﺄَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﺭُﻭﺣَﻨَﺎ ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ- ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُﺑِﺎﻟﺮَّﺣْﻤَﻦ ﻣِﻨﻚَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﺗَﻘِﻴًّﺎ – ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺭَﺑِّﻚِ ﻟِﺄَﻫَﺐَ ﻟَﻚِ ﻏُﻼَﻣًﺎ ﺯَﻛِﻴًّﺎ- ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺃَﻧَّﻰ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻟِﻲ ﻏُﻼَﻡٌﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻤْﺴَﺴْﻨِﻲ ﺑَﺸَﺮٌ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﻙُ ﺑَﻐِﻴًّﺎ – ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺬَﻟِﻚِ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚِ ﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻫَﻴِّﻦٌ ﻭَﻟِﻨَﺠْﻌَﻠَﻪُ ﺁﻳَﺔً ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔً ﻣِّﻨَّﺎﻭَﻛَﺎﻥَ ﺃَﻣْﺮًﺍ ﻣَّﻘْﻀِﻴًّﺎ – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ১৬-২১(-(হে মুহাম্মাদ!) ‘আপনি এই কিতাবে মারিয়ামের কথা বর্ণনা করুন।যখনসে তার পরিবারের লোকজন হ’তে পৃথকহয়ে পূর্বদিকে একস্থানে আশ্রয়নিল’(মারিয়াম ১৬)। ‘অতঃপর সে তাদের থেকে আড়াল করার জন্য পর্দা টাঙিয়ে নিল। অতঃপরআমরা তার নিকটে আমাদের ‘রূহ’ (অর্থাৎ জিব্রীলকে) প্রেরণ করলাম। সে তার কাছেগিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল’(১৭)। ‘মারিয়াম বলল, আমি তোমার থেকেকরুণাময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি আল্লাহভীরু হও’(১৮)। ‘সে বলল, আমি তোকেবল তোমার প্রভুর প্রেরিত। এজন্য যে, আমি তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র সন্তান দানকরে যাব’(১৯)। ‘মারিয়াম বলল, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকেস্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণী নই’(২০)। ‘সে বলল, এভাবেই হবে। তোমার পালনকর্তাবলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ ব্যাপার এবং আমরা তাকে (ঈসাকে) মানবজাতির জন্য একটানিদর্শন ও আমাদের পক্ষ হ’তে বিশেষ অনুগ্রহরূপে পয়দা করতে চাই। তাছাড়া এটা (পূর্বথেকেই) নির্ধারিত বিষয়’(মারিয়াম ১৯/১৬-২১)। অতঃপর জিব্রীল মারিয়ামের মুখে অথবা তাঁরপরিহিত জামায় ফুঁক মারলেন এবং তাতেই তাঁর গর্ভ সঞ্চার হ’ল(আম্বিয়া ২১/৯১; তাহরীম ৬৬/১২)।অন্য আয়াতে একে ‘আল্লাহর কলেমা’) ﺑِﻜَﻠِﻤَﺔٍ ﻣِﻨْﻪُ (অর্থাৎ ‘কুন্’ (হও) বলা হয়েছে(আলেইমরান ৩/৪৫)।অতঃপর আল্লাহ বলেন, ﻓَﺤَﻤَﻠَﺘْﻪُ ﻓَﺎﻧﺘَﺒَﺬَﺕْ ﺑِﻪِ ﻣَﻜَﺎﻧًﺎ ﻗَﺼِﻴًّﺎ – ﻓَﺄَﺟَﺎﺀﻫَﺎ ﺍﻟْﻤَﺨَﺎﺽُ ﺇِﻟَﻰ ﺟِﺬْﻉِﺍﻟﻨَّﺨْﻠَﺔِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻳَﺎ ﻟَﻴْﺘَﻨِﻲ ﻣِﺖُّ ﻗَﺒْﻞَ ﻫَﺬَﺍ ﻭَﻛُﻨﺖُ ﻧَﺴْﻴًﺎ ﻣَّﻨْﺴِﻴًّﺎ- ﻓَﻨَﺎﺩَﺍﻫَﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺃَﻻَّ ﺗَﺤْﺰَﻧِﻲ ﻗَﺪْ ﺟَﻌَﻞَ ﺭَﺑُّﻚِﺗَﺤْﺘَﻚِ ﺳَﺮِﻳًّﺎ – ﻭَﻫُﺰِّﻱْ ﺇِﻟَﻴْﻚِ ﺑِﺠِﺬْﻉِ ﺍﻟﻨَّﺨْﻠَﺔِ ﺗُﺴَﺎﻗِﻂْ ﻋَﻠَﻴْﻚِ ﺭُﻃَﺒًﺎ ﺟَﻨِﻴًّﺎ- ﻓَﻜُﻠِﻲْ ﻭَﺍﺷْﺮَﺑِﻲْ ﻭَﻗَﺮِّﻱْ ﻋَﻴْﻨًﺎ ﻓَﺈِﻣَّﺎﺗَﺮَﻳِﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺒَﺸَﺮِ ﺃَﺣَﺪًﺍ ﻓَﻘُﻮﻟِﻲْ ﺇِﻧِّﻲْ ﻧَﺬَﺭْﺕُ ﻟِﻠﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺻَﻮْﻣﺎً ﻓَﻠَﻦْ ﺃُﻛَﻠِّﻤَﺎﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺇِﻧﺴِﻴًّﺎ – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ২২-২৬(-‘অতঃপরমারিয়াম গর্ভে সন্তান ধারণ করল এবং তৎসহ একটু দূরবর্তী স্থানে চলে গেল’(মারিয়াম ২২)।‘এমতাবস্থায় প্রসববেদনা তাকে একটি খর্জুর বৃক্ষেরমূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তখনসে বলল, হায়! আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্তহয়ে যেতাম’(২৩)। ‘এমন সময় ফেরেশতা তাকে নিম্নদেশ থেকে (অর্থাৎ পার্শ্ববর্তীনিম্নভূমি থেকে) আওয়ায দিয়ে বলল, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমারপাদদেশে একটি ঝর্ণাধারা সৃষ্টি করেছেন’(২৪)। ‘আর তুমি খর্জুর বৃক্ষের কান্ড ধরেনিজের দিকে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার দিকে সুপক্ক খেজুর পতিত হবে’(২৫)। ‘তুমিআহার কর, পান কর এং স্বীয় চক্ষু শীতল কর। আর যদি কোন মানুষকে তুমি দেখ, তবেতাকে বলে দিয়ো যে, আমি দয়াময় আল্লাহর জন্যছিয়াম পালনের মানত করেছি। সুতরাং আমিআজ কারু সাথে কোন মতেই কথা বলব না’(মারিয়াম ১৯/২২-২৬)।উল্লেখ্য যে, ইসলাম-পূর্বকালের বিভিন্ন শরী‘আতে সম্ভবতঃ ছিয়াম পালনের সাথে অন্যতম নিয়ম ছিল সারাদিন মৌনতাঅবলম্বন করা। হযরত যাকারিয়া (আঃ)-কেও সন্তান প্রদানের নিদর্শন হিসাবে তিন দিন ছিয়ামেরসাথে মৌনতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ঐ অবস্থায় ইশারা-ইঙ্গিতে কথাবলার অবকাশ ছিল(মারিয়াম ১৯/১০-১১)। একইভাবে মারিয়ামকেও নির্দেশ দেওয়া হ’ল(মারিয়াম১৯/২৬)।আলোচনা :(১) যেহেতু ঈসা (আঃ)-এর জন্মগ্রহণের ব্যাপারটি সম্পূর্ণভাবে অলৌকিক,তাই তার গর্ভধারণের মেয়াদ স্বাভাবিক নিয়মের বহির্ভূত ছিল বলেই ধরে নিতে হবে। নয় মাসদশদিন পরে সন্তান প্রসব শেষে চল্লিশ দিন ‘নেফাস’ অর্থাৎ রজঃস্রাব হ’তে পবিত্রতারমেয়াদও এখানে ধর্তব্য না হওয়াই সমীচীন। অতএব ঈসাকে গর্ভধারণের ব্যাপারটাও যেমননিয়ম বহির্ভূত, তার ভূমিষ্ট হওয়া ও তার মায়ের পবিত্রতা লাভের পুরা ঘটনাটাই নিয়ম বহির্ভূত এবংঅলৌকিক। আর এটা আল্লাহর জন্য একেবারেই সাধারণ বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে সন্তানজন্ম হবে, মাকে দশ মাস গর্ভধারণ করতে হবে ইত্যাদি নিয়ম আল্লাহরই সৃষ্টি এবং এই নিয়মভেঙ্গে সন্তান দান করাও তাঁরই এখতিয়ার। এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ বলেন, ﺇِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَﻋِﻴْﺴَﻰ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻨْﺘُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮْﻥُ- ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻣِﻦ ﺭَّﺑِّﻚَ ﻓَﻼَ ﺗَﻜُﻦ ﻣِّﻦَﺍﻟْﻤُﻤْﺘَﺮِﻳْﻦَ- ‏) ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ ৫৯-৬০(-‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকটে ঈসার দৃষ্টান্ত হ’ল আদমের মত। তাকেতিনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেন এবং বলেন, হয়ে যাও ব্যস হয়ে গেল’। ‘যা তোমার প্রভু আল্লাহবলেন, সেটাই সত্য। অতএব তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’(আলে ইমরান৩/৫৯-৬০)। অর্থাৎ আদমকে যেমন পিতা-মাতা ছাড়াই সৃষ্টি করা হয়েছে, ঈসাকে তেমনি পিতাছাড়াই শুধু মায়ের মাধ্যমেই সৃষ্টি করাহয়েছে। আর এটাই যে সত্য এবং এর বাইরে যাবতীয়জল্পনা-কল্পনা যে মিথ্যা, সে কথাও উপরোক্ত আয়াতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে দেওয়াহয়েছে। দুর্ভাগ্য এই যে, যে বনু ইস্রাঈলের নবী ও রাসূল হয়ে ঈসা (আঃ)-এর আগমনঘটলো, সেই ইহুদী-নাছারারাই আল্লাহর উক্ত ঘোষণাকে মিথ্যা বলে গণ্য করেছে।অথচএই হতভাগারা মারিয়ামের পূর্বদিকে যাওয়ার অনুসরণে পূর্বদিককে তাদের ক্বিবলা বানিয়েছে।[3](২) এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, মারিয়ামকে খেজুর গাছের কান্ড ধরে নাড়াদিতে বলা হয়েছে, যাতে সুপক্ক খেজুর নীচে পতিত হয়। এটাতে বুঝা যায় যে, ওটা ছিলতখন খেজুর পাকার মৌসুম অর্থাৎ গ্রীষ্মকাল। আর খৃষ্টানরা কথিত যীশু খৃষ্টের জন্মদিন তথাতাদেরভাষায় X-mas Day বা বড় দিন উৎসব পালন করে থাকে শীতকালে ২৫শে ডিসেম্বরতারিখে। অথচ এর কোন ভিত্তি তাদের কাছে নেই। যেমন কোন ভিত্তি নেইমুসলমানদের কাছে১২ই রবীউল আউয়াল একই তারিখে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্ম ওমৃত্যু দিবস পালনের। অথচ জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী রাসূলের জন্মদিবস ছিল ৯ইরবীউল আউয়াল সোমবার ও মৃত্যুর তারিখ ছিল ১২ই রবীউল আউয়াল সোমবার।ইসলামে কারুজন্ম বা মৃত্যু দিবস পালনের বিধান নেই। ক্রুসেডযুদ্ধের সময় খৃষ্টান বাহিনীর বড়দিনপালনের দেখাদেখি ৬০৫ অথবা ৬২৫ হিজরীতে ইরাকের এরবল প্রদেশের গভর্ণর আবুসাঈদ মুযাফফরুদ্দীন কুকুবুরী(৫৮৬-৬৩২ হি:)-এর মাধ্যমে কথিত ঈদে মীলাদুন্নবীর প্রথাপ্রথম চালু হয়। এই বিদ‘আতী প্রথা কোন কোন মুসলিম দেশে বিশেষ করে ভারতউপমহাদেশে শিকড় গেড়ে বসেছে।(৩) এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, খেজুরগাছের গোড়া ধরে নাড়া দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। বিশেষ করে একজন সদ্য প্রসূতসন্তানের মায়ের পক্ষে। এর মধ্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে যে, নেকীর কাজেআল্লাহর উপরে ভরসা করে বান্দাকেঅবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে। যত সামান্যই হৌক কাজকরতে হবে। আল্লাহ তাতেই বরকত দিবেন। যেমন তালূত ও দাঊদকে আল্লাহ দিয়েছিলেনএবং যেমন শেষনবী (ছাঃ)-কে আল্লাহ সাহায্য করেছিলেন বিশেষভাবে হিজরতেররাত্রিতে মক্কা ত্যাগের সময়, হিজরতকালীন সফরে এবং বদর ও খন্দক যুদ্ধের কঠিনসময়ে। অতএব আমরা ধরে নিতে পারি যে, মারিয়ামের গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব ও প্রসবপরবর্তী পবিত্রতাঅর্জন সবই ছিল অলৌকিক এবং সবই অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্নহয়।এর পরের ঘটনা আমরা সরাসরি কুরআন থেকে বিবৃত করব। আল্লাহ বলেন, ﻓَﺄَﺗَﺖْ ﺑِﻪِ ﻗَﻮْﻣَﻬَﺎﺗَﺤْﻤِﻠُﻪُ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻳَﺎ ﻣَﺮْﻳَﻢُ ﻟَﻘَﺪْ ﺟِﺌْﺖِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻓَﺮِﻳًّﺎ- ﻳَﺎ ﺃُﺧْﺖَ ﻫَﺎﺭُﻭﻥَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑُﻮْﻙِ ﺍﻣْﺮَﺃَ ﺳَﻮْﺀٍ ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺃُﻣُّﻚِﺑَﻐِﻴًّﺎ – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ২৭-২৮(-‘অতঃপর মারিয়াম তার সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হ’ল।তারা বলল, হে মারিয়াম! তুমি একটা আশ্চর্য বস্ত্ত নিয়ে এসেছ’। ‘হে হারূণের বোন![4]তোমার পিতা কোন অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না কিংবা তোমার মাতাও কোন ব্যভিচারিণী মহিলাছিলেন না’(মারিয়াম ১৯/২৭-২৮)। কওমের লোকদের এ ধরনের কথা ও সন্দেহেরজওয়াবে নিজে কিছু না বলে বিবি মারিয়াম তার সদ্য প্রসূত সন্তানের দিকে ইশারা করলেন।অর্থাৎ একথার জবাব সেই-ই দিবে। কেননা সে আল্লাহর দেওয়া এক অলৌকিক সন্তান, যাকওমের লোকেরা জানে না। আল্লাহ বলেন, ﻓَﺄَﺷَﺎﺭَﺕْ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻛَﻴْﻒَ ﻧُﻜَﻠِّﻢُ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻬْﺪِﺻَﺒِﻴًّﺎ- ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧِّﻲْ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺁﺗَﺎﻧِﻲَ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨِﻲ ﻧَﺒِﻴًّﺎ – ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨِﻲْ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛﺎً ﺃَﻳْﻦَ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺖُ ﻭَﺃَﻭْﺻَﺎﻧِﻲْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻼَﺓِﻭَﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ ﻣَﺎ ﺩُﻣْﺖُ ﺣَﻴًّﺎ- ﻭَﺑَﺮًّﺍ ﺑِﻮَﺍﻟِﺪَﺗِﻲْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺠْﻌَﻠْﻨِﻲْ ﺟَﺒَّﺎﺭًﺍ ﺷَﻘِﻴًّﺎ- ﻭَﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻲَّ ﻳَﻮْﻡَ ﻭُﻟِﺪﺕُّ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺃَﻣُﻮْﺕُﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺃُﺑْﻌَﺚُ ﺣَﻴًّﺎ – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ২৯-৩৩(-‘অতঃপর মারিয়াম ঈসার দিকে ইঙ্গিত করল। তখন লোকেরা বলল,কোলের শিশুর সাথে আমরা কিভাবে কথা বলব’?(মারিয়াম ২৯)। ঈসা তখন বলে উঠল, ‘আমিআল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব (ইনজীল) প্রদান করেছেন এবং আমাকে নবীকরেছেন’(৩০)। ‘আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকেজোরালো নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন ছালাত ওযাকাত আদায়করতে’(৩১)। ‘এবং আমার মায়ের অনুগত থাকতে। আল্লাহ আমাকে উদ্ধত ও হতভাগাকরেননি’(৩২)। ‘আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করবএবং যেদিন জীবিত পুনরুত্থিত হব’(মারিয়াম ১৯/২৯-৩৩)।ঈসার উপরোক্ত বক্তব্য শেষ করারপর সংশয়বাদী ও বিতর্ককারী লোকদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেন, ﺫَﻟِﻚَ ﻋِﻴْﺴَﻰ ﺍﺑْﻦُﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻗَﻮْﻝَ ﺍﻟْﺤَﻖِّ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻓِﻴْﻪِ ﻳَﻤْﺘَﺮُﻭْﻥَ- ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ِﻟﻠﻪِ ﺃَﻥ ﻳَّﺘَّﺨِﺬَ ﻣِﻦْ ﻭَﻟَﺪٍ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻰ ﺃَﻣْﺮﺍً ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮْﻝُﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮْﻥُ – ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻭَﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﻓَﺎﻋْﺒُﺪُﻭْﻩُ ﻫَﺬَﺍ ﺻِﺮَﺍﻁٌ ﻣُّﺴْﺘَﻘِﻴْﻢٌ – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ৩৪-৩৬(-‘ইনিই হ’লেনমারিয়াম পুত্র ঈসা। আর ওটাই হ’ল সত্যকথা (যা উপরে বর্ণিত হয়েছে), যে বিষয়ে লোকেরা(অহেতুক) বিতর্ক করে থাকে’(মারিয়াম ৩৪)। ‘আল্লাহ এমন নন যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন(যেমন অতিভক্ত খৃষ্টানরা বলে থাকে যে, ঈসা ‘আল্লাহর পুত্র’)। তিনি মহাপবিত্র। যখন তিনিকোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বলেন, হও! ব্যস, হয়ে যায়’(৩৫)। ‘ঈসা আরও বলল,‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদের পালনকর্তা। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত কর।(মনে রেখ) এটাই হ’ল সরল পথ’(মারিয়াম ১৯/৩৪-৩৬)।কিন্তু সদ্যপ্রসূত শিশু ঈসার মুখ দিয়েঅনুরূপ সারগর্ভ কথা শুনেও কি কওমের লোকেরা আশ্বস্ত হ’তে পেরেছিল? কিছুলোক আশ্বস্ত হ’লেও অনেকে পারেনি। তারা নানা বাজে কথা রটাতে থাকে। তাদের ঐসববাক-বিতন্ডার প্রতি ইঙ্গিত করেইপরবর্তী আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﻓَﺎﺧْﺘَﻠَﻒَ ﺍﻟْﺄَﺣْﺰَﺍﺏُ ﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻨِﻬِﻢْﻓَﻮَﻳْﻞٌ ﻟِّﻠَّﺬِﻳْﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭْﺍ ﻣِﻦ ﻣَّﺸْﻬَﺪِ ﻳَﻮْﻡٍ ﻋَﻈِﻴْﻢٍ – ﺃَﺳْﻤِﻊْ ﺑِﻬِﻢْ ﻭَﺃَﺑْﺼِﺮْ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﺄْﺗُﻮْﻧَﻨَﺎ ﻟَﻜِﻦِ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤُﻮْﻥَ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻓِﻲْﺿَﻼَﻝٍ ﻣُّﺒِﻴْﻦٍ – ‏)ﻣﺮﻳﻢ ৩৭-৩৮(-‘অতঃপর তাদের মধ্যকার বিভিন্ন দল বিভিন্ন (মত ও পথে) বিভক্তহয়েগেল (দুনিয়াতে যার শেষ হবে না)। অতএব ক্বিয়ামতের মহাদিবস আগমন কালেঅবিশ্বাসী কাফিরদের জন্য ধ্বংস’। ‘সেদিন তারা চমৎকারভাবে শুনবে ও দেখবে, যেদিন তারাসবাই আমাদের কাছে আগমন করবে। কিন্তু আজ যালেমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতেরয়েছে’(মারিয়াম ১৯/৩৭-৩৮)।মারিয়ামের সতীত্ব সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষ্য :আল্লাহ পাকনিজেই মারিয়ামের সতীত্ব সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ﻭَﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺍﺑْﻨَﺖَ ﻋِﻤْﺮَﺍﻥَ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃَﺣْﺼَﻨَﺖْﻓَﺮْﺟَﻬَﺎ ﻓَﻨَﻔَﺨْﻨَﺎ ﻓِﻴﻪِ ﻣِﻦ ﺭُّﻭْﺣِﻨَﺎ ﻭَﺻَﺪَّﻗَﺖْ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺭَﺑِّﻬَﺎ ﻭَﻛُﺘُﺒِﻪِ ﻭَﻛَﺎﻧَﺖْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘَﺎﻧِﺘِﻴﻦَ – ‏)ﺍﻟﺘﺤﺮﻳﻢ ১২(-‘তিনিদৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন ইমরান তনয়া মারিয়ামের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপরআমিতার মধ্যে আমার পক্ষ হ’তে রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বাণী ওকিতাব সমূহকেসত্যে পরিণত করেছিল এবং সে ছিল বিনয়ীদের অন্যতম’(তাহরীম ৬৬/১২)।মারিয়ামের বৈশিষ্ট্য সমূহ :(১) তিনি ছিলেন বিশ্ব নারী সমাজের শীর্ষস্থানীয়া এবং আল্লাহরমনোনীত ও পবিত্র ব্যক্তিত্ব(আলে ইমরান ৩/৪২)।(২) তিনি ছিলেন সর্বদা আল্লাহর উপাসনায়রত, বিনয়ী, রুকু কারিনী ও সিজদাকারিনী(ঐ, ৩/৪৩)।(৩) তিনি ছিলেন সতীসাধ্বী এবংআল্লাহর আদেশ ও বাণী সমূহের বাস্তবায়নকারিনী(তাহরীম ৬৬/১২)।(৪) আল্লাহ নিজেইতার নাম রাখেন ‘মারিয়াম’(আলে ইমরান ৩/৩৬)। অতএব তিনি ছিলেন অতীব সৌভাগ্যবতী।শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ:(১) মারিয়াম ছিলেন তার মায়ের মানতের সন্তান এবং তার নাম আল্লাহ নিজেরেখেছিলেন।(২) মারিয়ামের মা দো‘আ করেছিলেন এই মর্মে যে, আমি তাকে ও তারসন্তানদেরকে আল্লাহর আশ্রয়ে সমর্পণ করছি অভিশপ্ত শয়তানের কবল হ’তে এবং আল্লাহসে দো‘আ কবুল করেছিলেন উত্তমরূপে। অতএব মারিয়াম ও তার পুত্র ঈসার পবিত্রতাসম্পর্কে কোনরূপ সন্দেহের অবকাশ নেই।(৩) মারিয়াম আল্লাহর ঘর বায়তুল মুক্বাদ্দাসেরখিদমতে রত ছিলেন এবং তাকে আল্লাহর পক্ষ হ’তে বিশেষ ফল-ফলাদির মাধ্যমে খাদ্যপরিবেশন করা হ’ত(আলে ইমরান ৩/৩৭)। এতে বুঝা যায় যে, পবিত্রাত্মা মহিলাগণ মসজিদেরখিদমত করতে পারেন এবং আল্লাহ তাঁর নেককার বান্দাদের জন্য যেকোন স্থানে খাদ্যপরিবেশন করে থাকেন।(৪) মারিয়ামের গর্ভধারণ ও ঈসার জন্মগ্রহণ ছিল সম্পূর্ণরূপেঅলৌকিক ঘটনা। আল্লাহ পাক নিয়মেরস্রষ্টা এবং তিনিই নিয়মের ভঙ্গকারী। তাকে কোন বিষয়েবাধ্যকরার মত কেউ নেই। তিনি পিতা-মাতাছাড়াই আদমকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর পিতা ছাড়াই শুধুমাতার মাধ্যমে ঈসাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি যা খুশী তাই করতে পারেন।(৫) ঈসার জন্মগ্রীষ্মকালে হয়েছিল খেজুর পাকার মওসুমে। খৃষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা মতে২৫শে ডিসেম্বরের প্রচন্ড শীতের সময়ে নয়।(৬) ফেরেশতা মানবাকৃতি ধারণ করেঅথবা অদৃশ্য থেকে নেককার বান্দাকে আল্লাহর হুকুমে সাহায্য করে থাকেন। যেমনজিব্রীল মানবাকৃতি ধারণ করে মারিয়ামের জামায় ফুঁক দিলেন। অতঃপর অদৃশ্য থেকে আওয়াযদিয়ে তার খাদ্য ও পানীয়ের পথ নির্দেশ দান করলেন।(৭) বান্দাকে কেবল প্রার্থনাকরলেই চলবে না, তাকে কাজে নামতে হবে। তবেই তাতে আল্লাহর সাহায্যনেমেআসবে। যেমন খেজুর বৃক্ষের কান্ড ধরে নাড়া দেওয়ার সামান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমেআল্লাহর হুকুমে সুপক্ক খেজুর সমূহ পতিত হয়।(৮) বিশেষ সময়ে আল্লাহর হুকুমে শিশুসন্তানের মুখ দিয়ে সারগর্ভবক্তব্য সমূহ বের হ’তে পারে। যেমন ঈসার মুখ দিয়ে বেরহয়েছিল তার মায়ের পবিত্রতা প্রমাণের জন্য। বুখারী শরীফে বর্ণিত বনু ইস্রাঈলেরজুরায়েজ-এর ঘটনায়ও এরপ্রমাণ পাওয়া যায়।[5](৯) ঈসা কোন উপাস্য ছিলেন না। বরংতিনি ছিলেনঅন্যদের মত আল্লাহর একজন দাস মাত্র এবং তিনি ছিলেন আল্লাহর একজন সম্মানিত নবী ওকিতাবধারী রাসূল।(১০) ঈসা যে বিনা বাপে পয়দা হয়েছিলেন, তার অন্যতম প্রমাণ এই যে,কুরআনের সর্বত্র তাঁকে ‘মারিয়াম-পুত্র’) ﻋﻴﺴﻰ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ (বলা হয়েছে(বাক্বারাহ ২/৮৭, ২৫৩;আলে ইমরান ৩/৪৫ প্রভৃতি)। পিতা-মাতা উভয়ে থাকলে হয়তবা তাঁকে কেবল ঈসা বলেইসম্বোধন করা হ’ত, যেমন অন্যান্য নবীগণের বেলায় করা হয়েছে। অথচ মারিয়ামকেতারপিতার দিকে সম্বন্ধ করে ‘মারিয়াম বিনতে ইমরান’) ﺍﺑﻨﺖ ﻋﻤﺮﺍﻥ (‘ইমরান-কন্যা’ বলা হয়েছে(তাহরীম ৬৬/১২)।(১১) একমাত্র মারিয়ামের নাম ধরেইআল্লাহ তাঁর সতীত্বের সাক্ষ্যঘোষণা করেছেন(তাহরীম ৬৬/১২)। যাপৃথিবীর অন্য কোন মহিলা সম্পর্কে করা হয়নি।অতএব যাবতীয়বিতর্কের অবসানের জন্য এটুকুই যথেষ্ট। তাছাড়া আল্লাহ তাঁকে‘ছিদ্দীক্বাহ’ অর্থাৎ কথায় ও কর্মে ‘সত্যবাদীনী’ আখ্যা দিয়েছেন(মায়েদাহ ৫/৭৫)। যেটাঅন্য কোন মহিলা সম্পর্কে দেওয়া হয়নি।ঈসা (আঃ)-এর বৈশিষ্ট্য সমূহ :(১) তিনি ছিলেন বিনাবাপে পয়দা বিশ্বের একমাত্র নবী(আলে ইমরান ৩/৪৬ প্রভৃতি)। (২) আল্লাহ স্বয়ং যার নামরাখেন মসীহ ঈসা রূপে(আলে ইমরান ৩/৪৫)। (৩) তিনি শয়তানের অনিষ্টকারিতা হ’তে মুক্তছিলেন(ঐ, ৩/৩৬-৩৭)। (৪) দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি ছিলেন মহা সম্মানের অধিকারী এবংআল্লাহর একান্ত প্রিয়জনদের অন্যতম(আলে ইমরান ৩/৪৫)। (৫) তিনিমাতৃক্রোড়ে থেকেইসারগর্ভ বক্তব্য রাখেন(মারিয়াম ১৯/২৭-৩৩; আলে ইমরান ৩/৪৬)। (৬) তিনি বনু ইস্রাঈলগণেরপ্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন(আলে ইমরান ৩/৪৯)এবং শেষনবী ‘আহমাদ’-এর আগমনেরভবিষ্যদ্বাণী করেন(ছফ ৬১/৬)। (৭) তাঁর মো‘জেযা সমূহের মধ্যে ছিল- (ক) তিনি মাটিরতৈরী পাখিতে ফুঁক দিলেই তা জীবন্ত হয়ে উড়ে যেত (খ) তিনি জন্মান্ধকে চক্ষুষ্মান ওকুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করতে পারতেন(গ) তিনি মৃতকে জীবিত করতে পারতেন (ঘ) তিনিবলে দিতে পারতেন মানুষ বাড়ী থেকে যা খেয়ে আসে এবংযা সে ঘরে সঞ্চিতরেখে আসে(আলে ইমরান ৩/৪৯; মায়েদাহ ৫/১১০)।(৮) তিনি আল্লাহর কিতাব ইনজীলপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং পূর্ববর্তী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। তবে তওরাতেহারামকৃত অনেক বিষয়কে তিনি হালাল করেন(আলে ইমরান ৩/৫০)। (৯) তিনি ইহুদী চক্রান্তেরশিকার হয়ে সরকারী নির্যাতনের সম্মুখীন হন। ফলে আল্লাহ তাঁকে সশরীরে আসমানেউঠিয়ে নেন(আলে ইমরান ৩/৫২, ৫৪-৫৫; নিসা ৪/১৫৮)। শত্রুরা তাঁরই মত আরেকজনকেসন্দেহ বশে শূলে চড়িয়ে হত্যা করে এবং তারা নিশ্চিতভাবেই ঈসাকে হত্যা করেনি’(নিসা৪/১৫৭)।(১০) তিনিই একমাত্র নবী, যাকে আল্লাহ জীবিত অবস্থায় দুনিয়া থেকে আসমানেউঠিয়ে নিয়েছেন এবং ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি পুনরায় সশরীরে দুনিয়াতে অবতরণকরবেন এবং দাজ্জাল, ক্রুশ, শূকর প্রভৃতি ধ্বংস করবেন। অতঃপর ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে সারাপৃথিবীতে ইসলামী শরী‘আত অনুযায়ীশান্তির রাজ্য কায়েম করবেন।[6]হযরত ঈসা (আঃ)-এর কাহিনী:সাধারণতঃ সকল নবীই ৪০ বছর বয়সে নবুঅত লাভ করেছেন। তবে ঈসা (আঃ)সম্ভবতঃ তার কিছু পূর্বেই নবুঅতও কিতাব প্রাপ্ত হন। কেননা বিভিন্ন রেওয়ায়াত দ্বারা প্রমাণিতহয়েছে যে, আকাশে তুলে নেবার সময় তাঁর বয়স ৩০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে ছিল। তিনিযৌবনে আকাশে উত্তোলিত হয়েছিলেন এবং পৌঢ় বয়সে পুনরায় দুনিয়ায় ফিরে এসে মানুষকেতাওহীদের দাওয়াত দিবেন।ঈসা (আঃ)-এর দাওয়াত :ঈসা (আঃ) নবুঅত লাভ করার পরস্বীয়কওমকে প্রধানতঃ নিম্নোক্ত ৭টি বিষয়ে দাওয়াত দিয়ে বলেন, ﻳَﺎﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﺇِﻧِّﻲﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢ ﻣُّﺼَﺪِّﻗﺎً ﻟِّﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻱَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺔَّﻭْﺭَﺍﺓِﻭَﻣُﺒَﺸِّﺮًﺍ ﺑِﺮَﺳُﻮﻝٍ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻱ ﺍﺳْﻤُﻪُ ﺃَﺣْﻤَﺪُ -‘হেবনু ইস্রাঈলগণ! আমি তোমাদের নিকটে আগমন করেছি(১)আল্লাহর রাসূল হিসাবে(২)আমারপূর্ববর্তী তওরাত কিতাবের সত্যায়নকারী হিসাবে এবং(৩)আমার পরে আগমনকারীরাসূলেরসুসংবাদ দানকারী হিসাবে, যার নাম হবে আহমাদ’…(ছফ ৬১/৬)। তিনি বললেন, ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺭَﺑِّﻲ ﻭَﺭَﺑُّﻜُﻢْﻓَﺎﻋْﺒُﺪُﻭﻩُ ﻫَﺬَﺍ ﺻِﺮَﺍﻁٌ ﻣُّﺴْﺘَﻘِﻴْﻢٌ ‘(৪)নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তাএবং তোমাদের পালনকর্তা।অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত কর। এটাই সরল পথ’(মারিয়াম ১৯/৩৬)।তিনি বললেন, ﻭَﻣُﺼَﺪِّﻗﺎً ﻟِّﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَﻳَﺪَﻱَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِ ﻭَِﻷُﺣِﻞَّ ﻟَﻜُﻢ ﺑَﻌْﺾ