হযরত নূহ আঃ এর জীবনী


. হযরত নূহ(আলাইহিস সালাম)1.নূহ (আঃ)-এরপরিচয়2.তৎকালীন সামাজিক ও ধর্মীয়অবস্থা3.স্বীয় কওমের প্রতি নূহ (আঃ)-এরদাওয়াত4.নূহ (আঃ)-এর বিরুদ্ধে পাঁচটি আপত্তি5.আপত্তিসমূহের জওয়াব1.নূহ (আঃ)-এর দাওয়াতেরফলশ্রুতি2.নূহের প্লাবন ও গযবের কুরআনীবিবরণ3.অন্যান্য বিবরণ4.নৌকার আরোহীগণ5.নূহ(আঃ)-এর জীবনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহআদম (আঃ) থেকে নূহ (আঃ) পর্যন্তদশশতাব্দীর ব্যবধান ছিল। যার শেষদিকেক্রমবর্ধমান মানবকুলে শিরক ও কুসংস্কারেরআবির্ভাব ঘটে এবং তা বিস্তৃতি লাভ করে। ফলেতাদের সংশোধনের জন্য আল্লাহনূহ (আঃ)-কেনবী ও রাসূল করে পাঠান। তিনি সাড়ে নয়শতবছরের দীর্ঘ বয়স লাভ করেছিলেন এবং সারাজীবন পথভোলা মানুষকে পথে আনার জন্যদাওয়াতে অতিবাহিত করেন। কিন্তু তাঁর কওম তাঁকেপ্রত্যাখ্যান করে। ফলে আল্লাহর গযবে তারানিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এরপরে আরও কয়েকটি কওমআল্লাহর অবাধ্যতার কারণে পরপর ধ্বংস হয়।এভাবেপৃথিবীতে আদি যুগে ধ্বংসপ্রাপ্ত ৬টি জাতির ঘটনাকুরআনের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে এবংকুরআনের মাধ্যমেই জগদ্বাসী তাদের খবরজানতে পেরেছে। যাতে মুসলিম উম্মাহ ওপৃথিবীবাসী তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। উক্ত৬টি জাতি হ’ল- কওমে নূহ, ‘আদ, ছামূদ, কওমে লূত,মাদইয়ান ও কওমে ফেরাঊন। অবশ্য কুরআনে এতালিকায় কওমে ইবরাহীমের কথাও এসেছে(তওবাহ ৯/৭০)। যদিও তারা একত্রে ধ্বংস হয়নি। তবেইবরাহীমের ভাতিজা লূত-এর কওম একত্রে ধ্বংস ওনিশ্চিহ্ন হয়েছিল। আমরা এখানে প্রথমে নূহ (আঃ)ও তাঁর কওম সম্পর্কে আলোচনা করব।নূহ (আঃ)-এরপরিচয় :‘আবুল বাশার ছানী’ ( ﺍﺑﻮﺍﻟﺒﺸﺮﺍﻟﺜﺎﻧﻰ)বামানবজাতির দ্বিতীয় পিতা বলে খ্যাত নূহ(আলাইহিসসালাম)ছিলেন পিতা আদম(আলাইহিস সালাম)-এর দশমঅথবা অষ্টম অধঃস্তন পুরুষ। তিনিছিলেন দুনিয়াতে ১মরাসূল।[1]নূহ (আঃ)-এর চারটি পুত্র ছিলঃ সাম, হাম, ইয়াফিছ ওইয়াম অথবা কেন‘আন।[2]প্রথম তিনজন ঈমানআনেন। কিন্তু শেষোক্ত জন কাফের হয়েপ্লাবনে ডুবে মারা যায়। নূহ (আঃ)-এর দাওয়াতে তাঁরকওমের হাতেগণা মাত্র কয়েকজন ঈমানদার ব্যক্তিসাড়া দেন এবং তারাই প্লাবনের সময় নৌকারোহণেরমাধ্যমে নাজাত পান। নূহের কিশতীতে কয়জনঈমানদার ব্যক্তি আরোহণ করে নাজাতপেয়েছিলেন, সে বিষয়ে কুরআনে বা হাদীছেকোন কিছুই বর্ণিত হয়নি। অমনিভাবে কিশতীটি কতবড় ছিল, কিভাবে ও কত দিনে তৈরী হয়েছিল, এসববিষয়েও কিছু বর্ণিত হয়নি। এসব বিষয়ে যা কিছু বিভিন্নতাফসীরে বর্ণিত হয়েছে, সবকিছুর ভিত্তি হ’লইস্রাঈলী উপকথা সমূহ। যার সঠিক কোন ভিত্তিনেই।[3]ইমাম তিরমিযীহযরত সামুরা (রাঃ) প্রমুখাৎরাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হ’তে সূরা ছাফফাত ৭৭ আয়াতেরতাফসীরে বর্ণনা করেন যে, নূহের প্লাবনশেষে কেবল তাঁর তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফেছ-এর বংশধরগণই অবশিষ্ট ছিল।[4]রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরওবলেন যে, ﺳﺎﻡ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﻭﺣﺎﻡ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﺤﺒﺶ ﻭ ﻳﺎﻓﺚﺃﺑﻮ ﺍﻟﺮﻭﻡ .‘সাম আরবের পিতা, হাম হাবশার পিতাএবংইয়াফেছ রোমকদের (গ্রীক) পিতা’।[5]ইবনুআববাস ও ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তী মানব জাতিসবাই নূহের বংশধর’।[6]আল্লাহ বলেন, ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻪُﻫُﻢُ ﺍﻟْﺒَﺎﻗِﻴْﻦَ .‘আমরা তার (নূহের) বংশধরগণকেইঅবশিষ্ট রেখেছি’(ছাফফাত ৩৭/৭৭)। ফলে ইহুদী-খৃষ্টান সহ সকল ধর্মমতের লোকেরা নূহ (আঃ)-কে তাদের পিতা হিসাবে মর্যাদা দিয়েথাকে। সামছিলেন তিন পুত্রের মধ্যে বড়। তিনি ছিলেন ﺃﺑﻮﺍﻟﻌﺮﺏবা আরব জাতির পিতা। তাঁর বংশধরগণেরমধ্যেইছিলেন হযরত ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক এবংইসমাঈলের বংশধর ছিলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানহযরত মুহাম্মাদ (ছাঃ)। ইসহাকের বংশধরগণের মধ্যেছিলেন ইয়াকূব, ইউসুফ, মূসা, দাঊদ, সুলায়মান, ইউনুস,ইলিয়াস, ঈসা প্রমুখ নবী ও রাসূলগণ। হাম ও ইয়াফেছ-এর বংশধরগণের নিকটে প্রেরিত নবীগণের নামজানা যায়নি। তবে আরবদের মধ্যকার চারজন নবীছিলেন হূদ, ছালেহ, শু‘আয়েব ও মুহাম্মাদ (ছাঃ)।[7]অধিকাংশ ছাহাবীর মতে নূহ (আঃ) ছিলেন ইদরীস(আঃ)-এর পূর্বেকার নবী।[8]তিনিই ছিলেন জগতেরপ্রথমরাসূল।[9]ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, তিনি চল্লিশবছর বয়সে নবুঅত প্রাপ্ত হন এবং মহাপ্লাবনের পরষাট বছর জীবিত ছিলেন।[10]ফলে সুদীর্ঘকালযাবত তিনি নবী হিসাবে শিরকে নিমজ্জিত হঠকারীকওমকে দাওয়াত দেন। প্লাবনের পর তাঁর সাথেনৌকারোহী মুমিন নর-নারীদের মাধ্যমেপৃথিবীতে নতুনভাবে আবাদ শুরু হয় এবং তাদেরকেতিনি সত্যের পথে পরিচালিত করেন। এ কারণেতাঁকে ‘মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা’ বলা হয়।আদম (আঃ)৯৬০ বছর বেঁচে ছিলেন[11]এবং নূহ (আঃ) ৯৫০ বছরজীবন পেয়েছিলেন(আনকাবূত ২৯/১৪)।উল্লেখ্য যে, আদম ও নূহ (আঃ)-এর দীর্ঘ বয়সআল্লাহর বিশেষ দান ও তাঁদের মু‘জেযা স্বরূপ ছিল।নূহ (আঃ)-এর পুরুষানুক্রমিক বয়স তাঁরন্যায় দীর্ঘ ছিলনা। নূহ (আঃ) ইরাকের মূছেল নগরীতে স্বীয়সম্প্রদায়ের সাথে বসবাস করতেন। তারা বাহ্যতঃ সভ্যহ’লেও শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তিনিতাদের হেদায়াতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন।উল্লেখ্য যে, হযরত নূহ (আঃ) সম্পর্কে পবিত্রকুরআনের ২৮টি সূরায় ৮১টি আয়াতে বর্ণিতহয়েছে।[12]তৎকালীন সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা:আদম (আঃ)-এর সময়ে ঈমানের সাথে শিরক ওকুফরের মুকাবিলা ছিল না। তখন সবাই তওহীদেরঅনুসারী একই উম্মতভুক্ত ছিল(বাক্বারাহ ২/২১৩)। তাঁরশরী‘আতের অধিকাংশ বিধানই ছিল পৃথিবী আবাদকরণও মানবীয় প্রয়োজনাদির সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তুকালের বিবর্তনে মানুষের মধ্য শিরকেরঅনুপ্রবেশ ঘটে। নূহের কওম ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূছ,ইয়াঊক্ব ও নাস্র প্রমুখ মৃত নেককার লোকদেরঅসীলায় আখেরাতে মুক্তি পাবার আশায় তাদের পূজাশুরু করে। এই পূজা তাদের কবরেও হ’তে পারে,কিংবা তাদের মূর্তি বানিয়েও হ’তে পারে। মুহাম্মাদ ইবনুক্বায়েস বলেন, আদম ও নূহ (আঃ)-এর মধ্যবর্তীসময়কালের এই পাঁচজন ব্যক্তি নেককার ওসৎকর্মশীল বান্দা হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁদেরমৃত্যুর পর ভক্ত অনুসারীগণকে শয়তান এই বলেপ্ররোচনা দেয় যে, এইসব নেককার মানুষেরমূর্তি সামনে থাকলে তাদের দেখে আল্লাহর প্রতিইবাদতে অধিক আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ফলে তারাতাদের মূর্তি বানায়। অতঃপর উক্ত লোকদের মৃত্যুরপরে তাদের পরবর্তীগণ শয়তানের ধোঁকায়পড়ে ঐ মূর্তিগুলিকেই সরাসরি উপাস্য হিসাবে পূজাশুরুকরে দেয়। তারা এইসব মূর্তির অসীলায় বৃষ্টিপ্রার্থনা করত’।[13]আর এভাবেই পৃথিবীতে প্রথমমূর্তিপূজার শিরকের সূচনা হয়।ইমাম বুখারী (রহঃ) হযরতআব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন,তিনি বলেন যে, এই লোকগুলি হযরত নূহ (আঃ)-এরযুগের নেককার ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পরশয়তান তাদের অনুসারীদের এই মর্মে ধোঁকা দিলযে, এঁদের বসার স্থানগুলিতে এক একটি মূর্তি বানাওও তাদের নামে নামকরণ কর। লোকেরা তাইকরল। …এই মূর্তিগুলি পরবর্তীকালে আরবদেরমধ্যেও চালু ছিল। ‘ওয়াদ’ ছিল বনু কালবের জন্যদূমাতুল জান্দালে, সুওয়া‘ ছিল বনু হোযায়েলেরজন্য, ইয়াগূছ ছিল বনু গুত্বায়েফ-এর জন্য জুরুফ নামকস্থানে, ইয়া‘ঊক্ব ছিল বনু হামদানের জন্য এবং নাস্রছিল হিমইয়ার গোত্রের বনু যি-কালা এর জন্য’।[14]ইবনু আবী হাতেম-এর বর্ণনায় এসেছে যে,‘ওয়াদ’ ছিল এদের মধ্যে প্রথম এবং সর্বাধিকনেককার ব্যক্তি। তিনি মারা গেলে লোকেরাতারপ্রতি ভক্তিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। শয়তান এইসুযোগ গ্রহণ করে এবং লোকদেরকে তার মূর্তিবানাতে প্ররোচনা দেয়। ফলে ওয়াদ-এর মূর্তিইহ’ল পৃথিবীরসর্বপ্রথম মূর্তি, আল্লাহকে বাদদিয়েযার পূজা শুরু হয়’।[15]অতএব পৃথিবীর প্রাচীনতমশিরক হ’ল নেককার মানুষের কবর অথবা তাদেরমূর্তিপূজা। যা আজও প্রায়সকল ধর্মীয় সমাজে চালুআছে এবং বর্তমানে যা মুসলিম সমাজে স্থানপূজা,কবর পূজা, ছবি-প্রতিকৃতি, মিনার ও ভাষ্কর্য পূজায় রূপনিয়েছে। উক্ত পাঁচটি মূর্তির মাহাত্ম্য ও তাদের প্রতিভক্তি লোকদের হৃদয়ে এমনভাবে প্রোথিতহয়েছিল যে, তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এবংপারস্পরিক চুক্তি সম্পাদনকালে তাদের নাম উল্লেখকরত। এতদ্ব্যতীত তারা নানাবিধ সামাজিক অনাচারেডুবে গিয়েছিল। সম্প্রদায়ের এইরূপ পতন দশায়আল্লাহ তাদের হেদায়াতের জন্য নূহ (আঃ)-কেরাসূল হিসাবে প্রেরণ করেন(আ‘রাফ ৭/৬১)।স্বীয়কওমের প্রতি নূহ (আঃ)-এর দাওয়াত :আল্লাহবলেন, ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﻧُﻮﺣﺎً ﺇِﻟَﻰ ﻗَﻮْﻣِﻪِ ﺃَﻥْ ﺃَﻧﺬِﺭْ ﻗَﻮْﻣَﻚَ ﻣِﻦﻗَﺒْﻞِ ﺃَﻥ ﻳَّﺄْﺗِﻴَﻬُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﺃَﻟِﻴﻢٌ، ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﻜُﻢْ ﻧَﺬِﻳﺮٌﻣُّﺒِﻴﻦٌَ، ﺃَﻥِ ﺍﻋْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﻩُ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﻥِ، ﻳَﻐْﻔِﺮْ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦْﺫُﻧُﻮْﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻳُﺆَﺧِّﺮْﻛُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﺟَﻞٍ ﻣُّﺴَﻤًّﻰ ﺇِﻥَّ ﺃَﺟَﻞَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺇِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَﻻَ ﻳُﺆَﺧَّﺮُ ﻟَﻮْ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ- ‏)ﻧﻮﺡ ১-৪(-‘আমরা নূহকে তারকওমের নিকটে প্রেরণ করলাম তাদের উপরেমর্মান্তিক আযাব নাযিল হওয়ার পূর্বেই তাদেরকেসতর্ক করার জন্য’। ‘নূহ তাদেরকে বলল, হে আমারজাতি! আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী’। ‘এবিষয়ে যে তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁকে ভয়কর এবং আমার আনুগত্য কর’। ‘তাতে আল্লাহতোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময়পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। তবে এটা নিশ্চিত যে,আল্লাহর নির্ধারিত সময় যখন এসে যাবে, তখন তাএতটুকুও পিছানো হবে না। যদি তোমরা তাজানতে’(নূহ ৭১/১-৪)।অতঃপর তিনি তাদেরকে শিরকপরিত্যাগ করে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর ইবাদতেফিরিয়ে আনার জন্য বান্দার উপরে আল্লাহর অসংখ্যঅনুগ্রহ ও অগণিত নে‘মতরাজির কথা স্মরণ করিয়েদিয়ে বলেন, ﺃَﻟَﻢْ ﺗَﺮَﻭْﺍ ﻛَﻴْﻒَ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳَﺒْﻊَ ﺳَﻤَﺎﻭَﺍﺕٍﻃِﺒَﺎﻗﺎ، ﻭََﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﻓِﻴﻬِﻦَّ ﻧُﻮﺭﺍً ﻭَّﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲَ ﺳِﺮَﺍﺟﺎً،ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻧﺒَﺘَﻜُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻧَﺒَﺎﺗﺎً، ﺛُﻢَّ ﻳُﻌِﻴﺪُﻛُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎﻭَﻳُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ ﺇِﺧْﺮَﺍﺟﺎً، ﻭَﺍﻟﻠﻪ ُﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﺑِﺴَﺎﻃﺎً،ﻟِﺘَﺴْﻠُﻜُﻮﺍ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺳُﺒُﻼً ﻓِﺠَﺎﺟﺎً- ‏(ﻧﻮﺡ ১৫-২০)-‘তোমরা কিলক্ষ্য কর না, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরেস্তরে সৃষ্টি করেছেন’। ‘সেখানে তিনি চন্দ্রকেরেখেছেন আলো রূপে এবং সূর্যকেরেখেছেন প্রদীপ রূপে’। ‘আল্লাহতোমাদেরকে মাটি থেকে উদ্গত করেছেন’।‘অতঃপর তাতে ফিরিয়ে নিবেন ও আবারপুনরুত্থিতকরবেন’। ‘আল্লাহ তোমাদের জন্যযমীনকে করেছেন বিছানা সদৃশ’। ‘যাতে তোমরাচলাফেরা করতে পার প্রশস্ত রাস্তাসমূহে’(নূহ৭১/১৫-২০)।নূহ (আঃ) স্বীয় কওমকে দিন-রাত দাওয়াতদিতে থাকেন। তিনি তাদেরকে প্রকাশ্যে ওগোপনে বিভিন্ন পন্থায় ও পদ্ধতিতে দাওয়াত দেন।কিন্তু ফলাফল হয় নিতান্ত নৈরাশ্যজনক। তাঁর দাওয়াতেঅতিষ্ট হয়ে তারা তাঁকে দেখলেই পালিয়ে যেত।কখনো কানে আঙ্গুল দিত। কখনো তাদেরচেহারা কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলতো। তারাতাদের হঠকারিতা ও যিদে অটল থাকত এবং চরমঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত’(নূহ ৭১/৬-৯)। এক সময়কওমের সর্দাররা লোকদের ডেকে বলল, ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍﻻَ ﺗَﺬَﺭُﻥَّ ﺁﻟِﻬَﺘَﻜُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﺬَﺭُﻥَّ ﻭَﺩّﺍً ﻭَﻻَ ﺳُﻮَﺍﻋﺎً ﻭَّﻻَ ﻳَﻐُﻮﺙَﻭَﻳَﻌُﻮﻕَ ﻭَﻧَﺴْﺮﺍً – ‏)ﻧﻮﺡ ২১-২৩(-(খবরদার!) ‘তোমরাতোমাদের পূর্ব পুরুষদের পূজিত উপাস্য ওয়াদ,সুওয়া‘, ইয়াগূছ, ইয়াঊক্ব, নাস্র-কে কখনোই পরিত্যাগকরবে না’। (এভাবে) ‘তারা বহু লোককে পথভ্রষ্টকরে এবং (তাদের ধনবল ও জনবল দিয়ে) নূহ-এরবিরুদ্ধে ভয়ানক সব চক্রান্ত শুরুকরে’(নূহ৭১/২১-২৩)।নূহ (আঃ)-এর বিরুদ্ধে পাঁচটিআপত্তি :কওমের অবিশ্বাসী নেতারা জনগণকেবিভ্রান্ত করার জন্য নূহ (আঃ)-এর বিরুদ্ধে পাঁচটিআপত্তি উত্থাপন করেছিল। যথাঃ (১) আপনি তোআমাদের মতই একজন মানুষ। নবী হ’লে তোফেরেশতা হতেন। (২) আপনার অনুসারী হ’লআমাদের মধ্যকার হীন ও কম বুদ্ধিসম্পন্নলোকেরা (৩) কওমের উপরে আপনাদেরকোন প্রাধান্য পরিদৃষ্ট হয় না(হূদ ১১/২৭)। (৪)আপনার দাওয়াত আমাদের বাপ-দাদাদের রীতিবিরোধী (৫) আপনি আসলে নেতৃত্বেরঅভিলাষী(মুমিনূন ২৩/২৪-২৫)। অতএব আপনাকেআমরামিথ্যাবাদী মনে করি(হূদ ১১/২৭)।জনগণকেক্ষেপিয়ে তোলার জন্য নূহ-এর দাওয়াতকেক্ষমতালোভী রাজনৈতিক আন্দোলন বলেআখ্যায়িত করে কাফের নেতারা বলল, ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭْﺍ ﻣِﻦْ ﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻣَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﺇِﻻَّ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥﻳَّﺘَﻔَﻀَّﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻭَﻟَﻮْ ﺷَﺂﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ُﻟَﺄَﻧﺰَﻝَ ﻣَﻠَﺂﺋِﻜَﺔً ﻣَّﺎ ﺳَﻤِﻌْﻨَﺎ ﺑِﻬَﺬَﺍﻓِﻲْ ﺁﺑَﺎﺋِﻨَﺎ ﺍﻟْﺄَﻭَّﻟِﻴْﻦَ – ‏(ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ২৪-২৫)-‘এ লোক তোতোমাদের মতই একজন মানুষ। আসলে সেতোমাদের উপরে নেতৃত্ব করতে চায়। আল্লাহইচ্ছাকরলে তো একজন ফেরেশতা পাঠাতেপারতেন। তাছাড়া এ লোক যেসব কথা বলছে,তাতো আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের কাছেকখনো শুনিনি’। ‘আসলে লোকটার মধ্যেপাগলামী রয়েছে কিংবা তার সাথে কোন জিনরয়েছে। অতএব তোমরা এ ব্যক্তির দিকেভ্রুক্ষেপ কর না। বরং কিছুদিন অপেক্ষা কর’(মুমিনূন২৩/২৪-২৫)। (এভাবে) ‘তারা তাঁকে সরাসরি পাগল বলেএবং (প্রাণে মারার) হুমকি দেয়’(ক্বামার ৫৪/৯)।আপত্তিসমূহের জওয়াব :(১) গোত্রের নেতাদেরউপরোক্ত আপত্তি ও অপবাদ সমূহের জবাবে নূহ(আঃ) বলেন, ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺃَﺭَﺃَﻳْﺘُﻢْ ﺇِﻥْ ﻛُﻨْﺖُ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻴِّﻨَﺔٍ ﻣِّﻦﺭَّﺑِّﻲْ ﻭَﺁﺗَﺎﻧِﻲْ ﺭَﺣْﻤَﺔً ﻣِّﻦْ ﻋِﻨْﺪِﻩِ ﻓَﻌُﻤِّﻴَﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃَﻧُﻠْﺰِﻣُﻜُﻤُﻮْﻫَﺎﻭَﺃَﻧﺘُﻢْ ﻟَﻬَﺎ ﻛَﺎﺭِﻫُﻮْﻥَ- ‏)ﻫﻮﺩ ২৮(-‘হে আমার কওম! আমিযদি আমার প্রভুর পক্ষ হ’তে স্পষ্ট দলীলেরউপরে থাকি, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হ’তে আমাকেরহমত দান করেন, আর সেসব থেকে যদিতোমাদের চক্ষু অন্ধ থাকে, তাহ’লে কি আমি তাতোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমাদের উপরেচাপিয়ে দিতে পারি?(হূদ ১১/২৮)। একথা দ্বারাবুঝানোহয়েছে যে, নবুওয়াত ও রিসালাত চেয়েপাওয়া যায় না। এটা সস্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছাধীন।তিনি মানুষের জন্য কোন ফেরেশতাকে নয়, বরংতাঁর মনোনীত কোন মানুষকেই নবী করেপাঠিয়ে থাকেন স্পষ্ট দলীল-প্রমাণ সহকারে। নূহ(আঃ) তাঁর কওমকে আরও বলেন, ﺃَﻭَﻋَﺠِﺒْﺘُﻢْ ﺃَﻥْ ﺟَﺎﺀَﻛُﻢْﺫِﻛْﺮٌ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺟُﻞٍ ﻣِّﻨﻜُﻢْ ﻟِﻴُﻨْﺬِﺭَﻛُﻢْ ﻭَﻟِﺘَﺘَّﻘُﻮﺍ ﻭَﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْﺗُﺮْﺣَﻤُﻮْﻥَ- ‏)ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ ৬৪(-‘তোমরা কি এ বিষয়েআশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের পালনকর্তারপয়গাম তোমাদের মধ্য থেকেই একজনেরমাধ্যমে তোমাদের কাছে এসেছে, যাতে সেতোমাদের ভীতি প্রদর্শন করে ও তার ফলেতোমরা আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও’(আ‘রাফ ৭/৬৩)।আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু তারা নূহকে মিথ্যা সাব্যস্তকরে। তখন আমরা তাকে ও তার নৌকারোহীসাথীদেরকে মুক্ত করি এবং আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপকারীদের ডুবিয়ে মারি।বস্ত্ততঃতারা ছিল জ্ঞানান্ধ’(আ‘রাফ ৭/৬৪)।মুসলিম উম্মাহরমধ্যে একদল লোক শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে‘নূরের নবী’ বলে পরোক্ষভাবে তাঁকে‘ফেরেশতা নবী’ বানাতে চায়। এভাবে তারা বিগতযুগের কাফিরদেরসন্দেহবাদের অনুসরণ করেমাত্র। অথচ আল্লাহ বলেন, ﻭَﻟَﻮْ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻟَّﺠَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُﺭَﺟُﻼً ﻭَﻟَﻠَﺒَﺴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣَّﺎ ﻳَﻠْﺒِﺴُﻮْﻥَ- ‏) ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ ৯(-‘যদি আমরাকোন ফেরেশতাকে রাসূল করে পাঠাতাম, তবেসে মানুষের আকারেই হ’ত। কিন্তু এতেও তারা ঐসন্দেহই প্রকাশ করত, যা এখন করছে’(আন‘আম৬/৯)।(২) তাদের দ্বিতীয় আপত্তির জবাবেনূহ (আঃ)বলেন, ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑِﻄَﺎﺭِﺩِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮْﺍ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻣُّﻼَﻗُﻮْ ﺭَﺑِّﻬِﻢْﻭَﻟَـﻜِﻨِّﻲْ ﺃَﺭَﺍﻛُﻢْ ﻗَﻮْﻣﺎً ﺗَﺠْﻬَﻠُﻮْﻥَ، ﻭَﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﻣَﻦ ﻳَّﻨْﺼُﺮُﻧِﻲْ ﻣِﻦَﺍﻟﻠﻪِ ﺇِﻥْ ﻃَﺮَﺩﺗُّﻬُﻢْ ﺃَﻓَﻼَ ﺗَﺬَﻛَّﺮُﻭْﻥَ؟- ‏)ﻫﻮﺩ ২৯-৩০(-‘আমিকোন (গরীব) ঈমানদার ব্যক্তিকে তাড়িয়ে দিতেপারি না।তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার দীদার লাভেধন্য হবে। বরং আমি তোমাদেরই মূর্খ দেখছি’।‘হে আমার কওম! আমি যদি ঐসব লোকদেরতাড়িয়ে দেই, তাহ’লে কে আমাকে আল্লাহরপাকড়াও থেকে রক্ষা করবে? তোমরা কি উপদেশগ্রহণ করবে না?(হূদ ১১/২৯-৩০; শো‘আরা২৬/১১১-১১৫)।(৩) তৃতীয় আপত্তির জবাবে তিনিবলেন, ﻭَﻻَ ﺃَﻗُﻮﻝُ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺗَﺰْﺩَﺭِﻱ ﺃَﻋْﻴُﻨُﻜُﻢْ ﻟَﻦ ﻳُﺆْﺗِﻴَﻬُﻢُﺍﻟﻠﻪ ُﺧَﻴْﺮﺍً ﺍﻟﻠّﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﻤَﺎ ﻓِﻲ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢْ ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﺫﺍً ﻟَّﻤِﻦَﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ- ‏)ﻫﻮﺩ ৩১(-‘তোমাদের দৃষ্টিতে যারাদীনহীন-অবাঞ্ছিত ব্যক্তি তাদেরকে আল্লাহকোনরূপ কল্যাণ দান করবেননা। তাদের মনের কথাআল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললেআমি অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’(হূদ১১/৩১)।অতএব দুনিয়াবী প্রাধান্য মূলতঃ কোনপ্রাধান্য নয়। পরকালীন উচ্চমর্যাদাই হ’ল প্রকৃতমর্যাদা।(৪) চতুর্থ আপত্তির জবাবে তিনি পয়গম্বরসুলভউত্তর দিয়ে বলেন, ﻗَﺎﻟَﻴَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﻲْ ﺿَﻼَﻟَﺔٌ ﻭَﻟَﻜِﻨِّﻲْﺭَﺳُﻮْﻝٌ ﻣِّﻨﺮَّﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ، ﺃُﺑَﻠِّﻐُﻜُﻢْ ﺭِﺳَﺎﻻَﺕِ ﺭَﺑِّﻲْ ﻭَﺃَﻧْﺼَﺢُ ﻟَﻜُﻢْﻭَﺃَﻋْﻠَﻢُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻣَﺎ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ‏)ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ ৬১-৬২(-‘হেআমার কওম! আমার মধ্যে কোনই পথভ্রষ্টতানেই। বরং আমি বিশ্বপালকের পক্ষ হ’তে প্রেরিতরাসূল’। ‘আমি তোমাদের নিকটে আমার প্রভুর রিসালাতপৌঁছে দেই এবং আমি তোমাদেরকে সদুপদেশদিয়ে থাকি। কেননা আমি আল্লাহর পক্ষ থেকেএমন বিষয় জানি, যা তোমরা জানো না’(আ‘রাফ৭/৬১-৬২)।অতএব আল্লাহ প্রদত্ত রিসালাত তথাঅহী-র বিধান পালন করা ও তা জনগণের নিকটেপৌঁছে দেওয়াই আমারদায়িত্ব ও কর্তব্য- পিতৃধর্ম পালনকরা নয়। বস্ত্ততঃ বাপ-দাদার ধর্মের দোহাই নূহ (আঃ)থেকে শুরু করে শেষনবী মুহাম্মাদ(ছাঃ) পর্যন্তসবাইকে দেওয়া হয়েছিল। আর সেকারণে প্রায়সকল নবীকেই স্ব স্ব জাতির নিকট থেকে চরমনির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল।(৫) অতঃপরনেতৃত্ব লাভের আশায় নূহ (আঃ) লোকদেরনিকটে দাওয়াত দিচ্ছেন মর্মে তাদের পঞ্চমআপত্তির জবাবে তিনি স্পষ্টভাষায় বলে দেনযে, ﻭَﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﻻَ ﺃَﺳْﺌَﻠُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣَﺎﻻً ﺇِﻥْ ﺃَﺟْﺮِﻱَ ﺇِﻻَّ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺏِّﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ – ‏( ﺍﻟﺸﻌﺮﺍﺀ ১০৯)-‘এই দাওয়াতের বিনিময়ে আমিতোমাদের কাছে কোন মাল-দৌলত বা কোনবিনিময় কামনা করি না। আমার পুরষ্কার তো কেবলবিশ্বপালকের (আল্লাহর) নিকটেইরয়েছে’(শো‘আরা ২৬/১০৯; ইউনুস ১০/৭২; হূদ১১/২৯)।বস্ত্ততঃপক্ষে সকল নবীই একথাবলেছেন। শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর কাছেএসে তাঁর কওমের নেতারা যখন নেতৃত্ব গ্রহণেরঅথবা মাল-দৌলতের বিনিময়ে তাওহীদের দাওয়াতপরিত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন তিনি তাপ্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ‘যদি তোমরা আমারডানহাতে সূর্য ওবামহাতে চন্দ্র এনে দাও, তথাপি আমিযে সত্য নিয়ে আগমন করেছি, তা পরিত্যাগ করবনা’(আর-রাহীক্ব পৃঃ৯৭)।বস্ত্ততঃ শিরকের মাধ্যমেদুনিয়া অর্জন সহজলভ্য হয় বিধায় যুগ যুগ ধরেদুনিয়াপূজারী এক শ্রেণীর বকধার্মিক লোক মূর্তি,কবর ও মাযার নিয়ে পড়ে আছে। লোকেরাতাদেরকে আল্লাহর অলী ভাবে। অথচ ওরা মূলতঃশয়তানের অলী। ইবরাহীম (আঃ) এদেরউদ্দেশ্যেই বলেছিলেন, ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺃَﺿْﻠَﻠْﻦَ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻣِّﻦَﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻓَﻤَﻦْ ﺗَﺒِﻌَﻨِﻲْ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻣِﻨِّﻲْ ﻭَﻣَﻦْ ﻋَﺼَﺎﻧِﻲْ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﻏَﻔُﻮْﺭٌﺭَّﺣِﻴْﻢٌ – ‏) ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ৩৬(-‘হে প্রভু! এ মূর্তিগুলি বহুলোককে পথভ্রষ্ট করেছে। এক্ষণে যারাআমার অনুগামী হয়েছে, কেবল তারাই আমারদলভুক্ত। আর যারা আমার অবাধ্যতা করেছে (তাদেরব্যাপারে আপনিই সবকিছু), নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীলও দয়াবান’(ইবরাহীম ১৪/৩৬)। নিঃসন্দেহে যারাশেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সত্যিকারের অনুসারীহবে, কেবল তারাই আখেরাতে মুক্তি পাবে।যেহেতু ‘শিরকপন্থীদের জন্য আল্লাহজান্নাতকে হারাম করেছেন’(মায়েদাহ ৫/৭২),সেহেতু শিরকের মাধ্যমে দুনিয়া অর্জনকারীলোকেরা এবং মুশরিক ব্যক্তিরা মুখে আল্লাহকেস্বীকার করলেও ওরা চিরস্থায়ীভাবেজাহান্নামেরঅধিবাসী হবে। অতএব হে মানুষ! শিরকহ’তে সাবধান হও!!নূহ (আঃ)-এর দাওয়াতের ফলশ্রুতি:আল্লাহ তা‘আলা নূহ (আঃ)-কে সাড়ে নয়শত বছরেরসুদীর্ঘ জীবন দান করেছিলেন। তিনি একপুরুষের পর দ্বিতীয় পুরুষকে অতঃপর তৃতীয়পুরুষকে শুধু এই আশায় দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছিলেন যে,তারা ঈমান আনবে। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দীঅক্লান্তভাবে দাওয়াত দেওয়া সত্ত্বেও তারা ঈমানআনেনি। মূলতঃ এই সময় নূহ (আঃ)-এর কওম জনবল ওঅর্থবলে বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।সংখ্যাধিক্যের কারণে ইরাকের ভূখন্ড ও পাহাড়েওতাদের আবাস সংকুলান হচ্ছিল না। আল্লাহর চিরন্তননীতি এই যে, তিনি অবাধ্যজাতিকে সাময়িকভাবেঅবকাশ দেন(বাক্বারাহ ২/১৫)। নূহের কওমসংখ্যাশক্তি ও ধনাঢ্যতার শিখরে উপনীত হয়েদিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। তারা নূহ (আঃ)-এরদাওয়াতকে তাচ্ছিল্য ভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল। নূহ(আঃ) তাদেরকে দিবারাত্রি দাওয়াত দেন। কখনোগোপনে কখনো প্রকাশ্যেঅর্থাৎ সকল পন্থাঅবলম্বন করে তিনি নিজ কওমকে দ্বীনেরপথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন(নূহ ৭১/৫-৯)।আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, এই সুদীর্ঘদাওয়াতী যিন্দেগীতে তিনি যেমন কখনোচেষ্টায় ক্ষান্ত হননি, তেমনি কখনো নিরাশও হননি।সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নানাবিধ নির্যাতনেরসম্মুখীন হয়েও তিনি ছবর করেন। কওমেরনেতারা বলল,62 ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻟَﺌِﻦ ﻟَّﻢْ ﺗَﻨْﺘَﻪِ ﻳَﺎ ﻧُﻮْﺡُ ﻟَﺘَﻜُﻮْﻧَﻦَّ ﻣِﻦَﺍﻟْﻤَﺮْﺟُﻮْﻣِﻴْﻦَ – ‏) ﺍﻟﺸﻌﺮﺍﺀ ১১৬(-‘হে নূহ! যদি তুমি বিরত নাহও, তবে পাথর মেরে তোমার মস্তক চূর্ণ করেদেওয়া হবে’(শো‘আরা ২৬/১১৬)। তবুও বারবারআশাবাদী হয়ে তিনি সবাইকে দাওয়াত দিতে থাকেন।আর তাদের জন্য দো‘আ করে বলতেথাকেন, ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻘَﻮْﻣِﻲْ ﺇَﻧَّﻬُﻢْ ﻻَ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ -‘হে আমারপালনকর্তা! তুমি আমার কওমকে ক্ষমা কর। কেননাতারা জানে না’(তাফসীর কুরতুবী, সূরা নূহ)।ওদিকেতাঁর সম্প্রদায়ের অনীহা, অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য এবংঔদ্ধত্য ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। মুহাম্মাদ ইবনুইসহাক্ব বলেন, ﻭﻟﻢ ﻳﻠﻖ ﻧﺒﻰ ﻣﻦ ﻗﻮﻣﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺫﻯﻣﺜﻠﻨﻮﺡ ﺇﻻ ﻧﺒﻰ ﻗُﺘﻞ ‘নিহত কোন নবী ব্যতীতঅন্য কোন নবী তার কওমের নিকট থেকেনূহের মত নির্যাতন ভোগ করেননি’(ইবনু কাছীর,সূরা আ‘রাফ ৫৯-৬২)। বলা চলে যে, তাদের অহংকার ওঅত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং পাপষোলকলায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে একপর্যায়ে নূহ (আঃ) স্বীয় কওমকে ডেকেবললেন, ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻛَﺒُﺮَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢ ﻣَّﻘَﺎﻣِﻲْ ﻭَﺗَﺬْﻛِﻴْﺮِﻱْﺑِﺂﻳَﺎﺕِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻓَﻌَﻠَﻰ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺗَﻮَﻛَّﻠْﺖُ ﻓَﺄَﺟْﻤِﻌُﻮْﺍ ﺃَﻣْﺮَﻛُﻢْ ﻭَﺷُﺮَﻛَﺎﺀَﻛُﻢْﺛُﻢَّ ﻻَ ﻳَﻜُﻦْ ﺃَﻣْﺮُﻛُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻏُﻤَّﺔً ﺛُﻢَّ ﺍﻗْﻀُﻮﺍْ ﺇِﻟَﻲَّ ﻭَﻻَﺗُﻨْﻈِﺮُﻭْﻥِ، ﻓَﺈِﻥْ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺘُﻢْ ﻓَﻤَﺎ ﺳَﺄَﻟْﺘُﻜُﻢ ﻣِّﻦْ ﺃَﺟْﺮٍ ﺇِﻥْ ﺃَﺟْﺮِﻱَ ﺇِﻻَّﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺃُﻣِﺮْﺕُ ﺃَﻥْ ﺃَﻛُﻮْﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴْﻦَ، ﻓََﻜَﺬَّﺑُﻮْﻩُﻓَﻨَﺠَّﻴْﻨَﺎﻩُ ﻭَﻣَﻦ ﻣَّﻌَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔُﻠْﻜِﻮَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﺧَﻼَﺋِﻒَ ﻭَﺃَﻏْﺮَﻗْﻨَﺎﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻛَﺬَّﺑُﻮْﺍ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻓَﺎﻧْﻈُﺮْ ﻛَﻴْﻒَ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺎﻗِﺒَﺔُﺍﻟْﻤُﻨْﺬَﺭِﻳْﻦَ – ‏)ﻳﻮﻧﺲ ৭১-৭৩(-‘হে আমার কওম! যদিতোমাদের মাঝে আমার অবস্থিতি ও আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে তোমাদের উপদেশ দেওয়া ভারিবলে মনে হয়, তবে আমি আল্লাহর উপরে ভরসাকরছি। এখন তোমরা তোমাদের যাবতীয় শক্তিএকত্রিত কর ও তোমাদের শরীকদের সমবেতকর, যাতে তোমাদের মধ্যে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ না থাকে। অতঃপর আমার ব্যাপারে একটাফায়ছালা করে ফেল এবং আমাকে মোটেও অবকাশদিয়ো না’। ‘এরপরেও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও।তবে জেনে রেখ, আমি তোমাদের কাছেকোনরূপ বিনিময় কামনা করি না। আমার বিনিময়কেবলমাত্র আল্লাহর নিকটেই রয়েছে। আরআমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমিআত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই’। ‘কিন্তুতারপরওতারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল…’(ইউনুস১০/৭১-৭৩)। বলা বাহুল্য যে, এটা ছিল কওমের দুরাচারনেতাদের প্রতি নূহ (আঃ)-এর ছুঁড়ে দেওয়াচ্যালেঞ্জ, যার মুকাবিলা করা তাদের পক্ষে আদৌসম্ভব ছিল না।এ সময় আল্লাহ পাক অহী নাযিল করেবলেন, ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻦ ﻳُّﺆْﻣِﻦَ ﻣِﻦْ ﻗَﻮْﻣِﻚَ ﺇِﻻَّ ﻣَﻦْ ﻗَﺪْ ﺁﻣَﻦَ ﻓَﻼَﺗَﺒْﺘَﺌِﺲْ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮْﺍ ﻳَﻔْﻌَﻠُﻮْﻥَ- ‏(ﻫﻮﺩ ৩৬)-‘তোমারকওমের যারা ইতিমধ্যে ঈমান এনেছে, তারাব্যতীত আর কেউ ঈমান আনবে না। অতএব তুমিওদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হয়ো না’(হূদ ১১/৩৬)।এভাবে আল্লাহর অহী মারফত তিনি যখন জেনেনিলেন যে, এরা কেউ আর ঈমান আনবে না। বরংকুফর, শিরক ও পথভ্রষ্টতার উপরেই ওরা যিদ করেথাকবে, তখন নিরাশ হয়ে তিনি প্রার্থনা করলেন, ﻗَﺎﻝَﺭَﺏِّ ﺍﻧﺼُﺮْﻧِﻲ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺬَّﺑُﻮْﻥِ- ‏)ﻣﺆﻣﻨﻮﻥ ২৬(-‘হে আমারপালনকর্তা! আমাকে সাহায্য কর। কেননা ওরা আমাকেমিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছে’(মুমিনূন ২৩/২৬)। ﻓَﺎﻓْﺘَﺢْﺑَﻴْﻨِﻲْ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻓَﺘْﺤًﺎ ﻭَﻧَﺠِّﻨِﻲْ ﻭَﻣَﻦ ﻣَّﻌِﻲَ ﻣِﻦَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ- ‏) ﺍﻟﺸﻌﺮﺍﺀ ১১৮(-‘অতএব তুমি আমার ও তাদেরমাঝে চূড়ান্ত ফয়ছালা করে দাও এবং আমাকে ও আমারসাথী মুমিনদেরকে তুমি (ওদের হাত থেকে)মুক্তকর’(শো‘আরা ২৬/১১৮)। তিনি স্বীয় প্রভুকেআহবান করে বললেন, ﻓَﺪَﻋَﺎ ﺭَﺑَّﻪُ ﺃَﻧِّﻲْ ﻣَﻐْﻠُﻮْﺏٌﻓَﺎﻧْﺘَﺼِﺮْ – ‏) ﺍﻟﻘﻤﺮ ১০(-‘আমি অপারগ হয়ে গেছি।এক্ষণে তুমি ওদের বদলা নাও’(ক্বামার ৫৪/১০)। তিনিঅতঃপর চূড়ান্তভাবেবদ দো‘আ করে বললেন, ﻭَﻗَﺎﻝَﻧُﻮْﺡٌ ﺭَّﺏِّ ﻻَ ﺗَﺬَﺭْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳْﻦَ ﺩَﻳَّﺎﺭًﺍ، ﺇِﻧَّﻚَ ﺇِﻥْﺗَﺬَﺭْﻫُﻢْ ﻳُﻀِﻠُّﻮﺍ ﻋِﺒَﺎﺩَﻙَ ﻭَﻻَ ﻳَﻠِﺪُﻭْﺍ ﺇِﻻَّ ﻓَﺎﺟِﺮًﺍ ﻛَﻔَّﺎﺭًﺍ- ‏)ﻧﻮﺡ২৬-২৭(-‘হে প্রভু! পৃথিবীতে একজন কাফেরগৃহবাসীকেও তুমি ছেড়ে দিয়ো না’। ‘যদি তুমিওদের রেহাই দাও, তাহ’লে ওরা তোমার বান্দাদেরপথভ্রষ্ট করবে এবং ওরা কোন সন্তান জন্ম দিবেনা পাপাচারী ও কাফের ব্যতীত’(নূহ ৭১/২৬-২৭)।বলাবাহুল্য, নূহ (আঃ)-এর এই দো‘আ আল্লাহ সাথেসাথে কবুল করেন। যার ফলে তারা ধ্বংস ও নিশ্চিহ্নহ’ল এবং কেবলমাত্র মুষ্টিমেয় মুমিন নর-নারী মুক্তিপেলেন। বর্তমান পৃথিবীর সবাই তাদের বংশধর।আল্লাহ বলেন, ﺫُﺭِّﻳَّﺔَ ﻣَﻦْ ﺣَﻤَﻠْﻨَﺎ ﻣَﻊَ ﻧُﻮﺡٍ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺒْﺪﺍًﺷَﻜُﻮْﺭﺍً -‘তোমরা তাদের বংশধর, যাদেরকে আমরানূহের সাথে (নৌকায়) সওয়ার করিয়েছিলাম। বস্ত্ততঃসে ছিল একজন কৃতজ্ঞ বান্দা’(ইসরা ১৭/৩; ছাফফাত৩৭/৭৭)।গযবের কারণ :আল্লাহ বলেন, ﻣِﻤَّﺎ ﺧَﻄِﻴﺌَﺎﺗِﻬِﻢْﺃُﻏْﺮِﻗُﻮْﺍ ﻓَﺄُﺩْﺧِﻠُﻮْﺍ ﻧَﺎﺭﺍً ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺠِﺪُﻭْﺍ ﻟَﻬُﻢ ﻣِّﻦ ﺩُﻭْﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِﺃَﻧﺼَﺎﺭﺍً -‘তাদের পাপরাশির কারণে তাদেরকে(প্লাবনে) ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। অতঃপর তাদেরকে(কবরের) অগ্নিতে প্রবেশ করানো হয়েছিল।কিন্তু নিজেদের জন্য আল্লাহর মুকাবেলায় কাউকেতারা সাহায্যকারী পায়নি’(নূহ ৭১/২৫)। উপরোক্তআয়াতে বুঝা যায় যে, পথভ্রষ্ট সমাজনেতাদেরসাথে পুরা সমাজটাই পাপে নিমজ্জিত হয়েছিল।যেজন্য সর্বগ্রাসী প্লাবনের গযবে তাদেরকেডুবিয়ে ধ্বংস করা হয়। এমনকি মৃত্যুর পর বরযখীজীবনে তাদেরকে কবর আযাবেরঅগ্নিকুন্ডেপ্রবেশ করানো হয়েছে, সেকথাও আল্লাহবলে দিয়েছেন। এতদ্ব্যতীত ক্বিয়ামতের দিনতাদের জন্য জাহান্নাম যে সুনিশ্চিত, সেকথাওবুঝিয়েদেওয়া হয়েছে। কেননা তারাসেদিন মুক্তির জন্যকোন সুফারিশকারী পাবেনা।শিক্ষণীয় বিষয়:সমাজপরিচালনার জন্য সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনখুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ব্যাপারে দল ওপ্রার্থীবিহীন ইসলামী নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতিঅনুসরণ করা আবশ্যক।নূহের প্লাবন ও গযবেরকুরআনী বিবরণ :এ বিষয়ে সূরা হূদে পরপর ১২টিআয়াত নাযিল হয়েছে। যেমন, চূড়ান্ত গযব আসারপূর্বে আল্লাহনূহ (আঃ)-কে বললেন, ﻭَﺍﺻْﻨَﻊ