হযরত যুল কিফল আঃ এর জীবনী


হযরত যুল-কিফল (আ:) জীবনিহযরত যুল-কিফল(আলাইহিস সালাম)1.যুল-কিফলের জীবনে পরীক্ষা2.শিক্ষণীয় বিষয়3.সংশয় নিরসনপবিত্র কুরআনে কেবল সূরা আম্বিয়া ৮৫-৮৬ ও ছোয়াদ ৪৮ আয়াতে যুল-কিফলের নামএসেছে। তিনি আল-ইয়াসা‘-এর পরে নবী হন এবং ফিলিস্তীন অঞ্চলে বনু ইস্রাঈলগণেরমধ্যে তাওহীদের দাওয়াত দেন।আল্লাহ বলেন, ﻭَﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴْﻞَ ﻭَﺇِﺩْﺭِﻳْﺲَ ﻭَﺫَﺍ ﺍﻟْﻜِﻔْﻞِ ﻛُﻞٌّ ﻣِّﻦَﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳْﻦَ- ﻭَﺃَﺩْﺧَﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻓِﻲْ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴْﻦَ – ‏)ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ৮৫-৮৬(-‘আর তুমি স্মরণ করইসমাঈল, ইদরীস ও যুল-কিফলের কথা। তারা প্রত্যেকেই ছিল ছবরকারী’। ‘আমরাতাদেরকে আমাদের রহমতপ্রাপ্তদেরঅন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। তারা ছিল সৎকর্মশীলগণেরঅন্তর্ভুক্ত’(আম্বিয়া ২১/৮৫-৮৬)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﻭَﺍﻟْﻴَﺴَﻊَ ﻭَﺫَﺍ ﺍﻟْﻜِﻔْﻞِ ﻭَﻛُﻞٌّﻣِّﻦَ ﺍﻟْﺄَﺧْﻴَﺎﺭِ – ‏)ﺹ ৪৮(-‘আর তুমি বর্ণনা কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘ ও যুল-কিফলের কথা। তারা সকলেইছিল শ্রেষ্ঠগণের অন্তর্ভুক্ত’(ছোয়াদ ৩৮/৪৮)।ইবনু কাছীর বলেন, শ্রেষ্ঠনবীগণের সাথে একত্রে বর্ণিত হওয়ায় প্রতীয়মান হয় যে, যুল-কিফলএকজন উঁচুদরেরনবী ছিলেন’। সুলায়মান পরবর্তী নবী হিসাবে তিনিও শাম অঞ্চলে প্রেরিত হন বলেনিশ্চিত ধারণা হয়।ইবনু জারীর তাবেঈ বিদ্বান মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, পূর্বতন নবীআল-ইয়াসা‘ বার্ধক্যে উপনীত হ’লে একজনকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশকরেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনি তার সকল সাথীকে একত্রিত করে বললেন, যার মধ্যে তিনটিগুণ বিদ্যমান থাকবে, তাকেই আমি আমার খলীফা নিযুক্ত করব। গুণ তিনটি এই যে, তিনি হবেন(১) সর্বদা ছিয়াম পালনকারী (২) আল্লাহর ইবাদতে রাত্রি জাগরণকারী এবং (৩) তিনি কোনঅবস্থায় রাগান্বিত হন না।এ ঘোষণা শোনার পর সমাবেশ স্থল থেকে ঈছ বিন ইসহাক্ব বংশেরজনৈক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালেন। সে নবীর প্রতিটি প্রশ্নের জওয়াবে হাঁ বললেন। কিন্তু তিনিসম্ভবতঃ তাকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। তাই দ্বিতীয় দিন আবার সমাবেশ আহবান করলেনএবং সকলের সম্মুখে পূর্বোক্ত ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করলেন। কিন্তু সবাই চুপ রইল,কেবল ঐ একজন ব্যক্তিই উঠে দাঁড়ালেন। তখন আল-ইয়াসা‘ (আঃ) উক্ত ব্যক্তিকেই তাঁরখলীফা নিযুক্ত করলেন, যিনি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নবুঅতী মিশন চালিয়ে নিবেন এবং মৃত্যুরপরেও তা অব্যাহত রাখবেন। বলা বাহুল্য, উক্ত ব্যক্তিই হ’লেন ‘যুল-কিফল’ (দায়িত্ব বহনকারী),পরবর্তীতে আল্লাহ যাকে নবুঅত দানে ধন্য করেন(কুরতুবী, ইবনু কাছীর)।যুল-কিফলের জীবনে পরীক্ষা :‘যুল-কিফল’ উক্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেনদেখে ইবলীস হিংসায় জ্বলে উঠল। সে তার বাহিনীকে বলল, যেকোন মূল্যে তারপদস্খলন ঘটাতেই হবে। কিন্তু সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলল, আমরা ইতিপূর্বে বহুবার তাকে ধোঁকাদিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। অতএব আমাদের পক্ষে একাজ সম্ভব নয়। তখন ইবলীস স্বয়ং এদায়িত্ব নিল।যুল-কিফল সারা রাত্রি ছালাতের মধ্যে অতিবাহিত করার কারণে কেবলমাত্র দুপুরেকিছুক্ষণ নিদ্রা যেতেন। ইবলীস তাকে রাগানোর জন্য ঐ সময়টাকেই বেছে নিল। একদিনসে ঠিক দুপুরে তার নিদ্রার সময় এসে দরজার কড়া নাড়লো। কাঁচা ঘুম থেকে উঠে তিনিজিজ্ঞেস করলেন, কে? উত্তর এল, আমিএকজন বৃদ্ধ মযলূম। তিনি দরজা খুলে দিলে সেভিতরে এসে বসলো এবংতার উপরে যুলুমের দীর্ঘ ফিরিস্তি বর্ণনা শুরু করল। এভাবেদুপুরে নিদ্রার সময়টা পারকরে দিল। যুল-কিফল তাকে বললেন, আমি যখন বাইরে যাব, তখনএসো। আমি তোমার উপরে যুলুমের বিচার করে দেব’।যুল-কিফল বাইরে এলেন এবংআদালত কক্ষে বসে লোকটির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। কিন্তু সে এলো না।পরের দিন সকালেও তিনি তার জন্য অপেক্ষা করলেন, কিন্তু সে এলো না। কিন্তু দুপুরেযখন তিনি কেবল নিদ্রা গেছেন, ঠিক তখনই এসেকড়া নাড়ল। তিনি উঠে দরজা খুলে দিয়েতাকে বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, আদালত কক্ষে মজলিস বসার পর এসো।কিন্তু তুমি কালও আসনি, আজও সকালে আসলে না। তখন লোকটি ইনিয়ে-বিনিয়ে চোখেরপানি ফেলে বিরাট কৈফিয়তের এক দীর্ঘ ফিরিস্তি পেশ করল। সে বলল, হুযুর! আমার বিবাদীখুবই ধূর্ত প্রকৃতির লোক। আপনাকে আদালতে বসতে দেখলেই সে আমার প্রাপ্যপরিশোধ করবে বলে কথা দেয়। কিন্তু আপনি চলে গেলেই সে তা প্রত্যাহার করেনেয়’। এইসব কথাবার্তার মধ্যে ঐদিন দুপুরের ঘুম মাটি হ’ল।তৃতীয় দিন দুপুরে তিনি ঢুলতেঢুলতে পরিবারের সবাইকে বললেন, আমি ঘুমিয়ে গেলে কেউ যেন দরজার কড়া না নাড়ে।বৃদ্ধ এদিন এলো এবংকড়া নাড়তে চাইল। কিন্তু বাড়ীর লোকেরা তাকে বাধা দিল। তখন সেসবার অলক্ষ্যে জানালা দিয়ে ঘরেরমধ্যে ঢুকে পড়ল এবং দরজায় ধাক্কা-ধাক্কি শুরু করল।এতে যুল-কিফলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখলেন সেই বৃদ্ধ ঘরের মধ্যে অথচঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। তিনি বুঝে ফেললেন যে, এটা শয়তান ছাড়া কেউ নয়। তখনতিনি বললেন, তুমি তাহ’লে আল্লাহর দুশমন ইবলীস? সে মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। আমি আজআপনার কাছে ব্যর্থ হ’লাম।আপনাকে রাগানোর জন্যই গত তিনদিনযাবত আপনাকে ঘুমানোরসময় এসে জ্বালাতন করছি। কিন্তু আপনি রাগান্বিত হলেন না। ফলে আপনাকে আমার জালেআটকাতে পারলাম না। ইতিপূর্বে আমার শিষ্যরা বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আজ আমিব্যর্থ হ’লাম। আমি চেয়েছিলাম, যাতে আল-ইয়াসা‘ নবীর সাথে আপনার কৃত ওয়াদা ভঙ্গ হয়।আর সে উদ্দেশ্যেই আমি এতসব কান্ড ঘটিয়েছি। কিন্তু অবশেষে আপনিই বিজয়ীহলেন’।উক্ত ঘটনার কারণেই তাঁকে ‘যুল-কিফল’) ﺫﻭ ﺍﻟﻜﻔﻞ (। উপাধি দেওয়া হয়। যার অর্থ, দায়িত্বপূর্ণকারী ব্যক্তি।[1]শিক্ষণীয় বিষয় :(১) নবীদের প্রতিনিধি হওয়ার জন্যরক্ত, বর্ণ ওগোত্রীয় মর্যাদা শর্ত নয়। বরং মৌলিক শর্ত হ’ল- তাক্বওয়া ও আনুগত্যশীলতা।(২) শয়তানবিশেষ করে পরহেযগার মুমিনের প্রকাশ্য দুশমন। কিন্তু ঈমানী দৃঢ়তার কাছে সে পরাজিতহয়।(৩) ধৈর্যগুণ হ’ল সফলতার মাপকাঠি। তাক্বওয়া ও ছবর একত্রিত হ’লে মুমিন সর্বদা বিজয়ীথাকে।(৪) শুধু নিজস্ব ইবাদতই যথেষ্ট নয়। বরং জনগণের খেদমতে সময় ব্যয় করাই হলপ্রকৃত মুমিনের কর্তব্য।(৫) শয়তানের শয়তানী ধরে ফেলাটা মুমিনের সুক্ষ্মদর্শিতারঅন্যতম লক্ষণ। অতএব কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন চিন্তা ও পরামর্শ সম্মুখে উপস্থিতহ’লেই বুঝে নিতে হবে যে, এটি শয়তানী ধোঁকা মাত্র।সংশয় নিরসন :যুল-কিফল একজননবী ও একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন। পবিত্র কুরআনে তাঁকে নবীদের সাথেইদু’স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন,(১)সূরা আম্বিয়া৮৫-৮৬ আয়াতে বলাহয়েছে, ﻭَﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﻭَﺇِﺩْﺭِﻳﺲَ ﻭَﺫَﺍ ﺍﻟْﻜِﻔْﻞِ ﻛُﻞٌّ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ، ﻭَﺃَﺩْﺧَﻠْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻣِّﻦَﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ- ‏)ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ৮৫-৮৬(-‘আর ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল-কিফল, সকলেই ছিলধৈর্যশীলগণের অন্তর্ভুক্ত’। ‘আর আমরা তাদেরকে আমাদের অনুগ্রহের মধ্যেপ্রবেশ করিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই তারা ছিল সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত’(আম্বিয়া ২১/৮৫-৮৬)।(ক) উক্ত আয়াত দ্বয়ের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, ﻓﺎﻟﻈﺎﻫﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻴﺎﻕ ﺃﻧﻪ ﻣﺎﻗﺮﻥ ﻣﻊ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﺇﻻ ﻭﻫﻮ ﻧﺒﻲ -‘পূর্বাপর সম্পর্কে এটা স্পষ্ট যে, নবীগণের তালিকায় নবীব্যতীত অন্যদের নাম যুক্ত হয় না। তবে অন্যেরা কেউ বলেছেন, তিনি একজনসৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন, কেউ বলেছেন, তিনি একজন ন্যায়পরায়ন শাসক ছিলেন। ইবনুজারীর এ ব্যাপারে চুপ থেকেছেন’।(খ) কুরতুবী এখানে যুল-কিফল সম্পর্কিত আবু ঈসাতিরমিযী (২০৯-২৭৯ হি:) এবং হাকীম তিরমিযী (মৃ: ৩৬০হি:) বর্ণিত দু’টি যঈফ হাদীছ উল্লেখকরে ক্ষান্ত হয়েছেন। জামে‘ তিরমিযী (হা/২৪৯৬)-তে এসেছে আল-কিফল) ﺍﻟﻜﻔﻞ (এবংহাকীম তিরমিযী-র কিতাব‘নাওয়াদিরুল উছূল’-য়ে এসেছে ‘যুল-কিফল’) ﺫﻭ ﺍﻟﻜﻔﻞ (। দু’টিই ইবনেওমর )রাঃ( থেকে যঈফ সুত্রে বর্ণিত হয়েছে(তাহকীক কুরতুবী হা/৪৩৫২-৫৩)।ইবনুকাছীর বলেন, তিরমিযীর হাদীছটি ‘হাসান’ বলা হ’লেও সেখানে ‘আল-কিফল’ বলাহয়েছে,যিনি কুরআনে বর্ণিত নবী ‘যুল-কিফল’ নন। বরং অন্য ব্যক্তি’(ইবনু কাছীর, তাফসীরসূরা আম্বিয়া ৮৫; আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪০৮৩)।(গ) সম্ভবতঃ ইবনু ওমর (রাঃ) বর্ণিতউপরোক্ত যঈফ হাদীছের উপরে ভিত্তি করেই ইমাম শাওকানী মন্তব্যকরেছেন, ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﺃﻧﻪ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺑﻨﻲ ﺇﺳﺮﺍﺋﻴﻞ، ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﺘﻮﺭﻉ ﻋﻦ ﺷﻴﺊ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻌﺎﺻﻲ ﻓﺘﺎﺏ ﻓﻐﻔﺮﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ، ﻟﻴﺲ ﻧﺒﻲ، ﻭﻗﺎﻝ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻫﻮ ﻧﺒﻲ -‘সঠিক কথা এই যে, তিনি বনু ইস্রাঈলের একজন ব্যক্তিছিলেন। যিনি কোন পাপের কাজে দ্বিধা করতেন না। পরে তিনি তওবা করেন। অতঃপর আল্লাহতাকে মাফ করেন। তিনি নবী নন। তবে একদল বলেছেন যে, তিনি নবী’(ফাৎহুল ক্বাদীর,তাফসীর সূরা আম্বিয়া ৮৫)।(ঘ) কুরতুবী আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) প্রমুখাৎ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)থেকে আরেকটি হাদীছ এনেছেন যে, ﺇﻥ ﺫﺍ ﺍﻟﻜﻔﻞ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻧﺒﻴًﺎ ﻭﻟﻜﻨﻪ ﻋﺒﺪﺍ ﺻﺎﻟﺤًﺎ ‘নিশ্চয়ইযুল-কিফল নবী ছিলেন না।বরং তিনি একজন সৎকর্মশীল বান্দাছিলেন’। অথচ ইবনু জারীরবর্ণিত উক্ত হাদীছটির অবস্থা এই যে, ﻻ ﺃﺻﻞ ﻟﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﻓﻮﻉ ﺑﻞ ﻣﻮﻗﻮﻑ ﺿﻌﻴﻒ ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﻄﺒﺮﻱﻭﻫﻮ ﻣﻨﻘﻄﻊ -‘এর মরফূ‘ হওয়ার অর্থাৎ রাসূল (ছাঃ) থেকে বর্ণিত হওয়ার কোন ভিত্তি নেই। বরংএটি মওকূফ, অর্থাৎ আবু মূসার নিজস্ব উক্তি। অথচ যার সূত্র যঈফ এবং যা ইবনু জারীর স্বীয়তাফসীরে মুনক্বাতি‘ অর্থাৎ ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন(তাহকীক কুরতুবী, আম্বিয়া৮৫)।(২)সূরা ছোয়াদ৪৮ আয়াতে বলা হয়েছে, ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﻭَﺍﻟْﻴَﺴَﻊَ ﻭَﺫَﺍ ﺍﻟْﻜِﻔْﻞِ ﻭَﻛُﻞٌّ ﻣِّﻦَﺍﻟْﺄَﺧْﻴَﺎﺭِ‘আর তুমি বর্ণনা কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘ ও যুল-কিফল সম্পর্কে। আর তারা সকলেই ছিলশ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত’(ছোয়াদ ৩৮/৪৮)।(ক) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কুরতুবী বলেন, ﺃﻱﻣﻤﻦ ﺃﺧﺔﻳﺮ ﻟﻠﻨﺒﻮﺓ অর্থাৎ তারা ছিলেন সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকেনবুঅতের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল’(কুরতুবী, তাফসীর সূরা ছোয়াদ ৪৮)।(খ) উক্তআয়াতের ব্যাখ্যায় শাওকানী স্বীয় তাফসীরে বলেন, ﺃﻧﻬﻢ ﻣﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻣﻦ ﺻﺒﺮ ﻣﻦﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀﻭﺗﺤﻤﻠﻮﺍ ﺍﻟﺸﺪﺍﺋﺪ ﻓﻲ ﺩﻳﻦ ﺍﻟﻠﻪ -‘তারা হ’লেন সেই সকল নবীগণের অন্তর্ভুক্ত যারাআল্লাহর পথে বহু কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেছেন’ অত:পর ﻭَﻛُﻞٌّ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﺄَﺧْﻴَﺎﺭِ -এর ব্যাখ্যায় তিনিবলেন, ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﺧﺘﺎﺭﻫﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻨﺒﻮّﺗﻪ ﻭﺍﺻﻄﻔﺎﻫﻢ ﻣﻦ ﺧﻠﻘﻪ ‘যাদেরকে আল্লাহ স্বীয় নবুঅতেরজন্য মনোনীত করেছেন এবং সৃষ্টিকুলের মধ্য হ’তে বাছাই করে নিয়েছেন’। অত:পরএর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ﺃﻣﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺳﻮﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺄﻥ ﻳﺬﻛﺮﻫﻢ؛ ﻟﻴﺴﻠﻚ ﻣﺴﻠﻜﻬﻢﻓﻲ ﺍﻟﺼﺒﺮ -‘আল্লাহ স্বীয় রাসূলকে নির্দেশ দিচ্ছেন,যেন তিনি ঐ সকল নবীদের কথাস্মরণকরেন, যাতে আল্লাহর পথে ধৈর্য ধারণের ব্যাপারে তিনি তাদের অনুসৃত পথে চলতেপারেন।’অথচ ইতিপূর্বে সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতের তাফসীরে তিনি যুল-কিফলকেনবীবলেননি।(গ) আশ্চর্যের বিষয় যে, আধুনিক মুফাসসির আবুবকর জাবের আল-জাযায়েরীস্বীয়‘আয়সারুত তাফাসীরে’সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতের তাফসীরের টীকায়লিখেছেন, ﻭﺃﺭﺟﺢ ﺍﻷﻗﻮﺍﻝ ﻣﺎ ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﻣﻮﺳﻰ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻـ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ :‘সব কথারসেরা কথা হ’ল যা বর্ণনা করেছেন আবূ মূসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হতে’- বলেই তিনি পূর্বেবর্ণিত যঈফ হাদীছটির অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে(অর্থাৎ তিনি নবী ছিলেন না)।অথচ সূরা ছোয়াদ ৪৮-এর আলোচনায় ৩০ হ’তে ৪৮ আয়াতপর্যন্তবর্ণিত দাঊদ (আঃ) হ’তে যুল-কিফল পর্যন্ত সকলকে তিনি নবীগণের অন্তর্ভুক্তবলে মন্তব্য করেছেন।এক্ষণে আমাদের বক্তব্য হ’ল, কুরআন যখন ইসমাঈল, ইদরীস,আল-ইয়াসা‘ প্রমুখ নবীগণের সাথে যুল-কিফলের নাম একসাথে বর্ণনা করেছে, তখন তিনিযে ‘নবী’ ছিলেন, এ বিশ্বাসই রাখতে হবে। এর বিপরীতেকোন বিশুদ্ধ দলীল নেই।আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।[1].তাফসীর কুরতুবী ও ইবনু কাছীর, সূরা আম্বিয়া ৮৫-৮৬ গৃহীত: ইবনু জারীর; হাদীছমুরসাল; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/২১০-১১ পৃঃ।