হযরত সালেহ আঃ এর জীবনী


হযরত ছালেহ (আ:) জীবনিহযরত ছালেহ(আলাইহিস সালাম)1.কওমে ছামূদ-এর প্রতি হযরত ছালেহ (আঃ)-এর দাওয়াত2.ছালেহ(আঃ)-এর দাওয়াতের ফলশ্রুতি1.কওমে ছামূদ-এর উপরে আপতিত গযবের বিবরণ2.গযবেরধরন3.কওমে ছামূদ-এর ধ্বংস কাহিনীতে শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ‘আদ জাতির ধ্বংসের প্রায় ৫০০বছরপরে হযরত ছালেহ (আঃ) কওমে ছামূদ-এর প্রতি নবী হিসাবে প্রেরিত হন।[1]কওমে‘আদ ও কওমে ছামূদ একই দাদা ‘ইরাম’-এর দু’টি বংশধারার নাম। এদের বংশ পরিচয় ইতিপূর্বে হূদ(আঃ)-এর আলোচনায় বিধৃত হয়েছে। কওমে ছামূদ আরবের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় বসবাসকরত। তাদেরপ্রধান শহরের নাম ছিল ‘হিজ্র’ যা শামদেশ অর্থাৎ সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল।বর্তমানে একে সাধারণভাবে ‘মাদায়েনে ছালেহ’ বলাহয়ে থাকে। ‘আদ জাতির ধ্বংসের পরছামূদ জাতি তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। তারাও ‘আদ জাতির মত শক্তিশালী ও বীরের জাতি ছিল। তারাপ্রস্তর খোদাই ও স্থাপত্য বিদ্যায় খুবই পারদর্শী ছিল। সমতল ভূমিতে বিশালকায় অট্টালিকা নির্মাণছাড়াও পর্বতগাত্র খোদাই করে তারা নানারূপ প্রকোষ্ঠ নির্মাণ করত। তাদের স্থাপত্যেরনিদর্শনাবলী আজও বিদ্যমান রয়েছে। এগুলোর গায়ে ইরামী ও ছামূদী বর্ণমালার শিলালিপিখোদিত রয়েছে। অভিশপ্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে এলাকাটি আজও পরিত্যক্ত অবস্থায়রয়েছে। কেউ সেখানে বসবাস করে না। ৯ম হিজরীতে তাবূক যুদ্ধে যাওয়ার পথেমুসলিম বাহিনী হিজ্রে অবতরণকরলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদেরকে সেখানে প্রবেশ করতেনিষেধ করে বলেন, ﻻَ ﺗَﺪْﺧُﻠُﻮﺍ ﻣَﺴَﺎﻛِﻦَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﺇِﻻَّﺃَﻥْ ﺗَﻜُﻮﻧُﻮﺍ ﺑَﺎﻛِﻴْﻦَ ﺃَﻥْ ﻳُﺼِﻴﺒَﻜُﻢْ ﻣَﺎﺃَﺻَﺎﺑَﻬُﻢْ -‘তোমরা ঐসব অভিশপ্তদের এলাকায় প্রবেশ করো না ক্রন্দনরত অবস্থায়ব্যতীত। যদি ক্রন্দন করতে না পার, তাহ’লে প্রবেশ করো না। তাহ’লে তোমাদের উপরঐ গযব আসতে পারে, যা তাদের উপর এসেছিল’।[2]রাসূলের এই বক্তব্যের মধ্যে সুক্ষ্মতাৎপর্য এই যে, এগুলি দেখে যদি মানুষ আল্লাহর গযবে ভীত না হয়, তাহ’লে তাদেরঅন্তর শক্ত হয়ে যাবে এবং ঐসব অভিশপ্তদের মত অহংকারী ও হঠকারী আচরণ করবে।ফলে তাদের উপর অনুরূপ গযব নেমে আসবে, যেরূপ ইতিপূর্বে ঐসব অভিশপ্তদেরউপর নেমে এসেছিল।পার্থিব বিত্ত-বৈভব ও ধনৈশ্বর্যের পরিণতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অশুভহয়ে থাকে। বিত্তশালীরা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভুলে গিয়ে ভ্রান্ত পথে পা বাড়ায়। ছামূদজাতির বেলায়ও তাই হয়েছিল। অথচ কওমে নূহের কঠিন শাস্তির ঘটনাবলী তখনওলোকমুখে আলোচিত হ’ত। আর কওমে ‘আদ-এর নিশ্চিহ্ন হওয়ার ঘটনা তো তাদের কাছেএকপ্রকার টাটকা ঘটনাই ছিল।অথচ তাদের ভাইদের ধ্বংসস্ত্তপের উপরে বড় বড় বিলাসবহুলঅট্টালিকা নির্মাণ করে ও বিত্ত বৈভবের মালিক হয়ে তারা পিছনের কথা ভুলে গেল। এমনকি তারা‘আদ জাতির মত অহংকারীকার্যকলাপ শুরু করে দিল। তারা শিরক ও মূর্তিপূজায় লিপ্ত হ’ল।এমতাবস্থায় তাদের হেদায়াতের জন্য তাদেরই বংশের মধ্য হ’তে ছালেহ (আঃ)-কে আল্লাহনবী মনোনীত করে পাঠালেন।কওমে ছামূদ-এর প্রতি হযরত ছালেহ (আঃ)-এর দাওয়াত:পথভোলা জাতিকে হযরত ছালেহ (আঃ) সর্বপ্রথম তাওহীদের দাওয়াত দিলেন। তিনিতাদেরকে মূর্তিপূজাসহ যাবতীয় শিরক ও কুসংস্কার ত্যাগ করে এক আললাহর ইবাদত ও তাঁরপ্রেরিত বিধান সমূহের প্রতি আনুগত্যের আহবান জানালেন। তিনি যৌবনকালে নবুঅতপ্রাপ্ত হন।তখন থেকে বার্ধক্যকাল অবধি তিনি স্বীয় কওমকে নিরন্তর দাওয়াত দিতে থাকেন। কওমেরদুর্বল শ্রেণীর লোকেরা তাঁর উপরে ঈমান আনলেও শক্তিশালী ও নেতৃস্থানীয়লোকেরা তাঁকে অস্বীকার করে। ছালেহ (আঃ)-এর দাওয়াত সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের৭৩-৭৯ আয়াতে আল্লাহবলেন, ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺛَﻤُﻮْﺩَ ﺃَﺧَﺎﻫُﻢْ ﺻَﺎﻟِﺤﺎً ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺍﻋْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﻣَﺎ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦْ ﺇِﻟَـﻪٍﻏَﻴْﺮُﻩُ ﻗَﺪْ ﺟَﺎﺀﺗْﻜُﻢْ ﺑَﻴِّﻨَﺔٌ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻜُﻢْ ﻫَـﺬِﻩِ ﻧَﺎﻗَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻟَﻜُﻢْ ﺁﻳَﺔً ﻓَﺬَﺭُﻭْﻫَﺎ ﺗَﺄْﻛُﻞْ ﻓِﻲْ ﺃَﺭْﺽِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﻻَ ﺗَﻤَﺴُّﻮْﻫَﺎﺑِﺴُﻮْﺀٍ ﻓَﻴَﺄْﺧُﺬَﻛُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﺃَﻟِﻴْﻢٌ، ﻭَﺍﺫْﻛُﺮُﻭْﺍ ﺇِﺫْ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢْ ﺧُﻠَﻔَﺎﺀَ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِ ﻋَﺎﺩٍ ﻭَﺑَﻮَّﺃَﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺗَﺘَّﺨِﺬُﻭْﻥَ ﻣِﻦْﺳُﻬُﻮْﻟِﻬَﺎ ﻗُﺼُﻮْﺭﺍً ﻭَﺗَﻨْﺤِﺘُﻮْﻥَ ﺍﻟْﺠِﺒَﺎﻝَ ﺑُﻴُﻮْﺗﺎً ﻓَﺎﺫْﻛُﺮُﻭْﺍ ﺁﻵﺀَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﻻَ ﺗَﻌْﺜَﻮْﺍ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣُﻔْﺴِﺪِﻳْﻦَ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﻤَﻸُﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺍﺳْﺘَﻜْﺒَﺮُﻭْﺍ ﻣِﻦْ ﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻟِﻠَّﺬِﻳْﻦَ ﺍﺳْﺘُﻀْﻌِﻔُﻮْﺍ ﻟِﻤَﻦْ ﺁﻣَﻦَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺃَﺗَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ ﺃَﻥَّ ﺻَﺎﻟِﺤﺎً ﻣُّﺮْﺳَﻞٌ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻪِ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍﺇِﻧَّﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺃُﺭْﺳِﻞَ ﺑِﻪِ ﻣُﺆْﻣِﻨُﻮْﻥَ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺍﺳْﺘَﻜْﺒَﺮُﻭْﺍ ﺇِﻧَّﺎ ﺑِﺎﻟَّﺬِﻳْﺂﻣَﻨﺘُﻢْ ﺑِﻪِ ﻛَﺎﻓِﺮُﻭْﻥَ، ﻓَﻌَﻘَﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻨَّﺎﻗَﺔَ ﻭَﻋَﺘَﻮْﺍ ﻋَﻦْﺃَﻣْﺮِ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻳَﺎ ﺻَﺎﻟِﺢُ ﺍﺋْﺘِﻨَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺗَﻌِﺪُﻧَﺎ ﺇِﻥْ ﻛُﻨْﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴْﻦَ، ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗْﻬُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺟْﻔَﺔُ ﻓَﺄَﺻْﺒَﺤُﻮْﺍ ﻓِﻲْﺩَﺍﺭِﻫِﻢْ ﺟَﺎﺛِﻤِﻴْﻦَ، ﻓَﺘَﻮَﻟَّﻰ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﻟَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻐْﺘُﻜُﻤْﺮِﺳَﺎﻟَﺔَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻭَﻧَﺼَﺤْﺖُ ﻟَﻜُﻢْ ﻭَﻟَﻜِﻦ ﻻَّ ﺗُﺤِﺒُّﻮْﻥَﺍﻟﻨَّﺎﺻِﺤِﻴْﻦَ – ‏)ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ ৭৩-৭৯(-অনুবাদ: ‘ছামূদ জাতির নিকটে (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) তাদেরভাই ছালেহকে। সে বলল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীততোমাদের কোন উপাস্যনেই। তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তেএকটি প্রমাণ এসে গেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য নিদর্শন স্বরূপ। অতএবতোমরা একে ছেড়ে দাও আল্লাহর যমীনে চরে বেড়াবে। তোমরা একেঅন্যায়ভাবে স্পর্শ করবে না। তাতে মর্মান্তিক শাস্তি তোমাদের পাকড়াও করবে’(আ‘রাফ৭/৭৩)। ‘তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে ‘আদ জাতির পরে তাদেরস্থলাভিষিক্ত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠিকানা করে দেন। সেমতে তোমরাসমতল ভূমিতে অট্টালিকা সমূহ নির্মাণ করেছ এবং পাহাড়ের গায়ে খোদাই করে প্রকোষ্ঠসমূহ নির্মাণ করেছ। অতএব তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ সমূহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অনর্থসৃষ্টি করো না’ (৭৪)। কিন্তু তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতারা ঈমানদার দুর্বল শ্রেণীরউদ্দেশ্যে বলল, ‘তোমরা কি জানো যে, ছালেহ তার প্রভুর পক্ষ হ’তে প্রেরিত নবী?তারা বলল,আমরা তো তার আনীত বিষয় সমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী’ (৭৫)।‘(জবাবে)দাদ্ভিক নেতারা বলল, তোমরা যে বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ, আমরা সে বিষয়েঅস্বীকারকারী’ (৭৬)। ‘অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করল এবং তাদের প্রভুর আদেশঅমান্য করল। তারা বলল, হে ছালেহ! তুমি নিয়ে এস যদ্বারা তুমি আমাদের ভয় দেখাতে, যদি তুমিআল্লাহর প্রেরিত নবীদের একজন হয়ে থাক’ (৭৭)। ‘অতঃপরভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করলএবং সকাল বেলা নিজ নিজ গৃহে সবাই উপুড় হয়ে পড়ে রইল’ (৭৮)। ‘ছালেহ তাদের কাছথেকে প্রস্থান করল এবং বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের কাছে আমারপ্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদেরকল্যাণ কামনা করেছি। কিন্তু তোমরাকল্যাণকামীদের ভালবাস না’(আ‘রাফ ৭/৭৩-৭৯)।ছালেহ (আঃ)-এর উপরোক্ত দাওয়াত ও তাঁরকওমের আচরণ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ২২টি সূরায় ৮৭টিআয়াতে বিভিন্নভাবে বর্ণিতহয়েছে।[3]ছালেহ (আঃ)-এর দাওয়াতের ফলশ্রুতি:ইতিপূর্বেকার ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলির ন্যায়কওমে ছামূদও তাদের নবী হযরত ছালেহ (আঃ)-কে অমান্য করে। তারা বিগত ‘আদ জাতিরন্যায়পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে থাকে। নবী তাদেরকে যতই দাওয়াত দিতে থাকেন,তাদের অবাধ্যতা ততই সীমা লংঘন করতে থাকে। ‘তারা বলল, ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻳَﺎ ﺻَﺎﻟِﺢُ ﻗَﺪْ ﻛُﻨْﺖَ ﻓِﻴْﻨَﺎ ﻣَﺮْﺟُﻮًّﺍﻗَﺒْﻞَ ﻫَﺬَﺍ ﺃَﺗَﻨْﻬَﺎﻧَﺎ ﺃَﻥ ﻧَّﻌْﺒُﺪَ ﻣَﺎ ﻳَﻌْﺒُﺪُ ﺁﺑَﺎﺅُﻧَﺎ ﻭَﺇِﻧَّﻨَﺎ ﻟَﻔِﻲْ ﺷَﻚٍّ ﻣِّﻤَّﺎ ﺗَﺪْﻋُﻮْﻧَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣُﺮِﻳْﺐٍ- ‏)ﻫﻮﺩ ৬২(-হেছালেহ! ইতিপূর্বে আপনি আমাদের কাছে আকাংখিত ব্যক্তি ছিলেন। আপনি কি বাপ-দাদার আমলথেকে চলে আসা উপাস্যদের পূজা করা থেকে আমাদের নিষেধ করছেন? অথচ আমরাআপনার দাওয়াতের বিষয়ে যথেষ্ট সন্দিহান’(হূদ ১১/৬২)। তারা কওমের দুর্বল ও দরিদ্রশ্রেণীর লোকদের জমা করে বলল, ﺃَﺗَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ ﺃَﻥَّ ﺻَﺎﻟِﺤﺎً ﻣُّﺮْﺳَﻞٌ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻪِ -‘তোমরা কি বিশ্বাসকর যে, ছালেহ তার প্রভুর পক্ষ হ’তে প্রেরিত ব্যক্তি’? তারা জবাব দিল ,ِ ﺇِﻧَّﺎﺑِﻤَﺎ ﺃُﺭْﺳِﻞَ ﺑِﻪِﻣُﺆْﻣِﻨُﻮْﻥَ-‘আমরা তো তাঁর আনীত বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী’। একথা শুনেদাম্ভিকনেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠল, ‘তোমরা যে বিষয়ে ঈমান এনেছ, আমরা ঐসবকিছুকে অস্বীকার করি’(আ‘রাফ ৭/৭৫)। তারা আরও বলল, ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِّﻨَّﺎ ﻭَﺍﺣِﺪًﺍ ﻧَّﺘَّﺒِﻌُﻪُ ﺇِﻧَّﺎ ﺇِﺫًﺍ ﻟَّﻔِﻲْﺿَﻼَﻝٍ ﻭَﺳُﻌُﺮٍ – ﺃَﺅُﻟْﻘِﻲَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣِﻦ ﺑَﻴْﻨِﻨَﺎ ﺑَﻞْ ﻫُﻮَ ﻛَﺬَّﺍﺏٌ ﺃَﺷِﺮٌ – ‏) ﺍﻟﻘﻤﺮ ২৪-২৫(-‘আমরা কি আমাদেরইএকজনের অনুসরণ করব? তাহ’লে তো আমরা বিপথগামী ও বিকারগ্রস্ত বলে গণ্য হব’।‘আমাদের মধ্যে কি কেবল তারই উপরেঅহী নাযিল করা হয়েছে? আসলে সে একজনমহা মিথ্যাবাদী ও দাম্ভিক’(ক্বামার ৫৪/২৪-২৫)। তারা ছালেহকে বলল, ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺍﻃَّﻴَّﺮْﻧَﺎ ﺑِﻚَ ﻭَﺑِﻤَﻦ ﻣَّﻌَﻚَ…-‘আমরা তোমাকে ও তোমার সাথে যারা আছে তাদেরকে অকল্যাণের প্রতীক মনেকরি’…(নামল ২৭/৪৭)। এইভাবে সমাজের শক্তিশালী শ্রেণী তাদের নবীকে অমান্যকরল এবং মূর্তিপূজা সহ নানাবিধ শিরকও কুসংস্কারে লিপ্ত হ’ল এবং সমাজে অনর্থ সৃষ্টি করতেথাকল। আল্লাহর ভাষায়, ﻓَﺎﺳْﺘَﺤَﺒُّﻮﺍ ﺍﻟْﻌَﻤَﻰ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗْﻬُﻢْ ﺻَﺎﻋِﻘَﺔُ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟْﻬُﻮْﻥِ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮْﺍﻳَﻜْﺴِﺒُﻮْﻥَ -‘তারা হেদায়াতের চাইতে অন্ধত্বকেই পসন্দ করে নিল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মেরফলে অবমাননাকর শাস্তির গর্জন এসে তাদের পাকড়াওকরল’(ফুছছিলাত/হামীম সাজদাহ ৪১/১৭)।কওমে ছামূদ-এর উপরে আপতিত গযবের বিবরণ :ইবনু কাছীর বর্ণনা করেন যে,হযরতছালেহ (আঃ)-এর নিরন্তর দাওয়াতে অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রদায়ের নেতারা স্থির করল যে,তাঁর কাছে এমন একটা বিষয় দাবী করতে হবে, যা পূরণ করতে তিনি ব্যর্থ হবেন এবং এরফলে তাঁর দাওয়াতও বন্ধ হয়ে যাবে। সেমতে তারা এসে তাঁর নিকটে দাবী করল যে,আপনি যদি আল্লাহর সত্যিকারের নবী হন, তাহ’লে আমাদেরকে নিকটবর্তী ‘কাতেবা’পাহাড়ের ভিতর থেকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী সবল ও স্বাস্থ্যবতী উষ্ট্রী বেরকরে এনে দেখান।এ দাবী শুনে হযরত ছালেহ (আঃ) তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনিলেন যে, যদি তোমাদের দাবী পুরণ করা হয়, তবে তোমরা আমার নবুঅতের প্রতি ওআমার দাওয়াতের প্রতি ঈমান আনবে কি-না। জেনে রেখ, উক্ত মু‘জেযা প্রদর্শনেরপরেও যদি তোমরা ঈমান না আনো, তাহ’লে আল্লাহর গযবে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে’।এতে সবাই স্বীকৃত হ’ল ও উক্ত মর্মে অঙ্গীকার করল। তখন ছালেহ (আঃ) ছালাতেদাঁড়িয়ে গেলেনএবং আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করলেন। আল্লাহ পাক তার দো‘আকবুলকরলেন এবং বললেন, ﺇِﻧَّﺎ ﻣُﺮْﺳِﻠُﻮ ﺍﻟﻨَّﺎﻗَﺔِ ﻓِﺘْﻨَﺔً ﻟَّﻬُﻢْ ﻓَﺎﺭْﺗَﻘِﺒْﻬُﻢْ ﻭَﺍﺻْﻄَﺒِﺮْ ‘আমরা তাদেরপরীক্ষার জন্য একটি উষ্ট্রী প্রেরণ করব। তুমি তাদেরপ্রতি লক্ষ্য রাখ এবং ধৈর্য ধারণকর’(ক্বামার ৫৪/২৭)। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ের গায়ে কম্পন দেখা দিল এবং একটি বিরাটপ্রস্তর খন্ড বিস্ফোরিত হয়ে তার ভিতর থেকে কওমের নেতাদের দাবীর অনুরূপ একটিগর্ভবতী ও লাবণ্যবতী তরতাযা উষ্ট্রী বেরিয়ে এল।ছালেহ (আঃ)-এর এই বিস্ময়করমু‘জেযা দেখে গোত্রের নেতা সহ তার সমর্থক লোকেরা সাথে সাথে মুসলমান হয়েগেল। অবশিষ্টরাও হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল। কিন্তুপ্রধান ধর্মনেতা ও অন্যান্য সমাজনেতাদের বাধার কারণে হ’তে পারল না। তারা উল্টা বলল, ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺍﻃَّﻴَّﺮْﻧَﺎ ﺑِﻚَ ﻭَﺑِﻤَﻦ ﻣَّﻌَﻚَ …-‘আমরাতোমাকে ও তোমার সাথে যারা আছে তাদেরকে অকল্যাণের প্রতীক মনেকরি…’(নামল ২৭/৪৭)। হযরত ছালেহ (আঃ) কওমের নেতাদের এভাবে অঙ্গীকার ভঙ্গকরতে দেখে এবং পাল্টা তাঁকেই দায়ী করতে দেখে দারুণভাবে শংকিত হ’লেন যে,যেকোনসময়ে এরা আল্লাহর গযবে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি তাদেরকে সাবধান করেবললেন, ﻗَﺎﻝَ ﻃَﺎﺋِﺮُﻛُﻢْ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑَﻞْ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﻗَﻮْﻡٌ ﺗُﻔْﺘَﻨُﻮْﻥَ -‘দেখ, তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহরনিকটে রয়েছে। বরং তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করাহচ্ছে’(নামল২৭/৪৭)। অতঃপর পয়গম্বরসূলভ দয়া প্রকাশ করে বললেন, ﻫَـﺬِﻩِ ﻧَﺎﻗَﺔُ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻟَﻜُﻢْ ﺁﻳَﺔً ﻓَﺬَﺭُﻭْﻫَﺎ ﺗَﺄْﻛُﻞْﻓِﻲْ ﺃَﺭْﺽِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻭَﻻَ ﺗَﻤَﺴُّﻮْﻫَﺎ ﺑِﺴُﻮْﺀٍ ﻓَﻴَﺄْﺧُﺬَﻛُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﻗَﺮِﻳْﺐٌ- ‏)ﻫﻮﺩ ৬৪(-‘এটি আল্লাহর উষ্ট্রী।তোমাদের জন্য নিদর্শন স্বরূপ। একে আল্লাহর যমীনে স্বাধীনভাবে চরে বেড়াতেদাও। সাবধান! একে অসৎ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করো না। তাহ’লে তোমাদেরকে সত্বরযন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে’(হূদ ১১/৬৪)।আল্লাহ উক্ত উষ্ট্রীর জন্য এবং লোকদেরজন্য পানি বণ্টন করে দিয়েছিলেন। তিনি নবীকে বলে দেন ,َ ﻧَﺒِّﺌْﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﻤَﺎﺀَ ﻗِﺴْﻤَﺔٌ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻛُﻞُّﺷِﺮْﺏٍ ﻣُّﺤْﺘَﻀَﺮٌ ‘হে ছালেহ! তুমি ওদেরকে বলে দাও যে, কূপের পানি তাদের মধ্যে বণ্টিতহয়েছে। প্রত্যেক পালায় তারা হাযির হবে’(ক্বামার ৫৪/২৮)। ﻟَّﻬَﺎ ﺷِﺮْﺏٌ ﻭَﻟَﻜُﻢْ ﺷِﺮْﺏُ ﻳَﻮْﻡٍﻣَّﻌْﻠُﻮْﻡٍ-‘একদিন উষ্ট্রীর ও পরের দিন তোমাদের (পানি পানের) জন্য পালা নির্ধারিতহয়েছে’(ক্বামার ৫৪/২৮; শো‘আরা ২৬/১৫৫)।আল্লাহ তা‘আলা কওমে ছামূদ-এর জন্য উক্তউষ্ট্রীকেই সর্বশেষ পরীক্ষা হিসাবে নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ﻭَﺁﺗَﻴْﻨَﺎ ﺛَﻤُﻮْﺩَﺍﻟﻨَّﺎﻗَﺔَ ﻣُﺒْﺼِﺮَﺓً ﻓَﻈَﻠَﻤُﻮْﺍ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﻧُﺮْﺳِﻞُ ﺑِﺎﻵﻳَﺎﺕِ ﺇِﻻَّ ﺗَﺨْﻮِﻳْﻔًﺎ -‘আর আমরা ছামূদকে উষ্ট্রী দিয়েছিলামস্পষ্ট নিদর্শন হিসাবে। কিন্তু তারা তার প্রতি যুলুম করেছিল। বস্ত্ততঃ আমরা ভীতি প্রদর্শনেরউদ্দেশ্যেই নিদর্শন সমূহ প্রেরণ করে থাকি’(ইসরা ১৭/৫৯)।ছামূদ জাতির লোকেরা যে কূপথেকে পানি পান করত ও তাদের গবাদি পশুদের পানি পান করাত, এ উষ্ট্রীও সেই কূপথেকে পানি পান করত। উষ্ট্রী যেদিন পানি পান করত, সেদিন কূয়ার পানি নিঃশেষে পান করেফেলত। অবশ্য ঐদিন লোকেরা উষ্ট্রীর দুধ পান করত এবং বাকী দুধ দ্বারা তাদের সবপাত্র ভরে নিত। কিন্তু এই হতভাগাদের কপালে এত সুখ সহ্য হ’লনা। তারা একদিন পানি না পাওয়াকেঅসুবিধার কারণ হিসাবে গণ্য করল।তাছাড়া উষ্ট্রী যখন ময়দানে চরে বেড়াত, তখন তার বিশালদেহ ও অপরূপ চেহারা দেখে অন্যান্য গবাদি পশু ভয় পেত। ফলে তারা উষ্ট্রীকেমেরে ফেলতে মনস্থ করল। কিন্তু আল্লাহর গযবের ভয়ে কেউ সাহস করল না।ইবনুজারীর প্রমুখ মুফাসসিরগণের বর্ণনা মতে, অবশেষে শয়তান তাদেরকে সর্ববৃহৎ কুমন্ত্রণাদিল। আর তা হ’ল নারীরপ্রলোভন। ছামূদ গোত্রের দু’জন পরমা সুন্দরী মহিলা, যারা ছালেহ(আঃ)-এর প্রতি দারুণ বিদ্বেষী ছিল, তারা তাদের রূপ-যৌবন দেখিয়েদু’জন পথভ্রষ্ট যুবককেউষ্ট্রী হত্যায় রাযী করালো। অতঃপর তারা তীর ও তরবারির আঘাতে উষ্ট্রীকে পাকেটে হত্যা করে ফেলল। হত্যাকারী যুবকদ্বয়ের প্রধানকেলক্ষ্য করেই কুরআনেবর্ণিত হয়েছে, ﺇِﺫِ ﺍﻧْﺒَﻌَﺚَ ﺃَﺷْﻘَﺎﻫَﺎ ‘যখন তাদের সবচেয়ে হতভাগা লোকটি তৎপর হয়েউঠেছিল’(শাম্স ৯১/১২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা খুৎবায় উক্ত আয়াত পাঠ করে বলেন, ঐ লোকটিছিল কঠোর হৃদয় ও দুশ্চরিত্র ( ﺭﺟﻠﻌﺰﻳﺰ ﻋﺎﺭﻡ )।[4]কেননা তার কারণেই গোটা ছামূদ জাতিগযবে পতিত হয়। আল্লাহ বলেন, ﻓَﻨَﺎﺩَﻭْﺍ ﺻَﺎﺣِﺒَﻬُﻢْ ﻓَﺘَﻌَﺎﻃَﻰ ﻓَﻌَﻘَﺮَ، ﻓَﻜَﻴْﻒَ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺬَﺍﺑِﻲ ﻭَﻧُﺬُﺭِ، ﺇِﻧَّﺎﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﻴْﺤَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً ﻓَﻜَﺎﻧُﻮْﺍ ﻛَﻬَﺸِﻴْﻢِ ﺍﻟْﻤُﺤْﺘَﻈِﺮِ -‘অতঃপর তারা তাদের প্রধান ব্যক্তিকে ডাকল।অতঃপর সে উষ্ট্রীকে ধরল ও বধ করল’(২৯)। ‘অতঃপর কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি ওভীতি প্রদর্শন!(৩০)। ‘আমরা তাদের প্রতি প্রেরণ করলাম একটিমাত্র নিনাদ। আর তাতেইতারাহয়ে গেল খোয়াড় মালিকের চূর্ণিত শুষ্ক খড়কুটো সদৃশ’(ক্বামার ৫৪/২৯-৩১)।উল্লেখ্যযে, উষ্ট্রী হত্যার ঘটনার পর ছালেহ (আঃ) স্বীয় কওমকে আল্লাহর নির্দেশ জানিয়েদিলেন যে, ﺗَﻤَﺘَّﻌُﻮْﺍ ﻓِﻲْ ﺩَﺍﺭِﻛُﻢْ ﺛَﻼَﺛَﺔَ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺫَﻟِﻚَ ﻭَﻋْﺪٌ ﻏَﻴْﺮُ ﻣَﻜْﺬُﻭْﺏٍ -‘এখন থেকে তিনদিন তোমরাতোমাদের ঘরে আরাম করে নাও (এর পরেই আযাব নেমে আসবে)। এ ওয়াদার (অর্থাৎ এসময়সীমার) কোন ব্যতিক্রম হবে না’(হূদ ১১/৬৫)। কিন্তু এই হতভাগারা এরূপ কঠোর হুঁশিয়ারিরকোন গুরুত্ব না দিয়েবরং তাচ্ছিল্যভরে বলল, ﻳَﺎ ﺻَﺎﻟِﺢُ ﺍﺋْﺘِﻨَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺗَﻌِﺪُﻧَﺎ ﺇِﻥْ ﻛُﻨْﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴْﻦَ ‘হেছালেহ! তুমি যার ভয় দেখাচ্ছ, তা নিয়ে আস দেখি, যদি তুমি সত্যিকারের নবী হয়েথাক’(আ‘রাফ ৭/৭৭)। তারা বলল, আমরা জানতে চাই,এ শাস্তি কিভাবে আসবে, কোত্থেকেআসবে, এর লক্ষণ কি হবে? ছালেহ (আঃ)বললেন, আগামীকাল বৃহষ্পতিবার তোমাদেরসকলের মুখমন্ডল হলুদ হয়ে যাবে। পরের দিন শুক্রবার তোমাদের সবার মুখমন্ডল লালবর্ণধারণ করবে। অতঃপর শনিবার দিন সবার মুখমন্ডল ঘোর কৃষ্ণবর্ণ হয়ে যাবে। এটাই হবেতোমাদের জীবনের শেষ দিন।[5]একথা শোনার পর হঠকারী জাতি আল্লাহর নিকটে তওবাকরে ক্ষমা প্রার্থনার পরিবর্তে স্বয়ং ছালেহ (আঃ)-কেই হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ভাবল,যদি আযাব এসেই যায়, তবে তার আগে একেই শেষ করে দিই। কেননা এর নবুঅতকেঅস্বীকার করার কারণেই গযব আসছে।অতএব এই ব্যক্তিই গযবের জন্য মূলতঃ দায়ী। আরযদি গযব না আসে, তাহ’লে সে মিথ্যার দন্ড ভোগ করুক’। কওমের নয়জন নেতা এ নিকৃষ্টষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দেয়। তাদের এই চক্রান্তের বিষয় সূরা নমলে বর্ণিত হয়েছেএভাবে যে, ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳْﻨَﺔِ ﺗِﺴْﻌَﺔُ ﺭَﻫْﻂٍ ﻳُﻔْﺴِﺪُﻭْﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﻻَ ﻳُﺼْﻠِﺤُﻮْﻥَ، ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﺗَﻘَﺎﺳَﻤُﻮْﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِﻟَﻨُﺒَﻴِّﺘَﻨَّـﻪُ ﻭَﺃَﻫْﻠَﻪُ ﺛُﻢَّ ﻟَﻨَﻘُﻮﻟَﻦَّ ﻟِﻮَﻟِﻴِّﻪِ ﻣَﺎ ﺷَﻬِﺪْﻧَﺎ ﻣَﻬْﻠِﻚَ ﺃَﻫْﻠِﻪِ ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﻟَﺼَﺎﺩِﻗُﻮْﻥَ- ‏) ﻧﻤﻞ ৪৮-৪৯(-‘সেই শহরে ছিলএমন নয় ব্যক্তি, যারা জনপদে অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াত এবং কোনরূপ সংশোধনমূলক কাজতারা করত না’ (৪৮)। ‘তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহর নামে শপথকর যে, আমরারাত্রিকালে ছালেহ ও তার পরিবার বর্গকে হত্যা করব। অতঃপর তার রক্তের দাবীদারকে আমরাবলে দেব যে, আমরা এ হত্যাকান্ড প্রত্যক্ষ করিনি। আর আমরা নিশ্চিতভাবে সত্যবাদী’(নমল২৭/৪৮-৪৯)।তারা যুক্তি দিল, আমরা আমাদের কথায় অবশ্যই সত্যবাদী প্রমাণিত হব। কারণ রাত্রিরঅন্ধকারে কে কাকে মেরেছে, তা আমরা নির্দিষ্টভাবে জানতে পারব না। নেতৃবৃন্দের এসর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও চক্রান্ত অনুযায়ী নয় নেতা তাদের প্রধান ক্বাদার বিন সালেফ-এরনেতৃত্বে রাতের বেলা ছালেহ (আঃ)-কে হত্যা করার জন্য তাঁর বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানাহ’ল। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা পথিমধ্যেই তাদেরকে প্রস্তর বর্ষণে ধ্বংস করে দিলেন।আল্লাহ বলেন, ﻭَﻣَﻜَﺮُﻭْﺍ ﻣَﻜْﺮًﺍ ﻭَﻣَﻜَﺮْﻧَﺎ ﻣَﻜْﺮًﺍ ﻭَﻫُﻢْ ﻻَ ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭْﻥَ، ﻓَﺎﻧْﻈُﺮْ ﻛَﻴْﻒَ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺎﻗِﺒَﺔُ ﻣَﻜْﺮِﻫِﻢْ ﺃَﻧَّﺎﺩَﻣَّﺮْﻧَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻗَﻮْﻣَﻬُﻢْ ﺃَﺟْﻤَﻌِﻴْﻦَ – ‏) ﻧﻤﻞ ৫০-৫১(-‘তারা ষড়যন্ত্র করল। আমরাও পাল্টা কৌশল করলাম। অথচতারা কিছুই জানতে পারল না’। ‘তাদের চক্রান্তের পরিণতি দেখ। আমরা অবশ্যই তাদেরকে ওতাদের সম্প্রদায়ের সবাইকে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম’(নমল ২৭/৫০-৫১)।উল্লেখ্য যে,কুরআনে ঐ নয় ব্যক্তিকে ﺗِﺴْﻌَﺔُ ﺭَﻫْﻂٍ বা ‘নয়টি দল’ বলা হয়েছে। এতে বুঝা যায় যে, ওরানয়জন নয়টি দলের নেতা ছিল এবং তারা ছিল হিজ্র জনপদের প্রধান নেতৃবৃন্দ(ইবনু কাছীর, সূরানমল, ঐ)।উপরোক্ত চক্রান্তের ঘটনায় একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, জাতির শীর্ষ দুষ্টমতিনেতারা কুফর, শিরক, হত্যা-সন্ত্রাস ও ডাকাতি-লুণ্ঠনের মত জঘন্য অপরাধ সমূহ নির্বিবাদে করেগেলেও তারা তাদের জনগণের কাছে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হ’তে রাযী ছিল না। আর তাই একমিথ্যাকে ঢাকার জন্য শত মিথ্যার আশ্রয় নিতেও তারা কখনো কুণ্ঠাবোধ করে না।যাই হোকনির্ধারিত দিনে গযব নাযিল হওয়ার প্রাক্কালেই আল্লাহর হুকুমে হযরত ছালেহ (আঃ) স্বীয়ঈমানদার সাথীগণকে নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় তিনি স্বীয় কওমকে উদ্দেশ্যকরে বলেন, ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﻟَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻐْﺘُﻜُﻢْ ﺭِﺳَﺎﻟَﺔَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻭَﻧَﺼَﺤْﺖُ ﻟَﻜُﻢْ ﻭَﻟَﻜِﻦ ﻻَّ ﺗُﺤِﺒُّﻮْﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺻِﺤِﻴْﻦَ -‘হে আমারজাতি! আমি তোমাদের কাছে স্বীয় পালনকর্তার পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি এবং সর্বদা তোমাদেরকল্যাণ কামনা করেছি। কিন্তু তোমরা তোমাদের কল্যাণকামীদের ভালবাসো না’(আ‘রাফ৭/৭৯)।গযবের ধরন :হযরত ছালেহ (আঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণীঅনুযায়ী বৃহষ্পতিবার ভোরেঅবিশ্বাসী কওমের সকলের মুখমন্ডল গভীর হলুদ বর্ণ ধারণ করল। কিন্তু তারা ঈমান আনলনা বা তওবা করল না। বরং উল্টা হযরত ছালেহ (আঃ)-এর উপর চটে গেল ও তাঁকে হত্যা করারজন্য খুঁজতে লাগল। দ্বিতীয় দিন সবার মুখমন্ডল লাল বর্ণ ও তৃতীয় দিন ঘোর কৃষ্ণবর্ণহয়ে গেল। তখন সবই নিরাশ হয়ে গযবের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। চতুর্থ দিন রবিবারসকালে সবাই মৃত্যুর জন্য প্রস্ত্ততি নিয়ে সুগন্ধি মেখে অপেক্ষা করতে থাকে।[6]এমতাবস্থায় ভীষণ ভূমিকম্প শুরু হ’ল এবং উপর থেকে বিকট ও ভয়াবহ এক গর্জন শোনাগেল। ফলে সবাই যার যার স্থানে একযোগে অধোমুখী হয়ে ভূতলশায়ী হ’ল(আ‘রাফ৭/৭৮; হূদ ১১/৬৭-৬৮)এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হ’ল এমনভাবে, যেন তারা কোনদিন সেখানে ছিল না’।অন্য আয়াতে এসেছে যে, ‘আমরা তাদের প্রতি একটিমাত্র নিনাদ পাঠিয়েছিলাম। তাতেই তারাশুষ্ক খড়কুটোর মত হয়ে গেল’(ক্বামার ৫৪/৩১)।কোন কোন হাদীছে এসেছেরাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ছামূদ জাতির উপরে আপতিত গযব থেকে ‘আবু রেগাল’ নামক জনৈকঅবিশ্বাসী নেতা ঐ সময় মক্কায় থাকার কারণে বেঁচে গিয়েছিল। কিন্তু হারাম শরীফথেকে বেরোবার সাথে সাথে সেও গযবে পতিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাহাবায়েকেরামকে মক্কার বাইরে আবু রেগালের উক্ত কবরের চিহ্ন দেখান এবং বলেন যে, তারসাথে একটা স্বর্ণের ছড়িও দাফন হয়ে গিয়েছিল। তখন কবর খনন করে তারা ছড়িটি উদ্ধারকরেন। উক্ত রেওয়ায়াতে একথাও বলা হয়েছে যে, ত্বায়েফের প্রসিদ্ধ ছাক্বীফগোত্র উক্ত আবু রেগালের বংশধর। তবে হাদীছটি যঈফ।[7]অন্য হাদীছে এসেছেরাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন যে, ‘ছাক্বীফ গোত্রে একজন মিথ্যাবাদী (ভন্ড নবী) ও একজনরক্ত পিপাসুর জন্ম হবে।[8]রাসূলের এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হয় এবং এই বংশে মিথ্যা নবীমোখতার ছাক্বাফী এবংরক্তপিপাসু কসাই ইরাকের উমাইয়া গবর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জন্মহয়। কওমে ছামূদ-এর অভিশপ্ত বংশের রক্তধারার কু-প্রভাব হওয়াটাও এতে বিচিত্র নয়।অন্য একহাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে,৯ম হিজরীতে তাবূক যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সিরিয়া ওহেজাযের মধ্যবর্তী ‘হিজ্র’ নামক সে স্থানটি অতিক্রম করেন, যেখানে ছামূদ জাতিরউপরে গযব নাযিল হয়েছিল। তিনি ছাহাবায়ে কেরামকে নির্দেশ দেন, কেউ যেন ঐগযব বিধ্বস্ত এলাকায় প্রবেশ না করে এবং ওখানকার কূয়ার পানি ব্যবহার না করে’।[9]এসব আযাব-বিধ্বস্ত এলাকাগুলিকে আল্লাহ তা‘আলা ভবিষ্যৎ মানবজাতির জন্য শিক্ষাস্থল হিসাবে সংরক্ষিতরেখেছেন, যাতে তারা উপদেশ হাছিল করতে পারে এবং নিজেদেরকে আল্লাহর অবাধ্যতাহ’তে বিরত রাখে।আরবরা তাদের ব্যবসায়িক সফরে নিয়মিত সিরিয়া যাতায়াতের পথে এইসবধ্বংসস্ত্তপ গুলি প্রত্যক্ষ করত। অথচ তাদের অধিকাংশ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি এবংশেষনবীর উপরে বিশ্বাসস্থাপন করেনি। যদিও পরবর্তীতে সব এলাকাই ‘মুসলিম’ এলাকায়পরিণত হয়ে গেছে। আল্লাহ বলেন, ﻭَﻛَﻢْ ﺃَﻫْﻠَﻜْﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﻗَﺮْﻳَﺔٍ ﺑَﻄِﺮَﺕْ ﻣَﻌِﻴْﺸَﺘَﻬَﺎ ﻓَﺘِﻠْﻚَ ﻣَﺴَﺎﻛِﻨُﻬُﻢْ ﻟَﻢْﺗُﺴْﻜَﻦ ﻣِّﻦ ﺑَﻌْﺪِﻫِﻤْﺈِﻻَّ ﻗَﻠِﻴﻼً ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺤْﻦُ ﺍﻟْﻮَﺍﺭِﺛِﻴْﻦَ، ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣُﻬْﻠِﻚَ ﺍﻟْﻘُﺮَﻯ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﻌَﺚَ ﻓِﻲْ ﺃُﻣِّﻬَﺎ ﺭَﺳُﻮﻻًﻳَﺘْﻠُﻮ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺁﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻬْﻠِﻜِﻲ ﺍﻟْﻘُﺮَﻯ ﺇِﻻَّ ﻭَﺃَﻫْﻠُﻬَﺎ ﻇَﺎﻟِﻤُﻮْﻥَ – ‏) ﺍﻟﻘﺼﺺ ৫৮-৫৯(-‘আমরা অনেকজনপদ ধ্বংস করেছি; যেসবের অধিবাসীরা তাদের বিলাসী জীবন যাপনে মত্ত ছিল।তাদের এসব আবাসস্থলে তাদের পরে মানুষ খুব সামান্যই বসবাস করেছে। অবশেষেআমরাই এসবের মালিক রয়েছি’। ‘আপনার পালনকর্তা জনপদ সমূহকে ধ্বংস করেন না, যেপর্যন্ত না তার কেন্দ্রস্থলে রাসূল প্রেরণ করেন। যিনি তাদের কাছে আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করেন। আর আমরা জনপদ সমূহকে তখনই ধ্বংস করি, যখনতার বাসিন্দারা (অর্থাৎনেতারা) যুলুম করে’(ক্বাছাছ ২৮/৫৮-৫৯)।উল্লেখ্য যে, উপরে বর্ণিত কাহিনীর প্রধানবিষয়গুলি পবিত্র কুরআনের ২২টি সূরায় ৮৭টিআয়াতে এবং কিছু অংশ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।কিছু অংশ এমনও রয়েছে যা তাফসীরবিদগণ বিভিন্ন ইস্রাঈলী বর্ণনা থেকে সংগ্রহকরেছেন, যা সত্য ও মিথ্যা দুই-ই হ’তে পারে। কিন্তু সেগুলি কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় এবংসেগুলির উপরে ঘটনার প্রমাণ নির্ভরশীল নয়।কওমে ছামূদ-এর ধ্বংস কাহিনীতে শিক্ষণীয়বিষয় সমূহ :১. সমাজের মুষ্টিমেয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও শক্তিশালী শ্রেণী সবারআগে শয়তানের পাতানো ফাঁদে পা দেয় ও সমাজকে জাহান্নামের পথে আহবান করে এবংতাদেরকে ধ্বংসের পথে পরিচালনা করে। যেমন কওমে ছামূদ-এর প্রধান নয় কুচক্রীনেতা করেছিল(নামল ২৭/৪৮)।২. দুর্বল শ্রেণীর লোকেরা সাধারণতঃ অন্যদের আগেআল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী হয় ও এজন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্ত্তত হয়েযায়।৩. অবিশ্বাসীরা মূলতঃ দুনিয়াবী স্বার্থে আল্লাহ প্রেরিত শরী‘আতে বিশ্বাস ওতদনুযায়ী আমল প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের কল্পিত শিরকী আক্বীদায় বিশ্বাস ওতদনুযায়ী আমলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং তারা সর্বদা তাদের বাপ-দাদা ও প্রচলিতপ্রথার দোহাই দেয়।৪. নবী ও সংস্কারকগণ সাধারণতঃ উপদেশদাতা হয়ে থাকেন- শাসক নন।৫.নবী ও সংস্কারকদের বিরুদ্ধে শাসক ও সমাজ নেতাগণ যুলুম করলে সরাসরি আল্লাহর গযবনেমে আসা অবশ্যম্ভাবী।৬. মানুষকে বিপথে নেওয়ার জন্য শয়তানের সবচাইতে বড়হাতিয়ার হ’ল নারী ও অর্থ-সম্পদ।৭. হঠকারী ও পদগর্বী নেতারা সাধারণতঃ চাটুকার ওচক্রান্তকারী হয়ে থাকে ও ঈমানদারগণের বিরুদ্ধে সাময়িকভাবে জয়ী হয়। কিন্তুঅবশেষে আল্লাহর কৌশল বিজয়ী হয় এবং কখনো কখনো তারা দুনিয়াতেই আল্লাহর গযবেসম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। আর আখেরাতের আযাব হয় তার চাইতে কঠিনতর(ক্বলম৬৮/৩৩)।৮. আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাকে নে‘মতরাজি দান করেন তাকে পরীক্ষা করার জন্য। শুকরিয়া আদায়করলে সে আরও বেশী পায়। কিন্তু কুফরী করলে সে ধ্বংস হয় এবং উক্ত নে‘মত তারকাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।৯. অহংকারীদের অন্তর শক্ত হয়। তারা এলাহী গযবপ্রত্যক্ষ করার পরেও তাকে তাচ্ছিল্য করে। যেমন নয় নেতা ১ম দিন গযবে ধ্বংস হ’লেওঅন্যেরা তওবা না করে তাচ্ছিল্য করেছিল। ফলে অবশেষে ৪র্থ দিন তারা সবাই ধ্বংস হয়েযায়।১০. আল্লাহ যালেম জনপদকে ধ্বংস করেন অন্যদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য।১১. আল্লাহসংশোধনকামী জনপদকে কখনোই ধ্বংস করেন না।১২. কখনো মাত্র একজন বা দু’জনেরকারণে গোটা সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। ছালেহ (আঃ)-এর উষ্ট্রী হত্যাকারীছিল মাত্র দু’জন।অতএব মুষ্টিমেয় কুচক্রীদের বিরুদ্ধেবৃহত্তর সমাজকে সদা সতর্ক থাকতেহয়।১৩.কুচক্রীদের কৌশল আল্লাহ ব্যর্থ করে দেন। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না। যেমন ছামূদকওমের নেতারা বুঝতে না পেরে অযথা দম্ভ করেছিল(নামল ২৭/৫০-৫১)।১৪. আল্লাহমানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্যই দুনিয়াতে ছোট-খাট শাস্তির আস্বাদন করিয়েথাকেন ও তাদেরকে ভয় দেখান(ইসরা ১৭/৫৯; সাজদাহ ৩২/২১)।১৫. সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্বেঅবশেষে সত্য সেবীদেরই জয় হয়। যেমন হযরত ছালেহ (আঃ) ও তাঁর ঈমানদার দুর্বলশ্রেণীর লোকেরা এলাহী গযব থেকে নাজাত পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন ও মিথ্যারপূজারী শক্তিশালীরা ধ্বংস হয়েছিল।[1]. তারীখুল আম্বিয়া ১/৪৯ পৃঃ।[2]. বুখারী হা/৪৩৩; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫১২৫ ‘শিষ্টাচার’অধ্যায় ‘যুলুম’ অনুচ্ছেদ।[3]. যথাক্রমে: (১) সূরা আ‘রাফ ৭/৭৩-৭৯ (২) তওবা ৯/৭০ (৩) হূদ১১/৬১-৬৮, ৮৯ (৪) ইবরাহীম ১৪/৯ (৫) হিজর ১৫/৮০-৮৪ (৬) ইসরা ১৭/৫৯ (৭) হজ্জ ২২/৪২ (৮)ফুরক্বান ২৫/৩৮-৩৯ (৯) শো‘আরা ২৬/১৪১-১৫৯ (১০) নামল ২৭/৪৫-৫৩ (১১) আনকাবূত ২৯/৩৮(১২) ছোয়াদ ৩৮/১৩ (১৩) গাফের/মুমিন ৪০/৩১-৩৩ (১৪) ফুছছিলাত/হা-মীম সাজদাহ ৪১/১৩,১৭-১৮ (১৫) ক্বাফ ৫০/১২ (১৬) যারিয়াত ৫১/৪৩-৪৫ (১৭) নাজম ৫৩/৫১ (১৮) ক্বামার ৫৪/২৩-৩১(১৯)আল-হা-ক্বক্বাহ ৬৯/৪-৫ (২০) বুরূজ৮৫/১৮ (২১) ফাজ্র ৮৯/৯ (২২) শাম্স ৯১/১১-১৫। সর্বমোট৮৭।[4]. মুসলিম, হা/২৮৫৫; কুরতুবী হা/৩১০৬; আ‘রাফ ৭৭-৭৯; ইবনু কাছীর, ঐ।[5]. তাফসীর ইবনুকাছীর, সূরা আ‘রাফ ৭৭-৭৮।[6]. ইবনু কাছীর, সূরা আ‘রাফ ৭৩-৭৮।[7]. ইবনু কাছীর, আ‘রাফ ৭৮;আলবানী, যঈফআবুদাঊদ, ‘কবর উৎপাটন’ অনুচ্ছেদ; যঈফাহ হা/৪৭৩৬।[8]. মুসলিম, মিশকাতহা/৫৯৯৪ ‘কুরায়েশ-এর মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ।[9]. বুখারী হা/৪৩৩, মুসলিম, আহমাদ, ইবনু কাছীর, সূরাআ‘রাফ ৭৩