হযরত সুলাইমান আঃ এর জীবনী


হযরত সোলায়মান (আ:)১৮. হযরত সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)সূচীপত্র♦বাল্যকালে সুলায়মান♦সুলায়মানের বৈশিষ্ট্যসমূহ♦দু’টি সূক্ষ্মতত্ত্ব♦সুলায়মানের জীবনে উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী(১) ন্যায়বিচারের ঘটনা(২) পিপীলিকার ঘটনা(৩) ‘হুদহুদ’ পাখির ঘটনা(৪) রাণী বিলক্বীসের ঘটনা(৫) অশ্বকুরবানীর ঘটনা♦সিংহাসনের উপরে একটি নিষ্প্রাণ দেহ প্রাপ্তির ঘটনা(৭) ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলারফল(৮) হারূত ও মারূত ফেরেশতাদ্বয়ের ঘটনা(৯) বায়তুল মুক্বাদ্দাস নির্মাণ ও সুলায়মান (আঃ)-এরমৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা♦মৃত্যু কাহিনীর মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ♦সংশয় নিরসন♦সুলায়মান(আঃ)-এর জীবনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ♦সুলায়মানের মৃত্যু ও রাজত্বকালহযরতদাঊদ (আঃ)-এর মৃত্যুর পর সুযোগ্য পুত্র সুলায়মান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আবির্ভাবের ন্যূনাধিক দেড় হাযার বছর পূর্বে তিনি নবী হন। সুলায়মান ছিলেন পিতার ১৯জনপুত্রের অন্যতম। আল্লাহ পাক তাকে জ্ঞানে, প্রজ্ঞায় ও নবুঅতের সম্পদে সমৃদ্ধকরেন। এছাড়াও তাঁকে এমন কিছু নে‘মত দান করেন, যা অন্য কোন নবীকে দান করেননি।ইমাম বাগাভী ইতিহাসবিদগণের বরাতে বলেন, সুলায়মান (আঃ)-এর মোট বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।তের বছর বয়সে রাজকার্য হাতে নেন এবং শাসনের চতুর্থ বছরে বায়তুলমুক্বাদ্দাসেরনির্মাণ কাজ শুরু করেন। তিনি ৪০ বছর কাল রাজত্ব করেন (মাযহারী, কুরতুবী)।তবে তিনি কতবছর বয়সে নবী হয়েছিলেন সে বিষয়ে কিছু জানা যায় না। শাম ও ইরাক অঞ্চলে পিতাররেখে যাওয়া রাজ্যের তিনিবাদশাহ ছিলেন। তাঁর রাজ্য তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে সুখীওশক্তিশালী রাজ্য ছিল। কুরআনে তাঁর সম্পর্কে ৭টি সূরায় ৫১টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।[1]আমরা সেগুলিকে একত্রিত করে কাহিনীরূপে পেশ করার চেষ্টা পাবইনশাআল্লাহ।বাল্যকালেসুলায়মান :(১) আল্লাহ পাক সুলায়মানকে তার বাল্যকালেই গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি দানকরেছিলেন। ছাগপালের মালিক ও শস্যক্ষেতের মালিকের মধ্যে পিতা হযরত দাঊদ (আঃ)যেভাবে বিরোধ মীমাংসা করেছিলেন, বালক সুলায়মান তার চাইতে উত্তম ফায়ছালা পেশকরেছিলেন। ফলে হযরত দাঊদ (আঃ) নিজের পূর্বের রায় বাতিল করে পুত্রের দেওয়াপ্রস্তাব গ্রহণ করেন ও সে মোতাবেক রায় দান করেন।উক্ত ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেআললাহ বলেন, ﻭَﺩَﺍﻭُﻭﺩَ ﻭَﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﺇِﺫْ ﻳَﺤْﻜُﻤَﺎﻥِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﺮْﺙِ ﺇِﺫْ ﻧَﻔَﺸَﺖْ ﻓِﻴْﻪِ ﻏَﻨَﻢُ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﻟِﺤُﻜْﻤِﻬِﻢْﺷَﺎﻫِﺪِﻳْﻦَ- ﻓَﻔَﻬَّﻤْﻨَﺎﻫَﺎ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻭَﻛُﻼًّ ﺁﺗَﻴْﻨَﺎ ﺣُﻜْﻤﺎً ﻭَّﻋِﻠْﻤﺎً ‏(ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ৭৮-৭৯)-‘আর স্মরণ কর দাঊদ ওসুলায়মানকে,যখন তারা একটি শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল, যাতে রাত্রিকালে কারুমেষপাল ঢুকে পড়েছিল। আর তাদের বিচারকার্য আমাদের সম্মুখেই হচ্ছিল’। ‘অতঃপর আমরাসুলায়মানকে মোকদ্দমাটির ফায়ছালা বুঝিয়ে দিলাম এবং আমরা উভয়কে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দানকরেছিলাম’ (আম্বিয়া২১/৭৮-৭৯)।ছোটবেলা থেকেই জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় ভূষিত সুলায়মানকেপরবর্তীতে যথার্থভাবেই পিতার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করা হয়। যেমন আল্লাহ বলেন,ﻭَﻭَﺭِﺙَ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥُ ﺩَﺍﻭُﻭﺩَ ‘সুলায়মান দাঊদেরউত্তরাধিকারী হয়েছিলেন’ (নমল ২৭/১৬)। অন্যত্রআল্লাহ বলেন, ﻭَﻭَﻫَﺒْﻨَﺎ ﻟِﺪَﺍﻭُﻭﺩَ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻧِﻌْﻢَ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ ﺇِﻧَّﻪُ ﺃَﻭَّﺍﺏٌ ‏( ﺹ ৩০)- ‘আমরা দাঊদেরজন্যসুলায়মানকে দান করেছিলাম। কতই না সুন্দর বান্দা সে এবং সে ছিল (আমার প্রতি) সদাপ্রত্যাবর্তনশীল’ (ছোয়াদ ৩৮/৩০)।(২) আরেকটি ঘটনা হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, যানিম্নরূপ: ‘দু’জন মহিলার দু’টি বাচ্চা ছিল। একদিন নেকড়ে বাঘ এসে একটি বাচ্চাকে নিয়ে যায়।তখন প্রত্যেকে বলল যে, তোমার বাচ্চা নিয়ে গেছে। যেটি আছে ওটি আমার বাচ্চা।বিষয়টি ফায়ছালার জন্য দুই মহিলা খলীফা দাঊদের কাছে এলো। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলারপক্ষে রায় দিলেন। তখন তারা বেরিয়ে সুলায়মানের কাছে এলো এবং সবকথাখুলে বলল।সুলায়মান তখন একটি ছুরি আনতে বললেন এবং বাচ্চাটাকেদু’টুকরা করে দু’মহিলাকে দিতেচাইলেন। তখন বয়োকনিষ্ঠ মহিলাটি বলল, ইয়ারহামুকাল্লাহু ‘আল্লাহ আপনাকে অনুগ্রহ করুন’বাচ্চাটি ঐ মহিলার। তখন সুলায়মান কনিষ্ঠমহিলার পক্ষে রায় দিলেন’।[2]সুলায়মানের বৈশিষ্ট্য সমূহ:দাঊদ (আঃ)-এর ন্যায় সুলায়ামন (আঃ)-কেও আল্লাহ বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন, যা আরকাউকে দান করেননি। যেমন: (১) বায়ু প্রবাহ অনুগত হওয়া (২) তামাকে তরল ধাতুতে পরিণত করা(৩) জিনকে অধীনস্ত করা (৪) পক্ষীকূলকে অনুগত করা (৫) পিপীলিকার ভাষা বুঝা (৬)অতুলনীয় সাম্রাজ্য দান করা (৭) প্রাপ্ত অনুগ্রহ রাজির হিসাব নারাখার অনুমতি পাওয়া। নিম্নেবিস্তারিতভাবে বর্ণিত হ’ল:১. বায়ু প্রবাহকে তাঁর অনুগত করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর হুকুমমত বায়ুতাঁকে তাঁর ইচ্ছামত স্থানে বহন করে নিয়ে যেত। তিনি সদলবলে বায়ুর পিঠে নিজ সিংহাসনেসওয়ার হয়ে দু’মাসের পথ একদিনে পৌঁছে যেতেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ﻭَﻟِﺴُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَﺍﻟﺮِّﻳﺢَ ﻏُﺪُﻭُّﻫَﺎ ﺷَﻬْﺮٌ ﻭَﺭَﻭَﺍﺣُﻬَﺎ ﺷَﻬْﺮٌ -… ‏( ﺳﺒﺎ ৩৪)-‘এবং আমরা সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলামবায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ ও বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত…’ (সাবা ৩৪/১২)।উল্লেখ্য যে, ইবনু আববাস (রাঃ)-এরনামে যে কথা বর্ণিত হয়েছে যে, মানুষ ও জিনের চারলক্ষ আসন বিশিষ্ট বিশাল বহর নিয়ে সুলায়মান বায়ু প্রবাহে যাত্রা করতেন এবং সারা পথ ছালাতে রতথাকতেন ও এই মহা নে‘মত প্রদানের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। এত দ্রুতচলাসত্ত্বেও বায়ু তরঙ্গে তাঁদের উপরে কোনরূপ চাপ সৃষ্টি হ’ত না এবং রোদ বৃষ্টি থেকেরক্ষার জন্য মাথার উপর দিয়ে লাখ লাখ পাখি তাদেরকে ছায়া করে যেত’ ইত্যাদি যেসব কথাতাফসীরের কেতাব সমূহে বর্ণিত হয়েছে তার সবই ভিত্তিহীন ইস্রাঈলী উপকথা মাত্র।আল্লাহ বলেন, ﻭَﻟِﺴُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﺍﻟﺮِّﻳﺢَ ﻋَﺎﺻِﻔَﺔً ﺗَﺠْﺮِﻱْ ﺑِﺄَﻣْﺮِﻩِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺍﻟَّﺘِﻲْ ﺑَﺎﺭَﻛْﻨَﺎ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﺑِﻜُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍﻋَﺎﻟِﻤِﻴْﻦَ – ‏(ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ৮১)-‘আর আমরা সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে। যা তারআদেশে প্রবাহিত হ’ত ঐ দেশের দিকে, যেখানে আমরা কল্যাণ রেখেছি। আর আমরাসকল বিষয়ে সম্যক অবগত রয়েছি’ (আম্বিয়া ২১/৮১)। অন্যত্র আল্লাহ উক্ত বায়ুকে ﺭُﺧَﺎﺀবলেছেন (ছোয়াদ ৩৮/৩৬)। যার অর্থ মৃদু বায়ু, যা শূন্যে তরঙ্গ-সংঘাত সৃষ্টি করে না। ﻋَﺎﺻِﻔَﺔٌও ﺭُﺧَﺎﺀ দু’টি বিশেষণের সমন্বয় এভাবে হ’তে পারে যে, কোনরূপ তরঙ্গ সংঘাত সৃষ্টি নাকরে তীব্র বেগে বায়ু প্রবাহিত হওয়াটা ছিল আল্লাহর বিশেষ রহমতএবং সুলায়মানের অন্যতমমু‘জেযা।উল্লেখ্য যে, হাসান বাছরীর নামে যেকথা বলা হয়ে থাকে যে, একদিন ঘোড়াতদারকি করতে গিয়ে সুলায়মানের আছরের ছালাত ক্বাযা হয়ে যায়। সেই ক্ষোভে তিনি সবঘোড়া যবেহ করে দেন। ফলেতার বিনিময়ে আল্লাহ তাঁকে পুরস্কার স্বরূপ বায়ু প্রবাহকেঅনুগত করে দেন বলে যেকথা তাফসীরের কেতাবসমূহে চালু আছে, তার কোন ভিত্তিনেই। এগুলি হিংসুক ইহুদীদের রটনা মাত্র।[3]২. তামার ন্যায় শক্ত পদার্থকে আল্লাহ সুলায়মানেরজন্য তরল ধাতুতে পরিণত করেছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ﻭَﺃَﺳَﻠْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﻋَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻘِﻄْﺮِ … ‘আমরাতার জন্য গলিত তামার একটি ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম…’ (সাবা ৩৪/১২)। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ঐগলিত ধাতু উত্তপ্ত ছিল না। বরং তা দিয়ে অতি সহজে পাত্রাদি তৈরী করা যেত। সুলায়মানের পরথেকেই তামা গলিয়ে পাত্রাদি তৈরী করা শুরু হয় বলে কুরতুবী বর্ণনা করেছেন। পিতাদাঊদের জন্য ছিল লোহা গলানোর মু‘জেযা এবং পুত্র সুলায়মানের জন্য ছিল তামা গলানোরমু‘জেযা। আর এজন্যেই আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেন, ﺇِﻋْﻤَﻠُﻮﺍ ﺁﻝَ ﺩَﺍﻭُﻭﺩَ ﺷُﻜْﺮﺍً ﻭَﻗَﻠِﻴﻞٌ ﻣِّﻦْﻋِﺒَﺎﺩِﻱَ ﺍﻟﺸَّﻜُﻮﺭُ ‘হে দাঊদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। বস্ত্ততঃ আমারবান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ’ (সাবা ৩৪/১৩)।দু’টি সূক্ষ্মতত্ত্ব :(ক) দাঊদ (আঃ)-এরজন্য আল্লাহ তা‘আলা সর্বাধিক শক্ত ও ঘন পদার্থ লোহাকে নরম ও সুউচ্চ পর্বতমালাকেঅনুগত করে দিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে সুলায়মান (আঃ)-এর জন্য আল্লাহ শক্ত তামাকেগলানো এবং বায়ু, জিন ইত্যাদি এমন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্ত্তকে অনুগত করে দিয়েছিলেন, যাচোখেও দেখা যায় না। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর শক্তি বড়-ছোট সবকিছুরমধ্যে পরিব্যাপ্ত।(খ) এখানে আরেকটি বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহরতাক্বওয়াশীল অনুগত বান্দারা আল্লাহর হুকুমে বিশ্বচরাচরের সকল সৃষ্টির উপরে আধিপত্যকরতে পারে এবং সবকিছুকে বশীভূত করে তা থেকে খিদমত নিতে পারে।৩. জিনকে তাঁরঅধীন করে দিয়েছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠِﻦِّ ﻣَﻦ ﻳَّﻌْﻤَﻞُ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺭَﺑِّﻪِ …‏( ﺳﺒﺎ ১২)- ‘আর জিনের মধ্যে কিছুসংখ্যক তার (সুলায়মানের) সম্মুখে কাজ করত তারপালনকর্তার (আল্লাহর) আদেশে…’ (সাবা ৩৪/১২)।অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴْﻦِ ﻣَﻦْﻳَّﻐُﻮْﺻُﻮْﻥَ ﻟَﻪُ ﻭَﻳَﻌْﻤَﻠُﻮْﻥَ ﻋَﻤَﻼً ﺩُﻭْﻥَ ﺫَﻟِﻚَ ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﻟَﻬُﻢْ ﺣَﺎﻓِﻈِﻴْﻦَ- ‏(ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ৮২)-‘এবং আমরা তার অধীনকরে দিয়েছিলাম শয়তানদের কতককে, যারা তার জন্য ডুবুরীর কাজ করত এবং এছাড়া অন্যআরও কাজ করত। আমরা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতাম’(আম্বিয়া ২১/৮২)।অন্যত্র বলাহয়েছে, ﻭَﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴْﻦَ ﻛُﻞَّ ﺑَﻨَّﺎﺀٍ ﻭَّﻏَﻮَّﺍﺹٍ- ﻭَﺁﺧَﺮِﻳْﻦَ ﻣُﻘَﺮَّﻧِﻴْﻦَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺻْﻔَﺎﺩِ- ‏(ﺹ ৩৭-৩৮)-‘আর সকলশয়তানকে তার অধীন করে দিলাম, যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী’। ‘এবং অন্য আরওঅনেককে অধীন করে দিলাম,যারা আবদ্ধ থাকত শৃংখলে’ (ছোয়াদ৩৮/৩৭-৩৮)।বস্ত্ততঃজিনেরা সাগরে ডুব দিয়ে তলদেশ থেকে মূল্যবান মণি-মুক্তা, হীরা-জহরত তুলে আনত এবংসুলায়মানের হুকুমে নির্মাণ কাজ সহ যেকোন কাজ করার জন্য সদা প্রস্ত্তত থাকত। ঈমানদারজিনেরা তো ছওয়াবের নিয়তে স্বেচ্ছায় আনুগত্য করত। কিন্তু দুষ্ট জিনগুলোবেড়ীবদ্ধ অবস্থায় সুলায়মানের ভয়ে কাজ করত। এই অদৃশ্য শৃংখল কেমন ছিল, তা কল্পনাকরার দরকার নেই। আদেশ পালনে সদাপ্রস্ত্তত থাকাটাও এক প্রকার শৃংখলবদ্ধ থাকা বৈ কি!‘শয়তান’হচ্ছে আগুন দ্বারা সৃষ্ট বুদ্ধি ও চেতনা সম্পন্ন এক প্রকার সূক্ষ্ম দেহধারী জীব।জিনেরমধ্যকার অবাধ্য ও কাফির জিনগুলিকেই মূলতঃ ‘শয়তান’ নামে অভিহিত করা হয়। আয়াতে ‘শৃংখলবদ্ধ’কথাটি এদের জন্যেই বলা হয়েছে। আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকায় এরা সুলায়মানের কোনক্ষতি করতে পারত না। বরং সর্বদা তাঁর হুকুম পালনের জন্য প্রস্ত্তত থাকত। তাদের বিভিন্নকাজের মধ্যে আল্লাহ নিজেই কয়েকটি কাজের কথাউল্লেখ করেছেন। যেমন, ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮْﻥَﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﻳَﺸَﺂﺀُ ﻣِﻦْ ﻣَّﺤَﺎﺭِﻳْﺐَ ﻭَﺗَﻤَﺎﺛِﻴْﻞَ ﻭَﺟِﻔَﺎﻥٍ ﻛَﺎﻟْﺠَﻮَﺍﺏِ ﻭَﻗُﺪُﻭْﺭٍ ﺭَّﺍﺳِﻴَﺎﺕٍ … ‏( ﺳﺒﺎ ১৩)-‘তারা সুলায়মানেরইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাষ্কর্য, হাউয সদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লীর উপরে স্থাপিত বিশালডেগনির্মাণ করত…’ (সাবা ৩৪/১৩)। উল্লেখ্য যে, ﺗﻤﺎﺛﻴﻞ তথা ভাষ্কর্য কিংবা চিত্র ও প্রতিকৃতিঅংকন বা স্থাপন যদি গাছ বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের হয়, তাহ’লে ইসলামে তা জায়েয রয়েছে। কিন্তুযদি তা প্রাণীদেহের হয়, তবে তা নিষিদ্ধ।৪. পক্ষীকুলকে সুলায়মানের অনুগত করেদেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তাদের ভাষা বুঝতেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ﻭَﻭَﺭِﺙَ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥُ ﺩَﺍﻭُﻭﺩَﻭَﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻋُﻠِّﻤْﻨَﺎ ﻣَﻨﻄِﻖَ ﺍﻟﻄَّﻴْﺮِ ﻭَﺃُﻭﺗِﻴﻨَﺎﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺇِﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟْﻔَﻀْﻞُ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴْﻦُ ু ‏( ﻧﻤﻞ১৬)-‘সুলায়মান দাঊদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল এবং বলেছিল, হে লোক সকল!আমাদেরকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে সবকিছু দেওয়াহয়েছে। নিশ্চয়ই এটি একটি সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব’ (নমল ২৭/১৬)।পক্ষীকুল তাঁর হুকুমে বিভিন্নকাজ করত। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পত্র তিনি হুদহুদ পাখির মাধ্যমেপার্শ্ববর্তী ‘সাবা’ রাজ্যের রাণী বিলক্বীসের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। এ ঘটনাপরে বিবৃত হবে।৫. পিপীলিকার ভাষাও তিনি বুঝতেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺗَﻮْﺍ ﻋَﻠَﻰﻭَﺍﺩِﻱ ﺍﻟﻨَّﻤْﻞِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻧَﻤْﻠَﺔٌ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﻤْﻞُ ﺍﺩْﺧُﻠُﻮْﺍ ﻣَﺴَﺎﻛِﻨَﻜُﻢْ ﻻَ ﻳَﺤْﻄِﻤَﻨَّﻜُﻢْ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥُ ﻭَﺟُﻨُﻮﺩُﻩُ ﻭَﻫُﻢْ ﻻَ ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭْﻥَ-ﻓَﺘَﺒَﺴَّﻢَ ﺿَﺎﺣِﻜﺎً ﻣِّﻦ ﻗَﻮْﻟِﻬَﺎ -… ‏( ﻧﻤﻞ ১৮-১৯)-‘অবশেষে সুলায়মান তার সৈন্যদল নিয়ে পিপীলিকাঅধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছল। তখন পিপীলিকা (নেতা) বলল, হে পিপীলিকা দল! তোমরা স্ব স্বগৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদের পিষ্ট করেফেলবে’। ‘তার এই কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসল… (নমল ২৭/১৮-১৯)।৬. তাঁকে এমন সাম্রাজ্যদান করা হয়েছিল, যা পৃথিবীতে আর কাউকে দান করা হয়নি। এজন্য আল্লাহর হুকুমে তিনিআল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করেছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲْ ﻭَﻫَﺐْ ﻟِﻲْ ﻣُﻠْﻜﺎًﻻَّ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻣِّﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻱْ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟْﻮَﻫَّﺎﺏُ- ‏(ﺹ ৩৫)-‘সুলায়মান বলল, হে আমার পালনকর্তা!আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন এক সাম্রাজ্য দান কর, যা আমার পরে আর কেউ যেন নাপায়। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা’ (ছোয়াদ ৩৮/৩৫)।উল্লেখ্য যে, পয়গম্বরগণের কোন দো‘আআল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে হয় না। সে হিসাবে হযরত সুলায়মান (আঃ) এ দো‘আটিও আল্লাহতা‘আলার অনুমতিক্রমেই করেছিলেন। কেবল ক্ষমতা লাভ এর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এরপিছনে আল্লাহর বিধানাবলী বাস্তবায়ন করা এবং তাওহীদের ঝান্ডাকে সমুন্নত করাই মূলউদ্দেশ্য ছিল।কেননা আল্লাহ জানতেন যে, রাজত্ব লাভের পর সুলায়মান তাওহীদ ও ইনছাফপ্রতিষ্ঠার জন্যই কাজ করবেন এবং তিনি কখনোই অহংকারের বশীভূত হবেন না। তাই তাঁকেএরূপ দো‘আর অনুমতি দেওয়া হয় এবং সে দো‘আ সর্বাংশে কবুল হয়।ইসলামে নেতৃত্ব ওশাসন ক্ষমতা চেয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ। আল্লামা জুবাঈ বলেন, আল্লাহর অনুমতিক্রমেই তিনি এটাচেয়েছিলেন। কেননা নবীগণ আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কোন সুফারিশ করতে পারেন না।তাছাড়াএটা বলাও সঙ্গত হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেনযে, বর্তমানে(জাদু দ্বারা বিপর্যস্ত এই দেশে) তুমি ব্যতীত দ্বীনের জন্য কল্যাণকর এবং যথার্থশাসনের যোগ্যতা অন্য কারু মধ্যে নেই। অতএব তুমি প্রার্থনা করলে আমি তোমাকে তাদান করব।’ সেমতে তিনি দো‘আ করেন ও আল্লাহ তাকে তা প্রদান করেন।[4]৭. প্রাপ্তঅনুগ্রহরাজির হিসাব রাখা বা না রাখার অনুমতি প্রদান। আল্লাহ পাক হযরত সুলায়মান (আঃ)-এর রাজত্বলাভের দো‘আ কবুল করার পরে তার প্রতি বায়ু, জিন, পক্ষীকুল ও জীব-জন্তু সমূহকেঅনুগত করে দেন। অতঃপর বলেন, ﻫَﺬَﺍ ﻋَﻄَﺎﺅُﻧَﺎ ﻓَﺎﻣْﻨُﻦْ ﺃَﻭْ ﺃَﻣْﺴِﻚْ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٍ، ﻭَﺇِﻥَّ ﻟَﻪُ ﻋِﻨْﺪَﻧَﺎﻟَﺰُﻟْﻔَﻰ ﻭَﺣُﺴْﻦَ ﻣَﺂﺏٍ- ‏(ﺹ ৩৯-৪০)-‘এসবই আমার অনুগ্রহ। অতএব এগুলো তুমি কাউকে দাও অথবানিজে রেখে দাও, তার কোন হিসাব দিতে হবে না’। ‘নিশ্চয়ই তার (সুলায়মানের) জন্য আমারকাছে রয়েছে নৈকট্য ও শুভ পরিণতি’ (ছোয়াদ ৩৮/৩৯-৪০)।বস্ত্ততঃ এটি ছিল সুলায়মানেরআমানতদারী ও বিশ্বস্ততার প্রতি আল্লাহর পক্ষ হ’তে প্রদত্ত একপ্রকার সনদপত্র। পৃথিবীরকোন ব্যক্তির জন্য সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন সত্যায়নপত্র নাযিলহয়েছে বলে জানা যায় না। অথচ এই মহান নবী সম্পর্কে ইহুদী-নাছারা বিদ্বানরা বাজে কথারটনা করে থাকে।সুলায়মানের জীবনে উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী :(১) ন্যায় বিচারের ঘটনা: ছাগপালের মালিক ও শস্যক্ষেতের মালিকের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় তাঁর দেওয়া প্রস্তাববাদশাহ দাঊদ (আঃ) গ্রহণকরেন ও নিজের দেওয়া পূর্বের রায় বাতিল করে পুত্র সুলায়মানেরদেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী রায় দেন ও তা কার্যকর করেন। এটি ছিল সুলায়মানের বাল্যকালেরঘটনা, যা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন (দ্র: আম্বিয়া ২১/৭৮-৭৯)। এ ঘটনা আমরাদাঊদ (আঃ)-এর কাহিনীতে বলে এসেছি।(২) পিপীলিকার ঘটনা : হযরত সুলায়মান (আঃ) একদা তাঁরবিশাল সেনাবাহিনী সহ একটি এলাকা অতিক্রম করছিলেন। ঐ সময় তাঁর সাথে জিন, মানুষপক্ষীকুল ছিল। যে এলাকা দিয়ে তাঁরা যাচ্ছিলেনসে এলাকায় বালির ঢিবি সদৃশ পিপীলিকাদের বহুবসতঘর ছিল। সুলায়মান বাহিনীকে আসতে দেখে পিপীলিকাদের সর্দার তাদেরকে বলল,তোমরা শীঘ্র পালাও। নইলে পাদপিষ্ট হয়ে শেষ হয়ে যাবে। সুলায়মান (আঃ)পিপীলিকাদের এই বক্তব্য শুনতে পেলেন। এ বিষয়ে কুরআনী বর্ণনা নিম্নরূপ: ﻭَﻭَﺭِﺙَﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥُ ﺩَﺍﻭُﻭﺩَ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻋُﻠِّﻤْﻨَﺎ ﻣَﻨﻄِﻖَ ﺍﻟﻄَّﻴْﺮِ ﻭَﺃُﻭﺗِﻴﻨَﺎﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺇِﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﻟَﻬُﻮَ ﺍﻟْﻔَﻀْﻞُﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦُ- ﻭَﺣُﺸِﺮَ ﻟِﺴُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﺟُﻨُﻮﺩُﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠِﻦِّ ﻭَﺍﻟْﺈِﻧﺲِ ﻭَﺍﻟﻄَّﻴْﺮِ ﻓَﻬُﻢْ ﻳُﻮﺯَﻋُﻮﻥَ – ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺗَﻮْﺍ ﻋَﻠَﻰ ﻭَﺍﺩِﻱﺍﻟﻨَّﻤْﻞِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻧَﻤْﻠَﺔٌ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﻤْﻞُ ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﻣَﺴَﺎﻛِﻨَﻜُﻢْ ﻻَ ﻳَﺤْﻄِﻤَﻨَّﻜُﻢْ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥُ ﻭَﺟُﻨُﻮﺩُﻩُ ﻭَﻫُﻢْ ﻻَ ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ-ﻓَﺘَﺒَﺴَّﻢَ ﺿَﺎﺣِﻜﺎً ﻣِّﻦ ﻗَﻮْﻟِﻬَﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﺃَﻭْﺯِﻋْﻨِﻲ ﺃَﻥْ ﺃَﺷْﻜُﺮَ ﻧِﻌْﻤَﺘَﻚَ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺘَﻌَﻠَﻲَّ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﻭَﺍﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﺃَﻥْ ﺃَﻋْﻤَﻞَﺻَﺎﻟِﺤﺎً ﺗَﺮْﺿَﺎﻩُ ﻭَﺃَﺩْﺧِﻠْﻨِﻲ ﺑِﺮَﺣْﻤَﺘِﻚَ ﻓِﻲ ﻋِﺒَﺎﺩِﻙَ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ – ‏( ﻧﻤﻞ ১৬-১৯)-‘সুলায়মান দাঊদেরস্থলাভিষিক্ত হ’ল এবং বলল, হে লোকসকল! আমাদেরকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়াহয়েছে এবং আমাদেরকে সবকিছু দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি একটি সুস্পষ্টশ্রেষ্ঠত্ব’ (নমল ১৬)। ‘অতঃপর সুলায়মানের সম্মুখে তারসোনাবাহিনীকে সমবেত করা হ’লজিন, মানুষ ও পক্ষীকুলকে। তারপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যুহে বিভক্ত করা হ’ল’ (১৭)। ‘অতঃপরযখন তারা একটি পিপীলিকা অধ্যুষিত এলাকায় উপনীত হ’ল, তখন এক পিপীলিকা বলল, ‘হেপিপীলিকা দল! তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনীঅজ্ঞাতসারে তোমদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে’ (১৮)। ‘তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকিহাসল এবং বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমাকে ক্ষমতা দাও, যেন আমি তোমারনে‘মতেরশুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমিতোমার পসন্দনীয় সৎকর্মাদি করতে পারি এবং তুমি আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমারসৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর’ (নমল ২৭/১৬-১৯)।উপরোক্ত আয়াতগুলিতেপ্রমাণিত হয় যে, সুলায়মান (আঃ) কেবল পাখির ভাষা নয়, বরং সকল জীবজন্তু এমনকি ক্ষুদ্রপিঁপড়ার কথাও বুঝতেন। এজন্য তিনি মোটেই গর্ববোধ না করে বরং আল্লাহর অনুগ্রহেরপ্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং নিজেকে যাতে আল্লাহ অন্যান্য সৎকর্মশীলদেরঅন্তর্ভুক্ত করেন সে প্রার্থনা করেন। এখানে আরেকটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, তিনিকেবল জিন-ইনসানের নয় বরং তাঁর সময়কার সকল জীবজন্তুরও নবী ছিলেন। তাঁর নবুঅতকেসবাই স্বীকার করত এবং সকলে তাঁর প্রতি আনুগত্য পোষণ করত। যদিও জিন ও ইনসানব্যতীত অন্য প্রাণী শরী‘আত পালনের হকদার নয়।(৩) ‘হুদহুদ’ পাখির ঘটনা : হযরত সুলায়মান(আঃ) আল্লাহর হুকুমে পক্ষীকুলের আনুগত্য লাভ করেন। একদিন তিনি পক্ষীকুলকেডেকে একত্রিত করেন ও তাদের ভাল-মন্দ খোঁজ-খবর নেন। তখন দেখতে পেলেনযে, ‘হুদহুদ’ পাখিটা নেই। তিনি অনতিবিলম্বে তাকে ধরে আনার জন্যকড়া নির্দেশ জারিকরলেন। সাথে তার অনুপস্থিতির উপযুক্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করলেন। উক্ত ঘটনাকুরআনের ভাষায় নিম্নরূপ: ﻭَﺗَﻔَﻘَّﺪَ ﺍﻟﻄَّﻴْﺮَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻣَﺎ ﻟِﻲَ ﻻَ ﺃَﺭَﻯ ﺍﻟْﻬُﺪْﻫُﺪَ ﺃَﻡْ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐَﺎﺋِﺒِﻴﻦَ- ﻟَﺄُﻋَﺬِّﺑَﻨَّﻪُﻋَﺬَﺍﺑﺎً ﺷَﺪِﻳﺪﺍً ﺃَﻭْ ﻟَﺄَﺫْﺑَﺤَﻨَّﻪُ ﺃَﻭْ ﻟَﻴَﺄْﺗِﻴَﻨِّﻲ ﺑِﺴُﻠْﻄَﺎﻥٍ ﻣُّﺒِﻴﻦٍ – ﻓَﻤَﻜَﺚَ ﻏَﻴْﺮَ ﺑَﻌِﻴﺪٍ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺣَﻄْﺖُ ﺑِﻤَﺎ ﻟَﻢْ ﺗُﺤِﻂْ ﺑِﻪِﻭَﺟِﺌْﺘُﻚَ ﻣِﻦْ ﺳَﺒَﺈٍ ﺑِﻨَﺒَﺈٍ ﻳَّﻘِﻴﻦٍ – ‏( ﻧﻤﻞ ২০-২২)-‘সুলায়মান পক্ষীকুলের খোঁজ-খবরনিল। অতঃপর বলল,কি হ’ল হুদহুদকে দেখছি না যে? না-কি সে অনুপস্থিত’(নমল ২০)। সে বলল, ‘আমি অবশ্যইতাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা যবহ করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ’ (২১)।‘কিছুক্ষণ পরেই হুদহুদ এসে হাযির হয়ে বলল,(হে বাদশাহ!) আপনি যে বিষয়ে অবগতনন, আমিতা অবগত হয়েছি। আমি আপনার নিকটে ‘সাবা’ থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি’ (নমল২৭/২০-২২)।এ পর্যন্ত বলেই সে তার নতুন আনীতসংবাদের রিপোর্ট পেশ করল।হুদহুদের মাধ্যমে একথা বলানোর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে একথা জানিয়ে দিলেনযে, নবীগণ গায়েবের খবর রাখেন না। তাঁরা কেবল অতটুকুই জানেন, যতটুকু আল্লাহতাদেরকে অবহিত করেন।উল্লেখ্য যে, ‘হুদহুদ’ এক জাতীয় ছোট্ট পাখির নাম। যাপক্ষীকুলেরমধ্যে অতীব ক্ষুদ্র ও দুর্বল এবং যার সংখ্যাও দুনিয়াতে খুবইকম। বর্ণিতআছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) একদা নও মুসলিম ইহুদী পন্ডিত আব্দুল্লাহ বিনসালাম (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, এতসব পাখী থাকতে বিশেষভাবে ‘হুদহুদ’ পাখির খোঁজনেওয়ার কারণ কি ছিল? জওয়াবে তিনি বলেন, সুলায়মান (আঃ) তাঁর বিশাল বাহিনীসহ ঐসময় এমনএক অঞ্চলে ছিলেন, যেখানে পানি ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা হুদহুদ পাখিকে এই বৈশিষ্ট্য দানকরেছেনযে, সে ভূগর্ভের বস্ত্ত সমূহকে এবং ভূগর্ভে প্রবাহিত পানি উপর থেকেদেখতে পায়। হযরত সুলায়মান (আঃ) হুদহুদকে এজন্যেই বিশেষভাবে খোঁজ করছিলেনযে, এতদঞ্চলে কোথায় মরুগর্ভে পানি লুক্কায়িত আছে, সেটা জেনে নিয়ে সেখানেজিন দ্বারা খনন করে যাতে দ্রুত পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করা যায়’। একদা হযরত আব্দুল্লাহইবনে আববাস (রাঃ) ‘হুদহুদ’ পাখি সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন। তখন নাফে‘ ইবনুল আযরক্বতাঁকে বলেন, ﻗِﻒْ ﻳﺎ ﻭَﻗَّﺎﻑُ ! ﻛﻴﻒ ﻳَﺮَﻯ ﺍﻟﻬﺪﻫﺪُ ﺑﺎﻃﻦَ ﺍﻷﺭﺽِ ﻭﻫﻮ ﻻ ﻳَﺮَﻯ ﺍﻟْﻔَﺦَّ ﺣِﻴْﻦَ ﻳَﻘَﻊُﻓﻴﻪ-‘জেনে নিন হে মহা জ্ঞানী! হুদহুদ পাখি মাটির গভীরে দেখতে পায়। কিন্তু (তাকেধরার জন্য) মাটির উপরে বিস্তৃত জাল সে দেখতে পায় না। যখন সে তাতে পতিত হয়’।জবাবেইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ﺇﺫﺍ ﺟﺎﺀ ﺍﻟﻘَﺪَﺭُﻋَﻤِﻰَ ﺍﻟﺒَﺼَﺮُ ‘যখন তাক্বদীর এসে যায়, চক্ষুঅন্ধ হয়ে যায়’। চমৎকার এ জবাবে মুগ্ধ হয়ে ইবনুল ‘আরাবী বলেন, ﻻﻳَﻘْﺪِﺭُ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍﺍﻟﺠﻮﺍﺏِ ﺇﻻ ﻋﺎﻟِﻢُ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥِ ‘এরূপ জওয়াব দিতে কেউ সক্ষম হয় না, কুরআনের আলেমব্যতীত’।[5](৪) রাণী বিলক্বীসের ঘটনা : হযরত সুলায়মান (আঃ)-এর শাম ও ইরাক সাম্রাজ্যেরপার্শ্ববর্তী ইয়ামন তথা ‘সাবা’ রাজ্যের রাণী ছিলেন বিলক্বীস বিনতুস সারাহ বিন হাদাহিদ বিনশারাহীল। তিনি ছিলেন সাম বিন নূহ (আঃ)-এর ১৮তম অধঃস্তন বংশধর। তাঁর ঊর্ধ্বতন ৯ম পিতামহেরনাম ছিল ‘সাবা’।[6] সম্ভবতঃ তাঁর নামেই ‘সাবা’ সাম্রাজ্যের নামকরণ হয়।আল্লাহ তাদের সামনেজীবনোপকরণের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং নবীগণের মাধ্যমে এসবনে‘মতের শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা ভোগ-বিলাসে মত্তহয়ে আল্লাহর অবাধ্য হয় এবং ‘সূর্য পূজারী’ হয়ে যায়। ফলে তাদের উপরে প্লাবণেরআযাব প্রেরিত হয় ও সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহসূরা সাবা ১৫ হ’তে ১৭ আয়াতে এইসম্প্রদায় সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।দুনিয়াবী দিক দিয়ে এই ‘সাবা’ সাম্রাজ্য খুবইসমৃদ্ধ এবং শান-শওকতে পূর্ণ ছিল। তাদের সম্পর্কে হযরত সুলায়মানের কিছু জানা ছিল নাবলেই কুরআনী বর্ণনায় প্রতীয়মান হয়। তাঁর এই না জানাটা বিস্ময়কর কিছু ছিল না। ইয়াকূব (আঃ)তাঁর বাড়ীর অনতিদূরে তাঁর সন্তান ইউসুফকে কূয়ায় নিক্ষেপের ঘটনা জানতে পারেননি।স্ত্রী আয়েশার গলার হারটি হারিয়ে গেল। অথচ স্বামী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তা জানতে পারেননি।বস্ত্ততঃ আল্লাহ যতটুকু ইল্ম বান্দাকে দেন, তার বেশী জানার ক্ষমতা কারু নেই।পার্শ্ববর্তী ‘সাবা’ সাম্রাজ্য সম্পর্কে পূর্বে না জানা এবং পরে জানার মধ্যে যে কি মঙ্গলনিহিত ছিল, তা পরবর্তী ঘটনাতেই প্রমাণিত হয়েছে এবং রাণী বিলক্বীস মুসলমান হয়ে যান।বস্ত্ততঃ হুদহুদ পাখি তাদের সম্পর্কে হযরত সুলায়মানের নিকটে এসে প্রথম খবর দেয়। তারবর্ণিত প্রতিবেদনটি ছিল কুরআনের ভাষায় নিম্নরূপ : ﺇِﻧِّﻲ ﻭَﺟَﺪﺕُّ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﺗَﻤْﻠِﻜُﻬُﻢْ ﻭَﺃُﻭﺗِﻴَﺖْ ﻣِﻨﻜُﻞِّﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﻟَﻬَﺎ ﻋَﺮْﺵٌ ﻋَﻈِﻴﻢٌ – ﻭَﺟَﺪْﺗُﻬَﺎ ﻭَﻗَﻮْﻣَﻬَﺎ ﻳَﺴْﺠُﺪُﻭﻥَ ﻟِﻠﺸَّﻤْﺲِ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺯَﻳَّﻦَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥُ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟَﻬُﻢْﻓَﺼَﺪَّﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ ﻓَﻬُﻢْ ﻻَ ﻳَﻬْﺘَﺪُﻭﻥَ – ‏( ﻧﻤﻞ ২৩-২৪)-‘আমি এক মহিলাকে সাবা বাসীদের উপরেরাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেওয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসনআছে’ (২৩)। ‘আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকেসিজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলীকে সুশোভিত করেছে। অতঃপরতাদেরকে সত্যপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। ফলে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয় না’ (নমল২৭/২৩-২৪)।সুলায়মান বলল, ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻨَﻨْﻈُﺮُ ﺃَﺻَﺪَﻗْﺖَ ﺃَﻡْ ﻛُﻨْﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻜَﺎﺫِﺑِﻴْﻦَ ‏( 27 ‏) ﺍﺫْﻫَﺐْ ﺑِﻜِﺘَﺎﺑِﻲْ ﻫَﺬَﺍ ﻓَﺄَﻟْﻘِﻪْﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﺛُﻢَّ ﺗَﻮَﻝَّ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻓَﺎﻧْﻈُﺮْ ﻣَﺎﺫَﺍ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮْﻥَ ‏(28 ‏) ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُﺇِﻧِّﻲ ﺃُﻟْﻘِﻲَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻛِﺘَﺎﺏٌ ﻛَﺮِﻳْﻢٌ ‏( 29 ‏) ﺇِﻧَّﻪُﻣِﻦْ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤٰﻨِﺎﻟﺮَّﺣِﻴْﻢِ ‏(30 ‏) ﺃَﻻَّ ﺗَﻌْﻠُﻮﺍ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃْﺗُﻮْﻧِﻲ ﻣُﺴْﻠِﻤِﻴْﻦَ ‏( 31 ‏) ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎﺍﻟْﻤَﻠَﺄُ ﺃَﻓْﺘُﻮْﻧِﻲْ ﻓِﻲْ ﺃَﻣْﺮِﻱْ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺖُ ﻗَﺎﻃِﻌَﺔً ﺃَﻣْﺮًﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺸْﻬَﺪُﻭْﻥِ ‏(32 ‏) ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻧَﺤْﻦُ ﺃُﻭْﻟُﻮْ ﻗُﻮَّﺓٍ ﻭَﺃُﻭْﻟُﻮْ ﺑَﺄْﺱٍﺷَﺪِﻳْﺪٍ ﻭَﺍﻟْﺄَﻣْﺮُ ﺇِﻟَﻴْﻚِ ﻓَﺎﻧْﻈُﺮِﻱْ ﻣَﺎﺫَﺍ ﺗَﺄْﻣُﺮِﻳْﻦَ ‏( 33 ‏) ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤُﻠُﻮْﻙَ ﺇِﺫَﺍ ﺩَﺧَﻠُﻮْﺍ ﻗَﺮْﻳَﺔً ﺃَﻓْﺴَﺪُﻭْﻫَﺎ ﻭَﺟَﻌَﻠُﻮﺍ ﺃَﻋِﺰَّﺓَﺃَﻫْﻠِﻬَﺎ ﺃَﺫِﻟَّﺔً ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻳَﻔْﻌَﻠُﻮْﻥَ ‏(34 ‏) ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﻣُﺮْﺳِﻠَﺔٌ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﻬَﺪِﻳَّﺔٍ ﻓَﻨَﺎﻇِﺮَﺓٌ ﺑِﻢَ ﻳَﺮْﺟِﻊُ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠُﻮْﻥَ ‏( 35 ‏) ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺟَﺎﺀَﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺗُﻤِﺪُّﻭْﻧَﻦِ ﺑِﻤَﺎﻝٍ ﻓَﻤَﺎ ﺁﺗَﺎﻧِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِﻤَّﺎ ﺁﺗَﺎﻛُﻢْ ﺑَﻞْ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺑِﻬَﺪِﻳَّﺘِﻜُﻢْ ﺗَﻔْﺮَﺣُﻮْﻥَ ‏(36 ‏) ﺍﺭْﺟِﻊْﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻓَﻠَﻨَﺄْﺗِﻴَﻨَّﻬُﻢْ ﺑِﺠُﻨُﻮْﺩٍ ﻻَ ﻗِﺒَﻞَ ﻟَﻬُﻢْ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﻟَﻨُﺨْﺮِﺟَﻨَّﻬُﻢْ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺃَﺫِﻟَّﺔً ﻭَﻫُﻢْ ﺻَﺎﻏِﺮُﻭْﻥَ ‏( 37 ‏) ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُﺃَﻳُّﻜُﻢْ ﻳَﺄْﺗِﻴْﻨِﻲْ ﺑِﻌَﺮْﺷِﻬَﺎ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳَﺄْﺗُﻮﻧِﻲ ﻣُﺴْﻠِﻤِﻴْﻦَ ‏(38 ‏) ﻗَﺎﻝَ ﻋِﻔْﺮِﻳْﺖٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠِﻦِّ ﺃَﻧَﺎ ﺁﺗِﻴْﻚَ ﺑِﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﺗَﻘُﻮْﻡَﻣِﻦ ﻣَّﻘَﺎﻣِﻚَ ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﻋَﻠَ