কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আত্নীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার ভয়াবহ পরিণতি!!


সূচীপত্র
ক্রম শিরোনাম
১ অবতরণিকা
২ মুখবন্ধ
৩ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা
৪ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার কারণ সমূহ
৫ মূর্খতা
৬ আল্লাহভীরুতায় দুর্বলতা
৭ অহঙ্কার
৮ দেখা-সাক্ষাতে দীর্ঘ ছেদ
৯ কঠিন তিরস্কার
১০ আপ্যায়নে বেশি বাড়াবাড়ি
১১ মেহমানের প্রতি গুরুত্বহীনতা
১২ অত্যধিক কার্পণ্য
১৩ মিরাস বন্টনে অতি বিলম্ব
১৪ যৌথ ব্যবসা-বাণিজ্য
১৫ দুনিয়া নিয়ে অতি ব্যস্ততা
১৬ তালাক
১৭ অলসতা ও দূরত্ব
১৮ আত্মীয়-স্বজনদের পাশাপাশি অবস্থান
১৯ আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ধৈর্যের পরিচয় না
দেয়া
২০ যে কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে কোনো
আত্মীয়কে দাওয়াত দিতে ভুলে যাওয়া
২১ হিংসা
২২ অত্যধিক ঠাট্টা-মশকারা
২৩ চুগলখুরি করা অথবা তা শুনা
২৪ স্ত্রীর অসৎ চরিত্র
২৫ আত্মীয়তার বন্ধন
২৬ কিভাবে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা পাবে?
২৭ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার ফযীলত
২৮ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার উপায়সমূহ
অবতরণিকা
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য
যিনি আমাদেরকে নিখাদ তাওহীদের দিশা
এবং সুন্নাত ও বিদ‘আতের পার্থক্যজ্ঞান
দিয়েছেন। অসংখ্য সালাত ও সালাম তাঁর জন্য
যিনি আমাদেরকে সফল জীবনের পথ
বাতলিয়েছেন। তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের
প্রতিও রইল অসংখ্য সালাম।
মানুষ মাত্রই তার কিছু না কিছু আত্মীয়-স্বজন
অবশ্যই রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে
তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠাই নিতান্ত স্বাভাবিক।
পক্ষান্তরে দুনিয়ার কোনো ক্ষুদ্র স্বার্থকে
কেন্দ্র করে কখনো কখনো তাদের পরস্পরের
মাঝে দ্বন্দ্ব-বিগ্রহ লেগে যাওয়াও অত্যন্ত
স্বাভাবিক। তবে তা কখনো দীর্ঘায়িত হতে
দেওয়া যাবে না। নতুবা তা এক সময় অপরের
প্রতি কঠিন বিদ্বেষ ও নির্মম শত্রুতা পোষণে
উৎসাহিত করবে। আর তখনই তা একদা সেই পরম
আত্মীয়তার বন্ধনটিকে ছিন্ন করা পর্যন্ত
পৌঁছিয়ে দিবে। যা শরী‘আত কিংবা মানব
দৃষ্টিতেও কখনোই কাম্য নয়। কারণ, আত্মীয়তার
বন্ধন ছিন্ন করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে একটি মহা
পাপ ও মারাত্মক অপরাধ যা পরস্পরের সম্পর্ক
বিনষ্ট করে দেয় এবং যা আল্লাহ তা‘আলার
অভিশাপ ও তাঁর নগদ শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যা আল্লাহ তা‘আলার রহমত ও জান্নাতে যাওয়ার
পথে বাধার সৃষ্টি করে। এমনকি যা কখনো কখনো
একাকীত্ব, নীচুতা এবং লাঞ্ছনারও কারণ হয়।
উপরন্তু তা কখনো কখনো মানব জীবনের এক মহা
দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও পেরেশানির ব্যাপারও
হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, যার পক্ষ থেকে সর্বদা
ভালো ব্যবহার পাওয়াই মানুষের একমাত্র কামনা
তার পক্ষ থেকে কখনো কোনো দুর্ব্যবহার বা
অসদাচরণ সত্যিই উদ্বেগের বিষয়ই বটে।
উক্ত ব্যাধি বর্তমান সমাজে প্রচুর ব্যাপকতা লাভ
করেছে। কেউ কারোর সাধারণ বৈষয়িক স্বার্থও
অপরের জন্য ছাড়তে চায় না। যার দরুন সেই পরম
আত্মীয়তার বন্ধনটুকু আজ বার বার বিশেষভাবে
বহুমুখী হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই সেই মহান
বন্ধনটুকু টিকানোর জন্যই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।
অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এ পুস্তিকাটিতে
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পৃক্ত
যতগুলো হাদীস উল্লিখিত হয়েছে সাধ্যমত উহার
বিশুদ্ধতার প্রতি সযত্ন দায়িত্বশীল দৃষ্টি রাখা
হয়েছে। এ ব্যাপারে নিদেনপক্ষে সর্বজন শ্রদ্ধেয়
প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ‘আল্লামা নাসিরুদ্দীন
আল্বানী সাহেবের হাদীস শুদ্ধাশুদ্ধনির্ণয়ন
নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তদুপরি সকল যোগ্য
গবেষকদের পুনর্বিবেচনার সুবিধার্থে প্রতিটি
হাদীসের সাথে তার প্রাপ্তিস্থান নির্দেশ
সংযোজন করা হয়েছে। তা সত্বেও সম্পূর্ণরূপে
নিরেট নির্ভুল হওয়ার দাবি করছি না।
শব্দ ও ভাষাগত প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি বিজ্ঞ
পাঠকবর্গের গোচরে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে ভুল যতটুকুই হোক না কেন লেখকের
দৃষ্টিগোচর করলে চরম কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ
থাকবো। যে কোনো কল্যাণকর পরামর্শ দিয়ে
দাওয়াতী স্পৃহাকে আরো বর্ধিত করণে
সর্বসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা
করছি। আল্লাহ তা‘আলা সবার সহায় হোন।
এ পুস্তিকাটি প্রকাশে যে কোনো জনের যে
কোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য সমুচিত
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে এতটুকুও কার্পণ্য করছি না। ইহ
ও পরকালে আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেককে তার
আকাঙ্খাতীত কামিয়াব করুন তাই হচ্ছে আমার
সর্বোচ্চ আশা। আমীন সুম্মা আমীন ইয়া রাব্বাল
‘আলামীন।
লেখক
মুখবন্ধ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْـﺤَﻤْﺪُ ﻟﻠﻪِ، ﻧَﺤْﻤَﺪُﻩُ ﻭَﻧَﺴْﺘَﻌِﻴْﻨُﻪُ ﻭَﻧَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮُﻩُ، ﻭَﻧَﻌُـﻮْﺫُ ﺑِﺎﻟﻠﻪِ ﻣِﻦْ ﺷُﺮُﻭْﺭِ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻨَﺎ،
ﻭَﻣِﻦْ ﺳَﻴِّﺌَﺎﺕِ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟِﻨَﺎ، ﻣَﻦْ ﻳَّﻬْﺪِﻩِ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓَﻼَ ﻣُﻀِﻞَّ ﻟَﻪُ، ﻭَﻣَﻦْ ﻳُّﻀْﻠِﻞِ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓَﻼَ ﻫَﺎﺩِﻱَ
ﻟَﻪُ، ﻭَﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَّ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻻَ ﺷَﺮِﻳْﻚَ ﻟَﻪُ، ﻭَﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﻋَﺒْﺪُﻩُ
ﻭَﺭَﺳُﻮْﻟُﻪُ
নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য।
আমরা সবাই তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁরই নিকট
সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট
আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রবৃত্তির অনিষ্ট ও খারাপ
আমল থেকে। যাকে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়াত
দিবেন তাকে পথভ্রষ্ট করার আর কেউ নেই এবং
যাকে আল্লাহ তা‘আলা পথভ্রষ্ট করবেন তাকে
হিদায়াত দেওয়ারও আর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য
দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্য কোনো
মা’বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই
এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও একমাত্র তাঁরই
প্রেরিত রাসূল।
বর্তমান বস্তুবাদী মুসলিম সমাজে আত্মীয়তার
বন্ধন ছিন্ন করার ব্যাপারটি খুব একটা ব্যাপকতা
পেয়েছে। পরস্পরকে ভালো কাজের পরামর্শ
দেওয়া এবং পরস্পরের মধ্যকার পবিত্র সুসম্পর্কটুকু
অটুট রাখার জন্য পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ চালু রাখা
খুব একটা বেশি চোখে পড়ে না। যা কিছু রয়েছে
তাও দুনিয়ার ক্ষুদ্র স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে।
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নের আবার কয়েকটি ধরনও
রয়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের কেউ তো এমনও
রয়েছেন যে, তার আত্মীয়ের কোনো খবরই
রাখেন না। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে
যাচ্ছে; অথচ পরস্পরের মধ্যে কোনো দেখা-
সাক্ষাতই হচ্ছে না। একে অন্যের মধ্যে কোনো
দান বা উপঢৌকন আদান-প্রদান হচ্ছে না, তাদের
কোনো বিশেষ প্রয়োজন পূরণ করা হচ্ছে না, একে
অপরকে কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার করছেন না,
ভালো ব্যবহার দেখিয়ে তাদেরকে সন্তুষ্ট করা
হচ্ছে না; বরং তাদেরকে সময় সময় কথা বা
কাজে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে।
আবার আত্মীয়-স্বজনদের কেউ তো এমনও রয়েছেন
যে, তার আত্মীয়-স্বজনের কোনো অনুষ্ঠানেই
তিনি যোগ দেন না। তাদের কোনো দুঃখ-
বেদনার তিনি শরীক হন না। বরং তাদেরকে
কোনো কিছু দান না করে অন্যকে দান করেন; অথচ
তারাই তার দানের সর্বপ্রথম হকদার।
আবার আত্মীয়-স্বজনদের কেউ তো এমনও রয়েছেন
যে, তার আত্মীয়-স্বজনের সাথে তিনি তখনই
সুসম্পর্ক বজায় রাখেন যখন তারাও তার সাথে
সুসম্পর্ক বজায় রাখে। আর যখনই তারা তার সাথে
সম্পর্ক ছিন্ন করে তখন তিনিও তাদের সাথে
সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এমন আচরণকে বাস্তবার্থে
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা বলা যায় না। কারণ,
সমপ্রতিদান তো যে কোনো কারোর সাথেই হতে
পারে। এতে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার বিশেষ
কোনো বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান নেই। বস্তুতঃ
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা মানে আপনি
একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্যই
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবেন। তারা আপনার
সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করুক বা নাই করুক।
আবার আত্মীয়-স্বজনদের কেউ তো এমনও রয়েছেন
যে, তার আত্মীয়-স্বজনকে তিনি দীন-ধর্মের
সঠিক আকীদা-বিশ্বাস ও যাবতীয় প্রয়োজনীয়
জ্ঞান শিক্ষা দেন না এবং তাদেরকে ইসলামের
সকল ধর্মীয় অনুশাসন নিজ জীবনে বাস্তবায়নের
প্রতি দাওয়াতও দেন না; অথচ তিনি সর্বদা
অন্যদেরকে ইসলামের খাঁটি আকীদা-বিশ্বাস ও
যাবতীয় ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দিতে এতটুকুও
কোতাহী করেন না। বস্তুতঃ এরাই তো উক্ত
দাওয়াতের সর্বপ্রথম হকদার।
পক্ষান্তরে অনেক বংশে ইসলামের সঠিক
আকীদা-বিশ্বাস ও খাঁটি ধর্মীয় জ্ঞান বহনকারী
অনেক আলিমে দীন, ধর্ম প্রচারক ও সমাজ
সংস্কারক রয়েছেন যাদের সাথে তাদের
বংশের লোকেরা পারতপক্ষে ভালো ব্যবহার
দেখায় না। তাদেরকে যথাযোগ্য সম্মান দেয় না।
তাদের কাছ থেকে আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামের
খাঁটি জ্ঞানের আলো তারা আহরণ করে না। যা
তাদের সাথে শুধু আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করারই
শামিল নয় বরং এতে করে মানুষের মাঝে তাদের
সম্মান ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং সমাজে
তাদের প্রভাবও কমে যায়।
আবার আত্মীয়-স্বজনদের কেউ তো এমনও রয়েছেন
যে, তিনি নিজেই তার আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে
ফাটল ধরাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যে
কোনো ছুতা-নাতা নিয়েই একেক জনকে অন্যের
ওপর ক্ষেপিয়ে তোলেন।
আত্মীয়তার পরম বন্ধনটুকু ছিন্ন করার উপরোক্ত
ধরনসমূহ ও অন্যান্য নব উদ্ভাবিত ধরন সমষ্টির
মূলোৎপাটনের জন্যই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা একটি মারাত্মক
অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীদের নিন্দা করেন
এবং তাদেরকে লা’নত ও অভিসম্পাত দেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻓَﻬَﻞۡ ﻋَﺴَﻴۡﺘُﻢۡ ﺇِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻴۡﺘُﻢۡ ﺃَﻥ ﺗُﻔۡﺴِﺪُﻭﺍْ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﺗُﻘَﻄِّﻌُﻮٓﺍْ ﺃَﺭۡﺣَﺎﻣَﻜُﻢۡ ٢٢
ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻟَﻌَﻨَﻬُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻓَﺄَﺻَﻤَّﻬُﻢۡ ﻭَﺃَﻋۡﻤَﻰٰٓ ﺃَﺑۡﺼَٰﺮَﻫُﻢۡ ٢٣﴾ ‏[ ﻣﺤﻤﺪ : ٢٢، ٢٣ ‏]
“ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে সম্ভবত তোমরা
পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার
বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ তা‘আলা এদেরকেই
করেন অভিশপ্ত, বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন”। [সূরা
মুহাম্মাদ, আয়াত: ২২-২৩]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻨﻘُﻀُﻮﻥَ ﻋَﻬۡﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦۢ ﺑَﻌۡﺪِ ﻣِﻴﺜَٰﻘِﻪِۦ ﻭَﻳَﻘۡﻄَﻌُﻮﻥَ ﻣَﺎٓ ﺃَﻣَﺮَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِۦٓ ﺃَﻥ
ﻳُﻮﺻَﻞَ ﻭَﻳُﻔۡﺴِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻌۡﻨَﺔُ ﻭَﻟَﻬُﻢۡ ﺳُﻮٓﺀُ ﭐﻟﺪَّﺍﺭِ
٢٥﴾ ‏[ﺍﻟﺮﻋﺪ : ٢٥ ‏]
“যারা আল্লাহ তা‘আলাকে দেওয়া দৃঢ় অঙ্গীকার
ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ
তা‘আলা আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং
পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে তাদের জন্য
রয়েছে লা’নত ও অভিসম্পাত এবং তাদের জন্যই
রয়েছে মন্দ আবাস”। [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ২৫]
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে
না।
জুবায়ের ইবন মুত্বইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﻻ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْـﺠَﻨَّﺔَ ﻗَﺎﻃِﻊٌ ‏»
“আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে
না”। [1]
আবু মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺛَﻼﺛَﺔٌ ﻻَ ﻳَﺪْﺧُﻠُﻮْﻥَ ﺍﻟْـﺠَﻨَّﺔَ : ﻣُﺪْﻣِﻦُ ﺍﻟْـﺨَﻤْﺮِ ﻭَﻗَﺎﻃِﻊُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻢِ ﻭَﻣُﺼَﺪِّﻕٌ ﺑِﺎﻟﺴِّﺤْﺮِ‏»
“তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। অভ্যস্ত
মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ও যাদুতে
বিশ্বাসী”। [2]
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর নেক আমল আল্লাহ
তা‘আলা গ্রহণ করেন না।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏«ﺍﻥَّ ﺃَﻋْﻤَﺎﻝَ ﺑَﻨِﻲْ ﺁﺩَﻡَ ﺗُﻌْﺮَﺽُ ﻛُﻞَّ ﺧَﻤِﻴْﺲٍ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْـﺠُﻤُﻌَﺔِ، ﻓَﻼَ ﻳُﻘْﺒَﻞُ ﻋَﻤَﻞُ ﻗَﺎﻃِﻊِ
ﺭَﺣِﻢٍ ‏»
“আদম সন্তানের আমলসমূহ প্রতি বৃহস্পতিবার
দিবাগত রাত্রিতে (আল্লাহ তা‘আলার নিকট)
উপস্থাপন করা হয়। তখন আত্মীয়তার বন্ধন
বিচ্ছিন্নকারীর আমল গ্রহণ করা হয় না”। [3]
আল্লাহ তা‘আলা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর
শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। উপরন্তু
আখিরাতের শাস্তি তো তার জন্য প্রস্তুত আছেই।
আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺐٍ ﺃَﺟْﺪَﺭُ ﺃَﻥْ ﻳُّﻌَﺠِّﻞَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟِﺼَﺎﺣِﺒِﻪِ ﺍﻟْﻌُﻘُﻮْﺑَﺔَ ﻓِﻲْ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻣَﻊَ ﻣَﺎ ﻳَﺪَّﺧِﺮُ
ﻟَﻪُ ﻓِﻲْ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺒَﻐْﻲِ ﻭَﻗَﻄِﻴْﻌَﺔِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻢِ‏»
“দু’টি গুনাহ্ ছাড়া এমন কোনো গুনাহ্ নেই যে গুনাহ
্গারের শাস্তি আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতেই
দিবেন এবং তা দেওয়াই উচিৎ; উপরন্তু তার জন্য
আখিরাতের শাস্তি তো আছেই। গুনাহ্ দু’টি হচ্ছে,
অত্যাচার ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী”। [4]
কেউ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে আল্লাহ
তা‘আলাও তার সাথে নিজ সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏«ﺍﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْـﺨَﻠْﻖَ، ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﺫَﺍ ﻓَﺮَﻍَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻘِﻪِ ﻗَﺎﻟَﺖِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻢُ : ﻫَﺬَﺍ
ﻣَﻘَﺎﻡُ ﺍﻟْﻌَﺎﺋِﺬِ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘَﻄِﻴْﻌَﺔِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻧَﻌَﻢْ، ﺃَﻣَﺎ ﺗَﺮْﺿَﻴْﻦَ ﺃَﻥْ ﺃَﺻِﻞَ ﻣَﻦْ ﻭَﺻَﻠَﻚِ،
ﻭَﺃَﻗْﻄَﻊَ ﻣَﻦْ ﻗَﻄَﻌَﻚِ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ! ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻬُﻮَ ﻟَﻚِ‏»
“আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টিকুল সৃজন শেষে
আত্মীয়তার বন্ধন (দাঁড়িয়ে) বললো, এটিই হচ্ছে
সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর
স্থান। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, হ্যাঁ, ঠিকই। তুমি
কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, আমি ওর সঙ্গেই সম্পর্ক
স্থাপন করবো যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন
করবে এবং আমি ওর সাথেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন
করবো যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে।
তখন সে বললো: আমি এ কথায় অবশ্যই রাজি আছি
হে আমার রব! তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, তা
হলে তোমার জন্য তাই হোক”। [5]
কেউ কেউ মনে করেন, আত্মীয়-স্বজনরা তার
সাথে দুর্ব্যবহার করলে তাদের সাথে
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা জায়িয। মূলতঃ
ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং আত্মীয়রা আপনার
সাথে দুর্ব্যবহার করার পরও আপনি যদি তাদের
সাথে ভালো ব্যবহার দেখান তখনই আপনি
তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেছেন
বলে প্রমাণিত হবে।
‘আব্দুল্লাহ্ ইবন ‘আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহ
ুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﻟَﻴْﺲَ ﺍﻟْﻮَﺍﺻِﻞُ ﺑِﺎﻟْـﻤُﻜَﺎﻓِﺊِ، ﻭَﻟَﻜِﻦَّ ﺍﻟْﻮَﺍﺻِﻞَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﺇِﺫَﺍ ﻗُﻄِﻌَﺖْ ﺭَﺣِﻤُﻪُ ﻭَﺻَﻠَﻬَﺎ ‏»
“সে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী
হিসেবে গণ্য হবে না যে কেউ তার সাথে
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলেই সে তার সাথে
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। বরং আত্মীয়তার
বন্ধন রক্ষাকারী সে ব্যক্তি যে কেউ তার সাথে
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলেও সে তার সাথে
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে”। [6]
শত্রুতাভাবাপন্ন কোনো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে
সর্বদা ভালো ব্যবহার দেখালেই আপনি তখন
তাদের ব্যাপারে সরাসরি আল্লাহ তা‘আলার
সাহায্যপ্রাপ্ত হবেন। তখন তারা কখানোই
একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ছাড়া আপনার
এতটুকুও ক্ষতি করতে পারবে না।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা
জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম কে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে
আল্লাহর রাসূল! আমার এমন কিছু আত্মীয়-স্বজন
রয়েছে যাদের সাথে আমি আত্মীয়তার বন্ধন
রক্ষা করি; অথচ তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন
করে। আমি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করি;
অথচ তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। আমি
তাদের সাথে ধৈর্যের পরিচয় দেই; অথচ তারা
আমার সাথে কঠোরতা দেখায়। অতএব, তাদের
সাথে এখন আমার করণীয় কী? তখন রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
‏« ﻟَﺌِﻦْ ﻛُﻨْﺖَ ﻛَﻤَﺎ ﻗُﻠْﺖَ ﻓَﻜَﺄَﻧَّﻤَﺎ ﺗُﺴِﻔُّﻬُﻢُ ﺍﻟْﻤَﻞَّ، ﻭَﻻَ ﻳَﺰَﺍﻝُ ﻣَﻌَﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻇَﻬِﻴْﺮٌ
ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣَﺎ ﺩُﻣْﺖَ ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻚَ ‏»
“তুমি যদি সত্যি কথাই বলে থাকো তা হলে তুমি
যেন তাদেরকে উত্তপ্ত ছাই খাইয়ে দিচ্ছো। আর
তুমি যতদিন পর্যন্ত তাদের সাথে এমন ব্যবহার
করতে থাকবে ততদিন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ
থেকে তাদের ওপর তোমার জন্য একজন
সাহায্যকারী নিযুক্ত থাকবে”। [7]
শত্রুতাভাবাপন্ন কোনো আত্মীয়-স্বজনকে সদকা
করা সর্বশ্রেষ্ঠ সদকা।
উম্মে কুলসুম বিনতে উক্ববাহ, হাকীম ইবন হিযাম
ও আবু আইয়ূব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত
তারা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺍﻓْﻀَﻞُ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔُ ﻋَﻠَﻰ ﺫِﻱْ ﺍﻟﺮَّﺣِﻢِ ﺍﻟْﻜَﺎﺷِﺢِ ‏»
“সর্বশ্রেষ্ঠ সদকা হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যে
আপনার শত্রু তার ওপর সদকা করা”। [8]
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর সঙ্গে আত্মীয়তার
বন্ধন রক্ষা করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।
উক্ববাহ্ ইবন ‘আমির ও ‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
থেকে বর্ণিত তারা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
‏« ﺻِﻞْ ﻣَﻦْ ﻗَﻄَﻌَﻚَ، ﻭَﺍﻋْﻂِ ﻣَﻦْ ﺣَﺮَﻣَﻚَ، ﻭَﺃَﻋْﺮِﺽْ ﻋَﻤَّﻦْ ﻇَﻠَﻤَﻚَ ‏»
“আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো ওর সঙ্গে যে
তোমার সঙ্গে সে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, দাও
ওকে যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে এবং
যালিমের পাশ কেটে যাও তথা তাকে ক্ষমা
করো”। [9]
আত্মীয়-স্বজনকে চেনা-জানা একজন মুমিনের
অবশ্যই কর্তব্য। তা হলেই কেবল আত্মীয়তার বন্ধন
রক্ষা করা কারোর পক্ষে সম্ভবপর হবে। নতুবা নয়।
আবু হুরায়রা থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺗَﻌَﻠَّﻤُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﺃَﻧْﺴَﺎﺑِﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﺗَﺼِﻠُﻮْﻥَ ﺑِﻪِ ﺃَﺭْﺣَﺎﻣَﻜُﻢْ ؛ ﻓَﺈِﻥَّ ﺻِﻠَﺔَ ﺍﻟﺮَّﺣِﻢِ ﻣَﺤَﺒَّﺔٌ ﻓِﻲْ
ﺍﻟْﺄَﻫْﻞِ، ﻣَﺜْﺮَﺍﺓٌ ﻓِﻲْ ﺍﻟـْﻤَﺎﻝِ، ﻣَﻨْﺴَﺄَﺓٌ ﻓِﻲْ ﺍﻟْﺄَﺛَﺮِ‏»
“তোমরা নিজ বংশ সম্পর্কে ততটুকুই জানবে
যাতে তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে
পারো। কারণ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলে
আত্মীয়-স্বজনদের ভালোবাসা পাওয়া যায় এবং
ধন-সম্পদ ও বয়স বেড়ে যায়”। [10]
আত্মীয়-স্বজনদেরকে সদকা করলে দু’টি সাওয়াব
পাওয়া যায়: একটি সদকার সাওয়াব এবং অপরটি
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার।
একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মহিলাদেরকে সদকা করার উপদেশ দিলে নিজ
স্বামীদেরকেও সদকা করা যাবে কি না সে
ব্যাপারে দু’ জন মহিলা সাহাবী বিলাল এর
মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,
‏« ﻟَـﻬُﻤَﺎ ﺃَﺟْﺮَﺍﻥِ : ﺃَﺟْﺮُ ﺍﻟْﻘَﺮَﺍﺑَﺔِ ﻭَﺃَﺟْﺮُ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ‏»
“(স্বামীদেরকে দিলেও চলবে) বরং তাতে দু’টি
সাওয়াব রয়েছে: একটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা
করার সাওয়াব এবং আরেকটি সদকার সাওয়াব”।
[11]
একদা মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে না
জানিয়ে একটি বান্দি স্বাধীন করে দিলেন।
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম কে সে সম্পর্কে জানালে তিনি
বলেন,
‏«ﺍﻣَﺎ ﺇِﻧَّﻚِ ﻟَﻮْ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺘِﻬَﺎ ﺃَﺧْﻮَﺍﻟَﻚِ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻋْﻈَﻢَ ﻟِﺄَﺟْﺮِﻙِ ‏»
“জেনে রাখো, তুমি যদি বান্দিটিকে তোমার
মামাদেরকে দিয়ে দিতে তা হলে তুমি আরো
বেশি সাওয়াব পেতে”। [12]
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার বিশেষ গুরুত্বের কারণেই
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ
সাহাবাদেরকে মিসরে অবস্থানরত তাঁরই আত্মীয়-
স্বজনের প্রতি ভালো ব্যবহারের ওয়াসিয়ত
করেন।
আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏« ﺍﻧَّﻜُﻢْ ﺳَﺘَﻔْﺘَﺤُﻮْﻥَ ﻣِﺼْﺮَ، ﻭَﻫِﻲَ ﺃَﺭْﺽٌ ﻳُﺴَﻤَّﻰ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﺍﻟْﻘِﻴْﺮَﺍﻁُ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓَﺘَﺤْﺘُﻤُﻮْﻫَﺎ
ﻓَﺄَﺣْﺴِﻨُﻮْﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻠِﻬَﺎ، ﻓَﺈِﻥَّ ﻟَﻬُﻢْ ﺫِﻣَّﺔً ﻭَﺭَﺣِﻤًﺎ ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ : ﺫِﻣَّﺔً ﻭَﺻِﻬْﺮًﺍ ‏»
“তোমরা অচিরেই মিশর বিজয় করবে। যেখানে ক
ীরাতের (দিরহাম ও দীনারের অংশ বিশেষ)
প্রচলন রয়েছে। যখন তোমরা তা বিজয় করবে তখন
সে এলাকার অধিবাসীদের প্রতি দয়া করবে।
কারণ, তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি ও আমার
আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। (ইসমাঈল ‘আলাইহিস
সালামের মা হাজেরা ‘আলাইহাস সালাম
সেখানকার) অথবা হয়তো বা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কারণ, তাদের
সাথে নিরাপত্তা চুক্তি ও আমার শ্বশুর পক্ষীয়
আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। (রাসূলের স্ত্রী
মারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা সেখানকার)”। [13]
অন্ততপক্ষে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হলেও
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে হবে।
আব্দুল্লাহ্ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‏«ﺑُﻠُّﻮْﺍ ﺃَﺭْﺣَﺎﻣَﻜُﻢْ ﻭَﻟَﻮْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻼَﻡِ ‏»
“অন্ততপক্ষে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হলেও
তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো”।
[14]
এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, কী কী কারণে
মানুষ তার পরম আত্মীয়তার বন্ধনটুকু ছিন্ন করে
দেয়। যা থেকে নিজে দূরে থাকলে বা অন্যকে
দূরে রাখলে আত্মীয়তার বন্ধনটুকু অটুট থাকবে। যা
নিম্নরূপ:
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার কারণসমূহ:
১. মূর্খতা:
কেউ কেউ হয়তো বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন
করার ইহকালীন ও পরকালীন ভয়ানক পরিণতির
কথা না জানার দরুনই আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন
করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। তেমনিভাবে
কেউ কেউ আবার আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার
ইহকালীন ও পরকালীন লাভ না জানার কারণেও
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ নাও
হতে পারেন। তাই উক্ত সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য
উভয় প্রকারের জ্ঞানই প্রয়োজন।
২. আল্লাহভীরুতায় দুর্বলতা:
কেউ কেউ হয়তো বা উপরোক্ত জ্ঞান রাখেন।
তবে তার মধ্যে আল্লাহভীরুতা খুবই দুর্বল। যার দরুন
সে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে ভয় পায় না
অথবা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে উৎসাহী হয়
না। এমনকি সে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার
পরিণতি সম্পর্কে এতটুকুও ভেবে দেখে না।
৩. অহঙ্কার:
কোনো কোনো আত্মীয়-স্বজন তো এমনও রয়েছে
যে, যখন সে দুনিয়ার কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত
করে অথবা বিশেষ কোনো সামাজিক প্রতিপত্তি
সে অর্জন করে কিংবা সে বড়ো মাপের একজন
ধনী হয়ে যায় তখন সে নিজ আত্মীয়-স্বজনদের
সাথে সাক্ষাৎ করাকে মানহানি মনে করে। বরং
সে মনে করে যে, আত্মীয়-স্বজনরা তার সাথেই
সাক্ষাৎ করুক এটাই তার অধিকার।
৪. দীর্ঘদিন সাক্ষাত না হওয়া:
কখনো কখনো যে কোনো কারণে কারোর কোনো
আত্মীয়-স্বজনের সাথে তার দীর্ঘ দিন যাবৎ
দেখা-সাক্ষাৎ না হলে পরবর্তীতে তাদের
সাথে সাক্ষাৎ করতে সত্যিই তার লজ্জা লাগে।
এমনকি দেখা করবো করবো বলে আর তাদের
সাথে দেখা করা হয় না। এমনিভাবেই তা এক
সময় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করায় রূপান্তরিত হয়।
৫. কঠিন তিরস্কার:
কেউ কেউ তার কোনো আত্মীয়-স্বজন দীর্ঘ
সাক্ষাতহীনতার পর তার সাথে সাক্ষাৎ করতে
আসলে তাকে খুব কঠিনভাবে তিরস্কার করে। আর
তখনই তার উক্ত আত্মীয় তার সাথে দ্বিতীয়বার
সাক্ষাৎ করতে ভয় ও লজ্জা পায়। আর তখন
এমনিভাবেই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যকার
সম্পর্কটুকু ছিন্ন হয়ে যায়।
৬. আপ্যায়নে বেশি বাড়াবাড়ি:
কোন কোনো গরীব ব্যক্তি আবার তার কোনো
আত্মীয়-স্বজন তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে
তার জন্য প্রয়োজনাতিরিক্ত অধিক আপ্যায়নের
ব্যবস্থা করে এবং এ জন্য অনেক টাকাও খরচ করে।
তখন তার কোনো বুদ্ধিমান আত্মীয়-স্বজন তার
সাথে আর সাক্ষাৎ করতে চায় না। যেন সে
আপ্যায়নের ঝামেলায় পড়ে আরো গরীব ও আরো
ঋণগ্রস্ত না হয়ে যায়।
৭. মেহমানের প্রতি গুরুত্বহীনতা:
আবার কেউ কেউ এমনও রয়েছে যে, তার কোনো
আত্মীয়-স্বজন তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে
তাকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না। তার
কথাবার্তা গুরুত্ব দিয়ে শোনে না। তার আগমনে
তেমন একটা খুশি প্রকাশ করে না। বরং তাকে
মলিন চেহারায় অভ্যর্থনা জানায়। এমতাবস্থায়
তার আত্মীয়-স্বজনরা তার সাথে দ্বিতীয়বার
দেখা করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।
৮. অত্যধিক কার্পণ্য:
কেউ কেউ আবার অনেক ধন-সম্পদের মালিক হওয়া
সত্ত্বেও তার আত্মীয়-স্বজন থেকে সে দূরে
থাকার চেষ্টা করে। তার ধারণা, সে তাদের
নিকটবর্তী হলে তারা তার কাছ থেকে ঋণ চাবে।
তার থেকে যে কোনো আর্থিক সহযোগিতা
কামনা করবে। মূলতঃ সে সম্পদের কোনো মূল্যই
নেই যে সম্পদ দিয়ে কারোর কোনো আত্মীয়-
স্বজন তার কাছ থেকে এতটুকুও উপকৃত হতে
পারলো না।
৯. মিরাস বন্টনে অতি বিলম্বঃ
কখনো কখনো অলসতা কিংবা কোনো কর্তা
ব্যক্তির হঠকারিতার দরুন ওয়ারিস আত্মীয়-
স্বজনদের মাঝে মিরাস বন্টন করা হয় না। তখন
মিরাস বন্টনে উৎসাহী ও অনুৎসাহীদের মাঝে এক
ধরনের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আর এরই পরিণতিতে
তাদের মধ্যকার আত্মীয়তার বন্ধনটুকুও ছিন্ন হয়ে
যায়।
১০. যৌথ ব্যবসা-বাণিজ্য:
কখনো কখনো আবার কেউ কেউ নিজ আত্মীয়-স্বজন
ও বোন-ভাইদেরকে নিয়ে যৌথ ব্যবসা-বাণিজ্য
করে থাকে; অথচ তারা পরস্পরের মধ্যে এ
সংক্রান্ত কোনো সুস্পষ্ট নিয়ম-নীতি ঠিক করে
নি। বরং তারা পরস্পরের প্রতি ভালো ধারণার
ভিত্তিতেই তা চালিয়ে যায়। কিন্তু যখন লাভ
বেশি হতে শুরু করে এ