শিশুর নৈতিকতা গঠনে পারিবারিক শিক্ষা ও পর্দার অনুশীলনের গুরুত্ব :


শিশুর নৈতিকতা গঠনে পারিবারিক শিক্ষা ও পর্দা অনুশীলনের গুরুত্ব আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন কে নিয়ে পরিবার গড়ে উঠে। একজন শিশু সন্তান জন্মের পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পূর্বে ৪-৫ বছর পরিবারে বেড়ে ওঠে। এ সময়টিতে তার মানসিক বিকাশ ও নৈতিক চরিত্র গঠন হয়ে থাকে। শিশুর মায়ের কোল তার শিক্ষার হাতে খড়ি। ফলে পরিবার থেকেই শিশু প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে। পরিবার মানব সন্তানের প্রথম শিক্ষা নিকেতন। ছেলে-মেয়েদের জীবনে পারিবারিক শিক্ষার মূল্য অনেক। সন্তানের মূল্যবোধ, আখলাক, চেতনা ও বিশ্বাস জন্ম নেয় পরিবার থেকেই। পিতা- মাতার সঠিক লালন-পালনে সন্তানরা সফল হতে পারে। পিতা-মাতা যে আদর্শ লালন করেন তাদের সন্তানরাও তাই ধারণ করার চেষ্টা করে। হাদীস শরীফে এসেছে, ‏«ﻛﻞ ﻣﻮﻟﻮﺩ ﻳﻮﻟﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻔﻄﺮﺓ ﻓﺄﺑﻮﺍﻩ ﻳﻬﻮﺩﺍﻧﻪ ﺃﻭ ﻳﻨﺼﺮﺍﻩ ﺃﻭ ﻳﻤﺠﺴﺎﻧﻪ ‏» . “প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবধর্মের (ইসলাম) ওপর জন্মগ্রহণ করে। অত:পর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদী, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক বানান।” [1] অন্য হাদীসে এসেছে, ‏« ﻣﺎ ﻧﺤﻞ ﻭﺍﻟﺪ ﻭﻟﺪﺍ ﻣﻦ ﻧﺤﻞ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺃﺩﺏ ﺣﺴﻦ‏» . “উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষাদানের চেয়ে বড় দান কোনো পিতা তার সন্তানের জন্য করতে পারেনি।” [2] আরবী কবি হাফেজ ইবরাহীম উত্তম জাতি গঠনে মায়ের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, মাতা হলেন জ্ঞানালোকের প্রথম বাতি। তাকে যদি পড়তে পার, জন্ম নেবে সত্য জাতি।[3] অতএব, অভিভাবকদের কর্তব্য হলো শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ সাধনে ও নৈতিক চরিত্র গঠনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পালন করা। ১. যত্নশীলতা, স্নেহ-মমতা, আদর-ভালোবাসা দেওয়া: শিশুরা স্রষ্টার মহান আমানত। তারা নিষ্পাপ, অপ্রষ্ফুটিত পুষ্পকলির মতো পবিত্র। পিতা-মাতা, অভিভাবকদের কাছে কোমলতা, মমতা, আদর সোহাগ পেলে তাদের হৃদয় আনন্দে উচ্ছাসে ভরে ওঠে, যা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। পক্ষান্তরে নিষ্ঠুরতা, অবহেলা ও সহিংসতাপূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা তাদের মধ্যে মানসিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে তাদের মানবিক গুণাবলী আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং পাশবিক চিন্তাধারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরাই একদিন বড় হয়ে মানব সমাজের জন্য বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক উপাদানে পরিণত হয়। সন্তানের প্রতি মাতাপিতার হৃদয়জুড়ে অফুরন্ত ভালোবাসার যে ফাল্গুধারা আছে তা একটি স্বতঃসিদ্ধ সহজাত সত্য হলেও আজকাল যান্ত্রিক সভ্যতা ও ভোগবাদী বস্তুতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা মানুষকে হৃদয় মনহীন এমন এক যন্ত্রে রূপান্তরিত করেছ যে, এক শ্রেণীর পিতা-মাতা অর্থ ও প্রাচুর্যের পাহাড় গড়তে গিয়ে সন্তানের মানসিক ভবিষ্যৎ গড়ার কথা বে-মা‘লুম ভুলে যান। যে সময় সন্তানের হৃদয় থাকে পিতা-মাতার স্নেহ মমতা ও আদর-সোহাগের প্রবল পিপাসা, তখন তারা তাকে তুলে দেন কাজের মেয়ে কিংবা বেতনভোগী কর্মচারীদের হাতে। ফলে পিতা-মাতার সান্নিধ্য সংস্পর্শ বঞ্চিত এসব শিশু মানসিক শূন্যতায় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এই শূন্যতা ঘোচানোর জন্য সে একসময় অসৎ, ভবঘুরে বন্ধুদের সাহচর্য খুঁজে নেয়। সে জানে না যে, এরাই একদিন তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে। এ জন্য আমরা দেখি যে, বখাটেদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছে, যারা মূলত ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। অর্থাভাব বা অন্য কিছু নয়, শুধুমাত্র পিতা-মাতার উদাসীনতাই তাদের এই অধঃপতনের কারণ। আসলে পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা একত্রিত করলেও পিতা-মাতার ভালোবাসা আত্মত্যাগ ও উৎসর্গের কোনো বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্যই তো ইসলাম পারিবারিক ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করেছে। যেন ভূমিষ্ঠ হওয়ার অব্যবহিত পরেই শিশু এমন একটি জান্নাতী পরিমণ্ডলের আশ্রয় পায়, সেখানে সবাই তাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নেয়। শিশু ও সন্তান-সন্ততির প্রতি দয়া-ভালোবাসা প্রদর্শনে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে কত যত্নশীল ছিলেন, তা নিম্নোক্ত হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হয়। হাদীসে এসেছে, ‏« ﻗﺒﻞ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﻭﻋﻨﺪﻩ ﺍﻷﻗﺮﻉ ﺑﻦ ﺣﺎﺑﺲ ﺍﻟﺘﻤﻴﻤﻲ ﺟﺎﻟﺴﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻷﻗﺮﻉ ﺇﻥ ﻟﻲ ﻋﺸﺮﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﻟﺪ ﻣﺎ ﻗﺒﻠﺖ ﻣﻨﻬﻢ ﺃﺣﺪﺍ ﻓﻨﻈﺮ ﺇﻟﻴﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﻻ ﻳﺮﺣﻢ ﻻ ﻳﺮﺣﻢ‏» . “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাতি হাসান ইবন ‘আলীকে চুমু দিচ্ছিলেন। তখন তাঁর কাছে আকরা ইবন হাবিছ আত-তাইমী নামে একজন সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। আকরা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দশটি সন্তান। আমি কোনো দিন তাদের কাউকে চুমু দেই নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে (বিস্ময়ভরে) তাকালেন। তারপর বললেন, যে ব্যক্তি দয়া প্রদর্শন করে না, সে দয়ার পাত্রও হতে পারে না।” [4] মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের কান্না সহ্য করতে পারতেন না। প্রয়োজনে সে কারণে সালাতকেও সংক্ষিপ্ত করতেন। হাদীসে এসেছে, ‏« ﺇﻧﻲ ﻷﻗﻮﻡُ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺃﺭﻳﺪُ ﺃﻥ ﺃﻃﻮِّﻝ ﻓﻴﻬﺎ ، ﻓﺄﺳﻤﻊُ ﺑﻜﺎﺀَ ﺍﻟﺼَّﺒﻲِّ ﻓﺄﺗﺠﻮَّﺯُ ﻓﻲ ﺻﻼﺗﻲ ، ﻛﺮﺍﻫﻴﺔ ﺃﻥ ﺃﺷﻖَّ ﻋﻠﻰ ﺃُﻣِّﻪ‏» . “আমি সালাতকে দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত পড়তে দাঁড়াই। তারপর শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পাই এবং তা তার মাকে বিচলিত করতে পারে এ আশংকায় আমি সালাত সংক্ষিপ্ত করি।” আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‏« ﺩَﺧَﻞْ ﻭَﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢُ ﻳَﺠُﻮﺩُ ﺑِﻨَﻔْﺴِﻪِ ، ﻓَﺠَﻌَﻠَﺖْ ﻋَﻴْﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺗَﺬْﺭِﻓَﺎﻥِ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦُ ﻋَﻮْﻑٍ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ‏« ﻳَﺎ ﺍﺑْﻦَ ﻋَﻮْﻑٍ ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﺭَﺣْﻤَﺔٌ . ﺛُﻢَّ ﺃَﺗْﺒَﻌَﻬَﺎ ﺑِﺄُﺧْﺮَﻯ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻌَﻴْﻦَ ﺗَﺪْﻣَﻊُ ، ﻭَﺍﻟْﻘَﻠْﺐَ ﻳَﺤْﺰَﻥُ ، ﻭَﻻَ ﻧَﻘُﻮﻝُ ﺇِﻻَّ ﻣَﺎ ﻳَﺮْﺿَﻰ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ، ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺑِﻔِﺮَﺍﻗِﻚَ ﻳَﺎ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢُ ﻟَﻤَﺤْﺰُﻭﻧُﻮﻥَ ‏» . “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইবরাহীম-এর কাছে গেলেন। তিনি তখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’চোখে অশ্রু ঝরতে থাকে। আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনিও (কাঁদছেন)! তিনি বললেন, হে আওফের পুত্র! এটা হচ্ছে মায়া-মমতা। এরপর তাঁর চোখ থেকে আবারও অশ্রু ঝরতে লাগল। তারপর তিনি বললেন, হে চোখ অশ্রু ঝরাও, হৃদয় শোকার্ত হও, তবে আমরা আমাদের মুখে এমন কথাই বলব, যাতে আমাদের রব সন্তুষ্ট হন। হে ইবরাহীম তোমার বিচ্ছেদে আমরা শোকাহত।” [5] ২. শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ: বয়োঃপ্রাপ্ত হওয়ার পরে ইসলামের দৃষ্টিতে মানবসন্তানের ওপর বহুমুখী দায়িত্ব অর্পিত হয়, যাকে শরী‘আতের পরিভাষায় বলা হয় তাকলীফ। তাকলীফ পর্যায়ে উপনীত হয়ে যেন সে যথাযথ আপন কর্তব্য পালন করতে পারে, এজন্য শিশুর মধ্যে যখন থেকেই ভালো-মন্দ, ন্যায়- অন্যায়ের বোধোদয় সূচিত হবে, জ্ঞান প্রথম আলোর উন্মেষ ঘটতে শুরু করবে, তখন থেকেই শুরু হবে তার শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ। ক. ঈমানের বিষয়সমূহ শিক্ষা: আল্লাহ তা‘আলা, ফিরিশতা, নবী-রাসূল, তাকদীর, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম, হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য অপরিহার্য অদৃশ্য বিষয়সংক্রান্ত বিশ্বাস। হাদীসে রয়েছে, ‏« ﺍﻓﺘﺤﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺻﺒﻴﺎﻧﻜﻢ ﺃﻭﻝ ﻛﻠﻤﺔ ﺑﻼ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ‏» . “তোমাদের সন্তানদের প্রথম কথা শিক্ষা দাও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ” [6] খ. আরকানুল ইসলাম: তথা সালাত, সাওম ইত্যাদির প্রশিক্ষণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‏« ﻣُﺮُﻭﺍ ﺃَﻭْﻻَﺩَﻛُﻢْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻭَﻫُﻢْ ﺃَﺑْﻨَﺎﺀُ ﺳَﺒْﻊِ ﺳِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﺿْﺮِﺑُﻮﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻭَﻫُﻢْ ﺃَﺑْﻨَﺎﺀُ ﻋَﺸْﺮِ ﺳِﻨِﻴﻦَ ﻭَﻓَﺮِّﻗُﻮﺍ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻓِﻰ ﺍﻟْﻤَﻀَﺎﺟِﻊِ ‏» . “সাত বছরে পর্দাপণ করলেই তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাত পড়ার নির্দেশ দাও, দশ বছরে পর্দাপণ করলে (তখনও যদি সালাত পড়ার অভ্যাস না হয়ে থাকে তবে) তাদেরকে সালাত করার জন্য দৈহিক শাস্তি দাও এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।” [7] সালাত সম্পর্কিত নির্দেশ অন্যান্য আরকানের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। গ. শরী‘আতের বিধি-বিধান: তথা আক্বীদাহ, ইবাদাত, আখলাক, সর্বাত্মক ব্যবস্থাপনা ও বিধি-বিধান। এক কথায় ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন সম্পর্কে তাদের মধ্যে মৌলিক ধারণা রোপন করা। ঘ. কুরআন, সুন্নাহ, সীরাত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা দান: আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‏«ﺃَﺩِّﺑُﻮﺍ ﺃَﻭْﻻَﺩَﻛُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺧِﺼَﺎﻝٍ ﺛَﻼَﺙٍ : ﻋَﻠَﻰ ﺣُﺐِّ ﻧَﺒِﻴِّﻜُﻢْ ، ﻭَﺣُﺐِّ ﺃَﻫْﻞِ ﺑَﻴْﺘِﻪِ ، ﻭَﻋَﻠَﻰ ﻗِﺮَﺍﺀَﺓِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺣَﻤَﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻓِﻲ ﻇِﻞِّ ﺍﻟﻠﻪِ ﻳَﻮْﻡَ ﻻَ ﻇِﻞَّ ﺇِﻻَّ ﻇِﻠُّﻪُ ﻣَﻊَ ﺃَﻧْﺒِﻴَﺎﺋِﻪِ ﻭَﺃَﺻْﻔِﻴَﺎﺋِﻪِ‏» . “তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তিনটি বিষয়ে শিক্ষা দাও। (ক) তোমাদের নবীর প্রতি ভালোবাসা (খ) তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা এবং (গ) কুরআন তিলাওয়াত। কুরআনের ধারকরা নবী-রাসুল ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সাথে আল্লাহর ‘আরশের ছায়াতলে থাকবে, যখন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না।” [8] একদা উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর কাছে এসে জনৈক ব্যক্তি নিজের সন্তানের অবাধ্যাচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। ওমর অভিযুক্ত সন্তানকে পিতার সাথে অসদাচরণের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। সন্তান তখন বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন, সন্তানের কি পিতার উপর কোনো হক আছে? উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। সে বলল, তাহলে তা কী? উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, পিতা তার জন্য সৎ আদর্শ নারীকে মাতা হিসেবে গ্রহণ করবে, তার জন্য একটা সুন্দর নাম রাখবে এবং তাকে কুরআন শিক্ষা দেবে। তখন সন্তান বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন, আমার পিতা ওগুলোতে একটিও করে নি। আমার মা হচ্ছেন ক্রীতদাসী। এক সময় মূর্তিপূজারী ছিলেন, আমার নাম রেখেছে জু‘লান (অর্থাৎ গোবরে পোকা) আর আমার বাবা আমাকে কুরআনের একটি বর্ণও শিক্ষা দেন নি। উমার তখন পিতার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি এসেছ সন্তানের অসদাচরণের বিরুদ্ধে নালিশ করতে। আরে তুমি তো তার প্রতি আগেই অবিচার ও অসদাচরণ করেছ।[9] সা‘দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের রাসূলের যুদ্ধের ইতিহাস শিক্ষা দিতাম, যেমনিভাবে তাদেরকে আমরা কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতাম। [10] ইমাম গাযালী রহ. তাঁর ইহইয়াউ উলুমিদ্দীনের মধ্যে শিশুকে কুরআনুল কারীম, হাদীস শরীফ, পূণ্যবানদের জীবনকথা ও তারপর দীনের বিধি- বিধান শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন। [11] ঙ. তাকওয়া ও আল্লাহভীতির চেতনা সঞ্চার করা: সন্তানের মধ্যে আল্লাহর ভয় প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে। সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই বলতে হবে তুমি যা কর এবং বল প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে, দিনের আলোতে কিংবা রাতের অন্ধকারে, জলে কিংবা স্থলে সকল জায়গায়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে পর্যবেক্ষণ করেন। অতএব, আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো অপরাধ করলেও আল্লাহ তোমার কৃতকর্মের হিসাব অবশ্যই নেবেন। তোমাকে তাই সব সময় আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহর পথে চলতে হবে। সন্তানের মধ্যে খোদাভীতির এই চেতনা সঞ্চারিত করতে পারলে সে আর কুপথে পা বাড়াবে না। চ. চারিত্রিক প্রশিক্ষণ: চারিত্রিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‏« ﻣﺎ ﻧﺤﻞ ﻭﺍﻟﺪ ﻭﻟﺪﺍ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺃﺩﺏ ﺣﺴﻦ ‏» . “উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষাদানের চেয়ে বড় দান কোনো পিতা তার সন্তানের জন্য করতে পারে নি।” [12] ‏« ﺃﻛﺮﻣﻮﺍ ﺃﻭﻻﺩﻛﻢ ﻭﺃﺣﺴﻨﻮﺍ ﺁﺩﺍﺑﻬﻢ ‏» . “তোমরা তোমাদের সন্তানদের ভালোবাসা দাও এবং তাদেরকে সর্বোত্তম শিষ্টাচারিতা ও নৈতিকতা শিক্ষা দাও।” [13] ‏« ﺃﻥ ﻳﺤﺴﻦ ﺍﺳﻤﻪ ﻭﻳﺤﺴﻦ ﺃﺩﺑﻪ‏» . “পিতার ওপর সন্তানের হক হলো, তার জন্য সুন্দর একটা নাম রাখবে এবং তাকে সর্বোত্তম শিক্ষা ও চরিত্রগুণে গড়ে তুলবে।” [14] ‏« ﻷﻥ ﻳﺆﺩﺏ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﻟﺪﻩ ﺧﻴﺮ ﻟﻪ ﻣﻦ ﺃﻥ ﻳﺘﺼﺪﻕ ﺑﺼﺎﻉ‏» . “সন্তানকে একটা উত্তম শিষ্টাচারিতা শিক্ষা দেওয়া আল্লাহর পথে এক সা‘ পরিমাণ বস্তু সদকা করার চেয়েও উত্তম।” [15] ৩. সদুপদেশ প্রদান: মাতাপিতার সদুপদেশ সন্তানের জীবনপথের পাথেয় ও অন্ধকারে আলোকরশ্মি। তা নিষ্পাপ শিশুর উর্বর হৃদয়ে তা অঙ্কিত হয়ে থাকে সারাজীবন। জীবনের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এগুলোই তাকে দেয় সঠিক নির্দেশনা। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‏« ﻛﻨﺖ ﺧﻠﻔﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﻮﻣﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﻏﻼﻡ ﺇﻧﻲ ﺃﻋﻠﻤﻚ ﻛﻠﻤﺎﺕ ﺍﺣﻔﻆ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺤﻔﻈﻚ ﺍﺣﻔﻆ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺠﺪﻩ ﺗﺠﺎﻫﻚ ﺇﺫﺍ ﺳﺄﻟﺖ ﻓﺎﺳﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺇﺫﺍ ﺍﺳﺘﻌﻨﺖ ﻓﺎﺳﺘﻌﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺍﻋﻠﻢ ﺃﻥ ﺍﻷﻣﺔ ﻟﻮ ﺍﺟﺘﻤﻌﺖ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﻳﻨﻔﻌﻮﻙ ﺑﺸﻲﺀ ﻟﻢ ﻳﻨﻔﻌﻮﻙ ﺇﻻ ﺑﺸﻲﺀ ﻗﺪ ﻛﺘﺒﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻚ ﻭﻟﻮ ﺍﺟﺘﻤﻌﻮﺍﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﻳﻀﺮﻭﻙ ﺑﺸﻲﺀ ﻟﻢ ﻳﻀﺮﻭﻙ ﺇﻻ ﺑﺸﻲﺀ ﻗﺪ ﻛﺘﺒﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻚ ﺭﻓﻌﺖ ﺍﻷﻗﻼﻡ ﻭﺟﻔﺖ ﺍﻟﺼﺤﻒ ‏» . “আমি একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর পেছনে আরোহণ করেছিলাম। তিনি বললেন, হে বালক, আমি তোমাকে কিছু (মুল্যবান) কথা শিক্ষা দেব: * তুমি আল্লাহ তা‘আলার হক আদায়ের ব্যাপারে যত্নশীল হও, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতের অনিষ্ট থেকে হিফাযত করবেন। * যখন কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহর কাছেই করবে। * যখন সাহায্যের আবেদন করবে, তখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই করবে। * জেনে রাখ, যদি গোটা জাতি তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তাহলে তারা ততটুকুই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য বরাদ্দ করেছেন। আর তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তাহলে ততটুকুই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার নামে বরাদ্দ করেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে আর নিবন্ধন বই শুকিয়ে গেছে অর্থাৎ তাকদীরে যা বরাদ্দ হবার তা হয়ে গেছে।[16] ইবরাহীম ও ইয়াকুব আলাইহিমাস সালাম নিজ সন্তানদের উপদেশ সম্পর্কে কুরআনে এসেছে, ﴿ﻭَﻭَﺻَّﻰٰ ﺑِﻬَﺎٓ ﺇِﺑۡﺮَٰﻫِۧﻢُ ﺑَﻨِﻴﻪِ ﻭَﻳَﻌۡﻘُﻮﺏُ ﻳَٰﺒَﻨِﻲَّ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﭐﺻۡﻄَﻔَﻰٰ ﻟَﻜُﻢُ ﭐﻟﺪِّﻳﻦَ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻤُﻮﺗُﻦَّ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢ ﻣُّﺴۡﻠِﻤُﻮﻥَ ١٣٢ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١٣٢‏] “এরই অসিয়ত করেছে ইবরাহীম তাঁর সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্যে এ দীনকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলিম না হয়ে কখনও মারা যেও না।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৩২] লোকমান হাকীম প্রদত্ত উপদেশ: ﴿ﻭَﺇِﺫۡ ﻗَﺎﻝَ ﻟُﻘۡﻤَٰﻦُ ﻟِﭑﺑۡﻨِﻪِۦ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻌِﻈُﻪُۥ ﻳَٰﺒُﻨَﻲَّ ﻟَﺎ ﺗُﺸۡﺮِﻙۡ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِۖ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﺸِّﺮۡﻙَ ﻟَﻈُﻠۡﻢٌ ﻋَﻈِﻴﻢٞ ١٣ ﻭَﻭَﺻَّﻴۡﻨَﺎ ﭐﻟۡﺈِﻧﺴَٰﻦَ ﺑِﻮَٰﻟِﺪَﻳۡﻪِ ﺣَﻤَﻠَﺘۡﻪُ ﺃُﻣُّﻪُۥ ﻭَﻫۡﻨًﺎ ﻋَﻠَﻰٰ ﻭَﻫۡﻦٖ ﻭَﻓِﺼَٰﻠُﻪُۥ ﻓِﻲ ﻋَﺎﻣَﻴۡﻦِ ﺃَﻥِ ﭐﺷۡﻜُﺮۡ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَٰﻟِﺪَﻳۡﻚَ ﺇِﻟَﻲَّ ﭐﻟۡﻤَﺼِﻴﺮُ١٤ ﻭَﺇِﻥ ﺟَٰﻬَﺪَﺍﻙَ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻥ ﺗُﺸۡﺮِﻙَ ﺑِﻲ ﻣَﺎ ﻟَﻴۡﺲَ ﻟَﻚَ ﺑِﻪِۦ ﻋِﻠۡﻢٞ ﻓَﻠَﺎ ﺗُﻄِﻌۡﻬُﻤَﺎۖ ﻭَﺻَﺎﺣِﺒۡﻬُﻤَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟﺪُّﻧۡﻴَﺎ ﻣَﻌۡﺮُﻭﻓٗﺎۖ ﻭَﭐﺗَّﺒِﻊۡ ﺳَﺒِﻴﻞَ ﻣَﻦۡ ﺃَﻧَﺎﺏَ ﺇِﻟَﻲَّۚ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣَﺮۡﺟِﻌُﻜُﻢۡ ﻓَﺄُﻧَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﺑِﻤَﺎ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺗَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ١٥ ﻳَٰﺒُﻨَﻲَّ ﺇِﻧَّﻬَﺎٓ ﺇِﻥ ﺗَﻚُ ﻣِﺜۡﻘَﺎﻝَ ﺣَﺒَّﺔٖ ﻣِّﻦۡ ﺧَﺮۡﺩَﻝٖ ﻓَﺘَﻜُﻦ ﻓِﻲ ﺻَﺨۡﺮَﺓٍ ﺃَﻭۡ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﺃَﻭۡ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻳَﺄۡﺕِ ﺑِﻬَﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻄِﻴﻒٌ ﺧَﺒِﻴﺮٞ١٦ ﻳَٰﺒُﻨَﻲَّ ﺃَﻗِﻢِ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻭَﺃۡﻣُﺮۡ ﺑِﭑﻟۡﻤَﻌۡﺮُﻭﻑِ ﻭَﭐﻧۡﻪَ ﻋَﻦِ ﭐﻟۡﻤُﻨﻜَﺮِ ﻭَﭐﺻۡﺒِﺮۡ ﻋَﻠَﻰٰ ﻣَﺎٓ ﺃَﺻَﺎﺑَﻚَۖ ﺇِﻥَّ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻣِﻦۡ ﻋَﺰۡﻡِ ﭐﻟۡﺄُﻣُﻮﺭِ ١٧ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺼَﻌِّﺮۡ ﺧَﺪَّﻙَ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻤۡﺶِ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻣَﺮَﺣًﺎۖ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳُﺤِﺐُّ ﻛُﻞَّ ﻣُﺨۡﺘَﺎﻝٖ ﻓَﺨُﻮﺭٖ ١٨ ﻭَﭐﻗۡﺼِﺪۡ ﻓِﻲ ﻣَﺸۡﻴِﻚَ ﻭَﭐﻏۡﻀُﺾۡ ﻣِﻦ ﺻَﻮۡﺗِﻚَۚ ﺇِﻥَّ ﺃَﻧﻜَﺮَ ﭐﻟۡﺄَﺻۡﻮَٰﺕِ ﻟَﺼَﻮۡﺕُ ﭐﻟۡﺤَﻤِﻴﺮِ١٩﴾ ‏[ ﻟﻘﻤﺎﻥ : ١٣، ١٩‏] “যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বলল, হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধছাড়ানো দু’বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করব। হে বৎস, কোনো বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তত গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ- গর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ গোপনভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন। হে বৎস, সালাত কায়েম করো, সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দকাজে থেকে নিষেধ করো এবং বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ। অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করে না। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।” [সূরা লোকমান, আয়াত: ১৩-১৯] ৪. সন্তানের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দো‘আ করা: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দো‘আ করেছিলেন, ﴿ﺭَﺏِّ ﭐﺟۡﻌَﻠۡﻨِﻲ ﻣُﻘِﻴﻢَ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓِ ﻭَﻣِﻦ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻲۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺗَﻘَﺒَّﻞۡ ﺩُﻋَﺎٓﺀِ ٤٠﴾ ‏[ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ : ٤٠‏] “হে আমার পালনকর্তা, আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমার পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দো‘আ । ” [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৪০] ইসলামের এ সুমহান নির্দেশনাবলীর আলোকে যারা প্রতিপালিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবে, তারাই হবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তারা কখনোই কাউকে উত্ত্যক্ত করতে পারে না। পিতা-মাতাগণ যদি তাঁদের সন্তানদেরকে নৈতিকতার অনুশীলন বাড়িতেই নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে অনাচারমুক্ত সভ্য সমাজ গঠন অসম্ভব হবে না। ৫. রাস্তার হক আদায় করা: ইসলাম মানুষকে সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে রাস্তাঘাটে বসতে নিষেধ করেছেন। একান্ত বসতে হলে রাস্তার হক আদায় করতে হবে। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, ‏« ﺇﻳﺎﻛﻢ ﻭﺍﻟﺠﻠﻮﺱ ﻓﻲ ﺍﻟﻄﺮﻗﺎﺕ ﻓﻘﺎﻟﻮﺍ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﻟﻨﺎ ﻣﻦ ﻣﺠﺎﻟﺴﻨﺎ ﺑﺪٌّ ﻧﺘﺤﺪﺙ ﻓﻴﻬﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺈﺫﺍ ﺃﺑﻴﺘﻢ ﺇﻻ ﺍﻟﻤﺠﻠﺲ ﻓﺄﻋﻄﻮﺍ ﺍﻟﻄﺮﻳﻖ ﺣﻘﻪ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭﻣﺎ ﺣﻖ ﺍﻟﻄﺮﻳﻖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻏﺾ ﺍﻟﺒﺼﺮ ﻭﻛﻒ ﺍﻷﺫﻯ ﻭﺭﺩ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﻷﻣﺮ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﺍﻟﻨﻬﻲ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ‏» “সাবধান, তোমরা রাস্তায় বসবে না। তখন সাহাবীগণ বললেন, আমাদের এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা রাস্তায় বসে পরস্পর দীনী আলোচনা করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমরা একান্তই রাস্তায় বসতে চাও তাহলে রাস্তার হক আদায় করবে। সাহাবীগণ বললেন, রাস্তার হকসমূহ কী? আল্লাহর রাসূল বললেন, ১. চক্ষু অবনমিত করে রাখা ২. কাউকে কষ্ট না দেওয়া ৩. সালামের উত্তর দেওয়া ৪. সৎ কাজের আদেশ করা এবং ৫. মন্দ কাজে নিষেধ করা।” [17] আমরা যদি আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে রাস্তায় চলাফেরার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনাকে অনুসরণের তাগাদা দিতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই রাস্তাঘাটের অনাকাঙ্খিত ঘটনা থেকে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ থাকতে পারবে। ৬. আল্লাহভীতি: যার মধ্যে তাকওয়া কাজ করে তিনি কখনো খারাপ কাজ করতে পারেন না। একজন মুত্তাকী মানুষ তার সকল কাজে আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করেন। তিনি জানেন, তাকে দেখছেন, শুনছেন, পর্যবেক্ষণ করছেন। আল্লাহর কাছে বান্দার গোপনীয়তা বলতে কিছুই থাকে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ﻟِّﻠَّﻪِ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۗ ﻭَﺇِﻥ ﺗُﺒۡﺪُﻭﺍْ ﻣَﺎ ﻓِﻲٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻜُﻢۡ ﺃَﻭۡ ﺗُﺨۡﻔُﻮﻩُ ﻳُﺤَﺎﺳِﺒۡﻜُﻢ ﺑِﻪِ ﭐﻟﻠَّﻪُۖ ﻓَﻴَﻐۡﻔِﺮُ ﻟِﻤَﻦ ﻳَﺸَﺎٓﺀُ ﻭَﻳُﻌَﺬِّﺏُ ﻣَﻦ ﻳَﺸَﺎٓﺀُۗ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲۡﺀٖ ﻗَﺪِﻳﺮٌ ٢٨٤﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٨٤‏] “যা কিছু আকাশসমূহে এবং যা কিছু জমিনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দিবেন।” [সূরা আল-বাকারা: ২৮৪] ﴿ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻗُﻮﻟُﻮﺍْ ﻗَﻮۡﻟٗﺎ ﺳَﺪِﻳﺪٗﺍ ٧٠﴾ ‏[ ﺍﻻﺣﺰﺍﺏ : ٧٠ ‏] “হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০] আবু যর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‏«ﻗﺎﻝ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻗﺎﻝ ﻗﻠﺖ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻭﺻﻨﻲ ﻗﺎﻝ ﺍﺗﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﻴﺜﻤﺎ ﻛﻨﺖ ﻭﺍﺗﺒﻊ ﺍﻟﺴﻴﺌﺔ ﺍﻟﺤﺴﻨﺔ ﺗﻤﺤﻬﺎ ﻭﺧﺎﻟﻖ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﺨﻠﻖ ﺣﺴﻦ ‏» . “আবদুর রহমান বলেছেন, হে আল্লাহর রাসূল আমাকে উপদেশ দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় করো। খারাপ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো এবং মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার কর।” [18] আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ﴿ﻗُﻞۡ ﻳَٰﻌِﺒَﺎﺩِ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﺭَﺑَّﻜُﻢۡۚ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺣۡﺴَﻨُﻮﺍْ ﻓِﻲ ﻫَٰﺬِﻩِ ﭐﻟﺪُّﻧۡﻴَﺎ ﺣَﺴَﻨَﺔٞۗ ﻭَﺃَﺭۡﺽُ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻭَٰﺳِﻌَﺔٌۗ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﻮَﻓَّﻰ ﭐﻟﺼَّٰﺒِﺮُﻭﻥَ ﺃَﺟۡﺮَﻫُﻢ ﺑِﻐَﻴۡﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٖ ١٠ ﴾ ‏[ﺍﻟﺰﻣﺮ : ١٠ ‏] “বলুন, হে আমার ঈমানদার বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে পূণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা ধৈর্য ধারণকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ১০] তিনি আরো বলেন, ‏«ﺳﺒﻌﺔ ﻳﻈﻠﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﻇﻠﻪ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﻌﺎﺩﻝ ﻭﺷﺎﺏ ﻧﺸﺄ ﻓﻲ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺭﺑﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﻌﻠﻖ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺭﺟﻼﻥ ﺗﺤﺎﺑﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺟﺘﻤﻌﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺗﻔﺮﻗﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﻃﻠﺒﺘﻪ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺫﺍﺕ ﻣﻨﺼﺐ ﻭﺟﻤﺎﻝ ﻓﻘﺎﻝ ﺇﻧﻲ ﺃﺧﺎﻑ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﺗﺼﺪﻕ ﺍﺧﻔﻰ ﺣﺘﻰ ﻻ ﺗﻌﻠﻢ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﻣﺎ ﺗﻨﻔﻖ ﻳﻤﻴﻨﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﺎﻟﻴﺎ ﻓﻔﺎﺿﺖ ﻋﻴﻨﺎﻩ‏» . “যেদিন (কিয়ামতের দিন) ‘আরশের ছায়া ছাড়া আর অন্য কোনো ছায়া থাকবে না সেদিন সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। 1. ন্যায়পরায়ণ নেতা, 2. ঐ যুবক, যে তাঁর যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন, 3. এমন ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লটকানো থাকে, একবার মসজিদ থেকে বের হলে পুনরায় প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত ব্যাকুল থাকে, 4. এমন দু’ব্যক্তি, যারা কেবল আল্লাহর মহব্বতে পরস্পর মিলিত হয় এবং পৃথক হয়, 5. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহর ভয়ে চোখের অশ্রু ফেলে, 6. যে ব্যক্তিকে কোনো সম্ভ্রান্ত বংশের সুন্দরী রমণী ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আহবান জানায় আর ঐ ব্যক্তি শুধু আল্লাহর ভয়েই বিরত থাকে এবং 7. যে ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করল বাম হাতও তা জানল না।” [19] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‏« ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻَ ﻳَﻨْﻈُﺮُ ﺇِﻟَﻰ ﺻُﻮَﺭِﻛُﻢْ ﻭَﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻜُﻢْ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻳَﻨْﻈُﺮُ ﺇِﻟَﻰ ﻗُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻋْﻤَﺎﻟِﻜُﻢْ ‏» . “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না; কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তর ও কর্মের দিকে তাকান।” [20] ৭. আখিরাতের বিশ্বাস: পরকালীন দিবসের ওপর বিশ্বাস মানুষকে পাপকর্ম থেকে বিরত রাখে। একজন মুমিন ব্যক্তি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, এ দুনিয়া অস্থায়ী, পরকালীন জীবন স্থায়ী। সেখানে দুনিয়ার সকল কর্মের হিসাব নেওয়া হবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। যিদি উত্তম কর্ম করেছেন, তিনি উত্তম প্রতিদান পাবেন আর যিনি অন্যায় কর্ম করেছেন তিনি কঠিন শাস্তি ভোগ করবেন। এ বিশ্বাসই তাকে ভালো কাজে প্রেরণা যোগায় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন, ﴿ﻓَﻤَﻦ ﻳَﻌۡﻤَﻞۡ ﻣِﺜۡﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٍ ﺧَﻴۡﺮٗﺍ ﻳَﺮَﻩُۥ ٧ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻌۡﻤَﻞۡ ﻣِﺜۡﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٖ ﺷَﺮّٗﺍ ﻳَﺮَﻩُۥ﴾ ‏[ ﺍﻟﺰﻟﺰﻟﺔ : ٧، ٨‏] “অত:পর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। [সূরা আয-যিলযাল, আয়াত: ৭-৮] ﴿ﻓَﻤَﻦ ﻳَﻌۡﻤَﻞۡ ﻣِﻦَ ﭐﻟﺼَّٰﻠِﺤَٰﺖِ ﻭَﻫُﻮَ ﻣُﺆۡﻣِﻦٞ ﻓَﻠَﺎ ﻛُﻔۡﺮَﺍﻥَ ﻟِﺴَﻌۡﻴِﻪِۦ ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﻟَﻪُۥ ﻛَٰﺘِﺒُﻮﻥَ ٩٤﴾ ‏[ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ : ٩٤ ‏] “অত:পর যে বিশ্বাসী অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, তার প্রচেষ্টা অস্বীকৃত হবে না এবং আমি তা লিপিবদ্ধ করে রাখি।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৯৪] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ﺗِﻠۡﻚَ ﭐﻟﺪَّﺍﺭُ ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓُ ﻧَﺠۡﻌَﻠُﻬَﺎ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻟَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﻋُﻠُﻮّٗﺍ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﻟَﺎ ﻓَﺴَﺎﺩٗﺍۚ ﻭَﭐﻟۡﻌَٰﻘِﺒَﺔُ ﻟِﻠۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٨٣ ﻣَﻦ ﺟَﺎٓﺀَ ﺑِﭑﻟۡﺤَﺴَﻨَﺔِ ﻓَﻠَﻪُۥ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻣِّﻨۡﻬَﺎۖ ﻭَﻣَﻦ ﺟَﺎٓﺀَ ﺑِﭑﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔِ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﺠۡﺰَﻯ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻋَﻤِﻠُﻮﺍْ ﭐﻟﺴَّﻴَِّٔﺎﺕِ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻳَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ ٨٤ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻘﺼﺺ : ٨٣، ٨٤‏] “ঐ আখিরাতের ঘর তো আমি তাদের জন্য খাস করে দেব, যারা পৃথিবীতে নিজেদের বড়ত্ব চায় না এবং ফাসাদও সৃষ্টি করতে চায় না। আর ভালো পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই রয়েছে। যে ভালো ‘আমল নিয়ে আসে তার জন্য এর চেয়েও ভালো ফল রয়েছে। আর যে মন্দ আমল নিয়ে আসে, তার জানা উচিত যে, মন্দ আমলকারীরা যেমন কাজ করত তেমন ফলই পাবে।” [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৮৩-৮৪] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ﻭَﻣَﺎ ﻫَٰﺬِﻩِ ﭐﻟۡﺤَﻴَﻮٰﺓُ ﭐﻟﺪُّﻧۡﻴَﺎٓ ﺇِﻟَّﺎ ﻟَﻬۡﻮٞ ﻭَﻟَﻌِﺐٞۚ ﻭَﺇِﻥَّ ﭐﻟﺪَّﺍﺭَ ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓَ ﻟَﻬِﻲَ ﭐﻟۡﺤَﻴَﻮَﺍﻥُۚ ﻟَﻮۡ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻳَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ ٦٤﴾ ‏[ ﺍﻟﻌﻨﻜﺒﻮﺕ : ٦٤‏] “এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া কৌতুক বৈ কিছু নয়। পরকালের গৃহই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত।” [সূরা আল-‘আনকাবুত, আয়াত: ৬৪] তিনি আরো বলেন, ﴿ﻭَﻟَﺪَﺍﺭُ ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓِ ﺧَﻴۡﺮٞۚ ﻭَﻟَﻨِﻌۡﻢَ ﺩَﺍﺭُ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٣٠ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺤﻞ : ٣٠‏] “এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। মুত্তাকীদের ঘর কী চমৎকার! [সূরা আন-না