ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্বাচিত ফতোয়া (২য় পর্ব)


গাড়ীর চালকের সাথে ছাত্রীদের ভ্রমণ
প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলেন: কিছু সংখ্যক মানুষ (আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করুক) তাদের মেয়েদেরকে মাদরাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অপরিচিত ড্রাইভারদের সাথে প্রেরণ করেন এবং তারা এই কাজের ফলাফলের দিকে লক্ষ্য করেন না। সুতরাং আমি (আপনাদের নিকট) তাদের উদ্দেশ্যে নসিহত বা উপদেশ কামনা করছি, বিশেষ করে মাদরাসাসমূহ খোলার সময়ের ব্যাপারে?
উত্তর: এই কাজটি দু’ভাবে হতে পারে:
প্রথমত: চালকের সাথে যাত্রী হিসেবে কয়েকজন নারী হওয়া, যেখানে তাদের কেউ একাকী নয়; সুতরাং এমতাবস্থায় তাতে কোনো সমস্যা নেই, যখন তা শহরের অভ্যন্তরে হবে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: « لا يخلون رجل بامرأة » “অবশ্যই কোনো একজন পুরুষ একজন নারীকে নিয়ে নির্জনে অবস্থান করবে না”; আর এটা নির্জনতা নয়; তবে শর্ত হল চালকের মধ্যে আমানতদারিতা থাকতে হবে; সুতরাং চালক যদি বিশ্বস্ত না হয়, তবে মহিলাদের সাথে প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিমান মাহরাম পুরুষ না থাকলে তার সাথে ভ্রমণ করা বৈধ হবে না।

 

দ্বিতীয়ত: চালক কর্তৃক পৃথকভাবে শুধু একজন মহিলা যাত্রীকে নিয়ে যাওয়া বৈধ হবে না, যদিও তা এক মিনিটের জন্য হউক; কারণ, একাকীভাবে পৃথক হওয়াটাই নির্জনতা; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কাজ থেকে তাঁর বাণীর মাধ্যমে নিষেধ করেছেন: « لا يخلون رجل بامرأة » “অবশ্যই কোনো একজন পুরুষ একজন নারীকে নিয়ে নির্জনে অবস্থান করবে না” এবং তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের তৃতীয়জন হল শয়তান।
আর এর উপর ভিত্তি করে নারীদের যথাযধ অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষের জন্য এই পরিস্থিতিতে তাদেরকে চালকদের সাথে ছেড়ে দেওয়া বৈধ হবে না, যেমনিভাবে নারীর জন্যও তার মাহরাম পুরুষ ছাড়া চালকের সাথে যাত্রী হওয়া বৈধ নয়; কেননা তা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্যতা, যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলার অবাধ্যতারই নামান্তর; কারণ, কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করলে, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ ﴾ [النساء: ٨٠]
“কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল।” – (সূরা আন-নিসা: ৮০); আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ … وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ﴾ [الاحزاب: ٣٦]
“ … আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল, সেই ব্যক্তি স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হল।” – (সূরা আল-আহযাব: ৩৬);
সুতরাং আমাদের মুসলিম ভাইদের আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য হল, আমরা আল্লাহর অনুগত বান্দা হব তাঁর নির্দেশ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালন করার মাধ্যমে; যেহেতু এর মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের উপকার এবং প্রশংসনীয় ফলাফল; আর আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর আবশ্যক হল, আমরা আমাদের মাহরামা নারীদের ব্যাপারে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হব; সুতরাং আমরা তাদেরকে শয়তানের হাতে তুলে দিতে পারি না যে, সে তাদেরকে নিয়ে খেল-তামাশা করবে, অতঃপর সে ফিতনা (বিপর্যয়) ও পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যাবে।
আর আমি আমার ভাইদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক আমাদেরকে দুনিয়ার যে চাকচিক্য দিয়েছেন সেটা দ্বারা ধোকাগ্রস্থ হয়ে অবহেলা ও বেপরোয়া আচরণ থেকে সতর্ক করছি, আর আমরা সতর্ক করছি এই আয়াতের কারণে, যাতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
﴿ وَأَصۡحَٰبُ ٱلشِّمَالِ مَآ أَصۡحَٰبُ ٱلشِّمَالِ ٤١ فِي سَمُومٖ وَحَمِيمٖ ٤٢ وَظِلّٖ مِّن يَحۡمُومٖ ٤٣ لَّا بَارِدٖ وَلَا كَرِيمٍ ٤٤ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَبۡلَ ذَٰلِكَ مُتۡرَفِينَ ٤٥ وَكَانُواْ يُصِرُّونَ عَلَى ٱلۡحِنثِ ٱلۡعَظِيمِ ٤٦ ﴾ [الواقعة: ٤١،  ٤٦]
“আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল! তারা থাকবে অত্যন্ত উষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে, আর কালো বর্ণের ধূঁয়ার ছায়ায়, যা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়। ইতোপূর্বে তারা তো মগ্ন ছিল ভোগ-বিলাসে; আর তারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকাজে।” – (সূরা আল-ওয়াকিয়া: ৪১ – ৪৬); আর আমরা অবশ্যই স্মরণ করি আল্লাহ তা‘আলা বাণী:
﴿ وَأَمَّا مَنۡ أُوتِيَ كِتَٰبَهُۥ وَرَآءَ ظَهۡرِهِۦ ١٠ فَسَوۡفَ يَدۡعُواْ ثُبُورٗا ١١ وَيَصۡلَىٰ سَعِيرًا ١٢ إِنَّهُۥ كَانَ فِيٓ أَهۡلِهِۦ مَسۡرُورًا ١٣ ﴾ [الانشقاق: ١٠،  ١٣]
“আর যাকে তার ‘আমলনামা তার পিঠের পিছন দিক থেকে দেয়া হবে, সে অবশ্যই তার ধ্বংস ডাকবে এবং জ্বলন্ত আগুনে দগ্ধ হবে; নিশ্চয় সে তার স্বজনদের মধ্যে আনন্দে ছিল।” – (সূরা আল-ইনশিকাক: ১০ – ১৩)।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
ফতোয়ায়ে মানারুল ইসলাম (فتاوى منار الإسلام ): ৩ / ৮২২
(ঈষৎ পরিবর্তিত)
* * *

 

গাড়ীর চালকের সাথে বুদ্ধিমান শিশুকে সাথে নিয়ে ভ্রমণ করা

প্রশ্ন: আমি গাড়ীর চালকের সাথে সকাল বেলায় মাদরাসায় যাই এবং যোহরের সময় ফিরে আসি এমতাবস্থায় যে, আমার সাথে আমার এমন এক ভাই থাকে, যার বয়স এগার বছরের বেশি নয়; সুতরাং আমার ভাইকে মাহরাম বলে বিবেচনা করা জায়েয (বৈধ) হবে কিনা? আমাকে জানাবেন।
উত্তর: অপরিচিত নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করা থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে; কেননা ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ও অন্যান্য সাহাবীর বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لا يخلون رجل بامرأة إلا كان الشيطان ثالثهما »
“অবশ্যই কোনো একজন পুরুষ একজন নারীকে নিয়ে নির্জনে অবস্থান করবে না; তাহলে তাদের উভয়ের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হবে শয়তান”।
এ জন্য আমরা ফিতনার আশঙ্কায় মুসলিম নারীকে একাকী কোনো অপরিচিত চালকের সাথে গাড়ীর যাত্রী না হওয়ার জন্য উপদেশ দিয়ে থাকি, সেই চালক যতই বিশ্বস্ত হউক না কেন; কারণ, শয়তান উভয়ের মাঝে কুমন্ত্রণা দিতে পারে; তবে এই ক্ষেত্রে ওলামা ও শাইখদের কেউ কেউ শহরের অভ্যন্তরে প্রসিদ্ধ রাস্তাসমূহে এইভাবে (অপরিচিত চালকের সাথে গাড়ীর যাত্রী হয়ে) চলাচলের অবকাশ দিয়েছেন, যেসব রাস্তা জনমানব শূন্য থাকে না; তাও আবার জরুরি প্রয়োজনের কারণে, যেমন: ইবাদত, অথবা গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে বাজারে গমন, অথবা মাদরাসায় গমন, অথবা শরী‘য়াত স্বীকৃত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, অথবা পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করা; আর এ ক্ষেত্রে তাকে আরও অবকাশ দেয়া হয়েছে, যদি তার সাথে বিশ্বস্ত নারীগণ অথবা বুদ্ধিমান মাহরাম পুরুষ থাকে; আর এই ধরনের সকল অবকাশই থাকবে প্রয়োজনের সময়।
শাইখ ইবনু জিবরীন
ফায়দা ও ফতোয়া (فوائد و فتاوى): পৃ. ১৯৬
* * *
শিক্ষিকার সম্মানার্থে ছাত্রীদের দাঁড়ানো

প্রশ্ন: শিক্ষিকার সম্মানার্থে ছাত্রীদের দাঁড়ানোর বিধান কী?
উত্তর: শিক্ষিকার সম্মানার্থে মেয়েদের এবং শিক্ষকের সম্মানার্থে ছেলেদের দাঁড়ানো একটি অনুচিত কাজ এবং তা খুবই অপছন্দনীয় ব্যাপার; কেননা আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: “তাঁদের (অর্থাৎ সাহাবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের) নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ ছিল না; অথচ তিনি যখন তাঁদের নিকট উপস্থিত হতেন, তখন তাঁরা তাঁকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন না, কেননা তাঁরা তার অপছন্দনীয় দিক সম্পর্কে জানতেন।” তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« من أحب أن يتمثل الرجال له قياما فليتبوأ مقعده من النار ».
“যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার সম্মানে লোকজন দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামের মধ্যে তার আসন ঠিক করে নেয়।”
আর এই বিষয়ে পুরুষদের হুকুমের মতই নারীদের হুকুম (বিধান)। আল্লাহ সকলকে এমন কাজ করার তাওফীক দিন, যা তিনি পছন্দ করেন; আমাদের সকলকে তাঁর অসন্তুষ্টি ও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে রাখুন এবং সকলকে উপকারী ইলম (জ্ঞান) দান করুন ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দিন; তিনি হলেন দানশীল, মাহানুভব।
শাইখ ইবনু বায
ফতোয়া ইসলামীয়া (فتاوى إسلامية): ৪ / ৩৩৪
* * *

 

পাঠকক্ষে অনুপস্থিত ছাত্রের পক্ষ থেকে হাযিরা দিয়ে দেয়া

প্রশ্ন: কোনো কোনো সময় পাঠকক্ষে আমার বন্ধু আমার নিকট আবদার করে সে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আমি যেন তার হাযিরা দিয়ে দেই, যাতে হাযিরা খাতাটি নিয়মিত হয়ে যায়, অতঃপর আমি তার নাম লিখে দেই; সুতরাং এটা কি মানবতার সেবা হিসেবে গণ্য হবে, নাকি তা ধোঁকা ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত হবে?
উত্তর: এটা খেদমত, কিন্তু তা হল শয়তানী খেদমত (সেবা), যে খেদমতে শয়তান তাকে আকৃষ্ট করে, ফলে সে এই ধরনের কাজ করে এবং যে ব্যক্তি উপস্থিত হয় নি, তার হাযিরা দিয়ে দেয়; আর এই কাজের মধ্যে তিনটি সতর্কবাণী বা দৃষ্টি আকর্ষণী রয়েছে:
প্রথম সতর্ক সংকেত: এটা এক ধরনের মিথ্যা; দ্বিতীয় সতর্ক সংকেত: এটা এই বিভাগের কর্তৃপক্ষের সাথে এক ধরনের খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা; তৃতীয় সতর্ক সংকেত: এই ধরনের কাজ অনুপস্থিত ছাত্রকে বৃত্তি বা ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত করে, যা তার উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল, ফলে সে অন্যায়ভাবে তা গ্রহণ ও ভোগ করে। আর এসব সতর্কতামূলক দৃষ্টি আকর্ষণী থেকে যে কোনো একটি কথাই এই ধরনের তৎপরতা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট, যা প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন থেকে স্পষ্ট তা হল যে এটি মানবিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; বস্তুত সকল মানবিক বিষয়ই প্রশংসনীয় নয়, বরং তার মধ্য থেকে যা শরী‘য়ত সমর্থিত, তা প্রশংসনীয়; আর যা শরী‘য়ত সম্মত নয়, তা নিন্দনীয়। আর বাস্তব কথা হল, তার পক্ষ থেকে মানবিক কাজ বলে যা বলা হয়, তা যদি শরী‘য়ত বিরোধী হয়, তবে তা মানবিক কাজ বলে বিবেচিত হবে না; কারণ, যে কাজটি শরী‘য়ত বিরোধী, তা পশুসুলভ কাজ বলে বিবেচিত; আর এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা কাফির ও মুশরিকদেরকে পশুর মত বলে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন:
﴿ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يَتَمَتَّعُونَ وَيَأۡكُلُونَ كَمَا تَأۡكُلُ ٱلۡأَنۡعَٰمُ وَٱلنَّارُ مَثۡوٗى لَّهُمۡ ١٢ ﴾ [محمد: ١٢]
“আর যারা কুফরী করেছে, তারা ভোগ বিলাস করে এবং খায় যেমন চতুষ্পদ জন্তুরা খায়; আর জাহান্নামই তাদের নিবাস।” – (সূরা মুহাম্মদ: ১২); আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ إِنۡ هُمۡ إِلَّا كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّ سَبِيلًا ٤٤ ﴾ [الفرقان: ٤4]
“তারা তো পশুর মতই; বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট।” – (সূরা আল-ফুরকান: ৪৪); সুতরাং এমন প্রত্যেক কাজ, যা শরী‘য়ত বিরোধী, তা হচ্ছে পশুসুলভ কর্মকাণ্ড, মানবিক কাজ নয়।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
ফতোয়া ইসলামীয়া (فتاوى إسلامية): ৪ / ৩২৯
* * *
পরীক্ষায় নকল করা

প্রশ্ন: পরীক্ষায় নকল করার হুকুম (বিধান) কী?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; আর সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর; আর সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গী-সাথীর উপর।
আমার ধারণা মতে প্রশ্নটির মধ্যেই উত্তরের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যেহেতু প্রশ্নকর্তা বলেন: পরীক্ষায় নকল (প্রতারণা) করার হুকুম কী? সুতরাং প্রশ্নকর্তা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, পরীক্ষায় নকল করাটা এক ধরনের প্রতারণা; আর প্রতারণার বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং তার বিধানও স্পষ্ট; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« من غش فليس منا». (أخرجه الترمذي ) .
“যে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” – (তিরমিযী, হাদিস নং- ১৩১৫); অতঃপর পরীক্ষায় নকল (প্রতারণা) করা অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; কারণ, তার ক্ষতির দিকটি সম্পদের ক্ষতি বা ঝুঁকির মত নয়, যার কারণে হাদিস বর্ণিত হয়েছে; বরং তার ভয়াবহতা আরও প্রকট, কেননা তা হচ্ছে গোটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা; কারণ, যে ছাত্র নকল করে পাশ করেছে, তার মানে হল: সে যে সার্টিফিকেট (সনদ) অর্জন করেছে, তার মান অনুযায়ী সে একটি বড় ধরণের বলয় তৈরি করবে, অথচ বাস্তবে সে তার উপযুক্ত নয়; আর তখন এই বৃত্ত বা বলয়ের মধ্যে তার অবস্থান এমন হবে, যেই অবস্থানটি এই সার্টিফিকেট অর্জন করা ব্যতীত কোনো ব্যক্তির পক্ষে দখল করা সম্ভব নয়, ফলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হল; এই নকল প্রবণতার আরও একটি ক্ষতিকর দিক আছে, আর তা হল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে; কারণ, যখন জাতির শিক্ষিত সমাজ পরীক্ষায় নকল বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পাশ করে বের হয়ে আসবে, তখন তাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অবস্থান হবে নড়বড়ে, শিক্ষা বিমুখ; অতঃপর (শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে) অন্যের উপর তাদের অবস্থান হবে রিক্তহস্ত; কারণ, এটা জানা কথা যে, যে ব্যক্তি পরীক্ষায় নকল করে পাশ করে, তার পক্ষে শিক্ষা দানের সময় ছাত্রদের প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না; সুতরাং রাষ্ট্রের সাথে এই ধরনের প্রতারণা করা থেকে বিরত থাক, যা তুমি নিজেও কখনও পছন্দ করবে না; অতএব পরিদর্শক, পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে এই নকল প্রবণতা প্রতিরোধে নিরন্তর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে; কারণ, কোনো একজন যদি প্রতারণা করে, তবে সেই প্রতারক রাষ্ট্র বা সরকারের লক্ষ্যমাত্রা বিনষ্ট করবে এবং তার (রাষ্ট্রের) সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে; অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَخُونُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ وَتَخُونُوٓاْ أَمَٰنَٰتِكُمۡ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٢٧ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّمَآ أَمۡوَٰلُكُمۡ وَأَوۡلَٰدُكُمۡ فِتۡنَةٞ وَأَنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥٓ أَجۡرٌ عَظِيمٞ ٢٨ ﴾ [الانفال: ٢٧،  ٢٨]
“হে ঈমানদারগণ! জেনে-বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের খেয়ানত করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানতেরও খেয়ানত করো না; আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো এক পরীক্ষা। আর নিশ্চয় আল্লাহ, তাঁরই কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার। – (সূরা আল-আনাফাল: ২৭ ও ২৮)।
আর এই ব্যাপারে কোন এক বিষয় থেকে অপর কোন বিষয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই; সুতরাং উদাহরণস্বরূপ তাফসীর বিষয় ও ইংরেজি ভাষা বিষয়ে আমাদের নকল করার মধ্যে বিধানগত কোন পার্থক্য নেই; কারণ, এক স্তর থেকে অন্য স্তরে ছাত্রের অগ্রগতি হওয়ার বিষয়টি বিন্যস্ত হয় সকল বিষয়ের উপর এবং তার উপরই নির্ভর করে ছাত্রকে সার্টিফিকেটের মত প্রমাণপত্র দেয়ার বিষয়টি; সুতরাং সবই প্রতারণা, আর সবই হারাম। আর আমি আমাদের যুবকদেরকে তাদের এই পর্যায়ের অধঃপতন হওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং তাদেরকে আহ্বান করছি, তারা যাতে যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে মর্যাদা লাভের ব্যাপারে প্রচণ্ড আগ্রহী হয়; ফলে এটা তাদের দীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
ফতোয়া ইসলামীয়া (فتاوى إسلامية): ৪ / ৩৩১
* * *
পরীক্ষায় নকল করার প্রতি শিক্ষকের সম্মতি

প্রশ্ন: শিক্ষাবিষয়ক পরীক্ষাসমূহের মধ্যে নকল করার হুকুম (বিধান) কী হবে, যখন শিক্ষকের এই বিষয়টি জানা থাকে?
উত্তর: সকল প্রকার পরীক্ষার মধ্যে নকল বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হারাম, যেমনিভাবে তা হারাম যাবতীয় আচার-আচরণ ও লেনদেনের মধ্যে; সুতরাং কোনো ব্যক্তির জন্য পরীক্ষাসমূহের মধ্যে কোনো বিষয়ে নকল বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়া বৈধ নয়; আর যখন কোন শিক্ষক এই ধরনের নকল প্রবণতার প্রতি সমর্থন বা সম্মতি প্রদান করবে, তখন সে অন্যায় ও খেয়ানতের (বিশ্বাসঘাতকতার) মত অপরাধের অংশীদার হবে। আর সাহায্য চাওয়ার জায়গা তো একমাত্র আল্লাহই।
শাইখ ইবনু বায
মাজমু‘উ ফতোয়া  (مجموع فتاوى )ফতোয়া আকীদা: ৩ / ১১৬৬
(ঈষৎ পরিবর্তিত)
* * *
অকৃতকার্যতা কি পরীক্ষায় নকল প্রবণতাকে অনুমোদন করে?

প্রশ্ন: আমি এমন মানুষ, যার নিকট পড়ালেখা খুব জটিল ও দুর্বোধ্য, আমি খুব কমই বুঝতে পাড়ি, যার কারণে আমি পরীক্ষায় নকল করি, আশা করি আমাকে বিষয়টি অবগত করবেন?!
উত্তর: আমরা তোমাকে ভালভাবে চেষ্টা ও প্রচেষ্টা, নিয়মিত অধ্যয়ন, মুখস্থকরণের ব্যাপারে একাগ্রতা, অনুধাবন করা, শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধবদের নিকট থেকে সহযোগিতা গ্রহণ, বারবার অধ্যয়ন ও পাঠ করাসহ ইত্যাদি বিষয়ের উপদেশ দিচ্ছি, যা ফায়দা (উপকার) হাসিল, অর্থ অনুধাবন এবং পরীক্ষায় নকলের ব্যবহার পরিত্যাগে অন্যতম ভূমিকা রাখবে, কারণ নকল হারাম এবং জাতির সাথে বিশেষ ও সাধারণভাবে এক ধরনের প্রতারণা।
শাইখ ইবনু জিবরীন
ফতোয়া ইসলামীয়া (فتاوى إسلامية): ১ / ১৭৯
* * *

 

যে ব্যক্তি পরীক্ষায় নকল করে সার্টিফিকেট (সনদ) অর্জন করেছে, তার চাকুরির বিধান

প্রশ্ন: কোনো এক ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট (সনদ) অর্জন করেছে এবং শিক্ষার যেসব স্তর সে অতিক্রম করেছে, সেসব স্তরের মধ্যে কখনও কখনও নকল কপি বহন অথবা তার বন্ধু-বান্ধবদের নিকট থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতারণার পথ অবলম্বন করেছে; আর পাশ করে বের হওয়ার পর সে তার অর্জিত সার্টিফিকেট অনুযায়ী কোন এক দফতরে চাকুরীতে নিয়োগ পেয়েছে এবং এর বিনিময়ে মাসিক বেতন-ভাতা গ্রহণ করছে; সুতরাং এই অবস্থায় তার এই বেতন-ভাতা হালাল হবে, নাকি হারাম হবে; জেনে রাখা দরকার যে, সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, বরং বিশেষ সময়ে তার (অর্পিত দায়িত্বের) চেয়ে অধিক দায়িত্ব পালন করে; সুতরাং যখন এই অর্জিত বস্তুটি (সনদ) হারাম হয়, তখন উৎপত্তিস্থলের বিধান কী হবে, আমাদেরকে সমাধানমূলক ফতোয়া দিন?
উত্তর: তার উপর আবশ্যক হল, সে যে কাজ করেছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং লজ্জিত হওয়া; আর চাকুরীটি বিশুদ্ধ এবং তার থেকে যা উপার্জন করেছে তাও শুদ্ধ, যতক্ষণ সে তার উপর দেয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে; আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য); কিন্তু আমরা যেমন বললাম: তার উপর আবশ্যক হল এই অসৎ ও মন্দ কর্ম থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তার পূর্বের কৃত এই ধরনের অসৎ ও মন্দ কর্ম থেকে তাওবা করা ও অনুতপ্ত হওয়া।
শাইখ ইবনু বায
মাজমু‘উ ফতোয়া  (مجموع فتاوى ): ৪ / ৩০১
* * *

 

পরীক্ষায় অকৃতকার্যতায় ধৈর্যধারণ করা

প্রশ্ন: আমি সতের বছর বয়সের যুবক, আমার নিকট গণিত বিষয়ে অধ্যয়ন করাটা খুবই কষ্টকর, এমনকি গত বছর আমি এই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছি, জানা থাকা দরকার যে, আমি বাকি বিষয়সমূহ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে খুবই ভাল; আমি আশা করি আপনি এর উপর আলোকপাত করবেন, তবে জেনে রাখা দরকার যে, কোনো কোনো যুবক এই কারণে তার পড়ালেখা ছেড়ে দেয়?
উত্তর: এই গণিত বিষয়টির ব্যাপারে (কর্তৃপক্ষের) বিশেষ নজর দেয়া উচিত; এই বিষয়টি কি ছাত্রদের মানের উপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে, নাকি ছাত্রদের মানের চেয়ে আরও উন্নত স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে; আর এই ক্ষেত্রে সকল ছাত্রের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে; আর সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণত অন্যান্য ছাত্রের চেয়ে নিম্নমানের বা কম সংখ্যক ছাত্রের মানের দিকে লক্ষ্য করা হয় না, বরং লক্ষ্য করা হয় অধিকাংশ ছাত্রের মানের দিকে; সুতরাং অধিকাংশ ছাত্র যখন তা আত্মস্থ করতে সক্ষম হয় এবং তাতে ভাল করে, তখন তাকে সকল ছাত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর পাঠ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়; তবে অধিকাংশ ছাত্র যখন তাতে ভাল করতে পারে না এবং তা হজম করতে সক্ষম হয় না, তখন কর্তৃপক্ষের জন্য উচিত হবে তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া।
আর তোমার ব্যাপারে কথা হল, তুমি তো শুধু এই বছরে তাতে অকৃতকার্য হয়েছে; সুতরাং এক বছরের জন্য এই ধরনের একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে বিষয়টি জটিল বলে গণ্য করা যায় না; আর তোমার জন্য যা করা উচিত, তা হল: তুমি বিষয়টিকে জটিল মনে করবে না এবং তুমি তোমার চারপাশে যার অবস্থান করে, তাদের মধ্য থেকে যারা দুই বিষয় বা তার অধিক সংখ্যক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, অথবা যারা দুই বছর বা তার অধিক সময় ধরে অকৃতকার্য হচ্ছে, তাদের প্রতি দৃষ্টি দেবে, শেষ পর্যন্ত তোমার নিকট ব্যাপারটি সহজ মনে হবে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন, তিনি বলেছেন:
« انْظُرُوا إِلَى مَنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلاَ تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لاَ تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ». (أخرجه مسلم ) .
“তোমরা তোমাদের চেয়ে নীচু মানের লোকজনের প্রতি লক্ষ্য কর; আর তোমাদের চেয়ে উঁচু মানের লোকজনের প্রতি লক্ষ্য কর; কারণ, তোমাদের উপর আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতকে তুচ্ছ মনে করার চেয়ে এটাই হল যথাযথ পদক্ষেপ।” – (মুসলিম, হাদিস নং- ৭৬১৯)।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
ফতোয়ায়ে মানারুল ইসলাম (فتاوى منار الإسلام ): ৩ / ৬৯৭
(ঈষৎ পরিবর্তিত)
* * *
পিতা-মাতা কর্তৃক তাদের সন্তানের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা

প্রশ্ন: আমি পনের বছরের যুবক, কিন্তু আমি একটা সমস্যার শিকার, তা হচ্ছে আমার পিতা ও মাতা যখন স্বচক্ষে আমাকে দেখতে আসে এমন অবস্থায় যে আমি তখন অধ্যয়নরত ছিলাম না, ফলে তারা আমাকে বলে: নিশ্চয়ই তুমি পড়ালেখা কর না, অথচ আমি পড়ালেখা করি; আর তারা উভয়ে আমাকে খারাপ মনে করে, অথচ আমি তার কারণ জানি না এবং আমার পক্ষ থেকে কোন বিষয়টি তারা শুনলে বিশ্বাস করবে, তাও বুঝতে পারছি না; সুতরাং আমি কী করব?
উত্তর: এই সমস্যার সমাধান তো খুব সহজ ইনশাআল্লাহ; আর তা হল, তুমি এটা প্রমাণ করবে তোমার পিতাকে মাদরাসায় (বিদ্যালয়ে) নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে, যাতে তিনি স্বয়ং নিজেই সরেজমিনে বিষয়টি জেনে আসতে পারেন; অথবা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে এমন প্রমাণপত্র দাবি করবে, যা প্রমাণ করবে যে, তুমি ছাত্র এবং ঐ শ্রেণীর ছাত্র, যাতে তুমি পড়ালেখা কর; আর তাতে মাদরাসার প্রধান স্বাক্ষর করে দেবেন এবং প্রতিষ্ঠানের সীলমোহর লাগিয়ে দেবেন।
আর পিতা-মাতার জন্যও উচিত কাজ হবে না যে, তাদের নিকট যা কিছু বলা হবে, তাই বিশ্বাস করবে; বরং তাদের উচিত হল প্রতিটি বিষয়কে তার জায়াগায় স্থান করে দেয়া; সুতরাং তোমার ব্যাপারে যা বলা হবে, তুমি যখন সেই অভিযোগে অভিযুক্ত নও, তখন তোমার ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে খারাপ ধারণা পোষণ করা উচিত নয়; কারণ, খারাপ ধারণার জন্যও একটা যুক্তিযুক্ত পাত্র আছে; অথচ তুমি যখন অসুস্থ অবস্থায় ছিলে, তখন তাদের জন্য তোমার ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করা বৈধ নয়; আর আমরা আল্লাহর নিকট তোমার জন্য অটল মনোবল ও দৃঢ়চিত্তের আবেদন করি এবং তোমার পিতা-মাতার জন্য প্রার্থনা করি হেদায়াত ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির। আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দানকারী।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
ফতোয়ায়ে মানারুল ইসলাম (فتاوى منار الإسلام ): ৩ / ৭২৬      * * *
মাতা কর্তৃক তার সন্তানদেরকে বদদো‘আ করা

প্রশ্ন: জনৈক মহিলা বলেন: আমার একটা সমস্যা আছে, আর তা হল- আমার পাঁচটি কন্যা সন্তান ও তিনটি ছেলে সন্তান আছে, তাদের মধ্য থেকে কিছু বিবাহিত, আবার কিছু মাদরাসার ছাত্র; কিন্তু তারা পড়ালেখার সাথে তাল মিলাতে না পেরে পড়াশুনা বাদ দিয়ে দিয়েছে; আর আমার সবগুলো ছেলের মধ্যে বড় রকমের বিরোধ রয়েছে, তারা কেউ কারও সাথে কথা বলে না এবং একে অপরকে ঘৃণা করে; আর তাদের মধ্য থেকে একজন ছাড়া বাকিরা সালাত আদায় করে না; আর আমি আমার মন থেকে তাদের জন্য বদদো‘আ করি, এমনকি সালাতের মধ্যে পর্যন্ত। সুতরাং আমি তাদের সাথে কী আচরণ করব, সেই ব্যাপারে আমাকে দিকনির্দেশনা প্রদান করুন? আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কার দান করুন।
উত্তর: আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পূর্বে আমর মন চাচ্ছে ঐসব ছেলেদের প্রতি উপদেশ বা নসিহত পেশ করি, যাতে তারা তাদের পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করে এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাওবা করে; আর তারা তাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার নিকট ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করবে; সুতরাং তারা যখন এই কাজটি করবে, তখন আল্লাহ তাদের জন্য সকল বিষয় সহজ করে দেবেন, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
﴿…  وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ  …﴾ [الطلاق: ٢،  ٣]
“… আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করবেন; …।” – (সূরা আত-তালাক: ২, ৩); আর যখন তারা এই কাজটি করবে, তখন তাদের হৃদয় খুলে যাবে, তাদের মন প্রশান্তি অনুভব করবে এবং তাদের অস্থিরতা, আত্মার সংকীর্ণতা, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দূর হবে; আর তারা উপলব্ধি করবে যে, তারা প্রকৃতভাবে জীবনযাপন করছে।
আর যখন তাদের হৃদয়-মন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে এবং আল্লাহর আনুগত্য করা থেকে দূরে সরে যাবে (না‘উযুবিল্লাহ), তখনই তার সাথে অস্থিরতা ও অবস্থার সংকীর্ণতা যোগ হয়ে যাবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাদের উপর দুনিয়ার অবস্থা এমন হবে যে, মনে হবে তারা যেন কাঁচের ঘরে অবস্থান করছে; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَمَنۡ أَعۡرَضَ عَن ذِكۡرِي فَإِنَّ لَهُۥ مَعِيشَةٗ ضَنكٗا وَنَحۡشُرُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ أَعۡمَىٰ ١٢٤ قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِيٓ أَعۡمَىٰ وَقَدۡ كُنتُ بَصِيرٗا ١٢٥ قَالَ كَذَٰلِكَ أَتَتۡكَ ءَايَٰتُنَا فَنَسِيتَهَاۖ وَكَذَٰلِكَ ٱلۡيَوۡمَ تُنسَىٰ ١٢٦ وَكَذَٰلِكَ نَجۡز