ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্বাচিত ফতোয়া (১ম পর্ব)


ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্বাচিত ফতোয়া (১ম পর্ব)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ إِلَّا رِجَالٗا نُّوحِيٓ إِلَيۡهِمۡۖ فَسۡ‍َٔلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ ٤٣ ﴾ [النحل: ٤٣]
“তোমার পূর্বে আমি ওহীসহ পুরুষই প্রেরণ করেছিলাম; তোমরা যদি না জান, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর।” – (সূরা আন-নাহল: ৪৩)।
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢﴾ [ال عمران: ١٠٢]
“হে মুমিনগণ! তোমরা যথার্থভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমরা মুসলিম (পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে কোনো অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করো না।” – (সূরা আলে ইমরান: ১০২)।
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١ ﴾ [النساء: ١]
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দুজন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন; আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে নিজ নিজ হক দাবী কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারেও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।” (সূরা আন-নিসা: ১)।
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا ٧١﴾ [الاحزاب: ٧٠،  ٧١]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল; তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।” – (সূরা আল-আহযাব: ৭০, ৭১)।
অতঃপর:
মুসলিম পুরুষ ও নারীর জীবনে এমন অনেক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়, যে ব্যাপারে শরী‘য়তের বিধান জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
আর জ্ঞানীদের নিকট প্রশ্ন করা এবং তাদের নিকট ফতোয়া জানতে চাওয়াটা জ্ঞান অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি; কেননা জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের মধ্যে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« … أَلاَّ سَأَلُوا إِذْ لَمْ يَعْلَمُوا فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِىِّ السُّؤَالُ … » . (أخرجه أبو داود) .
“ … তারা যখন জানে না, তখন তারা কেন প্রশ্ন করলো না? কারণ, অজ্ঞতার চিকিৎসা হল প্রশ্ন করা …।”[1] এখান থেকেই এই সিরিজের চিন্তা আসে- ‘অজ্ঞতা নিরাময় সিরিজ’; যার পিছনে আমার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হল সম্মানিত আলেম ও শাইখগণের নির্ভরযোগ্য ফতোয়াসমূহ থেকে একটি সহজ সংকলন তৈরি করা, যা সমাজের বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তার মাঝে ছাত্র-ছাত্রীদের দলটি সমাজের মধ্যে একটি বড় অংশ হওয়ার কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট শর‘য়ী ফতোয়া সম্পর্কে অনেকেরই জানা প্রয়োজন।
আর এসব পৃষ্ঠার মধ্যে আমি ঐসব ফতোয়া থেকে বাছাইকৃত অংশ সংকলন করেছি এবং সেগুলোর উৎস ও তথ্যসূত্রের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছি।
অতঃপর আমি যদি এই সঠিক কিছু করে থাকি, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে, যিনি একক, যার কোন শরীক নেই, আমি তাঁর প্রশংসা করছি; এমন প্রশংসা যা তাঁর মহান মর্যাদা ও ক্ষমতার সাথে মানানসই, তিনি পবিত্র ও মহান; আর আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি, যাতে তিনি এই কাজটিকে একনিষ্ঠভাবে তাঁর জন্য সঠিক ও নির্ভেজাল আমল হিসেবে গণ্য করেন।
আর আমি যদি ভুল করে থাকি, তবে তা একান্ত আমার নিজের ও শয়তানের পক্ষ থেকে হয়েছে; আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি।
و صلى الله و سلم على نبينا محمد و على آله و صحبه أجمعين .
(আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর)।
و آخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
(আর আমাদের শেষ দো‘আ হবে: ‘সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর প্রাপ্য)।
* * *


নিয়তের মধ্যে সনদ লাভের ইচ্ছা কি নিন্দনীয় হবে?

প্রশ্ন: শর‘য়ী জ্ঞান অর্জনকারী কোনো কোনো ছাত্র তাদের জ্ঞান অর্জন ও সনদ (সার্টিফিকেট) লাভের নিয়তের বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বোধ করে, সুতরাং এই বিব্রত অবস্থা থেকে ছাত্রগণ কিভাবে মুক্তি লাভ করবে?
উত্তর: এর উত্তর দেয়া হয় কয়েকভাবে:
প্রথমত: মৌলিকভাবে এই সনদ (সার্টিফিকেট) লাভ করাটাই তাদের উদ্দেশ্য হবে না; বরং মানব জাতির সেবার ময়দানে কাজ করার উপায় হিসেবে এই সনদকে গ্রহণ করবে; কারণ, বর্তমান সময়ে কাজকর্ম সনদের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষ এই উপায় অবলম্বন করা ব্যতীত সৃষ্টির উপকারের দোরগোড়ায় পৌঁছুতে সক্ষম হবে না; আর এই পদ্ধতিতে নিয়ত বিশুদ্ধ হবে।
দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে চাইবে, সেই ব্যক্তি এসব স্কুল ও কলেজ ব্যতীত অন্য কোথাও তা অর্জন করতে পারবে না; সুতরাং সে তাতে জ্ঞান অর্জনের নিয়তে ভর্তি হবে এবং তার উপর সনদ বা সার্টিফিকেটের মত কোন বিষয়ের প্রভাব পড়বে না, যা পরবর্তী সময়ে সে অর্জন করবে।
তৃতীয়ত: মানুষ যখন তার কর্মের মাধ্যমে দু’টি কল্যাণ লাভের ইচ্ছা পোষণ করবে, একটি দুনিয়ার কল্যাণ এবং অপরটি আখিরাতের কল্যাণ, তখন এই ক্ষেত্রে তার কোনো অপরাধ হবে না; কারণ, আল্লাহ বলেন:
﴿…  وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ  …﴾ [الطلاق: ٢،  ٣]
“… আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করবেন; …।” – (সূরা আত-তালাক: ২, ৩); এখানে দুনিয়া সংক্রান্ত উপকারিতা উল্লেখের মাধ্যমে তাকওয়ার গুণ অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
সুতরাং যদি প্রশ্ন করা হয়: যে ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে দুনিয়া লাভের ইচ্ছা পোষণ করবে, তাহলে কিভাবে তাকে মুখলিস বা একনিষ্ঠ বলা হবে?
উত্তরে আমি বলব: সে তার ইবাদতের উদ্দেশ্যকে নির্ভেজাল ও একনিষ্ঠ করেছে এবং এর দ্বারা কোন সৃষ্টিকে উদ্দেশ্য করে নি; ইবাদতের দ্বারা মানুষকে দেখানো বা মানুষের প্রশংসা অর্জন করার উদ্দেশ্যও করে নি। তবে সে ইবাদতের একটি পার্থিব ফলাফল উদ্দেশ্য করেছে। তাই সে ঐ লোক-দেখানো আমলকারী ব্যক্তির মতো নয়, যে এমন কিছু আমল দ্বারা মানুষের নিকটবর্তী হয়, যা দ্বারা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার কথা এবং যে এর দ্বারা মানুষের প্রশংসা অর্জন করতে চায়।
কিন্তু এই দুনিয়াবী উদ্দেশ্যের ফলে তার ইখলাসে কমতি হবে; এতে করে সে এক ধরনের শির্কে পতিত হবে এবং তার মর্যাদা ঐ ব্যক্তির নীচে চলে যাবে, যিনি আমল দ্বারা আখিরাতকেই একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।
আর এই প্রসঙ্গে আমি কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যারা ইবাদতের উপকারিতার ব্যাপারে কথা বলার সময় একে পুরোপুরি দুনিয়াবী উপকারিতায় রূপান্তরিত করে। উদাহরণস্বরূপ তারা বলে: ‘সালাতের মধ্যে শরীরচর্চা ও স্নায়ুর জন্য উপকার রয়েছে’; ‘সাওমের (রোযার) মধ্যে ফায়দা হল: এর কারণে শরীরের মেদ কমে এবং খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম-শৃঙ্খলা অর্জিত হয়’। অথচ এই শুধু দুনিয়াবী উপকারিতা বর্ণনা করাই প্রধান আলোচ্য বিষয় করা উচিৎ নয়; কারণ, তা ইখলাসকে দুর্বল করে দেয় এবং আখেরাতকে চাওয়া থেকে মানুষকে অমনোযোগী করে। আর এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবের মধ্যে সাওমের তাৎপর্য সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে, সাওম হচ্ছে তাকওয়া অর্জনের অন্যতম উপায়। সুতরাং দীনী উপকারিতাই হল মূখ্য, আর দুনিয়াবী (পার্থিব) উপকারিতা গৌণ। আর যখনই আমরা সাধারণ জনগণের নিকট কথা বলব, তখন আমরা দীনী দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের নিকট আলোচনা পেশ করব; আর যখন আমরা এমন ব্যক্তির নিকট কথা বলব, যে ব্যক্তি বস্তুগত ফায়দা ছাড়া পরিতৃপ্ত হবে না, তার নিকট আমরা দীনী ও দুনিয়াবী উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা পেশ করব। আর স্থান, কাল ও পাত্রভেদেই কথা বলতে হয়।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
ফতোয়ায়ে আকিদা (فتاوى العقيدة): পৃ. ২০২
* * *

 

বর্তমান সময়ে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

প্রশ্ন: বর্তমানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করছি; আর এত সব প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি সত্ত্বেও এগুলো ঐসব বিজ্ঞ আলেমদের মত আলেম তৈরি করতে সমর্থ হয় নি যেসব আলেম পূর্ববর্তী সময়ে মসজিদসমূহে অবস্থিত শিক্ষার আসর থেকে তৈরি হয়েছেন; চাই এই সামর্থ্য জ্ঞানগত দিক থেকে হউক, অথবা ফিকহ শাস্ত্রের ব্যাপারে হউক …; অথবা সেই সামর্থ্য কথোপকথন ও বিতর্কের ক্ষেত্রে হউক … সুতরাং এ ক্ষেত্রে কারণগুলো কি কি?
উত্তর: কোনো সন্দেহ নেই যে, পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ের ইলম বা জ্ঞানের মান কম। তবে আমরা ঢালাওভাবে সকল মানুষের ব্যাপারে বলি না যে, তাদের জ্ঞানগত মান (standard) দুর্বল; কারণ, আল্লাহর শুকরিয়া (আলহামদুলিল্লাহ) এখনও অনেক মানুষ পাওয়া যাচ্ছে, যাঁরা তাঁদের জ্ঞানে ও কর্মে শ্রেষ্ঠ; তবে বর্তমান সময়ে শিক্ষার দুর্বলতার বিষয়ে আমার অভিমত হল, এটা শিক্ষার দুর্বলতা নয়, কেননা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বেকার সময়ের শিক্ষাপদ্ধতির মতই; সুতরাং বর্তমান সিলেবাসটি (কারিকুলাম) অবিকল আগের সিলেবাসটিই; কিন্তু আমার দৃষ্টিতে শুধু পাঠ করাই সব কিছু নয় …; কারণ, পাঠ করা হচ্ছে জ্ঞানের চাবিকাঠি ও দরজা মাত্র …, আর পূর্বের আলেমগণ তাদের পুরো জীবনটাই অতিবাহিত হয়েছে পঠন—পাঠন ও অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে, তারা শ্রেণীকক্ষে বা শিক্ষার আসরে যে শিক্ষা গ্রহণ করতেন, তার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না, বরং তারা অধ্যয়ন ও আলোচনা-পর্যালোচনা সার্বক্ষণিক অব্যাহত রাখতেন।
আর স্বতঃসিদ্ধ কথা হল, আলোচনা ও অধ্যয়নের মাধ্যমেই জ্ঞান বৃদ্ধি পায়; অপরদিকে বর্তমানে যে বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে, তা হল অধিকাংশ শিক্ষার্থী উঁচু রেঙ্ক ও উন্নত মানের ফলাফল অর্জন করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিতাব ও জ্ঞানের সাথে তাদের নেই কোনো সম্পর্ক।
বস্তুত: এ পদ্ধতিতে জানা-বিষয়াদির মৃত্যু ঘটে; কারণ, বিদ্যা হচ্ছে চারাগাছের মত, যখন তুমি তার পরিচর্যা করবে, তখন তা বড় হবে এবং ফল দেবে; আর যদি তুমি তার যত্ন না নাও, তবে তার পরিণতি হল মৃত্যু এবং ধ্বংস …; আর আমলের দিক বিচারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলেমগণ ছিলেন সৎকর্মশীল আলেম এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রতি একনিষ্ঠ, যারা আল্লাহকে ভয় করতেন। আর এই গুণটি আমাদের এই যুগের শিক্ষার্থীদের মাঝে খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। সব মানুষের ব্যাপারে খারাপ ধারণা না পোষণ করেও বলা যায় যে, খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই রয়েছে যারা তাদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে। অথচ একমাত্র আমলই ইলম (জ্ঞান) কে পরিশুদ্ধ ও পরিবর্ধণ করে; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ إِنَّمَا يَخۡشَى ٱللَّهَ مِنۡ عِبَادِهِ ٱلۡعُلَمَٰٓؤُاْۗ ﴾ [فاطر: ٢٨]
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে।” – (সূরা ফাতির: ২৮); সুতরাং আলেমগণ হলেন আল্লাহভীরু ব্যক্তিবর্গ। সালাফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেন, ইলম দুই প্রকার: এক প্রকার হল ভাষাগত বা মৌখিক ইলম, আর এটা আল্লাহর বান্দাদের উপর তাঁর দলিল-প্রমাণাদি; আর অপর প্রকার হল আন্তরিক ইলম, আর এটাই হল বিশুদ্ধ জ্ঞান, যে জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ভয়কে বৃদ্ধি করে; আর তারা এই আয়াতটির দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
﴿ إِنَّمَا يَخۡشَى ٱللَّهَ مِنۡ عِبَادِهِ ٱلۡعُلَمَٰٓؤُاْۗ ﴾ [فاطر: ٢٨]
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে।” – (সূরা ফাতির: ২৮)।
শাইখ আল-ফাওযান
ফতোয়া (فتاوى): ২ / ১৩৫ (ঈষৎ পরিবর্তিত)
* * *

 

পরীক্ষার জন্য আল-কুরআন মুখস্থ করা

প্রশ্ন: এমন ব্যক্তির বিধান কী হবে, যে বেশি বেশি কুরআন পাঠ করে, কিন্তু তার স্মরণ শক্তির দুর্বলতার কারণে তা মুখস্থ করতে সমর্থ হয় না? আর ঐ ব্যক্তির বিধান কী হবে, যে আল-কুরআন মুখস্থ করে এবং তা ভুলে যায় ঐ ব্যক্তির মত, যে তা পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করে, এতে কি তার গুনাহ হবে?
الحمد لله وحده و الصلاة و السلام على رسوله و آله و صحبه.
(সকল প্রশংসা এক আল্লাহর জন্য; সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের প্রতি); অতঃপর:
উত্তর: যে ব্যক্তি বেশি বেশি কুরআন পাঠ করে, কিন্তু তার স্মৃতি শক্তির দুর্বলতার কারণে সে তা মুখস্থ করতে পারে না, তবে সে ব্যক্তিকে তার পাঠ করার উপর সাওয়াব দেয়া হবে এবং তার মুখস্থ না হওয়ার ক্ষেত্রে তার ওযর গ্রহণ করা হবে; কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ ﴾ [التغابن: ١٦]
“সুতরাং তোমরা সাধ্যমত আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর।” – (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬); আর যে ব্যক্তি উদাহরণস্বরূপ পরীক্ষার জন্য আল-কুরআন মুখস্থ করে, অতঃপর তা ভুলে যায়, তবে সে গুনাহগার হবে এবং সে অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে। আর তাওফীক দানের মালিক আল্লাহ;
و صلى الله على نبينا محمد و آله و صحبه و سلم .
(আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের উপর)।
গবেষণাপত্র ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী পরিষদ
সভাপতি         সহ-সভাপতি
আবদুল আযীয ইবন ইবন বায        আবদুর রাজ্জাক ‘আফীফী
  সদস্য                             সদস্য
আবদুল্লাহ ইবন গুদাইয়ান                 আবদুল্লাহ ইবন কু‘ঊদ
স্থায়ী পরিষদের ফতোয়া (فتاوى اللجنة الدائمة): ৪ / ৬৩, ফতোয়া নং- ৭৭৩১
* * *
শিক্ষার উদ্দেশ্য প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা

প্রশ্ন: শিক্ষার উদ্দেশ্যে কোনো কোনো ছাত্রের জন্য কিছু কিছু প্রাণীর ছবি অঙ্কন করার প্রয়োজন হয়, সুতরাং এর বিধান কী হবে?
উত্তর: এসব প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা বৈধ নয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছবি অঙ্কনকারীদেরকে অভিশাপ (লানত) দিয়েছেন; তিনি বলেছেন:
«إن أشد الناس عذابا عند الله يوم القيامة المصورون» ( أخرجه البخاري)
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে মানুষের মধ্য কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে ছবি অঙ্কনকারীগণ।” – (বুখারী, হাদিস নং- ৫৬০৬); আর এটা প্রমাণ করে যে, ছবি অঙ্কন করা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ, কবীরা গুনাহ ব্যতীত লা‘নতের (অভিশাপের) বিষয়টি আসে না এবং কবীরা গুনাহের প্রসঙ্গ ছাড়া কঠিন শাস্তির হুমকিও প্রদান করা হয় না; কিন্তু শরীরের হাত, পা ও অনুরূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি অঙ্কন বৈধ; কারণ, এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রাণ অবস্থান করে না; হাদিসের বক্তব্যসমূহের বাহ্যিক দিক হল, ঐ ছবি বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অঙ্কন করা হারাম, যার মাঝে প্রাণ বা জীবনের অবস্থান সম্ভব; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«من صور صورة في الدنيا كلف يوم القيامة أن ينفخ فيها الروح وليس بنافخ» ( أخرجه البخاري)
“যে ব্যক্তি ছবি তৈরি করে, তাকে কিয়ামতের দিন তাতে জীবন দানের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে, কিন্তু সে সক্ষম হবে না।” – (বুখারী, হাদিস নং- ৫৬০৬)।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
মাজমু‘উ ফতোয়া ওয়া রাসায়েল (مجموع فتاوى و رسائل ): ২ / ২৭২
* * *
জরুরি প্রয়োজনে ছবি অঙ্কন করা

প্রশ্ন: সম্মানিত শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন র. কে প্রশ্ন করা হয়েছে, আপনি পূর্বের এক ফতোয়ায় বলেছেন: “যখন ছাত্র পরীক্ষার সম্মুখীন হবে এবং তার জন্য ভিন্ন কোন উপায় থাকবে না, তখন সে যেন মাথা বিহীন প্রাণীর ছবি অঙ্কন করে”; কিন্তু যখন ছাত্র মাথা অঙ্কন করবে না, তখন সে পরীক্ষায় ফেল করবে— এমতাবস্থায় সে কী করবে?
উত্তর: অবস্থা যখন এই, তখন ছাত্র এই কাজে বাধ্য ও নিরুপায়; আর গুনাহ হবে ঐ ব্যক্তির, যে ব্যক্তি তাকে নির্দেশ দিয়েছে এবং এই কাজে তাকে বাধ্য করেছে। কিন্তু আমি কর্তৃপক্ষের নিকট আশা করবো, তারা যেন তাদের নির্দেশকে এই সীমানা পর্যন্ত নিয়ে না যায়; যার কারণে আল্লাহর বান্দাগণ আল্লাহর অবাধ্য হতে বাধ্য হয়।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
মাজমু‘উ ফতোয়া ওয়া রাসায়েল (مجموع فتاوى و رسائل ): ২ / ২৭৪
(ঈষৎ পরিবর্তিত)
* * *

 

ছবির আকৃতি ও ঘাড়ের মাঝে দাগ দেয়া

প্রশ্ন: বইপত্রে যে সব ছবি রয়েছে সেসব ছবি মুছে ফেলা আবশ্যক হবে কি? আর ছবিতে ঘাড় ও দেহের মধ্যে দাগ দেওয়ার কারণে হারাম হওয়ার বিষয়টি দূর হবে কি?
উত্তর: ছবি মুছে ফেলাটাকে আমি আবশ্যক মনে করি না; কারণ, এতে বড় ধরনের কষ্টের কাজ; তাছাড়া আরও একটি কারণ হচ্ছে, এসব বইপত্র দ্বারা এসব ছবিই উদ্দেশ্য নয়, বরং তাতে যা আছে, তার মূল উদ্দেশ্য হল, শিক্ষা।
আর ছবিতে ঘাড় ও দেহের মধ্যে দাগ দেয়ার কারণে ছবির আসল আকৃতি বা কাঠামোতে পরিবর্তন হয় না।
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন
মাজমু‘উ ফতোয়া ওয়া রাসায়েল (مجموع فتاوى و رسائل ): ২ / ২৭৩
* * *

 

চিত্র অঙ্কন ও ভাস্কর্য বানানোর শখ

প্রশ্ন: আমি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্র; আমি আমার ছোট বেলা থেকেই চিত্রাঙ্কন পছন্দ করতাম; আর আমি ছবি অঙ্কনের কাজে এমনভাবে আকৃষ্ট হয়ে গেছি, যা কেউ কল্পনাও করতে পারে না; আর এখন আমি জানতে পারলাম যে, চিত্রাকঙ্কন আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে; কিন্তু আমি চিত্রাঙ্কনের সাথে অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং শুধু চিত্রাঙ্কনের সাথেই নয়, বরং আমি ভাস্কর্য বানানোকেও পছন্দ করি; তারপর আমি চিত্রাকঙ্কন ও ভাস্কর্য বানানোর কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি. কিন্তু শয়তান চিত্রাঙ্কনের কাজকে আমার নিকট আকর্ষণীয় করে তুলে। আমি আপনার নিকট আশা করছি যে, আপনি আমাকে এমন একটি পদ্ধতি বা পথের সন্ধান দেবেন, যা অনুসরণ করলে আমি চিত্রাকঙ্কন ও ভাস্কর্য বানানোর কাজ ছেড়ে দিতে পারব?
الحمد لله وحده, و الصلاة و السلام على رسوله و آله و صحبه.
(সকল প্রশংসা এক আল্লাহর জন্য; সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের প্রতি); অতঃপর:
উত্তর: প্রাণীর ছবি ও ভাস্কর্য নির্মাণ করা হারাম; কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছবি নির্মাতাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন:
«إن أشد الناس عذابا عند الله يوم القيامة المصورون» ( أخرجه البخاري)
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে মানুষের মধ্যে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে ছবি অঙ্কনকারীগণ।” – (বুখারী, হাদিস নং- ৫৬০৬)।
আর আমরা তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি তোমার অবসর সময়টিকে বইপুস্তক পাঠ করা অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অনুরূপ কোন কাজে ব্যয় করবে, যা তোমার মাঝে ও হারাম (অবৈধ) কাজে নিয়োজিত হওয়ার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। আর তাওফীক দানের মালিক আল্লাহ;
و صلى الله على نبينا محمد و آله و صحبه و سلم .  
(আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর)।
স্থায়ী পরিষদ, শিক্ষা-গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক
সভাপতি                           সহ-সভাপতি
 আবদুল আযীয ইবন বায           আবদুর রাজ্জাক ‘আফীফী
সদস্য                               সদস্য
      আবদুল্লাহ ইবন গুদাইয়ান           আবদুল্লাহ ইবন কু‘ঊদ
স্থায়ী পরিষদের ফতোয়া (فتاوى اللجنة الدائمة): ১ / ৪৭৭, ফতোয়া নং- ৮০৪১
* * *

 

ছবি সংবলিত ম্যাগাজিন ও সময়িকী সংরক্ষণ

প্রশ্ন: আমি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একজন ছাত্র; আমার শখ হল পড়াশুনা ও তথ্য অনুসন্ধান করা, যা আমাকে অনেক ইসলামী, সাংস্কৃতিক ও সামরিক ম্যাগাজিন অধ্যয়নের দিকে ধাবিত করে, কিন্তু এসব ম্যাগাজিনের কিছু কিছু বরং অধিকাংশের মধ্যেই মানুষের ছবি রয়েছে, অথচ আমি আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ম্যাগাজিনসমূহ সংরক্ষণ করি এবং এগুলোর মধ্যে ছবিসমূহ বিদ্যমান থাকে; আর চিত্র শিল্পীদের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে এবং যেই ঘরে কুকুর ও ছবি রয়েছে, সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ না করার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, আমরা হাদিসে নববী থেকে তা জানতে পেরেছি …। আমি এই মাসআলাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা কামনা করছি, যাতে তার অস্পষ্টতা স্পষ্ট হয় এবং তা পরিপূর্ণ আলোচনা বিশিষ্ট হয়?
উত্তর: উপকারী বইপত্র, পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিন সংরক্ষণে কোনো প্রকার বাধা বা নিষেধ নেই, যদিও তাতে কোনো প্রকার ছবি বিদ্যমান থাকুক; কিন্তু যদি ছবিসমূহ নারীর হয়, তবে তা মুছে দেয়া বা বিলুপ্ত করা আবশ্যক (ওয়াজিব); আর যদি তা পুরুষের ছবি হয়, তবে এই বিষয়ে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদিসের উপর আমল করে ঐ ছবির মাথা বিলুপ্ত বা ঢেকে দিলেই যথেষ্ট হবে।
শাইখ ইবনু বায
ফতোয়া ইসলামীয়া (فتاوى إسلامية): ৪ / ৩৩২
* * *
সফরে ছাত্র-ছাত্রীদের ছবি উঠানো

প্রশ্ন: আমরা যখন কোন ছাত্র ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে সফরে যাই, তখন শুধু স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমরা কিছু ছবি সংগ্রহ করি; সুতরাং এই অবস্থায় ছবিগুলোর বিধান কী হবে?
উত্তর: ছবিগুলো যখন প্রাণীর হবে, তখন তা হারাম বলে গণ্য হবে; কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إن أشد الناس عذابا عند الله يوم القيامة المصورون» (أخرجه البخاري)
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে মানুষের মধ্যে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে ছবি অঙ্কনকারীগণ।” – (বুখারী, হাদিস নং- ৫৬০৬); তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিত্র শিল্পীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন; তবে ছবি যদি প্রাণীর না হয়ে গাড়ী, বিমান, খেজুরগাছ ইত্যাদির মত হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দানের মালিক।
শাইখ ইবনু বায
ফতোয়া ইসলামীয়া (فتاوى إسلامية): ২ / ২৬০
* * *
তাবীয লেখকের জন্য রহমতের দো‘আ করা

প্রশ্ন: আমার এক শিক্ষক ছিলেন, যিনি আমাকে আল-কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমার মায়ের পিতার নানা, তারা উভয়ে মারা গেছেন; তারা তাবিযের জন্য আল-কুরআনের আয়াত লিখতেন, অতঃপর তা মানুষকে দিতেন; অতঃপর তারা আমাকে নিয়মিত কুরআন অধ্যয়নের নির্দেশ দেন এবং আমিও নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকি, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমার রব (প্রতিপালক) আমাকে তাওহীদ তথা একত্ববাদের বুঝ দান করলেন; অতঃপর আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তারা উভয়ে কিছু অশুদ্ধ (ভুল) কাজ করেছেন; সুতরাং আমি কি তাদের জন্য দো‘আ ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারব (و السلام عليكم و رحمة الله و بركاته )  [আপনাদের উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হউক]?
উত্তর: তাবীয হিসেবে ঝুলিয়ে রাখার জন্য আল-কুরআনের আয়াত লিখা বৈধ নয়; অনুরূপভাবে বিশুদ্ধ দলিলের ভিত্তিতে হেফাজত (সংরক্ষিত) রাখা, অথবা রোগ নিরাময়, অথবা বালা-মুসিবত দূর করার আশায় লিখিত কুরআনের আয়াত ঝুলিয়ে রাখাও বৈধ নয়; কিন্তু তা সত্ত্বেও তোমার জন্য তোমার শিক্ষক ও নানার উদ্দেশ্যে রহমত ও মাগফিরাত (ক্ষমা) কামানা করে দো‘আ করা বৈধ, যদিও তারা তাদের জীবদ্দশায় এই কাজ করতেন; কেননা, তা শির্ক নয়, যদিও তা জায়েয (বৈধ) নয়; তবে যদি তুমি তাদের ব্যাপারে এ বিষয় ছাড়া এমন কোন বিষয় সম্পর্কে জান, যা তাদের কুফরীকে নিশ্চিত করে, যেমন: মৃত ব্যক্তিকে ডাকা বা তার নিকট প্রার্থনা করা, জিনের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা ইত্যাদি, যা বড় প্রকারের শির্কের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে তুমি তাদের জন্য দো‘আ করবে না এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে না।
و صلى الله على نبينا محمد و آله و صحبه و سلم .
(আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর)।
স্থায়ী পরিষদ, শিক্ষা-গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক
সভাপতি                           সহ-সভাপতি
 আবদুল আযীয ইবন বায          আবদুর রাজ্জাক ‘আফীফী
  সদস্য                             সদস্য
আবদুল্লাহ ইবন গুদাইয়ান            আবদুল্লাহ ইবন কু‘ঊদ
স্থায়ী পরিষদের ফতোয়া (فتاوى اللجنة الدائمة): ১ / ২০৯, ফতোয়া নং- ৪১৮৪
* * *

 

বিপজ্জনক শব্দের মাধ্যমে কৌতুক করা

প্রশ্ন: কোনো এক তরুণী আল-কুরআনের ‘আমপারা মুখস্থ করার কারণে পুরস্কার লাভ করল এবং তার এক দল বান্ধবীর নিকট গিয়ে হাযির হল; অতঃপর তাদের একজন তাকে বলল: তুমি কি পুরস্কার লাভ করেছ? তখন সে বলল: দেখানোর জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং অচিরেই তা ত্যাগ করব; অতএব এই ধরনের কথার হুকুম (বিধান) কী হবে? আর তার উপর কোন বিধান প্রযোজ্য হবে, যে ব্যক্তি অনিচ্ছা সত্ত্বেও রসিকতা করে এই কথা বলেছে? জেনে র