ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেেে বিবাহের পূর্বে পাত্রী দেখার সীমারেখা কতটুকু?


ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের পূর্বে

পাত্রি দেখার সীমারেখা

BIBAHO (5)

দাম্পত্ত জীবনকে সুখময় এবং স্থায়ী করার মানষে

সুখ ও সমৃদ্ধির জন্যে বিয়ের পূর্বে কনে কে

দেখে নেয়া উচিৎ বলে ইসলামে স্পষ্ট ঘোষণা

দেয়া হয়েছে। এ ব্যপারে সর্ব প্রথম দলিল হচ্ছে

কুরআনে কারীমের নিচের আয়াতটিঃ

“তোমরা বিয়ে করো সেই স্ত্রীলোক, যাকে

তোমার ভালো লাগে” (সুরা নিসাঃ ০৩)

ইমাম সুয়ুতি এ আয়াতের ভিত্তিতে দাবি করেছেন, এই

আয়াত দ্বারা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে বিয়ের

পূর্বে মেয়েকে দেখে নেয়া সম্পূর্ন

যায়েজ। কেননা কোন মেয়ে ভালো কিংবা পছন্দ

তা নিজ চোখে দেখেই আন্দাজ করা যেতে

পারে। ( রুহুল মায়ানি- ১৯৬ পৃষ্ঠা)।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ ) থেকে

বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল ( ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )

বলেছেন, তোমরা যখন কোন মেয়েকে

বিয়ে করার প্রস্তাব দেবে তখন তাকে নিজ

চোখে দেখে নেয়ার চেষ্টা করবে যা তাকে

বিয়েতে আকর্ষন যোগাবে। জাবির ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ

ﻋﻨﻪ) বলেন, (রাসুল ( ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ) এর কথা

শুনে) আমি একটি মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব

দিলাম। তারপর তাকে গোপনে দেখে নেয়ার

চেষ্টা চালাতে শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমি তার

মাঝে এমন কিছু দেখতে পাই যা আমাকে তাকে

বিয়ে করতে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। অতঃপর আমি

তাকে বিয়ে করি। (আবু দাউদঃ ২০৮২)

মুহাম্মদ বিন মাসলামা ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ ) বলেন, আমি এক

মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, অতঃপর আমি

তাকে গোপনে দেখার চেষ্টা চালালাম। আমি তার

(মেয়ের) একটি গাছের মধ্য থেকে তাকে

দেখলাম……

মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা ( ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻨﻪ ) কে বলা হল,

আপনি রাসুল ( ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ) এর একজন সাহাবি!

আর আপনি এই কাজ করলেন! তখন তিনি বললেন,

আমি রাসুল ( ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ) এর কাছে শুনেছি,

যখন আল্লাহ তাআলা কোন পুরুষের অন্তরে

কোন মেয়েকে বিয়ে করার বাসনা জাগাবেন,

তখন তাকে নিজ চোখে দেখে নেয়ায় কোন

দোষ নেই। (ইবনে মাজাহঃ ১৮৬৪)

উক্ত হাদিস গুলো দ্বারা প্রমানিত হয় বিয়ের পূর্বে

কনেকে দেখে নিলে এবং কনে বরকে

দেখে নিলে দুজনের অন্তরে কোন খুত

খুতের ভাব থাকবেনা এবং থাকবেনা কোন দ্বিধা

দ্বন্দ্বের অবকাশ। বরং এর ফলে উভয়ের মাঝে

আকর্ষন জোগাবে।

হাদিস গুলোর দিকে গভীর ভাবে তাকালে বোঝা

যায় যে, মেয়ের শুধু চেহারা এবং হাত কে

বোঝানো হয়নি ! বরং মেয়ের আরো কিছু অঙ্গ,

যেমন, পায়ের নলা, হাটুর কিছু নিম্নভাগ গোশতের

অংশ, কাঁধ, চুল বা অনুরূপ কিছু অংশ দেখা যাবে এরূপ

ইঙ্গিত পাওয়া যায়। {প্রথমত উদ্দেশ্যে থাকতে

হবে “বিয়ে করার” ! তারপর আপনি সেই

প্রয়োজনে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দেখার

অনুমতি আছে। সেই দেখাটি হতে পারে যখন

আপনি মেয়ের সামনে বসবেন, সাথে হয়তো

আপনার আম্মা/ বোনেরা আছে, তখন যদি বলেন

আমি চুল দেখতে চাচ্ছি, পায়ের কিছু অংশ দেখতে

চাচ্ছি, এমন ভাবে আপনি দেখতে পারবেন, কারন

এমনটা যেন না হয় যে , বিয়ের পর দেখা গেল

মেয়ের মাথার কোন কোন অংশে চুল নেই, বা

পায়ে ডিফেক্ট আছে। } আর, এ সম্পর্কে

সুবিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানি ( ﺭﺣﻤﺔ

ﺍﻟﻠّﻪ ﻋﻠﻴﻪ ) তার প্রসিদ্ধ কিতাব “সিলসিলা-ই-সহিহা” এর

প্রথম খন্ডের (৯৯) নাম্বার হাদিসের ব্যাখ্যার মধ্যে

একটি চমৎকার পর্যালোচনা সহকারে ফকিহগনের মত

তুলে ধরে উক্ত সীদ্ধান্তকেই প্রাধান্য

দিয়েছেন। আর, যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা

হল, শুধু পাত্রই কনেকে দেখতে পারবেন ! আর

অন্য কোন পুরুষ নয় পাত্রর পক্ষ থেকে।

আল্লাহ আমাদেরকে তার দ্বীন কে মেনে

চলার জন্যে সহায়ক করে দিন। আমীন।