ইমাম আবু হানিফা রঃ এর ফতোয়ার বিপরীতে ছাত্রদের ফতোয়া।


কার মতের নাম হানাফী মাযহাব?
পর্ব- ১
********************************
ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-এর শতকরা প্রায়
ষাট ভাগ
মাসয়ালার বিরোধী ছিলেন তাঁর প্রিয়
ছাত্রবর্গ “ইমাম
আবু ইউসুফ(রহঃ), ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ), ইমাম
জুফার(রহঃ).
তার কিছুটা নমুনা দেয়া হলোঃ
(১) যে কোন ভাষায় নামাযের সুরাহ
(ক্বিরাত) তিলাওয়াত
করলে ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-এর
মতে উত্তম যদি ও
সে ব্যক্তি আরবী ভাষা জানে। কিন্তু
ইমাম আবু ইউসুফ
(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-এর
মতে তা নাজায়েয।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজিরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের
১০২ পৃষ্ঠা)
(২) নামাযে রুকূ
থেকে উঠে “রাব্বানা লাকাল হামদ”
বলা ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-এর
মতে নাজায়েয কিন্তু
ইমাম আবু ইউসুফ(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-এর
মতে জায়েয।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ১০৬
পৃষ্ঠা)
(৩) নামাযের ভিতর ঘায়ের
পট্টি খুলে গেলে ইমাম আবু
হানীফা(রহঃ)-এর মতে নামায নষ্ট
হয়ে যায়, কিন্তু ইমাম
আবু ইউসুফ(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-এর
মতে নামায নষ্ট
হয় না।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ১৩০
পৃষ্ঠা)
(৪) কুয়ার ভিতর ইদুর পড়ে মরে গেলে ঐ
কুয়ার
পানি দ্বারা ওযূ করে নামায আদায়
করলে ইমাম আবু
হানীফা(রহঃ)-এর মতে নামায হবে কিন্তু
শাগরেদদ্বয়ের
মতে নামায হবে না।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ৪৩
পৃষ্ঠা)
(৫) রোগ মক্তির জন্য হারাম জানোয়ারের
প্রস্রাব পান
করা ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-এর
মতে হারাম কিন্তু ইমাম
আবু ইউসুফ(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-এর
মতে হালাল।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ৪২
পৃষ্ঠা)
(৬) নবিজের মদের দ্বারা ওযূ করা ইমাম আবু
হানীফা(রহঃ)-এর মতে জায়েয কিন্তু ইমাম
মুহাম্মদ
(রহঃ)-এর মতে নাজায়েয।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ৪৮
পৃষ্ঠা)
(৭) ঠান্ডার ভয় হলে তায়াম্মুম করে নামায
আদায়
করা ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-এর
মতে জায়েয, কিন্তু ইমাম
আবু ইউসুফ(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-এর
মতে নাজায়েয।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ৪৯
পৃষ্ঠা)
(৮) কুর আনে যে সকল
মেয়েদেরকে বিবাহ হারাম করেছেন
সে সকল মেয়েদেরকে কেউ বিবাহ
করলে ও যৌন
ক্ষুধা মিটালে ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-এর
মতে কোন হদ
(শাস্তির) প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইমাম আবু
ইউসুফ(রহঃ) ও
ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-এর মতে হদ (শাস্তি)
দিতে হবে।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ৫১৬
পৃষ্ঠা)
(৯) কোন ব্যক্তি যদি কোন স্ত্রীর মল
দ্বারে যৌন
ক্ষুধা মিটায় তবে ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-
এর মতে কোন
কাফফারা প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইমাম
মুহাম্মদ(রহঃ)-এর
মতে কাফফারা দিতে হবে।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ৫১৬
পৃষ্ঠা)
(১০) ইমাম সাহেব যদি কুর আন
হাতে নিয়ে নামাযের
ক্বিরাত তিলাওয়াত করে তবে ইমাম আবু
হানীফা(রহঃ)-এর
মতে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ইমাম
আবু ইউসুফ
(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-এর মতে নামায
নষ্ট হবে না।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আসরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ১৩৭
পৃষ্ঠা)
(১১) যদি নফল নামায আট রাকা’আত এক
সালামে আদায়
করে তবে ইমাম আবু হানীফা(রহঃ)-এর
মতে জায়েয হবে।
কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফ(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ
(রহঃ)-এর
মতে চার রাকা’আতের বিশী আদায়
করলে জায়েয হবে না।
(হিদায়ার ১৪০১ হিজরী আসরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ১৪৭
পৃষ্ঠা)
(১২) কোন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায়
আরম্ভ
করে যদি কোন কারণ ছাড়াই বসে নামায
আদায় করে তবে ইমাম
আবু হানীফা(রহঃ)-এর মতে নামায
হয়ে যাবে। কিন্তু
ইমাম আবু ইউসিফ(রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মদ(রহঃ)-
এর মতে নামায
হবে না।
(হিদায়ার ১০৪১ হিজরী আশরাফী হিন্দ
ছাপার ১ম খন্ডের ১৫০
পৃষ্ঠা)
আসলে হানাফী মাযহাব চলে কার
মতামতের উপর ভিত্তি করে?

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s