দানে বাড়ে সম্পদ বৃদ্ধি পায় মর্যাদা


দানে বাড়ে সম্পদ বৃদ্ধি পায় মর্যাদা

আল্লাহ তাআলা চাইলে সব মানুষকে ধনী বানিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি । আসলে বিত্তশালীরা, বিত্তহীনদের সাথে কেমন আচরণ করে আল্লাহ তাআলা তা দেখতে চান। চলমান সময়ে মুসলমানদের অধিকাংশই আল্লাহর কোনো বিধানই যথাযথভাবে পালন করছে না। মুসলিম সমাজ যদি জাকাত, সদকা সম্বন্ধে আল্লাহর নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করত;  তবে বিশ্ব মুসলিম আজকের মত দারিদ্র্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হতো না। মুসলমানদের সকল কাজে মৌলিক একটি উদ্দেশ্য থাকে, আর তাহলো আল্লাহর রেজামন্দি বা সন্তুষ্টি। যে কোনো দাতা দানের প্রাক্কালে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কাজটি সম্পাদন করেন তাহলে এতে তার অফুরন্ত সাওয়াবও হবে এবং সম্পদও বৃদ্ধি পাবে ।صَدَقَةٌ  ‘সাদাকাতুন’ একটি আরবি শব্দ, বাংলা অর্থ হলো: দান করা। আর এ দান প্রধানত: দুই প্রকার,

এক, ওয়াজিব যা অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক ।

যেমন,

(১) নিসাবের মালিক তথা শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ মালের মালিক হলে প্রতি বছর নির্ধারিত হারে অর্থের জাকাত দেওয়া ও জমিনে উৎপন্ন শস্যাদির ওশর প্রদান করা।

(২) সামর্থ্য থাকলে প্রতি বছর কোরবানি করা।

আর এ শ্রেণীর দানগুলো সাধারণত: একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয়। যথা জমাকৃত বা সঞ্চিত অর্থের উপর যখন এক বছর পূর্ণ হবে তখন তাতে জাকাত ফরজ হবে এবং তা থেকে নির্ধারিত হারে জাকাত দিতে হবে। উৎপাদিত শস্যাদি মাড়াই শেষে যখন ঘরে উঠবে, তখন তা থেকে ওশর আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য, শস্যাদির ক্ষেত্রে বছর পূর্ণ হওয়া পূর্ব শর্ত নয়। তাই এ ওশর প্রদান একই বছরে একাধিকবারও হতে পারে। যেমন ইরিধানের মৌসুম শেষে যদি আমন ধানও নিসাব পরিমাণ হয়, তবে তা থেকেও একই বছরে পুনরায় ওশর দেয়া অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ইরিধানের ওশর দেয়া হয়েছে বলে আমনের ওশর দেয়া থেকে বিরত থাকা চলবে না। অন্যথায় ওশর অনাদায়ের আজাব ভোগ করতে হবে। লক্ষণীয় যে এ জাতীয় বাধ্যতামূলক দান, সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নয়। বরং কেবলমাত্র বিত্তশালী বা সামর্থবান ও ধনীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

(৩) রমজানের রোজার ফিৎরা প্রদান করা

(৪) নজর বা মানত পূর্ণ করা।

তিন ও চার নম্বর দানও বাধ্যতামূলক। তবে এ জাতীয় দান কেবলমাত্র ধনী নয় বরং ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এ ছাড়া এ শ্রেণীর দান তথা ফিৎরা আদায় ও মানত পূর্ণ করা দানগুলোও পূর্বোক্ত দানের ন্যায় একটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রদান করা আব্যশক অর্থাৎ সর্বোচ্চ ঈদুল ফিতরের নামাজের পূর্বেই ফিৎরা আদায় করা এবং কৃত মানতের সময় সীমার মধ্যেই তা পূর্ণ করা জরুরি। অন্যথায় তা যথাযথভাবে আদায় বলে গণ্যে হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

দুই, নফল যা ইচ্ছাধীন।

আর এই দ্বিতীয় প্রকারের দান অর্থাৎ নফল বা সাধারণ দানসমূহ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা যেমন: মসজিদ, মাদরাসা নির্মাণ করা, গরিব, এতিম, কাঙ্গাল, ভিক্ষুক ও ফকির-মিসকিনদের মাঝে সাধ্যমত দান করা, আত্মীয়, অনাত্মীয়,  মুসাফির এবং বিপদ ও ঋণগ্রস্ত কে সাহায্য করা ইত্যাদি। আর এ জাতীয় দান অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত দানের ন্যায় সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। স্থান, কাল ও পাত্রভেদে কম বেশী এবং দানের প্রকৃতিও পরিবর্তন হতে পারে। মোট কথা অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া । এ ছাড়া দিবারাত্রির যে কোনো সময় ও যে কোনো স্থানে,  গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং দাতা তার ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো সময় নেক পথে দান করে উপকৃত হতে পারেন।

সেই সাথে এ কথা সকলকেই সবর্দা স্মরণ রাখতে হবে যে, সর্ব প্রকার দানই কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হতে হবে, অন্য কোনো উদ্দেশে নয়। অন্যথায় সব দানই বিফলে যাবে এবং তার জন্য মহা বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। তখন শত আফসোস করেও কোনো লাভ হবে না। স্মরণযোগ্য যে, বৈধ উপার্জন থেকে নেক নিয়তে প্রদত্ত সকল প্রকার দান খয়রাতই নি:সন্দেহে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই দান খয়রাতের বিপরীত চিন্তা চেতনা ও ধ্যান ধারণা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য আপ্রাণ চেস্টা করা প্রতিটি দ্বীনদার ও সচেতন মুসলমানের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।

জাকাত বা ওশর প্রসঙ্গ

زكاة জাকাত এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি ও পবিত্র হওয়া। ইসলামি পরিভাষায় জাকাত বলা হয়, শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী স্বীয় মালের একটা নির্ধারিত অংশ তার হকদারদের মাঝে বন্টন করা এবং তার আয় হতে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা।

عُشْرٌ  ওশর এর অর্থ হচ্ছে উৎপন্ন শস্যের এক দশমাংশ দান করা। অর্থাৎ বৃষ্টির পানিতে ও বিনা সিঞ্চনে উৎপাদিত শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ বা বিশ মণে দুই মণ, আর সিঞ্চনের মাধ্যমে উৎপাদিত হলে নিসফ ওশর বা বিশ মণে এক মণ বর্ণিত নিয়মানুসারে দান করে দেয়া।

উল্লেখ্য, হিজরি ২য় সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে জাকাত বিস্তারিত বিবরণসহ ফরজ হয়।
স্মর্তব্য,  জাকাত আদায়ের মাধ্যমে মাল-সম্পদ বৃদ্ধি পায় ও পবিত্র হয়। আর আদায়কারী (জাকাত দাতা) কৃপণতার দোষ হতে প্রবিত্রতা লাভে ধন্য হয়। সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তাআলাও খুশি হন। বস্তুত: জাকাত হচ্ছে ইসলামের ৩য় স্তম্ভ। যেমন হাদিসে বলা হয়েছে:

সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত। এক. সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল। দুই. নামাজ কায়েম করা। তিন. জাকাত প্রদান করা। চার.  হজ্জ সম্পাদন করা। পাঁচ. রমজান মাসে রোজা রাখা। বোখারি।
এ হাদিসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাকাতকে ইসলামরে ৩য় স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাই প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামে জাকাতের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই তো দেখা যায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অনেক বেশি পরিমাণে এর উপকারিতার বর্ণনা এসেছে। প্রায় জায়গাতেই নামাজের পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়ে নামাজের মতই এর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পার্থক্য এই যে নামজ কায়িম করা প্রাপ্ত বয়স্ক ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক, আর জাকাত আদায় করা কেবল ধনীদের জন্য ফরজ। এছাড়া নামাজের হুকম দৈনিক পাঁচ বার পালনীয়। আর জাকাত প্রতি বছর মাত্র একবার আদায় করা কর্তব্য। বস্তুত: নামজ হচ্ছে ইবাদতে বদনি বা শারীরিক ইবাদত, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দ্বারা সম্পাদন করতে হয়। আর জাকাত হচ্ছে, ইবাদতে মালী বা আর্থিক ইবাদত যা সাধারণত: অর্থ, সম্পদ ব্যয় ও দানের মাধ্যমে সম্পাদন করতে হয়।

জাকাত প্রদানের নির্দেশ অবশ্য পালনীয়। এ ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনুল কারিমে অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। বিশেষত: নামাজের নির্দেশের পরপরই জাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই জাকাতের গুরুত্বকে কোনোক্রমেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক দানসমূহের মধ্যে জাকাতই হচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাপকদের অভাব পূরণে প্রধানতম সহায়ক দান। তাই এখানে জাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং জাকাত না দেয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।

নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘আর তোমরা সালাত কায়েম কর ও জাকাত দাও এবং যে নেক আমল তোমরা নিজেদের জন্য আগে প্রেরণ করবে তাই আল্লাহর নিকট পাবে। সূরা বাকারা, ১১০

জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে বলেন:
‘ তুমি তাদের মাল হতে সদকাহ (জাকাত) গ্রহণ কর। যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে। ( সূরা তাওবা : ১০৩)

জাকাত ও ওশর গ্রহণ এবং উত্তম বস্তু ব্যয়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
হে মুমিনগণ, তোমরা ব্যয় কর উত্তম বস্তু, তোমরা যা অর্জন করেছ এবং আমি জমিন থেকে তোমাদের জন্য যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে এবং নিকৃষ্ট বস্তুর ইচ্ছা করো না যে, তা থেকে তোমরা ব্যয় করবে। অথচ চোখ বন্ধ করা ছাড়া যা তোমরা গ্রহণ করো না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ অভাবমুক্ত, সপ্রশংসিত। (সূরা বাকারা: ২৬৭)

জাকাত ফরজ হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম. বলেন:

‘ছুমামা বিন আব্দুল্লাহ বিন আনাস বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু তাকে বলেছেন যে, তাকে যখন খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বাহরাইনের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠাচ্ছিলন, তখন তাকে এ নির্দেশ নামাটি লিখে দিয়েছিলেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটা ফরজ সদকা বা জাকাত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের প্রতি ফরজ করে দিয়েছেন এবং যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা তার রাসূলকে দিয়েছেন। যে কোনো মুসলমানের নিকট এটা নির্দিষ্ট নিয়মে চাওয়া হবে, সে যেন তা দিয়ে দেয়। আর যার নিকট এর অধিক চাওয়া হবে সে যেন না দেয়। ……..বোখারি।

একই বিষয়ে অপর এক হাদিসে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

‘ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত,  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়ায বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়েমের উদ্দেশ্যে পাঠানোর সময় বললেন: তুমি আহলে কিতাবদের নিকট যাচ্ছ। তুমি প্রথমে তাদেরকে এ ঘোষণা বা সাক্ষ্য দিতে আহবান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। অত:পর তারা যদি এটাও মেনে নেয় তখন তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ তাদের উপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট হতে গ্রহণ করে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বন্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয় তবে সাবধান!  জাকাত গ্রহণের সময় তুমি বেছে বেছে শুধু তাদের উত্তম জিনিসসমূহ নিবে না। আর সতর্ক থাকবে মজলুমের অভিশাপ হতে। কেননা মজলুমের বদদুআ ও আল্লাহর মধ্যে কোন আড়াল নেই। বোখারি।

জাকাত ফরজ হওয়ার প্রমাণে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাজিল হল, ‍‍‍‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌যারা সোনা রুপা জমা করে’ মুসলমানদের নিকট এটা কষ্টসাধ্য বোধ হলো। অত:পর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি তোমাদের এ কষ্ট দূর করব। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর নবী! এ আয়াতটি আপনার সহচরদের উপর ভারিবোধ হচ্ছে। তখন তিনি বললেন: ‌‌‌‌’ আল্লাহ তাআলা এজন্যই জাকাত ফরজ করেছেন, যাতে তোমাদের অবশিষ্ট মালকে পবিত্র করে নেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মীরাস ফরজ করেছেন। যাতে তা তোমাদের পরবর্তীদের জন্য হয়। এ কথা শুনে উমর রা. ‌’আল্লাহু আকবার’  বলে উঠলেন। অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাকে মানুষ যা সংরক্ষণ করে, তার মধ্যে উত্তম কোনটি সে বিষয়ে বলব না ? সেটি হলো নেককার নারী (স্ত্রী), যখন সে তার দিকে তাকায় সন্তুষ্ট (ও আনন্দিত) করে দেয়। যখন কোনো নির্দেশ দেয় তা পালন করে আর যখন সে তার নিকট হতে দূরে থাকে সে তার হক সংরক্ষণ করে। ( বর্ণনায় আবু দাউদ)

বাধ্যতামূলক দানসমূহের মধ্যে জাকাত ও ওশর প্রদানের হুকুম যে অবশ্য পালনীয়, তার প্রমাণে আল্লাহর পবিত্র কালাম কোরআন মাজিদের পাশাপাশি উপরের তিনটি হাদীসও বিশেষভাবে প্রনিধান যোগ্য। যাতে বিদালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে জাকাতের ফরজিয়ত বা আবশ্যিকতা বিবৃত হয়েছে। ফলে জাকাত ফরজ হওয়ার ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। 

জাকাত অস্বীকারীর পরিণতি

জাকাত না দেয়ার পরিণতি সম্পর্কে সহিহ মুসলিমে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে,

‘যায়েদ বিন আসলাম হতে বর্ণিত, আবু সালেহ যাকওয়ান তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সোনা রুপার মালিক যে এর হক আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের বহু পাত বানানো হবে, অত:পর সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তার পাঁজর, কপাল ও পিঠে ছেকা দেয়া হবে। যখনই তা ঠাণ্ডা হয়ে আসবে, পুনরায় গরম করা হবে অর্থাৎ এভাবে তার শাস্তি হতে থাকবে। সেই দিনে, যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছেরর সমান। চলতে থাকবে এ আজাব যতক্ষণ না বান্দাদের বিচার শেষ হবে। অত:পর সে তার পথ দেখতে পাবে জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে

‘জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূর ! উট সম্পর্কে কী হুকম ? অর্থাৎ কেউ যদি উটের জাকাত না দেয়, তার কী হবে? তিনি বললেন: উটের মালিক, যে তার জাকাত না দিবে, আর তার হকসমূহ থেকে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করাও একটি হক। যখন কিয়ামতের দিন আসবে, নিশ্চয় সেদিন তাকে এক সমতল ধু ধু ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে, আর তার উটের একটি বাচ্চাও সেদিন হারাবে না, আর তাকে তাদের ক্ষুর দ্বারা মাড়াতে থাকবে,  এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে। এভাবে যখন শেষদল অতিক্রম করবে পুন:রায় প্রথমদল এসে পৌছবে। এরূপ করা হবে সেই দিনে যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা চূড়ান্ত না হবে। অত:পর সে তার পথ দেখতে পাবে জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে।
ِ ‘জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল ! গরু এবং ছাগলের ক্ষেত্রে কী হবে ? তিনি বললেন; গরু ছাগলের মালিক যে তার হক আদায় করবে না অর্থাৎ জাকাত দিবে না, কিয়ামত দিবসে অবশ্যই তাকে এক ধু-ধু মাঠে উপুড় করে ফেলা হবে আর তার গরু ছাগলগুলির একটিও অনুপস্থিত থাকবে না, এবং তাতে একটিও ল্যাংড়া, শিং বিহীন ও কান কাটা হবে না। সেগুলো তাকে শিং দিয়ে মারতে থাকবে, ও ক্ষুর দ্বারা মাড়াতে থাকবে। যখন তাদের প্রথমদল অতিক্রম করবে, শেষদল এসে পৌছবে। এরূপ করা হবে সেদিন যেদিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর বান্দাদের বিচারকার্য শেষ না হবে। অত:পর সে তার পথ দেখতে পাবে জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে।
‘তারপর বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল !  ঘোড়ার হুকুম কী?  তিনি বললেন: ঘোড়া তিন প্রকারের (ক) কারো জন্য গুনাহর কারণ (খ) কারো জন্য ঢাল স্বরূপ (গ) কারো জন্য সাওয়াবের উপকরণ স্বরূপ । যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গোনাহের কারণ, তা হলো সে ব্যক্তির ঘোড়া, যে তাকে বেধে রেখেছে লোক দেখানো, গর্ববোধ এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতার উদ্দেশ্যে, এ ঘোড়া হলো মালিকের জন্য গুনাহের কারণ। আর যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে ঢাল স্বরূপ, তা হলো সে ব্যক্তির ঘোড়া যে তাকে আল্লাহর রাস্তায় বেধেছে অপ:পর তার ও তার পিঠ সম্পর্কে আল্লাহর হক বি:স্মৃত হয়নি । এ ঘোড়া হলো তার ঢাল স্বরূপ। আর যে ঘোড়া মালিকের পক্ষে সাওয়াবের কারণ, তা হলো সে ব্যক্তির ঘোড়া যে তাকে বেধেছে কোনো চারণ ভূমিতে বা ঘাসের বাগানে শুধু আল্লাহর রাস্তায় মুসলমানের জন্য। তখন তার ঘোড়া চারণভূমি অথবা বাগানের যা কিছু খাবে, সে পরিমাণে তার মালিকের জন্য নেকি লেখা হবে। আরো লেখা হবে তার গোবর ও প্রস্রাব সমপরিমাণ নেকি। আর যদি ঘোড়া তার রশি ছিড়ে একটি কিংবা দুটি মাঠও বিচরণ করে তবে নিশ্চয় তার পদচিহ্ন ও গোবরসমূহ পরিমাণ নেকী মালিকের জন্য লেখা হবে। আর যদি ঘোড়ার মালিক কোন নদীর পাশ দিয়ে অতিক্রম কালে ঘোড়া ঐ নদী থেকে পানি পান করে অথচ মালিকের পান করানো ইচ্ছা ছিল না। তার পরও আল্লাহ তাআলা পানি পানের পরিমাণ তাকে সাওয়াব দান করবেন।
‘অত:পর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! গাধার ক্ষেত্রে হুকুম কী?  তিনি বললেন: গাধার ব্যাপারে আমার প্রতি কিছু অবর্তীণ হয়নি, ব্যাপক অর্থবোধক এই আয়াতটি ব্যতীত যার অর্থ-যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ ভাল কাজ করবে, সে তা প্রত্যক্ষ করবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দকাজ করবে, সে তা প্রত্যক্ষ করবে। (অর্থাৎ গাধার জাকাত দিলে তারও সাওয়াব পাওয়া যাবে)  [সহিহ মুসলিম]

জাকাত আদায় না করার শাস্তি

‘আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, অথচ সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার জন্য তার সম্পদকে বিষধর (অজগর) সাপের রূপ ধারণ করানো হবে-যার দুই চোখের উপর দুটি কালো দাগ থাকবে । অত:পর তার গলার বেড়ী হয়ে তার মুখের দুদিক তাকে দংশন করতে থাকবে। এবং বলতে থাকবে আমি তোমার মাল, আমি তোমার সংরক্ষিত সম্পদ। অত:পর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন:
ﯲ   ﯳ  ﯴ  ﯵ  ﯶ    ﯷ  ﯸ  ﯹ  ﯺ
[বর্ণনায় সহিহ বোখারি, জাকাত অধ্যায় ]

উল্লেখিত বিষয়ে আল্লাহর নবী আরো বলেন:

‘আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো কারো সংরক্ষিত মাল কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সাপ হবে, তা থেকে তার মালিক পলায়ন করতে চাইবে। কিন্তু উক্ত সাপ তাকে অনুসন্ধান করতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার নিজ আঙ্গুলসমূহ সাপের মুখে পুরে না দিবে। [মুসনাদে আহমদ]

জাকাত অস্বীকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ড

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন।(আমাদের মাঝে তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত খলিফা) ছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। এবং আরবদের অনেকেই কাফের হয়ে গেল। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমারা কিভাবে মানুষের সাথে যুদ্ধ করব? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমি মানুষের সাথে যুদ্ধের আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। যখনই কেউ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল, সে আমার থেকে তার জান মাল রক্ষা করল। তবে ইসলামের অপরাপর বিধানের কারণে এবং তার হিসাব আল্লাহর উপর। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর কসম ! যে জাকাত এবং নামাজের মাঝে পার্থক্য করবে নিশ্চয়ই আমি তার সাথে যুদ্ধ করব। কেননা জাকাত হচ্ছে সম্পদের হক। আল্লাহর শপথ তারা যদি ছাগলের একটি বাচ্চা আমাকে দিতে অস্বীকার করে যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করতো। তবও আমি তা না দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন,  অত:পর আমি বুঝতে পারলাম আল্লাহ তাআলা (প্রকৃত সত্য উপলদ্ধি করার জন্য) আবু বকরের বক্ষ উন্মোচিত করে (তাওফিক) দিয়েছেন। এবং বুঝলাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সিদ্ধান্তই সঠিক।

বিভিন্ন সম্পদের নিসাবের পরিমান বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াসাকের কম খেজুরে জাকাত নেই। পাঁচ উকিয়া এর কম রূপাতে জাকাত নেই, পাঁচ যাউদ এর কম উটে জাকাত নেই। (বোখারি, মুসলিম)

(১)  ৬০ সা- এ এক ওয়াসাক হয়। আর এক সা সমান দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম সে হিসাব অনুযায়ী মোটামুটি ৫ ওয়াসাক সমান ২০ মণ। অর্থাৎ উৎপাদিত খেজুর ২০ মণ হলে তার উপর জাকাত ফরজ হয় এর কম হলে জাকাত ফরজ হবে না।

(২) ৪০ দিরহামে হয় এক উকিয়া। ৫ উকিয়া সমান ২০০ দিরহাম। ২০০ দিরহাম সমান সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এর কম পরিমাণ রূপায় জাকাত ফরজ হয় না।

(৩) যাউদ, তিন হতে দশ পর্যন্ত উটের পালকে যাউদ বলে। এখানে হাদীসের মর্ম এই যে, 5 উটের কমে জাকাত ফরজ হয় না। যা অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন গরু ৩০ টির কম, ছাগল ভেড়া ৪০ টির কমে জাকাত ফরজ হয় না।

জাকাত- ওশর আদায়ে সর্তকতা

আদী ইবনে আমীরাহ আল কিনদী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে থেকে আমি যাকে কোনো কর্মে নিযুক্ত করি,  আর সে আমাদের নিকট হতে একটি সুচ অথবা তদপেক্ষা ছোট কিছু গোপন করে, তবে তা হবে খিয়ানত, যা নিয়ে সে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে। সহিহ মুসলিম,

জাকাত ফরজ হওয়ার সময় ও নিয়ম

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اسْتَفَادَ مَالًا فَلَا زَكَاةَ عَلَيْهِ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ سنن الترمذي
‘ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: কারো অর্জিত সম্পদে জাকাত নেই যতক্ষণ না তার উপর এক বছর অতিবাহিত হয়। (তিরমিজি)

একই প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরো একটি হাদীস

‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। যখন তোমার নিকট দু‌’শত দিরহাম ( সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা) জমা হয় এবং একটি বছর তার উপর পূর্ণ হবে, তখন তাতে ৫ দিরহাম জাকাত দিতে হবে। আর তোমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত জাকাত দিতে হবে না যতক্ষণ না তোমার নিকট ২০টি দীনার (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ)  জমা হওয়ার পর এক বছর পূর্ণ হবে। এতে তোমাকে দিতে হবে (৪০ ভাগের এক ভাগ) অর্ধ দীনার। আর এর অধিক হলে, ঐ অনুপাতে হিসাব করে জাকাত দিতে হবে। বর্ণনাকারী বলেন: আমার জানা নেই ‘ঐ অনুপাতে হিসাব করে জাকাত দিতে হবে’ বাক্যটি আলী নিজে থেকে বলেছেন নাকি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছে। আর জমাকৃত কোনো সম্পদে এক বছর অতিবাহিত না হলে জাকাত দিতে হবে না। ( সুনান আবু দাউদ)

ওশর আদায় প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

‘সালেম বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে জমি আসমানের পানি এবং নদী খাল বিল প্রভৃতির পানি দ্বারা সিক্ত হয়েছে অথবা যে জমির মাটি খুব উর্বর ও রসালো, সে জমিতে উৎপাদিত ফসলের এক দশমাংশ ওশর দিতে হবে। আর যে জমিতে পানি সিঞ্চন করতে হয় তা হতে উৎপাদিত ফসলের বিশভাগের এক ভাগ অর্থাৎ অর্ধওশর দিতে হবে।
সুনান আবু দাউদে আরো একটু ব্যাখ্যা আছে, তাহলো জমির মাটি রসালো হলে দশ ভাগের একভাগ আর পশুর সাহায্যে অথবা অন্য কোনোভাবে সিঞ্চিত পানি দ্বারা উৎপাদিত ফসলের বিশভাগের একভাগ দিতে হবে।

অগ্রিম জাকাত প্রদান প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম:
عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ الْعَبَّاسَ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلَّ فَرَخَّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ.  سنن الترمذي
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বছর পূর্ণ হওয়ার আগে অগ্রিম জাকাত প্রদান প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলে তিনি তাকে অনুমতি দিয়েছেন। ( সুনান তিরমিজি)

কৃপণতা করে যারা জাকাত ও ওশর প্রদান করে না তাদের শাস্তি

মহান আল্লাহ বলেন:
আর যারা সোনা রূপা জমা করে রাখে অথচ তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না। তাদের যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দিন। যেদিন সেগুলো জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, অত:পর তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ এবং তাদের পৃষ্ঠদেশসমূহে দাগ দেয়া হবে। ( এবং বলা হবে) এ হলো যা তোমরা তোমাদের জন্য সঞ্চয় করেছিলে, এখন তার স্বাদ গ্রহণ করো যা তোমরা সঞ্চয় করেছিলে। (সূরা তাওবা:৩৪-৩৫)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহ থেকে যাদের দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে, তারা যেন এরূপ মনে না করে যে তারা ভালো করেছে। বরং তা তাদের জন্য অমঙ্গলজনক। কিয়ামত দিবসে যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছে তা দিয়ে বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে। (সূরা আলে ইমরান : ১৮০)

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে,
যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়, আর গোপন করে তা, যা আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন। আর আমি প্রস্তুত করে রেখেছি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর আজাব। ( সূরা নিসা : ৩৭)

আরো ইরশাদ হচ্ছে
নিশ্চয় আমি এদেরকে পরীক্ষা করেছি,  যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদের। যখন তারা কসম করেছিল যে, অবশ্যই তারা সকাল বেলা বাগানের ফল আহরণ করবে। আর তারা ইনশা আল্লাহ বলেনি। অত:পর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক প্রদক্ষিণকারী (আগুন) বাগানের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে গেল,  আর তারা ছিল ঘুমন্ত। ফলে তা (পুড়ে) কালো বর্ণের হয়ে গেল। তারপর সকাল বেলা তারা একে অপরকে ডেকে বলল, তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তাহলে বাগানে যাও। তারপর তারা চলল, নিম্নস্বরে একথা বলতে বলতে যে, আজ সেখানে তোমাদের কাছে কোনো অভাবী যেন প্রবেশ করতে না পারে। আর তারা ভোর বেলা দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সক্ষম অবস্থায় (বাগানে) গেল। তারপর তারা যখন বাগানটি দেখল, তখন তারা বলল, অবশ্যই আমরা পথভ্রষ্ট। বরং আমরা বঞ্চিত। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ব্যক্তিটি বলল, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করছ না ?  তারা বলল, আ