কাজকে না বলুন রোজাকে নয়!


কাজকে ‘না’ বলুন; রোযাকে নয়
[বড় দিন, প্রচণ্ড গরম, ধান রোপণ, কঠিন কাজ, পরীক্ষা ইত্যাদির কারণে রোযা পালন না করা]
লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানী
দাঈ, দাওয়া সেন্টার খাফজী, সউদী আরব

আল্ হামদু ল্লিল্লাহি রাব্বিল্ আলামীন, ওয়াস স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিহিল্ আমীন। আম্মা বাদ:
রহমত ও বরকতের পবিত্র রামাযান মাস আমাদের মাঝে এমন সময় সমাগত যে সময় আমাদের দেশের কৃষকগণ প্রধানত: ধান রোপণের কাজে ব্যস্ত থাকে। আল্লাহর রহমতে বাংলার জমীনে এই সময় মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়। কৃষকগণ এই বৃষ্টির ফলে বিনা সেঁচ খরচে ধান রোপণের সুযোগ পায় এবং এর মাধ্যমে তারা বছরের প্রধান আহারের ব্যবস্থা করে থাকে। আষাঢ়, শ্রাবণ বা ভাদ্র মাসে পবিত্র রামাযান মাস হলে একটি অপ্রিয় সত্য ঘটনা দেখা যায়, অনেক মুসলিম যারা অন্য সময় রোযা পালন করত তারা এই সময় ধান রোপণের সময় হওয়ার কারণে তাদের অনেকেই ফরয রোযা ছেড়ে এই কাজে ব্যস্ত থাকে।
দিন বড় ও অসহ্য গরমের কারণে তারা একই সাথে রোযা ও ধান রোপণ করতে নাকি অক্ষম। অনেক দিনমজুর, রিক্সা চালক ও শ্রমিককেও এমন দিনে রোযা ছাড়তে দেখা যায়। তারা বলে, আমাদের কাজ খুবই শক্ত ও কঠিন কাজ তাই এমন অসহ্য গরমের দিনে রোযা পালন করা আমাদের জন্য অসম্ভব। এই প্রকার অজুহাতে অনেকে ফরয রোযা পরিত্যাগ করে থাকে।
অবশ্য এই প্রকার লোকই যে এমন করে তা নয় বরং; আরো এক প্রকার লোক দেখা যায় যারা অতীতে রোযা পালন করতো কিন্তু এই মাসে রোযা ছেড়ে দেয় তারা হল, সেই সকল ছাত্র-ছাত্রী যাদের এই মাসে পরীক্ষা থাকে। রোযা থাকলে নাকি তাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটে। এই রকম সকল মুসলিম ভাই যারা কঠিন পরিশ্রম, পড়াশুনা ও বিভিন্ন অজুহাতে ফরয রোযা ত্যাগ করে থাকেন, তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা ও কিছু সুপরামর্শ দানের উদ্দেশ্যে আজকের এই লেখাটি। আশা করি গুরুত্বের সাথে বিষয়টি পাঠ করবেন, বুঝতে চেষ্টা করবেন এবং আমল করতে আগ্রহী হবেন।
প্রথমতঃ ভাই! আপনি বিশ্বাস করেন কি যে রোযা ফরয? যদি এই বিশ্বাস থাকে তাহলে ফরয কথাটির সম্বন্ধে আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন। হয়তো অনেকে ফরয পরিভাষাটির অর্থ না জানার কারণে এমন করতে পারে।
ফরয কাকে বলে? ফরয এমন বিষয়কে বলা হয়, যা বিধানদাতা কঠোর ভাবে করার আদেশ করেছেন, না করলে শাস্তি নির্ধারণ করেছেন। তাই ফরয মানে এমন নয় যে, না করলেও চলবে; বরং তা অবশ্যই করণীয়। তাই ইসলামের যে সব বিধি-বিধান ফরয সে সব পালনে অবহেলা করা যাবে না, অলসতা করা যাবে না আর না অজুহাতে ছাড়া যাবে। তবে মহান আল্লাহ অনেক ক্ষেত্রে ফরয বিধানকেও বিশেষ অবস্থায় বিশেষ লোকদের জন্য শিথিল করে দেন বা সেই কাজটি অন্য সময়ে আদায় করার অবকাশ দেন, যেমন সামনে আসছে।
মনে রাখা ভাল যে, প্রত্যেক মুসলিম যে সাবালক, সুস্থ, সজ্ঞানী এবং অমুসাফির তার জন্য রোযা করা ফরয।
দ্বিতীয়তঃ যেই মহান আল্লাহ তার বান্দাদের উপর রোযা ফরয করেছেন, সেই মহান রব্ব এটা অবশ্যই জানেন যে, তাঁর বান্দাদের অনেকে এই সময় এমন অবস্থায় থাকতে পারে যাদের রোযা করা কষ্টসাধ্য। তাই তিনি সেই প্রকার লোকদের সে সময় তা পালন না করে পরে কাযা করার আদেশ দিয়েছেন কিংবা ফিদ্‌ইয়া (বিনিময়) দিতে বলেছেন। তাই এবার আমাদের জানা প্রয়োজন আছে যে, আমরা সেই প্রকার লোকদের মধ্যে পড়ি কি পড়ি না? আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্বের লোকদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (রোযা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ পূরণ করে দিবে) [সূরা বাক্বারা, ১৮৩-১৮৪]
বুঝা গেল, অসুস্থ হলে কিংবা মুসাফির হলে তার জন্য এতখানি ছাড় রয়েছে যে, সে এই সময় তা না করে অন্য সময় করবে কিন্তু তার জন্য তুবুও রোযা মাফ নয়। এখন প্রশ্ন হল, ধান রোপণকারী বা ছাত্রছাত্রি বা পরীক্ষার্থী কিংবা কঠিন পরিশ্রমকারী ব্যক্তি কি অসুস্থ বা মুসাফির? যদি নয় তাহলে তারা কখনই রোযার মাসে রোযা ছেড়ে অন্য মাসে কাযা করতে পারেন না; বরং তাদের সেই মাসেই রোযা পালন করতে হবে।
তৃতীয়তঃ উপরোক্ত লোকেরা সেই প্রকার লোকের অন্তর্ভুক্তও নয়, যাদের রোযার পরিবর্তে ফিদইয়া/বিনিময়ের বিধান এসেছে। যেমন অতি বয়স্ক ব্যক্তি যে বার্ধক্যের কারণে রোযা পালনে অক্ষম। তারা তাদের প্রত্যেক রোযার বদলে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। [বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, নং ৪৫০৫] আর না তারা গর্ভবতী ও দুধদাত্রী মহিলার মত, যারা রোযা রাখলে তাদের গর্ভের সন্তান কিংবা দুধপানকারী সন্তানের ক্ষতির আশংকা করে। এই রকম হলে অবশ্য তারা রোযা কাযা করতে পারে। [আবু দাঊদ, অধ্যায়, সাউম নং ২৪০৮/ ইবনু মাজাহ, সিয়াম অধ্যায়, নং ১৬৬৭/ তিরমিযী, সাউম অধ্যায়, নং৭১৫]
চতুর্থতঃ এই প্রকার লোকেরা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে আল্লাহর কাছেই দয়া ও রহমত আশা করে, যা রহস্যকর ও আপত্তিকর। ধান রোপণকারীরা আল্লাহর নিকট ভাল ফলনের আশা করে, পরীক্ষার্থীরা ভাল রেজাল্টের আর কঠিন পরিশ্রমীরা আশা করে শক্তি-সামর্থের। অথচ তারা আল্লাহর ফরয বিধান ত্যাগকারী। তাহলে তাঁর আদেশ অমান্য করে কি ভাবে তাঁর রহমতের আশা করা যায়! আরও দুঃখ লাগে, তাদের কথা শুনে যারা পরীক্ষার পর বলে আল্লাহর কাছে কত দুআ করলাম কিন্তু আমার দুআ আল্লাহ শুনলেন না, আমার চাকরী হল না। কিন্তু ও যে আল্লাহর আদেশ শুনেনি একথা কে বলবে!
কাজের কষ্টের কারণে রোযা ছাড়া যাবে কি?
এ সম্পর্কে ফতোয়া বিষয়ক সউদী স্থায়ী উলামা পরিষদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা উত্তরে বলেনঃ যার প্রতি রোযা ফরয সে এই কারণে রোযার দিনে রোযা ছাড়তে পারে না যে, সে শ্রমিক। কিন্তু রোযা অবস্থায় কাজের সময় যদি তার দারুণ কষ্ট হয়, যার ফলে তাকে ইফতার করতে বাধ্য হতে হয়, তাহলে সে এতখানি ভক্ষণ করবে যার মাধ্যমে তার অতি কষ্ট দূর হবে। অতঃপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সে রোযা থাকবে এবং রোযাদারদের সাথে ইফতার করবে আর সেই দিনের রোযাটি অন্য সময়ে পূরণ করে দিবে। [ফাতাওয়াল্ লাজনা আদ্দায়িমাহ,১০/২৩৩, নকলকৃত, হারাম দেশের উলামাদের ফাতাওয়া,১/৮৯৮]
এই ফাতওয়া থেকে যা বুঝা যায় তা হল, রোযাদারের কাজ শক্ত ও কঠিন তাই সে রোযা ছাড়তে পারে না কিন্তু রোযা অবস্থায় শক্ত কাজ করতে গিয়ে যদি তার অবস্থা এমন হয়ে পড়ে যে কিছু না খেলে তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়বে, তার জীবনের ভয় হবে, তাহলে সে এতখানি খাবে যার মাধ্যমে সে তার সেই শোচনীয় অবস্থা থেকে নিরাপদ লাভ করবে। অতঃপর সে সারা দিনে খাবে না এবং অন্য সময়ে তাকে তা কাযা করে দিতে হবে।
পরীক্ষার কষ্টের কারণে ইফতার করা (রাযা ছাড়া) যাবে কি?
এ বিষয়ে সউদী আরবের সম্মানিত শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ উসায়মীন (রহ) কে এক পরীক্ষার্থী জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ পরীক্ষার কারণে রামাযান মাসে তার ইফতার করা (রোযা ছাড়া) ভুল এবং এরকম করা অবৈধ। কারণ সে চাইলে রাতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে। এখানে ইফতারের কোন প্রয়োজন নেই। তাই সে যেন তাওবা করে এবং তাকে তা কাযা করতে হবে। [ফাতাওয়া উলামাইল্ বালাদিল্ হারাম,১/৮৯৮]
এই রকম ভাইদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শঃ
যে সমস্ত মুসলিম ভাই শক্ত কাজ করে থাকেন কিংবা পড়া-শুনা সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন এবং রোযা রাখতে কষ্ট হয়, এমন ভাইদের উদ্দেশ্যে নিম্নে কিছু পরামর্শ প্রদত্ত হলঃ
১-মানসিক প্রস্তুতিঃ
এটি একটি সত্য নিয়ম যে, মানসিক প্রস্তুতি অনেক কিছুকে সহজ করে দেয়; বরং কোন কিছুর সাফল্যের প্রথম সিঁড়িই হচ্ছে মানসিক প্রস্তুতি। মানুষ দুনিয়াবী কাজ-কর্মের ক্ষেত্রে কত প্রস্তুতি নেয়, কত পরিকল্পনা করে কিন্তু এক মাস ফরয রোযা পালনের ক্ষেত্রে কোন প্রস্তুতি নেয় না; অথচ একজন মুমিন তার দুনিয়াবী কাজের তুলনায় দ্বীনের কাজকে বেশী প্রাধান্য দেয়। তাই রোযার মাস আসার পূর্বে আমাদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সংকল্প নিতে হবে যে, আমি অবশ্যই রোযা পালন করবো। আর এমন সৎ নিয়ত থাকলে আল্লাহ তাআলা সেই কাজ করতে সাহায্য করবেন এবং তাওফীক দিবেন। পক্ষান্তরে দৃঢ় সংকল্প না নিলে শয়তান কুমন্ত্রণা দেওয়ার সুযোগ পাবে এবং আপনাকে এই ফরয ইবাদত থেকে দূরে রাখার জন্য সে যাবতীয় কৌশল গ্রহণ করবে এবং চক্রান্ত চালাবে।
২-সময় ও অবস্থা হিসাবে প্রস্তুতিঃ
এ ক্ষেত্রে আমি আপনাদের সউদী আরবের অবস্থা ও ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। সউদী আরবে রোযার মাসে সরকারী দফতরগুলিতে সাধারণতঃ ছুটি থাকে না। এমন কি স্কুল কলেজগুলিতেও ছুটি থাকে না। তবে বর্তমানে তাদের নির্ধারিত বাৎসরিক গ্রীষ্মের ছুটি যে সময়ে হয় তাতে রামাযান মাস পড়ে বলে কয়েক বছর ধরে রামাযানে স্কুল কলেজ ছুটি থাকছে। কিন্তু অন্যান্য দফ্তরগুলিতে ছুটি নেই। তারা রামাযান মাসে রোযাও পালন করে এবং দৈনন্দীন কাজ-কর্মও করে। এ ক্ষেত্রে এখানকার সরকার এবং কম্পানীগুলো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে যার ফলে লোকেরা রোযা সহ অফিসিয়াল কাজ-কর্ম সচল রাখতে পারে। উদাহারণ স্বরূপঃ

ক-সাধারণতঃ অফিস ও কম্পানীগুলিতে দৈনন্দীন কাজের নির্ধারিত সময় ৮ ঘন্টা। কিন্তু রামাযান মাসে তা কমিয়ে করা হয় ৬য় ঘন্টা। কম্পানী বিশেষে ৫ ঘন্টাও।
খ- কিছু সংস্থা ও কোম্পানী এমনও আছে যারা তাদের কাজ দিনে না করে রাতে নির্ধারণ করে। তারাবীর পর কাজ শুরু হয় আর সাহরীর কিছুক্ষণ পূর্বে শেষ হয়। যেহেতু এখানে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুতের সুব্যবস্তা রয়েছে তাই রাতে কাজের কোন অসুবিধা হয় না।
গ-অনেক সংস্থা এমনও আছে যারা ফজরের পর কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০-১১টা পর্যন্ত কাজ করে। অতঃপর সারাদিন ও রাত বিরতি থাকে যেন রোযা করতে সহজ হয়। এবং এই ধরণের আরও অন্যান্য সুন্দর পদক্ষেপ।

উপরের কার্য ব্যবস্থানুযায়ী আমরা আমাদের দেশের ঐ সকল ভাইদের কিছু পরামর্শ দিতে পারি, যারা বর্ণিত অজুহাতে ফরয রোযা ত্যাগ করে।

১-আপনারা সাধারণ দিনে যত বেশী সময় ধরে কাজ করেন, তার মাত্রা রামাযান মাসে কমাতে হবে কারণ আপনার উপর রোযা ফরয এবং আপনাকে তা পালন করা আবশ্যক।
২- ফজরের পর সরাসরি কাজ শুরু করা যেন দিনে রোদের তাপ প্রখর হওয়ার পূর্বে আপনি আপনার কাজের অনেকটা সমাধান করতে পারেন।
৩-ব্যবস্থা থাকলে রাতে কাজ করা। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম আলো ও চাঁদের আলোতে কাজ করা সহায়ক হতে পারে।
৪-আগে থেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, যেহেতু গ্রীষ্মে রোযা তাই রোযার কারণে কাজের কিছু ক্ষতি হতে পারে, তা সহ্য করতে হবে।

আমরা ছাত্র ও পরীক্ষার্থীদের পরামর্শ স্বরূপ বলতে পারিঃ

১-রোযা থাকলে যে সারাদিনই কষ্ট লাগে তা না; বরং বিকালের দিকে কষ্ট বেশী হয়, তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুখস্থ তথা শক্ত বিষয়গুলি পাঠ করা।
২- রাতে পড়ার অভ্যাস করা। বিশেষ করে ফজরের পর না ঘুমিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া।
৩- বিকেলে যেই সময় রোযাবস্থায় খারাপ লাগে সেই সময় লেখা-লেখীর মত হাল্কা বিষয়ের রুটিন তৈরি করা।

মনে রাখবেন, ধান রোপণ করা চাল পাওয়া বা রুযী পাওয়ার একটি উপায় মাত্র। ধান রোপণ করলেই যে রুযী অবশ্যই পাবেন তা নয় কারণ অনেক সময় ধান আসে কিন্তু ধানের ভিতরে চাল আসে না। আবার অনেক সময় ধানচাষ করলে পাকার পূর্বে তা বন্যা, অনাবৃষ্টি, পোকা-মাকড় এবং ঝড়বাতাসে নষ্ট হয়ে যায়। তাই ধান লাগান এবং তার পর আল্লাহর উপর ভরসা করেন নচেৎ কেবল রুযী অন্বেষণের এই উপায় আপনাকে রুযী দিতে পারে না।
এটাও মনে রাখতে হবে যে, যত দিন জীবন আছে তত দিন জীবিকার উদ্দেশ্যে আপনাকে আমাকে কিছু না কিছু কাজ করতে হবে। কিন্তু মুমিনের জীবনের উদ্দেশ্য বৈষয়িক কাজ নয়; বরং আল্লাহর ইবাদত করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আমি জিন ও মানবকে একমাত্র আমার ইবাদতের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের থেকে রিয্ক চাই না, আর আমি এও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে।) [সূরা যারিয়াত, নং ৫৬-৫৭] তাই যেই কাজ মুসলিমকে আল্লাহর ফরয কাজ থেকে বিরত রাখে কিংবা ফরয কাজ থেকে বাধা দেয়, তেমন পেশা গ্রহণ করা অবৈধ।
অনুরূপ চাকুরী পাবার আশায় পরীক্ষার্থীদের মনে রাখা দরকার যে, এই পরীক্ষা আপনার চাকরী পাওয়ার তথা রোযগার পাবার একটি উপায় মাত্র। পরীক্ষা দিলেই যে চাকরী পাবেন বা রোযগারের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত হবে তা নয়। আপনি পরীক্ষা দিয়ে আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখবেন। তিনি চাইলে ব্যবস্থা হবে নচেৎ হবে না। অনেক সময় আপনার জন্য অন্য রোযগারের ব্যবস্থাই হয়তো উত্তম কিন্তু আপনি আল্লাহকে ভুলে চাকুরীর পিছনে ছুটে চলেছেন। কিন্তু কয় জনে এটা চিন্তা করে!
যেতে যেতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বাণী স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “তার ধ্বংস হোক যার কাছে রামাযান উপস্থিত হল, অতঃপর তার ক্ষমা হওয়ার পূর্বে সেই মাস চলে গেল”। [তিরমিযী, হাদসিটি বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন]
পরিশেষে আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি যেন আমাদের কাজ সহজ করে দেন, কাজে বরকত দেন এবং তাঁর ফরয বিধান সিয়াম খুশী মনে সম্পাদন করার সুমতি দেন। আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s