রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (১ম পর্ব)


রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (১ম পর্ব)

ভূমিকা
সকল প্রশংসা দু’জাহানের পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, এবং দরূদ ও সালাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলের ওপর।
অতঃপর: রমযান মাস এ উম্মতের এক বিশেষ মাস। এ মাসে তারা ইবাদত, আমল ও কল্যাণকর কাজে মনোযোগী হয়, কুরআন, হাদিস ও উপদেশ শ্রবণ করে, তাই অনেক আলেম এতে বিশেষ দরস ও মজলিসের ব্যবস্থা করেন, যা সাধারণত ফজর ও এশার পর প্রদান করা হয়। কতক দরস হয় সংক্ষেপ, আবার কতক হয় দীর্ঘ ও বিস্তারিত। কতক দরস ওয়াজ-উপদেশে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কতক থাকে মাসআলা-মাসায়েলে। কতক দরস হয় শিক্ষা ও আদর্শের ওপর, আবার কতক হয় আমল ও ফযিলতের ওপর। কেউ কুরআন-হাদিসে সীমাবদ্ধ থাকেন, কেউ তাতে আরো বৃদ্ধি করেন ইত্যাদি। আমি পূর্ব থেকে সিয়াম, ইতিকাফ, রমযানের কিয়াম ও লাইলাতুল কদর বিষয়ে হাদিস জমা করতে ছিলাম, সাথে লিখতে ছিলাম কতক ফায়দা ও মাসায়েল, যেন বিশেষভাবে দ্বীনের দায়ি ও মসজিদের ইমামগণ এবং সাধারণভাবে সকলে উপকৃত হয়। অতঃপর এসব হাদিস, শিক্ষা ও মাসায়েলসহ সুন্দরভাবে বিন্যাস করে খুব সংক্ষিপ্ত ত্রিশটি দরস তৈরি করি, যা ফজরের পর মসজিদে পেশ করার উপযোগী। এগুলোকে আমি বেজোড় সংখ্যায় রেখেছি, যেমন ১, ৩, ৫, ও ৭নং দরসসমূহ। আর ত্রিশটি দরস তৈরি করি একটু দীর্ঘ ও বিস্তারিত, যা এশার পূর্বে মসজিদে পেশ করার উপযোগী। এগুলোকে আমি জোড় সংখ্যায় রেখেছি, যেমন ২, ৪, ৬ ও ৮নং দরসসমূহ। কারণ মসজিদের ইমামগণ রমযানে এ দু’টি সময়ে দরস দিয়ে থাকেন। এ দরসগুলো তৈরিতে আমি নিম্নের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
এক: প্রত্যেক দরসের ভিত্তি রেখেছি কুরআন ও হাদিসের ওপর, যদি শিরোনামের অনুকূলে কোন আয়াত পেয়েছি, তাহলে তা উল্লেখ করেছি, অতঃপর হাদিস উল্লেখ করেছি। আর শিরোনামের অনুকূলে কোন আয়াত না থাকলে সরাসরি উক্ত বিষয়ের হাদিস উল্লেখ করেছি।
দুই: আমি নির্দিষ্ট বিষয়ে সকল হাদিস জমা করিনি, তবে সেখান থেকে পরিপূর্ণ ও উপযুক্ত হাদিস বাছাই করার চেষ্টা করেছি।
তিন: টিকাতে সংক্ষেপে হাদিসের সূত্র ও তার হুকুম উল্লেখ করেছি।
চার: হাদিস বাছাই করার ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশ করার উপযুক্ত সহিহ ও হাসান হাদিসগুলো নির্বাচন করেছি, দুর্বল হাদিস এড়িয়ে গেছি, তবে যেসব হাদিসের ক্ষেত্রে ইখতিলাফ রয়েছে, সেখানে বিশুদ্ধ অভিমত বাছাই করার চেষ্টা করেছি, যার সংখ্যা খুব কম।
পাঁচ: প্রথমে বুখারি ও মুসলিমের হাদিস, অতঃপর তাদের একলা বর্ণিত হাদিস, অতঃপর সুনানের চার কিতাবের হাদিস উল্লেখ করেছি, বিশেষ কারণ ব্যতীত এ নিয়মের বিপরীত করিনি। প্রথমে মারফূ, অতঃপর মৌকুফ, অতঃপর মনীষীদের বাণী উল্লেখ করেছি।
ছয়: হাদিস উল্লেখ করে তার থেকে নিঃসারিত শিক্ষা ও মাসায়েল উল্লেখ করেছি, যার কতক আমার নিজের গবেষণার ফল, তবে অধিকাংশ সংগ্রহ করেছি বিভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রন্থ, ফতোয়া ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে। ইখতিলাফি মাসআলায় আমার নিকট যেটা অধিক বিশুদ্ধ মনে হয়েছে, তাই উল্লেখ করেছি, ইখতিলাফ উল্লেখ করি নি। বিশেষভাবে সৌদি আরবের ফতোয়ার অনুসরণ করেছি, যেন মানুষ অপরিচিত ফতোয়া শ্রবণ করে বিভ্রান্তিতে লিপ্ত না হয়।
সাত: আলেমদের ইজতেহাদের ফসল শিক্ষণীয় বিষয় ও মাসায়েল উল্লেখ করেছি।
আট: হাদিসগুলো হরকতসহ উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি, যেন  পড়তে সমস্যা না হয়, পাঠক ও শ্রবণকারী সহজে তার অর্থ উদ্ধারে সক্ষম হয়।
আল্লাহ আমাদের এ সংকলন থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুন।
সংকলক
ইবরাহিম ইব্‌ন মুহাম্মদ আল-হাকিল
সোমবার, ১৩/৭/১৪২৭হি.
সূচীপত্র
রমযানের পূর্বে সওমের নিষেধাজ্ঞা
মাসের শুরু-শেষ নির্ধারণ
সওম ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ
রমযানের ফযিলত
ফরয সওমের নিয়ত
সিয়ামের আদব
এক সাথে সিয়াম রাখা ও ভঙ্গ করা
তারাবির সালাতের অনুমোদন
রোযাদারের গোসল ও শীতলতা অর্জন করা
১০
সিয়াম ফরযের ধাপসমূহ
১১
তারাবির সালাতের বিধান
১২
সিয়াম পাপ মোচনকারী
১৩
সাদা তাগা ও কালো তাগার অর্থ
১৪
ঋতুবতী নারীর ইফতার ও কাযা
১৫
রোযাদারকে ইফতার করানোর ফযিলত‎
১৬
রমযানে ওমরার ফযিলত
১৭
সেহরির ফযিলত (১)
১৮
সেহরির ফযিলত (২)
১৯
সেহরির সময় (১)
২০
সেহরির সময় (২)
২১
আযান ও সেহরির মাঝে ব্যবধান
২২
‎‎রোযাদারের চুম্বন ও আলিঙ্গন করার বিধান
২৩
রমযানে পানাহার করার শাস্তি‎
২৪
দ্রুত ইফতার করার ফযিলত
২৫
মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারীর সিয়াম ভঙ্গ করা
২৬
সফরে রোযা ভঙ্গ করা
২৭
সওমের মাধ্যমে যৌন চাহিদা হ্রাস করা
২৮
তারাবির রাকাত সংখ্যা
২৯
মুসাফির কখন সিয়াম ভাঙ্গবে?!
৩০
রমযানের দিনে সহবাস করা
৩১
জামাতের সাথে সালাতে তারাবির ফযিলত
৩২
ইফতারের সময়
৩৩
রোযাদারের বমির হুকুম
৩৪
রোযাদারের সুরমা ও মিসওয়াক ব্যবহার করা
৩৫
নফল সওমের ফযিলত
৩৬
রোযাদারের জন্য শিঙ্গা ব্যবহার করা
৩৭
সিয়ামের ফযিলত
৩৮
নাপাক অবস্থায় প্রভাতকারীর সিয়াম
৩৯
ইতিকাফের বিধান
৪০
একুশে রমযান লাইলাতুল কদর তালাশ করা
৪১
রমযানের শেষ দশকে রাত্রি জাগরণ
৪২
লাইলাতুল কদরের আলামত
৪৩
তেইশে রমযান লাইলাতুল কদর তালাশ করা
৪৪
লাইলাতুল কদরের ফযিলত
৪৫
শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা
৪৬
নারীদের ইতিকাফ
৪৭
বেজোড় রাতসমূহে লাইলাতুল কদর তালাশ করা
৪৮
ইতিকাফকারীর জন্য যা বৈধ
৪৯
লাইলাতুল কদরের দো‘আ
৫০
ইতিকাফকারীর সাথে সাক্ষাত
৫১
সাতাশে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা
৫২
রোযার জন্য জান্নাতের একটি দরজা
৫৩
যে ইতিকাফ করার মানত করেছে
৫৪
মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে সওম পালন করা
৫৫
সওয়াব পরিপূর্ণ যদিও মাস অসম্পূর্ণ হয়
৫৬
যাকাতুল ফিতর
৫৭
সর্বশেষ রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা
৫৮
চন্দ্র মাসের অবস্থা
৫৯
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার ফযিলত
৬০
ঈদের বিধান

১. রমযানের পূর্বে সওমের নিষেধাজ্ঞা

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
«لا يَتَقَدَّمَنَّ أحَدُكُم رَمَضَانَ بصَومِ يومٍ أو يومَينِ إلا أنْ يَكونَ رَجُلٌ كان يَصُومُ صَومَه فَليَصُمْ ذَلكَ اليَوم» رواه الشيخان.
“তোমাদের কেউ যেন একদিন বা দু’দিনের সওমের মাধ্যমে রমযানকে এগিয়ে না আনে, তবে কারো যদি পূর্বের অভ্যাস থাকে, তাহলে সে ঐ দিন সওম রাখবে”।‎[1]
তিরমিযিতে হাদিসটি এভাবে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لا تَقَدَّمُوا الشَّهرَ بِيَوْمٍٍ ولا بِيَومَين إلا أن يُوَافِقَ ذَلكَ صَوْماً كَانَ يَصُوُمُهُ أَحَدُكُم…».
“তোমরা একদিন বা দু’দিনের মাধ্যমে (রমযান) মাস এগোবে না, তবে সেদিন যদি সওমের দিন হয়, যা তোমাদের কেউ পালন করত…”‎
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. রমযানের সতর্কতার জন্য তার পূর্বে সওমের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ‎ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: হাদিসের অর্থ: তোমরা সওমের মাধ্যমে রমযানের সতর্কতার নিয়তে রমযানকে এগিয়ে আনবে না।[2]
ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুল্লাহু বলেন: “আহলে ইলমের আমল এ হাদিস মোতাবেক। তারা রমযান মাস আসার আগে রমযান হিসেবে সওম পালন করা পছন্দ করতেন না। হ্যাঁ কেউ যদি পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট দিন সওম পালন করে, আর সেদিন রমযানের আগের দিন হয়,  তবে এতে তাদের নিকট কোন সমস্যা নেই”।[3]
দুই. রমযানের পূর্বে [রমযানের সাথে লাগিয়ে] নফল সওম রাখা নিষেধ।‎[4]
তিন. এ দিন যার সওমের দিন, সে এ থেকে ব্যতিক্রম, যেমন ‎কাফফারা বা মান্নতের সওম, এবং যার এ দিন নফল সওমের অভ্যাস রয়েছে, যেমন সোমবার ও বৃহস্পতিবার।
চার. এ নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সবচে’ যৌক্তিক যে হিকমত বর্ণনা করা হয়েছে তা হলো, রমযানের সওম শরয়ি চাঁদ দেখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সুতরাং যে শরয়িভাবে চাঁদ দেখার ‎এক বা দু’দিন আগে সওম রাখল সে শরিয়তের এ বিধানে ত্রুটির নির্দেশ করল, এবং যেসব ‘নস’ বা দলিলে চাঁদ দেখার সাথে সওম সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তা সে প্রত্যাখ্যান করল।‎[5]
পাঁচ. এ হাদিসে ‘রাফেযি’ সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ রয়েছে, যারা চাঁদ না দেখে সওম পালন বৈধ বলে।[6]
ছয়. এ হাদিস থেকে জানা গেল, নফল ও ফরয ইবাদতের মাঝে প্রাচীর ও বিরতি রয়েছে, যেমন শাবানের নফল ও রমযানের ফরযের বিরতি সন্দেহের দিন সওম পালন করা হারাম। অনুরূপ রমযানের শেষ ও শাওয়ালের ‎প্রথম দিন তথা ঈদের দিন সওম পালন করা হারাম। ‎ইব্‌ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ ও একদল সলফ ফরয ও নফল সালাতের মাঝে বিরতি সৃষ্টি করা মোস্তাহাব বলেছেন, যেমন কথাবার্তা বলা বা নড়াচড়ার করা বা সালাতের স্থানে আগ-পিছ হওয়া।[7]
সাত. শরয়িত আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব, তাতে বৃদ্ধি বা হ্রাস করা বৈধ নয়, কারণ তা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি অথবা দ্বীন থেকে বিচ্যুতির আলামত। সতর্কতামূলক রমযানের আগে রমযানের নিয়তে সওমের নিষেধাজ্ঞা থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট ‎হয়।
২. মাসের শুরু-শেষ নির্ধারণ
আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ‎রমযান প্রসঙ্গে বলেন:
«لا تَصُومُوا حَتَّى تَرَوا الهِلال، ولا تُفْطِروا حَتَّى تَروْهُ، فَإِنْ غُمَّ عليكُمُ فاقْدُرُوا لهُ» رواه الشيخان.
“‎তোমরা সওম রাখবে না যতক্ষণ না হেলাল (নতুন চাঁদ) দেখ, আর সওম ছাড়বে না যতক্ষণ না তাকে দেখ, আর যদি তোমাদের থেকে তা অদৃশ্য হয়, তাহলে মাস পূর্ণ কর”।‎ ‎ ‎
বুখারির অপর বর্ণনায় আছে:‎
«إِذا رَأَيتُمُوهُ فصُومُوا، وإِذا رَأَيتمُوهُ فأفطِرُوا، فَإِنْ غَمَّ عَلَيكُم فاقدُرُوا له».
“যখন তোমরা তা (নতুন চাঁদ) দেখ সওম পালন কর, আর যখন তোমরা তা দেখ সওম ভঙ্গ কর, যদি তা তোমাদের থেকে আড়াল হয়, তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর”।[8]‎
জমহুর ‎ওলামায়ে কেরাম বলেন: যদি ঊনত্রিশ তারিখ চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।[9] যেমন অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে:
«فَإِنْ أُغْمِىَ عَلَيْكُم فَاقْدُروا لَهُ ثَلاثِين»، ورِوايةُ: «فَعُدُّوا ثَلاثينَ» ورِوايَةُ: «فَأَكْمِلُوا العَدَدَ» وكُلُّها في صَحِيحِ مُسْلِمٍ.
“যদি চাঁদ তোমাদের থেকে আড়াল করা হয়, তাহলে তার ত্রিশ দিন পূর্ণ কর”। অপর বর্ণনায় এসেছে: “ত্রিশ দিন গণনা কর”। অপর বর্ণনায় এসেছে: “সংখ্যা পূর্ণ কর”। এসব বর্ণনা মুসলিমে রয়েছে।[10]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
«إِذا رأَيتُم الهِلالَ فصُومُوا، وإِذا رَأيتُمُوهُ فَأَفْطِروا، فإن غُمَّ عَلَيكُمْ فصُومُوا ثلاثِينَ يَوماً».
“যখন তোমরা চাঁদ দেখ সওম পালন কর, আবার যখন তোমরা চাঁদ দেখ সওম ত্যাগ কর। যদি তা তোমাদের থেকে আড়াল করা হয়, তাহলে ত্রিশ দিন সিয়াম পালন কর”। ‎
«صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِن غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلاثينَ».
অপর বর্ণনায় আছে: “তোমরা চাঁদ দেখে সওম রাখ ও চাঁদ দেখে সওম ত্যাগ কর, যদি তোমাদের থেকে আড়াল করা হয়, তাহলে শাবানের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর”। ‎
«فَإِن غَبِيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلاثِينَ» رواه الشيخان.
অপর বর্ণনায় আছে: “যদি তা তোমাদের থেকে লুকিয়ে থাকে, তাহলে শাবানের ত্রিশ দিন পূর্ণ ‎কর”। বুখারি ও মুসলিম।[11]
আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
 «تَرَاءَى النَّاسُ الهلالَ فَأَخْبَرْتُ رَسُولَ الله ﷺ أَني رَأَيْتُهُ فَصَامَهُ وأَمَرَ النَّاسَ بِصيَامِهِ» رواه أبو داود وصححه ابن حبان والحاكم.
“লোকেরা চাঁদ দেখছিল, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলাম, আমি চাঁদ দেখেছি, অতঃপর তিনি সওম পালন করেন ও লোকদের সওম পালনের নির্দেশ দেন”।[12]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. রমযানের সওম শরয়ি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। যদি মেঘ, ধুলো, ধুঁয়া ইত্যাদি চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়, তাহলে শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা ওয়াজিব। ‎
দুই. যদি মেঘ বা ধুলো ‎ইত্যাদির কারণে চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে সতর্কতাস্বরূপ শাবানের শেষ দিন সওম রাখবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন: “চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন কর না”। আর নিষেধাজ্ঞার দাবি হচ্ছে হারাম।
তিন. যখন চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে সওম ওয়াজিব, তারপর জ্যোতিষ্ক ও গণকদের ‎কথায় কর্ণপাত করা যাবে না‎।[13]
চার. ইসলামি শরিয়তের সরলতার প্রমাণ যে, সওম রাখা ও ত্যাগ করা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল করেছে, যার জন্য শিক্ষার প্রয়োজন হয় না, দৃষ্টি সম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তি তা দেখতে পায়, পক্ষান্তরে যদি তা নক্ষত্রের উপর নির্ভরশীল করা হত, তাহলে অনেক জায়গায় মুসলিমদের নিকট চাদেঁর বিষয়টি কঠিন আকার ধারণ করত, যেখানে গণক ও জ্যোতিষ্ক অনুপস্থিত।[14]
পাঁচ. যে দেশে চাঁদ দেখা গেল, তার অধিবাসীদের ওপর সওম ওয়াজিব। যে দেশে চাঁদ দেখা যায়নি, তার অধিবাসীদের ওপর সওম ওয়াজিব নয়, কারণ সওমের সম্পর্ক চাঁদ দেখার সাথে, দ্বিতীয়ত চাঁদের কক্ষপথ বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন।[15]
ছয়. রমযানের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে একজন বিশ্বস্ত (শরিয়তের ভাষায় আদেল) ব্যক্তির সাক্ষী ‎গ্রহণযোগ্য, যার প্রমাণ ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু‎র হাদিস। কিন্তু রমযান সমাপ্তির সংবাদের জন্য দু’জন নির্ভরযোগ্য লোকের সাক্ষী অপরিহার্য। একাধিক হাদিস দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত।‎[16]
সাত. যিনি দেশের প্রধান তিনি সওম বা ঈদের ঘোষণা দিবেন।[17]
আট. যে চাঁদ দেখে তার দায়িত্ব দেশের প্রধান বা তার প্রতিনিধির নিকট সংবাদ পৌঁছে দেয়া।
নয়. আধুনিক প্রচার যন্ত্র থেকে প্রচারিত রমযান শুরু বা সমাপ্তির সংবাদ বিশ্বাস করা জরুরী, যদি তা দেশের প্রধান বা তার প্রতিনিধি থেকে প্রচার করা হয়।
দশ. মাসের শুরু-শেষ জানার জন্য ত্রিশে শাবান ও ত্রিশে রমযানের চাঁদ দেখা মোস্তাহাব।‎
এগার. নারী যদি চাঁদ দেখে, তার সাক্ষী গ্রহণ করার ব্যাপারে আলেমদের দ্বিমত রয়েছে। শায়খ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহু তার ‎চাঁদ দেখার সাক্ষী গ্রহণ না করার অভিমত প্রাধান্য দিয়েছেন, কারণ চাঁদ দেখা পুরুষদের বৈশিষ্ট্য, এ ব্যাপারে তারা নারীদের থেকে অধিক জ্ঞানের অধিকারী।[18]‎
৩. সওম ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ
ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:‎
«بنُيَ الإسْلامُ على خمَسْ:ٍ شهَادةِ أنَّ لا إلَه إلَّا اللهُ وأنَّ مُحمَّداً رَسُولُ الله، وإِقَامِ الصَّلاةِ، وإيتَاءِ الزَّكَاة، والحجِّ وَصَومِ رَمَضَانَ» رواه الشيخان.
“ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বস্তুর ওপর রাখা হয়েছে: সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা ও রমযানের সওম পালন করা”।[19]
আবু জামরাহ নসর ইব্‌ন ইমরান রাহিমাহুল্লাহু বলেন: “একদা আমি ইব্‌ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ ও শ্রোতাদের মাঝে দোভাষীর কাজ করছিলাম। তিনি বললেন: আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি গ্রুপ রাসূলুল্লাহ ‎সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হন, তিনি তাদের বলেন: কোন গ্রুপ বা কোন সম্প্রদায়ের লোক? তারা বলল: আমরা রাবিয়াহ গোত্রের। তিনি বললেন: স্বাগতম প্রতিনিধি গ্রুপ বা স্বাগতম রাবিয়াহ সম্প্রদায়, তিরষ্কার ও ভর্ৎসনা মুক্ত। তারা বলল: আমরা আপনার নিকট আগমন করি অনেক দূর থেকে। আপনার ও আমাদের মাঝে রয়েছে মুদার গোত্রের কাফেরদের এ গ্রাম, এ জন্য হারাম তথা সম্মানিত ও যুদ্ধ নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত ‎আপনার কাছে আমরা আসতে পারি না। অতএব আমাদেরকে উপদেশ দিন, ‎যা আমরা আমাদের রেখে আসা ভাইদের নিকট পৌঁছাব এবং যার ওপর আমল করে আমরা সকলে জান্নাতে যাব। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন চারটি বিষয়ের: নির্দেশ দিলেন এক আল্লাহর ওপর ঈমানের। তিনি বললেন: তোমরা কি জান আল্লাহর ওপর ঈমান কি? তারা বলল: আল্লাহ ও তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন:
«شَهَادَةُ أَنَّ لا إِله إلَّا الله وأَنَّ مُحمداً رَسُولُ الله، وإِقَامُ الصَّلاةِ، وإيتَاءُ الزَّكَاةِ، وصَومُ رَمَضَانَ، وتُعْطُوا الخُمُسَ من المَغْنَم… قال: احْفَظُوهُ وأَخْبِرُوهُ مَنْ وَرَاءَكُم» رواه الشيخان.
“সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযানের সওম পালন করা ও গনিমতের এক পঞ্চমাংশ দান করা… তিনি বললেন: এগুলো মনে রাখ ও ‎‎তোমাদের রেখে আসা ভাইদের বল”।[20]
শিক্ষা ও মাসায়েল:[21]
এক. ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা, অর্থাৎ ঈমান হচ্ছে অন্তরের  স্বীকৃতি আর ইসলাম হচ্ছে আত্মসমর্পণ ও বাহ্যিক আনুগত্য। ঈমান ও ইসলাম একসঙ্গে উল্লেখ হলে এ অর্থ প্রকাশ করে, যদি আলাদা উল্লেখ হয়, তখন একে অপরের অর্থ প্রকাশ করে।
দুই. মূলত ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ ও তার রাসূলের সাক্ষ্য দেয়া, তবে ইসলামের মৌলিক আমল হিসেবে সালাত, যাকাত, সওম ও হজ তার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়।
তিন. এ পাঁচটি রোকন বা তার আংশিক ত্যাগ করা আল্লাহর অবাধ্যতা প্রমাণ করে।
চার. ইসলামে সিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম, তাই সিয়ামকে তার রোকন স্থির করা হয়েছে।
পাঁচ. দ্বীনের গরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা জরুরী। ওয়াজিবের ওপর আমল করা, হারাম থেকে বিরত থাকা এবং মানুষের নিকট দ্বীন পৌঁছে দেয়া, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বলেছেন: “তোমরা এগুলো মনে রাখ ও তোমাদের রেখে আসা ভাইদের পৌঁছে দাও”।
৪. ‎রমযানের ফযিলত
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‎
«إذا دَخَلَ شَهرُ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَغُلِّقَتْ أَبوَابُ جَهَنَّمَ، وسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ» رَوَاهُ الشَّيخَان.
“যখন রমযান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলা হয়, জাহান্নামের ‎‎দরজাসমূহ বদ্ধ করা হয় এবং শয়তানগুলো শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়”।[22]‎ অপর বর্ণনায় আছে:‎
«إذا كَانَ أَوَّلُ ليْلَةٍ من شَهرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّياطِينُ ومَرَدَةُ الجِنِّ، وغُلِّقَتْ أبوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ منْهَا بَابٌ، وفُتِحَتْ أَبوَابُ الجَنَّةِ فلمْ يُغْلَقْ منْها بَابٌ، ويُنَادِي مُنَادٍ: يا بَاغِيَ الخَيرِ: أَقْبِلْ، ويا بَاغِيَ الشَّر: أَقْصِرْ، ولله عُتَقَاءُ مِنَ النَّار وذَلكَ كُلَّ لَيْلَةٍ».
‎“যখন রমযানের প্রথম রাত হয়, শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলো শৃঙ্খলিত করা ‎হয়, জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করা হয়; খোলা হয় না তার কোন দ্বার, জান্নাতের ‎‎দুয়ারগুলো খুলে দেয়া হয়; বদ্ধ করা হয় না তার কোন তোরণ। এবং একজন ঘোষক ‎‎ঘোষণা করে: হে পুণ্যের অন্বেষণকারী, অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী, ক্ষান্ত হও। আর আল্লাহর জন্য রয়েছে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক বান্দা, এটা প্রত্যেক রাতে হয়”।[23]
হাদিসে বর্ণিত: “হে পুণ্যের অন্বেষণকারী অগ্রসর হও, হে মন্দের অন্বেষণকারী ক্ষান্ত হও”। অর্থ: ‎‎হে কল্যাণ অনুসন্ধানকারী, তুমি আরো কল্যাণ অনুসন্ধান কর। এটা তোমার মুখ্য সময়, এতে অল্প আমলে তোমাকে অধিক প্রদান করা হবে। আর হে মন্দের প্রত্যাশী, ‎তুমি ক্ষান্ত হও, তওবা কর, এটা তওবা করার মোক্ষম সময়।
অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবিদের ‎সুসংবাদ প্রদান করে বলেছেন:
«أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهرٌ مُبارَكٌ فَرَضَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ صِيَامَهُ، تُفَتَّحُ فيه أَبوَابُ السَّمَاءِ، وتُغْلَّقُ فِيهِ أَبْوَابُ الجَحِيمِ، وتُغَلُّ فيه مَرَدَةُ الشَّياطِينِ، لله فيهِ لَيلَةٌ خَيرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيرَهَا فَقَدْ حُرِم».
“তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমযান এসেছে, আল্লাহ এর সওম ফরয করেছেন। এতে জান্নাতের দ্বারসমূহ খোলা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বদ্ধ করা ‎হয়, শিকলে বেঁধে রাখা হয় শয়তানগুলো। এতে একটি রজনী ‎রয়েছে যা সহস্র মাস থেকে উত্তম। যে তার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে প্রকৃত অর্থে বঞ্চিত হল”।[24]
আবু হুরায়রা অথবা আবুসাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা‎ থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‎
«إِنَّ لله عُتَقَاءَ في كُلِّ يَوْمٍٍ ولَيلَةٍ، لكُلِّ عَبدٍ مِنْهُم دَعوَةٌ مُستَجَابَةٌ» رواه أحمد.
“প্রত্যেক দিনে ও রাতে আল্লাহর মুক্তিপ্রাপ্ত বান্দা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে দো‘আ কবুলের প্রতিশ্রুতি”।[25]
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إنَّ لله عِنْدَ كُلِّ فِطْرٍ عُتَقَاءَ، وذَلكَ كُلَّ لَيلَة» رواه ابن ماجه.
“প্রত্যেক ইফতারের সময় আল্লাহর মুক্তি প্রাপ্ত বান্দা রয়েছে, আর তা প্রত্যেক ‎রাতে”।[26]‎
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. রমযান মাসের ফযিলত যে, এতে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়, ‎জাহান্নামের দরজাসমূহ বদ্ধ করা হয় ও শয়তানগুলো শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। রমযানের প্রত্যেক রাতে তা সংঘটিত হয়, শেষ রমযান পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
দুই. এসব হাদিস প্রমাণ করে যে, জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহর সৃষ্ট দু’টি বস্তু, এগুলোর দরজাসমূহ ‎প্রকৃত অর্থে খোলা ও বদ্ধ করা হয়।[27]
তিন. ফযিলতপূর্ণ মৌসুম ও তাতে সম্পাদিত আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ, যে কারণে জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা ও জাহান্নামের দরজাসমূহ বদ্ধ করা হয়।
চার. রমযানের সুসংবাদ প্রদান ও তার শুভেচ্ছা বিনিময় বৈধ। কারণ ‎সাহাবিদের সুসংবাদ প্রদান ও তাদেরকে আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের এসব বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিতেন। অনুরূপ প্রত্যেক কল্যাণের সুসংবাদ প্রদান  ‎বৈধ।‎
পাঁচ. অবাধ্য শয়তানগুলো এ মাসে আবদ্ধ করা হয়, ফলে তাদের প্রভাব কমে যায় ও মানুষ অধিক আমল করার সুযোগ পায়।
ছয়. বান্দার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের সিয়াম হিফাজত করেন, তাদের থেকে অবাধ্য শয়তানের প্রভাব দূর করেন, যেন সে তাদের ইবাদত বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়।[28]
সাত. এসব হাদিস থেকে শয়তানের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে। তাদের শরী