সিয়াম ও রমজান : শিক্ষা-তাৎপর্য-মাসায়েল (১ম পর্ব)


সিয়াম ও রমজান : শিক্ষা-তাৎপর্য-মাসায়েল (১ম পর্ব)

মহাপরিচালকের কথা
রহমত, মাগফিরাত ও নারকীয় জীবনের স্পর্শ থেকে মুক্তি লাভের অফুরান সম্ভাবনা নিয়ে ফিরে আসে মাহে রমজান। আসে তাকওয়ার উত্তাপ অনুভব করাতে, যা কিছু অকল্যাণকর, অন্ধকারময় তা থেকে ব্যক্তির আন্তর ও বাহ্য জগৎকে বিমুক্ত করে শুদ্ধ-আলোকিত মানুষের উন্মেষ ঘটাতে। তবে তার জন্য প্রয়োজন মাহে রমজানকে যথার্থভাবে যাপন, সিয়াম পালনের নীতি-বিধান বিষয়ে সম্যক জ্ঞানার্জন, সিয়ামের শিক্ষা ও মাসায়েল বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা অর্জন।
‘সিয়াম ও রমজান : শিক্ষা-তাৎপর্য-মাসাইল’ বইটি এ বিষয়ের একটি অনবদ্য গবেষণা। লেখক ও গবেষক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান কেবলমাত্র সহীহ ও হাসান হাদীসের নির্ভরতায় সিয়াম সাধনা বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দলীল প্রস্তুত করেছেন বলে তাকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়। মুফতী নোমান আবুল বাশার, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা ইকবাল হোসাইন মাসুম, মুফতী জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের, মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব-এর আন্তরিক সহযোগিতায় গবেষণা কর্মটি আরও উজ্জ্বলতা পেয়েছে নিঃসন্দেহে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে বইটিকে মুদ্রণ উপযুক্ত করে তুলেছেন মুফতী কামাল উদ্দিন মোল্লা, তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
মাহে রমজান ও সিয়াম সাধনা বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ এই রচনাটি ইমাম ও দায়ীদের জন্য একটি অতি-মূল্যবান তথ্য-ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সাধারণ পাঠক সিয়াম সাধনার খুঁটি-নাটি বিষয়ে অজানা বহু তথ্য খুঁজে পাবেন বইটিতে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম জাযা দান করুন। আমীন।
ড. মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক
মহাপরিচালক
আবহাস এডুকেশনাল এন্ড রিসার্চ সোসাইটি ঢাকা।


সূচি
রমজান মাসের ফযীলত
এক. এ মাসের সাথে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকনের সম্পর্ক রয়েছে; আর তা হলো সিয়াম পালন
দুই. রমজান হল কুরআন নাযিলের মাস
তিন. রমজান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় ও জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় শয়তানদের
চার. রমজান মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর
পাঁচ. রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস
ছয়. রমজান পাপ থেকে ক্ষমা লাভের মাস
সাত. রমজান জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস
আট. রমজান মাসে সৎকর্মের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়
নয়. রমজান ধৈর্য ও সবরের মাস
সিয়ামের ফযীলত
এক. সিয়াম শুধু আল্লাহর জন্য
দুই. সিয়াম আদায়কারী বিনা হিসাবে প্রতিদান লাভ করে থাকেন
তিন. সিয়াম ঢাল ও কুপ্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা
চার. সিয়াম জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল
পাঁচ. সিয়াম হল জান্নাত লাভের পথ
ছয়. সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আ-ল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম
সাত. সিয়াম ইহকাল ও পরকালের সাফল্যের মাধ্যম
আট. সিয়াম কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে
নয়. সিয়াম হল গুনাহ মাফের কারণ ও গুনাহের কাফফারা
রমজান মাসে যে সকল নেক আমল করা যায়
(১) কিয়ামুল লাইল
(২) আল-কুরআন খতম ও তিলাওয়াত
(৩) সদকা বা দান
(৪) এতেকাফ
(৫) ওমরাহ আদায়
(৬) রোজাদারদের ইফতার করানো
(৭) দোয়া-প্রার্থনা করা
(৮) তওবা করা
(৯) অধিক হারে নেক আমল করতে চেষ্টা অব্যাহত রাখা
(১০) ইসলামী শিক্ষা অর্জনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান
সিয়ামের হিকমত ও তার লক্ষ্য এবং উপকারিতা
(১) তাকওয়া বা আল্লাহ-ভীতি
(২) শয়তান ও কু-প্রবৃত্তির ক্ষমতা দুর্বল করা
(৩) সিয়াম আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও তার দাসত্ব প্রতিষ্ঠার প্রশিক্ষণ
(৪) ঈমানকে দৃঢ় করা, মোরাকাবা ও আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা
(৫) ধৈর্য, সবর ও দৃঢ় সংকল্পের প্রশিক্ষণ
(৬) আখেরাতমুখী করার প্রশিক্ষণ
(৭) আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া ও সৃষ্টি জীবের সেবা করার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়া
(৮) সিয়াম সমাজ সংস্কারের একটি বিদ্যাপীঠ
(৯) শারীরিক শক্তি ও সুস্থতা অর্জন
সিয়ামের আদব
(১) ইসলামকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করা
(২) সকল প্রকার অন্যায় থেকে বিরত থাকা
(৩) ইখলাস অবলম্বন করা
(৪) সুন্নতে নববীর অনুসরণ
(৫) সিয়াম ভঙ্গের সহায়ক বিষয়গুলো পরিহার করে চলা
(৬) ভয় ও আশা পোষণ করা
(৭) সাহরী খাওয়া
(৮) দেরি করে সাহরী খাওয়া
(৯) সাহরীর সময়কে সুযোগ মনে করে কাজে লাগানো
(১০) ইফতারি করতে বিলম্ব না করা
কেন বিলম্ব না করে ইফতার ও দেরিতে সাহরী খাবেন
(১১) যে সকল খাদ্য দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব
(১২) ইফতারের সময় দোয়া করা
(১৩) বেশি করে ভাল ও কল্যাণ মূলক কাজ করা এবং কুরআন পাঠ করা
(১৪) ইবাদত-বন্দেগীতে তাওফীক দানের ব্যাপারে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুধাবন করা
(১৫) দরিদ্র ও সহায় -সম্বলহীনদের প্রতি মমতা ও তাদের সেবা করা
(১৬) সুন্দর চরিত্র, ধৈর্য ও উত্তম আচরণ দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করুন
(১৭) অপচয় ও অযথা খরচ থেকে বিরত থাকুন
(১৮) রুটিন করে সময়টাকে কাজে লাগান
(১৯) দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে দিন
(২০) খাওয়া ও নিদ্রায় ভারসাম্য বজায় রাখুন
সিয়াম পালন যাদের উপর ফরজ
দশ প্রকার মানুষ যাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ নয়
প্রথম : কাফের বা অমুসলিম
দ্বিতীয় : অপ্রাপ্ত বয়স্ক
অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে কখন বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হয়
তৃতীয় : পাগল
চতুর্থ : অশীতিপর বৃদ্ধ যে ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না
পঞ্চম : যে ব্যক্তি সিয়াম পালনের সামর্থ্য রাখে না
কীভাবে মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করবে
ষষ্ঠ : মুসাফির
সপ্তম : যে রোগী সুস্থ হওয়ার আশা রাখে
অষ্টম : ঋতু-স্রাবগ্রস্ত নারী
নবম : গর্ভবতী ও দুগ্ধ দান কারী নারী
দশম : যে অন্যকে বাঁচাতে যেয়ে সিয়াম ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়
সিয়ামের কাজা আদায়ের বিধান
সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়াবলী ও করণীয়
প্রথম : সহবাস
কীভাবে সিয়ামের কাফফারা আদায় করা যায়
দ্বিতীয় ইচ্ছাকরে বীর্যপাত করা
তৃতীয় : পানাহার করা
চতুর্থ : যা কিছু পানাহারের বিকল্প
পঞ্চম : হাজামা বা শিঙা লাগানো
ষষ্ঠ : ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা
সপ্তম : মহিলাদের মাসিক ও প্রসূতিবস্থা আরম্ভ হলে
যে সকল বিষয় সিয়াম ভঙ্গ করে না
রমজানের শেষ দশকের ফযীলত ও তাৎপর্য
লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব
লাইলাতুল কদর কখন
এতেকাফ তাৎপর্য, উদ্দেশ্য ও বিধানাবলী
এতেকাফের সংজ্ঞা
এতেকাফের ফযীলত
এতেকাফের উপকারিতা
এতেকাফের আহকাম
ইসলামী শরিয়াতে এতেকাফের অবস্থান
এতেকাফের উদ্দেশ্য
১- আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা
২- পাশবিক প্রবণতা এবং অহেতুক কাজ থেকে দুরে থাকা
৩- শবে কদর তালাশ করা
৪-মসজিদে অবস্থানের অভ্যাস গড়ে তোলা
৫- দুনিয়া ত্যাগ ও বিলাসিতা থেকে দুরে থাকা
৬- ইচ্ছাশক্তি প্রবল করা এবং প্রবৃত্তিকে খারাপ অভ্যাস ও কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা
এতেকাফের বিধানাবলী
এতেকাফের সময়সীমা
এতেকাফে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময়
এতেকাফের শর্তাবলী
১-এতেকাফ মসজিদে হতে হবে
২-মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিধান
৩-এতেকাফকারীর জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ
৪-এতেকাফকারীর জন্য যা অনুমোদিত
৫-এতেকাফকারী যা থেকে বিরত থাকবে
সদকাতুল ফিতর
১-সদকাতুল ফিতরের বিধান
২- সদকাতুল ফিতর কার উপর ওয়াজিব ?
৩- সদকাতুল ফিতর এর পরিমাণ
৪- কখন আদায় করবেন সদকাতুল ফিতর
৫- সদকাতুল ফিতর কাকে দেবেন
ঈদের তাৎপর্য ও করণীয়
ঈদের সংজ্ঞা
ইসলামে ঈদের প্রচলন
ঈদের তাৎপর্য
ঈদের দিনের করণীয়
(১) গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা
(২) ঈদের দিনে খাবার গ্রহণ প্রসঙ্গে
(৩) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
(৪) ঈদের তাকবীর আদায়
ঈদের সালাত
(১) ঈদের সালাতের হুকুম
(২) ঈদের জামাতে মহিলাদের অংশগ্রহণের নির্দেশ
(৩) ঈদের সালাত আদায়ের সময়
(৪) ঈদের সালাত কোথায় আদায় করবেন
(৫) ঈদের সালাতের পূর্বে কোন সালাত নেই
(৬) ঈদের সালাতে আযান ও একামত নেই
(৭) ঈদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি
(৮) ঈদের খুতবা শ্রবণ
(৯) ঈদের সালাতের কাজা আদায় প্রসঙ্গে
(১০) ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ভাষা
(১১) আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া
ঈদে যা বর্জন করা উচিত
(১) কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন ধরনের কাজ বা আচরণ করা
(২) পুরুষ কর্তৃক মহিলার বেশ ধারণ করা ও মহিলা কর্তৃক পুরুষের বেশ ধারণ
(৩) ঈদের দিনে কবর যিয়ারত
(৪) বেগানা মহিলা পুরুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ
(ক) মহিলাদের খোলামেলা অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে বের হওয়া
(খ) মহিলাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ
(৫) গান-বাদ্য
(ক) বিবাহের অনুষ্ঠানে
(খ) ঈদের সময়ে
অন্যান্য নফল সিয়াম
১- শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা
২- আরাফা দিবসের সওম
৩- মুহাররম মাসের সওম
৪- শাবান মাসে সিয়াম
৫-প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করা
৬- সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সিয়াম
৭- একদিন পর একদিন সওম পালন
৮- আশুরার সিয়াম পালন
কীভাবে আশুরার সওম পালন করবেন
নিষিদ্ধ সিয়াম
রমজান মাসে আল-কুরআন কীভাবে তিলাওয়াত করা উচিত
بسم الله الرحمن الرحيم
রমজান মাসের ফযীলত
রমজান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আনন্দ প্রকাশ করাই স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম।[১]
পার্থিব কোন সম্পদের সাথে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না, তা হবে এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা। যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিশয় আনন্দিত হতেন, তার সাহাবাদের বলতেন:
أتاكم رمضان شهر مبارك .سنن النسائي : ২১০৫
তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। এরপর তিনি এ মাসের কিছু ফযীলত বর্ণনা করে বলতেন :
فرض الله عز وجل عليكم صيامه، تفتح فيه أبواب السماء، وتغلق فيه أبواب الجحيم، وتغل فيه مردة الشياطين، فيه ليلة خير من ألف شهر، من حرم خيرها فقد حرم. رواه النسائي: ২১১৮
আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করা হয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাত যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল।[২]
আমাদের কর্তব্য: আল্লাহর এ অনুগ্রহের মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করা, এ মাসের ফযীলত ও তাৎপর্য অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়া ও ইবাদত-বন্দেগীসহ সকল কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থাকা।
এ মাসের যে সকল ফযীলত রয়েছে তা হল:
এক. এ মাসের সাথে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকনের সম্পর্ক রয়েছে; আর তা হলো সিয়াম পালন।
হজ যেমন জিলহজ মাসের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে সে মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এমনি সিয়াম রমজান মাসে হওয়ার কারণে এ মাসের মর্যাদা বেড়ে গেছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
‘হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনি ফরজ করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উর্পতযাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।”[৩]
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ইসলাম যে পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত তার একটি হল সিয়াম পালন। এ সিয়াম জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম ; যেমন হাদীসে এসেছে :
من آمن بالله ورسولـه، وأقام الصلاة، وآتى الزكاة، وصام رمضان، كان حقاً على الله أن يدخله الجنة … رواه البخاري: ৭৪২৩
যে আল্লাহর তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল, যাকাত আদায় করল, সিয়াম পালন করল রমজান মাসে, আল্লাহ তাআলার কর্তব্য হয়ে যায় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো…।[৪]
দুই. রমজান হল কুরআন নাযিলের মাস :
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
রমজান মাস, এতে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন, যা মানুষের দিশারী এবং স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী।[৫]
রমজান মাসে সপ্তম আকাশের লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশের বায়তুল ইজ্জতে পবিত্র আল-কুরআন একবারে নাযিল হয়েছে। সেখান থেকে আবার রমজান মাসে অল্প অল্প করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি নাযিল হতে শুরু করে। কুরআন নাযিলের দুটি পর্বই রমজান মাসকে ধন্য করেছে। শুধু আল-কুরআনই নয় বরং ইবরাহীম আ.-এর সহীফা, তাওরাত, যবুর, ইঞ্জীল সহ সকল ঐশী গ্রন্থ এ মাসে অবতীর্ণ হয়েছে বলে তাবরানী বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মাসে মানুষের হিদায়াত ও আলোকবর্তিকা যেমন নাযিল হয়েছে তেমনি আল্লাহর রহমত হিসেবে এসেছে সিয়াম। তাই এ দুই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে বেশি বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। প্রতি বছর রমজান মাসে জিবরীল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে পূর্ণ কুরআন শোনাতেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -ও তাকে পূর্ণ কুরআন শোনাতেন। আর জীবনের শেষ রমজানে আল্লাহর রাসূল দু বার পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করেছেন। সহীহ মুসলিমের হাদীস দ্বারা এটা প্রমাণিত।
তিন. রমজান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় ও জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় শয়তানদের।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إذا جاء رمضان فتحت أبواب الجنة، وأغلقت أبواب النار، وصفدت الشياطين. وفي لفظ (وسلسلت الشياطين). رواه مسلم: ২৫৪৭
ফর্মা-২
যখন রমজান মাসের আগমন ঘটে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছ্তে’শয়তানদের শিকল পরানো হয়।'[৬]
তাই শয়তান রমজানের পূর্বে যে সকল স্থানে অবাধে বিচরণ করত রমজান মাস আসার ফলে সে সকল স্থানে যেতে পারে না। শয়তানের তৎপরতা দুর্বল হয়ে যায়। ফলে দেখা যায় ব্যাপকভাবে মানুষ তওবা, ধর্মপরায়ণতা, ও সৎকর্মের দিকে অগ্রসর হয় ও পাপাচার থেকে দূরে থাকে। তারপরও কিছু মানুষ অসৎ ও অন্যায় কাজ-কর্মে তৎপর থাকে। কারণ, শয়তানের কু-প্রভাবে তারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়ে পড়েছে।
চার. রমজান মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর।
আল্লাহতাআলা বলেন :
লাইলাতুল কদর সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনী উষার আবির্ভাব পর্যন্ত।[৭]
পাঁচ. রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
لكل مسلم دعوة مستجابة, يدعوبهافي رمضان. دروس رمضانية
(রমজান মাসে) প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।[৮]
অন্য হাদীসে এসেছে,
إن لله تبارك وتعالى عتقاء في كل يوم وليلة، (يعني في رمضان) وإن لكل مسلم في كل يوم وليلة دعوة مستجابة. مجموع مؤلفات الألباني: ১০০২
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রমজানের প্রতি রাতে ও দিনে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং প্রতি রাত ও দিবসে মুসলিমের দোয়া-প্রার্থনা কবুল করা হয়।[৯]
তাই প্রত্যেক মুসলমান এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের কল্যাণের জন্য যেমন দোয়া-প্রার্থনা করবে, তেমনি সকল মুসলিমের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জ্ঞাপন করবে।
ছয়. রমজান পাপ থেকে ক্ষমা লাভের মাস।
যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপসমূহ ক্ষমা করানো থেকে বঞ্চিত হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ধিক্কার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন :
.. رغم أنف رجل، دخل عليه رمضان، ثم انسلخ قبل أن يغفر له. جامع الأصول في أحاديث الرسول : ১৪১০
ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করা হয়নি।[১০]
সত্যিই সে প্রকৃত পক্ষে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত যে এ মাসেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল।
সাত. রমজান জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
إذا كان أول ليلة من رمضان صفدت الشياطين ومردة الجن، وغلقت أبواب النار، فلم يفتح منها باب، وفتحت أبواب الجنة فلم يغلق منها باب، وينادي مناد كل ليلة : يا باغي الخير أقبل! ويا باغي الشر أقصر! ولله عتقاء من النار، وذلك في كل ليلة. السنن الصغرى: ১৪২৯
রমজান মাসের প্রথম রজনীর যখন আগমন ঘটে তখন শয়তান ও অসৎ জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, এ মাসে একটি দরজাও খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এ মাসে তা আর বন্ধ করা হয় না। প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ঘোষণা দিতে থাকে যে, হে সৎকর্মের অনুসন্ধানকারী তুমি অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের অনুসন্ধানকারী তুমি থেমে যাও! এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।[১১]
আট. রমজান মাসে সৎকর্মের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।
যেমন হাদীসে এসেছে যে, রমজান মাসে ওমরাহ করলে একটি হজের সওয়াব পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, বরং, রমজান মাসে ওমরাহ করা আল্লাহর রাসূলের সাথে হজ আদায়ের মর্যাদা রাখে। এমনিভাবে সকল ইবাদত-বন্দেগীসহ সকল সৎকাজের প্রতিদান কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।
নয়. রমজান ধৈর্য ও সবরের মাস।
এ মাসে ঈমানদার ব্যক্তিগণ খাওয়া-দাওয়া, বিবাহ-শাদি ও অন্যান্য সকল আচার-আচরণে ধৈর্য ও সবরের এত অধিক অনুশীলন করেন তা অন্য কোন মাসে বা অন্য কোন পর্বে করেন না। এমনিভাবে সিয়াম পালন করে যে ধৈর্যের প্রমাণ দেয়া হয় তা অন্য কোন ইবাদতে পাওয়া যায় না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন :
ধৈর্যশীলদের তো বিনা হিসাবে পুরস্কার দেয়া হবে।[১২]
সিয়ামের ফযীলত
রমজান মাসের ফযীলত আলোচনা করার পর এবার সিয়াম বা রোজা রাখার ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করতে যাচ্ছি।
সিয়াম পালনের ফযীলত :

এক. সিয়াম শুধু আল্লাহর জন্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজের সাথে সিয়ামের সম্পর্ক ঘোষণা করেছেন। এমনিভাবে তিনি সকল ইবাদত-বন্দেগী থেকে সিয়ামকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছেন।

যেমন তিনি এক হাদীসে কুদসীতে বলেন :
قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ هُوَ لِى وَأَنَا أَجْزِى بِه. مسلم ২৭৬০
মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম তার ব্যতিক্রম, তা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব।[১৩]
এ হাদীস দ্বারা আমরা অনুধাবন করতে পারি নেক আমলের মাঝে সিয়াম পালনের গুরুত্ব আল্লাহর কাছে কত বেশি।
তাই সাহাবী আবু হুরাইরা রা. যখন বলেছিলেন,
يا رسول الله مرني بعمل قال عليك بالصوم فإنه لا عدل له. السنن الكبرى للنسائي :২৫৩৪
‘হে রাসূলুল্লাহ ! আমাকে অতি উত্তম কোন নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : ‘তুমি সিয়াম পালন কর। কারণ এর সমমর্যাদার আর কোন আমল নেই।'[১৪]
সিয়ামের এত মর্যাদার কারণ কী তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভাল জানেন। তবে, আমরা যা দেখি তা হল, সিয়াম এমন একটি আমল যাতে লোক দেখানো ভাব থাকে না। বান্দা ও আল্লাহ তাআলার মধ্যকার একটি অতি গোপন বিষয়। সালাত হজ, যাকাতসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী কে করল তা দেখা যায়। পরিত্যাগ করলেও বুঝা যায়। কিন্তু সিয়াম পালনে লোক দেখানো বা শোনানোর ভাবনা থাকে না। ফলে সিয়ামের মাঝে ইখলাস, আন্তরিকতা বা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা নির্ভেজাল ও বেশি থাকে।
যেমন আল্লাহ বলেন :
يدع شهوته وطعامه من أجلي. مسلم:২৭৬৩
‘সিয়াম পালনকারী আমার জন্যই পানাহার ও যৌনতা পরিহার করে।’ তাই সিয়াম পালনকারী আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছুর আশা করে না।
দুই. সিয়াম আদায়কারী বিনা হিসাবে প্রতিদান লাভ করে থাকেন। কিন্তু অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী ও সৎ কর্মের প্রতিদান বিনা হিসাবে দেয়া হয় না। বরং প্রত্যেকটি নেক আমলের পরিবর্তে আমলকারীকে দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত প্রতিদান দেয়া হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
كل عمل ابن آدم يضاعف الحسنة بعشر أمثالـها إلى سبع مئة ضعف. قال الله عز وجل: إلا الصوم فإنه لي وأنا أجزى به . . . مسلم:১১৫১
‘মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন্তকিন্তু সিয়ামের বিষয়টা ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধু আমার জন্য আমিই তার প্রতিদান দেব।'[১৫]
সারা জাহানের সর্বশক্তিমান প্রতিপালক আল্লাহ নিজেই যখন এর পুরস্কার দেবেন তখন কি পরিমাণে দেবেন? ইমাম আওযায়ী রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ যে সিয়াম আদায়কারীকে প্রতিদান দেবেন তা মাপা হবে না, ওজন করা হবে না।

তিন. সিয়াম ঢাল ও কুপ্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা।
সিয়াম পালনের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কু-প্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন :
يا معشر الشباب! من استطاع منكم الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر، وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم، فإنه له وجاء.مسلم:১৪০০
হে যুবকেরা ! তোমাদের মাঝে যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি-কে অবনত করে ও লজ্জাস্থানের সুরক্ষা দেয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার রক্ষা কবচ।[১৬]
এমনিভাবে সিয়াম সকল অশ্লীলতা ও অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত রাখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
. . والصيام جنة، فإذا كان يوم صوم أحدكم فلا يرفث يومئذ ولا يصخب، فإن سابه أحد أو قاتله فليقل إني امرأ صائم. رواه مسلم:১১৫১
‘সিয়াম হল ঢাল। সুতরাং তোমাদের মাঝে যে সিয়াম পালন করবে সে যেন অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। যদি তার সাথে কেউ ঝগড়া বিবাদ কিংবা মারামারিতে লিপ্ত হতে চায় তবে তাকে বলে দেবে আমি সিয়াম পালনকারী।'[১৭]
সিয়াম পালনকারী যেমনি নিজের অন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তেমনি সকল অশ্লীল আচরণ, ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক কথা ও কাজ থেকে নিজের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হেফাজত করে।
চার. সিয়াম জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল।
যেমন হাদীসে এসেছে,
الصيام جنة، وحصن حصين من النار. أحمد:৯২১৪
‘সিয়াম হল ঢাল ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মজবুত দুর্গ।'[১৮]
বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে এসেছে,
من صام يوما في سبيل الله باعد الله وجهه عن النار سبعين خريفا. مسلم:২৭৬৯
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন সিয়াম পালন করবে আল্লাহ তার থেকে জাহান্নাম-কে এক খরিফ (সত্তুর বছরের) দুরত্বে সরিয়ে দেবেন।'[১৯]
উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে সিয়াম পালনের অর্থ হল: শুধু আল্ল সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিয়াম পালন করা।’ এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা বহু াহর সিয়াম পালনকারীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। যেমন হাদীসে এসেছে,
إن لله تعالى عند كل فطر عتقاء من النار، وذلك كل ليلة. البيهقي:৩৬০৫
‘ইফতারের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর এটা রমজানের প্রতি রাতে।'[২০]
পাঁচ. সিয়াম হল জান্নাত লাভের পথ
হাদীসে এসেছে,
عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه قال: يا رسول الله مرني بأمر ينفعني الله به، قال: عليك بالصوم فإنه لا مثل له. النسائي:২২২০
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি লাভবান হতে পারি। তিনি বললেন : ‘তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা, এর সমকক্ষ আর কোন কাজ নেই।'[২১]
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য সিয়ামের সাথে কোন আমলের তুলনা হয় না। সিয়াম পালনকারীদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহের আরেকটি দৃষ্টান্ত হল তিনি সিয়াম পালনকারীদের জন্য জান্নাতে একটি দরজা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যে দরজা দিয়ে সিয়াম পালনকারীরা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إن في الجنة بابا يقال له الريان، يدخل منه الصائمون يوم القيامة لا يدخل منه أحد غيرهم، يقال: أين الصائمون ؟ فيقومون، لا يدخل منه أحد غيرهم، فإذا دخلوا أغلق، فلم يدخل منه أحد.البخاري:১৭৯৭,مسلم:১১৫২
‘জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন সিয়াম পালনকারীরাই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবে