সিয়াম বিষয়ক নির্বাচিত ফাতওয়া (৩য় পর্ব)


সিয়াম বিষয়ক নির্বাচিত ফাতওয়া (৩য় পর্ব)

ই‘তিকাফের মূল আদর্শ, কেন মুসলিমরা এই সুন্নাহ ছেড়ে দিয়েছে?
ফাত্‌ওয়া নং – 49007
প্রশ্ন : কেন মুসলিমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ হওয়া সত্ত্বেও ই‘তিকাফ ছেড়ে দিয়েছে? আর ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্যই বা কি?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য
প্রথমত :
ই‘তিকাফ হল মু’আক্কদাহ সুন্নাহ; যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করতেন।
এর শারী‘আত সম্মত হওয়ার ব্যাপারে দলীলগুলো দেখুন (48999) প্রশ্নের উত্তরে।
আর এই সুন্নাহ তো মুসলিমদের জীবন থেকে হারিয়েই গেছে -সে ব্যতীত যাকে আমার রাব্ব দয়া করেছেন- এর অবস্থা সে সুন্নাহগুলোর মতই যা মুসলিমরা একেবারেই ত্যাগ করেছে বা একেবারে ত্যাগ করার পথে।
আর এর কিছু কারণ রয়েছে যেমন :
১. অনেকের মনে ‘ঈমানের দুর্বলতা।
২. দুনিয়ার জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য, ভোগ বিলাসের প্রতি অত্যধিক মাত্রায় ঝুঁকে পড়া; যার কারণে তারা অল্প সময়ের জন্য হলেও এসব থেকে দূরে থাকতে অক্ষম।
৩. অনেক মানুষের মনে জান্নাত লাভের আকাঙ্ক্ষার অভাব এবং আরাম-আয়েশের দিকে তাদের ঝুঁকে পড়া, তাই তারা ই‘তিকাফের সামান্য কষ্টও সহ্য করতে চায় না যদিও তা আল্লাহ-সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য হোক না কেন।
যে জান্নাতের মহান মর্যাদা ও তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে জানে, সে তার জন্য তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ক্বুরবান করে হলেও তা লাভের চেষ্টা করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
«أَلا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ غَالِيَةٌ ، أَلا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ الْجَنَّةُ» رواه الترمذي وصححه الألباني (2450)
“নিশ্চয়ই আল্লাহ’র পণ্য অত্যন্ত মূল্যবান, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ’র পণ্য হচ্ছে জান্নাত।”
[ইমাম আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং আল-আলবানী একে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেছেন (২৪৫০)]
৪. অনেকের মনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য ভালবাসা শুধু মৌখিকভাবে সীমাবদ্ধ থাকা, বাস্তব তথা কর্মগত দিকে তার কোনো প্রয়োগ না থাকা। অথচ এ ভালবাসার বাস্তব চিত্র হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের বিভিন্ন দিক বাস্তবায়ণ করা। আর সে সুন্নাতসমূহের একটি হল ই‘তিকাফ। আল্লাহ বলেছেন :
﴿ لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا ٢١ ﴾ [الاحزاب: ٢١]
“নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর মাঝে আছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ, তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে।”  [আল-আহযাবঃ ২১]
ইবনু কাসীর -রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন : (৩/৭৫৬)
“এই সম্মানিত আয়াতটি রাসূলুল্লাহর সকল কথা, কাজ ও অবস্থা (সুন্নাহ) সর্বাবস্থায় অনুসরণের ব্যাপারে একটি মহান নীতি।”
পূর্ববর্তী সাহাবী, তাবি‘ঈ ও আতবা‘উত তাবি‘ঈগণের অনেকে মানুষদের ই‘তিকাফ ছেড়ে দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়মিত করেছেন।
ইবনু শিহাব আয-যুহরী বলেছেন :
“এটি খুবই আশ্চর্যজনক যে, মুসলিমরা ই‘তিকাফ ত্যাগ করেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে প্রবেশ করার পর থেকে আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করা পর্যন্ত তিনি ই‘তিকাফ ত্যাগ করেন নি।”
দ্বিতীয়ত :
যে ই‘তিকাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিতভাবে পালন করেছেন, তা হল রমযান মাসের শেষ দশ দিনে। এই কয়টি দিন- সত্যিকার অর্থে একটি ইনটেনসিভ শিক্ষামূলক কোর্সের ন্যায় যার ইতিবাচক তড়িৎ ফসল একজন মানুষের জীবনে ই‘তিকাফের দিন ও রাতগুলোতেই পরিলক্ষিত হয়। আর এর আরও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে একজন মানুষের জীবনে পরবর্তী রমযান পর্যন্ত, তার আগামী দিনগুলোতে।
তাই আমাদের মুসলিম সমাজে কতই না প্রয়োজন এই সুন্নাহকে উজ্জীবিত করা এবং সঠিক পন্থায় তা প্রতিষ্ঠা করা, যার উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন।
মানুষের এই গাফিলতি ও উম্মাতের এই ফাসাদের সময় যারা সুন্নাহকে আকঁড়ে ধরে আছে, তাদের পুরষ্কার কতই না মহান হবে!
তৃতীয়ত :
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্য ছিল, লাইলাতুল ক্বাদরের খোঁজ করা।
ইমাম মুসলিম (১১৬৭) এ আবূ সা ‘ঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন :
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوَّلَ مِنْ رَمَضَانَ ، ثُمَّ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ (أي : خيمة صغيرة) عَلَى سُدَّتِهَا (أي : بابها) حَصِيرٌ . قَالَ : فَأَخَذَ الْحَصِيرَ بِيَدِهِ فَنَحَّاهَا فِي نَاحِيَةِ الْقُبَّةِ ، ثُمَّ أَطْلَعَ رَأْسَهُ فَكَلَّمَ النَّاسَ ، فَدَنَوْا مِنْهُ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন। এরপর তিনি মাঝের দশ দিন তুর্কী ক্বুব্বাহ-তে (এক ধরণের ছোট তাঁবুতে) ই‘তিকাফ করেছিলেন যার দরজায় একটি কার্পেট ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁর হাত দিয়ে কার্পেটটিকে ক্বুব্বাহর এক পাশে সরিয়ে দিলেন; এরপর তাঁর মাথা বের করে লোকদের সাথে কথা বললেন, তাঁরা (উপস্থিত লোকেরা) তাঁর (রাসূলের) কাছে আসলেন; অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন,
«إِنِّي اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوَّلَ أَلْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ، ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ ، ثُمَّ أُتِيتُ فَقِيلَ لِي : إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ»، فَاعْتَكَفَ النَّاسُ مَعَهُ .
“আমি প্রথম দশ দিন ই‘তিকাফ করেছি, এই রাতের (লাইলাতুল ক্বাদরের) খোঁজে, এরপর মাঝের দশ দিন ই‘তিকাফ করেছি, এরপর আমার কাছে এসে বলা হল: ‘এটি শেষ দশকে’। সুতরাং আপনাদের মাঝে যে ই‘তিকাফ করতে পছন্দ করে/চায়, সে যাতে ই‘তিকাফ করে।” এরপর লোকেরা তাঁর সাথে ই‘তিকাফ করলেন।
এই হাদীসে কিছু শিক্ষণীয় দিক রয়েছে :
১. রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্য ছিল লাইলাতুল ক্বাদরের খোঁজ করা; আর সেই রাতে ক্বিয়াম করা ও তা উজ্জীবিত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া, আর তা হল এই রাতের মহান ফযীলত এর কারণে। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿ لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣ ﴾ [القدر: ٣]
“লাইলাতুল ক্বাদ্‌র হাজার মাস থেকেও উত্তম।’’ [আল-ক্বাদর:৩]
২.এর (এই রাতের) সময়সীমা জানার আগে–তা খোঁজার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর পরিশ্রমে লিপ্ত হওয়া। তিনি শুরু করেন প্রথম দশ দিনে, এরপর মাঝের দশ দিনে, এরপর মাসের শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁকে জানানো হয় যে, তা (লাইলাতুল ক্বাদ্‌র) শেষ দশকে। আর এ হল লাইলাতুল ক্বাদরের খোঁজে এক সর্বাত্মক সাধনা।
৩. সাহাবীগণের -রিদ্বওয়ানুল্লাহি ‘আলাইহিম- রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা; কারণ, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ই‘তিকাফ শুরু করে মাসের শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখেছিলেন, আর তা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের পূর্ণাংগভাবে অনুসরণের কারণে।
৪. রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসা ও দয়া। ই‘তিকাফের কষ্টের কথা তাঁর জানা ছিল বলে তিনি তাঁদের (সাহাবীদের) তাঁর সাথে ই‘তিকাফ চালিয়ে যাওয়া অথবা বের হয়ে যাওয়ার ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, বলেছিলেন :
« فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ»
“সুতরাং আপনাদের মাঝে যে ই‘তিকাফ করতে পছন্দ করে/চায়, সে যেন ই‘তিকাফ করে।”
এছাড়াও ই‘তিকাফের অন্যান্য উদ্দেশ্য রয়েছে, যেমন :
১। মানুষের থেকে যথাসম্ভব আলাদা হয়ে আল্লাহ ‘আযযা ওয়া জাল্ল-এর সান্নিধ্যে একা হয়ে যাওয়া।
২. আল্লাহ –তাবারাকা ওয়া তা‘আলা-র প্রতি সর্বাত্মকভাবে মনোনিবেশ করে আত্মশুদ্ধিকরণ।
৩. সালাত আদায়, দো‘আ করা, যিক্‌র পাঠ, কুর’আন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ‘ইবাদাত করার জন্য সম্পূর্ণভাবে লেগে যাওয়া।
৪.নাফসের কু প্রবৃত্তি ও কামনা বাসনা যা সাওমে র উপর প্রভাব ফেলে তা থেকে সাওমকে রক্ষা করা।
৫.দুনিয়াবী মুবাহ বিষয়সমূহ ভোগ কমিয়ে দেওয়া এবং তার অধিকাংশের ব্যাপারে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ভোগ করার ক্ষেত্রে যুহদ বা কৃচ্ছতা অবলম্বন করা।
দেখুন, আব্দুল লাত্বীফ বালতুব এর ‘ই‘তিকাফ- শিক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রন্থটি।
Islam Q & A
ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা
ফাত্‌ওয়া নং – 49002
প্রশ্ন : ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময় কত? আমি কি অল্প কিছু সময়ের জন্য ই‘তিকাফ করতে পারি নাকি একসাথে কিছু দিনের জন্য ই‘তিকাফ করতে হবে?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমার ব্যাপারে ‘আলিমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
অধিকাংশ ‘আলিমগণের মতে ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময় এক মুহূর্তের জন্যও হতে পারে। আর এটি ইমাম আবূ হানীফাহ, ইমাম আশ-শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদের মত।
দেখুন: আদ-দুরর আল-মুখতার(১/৪৪৫), আল-মাজমূ‘(৬/৪৮৯), আল-ইনসাফ (৭/৫৬৬)।
ইমাম আন-নাওয়াউয়ী ‘আল-মাজমূ‘’ (৬/৫১৪)-তে বলেছেন :
   “আর ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা সম্পর্কে অধিকাংশ (‘আলিমগণ) যে মত তা‘কীদের সাথে পোষণ করেন এবং এটিই সঠিক মত যে এর জন্য মাসজিদে অবস্থান শর্ত (অর্থাৎ ই‘তিকাফ মাসজিদে হতে হবে) এবং তা বেশি বা অল্প সময়ের জন্য হতে পারে, কিছু সময় বা মুহূর্তের জন্যও”।
আর এ ব্যাপারে তাঁরা বেশ কয়েকটি দলীল দিয়েছেন :
১. ই‘তিকাফের শাব্দিক অর্থ অবস্থান করা যা দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হতে পারে। আর শারী‘আতে এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় না, যা কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়।
ইবনু হাযম বলেছেন :
   “ই‘তিকাফ আরবদের ভাষায়-অবস্থান করা। তাই আল্লাহ তা‘আলার মাসজিদে তাঁর নৈকট্য লাভের আশায় যে কোনো অবস্থানই হল ই‘তিকাফ………সময়সীমা কম হোক বা বেশি হোক, যেহেতু কুর’আন ও সুন্নাহ নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বা সময় নির্ধারণ করেনি”। [আল-মুহাল্লা (৫/১৭৯)]
২. ইবনু আবী শাইবাহ, ইয়া‘লা ইবনু উমাইইয়াহ –রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন : “আমি মাসজিদে ‘সা‘আহ’ বা কিছু সময় অবস্থান করি আর আমি ই‘তিকাফ করার জন্যই অবস্থান করি।” এটি দ্বারা ইবনু হাযম-‘আল-মুহাল্লা’-তে (৫/১৭৯) দলীল পেশ করেছেন।
হাফিয ইবনু হাজার ‘ফাতহুল বারী’-তে তা উল্লেখ করে চুপ থেকেছেন (অর্থাৎ কোনো মন্তব্য করেন নি)।
আর সা‘আহ হল সময়ের কিছু অংশ, বর্তমান পরিভাষায় ব্যবহৃত ষাট মিনিটের এক ঘণ্টা নয়। [উল্লেখ্য যে সাম্প্রতিক পরিভাষায় ‘আরাবীতে এক ঘণ্টা(৬০ মি:) কে সা‘আহ বলে।]
‘আলিমগণের মধ্যে কারও কারও মতে এর (ই‘তিকাফের) সর্বনিম্ন সময় একদিন। এটি ইমাম আবূ হানীফাহ’র এক বর্ণনা এবং মালিকী ফিক্বহী মাযহাবে কেউ কেউ এ মত পোষণ করেছেন।
আর শাইখ ইবনু বায ‘মাজমূ‘আল ফাত্‌ওয়া’ তে (১৫/৪৪১) বলেছেন :
“ই‘তিকাফ হল আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মাসজিদে অবস্থান করা, সময় কম হোক বা বেশি হোক। কারণ আমার জানা মতে এমন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না, যা একদিন, দুই দিন বা এর বেশি কিছু নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করে। আর তা শারী‘আতসম্মত একটি ‘ইবাদাত যদি না কেউ নাযর (মান্নত) করে,-নাযরের (মান্নতের) দ্বারা তা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর তা নারী ও পুরুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।”
Islam Q & A
মাসজিদে নারীদের ই’তিকাফ
ফাত্‌ওয়া নং – 37698
প্রশ্ন : একজন নারীর জন্য রমযানের শেষ দশদিনে ই‘তিকাফ করা জায়েয কি না?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
হ্যাঁ, একজন নারীর জন্য রমযানের শেষ দশদিনে ই‘তিকাফ করা জায়েয।
বরং ই‘তিকাফ নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই সুন্নাত এবং উম্মাহাতুল মু’মিনীন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুন্না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ই‘তিকাফ করেছেন এবং তিনি মারা যাওয়ার পরও ই‘তিকাফ পালন করেছেন।
ইমাম আল-বুখারী (২০২৬) এবং মুসলিম (১১৭২), নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী ‘আয়েশাহ্‌ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে :
«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ ، ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ»
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দানের আগ পর্যন্ত রমযানের শেষ দশদিন ই‘তিকাফ পালন করতেন, তারপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ পালন করতেন।”
‘আউন আল-মা‘বূদ গ্রন্থে বলা আছে-
“এতে দলীল পাওয়া যায় যে ই‘তিকাফের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের সমতুল্য।”
শাইখ ‘আবদুল-আযীয ইবনু বায (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া প্রদর্শন করুন) বলেছেন :
‘ই‘তিকাফ নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নাত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি রমযানে ই‘তিকাফ পালন করতেন এবং সবশেষে তাঁর ই‘তিকাফ শেষ দশদিনে স্থির হয় এবং তাঁর কিছু স্ত্রীগণও তাঁর সাথে ই‘তিকাফ পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (মৃত্যুর) পর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ পালন করতেন। আর ই‘তিকাফের জায়গা হচ্ছে মাসজিদসমূহ; যেখানে জামা‘আতের সালাত আদায় করা হয়।”
(ইন্টারনেটে শাইখ ইবনু বাযের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।)
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A
একজন নারীর জন্য তার ঘরে ই‘তিকাফ করা শুদ্ধ নয়
ফাত্‌ওয়া নং – 37911
প্রশ্ন : একজন নারীর জন্য ঘরে ই‘তিকাফ করা জায়েয কিনা? সে কী করবে যদি তার রান্না করার প্রয়োজন পড়ে?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ই‘তিকাফ শুধুমাত্র মাসজিদে করা বৈধ। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ﴾ [البقرة: ١٨٧]
“আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফরত (দুনিয়াবী কাজ থেকে বিরত থেকে নিজেকে ‘ইবাদত ও প্রার্থনার জন্য মাসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখা) অবস্থায় মাসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।” [আল-বাক্বারাহঃ ১৮৭]
এই হুকুম পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।
ইবনু ক্বুদামাহ ‘আল-মুগনী’-তে (৪/৪৬৪) বলেছেন :
‘একজন নারী সব মাসজিদে ই‘তিকাফ করতে পারে এবং সে মাসজিদে জামা‘আতে সালাত আদায় করতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই, কারণ, এটি (জামা‘আতে সালাত আদায়) তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।” আর ইমাম আশ-শাফি‘ঈ এই মত পোষণ করেছেন।
নারীর জন্য তার ঘরে ই‘তিকাফ করার বিধান নেই, কারণ আল্লাহ বলেছেন :
﴿وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ﴾ [البقرة: ١٨٧]
“আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফরত (দুনিয়াবী কাজ থেকে বিরত থেকে নিজেকে ‘ইবাদত ও প্রার্থনার জন্য মাসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখা) অবস্থায় মাসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।” [আল-বাক্বারাহঃ ১৮৭]
এবং রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীগণ তাঁর কাছে মাসজিদে ই‘তিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাঁদেরকে অনুমতি দিয়েছিলেন।’
‘আল-মাজমূ‘ (৬/৪৮০) তে ইমাম আন-নাওয়াউয়ী বলেছেন :
“পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্য মাসজিদের বাইরে ই‘তিকাফ করা শুদ্ধ নয়।”
এটি “আশ-শারহ আল-মুমতি‘” (৬/৫১৩) তে শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন এই মতই পোষণ করেছেন।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A
যাকাতুল ফিত্বর – এর পরিমাণ এবং তা আদায় করার সময়
ফাত্‌ওয়া নং – 49793
প্রশ্ন : আমরা মরক্কোর একটি সংস্থার সদস্য, বার্সেলোনাতে বাস করি। আমরা কিভাবে যাকাতুল ফিত্বর হিসাব করব?
উত্তর :
 সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি মুসলিমদের উপর যাকাতুল ফিত্বর ফরয করেছেন আর তা হল এক সা‘ খেজুর বা এক সা‘ জব এবং তিনি সালাতের জন্য অর্থাৎ ‘ঈদের (ফিত্বরের) সালাতে বের হওয়ার আগে তা আদায় করতে আদেশ করেছেন। দুই সহীহ গ্রন্থে (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমে) আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন :
كُنَّا نُعْطِيهَا فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ.
   “আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে তা (যাকাতুল ফিতর) খাদ্যদ্রব্য থেকে এক স্বা‘ বা খেজুর থেকে এক স্বা‘ বা জব থেকে এক স্বা‘ বা কিসমিস থেকে এক স্বা‘ হিসেবে দিতাম।” [বুখারী (১৪৩৭)]
একদল ‘আলিম এই হাদীসে ব্যবহৃত ‘খাদ্যদ্রব্য’ শব্দটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তা হল গম (বুর্‌/ক্বাম্‌হ)।
আবার অনেকে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে এর উদ্দেশ্য হল সে দেশের অধিবাসীগণ যা খায় তা গম, ভুট্টা, পার্ল মিলেট (pearl millet) বা এছাড়া অন্য যাই হোক না কেন- আর এটি সঠিক মত। কারণ যাকাত হল দরিদ্রদের প্রতি ধনীদের সহানুভূতি, আর তার (যাকে যাকাত দেয়া হয়) দেশের খাদ্যদ্রব্য নয় এমন কিছু দিয়ে সহানুভুতি প্রকাশ করা একজন মুসলিমের উপর ওয়াজিব নয়। আর এতে সন্দেহ নেই যে, চাল- হারামাইনের দেশের (সউদি আরবের) প্রধান খাদ্য, এক উত্তম ও মূল্যবান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত যা বার্লি থেকে উত্তম, যে (বার্লি) হাদীসের পাঠে (মাত্‌নে) যথেষ্ট বলে উল্লেখিত হয়েছে। তাই এ থেকে জানা গেল যে চাল দিয়ে যাকাতুল ফিতর আদায় করায় কোনো দোষ নেই।
ওয়াজিব হল সকল প্রকার খাবারের এক সা‘ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিসাব অনুযায়ী এক সা‘ (যাকাতুল ফিতর) আদায় করা। আর এর পরিমাপ হল স্বাভাবিক দুই পূর্ণ হাতের চার মুঠো, যেমনটি আছে আল-ক্বামূস ও অন্যান্য অভিধানে –ওজনের হিসাবে তা ৩ কিলোগ্রামের কাছাকাছি। যদি কোনো মুসলিম চাল বা তার দেশের খাদ্যদ্রব্য থেকে এক সা‘ দিয়ে (যাকাতুল ফিতর) আদায় করে, তবে আলিমগণের দুই মতের বেশি শক্তিশালী মতানুসারে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে যদিও বা তা এই হাদীসে উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তা ওজনের হিসেবে প্রায় ৩ কিলোগ্রাম দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।
ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-দাস সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আর ‘আলিমগণের ইজমা‘ (ঐকমত্য) অনুসারে গর্ভের ভ্রূণের পক্ষ থেকে তা আদায় করা ওয়াজিব নয়, তবে ‘উসমান-রাদিয়াল্লাহু আনহু- (তা) করেছেন বলে মুস্তাহাব্ব।
আর ওয়াজিব হল ‘ঈদের সালাতের আগেই তা আদায় করা, ‘ঈদের সালাতের পর পর্যন্ত দেরি করা জায়েয নয়। ‘ঈদের আগে এক বা দুই দিন আগে তা আদায় করায় কোন বাঁধা নেই। তাই এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তা আদায়ের সময় শুরু হয় ‘আলিমগণের মতামতের সবচেয়ে সঠিক মতটি অনুসারে ২৮তম রাতে; কারণ এই (রমযান) মাস ২৯ দিনের হতে পারে আবার ৩০ দিনেরও হতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ যাকাতুল ফিতর ‘ঈদের এক বা দুই দিন আগে আদায় করতেন।
আর যাকাতুল ফিতর দিতে হবে ফকির ও মিসকীনদের। ইবনু ‘আব্বাস-রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা- থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন :
«فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنْ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ ، مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ ، وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنْ الصَّدَقَاتِ» .
رواه أبو داود وحسنه الألباني في صحيح أبي داود
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন একজন সাওম পালনকারীর অনর্থক কাজ ও অশ্লীলতা হতে পবিত্রতাস্বরূপ ও মিসকীনদের জন্য খাওয়ার হিসেবে। যে তা ‘ঈদুল ফিতরের সালাতের আগে আদায় করবে, তার পক্ষ থেকে তা কবুল যোগ্য যাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর যে তা ‘ঈদুল ফিত্বরের সালাতের পর আদায় করবে, তা সাদাক্বাহসমূহের মধ্যে একটি বলে গণ্য হবে।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ (১৬০৯) এবং আল- আলবানী একে ‘সহীহ আবী দাঊদ’ এ হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন]
আর ‘আলিমগণের অধিকাংশের মতে ও দলীলের বিবেচনায় বেশি সঠিক মত অনুসারে মূল্য দ্বারা (অর্থ দিয়ে) যাকাতুল ফিতর আদায় করা সঠিক নয় বরং ওয়াজিব হল তা খাদ্যদ্রব্য থেকে আদায় করা; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ করেছেন এবং উম্মাতের অধিকাংশই (‘উলামা’) এ মত প্রকাশ করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে চাই যাতে তিনি আমাদের ও সকল মুসলিমদেরকে তাঁর দ্বীনের ফিক্বহ (বুঝ) ও তার উপর অটল অবিচল থাকার তাওফীক্ব দেন, আমাদের অন্তরসমূহ ও কাজকর্মকে শুদ্ধ করেন, তিনি তো মহামহিম, পরম করুণাময়।” [মাজমূ ফাত্‌ওয়া আশ শাইখ ইবন বায (১৪/২০০)]
কিলোগ্রামের হিসেবে শাইখ ইবনু বায-রহিমাহুল্লাহ-এর মতে যাকাতুল ফিত্বরের পরিমাণ–প্রায় ৩ কিলোগ্রাম।
আর এভাবেই ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমগণ এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। (৯/৩৭১)
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন-রাহিমাহুল্লাহ- চাল দিয়ে এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন ২১০০ গ্রাম (অর্থাৎ ২.১ কিলোগ্রাম) [যেমনটি উল্লেখ আছে ‘ফাত্‌ওয়া আয-যাকাত’ (পৃঃ ২৭৪-২৭৬)-এ]
আর এই মতভেদের কারণ হল সা‘- পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত, ওজন দ্বারা নির্দিষ্ট নয়।
তবে ‘আলিমগণ তা ওজন দ্বারা হিসাব নির্ধারণ করেছেন কারণ তা হিসাব রাখার ক্ষেত্রে বেশি সহজ ও বেশি বিশুদ্ধ। আর এটি জানা কথা যে শস্যের দানার ওজন ভিন্ন ভিন্ন হয়; কারণ তার কোনোটি হালকা আবার কোনোটি ভারী, আবার কোনোটি মাঝারী ওজনের; বরং কখনো আবার একই প্রকার শস্যদানার এক সা‘ এর ওজনও ভিন্ন ভিন্ন হয়। নতুন ফসলের ওজন পুরানো ফসলের ওজন থেকে বেশি হয়। আর তাই যদি কেউ সতর্কতাবশত কিছু বেশি আদায় করে, তবে তা বেশি নিরাপদ ও উত্তম।
দেখুন ‘আল-মুগনী’, (৪/১৬৮)। এতে ফসলের যাকাতের নিসাবের পরিমাণ ওজনের হিসাবে এরূপ উল্লেখিত হয়েছে।
এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
Islam Q & A
দুই ‘ঈদের সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো আদর্শ
ফাত্‌ওয়া নং – 49020
প্রশ্ন : আমি দুই ‘ঈদের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো আদর্শ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ‘ঈদের সালাত ‘ঈদগাহে আদায় করতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের সালাত মাসজিদে আদায় করেছেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
ইমাম আশ-শাফি‘ঈ ‘আল-উম্ম’- এ বলেছেন :
“আমাদের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ‘ঈদের দিন মাদীনার ঈদগাহে যেতেন, তাঁর পরেও সবাই তাই করতেন যদি না তা না করার পেছনে কোন ‘উয্‌র (অজুহাত) থাকত যেমন বৃষ্টি ইত্যাদি। অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীরাও তাই করতেন মক্কাবাসীরা ব্যতীত।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরে দুই ‘ঈদের সালাত আদায় করতে বের হতেন। তাঁর একটি হুল্লাহ (এক বিশেষ পোশাক) ছিল, সেটি পরে তিনি দুই ‘ঈদ এবং জুমু‘আহর সালাত আদায় করতে যেতেন।
হুল্লাহ দুই খণ্ড কাপড় যা একই (জাতীয়) উপকরণে তৈরি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতর-এর সালাত আদায় করতে যাওয়ার আগে খেজুর খেতেন এবং তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন।
ইমাম আল- বুখারী (৯৫৩) আনাস ইবনু মালিক-রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন :
«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ ، وَيَأْكُلُهُنَّ وِتْرًا» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতর এর দিন সকালবেলা খেজুর না খেয়ে বের হতেন না, আর তিনি তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন।”
ইবনু ক্বুদামাহ বলেছেন :
وَقَالَ اِبْنُ قُدَامَةَ : لا نَعْلَمُ فِي اِسْتِحْبَابِ تَعْجِيلِ الأَكْلِ يَوْمَ الْفِطْرِ اِخْتِلافًا. اِنْتَهَى
“‘ঈদুল ফিতর -এর দিন তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে ফেলা যে মুস্তাহাব্ব, এ ব্যাপারে কোন ভিন্ন মত আমাদের জানা নেই।”
‘ঈদুল ফিতরের দিনে সালাত আদায়ের আগেই খেয়ে ফেলার পেছনে হিক্‌মাহ হল কেউ যেন এটি না ভাবে যে সালাত আদায় করা পর্যন্ত না খেয়ে থাকা অপরিহার্য।
এটিও বলা হয়ে থাকে যে, (তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলার পেছনে হিক্‌মাহ হল) সাওম ওয়াজিব হওয়ার পর সাওম ভঙ্গ করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা এর আদেশ পূর্ণাংগভাবে অনুসরণের জন্য তৎপর হওয়া।
যদি একজন মুসলিম খেজুর না পায়, তাহলে সে অন্য কোন কিছু, এমনকি পানি দিয়ে হলেও ইফত্বার করবে যাতে নীতিগতভাবে সুন্নাহ অনুসরণ করতে পারে; আর তা হল, ‘ঈদুল ফিত্বর-এর সালাতের আগে ইফত্বার করা (কিছু খাওয়া বা পান করা)।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ‘আদ্বহার দিন ঈদগাহ থেকে ফেরার আগ পর্যন্ত কিছু খেতেন না, এরপর তিনি তাঁর জবেহ করা পশুর গোশত থেকে খেতেন।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দুই ‘ঈদের দিনই গোসল করতেন।
ইবনুল ক্বাইয়িম বলেছেন :
“এ সম্পর্কে দুইটি দুর্বল হাদীস রয়ে