অন্তর বিধ্বংসী বিষয়: আসক্তি


অন্তর বিধ্বংসী বিষয়: আসক্তি

ভূমিকা
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য যিনি সমগ্র সৃষ্টিকুলের রব। আর সালাত ও সালাম নবীগণের সেরা ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এবং তার পরিবার-পরিজন ও সাথী-সঙ্গীদের সকলের উপর।
মনে রাখতে হবে, আসক্তি ও আসক্তির আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলা বর্তমান যুগে প্রতিটি নর নারীর জন্য অতি জরুরি। কারণ, বর্তমানে আসক্তি-উত্তেজনা ও এর প্রভাব এতই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আমাদের দেশ ও সমাজ এক অজানা গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারপরও দেশ, জাতি ও সমাজকে পশুত্ব ও পাশবিকতার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য এ বিষয়ে জাতিকে সতর্ক করা ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানিয়ে দেয়া একান্ত জরুরী। পুস্তিকাটিতে আসক্তির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে। যেমন,
আসক্তি কি?
আসক্তিকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে?
আসক্তির পূজা করে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহে জড়িত হওয়ার কারণগুলো কি?
আসক্তির চিকিৎসা কি? ইত্যাদি বিষয়গুলো এ কিতাবে আলোচনা করা হবে।
যারা এ কিতাবটি তৈরি করতে এবং কিতাবের বিষয়গুলোকে একত্র করতে আমাদের সহযোগিতা করেছেন আমরা তাদের সবাইর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও যাবতীয় কল্যাণ কামনা করছি এবং তাদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করি, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাদেরকে আরও বেশি বেশি করে ভাল কাজ করার তাওফিক দেন। আমীন!
হে আল্লাহ! তুমি হালাল দান করে আমাদের হারাম বিমুখ কর, আর তোমার আনুগত্য দ্বারা তোমার অবাধ্যতা থেকে আমাদের হেফাজত কর। আর তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাদেরকে গাইরুল্লাহ থেকে হেফাজত কর।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ
আসক্তি বা شهوة এর সংজ্ঞা
আসক্তি বা شهوة এর আভিধানিক অর্থ:
আল্লামা ইবন ফারেস রহ. বলেন, شهوة শব্দটি সীন, হা ও মুতাল হরফ ওয়াও দ্বারা গঠিত একটি আরবী শব্দ। অর্থাৎ, আসক্তি, বাসনা, আকাঙ্ক্ষা, কামনা ইত্যাদি। আরবীতে বলা হয়- رجل شهوان،  অর্থাৎ, লোকটি প্রলুব্ধ, লোভী ও আকাঙ্খাকারী।
আল্লামা ফাইরুযাবাদী রহ. বলেন,
شهي الشئ وشهاه يشهاه شهوةً
এ কথাটি তখন বলা হয়ে থাকে, যখন লোকটি কোন বস্তুর আকাঙ্ক্ষা করে, বস্তুটিকে মহব্বত করে, বস্তুটির বিষয়ে তার আগ্রহ থাকে এবং সে বস্তটি কামনা করে।
আসক্তি বা شهوة এর পারিভাষিক অর্থ:
পরিভাষায় شهوة [আসক্তির চাহিদা] এর একাধিক অর্থ আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ দু‘একটি অর্থ এখানে আলোচনা করব।
এক. এটি মানুষের দৈহিক একটি স্বভাব যার উপর ভিত্তি করেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার স্বীয় বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে মানব সৃষ্টির রহস্য, মহান উদ্দেশ্য ও মহৎ লক্ষ্য সাধিত হয়।
দুই. আসক্তি হল, নারী ও পুরুষের সংসার করার আগ্রহ।
তিন. কোন বস্তুর প্রতি অন্তরের চাহিদা।
আসক্তি সৃষ্টির কারণ
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবকে সৃষ্টি করার সাথে তার মধ্যে এমন একটি মানবিক চাহিদা দান করেন, যা দ্বারা আল্লাহ মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি ধারণা দেন।
ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, “আমরা আমাদের দুনিয়ার জীবনের সামগ্রিক কল্যাণ অর্জনে যাতে সহযোগিতা লাভ করতে পারি, তাই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের মধ্যে আসক্তি ও কামনা-বাসনাকে সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়াও তিনি আমাদের মধ্যে খাদ্যের চাহিদা ও তা ভোগ করার চাহিদা সৃষ্টি করেছেন। মূলত: এটি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনেক বড় নেয়ামত। দুনিয়াতে বেঁচে থাকা এবং দৈহিক ক্ষমতা সচল রাখার জন্য খাদ্য-পানীয় আমাদের অপরিহার্য, খাদ্য পানীয় ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে বিবাহ করা, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে-মিশে ঘর-সংসার করার নাম। আর এটিও একটি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনেক বড় নেয়ামত। বিবাহ দ্বারা বংশ পরিক্রমা ও তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের যে সব কর্ম ও ইবাদত-বন্দেগী করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদি আমরা আমাদের শক্তি দ্বারা তা পালন করতে পারি, তাহলে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ লাভে সক্ষম হব এবং আমরা সে সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত হব, যাদের মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিশেষ নেয়ামত দান করেছেন এবং দুনিয়াতে তাদের সৌভাগবান করেছেন। আর যদি আমরা আমাদের আসক্তির পুজা করি এবং যে সব কর্ম আমাদের ক্ষতির কারণ হয়, তা করতে থাকি, যেমন- হারাম খাওয়া, অন্যায়ভাবে উপার্জন করা, অপচয় করা, আমাদের স্ত্রীদের বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করা ইত্যাদি, তাহলে আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে জালেম ও অন্যায়কারী হিসেবে পরিগণিত হব। আমরা কখনোই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর নেয়ামতের শুকর গুজার বান্দা হিসেবে বিবেচিত হব না”[1]।
উল্লেখিত আলোচনা হতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, আর তা হল, কামনা-বাসনা ও আসক্তি মূলত: কোন খারাপ কিছু নয়, তবে তার ব্যবহারের কারণে তা ভালো ও খারাপে পরিণত। কামনা-বাসনা ও আসক্তিকে যদি বৈধ, ভালো ও কল্যাণমুলক কাজে ব্যবহার করা হয়, তখন তা অবশ্যই ভালো এবং এবং প্রসংশনীয়। আর তা না করে যদি তাকে খারাপ ও মন্দ কাজে ব্যবহার করা হয়, তখন তা অবশ্যই খারাপ বলে বিবেচিত হবে। এ জন্য এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একজন মানুষ তার কামনা-বাসনা ও আসক্তির পরিচালক, সে তার কামনা-বাসনা ও আসক্তিকে যেভাবে চালাবে তা সেভাবেই চলতে বাধ্য থাকবে।
এতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আরও বড় হিকমত হল, যদি মানুষের মধ্যে কামনা-বাসনা ও আসক্তি না থাকত, তাহলে সে কখনোই বিবাহ করত না, সন্তান লাভের প্রতি তার কোন আকর্ষণ থাকত না এবং সন্তানের চাহিদা থাকত না। ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মানব সৃষ্টির যে উদ্দেশ্য তা হাসিল হত না এবং তার প্রতিফলন ঘটতো না। এ কারণে বলা চলে, আমাদের সৃষ্টির বিশেষ হিকমত ও বুদ্ধিমত্তা হল, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে এমন এক আসক্তি বা কামনা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আমাদের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব। অন্যথায় আমরা টিকে থাকতে পারতাম না, আমাদের বংশ-পরিক্রমা ও তার ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যেত এবং দুনিয়ার স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ হত। কিন্তু কামনা-বাসনা ও আসক্তির চাহিদা কখনো কখনো মানব জাতির ধ্বংসের কারণ হয়ে থাকে এবং তাদের বিপর্যয় ডেকে আনে।
আর সৃষ্টির বিষয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের চিরন্তন পদ্ধতি হল, তিনি বিভিন্ন হিকমত ও মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই তাদের সৃষ্টি করেন। আর দুনিয়াতে তিনি মানুষকে পরীক্ষা করেন। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম বিনিময়। আর যারা পরীক্ষায় ফেল করবে তাদের জন্য রয়েছে অসহনীয় যন্ত্রণা ও কঠিন শাস্তি। আর পরীক্ষার বিশেষ অংশ হল, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের কামনা-বাসনা ও আসক্তির চাহিদা দিয়ে সৃষ্টি করেন, যাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পার্থক্য স্পষ্ট করে দিতে পারেন কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনুগত বান্দা, আর কে অবাধ্য। তিনি আরও স্পষ্ট করেন কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পবিত্র বান্দা, আর কে অপবিত্র ও অপরাধী।
মালেক ইব্‌ন দীনার রহ. বলেন, “দুনিয়ার জীবনের চাহিদা যার নিকট প্রাধান্য পায়, শয়তান তাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আশ্রয় হতে দূরে সরিয়ে দেয়”।
হাসান বছরী রহ. বলেন,
رَُّب مَسُتورٍ سَبَتْهُ شَهْوَةٌ
فَتَعَرَّى سِتْرُهُ فَانْهَتَكا
صَاحِبُ الشَّهْوَةِ عَبْدٌ فَإذَِا
غَلَبَ الشَّهْوَةَ أَضْحَى مَلِكا
‍“অনেক আত্মগোপনে থাকা মানুষকে তার আসক্তি বন্দি করে ফেলে। অতঃপর যখন সে গোপন পর্দা খুলে যায় তখন তা আবরণ শুন্য হয়ে পড়ে। কামনা-বাসনা ও আসক্তির পুজারী হল একজন দাস কিন্তু যখন সে তার আসক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তখন সে সত্যিকার বাদশায় পরিণত হয়”[2]।
দুনিয়াতে পুরুষের সবচেয়ে বড় চাহিদা হল নারী। এ কারণে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে করীমে নারীদের কথা প্রথমে আলোচনা করেন। তিনি মানব জাতিকে জানিয়ে দেন যে, নারীদের ফিতনা সর্বাধিক মারাত্মক, ক্ষতিকর এবং সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে এর প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়াবহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনের করীমে এরশাদ করেন.
﴿زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ ٱلشَّهَوَٰتِ مِنَ ٱلنِّسَآءِ وَٱلۡبَنِينَ وَٱلۡقَنَٰطِيرِ ٱلۡمُقَنطَرَةِ مِنَ ٱلذَّهَبِ وَٱلۡفِضَّةِ وَٱلۡخَيۡلِ ٱلۡمُسَوَّمَةِ وَٱلۡأَنۡعَٰمِ وَٱلۡحَرۡثِۗ ذَٰلِكَ مَتَٰعُ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَٱللَّهُ عِندَهُۥ حُسۡنُ ٱلۡمَ‍َٔابِ﴾ [آل عمران : 14[.
“মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে কামনা-বাসনা ও আসক্তির ভালবাসা- নারী, সন্তানাদি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যখেত। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগ সামগ্রী। আর আল্লাহ, তাঁর নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪]
উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فتِنْةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ»
“আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য অধিক ক্ষতিকর নারীদের চেয়ে খারাপ কোন ফিতনা রেখে যাইনি”[3]।
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« اتَّقُوا الدُّنْيَا، وَاتَّقُوا النِّسَاءَ؛ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ»
“তোমরা দুনিয়া বিষয়ে সতর্ক থাক এবং তোমরা নারীদের বিষয়ে সতর্ক থাক। কারণ, বনী ইসরাইলদের সর্বপ্রথম ফিতনা ছিল নারীদের বিষয়ে”[4]।
নিষিদ্ধ বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়ার কারণ
প্রথম: ঈমানের দুর্বলতা:
ঈমান হল মুমিনের আত্মরক্ষার জন্য সবচেয়ে মজবুত ও বড় হাতিয়ার; ঈমানই মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্গ ও আশ্রয়স্থল, যা তাকে খারাপ, মন্দ, ঘৃণিত, নিকৃষ্ট ও নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। যখন কোন মানুষ আল্লাহর আনুগত্য হতে দূরে সরে যায়, তখন তার ঈমান দুর্বল হয় এবং সে অন্যায় ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নাফরমানী করা ও অবাধ্য হওয়ার সাহস পায়। এ কারণেই কোন কোন মনীষী বলেন, তিনটি জিনিস হল, তাকওয়ার নিদর্শন। এক. শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও খারাপ কামনা-বাসনা ও আসক্তির চাহিদাকে ছেড়ে দেয়া। দুই. নফসের বিরোধিতা করে নেক আমলসমূহ পালন করা। তিন. নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমানতকে তার হকদারের নিকট পৌঁছে দেয়া। এ তিনটি কাজ যে ব্যক্তি করবে তা প্রমাণ করে যে, লোকটির মধ্যে ঈমান ও দ্বীনদারি আছে। কারণ, তার সামনে হারাম কাজ অপেক্ষমাণ কিন্তু সে কেবল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ভয়ে তা হতে বিরত থাকছে। সে তার নফসের চাহিদার বিরুদ্ধে স্বীয় আত্মাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত থাকতে বাধ্য করছে। তার শত প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমানতের খেয়ানত করে নি। অন্যের আমানতকে প্রকৃত হকদারের নিকট পৌঁছে দিয়েছে।
দ্বিতীয়. অসৎ সঙ্গ:
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« الرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَاللُِ »
“মানুষ তার বন্ধুর স্বভাবের উপরই প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, সুতরাং তোমরা দেখে শোনে বন্ধু নির্বাচন করবে”[5]।
সাধারণত মানুষ যে সব অন্যায়, পাপাচার, অপরাধ ও অপকর্ম করে থাকে, তার অধিকাংশের কারণ হল, তার অসৎ সঙ্গী। যাদের সঙ্গী খারাপ হয়, তারা ইচ্ছা করলেও ভালো থাকতে পারে না। সঙ্গীরা তাদের খারাপ ও অন্যায় কাজের দিকে নিয়ে যায়।
একজন সতের বছরের যুবক তার জীবনে প্রথম অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে বলল, “আমি প্রথমে আমার এক বন্ধুর বাসায় তার সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে সেখানে নিষিদ্ধ সিনেমা দেখি। আমি তার কামরায় অবস্থান করলে সে একটি ভিডিও ফিল্ম চালালে আমি তার সাথে বসে তা দেখতে থাকি। এ ছিল আমার জীবনের সর্ব প্রথম অপরাধ”।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নোংরামি, অশ্লীলতা ও ব্যভিচারকে নিষেধ করেন এবং বেহায়াপনা হতে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
﴿لَّا يُحِبُّ ٱللَّهُ ٱلۡجَهۡرَ بِٱلسُّوٓءِ مِنَ ٱلۡقَوۡلِ إِلَّا مَن ظُلِمَۚ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا ١٤٨﴾ [سورة النساء : 148[.
 মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারো উপর যুলম করা হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। [সূরা নিসা, আয়াত: ১৪৮]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« لَيْسَ المؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا اللَّعَّان وَلَا الفَاحِشِ وَلَا البَذِيءِ »
“ঈমানদার ব্যক্তি খোটাদানকারী নয়, অভিশাপকারীও নয়; অনুরূপভাবে অশ্লীল ও খারাপ বচন বিশিষ্ট ও নোংরা ব্যক্তিও হতে পারে না”[6]।
তৃতীয়: দৃষ্টির হেফাজত করা:
মানুষ যখন রাস্তায় বের হয় তখন তাকে অবশ্যই দৃষ্টির হেফাজত করতে হবে। কারণ, মানুষের দৃষ্টি হল, ইবলিসের বিষাক্ত হাতিয়ার বা তীর। দৃষ্টি হেফাজত করতে না পারলে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের শিকার হতে হয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের দৃষ্টির ব্যাপারে অধিক সতর্ক করেন এবং ভয় দেখান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
﴿قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ ٣٠ ﴾ [ سورة النور : 30[
“মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত”। [সূরা নূর, আয়াত: ৩০]
চতুর্থ: বেকারত্ব:
বেকারত্ব যুবকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। শুধু ক্ষতিই নয়, এটি মানব জীবনের জন্য বড় একটি অভিশাপ। যখন তাদের কোন কাজ না থাকে তখন তাদের মস্তিষ্কে খারাপ চিন্তা ঢুকে পড়ে এবং বেকারত্ব তাদের খারাপ ও অশ্লীল কাজের দিকে নিয়ে যায়। তারা খারাপ,  অন্যায় ও অশ্লীল কাজের চক আঁকতে থাকে। ধীরে ধীরে তাদের অবস্থা এমন হয় তারা শুধু খারাপ চিন্তাই করতে থাকে। ভালো কোন চিন্তা তাদের মাথায় কাজ করে না। ফলে সে এমন খারাপ অভ্যাসের অনুশীলন করতে থাকে, যা তার জীবনকে ধ্বংসের দ্বার-প্রান্তে পৌঁছে দেয়।
মানবাত্মা যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্য ও ইবাদত বন্দেগীতে সময় ব্যয় করবে না তখন সে অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর নাফরমানিতে সময় নষ্ট করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় বাণীতে এ কথাটিই বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« نعْمَتَانِ مَغْبوُنٌ فيِهِمَا كَثيِرٌ مِنَ الناَّسِ: الصِّحَّةُ، وَالفَرَاغُ »
“দুটি নেয়ামত এমন আছে যার মধ্যে অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত। এক- সুস্থতা দুই-অবসরতা”[7]। বেকার থাকা একটি বড় মুসিবত এবং আত্মার জন্য মারাত্মক ক্ষতি। যদি মানুষ কোন ভালো কাজে ব্যস্ত না থাকে, তাহলে শয়তান অবশ্যই তাকে খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যায়।
পঞ্চম: নিষিদ্ধ কাজে শৈথিল্য:
মানুষ যখন কোন কাজে শিথিলতা দেখায়, তখন তা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে। অধিকাংশ সময় মেয়েদের প্রতি তাকানো ও তাদের সাথে সংমিশ্রণ মানুষকে অশ্লীল কাজ করতে বাধ্য করে। অথচ প্রথম যখন একজন মানুষ কোন মেয়ের সাথে কথা-বার্তা বলে ও তার দিকে তাকায় তখন তার খারাপ কোন উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু ধীরে ধীরে তার অবনতি হতে থাকে এবং তা বড় আকার ধারণ করে। ছোট হারাম বা ছোট গুণাহের প্রতি শৈথিল্য তাকে বড় হারাম বা কবীরা গুণাহের দিক নিয়ে যায়।
বর্তমান সময়ে অনেক পরিবার এমন আছে, যারা চাকরানিকে তাদের যুবক ছেলের সাথে মিশতে কোন বাধা দেয় না, তারা মনে করে, এতে কোন সমস্যা নাই। কারণ, আমাদের ছেলেরা কি ঘরের চাকরানির সাথে কোন অপকর্ম করতে পারে? কিন্তু পরবর্তীতে যখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তখন তারা লজ্জায় নিজের আঙ্গুল নিজেই কাটতে থাকে।
আবার অনেক পরিবার আছে যারা তাদের মেয়েদের ড্রাইভারের সাথে ছেড়ে দেয়। মনে করে সে একজন ড্রাইভার তার সাথে কি আমাদের মেয়েরা কোন খারাপ চিন্তা করতে পারে? কিন্তু না, দেখা যায় এর পরিণতি খুবই খারাপ হয়। মেয়েরা ড্রাইভারের প্রেমে পড়ে যায় এবং অনেক সময় তা-ই ঘটে যা তুমি কোন দিন চিন্তাই করতে পার নি।
এ ধরনের অনেক ঘটনাই আমাদের শৈথিল্যের কারণে সমাজে সংঘটিত হচ্ছে, যা একজন মানুষকে মহা বিপদ ও ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত করে।
ষষ্ট: যৌন উত্তেজক বস্তুর সাথে উঠবস করা:
হারাম বা নিষিদ্ধ কাজে একজন মানুষ তখন লিপ্ত হয়, যখন বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক কাজ যেমন, গান, বাজনা, সিনেমা, মেয়েদের সাথে কথা বলা ও হাসি ঠাট্টা ইত্যাদির সাথে তার সংশ্রব থাকে। এ কারণেই শরীয়ত অপকর্মের সকল উপাদানকে নিষেধ করে। যেমন, শরিয়ত রাস্তার মাঝে বসা হতে নিষেধ করে। কারণ রাস্তায় বসলে বিভিন্ন ধরনের নোংরা ছবি, পোষ্টার ও মেয়েদের দেখারা আশঙ্কা থাকে যেগুলো একজন মানুষের যৌন উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করে এবং অপকর্মের দিক উৎসাহ যোগায়।
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِيَّاكُم وَالجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ فقالوا يا رسول الله ما لنا بُدٌّ، من مجالسنا نتحدث فيها. قال فَإِذَا أَبَيْتُمْ إِلَّا المَجْلِسَ فَأَعْطُواالطَّرِيقَ حَقَّهَ قالوا: وما حقه؟ قال غَضُّ البَصَرِ، وَكَفُّ الأَذَى، وَرَدُّ السَّلَامِ، والأمرُ بِالمَعْرُوفِ، والنهيُ عَنِ المُنْكَرِ»
“তোমরা রাস্তার মাঝে বসা হতে বিরত থাক। রাসূল সা. এ কথা শোনে সাহাবীরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল রাস্তায় বসা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নাই। আমরা রাস্তায় বসে কথাবার্তা বলি। তাদের কথার উত্তরে রাসূল সা. বললেন, যদি রাস্তায় বসা ছাড়া তোমাদের কোন উপায় না থাকে তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। এ কথা শোনে সাহাবীরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল রাস্তার হক কি? তিনি বলেন, রাস্তার হক হল, চক্ষুকে অবনত করা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তুকে হটানো, সালামের উত্তর দেয়া, ভালো কাজের আদেশ দেয়া এবং খারাপ কাজ হতে নিষেধ করা”[8]। ইসলামী শরীয়ত এবাদতের স্থানেও নারী ও পুরুষের একত্রিকরণ ও তাদের সাথে সংমিশ্রণ যা যৌন উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করে তা নিষেধ করেছেন। কারণ, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সালাতে নারীদের কাতারকে পুরুষের কাতার থেকে আলাদা করেছেন, নারীদের জন্য মসজিদে প্রবেশের দরজা আলাদা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নারীদের মসজিদ থেকে পুরুষদের পরে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এ গুলো সবই হল, যাতে একজন মানুষ যৌন উত্তেজনা হতে দূরে ও সতর্ক থাকে।
গান-বাজনা, সিনেমা, হোটেল, রেস্তোরা, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, অশ্লীল পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ইত্যাদি যেগুলোতে নারীদের উলঙ্গ ছবি চাপানো হয়, এগুলো সবই যৌন উত্তেজক ও চরিত্র হননকারী। বর্তমানে ইন্টারনেট ও ফেসবুক মানুষের চরিত্র ধ্বংস করার জন্য একটি বড় ধরনের উপকরণ বা মাধ্যম। এতে শুধু চরিত্রই নষ্ট হয় না বরং এতে রয়েছে সময়ের অপচয়, অনর্থক কাজে লিপ্ত থাকা ইত্যাদি। আর সময়ের অপচয় ও সময় নষ্ট করা একজন মানুষের জীবনের জন্য খুবই মারাত্মক ও ক্ষতিকর।
কামনা-বাসনা ও আসক্তির সাথে কি ধরনের আচরণ করবে?
যখন একজন মুসলিমের আসক্তি বা খারাপ কোন কামনা-বাসনা জাগ্রত হয়, আর তার সামনে হারাম ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকেই সুশোভিত করা হয়, তার জন্য অশ্লীল ও অপকর্ম করার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং খারাপ কাজটি করার জন্য যা দরকার তার সবকিছু তার হাতের নাগালে থাকে, তখন সে কি করবে? এ অবস্থায় তার জন্য দুটি পথ খোলা থাকে, এক- সে ঐ খারাপ কাজটিতে জড়িয়ে পড়া, অপরটি হল, খারাপ কাজে জড়িত না হওয়া। এ অবস্থায় সে তার কামনা-বাসনা ও আসক্তির সাথে কি ধরনের আচরণ করবে?! বা তার করণীয় কী হবে?
এ সময় তার জন্য তিনটি পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা যেতে পারে, যা তাকে এ ধরনের গুনাহ হতে বাচার জন্য সহযোগিতা করবে এবং তাকে মারাত্মক বিপদ নিশ্চিত ধ্বংস থেকে মুক্তি দেবে।
প্রথমত: তুমি বলবে, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তুমি আমাকে হেফাজত কর! কারণ; আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি ঈমান আনা ও আল্লাহকে ভয় করা, সব নিরাপত্তার একমাত্র গ্যারান্টি। তিনিই বান্দাকে হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে রক্ষাকারী এবং যৌনাচারের পিছনে দৌড়-ঝাপ দেয়া, পাপাচারে নিয়োজিত হওয়া থেকে মুক্তি দাতা।
ইউসুফ আ. যখন এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হলেন, তখন তিনি সাথে সাথে বললেন, (معاذ الله) হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় কামনা করছি। তার এ কথা বলার কারণেই, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে হেফাজত করেন এবং তার থেকে নারীদের সব ধরনের ষড়যন্ত্রকে রুখে দেন। আর ঐ ব্যক্তিকেও আল্লাহ তা‘আলা হেফাজত করবে যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া লাভের প্রত্যাশায় এ কথা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তোমাকে ভয় করি। কারণ, হাদিসে বর্ণিত আছে, যে দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তা‘আলা সাত ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়ার তলে ছায়া দেবেন। তার মধ্যে এক ব্যক্তি সে, যাকে কোন সুন্দর ও সম্ভ্রান্ত রমণী তার সাথে অপকর্মের দাওয়াত দিল, কিন্তু সে বলল, আমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করি[9]।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
« سَبْعَةٌ يُظلُهُمُ الله في ظِِّلهِ، ومنهم… وَرَجُلٌ طَلَبْتُه امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ: إنِّي أَخَافُ الله »
আল্লামা ইবন হাজার রহ. বলেন, এ কথাটি কেবল মুখে বলবে যাতে সে অন্যায় ও অশ্লীল থেকে বিরত থাকতে পারে। অথবা অন্তর থেকে বলবে, আর এটি তার জন্য আরো অধিক নিরাপদ।
আল্লামা ইবন হাজার রহ. আরো বলেন, “বাক্যটি সে মুখে উচ্চারণ করবে, যাতে তার মন ও আসক্তি চাহিদা পুরণ ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকে এবং অন্তর থেকে বলারও অবকাশ আছে। এ অবস্থার মধ্যে অন্তর ও মুখ উভয়ের একযোগে এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ করা একটি বড় বিষয় এবং এর প্রভাব খুবই বৃহৎ। এ ধরনের প্রেক্ষাপট এমন কথা একমাত্র তার থেকে প্রকাশ পেতে পারে, যাকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই হেফাজত করেন এবং যার ভিতর ও বাহিরে কোন পার্থক্য নাই। যার ফলে সে গোপনে আল্লাহকে তেমন ভয় করে, যেমনটি ভয় করে প্রকাশ্যে।
একজন মুমিন যখন বাস্তবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হেফাজতে লালিত হয় এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নামসমূহের অনুশীলন করতে থাকে, তখন সে অবশ্যই তার কামনা-বাসনা ও আসক্তির চাহিদার ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আদেশ নিষেধের উপর অটল ও অবিচল থাকে এবং আসক্তির কু-মন্ত্রণা ও পূজা করা হতে নাজাত পাবে।
তারপর যারা গোপনে আল্লাহকে ভয় করে তাদের জন্য জান্নাতকে সহজ করা হয়েছে, আখেরাতে সে জান্নাত লাভে ধন্য হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
﴿وَأُزۡلِفَتِ ٱلۡجَنَّةُ لِلۡمُتَّقِينَ غَيۡرَ بَعِيدٍ ٣١ هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٖ ٣٢ مَّنۡ خَشِيَ ٱلرَّحۡمَٰنَ بِٱلۡغَيۡبِ وَجَآءَ بِقَلۡبٖ مُّنِيبٍ ٣٣ ﴾ [سورة  ق : 31-33[.
আর জান্নাতকে মুত্তাকীদের অদূরে, কাছেই আনা হবে। এটাই, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল। প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী অধিক সংরক্ষণশীলদের জন্য। যে না দেখেই রহমানকে ভয় করত এবং বিনীত হৃদয়ে উপস্থিত হত। [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ৩১-৩৩]
অর্থাৎ যখন লোক চক্ষুর আড়াল হয়, তখনও সে আল্লাহকে ভয় করে। কোন এক কবি বলেছিলেন,
وَإذَِا خَلَوْتَ برِِيبَةٍ فِي ظُلْمَةٍ  وَالنفّْسُ دَاعِيَةٌ إِلَى الطُّغْيَانِ
فَاسْتَحِ مِنْ نَظَرِ الإِلَهِ وَقُلْ لَهَا  إِنَّ الَّذِي خَلَقَ الظَّلَامَ يَرَانِي
“যখন তুমি গভীর অন্ধকারে একা থাক বা তোমাকে কেউ দেখে না আর তোমার অন্তর তোমাকে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করে, তখন তুমি তোমার প্রভুর দৃষ্টির প্রতি মনোযোগ দাও আর তুমি তোমার আত্মাকে বল, যে সত্ত্বা অন্ধকারকে সৃষ্টি করেছন, তিনি অবশ্যই আমাকে দেখছেন”।
ইমাম শাফে‘য়ী রহ. বলেন,
إذَِا ما خَلْوتَ الدَّهْرَ يَوْماً فَلَا تَقُلْ
خَلَوْتُ وَلَكِنْ قُلْ عَلَيَّ رَقِيبُ
وَلا تْحَسَبنَّ الله يَغْفَلُ سَاعَةً
وَلَا أَنَّ مَا تُخْفِي عَلَيْهِ يَغِيبُ
“তুমি যখন একা থাক তখন তুমি এ কথা বল না, আমি একা, আমাকে কেউ দেখছে না। বরং তুমি বল, অবশ্যই আমার উপর পাহারাদার নিযুক্ত আছে। আর তুমি এ কথা মনে করো না যে, আল্লাহ ক্ষণিকের জন্যও বেখবর, কিংবা তুমি যা তার কাছে গোপন রাখ তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে গায়েব থাকবে”।
একজন মুমিন যখন উল্লেখিত মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী জীবন যাপন করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে, তখন সে অবশ্যই একজন চরিত্রবান ও উন্নত মানুষ বলে বিবেচিত হবে। সে একজন মুত্তাকী হিসেবে পরিগণিত হবে; তাকে দুনিয়ার কোন বস্তু বা চাহিদা পরাভূত করতে পারবে না এবং আসক্তি তাকে গোলাম বানাতে পারবে না। শয়তান শত চেষ্টা করেও তার উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না। তার কু-আসক্তি তাকে কোন খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যেতে পারবে না। বরং যখন তাকে তার আসক্তি কোন খারাপ, অন্যায় ও অশ্লীল কাজের দিকে আহ্বান করবে তখন সে এ বলে চিৎকার দেবে নিশ্চয় আমি আল্লাহকে ভয় করি। আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট শয়তানের কু-মন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাই। আর শয়তান যখন তাকে প্রতারণা দিতে চায়, তখন সে শয়তানকে বলবে, আমার উপর তোমার কোন কর্তৃত্ব চলবে না।
আর যখন তোমার খারাপ ও