কুরআন ও হাদিসের আলোকে গুনাহ মাফের আমল! পর্ব -1:


কুরআনে কারীম ও সহীহ সুন্নাহর  আলোকে গুনাহ্ মাফের আমল  নবুয়্যাতের প্রদীপ থেকে  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:  ‏« ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﻣَﻦْ ﻋَﻠِﻢَ ﺃَﻧِّﻲ ﺫُﻭ ﻗُﺪْﺭَﺓٍ ﻋَﻠَﻰ  ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓِ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏِ، ﻏَﻔَﺮْﺕُ ﻟَﻪُ ﻭَﻻ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﻲ  ﺷَﻴْﺌًﺎ ‏» . ‏(ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ ﻭ ﺯﻳﺎﺩﺗﻪ: 4206 ‏).  “আল্লাহ সুবহানাহু  ওয়া তা‘আলা বলেন:  যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আমিই  গুনাহ মাফ করার ক্ষমতাবান,  তাকে আমি ক্ষমা করে দেই  এবং যতক্ষণ সে আমার  সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে,  ততক্ষণ (তাকে ক্ষমা করার ব্যাপারে)  আমি কোনো কিছুর  পরওয়া করি না।” [সহীহুল জামে‘ আস-  সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু: ৪২০৬]।  আল-কুরআনুল কারীম ও পবিত্র সহীহ  সুন্নাহ’র আলোকে  গুনাহ্ মাফের আমল  ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ  ভূমিকা  সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য;  আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট  সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর  কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি; আর  আমাদের নফসের জন্য ক্ষতিকর এমন সকল  খারাপি এবং আমাদের সকল প্রকার  মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয়  চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন,  কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না;  আর তিনি যাকে পথহারা করেন, কেউ  তাকে পথ দেখাতে পারবে না। আর  আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ  ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক,  তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরও  সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তাঁর বান্দা ও রাসূল।  অতঃপর:  বান্দা অপরাধ থেকে মুক্ত নয়;  সুতরাং এই ত্রুটি থেকে কোনো আদম  সন্তানই মুক্ত নয়। আর নিষ্পাপ শুধু সেই,  যাকে আল্লাহ তা‘আলা পাপমুক্ত  করেছেন।  আর মানুষ শক্তি ও সামর্থ্যের  ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে;  এটাই অমোঘ মূলনীতি। আর  যে ব্যক্তি নিজকে নিয়ে  পর্যালোচনা করবে, সে তাকে এই  ধরনের ত্রুটিতে ভরপুর পাবে;  সুতরাং যখন তাকে তাওফীক (শক্তি-  সামর্থ্য) দেওয়া হবে, তখন তার উপর  ধ্বংসাত্মক আক্রমণের ভয়ে সে এর  থেকে সতর্ক ও সচেতন  হবে এবং আল্লাহর পথ থেকে ভিন্ন  পথে চলার কারণে সে ব্যথা অনুভব  করবে। অতঃপর যখন সে ব্যথা ও কষ্ট অনুভব  করবে, তখন সে মুক্তির আশায় গুনাহের  অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে দ্রুত আল্লাহর  দিকে ফিরে আসবে। আর তখন সে গুনাহ  মাফের দরজা উন্মুক্ত অবস্থায় পাবে,  যার দুই পাল্লায় লেখা থাকবে:  ﴿ ۡﻞُﻗ۞ ﻳَٰﻌِﺒَﺎﺩِﻱَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳۡﺮَﻓُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﻟَﺎ ﺗَﻘۡﻨَﻄُﻮﺍْ ﻣِﻦ  ﺭَّﺣۡﻤَﺔِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻐۡﻔِﺮُ ﭐﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎۚ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻐَﻔُﻮﺭُ  ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ٥٣ ﴾ ‏[ﺍﻟﺰﻣﺮ : ٥٣‏]  “বলুন, ‘হে আমার বান্দাগণ!  তোমরা যারা নিজেদের  প্রতি অবিচার করেছ—আল্লাহ্র অনুগ্রহ  হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ্  সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।  নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [1]  পাপ মোচন দু’ভাবে হয়:  প্রথমত: মুছে ফেলা বা নিশ্চিহ্ন  করে দেওয়া; যেমন রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন:  ‏« ﻭَﺃَﺗْﺒِﻊِ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔَ ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔَ ﺗَﻤْﺤُﻬَﺎ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .  “আর তুমি অসৎ কাজ  করলে সাথে সাথেই সৎকাজ কর,  তাহলে ভালো কাজ মন্দ  কাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।” [2] আর  এটা হল ক্ষমার পর্যায়।  দ্বিতীয়ত: পরিবর্তন করে দেওয়া; যেমন  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺀَﺍﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠٗﺎ ﺻَٰﻠِﺤٗﺎ ﻓَﺄُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻳُﺒَﺪِّﻝُ ﭐﻟﻠَّﻪُ  ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻬِﻢۡ ﺣَﺴَﻨَٰﺖٖۗ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٗﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤٗﺎ ٧٠﴾ ‏[ﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ :  ٧٠‏]  “তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে ও  সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ্ তাদের  গুণাহসমূহ নেক দ্বারা পরিবর্তন  করে দেবেন। আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল,  পরম দয়ালু।” [3] আর এটা হল ‘মাগফিরাত’  তথা গুনাহ মাফের পর্যায়।  আর যে ব্যক্তি (গুনাহ মাফের)  দু’টি পর্যায়  নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে, সে সূক্ষ্ম  পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারবে; কারণ,  মাগফিরাতের মধ্যে ক্ষমার উপর  অতিরিক্ত ইহসান ও দয়ার ব্যাপার  রয়েছে; আর এ দু’টিই উত্তম ও শুভসংবাদ।  জেনে রাখুন, এই দীন কত উদার! আর তার  নিয়মনীতি কত সহজ! তার  প্রতিটি শ্লোগানই হল উচ্চতা,  শ্রেষ্ঠত্ব, পবিত্রতা ও পরিষ্কার-  পরিচ্ছন্নতা নির্ভর; আর তার  প্রত্যেকটি অর্পিত দায়িত্বপূর্ণ কাজ,  শাস্তিবিধান, নির্দেশ এবং ধমক  বা তিরস্কারের মূল লক্ষ্য হল পবিত্র ও  পরিশুদ্ধ ব্যক্তি তৈরি করা। আল-  কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱُ ﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﺍْ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢۡ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻜُﻢۡ  ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ ٢١ ﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢١ ‏]  “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই  রবের ‘ইবাদাত কর,  যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের  পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন,  যাতে তোমরা তাকওয়ার  অধিকারী হও।”[4]  নিশ্চয় এই শ্লোগান এবং শরী‘য়ত কর্তৃক  নির্ধারিত এই দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ  মানুষের দুর্বলতা ও  অক্ষমতা সম্পর্কে অচেতন নয়, তার  শক্তি ও সামর্থ্যের সীমানা অতিক্রম  করে না, তার  স্বভাবকে অবজ্ঞা করে না এবং তার  মনের অনেক অনেক আগ্রহ ও  উদ্দীপনা সম্পর্কে অজ্ঞ নয়।  আর সেই কারণেই অর্পিত কাজের  দায়িত্ব ও শক্তি-সামর্থ্যের মধ্যে,  ঠেলে দেওয়া ও টেনে ধরার মধ্যে,  উৎসাহিত করা ও হুমকি প্রদানের মধ্যে,  নির্দেশ ও তিরস্কারের  মধ্যে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড  আকারে শাস্তির ভয় প্রদর্শন ও ক্ষমার  ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারি আশা পোষণ করার  মধ্যে এক চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে।  এই দীন মানব  আত্মাকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ  অভিমুখী এবং রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের  অনুসরণ করাতে যথেষ্ট  ভূমিকা রাখে। … এর পরেও  সেখানে রয়েছে আল্লাহ তা‘আলার  অবারিত রহমত … যা ভুল-ত্রুটির মত  ঘাটতি পূরণ করবে … সীমাবদ্ধতার  ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হবে …  তাওবা কবুল করবে … গুনাহ  ক্ষমা করবে … পাপরাশি ধুয়ে-  মুছে সাফ করে দিবে …  এবং প্রত্যাবর্তনকারীদের  সামনে তাদের বাসস্থান ও  আঙ্গিনা জান্নাতের  দিকে দরজা উন্মুক্ত করে দিবে।  দ্বীনের কাণ্ডারী আলেম দ্বিতীয়  শাইখুল ইসলাম ইবনু কায়্যিম আল-  জাওযিয়্যাহ রহ. বলেন:  ﻭﺃﻗﺪِﻡْ ﻭﻻ ﺗﻘْﻨَﻊْ ﺑﻌَﻴْﺶٍ ﻣُﻨَﻐَّﺺٍ  ﻓﻤﺎ ﻓﺎﺯَ ﺑﺎﻟﻠﺬﺍﺕِ ﻣَﻦ ﻟﻴﺲ ﻳﻘﺪﻡُ  (পদক্ষেপ নাও এবং অস্বস্তিকর  জীবনে তুমি সন্তুষ্ট হয়ো না;  কারণ, আনন্দ-ফুর্তির  দ্বারা সে ব্যক্তি সফল হবে না,  যে (তাওবার পথে) অগ্রসর হবে না।  ﻭﺇﻥ ﺿﺎﻗﺖِ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻋﻠﻴﻚَ ﺑﺄﺳﺮِﻫﺎ  ﻭﻟﻢ ﻳﻚُ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻨﺰﻝٌ ﻟﻚَ ﻳُﻌﻠَﻢُ  (যদিও দুনিয়ার তাবৎ কর্মকাণ্ডের  কারণে তোমার উপর দুনিয়া সঙ্কুচিত  হয়ে গেছে  এবং জানা মতে তোমার জন্য  তাতে কোনো বাসস্থানও নেই)।  ﻓﺤﻲَّ ﻋﻠﻰ ﺟﻨﺎﺕِ ﻋﺪْﻥٍ ﻓﺈﻧَّﻬﺎ  ﻣﻨﺎﺯﻟﻚَ ﺍﻷﻭﻟﻰ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺨﻴَّﻢُ  (সুতরাং তুমি শ্বাশ্বত বাসস্থান  জান্নাতের দিকে আস; কেননা, তা  তোমার প্রথম বাসস্থান  এবং তাতে রয়েছে তাঁবু গাড়ার  স্থান)।  ﻭﻟﻜﻨﻨﺎ ﺳَﺒْﻲُ ﺍﻟﻌﺪﻭِّ ﻓﻬﻞ ﺗﺮﻯ  ﻧﻌﻮﺩُ ﺇﻟﻰ ﺃﻭﻃﺎﻧِﻨﺎ ﻭﻧﺴﻠَّﻢُ  (কিন্তু আমারা হলাম শত্রুর  হাতে বন্দী; কেননা, তুমি কি মনে কর  —  আমরা আমাদের নিজ  আবাসভূমিতে ফিরে যাব  এবং তা সঠিক বলে মেনে নেব)।  ﻭﻗﺪ ﺯﻋﻤﻮﺍ ﺃﻥ ﺍﻟﻐﺮﻳﺐَ ﺇﺫﺍ ﻧﺄﻯ  ﻭﺷﻄَّﺖْ ﺑﻪ ﺃﻭﻃﺎﻧُﻪ ﻓﻬﻮ ﻣﻐﺮﻡ  (আর তারা ধারণা করে যে,  প্রবাসী ব্যক্তি যখন দূরে চলে যায়  এবং তার কারণে তার মাতৃভূমি খান  খান হয়, তখন সে তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব  করে)।  ﻭﺃﻱُّ ﺍﻏﺘﺮﺍﺏٍ ﻓﻮﻕ ﻏﺮﺑَﺘِﻨﺎ ﺍﻟﺘﻲ  ﻟﻬﺎ ﺃﺿﺤﺖِ ﺍﻷﻋﺪﺍﺀُ ﻓﻴﻨﺎ ﺗَﺤَﻜَّﻢُ  (আমাদের প্রবাসজীবনের উপর আর  কোনো প্রবাসজীবন কী আছে?  যেখানে আমাদের উপর কর্তৃত্ব  হয়ে যায় শত্রুগণের)।  আমরা যে বিষয় অধ্যয়ন করছি, তা হল  আল-কুরআনের একগুচ্ছ সুস্পষ্ট আয়াত  এবং নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কতগুলো বিশুদ্ধ হাদিস  যেগুলো আমি একত্রিত করেছি;  অতঃপর আমি তা লিপিবদ্ধ করেছি,  যার সবকটিই একই অর্থের অন্তর্ভুক্ত; আর  তা হল এমন আমল, যার  ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত  হয়েছে গুনাহ মাফ আর  পাপরাশি মোচনের।  আমি এ  আলোচনাটি সাজিয়েছি কয়েকটি  অধ্যায়ে, যাতে পাঠক সহজেই তার  বিষয়বস্তু সম্পর্কে অনুধাবন  করতে পারে এবং আমি তার নাম  দিয়েছি:  ‏« ﻣﻜﻔﺮﺍﺕ ﺍﻟﺬﻧﻮﺏ ﻓﻲ ﺿﻮﺀ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﻭ ﺍﻟﺴﻨﺔ  ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ ﺍﻟﻤﻄﻬﺮﺓ ‏»  (আল-কুরআনুল কারীম ও পবিত্র সহীহ  সুন্নাহ’র আলোকে গুনাহ্ মাফের আমল)  এখন দেখুন আমরা কিন্তু আমাদের সেই  ওয়াদাকৃত বিষয়টি উপস্থাপনের কাজ  শুরু করতে যাচ্ছি এবং আল্লাহ  সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট  আশা করছি যে, তিনি তার  দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করবেন;  তিনি হলেন খুবই নিকটতম, আবেদন-  নিবেদন কবুলকারী, তিনি ব্যতীত  উপাসনার যোগ্য আর কোনো ইলাহ্ নেই,  আমি তাঁর উপরই ভরসা করি এবং তাঁর  কাছেই তাওবা করি। আর সরল পথ  আল্লাহর কাছেই পৌঁছায়।  লেখক:  আবূ উসামা সালীম ইবন ‘ঈদ আল-  হেলালী  জামাদিউল উলা, ১৪০৮ হিজরী,  আম্মান, জর্দান।  * * *  ১. ঈমানের অধ্যায়  ১. ১. ইসলাম:  আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার  নিকট গ্রহণযোগ্য মূলনীতি ও  জীবনবিধান হল ইসলাম; কারণ, তা হল  প্রধান বিষয়; সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলাম  ভিন্ন অন্য কোনো পথ অনুসরণ করে চলবে,  সেই ব্যক্তি ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত  হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﺪِّﻳﻦَ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﭐﻟۡﺈِﺳۡﻠَٰﻢُۗ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٩‏]  “নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র  দ্বীন।”[5]  আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন:  ﴿ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺒۡﺘَﻎِ ﻏَﻴۡﺮَ ﭐﻟۡﺈِﺳۡﻠَٰﻢِ ﺩِﻳﻨٗﺎ ﻓَﻠَﻦ ﻳُﻘۡﺒَﻞَ ﻣِﻨۡﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲ  ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﺨَٰﺴِﺮِﻳﻦَ ٨٥ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٨٥ ‏]  “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য  কোনো দ্বীন গ্রহণ  করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ  থেকে কবুল  করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে  ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।”[6]  কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা হলেন  ন্যায়পরায়ণ ও দয়াবান, তিনি তাঁর  বান্দাদের জন্য কুফরীকে পছন্দ করেন  না; তাই তারা যখন  কুফরী করা থেকে বিরত থাকবে, তখন  তিনি তাদেরকে (তার প্রিয়  বান্দা হিসেবে) গ্রহণ করে নিবেন  এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন;  কেননা, তিনি হলেন ক্ষমাশীল ও  দয়াবান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:  ﴿ ﻗُﻞ ﻟِّﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭٓﺍْ ﺇِﻥ ﻳَﻨﺘَﻬُﻮﺍْ ﻳُﻐۡﻔَﺮۡ ﻟَﻬُﻢ ﻣَّﺎ ﻗَﺪۡ ﺳَﻠَﻒَ ﻭَﺇِﻥ  ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﺍْ ﻓَﻘَﺪۡ ﻣَﻀَﺖۡ ﺳُﻨَّﺖُ ﭐﻟۡﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ٣٨ ﻭَﻗَٰﺘِﻠُﻮﻫُﻢۡ ﺣَﺘَّﻰٰ ﻟَﺎ  ﺗَﻜُﻮﻥَ ﻓِﺘۡﻨَﺔٞ ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﭐﻟﺪِّﻳﻦُ ﻛُﻠُّﻪُۥ ﻟِﻠَّﻪِۚ ﻓَﺈِﻥِ ﭐﻧﺘَﻬَﻮۡﺍْ ﻓَﺈِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺑِﻤَﺎ  ﻳَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ ﺑَﺼِﻴﺮٞ ٣٩ ﴾ ‏[ﺍﻻﻧﻔﺎﻝ : ٣٨، ٣٩‏]  “যারা কুফরী করে তাদেরকে বলুন,  ‘যদি তারা বিরত হয়,  তবে যা আগে হয়ে গেছে আল্লাহ্  তা ক্ষমা করবেন; কিন্তু  তারা যদি অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করে,  তবে পূর্ববর্তীদের রীতি তো গত  হয়েছেই। আর তোমরা তাদের  বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ  না ফেৎনা দুর হয় এবং দ্বীন  পূর্ণরূপে আল্লাহ্র জন্য হয়ে যায়; তারপর  যদি তারা বিরত হয়,  তবে তারা যা করে আল্লাহ্ তো তার  সম্যক দ্রষ্টা।”[7]  আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:  ‏«ﺇﺫﺍ ﺃَﺳْﻠَﻢَ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ، ﻓَﺤَﺴُﻦَ ﺇِﺳْﻼَﻣُﻪُ، ﻛَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟﻪ ﻛﻞ ﺣﺴﻨﺔ  ﻛﺎﻥ ﺃَﺯْﻟَﻔَﻬَﺎ، ﻭَﻣُﺤِﻴَﺖْ ﻋَﻨْﻪُ ﻛُﻞُّ ﺳَﻴِّﺌَﺔٍ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺯْﻟَﻔَﻬَﺎ، ﺛُﻢَّ ﻛﺎﻥ  ﺑﻌﺪ ﺫﻟﻚ ﺍﻟْﻘِﺼَﺎﺹُ ، ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔُ ﺑِﻌَﺸْﺮ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ ﺇﻟﻰ ﺳَﺒْﻌِﻤِﺎﺋَﺔِ  ﺿِﻌْﻒٍ ، ﻭَﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔُ ﺑِﻤِﺜْﻠِﻬَﺎ ، ﺇِﻻَّ ﺃَﻥْ ﻳَﺘَﺠَﺎﻭَﺯَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ‏» .  ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ‏) .  “বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার  ইসলাম গ্রহণ উত্তমভাবে হয়, তখন আল্লাহ  তা‘আলা তার আগের সকল ভাল  কাজকে ভাল কাজ বলে গণ্য করেন  এবং তার আগের সকল গুনাহ্  ক্ষমা করে দেওয়া হয়; অতঃপর শুরু হয়  প্রতিদান; একটি সৎ কাজের  বিনিময়ে দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ  পর্যন্ত সাওয়াব দেওয়া হয়; আর একটি মন্দ  কাজের বিনিময়ে তার সমপরিমাণ মন্দ  প্রতিফল; তবে আল্লাহ যদি মাফ  করে দেন, তাহলে ভিন্ন কথা।” [8]  নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই  বাণী একটি অতিরিক্ত হুকুম (বিধান)  সাব্যস্ত করল, যা আল্লাহর পক্ষ  থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ ও  দয়া হিসেবে প্রমাণিত; তা হল ইসলাম  পূর্ব সময়ের সকল ভাল কাজকে ভাল  কাজ বলে গণ্য করে নেওয়া[9] ; আর  অনুরূপভাবে তা হয়ে যাবে মহান  আল্লাহর অপার দান এবং মহান রব কর্তৃক  প্রদত্ত পুরস্কার।  অতএব, ঐ সত্তার নামে শপথ করে বলছি,  যাঁর হাতে আমার জীবন! এই মহান অনুগ্রহ  ও অবদান  থেকে আত্মভোলা ব্যক্তি ছাড়া আর  কেউ উদাসীন থাকতে পারে না,  যাকে শয়তান দখল করে নিয়েছে,  ফলে সে তার রবকে ভুলে গেছে। আল-  কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﻟَﻮۡ ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺴۡﻤَﻊُ ﺃَﻭۡ ﻧَﻌۡﻘِﻞُ ﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻓِﻲٓ ﺃَﺻۡﺤَٰﺐِ ﭐﻟﺴَّﻌِﻴﺮِ  ١٠ ﻓَﭑﻋۡﺘَﺮَﻓُﻮﺍْ ﺑِﺬَﻧۢﺒِﻬِﻢۡ ﻓَﺴُﺤۡﻘٗﺎ ﻟِّﺄَﺻۡﺤَٰﺐِ ﭐﻟﺴَّﻌِﻴﺮِ ١١ ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ  ﻳَﺨۡﺸَﻮۡﻥَ ﺭَﺑَّﻬُﻢ ﺑِﭑﻟۡﻐَﻴۡﺐِ ﻟَﻬُﻢ ﻣَّﻐۡﻔِﺮَﺓٞ ﻭَﺃَﺟۡﺮٞ ﻛَﺒِﻴﺮٞ ١٢ ﻭَﺃَﺳِﺮُّﻭﺍْ  ﻗَﻮۡﻟَﻜُﻢۡ ﺃَﻭِ ﭐﺟۡﻬَﺮُﻭﺍْ ﺑِﻪِۦٓۖ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻋَﻠِﻴﻢُۢ ﺑِﺬَﺍﺕِ ﭐﻟﺼُّﺪُﻭﺭِ ١٣ ﺃَﻟَﺎ ﻳَﻌۡﻠَﻢُ  ﻣَﻦۡ ﺧَﻠَﻖَ ﻭَﻫُﻮَ ﭐﻟﻠَّﻄِﻴﻒُ ﭐﻟۡﺨَﺒِﻴﺮُ ١٤ ﴾ ‏[ﺍﻟﻤﻠﻚ : ١٠، ١٤‏]  “আর তারা বলবে, যদি আমরা শুনতাম  অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম,  তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের  অধিবাসী হতাম না। অতঃপর  তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে।  সুতরাং ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের  অধিবাসীদের জন্য! নিশ্চয়  যারা গায়েব অবস্থায় তাদের  রবকে ভয় করে, তাদের জন্য  রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। আর  তোমরা তোমাদের কথা গোপনেই বল  অথবা প্রকাশ্যে বল,  তিনি তো অন্তরসমূহে যা আছে তা  সম্পর্কে সম্যক অবগত।  যিনি সৃষ্টি করেছেন,  তিনি কি জানেন না? অথচ  তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত।” [10]  হে সন্দেহের  মরুভূমিতে দিশেহারা মানব জাতি! ঐ  আল্লাহর দিকে পালিয়ে আস, সবকিছু  যাঁর রহমত ও জ্ঞানের পরিধিভুক্ত।  হে বিচ্ছিন্ন প্রবৃত্তির মরীচিকায়  উত্তেজিত কামনাবিভোর জাতি!  মহান রব ও নিরবিচ্ছিন্ন ছায়ার  দিকে ছুটে আস।  হে লোকসকল! এ মাহান  সংবাদটি নিয়ে মুহূর্তকাল চিন্তা,  গবেষণা ও বিচার-বিশ্লেষণ কর।  আবদুর রাহমান ইবন শুমাসাহ আল-  মাহরী রা. থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন:  ‏« ﺣَﻀَﺮْﻧَﺎ ﻋَﻤْﺮَﻭ ﺑﻦَ ﺍﻟﻌَﺎﺹِ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭَﻫُﻮَ ﻓﻲ ﺳِﻴَﺎﻗَﺔِ  ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ، ﻓَﺒَﻜَﻰ ﻃَﻮِﻳﻼً ، ﻭَﺣَﻮَّﻝَ ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺠِﺪَﺍﺭِ ، ﻓَﺠَﻌَﻞَ  ﺍﺑْﻨُﻪُ ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﺃﺑَﺘَﺎﻩُ ، ﺃﻣَﺎ ﺑَﺸَّﺮَﻙَ ﺭﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻜَﺬَﺍ ؟ ﺃﻣَﺎ ﺑَﺸَّﺮَﻙَ ﺭﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ  ﻭﺳﻠﻢ ﺑِﻜَﺬَﺍ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﺄﻗْﺒَﻞَ ﺑِﻮَﺟْﻬِﻪِ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺇﻥَّ ﺃﻓْﻀَﻞَ ﻣَﺎ  ﻧُﻌِﺪُّ ﺷَﻬَﺎﺩَﺓُ ﺃﻥْ ﻻ ﺇﻟﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪ ، ﻭَﺃﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪﺍً ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪِ ، ﺇﻧِّﻲ  ﻗَﺪْ ﻛُﻨْﺖُ ﻋَﻠَﻰ ﺃﻃْﺒَﺎﻕٍ ﺛَﻼَﺙٍ :  ﻟَﻘَﺪْ ﺭَﺃﻳْﺘُﻨِﻲ ﻭَﻣَﺎ ﺃﺣَﺪٌ ﺃﺷَﺪُّ ﺑُﻐﻀﺎً ﻟﺮﺳﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻣِﻨِّﻲ ، ﻭَﻻَ ﺃﺣَﺐَّ ﺇﻟﻲَّ ﻣِﻦْ ﺃﻥْ ﺃﻛُﻮﻥَ ﻗﺪِ  ﺍﺳْﺘَﻤﻜﻨﺖُ ﻣِﻨْﻪُ ﻓَﻘَﺘَﻠْﺘُﻪ ، ﻓَﻠَﻮْ ﻣُﺖُّ ﻋَﻠَﻰ ﺗﻠﻚَ ﺍﻟﺤَﺎﻝِ ﻟَﻜُﻨْﺖُ ﻣِﻦْ  ﺃﻫْﻞِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ .  ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺍﻹﺳﻼﻡَ ﻓﻲ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﺃﺗَﻴْﺖُ ﺍﻟﻨﺒﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ  ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ، ﻓﻘُﻠْﺖُ : ﺍﺑﺴُﻂْ ﻳَﻤِﻴﻨَﻚَ ﻓَﻸُﺑَﺎﻳِﻌُﻚ ، ﻓَﺒَﺴَﻂَ  ﻳَﻤِﻴﻨَﻪُ . ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻘَﺒَﻀْﺖُ ﻳَﺪِﻱ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏« ﻣَﺎ ﻟَﻚَ ﻳَﺎ ﻋَﻤْﺮُﻭ ؟  ‏» . ﻗﻠﺖُ : ﺃﺭﺩﺕُ ﺃﻥْ ﺃﺷْﺘَﺮِﻁَ . ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺗَﺸْﺘَﺮِﻁ ﻣَﺎﺫﺍ ؟ ‏»  ﻗُﻠْﺖُ : ﺃﻥْ ﻳُﻐْﻔَﺮَ ﻟِﻲ ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺃﻣَﺎ ﻋَﻠِﻤْﺖَ ﺃﻥ ﺍﻹﺳﻼﻡَ ﻳَﻬْﺪِﻡُ  ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻠَﻪُ ، ﻭَﺃﻥ ﺍﻟﻬِﺠْﺮَﺓَ ﺗَﻬْﺪِﻡُ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒﻠَﻬَﺎ ، ﻭَﺃﻥَّ ﺍﻟﺤَﺞَّ  ﻳَﻬْﺪِﻡُ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻠَﻪُ ؟ ‏» .  ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃﺣﺪٌ ﺃﺣَﺐَّ ﺇﻟﻲَّ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ  ﻭﺳﻠﻢ ، ﻭَﻻَ ﺃﺟَﻞَّ ﻓﻲ ﻋَﻴﻨﻲ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨْﺖُ ﺃُﻃﻴﻖُ ﺃﻥ ﺃﻣﻸ  ﻋَﻴﻨﻲ ﻣِﻨْﻪُ ؛ ﺇﺟﻼﻻً ﻟَﻪُ ، ﻭﻟﻮ ﺳﺌﻠﺖ ﺃﻥ ﺃﺻﻔﻪ ﻣَﺎ ﺃﻃﻘﺖ ،  ﻷﻧﻲ ﻟَﻢْ ﺃﻛﻦ ﺃﻣﻸ ﻋﻴﻨﻲ ﻣِﻨْﻪُ ، ﻭﻟﻮ ﻣُﺖُّ ﻋَﻠَﻰ ﺗِﻠْﻚَ ﺍﻟﺤﺎﻝِ  ﻟَﺮﺟَﻮْﺕُ ﺃﻥ ﺃﻛُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﺃﻫْﻞِ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ .  ﺛُﻢَّ ﻭَﻟِﻴﻨَﺎ ﺃﺷْﻴَﺎﺀَ ﻣَﺎ ﺃﺩْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﺣَﺎﻟِﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ ؟ ﻓَﺈﺫَﺍ ﺃﻧَﺎ ﻣُﺖُّ ﻓَﻼَ  ﺗَﺼﺤَﺒَﻨِّﻲ ﻧَﺎﺋِﺤَﺔٌ ﻭَﻻَ ﻧَﺎﺭٌ ، ﻓَﺈﺫﺍ ﺩَﻓَﻨْﺘُﻤُﻮﻧِﻲ ، ﻓَﺸُﻨُّﻮﺍ ﻋَﻠﻲَّ  ﺍﻟﺘُّﺮﺍﺏَ ﺷَﻨّﺎً ، ﺛُﻢَّ ﺃﻗِﻴﻤُﻮﺍ ﺣَﻮْﻝَ ﻗَﺒْﺮِﻱ ﻗَﺪْﺭَ ﻣَﺎ ﺗُﻨْﺤَﺮُ ﺟَﺰﻭﺭٌ ،  ﻭَﻳُﻘْﺴَﻢُ ﻟَﺤْﻤُﻬَﺎ ، ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﺳْﺘَﺄﻧِﺲَ ﺑِﻜُﻢْ ، ﻭَﺃﻧْﻈُﺮَ ﻣَﺎ ﺃُﺭَﺍﺟﻊُ ﺑِﻪِ  ﺭﺳُﻞَ ﺭَﺑّﻲ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .  “আমরা ‘আমর ইবন ‘আসের নিকট হাযির  হলাম, তখন তিনি ছিলেন মুমূর্ষাবস্থায়  — মৃত্যুযন্ত্রনায় কাতর; তারপর  তিনি বহুক্ষণ ধরে কাঁদলেন এবং তার  চেহারা দেয়ালের  দিকে ফিরিয়ে নেন। এ  অবস্থা দেখে তার পুত্র তাকে উদ্দেশ্য  করে বলতে লাগলেন: হে আব্বাজান!  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  কি আপনাকে এরূপ সুসংবাদ শোনান  নি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ শোনান  নি? বর্ণনাকারী বলেন: তারপর  তিনি মুখ ফেরালেন এবং বললেন:  আমাদের সর্বোত্তম পুঁজি হল এই কথার  সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর  কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ  সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আল্লাহর রাসূল। বস্তুত  আমি জীবনে তিন তিনটি পর্যায় [11]  অতিক্রম করেছি:  আমার জীবনের এমন একটি পর্যায়ও  ছিল, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আর  কারও প্রতি আমার এতো বেশি কঠোর  বিদ্বেষ ও শত্রুতা ছিল না; আওতায়  পেলে তাঁকে হত্যা করে ফেলার  চাইতে বেশি প্রিয় আমার নিকট আর  কিছু ছিল না; সুতরাং ঐ অবস্থায়  যদি আমার মৃত্যু হয়ে যেত,  তাহলে আমি নিশ্চিত জাহান্নামের  অধিবাসী হয়ে যেতাম।  অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যখন আমার  অন্তরে ইসলামের মনোভাব ও আকর্ষণ  তৈরি করে দিলেন, তখন  আমি নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট  আসলাম এবং তারপর বললাম: আপনার  ডান হাত বাড়িয়ে দিন, আমি আপনার  নিকট (আনুগত্যের) বাই‘আত গ্রহণ  করতে চাই; তখন তিনি তাঁর ডানহাত  প্রসারিত করে দিলেন। তিনি (‘আমর  ইবন ‘আস রা.) বললেন: এবার আমি হাত  গুটিয়ে নিলাম। তিনি বললেন:  হে ‘আমর! তোমার কী হয়েছে?  জবাবে আমি বললাম: আমি শর্ত  করতে চাই। তিনি বললেন:  তুমি কী শর্ত করতে চাও?  জবাবে আমি বললাম: আমাকে যেন  ক্ষমা করে দেওয়া হয়; এবার  তিনি বললেন: “তোমার  কি জানা নেই যে, ইসলাম ইসলাম-পূর্ব  জীবনের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়? আর  হিজরত হিজরত-পূর্ব জীবনের সকল গুনাহ  ধ্বংস করে দেয়? আর হাজ্জ হাজ্জ-পূর্ব  জীবনের সকল গুনাহ ধ্বংস  করে দেয়?” (যাই হউক, এরপর  আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট  বাই‘আত গ্রহণ করলাম)।  আর তখন আমার নিকট রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ রইল না;  আমার চোখে তাঁর চেয়ে অধিক  মর্যাদাবানও আর কেউ থাকল  না এবং তাঁর অপরিসীম মর্যাদা ও  গাম্ভীর্যের দরুন আমি চোখভরে তাঁর  প্রতি তাকাতে পর্যন্ত পারতাম না।  ফলে আমাকে রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকার-  প্রকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে  তার বর্ণনা দিতে আমি অক্ষম হবো,  কারণ আমি তাঁর প্রতি পূর্ণ  চোখে তাকাতাম না। এই অবস্থায়  যদি আমার মৃত্যু হয়ে যেতো,  তাহলে আমি জান্নাতবাসীদের  অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নিশ্চিত আশা ছিল।  এরপর আমাদেরকে অনেক  যিম্মদারী বা দায়-দায়িত্ব মাথায়  নিতে হলো; জানি না, সেসব  ব্যাপারে আমার অবস্থা কী হবে? যাই  হউক, আমার যখন মৃত্যু হবে, তখন আমার  জানাযায় যেন  কোনো বিলাপকারিনী ও আগুনের  সংশ্রব না থাকে। আর তোমরা যখন  আমাকে দাফন করবে, তখন আমার  কবরে অল্প অল্প করে মাটি ফেলবে;  অতঃপর আমার কবরের চারপাশে এ  পরিমাণ সময় অবস্থান করবে, যে সময়ের  মধ্যে একটি উট যবাই করে তার গোশত  বণ্টন করা যায়; যাতে আমি তোমাদের  ভালবাসা ও সান্নিধ্য লাভ  করতে পারি এবং আমার রবের  পাঠানো ফিরিশ্তাদের  সাথে কি ধরনের বাক-বিনিময় হয়,  তা জেনে নিতে পারি।”[12]  ১. ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও  অনুসরণ করা:  আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা একের  পর এক ধারাবাহিকভাবে তাঁর  রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন,  যাতে তাঁরা পথহারা মানুষদেরকে  অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের  করে নিয়ে যেতে পারেন। আর  আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের অনুসরণ  করাকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন।  আল-কুরআনের ভাষায়:  ﴿ ﻭَﻣَﺎٓ ﺃَﺭۡﺳَﻠۡﻨَﺎ ﻣِﻦ ﺭَّﺳُﻮﻝٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴُﻄَﺎﻉَ ﺑِﺈِﺫۡﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ :  ٦٤ ‏]  “আল্লাহর অনুমতিক্রমে কেবলমাত্র  আনুগত্য করার জন্যই আমরা রাসূলদের  প্রেরণ করেছি।” [13]  আর নবী-রাসূল প্রেরণের  ধারাবহিকতায় নবীদের মাঝ  থেকে আমাদের জন্য বরাদ্ধ হয়েছেন  মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম,  যেমনিভাবে উম্মাতগণের মধ্য  থেকে আমরা হলাম তাঁর ভাগের  উম্মাত; এই জন্য তাঁর আনুগত্য  করা ছাড়া আর কোনো আনুগত্যই শুদ্ধ  হবে না। আর নবী সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে আল-  কুরআনুল কারীম অনেকভাবে বক্তব্য পেশ  করেছে, যেগুলোকে সুস্পষ্ট আয়াত  বলে গণ্য করা হয়:  (ক) রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান  আনার আবশ্যকতা নিয়ে বর্ণিত আয়াত:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻓََٔﺎﻣِﻨُﻮﺍْ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﭐﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﭐﻟۡﺄُﻣِّﻲِّ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺆۡﻣِﻦُ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ  ﻭَﻛَﻠِﻤَٰﺘِﻪِۦ ﻭَﭐﺗَّﺒِﻌُﻮﻩُ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﻬۡﺘَﺪُﻭﻥَ ١٥٨ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ١٥٨‏]  “কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহর  প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি,  যিনি আল্লাহ্ ও তাঁর  বাণীসমূহে ঈমান রাখেন। আর  তোমরা তার অনুসরণ কর,  যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত  হও।”[14]  আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের  প্রতি ঈমান আনার বিষয়টির  সাথে সংযুক্ত  করে দেওয়া হয়েছে নবী  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও  অনুসরণ করার বিষয়টিকে;  সুতরাং জানা গেল যে, ব্যক্তির সকল  অবস্থায় এই শর্তটি পূরণ করা আবশ্যক।  ( খ) যে আয়াত প্রমাণ করে যে, রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করা মানে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য  করা; কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করা ছাড়া আল্লাহর আনুগত্য হয় না:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻣَّﻦ ﻳُﻄِﻊِ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻓَﻘَﺪۡ ﺃَﻃَﺎﻉَ ﭐﻟﻠَّﻪَۖ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٨٠‏]  “কেউ রাসূলের আনুগত্য  করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য  করল।”[15]  (গ) যে আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার  আনুগত্য করার নির্দেশের সাথে রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার বিষয়টিকে সংযুক্ত  করে দেওয়া হয়েছে:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮٓﺍْ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻭَﺃُﻭْﻟِﻲ  ﭐﻟۡﺄَﻣۡﺮِ ﻣِﻨﻜُﻢۡۖ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٥٩ ‏]  “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর  আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর, আরও  আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যকার  ক্ষমতাশীলদের ।”[16]  (ঘ) যেসব আয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার বিষয়টিকে আল্লাহর বন্দাগণের  জন্য তাঁর রহমত পাওয়ার উপলক্ষ্য  বানিয়ে দেওয়া হয়েছে:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗُﺮۡﺣَﻤُﻮﻥَ ١٣٢ ﴾ ‏[ ﺍﻝ  ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٣٢‏]  “আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য  কর, যাতে তোমরা কৃপা লাভ  করতে পার।”[17] আল্লাহ তা‘আলা আরও  বলেছেন:  ﴿ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗُﺮۡﺣَﻤُﻮﻥَ ٥٦ ﴾ ‏[ﺍﻟﻨﻮﺭ : ٥٦‏]  “আর তোমরা রাসূলের আনুগত্য কর,  যাতে তোমাদের উপর রহম করা হয়।”[18]  আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:  ﴿ ﻭَﻳُﻄِﻴﻌُﻮﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُۥٓۚ ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﺳَﻴَﺮۡﺣَﻤُﻬُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُۗ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ :  ٧١‏]  “আর তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের  আনুগত্য করে; তারাই,  যাদেরকে আল্লাহ্ অচিরেই  দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্  পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [19]  (ঙ) যে আয়াত হেদায়াতের  বিষয়টিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য  করার শর্তের সাথে সংযুক্ত করেছে:  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻗُﻞۡ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَۖ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮۡﺍْ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻋَﻠَﻴۡﻪِ ﻣَﺎ  ﺣُﻤِّﻞَ ﻭَﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢ ﻣَّﺎ ﺣُﻤِّﻠۡﺘُﻢۡۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗُﻄِﻴﻌُﻮﻩُ ﺗَﻬۡﺘَﺪُﻭﺍْۚ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻠَﻰ  ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝِ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟۡﺒَﻠَٰﻎُ ﭐﻟۡﻤُﺒِﻴﻦُ ٥٤ ﴾ ‏[ﺍﻟﻨﻮﺭ : ٥٤‏]  “বলুন, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর  এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ তারপর  যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও,  তবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য  তিনিই দায়ী এবং তোমাদের উপর  অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই  দায়ী; আর তোমরা তার আনুগত্য  করলে সৎপথ পাবে, মূলত: রাসূলের  দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া  ।”[20]  আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের  বিষয়টি তখনই প্রকৃত রূপে ফুটে উঠবে, যখন  মুসলিম ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  সুন্নাহকে হুবহু প্রাধান্য দিবে; কেননা,  সে নিশ্চিতভাবে জানে যে,  আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ  মানব জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত  (তার জন্ম  থেকে কবরে মাটি চাপা দেওয়া  পর্যন্ত) ছোট ও বড় সকল  বিষয়কে নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছে।  সুতরাং যে ব্যক্তি এই কাজটি করবে,  সে যেন গুনাহ্ মাফ ও পাপ মোচনের  সুসংবাদ গ্রহণ করে। আল্লাহ  তা‘আলা বলেছেন:  ﴿ ﻗُﻞۡ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺗُﺤِﺒُّﻮﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻓَﭑﺗَّﺒِﻌُﻮﻧِﻲ ﻳُﺤۡﺒِﺒۡﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻳَﻐۡﻔِﺮۡ  ﻟَﻜُﻢۡ ﺫُﻧُﻮﺑَﻜُﻢۡۚ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٞ ﺭَّﺣِﻴﻢٞ ٣١ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٣١‏]  “বলুন,  ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস,  তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ  তোমাদেরকে ভালবাসবেন  এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।  আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম  দয়ালু।” [21]  আর যখন একদল জিন রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কাছে শুনতে পায়  এবং জানতে পারে যে, তাঁর অনুসরণ  করা গুনাহ্ মাফের উপায়, তখন  তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ভয়  প্রদর্শনকারী হিসেবে ফিরে যা