জিনের জগৎ


ইমাম ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) অনুবাদঃ ইউসুফইয়াসীন Printজিনের জগৎকিছু লোক জিন এর বাস্তবতা অস্বীকার করারচেষ্টা করেছে। জিনের সম্বন্ধে কোরআনেএকটি সম্পুর্ণ সূরা,সূরা আল্-জিন (৭২নং সূরা)অবর্তীর্ণহয়েছে।ক্রিয়াপদ জান্না,ইয়াজুন্নুঃ – যে গুলির অর্থ অন্তরালেরাখা,আত্মগোপন করা অথবা ছদ্মবেশে পরানোইত্যাদি হতে প্রাপ্ত জিন শব্দের আক্ষরিক অর্থেরউপর নির্ভর করে তারা দাবি করে যে জিন হচ্ছেআসলে “চতুর বিদেশী”। অন্যেরা এমনও দাবীকরে যে,যাদের মগজে কোন মন নেই এবংস্বভাবে অগ্নি প্রকৃতির তারাই জিন। প্রকৃতপক্ষে জিনআল্লাহর অপর একটি সৃষ্টি যারা এই পৃথিবীতেমানুষের সঙ্গে সহ-অবস্থান করে। আল্লাহ মানবজাতিসৃষ্টির পূর্বে জিন সৃষ্টি করেন এবং তিনি মানুষ সৃষ্টিরউপাদান হতে ভিন্নতর উপদানের সমষ্টি দিয়ে জিনসৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ বলেনঃ“আমি তো মানুষ সৃষ্টি করিয়াছি ছাঁচে-ঢালা শুষ্কঠনঠনে মৃত্তিকা হইতে। এবং ইহার পূর্বে সৃষ্টিকরিয়াছি জিন অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হইতে।” [সূরা আল্-হিজর ১৫:২৬,২৭]তাদের জিন নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা মানবজাতির চোখের অন্তরালে রয়েছে। ইবলিশ(শয়তান) জিন জগতের,যদিও আল্লাহ যখন আদমকেসিজদা করার হুকুম দিয়েছিলেন তখন সেফেরেশতাদের মধ্যে অবস্থান করছিল। যখন সেসিজদাহ করতে অসম্মত হল এবং তাকে তার অবাধ্যতারকারণ জিজ্ঞেস করা হল। যে সম্পর্কে আল্লাহবলেনঃ”সে বললঃ আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকেআগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টিকরেছেন মাটির দ্বারা।” [সূরা সাদ ৩৮:৭৬]আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা দেন যে রাসূল (সঃ) বলেছেন,“ফেরেশতাদের আলো হতে সৃষ্টি করা হয়েছিলএবং জিনদের ধুম্রবিহীনঅগ্নি হতে।” [মুসলিমকর্তৃক সংগৃহীত Sahih Muslim, enlgish trans, vol.4 p.1540 , no. 7134]আল্লাহ আরও বলেনঃ“এবং স্মরণ কর,আমি যখন ফেরেশতাগণকেবলিয়াছিলাম আদমের প্রতি সিজদা কর,তখন সকলেইসিজদা করিল ইবলীস ব্যতীত,সে জিনদিগেরএকজন।” [সূরা আল্-কাহ্ফ ১৮:৫০]সুতরাং তাকে প্রত্যাখ্যাত ফেরেশতা অথবাফেরেশতাদের একজন মনে করা ভুল হবে।জিনদের অস্তিত্বের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণতঃতাদেরকেতিন শ্রেণীর ভাগ করা যেতে পারে ।রাসুল (সঃ) বলেন,“তিন রকম জিন আছেঃ এক রকম যারা সারাক্ষণ আকাশেউড়ে,অন্য আর এক রকম যারা সাপ এবং কুকুর হিসাবে বিদ্যমানএবং পৃথিবীর উপর বসবাসকারীআর এক রকম যারা একস্থানে বাস করে অথবাউদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়।” [আত্ তাবারীএবং আল্-হাকিম কর্তৃক সংগৃহিত]বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে জিনদের আবারদুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়ঃমুসলিম (বিশ্বাসীগণ) এবং কাফির (অবিশ্বাসীগণ)।আল্লাহ সূরা আল-জিন এ বিশ্বাসী জিনদের সম্বন্ধেবলেনঃ“বল,আমার প্রতি প্রেরিত হইয়াছে যে,জিনদিগেরএকটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করিয়াছে এবংবলিয়াছে,আমারাতো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবনকরিয়াছি। যাহা সঠিক পথ -নির্দেশ করে;ফলে আমরাইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি। আমরা কখনওআমাদিগের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করিবনা এবং নিশ্চয়ই সমুচ্চ আমাদিগের প্রতিপালকের মর্যাদা,তিনি গ্রহণ করেন নাই কোন পত্মী এবং না কোনসন্তান। এবং যে আমাদিগের মধ্যকার নির্বোধরাআল্লাহর সম্বন্ধে অতি অবাস্তব উক্তি করিত।” [সুরাআল্-জিন ৭২:১-৪]“আমাদিগের কতক আত্মসমর্পণকারী এবং কতকসীমালংঘনকারী;যাহারা আত্মসমর্পণ করে তাহারাসুচিন্তিতভাবে সত্য পথ বাছিয়ে লয়।অপরপক্ষে,সীমালংঘনকারী তো জাহান্নামেরইইন্ধন।” [সুরা আল্-জিন ৭২:১৪-১৫]জিনদের মধ্যে অবিশ্বাসীদের বিভিন্ন নামেউল্লেখ করা হয়ঃইফরিত্, শয়তান, ক্বারিন, অপদেবতা, অশুভ আত্মা,আত্মা, ভুতপ্রেত ইত্যাদি। তারা বিভিন্নভাবে মানুষকেভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করে। যারাই তাদেরকথা শুনে এবং তাদের জন্য কাজ করে তাদেরকেইমানব শয়তান বলে উল্লেখ করা হয়।আল্লাহ বলেছেনঃ“এইরূপে মানব ও জিনের মধ্যে শয়তানদিগকেপ্রত্যেক নবীর শত্রু করিয়াছি।” [সুরা-আল্-আন্’আম৬:১১২]প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে স্বতন্ত্র একজন করেজিন রয়েছে যাকে ক্বারিন (সঙ্গী) বলা হয়। এটামানুষের এই জীবনের পরীক্ষার অংশ বিশেষ।জিনটি তাকে সর্বদা অবমাননাকর কামনা-বাসনায় উৎসাহিতকরে এবং সার্বক্ষণিকভাবে তাকে ন্যায়-নিষ্ঠা হতেঅন্য দিকে সরিয়ে নেবার চেষ্টা করে।রাসুল (সঃ) এই সম্পর্ককে এভাবে বর্ণনা দিয়েছেন,“তোমাদের প্রত্যেককে জিনদের মধ্য হতেএকজন সঙ্গী দেয়া হয়েছে।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসাকরলেন,“এমনকি আপনাকেও ইয়া আল্লাহর রাসুল(সঃ)? তিনি বলেনঃ এখন সে আমাকে শুধু ভাল করতেবলে।” [মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত Sahih MusliM,enlgishtrans, vol. 4 p.1540 , no. 7134]“সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হইল তাহারবাহিনীকে-জিন,মানুষ ও বিহংগকুলকে এবং উহাদিগকেবিন্যস্ত করা হইল বিভিন্ন ব্যূহে।” [সুরা আন-নামল২৭:১৭]কিন্তু অন্য কাউকে এই ক্ষমতা প্রদান করা হয় নাই।অন্য কাউকে জিন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেয়া হয়নিএবং কেউ পারেও না। রাসুল (সঃ) বলেছেন,“যথার্থই গত রাতে জিনদের মধ্যে হতে একজনইফরিত (একটি বলিষ্ঠ অথবা খারাপ জিন)” আমার সালাতভেঙ্গে দেবার জন্য থু থু নিক্ষেপ করেছিল।যাহোক আল্লাহ তাকে পরাভূত করতে আমাকেসাহায্য করেন এবং যাতে তোমরা সকালে তাকেদেখতে পারো সে জন্য তাকে আমি মসজিদেরএকটি স্তম্ভের সঙ্গে বেঁধে রাখতেচেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ভ্রাতা সোলাইমানেরদোয়া মনে পড়লঃ “হে আমার রব, আমাকে ক্ষমাকর এবং আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যাহারঅধিকারী আমি ছাড়া কেহ না হয়।” [সুরা সাদ ৩৮:৩৫]মানুষ জিনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম নয় কারণএই বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা শুধু পয়গম্বরসোলায়মানকে দেয়া হয়েছিল।প্রকৃতপক্ষে,আছর অথবা ঘটনাক্রম ছাড়া জিনদের সাথেযোগাযোগ হওয়া বেশীর ভাগ সময়ই নিষিদ্ধ বাধর্মদ্রোহী কাজের মাধ্যমেই হয়। [আবু আমিনাহবিলাল ফিলিপস্ এর Ibn taymeeyah`s Essay on theJinn:: রিয়াদ তৌহিদ প্রকাশনী,১৯৮৯,পৃ.২১]এভাবে তলব করে আনা দুষ্ট জিন তাদেরসঙ্গীদের গুনাহ করতে এবং স্রষ্টাকে অবিশ্বাসকরতে সাহায্য করতে পারে। তাদের লক্ষ্য হলস্রষ্টা ছাড়া অথবা স্রষ্টার পাশাপাশি অন্যকে উপাসনাকরার মত গুরুতর গুনাহ করতে যত বেশী জনকেপারা যায় তত জনকে আকৃষ্ট করে। একবারগণকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চুক্তি হয়েগেলে, জিন ভবিষ্যতের সামান্য কিছ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাজানাতে পারে।রাসুল (সাঃ) বর্ণনা দিয়েছেন জিনরা কিভাবে ভবিষ্যতসম্বন্ধে সংবাদ সংগ্রহ করে। তিনি বর্ণনা দেন যে,জিনরা প্রথম আসমানের উপর অংশ পর্যন্ত ভ্রমণকরত এবং ভবিষ্যতের উপর কিছু তথ্যাদি যা ফিরিশতারানিজেদের মধ্যে বলাবলি করত তা শুনতে সক্ষমহত। তারপর তারা পৃথিবীতে ফিরে এসে তাদেরপরিচিত মানুষের কাছে ঐ তথ্যগুলি পরিবেশন করত।আল্-বুখারী এবং মুসলিম কতৃর্ ক সংগৃহীত। [ SahihMuslim, Englishtrans, vol.4, p.1210, no, 5538]মুহাম্মদ (সাঃ) এর নবুওত প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত এইধরণের বহু ঘটনা সংঘটিত হত। এবং গণকরা তাদের তথ্যপ্রদানে নির্ভূল ছিল। তারা রাজকীয় আদালতে আসনলাভ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং প্রচুর জনপ্রিয়তাঅর্জন করেছিল।এমনকি পৃথিবীর কিছু অঞ্চলেতাদের পুজাও করা হত।রাসুল (সাঃ) কর্তৃক ধর্ম প্রচার শুরু করার পর হতেঅবস্থার পরিবর্তন হয়। আল্লাহ ফিরিশতাদের দিয়েআসমানের নীচের এলাকা সতর্কতার সঙ্গে পাহাড়াদেবার ব্যবস্থা করলেন। তারপর হতে বেশীরভাগজিনদের উল্কা এবং ধাবমান নক্ষত্ররাজি দিয়ে তাড়িয়েদেয়া হত। আল্লাহ এই বিস্ময়কর ঘটনা কোরআনেরভাষায় বর্ণনা করেছ্নেঃ“এবং আমরা চাহিয়াছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করিতেকিন্তু আমরা দেখিতে পাইলাম কঠোর প্রহরী ওউল্কা পিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ ;আর পূর্বে আমরাআকাশের বিভিন্ন ঘাটিতে সংবাদ শুনিবার জন্য বসিতামকিন্ত এখন কেহ সংবাদ শুনিতে চাহিলে সে তাহারউপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জলন্ত উল্কাপিন্ডের সম্মুখীন হয়।” [সূরা আল-জ্বিন ৭২:৮-৯]আল্লাহ আরও বলেনঃ“প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হইতে আমি উহাকেরক্ষা করিয়া থাকি; আর কেহ চুরি করিয়া সংবাদ শুনিতেচাহিলে উহার পশ্চাদ্ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা।” [সূরাআল হিজর ১৫:১৭-১৮]ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,“যখন রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর একদল সাহাবা উকাধ বাজারেরদিকে রওয়ানা হলেন, তখন শয়তানদের ঐশীখবরাখবর শোনায় বাধা প্রদান করা হল। উল্কাপিন্ডতাদের উপর ছেড়ে দেয়া হল। ফলে তারা তাদেরলোকদের কাছে ফিরে এল। যখন তাদেরলোকরা জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছিল, তারা তাদেরজানালো। কেউ কেউ পরামর্শ দিল যে নিশ্চয়ই কিছুঘটেছে, কাজেই তারা কারণ খুজে বের করার জন্যপৃথিবীর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তাদেরকয়েকজন রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবাগণের সালাত রতঅবস্থা দেখতে পেল এবং তারা তাদের কোরআনপড়া শুনলো। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলযে নিশ্চয় এটাই তাদের শোনায় বাধা প্রদানকরেছিল। যখন তারা তাদের লোকদের মধ্যেফিরে গেল তখন তারা বলল, “আমরা তো একবিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করিয়াছি। যাহা সঠিক পথনির্দেশ করে, ফলে আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপনকরিয়াছি। আমরা কখনও আমাদিগের প্রতিপালকেরকোন শরীক স্থির করিব না।” [সুরা আল জিন ৭২:১-২][ আল্-বুখারী, মুসলিম, আত্ তিরমিজী এবং আহমদকর্তৃক সংগৃহীত।Sahih Al-Bukhari, Arabic-English,vol.6, pp.415-6.no.443 and Sahih Muslim, Englishtrans, vol.1, pp.243-44, no, 908]এইভাবে রাসূল (সাঃ) কর্তৃক ধর্ম প্রচারের পূর্বেজিনরা যেভাবে সহজে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে খবরাখবরসংগ্রহ করত তা আর আর পারেনি। ঐ কারণে তারা এখনতাদের খবরাখবরের সঙ্গে অনেক মিথ্যা মিশ্রিতকরে।রাসুল (সাঃ) বলেন,“জাদুকর অথবা গনকের মুখে না পৌছান পর্যন্ত তারা(জিনরা) খবরাখবর নীচে ফেরত পাঠাতে থাকবে।কখনও কখনও তারা খবর চালান করার আগেই একটিউল্কা পিন্ড তাদের আঘাত প্রাপ্ত করার পূর্বেপাঠাতে পারলে এর সঙ্গে তারা একশটা মিথ্যা যোগকরবে। [আল্-বুখারী, মুসলিম এবং আত্ তিরমিজীকর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English,vol.8, p.150 , no.232]আয়শা (রাঃ) তখন উল্লেখ করলেন যে গণকরাকখনও কখনও যা বলে সত্য হয়।রাসুল (সঃ) বলেন,‘‘ওতে সত্যতার কিছু অংশ যা জিনরা চুরি করে এবং তারবন্ধুর কাছে বলে কিন্তু সে এর সাথে একশটি মিথ্যাযোগ করে। ”আয়েশা বর্ণনা দেন যে তিনিআল্লাহর রাসূলের (সঃ) কাছে গণকদের সম্বন্ধেজিজ্ঞসা করলে তিনি উত্তর দেন যে ওরা কিছু না।[আল্-বুখারী এবং মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.1, p.439.no.657 andSahih Muslim, English trans, vol.4, p.1209, no,5535]একদিন উমর ইবনে আল খাত্তাব যখন বসে ছিলেনতখন একটি সুদর্শণ লোক তার পাশ দিয়ে চলেগেলে তিনি বললেন, আমার যদি ভূল না হয় লোকটিএখনও প্রাক ইসলামি ধর্ম অনুসরণ করছে অথবাবোধ হয় সে তাদের একজন গণক। তিনি লোকটিকে তার সামনে আনতে নির্দেশ দিলেন এবং তিনিতার অনুমান সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলেন। লোকটিউত্তর দিল, আমি আজকের মত আর কোন দিনদেখিনি যেদিন মুসলিম এই ধরণের অভিযোগেরসম্মূখীন হয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন,অবশ্যইআমাকে তামার অবহিত করা উচিত। লোকটি তখন বলল,অজ্ঞতার যুগে আমি তাদের গণক ছিলাম। ঐ কথাশুনে উমর জিজ্ঞাসা করলেন,তোমার মহিলা জিনতোমাকে সব চেয়ে বিস্ময়কর কি বলেছে।লোকটি তখন বলল,একদিন আমি যখন বাজারেছিলাম,সে (মহিলা জিন) উদ্বিগ্ন হয়ে আমার কাছেএসেছিল এবং বলেছিল মর্যাদাহানি হবার পর তুমি কিজিনদের হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় দেখনি? তুমি কি দেখনিতাদেরকে (জিনদেরকে) মাদী উট ও তাতেআরোহণকারীদের অনুসরণ করতে? উমর বাধাদানপূর্বক বললেন,এটা সত্য।[আল্-বুখারী কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari,Arabic-English, vol.5, p.131-2. no.206]জিনরা তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারীমানুষকে আপতঃ ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে অবহিত করতেসক্ষম।উদাহরণস্বরূপ,যখন কেউ একজন গণকের কাছেআসে সে আসার আগে কি কি পরিকল্পনা গ্রহণকরেছিল তা গণকের জিন আগত লোকটিরক্বারিনের (প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে নিয়োজিতজিন) কাছ থেকে জিন জেনে নেয়। সুতরাং গণকলোকটিকে বলতে সক্ষম হয় যে সে এটাকরবে অথবা অমুক অমুক জায়গায় যাবে। এইপ্রক্রিয়ায় একজন সতিকার গণক অপরিচিত লোকেরঅতীত পরির্পূণ ভাবে জানতে সক্ষম হয়। সেএকজন অচেনা ব্যক্তির পিতামার নাম, কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিল এবং তার ছেলে বেলার আচারণইত্যাদি সম্বন্ধে বলেতে সক্ষম হয়। অতীতসম্বন্ধে পরিপূর্ণ বর্ণনা দেবার ক্ষমতা জিন এরসঙ্গে মুহুর্তের মধ্যে বহু দুরত্ব অতিক্রমকরতে এবং গোপন বিষয় হারানো জিনিস, অদেখাঘটনা বলি সম্বন্ধে বহু তথ্যাদি সংগ্রহ করতেওসক্ষম।কোরআনে বর্ণিত পয়গম্বর সুলায়মান এবং সিবাররাণী বিলকিসের গল্পে মধ্যে এই ক্ষমতার সত্যতাপাওয়া যায়।যখন রাণী বিলকিসের গল্পে এলেন,তিনি একটিজিনকে রাণীর দেশ থেকে তার সিংহাসন নিয়েআসতে বললেন। “এক শক্তিশালী জিন বলল,আপনিআপনার স্থান হইতে উঠিবার পূর্বে আমি উহা আনিয়া দিবএবং এই ব্যাপারে আমি অবশ্যই ক্ষমতাবান বিশ্বস্ত।[সূরা আন নামল, ২৭:৩৯]