প্রতিবেশীর হক।


প্রতিবেশীর হক
ভূমিকা
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟﻠﻪِ ، ﻧَﺤْﻤَﺪُﻩُ ﻭَﻧَﺴْﺘَﻌِﻴْﻨُﻪُ ﻭَﻧَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮُﻩُ ، ﻭَﻧَﻌُـﻮْﺫُ
ﺑِﺎﻟﻠﻪِ ﻣِﻦْ ﺷُﺮُﻭْﺭِ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻨَﺎ ، ﻭَﻣِﻦْ ﺳَﻴِّﺌَﺎﺕِ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟِﻨَﺎ ، ﻣَﻦْ ﻳَّﻬْﺪِﻩِ
ﺍﻟﻠﻪُ ﻓَﻼَ ﻣُﻀِﻞَّ ﻟَﻪُ ، ﻭَﻣَﻦْ ﻳُّﻀْﻠِﻞِ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓَﻼَ ﻫَﺎﺩِﻱَ ﻟَﻪُ ، ﻭَﺃَﺷْﻬَﺪُ
ﺃَﻥْ ﻻَّ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻻَ ﺷَﺮِﻳْﻚَ ﻟَﻪُ ، ﻭَﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ
ﻋَﺒْﺪُﻩُ ﻭَﺭَﺳُﻮْﻟُﻪُ
নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ
তা‘আলার জন্য। আমরা তারই প্রশংসা করি,
তার কাছে সাহায্য চাই, তার নিকট
ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহর নিকট
আমরা আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্টতা ও
আমাদের কর্মসমূহের খারাপ
পরিণতি থেকে আশ্রয় কামনা করি।
আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন,
তাকে গোমরাহ করার কেউ নাই। আর
যাকে গোমরাহ করেন তাকে হেদায়েত
দেয়ারও কেউ নাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি,
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ
নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নাই।
আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও
রাসূল। সালাত ও সালাম নাযিল হোক তার
উপর, তার পরিবার-পরিজন ও তার
সাহাবীদের উপর এবং যারা কিয়ামত
অবধি এহসানের সাথে তাদের অনুসরণ
করেন তাদের উপর।
অতঃপর,
প্রতিবেশীর হক বা অধিকার
সম্পর্কে সজাগ হওয়া অত্যন্ত জরুরী। ইসলাম
প্রতিবেশীর হককে খুবই গুরুত্ব
সহকারে বিবেচনা করেছেন। কিন্তু
অধিকাংশ মানুষই বর্তমানে প্রতিবেশীর
হক ও অধিকার সম্পর্কে বে-খবর।
প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে আমাদের
উদাসীনতার উপলব্ধি থেকে মানুষকে এ
বিষয়ে সচেতন ও সজাগ করার
প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। তাই
প্রতিবেশীর হক, প্রতিবেশী কারা,
প্রতিবেশীদের বিষয়ে ইসলাম কি বলে,
ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে এ
প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।
আশা করি প্রবন্ধটি পড়ে একজন পাঠক উপকৃত
হবেন এবং প্রতিবেশীর হক ও অধিকার
সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সংকলক
জাকের উল্লাহ আবুল
খায়ের
প্রতিবেশী কে?
প্রতিবেশী শব্দটি একটি ব্যাপক শব্দ।
প্রতিবেশী বলতে মুসলিম, কাফের, নেক
বান্দা, ফাসেক, বন্ধু, শত্রু, পরদেশী,
স্বদেশী, উপকারী, ক্ষতি সাধনকারী,
আত্মীয়, অনাত্মীয়, নিকটতম বা তুলনামূলক
একটু দূরের প্রতিবেশী সবাই অন্তর্ভুক্ত।
অনেকেই
মনে করে প্রতিবেশী বলতে শুধু ঘরের
পাশের প্রতিবেশী বুঝানো হয়ে থাকে।
বিষয়টি এমন নয়, যে শুধুমাত্র ঘরের পাশের
প্রতিবেশীকেই
প্রতিবেশী বলা হবে আর কাউকে নয়।
বরং প্রতিবেশী বিভিন্ন ধরনের
হতে পারে। যেমন-
কর্মক্ষেত্রে এক সাথে কাজ
করলে সে আমার একজন প্রতিবেশী,
ছাত্র জীবনে যাদের
সাথে পড়া লেখা উঠাবসা করি সেও
আমার প্রতিবেশী, আমার জমিনের
সাথে যদি কারোও
জমি থাকে সে আমার জমিনের
প্রতিবেশী, পাশের দোকানদার
সে আমার দোকানের প্রতিবেশী, এক
সাথে বাজারে গেলে সে আমার
বাজারের প্রতিবেশী,
এমনকি যদি আমি কোনো গাড়ি বা
বিমানে একজন ভাইয়ের
সাথে একসাথে বসি সেও আমার কিছু
সময়ের জন্য একজন প্রতিবেশী। এ
বিষয়ে রয়েছে হাদিসে ব্যাপক দিক
নির্দেশনা। যেমন,
ﺟَﺎﺑِﺮِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ، ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺍﻟْﺠِﻴﺮَﺍﻥُ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔٌ، ﺟَﺎﺭٌ ﻟَﻪُ ﺣَﻖٌ ﻭَﺍﺣِﺪٌ، ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﺩْﻧَﻰ
ﺍﻟﺠﻴﺮﺍﻥ ﺣﻘﺎً. ﺟﺎﺭ ﻟَﻪُ ﺣَﻘَّﺎﻥِ، ﻭَﺟَﺎﺭٌ ﻟَﻪُ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔُ ﺣُﻘُﻮﻕٍ ﻭَﻫُﻮَ
ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻟﺠﻴﺮﺍﻥ ﺣﻘﺎً، ﻓﺄﻣﺎ ﺍﻟﺠﺎﺭ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻟَﻪُ ﺣَﻖٌّ ﻭَﺍﺣِﺪٌ ﻓَﺠَﺎﺭٌ
ﻣُﺸْﺮِﻙٌ ﻟَﺎ ﺭﺣﻢ ﻟﻪ، ﻟﻪ ﺣﻖ ﺍﻟﺠﻮﺍﺭ، ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﺠﺎﺭ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻟَﻪُ
ﺣَﻘَّﺎﻥِ ﻓَﺠَﺎﺭٌ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ ﻟَﻪُ ﺣَﻖُّ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡِ، ﻭَﺣَﻖُّ ﺍﻟْﺠِﻮَﺍﺭِ، ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻱ
ﻟَﻪُ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔُ ﺣُﻘُﻮﻕٍ ﻓَﺠَﺎﺭٌ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ ﺫُﻭ ﺭَﺣِﻢٍ ﻟَﻪُ ﺣَﻖُّ ﺍﻟﺠﻮﺍﺭ، ﻭﺣﻖ
ﺍﻹﺳﻼﻡ، ﻭﺣﻖ ﺍﻟﺮﺣﻢ ‏» .
“জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন, “প্রতিবেশী সাধারণত তিন
শ্রেণীর হয়ে থাকে। ১. যার এক দিক
থেকে হক। সে হকের দিক দিয়ে সর্ব
কনিষ্ঠ। ২. যার দুই দিক থেকে হক
হয়ে থাকে। ৩. যার তিন দিক থেকে হক
হয়ে থাকে, এ হল, সর্বোত্তম প্রতিবেশী।
যার এক দিক থেকে হক সে হল, অনাত্মীয়
বিধর্মী প্রতিবেশী। এ ব্যক্তির হক শুধু
প্রতিবেশী হওয়ার
ভিত্তিতে আত্মীয়তার ভিত্তিতে নয়।
আর যার হক দুই দিক দিয়ে, সে হল, মুসলিম
প্রতিবেশী, যার সাথে আত্মীয়তার
কোনও সম্পর্ক নেই। এ ব্যক্তির হক
প্রতিবেশী এবং মুসলিম হওয়ার দিক
থেকে। আর যার হক তিন দিক থেকে,
সে হল, মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশী। এ
ব্যক্তির হক প্রতিবেশী হিসেবে, মুসলিম
হিসেবে এবং ও আত্মীয় হওয়ার দিক
থেকে”।[1]
সাধারণত পাশের ঘরের
লোককে প্রতিবেশী বলা হয়ে থাকে।
তবে পাশের ঘর বলতে কি বুঝায় এ
বিষয়ে বিভিন্ন আলেমদের
মধ্যে একাধিক ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
যে তোমার আওয়াজ শুনতে পায়,
সে তোমার প্রতিবেশী। আবার কেউ
কেউ বলেন, যে তোমার সাথে এক
মসজিদে ফজরের সালাত আদায়
করে সে তোমার প্রতিবেশী।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু
আনহা প্রতিবেশীর ব্যাখ্যায় বলেন,
“তোমার ঘরের চার পাশের ৪০টি ঘরের
অধিবাসীরা তোমার প্রতিবেশী”। [2]
ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল
রহ. মতে প্রতিবেশী হল, তোমার ঘরের
চার পাশ থেকে চল্লিশটি ঘরের
অধিবাসী।
আবার কেউ কেউ বলেন, প্রতিবেশীর
নির্ধারিত কোনো সংজ্ঞা নাই।
বিষয়টি সামাজিক ও পারিভাষিক অবস্থার
উপর নির্ভর করে। সমাজ যাদের
প্রতিবেশী বলে তারাই
প্রতিবেশী এবং পরিভাষায় যাদের
প্রতিবেশী বলে তারাই প্রতিবেশী।
তবে প্রত্যেক শ্রেণীই যেহেতু
প্রতিবেশী তাই প্রত্যেকের হকের
প্রতি যত্নবান হওয়া তাদের গুরুত্ব
দেওয়া খুবই জরুরি।
পবিত্র কুরআনে প্রতিবেশীর হক
প্রতিবেশীরা মানবসমাজের একটি
অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ফলে ইসলামে
প্রতিবেশীর হককে অনেক গুরুত্ব
দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ইবাদত ও তার
সাথে কাউকে শরিক না করা-এই
বিধানের সাথে প্রতিবেশীর বিষয়টিও
আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ
করেছেন। একই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা
বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের হক
বিষয়ে আলোচনা করেছেন তার
মধ্যে রয়েছে মাতা-পিতার হক, আত্মীয়
স্বজনের হক, এতীমের হক ইত্যাদি। এসব
গুরুত্বপূর্ণ হকের সাথে প্রতিবেশীর
হককে উল্লেখ করা থেকেই বোঝা যায়,
প্রতিবেশীর হককে আল্লাহ তা
‘আলা কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন
এবং তা রক্ষা করা আমাদের জন্য
কতটা জরুরি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﻭَﺑِﭑﻟۡﻮَٰﻟِﺪَﻳۡﻦِ ﺇِﺣۡﺴَٰﻨٗﺎ ﻭَﺑِﺬِﻱ ﭐﻟۡﻘُﺮۡﺑَﻰٰ ﻭَﭐﻟۡﻴَﺘَٰﻤَﻰٰ ﻭَﭐﻟۡﻤَﺴَٰﻜِﻴﻦِ
ﻭَﭐﻟۡﺠَﺎﺭِ ﺫِﻱ ﭐﻟۡﻘُﺮۡﺑَﻰٰ ﻭَﭐﻟۡﺠَﺎﺭِ ﭐﻟۡﺠُﻨُﺐِ ﻭَﭐﻟﺼَّﺎﺣِﺐِ ﺑِﭑﻟۡﺠَﻨۢﺐِ ﻭَﭐﺑۡﻦِ
ﭐﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ ﻭَﻣَﺎ ﻣَﻠَﻜَﺖۡ ﺃَﻳۡﻤَٰﻨُﻜُﻢۡۗ ٣٦ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٣٦‏]
“এবং পিতা-মাতার প্রতি ইহসান, আত্মীয়-
স্বজন, এতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-
প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-
সাথী, মুসাফির ও তোমাদের দাস-
দাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার কর”।[3]
হাদিসে প্রতিবেশীর হক বিষয়ে গুরুত্ব
প্রদান
এক- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ:
‏«ﻣَﺎ ﺯَﺍﻝَ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳُﻮﺻِﻴﻨِﻲ ﺑِﺎﻟْﺠَﺎﺭِ،
ﺣَﺘَّﻰ ﻇَﻨَﻨْﺖُ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻴُﻮَﺭِّﺛُﻪُ – ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ: ﺧَﺸِﻴﺖُ ﺃَﻥْ ﻳُﻮَﺭِّﺛَﻪُ – ‏»
“জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে
প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি
তাকিদ করেছেন যে, আমার কাছে মনে
হয়েছে প্রতিবেশীকে মিরাসের
অংশীদার বানিয়ে দেওয়া হবে”।[4]
হাদিসে প্রতিবেশীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজকাল এ বিষয়ে
আমাদের মাঝে চরম অবহেলা পরিলক্ষিত
হয়। বিশেষ করে শহরের মানুষের মাঝে।
বছরের পর বছর পার হয় পাশের বাড়ির
কারো সাথে কোনও কথা হয় না, খোঁজ
খবর নেওয়া হয় না, একজন লোক
মারা গেলে পাশের ফ্লাটের লোকের
কোনো খবর নাই। বরং বিভিন্নভাবে
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া হয়। অথচ
প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ ও তাকে কষ্ট
না দেওয়াকে ঈমানের সাথে যুক্ত করা
হয়েছে।
দুই- প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে আল্লাহর
রাসূল নিষেধ করেন এবং তার
সাথে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ
দেন। হাদিস-
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﺮﻳﺢ ـ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻋﻨﻪ ـ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺆﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻴﻮﻡ
ﺍﻵﺧﺮ ﻓﻼﻳﺆﺫ ﺟﺎﺭﻩ ‏»
আবু শুরাই রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে আল্লাহ ও
আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন
প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়”।[5]
তিন. আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন,
‏« ﻓﻠﻴﺤﺴﻦ ﺇﻟﻰ ﺟﺎﺭﻩ ‏»
“সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ
করে”।[6]
চার- প্রতিবেশীরা হকের
ক্ষেত্রে সবাই সমান নয়। যারা সম্পর্কের
দিক দিয়ে যত বেশি নিকটে তাদের
অধিকার বা হক বেশি। আর
যদি প্রতিবেশী সম্পর্কের দিক
দিয়ে সমান হয় এবং একজন
কাছে এবং অপর জন দূরে হয় তবে কাছের
প্রতিবেশীর অধিকার বা হক বেশি দূরের
প্রতিবেশীর তুলনা। এ বিষয়ে হাদিস-
ﺭﻭﻯ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ : ﺃَﻧَّﻬَﺎ ﺳَﺄَﻟَﺖْ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ: ﺇِﻥَّ ﻟِﻲ ﺟَﺎﺭَﻳْﻦِ ﻓَﺈِﻟَﻰ ﺃَﻳِّﻬِﻤَﺎ ﺃُﻫْﺪِﻱ؟
ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻗْﺮَﺑِﻬِﻤَﺎ ﻣِﻨْﻚَ ﺑَﺎﺑًﺎ ‏» ﻭَﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒُﺨَﺎﺭِﻱُّ ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ
ﺷُﻌْﺒَﺔَ ﺑِﻪِ .
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,
তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা
করলেন, “আমার দুই জন প্রতিবেশী আছে,
তাদের কাকে আমি হাদিয়া দেব? রাসূল
বললেন, যে তোমার দরজার কাছের
প্রতিবেশী তাকে তুমি হাদিয়া দেবে”।
[7]
পাঁচ- তোমাদের মধ্যে সে উত্তম
প্রতিবেশী বা সে উত্তম সাথী যে তার
প্রতিবেশী ও সাথীদের নিকট উত্তম।
যেমন হাদিস-
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺄَﺻْﺤَﺎﺏِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺼَﺎﺣِﺒِﻪِ
ﻭﺧﻴﺮ ﺍﻟﺠﻴﺮﺍﻥ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﻟﺠﺎﺭﻩ ‏» ‏(ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ
ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏)
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু
বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যে স্বীয় সাথীর নিকট উত্তম সেই
আল্লাহর নিকট সর্ব উত্তম
সাথী এবং যে স্বীয় প্রতিবেশীর
দৃষ্টিতে ভালো প্রতিবেশী, সেই
আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী”।[8]
ছয়- অপর এক বর্ণনায় এসেছে,
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ ﻟِﺮَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﻴْﻒَ ﻟِﻲ ﺃَﻥْ ﺃَﻋْﻠَﻢَ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺣْﺴَﻨْﺖُ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺃَﺳَﺄْﺕُ
ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ‏« ﺇِﺫَﺍ ﺳَﻤِﻌْﺖَ ﺟِﻴﺮَﺍﻧَﻚَ
ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻗَﺪْ ﺃَﺣْﺴَﻨْﺖَ ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺣْﺴَﻨْﺖَ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﻤِﻌْﺘَﻬُﻢْ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ
ﻗَﺪْ ﺃَﺳَﺄْﺕَ ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺳَﺄْﺕَ ، ‏»
“আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু
আনহু বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা
করেন, আমি ভালো করলাম না খারাপ
করলাম এ বিষয়টি নিশ্চিতভাবে আমার
নিজের
সম্পর্কে কীভাবে জানতে পারব?
উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যখন শোন,
তোমার প্রতিবেশী তোমাকে বলে,
তুমি ভালো করছ,
তাহলে তুমি ভালো করছ, আর যখন শোন,
তোমার প্রতিবেশী বলে, তুমি খারাপ
করছ, তাহলে তুমি খারাপ করছ”।[9]
সাত- প্রতিবেশী কষ্ট
না দেওয়া এবং তাদের
সাতে ভালো ব্যবহার করা ঈমানের
সাথে সম্পর্ক। এ বিষয়ে হাদিস-
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ‏« ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺆﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻵﺧﺮ
ﻓﻼ ﻳﺆﺫ ﺟﺎﺭﻩ، ﻭﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺆﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻷﺧﺮ ﻓﻠﻴﻜﺮﻡ
ﺿﻴﻔﻪ، ﻭﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺆﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻵﺧﺮ ﻓﻠﻴﻘﻞ ﺧﻴﺮًﺍ ﺃﻭ
ﻟﻴﺼﻤﺖ ‏»
“আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি
আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে,
সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।
যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান
রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে,
যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান
রাখে, সে যেন
ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে”।
আট- অপর একটি হাদিসে এসেছে-
ﻭﻗﺎﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ‏«ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﺆﻣﻦ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻ
ﻳﺆﻣﻦ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﺆﻣﻦ ‏» ، ﻗﻴﻞ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ! ﺧﺎﺏ ﻭﺧﺴﺮ،
ﻣﻦ ﻫﺬﺍ؟ ﻗﺎﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ‏« ﻣﻦ ﻻ ﻳﺄﻣﻦ ﺟﺎﺭﻩ
ﺑﻮﺍﺋﻘﻪ ‏» ،
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়! আল্লাহর শপথ
সে মুমিন নয়!! আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়!!!
সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, কে সেই
বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত লোক হে আল্লাহর
রাসূল? রাসূ্লুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার
প্রতিবেশী নিরাপদ নয়”।[10]
হাদিসে প্রতিবেশীর হকের অধিক গুরুত্ব
দেওয়া হয়েছে।
তাকে যাতে কোনো প্রকার কষ্ট
দেওয়া না হয় এবং তার
যাতে কোনো ক্ষতি করা না হয়
সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব
দেওয়া হয়েছে।
নয়- দশগুণ বেশি গুনাহ; প্রতিবেশীর হক
আদায় করা যেমন
জরুরি প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া বা তার
হক নষ্ট করা তেমনি মস্ত বড় গুনাহ। একই
অন্যায় প্রতিবেশীর
ক্ষেত্রে করলে অন্যের তুলনায় দশ গুণ
বেশি গুনাহ বা বড় অন্যায় বলে গণ্য হয়।
ﻓﻘﺪ ﺛﺒﺖ ﻋﻨﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ: ‏«ﻣﺎ ﺗﻘﻮﻟﻮﻥ
ﻓﻲ ﺍﻟﺰﻧﺎ؟ ‏» ﻗﺎﻟﻮﺍ: ﺣﺮﺍﻡ، ﺣﺮﻣﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻗﺎﻝ : ‏«ﻷﻥ
ﻳﺰﻧﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺑﻌﺸﺮ ﻧﺴﻮﺓ ﺃﻳﺴﺮ ﻣﻦ ﺃﻥ ﻳﺰﻧﻲ ﺑﺎﻣﺮﺃﺓ ﺟﺎﺭﻩ،
ﻣﺎ ﺗﻘﻮﻟﻮﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺮﻗﺔ؟ »ﻗﺎﻟﻮﺍ: ﺣﺮﺍﻡ، ﺣﺮﻣﻬﺎ ﺍﻟﻠﻪ
ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻗﺎﻝ : ‏« ﻷﻥ ﻳﺴﺮﻕ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻣﻦ ﻋﺸﺮﺓ ﺃﺑﻴﺎﺕ ﺃﻳﺴﺮ
ﻣﻦ ﺃﻥ ﻳﺴﺮﻕ ﻣﻦ ﺑﻴﺖ ﺟﺎﺭﻩ، ﻭﻣﻦ ﺃﻏﻠﻖ ﺑﺎﺑﻪ ﻣﻦ ﺟﺎﺭﻩ
ﻣﺨﺎﻓﺔ ﻋﻠﻰ ﺃﻫﻠﻪ ﺃﻭ ﻣﺎﻟﻪ ﻓﻠﻴﺲ ﺍﻟﺠﺎﺭ ﺑﻤﺆﻣﻦ ‏».
“মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার
সাহাবীগণকে যিনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস
করলেন। তারা বলল, তাতো হারাম।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা হারাম
ঘোষণা করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, কোনও ব্যক্তি দশজন নারীর
সাথে যিনা করলে যে গুনাহ
প্রতিবেশীর স্ত্রীর
সাথে যিনা করা তার চেয়েও বেশি ও
মারাত্মক গুনাহ। তারপর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাদেরকে চুরি সম্পর্কে জিজ্ঞেস
করলেন। তারা বলল, তাতো হারাম।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা হারাম
ঘোষণা করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, দশ বাড়িতে চুরি করা যত বড়
অন্যায় প্রতিবেশীর
বাড়িতে চুরি করা এর চেয়েও বড় অন্যায়”।
[11]
দশ- দুই নারীর দৃষ্টান্ত; কে জান্নাতি?
প্রতিবেশীর সাথে মন্দ আচরণ, ব্যক্তির সব
আমল বরবাদ করে দেয়।
তাকে নিয়ে ফেলে জাহান্নামে।
যেমনটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত-
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ، ﺇِﻥَّ ﻓُﻠَﺎﻧَﺔَ
ﻳُﺬْﻛَﺮُ ﻣِﻦْ ﻛَﺜْﺮَﺓِ ﺻَﻠَﺎﺗِﻬَﺎ، ﻭَﺻِﻴَﺎﻣِﻬَﺎ، ﻭَﺻَﺪَﻗَﺘِﻬَﺎ، ﻏَﻴْﺮَ ﺃَﻧَّﻬَﺎ
ﺗُﺆْﺫِﻱ ﺟِﻴﺮَﺍﻧَﻬَﺎ ﺑِﻠِﺴَﺎﻧِﻬَﺎ، ﻗَﺎﻝَ: ‏« ﻫِﻲَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ‏» ، ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ
ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻓَﺈِﻥَّ ﻓُﻠَﺎﻧَﺔَ ﻳُﺬْﻛَﺮُ ﻣِﻦْ ﻗِﻠَّﺔِ ﺻِﻴَﺎﻣِﻬَﺎ، ﻭَﺻَﺪَﻗَﺘِﻬَﺎ،
ﻭَﺻَﻠَﺎﺗِﻬَﺎ، ﻭَﺇِﻧَّﻬَﺎ ﺗَﺼَﺪَّﻕُ ﺑِﺎﻟْﺄَﺛْﻮَﺍﺭِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻗِﻂِ، ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺆْﺫِﻱ ﺟِﻴﺮَﺍﻧَﻬَﺎ
ﺑِﻠِﺴَﺎﻧِﻬَﺎ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻫِﻲَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ‏»
“আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বর্ণিত, এক
ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, এক নারীর
ব্যাপারে প্রসিদ্ধ, সে বেশি বেশি
(নফল) নামায পড়ে, রোযা রাখে, দুই
হাতে দান করে। কিন্তু জবানের
দ্বারা স্বীয় প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়
(তার অবস্থা কি হবে?)। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, “সে জাহান্নামে যাবে”।
আরেক নারী বেশি (নফল) নামাযও
পড়ে না, খুব বেশি রোযাও
রাখে না আবার তেমন দান সদকাও
করে না; সামান্য দু-এক টুকরা পনির দান
করে। তবে সে জবানের
দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না (এই
নারীর ব্যাপারে কি বলেন?)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, “সে জান্নাতি”।[12]
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ـ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻋﻨﻪ ـ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ‏«ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻﻳﺆﻣﻦ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻﻳﺆﻣﻦ
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻﻳﺆﻣﻦ، ﻗﻴﻞ ﻣﻦ ﻳﺎﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ؟ ﻗﺎﻝ: ﺍﻟﺬﻱ ﻻﻳﺄﻣﻦ
ﺟﺎﺭﻩ ﺑﻮﺍﺋﻘﻪ ‏»
“আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, “আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়!
আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়!! আল্লাহর শপথ
সে মুমিন নয়!!! সাহাবীরা জিজ্ঞেস
করলেন, কে সেই বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত
লোক হে আল্লাহর রাসূল? রাসূ্লুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার
প্রতিবেশী নিরাপদ নয়”।[13]
প্রতিবেশীর হক কি?
প্রতিবেশীর হক কি তা আমাদের
জানা থাকা খুবই জরুরি। হক জানা থাকলে,
তা আমরা কিভাবে বাস্তবায়ন করব?
নিম্নে আমরা কুরআন ও হাদিসের
আলোকে প্রতিবেশীর
হকগুলো আলোচনা করব।
এক- প্রতিবেশীর কষ্ট দূর করা:
এটি প্রতিবেশীর হকসমূহের অন্যতম।
সাধারণত কাউকে কষ্ট দেওয়া এমনিতেই
হারাম। কিন্তু
কোনো প্রতিবেশীকে কষ্ট
দেওয়া এটি আরও জঘন্যতম অপরাধ ও
বেশি হারাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম
কোনো প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়ার
ব্যাপারে আরও বেশি সতর্ক
করে দিয়েছেন।
তিনি বিভিন্নভাবে প্রতিবেশীকে কষ্ট
দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। যেমন,
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন,
‏«ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﺆﻣﻦ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﺆﻣﻦ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﺆﻣﻦ ‏». ﻗﻴﻞ: ﻣَﻦْ
ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ؟ ﻗﺎﻝ : ‏« ﻣَﻦ ﻻ ﻳﺄﻣﻦ ﺟﺎﺭﻩ ﺑﻮﺍﺋﻘﻪ ‏» .
““আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়! আল্লাহর শপথ
সে মুমিন নয়!! আল্লাহর শপথ সে মুমিন নয়!!!
সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, কে সেই
লোক হে আল্লাহর রাসূল? রাসূ্লুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার
প্রতিবেশী নিরাপদ নয়”।[14]
অনুরূপভাবে মহিলার হাদিস, যে সালাত
আদায় করে, রোযা রাখে, কিন্তু তার মুখ
খুব ধারালো। সে তার
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। আল্লাহ রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার
সম্পর্কে বলেন,
‏« ﻻ ﺧﻴﺮ ﻓﻴﻬﺎ، ﻫﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ‏»
“তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নাই।
সে জাহান্নামী”।[15]
দুই- প্রতিবেশীর কষ্ট সহ্য করা:
এটি একটি উন্নত চরিত্র ও বড় মাপের
আখলাক। কারণ, কাউকে কষ্ট
দেওয়া হতে বিরত থাকার মানুষ অনেক
পাওয়া যাবে। তবে অপরের নির্যাতন
বা কারো কষ্ট সহ্য করার মত মানসিকতার
মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। এ জন্য
এটি একটি উন্নত গুণ এবং বিশেষ
বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ﭐﺩۡﻓَﻊۡ ﺑِﭑﻟَّﺘِﻲ ﻫِﻲَ ﺃَﺣۡﺴَﻦُ ﭐﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔَۚ ﻧَﺤۡﻦُ ﺃَﻋۡﻠَﻢُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﺼِﻔُﻮﻥَ ٩٦
﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ : ٩٦ ‏]
“যা উত্তম তা দিয়ে মন্দ প্রতিহত কর;
তারা যা বলে আমি তা সম্পর্কে অধিক
জ্ঞানী”।[16]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿ﻭَﻟَﻤَﻦ ﺻَﺒَﺮَ ﻭَﻏَﻔَﺮَ ﺇِﻥَّ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻟَﻤِﻦۡ ﻋَﺰۡﻡِ ﭐﻟۡﺄُﻣُﻮﺭِ ٤٣ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺸﻮﺭﻯ :
٤٣‏]
“আর যে ধৈর্যধারণ করে এবং ক্ষমা করে,
তা নিশ্চয় দৃঢ়সংকল্পেরই কাজ”।[17]
হাসান বসরী রহ. বলেন,
ﻟﻴﺲ ﺣُﺴْﻦُ ﺍﻟﺠﻮﺍﺭ ﻛﻒّ ﺍﻷﺫﻯ، ﺣﺴﻦ ﺍﻟﺠﻮﺍﺭ ﺍﻟﺼﺒﺮ ﻋﻠﻰ
ﺍﻷﺫﻯ
প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার
তাকে কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকা নয়,
তার কষ্ট সহ্য করাই হল তার
সাথে ভালো ব্যবহার।
ﻭﻓﻲ ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺫﺭ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻳﺤﺐ ﺛﻼﺛﺔ، ﻭﻳﺒﻐﺾ ﺛﻼﺛﺔ ‏» ، ﻭﺫﻛﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﻼﺛﺔ
ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺤﺒﻬﻢ : ‏«ﺭﺟﻞ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺟﺎﺭ ﺳﻮﺀ ﻳﺆﺫﻳﻪ ﻓﻴﺼﺒﺮ ﻋﻠﻰ
ﺃﺫﺍﻩ ﺣﺘﻰ ﻳﻜﻔﻴﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻳﺎﻩ ﺑﺤﻴﺎﺓ ﺃﻭ ﻣﻮﺕ ‏».
মুসনাদে আহমদে আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা
‘আলা তিন ব্যক্তিকে ভালোবাসেন
এবং তিন ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। তাদের
মধ্যে এক ব্যক্তি সে যার একজন মন্দ
প্রতিবেশী ছিল যে তাকে সব সময় কষ্ট
দিত এবং তার কষ্টের উপর লোকটি ধৈর্য
ধরছিল যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ তা
‘আলা তাদের মধ্যে জীবন মৃত্যুর
ফায়সালা না করেন”। [18]
আবু হানিফা রহ.-এর একটি ঘটনা:
ইমাম আবু হানিফা রহ.
সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণিত, তার একজন
প্রতিবেশী ছিল, যে তাকে প্রতিদিন
তার চলার পথে কষ্ট দিত। ইমাম আবু
হানিফা রহ. প্রতিদিন কষ্টদায়ক বস্তু পথ
থেকে দূর করত এবং তার কষ্টের উপর
ধৈর্য ধারণ করত। একদিন তিনি ঘর
থেকে বের হলেন, কিন্তু নির্ধারিত
কোনো কষ্টদায়ক বস্তু পথের
মধ্যে দেখতে পেলেন না। তিনি লোক
জনের নিকট তার প্রতিবেশীর খোঁজ খবর
নিলেন। তখন সবাই
তাকে জানালো যে লোকটি একটি ঘটনা
ঘটিয়েছে, যার কারণে তাকে পুলিশ
ধরে নিয়ে জেল খানায় প্রেরণ করেছে।
এ কথা শোনে আবু হানিফা রহ. থানায়
গিয়ে সুপারিশ করে, তাকে জেল
খানা থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন।
কিন্তু লোকটি জানতো না যে, কে তার
জন্য সুপারিশ করল?। জেল
খানা থেকে বের হয়ে সে মানুষের
কাছে জিজ্ঞাসা করল, কে আমার জন্য
সুপারিশ করল। মানুষ তাকে বলল, তোমার
প্রতিবেশী তোমার জন্য থানায়
গিয়ে সুপারিশ করেছে। লোকটি বলল,
কোন প্রতিবেশী? সবাই বলল, আবু
হানিফা। তারপর সে তাকে কষ্ট দেয়ার
কারণে লজ্জিত হল এবং কষ্ট
দেওয়া হতে বিরত থাকল।
একজন মন্দ প্রতিবেশীর ঘটনা:
প্রতিবেশীর সাথে মানুষের সম্পর্ক
সামান্য সময়ের নয়; বরং সকাল-সন্ধ্যা,
রাত-দিন, মাস ও বছরের
বা সারা জীবনের। এ
প্রতিবেশী যদি মন্দ হয়
তাহলে ভোগান্তির আর শেষ থাকে না।
তেমনি এক মন্দ প্রতিবেশীর ঘটনা হাদিস
শরীফে বর্ণিত হয়েছে।
ﻋﻦ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ ﺟَﺎﺀَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﺸْﻜُﻮ ﺟَﺎﺭَﻩُ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﻓَﺎﺻْﺒِﺮْ
ﻓَﺄَﺗَﺎﻩُ ﻣَﺮَّﺗَﻴْﻦِ ﺃَﻭْ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﻓَﺎﻃْﺮَﺡْ ﻣَﺘَﺎﻋَﻚَ ﻓِﻲ
ﺍﻟﻄَّﺮِﻳﻖِ ﻓَﻄَﺮَﺡَ ﻣَﺘَﺎﻋَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻄَّﺮِﻳﻖِ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻮﻧَﻪُ
ﻓَﻴُﺨْﺒِﺮُﻫُﻢْ ﺧَﺒَﺮَﻩُ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻳَﻠْﻌَﻨُﻮﻧَﻪُ ﻓَﻌَﻞَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ ﻭَﻓَﻌَﻞَ
ﻭَﻓَﻌَﻞَ ﻓَﺠَﺎﺀَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺟَﺎﺭُﻩُ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺍﺭْﺟِﻊْ ﻟَﺎ ﺗَﺮَﻯ ﻣِﻨِّﻲ ﺷَﻴْﺌًﺎ
ﺗَﻜْﺮَﻫُﻪُ
“আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কাছে এসে তার প্রতিবেশীর
ব্যাপারে অভিযোগ করল। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাকে বললেন, তুমি যাও, ছবর কর।
এভাবে সে দুই বার অথবা তিনবার আসার
পর পরের বারে নবীজী তাকে বললেন,
তোমার বাড়ির আসবাবপত্র রাস্তায়
নিয়ে রাখ। সাহাবী তাই করলেন। মানুষ
সেখান দিয়ে যাচ্ছিল এবং এর কারণ
জিজ্ঞেস করছিল আর
লোকটি প্রতিবেশীর অত্যাচারের
ঘটনা তাদেরকে জানাচ্ছিল।
লোকেরা ঐ লোকটিকে অভিশাপ
দিচ্ছিল, আর বলছিল আল্লাহ তার
সাথে এমন এমন করুন, কারণ সে এমন এমন
কাজ করেছে। এটা দেখে ঐ লোকের
প্রতিবেশী লোকটির কাছে এসে বলল,
আমি আর এমনটি করব না
(প্রতিবেশীকে কষ্ট দিব না।)।”।[19]
তিন- প্রতিবেশীর দোষ ঢেকে রাখা ও
ইজ্জত সম্মান বজায় রাখা:
পাশাপাশি থাকার কারণে একে অপরের
ভালো মন্দ কিছু জানাজানি হয়ই। গোপন
করতে চাইলেও অনেক কিছু গোপন
করা যায় না। প্রতিবেশীর এ সকল বিষয়
পরস্পরের জন্য আমানত। নিজের দুনিয়া ও
আখিরাতের কল্যাণেই একে অপরের
দোষ ঢেকে রাখা জরুরি। আমি যদি তার
দোষ প্রকাশ করে দিই তাহলে সেও আমার
দোষ প্রকাশ করে দিবে। আর
আমি যদি তার দোষ
ঢেকে রাখি তাহলে সেও আমার দোষ
গোপন রাখবে। আমাকে তো কারও মন্দ
আমলের জবাব দিতে হবে না।
প্রত্যেকেই তার নিজের আমলের জবাব
দিবে। প্রত্যেকেই তার আমল
অনুযায়ী প্রতিদান পাবে। আল্লাহ তা
‘আলা বলেন,
﴿ﻣَّﻦۡ ﻋَﻤِﻞَ ﺻَٰﻠِﺤٗﺎ ﻓَﻠِﻨَﻔۡﺴِﻪِۦۖ ﻭَﻣَﻦۡ ﺃَﺳَﺎٓﺀَ ﻓَﻌَﻠَﻴۡﻬَﺎۗ ٤٦
﴾ ‏[ ﻓﺼﻠﺖ : ٤٦‏]
“যে ব্যক্তি নেক আমল করে, তা তার
কল্যাণের জন্যই করে, আর যে খারাপ কর্ম
করে, তার পরিণতি তার উপরই বর্তাবে”।
[20]
আমি যদি আমার প্রতিবেশীর দোষ গোপন
করি, এর বদৌলতে আল্লাহও আমার এমন
দোষ গোপন রাখবেন, যা প্রতিবেশীও
জানে না। হাদিসে এসেছে,
‏« ﻣَﻦْ ﺳَﺘَﺮَ ﺃَﺧَﺎﻩُ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢَ ﺳَﺘَﺮَﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ … ‏»
“যে তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ
ঢেকে রাখে , আল্লাহও দুনিয়া ও
আখিরাতে তার দোষ
ঢেকে রাখবেন…”।[21]
চার- প্রতিবেশীর খোঁজ খবর রাখা:
আমরা শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত
থাকলে চলবে না।
আমি নিজে ভালো ভালো খেলাম অথচ
আমার প্রতিবেশী না খেয়ে রইল
এটি কোনো ঈমানদারের গুণ
হতে পারে না। ইবনে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏«ﻣﺎ ﺁﻣﻦ ﺑﻲ ﻣﻦ ﺑﺎﺕ ﺷﺒﻌﺎﻧًﺎ ﻭﺟﺎﺭﻩ ﺟﺎﺋﻊ ﺇﻟﻰ ﺟﻨﺒﻪ ﻭﻫﻮ
ﻳﻌﻠﻢ ‏»
“ঐ ব্যক্তি মুমিন নয় যে পেট পুরে খায় অথচ
সে জানে যে তার পাশের
প্রতিবেশী না খেয়ে আছে”।[22]
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, অনেক
প্রতিবেশীই এমন আছে, যাদের
দেখে বোঝার উপায় নেই যে,
তারা অভাবে দিন কাটাচ্ছে।
তারা কখনোই মানুষের কাছে হাত
পাতে না তারা কখনো কেনা কিছু
চাইবেও না। কুরআনে এদের
সম্পর্কে বলা হয়েছে-
﴿ ﻳَﺤۡﺴَﺒُﻬُﻢُ ﭐﻟۡﺠَﺎﻫِﻞُ ﺃَﻏۡﻨِﻴَﺎٓﺀَ ﻣِﻦَ ﭐﻟﺘَّﻌَﻔُّﻒِ ﺗَﻌۡﺮِﻓُﻬُﻢ ﺑِﺴِﻴﻤَٰﻬُﻢۡ ﻟَﺎ
ﻳَﺴَۡٔﻠُﻮﻥَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱَ ﺇِﻟۡﺤَﺎﻓٗﺎۗ ٢٧٣ ﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٧٣ ‏]
“না চাওয়ার কারণে অনব