মোবাইল ফোনের বেবহার: বৈধতার সীমা কতটুকু? পার্ট -2


মোবাইল ফোনের ক্রয়-বিক্রয় ক্যামেরাযুক্ত মোবাইলের ক্রয়-বিক্রয় নাজায়েয নয়, তবে… ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের একটি নিয়ম হলো, যেসব জিনিস সবসময় কিংবা বেশির ভাগ সময় গুনাহের কাজেই ব্যবহার করা হয় এবং যা দ্বারা গুনাহের কাজ ছাড়া অন্য কোনো ভালো বা জায়েয কাজ করা সম্ভব হয় না তা ক্রয়-বিক্রয় হারাম ও নাজায়েয। ইসলামি শরিয়তে কোনো প্রাণীর ছবি তোলা বা অঙ্কন করা হারাম ও নাজায়েয। কিন্তু কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য বা প্রাণহীন বস্তু যেমন- পাহাড়-নদী, গাছপালা, তরুলতা, আকাশ-সমুদ্র ইত্যাদির ছবি তোলা বা অঙ্কন করা হারাম বা নাজায়েয নয়। ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল দ্বারা যেহেতু নিষ্প্রাণ বস্তু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের স্থির ছবিও উঠানো যায় তাই তার ক্রয়-বিক্রয় নাজায়েয নয়। তবে তাকে নাজায়েয কাজে ব্যবহার করাকেই না জায়েয বলা হবে। অর্থাৎ এর দ্বারা কোনো প্রাণীর ছবি উঠানোকেই নাজায়েয বলা হবে। ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ক্রয়ের ক্ষেত্রে আমার (লেখকের) পরামর্শ হলো, প্রাণীর ছবি না উঠালেও খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এ ধরনের মোবাইল সেট ক্রয় থেকে বিরত থাকাই ভালো। কারণ, হাতের কাছে গুনাহের সরঞ্জমাদি থাকলে গুনাহ হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা নফ্স কিছুক্ষণের জন্য সাধু সাজলেও সুযোগ পেলে গুনাহ করে ফেলতে পারে। যখন তখন ফিরে যেতে পারে আপন স্বভাবে। এজন্যেই নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, ﻭَﻣَﺎ ﺃُﺑَﺮِّﺉُ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻨَّﻔْﺲَ ﻟَﺄَﻣَّﺎﺭَﺓٌ ﺑِﺎﻟﺴُّﻮﺀِ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﺭَﺣِﻢَ ﺭَﺑِّﻲ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑِّﻲ ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَﺣِﻴﻢٌ ﴿ ৫৩ ﴾ ( ﻳﻮﺳﻒ : ৫৩) আমি আমার নফ্সকে নির্দোষ মনে করি না। কারণ নফ্স অধিক পরিমাণে খারাপ কাজের নির্দেশপ্রদানকারী, তবে আমার রব যাকে রহম করেন, নিশ্চয় আমার রব অধিক ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু [সূরা ইউসুফ, আয়াত ৫৩] তাছাড়া শয়তান তো আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। পাপ কাজ করানোর জন্য সর্বদাই সে মানুষের পিছনে লেগে থাকে। তাই আজ হয়তো আপনার দৃঢ় একিন আছে যে, আপনি কখনোই প্রাণীর ছবি তুলবেন না। কিন্তু ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল হাতে থাকলে শয়তান হয়তো এক সময় সুযোগ পেয়ে আপনার অন্তরে একথার ওয়াস্ওয়াসা ঢেলে দিতে পারে যে, আরে! দু’একবার ছবি তুললে এমন কি পাপ হবে! দু’একবারের গুনাহ তো আল্লাহও ক্ষমা করেন!! তাছাড়া তাওবার দরজা তো খোলাই আছে ! তাই এখন একটু ছবি তুলে নাও। পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিও। অথবা বাসায় ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল থাকলে আপনি হয়তো প্রাণীর কোনো ছবি তুললেন না, কিন্তু আপনার পরিবারের দুর্বল ঈমানওয়ালা কাউকে দিয়ে শয়তান হয়তো প্রাণীর ছবি তোলাতে পারে। প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমি যেকথাটি বুঝাতে চাচ্ছি তাহলো- যেহেতু গুনাহের উপকরণ না থাকলে গুনাহের সম্ভাবনাও কম থাকে তাই ক্যামেরা সেট মোবাইল- যা দিয়ে যে কোনো সময় ছবি তোলা যায়, গান শোনা যায়- তা ক্রয় করা বা নিজের কাছে রাখা থেকে বিরত থাকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাই আবারো বলছি, একান্ত ঠেকা না হলে, ক্যামেরা ও ভিডিও সুবিধাযুক্ত মোবাইল সেট ক্রয় না করাই শ্রেয় এবং অধিক তাকওয়ার বিষয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন। [ইমদাদুল ফাতওয়া, খণ্ড : ৪ পৃষ্ঠা : ২৪৯ # আল আশবাহ ওয়ান্ নাযায়ের, পৃষ্ঠা : ৫৩ জাওয়াহিরুল ফিক্হ, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৪৪৬ বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩৫৯ আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ৮, পৃষ্ঠা : ২০২ আদ্দুররুল মুহতার, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৩৯১] র চুরি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল সেট ক্রয় করা জায়েয নেই আজকাল মোবাইল ফোনের ব্যবহার অত্যধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মোবাইল সেট চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এখন কোনো চোর বা ছিনতাইকারী বা তাদের কোনো লোক যদি এ ধরনের মোবাইল সেট বিক্রি করে তাহলে অন্যের জন্য জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে তা ক্রয় করা জায়েয হবে না। অনুরূপভাবে কারো মোবাইল যদি হারিয়ে যায় এবং অন্য কেউ পেয়ে তা বিক্রি করে তাহলে তাও জেনেশুনে ক্রয় করা জায়েয হবে না। [আপ কা মাসায়েল আউর উন কা হল, খণ্ড : ২ পৃষ্ঠা : ১১৩] সাধারণ সেট নামীদামী কোম্পানির নামে চালানোও নাজায়েয অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে সাধারণ ও কমদামী মোবাইল সেট নামীদামী কোম্পানি যেমন নকিয়া, স্যামসং ইত্যাদির লেভেল লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে। এভাবে এক কোম্পানির মাল অন্য কোম্পানির লেভেল দিয়ে বিক্রি করা হারাম ও নাজায়েয। কারণ এরদ্বারা মানুষকে ধোকা দেওয়া হয় এবং অন্যায়ভাবে অন্যের মাল হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আল্লাহ আমাদেরকে এ থেকে হেফাজত করুন। আমীন। [মুসলিম শরিফ, খণ্ড : ২ পৃষ্ঠা : ২] মোবাইল ফোন : বিবিধ তালিবে ইল্মদের হাতে মোবাইল! তালিবে ইল্ম তথা ছাত্রদের কাছে মোবাইল রাখা মোটেও উচিত নয়। কেননা তাদের কাছে মোবাইল রাখার দ্বারা যতটা না লাভ হয়, তার চেয়ে ক্ষতি হয় কয়েকশ গুণ বেশি। তাই তো এক মনীষী বলেছেন- “তালেবে ইল্মের কাছে মোবাইল থাকার অর্থই হলো, তার তলবের মাদ্দা ও জ্ঞানার্জনের আগ্রহ খতম হয়ে যাওয়া এবং ধীরে ধীরে ধ্বংস ও বরবাদির পথে এগিয়ে যাওয়া। সুতরাং ছাত্ররাই এবার সিদ্ধান্ত নিক্ তারা কি জ্ঞানার্জনের স্পৃহা নিঃশেষ করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে? নাকি জ্ঞানার্জনের স্পৃহা বাকী রেখে প্রকৃত আলেম হওয়ার চেষ্টা করবে?” লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়াই কেবল ফ্যাশন হিসেবে মোবাইল ব্যবহার করে অর্থের চেয়ে অধিক মূল্যবান জিনিস ‘সময়’ অপচয়ে লিপ্ত। আক্ষেপের বিষয় হলো, আমাদের তালেবে ইল্ম ভাইয়েরাও এই মহামারি থেকে নিরাপদ নয়। আজকাল তাদের অনেকের হাতেই মোবাইল ফোন দেখা যায়। কেউ গোপনে রাখে, কেউ প্রকাশ্যে ব্যবহার করে। অথচ আমার বুঝে আসে না যে, ইল্ম চর্চার প্রতি গভীর মনোনিবেশের সাথে ‘মোবাইল চর্চা’ একত্র হয় কীভাবে? তদুপরি এটা নিশ্চিত যে, তালেবে ইল্মের জন্য এই ‘বস্তুটা’ প্রয়োজনের আওতায় পড়ে না। বরং এটা তাদের জন্য একটা অতিরিক্ত জিনিস। তাই এর পেছনে পড়ার মানে একথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আমি তালেবে ইল্ম নই। তাই তালেবে ইল্মরা যদি নিজেদের কল্যাণ চায়, তাহলে তাদেরকে সর্বপ্রথম মোবাইল পরিত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি সর্বপ্রকার ব্যস্ততা ও প্রতিবন্ধকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে একাগ্রতার সাথে ইল্ম চর্চায় নিমগ্ন হতে হবে। এছাড়া দীনের সঠিক বুঝ ও ইল্মি ময়দানে পাকা-পোক্ত হওয়ার আশা করা যায় না। মোবাইলে কোরআন তিলাওয়াত রেকর্ড করা লিখিত কোরআনের ন্যায় কোরআন তিলাওয়াতও ডাউনলোড কিংবা রেকর্ড করা জায়েয। এতে কোনো সমস্যা নেই। এর হুকুম অন্যান্য রেকর্ডারের মতোই। তবে যখন তিলাওয়াত অন করা হবে তখন খুব মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত শুনতে হবে। এমন যেন কখনোই না হয়, একদিকে তিলাওয়াত চলছে আর অপর দিকে সে অন্য কাজে ব্যস্ত। কেননা এরূপ করা তিলাওয়াতের আদব পরিপন্থী কাজ। [মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল, ২০০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠা : ২৪] মোবাইলে লিখিত কোরআন রেকর্ড করা অনেকে লিখিত কোরআন শরিফ বা তার অংশবিশেষ ডাউনলোড করে মেমোরিতে সংরক্ষণ করে রাখে। এমনিভাবে কেউ কেউ আবার হাদিস বা হাদিসের টুকরোও স্বীয় মোবাইলে সেভ করে রাখে। এরূপ করা জায়েয। তবে যখন তা স্ক্রীনে আনা হয় তখন খুব ভালো করে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোরআন বা হাদিসের সাথে কোনো ধরনের বেআদবী না হয়। যেমন, এ অবস্থায় বাথরুম বা কোনো নাপাক স্থানে যাওয়া। উল্লেখ্য যে, কোরআন শরিফ স্ত্রীনে কিংবা মেমোরীতে থাকা অবস্থায় বিনা অজুতে মোবাইল ধরা বা স্পর্শ করা যাবে। [ফাতাওয়া শামী, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫১৯ মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল, ২০০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠা : ২৪] মোবাইল স্ক্রীনে ছবি সেভ করা মোবাইলের যে অংশে নম্বর, নাম, লেখা ইত্যাদি দেখা যায় তাকে মোবাইল স্ক্রীন বা ডিসপ্লে ইউনিট বলে। অনেককে দেখা যায় মোবাইল স্ক্রীনে নিজের ছবি, বাচ্চাদের ছবি, বন্ধু-বান্ধবদের ছবি, প্রিয়জনদের ছবি বা অন্য কোনো প্রাণীর ছবি সেভ করে রাখে। এরূপ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। কারণ শরয়ি ওজর ছাড়া কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি উঠানো যেমন গুনাহ তেমনি সেভ করে রাখাও গুনাহ ও নাজায়েয। মোবাইল স্ক্রীনে ছবি সেভ করে রাখার আরেকটি খারাবি এই যে, এর দ্বারা ছবির প্রদর্শনী হয় এবং ছবি খুলে রাখা হয়। যা রহমতের ফেরেশতা আগমনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। হাদিস শরিফে আছে, ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশ্তা প্রবেশ করে না যেখানে কুকুর বা প্রাণীর ছবি থাকে। আর স্ক্রীনের ছবিটি যদি কোনো মহিলার হয় তবে তো গুনাহের পরিমাণ আরো অনেক বেশি হবে। কেননা এক্ষেত্রে গাইরে মাহরামদের জন্য ছবিটি দেখা এবং অন্যদের দেখানোর ভিন্ন গুনাহ হবে। মোটকথা মোবাইল স্ক্রীনে কোনো অবস্থাতেই মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর ছবি সেভ করে রাখা যাবে না। [বোখারি শরিফ, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৮৮০ মুসলিম শরিফ খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২০০ ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড : ৫, পৃষ্ঠা : ৩৫৯ আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ১৭২ শামী, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫১৯ আল মাদখাল ইবনুল হাজ, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২৭৩ বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩০৪] মোবাইল স্ক্রীনে আয়াত, জিকির বা এগুলোর ক্যালিগ্রাফী সেভ করা মোবাইল স্ক্রীনে পবিত্র কোরআনের আয়াত, আল্লাহ তাআলার নাম, জিকির বা এগুলোর ক্যালিওগ্রাফী সেভ করে রাখা ঠিক নয়। কেননা ক্ষেত্রবিশেষে এসব মর্যাদাপূর্ণ জিনিসের সাথে বেয়াদবি হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া সাধারণত দেখা যায়, মোবাইল খুব একটা সম্মানের সাথে ব্যবহার করা হয় না। বরং অধিক ব্যবহারের ফলে যত্রতত্র রাখা হয়। অনেক সময় ফ্লোরে, নীচে কিংবা বসার স্থানে রাখা হয়। চার্জের প্রয়োজনেও কোনো কোনো সময় নীচে রাখতে হয়। তদুপরি মোবাইল ব্যবহারকারী মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যায়, পায়জামা বা প্যান্টের পকেটে রাখে। মোটকথা, যেহেতু স্ক্রীনে দৃশ্যমান অবস্থায় এসব সম্মানিত বস্তুর সম্মান বজায় রাখা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠে না, তাই মোবাইল স্ক্রীনে এগুলো সেভ করে রাখা উচিত নয়। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৫০ শামী, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫১৯] ম্যাসেজের মাধ্যমে ছবি প্রেরণ ম্যাসেজের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য, ফুল, ফল বা অন্যান্য বস্তুর ছবি পাঠাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর ছবি পাঠানো জায়েয নেই। কেননা এক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়া ছবির ব্যবহার হচ্ছে। আর ছবিটি যদি কোনো গাইরে মাহরাম মহিলার হয় তবে তো পর্দার হুকুম লঙ্ঘন করার গুনাহ হবে। সাধারণত দেখা যায়, এ ধরনের ছবি যার কাছে পাঠানো হচ্ছে সে তো দেখেই, সেই সাথে আশেপাশের অন্যান্য পুরুষও দেখে। এতে ব্যাপকভাবে পর্দা লঙ্ঘনের গুনাহ হয়। তাই এ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। [সহীহ মুসলিম, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২০০ আল মাদখাল, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২৭৩] মোবাইল দ্বারা ছবি তোলা বা ভিডিও করা মোবাইল দ্বারা কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি উঠানো এবং তা সংরক্ষণ করে রাখা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। অনুরূপভাবে মোবাইলের সাহায্যে ভিডিও করাও হারাম ও নাজায়েয। মুফতী শফী রহ. বলেন, কলমের সাহায্যে যেমন জীব-জন্তুর ছবি আঁকা জায়েয নেই অনুরূপভাবে কোনো মেশিনের সাহায্যেও ছবি তৈরি করা বা প্রেসে ছাপা জায়েয নেই। [তাসভীর কি শরয়ি আহকাম, পৃষ্ঠা : ৬১ শামী, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫১৯ উমদাতুল ক্বারী, খণ্ড : ১২, পৃষ্ঠা : ৩৯] নির্ধারিত সময়ে খরচের শর্তে বোনাস ঘোষণা ও তার হুকুম বর্তমানে মাঝে মাঝে প্রায় সব ক’টা মোবাইল কোম্পানি নির্ধারিত পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে এর উপর একটা আকর্ষণীয় বোনাস টক টাইমের অফার দেয়। তবে এক্ষেত্রে তারা অনেক সময় শর্ত জুড়ে দেয় যে, এতদিনের মধ্যে এই বোনাস টকটাইম খরচ করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, মোবাইল কোম্পানিগুলোর এধরনের বোনাস ঘোষণা করা এবং গ্রাহক কর্তৃক এরূপ বোনাস প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে রিচার্জ করার হুকুম কি? আসলে মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহককে স্বল্প সময়ে অধিক মোবাইল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে বেশি মুনাফা লাভের জন্য এ ধরনের অফার দিয়ে থাকে। এটা মূলত গ্রাহকদেরকে প্রলোভন দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। যেহেতু মোবাইল কোম্পানিগুলোর শর্ত থাকে, নির্ধারিত মেয়াদের ভিতর বোনাস টকটাইম খরচ করতে হবে, অন্যথায় বোনাসের সুযোগ হারাতে হবে। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কথা বলে এই বোনাস টকটাইম শেষ করে। এতে নিঃসন্দেহে গ্রাহকের সময়ের অপচয় ও অর্থের অপব্যয় হয়। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এবং অধিকমাত্রায় কথা বলার খারাবি তো আছেই। ব্যবসার এমন পলিসি শরিয়ত পছন্দ করে না। তাই মোবাইল কোম্পানিগুলোকে এ ধরনের অফার দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। হ্যাঁ, বোনাস যদি দিতেই চায় তবে তা খরচের জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দিতে হবে। যাতে ব্যবহারকারীরা অপ্রয়োজনীয় খরচে বাধ্য না হয়। এবার রইল গ্রাহকদের বিষয়টি। এ ব্যাপারে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যে গ্রাহক এই অফার গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় কাজেই খরচ করবে, অপ্রয়োজনীয় কথা বলবে না বা বলতে বাধ্য হবে না তার জন্য এ অফার গ্রহণ করা জায়েয। কিন্তু এ অফার গ্রহণ করার কারণে যদি অপ্রয়োজনীয় কল করতে হয় কিংবা অহেতুক লম্বা আলাপ জুড়তে হয় তাহলে সময় ও অর্থ অপচয়ের গুনাহ হবে। তাই এমন গ্রাহকের জন্য এই অফার বর্জন করা জরুরি। [সহায়তায়, মোবাইল ও সাক্ষাৎ : আদাব ও মাসায়েল- মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক] সর্বোচ্চ এসএমএসকারীকে পুরস্কার প্রদান অনেক সময় দেখা যায়, নির্ধারিত মেয়াদের ভিতর সর্বোচ্চ এসএমএসকরীকে কোনো কোনো মোবাইল কোম্পানি পুরস্কৃত করে থাকে। এই পুরস্কার ঐ ব্যক্তির জন্য গ্রহণ করা জায়েয যে প্রয়োজনে এসএমএস করে থাকে। কিন্তু কেউ যদি পুরস্কার লাভের আশায় বিনা প্রয়োজনে এসএমএস করে থাকে এবং পুরস্কারও পেয়ে যায় তাহলে এমন ব্যক্তির জন্য ঐ পুরস্কার গ্রহণ করা ঠিক হবে না। [সূত্র : বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছারা, ২/২২৯ কারযাবী ২/৪২০] ইনকামিং কলের উপর প্রাপ্ত বোনাস বৈধ বাংলালিংক, টেলিটক ইত্যাদি কোম্পানি ইনকামিং কলের উপর বোনাস দিয়ে থাকে। গ্রাহকদের জন্য এই বোনাস গ্রহণ করা বৈধ। ইনকামিং কলে রিসিভকারীর যদিও কোনো খরচ হয় না তথাপি বোনাস গ্রহণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানি আন্ত:সংযোগ ফী বাবদ অন্য কোম্পানি থেকে বিল পেয়ে থাকে। মূলত সেটির বৃদ্ধির লক্ষ্যেই কোনো কোনো মোবাইল কোম্পানি এমন সুবিধা দিয়ে থাকে। তাছাড়া কোনো কোম্পানি যদি তার গ্রাহকদেরকে কোনো শর্ত বা কারণ ছাড়াই কোনো টকটাইম ফ্রী দেয় তবে সেটিও গ্রহণ করা জায়েয। এটা গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা বলে বিবেচিত হবে। [সূত্র : বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছারা, ২/২২৯ কারযাবী ২/৪২০] ডাউনলোড ব্যবসা কি জায়েয ? বর্তমানে এমন অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা কম্পিউটারের সাহায্যে মোবাইলের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার প্রাণীর ছবি, রিংটোন, মিউজিক, গান, ভিডিও ইত্যাদি ডাউনলোড করেন এবং এ বাবদ কাস্টমারদের থেকে নির্ধারিত হারে টাকা নেন। এই ডাউনলোড ব্যবসা নাজায়েয এবং এ ধরনের ডাউনলোড থেকে উপার্জিত অর্থও হালাল নয়। কারণ এসব জিনিস ডাউনলোড করার দ্বারা নিজের তো গুনাহ হয়ই, উপরন্তু অপরের নিকট গুনাহের উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তবে কোনো বৈধ চিত্র, জায়েয রিংটোন, বাজনাবিহীন গজল ইত্যাদি ডাউন লোড করা জায়েয এবং এ থেকে উপার্জিত অর্থও হালাল। [সহিহ বোখারি, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২৯৮ সহিহ মুসলিম, পৃষ্ঠা : ২১৯ শরহে নববী, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২৯ আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ৮, পৃষ্ঠা : ১৯ আদ্ র্দুরুল মুখতার, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৫৫] কল রিসিভের সুবিধা দিয়ে বিনিময় নেওয়া যাদের মোবাইল নেই বা থাকলেও টিএণ্ডটি ইনকামিং নেই; বিদেশ বা অন্য কোথাও থেকে দোকানীর মোবাইলে তাদের কোনো কল আসলে সে গ্রাহক থেকে কিছু টাকা নিয়ে থাকে। অথচ এ বাবদ দোকানীর এক টাকাও খরচ হয় না। এ টাকা নেওয়া কি দোকানীর জন্য জায়েয? হ্যাঁ, এ টাকা নেওয়া দোকানীর জন্য জায়েয ও বৈধ। কেননা এখানে দোকানীর কোনো খরচ বাহ্যত না দেখা গেলেও তার মোবাইল সেট ও লাইন ব্যবহার হচ্ছে। সেই সাথে তার ব্যয় হচ্ছে সময়ও। তাই সে এগুলোর ন্যায্য বিনিময় নিতেই পারে। এ সেবা ফ্রি দিতে দোকানী বাধ্য নয়। যদি দেয় তবে তা ভিন্ন কথা। [মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল ২০০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠা : ২২] কল রিসিভের আগের সময়ের বিল নেওয়া জায়েয নয় সাধারণত দেখা যায়, ডায়াল করার প্রায় ১০/১৫ সেকেণ্ড বা তারও বেশি সময় পরে অপর প্রান্ত থেকে মোবাইল রিসিভ করা হয় এবং রিসিভ করার পর থেকেই সময় গণনার হিসাব শুরু হয়। কিন্তু কোনো কোনো মোবাইল কোম্পানির বেলায় এর ব্যতিক্রম নিয়মও পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ এসব মোবাইল কোম্পানির মিনিট গণনার হিসাব রিসিভ করার পর থেকে শুরু না হয়ে ডায়াল করার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। ফলে রিসিভ করার আগে যে সময়টুকু অতিবাহিত হয়, মোবাইল ব্যবসায়ীরা গ্রাহক থেকে তার বিলও আদায় করে। অথচ কল রিসিভের আগের সময়ের বিল নেওয়া জায়েয নয়। কেননা এক্ষেত্রে গ্রাহকের সাথে চুক্তি হলো, কল রিসিভ করার পর থেকে যত মিনিটের কথা হবে তার বিল নিবে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে আমাদের দেশে ডায়াল করার পর থেকেই সময় গণনার এই নিয়মটি শুধুমাত্র সিটিসেল মোবাইল কোম্পানির ক্ষেত্রেই দেখা যায়। ফলে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেক মোবাইল ব্যবসায়ী তাদের দোকানে সিটিসেল সিম ব্যবহার করে থাকেন। তাই সিটিসেল সিম দিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করতে চাইলে হয়তো মোবাইল ব্যবসায়ী নিজেই কল করবেন এবং অপর প্রান্ত থেকে রিসিভ করার পর সঙ্গে সঙ্গে সময় দেখে নিয়ে গ্রাহকের হাতে মোবাইল হস্তান্তর করবেন। অথবা তিনি পৃথক মিনিটমাইণ্ডার রাখবেন যদ্বারা রিসিভ করার সময় থেকে মিনিটের হিসাব করা হবে। অথবা কল ডিউরেশন অপশন থেকেও শেষ কলের মোট সময় জেনে নেওয়া যেতে পারে। [সূরা নিসা : ২৯ মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল ২০০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠা : ২২] ভুল নাম্বারে কল চলে গেলে বিল দেবে কে? মোবাইলে যে নাম্বারে ফোন করা হয় সে নাম্বারেই যায়। সঠিক নাম্বারে রিং করার পরও ভুল নাম্বারে চলে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাই ভুল নাম্বারে চলে গেলে বুঝতে হবে নিশ্চয়ই ভুল নাম্বারে ডায়াল করা হয়েছে। এখন এ ভুল দোকানীর যেমন হতে পারে তেমনি গ্রাহকেরও হতে পারে। দোকানীর ভুল এ হতে পারে যে, সে হয়তো নাম্বার টিপার সময় একটির পরিবর্তে অন্যটি টিপেছে। অথবা এমনও হতে পারে যে, গ্রাহকের মুখ থেকে শুনে দোকানী তার খাতায় নম্বর লিখার সময়ই ভুল লিখেছে। ফলে সেখান থেকে দেখে দেখে নম্বর টিপে ডায়াল করার কারণে তা ভুল নাম্বারে চলে গেছে। আর গ্রাহকের ভুল এ হতে পারে যে, সে নাম্বার বলার সময় ভুল বলেছে। যাহোক এ ক্ষেত্রে সমাধান হলো, ভুল যার দায় তার। সুতরাং দোকানীর ভুল হলে এই ভুলের ক্ষতি তারই। তাই সে গ্রাহক থেকে এ বাবদ কোনো বিল নিতে পারবে না। তবে ভুল যদি গ্রাহকের হয়ে থাকে তবে তার ক্ষতিপূরণ তাকেই দিতেই হবে। [মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল ২০০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠা : ২২] পরবর্তী মিনিটের ১/২ সেকেণ্ড হলেও পুরো মিনিটের বিল নেওয়া জায়েয ফোন দোকানীরা সাধারণত মোবাইল কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত পাল্স সুবিধা গ্রাহকদেরকে দেয় না। তারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় মিনিট শুরু হলেই পুরো মিনিটের বিল নেয়। যেমন কোনো গ্রাহক তার প্রয়োজনীয় কথা শেষ করার পর দেখল, এক মিনিট এক সেকেণ্ড হয়েছে বা দুই মিনিট এক সেকেণ্ড হয়েছে। এমতাবস্থায় দোকানীরা ঐ গ্রাহক থেকে দেড় বা আড়াই মিনিটের বিল না নিয়ে পুরো দুই বা তিন মিনিটের বিল নেয়। পাল্স সুবিধা না দিয়ে এভাবে পুরো মিনিটের বিল নেওয়া দোকানীদের জন্য জায়েয। কেননা, ফোন ব্যবসায়ীদের জন্য মোবাইল কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত পাল্স সুবিধা গ্রাহকদের দেওয়া জরুরি নয়। তবে উত্তম হলো, পাল্স সুবিধা দেওয়া। হ্যাঁ, যদি সে পাল্স সুবিধা দিতে না-ই চায় তাহলে উত্তম হলো, সবার চোখে পড়ে এমন কোনো জায়গায় একটু বড় অক্ষর দিয়ে একথা লিখে রাখা যে, এখানে পরবর্তী মিনিটের এক সেকেণ্ড হলেও পুরো মিনিটের বিল নেওয়া হয়। এরূপ লিখে রাখার ফলে গ্রাহক সময়ের প্রতি খেয়াল রেখে কথা বলবে। তথাপি ১/২ সেকেণ্ড বেশি হয়ে গেলে সেজন্য পুরো মিনিটের বিল দেওয়া- নেওয়া নিয়ে কোনো প্রকার কথা কাটাকাটিও হবে না। [মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল ২০০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠা : ২২] মোবাইল কার্ড নির্ধারিত মূল্য থেকে কম-বেশিতে বিক্রয় করা জায়েয হবে কি? বর্তমানে দেখা যায় কিছু কিছু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্য থেকে ২/৪টাকা বেশিতে মোবাইল কার্ড (স্ক্র্যাচকার্ড) বিক্রি করেন। যেমন, ৫০ টাকার কার্ড ৫২ বা ৫৪ টাকায় বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ নির্ধারিত মূল্য থেকে কিছু কমও রাখেন। যেমন ৩০০ টাকার কার্ড ২৯০ টাকায় দিয়ে দেন। প্রশ্ন হলো, এরূপ করা কি জায়েয ? এটা কি সুদ হবে ? হ্যাঁ, এভাবে কম-বেশিতে মোবাইল কার্ড বিক্রি করা জায়েয। তাছাড়া এটা সুদও নয়। কেননা মোবাইল কার্ডের গায়ে যে মূল্য লিখা থাকে সেটা মূলত একটি নির্ধারিত পরিমাণ আউটগোয়িং সেবা তথা টেলিযোগাযোগ সুবিধার প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যান্য সেবার মত এটিও একটি সেবা যা বিক্রয়যোগ্য। সুতরাং কার্ডের গায়ের দাম যেহেতু টাকা নয় তাই তা কম বেশিতে বিক্রি করা সুদও নয়। তবে এখানে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, কোনো কোম্পানি থেকে কোনো পণ্য বা সেবার মূল্য নির্ধারিত করে দিলে ঐ নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করা উচিত। কম-বেশি করা ঠিক নয়। কেননা এতে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। [ফাতহুল কাদীর, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ১৫৯ তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৪০০] ভুল ব্যালেন্স : শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো কোনো সময় দেখা যায়, ভুল কমাণ্ড দেওয়ার কারণে বা কম্পিউটারের ত্রুটিজনিত অন্য কোনো কারণে কারো কারো মোবাইলে ভুল ব্যালেন্স দৃষ্টিগোচর হয়। যেমন, ব্যালেন্সে টাকা কম থাকা সত্ত্বেও বেশি দেখায় কিংবা ব্যালেন্সে টাকা না থাকলে ব্যালেন্স উঠে থাকে। কোনো কোনো সময় তো এমনও হয় যে, ব্যালেন্সে কোনো টাকা দেখা যায় না ঠিকই, কিন্তু অন্যের কাছে কল যায় এবং দীর্ঘক্ষণ কথাও বলা যায়। উপরে বর্ণিত সুযোগ গ্রহণ করা কারো জন্য জায়েয নয়। অর্থাৎ নিজের জমা টাকার বেশি খরচ করা কিংবা ব্যালেন্সে কোনো টাকা না থাকা সত্ত্বেও মোবাইল ব্যবহার করে টাকা খরচ করা জায়েয নয়। কেউ যদি এরূপ করে থাকে তাহলে তাকে কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে কিংবা সরাসরি হাজির হয়ে একথা অবহিত করতে হবে। বলতে হবে, আমি এত মিনিট অতিরিক্ত কথা বলেছি। এর বিল পরিশোধের জন্য আমার করণীয় কি বলে দিন। অতঃপর তারা যেভাবে বলবে সেভাবে টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর এই টাকা পরিশোধের মাধ্যমেই দায় মুক্ত হওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে, যেহেতু কোম্পানির কাছে ব্যবহৃত কলের টাকা পৌঁছানো সম্ভব তাই এই টাকা সদকা করে দেওয়া যথেষ্ট নয়। [আল বাহরুর রায়েক, খণ্ড : ৮, পৃষ্ঠা : ১০৯ খুলাসাতুল ফাতাওয়া, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ২৭২ আদ্দুররুল মুখতার, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ১৭৯] নির্ধারিত বিলের চেয়ে বেশি বিল করলে… কল করা কিংবা যে কোনো সেবা প্রদানের জন্য মোবাইল কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ চার্জ ঘোষণা করা হয় সে পরিমাণ চার্জই করতে হবে। এর বেশি করতে পারবে না। কোনো কোম্পানির জন্য ঘোষিত চার্জের চেয়ে বেশি চার্জ করা বা পোস্ট-পেইডে বেশি বিল করা জায়েয নয়। বেশি চার্জ করলে কাস্টমার কেয়ারে জানাতে হবে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ ভুল জানতে পারলে তা অবশ্যই শোধরে নিতে হবে। যদি শোধরে না নেয় অর্থাৎ কোনো না কোনোভাবে যদি গ্রাহককে তার অতিরিক্ত চার্জ পরিমাণ সেবা প্রদান না করে তাহলে মোবাইল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে এবং এজন্য তারা গুনাহগার হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻟَﺎ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ ﺗَﻜُﻮﻥَ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓً ﻋَﻦْ ﺗَﺮَﺍﺽٍ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﴿ ২৯ ﴾ ( ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ২৯) হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পর সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা কর তা ব্যতীত অন্যকোনো উপায়ে অন্যায়ভাবে অন্যের মাল আত্মসাৎ করো না। [সূরা নিসা : ২৯] ইন্টারনেটে মোবাইল সার্চ করার হুকুম ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং-এর বিস্তৃত পদ্ধতি। ইন্টারনেটের সুবাদে সমস্ত বিশ্বের কম্পিউটারগুলো এক অভিন্ন সুতোয় গাঁথা হয়ে গেছে। কম্পিউটারের কী বোর্ডে আঙুলের সামান্য স্পর্শেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে তথ্য ছুটে যাচ্ছে অন্য প্রান্তে। আবার অন্য প্রান্ত থেকে তথ্য আসছে এ প্রান্তে। ইন্টারনেটের কাজের পরিধির যেমন কোনো শেষ নেই, তেমনি এর বৈশিষ্ট্যেরও সিমানা নির্ধারিত নেই। তাই ইন্টারনেট কী করছে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তো সহজ কিন্তু ইন্টারনেট কী করছে না এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ নয়। কারণ ইন্টারনেট কম্পিউটার সংক্রান্ত সবকিছুই করছে নিমেষের মধ্যে। মোটকথা, ইন্টারনেট হলো তথ্যের এক বিশাল জগত। এখানে যেমন নাজায়েয বস্তু এবং দুনিয়ার সকল অশ্লীল জিনিস আছে তেমনি ভালো ও দীনি বিষয়ে জানারও অনেক কিছু আছে। তাই ইন্টারনেটের উপর ব্যাপকভাবে কোনো হুকুম আরোপ করা যাবে না। বরং এর হুকুম হবে ব্যবহারকারী হিসেবে। ব্যবহারকারী যদি এ থেকে নাজায়েয ও অবৈধ জিনিস সার্চ করে- চাই তা কম্পিউটারের মাধ্যমে হউক বা মোবাইলের মাধ্যমে হউক- তবে তা গুনাহ হবে। আর ব্যবহারকারী যদি বৈধ ও জায়েয বস্তু সার্চ করে তবে তা জায়েয হবে। [বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসারা, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩৫৯ রদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৩৫০] মেমোরী কার্ড ও ডাটা ক্যাবল ক্রয়-বিক্রয় জায়েয যেহেতু মেমোরী কার্ড এবং ডাটা ক্যাবলের ব্যবহার ক্ষেত্র নাজায়েয হওয়া সুনির্দিষ্ট নয় তাই এগুলোর ক্রয়-বিক্রয়ও নাজায়েয নয়। কেননা, নিয়ম হলো কোনো জিনিসের ব্যবহার ক্ষেত্র নাজায়েয হওয়া সুনির্দিষ্ট না হলে তা ক্রয়- বিক্রয়ও নাজায়েয হয় না। মেমোরী কার্ডে কোরআনু কারিমের তিলাওয়াত, হামদ, নাত, গজল, প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রাণহীন বস্তুর ছবি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা যেতে পারে। আর ডাটা ক্যাবলের মাধ্যমে ক