মোবাইল ফোন বেবহার: বৈধতার সীমা কতটুকু? পার্ট -1:


মোবাইল ফোন ব্যবহার: বৈধতার সীমা কতটুকু? লেখকের কথা মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে একটি বই লিখার ইচ্ছা বহুদিন থেকেই আমার ছিল। এই বই প্রকাশের মাধ্যমে সে ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে। তাই মহান আল্লাহর দরবারে জানাই লাখো- কোটি শুকরিয়া। যুগে যুগে বিজ্ঞানীগণ যত নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছেন হক্বানী উলামায়ে কেরাম নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোরআন- হাদিস মন্থন করে সেসব ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি ও তৎসম্পর্কিত যাবতীয় মাসআলা-মাসায়েল অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। ভবিষ্যতেও যত নতুন জিনিস আবিষ্কার হবে উলামায়ে কেরাম কোরআন ও সুন্নাহের আলোকে তার সঠিক সমাধান পেশ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ। বর্তমান বিশ্বে যেসব নতুন আবিষ্কার অতি দ্রুত শহর-বন্দর ও গ্রাম-গঞ্জের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে তন্মধ্যে মোবাইল ফোন একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। ধনী-গরীব, পুরুষ-মহিলা, যুবক-বৃদ্ধ- সকলের হাতেই এখন মোবাইল ফোন শোভা পায়। ক্ষুদ্র এই যন্ত্রটি আবিষ্কারের ফলে একদিকে যেমন সুযোগ-সুবিধার বিশাল দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তেমনি মোবাইলের মাধ্যমে মহামূল্যবান সময় নষ্টসহ নানাবিধ গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ারও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মকভাবে। অনেকে মোবাইলকে প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছে বেশি। আবার অনেকে ব্যবহার করছে অন্যায় কাজে। টেলিভিশন, সিনেমা ইত্যাদি দেখা গুনাহের কাজ- একথা সবার জানা থাকার কারণে উচুঁ পর্যায়ের দীনদার লোকেরা তো বটেই, অসংখ্য সাধারণ দীনদার লোকেরাও অন্তত লোক-লজ্জার ভয়ে হলেও এসব থেকে দূরে থাকত। কিন্তু মোবাইল ফোন আবিষ্কারের পর উহার বৈধতার সুযোগ নিয়ে অনেক লোক তাকে ‘জায়েয ও বৈধ ব্যবহারের পাশাপাশি নানাবিধ অবৈধ ও গুনাহের কাজে’ ব্যবহার করছে। যেমন, গান শোনা, ছবি তোলা, ছবি দেখা, ভিডিও করা ইত্যাদি। মোবাইলের মাধ্যমে এসব গুনাহের কাজ ইচ্ছা করলে লোকচক্ষুর অন্তরালেও করা সম্ভব বিধায় এসবের পরিমাণ ও মাত্রা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপরন্তু মোবাইল ও তার বিভিন্ন বিষয়ের শরয়ি বিধান সম্পর্কে না জানার কারণে অসংখ্য লোক বুঝতেই পারছে না যে, মোবাইল দ্বারা কিভাবে তাদের গুনাহ হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে না, মোবাইল ব্যবহারের কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে অহরহ তাদের ভুল- ত্রুটি সংঘটিত হচ্ছে। মোবাইল ফোন ব্যবহার: বৈধতার সিমা কতটুকু? – এই বইখানা আমি এজন্য লিখেছি, যাতে পাঠকবৃন্দ বুঝতে পারেন, মোবাইল নামক এই বৈধ যন্ত্রটির বৈধতারও একটি সিমা আছে। যতক্ষণ এই সিমার ভিতর থেকে তা ব্যবহার করা হবে ততক্ষণই তা আমাদের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনবে। কিন্তু যখনই সিমা অতিক্রম করা হবে- তখনই তা আমাদের জন্য কল্যাণের না হয়ে অকল্যাণের বস্তু হিসেবে পরিগণিত হবে। যার অনিবার্য ফল হিসেবে আমাদের জন্য বরাদ্দ হবে- ফেতনা-ফাসাদ, অশান্তি ও পেরেশানি। সেই সাথে পরকালীন কঠিন শাস্তি তো আছেই! পূর্ববর্তী বইগুলোতে এই বইয়ের এলানে এর নাম দেওয়া হয়েছিল মোবাইল ফোন : বৈধতার সিমা কতুটুক? কিন্তু পরে বড়দের সাথে পরামর্শ করে উক্ত নামটির মধ্যে সামান্য পরিবর্তন করে বর্তমান নামটি রাখা হয়েছে। আমি এই গ্রন্থে মোবাইল সংক্রান্ত ৩টি ঘটনা ও প্রয়োজনীয় মাসায়েলগুলো খুব সহজ ভাষায় লিপিবদ্ধ করে কয়েকজন মুফতী সাহেবকে দেখিয়েছি। তাদের পরামর্শ নিয়েছি। চেষ্টা করেছি, এই বইটি যেন মোবাইল ফোন বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের রূপ লাভ করে। এক্ষেত্রে মাসিক আল কাউসারসহ বেশকিছু পত্র- পত্রিকা আমার যথেষ্ট উপকারে এসেছে। সত্যি বলতে কি, এসব পত্র-পত্রিকার সহায়তা না নিলে এই বইয়ের সমাপ্তি হয়তো আরো অনেক পরে হতো। মোবাইল সংক্রান্ত আরও কয়েকটি শিক্ষণীয় ঘটনা এই বইয়ে লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন সম্ভব হলো না। তবে এসব ঘটনা পরবর্তী বই আদর্শ যুবক-যুবতী-২-এর মধ্যে অবশ্যই লিখব, ইনশাআল্লাহ। একই কারণে অর্থাৎ জায়গার অভাবে পাঠকের মতামতও মাত্র এক পৃষ্ঠায় দেওয়া হলো। আশা করি পাঠকবৃন্দ এ বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বই প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাকে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে মুফতী শফীউল্লাহ, মুফতী হুযাইফা, মুফতী জহিরুল ইসলাম ও মাস্টার আব্দুল হালীমের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের আ’লা মাকাম নসীব করুন এবং এই বইকে লেখক, প্রকাশক ও সম্পাদকসহ সকলের নাজাতের ওসিলা হিসেবে কবুল করুন। আমীন। দোয়াপ্রার্থী মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম ……………………………………………………………. …………………………………………….. সূচির পাতা প্রথম অধ্যায় মোবাইল ফোন ও বর্তমান সমাজ : আমাদের করণীয় মোবাইল ফোন ও নামাজ নামাজরত অবস্থায় রিং বেজে উঠলে কী করবেন? দু’হাত ব্যবহার ব্যতীত রিং বন্ধ করা সম্ভব না হলে… রিং বন্ধ করতে সিজদা থেকে উঠা যাবে কি? একই নামাজে কতবার রিং বন্ধ করা যাবে? স্ক্রীনে প্রাণীর ছবি সেভ করা মোবাইল সামনে রেখে নামাজ পড়া মোবাইল ফোন ও মসজিদ মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই কি মোবাইল/রিংটোন বন্ধ করা জরুরি? মসজিদের ভিতর মোবাইলে ভাইব্রেশন দিয়ে রাখা উচিত হবে কি? মসজিদে একজনের মোবাইলে রিং বেজে উঠলে অন্যরা কী করবে? মসজিদের ভিতর মোবাইলে দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা যাবে কি? মসজিদে এতেকাফ অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার না করাই ভালো মসজিদের ছাদে মোবাইলের টাওয়ার বসানো জায়েয নয় মসজিদের বিদ্যুৎ দ্বারা মোবাইল চার্জ করা যাবে কি? মসজিদে অবস্থানরত এতেকাফকারীর মোবাইল দ্বারা ব্যবসা করা মোবাইল ফোন ও সালাম আগে হ্যালো নাকি সালাম? মোবাইলে আগে সালাম দিবে কে? উভয়ের সালাম এক সাথে হয়ে গেল করণীয় কি? বারবার ফোন করার প্রয়োজন হলে প্রতিবারই সালাম দেওয়া সুন্নত ম্যাসেজের মাধ্যমে সালাম : জবাব দিবেন যেভাবে মোবাইলে গাইরে মাহরাম মহিলাদেরকে সালাম দেওয়া জায়েয হবে কি? মোবাইলে কাউকে সালাম পৌঁছানোর জন্য বলা মোবাইলে কি শুধু ছোটরা বড়দেরকে সালাম দিবে? না জেনে মোবাইলে অমুসলমানকে সালাম দিলে গুনাহ হবে কি? মোবাইল ফোন ও রিংটোন রিংটোন হিসেবে আজানের ব্যবহার নাজায়েয রিংটোন হিসেবে গান ও মিউজিক কখনোই ব্যবহার করবেন না রিংটোন হিসেবে সালামের ব্যবহার নাজায়েয নয় বাচ্চাদের কান্না থামানোর জন্য রিংটোন বাজানো মারাত্মক অন্যায় মোবাইল ফোন ও মিসড্কল অযথা মিসড্কল দিয়ে কাউকে বিরক্ত করা জায়েয নেই কখন মিসড্কল দেওয়া জায়েয? মোবাইল ফোন ও ওয়েলকাম টিউন ওয়েলকাম টিউন হিসেবে গানের ব্যবহার শক্ত গুনাহ ওয়েলকাম টিউন হিসেবে তিলাওয়াতের ব্যবহারও জায়েয নয় মোবাইল ফোন ও ফ্লেক্সিলোড ফ্লেক্সিলোড করে ফ্লেক্সিকৃত অর্থের চেয়ে বেশি গ্রহণ করা জায়েয ফ্লেক্সিলোড করার সময় টাকা অন্যত্র চলে গেলে… অজ্ঞাত স্থান থেকে ফ্লেক্সি এসে গেলে কী করবেন? ভুল ফ্লেক্সিকারীর দেওয়া ছাড় গ্রহণ করা যাবে কি? মোবাইল ফোন ও জাকাত ব্যালেন্সে অবস্থিত টাকার জাকাত দিতে হবে কি? সিকিউরিটি ডিপোজিটের জাকাত দিতে হবে ফ্লেক্সি ব্যবসায়ীদের জমাকৃত টাকার জাকাত মোবাইল ফোনের ক্রয়-বিক্রয় ক্যামেরাযুক্ত মোবাইলের ক্রয়- বিক্রয় নাজায়েয নয়, তবে… চুরি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল সেট ক্রয় করা জায়েয নেই সাধারণ সেট নামিদামি কোম্পানির নামে চালানোও নাজায়েয মোবাইল ফোন : বিবিধ তালিবে ইল্মদের হাতে মোবাইল! মোবাইলে কোরআন তিলাওয়াত রেকর্ড করা মোবাইলে লিখিত কোরআন রেকর্ড করা মোবাইল স্ক্রীনে ছবি সেভ করে রাখা/ মোবাইল স্ক্রীনে আয়াত, জিকির বা এগুলোর ক্যালিগ্রাফী সেভ করা ম্যাসেজের মাধ্যমে ছবি প্রেরণ মোবাইল দ্বারা ছবি তোলা বা ভিডিও করা নির্ধারিত সময়ে খরচের শর্তে বোনাস ঘোষণা ও তার হুকুম সর্বোচ্চ এসএমএসকারীকে পুরস্কার প্রদান ইনকামিং কলের উপর প্রাপ্ত বোনাস বৈধ ডাউনলোড ব্যবসা কি জায়েয? কল রিসিভের সুবিধা দিয়ে বিনিময় নেওয়া কল রিসিভের আগের সময়ের বিল নেওয়া জায়েয নয় ভুল নাম্বারে কল চলে গেলে বিল দেবে কে? পরবর্তী মিনিটের ১/২ সেকেণ্ড হলেও পুরো মিনিটের বিল নেওয়া জায়েয মোবাইল কার্ড নির্ধারিত মূল্য থেকে কম-বেশিতে বিক্রয় করা জায়েয হবে কি? ভুল ব্যালেন্স : শরিয়তের দৃষ্টিতে নির্ধারিত বিলের চেয়ে বেশি বিল করলে… ইন্টারনেটে মোবাইল সার্চ করার হুকুম মেমোরী কার্ড ও ডাটা ক্যাবল ক্রয়-বিক্রয় জায়েয পণ্যসামগ্রীর দোকান থেকে প্রাপ্ত ছাড় গ্রহণ করা জায়েয বোনাস টকটাইম ব্যবহার করা বৈধ মোবাইল ফোনে ভিডিও গেমস্ মোবাইল থেকে গান শুনা বা মোবাইল দিয়ে ছবি তোলা মোবাইলে ক্রিকেট, ফুটবল ইত্যাদি খেলা দেখা বিনা অনুমতিতে কারো কথা মোবাইলে রেকর্ড করা যাবে কি? মোবাইল থেকে দীনি আলোচনা শুনা কোনো স্টেশনে মোবাইল চার্জ করা মোবাইল ফোনে বিয়ে মোবাইল ফোনে বন্ধুত্ব পাওনাদারের তাগাদা থেকে বাঁচার জন্য মোবাইল বন্ধ রাখা জায়েয নয় উলামায়ে কেরামের হাতে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল মোবাইল ফোনে তালাক ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল : পাশ্চাত্যের যড়যন্ত্র ক্লাস চলাকালে মোবাইলে কথা বলা মহিলা কর্তৃক মোবাইল রিসিভ করা অটো রিসিভ করে রাখা জায়েয আছে কি? গভীর রাতে কল করা দুষ্টুমী করেও মোবাইলে কাউকে হুমকি দেওয়া নাজায়েয অহেতুক অন্যের মোবাইল টিপাটিপি করা জায়েয নেই একই সাথে কতবার রিং দেওয়া যাবে? কেউ ক্যামেরাযুক্ত সেট উপহার দিলে… মোবাইল যেন ফ্যাশন না হয়! বিনা অজুতে কোরআন শরিফ রেকর্ডকৃত মোবাইল স্পর্শ করা মানুষের সামনে স্ত্রীর সাথে কথা বলা মোবাইলে রোগীর খোঁজ-খবর লওয়া বা বুযুর্গদের কাছে দোয়া চাওয়া বারবার সিম পরিবর্তন অপছন্দনীয় মোবাইল কোম্পানির বোনাস অফার! মোবাইল ফোনে কথা বলার নিয়ম মোবাইলে কথা বলার সময় প্রথমে যা করতে হবে সতর্কতা সত্ত্বেও ভুল নম্বরে কল চলে গেলে যদি আপনার কাছে কারো কল ভুলে চলে আসে মোবাইলে কথা বলার সময় ২য় পর্যায়ে যা করতে হবে মোবাইলে কথা বলার সময় ৩য় পর্যায়ে যা করতে হবে মোবাইলে কথা বলার সময় ৪র্থ পর্যায়ে যা করতে হবে মোবাইলে কথা বলার সময় ৫ম পর্যায়ে যা করতে হবে মোবাইলে কথা বলার সময় সবশেষে যা করতে হবে মোবাইল ফোনে কথা বলার আরো কিছু প্রাসঙ্গিক নিয়ম সালামের জবাব শেষ হওয়ার পূর্বে লাইন কেটে দিবেন না বড়দের সাথে কথা বলার সময় আগে ফোন রাখবেন না ভদ্রতার সুযোগ না নেওয়াই ভদ্রতার পরিচয়! কাউকে ডেকে দেওয়ার জন্য যেভাবে বলা উচিত যদি অন্য সময় ফোন করতে বলে ভুলে চাপ পড়ে আপনার মোবাইলে কল চলে এলে উলামায়ে কেরামের সাথে যেভাবে কথা বলবেন জামাতের সময় কল করবেন না ফজরের জামাত শেষ হতেই কল না করা উচিত যথাসময়ে কল করুন আমাদের যেন এমন ভুল কখনো না হয় সব প্রয়োজন মোবাইলে সারার চেষ্টা করা উচিত নয় যানবাহনে যেভাবে কথা বলবেন ফ্রী অফার পেলে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা যাবে কি? রিং কেটে দিলে কী করবেন? মোবাইল ফোন : কিছু জরুরি পরামর্শ দ্বিতীয় অধ্যায় : শিক্ষণীয় ঘটনাবলী হায় মোবাইল ফোন! বন্ধুত্ব নষ্ট হলো স্বপ্নের সংসার! ……………………………………………………………. …………………………………………….. জরুরি জ্ঞাতব্য এই বইয়ে বর্ণিত বেশিরভাগ মাসআলায় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো মূলতঃ কোরআন, হাদিস ও ফিক্হের ওইসব নীতিমালার উদ্ধৃতি যার আলোকে এই সমাধানগুলো পেশ করা হয়েছে। কেননা উল্লেখিত প্রাচীন কিতাবাদিতে স্পষ্টভাবে মোবাইল ফোনের কথা যে থাকবে না তা বলাই বাহুল্য। ……………………………………………………………. …………………………………………….. মূল বই শুরু বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রথম অধ্যায় মোবাইল ফোন ও বর্তমান সমাজ : আমাদের করণীয় মোবাইল ফোন আধুনিক জ্ঞান- বিজ্ঞানের এক অনন্য উপহার যা মানুষের জীবনকে করেছে আরো গতিময়। যে কাজের জন্য আগে এক সপ্তাহ সময় লাগতো সেই কাজ এখন মোবাইলের মাধ্যমে মহূর্তের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে, পৃথিবীকে এখন আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে- মোবাইল ফোন। তাই মোবাইল ফোন আমাদের বন্ধু। আমাদের জীবন চলার সহায়ক। কিন্তু একথা সত্য যে, মোবাইল ফোন আমাদের বন্ধু হলেও এর কিছু অপব্যবহারের ফলে এটি আজ কারো কারো জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী ও ছাত্র- ছাত্রীরা এর করুণ শিকার। তাদের জন্য মোবাইল ফোনকে অনেক ক্ষেত্রে অভিশাপই বলা যায়। কেননা আধুনিক এই ক্ষুদ্র যন্ত্রটি তাদের সমস্ত সময়কে গ্রাস করে নিয়েছে। ঘরে, বাইরে, ক্লাসে ও হলে সব জায়গায় তাদের ফোন আর ফোন। মোবাইল ফোনের কল্যাণে (?) তারা অনেকেই যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না। পারে না ঠিকমত ঘুমোতেও। কোম্পানির অফার পেয়ে রাত জেগে জেগে তারা প্রিয়জনদের (?) সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে। ফলে একদিকে যেমন তাদের নৈতিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক অধঃপতন ঘটছে, ঠিক তেমনি দৈনন্দিন জরুরি কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে চরমভাবে!! প্রত্যেক পিতা-মাতা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বীয় সন্তানের ভালো লেখাপড়া আশা করেন। তারা স্বপ্ন দেখেন, তাদের ছেলে- মেয়েরা লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। এজন্য সিমাহীন কষ্ট ও নিদারুণ ত্যাগ স্বীকার করেন তারা। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নকে ভেঙ্গেচুরে নিঃশেষ করে দেয়- মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষার উজ্জ্বল আলো থেকে বঞ্চিত করে মূর্খতার ঘোর অন্ধকারে নিয়ে যায়। নিভিয়ে দেয় তার আশার প্রদীপ। ধ্বংস করে দেয় তার মূল্যবান জীবন। উইপোকা যেমন ধীরে ধীরে কাঠ খেয়ে ফেলে তেমনি মোবাইল ফোন একটি মেধাবী শিক্ষার্থীকে কুড়ে কুড়ে খায়। ফলে একসময় মোবাইল পাগল শিক্ষার্থীটি হয়ে যায় একটি জীবন্ত লাশ! আজকাল উঠতি বয়সের ছেলে- মেয়েদের হাতে-হাতে মোবাইল ফোন দেখা যায়। কার চাইতে কে কত দামী ও উন্নত সেট ব্যবহার করতে পারে- এ নিয়ে অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলছে নিয়মিত! নিত্য নতুন ডিজাইন ও কোয়ালিটির পিছনে যুবক-যুবতী ভাই- বোনেরা কত টাকা যে নষ্ট করছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই!! মোবাইল ফোনের এই ভয়াবহ ক্ষতি থেকে ছাত্র, যুবক ও তরুণ সমাজকে বাঁচানোর জন্য আমাদের অনেক কিছু করণীয় আছে। বিশেষ করে সরকার ও অভিভাবক শ্রেণীর দায়-দায়িত্ব অনেক বেশি। প্রতিটি সচেতন অভিভাবককে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে, আমার স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া প্রিয় সন্তানটির মোবাইল ফোন ব্যবহারের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, প্রয়োজন থাকলে সে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার করছে কিনা? সেই সাথে মনে রাখতে হবে, শয়তান সর্বদা মানুষের পিছনে লেগে আছে। তাই মানুষ ভালো’র পরিবর্তে খারাপের দিকেই সহজে ধাবিত হয়। তাছাড়া কম বুদ্ধির কারণে হোক বা সঙ্গ দোষের কারণে হোক, কিশোর ও তরুণ বয়সে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় বেশি হয়ে থাকে। প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! বিশ্বাস করুন, মোবাইল কোম্পানি ও মোবাইল সেট নির্মাতাদের কথা আজ আমার ভাবতেও কষ্ট হয়! কেন কষ্ট হয়, তা আপনাদেরও অজানা নয়। আমার মনে হয়, আমার মতো অবস্থা প্রতিটি সচেতন মানুষেরই হয়। মোবাইল কোম্পানি ও সেট নির্মাতাদের অবস্থা দেখে অনুধাবন করা যায়, তারা যেন আজ অশ্লীলতা ছড়ানোর ভূমিকায় পাল্লা দিয়ে লেগেছে। তাদের নির্লজ্জ অর্থলিপ্সার কাছে সমাজের নৈতিক চরিত্রকে বলি দেওয়া হচ্ছে। তাই আজ সঙ্গত কারণেই অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। ধর্ষণ, সন্ত্রাস, হাইজ্যাক ইত্যাদি আজ নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। সংবাদপত্রের পাতায় এসব খবর নিয়মিতই আমাদের দেখতে হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সকলকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে আল্লাহ তাআলার হুকুম ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতকে পরিপূর্ণরূপে গ্রহণ করতে হবে। ক্যামেরা ও ভিডিও সেট আমদানী সরকারীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। সেই সাথে গভীর রাতে মোবাইল ফোন কোম্পানিসমূহ হ্রাসকৃত কলরেটের যেসব অফার দিয়ে থাকে তাও আইন করে বন্ধ করতে হবে। কারণ এ সময় অনেক ছাত্র- ছাত্রী ও তরুণ-তরুণী সন্ধ্যা ও রাতের পড়ালেখায় মনোযোগ না দিয়ে রাত জেগে অপ্রয়োজনীয় ও অনৈতিক ফোনালাপেই ব্যস্ত থাকে। এতে পড়ালেখা ও স্বাভাবিক কাজকর্মে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৭ টা বা ৯টা পর্যন্ত সময়টা কথা বলার জন্য এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময় নয় যে, এ সময় কলরেট হ্রাস করা খুবই উপকারী মনে হতে পারে। বরং সময়টা হচ্ছে শান্তিতে ঘুমানো এবং ইবাদত-বন্দেগি ও কোরআন তিলাওয়াত করার উপযুক্ত সময়। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর এসময়ে কলরেট হ্রাস করার উদ্দেশ্য কি তাহলে আমাদের আরামের ঘুম নষ্ট করা এবং ইবাদত- বন্দেগি থেকে বিরত রাখা? অবস্থাদৃষ্টে তো তাই মনে হয়! সে যা-ই হোক মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো যাতে এ সময়ে কলরেটের সুযোগ না দিয়ে অন্য সময় দেয় সেদিকেও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাছাড়া মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো গ্রাহক যাতে পর্ণো সাইটে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে সরকার কর্তৃক বাধ্য করতে হবে। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি ও মাদরাসার কর্তৃপক্ষবৃন্দ ছাত্র- ছাত্রীদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছাত্র- ছাত্রীরা যাতে সহজে পিতা- মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, সে ব্যবস্থা চালু করতে পারেন। অভিভাবকগণও নিজ নিজ সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া তাদেরকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিবেন না। একান্ত প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিলেও সবসময় খেয়াল রাখবেন, আপনার প্রিয় সন্তান পড়ালেখা নষ্ট করে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার করছে কিনা? এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, আজকে যোগাযোগের চরম উৎকর্ষতা ও ব্যস্ততার দিনে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকে যেমন বাদ দেওয়া যাবে না, তেমনি এর যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে কিনা সেদিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে যদি এ ব্যাপারে সতর্ক থাকি, তাহলে হয়তো মোবাইলের অনেক ক্ষতি থেকে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশকে বাঁচানো সম্ভব হবে। আল্লাহ পাক আমাদের তাওফিক দিন। আমীন। মোবাইল ফোন ও নামাজ নামাজরত অবস্থায় রিং বেজে উঠলে কী করবেন? নামাজ ভঙ্গের যেসব কারণ আছে তন্মধ্যে একটি হলো- আমলে কাসীর। আমলে কাসীর বলা হয়, নামাজি ব্যক্তির এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে যাওয়া যা অন্য কেউ দেখলে মনে করবে সে নামাজে নেই। আর নামাজি ব্যক্তির প্রতি অন্য ব্যক্তির এরূপ ধারণা তখনই সৃষ্টি হয় যখন সে দু’হাত ব্যবহার করে কোনো কাজ করে। এক হাত নামাজে ব্যস্ত রেখে অন্য হাত দিয়ে কাজ করলে এমন ধারণা মোটেও সৃষ্টি হয় না। এ কারণেই ফিকাহবিদগণ নামাজের মধ্যে প্রয়োজনে একহাত ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন- নামাজরত অবস্থায় টুপি উঠানো, জামার হাতা নামানো, সিজদার স্থানের কঙ্কর সরানো, শরীর চুলকানো এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ করার জন্য এক হাত ব্যবহার করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই দু’হাত ব্যবহার করা যাবে না। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলা যায় যে, নামাজের মধ্যে রিং বেজে উঠলে দু’হাত ব্যবহার না করে এক হাতের সাহায্যে মোবাইল পকেটে রেখেই যে কোনো বাটন চেপে রিং বন্ধ করে দিবেন। আর পকেট থেকে মোবাইল বের করার প্রয়োজন হলেও একহাত দ্বারাই করবেন। মোবাইল বের করে পকেটের কাছে রেখে, না দেখে দ্রুত বন্ধ করে আবার পকেটে রেখে দিবেন। মনে রাখবেন, একহাত দ্বারা মোবাইল বন্ধ করতে গিয়ে মোবাইল পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করা যাবে না। কারণ দেখে দেখে বন্ধ করা অবস্থায় কেউ নামাজি ব্যক্তিকে দেখলে সে নামাজে আছে বলে মনে করবে না। ফলে তা আমলে কাসীরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ায় নামাজ ভেঙ্গে যাবে। [খুলাসাতুল ফাতওয়া, খণ্ড : ১ পৃষ্ঠা : ১২৯ # ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১০৫ # শরহে নববী, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২০৫ # রদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৬২৪, ২৬৪, ২৬৫ # আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১১-১২ # ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৫৬৪ # শরহুল মুনিয়াহ, পৃষ্ঠা : ৪৪৩] র দু’হাত ব্যবহার ব্যতীত রিং বন্ধ করা সম্ভব না হলে… যদি কখনো এমন অবস্থা হয় যে, দু’হাত ব্যবহার ব্যতীত মোবাইল বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না তখন আপনি কী করবেন? তখন কি নিজের নামাজ নষ্ট করে মোবাইল বন্ধ করবেন? নাকি মুসল্লিদের নামাজে বিঘ্নতা ঘটলেও নিজের নামাজকে রক্ষার জন্য রিং বন্ধ করা থেকে বিরত থাকবেন? নামাজে খুশু-খুযু তথা একাগ্রতার গুরুত্ব অনেক বেশি। এজন্যেই ফিকাহ্বিদগণ নামাজরত অবস্থায় প্রস্রাব- পায়খানার বেগ হলে এবং এর দ্বারা খুশু-খুযু বিঘ্নিত হলে নামাজি ব্যক্তিকে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। শুধু অনুমতিই দেননি বরং এ অবস্থায় নামাজ ছেড়ে দেওয়াকে তারা উত্তম বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেউ কেউ আবার ওয়াজিব পর্যন্ত বলেছেন। নামাজের মধ্যে রিং বেজে উঠলে যার মোবাইল তার নামাজেই কেবল বিঘ্নতা ঘটে না বরং আশেপাশের অন্যান্য মুসল্লিদের নামাজেও বিঘ্নতা ঘটে। সুতরাং এক্ষেত্রে একহাত দ্বারা রিং বন্ধ করা সম্ভব না হলে নামাজ ছেড়ে দিয়ে অবশ্যই রিং বন্ধ করবেন। এরূপ করা শুধু জায়েযই নয়, কর্তব্যও বটে। আর রিংটোন যদি গান বা মিউজিকের হয় (আল্লাহ আমাদের এ থেকে হেফাজত করুন) তবে তো এর খারাবী আরো বেশি। মোটকথা, নামাজের যে কোনো অবস্থায় আমলে কালীল বা অল্প কাজের দ্বারা রিং বন্ধ করা সম্ভব না হলে নামাজ ছেড়ে দিয়ে রিং বন্ধ করবেন এবং মাসবুকের ন্যায় আবার নতুন করে জামাতে শরিক হবেন। [তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃষ্ঠা : ১৯৮ # ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১০৭ # আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২৮৭ # রদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৬৫৪-৬৫৫] র রিং বন্ধ করতে সিজদা থেকে উঠা যাবে কি? জামাতে নামাজ পড়ার সময় সিজদারত অবস্থায় রিং বেজে উঠলে কেউ কেউ সিজদা থেকে উঠে বসার প্রায় কাছাকাছি গিয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করে রিং বন্ধ করে থাকে। অথচ তখনো ইমাম মুসল্লি সকলেই সিজদাতেই থাকে। এভাবে রিং বন্ধ করার দ্বারা তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় ব্যয় না হলেও নামাজ ভেঙ্গে যাবে। কারণ যেখানে দুই হাতের ব্যবহারকেই নামাজ ভঙ্গের কারণ বলা হয়েছে সেখানে গোটা দেহকে নামাজের অবস্থা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে নামাজ ভঙ্গের কারণ হবে। তাছাড়া এ অবস্থায় কেউ তাকে দেখলে সে নামাজে নেই বলেই মনে করবে। যা আমলে কাসীরের অন্তর্ভুক্ত। আর একথা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, আমলে কাসীর নামাজ ভঙ্গের অন্যতম কারণ। [আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১১-১২ # খুলাসাতুল ফাতওয়া, খণ্ড : ১ পৃষ্ঠা : ১২৯ # ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১০৫ # শরহে নববী, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২০৫ # রদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৬২৪, ২৬৪, ২৬৫] র একই নামাজে কতবার রিং বন্ধ করা যাবে? অনেক সময় দেখা যায়, নামাজরত অবস্থায় একবার রিংটোন বন্ধ করার পর আবার বাজতে থাকে। এমনকি দ্বিতীয়বার বন্ধ করার পর তৃতীয়বারও বাজতে থাকে। কোনো কোনো সময় এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পায়। প্রশ্ন হলো, নামাজে থেকে এভাবে কতবার রিংটোন বন্ধ করা যাবে? হ্যাঁ, অনেক মোবাইল ব্যবহারকারীকেই এই সমস্যায় পড়তে দেখা যায়। এক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো, তিনবার বিশুদ্ধভাবে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম’ বা ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ বলা যায় এ পরিমাণ সময়ের ভিতর দুইবার পর্যন্ত উপরে বর্ণিত নিয়মে রিংটোন বন্ধ করা যাবে। দুইবারের বেশি বন্ধ করা যাবে না। যদি কেউ দুইবারের বেশি বন্ধ করে তবে তার নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। তবে একবার বা দুইবার বন্ধ করার পর তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্বে আবার রিং বেজে উঠলে তখন বন্ধ করা যাবে এবং এতে নামাজও নষ্ট হবে না। মোটকথা তিন তাসবীহ বলা যায় এতটুকু সময়ের মধ্যে তিনবার রিং বন্ধের জন্য (দুই হাত তো নয়ই) একহাতও ব্যবহার করা যাবে না। কেউ করলে তার নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। [খুলাসাতুল ফাতওয়া, খণ্ড : ১ পৃষ্ঠা : ১২৯ # রদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৬২৫ # আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ৪১৮-৪১৯] স্ক্রীনে প্রাণীর ছবি সেভ করা মোবাইল সামনে রেখে নামাজ পড়া কেউ যদি স্ক্রীনে প্রাণীর ছবি সেভ করা মোবাইল সামনে রেখে নামাজ পড়ে তাহলে তার নামাজ শুদ্ধ হবে কিনা তা একটু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ বিষয়। কারণ সেভ করা প্রাণীর ছবিটি দু’ধরনের হতে পারে। ১. অতি ছোট আকারের ছবি যা মাটিতে রাখা অবস্থায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখা যায় না। নাক, কান, চোখ, কপাল ইত্যাদি পৃথকভাবে বুঝা যায় না। এ ধরনের ছবি সম্বলিত মোবাইল সেট সামনে রেখে নামাজ আদায় করলে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে ছবি তোলা ও সেভ করে রাখার গুনাহ অবশ্যই হবে। যা নামাজ শুদ্ধ-অশুদ্ধ হওয়ার সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়। ২. ছবিটি যদি বড় হয় এবং মাটিতে রাখা অবস্থায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখা যায় অথবা অস্পষ্ট দেখা গেলেও কল আসার কারণে কিংবা অন্য কোনো কারণে স্ক্রীনে আলো জ্বলে উঠার দরুণ ছবিটি স্পষ্ট হয়ে উঠে তবে নামাজ মাকরূহে তাহরীমি হবে। হ্যাঁ, পূর্ণ নামাজে যে কোনোভাবে একবারও যদি অস্পষ্ট ছবিটি স্পষ্ট না হয়ে উঠে তাহলে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। [ইমদাদুল ফাতওয়া, খণ্ড : ৪ পৃষ্ঠা : ১৬৭ ফতোয়ায়ে শামী, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২০ # ফতহুল কাদীর, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৪২৭ # আল বাহর্রু রায়েক, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৪৮-৫০ # ফতোয়ায়