শাফায়াত বা সুপারিশ কে করতে পারবে?


শাফায়াৎ বা সুপারিশ বিষয়েঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

১) কিয়ামাত বা হাসরের দিনে কারো সুপারিশ গৃহীত হবে না (সুরাহ বাকারাহ ২: ৪৮, ১২৩, ২৫৪, সুরাহ আন’আম ৬: ৫১, ৭০, সুরাহ রূম ৩০: ১৩, সুরাহ ইউনুস ১০: ১৮, সুরাহ সিজদাহ ৩২: ৪)

২) তবে, আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন তিনি সুপারিশ করতে পারবেন(সুরাহ বাকারাহ ২: ২৫৫, সুরাহ ইউনুস ১০: ৩, সুরাহ হুদ ১১: ১০৫, সুরাহ মারিয়াম ১৯: ৮৭, সুরাহ ত্বোয়া-হা ২০: ১০৯, সুরাহ যুমার ৩৯: ৪৩-৪৪, সুরাহ যুখরুফ ৪৩: ৮৬)

৩) ঈমানদার ছাড়া এবং আল্লাহ যার উপর সন্তূষ্ট শুধুমাত্র তার জন্যই সুপারিশ করা যাবে। (সুরাহ আম্বিয়া ২১: ২৮, সুরাহ সাবা ৩৪: ২৩, সুরাহ আশ শো’আরা ২৬: ১০০, সুরাহ আল মু’মিন ৪০: ১৮)

৪) রাসূল (সাঃ) তার উম্মতের জন্য সুপারিশ করবেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে। (সুনান আত-দারেমী ভুমিকা অধ্যায় ৫২ নং হাদিস)

১) সূরা আল বাক্বারাহ:48 – আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।

সূরা আল বাক্বারাহ:123 – তোমরা ভয় কর সেদিনকে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না, কার ও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত ও হবে না।

সূরা আল বাক্বারাহ:254 – হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।

সূরা আল আন-আম:51 – আপনি এ কোরআন দ্বারা তাদেরকে ভয়-প্রদর্শন করুন, যারা আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে এমতাবস্থায় একত্রিত হওয়ার যে, তাদের কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না-যাতে তারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।

সূরা আল আন-আম:70 – তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যে, আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে-কুফরের কারণে।

সূরা আর-রূম:13 – তাদের দেবতা গুলোর মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশ করবে না। এবং তারা তাদের দেবতাকে অস্বীকার করবে।

সূরা ইউনুস:18 – আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে ? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।

সূরা সেজদাহ:4 – আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?

২) সূরা আল বাক্বারাহ:255 – আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

সূরা ইউনুস:3 – নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ?

সূরা হুদ:105 – যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান।

সূরা মারইয়াম:87 – যে দয়াময় আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যতীত আর কেউ সুপারিশ করার অধিকারী হবে না।

সূরা ত্বোয়া-হা:109 – দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না।

সূরা আল-যুমার:43-44: – তারা কি আল্লাহ ব্যতীত সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, তাদের কোন এখতিয়ার না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও? বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, আসমান ও যমীনে তাঁরই সাম্রাজ্য। অতঃপর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

সূরা যুখরুফ:86 – তিনি ব্যতীত তারা যাদের পুজা করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে না, তবে যারা সত্য স্বীকার করত ও বিশ্বাস করত।

৩) সূরা আম্বিয়া:28 – তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে, তা তিনি জানেন। তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত।

সূরা সাবা:23 – যার জন্যে অনুমতি দেয়া হয়, তার জন্যে ব্যতীত আল্লাহর কাছে কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। যখন তাদের মন থেকে ভয়-ভীতি দূর হয়ে যাবে, তখন তারা পরস্পরে বলবে, তোমাদের পালনকর্তা কি বললেন? তারা বলবে, তিনি সত্য বলেছেন এবং তিনিই সবার উপরে মহান।

সূরা আশ-শো’আরা:100 – অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।

সূরা আল-মু’মিন:18 – আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে।

৪)বইঃ সুনান আদ-দারেমী, অধ্যায়ঃ ভূমিকা, হাদিস নম্বরঃ ৫২

৮. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদানকৃত মর্যাদা প্রসঙ্গ

৫২. আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন … … আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে সর্বপ্রথম আমিই সুপারিশ করবো।[1]

[1] হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানি বলেন: হাদিসটির সনদ সহি। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) http://www.hadithbd.com/share.php?hid=45817
[আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার ও মেনে চলার তাওফিক দিন আমিন।]

[আমার পোষ্টে কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে তা বর্জন ও আমাকে অবহিত করার অনুরোধ রইল।]

[♥আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত♥]

Advertisements