সকল কাজই নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল।


সকল কাজই নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল।
ইমাম বুখারী রাহঃ প্রথম বাব বা অধ্যায় নিয়ে
এসেছেন ‘কিভাবে অহি শুরু হয়েছে?’ এই নামে।
আর হাদীস নিয়ে এসেছেন সকল আমল ই নিয়তের
উপর নির্ভরশীল। বাবের সাথে হাদীসের কি
সম্পর্ক?
উত্তরঃ উত্তর বুঝার আগে পাশে বুখারী
থাকলে তা খুলুন এবং আমার লেখাটা পড়ুন!
ইমাম বুখারী রাহ এর অধ্যায়ের সাথে
হাদীসের মিল প্রতিষ্ঠা করাকে
মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় তরজমাতুল বাবের
সাথে হাদীসের তাতবীক বা মুনাসাবাত বলা
হয়।
তার নিয়ে আসা ১ম বাব ও হাদীসের মধ্যে
তাতাবীক দিতে গিয়ে অনেক ব্যাখ্যাকার
অনেক মন্তব্য করেছেন। হাফেজ ইবনু হাজার
আস্কালানী রাহঃ তার ফাত হুল বারীতে
অনেক কওল নকল করেছেন যেমন, দ্বীন এর
ইলম বা ওহির ইলম হাসিল করার জন্য নিয়ত
শুদ্ধ করা লাগবে। যেমন তালহা ভাই
লিখেছেন। আবার কেউ বলেছেন তিনি
বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি রাসুলের অহিকে
সংরক্ষণ করেছি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
কিন্তু আল্লাহ আমাকে মাফ করুক কোনও
ব্যাখ্যাই আমার মনপুত হয়নি।
এক্ষণে আমার যেটা মনে হয়েছে আমি তা
পেশ করব ইনশা আল্লাহ, আমার এই তাতবীক
কে বুঝার জন্য অত্যন্ত মনোযোগের সাথে
নিচের লেখা পড়তে হবে। তবে আমি বলছিনা
যে আমারটা ঠিক। তবে অবশ্যই হাদীস
গবেষকদের গবেষণার খোরাক হবে ইনশা
আল্লাহ।
প্রথমত এই ব্যাখ্যা গুলো মনপুত না হওয়ার
কারণ হচ্ছে
১,ইমাম বুখারী রাহঃ যদি নিয়ত বিষয়ক
শিক্ষা দিতে চাইতেন তাহলে বইয়ের শুরুতেই
বাব বিহীন ভাবে নিয়ে আসতে পারতেন,
যেমন নিয়ে এসেছেন মিশকাত এর লেখক।
২, ইমাম বুখারি রাহঃ এর যদি ভাল নিয়ত
বুঝানো উদ্দেশ্য হত তাহলে তিনি পূর্ণ হাদীস
নিয়ে আসতেন বিশেষ করে হাদীসের যেই
অংশে ভাল নিয়তের কথা আছে।তথা ‘যার
হিজরত হবে আল্লাহ ও তার রাসুলের জন্য
তার হিজরত তাদের জন্যই’এই অংশ সহ উল্লেখ
করতেন। কিন্তু তিনি এই অংশকে বিলুপ্ত
করে দিয়েছেন।অথচ এই হাদীস তিনি বুখারী
শরীফের মোট ৭ জায়গায় নিয়ে এসেছেন
কোথাও তিনি হাদীসের এই অংশকে বাদ
দেন নি। কেউ বলেছেন এটা ইমাম বুখারীর
কাছ থেকে নকল কারীর ভুল। কিন্তু যদি তাই
হত তাহলে ইমাম বুখারী থেকে নকল করা অন্য
কপি বা নুসখা গুলোতে এই অংশ থাকত। কিন্তু
কোথাও নাই। অতএব তিনি এখানে ইচ্ছা
করেই হাদীসের এই অংশকে বাদ দিয়েছেন
এবং অবশ্যই এর পিছনে তার পক্ষ থেকে
কোনও ইশারা আছে বিশেষ করে যখন তিনি
ইমাম বুখারী রাহঃ। কেননা তিনি ইশারাতে
বেশী কাজ করেন, স্পষ্ট করে খুব কম বলেন।
এখন আমার ব্যাখ্যা বুঝার জন্য কয়েকটি
জিনিস মাথায় রাখতে হবে।
১, ইমাম বুখারী রহঃ এই বাব বাঁধার পর
কুরআনের কোন আয়াত নিয়ে এসেছেন?
আয়াতটি হছে, ‘ আমরা আপনার নিকটে অহি
করেছি যেমন অহি করেছি নুহ আঃ ও তার
পরবর্তী নবীদের উপর।’ এর পর মহান আল্লাহ
ইসমাইল ও ইবরাহীম আঃ সহ কিছু মহান নবীর
নাম উল্লেখ করেছেন যাদের কাছে তিনি
অহি পাঠিয়েছেন।
২, তিনি হাদীসের এই অংশকে কেন বাদ
দিলেন।
৩, তিনি কি বিষয়ে বই লিখতে যাচ্ছেন ?
তিনি হাদীসের বিষয়ে বই লিখতে যাচ্ছেন
তাহলে সেই বইয়ের শুরুতে কুরআন আল্লাহর
অহি এটা বুঝানোর কোনও প্রয়োজন নেই।
যদি এটা তাফসীর গ্রন্থ হত তাহলে কুরআনকে
আল্লাহর অহি প্রমাণ করা বইয়ের শুরুতেই
প্রয়োজন ছিল। এছাড়া কুরআন কে আল্লাহর
অহি মানতে উম্মতের মধ্যে কোনও ইখতিলাফ
নাই।
অন্যদিকে ইমাম বুখারীর সময়েই একদল মানুষ
হাদিসকে ইঙ্কার করত, হাদিসকে জান্নী বা
ধারণা মূলক বলে কিয়াসকে তার উপর
প্রাধান্য দিত। এখন তিনি এত কষ্ট করে ১৬
বছর পরিশ্রম করে হাদীসের বই লিখছেন আর
মানুষ যদি তাকে জান্নী বলে ফেলে দেয়
তাহলে তার সম্পূর্ণ শ্রম বৃথা যাবে। তাই
বইয়ের শুরুতেই তিনি যদি কিছু বলতে চান
তাহলে তার সম্পর্ক হাদীস যে আল্লাহর অহি
এবং মানুষ যে তা মানতে বাধ্য এর সাথে
হবে। এবং হুজ্জিয়াতে হাদিসের উপর
আলোচনা হাদীস সম্পর্কিত বই গুলোর শুরুতে
করা কোনও বেমানান নয় বরং পরবর্তী
আলেমগন তো এই পথই অবলম্বন করেছেন।
এক্ষণে আমি বলতে চাই ইমাম বুখারী রাহঃ
এখানে অহি এর দুই প্রকার দেখাতে
চেয়েছেন,
১, ভাল অহি, যার দ্বারা তিনি অহিয়ে
গায়রে মাতলু বা হাদীস এর কথা বলেছেন
এবং যারা হাদিসকে ইঙ্কার করে হাদিসকে
অবহেলা করে তাদেরকে দীপ্ত কন্ঠে বলতে
চেয়েছেন আমি যেই গ্রন্থ লিখছি তা
আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলের উপর অহি করা
হয়েছে। একে উম্মাতে মুস্লিমা মানতে বাধ্য,
যেমন কুরআনকে মানতে বাধ্য। দুইটায়
আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। আর এই কথার
দলীল হিসেবে তিনি কুরআনের ঐ আয়াতকে
পেশ করেছেন যা আমি উল্লখ করেছি।
এখন সমস্যা হচ্ছে অনেকেই মনে করেন উক্ত
আয়াতে আল্লাহ অহি দ্বারা কুরআনকে
বুঝাতে চেয়েছেন কিন্তু আমার মনে হয় ইমাম
বুখারী রাহঃ এর নিকটে এখানে আল্লাহ
অহি দ্বারা হাদিসকে বুঝাতে চেয়েছেন।
আমি ইমাম বুখারী রাহঃ এর এই ধারণার কিছু
দলিল গবেষণা করে পেয়েছি তা হচ্ছে
#আল্লাহ এখানে রাসুল ছাঃ এর উপর করা
অহিকে অন্য নবীদের উপর করা অহির সাথে
তুলনা করেছেন। অন্যদিকে যেখানেই আল্লাহ
রাসুলের উপর একটি কিতাব বা কুরআন
নাজিলের কথা বলেছেন তখন তাকে অন্য
নবীদের উপর নাজিল কৃত কিতাবের সাথে
তুলনা দেন নি। এবং কোথাও তাওরাত, জবুর,
ইঞ্জিলকে আল্লাহর কালাম বলেন নি, যেমন
কুরআনকে আল্লাহর কালাম বলেছেন। বরং শুধু
আল্লাহর পক্ষ থেকে অহি বলেছেন। এবং এই
জন্যই আমরা দেখতে পাই তাওরাত জবুর
ইঞ্জীল পরিবর্তন করা মানুষের পক্ষে সম্ভব
হয়েছে, এবং সেগুলো মুজিযা ছিলনা। যদি
আল্লাহর কালাম হত তাহলে তাকে কেউ
পরিবর্তন করতে পারতনা যেমন কুরআন
পারবেনা, এবং তা কাদীম হত যেমন কুরআন
কাদীম। এক কথায় সেগুলোর মধ্যে ঐ সব কিছু
পাওয়া যেত যা কুরআনের মধ্যে পাওয়া যায়।
যাইহোক ইমাম বুখারী রাহঃ বুঝাতে চাচ্ছেন
রাসুলের হাদীস অন্য নবীদের উপর নাজিল কৃত
কিতাবের মত। ঐ গুলো যেমন আল্লাহর অহি
রাসুলের হাদীস ও আল্লাহর অহি। ঐ গুলোর
মধ্যে মানুষ পরিবর্তন পরিবর্ধন করেছে তেমন
হাদীসের মধ্যেও করবে। তাই হাদীসের সহিহ
জঈফ বাছাই করতে হবে।
তার ধারণার সারমর্ম হচ্ছে সহিহ হাদীস সেই
রকম অহি যেমন অন্য নবীদের উপর আল্লাহ
অহি করেছেন। ওই অহি যেমন তাদের
উম্মতেরা মানতে বাধ্য ছিল তেমনি আমি যে
কিতাব লিখছি একে মানতে উম্মাতে
মুস্লিমা বাধ্য কেননা ইহা আল্লাহর পক্ষ
থেকে রাসুলের উপর অহি।
যদি আমার এই লেখা সঠিক হয় এবং ইমাম
বুখারি রাহঃ এর উদ্দেশ্য ও তাই হয় তাহলে
আজকে হুজ্জিয়াতে হাদীসের এমন দলীল
আমরা জানতে পারলাম যা ইতিপূর্বে কোনও
আলেম পেশ করেন নি তবে এই না পারাটা
সালাফদের দোষ নয় বরং সালাফদের মধ্য
থেকে ইমাম বুখারী তো বলে গেছেন কিন্তু
আমরা বুঝতে পারেনি।
২, এখন যখন তিনি ভাল অহির বর্ণনা শেষ
করলেন তখন অহির আরেকটা প্রকার যা
শয়তানের পক্ষ থেকে হয় তথা অহিয়ে
শয়তানির দিকে ইশারা করতে চেয়েছেন। এই
জন্য তিনি নিয়তের হাদীসের ভাল অংশকে
বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। এবং সেই অংশ কে
উল্লেখ করেছেন যেখানে রাসুল ছাঃ
বলেছেন ‘আর যার হিজরত হবে দুনিয়া
হাসিলের জন্য বা কোনও মেয়েকে বিবাহ
করার জন্য তাহলে তার হিজরত তাদের জন্যই
হবে’।
তিনি শুধু এই অংশকে উল্লেখ করে বলতে
চেয়েছেন যে দুনিয়ার জন্য হিজরত
শায়তানের ওয়াসয়াসার কারণে হয়। তথা এটা
শয়তানের পক্ষ থেকে অহি। এবং মানুষের
উচিৎ এই ধরণের শয়তানী অহি থেকে বেঁচে
থাকা। এবং হুজ্জিয়াতে হাদীসের ইঙ্কার
করা এবং হাদিসকে জান্নি বলে তার উপর
প্রাধান্য দেয়া শয়তানের পক্ষ থেকে অহি।
যারা মানবে তারা পথভ্রষ্ট হবে।
সারমর্ম হচ্ছে একদিকে সহিহ হাদীস বা
আল্লাহর অহি অন্যদিকে মানুষের মস্তিষ্ক
প্রসূত রায় বা শয়তানের অহি এখন আমরা
আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অহিকে
প্রাধান্য দিব না শয়তানের অহিকে তা
আমাদের ব্যাপার। আর আমি যেই বুখারী
শরীফ লিখতে যাচ্ছি তা সহিহ হাদীসের
একটি সংকলন তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে
রাসুলের উপর করা অহি সুতরাং প্রত্যেক
মুমিনের উচিৎ আমার লেখা এই বইয়ের
হাদীসের উপর আমল করা।

Advertisements