ইমাম যদি বসে নামাজ পড়ে তাহলে মুক্তাদি কিভাবে নামাজ পড়বে?


ইমাম যদি বসে ইমামতি করেন,
তাহলে মুক্তাদীগণ কিভাবে নামায
পূর্ণ করবেন?
ডিসেম্বর ২৩rd, ২০১৪ আব্দুল্লাহ শাহেদ
আল মাদানী
Download article as PDF
ইমাম যদি অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ইমামতি
করতে অক্ষম হয়, তাহলে অন্যকে তার
স্থলাভিষিক্ত করা মুস্তাহাব। কারণ বসে আদায় কারীর
নামাযের চেয়ে দাঁড়িয়ে আদায়কারীর নামায অধিক
পরিপূর্ণ।
যেসব মুসাল্লাী দাড়িয়ে নামায পড়তে সক্ষম,
তাদের ইমামের জন্য অসুস্থতা বা অন্য কারণে
বসে ইমামতি করা সম্পর্কে আলেমদের থেকে
একাধিক মত পাওয়া যায়।
১) ইমাম যদি অসুস্থতা বা অন্য কারণে দাঁড়িয়ে নামায
পড়তে দাঁড়াতে সক্ষমদের জন্য বসে ইমামতি
করে তাহলে তর ইমামতি জায়েয হবে এবং
মুক্তদীদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে তারাও বসে নামায
পূর্ণ করবে। তাদের দলীল হচ্ছে, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻰ ﻗَﺎﺋِﻤًﺎ ﻓَﺼَﻠُّﻮﺍ ﻗِﻴَﺎﻣًﺎ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻰ ﻗَﺎﻋِﺪًﺍ ﻓَﺼَﻠَّﻮْﺍ
ﻗُﻌُﻮﺩًﺍ ﺃَﺟْﻤَﻌُﻮﻥَ
ইমাম যদি বসে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা
সকলেই বসে নামায পড়ো। (সহীহ মুসলিম,
হাদীছ নং- ৬২৮। শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল
উছাইমীন (রঃ) বলেন এখানে আদেশটি ইমামের
পিছনে বসে নামায পড়া ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ করে।
এটিই ইমাম আহমাদ বিন হান্বালের মত। তবে তার
অন্যমতে বসে পড়া মুস্তাহাব; ওয়াজিব নয়।
২) শাফেঈ ও হানাফী মাজহাবের মতে ইমাম যদি
বসে নামায পড়ে, তাহলে মুসাল্লীদের দাড়ানোর
ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বসে নামায পড়লে তাদের
নামাযই হবেনা। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের অসুস্থতার সময়ের ইমামতি করার হাদীছ
দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। তাতে এসেছে
যে, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
একদিন কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলেন। তাই তিনি দু’জন
লোকের কাঁধে ভর দিয়ে যোহরের নামায পড়ার
জন্য ঘর থেকে বের হলেন। যাদের কাঁধে ভর
দিয়েছিলেন তাদের একজন ছিলেন আব্বাস (রাঃ)।
তখন আবু বকর (রাঃ) লোকদেরকে নিয়ে নামায
পড়ছিলেন। আবু বকর তাঁকে দেখে পিছনে চলে
আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে,
তুমি নিজ স্থানেই থাক। তিনি বললেনঃ আমাকে আবু
বকরের পার্শ্বে বসিয়ে দাও। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আবু বকরের পার্শ্বে
বসিয়ে দিলেন। আবু বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযের অনুসরণ করছিলেন।
আর লোকেরা আবু বকরের নামাযের অনুসরণ
করে নামায আদায় করছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন বসা অবস্থায়।
দ্বিতীয় মতের পক্ষের আলেমগণ প্রথম
মতের সমর্থকদের দলীলের জবাবে বলেন
যে, প্রথমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস উপবিষ্ট
ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে আদেশ
করেছিলেন। পড়ে তাঁর শেষ জীবনের
আমলের দ্বারা প্রথম আদেশ রহিত হয়ে গেছে।
তা থেকে জানা যাচ্ছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বসে ইমামতি করছিলেন। ঐ দিকে আবু
বকর ও অন্যান্য সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে নামায
পড়েছিলেন।
শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আলউছাইমীন (রঃ) বলেনঃ
উভয় প্রকার হাদীছের উপর যেহেতু আমল করা
সম্ভব, তাই বসে উপবিষ্ট ইমামের পিছনে বসে
নামায পড়ার আধেশ রহিত হয়েছে গেছে বলা ঠিক
নয়। তিনি উভয় প্রকার হাদীছের মধ্যে এভাবে
সমন্বয় করেছেন যে, সাহাবীগণের দাঁড়িয়ে নামায
পূর্ণ করার কারণ হলো, তারা প্রথমে আবু বকরের
ইমামতিতে দাঁড়িয়েই শুরু করেছিলেন। সুতরাং ইমাম যদি
দাঁড়িয়ে শুরু করে অতঃপর অসুস্থতার কারণে বসে
পড়তে বাধ্য হয়, তাহলে মুসাল্লীরা দাঁড়িয়েই
তাদের নামায পূর্ণ করবে।
আর ইমাম যদি প্রথম থেকেই বসে ইমামতি শুরু
করে, তাহলে মুক্তাদীগণও বসে পড়বে। এভাবে
সমন্বয় করলে উভয় প্রকার হাদীছের উপরই
আমল হয়ে যায়। (আল্লাহই অধিক অবগত আছেন)