ওযু, ওযুর ফজিলত, পদ্ধতি ও ভূল ত্রুটি!


বিশ্বপ্রতিপালক মহান রাব্বুল আলামীন
সৃষ্টিলোককে সৃষ্টি করে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন
কেবল একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, আর
তা হচ্ছে তাঁর দাসত্ব ও গোলামী করা। এ দাসত্ব
অনেক ভাবেই হয়ে থাকে। যেমনঃ নামায, রোযা,
হজ্জ, যাকাত, দান-সাদকাহ, কুরবানী আশা-ভরসা,
প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি। এ গুলোর মধ্যে সর্বত্তোম
ইবাদত হল নামায। নাযাম পড়ার জন্য প্রয়োজন পবিত্রতা
অর্জন করা। পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহ তাআলার কাছে নামায
গৃহীহ হবে না। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ
ﻻَ ﻳَﻘْﺒَﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻَﻼَﺓَ ﺃَﺣَﺪِﻛُﻢْ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄَ
“আল্লাহ তাআলা তোমাদের কারও নামায গ্রহণ
করবেন না, যখন সে অপবিত্র হয়ে যায়,যতক্ষন না
সে অযু করে। (বুখারী ও মুসলিম)
যে ব্যক্তি নিবেদিত প্রাণে আল্লাহর সন্তুষ্টি
অর্জনের লক্ষ্যে সুন্দরভাবে অযু করবে তার
জন্য রয়েছে পরকালীন জীবনে মহাপুরস্কার।
নিম্নে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ হতে এ বিষয় কিছু
আলোকপাত করা হল।
১) আল্লাহ তাআলার ভালবাসা লাভঃ অযু /ওযু হল
পবিত্রতা, আর পবিত্রতা অর্জনকারীকে আল্লাহ
তাআলা ভালবাসেন। এরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺑِﻴﻦَ ﻭَﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻤُﺘَﻄَﻬِّﺮِﻳﻦَ
“নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের এবং পবিত্রা
অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা বাকারাঃ ২২২)
২) জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়ঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করবে অত:পর অযুর
শেষে নিম্ন বর্ণিত দুআ পাঠ করবে তার জন্যে
জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে, যে
দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” দুআটি
হলঃ
ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻻَ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ ﻭَﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ
ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﻋَﺒْﺪُﻩُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻠْﻨِﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺑِﻴﻦَ
ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨِﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺘَﻄَﻬِّﺮِﻳﻦَ
উচ্চারণঃ “আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-
শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া
রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজআলনী মিনাত্ তাওয়্যাবীনা
ওয়াজআলনী মিনাল মুতাত্বহহিরীন।” (তিরমিযী)
৩) জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার কারণঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄُ ﻓَﻴُﺤْﺴِﻦُ ﻭُﺿُﻮﺀَﻩُ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﻓَﻴُﺼَﻠِّﻲ
ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﻣُﻘْﺒِﻞٌ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻤَﺎ ﺑِﻘَﻠْﺒِﻪِ ﻭَﻭَﺟْﻬِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺟَﺒَﺖْ ﻟَﻪُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ
“যে কোন ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করে,
একনিষ্ঠতার সাথে দুরাকাআত নামায আদায় করে তার
জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।” (মুসলিম)
৪) বেলাল (রাঃ) এর বিশেষ আমলঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেলাল (রাঃ) কে বললেনঃ
“তোমার সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে আমাকে
বল, আমি জান্নাতে তোমার জুতার শব্দ শুনতে
পেয়েছি।” বেলাল (রাঃ) বললেন, আমার
সর্বোত্তম আমল হল, আমি রাতে অথবা দিনে
যখনই পবিত্রতা অর্জন করি তখনই তার দ্বারা সাধ্যমত
নামায আদায় করে থাকি। (বুখারী)
৫) অযু এক নামায হতে অন্য নামাযের মধ্যে
সংঘঠিত গুনাহের কাফফারাহ স্বরূপঃ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ
ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻢَّ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀَ ﻛَﻤَﺎ ﺃَﻣَﺮَﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻓَﺎﻟﺼَّﻠﻮَﺍﺕُ
ﺍﻟْﻤَﻜْﺘُﻮﺑَﺎﺕُ ﻛَﻔَّﺎﺭَﺍﺕٌ ﻟِﻤَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻦَّ
“যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী
পরিপূর্ণ ভাবে অযু সম্পাদন করে, (তার জন্য) ফরয
নামাযগুলোর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘঠিত গুনাহের
কাফ্ফারা হয়ে যায়।” (মুসলিম)
৬) গুনাহ দূর হওয়ার কারণঃ ওসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি
বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা
উত্তমরূপে অযু সম্পাদন করলেন, অত:পর
বললেন, যে ব্যক্তি আমার অযুর ন্যায় অযু করে
দু’রাকাত নামায পড়বে এবং মনে অন্য কিছুর কল্পনা
করবে না তার অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা
করে দেয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“যখন একজন মুসলিম বা মু’মিন ব্যক্তি অযু করে, সে
যখন তার চেহারা ধৌত করে পানির সাথে বা পানির শেষ
বিন্দুর সাথে তার চেহারার গুনাহ সমূহ দূর হয়ে যায় যা
তার দৃষ্টি দ্বারা হয়েছে। এমনিভাবে সে যখন তার
দুহাত ধৌত করে তার হাতের গুনাহ সমূহ যা হাত দিয়ে
ধরার মাধ্যমে করেছে তা পানির সাথে বা পানির শেষ
বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। আবার যখন দু’পা ধৌত করে
পায়ের গুনাহ সমূহ যা পা দিয়ে চলার মাধ্যমে হয়েছে
তা পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে
যায়। শেষ পর্যন- সে গুনাহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র
হয়ে যায়। (মুসলিম)
৭) পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ﺍﻟﻄُّﻬُﻮﺭُ ﺷَﻄْﺮُ ﺍﻹِﻳﻤَﺎﻥِ
“পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।” (মুসলিম)
৮) অযুর অংগ প্রত্যংগ গুলো কিয়ামতে
আলোকিত হবে।
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাহাবাগণ রাসুল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন,
আপনার উম্মত যারা আপনার পরে আসবে
তাদেরকে আপনি কিভাকে পরিচয় পাবেন? তিনি
বললেন” “আমার উম্মতগণ কিয়ামতের দিন অযুর
স্থানগুলো আলোকীত অবস্থায় উপস্তিত
হবে।” (মুসলিম)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত তিনি
বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলতে শুনেছি, তিনি এরশাদ করেছেন, আমার
উম্মতগণকে কিয়ামতের দিন অযুর কারণে অযুর
জায়গাগুলো চমকানো ভাবে আহবান করা হবে।
অতএব যে চায় সে যেন তার উজ্জলতা বৃদ্ধি করে।
(বুখারী ও মুসলিম)
৯) অযুর প্রতি যত্নবান হওয়া ইমানে আলামতঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ
করেছেন,
ﺳَﺪِّﺩُﻭﺍ ﻭَﻗَﺎﺭِﺑُﻮﺍ، ﻭَﺍﻋْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃﻥّ ﺧَﻴْﺮَ ﺃَﻋْﻤَﺎِﻟﻜُﻢْ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ ﻭَﻟَﺎ
ﻳُﺤَﺎﻓِﻆُ ﻋَﻠَﻰ ﺍْﻟﻮَﺿُﻮْﺀ ﺇﻻَّ ﻣُﺆْﻣِﻦٌ
“সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক এবং দ্বীনের
উপর অবিচল থাক আর জেনে রেখ! তোমাদের
সর্বোত্তম আমল হচ্ছে, নামায, আর মুমিন ব্যক্তি
ছাড়া অন্য কেউ অযুর হেফাযত করে না। (সহীহ
ইবনু হিব্বান)
১০) অযু মর্যাদা বৃদ্ধি ও পাপ মোচনের কারণঃ
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻰ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ –
ﻗَﺎﻝَ ﺃَﻻَ ﺃَﺩُﻟُّﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻳَﻤْﺤُﻮ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ ﺍﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ ﻭَﻳَﺮْﻓَﻊُ ﺑِﻪِ
ﺍﻟﺪَّﺭَﺟَﺎﺕِ . ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ . ﻗَﺎﻝَ ﺇِﺳْﺒَﺎﻍُ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀِ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤَﻜَﺎﺭِﻩِ ﻭَﻛَﺜْﺮَﺓُ ﺍﻟْﺨُﻄَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪِ ﻭَﺍﻧْﺘِﻈَﺎﺭُ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ
ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻓَﺬَﻟِﻜُﻢُ ﺍﻟﺮِّﺑَﺎﻁُ
“আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ “আমি কি
তোমাদেরকে এমন জিনিষ সম্পর্কে সংবাদ দিব না
যাতে তোমাদের পাপগুলো মোচন হবে এবং
মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে”? সাহাবাগণ বললেন, অবশ্যই হে
আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ “কষ্টের সময় অযু করা
এবং অধিকরূপে মাসজিদে পদাচরণ করা আর এক নামায
হয়ে গেলে অন্য নামাযের জন্যে অপেক্ষা করা
এটাই হল রেবাত। (মুসলিম)
১১) ঘূমানোর পূর্বে অযু করা দুআ কবুল হওয়ার
কারণঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন অযু করে নিদ্রায় যায়,
রাত্রিতে জেগে দুনিয়া এবং আখেরাতের কোন
কল্যাণের দুআ করলে দুআ কবুল করা হয়।” (নাসাঈ)
১২) ঘূমানোর পূর্বে অযু করা ইসলামের উপর
মৃত্যুর কারণঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তুমি
যখন বিছানায় আসার মনস’ করবে তখন নামাযের ন্যায়
অযু করবে এবং নিম্নের দুআটি পাঠ করবে। যদি তুমি
ঐ রাত্রিতে মৃত্যু বরণ কর তবে ইসলামের উপর
মৃত্যু বরণ করবে। আর যদি সকালে উপনিত হও তবে
ছোয়াব পাবে। এদুআটি সকল কিছুর শেষে পাঠ
করবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﺳْﻠَﻤْﺖُ ﻧَﻔْﺴِﻰ ﺇِﻟَﻴْﻚَ، ﻭَﻭَﺟَّﻬْﺖُ ﻭَﺟْﻬِﻰ ﺇِﻟَﻴْﻚَ،
ﻭَﻓَﻮَّﺿْﺖُ ﺃَﻣْﺮِﻯ ﺇِﻟَﻴْﻚَ، ﻭَﺃَﻟْﺠَﺄْﺕُ ﻇَﻬْﺮِﻯ ﺇِﻟَﻴْﻚَ، ﺭَﻏْﺒَﺔً ﻭَﺭَﻫْﺒَﺔً
ﺇِﻟَﻴْﻚَ، ﻻَ ﻣَﻠْﺠَﺄَ ﻭَﻻَ ﻣَﻨْﺠَﺎ ﻣِﻨْﻚَ ﺇِﻻَّ ﺇِﻟَﻴْﻚَ، ﺁﻣَﻨْﺖُ ﺑِﻜِﺘَﺎﺑِﻚَ
ﺍﻟَّﺬِﻯ ﺃَﻧْﺰَﻟْﺖَ، ﻭَﻧَﺒِﻴِّﻚَ ﺍﻟَّﺬِﻯ ﺃَﺭْﺳَﻠْﺖَ .
উচ্চারণ:“আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়া
ওয়াজজাহতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া ফাওয়াযতু আমরী
ইলাইকা, ওয়াল জা’তু যহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান
ইলাইকা, লা-মালজাআ ওয়ালা মানজাআ মিনকা ইল্লা ইলাইকা,
আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযি আনযালতা ওয়াবি নাবিয়্যিকাল্লাযি
আরসালতা।”
অযুর পদ্ধতিঃ
১) অন্তরে (মনে মনে) অযুর নিয়ত করবে।
মুখে নয়, কেননা মুখে কোন বাক্য পাঠ করে
নিয়ত করা বিদআত। এ সম্পর্কে শরীয়তের কোন
দলীল নেই। অত:পর বিসমিল্লাহ বলবে, কেননা
বিসমিল্লাহ না বললে অযু হবে না। এ সম্পর্কে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন:
ﻻَﻭَﺿُﻮْﺀَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮِﺍﺳْﻢَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
“যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলবে না তার অযু হবে না।
(আবু দাউদ ও আহমাদ)
২) তারপর দুই হাতের তালুসহ কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত
করবে।
৩) তিন বার কুলি করবে এবং নাকে পানি টেনে নিয়ে
নাক ঝাড়বে।
৪) মুখমন্ডলকে এক কান হতে অন্য কান পর্যন্ত
এবং মাথার চুল গজানোর স্থান থেকে শুরু করে
দাড়ীর নিচের থুতনী পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে।
৫) হস্তদ্বয়কে আঙ্গুল থেকে কনুই পর্যন্ত
তিনবার ধৌত করবে। প্রথমে ডান হাত পরে বাম হাত।
৬) নতুন করে পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে ভিজা হাত দিয়ে
একবার মাথা মাসেহ করবে। দুই একত্র করে মাথার
অগ্রভাগ থেকে আরম্ভ করে শেষ প্রান্ত
পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আবার অগ্রভাগে নিয়ে এসে
শেষ করবে।
৭) উভয় কানে এক বার মাসেহ করবে। উভয়ের
হাতের তর্জন আঙ্গুলকে উভয় কানের ভিতরের
অংশে প্রবেশ করিয়ে ভিতরের দিক এবং বৃদ্ধা
আঙ্গুল দ্বারা উভয়ে কানের বাহিরের অংশ মাসেহ
করবে। ঘাড় মাসে করবে না। কারণ ঘাড় মাসে করার
ব্যাপারে যে হাদীস বর্ণিত আছে তা ঠিক নয়। এ
জন্য ঘাড় সাসেহ করা বিদআত।
৮) উভয় পা-কে তিনবার আঙ্গূলের মাথা থেকে
আরম্ভ করে টাখনু সহ ধৌত করবে। প্রথমে ডান পা
পরে বাম পা। তার পর অযুর দুআ পাঠ করবে।
অযুতে কিছু ভুল-ত্রুটি
১) আবরী ও অন্য কোন ভাষাতে নিয়ত উচ্চারণ
করে পাঠ করা। ২) প্রত্যেকটি অংগ ধৌত করতে
আলাদা আলাদা দুআ পাঠ করা। ৩) প্রত্যেকটি অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গ ভাল ভাবে ধৌত না করা। ৪) দুআ পাঠ করার
সময় শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা
করা। বা আকাশের দিকে তাকিয়ে দুআ পাঠ করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অযুর সকল প্রকার ভুল-
ত্রুটিতে থেকে দূরে থেকে সঠিক ভাবে অযু
করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Advertisements