জামা‌‘আতের সাথে নামায আদায়


 জামা‌‘আতের সাথে নামায আদায়

 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তার তাৎপর্য, ফযীলত, আহকাম, উপকারিতা ও আদাবসমূহ
(জামা‘আতে সালাত আদায়) এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:

১/ আচ্ছালাত এর শাব্দিক অর্থ: দু‘আ করা, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿وَصَلِّ عَلَيۡهِمۡۖ إِنَّ صَلَوٰتَكَ سَكَنٞ لَّهُمۡۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ١٠٣ ﴾ [التوبة: ١٠٣]
অর্থ: ‘‘তাদের জন্য দু‘আ কর নিঃসন্দেহে তোমার দু‘আ হচ্ছে তাদের জন্য শান্তির কারণ’’ (তাওবাহ-১০৩) এবং নবী সা. বলেছেন: (যখন তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেয়া হয় তাহলে সে যেন দাওয়াত গ্রহণ করে, আর যদি সে রোযাদার হয় তবে দুআ’ করবে, আর যদি রোযাদার না হয় তবে সে খাবে)। (মুসলিম) অর্থাৎ সে বরকত, কল্যাণ ও মাগফিরাতের দু‘আ করবে (আন্নেহায়াতু ফি গারিবিল হাদীস) আল্লাহর পক্ষ হতে সালাত হল উত্তম প্রশংসা, ফেরেশতাদের পক্ষ হতে দু‘আ করা, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦ ﴾ [الاحزاب: ٥٦]
অর্থ: ‘‘আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তার ফেরেশ্তারাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরূদ ও সালাম পেশ কর’’। (আলআহযাব-৫৬)
আবুল আলিয়া বলেন: (আল্লাহর সালাত হল ফেরেশতাদের নিকট তার প্রশংসা করা, ফেরেশতাদের সালাত হল দু‘আ করা)। ইমাম বুখারী তার তা’লীক্বাতে দৃঢ় শব্দে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন ‘‘সালাত’’ পড়ে অর্থ হল তাদের জন্য বরকতের দু‘আ করো কারো মতে: আল্লাহর সালাত হল রহমত এবং ফেরেশতাদের সালাত হল ইস্তেগফার। প্রথম বক্তব্যটিই সঠিক, সার কথা হচ্ছে: আল্লাহর পক্ষ হতে সালাত হল প্রশংসা করা, আর সৃষ্টিকুলের যেমন: ফেরেশ্তা, মানুষ এবং জিনের পক্ষ হতে দন্ডায়মান হওয়া, রুকু করা, সিজদা করা, দু‘আ করা, ইস্তেগফার করা, তাসবীহ পড়া। পাখী ও বৃক্ষরাজীর পক্ষ হতে তাসবীহ পাঠ করা (লিসানুল আরব)।
২/শরীয়তের পরিভাষায় সালাত হল: আল্লাহর ইবাদাত করা যা অনেক বক্তব্য সম্বলিত, বিশেষ কিছু নির্ধারিত কাজ যা তাকবীর দিয়ে শুরু হয় এবং সালাম দিয়ে শেষ হয়। সালাত নামকরণ করা হয়েছে এজন্য যে, উহাতে দু‘আর অর্থ শামিল রয়েছে । (আলমুগনী ৩/৫); কেননা উহা ছিল সকল দু‘আর নাম, অতঃপর নির্ধারিত দু‘আয় রূপান্তর করা হয়েছে, অথবা উহা দু‘আর একটি নামছিল অতঃপর ইসলামী শরীয়তে নামায হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে,  যেহেতু নামায ও দু‘আর মাঝে যোগসূত্র রয়েছে এ ব্যাপারে দুটো বিষয় কাছাকাছি, শরীয়তে যদি সালাত বলাহয় তবে কেবল শরয়ী নামাযই বুঝানো হয়, (শারহুল উমদাহ) আর নামাযের মধ্যে দুইভাবে দু‘আ শামিল আছে:
কোন কিছু আবেদনের দুআ: এটাহল দু‘আরত ব্যক্তির এমন কিছু চাওয়া যাতে তার কল্যাণ আসবে এবং অনিষ্ট দূর হবে অথবা প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং ঐ অবস্থায়ই আল্লাহ তা‘আলার কাছে নিজের প্রয়োজনের জন্য আবেদন করা।
ইবাদতের ক্ষেত্রে দুআ করা: অর্থাৎ নেক কাজের দ্বারা সাওয়াবের আবেদন করা: যেমন দন্ডায়মান হওয়া, রুকু-সিজদাহ ইত্যাদি দ্বারা সাওয়াবের আশা করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এসকল ইবাদাত করবে সে তার রবের কাছে দু‘আ করল এবং এমতাবস্থায় তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে। এসকল বিষয় দ্বারা এটা স্পষ্ট হল যে, সম্পূর্ণ সালাত (নামায) হচ্ছে আবেদন মূলক দু‘আ এবং ইবাদাত মূলক দু‘আ; কেননা নামায উভয়কেই শামিল করে। (ফাতহুল মাজীদ)।
৩/ জামা‘আতের শাব্দিক অর্থ: কোন কিছুর সমষ্টি ও আধিক্য, আর আল্জামউ’ হল বিক্ষিপ্ত বিষয় সংকলন করা, আর জামে’ মসজিদ হল যে মসজিদ তার পরিবারকে (এলাকাভুক্ত নামাযীদের) একত্রিত করে, ‘‘জামে’’’ শব্দটি মসজিদের বিশেষণ; কেননা উহা একত্রিত হওয়ার প্রতীক। এবং (বিশেষণ পদ ‘‘আলমাসজিদুল জামে’’’ এর পরিবর্তে) সম্বন্ধ পদ ‘‘মাসজিদুল জামে’’’ ব্যবহার করাও বৈধ, যেমন ব্যবহার করা হয় ‘‘আলহাক্কুল ইয়াকীন’’ এবং ‘‘হাক্কুল ইয়াকীন’’। এমতাবস্থায় অর্থ হবে: ‘‘আজকের/বর্তমান জামে মসজিদ’’ এবং ‘‘বিষয়টি সত্য হওয়া নিশ্চিত’’। উক্ত উভয় বাক্যে ‘‘আজকের / বর্তমান’’ এবং ‘‘বিষয়টি’’ উহ্য মেনে অর্থ করতে হবে, কেননা বিষয়ের/জিনিসের সংযোজন তার নিজের সাথে করা বৈধ নয়। জামা‘আত হল: কিছু লোক যাদেরকে নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্য একত্রিত করে। (লিসানুল আরব)।
৪/ শরীয়তের পরিভাষায় আল-জামা‘আত বলতে: নির্ধারিত কিছু মানুষকে বুঝান হয়। সর্বনিম্ন দুইজন অর্থাৎ ইমাম ও মুক্তাদী দ্বারা জামা‘আত সংঘটিত হবে: (বাদায়ে ওয়াচ্ছানায়ে ১/১৫৬) এবং সালাতুল জামা‘আহ এজন্য নামকরণ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট স্থানে ও সময়ে নির্ধারিত কাজের জন্য মুসল্লীগণ একত্রিত হন, সুতরাং যদি কোন কারণ ব্যতীত উভয়ের অথবা একটির লংঘন করা হয় তবে তা সকল ইমামদের মতে নিষিদ্ধ। (হাশিয়াতু রওদুল মুরবি’ ২/২৫৫)।
 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:-
জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের হুকুম:
মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান যার উপর প্রযোজ্য এমন পুরুষদের উপর জামা‘আতের সাথে পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করা ফরযে আইন সে মুক্বীম  (উপস্থিত) হোক বা সফর অবস্থায় থাকুক, এক্ষেত্রে কুরআনে ও অনেক সহীহ হাদীসে ও আছারে (সাহবাদের বক্তব্য) অনেক স্পষ্ট দলীল  রয়েছে যার কিছু দলীল নিম্নে উল্লেখ করা হল:
১/ আল্লাহ তা‘আলা ভয়ের সময়েও জামা‘আতের সাথে  নামায পড়ার আদেশ করেছেন। তিনি বলেন
: ‘‘যখন আপনি তাদের মাঝে থাকবেন ও নামাযের জন্য দাঁড়াবেন, তখন তাদের একদল আপনার সাথে দাঁড়াবে এবং তাদের অস্ত্রগুলো সাথে নিবে, অতঃপর যখন সিজদাহ করবে তখন যেন আপনাদের পিছনে অপর দল থাকে আর অপর দল যারা নামায পড়েনি তারা এসে আপনার সাথে নামায পড়বে এবং সতর্ক হবে ও তাদের অস্ত্র সাথে নিবে)। (নিসা-১০২)
মহান আল্লাহ তা‘আলা প্রচন্ড ভয়ের সময় জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের আদেশ করেছেন, অতঃপর তিনি উক্ত নির্দেশ পুনরায় দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রেও করেছেন। জামা‘আতে নামায যদি সুন্নাত হত তাহলে ভয়ের ওজর জামা‘আত পরিত্যাগ করার ব্যাপারে সবচেয়ে উত্তম ওজর হিসাবে পরিগণিত হত অনুরূপ জামা‘আত যদি ফরযে কেফায়া হত তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা প্রথম দলের জামা‘আত দ্বারা দ্বিতীয় দল থেকে জামা‘আত রহিত করে দিতেন। সুতরাং এর দ্বারা বুঝা যায় যে, জামা‘আতে নামায পড়া ফরযে আইন।
২/ আল্লাহ তা‘আলা নামাযীদের সাথে মিলে নামায আদায় করার আদেশ করেছেন। তিনি বলেন:
﴿وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرۡكَعُواْ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ ٤٣ ﴾ [البقرة: ٤٣]
অর্থ: ‘‘তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর এবং রুকু কারীদের সাথে মিলে রুকু কর)। (আল্ বাক্বারাহ-৪৩)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুসল্লীদের সাথে মিলে নামায পড়ার আদেশ করেছেন, আর আদেশ সূচক শব্দ ওয়াজিব সাব্যস্ত করে।৩/ আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তিকে শাস্তি দিবেন যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিন এর ডাকে সাড়া দেয়নি এবং জামা‘আতেরসাথে নামায পড়েনি, অর্থাৎ ক্বেয়ামাতের দিন তাদের মাঝে ও সিজদার মাঝে প্রতিবন্ধক তৈরী করে দিবেন।আল্লাহ তা‘আলা বলেন
 অর্থ: ‘‘স্মরণ কর, সেই দিনের কথা, যে দিন পায়ের পিন্ডলী (হাঁটুর নিম্নাংশ) উন্মোচন করা হবে এবং তাদেরকে আহবান করা হবে সিজদা করার জন্যে; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত, হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল তখন তো তাদেরকে আহবান করা হয়ে ছিল সিজদা করতে’’। (আল-ক্বালাম-৪২-৪৩)
আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তিকে শাস্তি দিবেন যে জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের জন্য আহবান কারীর ডাকে সাড়া দেয়নি এভাবে যে, ক্বেয়ামাতের দিন তার মাঝে ও সিজদাহর মাঝে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি হবে।
আবু সায়ীদ খুদরী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি নবী r কে বলতে শুনেছি: (আমাদের প্রতিপালক তাঁর পায়ের পিন্ডলী উন্মুক্ত করে দিবেন, অতঃপর প্রত্যেক ঈমানদার নারী পুরুষ তাঁকে সিজদাহ করবে, বাকি থাকবে তারা যারা দুনিয়াতে সুনাম ও লোক দেখাবার জন্য সিজদাহ করত, তারা তাঁকে সিজদাহ করতে যাবে কিন্তু তাদের পিঠ এক বরাবর হয়ে থাকবে) অর্থাৎ অবণত হতে সক্ষম হবে না।
   অন্য শব্দে রয়েছে: (অতঃপর পায়ের পিন্ডলী উম্মোচন করা হবে তখন যে ব্যক্তিই নিজ থেকে আল্লাহ তা‘আলাকে সিজদাহ করত তাকে আল্লাহ তাআ’লা সিজদাহ করার অনুমতি দিবেন, আর যে ব্যক্তিই  আত্নরক্ষা ও লোক দেখানোর জন্য সিজদাহ করত আল্লাহ তা‘আলা তার পিঠ বরাবর করে দিবেন, যখনই সিজদাহ করার ইচ্ছা করবে তখনই ঘাড় ভেঙ্গে পিছনে পড়ে যাবে)। বুখারী ও মুসলিম)
 আর এর মধ্যে রয়েছে মুনাফিকদের জন্য শাস্তি কেননা তাদের পিঠ কেয়ামাতের দিন বরাবর হয়ে যাবে: অর্থাৎ পিঠের মেরুদন্ডের হাড় পুরোটাই এক বরাবর হয়ে যাবে, ফলে তারা সিজদাহ করতে সক্ষম হবেনা। (আন্নেহায়াতু ফি গরীবিল হাদীস-৩/১১৪)
৪/ নবী সা. জামা‘আতের সাথে নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মালেক ইবনে হুয়াইরিস (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি আমার সম্প্রদায়ের কিছু লোকের সাথে নবী সা. এর কাছে এসে বিশ রাত ছিলাম। -তিনি ছিলেন দয়াপরবশ, কোমল- যখনই আমাদের পরিবারের প্রতি আমাদের আকর্ষণ দেখতেন তখনই বলতেন: {তোমরা ফিরে যাও,  তাদের মাঝে থাক, তাদেরকে শিক্ষা দাও এবং নামায পড় আর যখনই নামাযের সময় হয় তখনই তোমাদের একজন যেন আজান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় সে যেন ইমাম হয়}। (বুখারী ও মুসলিম)
উক্ত হাদীসে নবী সা. জামা‘আতের সাথে নামায পড়ার আদেশ করেছেন, আর আদেশ সূচক শব্দ ওয়াজির সাব্যস্ত করে।
৫/ জামা‘আতে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের বাড়ীঘর আগুনে জ্বালিয়ে দিতে  নবী সা. এর ইচ্ছা প্রকাশ; আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত (তিনি বলেন) রাসূল সা.  কোন নামাযে কিছু লোককে না দেখতে পেয়ে বললেন: (আমি অবশ্যই এই ইচ্ছা করেছি যে, এক ব্যক্তিকে লোকদেরকে নিয়ে নামায পড়ার নির্দেশ দেই, অতঃপর ঐ সকল ব্যক্তিদের কাছে যাই যারা জামা‘আতে অনুপস্থিত, অতঃপর কাঠ দিয়ে তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেই, যদি তাদের কেহ জানত যে, সে মোটা হাড় পাবে তাহলে অবশ্যই সে জামা‘আতে উপস্থিত হত)। ইহা মুসলিমের শব্দ, আর বুখারীর শব্দ হল: (যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ আমি অবশ্য ইচ্ছা করেছি যে, এক ব্যক্তিকে কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেই, অতঃপর নামায পড়ার আদেশ করি এবং নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয় এবং এক ব্যক্তিকে লোকদেরকে নিয়ে নামায আদায়ের আদেশ করি, অতঃপর (জামা‘আতে অনুপস্থিত) লোকদের কাছে যাই এবং তাদের উপর তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেই, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ যদি তাদের কেহ জানত যে,  নিশ্চয় সে গোশ্ত সমেত মোটা হাড় পাবে অথবা চমৎকার দুটি তীঁর পাবে তবে অবশ্যই এশার নামাযে সে উপস্থিত হত)।
মুসলিম এর আরেক শব্দে রয়েছে: (নিশ্চয় মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন নামায হল এশা ও ফজরের নামায, যদি তারা জানত যে, ঐ দুই নামাযে কি পুরস্কার রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উভয় নামাযে আসত, অবশ্যই আমি চিন্তা করেছি যে, নামায পড়ার নির্দেশ দেই, অতঃপর নামাযে দাঁড়িয়ে যাক, এরপর এক ব্যক্তিকে লোকদেরকে নিয়ে নামায পড়ার আদেশ করি আর আমি এমন কিছু লোকদেরকে নিয়ে চলে যাই যাদের সাথে কাঠের অাঁটি রয়েছে,  ঐ সকল লোকদের নিকট যারা নামাযে হাজির হয়নি, অতঃপর আগুন দিয়ে তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেই)। (বুখারী ও মুসলিম) এই হাদীসও প্রমাণ করে যে, নিশ্চয় জামা‘আতে নামায আদায় ফরযে আইন বা অবশ্য কর্তব্য। (শারহুন্ নববী আলা ছহীহ মুসলিম-৫/১৬১)
৬/ নবী সা. দুরে বাড়ী অন্ধ ব্যক্তির জন্য জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দেননি। আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: এক অন্ধ বক্তি নবী সা. এর নিকট এলেন অতঃপর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার কোন পথ প্রদর্শক নেই যে আমাকে মসজিদে নিয়ে যাবে তাই তিনি রাসূল সা. এর কাছে বাড়ীতে নামায পড়ার অনুমতি চাইলেন, তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এরপর যখন তিনি চলে যাচ্ছিলেন, তাঁকে ডেকে বললেন: (তুমি কি আযানের ডাক শুনতে পাও? তিনি  বলেন : হ্যাঁ, তিনি সা.  বললেন: (তাহলে সাড়া দাও)। (মুসলিম)
ইবনে উম্মে মাকতুম (রা:) হতে বর্ণিত তিনি নবী সা. এর কাছে আবেদন করে বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি, দূরবর্তী স্থানে বাড়ী, চলাচলের উপযোগী আমার কোন পথপ্রদর্শক নাই, সুতরাং বাড়ীতে নামায পড়ার আমার কি অনুমতি আছে? তিনি বললেন: (তুমি কি আযান শুনতে পাও?) তিনি বলেন: হ্যাঁ, তিনি সা. বললেন: (আমি তোমার জন্য কোন অনুমতি দেখছি না)। (আবুদাউদ) অন্য শব্দে রয়েছে যে, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, শহরে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত পোকা-মাকড়, হিংস্র জমত্ত রয়েছে, অতঃপর নবী সা. বলেন: (যদি তুমি হাইয়্যা আ’লাচ্ছালাহ, হাইয়্যা আ’লাল ফালাহ শুনতে পাও তাহলে দ্রূত অগ্রসর হও)। (আবুদাউদ)
এখানে নবী সা. স্পষ্ট করে বলেন যে, আযান শুনতে পায় এমন মুসলিম ব্যক্তির জন্য নামাযে জাম’আত ত্যাগ করার কোন অনুমতি নাই। যদি একাকি নামায আদায় এবং জামা‘আতে নামায আদায়ের ব্যাপারে স্বাধীনতা থাকত তাহলে এই অন্ধ ব্যক্তি সবার চেয়ে বেশী হকদার হত, কারণ তার মধ্যে ছয়টি ওজর বিদ্যমান ছিল: দৃষ্টিহীন, দূরে বাড়ী, শহরে প্রচুর হিংস্র যন্তু- জানোয়ার, তার কোন উপযোগী চালক ছিলনা, বয়স বেশী, তাঁর ও মসজিদের মাঝে অনেক খেজুর গাছ ও অন্য গাছ ছিল।  (ইবনে ক্বাইয়্যেম এর কিতাবুচ্ছালাত -৭৬)
৭/ নবী সা. বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি আযান শুনার পর মসজিদে আসলনা তার কোন নামায নাই। ইবনে আববাস (রা:) নবী সা. হতে বর্ণনা করেন তিনি সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি আযান শুনল, অতঃপর জামা‘আতে আসেনি ওজর ছাড়া তার কোন নামায নাই। (ইবনে মাজাহ)
এগুলো এটাই প্রমাণ করে যে, জামা‘আতে নামায ফরজে আইন, আমি আমাদের শায়েখ ইমাম আব্দুল আযীয বিন বাজ (রাহ:) কে বলতে শুনেছি: (তার কোন নামায নাই এর অর্থ হল: তার নামায পূর্ণ হবেনা বরং তার নামায অসম্পূর্ণ থাকবে, তবে জামহুর ওলামাদের মতে নামায আদায় হয়ে যাবে)।
৮/ জামা‘আত পরিত্যাগ করা মুনাফিকদের আলামত এবং পথ ভ্রষ্টতার কারণ, কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) বলেন: (আমরা মনে করতাম যে, মুনাফিক ব্যতীত কেহ জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকেনা যার নেফাক ছিল বিদিত, অথবা অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত কেহ জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকেনা, যদি অসুস্থ ব্যক্তি দুই জন মানুষের উপর ভর দিয়ে মসজিদে আসতে পারত তাহলে আসত। তিনি আরও বলেন: নবী সা. আমাদেরকে হেদায়াত পূর্ণ সুন্নাতের শিক্ষা দিয়েছেন, আর হেদায়াতপূর্ণ সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে মসজিদে আযান দেয়া হয় সেই মসজিদে নামায আদায় করা।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আব্দুল্লাহ (রা:) বলেন: (যে ব্যক্তি আনন্দিত হয় যে, আগামী কাল সে আল্লাহ তা‘আলার সাথে মুসলিম হিসাবে সাক্ষাৎ করবে সে যেন সকল নামাযের প্রতি যত্নবান হয় এমন স্থানে যেখানে আযান দেওয়া হয়; কেননা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের নবীর জন্য হেদায়াতের পথ সমূহ দেখিয়েছেন, আর জামা‘আতে নামায আদায় হেদায়াতের পথ সমূহের অন্যতম, তোমরা যদি তোমাদের বাড়ীতে নামায পড় যেমন ভাবে এই অনুপস্থিত ব্যক্তি তার বাড়ীতে নামায পড়ে তবে অবশ্যই তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বর্জনকারী হবে, আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ছেড়ে দাও তাহলে অবশ্যই তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। আবু দাউদের এক বর্ণনায় রয়েছে যদি তোমাদের নবীর সুন্নাত ছেড়ে দাও তাহলে তোমরা কুফরী করবে, উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে যে ব্যক্তি এসকল মসজিদ সমূহের একটিতে যাওয়ার ইচ্ছা করে তার প্রতি কদমের জন্য আল্লাহ তা‘আলা পূণ্য লিখে রাখেন এবং উহার দ্বারা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার থেকে একটি পাপ মোচন করেন। আমরা মনে করতাম মুনাফিক ব্যতীত কেহ জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকে না যার নেফাক ছিল বিদিত, এমনকি কোন কোন ব্যক্তিকে দুইপার্শ্বে দুই ব্যক্তির মাধ্যমে ধরে নিয়ে আসা হত  এবং কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত)। (মুসলিম)
ইহা প্রমাণ করে যে, জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকা মুনাফিকের আলামাত যার নেফাক স্পষ্ট। মুস্তাহাব পরিত্যাগ করার কারণে বা মাকরুহ কাজ  করার কারণ মোনাফেকের আলামাত বলে আখ্যা দেয়া যায়না। সুবিদিত যে, যে ব্যক্তি হাদীসে মুনাফেকের আলামাত অনুসন্ধান করবে, সে পাবে যে, ফরয তরক করার কারণে কিংবা হারাম সম্পাদন করার কারণেই মুনাফেকের আলামাত বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। (ইবনে ক্বাইয়্যূমের কিতাবুচ্ছালাত-৭৭)।
উপরোক্ত আলোচনায় রয়েছে জামা‘আতে নামায পড়ার জোরদান এবং তাতে উপস্থিত হওয়আর ব্যাপারে কষ্ট সাধন। যদি অসুস্যহ বা অনুরূপ ব্যক্তির পক্ষে  জামা‘আতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় তাহলে তাতে উপস্থিত হওয়া তাদের জন্য মুস্তাহাব । (শারহুন নববী আলা ছহীহ মুসলিম-৫/১৬২)
আবু হুরায়রাহ (রা:) নবী সা. হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন: (নিশ্চয় মুনাফিকদের কিছু আলামাত রয়েছে যার দ্বারা তাদেরকে চেনা যায়: তাদের অভিবাদন হচ্ছে অভিশাপ, তাদের খাবার হচ্ছে লুটের সম্পদ, তাদের গনীমতের সম্পদ হচ্ছে খেয়ানাত, তারা মসজিদে আসেনা বরং উহাকে পরিত্যাগ করে, নামাযে সবার শেষে আসে, তারা অহংকারী, তারা কাউকে পছন্দ করেনা, তাদেরকেও কেহ পছন্দ করেনা, কাঠের মত রাতে নিদ্রামগ্ন থাকে নামায পড়েনা, দিনের বেলা হৈচৈ-এ লিপ্ত থাকে) অন্য বর্ণনায় রয়েছে : ছুখুব: অর্থাৎ  কোলাহল করা। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: (আমরা যখন এশা ও ফজরের নামাযে কোন ব্যক্তিকে পেতাম না তখন তার ব্যাপারে খারাপ ধারনা করতাম)। (ইবনে আবী শাইবা-১/৩৩২) অপর এক বর্ণনায় ইবনে ওমর (রা:) হতে বর্ণিত: (আমরা সকালের নামাযে কোন ব্যক্তিকে না পেলে তার সম্পর্কে খারাপ ধারনা করতাম)। (আল বায্যার -১/২২৮)
৯/ জামা‘আত পরিত্যাগকারীর অন্তর সীলমোহর করার ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, কেননা ইবনে আববাস ও ইবনে ওমর (রা:) হতে বর্ণিত যে, তারা উভয়ে নবী সা. কে বলতে শুনেছেন তিনি কাঠের মিম্মারে দাঁড়িয়ে বলেছেন: (অবশ্যই অনেক সম্প্রদায় জামা‘আত ত্যাগ করবে এবং অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তর সমূহে সীলমোহর করে দিবেন, অতঃপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হবে)। (ইবনে মাজাহ), এই ভীতি প্রদর্শন কেবলমাত্র বড় ধরনের ওয়াজিব পরিত্যাগ কারীর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।
১০/ ঐ সম্প্রদায়ের উপর শয়তানের বিজয় লাভ যাদের মাঝে জামা‘আত প্রতিষ্ঠিত নাই, কেননা আবু দারদাহ (রা:) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: (যে কোন গ্রাম অথবা মরুভূমিতে যদি জামা‘আত প্রতিষ্ঠিত না হয় তবে শয়তান তাদের উপর বিজয় লাভ করে, সুতরাং জামা‘আতে নামায পড়া আকড়ে ধর, কেননা বাঘ দলছুট ছাগলকে খেয়ে ফেলে)। (আবুদাউদ, নাসায়ী, আহমদ, হাকেম) নবী সা. এই সংবাদ দিয়েছেন যে, জামা‘আত পরিত্যাগের কারণে শয়তান তাদের উপর বিজয় অর্জন করবে, যে জামা‘আতের প্রতীক হল: আযান এবং নামাযের একামাত, তাই জামা‘আত যদি মুস্তাহাব হত তাহলে ব্যক্তি তা পালন করা বা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে স্বাধীন হত এবং জামা‘আত পরিত্যাগ কারী ও তার প্রতীক পরিত্যাগ কারীর উপর শয়তান বিজয় লাভ করতে পারত না। (ইবনে ক্বাইয়্যূমের কিতাবুচ্ছালাত-৮০)
১১/ আযানের পর মসজিদ হতে বের হওয়া হারাম যতক্ষণ না জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করা হয়; কেননা আবুশ্ শাছা (রা:) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: আমরা আবু হুরায়রাহ (রা:) এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম, অতঃপর মুয়ায্যিন আযান দিল এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি মসজিদ থেকে বেরিয়ে চলতে লাগল, আবু হুরায়রাহ (রা:) এর দৃষ্টি তাকে অনুসরণ করছিল এমনকি সে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল, তখন আবু হুরায়রাহ (রা:) বললেন: (এই ব্যক্তিটি আবুল কাসেম সা. এর নাফরমানি করেছে)। (মুসলিম)
আযানের পরে মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে আবু হুরায়রাহ (রা:) তাকে রাসূল সা. এর অমান্যকারী সাব্যস্ত করেলেন; কেননা সে জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করা পরিত্যাগ করেছে। (ইবনুল ক্বাইয়্যেমের কিতাবুচ্ছালাত -৮১) ইমাম নববী (র:) বলেন: (এতে প্রমাণিত হয় যে, আযানের পরে ওজর ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হওয়া মাকরুহ যতক্ষণ না ফরজ নামায আদায় করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত)। (শারহুন্ নববী আলা ছহীহ মুসলিম-৫/১৬৩)
(আযানের পরে মসজিদ থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে) স্পষ্টভাবেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে, আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. আমাদেরকে নির্দেশ করেছেন: (যখন তোমরা মসজিদে থাক, অতঃপর নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমাদের কেহ যেন নামায না পড়ে বের না হয়)। (আহমাদ-২/৫৩৮) এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (এই মসজিদে যে ব্যক্তিই আযান শোনার পর প্রয়োজন ছাড়া বের হল অতঃপর ফিরে আসলনা সে মোনাফেক)। (ত্বাবরানী)
আমি আমাদের শায়েখ ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি যে, যে মসজিদে আযান দেওয়া হয় সেখান থেকে ওজর ব্যতীত বের হওয়া জায়েয নাই, ওজর বলতে যেমন: সে ওজু করার ইচ্ছায় অথবা অন্য মসজিদে নামায পড়ার ইচ্ছায় বের হল।
আমার বক্তব্য হল: তিরমিযী (রাহ:) বলেন: (এই আমলের উপর নবী সা. এর সাহাবাগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ওলামায়ে কেরাম প্রতিষ্ঠিত ছিলেন যে, আযানের পর ওজর ব্যতীত কেহ মসজিদ থেকে বের হবেনা, অথবা কেহ বিনা ওজুতে যদি থাকে অথবা জরুরী কোন প্রয়োজন পরে তাহলেই কেবল বের হবে অন্যথা নয়। (সুনানুত তিরমিযি) 
মোবারকপুরী (রহ:) উল্লেখ করেছেন: হাদীসটি এই প্রমাণ করে যে, মসজিদে আযান হওয়ার পর জরুরী কারণ ব্যতীত সেখান থেকে বের হওয়া জায়েয নাই, যেমন যে ব্যক্তি অপবিত্র ছিল, অথবা তার হাদাসে আসগর ঘটেছে অর্থাৎ ওজু নষ্ট হয়ে গেছে, অথবা যার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়েছে বা যে মুত্রবদ্ধতায় আক্রান্ত ইত্যাদি, অনুরূপ যে ব্যক্তি অন্য মসজিদের ইমাম এবং যে ব্যক্তি উপরোক্ত ওজরের আওতাভুক্ত হবে সেও তার মতোই । (তুহফাতুল আহ্ওয়াজি-২/৬০৭)
১২/ নবী সা.-এর মসজিদে জামা‘আতের খোজ-খবর নেওয়া এই প্রমাণ করে যে, জামা‘আতে নামায পড়া ওয়াজিব; কেননা উবাই বিন কা’ব (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. একদিন আমাদেরকে নিয়ে ফজর নামায পড়ালেন, অতঃপর বললেন: (অমুককে দেখেছ?) তারা বললেন: না, তিনি বললেন: :(অমুক কে দেখেছ?) তারা বললেন: না, তিনি বললেন: (নিশ্চয় এই দুই নামায অর্থাৎ ফজর ও এশার নামায মোনাফিকদের উপর সবচেয়ে ভারী নামায, যদি তোমরা জানতে যে উভয় নামাযে কি রয়েছে তাহলে তোমরা অবশ্যই হাটুতে হামাগুড়ী দিয়ে হলেও আসতে, নিশ্চয় প্রথম লাইন ফেরেশতাদের সমতুল্য লাইন, যদি তোমরা উহার ফযীলত জানতে তাহলে অবশ্যই উহার দিকে ছুটে আসতে, আর নিশ্চয় কোন ব্যক্তির অপর এক ব্যক্তির সাথে নামায একাকী ব্যক্তির নামায অপেক্ষা অধিকতর পবিত্র  এবং  কোন ব্যক্তির অপর দুই ব্যক্তির সাথে নামায অপর এক ব্যক্তির সাথে নামায অপেক্ষা অধিকতর পবিত্র, আর যতই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে তা আল্লাহ তা‘আলার কাছে অধিক প্রিয়)। (আবুদাউদ, নাসায়ী)
১৩/ জামাআত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সাহাবাদের (রা:) ইজমা; ইমাম ইবনে ক্বাইয়্যেম (রাহ:) জামা‘আতে নামায আদায় ওয়াজিব মর্মে সাহাবাদের ইজমা উল্লেখ করেছেন এবং সে ক্ষেত্রে তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তিনি বলেন: (এই হচ্ছে সাহাবাদের স্পষ্ট সহীহ-শুদ্ধ, প্রসিদ্ধ তথা ব্যাপক বক্তব্য যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন এবং একজন সাহাবী থেকেও তার (জামা‘আত ওয়াজিব) বিরোধিতা আসেনি, এই মাস্আলার ক্ষেত্রে উপরোল্লিখিত আসারের প্রতিটিই এককভাবে স্বতন্ত্র দলীল, সুতরাং পারস্পারিক সহায়তা এবং এতগুলো দলীল সমবেত হওয়ার পর কতটা শক্তিশালী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। আল্লাহর কাছেই তাওফীক কামনা করছি )। (কিতাবুচ্ছালাত-৮১-৮২)
তিরমিযি (রাহ:) বলেন: (নবী সা. এর একাধিক সাহাবী হতে বর্ণিত  তাঁরা বলতেন: যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ তাতে সাড়া দিলনা তার জন্য কোন নামায নাই)। (সুনানুত্ তিরমিযি)
কিছু সংখ্যক আহলে ইল্ম (উলামা) বলেন: এ ব্যাপারে কঠিন ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং কারো জন্যই ওজর ব্যতীত জামা‘আত ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। (সুনানুত্ তিরমিযি-কিতাবুচ্ছালাত-২১৭)
মুজাহিদ বলেন: (ইবনে আববাস -রা:-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, দিনের বেলা রোযা রাখে এবং রাতের বেলা রাত জেগে নামায পড়ে, কিন্তু জুম’আহ ও জামা‘আতের নামাযে হাজির হয় না? তিনি বলেন: সে জাহান্নামী)। (সুনানুত্ তিরমিযি-কিতাবুচ্ছালাহ-২১৮)
তিরমিযি (রহ:) বলেন: (হাদীসের অর্থ হল: যে জুম’য়াহ ও জামা‘আতের নামাযে হাজির হয় না অপছন্দ করে, যথাযথ গুরুত্ব দেয়না এবং অবহেলা করে)। (সুনানুত্ তিরমিযি-কিতাবুচ্ছালাত-১/৪২৪)
  তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 
            জামা‘আতে নামাযের উপকারিতা:
জামা‘আতে  নামাযের উপকারিতা অনেক এবং তার বিড়াট কল্যান রয়েছে, তার রয়েছে বিভিন্নমূখী উপকারিতা, যে কারণে ইসলামী শরীয়তে জামা‘আত ওয়াজিব করেছে। আর ইহা এই প্রমাণই করে যে, হিকমাত বা প্রজ্ঞার দাবী হল জামা‘আতে নামায ফরজে আইন। যে সকল উপকারিতা ও হিকমতের জন্য জামা‘আতে নামায আদায়  করা শরীয়ত ওয়াজিব করেছে তন্মধ্যে কিছু নিম্নরূপ:
১/ এই উম্মতের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে সমবেত হওয়ার উত্তম বিধান আল্লাহ তা‘আলা নির্ধারণ করেছেন, যেগুলোর কিছু হল দিন রাতের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামায, আর কিছু রয়েছে যা সপ্তাহের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হল জুম’য়ার নামায, আর কিছু রয়েছে যা বছরে বার বার হয়, তা হল প্রত্যেক শহরের জন্য জামা‘আতের সাথে ঈদের নামায, আর কিছু রয়েছে যা বছরে একবার সার্বজনীন ভাবে পালিত হয়, তা হল আরাফাতে অবস্থান; যা পরস্পরের সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে (বিড়াট ভূমিকা পালন করে থাকে) এর মাঝে রয়েছে: অনুগ্রহ, সহানুভূতি, তত্ত্বাবধান এবং অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহবান।
২/ এই সমবেত হওয়ার মাধ্যমে সওয়াবের উদ্দেশ্যে, আল্লাহর শাস্তির ভয়ে এবং তাঁর নিকট মজুদ নেয়ামাতরাজি পাওয়ার আশায় তাঁর ইবাদত করা।
৩/ পারস্পারিক ভালবাসা অর্থাৎ পরস্পর হৃদ্যতা পোষণ করা; যাতেকরে পরস্পরের অবস্থা জানা যায়, যেমন রোগীকে দেখতে যাওয়া, মৃত ব্যক্তিকে বিদায় জানানো, দু:খ-ভারাক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করা, অভাবীদের সহায়তা দান করা; কেননা মানুষের পরস্পরের দেখা সাক্ষাৎ করা ভালবাসা ও হৃদ্যতা অবধারিত করে দেয়।
৪/ পরিচিতি লাভ: কেননা মানুষ যখন পরস্পর মিলে নামায আদায় করে তখন তাদের মাঝে পরিচয় ঘটে এবং কখনও কখনও এই পরিচয় থেকে তাদের কোন কোন আত্নীয়ের পরিচয় মিলে এবং নৈকট্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কখনও প্রবাসী অপরিচিত লোকের পরিচয় পাওয়া যায় এবং মানুষ তার অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়।
৫/ ইসলামের মহান নিদর্শন সমূহের অন্যতম নিদর্শন প্রদর্শন করা; কেননা মানুষেরা সবাই যদি তাদের বাড়ীতে নামায পড়ে তাহলে এই পরিচয় পাওয়া যায় না যে, সেখানে কোন নামায আছে।
৬/ মুসলিমদের মর্যাদা প্রকাশ করা, কেননা তাঁরা যখন সমবেতভাবে মসজিদে প্রবেশ করবে এবং মসজিদ থেকে বের হবে তখন তা মুনাফিক ও কাফেরদেরকে ক্ষেপিয়ে তুলবে এবং তাদের সাথে সাদৃস্যপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব সৃষ্টি হবে, তাদের পথ চলার পন্থা থেকে দুরে অবস্থান করা হবে।
৭/ মূর্খকে শিক্ষাদান; কেননা অনেক লোক জামা‘আতে নামাযের মাধ্যমে  শরীয়তের অনেক বিধান শিক্ষা লাভ করে থাকে, প্রকাশ্য ক্বেরাত শুনতে পায়, উপকৃত হয়, শিখতে পারে এবং সে নামাযের পরের জিকির বা দু‘আ গুলো শুনতে পায়, তা মুখস্থ করে, সে ইমামের ও তার পার্শ্বে ও সামনে যারা আছে তাদের অনুসরণ করে। এভাবে নামাযের বিধিবিধান শিখে এবং মূর্খ ব্যক্তি শিক্ষীত ব্যক্তির থেকে শিক্ষা লাভ করে।
৮/ জামা‘আতে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে উৎসাহ দান, তাকে পথ নির্দেশনা ও উপদেশ প্রদান করা, অধিকারের ব্যাপারে পরস্পর সদুপদেশ বা পরামর্শ দেওয়া এবং তার উপর ধৈর্য্য ধারন করা।
৯/ মুসলিম উম্মাহকে একতাবদ্ধ থাকার এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হওয়ার অনুশীলন করা; কেননা উম্মাত (মুসলিম উম্মাহ) শাসনকর্তার আনুগত্যের ব্যাপারে একমত, আর জামা‘আতের সাথে এই নামায হচ্ছে একটি ছোট্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা; কেননা তারা একজন ইমামের আনুগত্য করে তাকে পরিপুর্ণ অনুসরণ করে, সুতরাং ইহা সাধারণ ভাবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গী প্রতিষ্ঠা করে থাকে।
১০/ আত্ননিয়ন্ত্রনের প্রতি মানুষকে অভ্যস্ত করা, কেননা যখন সে ইমামের পুংখানুপুংখ অনুসরণ করার অভ্যাস করে, তার পূর্বে তাকবীর দেয়না, তার আগে কিছু করেনা, তার থেকে খুব বেশী দেরীও করেনা, তার একেবারে সাথে সাথেও করেনা বরং তাঁকে অনুসরণ করে সে আত্ননিয়ন্ত্রনের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যায়।
১১/ মুসলিম ব্যক্তির জিহাদের ময়দানে এক লাইনে দন্ডায়মান হওয়ার অনুভূতি জাগ্রত হয়, যেমনটি আললাহ তায়ালা বলেছেন:
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلَّذِينَ يُقَٰتِلُونَ فِي سَبِيلِهِۦ صَفّٗا كَأَنَّهُم بُنۡيَٰنٞ مَّرۡصُوصٞ ٤ ﴾ [الصف: ٤]
 অর্থ: ‘‘যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে সারিবদ্ধভাবে সুদৃঢ় প্রাচীরের মত, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন’’। (আছ-ছফ-৪)
সুতরাং এই ব্যক্তিরা যারা জিহাদের ময়দানে এক কাতারবন্দী হয়ে গেল নিঃসন্দেহে তারা যদি উহা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে অভ্যস্ত হয় তাহলে উহা জিহাদের ময়দানে তাদের জন্য  তাদের নেতার নেতৃত্ব অনুসরণ করার ওসীলা (মাধ্যম) হবে, অতএব তার আদেশের আগেও বাড়বেনা এবং পিছেও সরবে না।
১২/ মুসলিমদের সমানাধিকারের অনুভূতি এবং সামাজিক পার্থক্য ভেঙ্গে ফেলা; কেননা তারা মসজিদে একত্রিত হয়: সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি সবচেয়ে দরিদ্র ব্যক্তির পার্শ্বে, আমীর মা’মুরের (অধীনস্ত ব্যক্তির) পার্শ্বে, শাসক শাসীতের পার্শ্বে, ছোট ব্যক্তি বড় ব্যক্তির সাথে দন্ডায়মান হয় ফলে মানুষ এই উপলব্ধি করে যে, তারা সবাই এক সমান, আর এমনি ভাবে সম্পৃতির সৃষ্টি হয়; এজন্যই নবী সা. কাতার সমূহ সোজা করার আদেশ করেছেন এমনকি তিনি বলেন: (তোমরা পরস্পর মতভেদ করনা, তা করলে তোমাদের অন্তর সমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে)। (মুসলিম)
১৩/ ফকীর-মিসকীনদের অবস্থার খোজ খবর নেয়া এবং রোগীদের ও নামাযের ব্যাপারে অবহেলা কারীদের খোজ খবর নেয়া; কেননা মানুষ যখন অপর মানুষকে দেখে যে, সে অতি পুরাতন কাপড় পরিধান করছে এবং তার উপর ক্ষুধার ‎চি‎‎‎হ্ণ ফুটে উঠেছে তখন তার প্রতি দয়া করে, তাকে অনুগ্রহ করে, আর যখন তাদের কেহ কেহ জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকে, তখন তারা জানতে পারে যে, সে অসুস্থ ছিল, অথবা সে অপরাধী ছিল (জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকার কারণে) এতে করে তাকে নছীহত করে, এভাবে পুণ্য ও আল্লাহ ভীতির পথে পরস্পর সহযোগিতা সংঘটিত হয়, ন্যায়ের সাথে পরস্পর সুপরামর্শ দেওয়া হয় এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে  পরস্পর সহায়তা দান অর্জন হয়।
১৪/ এই উম্মতের পরবর্তী ব্যক্তিদের সে বিষয়ের উপলব্ধি করা, যার উপর উম্মতের প্রথম ব্যক্তিগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন; কেননা সাহাবাগণ রাসূল সা. এর অনুসরণ করতেন। সুতরাং ইমাম অনুভব করে যে, সে রাসূল সা. এর স্থানে অবস্থান করছে, মা’মুম (ইমামের পিছনে নামাযরত ব্যক্তি) অনুভব করে যে, সে সাহাবাদের (রা:) স্থানে অবস্থান করছে এবং এই অনুভূতি উম্মতকে নবী সা. ও তাঁর সাহাবা (রা:) এর অনুসরণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।
১৫/ আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বরকত অবতীর্ণ হওয়ার উপায় লাভের আশায় মসজিদে মুসলিমদের সমবেত হওয়া।
১৬/ মুসলিমের কর্ম তৎপরতা বৃদ্ধি পায়, আর তা এই ভাবে যে যখন সে  এবাদত বন্দেগীতে প্রাণবন্ত ব্যক্তিদের উৎসাহ উদ্যম দেখতে পায়, আর এতে রয়েছে বিরাট উপকার।
১৭/ নেকী দ্বিগুন হয় এবং সাওয়াব বৃদ্ধি পায়।
১৮/ কথা ও কাজের দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার পথে আহবান করা, এছাড়াও অন্যান্য প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। (হাশিয়াতুর রওদুল মুরবি’, আলএহকাম, মাজমু’ ফাতাওয়া, শারহুল মুমতি’, সালাতুল জামা‘আহ)
১৯/ নির্দিষ্ট সময়ে মুসলিমদের সমবেত হওয়া তাদেরকে সময়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার শিক্ষা দান করে।
 চতুর্থ পরিচ্ছেদ:
জামা‘আতে নামাযের ফযীলত:
জামা‘আতে নামাযের অনেক ফযীলত রয়েছে, নিম্নে তার থেকে কিছু উল্লেখ করা হল:
-জামা‘আতে নামায সাতাশ বার একাকী নামাযের সমান, সুতরাং জামা‘আতের সাথে নামায আদায়কারীর একাকী নামায আদায়কারীর তুলনায় ২৭ গুন বেশি সাওয়াব লাভ করে। (নাইলুল আওতার-২/৩৪৭, ছুবুলুচ্ছালাম-৩/৬৭) কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, রাসূল সা. বলেন: (জামা‘আতে নামায একাকী নামায অপেক্ষা ২৭ গুন বেশী মর্যাদাপূর্ণ)। মুসলিমের শব্দ হল: (জামা‘আতে নামায একাকী নামায অপেক্ষা মর্যাদার দিক থেকে ২৭গুন উত্তম)। মুসলিমের অপর শব্দে রয়েছে: (ব্যক্তির জামা‘আতে নামায তার একাকী নামায অপেক্ষা ২৭ গুন বেশি)। (বুখারী ও মুসলিম) আবু সায়ীদ খুদরী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি নবী সা. কে বলতে শুনেছেন: (জামা‘আতে নামাযের সাওয়াব একাকী নামায থেকে মর্যাদার দিক থেকে ২৫ গুন বৃদ্ধি করা হয়)। (বুখারী)
আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত নবী সা. হতে বর্ণনা করেন: (সবার সাথে নামায অর্থাৎ জামা‘আতের সাথে নামায কোন ব্যক্তির একাকী নামাযের তুলনায় ২৫ গুন বাড়িয়ে দেওয়া হয়)।
তিনি আরও বলেন: (রাতের ও দিনের ফেরেশ্তাগণ ফজর নামাযে একত্রিত হন)। আবু হুরায়রাহ (রা:) বলেন: (তোমরা ইচ্ছা করলে পড়) وَقُرۡءَانَ ٱلۡفَجۡرِۖ إِنَّ قُرۡءَانَ ٱلۡفَجۡرِ كَانَ مَشۡهُودٗا ٧٨ ﴾ [الاسراء: ٧٨]   অর্থ: ‘‘ফজরের তেলাওয়াত এবং নিশ্চয় ফজরের তেলাওয়াতে  পরিলক্ষিত হয়’’ অর্থাৎ ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকেন।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: (২৫ অংশ বৃদ্ধি করা হয়)। (বুখারী ও মুসলিম)। (অংশ এবং মর্যাদার অর্থ একই: (শারহুনণববী আ’লা ছহীহ মুসলিম ৫/১৫৮)
উক্ত উভয় ধরনের (২৫ গুন এবং ২৭ গুন মর্যাদা বিশিষ্ট) হাদীস সমূহের মাঝে এভাবে সামঞ্জস্য বা মিল করা হয়েছে যে, ২৫ গুনের হাদীসে যে মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে তা হল ব্যক্তির একাকী নামায ও জামা‘আতে নামাযের মাঝে ব্যবধান ২৫ গুন বেশি, আর ২৭ গুনের হাদীসে যে মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে তা হল ব্যক্তির একাকী নামায ও তার জামা‘আতে নামায এবং উভয়ের মাঝের ফযীলত, অতএব উভয়ের সমষ্টি হয় ২৭। (ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া-২৩/২২২)   ইমাম নববী (রাহ:) বলেন: উক্ত হাদীস সমূহের মাঝে তিন ভাবে সামঞ্জস্য বা মিল করা যায়ঃ
 প্রথমটি হল: উল্লিখিত বর্ণনা সমূহের মাঝে কোন বৈপরিত্য নাই, কেননা অল্পের উল্লেখ দ্বারা বেশীকে অস্বীকার করা হয়না (অল্প বেশীর অন্তর্ভুক্ত) এবং উসূলবিদদের নিকট সংখ্যার অর্থ নেয়া অকার্যকর/অর্থহীন।
দ্বিতীয়ত: হয়তবা প্রথমে কম সংখ্যার সংবাদ (নবী সা. কে) দেয়া হয়েছিল, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে অতিরিক্ত ফযীলতের কথা জানালে তিনি তার সংবাদ দেন।
তৃতীয়ত: নামায ও নামাযীদের অবস্থা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে অর্থাৎ নামাযের পূর্ণতা সঠিক ভাবে যত্ন নেয়া তাতে বিনম্রতা বজায় রাখা, তা বড় জামা‘আতে আদায় করা এবং স্থানের মহত্ব ও মর্যাদা প্রভৃতি অনুসারে কারো জন্যে ২৫ গুন এবং কারো জন্যে ২৭ গুন হয়ে থাকে। এবং এগুলো হল নির্ভরযোগ্য উত্তর। (শারহুন্নববী আ’লা ছহীহ মুসলিম ৫/১৫৬-১৫৭)।
আমি আমাদের সম্মানিত শায়েখ ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি: (আর এই তারতম্য আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন অতিরিক্ত ফযীলতের বর্ণনা, কম ফযীলতের বর্ণনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়নি, সুতরাং প্রথমে ২৫ এর সংবাদ দিয়েছেন অতঃপর ২৭ এর সংবাদ দিয়েছেন)।
যারা বলেন যে, জামা‘আতে নামায ওয়াজিব নয় তারা এই সকল হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন যে, আফযাল (বেশী উত্তম) শব্দটি মূল ফযীলতে উভয়ের অংশীদারিত্ব প্রমাণ করে (এতে প্রমাণিত হয় জামা‘আত ওয়াজিব নয়) আমি আমাদের ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি: (এই হাদীস গুলো জামা‘আতের ফযীলত প্রমাণ করে, কিন্তু এই ফযীলত ওয়াজিব না হওয়া সাব্যস্ত করেনা, অতএব জামা‘আতে নামায ওয়াজিব এবং উত্তম। আর শ্রেষ্ঠত্ব এবং ওয়াজিব এর মাঝে কোন বৈপরিত্য নাই। এবং যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে নামায পড়েনি অগ্রাধীকার যোগ্য মত অনুযায়ী তার নামায সহীহ তবে সে গুনাহগার)।
আর একাকী নামায আদায়কারী যে জামা‘আতের সাওয়াব থেকে বঞ্চিত তার ওজর গ্রহণ যোগ্য নয়, সকল বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলাই অধিক জ্ঞাত। তবে যদি তার অভ্যাস এমন হয় যে, সে জামা‘আতে নামায পড়ে কিন্তু ওজরের কারণে জামা‘আতে নামায পড়তে পারেনি: যেমন অসুস্থ ব্যক্তি অথবা সফর রত বা আটকা পড়া ব্যক্তি এবং জামা‘আতে উপস্থিত হওয়া তার পক্ষে সম্ভব না হয়, আর আল্লাহ তা‘আলাই জানেন যে, ব্যক্তির নিয়্যাত আছে যদি সে সক্ষম হত জামা‘আতে নামায পরিত্যাগ করত না, এই ব্যক্তির সাওয়াব পরিপূর্ণ হবে; কেননা যে ব্যক্তি কোন কাজের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল এবং যতটুকু তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে ততটুকুই পালন করেছে, সে পরিপূর্ণ কর্মসম্পাদনকারীর স্থানেই অবস্থানকারী। (ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া-২৩/২৩৬); কেননা আবু বুরদাহ (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে যা আবু মূসা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যখন কোন বান্দাহ অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে ঐ পরিমাণ সাওয়াব তার জন্য লেখা হয়, মুকিম অবস্থায় সুস্থ থেকে সে যে পরিমাণ আমল করত)। (বুখারী)
-আল্লাহ তা‘আলা জামাআতের সাথে নামায আদায়ের বিনিময়ে শয়তান থেকে রক্ষা করেন; কেননা মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে, রাসূল সা. বলেন: (নিশ্চয় শয়তান মানুষের জন্য বাঘ স্বরূপ, যেমন ছাগলের জন্য বাঘ রয়েছে, সে দলছুট ছাগলকে এবং একাকী ছাগলকে খেয়ে ফেলে, সাবধান! পরস্পর বিভক্ত হওয়া থেকে, তোমরা জামা‘আতকে (আহলুচ্ছুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত) আকড়ে ধর এবং জনসাধারনের সাথে থাক)। (আহমদ-৫/২৪৩) এবং আবু দারদা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: (কোন গ্রামে অথবা মরুভূুমিতে যদি তিন ব্যক্তি থাকে কিন্তু তাদের মাঝে নামায প্রতিষ্ঠিত না থাকে তাহলে শয়তান তাদের উপর বিজয় লাভ করে, সুতরাং তোমরা জামা‘আত আকড়ে ধর, কেননা বাঘ কেবল দূরে অবস্থান কারী ছাগলই খেয়ে থাকে)। (আবুদাউদ, নাসায়ী, আহমাদ)
– জামা‘আতের সাথে নামাযের ফযীলত বৃদ্ধি পায় মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি অনুযায়ী; কেননা উবাই বিন কা’ব (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: (..আর নিশ্চয় কোন ব্যক্তির অপর ব্যক্তির সাথে নামায তার একাকী নামায অপেক্ষা অধিকতর পবিত্র এবং কোন ব্যক্তির অপর দুই ব্যক্তির সাথে নামায তার অপর এক ব্যক্তির সাথে নামায অপেক্ষা অধিকতর পবিত্র, আর যতই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে তা আল্লাহ তা‘আলার কাছে অধিক প্রিয়)। (সুনানে আবুদাউদ, নাসায়ী, আহমদ) আর এ হাদীসটি অধিক সংখ্যক মানুষের সাথে নামায আদায়ের প্রতি উৎসাহ দেয়, যদি অকল্যাণ থেকে নিরাপদ থাকা যায় এবং কোন ধরনের কল্যাণ ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকে ।
– জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও মোনাফিকি থেকে মুক্তি ঐ ব্যক্তির জন্য যে ৪০দিন তাকবীরে তাহরীমা সহ জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করতে পারে; কেননা আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন:
«مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَ لَهُ بَرَاءَتَانِ: بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ»
অর্থ: (যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ৪০ দিন জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করল যাতে সে তাকবীরে উলা বা প্রথম তাকবীর পেয়েছে তার জন্য দুটি মুক্তি লেখা হয়: জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং নেফাক থেকে মুক্তি)। (তিরমিযি)
 এতে নামাযে এখলাছ বা একনিষ্ঠতার ফযীলত রয়েছে; কেননা নবী সা. বলেছেন: (مَنْ صَلَّى لِلَّهِ) অর্থাৎ: (যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নামায পড়ল) অর্থাৎ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য, (بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ،) অর্থাৎ: জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও নিষ্কৃতি পাওয়া এবং তার জন্য লেখা হয়( وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ) অর্থাৎ: দুনিয়াতে মুনাফিকের কাজ করা হতে নিরাপদ থাকে এবং একনিষ্ঠ লোকদের কাজ করার তাওফীক দেওয়া হয় অর্থাৎ তাকে নেক্ কাজ করার তাওফীক দান করা হয়, আর আখেরাতে মুনাফিককে যে শাস্তি দেওয়া হবে তা হতে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তার জন্য এই সাক্ষী দেওয়া হয় যে, সে মুনাফিক নয়, অর্থাৎ মুনাফিকরা যখন নামায পড়ে তখন তারা অলসদের মত নামায পড়ে, আর এই ব্যক্তির অবস্থা তাদের বিপরীত। (তুহফাতুল আহওয়াজী ২/৪৫)।
-যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে ফজরের নামায আদায় করল সে সন্ধা পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্বে ও নিরাপত্তায় থাকে; কেননা জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়ল সে আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্বে, সুতরাং তোমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাঁর যিম্মার কোন অংশ কামনা করনা; কেননা যে ব্যক্তি তাঁর কাছে তাঁর যিম্মার কিছু অংশ কামনা করে তাঁকে কিছু অংশ দেওয়া হয়, অতঃপর জাহান্নামের আগুনে  মাথা নীচু করে তাকে নিক্ষেপ করা হয়)। (মুসলিম-৬৫৮)
এতে নিশ্চিত (প্রমাণিত) হয় যে, যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়ে সে আল্লাহ তা‘আলার নিরাপত্তায় থাকে এবং তার সান্নিধ্যে থাকে, যেহেতু সে আল্লাহ তা‘আলার আশ্রয় চেয়েছে, আর তাই আল্লাহ তা‘আলা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন, সুতরাং কারও উচিৎ নয় নিজেকে দু:খ বা কষ্টের সম্মুখীন করা, আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার কাছে স্বীয় হক/অধিকার তলব করবেন, আর যার কাছে স্বীয় হক তলব করে বসবেন সে কোন পালানোর স্থান পাবেনা এবং কোন আশ্রয় স্থলও পাবেনা। এতে রয়েছে কঠোর ভীতি প্রদর্শন ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি নামাযীদের বাধা দান করে এবং সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যে ফজরের নামাযে উপস্থিত হয়। কিছু কিছু হাদীস এমন এসেছে যাতে ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে পড়ার কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ হয়েছে। (আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব)
-যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে ফজরের নামায আদায় করল, অতঃপর  সূর্যোদয় পর্যন্ত  বসে আল্লাহর জিকির (শরীয়ত সম্মত পন্থায়) করল তার জন্য রয়েছে হজ্ব এবং ওমরার সাওয়াব; কেননা আনাস (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করল, অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করল এবং দুই রাকাআত নামায আদায় করল তার জন্য রয়েছে হজ্ব ও ওমরার সাওয়াব: পরিপুর্ণ, পরিপুর্ণ, পরিপুর্ণ)। (তিরমিযি-৫৮৬)
-এশা এবং ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায়ের জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান; কেননা উসমান বিন আফফান (রা:) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে এশার নামায আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত জাগরন করল, আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করল সে যেন গোটা রাত নামায পড়ল)। (মুসলিম-৬৫৬)
কারও কারও মতে: হাদীসের অর্থ হল, যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করল এবং এশার নামাযও জামা‘আতের সাথে আদায় করল সে যেন পুরো রাত নামায পড়ল। আবু দাউদের শব্দ উক্ত অর্থের সমর্থন করে: (যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে এশার নামায আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত জাগরণ করল এবং যে ব্যক্তি এশা ও ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করল, সে যেন গোটা রাত জাগরণ করল)। (আবুদাউদ, তিরমিযি)। আর মুনযিরি এই বক্তব্য এখতিয়ার করেছেন অর্থাৎ এশা ও ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করার মধ্যেই রয়েছে পুরা রাত জাগরণের সাওয়াব। (তুহফাতুল আহওয়াজী-১/১৩, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব-১/৩৪৩ )
   কারো কারো মতে: যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে এশার নামায আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত জাগরণ করল এবং যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করল তার জন্য রয়েছে গোটা রাত জাগরণ করার/এবাদত করার ফযীলত, আর এটা আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ। ইমাম ইবনে খুযাইমাহ (রাহ:) উপরোক্ত বক্তব্যের সমর্থন করেছেন, অতঃপর বলেছেন: (এশা ও ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করার ফযীলত, উহার বিবরণ হল, ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে পড়া এশার নামায জামা‘আতের সাথে পড়া অপেক্ষা উত্তম, ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে পড়ার ফযীলত এশার নামায জামা‘আতের সাথে পড়ার ফযীলত অপেক্ষা দ্বিগুণ বেশী), অতঃপর তিনি মুসলিম এর হাদীসের ন্যায় শব্দে হাদীস উল্লেখ করেছেন, (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-২/৩৬৫) আল্লাহ তা‘আলার অনুকম্পা প্রশস্ত/বিশাল। নবী সা. ফজরের নামায ও এশার নামাযের ব্যাপারে বলেছেন: (…যদি তারা জানত যে উভয় নামাযে কি রয়েছে তবে অবশ্যই তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও হাজির হত)। (বুখারী-৬৪৪, মুসলিম-৬৫১)
– রাত ও দিনের ফেরেশ্তাদের ফজর ও আছরের নামাযে অংশগ্রহণ করা; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, রাসূল সা. বলেছেন: (তোমাদের মাঝে রাতের এবং দিনের ফেরেশ্তাগণ একদলের পর অপর দল আগমন করেণ এবং ফজরের ও আছরের নামাযে সমবেত হন, অতঃপর রাতে যারা তোমাদের মাঝে ছিল তাঁরা উর্ধোলোকে চলে যায়, তারপর তাঁদের রব তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত, আমার বান্দাদের কি অবস্থায় রেখে এসেছ? তাঁরা বলেন: তাদেরকে এ অবস্থায় রেখে এসেছি যে, তারা নামায পড়তেছে এবং তাদের কাছে আমরা যখন এসেছি তখনও তারা নামায পড়তেছিল)। (বুখারী ও মুসলিম) ইমাম নববী (রহ:) বলেন: يتعاقبون  এর অর্থ হল: একদলের পর আরেক দল আগমন করেন এবং সেখান থেকেই সৈনিকদের আগমন করা এসেছে, আর উহা হল একদল তাদের কওমের সুরক্ষিত সীমান্তে চলে যাবে অপর দল চলে আসবে। আর ফজর ও আছরের নামাযে তাঁদের সমবেত হওয়া হল, আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি সহানুভূতির বহি:প্রকাশ, তাঁর পক্ষ হতে তাদের জন্য সম্মান প্রদান যে, তিনি ফেরেশ্তাদেরকে বান্দাদের নিকট সমবেত হওয়া এবং তাদের থেকে পৃথক হওয়া তাদের আল্লাহর এবাদাত এবং তাঁর আনুগত্যের সময়ই নির্ধারন করেছেন। যাতে করে তাদের জন্য স্বাক্ষ্যদাতা হতে পারেন, যে সকল উত্তম কাজে তাদেরকে যা করতে দেখেছেন সে ব্যাপারে)। (শারহুন্নববী আলা সহীহ মুসলিম- ৫/১৩৮)। তবে অধিক স্পষ্ট কথা এবং যা অধিকাংশের বক্তব্য তা এই যে, এ সকল ফেরেশ্তাগণ হচ্ছেন কিতাব সংরক্ষণকারী।
কারো কারো মতে: এমনও হতে পারে যে, তাঁরা সংরক্ষণকারীগণ ব্যতীত মানুষের মাঝে অবস্থান কারী ফেরেশ্তাদের মধ্য থেকে একদল। আল্লাহ তা‘আলাই অধিক জ্ঞাত। (শারহুন্নববী আ’লা সহীহ মুসলিম- ৫/১৩৮)
        জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা রাসূল সা. এর নিকট বসা ছিলাম, অতঃপর তিনি পূর্ণীমার রাতে চাঁদের দিকে তাঁকালেন এবং বললেন: (নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবকে অচিরেই দেখতে পাবে যেমনভাবে এই চাঁদটা দেখতেছ, তাঁকে দেখতে তোমাদের কোন রকমের কষ্টক্লেশ বা ভীড়াভীড়ি করতে হবেনা, আর যদি তোমাদের পক্ষে সম্ভব হয় সূর্যোদয়ের পুর্বে ও সূর্যাস্তের পুর্বে নামায আদায় করা তাহলে তাই কর) অর্থাৎ ফজর ও আছর নামায, অতঃপর জারির (র:) তেলাওয়াত করলেন:
﴿فَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ قَبۡلَ طُلُوعِ ٱلشَّمۡسِ وَقَبۡلَ ٱلۡغُرُوبِ ٣٩ ﴾ [ق: ٣٩]
 অর্থ:‘‘এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার পালন কর্তার স্বপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন’’। (ক্বাফ:৩৯) (বুখারী ও মুসলিম)। মহা ফযীলত প্রমাণিত হয় ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে ফজর ও আছরের নামাযে যত্ন নেয়/নিয়মিত আদায় করে, আবু বকর বিন আম্মারাহ বিন রুআইবাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: (যে ব্যক্তিই সূর্যোদয়ের পুর্বে ও সূর্যাস্তের পুর্বে নামায আদায় করবে সে কখনও জাহান্নামে প্রবেশ করবেনা) অর্থাৎ ফজর ও আছরের নামায। (মুসলিম)
 উক্ত সাহাবী (রা:) হতে আরও বর্ণিত: রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি দুই শীতল সময়ের নামায পড়ল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)। (বুখারী ও মুসলিম) আর ঐ দুই নামায হল: ফজর ও আছরের নামায। আর প্রচন্ড ভীতি প্রদর্শণ এসেছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে আছরের নামায ছেড়ে দেয় অথবা কাযা করে, বুরায়দাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি তার সাথীদেরকে কোন এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে বলেন: তোমরা তাড়াতাড়ি আছরের নামাযে হাজির হবে; কেননা নবী সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি আছরের নামায ছেড়ে দেয় তার আমল নষ্ট হয়ে যায়)। (বুখারী)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তির আছরের নামায ছুটে যায় তার যেন পরিবার পরিজন ও সম্পদ তুলে নেয়া হয়/তার থেকে অপসারন করা হয়)। (বুখারী)
   ইমাম কুরতুবী (রা:) উল্লেখ করেন: ( وتر أهله وماله) শব্দটি পেশ দিয়ে বর্ণিত হয়েছে যার অর্থ হল: তার থেকে অপসারন করা হয়েছে এবং কব্জা করা হয়েছে এবং  (أهله وماله) যবর দিয়েও বর্ণিত হয়েছে যার অর্থ হল: ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেছেন: উপরোক্ত শাস্তি তার জন্য রয়েছে যে আছরের নামায নির্ধারিত সময়ে পড়ে না। এবং আরও বলা হয়েছে: উহা তার জন্য যে আছরের নামায সূর্য হলুদ রং ধারন করা পর্যন্ত দেরী করে। আরও বলা হয়েছে: আছরের নামায নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে; কেননা উহাতে ফেরেশ্তাগণ উপস্থিত থাকেন, আর এই বক্তব্য অনুযায়ী ফজরের নামাযও একই হুকুমে পড়ে।
আরও বলা হয়েছে: আছরের নামায নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে; কেননা উহা এমন নামায যা মানুষের ব্যস্ততার সময়ে আসে, আর এই বক্তব্যানুযায়ী ফজরের নামায উপরোক্ত হুকুমের জন্য অধিকতর উপযোগী; কেননা উহা ঘুমের সময়ে আসে। আর রাসূল সা. এর বক্তব্য: (যে ব্যক্তি আছরের নামায ছেড়ে দেয় তার আমল ধ্বংস হয়ে যায়) উহা শুধু আছরের জন্য খাছ বা নির্দিষ্ট নয়, বরং উহা আছর ব্যতীত অন্যান্য নামাযের ক্ষেত্রেও একই।
– আল্লাহ তা‘আলা জামা‘আতে নামায আদায়ের দ্বারা বিস্মিত হন; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা জামা‘আতে নামায আদায় করাকে ভালবাসেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আশ্চর্যান্বিত হন সমবেতভাবে নামায আদায় করলে)। (আহমাদ)
আর এই  বিস্মিত হওয়া আল্লাহ তা‘আলার জন্য যেমনটি শোভাপায় তেমনটিই, তাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের কারো সাথে কোন রকমের সাদৃশ্য নাই; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার বিস্মিত হওয়া তাঁর সৃষ্টিজগতের বিস্মিত হওয়ার মত নয়:
﴿لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ ١١ ﴾ [الشورى: ١١]
অর্থ: ‘‘কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়, তিনি সব শুনেন, সব দেখেন’’। (আশ্শুরা-১১)
১০– জামা‘আতের সাথে নামাযের জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তি নামাযের মধ্যেই থাকেন,  নামাযের পূর্বে ও পরে যতক্ষণ সে নামাযের স্থানে থাকে ততক্ষণই উপরোক্ত হুকুমের আওতায় থাকে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন: (বান্দাহ ততক্ষণ নামাযরত অবস্থায় থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে নামাযের মুসল্লায় নামাযের জন্য অপেক্ষমান থাকে এবং ফেরেশ্তাগণ বলেন: হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন, এ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যে পর্যন্ত না সে চলে যায় বা কিছু ঘটায়)। আমি বললাম: সে কি ধরনের কাজ ঘটায়? তিনি বললেন: (বায়ু নির্গত করে অথবা বাত কর্ম করে)। মুসলিম এর শব্দে রয়েছে : (ফেরেশ্তাগণ তোমাদের কারো উপর ততক্ষণ পর্যন্ত রহমতের দু‘আ করতে থাকেন যে পর্যন্ত সে ঐ বৈঠকে থাকে যেখানে সে নামায পড়েছিল এবং তাঁরা বলতে থাকেন: হে আল্লাহ তার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন: হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন হে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করুন, যে পর্যন্তনা সে কষ্টদেয় যে পর্যন্তনা সে কিছু ঘটায় অর্থাৎ বায়ু নির্গত করে)। (বুখারী ও মুসলিম) এবং (কাউকে কষ্ট না দেয়) অর্থাৎ তার থেকে এমন কিছু সংঘটিত হওয়া যার দ্বারা আদম সন্তানেরা কিংবা ফেরেশ্তাগণ কষ্টপায়। আল্লাহ তা‘আলাই অধিক জ্ঞাত।
১১-ফেরেশ্তাগণ নামাযের পুর্বে ও পরে দু‘আ করতে থাকেন ঐ ব্যক্তির জন্য যে জামা‘আতের সাথে  নামায আদায় করে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকে যে পর্যন্ত সে নামাযের মুসল্লায় থাকে এবং নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, যে পর্যন্ত না সে কিছু ঘটায়  অথবা যে পর্যন্ত না সে কষ্ট দেয়; কেননা আবু হুরায়রাহ (র:) থেকে হাদীস যাতে রয়েছে: (বান্দাহ ততক্ষণ নামাযরত অবস্থায় থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে নামাযের মুসল্লায় নামাযের জন্য অপেক্ষমান থাকে এবং ফেরেশ্তাগণ বলেন: হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন, এ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যে পর্যন্ত না সে চলে যায় অথবা খারাপ কিছু না ঘটায়..), মুসলিম শরীফে রয়েছে: (ফেরেশ্তাগণ তোমাদের কারো উপর ততক্ষণ পর্যন্ত রহমতের দু‘আ করতে থাকেন যে পর্যন্ত সে ঐ বৈঠকে থাকে যেখানে সে নামায পড়েছিল এবং তারা বলতে থাকেন: হে আল্লাহ তার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন: হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেদিন, হে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করুন, যে পর্যন্ত না সে কষ্টদেয় যে পর্যন্তনা সে কিছু ঘটায় অর্থাৎ বায়ু নির্গত করে)। (বুখারী ও মুসলিম)
আমি আমাদের শায়েখ সম্মানিত ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: (ফেরেশ্তাগণ নামাযের মুসল্লায় তার জন্য দু‘আ করতে থাকেন, মসজিদে নামাযের পূর্বে ও পরে যে পর্যন্ত সে নামাযের মুসল্লায় থাকে যে পর্যন্ত না সে কষ্টদেয় গীবতের দ্বারা অথবা পরনিন্দার দ্বারা, অথবা বাতিল বা অন্যায় কথার দ্বারা এবং যে পর্যন্ত না সে কিছু ঘটায় অর্থাৎ বায়ু নির্গত করে)
১২– প্রথম কাতারের ফযীলত এবং জামা‘আতে নামাযরত কাতারের ডান দিকের ফযীলত, কাতারে মিলিত হয়ে দাড়ানোর ফযীলত। এ ক্ষেত্রে অনেক ফযীলত সাব্যস্ত হয়েছে তার থেকে নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হল:
প্রথম ফযীলত: প্রথম সারির উপর লটারী এবং উহা ফেরেশ্তাদের সারির অনুরূপ; কেননা আবু হুরায়রাহ (র:) থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেছেন: (যদি মানুষ জানত যে আযানের মধ্যে এবং প্রথম সারিতে কি রয়েছে, অতঃপর উহা লটারী ব্যতীত পাওয়া না যেত তাহলে অবশ্যই তারা  লটারী করত..)। (বুখারী ও মুসলিম) মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: (যদি তোমরা জানতে অথবা তারা জানত প্রথম সারিতে কি রয়েছে, তাহলে লটারী হত)। (মুসলিম)
    হাদীসে রয়েছে যে, প্রথম সারি ফেরেশ্তাদের সারির অনুরূপ; কেননা উবাই বিন কা’ব (রা:) এর হাদীসে রয়েছে,  তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন, (…নিশ্চয় প্রথম সারি ফেরেশ্তাদের সারির অনুরূপ, যদি তোমরা জানতে উহাতে কি রয়েছে তবে অবশ্যই সেদিকে ধাবীত হতে-আল-হাদীস)। (সুনানে আবু দাউদ)
   শায়েখ আহমাদ আল্ বান্না নবী সা. এর বাণী: (ফেরেশ্তাদের সারির অনুরূপ…) এর ব্যাখ্যায় বলেন: (অর্থ: আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্যলাভ, তার রহমত অবতীর্ণ হওয়া। আর এর থেকে যা অবহিত হওয়া যায় তা হল নিশ্চয় ফেরেশ্তাগণ আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাতে সারিবদ্ধ হন, এ ব্যাপারে জাবের (রা:) হতে স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে, তিনি বলেন: রাসূল সা. আমাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসলেন, অতঃপর বললেন: (তোমরা কি এমনভাবে সারিবদ্ধ হবে না যেভাবে ফেরেশ্তাগণ তাঁদের রবের নিকট সারিবদ্ধ হন?) আমরা বল্লাম হে আল্লাহর রাসূল, ফেরেশ্তাগণ কিভাবে তাঁদের রবের নিকট সারিবদ্ধ হন? তিনি বললেন: (তাঁরা প্রথম সারি পরিপূর্ণ করেন এবং লাইনে চাপাচাপি করে দাঁড়াণ)। (মুসলিম)
দ্বিতীয় ফযীলত: প্রথম সারি সর্বোত্তম সারি; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (পুরুষদের উত্তম সারি হল প্রথম সারি এবং তাদের সবচেয়ে মন্দ সারি হচ্ছে সর্বশেষ সারি, আর নারীদের সর্বোৎকৃষ্ট সারি হচ্ছে সর্বশেষ সারি এবং তাদের সবচেয়ে মন্দ সারি হচ্ছে প্রথম সারি)। (মুসলিম)
ইমাম নববী (রহ:) বলেন: (পুরুষদের সারির ব্যাপারে যে কথা তা সার্বজনীন অর্থাৎ সবসময়ের জন্য, সুতরাং সর্বদাই পুরুষদের উত্তম সারি হল প্রথম সারি এবং তাদের সবচেয়ে মন্দ সারি হচ্ছে সর্বশেষ সারি, পক্ষান্তরে হাদীসে নারীদের সারি দ্বারা উদ্দেশ্য হল ঐ সকল নারীদের সারি যারা পুরুষদের সাথে একত্রে নামায পড়ে, কিন্তু নারীরা পুরুষদের থেকে আলাদা হয়ে নামায পড়লে তাদের হুকুম পুরুষদের মতই, তাদের সর্বোত্তম সারি হল প্রথম সারি এবং তাদের সবচেয়ে মন্দ সারি হচ্ছে সর্বশেষ সারি, আর পুরুষ ও নারীর সবচেয়ে মন্দ সারি দ্বারা উদ্দেশ্য হল সবচেয়ে কম সাওয়াব ও সবচেয়ে কম ফযীলত পূর্ণ এবং শরীয়তের আদেশের সবচেয়ে দূরবর্তী এবং উত্তমের ব্যাপারে তার বিপরীত। আর নারীদের যারা পুরুষদের সাথে নামায পড়ে তাদের সর্বশেষ সারির ফযীলত প্রকৃতপক্ষে পুরুষদের সংমিশ্রণ হতে তাদের দূরে অবস্থানের কারণে এবং তাদের দেখা এবং  তাদের চলাফেরা দেখে ও তাদের কথা শুনে তাদের সাথে অন্তরের সম্পর্ক ইত্যাদি থেকে দূরে অবস্থানের কারণে আর তাদের প্রথম সারির তিরষ্কার উপরোক্ত অবস্থার বিপরীত হওয়ার জন্য, আল্লাহ তা‘আলাই সর্বাধিক জ্ঞাত)। (শারহুন্নববী আ’লা সহীহ মুসলিম-৪/৪০৩)
তৃতীয় ফযীলত: আল্লাহ তা‘আলা এবং ফেরেশ্তাগণ প্রথম কাতার সমূহের জন্য সালাত পড়েন, প্রথম লাইনের জন্য সবচেয়ে বেশী সালাত পড়া হয়; কেননা আবু উমামাহ (রা:) থেকে হাদীস তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং তার ফেরেশ্তাগণ প্রথম সারির উপর সালাত পড়েন) তাঁরা বল্লেন: হে আল্লাহর রাসূল, দ্বিতীয় সারির উপর? তিনি বলেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর ফেরেশ্তাগন প্রথম সারির উপর দরূদ পড়েন) তাঁরা বল্লেন: হে আল্লাহর রাসূল, দ্বিতীয় সারির উপর? তিনি বলেন: (এবং দ্বিতীয় সারির উপরও)। (আহমাদ)
    আর আল্লাহ তা‘আলার সালাত হল: ফেরেশ্তাদের নিকট তাদের প্রশংসা করা আর ফেরেশ্তাদের ও নবী সা.  এবং সকল মানুষের সালাত হল: দু‘আ করা ও ক্ষমা চাওয়া।
   নোমান বিন বাশির (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং তার ফেরেশ্তাগণ প্রথম লাইনের উপর সালাত পড়েন অথবা প্রথম সারি সমূহের উপর সালাত পাঠ করেন)। (আহমাদ)
 বারা বিন আযেব (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলতেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং তার ফেরেশ্তাগণ প্রথম দিকের সারি সমূহের উপর সালাত পড়েন)। (নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
চতুর্থ ফযীলত: নবী সা. প্রথম সারির উপর তিনবার সালাত পাঠ  করেছেন এবং দ্বিতীয় সারির উপর একবার সালাত পাঠ করেছেন; কেননা ইরবায বিন ছারিয়াহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন: (তিনি প্রথম সারির উপর তিনবার সালাত পাঠ  করেছেন এবং দ্বিতীয় সারির উপর একবার  সালাত পাঠ করেছেন)। ইবনে মাজাহ এর শব্দ হল: (তিনি প্রথম সারির জন্য তিনবার ইস্তেগফার করতেন এবং দ্বিতীয় সারির জন্য একবার ইস্তেগফার করতেন)। (নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
৫ম ফযীলত: আল্লাহ তা‘আলা ও তার ফেরেশ্তাগণের সালাত, কাতারের ডান দিকের লোকদের উপর; কেননা আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর ফেরেশ্তাগণ কাতারের ডান দিকের লোকদের উপর সালাত পড়েন)। (আবুদাউদ, ইবনেমাযাহ) বারা বিন আযেব (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা যখন রাসূল সা. এর পিছনে নামায পড়তাম তখন আমরা তাঁর ডান দিকে থাকতে পছন্দ করতাম যাতে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বসেন, তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: (হে রব আমাকে ঐ দিনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন যেদিন আপনি আপনার বান্দাহদেরকে পূনরায় উঠাবেন অথবা সমবেত করবেন)। (মুসলিম)
 ৬ষ্ঠ ফযীলত: যে ব্যক্তি কাতারের সাথে মিলে দাঁড়ায় অর্থাৎ কাতার পর্যন্ত পৌঁছে আল্লাহ তা‘আলা তার সাথে থাকেন এবং তার উপর আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর ফেরেশ্তাগণ সালাত পড়েন; কেননা আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর ফেরেশ্গণ কাতারের সাথে যারা মিলিত হন তাদের উপর সালাত পড়েন এবং যে ব্যক্তি খালী স্থান পূরণ করেণ আল্লাহ তা‘আলা উহার বিনিময় তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন)। (ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে খুযাইমাহ)
   আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি কাতারের সাথে মিলে দাঁড়ায় আল্লাহ তা‘আলা তার সাথে তাকে মিলান এবং যে ব্যক্তি কাতার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে আল্লাহ তা‘আলা তাকে বিচ্ছিন্ন করেন)। (নাসায়ী, আবুদাউদ, ইবনে মাজাহ)
১৩-আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমা করা ও ভালবাসা ঐ ব্যক্তিকে যার আমীন বলা ফেরেশ্তাদের আমীন বলার সাথে সম্মত হয়ে থাকে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন: (ইমাম যখন আমীন বলেন তখন তোমরা আমীন বল; কেননা যার আমীন বলা ফেরেশ্তাদের আমীন বলার সাথে সম্মত হয়ে থাকে তার পিছনের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়)। (বুখারী ও মুসলিম) আবু মূসা আল্আশআ’রী (রা:) থেকে হাদীস যার একাংশে রয়েছে, রাসূল সা. আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবাহ দিলেন এবং আমাদের জন্য আমাদের সুন্নাত সমূহ বর্ণনা করলেন, আমাদের নামায শিক্ষা দিলেন, অতঃপর বললেন: (যখন তোমরা নামায পড় তখন তোমাদের লাইন সোজা কর, এরপর তোমাদের কেহ ইমামতি করবে, সে যখন তাকবীর বলবে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে এবং যখন غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ বলবে তখন তোমরা বলবে: আমীন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে ভালবাসবেন-আলহাদীস)। (মুসলিম)
 আল্লাহু আকবার কত বিড়াটইনা এই পুরস্কার: পিছনের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া, আল্লাহ তা‘আলার ভালবাসা ঐ ব্যক্তির জন্য যার আমীন বলা ফেরেশ্তাদের আমীন বলার সাথে সম্মত হয়ে থাকে!
 পঞ্চম পরিচ্ছেদ:
  জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে হেটে যাওয়ার ফযীলত:
জামা‘আতের  সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে হেটে যাওয়া সবচেয়ে বড় আনুগত্যের অন্যতম, এ ব্যাপারে অনেক মহৎ ফযীলতের প্রমাণ রয়েছে, তারমধ্য থেকে নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হল:
  – মসজিদে জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের জন্য যে ব্যক্তির প্রচন্ড ভালবাসা রয়েছে সে ব্যক্তি ক্বেয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলার ছায়াতলে থাকবেন; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি নবী r হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: (সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন এমন দিনে যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ ইমাম, ঐ যুবক যে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে বেড়ে উঠেছে, এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে/ঝুলন্ত থাকে, এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহ তা‘আলার জন্য পরস্পরকে ভালবাসে এবং তাঁর জন্য একত্রিত হয়, আর তাঁর জন্যই পৃথক হয়, এমন ব্যক্তি যাকে এমন এক মহিলা আহবান করে যে উচুবংশীয় ও সুন্দরী, অতঃপর সে বলে: আমি আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করি, এমন ব্যক্তি যে এমন গোপনীয় ভাবে সদ্কাহ করে যে, তার ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জানতে পারে না, এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করে অতঃপর তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে)। মুসলিমের শব্দে রয়েছে: (এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় মসজিদে ফিরে আসা পর্যন্ত মসজিদের সাথে ঝুলন্ত থাকে/ লেগে থাকে অর্থাৎ সবসময় মসজিদের সাথেই থাকে)
  ইমাম নববী (রহ:) (এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে/ঝুলন্ত থাকে) এর ব্যাখ্যায় বলেন: (এর অর্থ হল মসজিদকে তার প্রচন্ড ভালবাসা, মসজিদে জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের জন্য সার্বক্ষণিক সম্পর্ক রাখা, এর অর্থ এই নয় যে,,সে সব সময় মসজিদে বসে থাকবে)। (শারহুন্নববী আলা সহীহ মুসলিম-৭/১২৬) আর হাফেজ ইবনে হাজার (রহ:) বলেন:  معلق في المساجد (মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত) বুখারী ও মুসলিমে এভাবে এসেছে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে বুঝা যায় যে, উহা তা’লীক্ব (সম্পর্ক) শব্দ হতে এসেছে, তিনি যেন মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে ঝুলন্ত কোন কিছুর সাথে তুলনা করেছেন, যেমন মোমবাতি কেননা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় তার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে যদিও তার দেহ মসজিদের বাহিরে থাকে। জাওযাকির বর্ণনা এর প্রমাণ করে: (যেন তার অন্তর মসজিদে ঝুলন্ত) (মু‘আল্লাক শব্দটি) আ’লাক্বাহ থেকেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে: আর উহা হল প্রচন্ড ভালবাসা। আহমাদের বর্ণনা এর প্রমাণ করে: (মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত)। (ফাতহুল বারী-২/১৪৫)
  – জামা‘আতের উদ্দেশ্যে মসজিদে হেটে যাওয়ার দ্বারা তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তার ত্রুটি বিচ্যুতি মিটিয়ে দেওয়া হয়, অনেক পূণ্য লেখা হয়; কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: (যেকোন ব্যক্তিই পবিত্র হয় এবং উত্তমভাবে পবিত্র হয়, এরপর এই মসজিদসমূহের যেকোন মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা করে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক কদমে পূণ্য লিখে রাখেন, ঐ কদমের বিনিময় তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, উক্ত পথ চলার বিনিময়ে তার থেকে গুনাহ মিটিয়ে দেন…)। (মুসলিম-৬৫৪) আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে হাদীস, যে হাদীস তিনি নবী সা. হতে বর্ণনা করেন এবং তাতে রয়েছে: (…উহা এজন্য যে, তোমাদের কেহ যখন ওজু করে অতঃপর উত্তমভাবে ওজু করে, এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায় এবং শুধু নামাযের জন্যই বের হয়, সে এমনকোন পা সামনে রাখেনা যাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় না এবং তার দ্বারা তার ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হয়…)। (বুখারী ও মুসলিম) এবং আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীস তিনি বলেন:  রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি তার বাড়ীতে ওজু করল, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলার ঘর সমূহের যে কোন ঘরে চলে যায়; আল্লাহ তা‘আলার ফরজ সমূহের মধ্যে একটি ফরজ আদায়ের জন্য, তার একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে তার ত্রুটি মিটিয়ে দেওয়া হয়, আর অপরটি দ্বারা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়)। (মুসলিম-৬৬৬)
ইমাম কুরতুবী (রহ:) বলেন: (আদ্দাওয়াদী বলেন: যদি তার গুনাহ থাকে তাহলে তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়, অন্যথায় উহার দ্বারা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। আমার বক্তব্য হল: ইহার দাবী হল যে, এক পদক্ষেপ দ্বারা একটি মর্যাদা অর্জিত হয়, হয় তার গুনাহ মাফ করা হয়, না হয় তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। আর কেউ কেউ বলেন: বরং এক কদমের দ্বারা তিনটি বিষয় অর্জিত হয়; কেননা অন্য হাদীসে রয়েছে: (আল্লাহ তা‘আলা তার প্রত্যেক কদমের জন্য একটি পূণ্য লিখেন, উহার দ্বারা একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন) আল্লাহ তা‘আলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।
  আমি আমাদের শায়েখ সম্মানিত ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: (প্রত্যেক কদমে: উহার দ্বারা একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়, উহার দ্বারা একটি গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং তার জন্য একটি পূণ্য লিপিবদ্ধ করা হয় আর এই সর্বশেষ অতিরিক্ত হাছানাহ বা পূণ্য শব্দটি মুসলিম শরীফে ইবনে মাসউদ (র:) থেকে বর্ণিত, আর যদি বর্ণনা সঠিক হয় যার একটি দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং অপরটি দ্বারা গুনাহ মাফ করা হয়, তবে এই বর্ণনা ছিল প্রথম বর্ণনা, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা অতিরিক্ত মর্যাদা দ্বারা অনুগ্রহ করেছেন এবং প্রত্যেক কদমের জন্য তিনটি মর্যাদা সাব্যস্ত করেছেন: মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, গুনাহ মাফ করে দেন এবং পূণ্য লিখে রাখেন)।
  ৩-তার জন্য মসজিদ হতে বাড়ীতে হেটে যাওয়া লিখা হয়, যেমনটি লিখা হয়েছে বাড়ী থেকে মসজিদে হেটে যাওয়া, যদি সে সাওয়াবের আশা করে; কেননা উবাই বিন কা’ব (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: এক ব্যক্তি ছিল, আমার জানামতে মসজিদ হতে সবচেয়ে বেশী দুরের ব্যক্তি তার থেকে আর কেহ ছিলনা, তার কোন নামাযে আসতে ভূল হতনা, তিনি বলেন: তাকে বলা হল অথবা আমি তাকে বললাম: আপনি যদি একটি গাধা ক্রয় করতেন যাতে অন্ধকারের সময়ে এবং উত্তাপের সময়ে আরোহণ করতে পারতেন? তিনি বললেন: আমি এতে আনন্দিত নই যে আমার বাড়ী মসজিদের নিকটে হবে, আমি চাই যে মসজিদে হেটে যাওয়া  এবং মসজিদ থেকে পরিবারে ফিরে আসা আমার জন্য লিখা হোক অর্থাৎ হেটে চলার সাওয়াব আমার আমল নামায় লিখা হোক, অতঃপর রাসূল সা. বলেন: (আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য উহা সবই জমা করেছেন)। অন্য এক শব্দে রয়েছে: (নিশ্চয় তোমার জন্য তাই রয়েছে যে সাওয়াবের আশা তুমি করেছ)। (মুসলিম)
ইমাম নববী (রহ:) বলেন: (উপরোক্ত হাদীসে সাওয়াব সাব্যস্ত হয় ফেরার সময়ে হাটার মধ্যেও, যেমনটি সাব্যস্ত হয় যাওয়ার পথে হাটার মধ্যে)। (শারহুন্নববী আ’লা সহীহ মুসলিম-৫/১৭৪)
   আবু মূসা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (নিশ্চয় মানুষের মাঝে নামাযে সবচেয়ে বেশী সাওয়াব ঐ ব্যক্তির জন্য যে সবচেয়ে দূর থেকে পায়ে হেটে আসে, অতঃপর তার থেকে যে একটু কাছে, আর যে ব্যক্তি নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, অবশেষে  ইমামের পিছনে নামায পড়ে, তার ঐ ব্যক্তির থেকে অধিক বেশী সাওয়াব হয় যে ব্যক্তি নামায পড়ে অতঃপর ঘুমায়)। (বুখারী ও মুসলিম)
   জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: মসজিদের চতুর্দিকে জায়গা খালী ছিল, অতঃপর বানু সালামাহ মসজিদের নিকটে স্থানান্তরিত হওয়ার  ইচ্ছা করল, আর এ সংবাদ রাসূল সা. এর কাছে পৌঁছল, এরপর তিনি তাদেরকে বললেন: (আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে তোমরা মসজিদের নিকটে স্থানান্তরিত হতে চাও) তারা বল্ল: হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা ইচ্ছা করেছি, তখন তিনি বলেন: (হে বানী সালামাহ, তোমাদের বাড়ির বর্তমান এলাকাতেই অবস্থান কর, তোমাদের বাড়ির বর্তমান এলাকাতেই অবস্থান কর; তোমাদের পদচিহ্ণ‎‎সমূহ লিখা হবে, তোমাদের বাড়ির বর্তমান এলাকাতেই অবস্থান কর; তোমাদের পদচিহ্ণ‎‎সমূহ লিখা হবে)। (বুখারী ও মুসলিম)
  ৪-জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পথচলার কারণে গুনাহ সমূহ মিটিয়ে দেওয়া হয়; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেছেন: (আমি কি তোমাদেরকে এমন পথ দেখাবো না যার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ সমূহ মিটিয়ে দেন এবং মর্যাদা সমূহ বৃদ্ধি করে দেন?) তারা বল্ল: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, তিনি বলেন: (কষ্টকরে হলেও যথাযথভাবে ওজু করা, বেশী বেশী মসজিদে পদচারণা, এক নামাযের পর অন্য নামাযের জন্য অপেক্ষা করা, আর উহাই তোমাদের সম্পর্ক, আর উহাই তোমাদের সম্পর্ক অর্থাৎ মসজিদের সাথে গভীর সম্পর্ক)। (মুসলিম)
গুনাহ মিটিয়ে ফেলার দ্বারা গুনাহ মাফ করার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এবং এই সম্ভাবনাও রয়েছে যে গুনাহ মিটিয়ে ফেলার দ্বারা ফেরেশ্তাদের কিতাব থেকে মুছে ফেলার কথা বলা হয়েছে। তখন এটা গুনাহ মাফের দলীল হিসাবে পরিগণিত হবে, আর মর্যাদা সমূহ বৃদ্ধি করা হল: জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান, ইছবাগুল ওজু হল: তার পরিপূর্ণতা, আল্মাকারেহ হল: প্রচন্ড শীতের মধ্যে ওজু করা এবং শরীরের ব্যথা বা কষ্ট ইত্যাদি, বেশী বেশী পদচারনা হল: বাড়ী অনেক দুরে এবং বারবার গমন। (শারহুন্নববী আ’লা সহীহ মুসলিম-৩/১৪৩ )
  ৫– যথাযথভাবে ওজু করার পর জামা‘আতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে পায়ে হেটে চলার বিনিময় গুনাহ সমূহ মাফ করা হয়; কেননা উসমান বিন আফ্ফান (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: (যে ব্যক্তি নামাযের জন্য ওজু করে অতঃপর পরিপূর্ণভাবে ওজু করে ফরজ নামাযের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং মানুষের সাথে নামায আদায় করে, অথবা জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করে; অথবা মসজিদে নামায আদায় করে আল্লাহ তা‘আলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন)। (মুসলিম)
  ৬– জান্নাতে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আতিথ্যের ব্যবস্থা ঐ ব্যক্তির জন্য যে সকালে অথবা বিকালে মসজিদে যায়। কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন: (যে ব্যক্তি সকালে অথবা বিকালে মসজিদে গমন করে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে আতিথ্যের ব্যবস্থা করেন। (বুখারী ও মুসলিম)
        আর (غدا ) শব্দটি غدو থেকে এসেছে, অর্থাৎ সকালে সকালে এসেছে এবং راح  : অর্থ হল সন্ধায় ফিরে আসা, অতঃপর উভয় শব্দ বের হওয়া ও ফিরে আসার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ও ব্যাপকার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং أعد)) হল প্রস্তুত করা, (النزل) হল মেহমানের আগমনের সময় তার সম্মানের জন্য যা প্রস্ত্তত করা হয় এবং উহা প্রত্যেক সকাল সন্ধায়ই হয়ে থাকে, ইহা আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ  তিনি এই মর্যাদা তাকেই দিয়ে থাকেন যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধার আমল করে থাকে, তার জন্য যাওয়ার বিনিময়ে জান্নাতে প্রস্ত্তত করা হয় আপ্যায়ন এবং ফিরে আসার জন্য প্রস্ত্তত করা হয় আপ্যায়ন ।
  ৭– যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের জন্য যায়, অতঃপর তার জামা‘আত ছুটে যায় অথচ সে তার হকদার ছিল অর্থাৎ জামা‘আতের সাথে নামায পড়া ছিল তার অভ্যাস, তার জন্য অনুরূপ সাওয়াব রয়েছে যে পরিমাণ জামা‘আতে উপস্থিত ব্যক্তির জন্য রয়েছে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি ওজু করল অতঃপর উত্তমভাবে ওজু করল, অতঃপর চলে গেল অর্থাৎ মসজিদে চলে গেল কিন্তু মানুষদেরকে এ অবস্থায় পেল যে, তারা ইতিপূর্বে নামায পড়ে নিয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ঐ পরিমাণ সাওয়াব দিবেন যে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি নামায পড়েছে এবং তাতে উপস্থিত ছিল অর্থাৎ জামা‘আতে উপস্থিত ছিল এবং এতে তাদের সাওয়াবের থেকে কোন অংশ কমানো হবেনা)। (আবু দাউদ)
  – যে ব্যক্তি পবিত্র হল এবং জামা‘আতে নামায আদায়ের জন্য বের হল, সে ব্যক্তি বাড়ী ফেরার আগ পর্যন্ত নামাযের মধ্যেই থাকে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (তোমাদের কেহ যখন বাড়ীতে ওজু করে, অতঃপর মসজিদে আসে, সে নামাযের মধ্যেই থাকে যে পর্যন্ত না সে বাড়ী ফিরে আসে এবং কোন ধরনের ঘাটতি হবেনা: এমনিভাবে) এবং তিনি তার আঙ্গুল গুলো পরস্পর মিলিয়ে দেখালেন। (ইবনে খুযাইমাহ, আলহাকেম)
  – যে ব্যক্তি পবিত্রতা সহকারে জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হল তার পূণ্য ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে ব্যক্তি হজ্বের জন্য মুহরিম অবস্থায় বের হয়েছে; কেননা আবু উমামাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি পবিত্রতা সহকারে ফরজ নামাযের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়েছে তার পূণ্য ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে ব্যক্তি হজ্বের জন্য মুহরিম অবস্থায় বের হয়েছে)। (আবু দাউদ)
  ১০– জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার হেফাজতে থাকেন; কেননা আবু উমামাহ  আলবাহেলী (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেছেন: (তিন ব্যক্তির প্রত্যেকেই আল্লাহ তা‘আলার হেফাজতে থাকেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হয়েছে, সে আল্লাহ তা‘আলার হেফাজতে থাকে যে পর্যন্ত না আল্লাহ তা‘আলা তাকে মৃত্যুদান করেন, অতঃপর তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করান অথবা তাকে ফিরিয়ে দেন সে যে পূণ্য অর্জন করেছে এবং যে গনীমত অর্জন করেছে তা সমেত। আর ঐ ব্যক্তি যে মসজিদে চলে যায় সে আল্লাহ তা‘আলার হেফাজতে থাকেন যে পর্যন্ত না আল্লাহ তা‘আলা তাকে মৃত্যুদান করেন অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান অথবা তাকে ফিরিয়ে দেন সে যে পূণ্য অর্জন করেছে এবং যে গনীমত অর্জন করেছে তা সমেত এবং ঐ ব্যক্তি যে তার বাড়ীতে নিরাপদে প্রবেশ করেছে সেও আল্লাহ তা‘আলার হেফাজতে থাকেন)। এটা আল্লাহ তা‘আলার করুণা যে, তিনি এই তিন ব্যক্তির প্রত্যেককেই  তাঁর হেফাজতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাতে করে তিনি পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করেন। আর (ضامن) এর অর্থ হল: যাকে জামিন দেওয়া হয়, তবে রাসূল সা. এর বাণী (এমন ব্যক্তি যে তার বাড়ীতে নিরাপদে প্রবেশ করল) ইহার দুটি দিক রয়েছে:
প্রথম দিক হল: সে যখন বাড়ীতে প্রবেশ করে তখন সালাম দিয়ে প্রবেশ করা।
দ্বিতীয় দিক হল: সে বাড়ীতে প্রবেশের দ্বারা নিরাপত্তা কামনা করেছিল: অর্থাৎ ফিতনার থেকে বাচার উদ্দেশ্যে শুধু বাড়ীতেই বসে থাকা, এর মাধ্যমে তার একাকী জীবন যাপনকে পছন্দ করে নেয়া এবং মানুষের দলাদলি থেকে নীরবে দূরে থাকা। এবং এটা তখন হয় যখন ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসলিম ব্যক্তি তার দ্বীনের ব্যাপারে শংকিত থাকে, পক্ষান্তরে ফিতনা থেকে নিরাপত্তা পাওয়া গেলে তখন ঐ ঈমানদার ব্যক্তি যে মানুষের সাথে মিশে থাকে এবং তাদের পক্ষ হতে কষ্ট পায় ও ধৈর্য্যধারণ করে, তাদেরকে আল্লাহর পথে ডাকে, সে ঐ ঈমানদার ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম যে মানুষের সাথে মিশে না, তাদের পক্ষ হতে কষ্ট পেলে তাতে ধৈর্য্য ধারণ করে না। আল্লাহ তা‘আলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।
  ১১– জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পায়ে হেটে চলা ব্যক্তির ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার নিকটবর্তী ফেরেশ্তাগণের কথোপকথন; কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা:) থেকে বর্ণিত রয়েছে তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন, যার একাংশে রয়েছে (আল্লাহ তা‘আলা সপ্নে নবী সা. কে বলেন: (…হে মুহাম্মদ আপনি কি জানেন কোন ব্যাপারে নিকটবর্তী ফেরেশ্তাগণ পরস্পর কথোপকথন করে? আমি বললাম: হ্যাঁ, গুনাহসমূহ মোচনের ব্যাপারে: নামাযের পরে মসজিদে সময় কাটানো, পায়ে হেটে নামাযের জামা‘আতে যাওয়া, কষ্ট করে যথাযথ ওজু সম্পন্ন করা, যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে কল্যাণের সাথে জীবন যাপন করবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে এবং সে গুনাহের ব্যাপারে এমনভাবে নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন তার মা তাকে ভুমিষ্ট করেছিল সেদিন যেমন নিষ্পাপ ছিল…)। (তিরমিযি)
  ১২– জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পায়ে হেটে চলা দুনিয়া এবং আখিরাতের সুখ শান্তির অন্যতম কারণ; কেননা নবী সা. হাদীসে বলেন: (সে কল্যাণের সাথে জীবন যাপন করবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَنُحۡيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةٗ طَيِّبَةٗۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ٩٧ ﴾ [النحل: ٩٧]
অর্থ: ‘‘মু’মিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই আনন্দময় জীবন দান করবো এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করবো’’। (নাহল-৯৭)
  ১৩– জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পায়ে হেটে চলা গুনাহ মাফের অন্যতম কারণ; কেননা পুর্বোক্ত হাদীসে নবী সা. বলেছেন: (সে গুনাহের ব্যাপারে এমনভাবে নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন তার মা তাকে ভুমিষ্ট করেছিল সেদিন যেমন নিষ্পাপ ছিল…)।
  ১৪– মসজিদ যিয়ারাতকারীকে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে সম্মানিত করা; কেননা সালমান (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন: (যে ব্যক্তি তার বাড়ীতে ওজু করল অতঃপর মসজিদে আসল সে আল্লাহ তা‘আলার সাক্ষাৎকারী এবং সাক্ষাৎকৃতের উপর হক্ব হচ্ছে সাক্ষাৎকারীকে সম্মান করা)। (ত্বাবরানী, ইবনে আবি শায়বাহ)
 আমর বিন মায়মুন (রহ:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. এর সাহাবাদেরকে পেয়েছি এ অবস্থায় যে, তাঁরা বলতেন: (মসজিদ সমূহ আল্লাহ তা‘আলার ঘর এবং আল্লাহ তা‘আলার উপর কর্তব্য হচ্ছে তাকে সম্মান করা যে তার সাক্ষাৎ করে), (ইবনে জারির) অন্য এক শব্দে আমর বিন মায়মুন উমর (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (মসজিদ সমূহ যমীনে আল্লাহ তা‘আলার ঘর এবং সাক্ষাৎকৃতের উপর হক্ব হচ্ছে সাক্ষাৎকারীকে সম্মান করা)। (ইবনু আবি শায়বাহ)
  ১৫– আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার ওজু অবস্থায় মসজিদে গমনে আনন্দিত হন; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যে কোন ব্যক্তিই উত্তম ও পরিপূর্ণভাবে ওজু করে অতঃপর শুধুমাত্র নামায পড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে আল্লাহ তা‘আলা তার ব্যাপারেই হাস্যোজ্জল হন, অদৃশ্য জগতের অধিবাসীগণ যেভাবে তাকে দেখে আনন্দিত হয়)। (ইবনে খুযাইমাহ) ইমাম ইবনে খুযাইমাহ এই হাদীসের উপর একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এই নামে: (মহান রবের তাঁর বান্দাহর ওজু অবস্থায় মসজিদে গমন-এ খুশী হওয়ার অধ্যায়)।
  আল্লাহ তা‘আলার সকল ছিফাত বা গুণবাচক নাম সমূহ আল্লাহ তা‘আলার শানের সাথে যেভাবে প্রযোজ্য সেভাবেই সাব্যস্ত করতে হবে।
  ১৬– পরিপূর্ণ নূর বা আলো ক্বিয়ামাতের দিন ঐ ব্যক্তির জন্য যে অন্ধকারে মসজিদে হেটে যায়; কেননা বুরায়দাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন: (অন্ধকারে মসজিদ সমূহে হেটে চলা ব্যক্তিদের ক্বেয়ামাতের দিনে পরিপূর্ণ নূর বা আলোর সুসংবাদ প্রদান কর)। (আবুদাউদ, তিরমিযি)
৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ:

   জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পথ চলার আদবসমূহ:

নামাযের উদ্দেশ্যে পথ চলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় ধরনের আদব রয়েছে, তার থেকে নিম্নে কিছু আদব উল্লেখ করা হল:
  – বাড়ীতে ওজু করা এবং ওজু যথাযথভাবে করা; কেননা ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীস (যে কোন ব্যক্তিই পবিত্র হয় অতঃপর উত্তমভাবে পবিত্র হয়, এরপর  এই মসজিদ সমূহের যেকোন মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা করে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক কদমে পূণ্য লিখে রাখেন, ঐ কদমের বিনিময় তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং উক্ত পথচলার বিনিময়ে তার থেকে গুনাহ মিটিয়ে দেন…)। (মুসলিম-৬৫৪)
  – দুর্গন্ধ থেকে দূরে থাকবে; কেননা জাবের বিন আব্দুললাহ (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি রসুন অথবা পিঁয়াজ খাবে সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে, অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে, সে যেন তার বাড়ীতে বসে থাকে)। মুসলিম শরীফের শব্দে রয়েছে: (কেননা ফেরেশ্তাগন ঐ বস্ত্ততে কষ্ট পাণ যাতে মানুষ কষ্ট পায়)। মুসলিম শরীফের আর এক শব্দে রয়েছে: (যে ব্যক্তি পিঁয়াজ, রসুন এবং পিঁয়াজ জাতীয় অন্য সবজি খায়, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে; কেননা ফেরেশ্তাগণ ঐ বস্তুতে কষ্ট পান যাতে আদম সন্তানেরা কষ্ট পায়)। (বুখারী ও মুসলিম)
  – সুন্দর পোষাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে সজ্জিত  হবে; কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ﴿ ۞يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ ﴾ [الاعراف: ٣١]   অর্থ: ‘‘হে আদম সন্তান গণ! প্রত্যেক নামাযের সময় সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ কর’’। (আ’রাফ-৩১); এবং নবী সা. এর বাণী: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সুন্দর এবং তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন)। (মুসলিম)
  – বাইরে বের হওয়ার দু‘আ পড়বে এবং নামাযের নিয়্যতে বের হবে; এবং বলবে:  بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّه  অর্থ: ‘‘আমি আল্লাহর নামে বের হলাম আল্লাহর উপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ব্যতীত কোন ক্ষমতা এবং কোন শক্তি নাই’’। আরও বলবে-:
«اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ، أَوْ أُضَلَّ، أَوْ أَزِلَّ، أَوْ أُزَلَّ، أَوْ أَظْلِمَ، أَوْ أُظْلَمَ، أَوْ أَجْهَلَ، أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ»
অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিভ্রান্তি থেকে অথবা অন্য কারো দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে, পদস্খলন থেকে অথবা অন্য কারো দ্বারা পদস্খলিত হওয়া থেকে, অত্যাচার থেকে অথবা অন্য কারো দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া থেকে, মূর্খতা থেকে অথবা অন্য ব্যক্তি কর্তৃক মূর্খ হওয়া থেকে’’। (আবুদাউদ,তিরমিযি)
«اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفي لساني نوراً، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وفِي بَصَرِي نُورًا، وَمن فَوْقِي نُورًا، ومن تحتي نوراً، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ شِمالِي نُورًا، وَمِن أَمَامِي نُورًا، وَمِنْ خَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا، واجعل في نفسي نوراً، وأعظم لي نوراً، وعظّم لي نوراً، واجعل لي نوراً، واجعلني نوراً، اللهم اعطني نوراً، واجعلني نوراً، واجعلني نوراً، اللهم اعظني نوراً، واجعل في عصبي نوراً، وفي لحمي نوراً، وفي دمي نوراً، وفي شعري نوراً، وفي بشري نوراً»
অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ আমার অন্তরে আলো দান করুন, আমার জবানে আলো দান করুন, আমার শ্রবণ শক্তিতে আলো দান করুন, আমার দৃষ্টি শক্তিতে আলো দান করুন, আমার উপর দিক থেকে আলো দান করুন, আমার নীচ দিক থেকে আলো দান করুন, আমার ডান দিক থেকে আলো দান করুন, আমার বাম দিক থেকে আলো দান করুন, আমার সামনের দিক থেকে আলো দান করুন, আমার পিছন দিক থেকে আলো দান করুন, আমার অন্তরে আলো দান করুন, আমার জন্য আলো বাড়িয়ে দিন, আমার জন্য আলো /নূর বৃদ্ধি করে দিন, আমার জন্য আলো দান করুন, আমাকে আলো দান করুন, হে আল্লাহ আমাকে আলো দিন, আমার স্নায়ুতে আলো দান করুন, আমার গোশ্তে আলো দান করুন, আমার রক্তে আলো দান করুন, আমার চুলের মাঝে আলো দান করুন, আমার ত্বকে আলো দান করুন)। (বুখারী ও মুসলিম)
  – মসজিদে যাওয়ার পথে সে তার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবেনা, নামাযের মাঝেও সে তার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবেনা; কেননা উবাই বিন কা’ব (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে রাসূল সা. বলেছেন: (যখন তোমাদের কেহ ওজু করে অতঃপর উত্তমভাবে ওজু করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে যেন তার আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে না রাখে কেননা সে নামাযের মধ্যেই রয়েছে)। (তিরমিযি)
  ৬– সে প্রশান্তি এবং গাম্ভীর্যের সাথে পথ চলবে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে তিনি নবী r থেকে বর্ণনা করেন: (যখন তোমরা ইক্বামাত শুনতে পাবে তখন নামাযের দিকে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য নিয়ে হেটে চলবে, আর তাড়াহুড়া করবে না, অতঃপর যতটুকু নামায পাবে তা আদায় করবে এবং যতটুকু তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পরিপূর্ণ করবে)। অপর শব্দে রয়েছে: (যখন নামাযে দাঁড়িয়ে যাওয়া হয় তখন সে নামাযের দিকে দৌড়ে আসবেনা, প্রশান্ত অবস্থায় হেটে আসবে এবং যতটুকু পাবে সে নামায আদায় করে নিবে এবং যা তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পরিপূর্ণ করবে)। (বুখারী ও মুসলিম)
  এ হাদীসের মধ্যে নামাযে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য সহকারে আসার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং দৌড়ে আসা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, সে নামায জুমার নামাযই হোক বা অন্য কোন নামায হোক, সে তাকবীরাতুল ইহরাম ছুটে যাওয়ার ভয় পাক বা নাই পাক হুকুম একই, আর নবী সা. এর বাণী: (যখন তোমরা ইক্বামাত শুনতে পাবে) ইক্বামাত শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে উহা ব্যতীত অন্য যা রয়েছে সে ব্যাপারে সতর্কীকরণের জন্য; কেননা ইক্বামাতের সময়ে যদি দৌড়ে আসতে নিষেধ করা হয় ইক্বামাতের কিছু অংশ ছুটে যাওয়ার ভয় থাকা সত্বেও তবে ইক্বামাতের পূর্বে দৌড়ে আসার নিষেধাজ্ঞা আরও বেশী প্রযোজ্য। এবং তিনি সা. কারণ দর্শিয়ে এ ব্যাপারে আরও তাকীদ করে বলেছেন: (কেননা তোমাদের কেহ যখন নামাযের ইচ্ছা করে তখন সে নামাযেই থাকে)  আর ইহা নামাযের জন্য আগমনের সকল সময়কে শামিল করে। অন্য আরেক স্থানে তা’কীদ করে আরো বলেছেন: (যতটুকু পাবে সে নামায আদায় করে নিবে এবং যা তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পরিপূর্ণ করবে)। সুতরাং এতে চেতনা ও তাকীদ পাওয়া যায়, যাতে করে কোন অনুমানকারী এই ধারণা না করে যে, নিষেধাজ্ঞা কেবল ঐ ব্যক্তির জন্য যে নামাযের কিছু অংশ ছুটে যাওয়ার আশংকা করে, অতএব স্পষ্টভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন যে নামাযের যত অংশই ছুটে যাকনা কেন এবং  ছুটে যাওয়া রাকআত গুলির ব্যাপারেও তার করণীয় বর্ণনা করে দিয়েছেন। (শারহুন্নববী আ’লা সহীহ মুসলিম-৫/১০৩)
  – মসজিদে প্রবেশের পূর্বে তার জুতাদ্বয় দেখে (চেক করে) নিবে। যদি তাতে কোন আবর্জনা দেখে তবে মাটিতে ঘষে তা মুছে ফেলবে; কেননা আবু সায়ীদ খুদরী (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসের একাংশে রয়েছে: (যখন তোমাদের কেহ মসজিদে আসে সে যেন লক্ষ করে, যদি তার জুতাদ্বয়ে আবর্জনা দেখে অথবা কষ্টদায়ক কিছু দেখে তবে তা যেন মুছে ফেলে এবং ঐ জুতাদ্বয় নিয়ে নামায পড়ে)। (আবুদাউদ, ইবনে খুযাইমাহ) আর জুতাদ্বয়ের পবিত্রতা অর্জন মাটি দ্বারা করবে কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (তোমাদের কেহ যখন তার জুতাদ্বয় দিয়ে ময়লাযুক্ত কিছু পারায় মাটিই তার জন্য পবিত্রকারী)। অপর শব্দে রয়েছে: (যখন মোজা দিয়ে ময়লাযুক্ত কিছু পারানো হয় তখন উভয়ের পবিত্রকারী হচ্ছে মাটি)। (আবুদাউদ)
  – মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা আগে বাড়াবে এবং বলবে:
«أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيم  وبِوَجْهِهِ اْلَكِرْيمِ ,وَسُلْطَاِنهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيِمِ , بِسْمِ اللهِ وَالصَّلاةُ وَالسّلامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ , اَللّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ»
অর্থ: ‘‘আমি মহান আল্লাহ তা‘আলার কাছে, তার মহান সত্বার কাছে,তার অনাদী-অনন্ত কালের ক্ষমতার কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই’’। ‘‘আল্লাহ তা‘আলার নামে প্রবেশ করছি, সালাত ও সালাম রাসূল r এর প্রতি’’। (আবুদাউদ) ‘‘হে আল্লাহ আমার জন্য আপনার রহমাতের দরজাগুলো খুলে দিন’’; কেননা আবু হুমাইদ অথবা আবু উসাইদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যখন তোমাদের কেহ মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন বলে:
«اللّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ»
অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ আমার জন্য আপনার রহমাতের দরজাগুলো খুলে দিন’’ এবং যখন বের হয় তখন যেন বলে:
«اللهم إني أسألك من فضلك»
অর্থ: হে আল্লাহ নিশ্চয় আমি আপনার কল্যাণ চাই )। ( মুসলিম )
  – মসজিদে যখন প্রবেশ করবে তখন মসজিদে যে ব্যক্তি রয়েছে তাকে সালাম দিবে, এমন শব্দে সালাম দিবে যাতে করে তার চতুষ্পার্শ্বে যারা রয়েছে তারা যেন শুনতে পায়; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত রয়েছে রাসূল সা. বলেছেন: (তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ঈমানদার হবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না পরস্পরকে ভালবাসবে, আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছুর নির্দেশনা দিব না যা পালন করলে তোমরা পরস্পরকে ভালবাসবে? তোমাদের মাঝে সালাম ছড়িয়ে দিবে অর্থাৎ বেশী বেশী সালামের প্রচলন শুরু করবে)। (মুসলিম) আম্মার বিন ইয়াছের (রা:) বলেন: (তিনটি বিষয় যে একত্রিত করেছে সে ঈমানকে একত্রিত করেছে: তোমার নিজের অধিকারের ব্যাপারে ন্যায়-পরায়ণতা, জ্ঞাতার্থে সালাম দেয়া এবং জমানো সম্পদ থেকে ব্যয় করা)। (বুখারী)
  ১০– ‘‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’’ নামায পড়া, মুয়াযি্যন যদি নামাযের সময় হওয়ার পর আযান দেয় তাহলে সুন্নাত নামায পড়বে যদি ঐ নামাযে সুন্নাত নামায থাকে, আর যদি ঐ নামাযের পূর্বে সুন্নাত নামায না থাকে তাহলে আযান ও ইক্বামাতের মাঝখানের নামায পড়বে; কেননা প্রত্যেক আযান ও ইক্বামাতের মাঝে নামায রয়েছে, ঐ নামাযই ‘‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’’ নামাযের জন্য যথেষ্ট হবে, আর যদি নামাযের সময় হওয়ার পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করে তাহলে দুই রাকাআত নামায পড়বে; কেননা আবু ক্বাতাদাহ (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে রাসূল সা. বলেছেন: (যখন তোমাদের কেহ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুই রাকাআত নামায আদায় না করে না বসে)। (বুখারী ও মুসলিম)
  ১১– মসজিদের ভেতরে তার জুতাদ্বয় খুলে তার দুই পায়ের মাঝখানে রাখবে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: (যখন তোমাদের কেহ নামায পড়ে এবং তার জুতাদ্বয় খুলে ফেলে, সে যেন উহা দ্বারা কাউকে কষ্ট না দেয় এবং তার উভয় জুতা তার দুই পায়ের মাঝখানে রাখবে অথবা ঐ জুতাসহ নামায পড়বে)। অপর শব্দে রয়েছে: (যখন তোমাদের কেহ নামায পড়ে সে যেন তার জুতাদ্বয় তার ডানে না রাখে এবং বামেও না রাখে, কেননা তা কারো ডানে হয়ে যাবে, তবে যদি তার বামে কেহ না থাকে (তাহলে রাখতে পারে) এবং উভয় জুতা তার দুই পায়ের মাঝখানে রাখবে)। (আবুদাউদ)
আমি আমাদের শায়েখ সম্মানিত ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: (জুতাসহ নামায পড়া সুন্নাত যা ইয়াহুদীদের বিপরীত, তবে দেখাশুনার পরে, সুতরাং যদি তাতে কোন কিছু দেখে তাহলে তা মাটিতে ঘষে অথবা পাথর অথবা অন্য কিছু দিয়ে দূর করবে, আর মসজিদগুলো যদি কার্পেট বিছানো থাকে তবে কোন কোন ব্যক্তির অবহেলার কারণে ধুলা মিশ্রিত হতে পারে, এতে করে মানুষ দূরে সরে যেতে পারে, অতএব এ ক্ষেত্রে আমার কাছে উত্তম হল -আল্লাহ তা‘আলাই অধিক জ্ঞাত- জুতার জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা)।
  ১২– প্রথম সারিতে ইমামের ডান দিকে বসা যদি  সম্ভব হয় তাহলে তাই করবে, কোন ধরণের ভিড়াভিড়ি এবং অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া ব্যতীত; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত রয়েছে রাসূল সা. বলেছেন: (যদি মানুষ জানত আযানের মধ্যে এবং প্রথম সারিতে কি রয়েছে, অতঃপর উহা লটারী ব্যতীত পাওয়া না যেত তাহলে অবশ্যই তারা লটারী করত..)। (বুখারী ও মুসলিম) আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত রয়েছে: (নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং তার ফেরেশ্তাগণ কাতারের ডান দিকের লোকদের উপর সালাত পড়েন)। (আবুদাউদ, ইবনে মাজাহ)
 ১৩– ক্বেবলামূখী হয়ে বসবে, ক্বোরআন তেলাওয়াত করবে অথবা আল্লাহ তা‘আলার জিকির করবে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত রয়েছে তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (নিশ্চয় প্রত্যেক জিনিসের মূল রয়েছে, আর বৈঠকের মূল হচ্ছে ক্বেবলামূখী হয়ে বসা)।  (ত্বাবরানী)
  ১৪– নামাযের জন্য অপেক্ষা করার নিয়্যাত করবে এবং কাউকে কষ্ট দিবেনা; কেননা সে নামাযের মধ্যেই থাকে যতক্ষণ সে নামাযের জন্য অপেক্ষা করে, ফেরেশ্তাগণ তার জন্য নামাযের পূর্বে ও পরে দু‘আ করতে থাকেন যে পর্যন্ত সে নামাযের মুসল্লায় থাকে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে রাসূল r বলেছেন: (বান্দাহ ততক্ষণই নামাযরত অবস্থায় থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে নামাযের মুসল্লায় নামাযের জন্য অপেক্ষমান থাকে এবং ফেরেশ্তাগণ বলেন: হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন…)। মুসলিম শরীফের শব্দে রয়েছে: (ফেরেশ্তাগণ তোমাদের কারো উপর ততক্ষণ পর্যন্ত রহমাতের দু‘আ করতে থাকেন যে পর্যন্ত সে ঐ বৈঠকে থাকে যেখানে সে নামায পড়েছিল এবং তাঁরা বলতে থাকেন: হে আল্লাহ তার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন: হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করুন, যে পর্যন্তনা সে কষ্টদেয় যে পর্যন্তনা সে কিছু ঘটায় অর্থাৎ বায়ু নির্গত করে)। (বুখারী ও মুসলিম)
 ১৫– যখন ইক্বামাত দেওয়া হয় তখন ফরজ ব্যতীত আর কোন নামায পড়বে না; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে নবী সা. বলেছেন: (যখন নামাযে দাঁড়ানো হয় তখন ফরজ ব্যতীত আর কোন নামায নাই)। (মুসলিম)
 ১৬– মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হবে যা ঢোকার সময়ের বিপরীত: কেননা নবী r সকল ব্যাপারে যথা সম্ভব ডান দিক পছন্দ করতেন: তাঁর পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে, হাটার ক্ষেত্রে, জুতা পরার ক্ষেত্রে। (বুখারী) ইবনে উমর (রা:) ডান পা দিয়ে শুরু করতেন এবং যখন বের হতেন তখন বাম পা দিয়ে শুরু করতেন। (বুখারী তার তা’লীকাতে নিশ্চিত শব্দে উল্লেখ করেছেন)
  আনাস (রা:) বলেন: (সুন্নাত হল যখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে তখন তোমার ডান পা দিয়ে আরম্ভ করবে এবং যখন তুমি বের হবে তখন তোমার বাম পা দিয়ে আরম্ভ করবে)। (আল-হাকেম) এবং বলবে:
«بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، اللهم إني أسألك من فضلك»
অর্থ: ‘‘আল্লাহ তা‘আলার নামে বের হচ্ছি, সালাত ও সালাম রাসূল সা. এর প্রতি’’ ‘‘হে আললাহ নিশ্চয় আমি আপনার কল্যাণ চাই’’। (মুসলিম) «اللهم اعصمني من الشيطان الرجيم»  অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ তা‘আলা আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন’’। (ইবনে মাজাহ)
সপ্তম পরিচ্ছেদ:

       দুই জনের দ্বারা জামা‘আত প্রতিষ্ঠা হয়:

 ইমাম ও মা’মুম বা মুক্তাদী -সহীহ বক্তব্যানুযায়ী  যদিও সে ছোট বাচ্চা হয়- অথবা মাহরামের সাথে নির্জনে কোন মহিলা হয়; কেননা ইবনে আববাস (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি আমার খালা মায়মুনার কাছে এক রাতে ছিলাম, নবী সা. উঠে রাতের নামাযে দাঁড়ালেন এবং আমিও উঠে তাঁর সাথে নামাযে দাঁড়ালাম, আর আমি তাঁর বাম দিকে দাঁড়ালাম, তিনি আমার মাথা ধরে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন)। (বুখারী ও মুসলিম)
মালেক ইবনে হুয়াইরিছ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: দুই ব্যক্তি নবী সা. এর কাছে এসে তারা সফরের ইচ্ছা করলে নবী সা. বললেন: (যখন তোমরা বের হবে তখন আযান দিবে, অতঃপর ইকামাত এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে)। (বুখারী) আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে আনাস, তার মা এবং উম্মে হারাম-আনাসের খালা-তাদের  কাছে নবী সা. প্রবেশ করলেন, অতঃপর নবী   সা. বললেন: (তোমরা দাঁড়াও  তোমাদেরকে নিয়ে আমি নামায পড়ব) ফরজ নামাযের সময় ব্যতীত অন্য সময়ে, তাদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন, আনাসকে তাঁর ডান দিকে রাখলেন এবং মহিলাদেরকে তাদের পিছনে রাখলেন। (মুসলিম) এক ব্যক্তি একজন মহিলার দ্বারা জামা‘আত ছহীহ ও সংঘটিত হওয়ার দলীলের মধ্যে আরও রয়েছে, আবুসায়ীদ (রা:) ও আবু হুরায়রাহ (রা:) এর হাদীস, তাঁরা নবী r থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: (যখন রাতে কোন লোক জাগ্রত হয় এবং তার স্ত্রীকে জাগ্রত করে, অতঃপর তারা উভয়ে দুই রাকাআত নামায পড়ে, আল্লাহ তা‘আলাকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারীদের মধ্যে তাদের নাম লেখা হয়)। (ইবনে মাজাহ, আবুদাউদ)
   আর আসল হচ্ছে পুরুষ-মহিলা মিলে জামা‘আত সহীহ হওয়া এবং সংঘটিত হওয়া যেমন পুরুষ-পুরুষ মিলে জামা‘আত করলে সহীহ এবং সংঘটিত হয়। যে ব্যক্তি তার বিরোধিতা করবে তার কর্তব্য হচ্ছে তার পক্ষে দলীল পেশ করা। (নাইলুল আওতার, শারহুলমুমতি‘ই) তবে সে মহিলা যদি আজনবি বা মাহরামাদের কেহ না হয় এবং তাদের সাথে অন্য কেহ না থাকে, তাহলে ঐ মহিলার ইমামতি করা তার জন্য হারাম; কেননা ইবনে আববাস (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে রাসূল সা. বলেছেন: (তোমাদের কেহ যেন মাহরাম ব্যতীত কোন মহিলার সাথে একাকীত্বে/নির্জনে না হয়)। (বুখারী ও মুসলিম)
  সঠিক কথা হচ্ছে বালকদের কাতারের মাঝখানে দাঁড়ানো এবং  ফরজ ও নফল নামাযে তাদের ইমামতি করা সহীহ; সার্বিকভাবে দলীল সমূহের ভিত্তিতে এবং সে দলীল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট দলীল হচ্ছে আমর বিন সালামাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন আমার পিতা বলেছেন: আমি সত্যিই নবী সা. এর কাছ থেকে এসেছি, তিনি বলেছেন: (তোমরা অমুক সময়ে অমুক নামায পড়, তোমরা অমুক সময়ে অমুক নামায পড়, সুতরাং যখন নামাযের সময় হয় তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী যে কুরআন মুখস্থ পারে সে তোমাদের ইমামতি করবে)। অতঃপর তারা লক্ষ করল আমার থেকে অন্য কেউ কুরআন বেশী পারেনা; কেননা আমি যাত্রীদের কাছ থেকে শিখতাম, অতঃপর তারা আমাকে তাদের সামনে পাঠাল, তখন আমি ছিলাম ছয় অথবা সাত বছরের বালক)। (বুখারী)
  আলওয়াযির ইবনে হুবায়রাহ (রহ:) বলেন: (তাঁরা অর্থাৎ মুজতাহেদগণ একমত হয়েছেন যে, সবচেয়ে কম সংখ্যক যার দ্বারা জুমা’ ব্যতীত অন্যান্য ফরজ নামাযের জামা‘আত সংঘটিত হয় তা হল দুইজন: ইমাম ও মা’মুম বা মুক্তাদী যে ইমামের ডান পার্শ্বে দাঁড়াবে)। (আল ইফছাহ আন মা’য়ানিচ্ছিহাহ-১/১৫৫)
  ইমাম ইবনে কুদামাহ (রহ:) বলেন: (দুই বা ততোধিক দ্বারা জামা‘আত সংঘটিত হয় এ ব্যাপারে কোন বিরোধিতা আমার জানা নাই)। (আলমুগনী-২/৭) এবং ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রহ:) বলেন: (ওলামায়ে কেরামগণ একমত হয়েছেন যে, একজন মহিলা পুরুষের পিছনে এক সারিতে একা নামায পড়বে তার ডান দিকে নয় এবং সুন্নাত হল পুরুষের পিছনে দাড়ানো তার ডান দিকে নয়)।
আমি আমাদের শায়েখ সম্মানিত ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি, তিনি পূর্বোল্লিখিত আমর বিন সালামাহর হাদীসের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: (এই হাদীস প্রমাণ করে ছোটদের ইমামতি জায়েয যদি সে জ্ঞানী হয় এবং কোন জিনিসের ভালমন্দের মাঝে পার্থক্য করতে পারে। অনেক ফকীহগণ বলেন: বালক ইমামতি করবে না এবং তার কাতারের মাঝখানে দাঁড়ানো ধর্তব্য হবে না, এই বক্তব্য ভূল এবং দুর্বল। সঠিক হল সে ইমামতি করবে, কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবে। আনাস (রা:) ইয়াতীমের সাথে নবী সা. এর পিছনে দাঁড়িয়েছেন। (মুসলিম-৬৮৫) আর আসল হল ফরজ ও নফল নামায সমান, শুধুমাত্র যা দলীল দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে তা ব্যতীত, আমরের এই হাদীস প্রমাণ করে বুদ্ধিমান ভালমনেদর পার্থক্যকারীর ইমামতি জায়েয। সাত বছরের শিশুর ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে; কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালমন্দের পার্থক্যকারী সাত বছর থেকে শুরু হয়ে থাকে। নবী সা. এর বাণী: (তোমাদের সন্তানদেরকে সাত বছরে নামাযের আদেশ কর)। (আবুদাউদ, আহমাদ) সুতরাং যদি সে নামায যথার্থভাবে পড়াতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে সামনে দেওয়া যাবে) অর্থাৎ যদি সে তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশী ক্বোরআন জানে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ:

      এক রাকাআত পেলে জামা‘আত পাওয়া হয়:

এক রাকাআত পেলে জামা‘আত পাওয়া হয় আর রুকু না পেলে তা রাকাআত হিসাবে ধরা হয়না; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে রাসূল সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাআত পেল সে নামায পেল অর্থাৎ জামা‘আত পেল)। (বুখারী ও মুসলিম) এবং যদি ইমাম রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবার পূর্বে রুকু পায় তাহলে সে রাকআত পেল (নাইলুল আওতার-২/৩৮১, মাজমু’ফাতাওয়া-১২/১৬১); কেননা আবু বাকরাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি রুকু অবস্থায় নবী সা. এর কাছে পৌঁছলেন এবং কাতার পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই রুকু করলেন, অতঃপর নবী সা. এর কাছে তা উল্লেখ করা হল, তিনি বললেন: (আল্লাহ তা‘আলা তোমার উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিন তবে পূণরায় আর করবে না)। (বুখারী) আবুদাউদ উক্ত হাদীসে বৃদ্ধি করেছেন: (অতঃপর তিনি লাইন ছাড়াই রুকু করলেন এবং হেটে লাইনে পৌঁছলেন)। (আবুদাউদ)   আরও যে সকল দলীল প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি ইমামের রুকু থেকে সোজা হয়ে ওঠার পূর্বে রুকু পেল সে ঐ রাকাআত পেল: আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যখন তোমরা নামাযে এ অবস্থায় আস যে আমরা সিজদারত তখন সিজদাহ কর এবং উহাকে কিছু ধরবেনা অর্থাৎ  রাকাআত হিসাবে গণ্য করবেনা, আর যে ব্যক্তি রাকাআত পেল সে নামায পেল অর্থাৎ জামা‘আত পেল)। (আবুদাউদ) ইবনে খুজায়মা, দারাকুতনী এবং বায়হাক্বীর শব্দে রয়েছে: (ইমাম পিঠ সোজা করে দাঁড়াবার পূুর্বে যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাআত পেল সে ঐ নামায পেল)। আর এটা হল পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী জামহুর ইমামদের মাজহাব: যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, অতঃপর তাকবীর দিল, রুকু করল এবং ইমাম রুকু থেকে মাথা ওঠানোর পূর্বেই দুই হাত হাটুতে রাখতে পারল, সে রাকাআত পেল, আর যে ব্যক্তি উহা পেলনা তার রাকআত ছুটে গেল, ফলে সে ঐ রাকাআত গণ্য করবেনা, এটা ইমাম মালেক, শাফী, আবু হানিফা, আহমাদ এর মাযহাব, আর আলী, ইবনে মাসউদ, যায়েদ, ইবনে উমর (রা:) থেকে ইহা বর্ণিত হয়েছে।  পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ওজরের কারণে জামা‘আতে অনুপস্থিত ছিল অথচ সে নিয়মিত জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ে যত্নবানদের একজন, অতঃপর সে এসে নামাযের কিছু অংশ পেল যা এক রাকআতের কম তার জামা‘আত ছুটে গেল, কিন্তু তার ভাল নিয়্যাত ও ওজরের কারণে তার জন্য জামা‘আতের সাওয়াব ও মর্যাদা রয়েছে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: নবী সা. বলেছেন: (যে ব্যক্তি ওজু করল আর উত্তমভাবে ওজু করল, অতঃপর চলে গেল কিন্তু মানুষদেরকে এ অবস্থায় পেল যে, তারা ইতিপূর্বে নামায পড়েছে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ঐ পরিমাণ সাওয়াব দিবেন যে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি নামায পড়েছে এবং তাতে উপস্থিত ছিল অর্থাৎ জামা‘আতে উপস্থিত ছিল এবং এতে তাদের সাওয়াবের থেকে কোন অংশ ঘাটতি হবেনা)। (আবুদাউদ) আবু মূসা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যখন কোন বান্দাহ অসুস্থ হয় অথবা সে সফর করে, তখন উপস্থিত অবস্থায় সুস্থ থেকে যেভাবে আমল করত তার জন্য ঐ পরিমাণ সাওয়াব লেখা হয়); (বুখারী ও মুসলিম) আনাস ইবনে মালেক (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন: তিনি তাবুক যুদ্ধের সময় বলেছেন: (নিশ্চয় মদীনায় কিছু সম্প্রদায় আমাদের পিছনে রয়ে গেছে কিন্তু আমরা এমন কোন গিরি পথ, উপত্যকা অতিক্রম করিনাই যে, তারা আমাদের সাথে ছিলনা তবে ওজর/ওজুহাত তাদেরকে আটকে রেখেছিল)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: রাসূল সা. তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে যখন মদীনার কাছে পৌঁছলেন তখন বল্লেন: (নিশ্চয় মদীনায় অনেক সম্প্রদায় ছিল তোমরা এমন কোন পথ চল নাই এবং এমন কোন উপত্যকা অতিক্রম কর নাই যে, তারা তোমাদের সাথে ছিলনা) তাঁরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, তারা তো মদীনায় ছিল? অর্থাৎ মদীনায় থেকে তারা কিভাবে আমাদের সাথে থাকে? তিনি বললেন: (তারা মদীনায়, ওজর তাদেরকে আটকে রেখেছে)। (বুখারী) এই হাদীস প্রমাণ করে যে, যাকে শারয়ী ওজর বিরত রাখে অর্থাৎ শরয়ী ওজরের কারণে যে কোন আমল করতে ব্যর্থ হয় তার জন্য অনুরূপ প্রতিদান রয়েছে যতটা প্রতিদান রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি শরীয়ত সম্মত আমল করে। (ইবনে তাইমিয়ার বাছাইকৃত ফিকহী মাছয়ালা-১০২, মাজমু’ ফাতাওয়া লিবনে বায-১২/১৬৫)

 নবম পরিচ্ছেদ
     মসজিদে ইমামের সাথে যার প্রথম জামা‘আত ছুটে যায় তার জন্য দ্বিতীয় জামা‘আত করা শরীয়ত  সম্মত অর্থাৎ বৈধ; কেননা আবু সায়ীদ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে রাসূল সা. এক ব্যক্তিকে একাকি নামায পড়তে দেখে বললেন: (এমন কোন ব্যক্তি কি আছে যে, এই ব্যক্তিকে সদ্কাহ করবে, অর্থাৎ তার সাথে নামায পড়বে?)। (আবুদাউদ, তিরমিযি, আহমাদ) এবং তিরমিযির শব্দ হল: এক ব্যক্তি আসল যখন রাসূল সা.  নামায পড়ে নিয়েছেন, অতঃপর তিনি বলেন: {তোমাদের কে আছে যে, এই ব্যক্তির সাথে (পূণ্য অর্জনে) ব্যবসা করবে?} তখন এক ব্যক্তি দাঁড়াল এবং তার সাথে নামায পড়ল। ইমাম আহমাদের শব্দ হচ্ছে: এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল যখন রাসূল সা. তাঁর সাহাবাদের নিয়ে নামায পড়ে নিয়েছেন, অতঃপর রাসূল সা. বলেন: এমন কোন ব্যক্তি কি আছে যে, এই ব্যক্তিকে সদ্কাহ করবে? অর্থাৎ তার সাথে নামায পড়বে?) তখন এক ব্যক্তি দাঁড়াল এবং তার সাথে নামায পড়ল। ইমাম শাওকানী (রহ:) বলেন: (ক্বাওমের এক লোক দাঁড়াল এবং তার সাথে নামায পড়ল)। তিনি ছিলেন আবুবকর ছিদ্দিক (রা:) যেমনটি ইবনে শায়বাহ বর্ণনা করেছেন। (নাইলুল আওতার-২/৩৮০)
   হাদীসটি প্রমাণ করে যে একাকী নামায আরম্ভকারীর সাথে নামাযে প্রবেশ করা শরীয়ত সম্মত, যদিও যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে সে জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করে থাকে। (নাইলুল আওতার-২/৩৮০) ইমাম তিরমিযি (রহ:) বলেন: (এটা একাধিক আহলে ইল্মের বক্তব্য যাদের মধ্যে রয়েছে রাসূল সা. এর সাহাবী, এছাড়াও রয়েছেন তাবেয়ীনদের মধ্যে অনেকে)। তাঁরা বলেন: এতে কোন সমস্যা নাই যে, কোন একদল লোক মসজিদে জামা‘আতের সাথে নামায পড়ল যেখানে ইতিপূর্বে জামা‘আত পড়া হয়েছে, ইমাম আহমাদ ও ইছহাক (রাহঃ) এর বক্তব্যও এটাই। এটিই সঠিক বক্তব্য; কারণ সার্বিকভাবে দলীল সমূহ যা প্রমাণ করে যে জামা‘আতের সাথে নামায আদায় ব্যক্তির একাকী নামায অপেক্ষা ২৭গুন বেশী ফযীলত পূর্ণ; এবং উবাই বিন কা’ব (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসের একাংশে রয়েছে: (আর নিশ্চয় কোন ব্যক্তির অপর ব্যক্তির সাথে নামায তার একাকী নামায অপেক্ষা অধিকতর পবিত্র এবং  কোন ব্যক্তির অপর দুই ব্যক্তির সাথে নামায তার অপর এক ব্যক্তির সাথে  নামায অপেক্ষা অধিকতর পবিত্র, আর যতই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে তা আল্লাহ তা‘আলার কাছে অধিক প্রিয়)। (সুনানে আবুদাউদ, নাসায়ী, আহমদ)। আর যে ব্যক্তি বলে: নিশ্চয় জামা‘আতের ফযীলত প্রথম জামা‘আতের জন্য খাছ বা নির্দিষ্ট তার কর্তব্য হল দলীল পেশ করা কেননা শুধুমাত্র নিজস্ব অভিমত কোন দলীল নয়। (মাজমু’উ ফাতাওয়া লিবনে বায-১২/১৬৬) প্রমাণিত যে একদা আনাস (রা:) আসলেন এঅবস্থায় যে লোকেরা নামায পড়ে নিয়েছেন, তখন তিনি তার সাথীদেরকে একত্রিত করলেন এবং তাঁদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন। (বুখারী)
 উদ্দেশ্য হল দ্বিতীয় জামা‘আত তাদের জন্য জায়েয যাদের প্রথম জামা‘আত ছুটে গেছে এবং এটাই হল মূল বক্তব্য এবং এই আসল থেকে দলীল ব্যতীত বের হওয়া যাবেনা। (মাজমু’উ ফাতাওয়া লিবনে বায-১২/১৬৬) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা তাওফীক দাতা।
       দশম পরিচ্ছেদ:
        যে ব্যক্তি নামায পড়ার পর জামা‘আত পেল সে তাদের সাথে নফল হিসাবে পূণরায় নামায পড়বে; কেননা আবুজার (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: আমাকে রাসূল সা.  বলেছেন: (যদি তোমার উপর এমন সব আমিরগণ থাকে যারা নামায তার সময় থেকে দেরী করে পড়ে, অথবা নামায তার সময়মত নিষ্প্রাণ করে রাখে অর্থাৎ সময়মত না পড়ে, তুমি তাহলে কি করবে?) তিনি বলেন: আমি বললাম এমতাবস্থায় আপনি আমাকে কি আদেশ করেন? তিনি বলেন: (নামায তার সময়মতই আদায় কর, অতঃপর যদি তাদের সাথে নামায আবার পেয়ে যাও তাহলে পূণরায় নামায পড় এবং সেটা হবে তোমার জন্য নফল নামায [এবং বলবেনা যে, আমি নামায পড়েছি, অতএব আর নামায পড়ব না]) (মুসলিম-৬৪৮) ইয়াযিদ ইবনে আছওয়াদের হাদীসের একাংশে রয়েছে (…যখন তোমরা দু’জন তোমাদের অশ্ব-জিনে নামায পড়বে, অতঃপর মসজিদে আসবে যেখানে জামা‘আত হচ্ছে তখন তোমরা উভয়ে তাদের সাথে নামায পড়বে, কেননা উহা তোমাদের জন্য নফল হিসাবে গণ্য হবে)। অপর এক শব্দে রয়েছে: (যখন তোমাদের কেহ তার অশ্ব-জিনে নামায পড়ে, অতঃপর ইমামকে এ অবস্থায় পায় যে, সে নামায পড়েনি তখন যেন সে তার সাথে নামায পড়ে; কেননা এই নামায তার জন্য নফল হিসাবে গণ্য হবে); (তিরমিযি, আবুদাউদ, নাসায়ী), মিহজান থেকে বর্ণিত হাদীস যার একাংশে রয়েছে: অতঃপর রাসূল সা. বলেছেন: (তোমাকে নামায পড়তে কোন জিনিসটি নিষেধ করেছে তুমি কি মুসলিম নও?) সে বলল: অবশ্যই, কিন্তু আমি আমার পরিবারের মাঝে নামায পড়ে নিয়েছি, অতঃপর রাসূল সা. বললেন: (যদি তুমি আস তাহলে মানুষের সাথে নামায পড় যদিও ইতিপূর্বে নামায পড়ে থাক)। (নাসায়ী) উবাদাহ বিন ছামেত (রা:) থেকে হাদীস (আহমাদ) ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে হাদীস (আবুদাউদ)। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী।
  একাদশ পরিচ্ছেদ:
মাছবুক বা যে ব্যক্তির ইমামের সাথে নামাযের কিছু অংশ ছুটে যায় সে ইমামের সালাম ফিরানোর পর নামাযের বাকী অংশ কোন রকমের বৃদ্ধি করা ব্যতীত আদায় করে নিবে; কেননা মুগীরাহ বিন শো’বাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি যখন নবী সা. এর সাথে তাবুক যুদ্ধে ছিলেন, তিনি বলেন: অতঃপর রাসূল সা. প্রাকৃতিক কাজ সারলেন এবং তাঁর ওজুর কথা উল্লেখ করলেন, উহা ছিল ফজরের নামাযের পূর্বে, তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাঁর সাথে এগিয়ে এলাম এমনকি লোকদেরকে পেলাম যে তারা আব্দুর রহমান বিন আওফকে সামনে বাড়িয়ে দিয়েছে, অতঃপর তিনি তাদেরকে নিয়ে সময়মত নামায পড়লেন এবং আমরা আব্দুর রহমানকে পেলাম যে, সে তাদেরকে নিয়ে ফজরের এক রাকাআত নামায পড়েছেন, এ অবস্থায় রাসূল সা. দাঁড়ালেন, মুসলিমদের সাথে সারিবদ্ধ হলেন এবং আব্দুর রহমানের পিছনে দ্বিতীয় রাকাআত আদায় করলেন, অতঃপর যখন আব্দুর রহমান সালাম ফিরালেন রাসূল সা. দাঁড়ালেন, তাঁর নামায পরিপূর্ণ করার জন্য এ অবস্থাটা মুসলিমদেরকে ভীত- সন্ত্রস্ত করে তুল্ল, তারা বেশী বেশী তাছবীহ পড়তে আরম্ভ করলেন, অতঃপর যখন রাসূল সা. নামায পূর্ণ করলেন তখন তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন: (তোমরা উত্তম কাজ করেছ, অথবা তোমরা সঠিক কাজই করেছ) তাদেরকে আনন্দিত করেছে যে, তারা সময়মত নামায পড়েছে)। (বুখারী ও মুসলিম) তাঁর এই বক্তব্য: (তিনি তাঁর নামায সম্পন্ন করলেন) প্রমাণ করে যে, মাছবূক ব্যক্তি ইমামের সাথে নামাযের যে অংশ পেয়েছে তা তার জন্য প্রথম নামায; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: (যখন তোমরা ইক্বামাত শুনতে পাবে তখন নামাযের দিকে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য নিয়ে হেটে চলবে, আর তাড়াহুড়া করবেনা, অতঃপর যতটুকু নামায পাবে তা আদায় করবে এবং যতটুকু তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পরিপূর্ণ করবে)। (বুখারী ও মুসলিম) কোন কোন বর্ণনায় এসেছে: (সম্পন্ন কর) আর قضاء শব্দটি কোন কিছু আদায় করা অর্থেও আসে অর্থাৎ পরিপূর্ণ কর, সুতরাং দুই শব্দের মাঝে কোন রকমের বৈপরিত্য নাই, (নাইলুল আওতার-২/২৫৮, সুবুলুস্ সালাম-২/১১৫) আর যারা فاقضوا বর্ণনা আকড়ে ধরেছে, তাদের জন্য এটা দলীল নয় যে, নামাযের যে অংশ ইমামের সাথে পেয়েছে তা তার নামাযের শেষের অংশ বরং সঠিক হল মাছবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে  নামাযের যে অংশ পেয়েছে তা তার প্রথম নামায।
আমি আমাদের শায়েখ সম্মানিত ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ:) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: (وما فاتكم فأتموا) এটা অধিকাংশ বর্ণনা এবং কিছু কিছু বর্ণনায় রয়েছে: (فاقضوا) অর্থাৎ أتموا পরিপূর্ণ কর অর্থাৎ উভয় বর্ণনার অর্থ একই কোন পার্থক্য নাই, সুতরাং  উভয় বর্ণনা পরিপূর্ণ করা এবং সম্পন্ন করা অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, অতএব যা সে পেয়েছে তা তার প্রথম নামায এবং যা পরবর্তীতে আদায় করেছে তা তার নামাযের শেষাংশ।
 আর মাছবুক ব্যক্তি ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থায়ই নামাযে প্রবেশ করবে; কেননা আলী বিন আবু তালিব এবং মুয়াজ (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে তারা উভয়েই বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যখন তোমাদের কেহ নামাযে আসে এবং ইমামকে তার অবস্থায় পায় তখন ইমাম যা করবে সে তাই করবে)। (তিরমিযি) ইমাম তিরমিযি (রহ:) বলেন: (আহলে ইল্মগণ এই বক্তব্যানুযায়ী আমল করে থাকেন, তারা বলেন: যখন কোন ব্যক্তি এঅবস্থায় আসে যে ইমাম সিজদারত সেও তখন সিজদাহ করবে আর ঐ রাকআতে ইমামের সাথে রুকু ছুটে গেলে তা রাকাআত হিসাবে পরিগণিত হবে না)। (সুনানুত্ তিরমিযি-২/৪৮৬)
 আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: (যখন তোমরা নামাযে এ অবস্থায় আস যে আমরা সিজদারত তখন সিজদাহ কর এবং উহাকে কিছু ধরবে না অর্থাৎ রাকাআত হিসাবে গণ্য করবেনা, আর যে ব্যক্তি রাকাআত পেল সে নামায পেল অর্থাৎ জামা‘আত পেল)। (আবুদাউদ)
  দ্বাদশ পরিচ্ছেদ:
যে সকল কারণে জামা‘আত ত্যাগ করা বৈধ:
•     ভয় অথবা অসুস্থ হওয়া; কেননা ইবনে আববাস (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ মসজিদে আসেনি ওজর ব্যতীত তার কোন নামায নাই)। (ইবনে মাজাহ, আবুদাউদ)
•    বৃষ্টি, অথবা পিচ্ছিল স্থান; কেননা ইবনে আববাস (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি তার মুয়ায্যিনকে একদা বৃষ্টির দিনে বলেন:  أََشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً رَسُوْلُ اللهًِ ,  বলার পর حَيَّ عَلَى الصَّلاةِ, বলবেনা বরং বলবে: তোমরা তোমাদের বাড়ীতে নামায আদায় কর, লোকেরা যেন বিষয়টা অপছন্দ করল, তখন তিনি বল্লেন: আমার থেকে যিনি উত্তম তিনি এমনটি করেছেন…)। (বুখারী ও মুসলিম)
•     ঠান্ডা অন্ধকার রজনীতে প্রচন্ড বাতাস থাকলে; কেননা ইবনে উমর (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি ঠান্ডা ও বাতাস জনিত এক রাতে নামাযের জন্য আযান দিলেন, অতঃপর বললেন: তোমরা তোমাদের বাড়ীতে নামায পড়, এরপর বল্লেন: রাসূল সা. শীতের রাতে বৃষ্টি থাকলে মুয়ায্যিনকে আদেশ করে বলতেন: (জেনে রেখো তোমরা  বাড়ীতে নামায আদায় কর) বুখারীর শব্দে রয়েছে: (রাসূল সা.) মুয়ায্যিনকে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর আযানের পরপরই বলতেন: (জেনে রাখ তোমরা বাড়ীতে নামায পড়বে, শীতের রাতে অথবা সফরের সময় বৃষ্টি থাকলে) এবং মুসলিম এর শব্দে রয়েছে: (ইবনে উমর এক শীতের রাতে যখন বাতাস ও বৃষ্টি ছিল নামাযের আযান দিলেন, অতঃপর আযান শেষে বলেন: সবাইকে জানানো যাচ্ছে যে, আপনারা আপনাদের বাড়ীতে নামায পড়ুন আপনারা বাড়ীতে নামায পড়ুন, অতঃপর বলেন: রাসূল সা. শীতের রাতে অথবা সফরের সময় বৃষ্টি থাকলে মুয়ায্যিনকে আদেশ করে বলতেন: (জেনে রেখো তোমরা  বাড়ীতে নামায আদায় কর)। (বুখারী ও মুসলিম)
    জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা রাসূল সা. এর সাথে এক সফরে বের হলাম এমতাবস্থায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল, তখন তিনি বল্লেন: (তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চায় সে তার বাড়ীতে নামায পড়তে পারে)। (মুসলিম) আর উত্তম হল আযানের সব শব্দ পরিপূর্ণভাবে বলা, অতঃপর বলবে: (তোমরা তোমাদের বাড়ীতে নামায পড়)। অথবা বলবে: (তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্থানে নামায পড়)।
•      খাবার উপস্থিত হলে এবং মন যদি খাবারের প্রতি থাকে; কেননা ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: নবী সা. বলেছেন: (তোমাদের কেহ যদি খাবারের কাছে থাকে সে যেন তাড়াহুড়া না করে যে পর্যন্ত না সে তার প্রয়োজন মিটায়, যদিও নামাযে দাঁড়িয়ে যায় অর্থাৎ জামা‘আত শুরু হয়ে যায়) আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: (যখন রাতের খাবার সামনে রাখা হয় আর এঅবস্থায় জামা‘আত আরম্ভ হয় তখন রাতের খাবার দিয়ে শুরু কর)। (বুখারী ও মুসলিম)
•     দুটি খারাপ জিনিস আটকে রাখা [পেশাব, পায়খানা]; কেননা আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি: (খাবার উপস্থিত হলে কোন নামায নাই এবং এঅবস্থায়ও কোন নামায নাই যে পায়খানা পেশাব আটকে রেখেছে)। (বুখারী ও মুসলিম)
•     কোন ব্যক্তির আতণীয় যদি মৃত্যুর আশংকা করে যার কাছে সে উপস্থিত নাই; কেননা ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তার কাছে উল্লেখ করা হল যে, সায়ীদ বিন যায়েদ বিন আমর বিন নুফাইল যিনি বদরী সাহাবী ছিলেন, তিনি জুম‘আর দিন অসুস্থ হয়েছেন, অতঃপর ইবনে উমর (রা:) দিনের আলো প্রকাশের পর তার কাছে চলে গেলেন, জুম‘আর সময় ঘনিয়ে এল কিন্তু তিনি জুম‘আ পরিত্যাগ করলেন। (বুখারী) আবু দারদা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: (ব্যক্তির জ্ঞানের পরিচয় হল তার প্রয়োজনের দিকে অগ্রসর হওয়া অর্থাৎ প্রয়োজন মিটিয়ে ফেলা, যা’তে করে নামাযে এ অবস্থায় আসে যে, তার অন্তর সকল   চিন্তামুক্ত)। (বুখারী)
•       অতএব স্পষ্ট হল যে, আট অবস্থায় জামা‘আত পরিত্যাগকারীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়: অসুস্থ হওয়া, ভয় থাকা সেটা নিজের উপর হোক বা সম্পদের উপর হোক বা সম্মানের উপর হোক, বৃষ্টি, পিচ্ছিল পথ, অন্ধকার রাত যখন ঠান্ডা এবং প্রচন্ড বাতাস থাকে, খাবার উপস্থিত হলে যদি তার প্রতি মনের চাহিদা থাকে, দুটি খারাপ জিনিস চেপে রাখা অর্থাৎ পায়খানা ও পেশাবের বেগ থাকা বা তার যেকোন একটির বেগ থাকা, কারও যদি কোন আত্নীয় থাকে যার মৃত্যুর আশংকা করছে যার কাছে সে উপস্থিত হতে পারবে না। এ সকল বিষয়ের প্রতিটি মাস’আলার ব্যাপারে দলীল পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
    আল্লাহ তা‘আলা সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদের প্রতি, তাঁর পরিবারের প্রতি, তাঁর সাহাবীদের প্রতি এবং যারা ক্বেয়ামাত পর্যন্ত উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের প্রতি।

 

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s