জুমুআর নামাজ, খুতবা, আদব ও বিদআত সমুহের বিস্তারিত মাসআলা মাসায়েল


জুমু‘আর দিনের বিধান ভূমিকা জুমু‘আর দিন একটি বরকত পূর্ণ দিন। আল্লাহ তা‘আলা এ দিনটিকে সমস্ত দিনের উপর ফযিলত দিয়েছেন এবং উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য এ দিনটিকে নেয়ামত স্বরূপ নির্বাচন করেছেন। ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের এ দিবসটি থেকে আল্লাহ তা‘আলা দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ফলে তারা এ দিবসটি সম্পর্কে ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত। শনিবার ও রবিবারের তুলনায় জুমু’আর দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য ঘটনা রাজির জন্ম দিয়েছেন এবং পৃথিবীতে অনেক কিছুই এ দিবসটিতে সংঘটিত হয়েছে। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের- উম্মতে মুহাম্মদী-কে পাঠান এবং আমাদেরকে জুমু’আর দিনের প্রতি পথ দেখান। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয় সাহাবী হতে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, « ﺃﺿﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻗﺒﻠﻨﺎ؛ ﻓﻜﺎﻥ ﻟﻠﻴﻬﻮﺩ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺴﺒﺖ، ﻭﻛﺎﻥ ﻟﻠﻨﺼﺎﺭﻯ ﻳﻮﻡ ﺍﻷﺣﺪ، ﻓﺠﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﺑﻨﺎ ﻓﻬﺪﺍﻧﺎ ﻟﻴﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻓﺠﻌﻞ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﺍﻟﺴﺒﺖ ﻭﺍﻷﺣﺪ، ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻫُﻢ ﻟﻨﺎ ﺗﺒﻊ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ، ﻭﻧﺤﻦ ﺍﻵﺧِﺮﻭﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ، ﻭﺍﻷﻭﻟﻮﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ، ﺍﻟﻤﻘﻀﻲ ﻟﻬﻢ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﺨﻼﺋﻖ ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ، ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ، ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ]. “আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে জুমু‘আ থেকে বঞ্চিত করেন। ইয়াহুদীদের জন্য শনিবার এবং খৃষ্টানদের জন্য রবিবারকে নির্ধারণ করেন। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাঠান এবং আমাদেরকে জুমু‘আর দিবসটির প্রতি পথ দেখান। জুমু‘আর পর শনিবার এবং তারপর রবিবার নির্ধারণ করেন। যেভাবে দিবসের দিক দিয়ে তারা আমাদের পিছনে আছে, কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের পিছনে থাকবে। দুনিয়াতে আমাদের আগমন পরে হলেও কিয়ামতের দিন আমরাই প্রথম হব। সমস্ত মাখলুকের পূর্বে আমাদের ফায়সালা করা হবে”।[1] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﺧﻴﺮ ﻳﻮﻡ ﻃﻠﻌﺖ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ؛ ﻓﻴﻪ ﺧﻠﻖ ﺁﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ، ﻭﻓﻴﻪ ﺃﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ، ﻭﻓﻴﻪ ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻨﻬﺎ ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ، ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ]. “সূর্য উদয় হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন জুমু‘আর দিন। এ দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়”।[2] জুমু‘আর দিনের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদিসে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। মুসলিম জ্ঞানীরা এ দিবসের বিভিন্ন ধরনের ফযিলত ও গুরুত্ব তার স্বীয় লিখনি ও কিতাব সমূহে আলোচনা করেছেন। এ দিবসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, জুমু‘আর সালাত। জুমু‘আর সালাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয এবং মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুমু‘আর সালাতের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে আমরা মানুষের মধ্যে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে শিথিলতা এবং জুমু‘আর দিন সম্পর্কে উদাসীনতা লক্ষ্য করি। মানুষ জুমু‘আর দিন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে, জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে দেরী করে, জুমু‘আর দিনের করনীয় ও বর্জনীয় কি তার প্রতি গুরুত্ব দেয় না এবং জুমু‘আর দিনের আদব গুলো যথাযথ পালন করে না। জুমু‘আর দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করা এবং তা উম্মতে মুসলিমাকে জানিয়ে দেয়া খুবই জরুরি মনে করি। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় জুমু‘আর দিন সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বই খুব কম পাওয়া যায়। যার কারণে বাংলা ভাষীদের মধ্যে জুমু‘আর দিন সম্পর্কে সচেতনা খুব বেশি লক্ষ্য করা যায় না। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জুমু‘আ সম্পর্কে একটি বই থাকা খুবই জরুরি। এ জন্য আমি জুমু‘আ সম্পর্কে একটি সংকলনের চেষ্টা করি। বইটির প্রতিটি বিষয় কুরআন ও সূন্নাহের অকাট্য প্রমাণাদি থেকে সংগৃহীত। এ বইটিতে সংক্ষেপে জুমু‘আর দিনের ফযিলত, জুমু‘আর সালাতের ফযিলত, জুমু‘আর দিনের করনীয়, বর্জনীয়, জুমু‘আর সালাতের বিধান এবং আদব সমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। এ বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘জুমু‘আর দিনের বিধান’ করে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এ বইটি দ্বারা মানুষের উপকার সাধন করেন এবং আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং তা যেন কেবল আল্লাহর জন্য করার তাওফীক দেন। বইটির মধ্যে ভূল ত্রুটি থাকা একেবারেই স্বাভাবিক। যদি কোন পাঠকের নিকট কোন প্রকার ভূল ধরা পড়ে বা কোন বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন করার প্রয়োজন পড়ে তাহলে আমাকে সে বিষয়ে জানালে তা ধন্যবাদান্তে গ্রহণ করা হবে। আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা আল্লাহ যেন আমাকে আমার উদ্দেশ্যে সফল করেন। আল্লাহর উপরই ভরসা করি এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। সংকলক জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের . জুমু‘আর দিনের ফযিলত নাম করণ করার কারণ: হাফেয ইবনে কাসীর রহ. বলেন, জুমু’আকে জুমু‘আ করে নাম করণ করা হয়েছে। কারণ হল, জুমু‘আ শব্দটি ﺍﻟﺠﻤﻊ ‘একত্র হওয়া’ শব্দ হতে নির্গত। মুসলিমরা প্রতি সপ্তাহে এ দিনে আল্লাহর মহান আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে মসজিদে একত্র হয়ে থাকেন। তাই এ দিনকে জুমু’আ বলা হয়। আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে এ দিন একত্র হওয়ার নির্দেশ দেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮٓﺍْ ﺇِﺫَﺍ ﻧُﻮﺩِﻱَ ﻟِﻠﺼَّﻠَﻮٰﺓِ ﻣِﻦ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟۡﺠُﻤُﻌَﺔِ ﻓَﭑﺳۡﻌَﻮۡﺍْ ﺇِﻟَﻰٰ ﺫِﻛۡﺮِ ﭐﻟﻠَّﻪِ … ٩ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ : ٩ ] “হে মুমিনগণ, যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও”।[3] আয়াতে ﺍﻟﺴﻌﻲ দ্বারা উদ্দেশ্য দৌড়ে আসা নয়। বরং, এ দ্বারা উদ্দ্যেশ্য হল, তোমরা জু মু‘আর সালাতের দিকে গুরুত্বের সাথে অগ্রসর হও। কারণ, সালাতে দৌড়ে আসতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। হাসান রহ. বলেন, “এখানে ﺍﻟﺴﻌﻲ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, অন্তরের দৌড়। অন্যথায় সালাতে শান্তশিষ্টভাবে ও গাম্ভীর্যের সাথে আসতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং দৌড়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে”।[4] আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম রহ. বলেন, “জুমু‘আর দিনটি ইবাদতের দিন। মাসের মধ্যে রমাদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, দিবস সমূহের মধ্যে জুমু‘আও অনুরূপ গুরুত্বপূর্ণ। জুমু‘আর দিনে একটি মুহুর্ত এমন আছে, সে মহুর্তে দু‘আ করলে আল্লাহ তা‘আলা দু্’আ কবুল করেন। জুমু‘আর দিনে সে মহুর্তটুকু রমাদান মাসের ক্বাদর রাত্রির মত গুরুত্বপূর্ণ”।[5] এক- জুমু‘আর দিন সর্বোত্তম দিন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনকে সর্বোত্তম দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, « ﺧﻴﺮ ﻳﻮﻡ ﻃﻠﻌﺖ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻓﻴﻪ ﺧﻠﻖ ﺁﺩﻡ، ﻭﻓﻴﻪ ﺃﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ، ﻭﻓﻴﻪ ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻨﻬﺎ، ﻭﻻ ﺗﻘﻮﻡ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺇﻻ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ‏» ‏[ ﻣﺴﻠﻢ ]. “সূর্য উদয় হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন জুমু‘আর দিন। এ দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়। আর কিয়ামত জুমু‘আর দিনেই সংঘটিত হবে”।[6] দুই- এ দিনটির মধ্যে জুমু‘আর সালাত রয়েছে যা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং মুসলিমদের মহান মিলন মেলা। যে ব্যক্তি কোন কারণ ছাড়া জুমু‘আর সালাত ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেবে।[7] তিন- এ দিনটি দু‘আ কবুল হওয়ার দিন: জুমু‘আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে মুহূর্তে দু‘আ করলে, আল্লাহ তা‘আলা দু‘আ কবুল করেন। তবে মুহূর্তটি অজ্ঞাত রাখা হয়েছে, যাতে মানুষ পুরো জুমু’আর দিনটিকে গুরুত্ব দেয় এবং মুহূর্তটি অনুসন্ধান করতে থাকে। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺳﺎﻋﺔ ﻻ ﻳﻮﺍﻓﻘﻬﺎ ﻋﺒﺪ ﻣﺴﻠﻢ ﻭﻫﻮ ﻗﺎﺋﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﻳﺴﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺷﻴﺌﺎ ﺇﻻ ﺃﻋﻄﺎﻩ ﺇﻳﺎﻩ – ﻭﻗﺎﻝ ﺑﻴﺪﻩ ﻳﻘﻠﻠﻬﺎ ‏» ‏[ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ ]. “জুম‘আর দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা ঐ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় রত অবস্থায় আল্লাহর নিকট কোন কিছু প্রার্থনা করেন আল্লাহ তা‘আলা তাকে তা অবশ্যই দেবেন”।[8] আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রহ. জুমু‘আর দিন দু‘আ কবুলের সময়টির ব্যাপারে আলেমদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরার পর বলেন, সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য মতামত হল, দুটি মত যে দুটি মতামত হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত ও প্রমাণিত: ১- ইমাম মিম্বারে বসা থেকে নিয়ে সালাত শেষ করা পর্যন্ত মুহূর্তটি। কারণ, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﻫﻲ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺃﻥ ﻳﺠﻠﺲ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺇﻟﻰ ﺃﻥ ﺗﻘﻀﻰ ﺍﻟﺼﻼﺓ ‏» ‏[ ﻣﺴﻠﻢ ]. “ইমাম মিম্বারে বসা থেকে নিয়ে সালাত শেষ করা পর্যন্ত”।[9] ২- মুহুর্তটি হল, জুমু‘আর দিন আছরের সালাত আদায়ের পর। এটি উল্লেখিত দুটি মতের মধ্যে সর্বাধিক গ্রহণ যোগ্য মতামত।[10] চার- সদকা করার জন্য উত্তম দিন: জুম‘আর দিন সদকা করা অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক উত্তম। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম রহ. বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সদকা করার তুলনায় এ দিনে সদকা করা এমন উত্তম যেমন বছরের অন্যান্য মাসের সদকার তুলনায় রমাদান মাসে সদকা করা উত্তম। কা’আব বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বিশুদ্ধ সনদে মওকুফ হাদিস যা মারফু হাদিস বলে বিবেচিত এমন একটি হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন, «… ﻭﺍﻟﺼﺪﻗﺔ ﻓﻴﻪ ﺃﻋﻈﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺪﻗﺔ ﻓﻲ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻷﻳﺎﻡ ‏» ‏[ ﻣﻮﻗﻮﻑ ﺻﺤﻴﺢ ﻭﻟﻪ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﺮﻓﻊ ]. “জুমু‘আর দিন সদকা করা অন্যান্য দিন সদকা করার তুলনায় অধিক সাওয়াব ও গুরুত্বপূর্ণ”।[11] পাঁচ-জান্নাতীদের আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিন: জুমু‘আ এমন একটি দিন, যে দিন আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে মুমিন বন্ধুদের সাথে সাক্ষাত করবেন। আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহ তা‘আলার বাণীর – ﻭَﻟَﺪَﻳْﻨَﺎ ﻣَﺰِﻳﺪٌ তাফসীরে বলেন, ﻳﺘﺠﻠﻰ ﻟﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺟﻤﻌﺔ . “আল্লাহ তা‘আলা প্রতি জুমু‘আর দিন জান্নাতীদের জন্য প্রকাশ্যে আসবেন”। ছয়- জুমু‘আর দিন মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন: জুমু‘আর দিন মুসলিমদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﺇﻥ ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ ﻋﻴﺪ ﺟﻌﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻠﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻓﻤﻦ ﺟﺎﺀ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﻠﻴﻐﺘﺴﻞ …‏» ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ .‏[ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ﻭﻫﻮ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻏﻴﺐ 1/298 ]. “এটি ঈদের দিন আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হয় সে যেন ওজু করে উপস্থিত হয়”।[12] সাত- গুনাহ মাফের দিন: এ দিন আল্লাহ তা‘আলা বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেন। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﻻ ﻳﻐﺘﺴﻞ ﺭﺟﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﻳﺘﻄﻬﺮ ﻣﺎ ﺍﺳﺘﻄﺎﻉ ﻣﻦ ﻃﻬﺮ ﻭﻳﺪﻫﻦ ﻣﻦ ﺩﻫﻨﻪ، ﺃﻭ ﻳﻤﺲ ﻣﻦ ﻃﻴﺐ ﺑﻴﺘﻪ، ﺛﻢ ﻳﺨﺮﺝ ﻓﻼ ﻳﻔﺮﻕ ﺑﻴﻦ ﺍﺛﻨﻴﻦ، ﺛﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﻣﺎ ﻛﺘﺐ ﻟﻪ، ﺛﻢ ﻳﻨﺼﺖ ﺇﺫﺍ ﺗﻜﻠﻢ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺇﻻ ﻏﻔﺮ ﻟﻪ ﻣﺎ ﺑﻴﻨﻪ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺍﻷﺧﺮﻯ‏» ‏[ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ]. “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করল, যথাসাধ্য পবিত্রতা অর্জন করল, তেল লাগালো এবং ঘর থেকে আতর খোশবু লাগিয়ে ঘর থেকে বের হল, দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক করে সামনে গেল না, অতঃপর তার তাকদীরে যত সালাত পড়া নির্ধারিত ছিল তা আদায় করল এবং ইমামের খুতবার সময় সে চুপ থাকল, তাহলে তার এ জুমু‘আ থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে”।[13] আট-এক বছর কিয়ামুল লাইল ও এক বছর রোজা রাখার সাওয়াব: জুমু‘আর দিন পায়ে হেঁটে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হওয়া এক বছর রোজা রাখা ও এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সম পরিমাণ সাওয়াব সমতুল্য। আউস ইবনে আওস আস- সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, « ﻣﻦ ﻏﺴﻞ ﻭﺍﻏﺘﺴﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﺑﻜﺮ ﻭﺍﺑﺘﻜﺮ، ﻭﺩﻧﺎ ﻣﻦ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻓﺄﻧﺼﺖ، ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺑﻜﻞ ﺧﻄﻮﺓ ﻳﺨﻄﻮﻫﺎ ﺻﻴﺎﻡ ﺳﻨﺔ، ﻭﻗﻴﺎﻣﻬﺎ، ﻭﺫﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺴﻴﺮ ‏» ‏[ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﺴﻨﻦ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ]. “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন নিজে গোসল করল, অপরকে উদ্বুদ্ধ করল, সকাল সকাল মসজিদে গমন করল, অপরকে উৎসাহ দিল এবং আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে মসজিদে এসে ইমামের কাছাকাছি বসল, কোন অনর্থক কর্ম করল না, সে প্রতিটি কদমে এক বছর রোজা রাখা এবং এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব পাবে”।[14] নয়- এ দিন জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা বন্ধ থাকে: সপ্তাহের প্রতি দিন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়, কেবল জুমু‘আর দিন ছাড়া। জুমু‘আর দিনের সম্মানে এ দিনে জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা ও উত্তপ্ত করাকে বন্ধ করে রাখা হয়।[15] দশ- জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাত্রিতে মৃত্যু বরণ করা শুভ লক্ষণ: জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাত্রিতে মৃত্যু বরণ করা, উত্তম পরিণতির লক্ষণ। কারণ, জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাত্রিতে যে ব্যক্তি মারা যায় সে ব্যক্তি কবরের আযাব ও মুনকার নকীরের প্রশ্ন হতে বেঁচে যায়। আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, « ﻣﺎ ﻣﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﻳﻤﻮﺕ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺃﻭ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﺇﻻ ﻭﻗﺎﻩ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﺘﻨﺔ ﺍﻟﻘﺒﺮ ‏» ‏[ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ]. “যে কোন মুসলিম জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাতে মারা গেল আল্লাহ তা‘আলা তাকে অবশ্যই কবরের আযাব থেকে রেহাই দেবেন”।[16] জুমু‘আর সালাতের ফযিলত এক- গুনাহ মাফ হয়: জুমু‘আর দিন জুমু‘আর সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে ভালোভাবে ওজু করে মসজিদে গমন করলে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﻣﻦ ﺗﻮﺿﺄ ﻓﺄﺣﺴﻦ ﺍﻟﻮﺿﻮﺀ، ﺛﻢ ﺃﺗﻰ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﺎﺳﺘﻤﻊ ﻭﺃﻧﺼﺖ، ﻏﻔﺮ ﻟﻪ ﻣﺎ ﺑﻴﻨﻪ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺍﻷﺧﺮﻯ ﻭﺯﻳﺎﺩﺓ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﻳﺎﻡ، ﻭﻣﻦ ﻣﺲَّ ﺍﻟﺤﺼﻰ ﻓﻘﺪ ﻟﻐﺎ ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ، ﻭﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ، ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ]. “যে ব্যক্তি সুন্দর করে ওযু করল, অতঃপর জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে জুমু‘আর খুতবা শুনল এবং চুপ থাকলো, তার জন্য এ জুমু‘আ থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি পাথর স্পর্শ করল সে অনর্থক কর্ম করল”।[17] দুই- জুমু‘আর সালাত কবিরা গুনাহ ছাড়া অন্যান্য গুনাহের জন্য কাফফারা: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻟﺨﻤﺲ، ﻭﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﺭﻣﻀﺎﻥ ﺇﻟﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻣﻜﻔﺮﺍﺕ ﻟﻤﺎ ﺑﻴﻨﻬﻦ ﺇﺫﺍ ﺍﺟﺘﻨﺒﺖ ﺍﻟﻜﺒﺎﺋﺮ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ﻭﻏﻴﺮﻩ ]. “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জুমু‘আ এবং রামাদানের মধ্যবর্তী সময়ে যে সব গুনাহ হয়ে থাকে, পরবর্তী সালাত, জুমু‘আ ও রমাদান সে সব মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা। যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে”।[18] অপর একটি হাদিস- আবু আইয়ুব আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি- তিনি বলেন, « ﻣﻦ ﺍﻏﺘﺴﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﻣﺲ ﻣﻦ ﻃﻴﺐ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻋﻨﺪﻩ، ﻭﻟﺒﺲ ﻣﻦ ﺃﺣﺴﻦ ﺛﻴﺎﺑﻪ، ﺛﻢ ﺧﺮﺝ ﺣﺘﻰ ﻳﺄﺗﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ، ﻓﻴﺮﻛﻊ ﻣﺎ ﺑﺪﺍ ﻟﻪ، ﻭﻟﻢ ﻳﺆﺫ ﺃﺣﺪًﺍ، ﺛﻢ ﺃﻧﺼﺖ ﺣﺘﻰ ﻳﺼﻠﻲ، ﻛﺎﻥ ﻛﻔﺎﺭﺓ ﻟﻤﺎ ﺑﻴﻨﻬﺎ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺍﻷﺧﺮﻯ ‏» ‏[ﺻﺤﻴﺢ . ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ، ﻭﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ، ﻭﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺤﻪ ]. “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করে, আতর-খোশবু লাগায়, যদি তার কাছে থাকে এবং সুন্দর জামা-কাপড় পরে, মসজিদে এসে সালাত আদায় করে এবং কাউকে সে কষ্ট না দেয়, তারপর সে জুমু‘আর সালাত আদায় করা পর্যন্ত চুপ থাকে, তাহলে তা তার এ জুমু‘আ থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহ সমূহের কাফফারা হবে”।[19] তিন- আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হবে: আবু মালেক আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻛﻔﺎﺭﺓ ﻟﻤﺎ ﺑﻴﻨﻬﺎ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﺗﻠﻴﻬﺎ ﻭﺯﻳﺎﺩﺓ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﻳﺎﻡ، ﻭﺫﻟﻚ ﺑﺄﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻗﺎﻝ : ﴿ﻣَﻦْ ﺟَﺎﺀَ ﺑِﺎﻟْﺤَﺴَﻨَﺔِ ﻓَﻠَﻪُ ﻋَﺸْﺮُ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ«﴾ ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ، ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻏﻴﺐ ﺭﻗﻢ 682 ]. “জুমু‘আর সালাত তার পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহের জন্য কাফফারা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ ﻣَﻦْ ﺟَﺎﺀَ ﺑِﺎﻟْﺤَﺴَﻨَﺔِ ﻓَﻠَﻪُ ﻋَﺸْﺮُ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ ﴾» যে কোন নেক আমল করে আল্লাহ তা‘আলা তার সাওয়াবকে দশ গুণ বাড়িয়ে দেন”।[20] চার- জুমু‘আর সালাত জান্নাত লাভের বিশেষ আমল: জুমু‘আর সালাত আদায় দ্বারা জান্নাত লাভ করা যায়। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন , তিনি বলেন, « ﺧﻤﺲ ﻣﻦ ﻋﻤﻠﻬﻦ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﻛﺘﺒﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ : ﻣﻦ ﻋﺎﺩ ﻣﺮﻳﻀﺎ، ﻭﺷﻬﺪ ﺟﻨﺎﺯﺓ، ﻭﺻﺎﻡ ﻳﻮﻣﺎ، ﻭﺭﺍﺡ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﺃﻋﺘﻖ ﺭﻗﺒﺔ ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺤﻪ ﻭﻫﻮ ﺣﺴﻦ، 2771 ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻏﻴﺐ ﺭﻗﻢ 683 ]. “যে ব্যক্তি কোন দিন পাঁচটি আমল করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার নাম জান্নাতীদের খাতায় লিপিবদ্ধ করবেন: রোগী দেখতে যাবে, কারও জানাযায় উপস্থিত হবে, রোযা রাখবে, জুমু‘আর সালাতে গমন করবে এবং দাস মুক্ত করবে”।[21] পাঁচ- প্রতিটি কদমে কদমে এক বছর রোজা রাখা ও কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব: পায়ে হেঁটে জুম‘আর সালাতে গমন করলে, প্রতি কদমে এক বছর রোজা রাখা এবং এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব পাবে। আউস ইবনে আওস আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, « ﻣﻦ ﻏﺴﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﺍﻏﺘﺴﻞ، ﻭﺑﻜﺮ ﻭﺍﺑﺘﻜﺮ، ﻭﻣﺸﻰ ﻭﻟﻢ ﻳﺮﻛﺐ، ﻭﺩﻧﺎ ﻣﻦ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻓﺎﺳﺘﻤﻊ ﻭﻟﻢ ﻳﻠﻎ، ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺑﻜﻞ ﺧﻄﻮﺓ ﻋﻤﻞ ﺳﻨﺔ؛ ﺃﺟﺮ ﺻﻴﺎﻣﻬﺎ ﻭﻗﻴﺎﻣﻬﺎ ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ، ﻭﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ، ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ” ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ، ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ، ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ، ﻭﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ” ﻭﺍﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺤﻴﻬﻤﺎ، ﻭﺍﻟﺤﺎﻛﻢ، ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ]. “যে জুমু‘আর দিন গোসল করাল ও করল, সকাল সকাল নিজে মসজিদে গমন করল, অপরকে উৎসাহ দিল এবং আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে মসজিদে এসে ইমামের কাছাকাছি বসল, অতঃপর শুনল এবং কোন অনর্থক কর্ম করল না, সে প্রতিটি কদমে এক বছর রোজা রাখা এবং এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব পাবে”।[22] ছয়- জন্তু কুরবানি করার সাওয়াব: জুমু‘আর দিন যে ব্যক্তি যত আগে জুমু‘আর সালাতে আসবে, সে তত বেশি সাওয়াব লাভ করবে। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « ﻣﻦ ﺍﻏﺘﺴﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻏﺴﻞ ﺍﻟﺠﻨﺎﺑﺔ ﺛﻢ ﺭﺍﺡ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺍﻷﻭﻟﻰ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺏ ﺑﺪﻧﻪ، ﻭﻣﻦ ﺭﺍﺡ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺏ ﺑﻘﺮﺓ، ﻭﻣﻦ ﺭﺍﺡ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺍﻟﺜﺎﻟﺜﺔ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺏ ﻛﺒﺸﺎ ﺃﻗﺮﻥ، ﻭﻣﻦ ﺭﺍﺡ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺍﻟﺮﺍﺑﻌﺔ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺏ ﺩﺟﺎﺟﺔ، ﻭﻣﻦ ﺭﺍﺡ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺍﻟﺨﺎﻣﺴﺔ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺏ ﺑﻴﻀﺔ، ﻓﺈﺫﺍ ﺧﺮﺝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻳﺴﺘﻤﻌﻮﻥ ﺍﻟﺬﻛﺮ ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺎﻟﻚ ﻓﻲ “ﺍﻟﻤﻮﻃﺄ ” ﻭﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻭﻣﺴﻠﻢ، ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ]. “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ফরয গোসলের মত গোসল করে, তারপর প্রথম সময়ে মসজিদে গমন করে, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি উট কুরবানি করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি গরু কুরবানি করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি ভেড়া কুরবানি করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি মুরগী আল্লাহর রাস্তায় দান করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করল। অত:পর যখন ইমাম উপস্থিত হয়, তখন ফেরেশতারাও উপস্থিত হয় এবং তার খুতবা শ্রবণ করে”।[23] জুমু‘আর সালাতের হুকুম প্রিয় মুসলিম ভাই! আপনি অবশ্যই মনে রাখবেন, জুমু‘আর সালাত প্রত্যেক বালেগ মুসলিমের উপর ফরযে আইন। জুমু‘আর সালাত ফরয হওয়া কুরআন হাদিস এবং উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। এক- কুরআন দ্বারা প্রমাণ: আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮٓﺍْ ﺇِﺫَﺍ ﻧُﻮﺩِﻱَ ﻟِﻠﺼَّﻠَﻮٰﺓِ ﻣِﻦ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟۡﺠُﻤُﻌَﺔِ ﻓَﭑﺳۡﻌَﻮۡﺍْ ﺇِﻟَﻰٰ ﺫِﻛۡﺮِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍْ ﭐﻟۡﺒَﻴۡﻊَۚ ٩ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ : ٩ ] আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে জুমু‘আর দিন আযানের পর আল্লাহর জিকিরের দিক ছুটার নির্দেশ দেন। আল্লাহর নির্দেশ পালন করা ওয়াজিব। সুতরাং, জুমু‘আর দিন আযানের পর জুমুম‘আর সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন অবশ্যই ফরয। আল্লাহ তা‘আলা জুমুম‘আর দিন আযানের পর বেচা-কেনা করতে নিষেধ করেছেন যাতে জুমু‘আর সালাত ছুটে না যায়। যদি জুমু‘আর সালাত ফরয না হত, তাহলে তিনি বেচা- কেনা করতে নিষেধ করতেন না। দুই- হাদিস দ্বারা প্রমাণ: প্রথম হাদিস- ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ – ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ – ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻟﻘﻮﻡ ﻳﺘﺨﻠﻔﻮﻥ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ : ‏«ﻟﻘﺪ ﻫﻤﻤﺖ ﺃﻥ ﺁﻣﺮ ﺭﺟﻼ ﻳﺼﻠﻲ ﺑﺎﻟﻨﺎﺱ ﺛﻢ ﺃﺣﺮﻕ ﻋﻠﻰ ﺭﺟﺎﻝ ﻳﺘﺨﻠﻔﻮﻥ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺑﻴﻮﺗﻬﻢ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ، ﻭﻣﺴﻠﻢ ]. অর্থ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা জুম‘আর সালাত থেকে বিরত থাকে, তাদের সম্পর্কে বলেন, “আমার ইচ্ছে হয়, একজনকে সালাতের দায়িত্ব দেই যাতে সে মুসল্লিদের নিয়ে সালাত আদায় করে। অত:পর আমি যারা জুমু‘আর সালাত থেকে বিরত থাকে তাদের বাড়ি ঘর জালিয়ে দেই”।[24] দ্বিতীয় হাদিস- ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻭﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ – ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ – ﺃﻧﻬﻤﺎ ﺳﻤﻌﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﻋﻠﻰ ﺃﻋﻮﺍﺩ ﻣﻨﺒﺮﻩ : ‏« ﻟﻴﻨﺘﻬﻴﻦ ﺃﻗﻮﺍﻡ ﻋﻦ ﻭﺩﻋﻬﻢ ﺍﻟﺠﻤﻌﺎﺕ ﺃﻭ ﻟﻴﺨﺘﻤﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﻮﺑﻬﻢ ﺛﻢ ﻟﻴﻜﻮﻧﻦ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﺎﻓﻠﻴﻦ ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ، ﻭﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻣﻦ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻭﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ]. অর্থ, আবু হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ওমর উভয় সাহাবী থেকে বর্ণিত, তারা দুই জন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাঠের মিম্বারের উপর আরোহণ করে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “লোকেরা হয়ত জুমু‘আর সালাত পড়া থেকে বিরত থাকবে, অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। ফলে তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবে”।[25] তৃতীয় হাদিস- ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺠﻌﺪ ﺍﻟﻀﻤﺮﻱ – ﻭﻟﻪ ﺻﺤﺒﻪ – ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ‏« ﻣﻦ ﺗﺮﻙ ﺛﻼﺙ ﺟﻤﻊ ﺗﻬﺎﻭﻧًﺎ ﻃﺒﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﻠﺒﻪ‏» ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺨﻤﺴﺔ، ﻭﻷﺣﻤﺪ ، ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ، ﻭﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻣﻦ ﺣﺪﻳﺚ ﺟﺎﺑﺮ ﻧﺤﻮﻩ ]. অর্থ, আবুল জাআদ আদ-দামরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে অলসতা বসত তিনটি জুমু‘আ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা‘আলা তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেয়”।[26] চতুর্থ হাদিস- ﻋﻦ ﺣﻔﺼﺔ ﺯﻭﺝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ : ‏« ﺭﻭﺍﺡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﺍﺟﺐ ﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﻣﺤﺘﻠﻢ ‏» ‏[ﺻﺤﻴﺢ. ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ، ﻭﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ، ﻭﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ]. অর্থ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হওয়া প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক বালেগ ব্যক্তির উপর ফরয”।[27] তিন-উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণ: সমস্ত উম্মত এ ব্যাপারে একমত যে জুমু‘আর সালাত প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক বালেগ ব্যক্তির উপর ফরয। আল্লামা ইবনুল মুনযির রহ. বর্ণনা করেন যে, সমস্ত উলামা এ বিষয়ে একমত যে, জুমু‘আর সালাত আদায় করা ফরযে আইন। আল্লামা ইবনুল আরাবী আল-মালেকী রহ. বলেন, “সমস্ত উম্মতের ঐকমত্যে জুমু‘আর সালাত ফরয”। আল্লামা ইবনু কুদামাহ মুগনীতে লিখেন, “সমস্ত মুসলিম জুমু‘আর সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে একমত”। আল্লামা আইনী রহ. বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত উম্মত জুমু‘আর সালাত ফরয হওয়ার ব্যাপারে একমত, কেউ এ বিষয়ে কোন ভিন্ন মত পোষণ করেননি এবং জুমু‘আর সালাতের ফরয হওয়াকে অস্বীকার করেননি”। ইমাম নববী রহ. বলেন, “ইমাম শাফেয়ীর রহ. এর মতে জুমু‘আর সালাত ফরযে আইন”।[28] জুমু‘আর সালাতের নিয়ম এক- জুমু‘আর সালাত দুই রাকআত। উভয় রাকআতে কিরাত বড় আওয়াজে তিলাওয়াত করবে। আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺭﻛﻌﺘﺎﻥ، ﻭﺻﻼﺓ ﺍﻟﻔﻄﺮ ﺭﻛﻌﺘﺎﻥ، ﻭﺻﻼﺓ ﺍﻷﺿﺤﻰ ﺭﻛﻌﺘﺎﻥ، ﻭﺻﻼﺓ ﺍﻟﺴﻔﺮ ﺭﻛﻌﺘﺎﻥ ﺗﻤﺎﻡ ﻏﻴﺮ ﻗﺼﺮ ﻋﻠﻰ ﻟﺴﺎﻥ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ. ‏[ﺻﺤﻴﺢ. ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ، ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ . ‏[ ﺣﻜﻢ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ‏] ﺻﺤﻴﺢ “মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জবানে জুমু‘আর সালাত দুই রাকআত, ঈদুল ফিতরের সালাত দুই রাকআত, ঈদুল আযহার সালাত দুই রাকআত, সফর অবস্থায় সালাত দুই রাকআত, পূর্ণ, তাতে কোন কছর নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য দ্বারা এটা সাব্যস্ত হয়েছে”।[29] দুই- জুমু‘আর সালাতের প্রতি রাকআতে সূরা আল- ফাতেহা পড়বে এবং তারপর যে কোন একটি সূরা পাঠ করবে। তবে সুন্নত হল, প্রথম রাকআতে সূরা আল- ফাতেহার পর সূরাতুল জুমু‘আ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরাতুল মুনাফিকুন পড়া অথবা প্রথম রাকআতে সূরাতুল আ’লা এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা আল- গাশিয়াহ পড়া। প্রমাণ- ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺼﺒﺢ ‏(ﺍﻟﻢ . ﺗﻨﺰﻳﻞ ‏) ﻭ ‏(ﻫﻞ ﺃﺗﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ‏) ، ﻭﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺑﺴﻮﺭﺗﻲ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﺍﻟﻤﻨﺎﻓﻘﻴﻦ. ‏[ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ، ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ، ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ]. অর্থ, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিন ফজরের সালাতে ‘আলিফ মিম তানযীল’ এবং সুরা ‘আদ-দাহার’ পড়তেন এবং জুমু‘আর সালাতে সূরাতুল জুমু‘আ এবং সূরাতুল মুনাফিকুন পড়তেন।[30] অপর একটি হাদিস সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺑـ ‏( ﺳﺒﺢ ﺍﺳﻢ ﺭﺑﻚ ﺍﻷﻋﻠﻰ ‏) ﻭ ‏(ﻫﻞ ﺃﺗﺎﻙ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﻟﻐﺎﺷﻴﺔ ‏) . ‏[ﺻﺤﻴﺢ. ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ، ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ]. “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর সালাতে ( ﺳﺒﺢ ﺍﺳﻢ ﺭﺑﻚ ﺍﻷﻋﻠﻰ ) এবং ( ﻫﻞ ﺃﺗﺎﻙ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﻟﻐﺎﺷﻴﺔ ) পড়তেন”।[31